গাংনীর মঠমুড়া ইউপি মেম্বরকে র‌্যাব পরিচয়ে হুমকি – থানায় জিডি 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের (সদস্য) মেম্বর সাহাবুদ্দীনকে অজ্ঞাত স্থান থেকে মোবাইলফোনের মাধ্যমে  র‌্যাব পরিচয়ে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেম্বর সাহাবুদ্দীন গাংনী থানায় একটি জিডি করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্র“য়ারি রাত ৯টা ৫৮ মিনিটের সময় ০১৭৫৯১২৭৮৯৮ মোবাইল নং থেকে র‌্যাব-৬ (গাংনী) ক্যাম্পের র‌্যাব কর্মকর্তা রাজু নাম পরিচয় দিয়ে ইউপি মেম্বর সাহাবুদ্দীনকে হুমকি প্রদান করেন। ইউপি মেম্বর সাহাবুদ্দীন জানান বাওট মাথাভাঙ্গা নদী জলকর জমা করা নিয়ে আমিসহ কিছু মৎস্য চাষী ও মৎস্যজীবি একটি পক্ষের সাথে মামলা চালিয়ে আসছি। এ মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে ০১৭৫৯১২৭৮৯৮ মোবাইল নং থেকে র‌্যাব-৬ (গাংনী) ক্যাম্পের র‌্যাব কর্মকর্তা রাজু নাম পরিচয় দিয়ে আমাকে হুমকি প্রদান করেন। সে আরো বলেন যে আপনার বাড়িতে অস্ত্র রয়েছে। আমি ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে আপনাকে গ্রেফতার করবো। যদি মামলা তুলে না নেন তাহলে বিপদে পড়ে যাবেন। এদিকে হুমকির ঘটনায় মেম্বর সাহাবুদ্দীন গত ১৩ ফেব্র“য়ারি গাংনী থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডি নং-৬৮৮। এদিকে ১৩ ফেব্র“য়ারি গাংনী উপজেলা চোরাচালান বিরোধী ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সাহাবুদ্দীন মেম্বারকে হুমকির বিষয়টি তুলে ধরেন মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান ওই সভায় অংশগ্রহণকারী র‌্যাব-৬ (গাংনী) ক্যাম্পের একজন কর্মকর্তা।

দৌলতপুর সীমান্তে ১৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার    

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে সাড়ে ১৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোররাতে উপজেলার আদাড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন গরুড়া মাঠে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ প্রাগপুর বিওপি’র টহল দল অভিযান চালিয়ে ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে বিজিবি। অপরদিকে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জয়পুর বিওপি’র টহল দল মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৭কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া গাঁজার সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি। এছাড়াও আশ্রয়ন ও প্রাগপুর বিওপি’র টহল দলের পৃথক অভিযানে মালিক বিহীন ৫০ বোতল ভারতীয় বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার হয়েছে।

দৌলতপুর শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সহ-সভাপতি মো. মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় দৌলতপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত থেকে মতামত উপস্থাপন করেন দৌলতপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সরকার আমিরুল ইসলাম, সদস্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, সরদার আতিয়ার রহমান, কোষাধ্যক্ষ মো. বিল¬াল হোসেন, নির্বাহী সদস্য মো. ইয়াকুব আলী, গোলাম কিবরিয়া, সহ-সম্পাদক আবুল হোসেন ও শরীফুল ইসলাম। সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এঁর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন ও ৫ দিনব্যাপি যাত্রা উৎসবের আয়োজন, কেন্দ্রীয় শিল্পকলা একাডেমির নির্দেশনা অনুযায়ী শিল্পকলা একাডেমিতে ৫জন অবৈতনিক শিক্ষক নিয়োগ এবং দৌলতপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে রাখা উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের নামে দানবাক্সে পড়া দানের অর্থের একটি অংশ দৌলতপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির ফান্ডে জমা হওয়ার বিষয়ে উপস্থিত সকল সদস্যবৃন্দ দ্বি-মত পোষন করে তা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও শিল্পকলা একাডেমির উন্নয়নসহ শিল্পকলা একাডেমি সংশ্লি¬ষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আমলায় দিনব্যাপি নানা আয়োজন

শহীদ মারফত আলীর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

আমলা অফিস ॥ আগামীকাল বেদনা বিধুর ১৭ ফেব্র“য়ারী। কুষ্টিয়ার বিএলএফ প্রধান, আমলা সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত কৃষক নেতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলীর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। সাবেক এ মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ার আমলা সরকারী ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গনে শহীদ মারফত আলী স্মৃতি সংসদের আয়োজনে দিনব্যাপী এক স্মরণ সভা, কালো ব্যাজ ধারণ, মরহুমের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজন করা হয়েছে। আমলা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহব্বত হোসেনের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মিয়া। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাগণ, শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন রাজিৈনতক ব্যক্তিগত বক্তব্য রাখবেন। উল্লেখ্য- কুষ্টিয়ার বিএলএফ প্রধান, আমলা সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত কৃষক নেতা, মিরপুর উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান, জাসদ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মারফত আলী ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়া-২ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করাকালীন সময়ে আজকের এই দিনে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের ইশালমারী মাঠের মধ্যে সন্ত্রাসী চরমপন্থী নেতা সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজের নেতৃত্বে মারফত আলীকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। সেই থেকে এ এলাকার জনগন প্রতিবছর এ দিনটি যথাযথভাবে পালন করে আসছে।

