ইশতেহার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে – তাপস

ঢাকা অফিস ॥ আগামী ৫ বছরে উন্নত ও ঐতিহ্যের ঢাকা গড়তে নির্বাচনের আগে দেয়া ইশতেহার পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা যে ইশতেহার ঢাকাবাসীর কাছে দিয়েছে। তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল রোববার বিকেলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এসময় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকার বিষয়ে তাপস বলেন, উপস্থিতি কম হলেও সারা বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই জুন জুলাইতে মশার উপদ্রব যেন না বাড়ে সেজন্য বর্তমান দায়িত্ব থাকা মেয়রকে আগাম প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন নেতাকর্মীরা। সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেলে বন্দি রাখলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে যাওয়ার পরও কেউ কথা বলার থাকে না। তাই তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে আর আটকে রাখা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই স্বৈরাচারী সরকার খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেলে বন্দি রেখে যত বিলম্বিত করতে পারবে, আওয়ামী লীগের শাসকদের দুঃশাসন তত বেশি লম্বা হবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আর ঘরে বসে থাকবে না। কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ সময় উপিস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ঢাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন নাসির প্রমুখ।

 

গাংনী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানার স্বামীর ইন্তেকাল

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুব-মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্বামী সাহাবুদ্দীন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না—রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৪৭) বছর । এক কন্যা সন্তানের জনক সাহাবুদ্দীন উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের করমদী গ্রামের বহলপাড়ার মৃত আবু বক্করের ছেলে। সে আ.লীগ রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাংনী পৌর এলাকার চৌগাছা গ্রামের ভাড়া বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। সাহাবুদ্দীনের স্ত্রী উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের জানান আমার স্বামী বাড়ির উঠানে হেঁটে বেড়াচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে সে আকস্মিক পড়ে যান। এ সময় তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। সে স্ট্রোকে মারা গেছেন।  এদিকে সাহাবুদ্দীনের মৃত্যুর খবর শুনে তাকে দেখতে বাসায় ছুটে যান মেহেরপুর-২(গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন, গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদুল হক জুয়েল, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, গাংনী পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম বাবু প্রমুখ। পারিবারিক সূত্র জানায়, সাহাবুদ্দীনের প্রথম জানাজা  গতকাল রোববার সন্ধ্যারাতে গাংনী উপজেলা শহরে অনুষ্ঠিত হয়। রাতেই তাকে নেয়া হয় তার নিজ বাড়ি করমদী গ্রামে।

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বেতন বাড়ল

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন কাঠামোর ত্রয়োদশ গ্রেডে উন্নীত করেছে সরকার। ‘বেতন বৈষম্য’ দূর করতে এসব শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করে রোববার আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা এতদিন চতুর্দশ (১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা) এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা পঞ্চদশ গ্রেডে (৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা) বেতন পেয়ে আসছিলেন। এখন থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহী শিক্ষদের সবার বেতন ত্রয়োদশ গ্রেডে (১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা) শুরু হবে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করা হলেও প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড আগের মতই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা একাদশ এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা দ্বাদশ গ্রেডে বেতন পাবেন। ২০১৯ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করার কথা জানানো হয়েছে আদেশে। ওই বিধিমালায় বলা হয়েছে, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। আর ৩৫ শতাংশ পদে হবে সরাসরি নিয়োগ। তবে ওই ৬৫ শতাংশ পদে পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে। সহকারী শিক্ষক পদে সাত বছরের অভিজ্ঞরা পদোন্নতির যোগ্য হবেন।

আর সহকারী শিক্ষকদের সব পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে কোনো স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করে সরকার। একইসঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল এক ধাপ উন্নীত করা হয়। প্রধান শিক্ষকরা তাদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে হাই কোর্টে রিট হলে গত বছরের ২৫ ফেব্র“য়ারি উচ্চ আদালত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের (প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত) দশম গ্রেডে বেতন দিতে নির্দেশ দেয়। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে ওই আদেশ কার্যকর করতে বলা হলেও এখনও তা কার্যকর হয়নি।

এক লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ তামাকে মৃত্যু – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, টোব্যাকো এটলাস ২০১৮ অনুযায়ী, তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রতিবছর এক লক্ষ ৬১ হাজারের অধিক লোক মৃত্যুবরণ করে। আর ধুমপান কারণে বিভিন্ন রোগে বাংলাদেশে ১২ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়ে ৩ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষ অকাল পঙ্গুত্বের শিকার হয়। তামাকজনিত রোগেব্যাধি ও অকাল মৃত্যুর কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছর ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়, যা ২০১৭ – ১৮ অর্থ বছরে জাতীয় আয়ের ১ . ৪ শতাংশ । গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মমতা হেনা লাভলীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘ইমপ্যাক্ট অব টোবাকোরিলেটেড ইলনেস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে ২০০৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক সেবনের কারণে ১২ লাখ লোক মানুষ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন । এসব রোগের মধ্যে রয়েছে ফুসফুস ক্যান্সার ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদী রোগে (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পলমনারিডিজিজ (সিওপিডি)Ñ যা প্রধানত ধুমপান ও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে হয়ে থাক। মুখ গহ্বরের ক্যান্সার- যা প্রধাণত ধোঁয়াবিহীন বিভিন্ন তামাক সেবন পানের সঙ্গে জর্দা বা সাদাপাতার ব্যবহার এবং মাড়িতে গুল ব্যবহারের কারণে হয়ে থাকে। এছাড়া ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনের ফলে হৃদরোগে, স্ট্রোক , বার্জাজ ডিজিজের মত রোগেও হয়ে থাকে । মন্ত্রী বলেন, তামাক হচ্ছে এমন একটি ক্ষতিকর পণ্য, যা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন- প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতির ক্ষতি করে। ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন- দু ‘ টোই ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী নেশা । পরোক্ষ ধূমপানও অধূমপায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর । তামাক মানুষকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে । তামাক ব্যবহারজনিত রোগে ও মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ । অর্থনীতিতেও তামাকের প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক । ‘ দি ইকোনোমিক্স কস্ট অব টোবাকো ইউজারর্স ইন বাংলাদেশ: এ হেল্থ কস্ট এ্যাপ্রোস’ শিরোনামে ২০১৮ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে ১৫ লাখের অধিক প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ তামাক সেবনের কারণে এবং ৬১ হাজারের অধিক শিশু পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাবে প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত । এতে আরও বলা হয়, তামাকজনিত রোগেব্যাধি ও অকাল মৃত্যুর কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছর ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয় , যা ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে জাতীয় আয়ের ১ . ৪ শতাংশ । সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে । এসময় মন্ত্রী তার সরকারের আমলে তামাক বিরোধী পদক্ষেপ সবিস্তারে তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালের ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দেন ২০৪০ সালের মধ্যে দেশ তামাকমুক্ত করা হবে । তিনি বলেন, এছাড়া ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি কৌশলপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। আিইন বাস্তবায়নে কতৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্যাক্সফোর্স সদস্য, ও আইন বাস্তবায়নে নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ও স্যানিটারী ইনস্পেক্টরদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ২০১৯সালে এ আইন লঙ্ঘনে ৮৬৬টি মামলার বিপরীতে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

২ ড্রাম ট্রাক চালকের অর্থদন্ড

দৌলতপুরে পৃথক ভ্রাম্যমান আদালতে মাদকসেবীর কারাদন্ড

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পৃথক ভ্রাম্যমান আদালতে এক মাদক সেবীর কারাদন্ড এবং ২জন ড্রাম ট্রাক চালকের অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের দফাদারপাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে এসব দন্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, মাদক সেবন ও বহনের অভিযোগে দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সীমান্ত সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় মাদক সেবনরত অবস্থায় বিদ্যুৎ (২০) নামে এক যুবককে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৯(৩৬)/৫ ধারায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৫’শ টাকা জরিমানা করেন। দন্ডিত যুবক একই এলাকার শাজাহান আলীর ছেলে। অপরদিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর দফাদারপাড়া এলাকায় একই ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ২টি ড্রাম ট্রাক ও ট্রাকের চালকদের আটক করেন। পরে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৪৩(১)/৮৬ ধারায় ড্রাম ট্রাক চালক সম্রাট (২৩) ও ইমন (২২) কে ১৫ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলী।

ঝিনাইদহে গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে ভন্ড কবিরাজ গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ২ বছর আগে রাগ করে বাড়ী থেকে চলে যাওয়া স্বামীকে ফেরত আনার কথা বলে গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে কুদ্দুস নামে এক ভন্ড কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে মহেশপুরের পৌর এলাকার বগা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত কুদ্দুস কবিরাজ যশোর জেলার চৌগাছা থানার কোমরপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, কুদ্দুস কবিরাজ মহেশপুর উপজেলার বগা গ্রামে এসে কবিরাজী করত। সম্প্রতি বগা গ্রামের এক নারী ২ বছর আগে স্ত্রীর উপর রাগ করে বাড়ী থেকে চলে যাওয়া স্বামীকে ফেরত আনার কথা বলে। এরপর গত রাতে ছেড়ে যাওয়া স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। সেসময় স্থানীয় জনতা তাকে ধরে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ওই কবিরাজকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। মহেশপুর থানার ওসি মোর্শেদ হোসেন খান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ভিকটিম নারীকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

মিরপুরে মাদক-সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ-ইভটিজিং-শিশু ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদক-সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ-ইভটিজিং-শিশু ও নারী নির্যাতন বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে এসএইচ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে উপজেলার বেশিনগর-নওদা কুর্শা ও রামনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসএইচ ফাউন্ডেশনের   চেয়ারম্যান এ্যাড. রেজাউল করিম রিয়াজের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী বলেন, একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ সে দেশের যুব সমাজ। যুব সমাজ যদি মাদকে আসক্ত হয়, নানা অবক্ষয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে- তবে সে দেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, যে একবার কোনো মাদকে আসক্ত হয়েছে, তার পক্ষে সুস্থ থাকা ও স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করা অসম্ভব। মাদক অপরাধ সংগঠনে প্ররোচক ভূমিকা পালন করে। আমাদের যুব সমাজকে যদি আমরা সুরক্ষা করতে চাই, অন্যায়-অপরাধ কমাতে চাই, সমাজকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাখতে চাই এবং দেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াই ও বিজয় অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।  দেশ ও সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হলে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হবে, মাদকের চলাচল বিপণন ও বিক্রি বন্ধ করতে হবে। মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার  নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে হবে এবং মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরী। সব বয়স ও শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে যদি মাদকের ধ্বংসাত্মক ও ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা যায় এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা আসে তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই মাদকাসক্তের সংখ্যা কমবে। এডুকেয়ার স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক হাফিজ আল আসাদ সোহাগের সঞ্চালনে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য দেন, কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর আলী, মিরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার লোকমান হোসেন, মাজিহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম, সাবেক প্রধান শিক্ষক মওলা বকস্, এসএইচ ফাউন্ডেশনের চিফ কো-অর্ডিনেটর ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় যুবজোট উপজেলা শাখার সহ সভাপতি রেজাউল হক তুফান মেম্বর, কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর আরব আলী প্রমুখ।

খোকসা প্রেসক্লাবের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মাসুদের মায়ের ইন্তেকাল

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা প্রেসক্লাবের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার খোকসা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মাসুদের মাতা  মনোয়ারা খাতুন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না …. রাজিউন)। পরিবার সুত্রে জানা যায় গত সোমবার নিজ বাড়ীতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে ঢাকা হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। গতকাল রবিবার ভোর রাত ৩ টা ৪০ মিনিটে হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬০ বছর। গতকাল রবিবার বেলা ২টায় নিজবাড়ী বনগ্রাম পুর্বপাড়া ঈদগাহ ময়দানে মরহুমার জানাযার নামাজ শেষে বনগ্রাম কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ৪ ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য আতœীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাংবাদিক মাসুদের মায়ের মৃত্যুতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, খোকসা প্রেসক্লাব, উপজেলা আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজা সহ গ্রেফতার ১