জাতীয় পার্টিকে সব সময়ই অবমূল্যায়ন করা হয়েছে – জিএম কাদের

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টিকে সব সময়ই অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। অনেক চড়াই-উৎড়াই পার করতে হয়েছে দলটিকে। তবে জাতীয় পার্টি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সব সময়ই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা নিয়ামক শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমালোচনা যতই হোক তার কাছেই আসতে হয়েছে। ওনার সাহায্যই নিতে হয়েছে। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে ‘আমার দেখা এরশাদ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। বইটি লিখেছেন সাংবাদিক ও গবেষক সাঈদ তারেক। বইটি সম্পর্কে জিএম কাদের বলেন, বইটিতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন এসেছে। যার ফলে আমাদের নেতার সঙ্গে জাপার সৃষ্টি লগ্নের বিষয়সহ যাবতীয় বিষয় বইটিতে রয়েছে। জাপার ইতিহাস ও বিভিন্ন কর্মকান্ড বিষয়ে যদি জানতে হয় তাহলে এরশাদ সাহেবের জীবনের সঙ্গে তার রাজনৈতিক জীবনটাও জানা প্রয়োজন। বইটিতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্পর্কে লেখকের মূল্যায়নের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নানাভাবে মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু এই বইয়ের শেষ অধ্যায়ে সাঈদ তারিক সাহেব যেভাবে মূল্যায়ন করেছেন তা এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে সঠিক ও সুন্দর বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এ সময় জিএম কাদের বইয়ের কিছু অংশ পড়ে শোনান। বইটির লেখক সাঈদ তারেক বলেন, এই বইটি কিন্তু আমার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। অর্থাৎ আমি যতটুকু দেখেছি, যেভাবে দেখেছি, বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে আমার যে সম্পৃক্ততা সেই তুলে ধরেছি। এখানে অনেক ঘটনা আছে যেগুলো কেউ জানে না, অথচ এই কথাগুলো জানা উচিত বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। আমি মনে করি, আমাদের রাজনীতির একটা স্বচ্ছ ইতিহাস তৈরির ক্ষেত্রে বইটি ভূমিকা রাখবে। বইটির লেখক সাঈদ তারেকের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি, সাবেক সদস্য আহসান হাবীব লিংকন, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায়, বিশিষ্ট সাংবাদিক শামসুদ্দিন আহমেদ পেয়ারা, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন প্রমুখ। এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে পবিত্র কোরআর তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বইটি প্রকাশ করেছে বাঙ্গালা গবেষণা। বইমেলার ৩৮১ নম্বর স্টলে বইটি পাওয়া যাবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অপরাধ স্বীকার করার পরেই কেবল খালেদা জিয়া পেরোলের জন্য আবেদন করতে পারেন – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নিজের অপরাধ স্বীকার করার পরেই কেবল পেরোলের জন্য আবেদন করতে পারেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারী শারীরিক শিক্ষা কলেজ ময়দানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে যোগদানের পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদি তিনি (খালেদা জিয়া) তাঁর অপরাধ স্বীকার করে পেরোলে মুক্তির আবেদন করেন তাহলেই সরকার কেবল তার পেরোল বিবেচনা করতে পারে।’ অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের কর্মচারীদের জন্য এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। হাছান বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার কোন কর্তৃত্ব সরকারের নেই। যদি সরকার এই কতৃত্ব খাটাতে চায়, তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে, যা সংবিধান অনুমোদন দেয় না।’ খালেদা জিয়া একমাত্র আইনি পদ্ধতিতেই জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন, একথা পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আন্দোলন অথবা রাস্তায় প্রচারণা চালিয়ে বিএনপি নেত্রীর মুক্তির কোন পথ নেই। তার জেল থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হতে পারে আইনি ব্যবস্থা।’ মন্ত্রী বলেন, বিএনপি প্রধান দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে আছেন এবং আদালতই কেবল তাকে মুক্তি দিতে পারে। বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে ফোনালাপ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (বিএনপি) কি চায় তারা তা জানে না। এক সময় তারা বলে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে যাবে, অন্যদিকে তার মুক্তির জন্য আমাদের সাধারণ সম্পাদককে ফোন দেয়।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্যারোলের কোনো আবেদন করা হয়নি। তার পরিবারের বরাত দিয়ে এক ধরনের কথা, আবার দলের পক্ষ থেকে আরেক ধরনের কথা বলা হচ্ছে। তারা আসলে কি চান, সেটা এখনো তারা স্পষ্ট করতে পারেননি।’ বিএনপি চেয়ারপার্সনের চিকিৎসা সম্পর্কে হাছান বলেন, নিয়মিত তার (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছেন। তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে কারাগারে না রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাকে তার পছন্দের গৃহ পরিচারিকাকে সাথে রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিতে সরকার সবসময় আন্তরিক। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা জিঘাংসা বা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না, বরং বিএনপি করে। ২০০৪ সালে বিএনপির আমলে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তার পুত্র তারেক রহমানের পরিচালনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল । ড. হাছান আরো বলেন, ‘আবার যখন বেগম জিয়ার দ্বিতীয় পুত্র মৃত্যুবরণ করেন, তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম জিয়ার বাড়ির দরজায় দশ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি দরজা খোলেননি। এগুলো আমরা মনে রাখিনি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে রাখেননি। বেগম জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে রেখে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা দিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ নিজদলের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভাই যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, তখন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ছিলেন। বিদেশ থেকে যে চিকিৎসকরা এসেছিলেন, তারাও বলেছেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যে চিকিৎসা দিয়েছে, তা বিশ্বমানের এবং সঠিক।’ বেগম খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে কারাগারের প্রকোষ্ঠে না রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে, উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তার সাথে পছন্দের গৃহপরিচারিকাকে রাখা হয়েছে, সার্বক্ষণিক নার্স রয়েছে। নিয়মিত তার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও তাকে সময়ে সময়ে পরীক্ষা করেন। সুতরাং বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপির কথাগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা ছাড়া কিছু না।’ এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সামস-উল ইসলামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারি ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের বায়োমেট্রিক ভোটার আইডি, ইভিএম-এর প্রশংসা যুক্তরাজ্য ইসি প্রধানের