নিজ সংবাদ ॥ র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল ৯ ফেব্র“য়ারি রবিবার বিকেলে জেলার সদর থানাধীন মোল্যা তেঘরিয়া এলাকায় মাদক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১ কেজি গাঁজা সহ শাহিন (৩৩) নামে একজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত শাহিন সদর উপজেলার বটতৈল ভাদালিয়া এলাকার আঃ লতিফ এর পুত্র। পরর্বতীতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামীকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এক বার্তায় র‌্যাব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনাভাইরাস: সর্বোচ্চ ঝুঁকির ২০ দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি দেশ বা অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে ভারত ও মিয়ানমার। তবে এ তালিকায় নাম নেই বাংলাদেশের। সম্প্রতি জার্মানির হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি ও রবার্ট কচ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে থাইল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ জন। জাপানে আক্রান্ত হয়েছেন ৯০ জন; এদের মধ্যে ৬৪ জনই একটি প্রমোদতরীর। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ জন। তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকা হংকং ও তাইওয়ান। হংকংয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত আরও ২৬ জন। তাইওয়ানে ভাইরাস আক্রান্ত ১৭ জন। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ দশের বাকি দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কম্বোডিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। ভিয়েতনামে রয়েছে ১৩ জন, মালয়েশিয়ায় ১৬ জন, সিঙ্গাপুরে ৪০ ও কম্বোডিয়ায় একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর রয়েছে যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ম্যাকাও, ফিলিপাইন, রাশিয়া, কানাডা, ভারত, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিয়ানমার। অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন, ম্যাকাওতে ১০ জন। ফিলিপাইনে ভাইরাস আক্রান্ত তিনজন, মারা গেছেন একজন। এছাড়া রাশিয়ায় দু’জন, কানাডায় সাতজন, ভারতে তিনজন, জার্মানিতে ১৩ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাতজন ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। মূলত চীনের সংক্রমিত এলাকা থেকে আকাশপথে বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী প্রবেশের হারের সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আকাশপথে ভ্রমণকারীর সংখ্যা দেখে ধারণা করা যায়, কী হারে ভাইরাস অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। যে রুট যত ব্যস্ত, সেটিতে আক্রান্ত যাত্রী চলাচলের সম্ভাবনা তত বেশি। এই সম্ভাব্য ধারণা ব্যবহার করে আমরা অন্যান্য বিমানবন্দরগুলোতে ‘আপেক্ষিক আগমনি ঝুঁকি’ হিসাব করেছি। বাংলাদেশ থেকে চীনের বেইজিং, গুয়াংজু, কুনমিংসহ কয়েকটি রুটে বিমান চলাচল করে। তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় নাম আসেনি বাংলাদেশের, এখানে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তও পাওয়া যায়নি। এদিকে, এই প্রতিবেদনকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মডেল মনে করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন এর এক গবেষক। ডির্ক ব্রকম্যান নামে ওই গবেষক সায়েন্স ম্যাগাজিনকে বলেন, এটি সংখ্যাগত পূর্বাভাস দেয়ার মতো কোনও বস্তু নয়। জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের কিছু একটা ধারণা করতে হবে, কারণ ভাইরাসটি এখনও অজানা। এ মডেলগুলো সেই ধারণা করতে সাহায্য করতে পারে। করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শনিবার এতে মারা গেছেন আরও ৮৯ জন। এটিই এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির সংখ্যা। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ৮১৩ জন। এর মধ্যে চীনের মূল ভূখন্ড ও এর বাইরে মৃত্যু হয়েছে ৮১১ জনের। এছাড়া হংকং ও ফিলিপাইনে মারা গেছেন একজন করে। শনিবার চীনে নতুন করে আরও ২ হাজার ৬৫৬ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। ফলে দেশটির মূল ভূখন্ডে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৯৮ জন। এদিন চীনে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল করোনাভাইরাসের উৎসস্থল উহানে এক মার্কিন ও এক জাপানি নাগরিক মারা গেছেন। সূত্র: এনডিটিভি, সিএনএন

সভাপতি বিপুল ॥ সাধারণ সম্পাদক লালন

“মানবিক বাংলাদেশ” কুষ্টিয়া জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন

নিজ সংবাদ ॥ মানবিক বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখার নতুন কমিঠি গঠিত হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে মাসুদুর রহমান বিপুলকে সভাপতি ও মাহাতাব উদ্দিন লালনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিঠির অনুমোদন দিয়েছে মানবিক বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় কমিটি। সর্বসম্মতিক্রমে মানবিক বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখায় পদপ্রাপ্তরা হচ্ছেন সহ-সভাপতি জাফর ইকবাল, মকলেছুর রহমান, এ্যাডঃ রিগান, শাহরিয়ার সুমো, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে তরিকুল ইসলাম তরুন, হেলাল উদ্দিন, আনোয়ারুজ্জামান, রাশিদুল ইসলাম, তামান্না জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আনোয়ার হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতানা করিম ও রাসেল হোসেন আরজু, প্রচার সম্পাদক তারিকুজ্জামান সিম্বা, দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর রহমান রিকু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মারুফা ইয়াসমিন সুরভী,  ত্রান ও স্ব-নির্ভর সম্পাদক সজীব মোল্লা, ধর্মীয় বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আহাদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলিমুজ্জামান সদস্য পদে মাসুদ পারভেজ, তৌকির আহম্মেদ, এ্যাডঃ রাজিবুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মামুন, নাসির উদ্দিন দেওয়ান, আবুল কালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান,  মেরাজুল ইসলাম, ইসতিয়াক বকস।

মানবিক বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অসহায় দরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি হক গ্র“পের কর্ণধার আদম তমিজী হক। মানবিক বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দূর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। মানবিক বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখা কমিটিকে ইতিমধ্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।

রংপুর মেডিকেলে ভর্তি চীনফেরতের মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ নেই – আইইডিসিআর

ঢাকা অফিস ॥ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি সদ্য চীনফেরত বাংলাদেশি যুবকের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)। রাজধানী মহাখালীর কার্যালয়ে গতকাল রোববার আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তির সময় ওই লোকের মধ্যে করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ ছিল না। তার জ্বর কাশি কিছুই ছিল না। এক ধরনের শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। “সে কারণে তাকে আমরা পর্যবেক্ষণে নিয়ে এবং তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি। তবে তার অবস্থা এখন ভালো।” গত ২৯ জানুয়ারি রাতে তিনি চীন থেকে ফেরা নীলফামারীর ডোমারের ওই বাসিন্দা গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ বোধ করলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে তাকে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠিয়ে দেন। রংপুর মেডিকেলের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ২৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে। তার গায়ে জ্বর নেই। তবে গলা ও বুকে ব্যথা রয়েছে। চীনফেরত ওই রোগীকে নিয়ে খবর প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, “সন্দেহজনক কেউ পরীক্ষাধীন আছেন এমন ব্যক্তির গোপনীয়তা বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। এটা করতে না পারলে এ ধরনের ব্যক্তি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে পারেন।” চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে ৮১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে দুজন ছাড়া বাকিরা সবার মৃত্যু হয়েছে চীনেই। হংকং ও ফিলিপিন্সে মারা গেছেন দুই চীনা নাগরিক। নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা সার্সের প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০০২-০৩ সালে এই রোগে ৭৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। রোববার সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৪ হাজার ৩৮৯ জনকে স্ক্রিনিং করে তাদের মধ্যে ৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এখনও করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। কারও শরীরে এ ভাইরাস পাওয়া গেলে সেটা গণমাধ্যমকে জানানো হবে কি না- জানতে চাইলে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, তারা বিষয়টি আগে নিশ্চিত হবেন। “এটা জানানোর একটা প্রক্রিয়া আছে। এটা হলে আমাদের তা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কাছে জানাতে হবে। এটা যেহেতু একটা পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি। এ কারণে কিছু পদ্ধতি মেনে আমাদের সেটা জানাতে হবে। “বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কথা বলেই আমরা নির্ধারণ করব এটা কখন কীভাবে জানাতে হবে।”

রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংক পুঁজিবাজারে আসছে সেপ্টেম্বরে – অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রায়ত্ত আরও চারটি ব্যাংককে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল রোববার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি একথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিডিবিএল, অগ্রণী, জনতা ও সর্বশেষ সোনালী ব্যাংককে বাজারে নিয়ে আসা হবে। আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছি। কমিটিতে চারটি ব্যাংকের একজন করে থাকবেন। এটা আইসিবি কোঅর্ডিনেট করবে। “তবে এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক ট্রেজারি পারফর্ম করে। তাই আনতে সময় লাগবে। তবে অক্টোবরের পরে যাব না, সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত কাজটিই করতে চাই। মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংকগুলির ২৫ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে; একবারে না পারলে পর্যায়ক্রমে হবে। আগে থেকে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের শেয়ার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। এসব উদ্যোগের ফলে বাজারে কী প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মার্কেটের উপর কি ইমপ্যাক্ট হবে, আমি বলতে পারব না। “আমাদের কাজটি হচ্ছে সহায়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বাজারের সহায়ক জায়গাগুলোতে সাপোর্ট দেওয়া। বাজার কীভাবে উঠবে না নামবে তা সরকারের হাতে নেই। অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনা হচ্ছে। সাতটি প্রতিষ্ঠান ঠিক করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে আছে। “যে দুটি মার্কেটে আছে, (সে দুটিকে) আরো সম্প্রসারিত করব। পাঁচটির ‘অ্যাসেট লায়াবিলিটি রিভিউ’ করে; এগুলোর মার্কেট ভ্যালু, গুডইউল মূল্যায়ন করে মার্কেটে নিয়ে আসা হবে।” বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে ছিলেন। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সরকারি ৩৪টি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও বেশি দূর এগোয়নি। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের সংকট দেখা দিলে সরকারি কোম্পানিকে বাজারে আনার উদ্যোগ শুরু হয়। ওই বছর সরকারি কোম্পানির ৫১ শতাংশ শেয়ার সরকারের হাতে রেখে বাকিটা ডিসেম্বরের মধ্যে বাজারে ছাড়তে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু সে উদ্যোগ কাজে আসেনি।