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাজ্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান স্যার জন হোমস নির্বাচনে বাংলাদেশের ডিজিটালাইজড বায়ো-মেট্রিক ভোটার আইডি কার্ড এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহারের প্রশংসা করেছেন। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার লন্ডনে বাংলাদেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জন হোমস এই প্রশংসা করেন। এ সময় বৈঠকে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বৈঠকে অংশ নেন। জন হোমস আশা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাজ্যও তার নির্বাচনী প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন করবে যা বর্তমানে ম্যানুয়াল। বৈঠকে সিইসি নুরুল হুদা ও জন হোমস নিজ নিজ দেশের সর্বোৎকৃষ্ট চর্চা, চ্যালেঞ্জ এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তারা নির্বাচনী প্রার্থীদের সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক জবাবদিহিতা, স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচন ব্যবস্থা, ডাক ব্যালটিংয়ের মাধ্যমে বিদেশী নাগরিকদের ভোটদান এবং কমনওয়েলথ দ্বৈত নাগরিক ভোটদান ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে কেন্দ্রিয় ঘোষীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপির উদ্যেগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম উল হাসান অপুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টু, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া, জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক রমাকারম হোসেন মোকা, সদস্য সামসুদ্দোহা লাল্টু, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম আন্টু,  জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া উৎপল, দপ্তর সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এস আর শিপন, যুগ্ম-সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাব্বি, সাংগঠনিক সম্পাদক রকুনুজ্জামান রাসেল সহ অংগ সংগঠনের  নেতৃবৃন্দ। সোহরাব উদ্দিন তার বক্তব্য বলেন, নিঃশর্ত ‘ প্রয়োজন  বোধ করলে বেগম জিয়াকে বের করে নিয়ে আসবো। আমরা মওলানা ভাসানীর উত্তরসূরি। আমরা শহীদ জিয়ার উত্তরসূরি, আমরা বেগম জিয়ার উত্তরসূরি। কথা একটাই, যদি সোজা আঙুলে ঘি না ওঠে, আঙুলটা বাঁকা করবো। মুক্তিকামী জনগণ প্রস্তুত এখন আমরা তাদের সাথে নিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ছিনিয়ে আনবো। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। তিনি অবশ্যই আমাদের মাঝে আসবেন। দেশের মানুষকে আবারো মুক্ত করবেন। সভায় বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর রোগ মুক্তি ও তার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মেধা’র বার্ষিক সাধারন সভা

নিজ সংবাদ ॥  মেধা কুষ্টিয়ার বার্ষিক সাধারন সভা  গতকাল দুপুরে স্থানীয় কারাময় চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়। মেধার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মেধার সদস্য সাংবাদিক আ,ফ,ম নুরুল কাদের। শুরুতে বিগত সাধারন সভার  সিদ্ধান্তসমুহ পাঠ, পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়। ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন মেধা’র সদস্য সচিব শামীম আহমেদ। পরে সদস্যদের সমর্থনে তা অনুমোদন করা হয়। সভায় ২০১৯ সালের বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা ও অনুমোদন হয়। সভায় ২০২০সালের প্রস্তাবিত বাজেেটর উপর আলোচনা ও অনুমোদন হয়। অডিটর নিয়োগ অনুমোদন হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন মেধার উপদেষ্টা সদস্য সৈয়দ শাহনেওয়াজ আহমেদ রুমী, সদস্য দিপংকর দাস, ওবায়দুর রহমান, আ,ফ,ম নুরুল কাদের, জামালউদ্দিন, উপদেষ্টা ডঃ নবীনুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেধা‘র উপদেষ্টা রেজানুর রহমান খান চৌধুরী মুকুল,মোকাররম হোসেন মোযাজ্জেম, হাজী ইয়ার উদ্দিন,মেধার সহসভাপতি শাহনেওয়া জ আনসারী মঞ্জু, সহসভাপতিহ আব্ক্কর সিদ্দিকী,কোষাধক্স  মাহাবুবুল আলম রতন, সহকারী সচিব আনিসুর রহমান,প্রচার সম্পাদক সাদাত-উল-আনাম পলাশ, নির্বাহী সদস্য এহসান আনোয়ার, মঞ্জুর রহমান মনু, ফজলুল হক ফজু,আব্দুল মান্নান, শাহিনুজ্জামান শাহিন, ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার সালাহউদ্দিন বলেন, আপনারা মেধা’র প্রাণ শক্তি। আপনাদের সহযোগিতা এবং পরামর্শে মেধা কুষ্টিয়ার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে যা আমাদের সমাজে ইতিবাচক। তিনি আরো বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় যে কোন কঠিন কাজও সহজতর করা সম্ভব মেধা যার প্রকৃত উদাহরন। আগামীতে স্বাস্থ্য সেবার মত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসুচীকে বেগমান করা হবে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের প্রতি দারুন খুশি। আপনাদের স্বতস্ফুর্ত অংশ গ্রহণই মেধাকে লক্ষ্যে পৌছতে সহযোগিতা করবে।

দৌলতপুরে ইয়াবাসহ আটক-২

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইয়াবাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মহিষকুন্ডি কলেজ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকাশ (৩৩) ও নাইমুল সাদিক (২৬) নামে দু’জন মাদক ব্যবসায়ীকে ৪০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ মহিষকুন্ডি বিওপি’র টহল দল। আটক মাদক ব্যবসায়ীরা দৌলতপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত একরাম আলী ও কুষ্টিয়া পূর্বমজমপুর এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছে।

১৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে

ইবি কর্মকর্তা সমিতির চতুর্থ দিনের কর্মবিরতি পালন

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ১৬ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে চতুর্থদিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছে কর্মকর্তা সমিতি। গতকাল শনিবার  বেলা ১১ হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত ২ ঘন্টাব্যাপী  প্রশাসন ভবন চত্বরে কর্মবিরতির এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম জোহার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মীর মোঃ মোর্শেদুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ রাশিদুজ্জামান খান টুটুল, কোষাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ, নির্বাহী সদস্য মোঃ গোলাম হোসেন, মোঃ উকিল উদ্দিন, উপ-রেজিস্ট্রার আফতাফ হোসেন, সহকারী রেজিস্ট্্রার আব্দুস সালাম সেলিম ও শাখা কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল হক। সভায় বক্তারা বলেন, আশা রাখি অতিদ্রুত বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের ১৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সকলের কাছে দোয়া কামনা