ডিএসসিতে ২০১৯-২০২০ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সামাজিক অভিশাপগুলোর বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রুটিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিদ্যমান কিছু সামাজিক অভিশাপের বিরুদ্ধে সতর্ক নজর রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তাঁর সরকার এসব সামাজিক অভিশাপ নির্মূল করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে যাবে। তিনি বলেন, ‘সমাজে মাদক, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির মতো কিছু সামাজিক অভিশাপ রয়েছে। আমি এসব বিষয়ে আপনাদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ’র (ডিএসসিএসসি) শেখ হাসিনা কমপে¬ক্সে ২০১৯-২০২০ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। সমাজের বিদ্যমান সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান পরিচালনায় সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি। অপরাধ বিরোধী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সমাজকে রক্ষা করার জন্য এই ধরণের অভিশাপ নির্মূল করা জরুরি। কারণ আমরা আমাদের সন্তানদের জীবন ধ্বংস করার কোন সুযোগ দিতে চাই না। তিনি একইসঙ্গে বলেন, তাঁর সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে যেন তাল মিলিয়ে চলতে পারে তেমনই একটি আধুনিক ও সুসজ্জিত বাহিনী হিসাবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর সরকার তরুণদের মেধা, জ্ঞান এবং শক্তি দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে চায়।’ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সশস্ত্রবাহিনীকে এমন ভাবে উন্নত করতে চাই যাতে তাঁরা যেকোন দেশে যেকোন পরিস্থিতিতে শান্তি রক্ষায় কাজ করে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পৃথিবীর যেখানে কাজ করেছে সেখানেই সুনাম অর্জন করেছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানবিক সেবা দিয়ে বিভিন্ন দেশে স্থানীয় মানুষের হৃদয় জয় করেছে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী।’ অনুষ্ঠানে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজের কম্যাড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. এনায়েত উল্লাহ স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ১২৫ জন, নৌ বাহিনীর ৩৪ জন এবং বিমান বাহিনীর ২২ জন ছাড়াও ২১ দেশ থেকে আগত ৫৪ জন বিদেশী অফিসার সহ মোট ২৩৫ জন শিক্ষার্থী এ বছর এ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। উল্লেখ্য, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যপর্যায়ের নির্বাচিত কর্মকর্তাদের কমান্ড স্টাফ হিসেবে ভবিষ্যতের গুরু দায়িত্ব পালনে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ‘ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড ও স্টাফ কলেজে’ সেনাবাহিনীর ৪৪টি, নৌবাহিনীর ৩৮টি এবং বিমানবাহিনীর ৪০টি স্টাফ কোর্সে ৫ হাজার ২৫৩ জন সাফল্যের সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এরই মধ্যে ৪২টি বন্ধুপ্রতিম দেশের ১ হাজার ১৬৫ জন অফিসারও এ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েশন করা অফিসারদের হাতে সনদ তুলে দেন। ২১ টি দেশের মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, সিয়েরা লিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, সুদান, তানজানিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা এবং জাম্বিয়া। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের পিএসও সহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ‘সশস্ত্র বাহিনীকে স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক’ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা একটি আধুনিক সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি কুমিল্লার সামরিক একাডেমীতে প্রথম শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে বিদায়ী ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত জাতির পিতার ভাষণের বিশেষ কিছু অংশ উদ্বৃত করেন। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পেলে আমাদের ছেলেরা যেকোন দেশের যেকোন সৈনিকের সাথে মোকাবেলা করতে পারবে। আমার বিশ্বাস, আমরা এমন একটি একাডেমী সৃষ্টি করব, সারা দুনিয়ার মানুষ আমাদের এই একাডেমী দেখতে আসবে। আজকে এটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে।’ ’৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে অনেকটা ছোট পরিসরে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করলেও তা আজকে একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকার প্রধান বলেন,‘শুরু করলে যে পারা যায়,আমরা তা প্রমাণ করেছি।’ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের খন্ড চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘গত এক দশকে বাংলাদেশ বিশ্বে একটা স্থান করে নিতে পেরেছে। আমরা আশা করি ২০ দশমিক ৫ ভাগ থেকে দারিদ্রের হার ১৫ থেকে ১৬ শতাংশে নামিয়ে এনে বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র মুক্ত হিসেবে ঘোষণা দিতে পারবো। ‘মুজিব বর্ষে’ দেশের সকল ঘরে তাঁর সরকার বিদ্যুতের আলো জ্বালাতে সক্ষম হবে, বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,‘সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নেও আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছি এবং আমি মনে করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আধুনিক সাজ-সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণসহ সর্বক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি করতে পেরেছে।’ তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা যে প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করে যান। সেই আলোকেই তাঁর সরকার ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। লাখো শহীদ যে চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল সেই চেতনাতেই বাংলাদেশকে তাঁর সরকার এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তোরণ লাভ করেছি এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’ সেজন্য তাঁর সরকার ৫ বছর মেয়াদি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে এবং আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দেয়ার জন্য শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোর অনেকগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে উল্লেখ করে কোর্স সমাপনী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আপনাদের প্রশিক্ষণ লদ্ধ জ্ঞান আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালনে এবং যেকোন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল করে তুলবে। আর দেশের সার্বিক উন্নয়নের দিকেও আপনারা দৃষ্টি দিবেন, যাতে করে আমরা দেশটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমাদের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে লক্ষ্য তা বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ ভূমিকা রাখবেন।’ কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়,’-এর উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,‘আমরা চাই আপনারাও (বিদেশি শিক্ষার্থীরা) আমাদের বন্ধু হিসেবে থাকবেন এবং সেদেশে বাংলাদেশের একজন গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আপনারা বাংলাদেশকে কখনো ভুলবেন না,সেটাই আমরা চাই।’ কোর্সে অংশগ্রহণকারী সকল সদস্য এবং তাঁদের পরিবার-পরিজন এবং ডিএসসিএসসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকেও আন্তরিক অভিনন্দন ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন,‘যেকোন কাজ করতে গেলে সকলেরই সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। কাজেই এই প্রশিক্ষণের সময় যাঁরা স্পাউজ (সহধর্মিনী) এবং নারী প্রশিক্ষণার্থীদের স্বামীরাও বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন।’ শেখ হাসিনা বলেন,আমরা জাতির পিতার শততম জন্মদিন ১৭ মার্চ ২০২০ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে উদযাপন করব। ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৭ মার্চ ২০২১ সময়কে আমরা ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করেছি। ইউনেস্কো আমাদের সঙ্গে যৌথভাবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী সারা বিশ্বে উদযাপন করবে। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জাতীয় আকাক্সক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর একজন গর্বিত সদস্য হিসাবে আজকের গ্র্যাজুয়েটগণ যথাযথ ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বের দরবারে আরও সমুন্নত ও সমুজ্জ্বল করবে।’

কুষ্টিয়া পৌরসভার সহযোগিতায়

জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’র আয়োজনে আলোচনা সভা ও যুগল কন্ঠে জোড়াগান অনুষ্ঠিত