উন্নত চিকিৎসা নিতে চেন্নাই যাচ্ছেন সাংবাদিক রিজু

নিজ সংবাদ ॥ উন্নত চিকিৎসা নিতে আজ (রবিবার) সকালে চেন্নাই এর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন দৈনিক সত্যখবর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক, এশিয়ান টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি এবং কুষ্টিয়া জেলা এডিটরস ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান রিজু। সে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর হঠাৎ পেটের ব্যাথায় গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১১ ডিসেম্বর ঢাকা বিআরবি হসপিটালে ভর্তি হন। হসপিটালের গ্যাস্ট্রোলিভার বিভাগের ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার পাকস্থলীতে টিউমার রয়েছে বলে জানান। এরপর থেকে মাঝে মধ্যেই ব্যাথা অনুভব করে। পাকস্থলী ও পাজরের দুটি টিউমার অপারেশন করার লক্ষ্যে চেন্নাই এর এ্যাপোলো হসপিটাল চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। তার সুস্থতা কামনায় পরিবার ও সত্যখবর পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

দমননীতি দিয়ে খালেদার মুক্তির দাবি দমানো যাবে না – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার ‘দমননীতি’ দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে ‘দমিয়ে রাখতে’ পারবে না। তিনি বলেন, “সরকার মনে করেছে, এইভাবে নির্যাতন করে, নিপীড়ন করে, গ্রেপ্তার করে, গুম করে জনগণের যে প্রাণের দাবি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি, গণতন্ত্রের মুক্তির দাবিকে তারা দাবিয়ে রাখবে, দমিয়ে রাখবে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে যে, এভাবে দমননীতি নিয়ে, নির্যাতন-নিপীড়ন করে জনগণের যে ন্যায্য দাবি, সেই দাবিকে কখনো দমন করা যায় না।” গতকাল শনিবার পুলিশের বাধায় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করতে না পেরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত খারাপ’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা বার বার তার মুক্তির দাবি করেছি, জামিন চেয়েছি এবং মুক্তির মধ্য দিয়ে তার চিকিৎসার দাবি জানিয়েছি। আমরা তাদের কাছ থেকে কোনো রকমের সাড়া পাইনি। “আমরা আশা করব, অতি দ্রুত মানবিক কারণে দেশের জনগণের দাবিকে সন্মান করে তারা (সরকার) দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেবেন।” বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা কোনো সুযোগ দিতে চাই না। দয়া করে এখান থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরে যাবেন। পরবর্তী কর্মসূচি পরে ঘোষণা করব।” তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে তারা গুম করেছে, খুন করেছে, নির্যাতন করেছে। আমাদের প্রায় ৩৫ লক্ষ নেতা-কর্মীকে আসামি করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন। তাকে আজ ২ বছর ৭ দিন ধরে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে।” নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিকাল ৩টায় এই সমাবেশ শুরু হয়। দেড় ঘণ্টার এই কর্মসূচিতে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতারা। রিকশার ওপরে দুটি মাইক লাগিয়ে সমাবেশের কাজ চলে। বিএনপি ঘোষণা দিয়েছিল, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারা দেশে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় শনিবার বেলা ২টায় মিছিল হবে নয়া পল্টনে দলের কার্যালয়ের সামনে থেকে। কিন্তু সকাল ৯টা থেকেই পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে ঘিরে রাখে। নয়া পল্টন থেকে বিজয়নগর, তোপখানা সড়কের অলি-গলিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। কর্মীদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতেও বাধা দেওয়া হয় বলে নেতাদের অভিযোগ। এরকম অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে বেলা আড়াইটায় হাবিব উন নবী খান সোহেল ও কাজী আবুল বাশার নেতা-কর্মীদের নিয়ে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ফুটপাতে সমবেত হন। সোহেল বলেন, তারা সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করবেন। এ সময়ে কার্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যরা সরে পেছনে চলে যান। পুলিশ সরে যাওয়ার পর রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা নেতা-কর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমবেত হতে শুরু করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ¯ে¬াগান ধরেন তারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “আজকে দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হলে আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আজকে আমরা কর্মীদের যে সাহস দেখেছি এভাবে যদি আপনারা রাস্তায় থাকেন, ইনশাল্লাহ অচিরেই দেশনেত্রীকে আমরা মুক্ত করতে পারব।” স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি যে ভালোবাসা, এটাকে বুকে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লাঠি-পেঠা করুক, প্রতিবাদ থামবে না। জেলখানায় ভরুক, প্রতিবাদ থামবে না। আমাদেরকে গুম করুক, প্রতিবাদ থামবে না। এই প্রতিবাদ চলতেই থাকবে।” বিএনপির মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও মহানগরের কাজী আবুল বাশার ও আহসানউল্লাহ হাসানের পরিচালনায় এ সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খরুু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, মহানগরের বজলুল বাসিত আনজু, যুব দলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেই্ন, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল বক্তব্য দেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সমাবেশে দলের কর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শোনেন। তবে তিনি নিজে বক্তব্য দেননি। অন্যদের মধ্যে বিএনপির শ্যামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরফত আলী সুপু, আমিনুল হক, শিরিন সুলতানা, আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী, শামীমুর রহমান শামীম, শহীদুল ইসলাম বাবুল, খন্দকার মাশুকুর রহমান, হারুনুর রশীদ, সেলিমুজ্জামান সেলিম, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, খন্দকার আবু আশফাক, সাখাওয়াত হোসেন খান, মজিবুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে -সুজন

ঢাকা অফিস ॥ সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেছেন, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ভবিষ্যতেও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা দেখি না। অথচ গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল শনিবার ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সুজনের সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। সারাদেশ থেকে আগত ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রায় এক হাজার সুজন প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু হেনা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান, বাংলাদেশ হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্যে সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘আজকের বিরাজমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুজনের এ সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আজকে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অথচ গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা দেখি না। তাই দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনগণকে সোচ্চার করে তুলতে হবে।’ আবু হেনা বলেন, ‘গণতন্ত্র চলতে পারে যখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত হন। আর এই প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন নির্বাচনের মাধ্যমে। তাই যোগ্যদের নির্বাচিত করা গেলে গণতন্ত্র কাজ করতে পারে এবং সুশাসন বিরাজ করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সুজনসহ অন্যান্যদের ধারাবাহিক অ্যাডভোকেসির ফলে দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কার সম্ভব হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন সচিবালয়, আরপিও এবং আচরণবিধির সংশোধন, প্রার্থীদের তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও আয়-ব্যয়ের বিবরণ দেয়ার বিধান ইত্যাদি। কিন্তু এতসব সংস্কারের পরও আজ আমরা কেন গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে চিন্তিত? তিনি বলেন, ‘একটা দেশ তার মাটির জন্য বড় হয় না। দেশের মানুষ ভালো ও যোগ্য হলে দেশও ভালো ও যোগ্য হয়। তাই যতই আইন করা হোক না কেন, যদি সেগুলো কার্যকর না হয় এবং সমভাবে সবার জন্য বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।’ ড. আকবর আলী খান বলেন, ‘সিভিল সমাজকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে। যদিও তারা সব সময় রাজনীতি এড়াতে পারে না। তবে স্বতন্ত্র থাকাই ভালো। বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যা রাতারাতি দূর হবে না। কারণ রাজনৈতিকরা এ সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। ২০ দফার পরিবর্তে এখন এক দফা দাবি তোলা দরকার, সেটা হলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন।’ সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সুজন সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুজন যেসব কাজ করছে তার মধ্যে অন্যতম হলো- ১. নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের নির্বাচিত করা, ২. রাজনৈতিক সংস্কার-সংক্রান্ত কার্যক্রম, ৩. বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী ও জন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনমত সৃষ্টি, ৪. নাগরিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার করা। জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘দেশ আজ শুধু গণতন্ত্রহীনই নয় বরং এক নতুন রাষ্ট্র কাঠামো দাঁড় হয়েছে। আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে প্রতিনিয়ত নাগরিকদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। তাই আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে হবে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে সুজন নেতৃবৃন্দের মধ্যে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সুজনের নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার, সুজনের সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন, জাতীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উপকূলের মানুষের কাছে এখন আস্থার নাম কোস্ট গার্ড – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ জনবল সীমাবদ্ধতার মাঝেও উপকূলীয় এলাকার জানমাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, অবৈধ কর্মকান্ড দমনে কাজ করছে দেশের সমুদ্র ও নৌ-সীমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। উপকূলের মানুষের কাছে এখন আস্থার নাম কোস্ট গার্ড। উপকূলে নজরদারি নিরাপত্তা বাড়াতে কোস্ট গার্ডকে পেশাগত ভিত্তি দিতে নিজস্ব জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। হচ্ছে কোস্টাল সার্ভিল্যান্স সিস্টেমও। কোস্ট গার্ড ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বাংলাদেশ পেয়েছে দেশের সমান আয়তনের বিশাল সমুদ্র এলাকা ও সম্পদ। বর্তমান সরকারের ভিশন অনুযায়ী এই সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বলু ইকোনমিতে দেশকে এগিয়ে নিতে অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারে কোস্ট গার্ড। সে জন্য পেশাগত ভিত্তি দরকার, দরকার নিজস্ব জনবল। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা ও আইএমও কর্তৃক এক লাখ ৭২ হাজার ৬২৭ বর্গ কিলোমিটার সাগর এলাকায় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছে কোস্ট গার্ড। যেখানে দেশি-বিদেশি সমুদ্রসীমার চারদিক সুরক্ষার দায়িত্বও পালন করছে কোস্ট গার্ড। কোস্ট গার্ড দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে জাতীয় মৎস্য পুরস্কার-২০১৮ পেয়েছে। ২০১৮ সালে ১৩টি দেশের কোস্ট গার্ড বাহিনী ও মেরিটাইম সংস্থার প্রধানদের নিয়ে হেটস অব এশিয়ান কোস্ট গার্ড মিটিং সফলভাবে শেষ করায় বিশ্বজুড়ে কুড়িয়েছে সুনাম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বাহিনী ১০ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা সমমূল্যের বিভিন্ন ধরনের পণ্য জব্দ করেছে। এক হাজার ২৩৯ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। আটক করেছে চার হাজার ৩৮৩ জন অপরাধীকে। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে চুরি ও ডাকাতি ছিল শূন্য। যা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা রিক্যাপের রিপোর্টে উঠে এসেছে। যা মেরিটাইম জগতে কোস্ট গার্ডের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। তবে সম্প্রতি সৃষ্ট রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে দেশের জলসীমায় যে অবৈধ প্রবেশ চলছে তা ঠেকাতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে কোস্ট গার্ডের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জনবল। যদিও জনবল দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কোস্ট গার্ডের এগিয়ে চলায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দফতরে বাহিনীটির ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বদ্ধপরিকর শেখ হাসিনার সরকার। ইতোমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় কোস্ট গার্ডকে যুগোপযোগী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাহিনীতে পরিণত করতে চারটি অস্ত্র প্যাট্রল ভেসেল সংযোজন করা হয়েছে, দুটি ইতোমধ্যে সংযুক্ত হয়েছে। দেশীয় শিপইয়ার্ডসমূহের পাঁচটি ইনসোর প্যাট্রল ভেসেল ও দুটি ফাস্ট প্যাট্রল বোট বাহিনীতে মহড়ায় সংযুক্ত হয়েছে। শিগগিরই আরও দুটি ইনসোর পেট্রল ভেসেল, একটি ফ্লটিং ক্রেন সংযুক্ত হবে, দুটি ডাকবোট, ১২টি হাইস্পিড বোট সংযোজনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া জাপান কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ২০টি রেসকিউ ও চারটি পুলসন কন্ট্রোল বোট বাহিনীর মহড়ায় যুক্ত হবে। বাহিনীর চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কোস্ট গার্ড ঘাঁটি স্টেশন, আউটপোস্টসহ বেশ কিছু অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে ও আরও হবে। তিনি বলেন, দেশের উপকূলে ১০টি রাডার স্টেশন দ্বারা কোস্ট গার্ডের সার্ভেল্যান্স সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে দেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকাকে কার্যকরী নজরদারি আনা হবে। এর ফলে দেশীয় সমুদ্রসীমায় কার্যকরী টহল প্রদান, গভীর সমুদ্রে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন পরিচালনা, চোরাচালান প্রতিরোধ, সমুদ্রপথে মানবপাচার রোধ, উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ পরবর্তীতে ত্রাণবিতরণ, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে অগ্নিনির্বাপণ এবং পরিবেশদূষণ রোধসহ সামগ্রিক সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে সমগ্র উপকূলীয় এলাকাকে কার্যকরী নজরদারি বৃদ্ধি সম্ভব হবে। এই লক্ষ্যে বিশেষায়িত এই বাহিনীর পেশাগত ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজস্ব জনবল নিয়োগ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বাহিনীতে আধুনিক জাহাজ, হোভারক্রাফট, ড্রোন, মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার সংযোজন করা হবে। কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আশরাফুল হক বলেন, এ বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরে চুরি-ডাকাতি শূন্যের কোঠায় নেমেছে যা আন্তর্জাতিক সংস্থা রিক্যাপের রিপোর্টে উঠে এসেছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ও বাহিনীর সকল সদস্য দেশপ্রেমের চেতনা সমুন্নত রেখে তাদের অটুট মনোবল, নিরলস কর্মস্পৃহা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধমে ব্লুু ইকোনমি’ এবং রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কোস্ট গার্ড।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করতে হবে – মোস্তাফা জব্বার