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায়  কুষ্টিয়া পৌরসভার সহযোগিতায় আলোচনা সভা ও ও যুগল কন্ঠে জোড়াগান অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে পূর্ণিমা তিথির ৩৬তম অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন কুষ্টিয়া’র জেলা ও দায়রা জজ অরূপ কুমার গোম্বামী। প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন কুষ্টিয়া ডাঃ লিজা-ডাঃ রতন ম্যাটস’র চেয়ারম্যান ডাঃ আসমা জাহান লিজা। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ড. আকলিমা খাতুন ইরা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’র কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য অশোক সাহা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান  মজু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন- পৌর এলাকার কবি আজিজুর রহমান সড়কে অবস্থিত রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত মিলপাড়াস্থ লেগর লজ (কুষ্টিয়া কুঠিবাড়ী) কুষ্টিয়া শহরের একমাত্র রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র। সাংস্কৃতি রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়ায় একমাত্র এই লেগর লজে একাধিক সাংস্কৃতি সংগঠন সাংস্কৃতিক চর্চা ও প্রশিক্ষন প্রদান করে থাকে। এটা যেমন কুষ্টিয়া শহরবাসীর সম্পদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আশ্রয়স্থল। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া’র জেলা ও দায়রা জজ অরূপ কুমার গোম্বামী বলেন- এই টেগর লজে আমি এর আগেও একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেছিলাম। জানতে পারলাম আজকে যুগল কন্ঠে রবীন্দ্রনাথের জোড়াগানের অনুষ্ঠান হবে, এজন্য আমিসহ ক’জন অতিথিদের নিয়ে এই কুঠিবাড়ীতে চলে এলাম। রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান আমার অনেক প্রিয়। এজন্য রবীন্দ্রনাথের কোন অনুষ্ঠান হলে আমি সুযোগ পেলে সেখানে অংশগ্রহন করি। এছাড়াও তিনি  বলেন এখানে রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতা প্রশিক্ষন দেওয়া হয় এটা চলমান রাখার আহবান জানান। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ডাঃ লিজা বলেন, রবীন্দ্রনাথ শুধু কবিতা আর গানই লেখেনি। তিনি অসংখ্য গানের সুরও করেছেন। সেই সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন মানুষ প্রেমিক ছিলেন। তিনি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এনজিও প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এছাড়াও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বহুমুখী কল্যানমূলক কাজে লিপ্ত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পিবৃন্দ এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ’র শিল্পিবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আব্দুর রহমান ও আদ্রিতা আফরিন। উল্লেখ্য অনুষ্ঠান শুরুর আগে রবীন্দ্রনাথের আবক্ষমূর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন অতিথিবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আজ চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু

কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ২৫ ফেব্রয়ারি

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২০-২০২১ সালের সাধারণ নির্বাচনের লক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশন সুত্রে ও ঘোষিত নির্বাচনী তফশীল অনুযায়ী গতকাল রবিবার জানা যায়, আজ সোমবার চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইতোপূর্বে গত ৩ ফেব্র“য়ারী ৩৮৪ জনের নামের তালিকা দিয়ে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিলেন নির্বাচন কমিশন। নামের ভুল কিংবা ভোটার তালিকা বিষয়ে আবেদিত আপত্তি শুনানী শেষে সোমবার চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান, নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এ্যাড. এস এম আনসার আলী। আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমাদান করা যাবে।  নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আগামী ১৭ ফেব্র“য়ারী সোমবার চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর পরই জমে উঠবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আগামী ২৫ ফেব্র“য়ারী মঙ্গলবার কুষ্টিয়া বারের নিজস্ব নতুন ভবনের হল রুমে নীচতলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে একটানা বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহনের দিন  ভোট কেন্দ্রে বার কাউন্সিল/বার সমিতির নিজ নিজ পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশন চাইলে দেখাতে হবে। ইতোমধ্যেই এবারের সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড. এস এম আনসার আলী। তার সাথে কমিশন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড.মতিয়ার রহমান (১) ও সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড. আশরাফ হোসেন।

ইবিতে তিনটি ভবনের বর্ধিতাংশের কাজের উদ্বোধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মীর মোশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবন, মেডিকেল সেন্টার ও বিশ^বিদ্যালয়ের ডরমেটরির মূল ভবনের বর্ধিতাংশের কাজের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণের কাজ শুভ উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী)। গতকাল রবিবার দুপুরে  বর্ধিতাংশের কাজের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। মীর মোশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণের কাজটি করছেন রূপালী কনস্ট্রাকশন্। কাজটি করতে ব্যয় হবে  ৫ কোটি ৯ লক্ষ টাকার। এছাড়া মেডিকেল সেন্টারের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণের কাজটি করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকৌশলী ও নির্মাতা কাজটি ১ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকার। এবং বিশ^বিদ্যালয় ডরমেটরির মূল ভবনের বর্ধিতাংশের কাজের উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণের কাজ করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সী এসোসিয়েট এবং কাজটি ২ কোটি ৯ লক্ষ টাকার।  পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক (ভারঃ) এইচ. এম. আলী হাসানের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ জাকারিয়া রহমান, প্রক্টর  প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ, প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী(ভারঃ) মোঃ আলীমুজ্জামান (টুটুল), রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস. এম. আব্দুল লতিফ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার(ভারঃ) ড. মোঃ নওয়াব আলী খান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা ও কমচারী এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও শ্রমিকবৃন্দ। চলমান ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় এ তিনটি নির্মাণ কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আগামী দেড় বছরের মধ্যে এ নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কৃষকের লাশ ৩দিনেও ফেরত দেয়নি বিএসএফ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কৃষক ছলেমান (৪৭) এর লাশ ৩দিনেও ফেরত দেয়নি বিএসএফ। শুক্রবার বিকেলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই কৃষকের মৃত্যু হয়। নিহত ছলেমানের লাশ ফেরত নিয়ে বিজিবি’র পক্ষ থেকে শনিবার পৃথক বার্তা দেওয়া হলেও লাশ ফেরতের বিষয়টি নিয়ে অনেকটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শনিবার দুপুর ১.৪০টার সময় কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষে সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান গতকাল রবিবার ছলেমানের লাশ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন। পরবর্তীতে রাত ৮.৫৫টায় কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষে সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান দ্বিতীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান বিএসএফ’র লাশ ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন নিহত ছলেমানের লাশের ময়নাতদন্ত ভারতে সম্পন্ন হওয়ার পর হস্তান্তর করা হবে। এদিকে বিএসএফ’র গুলিতে কৃষক ছলেমান নিহত হওয়ার পর তার লাশ ফেরত নিয়ে বিএসএফ’র টানা হ্যাচড়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আজ সোমবার দিনের কোন এক সময় বিজিবি-বিএসএফ’র মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই পতাকা বৈঠকে লাশ ফেরত দেওয়া হতে পারে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানাগেছে। উল্লেখ্য গত ৪ ফেব্র“য়ারী সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ছলিমেরচর সীমান্ত এলাকার কৃষক গাজী, রুবেল, ছলেমান, আরিফুল ও সাহাবুল ১৫৭/২(এস) সীমান্ত পিলার সংলগ্ন বাংলাদেশী ভূখন্ডে নিজ জমিতে রায়-শরিষা কর্তন করছিল। এসময় ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার ১৪১ বিএসএফ কমান্ডেন্ট অধিনস্থ মুরাদপুর ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ বিনা উস্কানিতে তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কৃষক ছলেমান গুলিবিদ্ধ হলে বিএসএফ তাকে ধরে যায়। পরে তাকে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে ছলেমান মারা যান। গতকাল রবিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানা পুলিশের নিহত ছলেমানের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার কথা ছিল। এরপর পতাকা বৈঠকের মাধ্যেমে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কৃষক ছলেমানের লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেন। তবে কোন সময় লাশ হস্তান্তর করা হবে তা নিশ্চিত করেননি বিএসএফ এমন তথ্যও বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়। নিহত ছলেমান দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ছলিমেরচর এলাকার শাহাদতের ছেলে।