ঢাকা অফিস ॥ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে অনুসরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই পড়ে জানতে হবে কেমন করে একটি মানুষ জীবনের সব ত্যাগ করে টুঙ্গিপাড়া থেকে বাঙালি জাতি গঠনে স্বপ্ন দেখেছেন। বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করলে ভালো জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। মন্ত্রী গতকাল শনিবার বগুড়া করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান ও প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ ছামসুল আলম। মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ আজ তলা বিহীন ঝুড়ি নয়। দেশ এখন পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে। তাদের চেয়ে অর্থনৈতিক সূচকে অনেক এগিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক ও তথ্য প্রযুক্তিতে এশিয়ার অনেক দেশকে পিছিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। দেশের মেয়েরা ডাক বিভাগের গাড়ী চালক থেকে বিমান বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনীতে উচ্চ পদে কাজ করছে। মেয়েদের এই উত্থান সকলকে অবাক করে দিয়েছে। তিনি বলেন, জাতি গঠনে তথ্য প্রযুক্তির বিকল্প নেই। তথ্য প্রযুক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে রাখা যাবে না। তবে এর যে সব মন্দ দিকগুলো আছে নতুন প্রজন্মকে তা থেকে সতর্ক করে দিতে হবে। তথ্য প্রযুক্তিতে নতুন প্রজন্ম বয়স্কদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। মন্ত্রী বলেন, ২০২০ সাল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মুজিব শতবার্ষিকীর জন্য নানা আয়োজন চলছে। দেশের নতুন প্রজন্মকে এতে সম্পৃক্ত করতে হবে।

কুষ্টিয়ায় প্রথম আলোর আয়োজনে ফিজিক্স প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ সকাল আটটার মধ্যে ফাগুনের দ্বিতীয় দিনে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। ডাচ বাংলা-প্রথম আলো ফিজিক্স অলিম্পিয়াড সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল নয়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে অলিম্পিয়াড উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের গাওয়া জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির। একই কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক আবদুস সাত্তার ফিজিক্স অলিম্পিয়াড উৎসব ও সহযোগী অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

উদ্বোধনী পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্যে অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যারা এখানে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছ, তাদের মধ্য থেকেই বড় বড় বিজ্ঞানী হয়তো একদিন  বের হয়ে আসবে এবং দেশের মুখ আলোকিত করবে।’

শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। এরপর ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে ষষ্ঠ থেকে সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি তিনটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা এক ঘন্টার পরীক্ষায় অংশ নেয়। যারা অনলাইনে নিবন্ধন করে নিশ্চিত করেছে, তারা ছাড়াও যারা নিবন্ধন করেছে তাদেরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

পরীক্ষা শেষে কলেজের মিলনায়তনে মজার মজার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কিশোর আলো ম্যাগাজিন ও বিজ্ঞান চিন্তা বই উপহার পায় শিক্ষার্থীরা।

বেলা সাড়ে বারটায় মিলনায়তনে পুরস্কার বিতরনী পর্বে উদ্বোধনী পর্বের অতিথিদের সাথে কলেজের উপাধ্যাক্ষ অধ্যাপক আনসার হোসেন, ডাচ বাংলা ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখার কর্মকর্তা সোহেল রাজ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি স্বপন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

কলেজ অধ্যক্ষের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে উপাধ্যাক্ষ আনসার হোসেন বলেন, জীবনে সর্বক্ষেত্রে পদার্থ বিজ্ঞানের অবদান রয়েছে। ভবিষ্যত বিজ্ঞানী হতে এনধরনের প্রতিযোগী অবশ্যই অগ্রনী ভূমিকা রাখে।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখার কর্মকর্তা সোহেল রাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো জীবন গড়তে এধরনের আয়োজনে সম্পৃক্ত হতে পেরে ডাচ বাংলা ব্যাংক গর্বিত। ভবিষ্যতে এধারা অব্যহত রাখার আশ^াস দেন।

প্রথম আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তৌহিদী হাসানের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে এ ক্যাটাগরিতে ৬জন, বি ক্যাটাগরিতে ১২ জন ও সি ক্যাটাগরিতে ১৬জনসহ ৩৪জনকে পুরস্কার হিসাবে মেডেল, টি শার্ট ও সনদ দেওয়া হয়। ছেলেদের মধ্যে সেরাদের সেরা হয়েছে বি ক্যাটাগরির কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের আলাভী আল আনজুম সৈকত ও মেয়েদের মধ্যে সেরাদের সেরা হয়েছে সি ক্যাটাগরির কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জহুরা সেজুঁতি। কলেজের অধ্যক্ষের হাতে ভেন্যু স্বারক তুলে দেন বন্ধুসভার সভাপতি রজনী চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মাহের মোহাম্মদ নাঈম। ফিজিক্স অলিম্পিয়াড ব্যবস্থাপনায় প্রথম আলো বন্ধুসভা কুষ্টিয়ার কর্মীরা কাজ করেছেন।

পুঁজিবাজার সংস্কারে এডিবি ১৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিবে

ঢাকা অফিস ॥ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে তৃতীয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচির (সিএমডিপি) জন্য দ্বিতীয় কিস্তিতে ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর আগে এডিবি প্রথম কিস্তিতে ৮০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ দিয়েছে। এডিবি ২০১৫ সালের নভেম্বরে এই কর্মসূচির জন্য প্রথম কিস্তির মোট ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে। শনিবার এডিবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এডিবি ঋণ প্রদানের পাশাপাশি তৃতীয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচির কারিগরি সহায়তা হিসেবে ৪ লাখ ডলারের মঞ্জুরি সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া এই কর্মসূচিতে ৩ লাখ ডলারের কারিগরি মঞ্জুরি সহায়তা প্রদান করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। এডিবির ফাইনান্সিয়াল সেক্টর এ্যানালিস্ট তকুয়া হোসিনো বলেন,‘মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকল্পে সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামোসহ অন্যান্য উৎপাদনশীলখাতে বিনিয়োগের অর্থ সরবরাহের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে সংস্কারের মাধ্যমে আইনী,রেগুলেটরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বাজার কাঠামো উপযুক্ত পর্যায়ে রুপান্তর করতে পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচিতে এডিবি দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রদান করছে।’ ২০১২ সালে পুঁজিবাজার দ্বিতীয় উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদের পর থেকে এডিবি সরকারের পুঁজিবাজার উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় সহায়তা দিয়ে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো-পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারিদের আস্থা বাড়ানো ও পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন করা। এছাড়া তৃতীয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো-ব্যাপকভিত্তিক সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই পুঁজিবাজার বিকাশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাঁধাসমূহ দূর করা।

ইবিতে বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানে ভিসি ড. রাশিদ আসকারী

আমাদের ঋতু বৈচিত্র হারাতে দেওয়া যাবে না

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ। আমাদের এখানে বারটি মাস, ছয়টি ঋতু। আমরা যারা গ্রামে বেড়ে উঠেছি তারা কিন্তু মাটির গন্ধ চিনতে পারি। ঋতু বৈচিত্র আমাদেরকে লেখক বানিয়েছে, কবি বানিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ঋতু বৈচিত্র হারাতে দেওয়া যাবে না।  আমাদেরকে এজন্য প্রচুর পরিমাণে বনায়ন ও সবুজায়ন করতে হবে। তিনি বলেন,  প্রাকৃতিক শৈত্যপ্রবাহ যতটা না ক্ষতিকর তার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর মানসিক শৈত্যপ্রবাহ। মানসিক শৈত্যপ্রবাহ যদি আমাদের কাবু করে ফেলে তাহলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবোনা। ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, প্রাকৃতিক বসন্ত আমরা হারাতে রাজি নই।  আর মানসিক বসন্ত আমাদের জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয়। গতকাল শনিবার দুপুরে বাংলা বিভাগের আয়োজনে বাংলা মঞ্চে বসন্ত উৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, বসন্ত মূলত এমন একটি প্রতীক যা সুখ শান্তি নিয়ে আসে। পুরাতন সব কিছুকে মারিয়ে বসন্ত আবির্ভূত হয় অত্যন্ত আনন্দের মহিমায়। একটি চমৎকার আবহাওয়ার মধ্যে একটি সুখকর অবস্থায় নিয়ে আসে। শীত কঠিন সময় এবং বসন্ত সুসময়ে প্রতীক। তিনি বলেন, আমরা এমন এক বসন্ত তৈরি করতে চাই সুসময়ের মধ্যদিয়ে যেতে চাই যা সব অপশক্তিকে পরাজিত করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, বসন্তে প্রকৃতির মধ্যে একটা পরিবর্তন ঘটে যায়। প্রকৃতি একটি সুন্দর রূপ ধারণ করে। ফাগুন তাই আমাদের কাছে এত সুন্দর। আমরা বাস করি সুন্দর এর মধ্যে। আমাদের ঘিরে থাকে সুন্দর। আশা করি, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য সুন্দরের দিকে ধাবিত হবে। বাংলা বিভাগের  সহযোগী অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. রবিউল হোসেন। আলোচনা সভার পূর্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলা মঞ্চে সমবেত হয়। সর্বশেষে মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ফখরুলকে নোংরা রাজনীতি না করতে বললেন হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নোংরা রাজনীতি না করতে বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা অনুষদের কনফারেন্স হলে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশান অব চুয়াডাঙ্গা (ডুসাক) বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হানিফ বলেন, বিএনপির ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতি না করে মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আমি অবাক হই রাজনীতি কারা করছে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে। আমরা বারবার বলেছিলাম খালেদা জিয়ার এতিমের অর্থ আত্মসাতের মামলা এটা আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। এটা ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে করা হয়েছিলো। যা আদালতে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডিত হয়ে এখন কারাগারে আছে। খালেদা জিয়া অসুস্থ, আমরা মনে করি একটি দলের শীর্ষ নেত্রী হিসেবে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে কারাবিধান অনুযায়ী চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আছে। সে অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দু’টি পথ খোলা আছে। একটি হলো তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই করে জামিন নিতে হবে। অন্যটি হলো প্যারোলে মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। ওনারা সেটা করেননি। বিএনপির প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, আপনারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে নোংরা রাজনীতি বন্ধ করেন। আপনারা রাজনীতি করছেন সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য। যদি আপনারা প্রয়োজন মনে করেন তাহলে সরকারের কাছে আবেদন করেন যদি আইনসিদ্ধ হয় তাহলে সরকার বিবেচনা করবে। কিন্তু টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়ে নোংরা রাজনীতি করবেন এটা দেশবাসী দেখতে চাই না।

আজও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ফাঁসির ৫ আসামী ও হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারীরা

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফ আহমেদসহ পাঁচ জাসদ নেতা হত্যার ২১তম বার্ষিকী আজ

শরীফুল ইসলাম ॥ আজ বেদনা বিধুর ১৬ ফেব্র“য়ারী। এদেশের ইতিহাসের একটি কালো দিন। আজকের এই দিনে জাতীয় পতাকার রূপকার ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ পাঁচ জাসদ নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আজ তার ২১তম বার্ষিকী। হত্যাকান্ডে ১৬ বছর পর ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৩ ঘাতকের ফাঁসি কার্যকর হলেও এ হত্যাকান্ডের মুল পরিকল্পনাকারীরা আজও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। একই সাথে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ফাঁসির আসামী মান্নান মোল¬াসহ ৫আসামী এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা দানা বেঁধেছে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মাঝে। সেই সাথে তারা শংকাও প্রকাশ করেছেন। হত্যাকান্ডের নির্মম শিকার দৌলতপুর জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদ এ্যাড. ইয়াকুব আলীর বড় ছেলে ইউসুফ আলী রুশো জানান, ৩ ঘাতকের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে কিন্তু এ হত্যাকান্ডের নেপথ্য মুল পরিকল্পনাকারীরা আজও রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। এখনও গ্রেপ্তার হয়নি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ঘাতকদের অনেকেই। তাই এখনও উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা পিছু তাড়া করে, সেই সাথে মনের মাঝে সর্বদা বিরাজ করে শংকাও। ইতিহাসের নির্মম হত্যাযজ্ঞে জড়িত যারা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, তাদের গ্রেপ্তার এবং এর পেছনের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি। একই দাবি জানিয়েছেন সেদিনের ওই জনসভার পরিচালনাকারী ও মামলার স্বাক্ষী কারশেদ আলম। তিনিও হত্যাকান্ডের মুল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের জনসন্মুখে এনে বিচার করার দাবি জানান। দৌলতপুর জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপন জানান, স্বাধীনতা বিরোধীচক্র যারা এখনও ষড়যন্ত্রে সক্রিয় সেই সক্রিয় স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের চক্রান্তে সেদিন ইতিহাসের নির্মম হত্যাযজ্ঞ সংঘঠিত হয়। অথচ হত্যাকান্ডের নেপথ্য পরিকল্পনাকারী স্বাধীনতা বিরোধীচক্র এখনও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তিনি হত্যাকান্ডের পলাতক ফাসিঁর আসামীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসি কার্যকরসহ নেপথ্য পরিকল্পনাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করার দাবি জানান। এদিকে নির্মম ও ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড সংঘঠিত হওয়ার ২১বছর পার হতে চললেও আজও কালিদাসপুর ট্রাজেডি স্থলে শহীদদের স্মরনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনাস্থলে শহীদ স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের দাবি জানান স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগন, স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ ও এলাকাবাসী। উলে¬¬খ্য, ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্র“য়ারী বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের কালিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাস বিরোধী জনসভায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদ সভপাতি কাজী আরেফ আহমেদ, জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও সমসের মন্ডল সন্ত্রাসীদের এলোপাতিাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হত্যাকান্ডের ঘটনায় সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরদিন সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগষ্ট কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামীর ফাঁসি ও ১২ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। রায়ের বিরুদ্ধে আসামীপক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগষ্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামীর মধ্যে ৯ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। একই সাথে যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত ১২আসামীর সাজা মওকুফ করেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির তিন আসামী রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু, আনোয়ার হোসেন ও সাফায়েত হোসেন হাবিব ওরফে হাবি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। ২০১১ সালের ৭ আগষ্ট প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি শেষে আপিলকারী ফাঁসির ৯ জনের সাজা বহাল রাখেন। পরে ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামীরা সুপ্রিমকোর্টে রিভিউ করলে তাও ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর খারিজ করে দেন আদালত। এরপর ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারী গভীর রাতে যশোর কারাগারে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামী আনোয়ার হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু ও সাফায়েত হোসেন হাবিব ওরফে হাবির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে কাজী আরেফ পরিষদ ও শহীদ ইয়াকুব আলী স্মৃতি সংসদ এবং দৌলতপুর জাসদ পৃথক কর্মসূচী গ্রহন করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সকালে ফিলিপনগর পিএম কলেজ চত্বরে শহীদ ইয়াকুব আলীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন, ফাতেহা পাঠ ও স্মরন সভা। এছাড়াও কাজী আরেফ পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।