কুষ্টিয়া জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

নেশার ওষুধ বিক্রি বন্ধে অভিযান চালানো হবে

আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতেই হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, আগামীর নেতৃত্বদানকারী আজকের নতুন প্রজন্মকে মাদকের ছোয়া থেকে যে কোন মুল্যে বাইরে রাখতে হবে। মাদকদ্রব্য পরিবার, দেশ তথা রাষ্ট্রে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করছে। মাদক আস্তে আস্তে প্রজন্মের মেধা ও জীবনী শক্তি কেড়ে নিচ্ছে। আপনার সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখুন তাদের বিপদগামীতার হাত থেকে রক্ষা করুন। মাদকাসক্ত থেকেই জেলা শহর সহ বিভিন্ন এলাকায় নামে বে-নামে কিশোর অপরাধ গ্যাং গড়ে উঠছে। জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে। জেলায় মাদক দ্রব্য ও নেশা জাতীয় ওষুধ বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রজন্মকে মাদক মুক্ত রাখতেই হবে। আর এক্ষেত্রে নিজেদের বেশি বেশি করে সচেতন হতে হবে। আজকের বিশ^ায়নের যুগে আপনার আমার সন্তানের মধ্যে অপার সম্ভাবনা গুলিয়ে আছে। তাদের এই মেধা ও প্রতিভা কোনভাবেই নষ্ট হতে দেয়া যাবেনা। এ ব্যাপারে সবার আগে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে  জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  জেলা প্রশাসক আরো বলেন- মাদকাসক্ত থেকেই জেলা শহর সহ বিভিন্ন এলাকায় নামে বে-নামে কিশোর অপরাধ গ্যাং গড়ে উঠছে। জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে। তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ফেরাতে ইভটিজিং, দ্রুত গতিতে মটরসাইকেল চালানো এবং জোরে হর্ণ বাজানো সহ নানান কৌশল করে বেড়াচ্ছে তারা। এ ব্যাপারে সবার আগে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে এলোপ্যাথিক ফার্মেসী ওষুধের দোকানগুলোতে উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীদের ভীড় হচ্ছে এমন খবর আমরা পাচ্ছি। এসব ফার্মেসীর মালিকরা রোগীর প্রয়োজনীয় সাধারণ ওষুধের প্যাকেটে আলোচিত নেশা জাতীয় ওষুধ টাফেন্টা বিভিন্ন নেশার ওষুধ রেখে বিক্রি করছে। হোমিওপ্যাথিক ও এলোপ্যাথিক ফার্মেসীগুলোতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীদের মাঝে ওষুধের নামে বিষাক্ত এ্যালকোহল ও নেশা জাতীয় ওষুধ দেদারছে বিক্রি করছে। কোন প্রকার ওষুধ নীতি না মেনেই এসব ওষুধ বিক্রি করে যারা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই অভিযান চালানো কবে। প্রমান পেলেই তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

জেলা ড্রাগ সুপারের নিষ্কৃতার কারনেই হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসীগুলোতে এ্যালকোহল এবং এলোপ্যাথিক ফার্মেসীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধসহ আলোচিত নেশা জাতীয় ওষুধ টাফেন্টা উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীসহ সাধারণ মানুষের কাছে অবাধে বিক্রি করার ফলে তারা জড়িয়ে পড়ছে মাদকের নেশায়। ড্রাগ সুপারকে ধিক্কার দিয়ে তিনি বলেন- তার ব্যর্থতার দায়ভার জেলাবাসী নিতে পারেনা।

জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন- প্রজন্মকে মাদক থেকে দুরে রাখতে এবং তাদের বুদ্ধি বিকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। এলাকায় চিহ্নিত দাগী ফেরার কোন অপরাধীকে দেখলে কিংবা অপরিচিতি সন্দেভাজন কাউকে দেখলেই আপনার নিকটস্থ পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিন। সচেতনতায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

তিনি বলেন, কোন বহনকারীকে সাজা দেয়ার আগে তার তথ্য মতে মাদকের নাটের গুরু গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। মাদক বেচা-কেনা স্পটগুলোকে চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হবে। জেলায় মাদকের ব্যবহার কমাতে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরসহ আইনশৃংখলা বাহিনী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে টাস্কফোর্সের অভিযান বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় অপরাধ কম থাকলেও সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতেও পেয়াজের বাজার ও চালের বাজার আবারো অস্থির হয়ে উঠছে। সকালে এক দাম বিকেলে এক দাম রাতে আবার অন্য দামে পেয়াজ বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। এ খবরটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুখকর নয়। সরকারের সকল সাফল্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে পেয়াজের কারনে এটি হতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, মাদক নির্মুলে ও বাজার দর নিয়ন্ত্রণে যে মোবাইল কোর্টসহ অভিযান চলছে, তা আগের মতই চলবে। এক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ যেন যথার্থই হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে মোবাইল কোটি পরিচালনা করতে হবে। এতে কিছু মানুষ ক্ষুদ্ধ হলেও অভিযুক্তকে তাৎক্ষনিক সাজা প্রদান করায় দেশের অধিকাংশ মানুষই এই মোবাইল কোর্টকে গ্রহন করেছেন। তিনি ইউএনও এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দ্যেশে বলেন, মনে রাখতে হবে অভিযান চলাকালিন সময়ে নানান পরিচয় দিয়ে তোমাকে যেন তার পক্ষে ব্যবহার করতে না পারে।

তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, জেলার আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে ধর্মীয় সভা, ওয়াজ মাহফিল, ইসলামী জলসা অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে কোন বিশৃংখলা করতে দেয়া হবে না। দূর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি আপনাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর একার পক্ষে গোটা জেলাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। কোনভাবেই জেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না।

বিগত মাসের প্রতিবেদন তুলে ধরে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  গোলাম সবুর, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ^াস, খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরিন কান্তা, জেল সুপার জাকের হোসেন, এনএসআই’র যুগ্ম পরিচালক ইদ্রিস আলী, জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার  সোহেল রানা, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির নেতা নরেন্দ্র নাথ সাহা, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান, বাস মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি আতাহার আলী, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক এফতে খাইরুল ইসলাম, বিশিষ্ট কবি ও আবৃত্তিকার আলম আরা জুঁই, বিআরটিএ’র ইন্সপেক্টর ওমর ফারুক, বিএফএ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকারম হোসেন মোয়াজ্জেম, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি এসএম কাদেরী শাকিল, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী রবিউল ইসলাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, জেলা শিশু একাডেমীর কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, মহিলা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত জেলা কর্মকর্তা তামান্নাজ খন্দকার প্রমুখ।

সভায় এছাড়াও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ বজায় রাখা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখা, পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধ, ইভটিজিং, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে বহিরাগতদের উপদ্রব বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহন, যৌন হয়রানী এবং চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা প্রতিরোধ, অবৈধ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার রোধ, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়, ফরমালিন সনাক্তকরণে ফলের স্যাম্পল সংগ্রহকরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

যুব বিশ্বকাপ

ভারতকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্ষণে ক্ষণে বাঁক পরিবর্তন। পেন্ডুলামের মত দুলতে দুলতে থাকা ম্যাচটিতে স্নায়ুর চাপ বাড়ছিল মুহূর্তে মুহূর্তে। উদ্বোধনী জুটিতে ৫০ ওঠার পর যেভাবে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ, সেখান থেকে জয় সম্ভব- এটাই ছিল যেন দুঃস্বপ্ন। অবশেষে চরম অনিশ্চয়তার ম্যাচটিকে সম্ভবে পরিণত করলেন অধিনায়ক আকবর আলির অসাধারণ ব্যাটিং। সত্যিকার একটি ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করলো পচেফস্ট্রমের সেনওয়েজ পার্কের সমর্থকরা। ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানোর ম্যাচটিতে সব বিভাগে  শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েই চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। ভারতের মত শক্তিশালী দলকে ২৩ বল হাতে রেভে ৩ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারেরমত যুব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এই প্রথম যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল খেললো বাংলাদেশ এবং প্রথমবারেই বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে নিলো ঘরে। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। সাতবার তারা খেলেছে ফাইনালে। তেমন একটি দলকে হারিয়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরলো বাংলাদেশের যুবারা। কি অসাধারণ ব্যাটিংটাই না করলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক আকবর আলি! একের পর এক যখন উইকেট পড়ছিল, তখন একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৭৭ বলে ৪৩ রান করলেন আকবর। রাকিবুল হাসান ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের প্রয়োজন যখন ৫৪ বলে ১৫ রান। জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে তখন বাংলাদেশ। এমন সময়ই পচেফস্ট্রমের সেনওয়েজ পার্কে নেমে আসে বৃষ্টি। ফলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বাংলাদেশের রান ছিল ৪১ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬৩। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর খেলা শুরু করার সময় বৃষ্টি আইন ডি/এল মেথডে ওভার কেটে নেয়া হয় চারটি। বাংলাদেশের লক্ষ্যও কমিয়ে দেয়া হয় ৮ রান। অর্থ্যাৎ, রিভাইজ লক্ষ্য দেয়া হয় ৩০ বলে ৭ রান। এরপর মাঠে নেমে রাকিবুল হাসানের বাউন্ডারি এবং তার একটি সিঙ্গেল ও আকবরের এক সিঙ্গেলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। সে সঙ্গে মাথায় পরে নেয় চ্যাম্পিয়নের মুকুট। দুই ওপেনারের ব্যাটে শুরুতেই বাংলাদেশ জবাব দিতে শুরু করে ভারতকে। বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ১৭৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটাই দুই ওপেনার করেছিলেন উড়ন্ত। ওপেনিং জুটিতেই উঠে যায় ৫০ রান। কিন্তু ওপেনারদের এই দারুণ জুটিটাকে কাজে লাগাতে পারছে না পরের ব্যাটসম্যানরা। হারাচ্ছে একের পর এক উইকেট। ৫০-৬৫ – এই ১৫ রানের মধ্যেই বাংলাদেশ হারিয়েছে ৪ উইকেট। দলের সেরা সেরা চারজন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে দারুণ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের শিরোপা কি তাহলে সুদুর পরাহতই হয়ে থাকবে? এ সময় কিছুটা ব্যথা পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান পারভেজ হোসেন ইমন। মাঠে নামেন অধিনায়ক আকবর আলি। তিনি আর শামিম হোসেন মিলে ২০ রানের জুটি গড়েন। ৮৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৭ রানে আউট হয়ে যান শামিম হোসেন। এরপর জুটি বাধেন অধিনায়ক আকবর আলি এবং অভিষেক দাস। এ দু’জনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ১৮ রানের জুটি। ৭ বলে ৫ রান করে এ সময় আউট হয়ে যান অভিষেক দাস। এরপর আবার মাঠে নামেন পারভেজ হাসান ইমন। জুটি বাধেন আকবর আলির সঙ্গে। এ দু’জন মিলে দেশে-শুনে খেলে গড়েন ৪১ রানের জুটি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খেলে ৭৯ বলে ৪৭ রান করেন পারভেজ হোসেন ইমন।  ১৪৩ রানের মাথায় পারভেজ আউট হয়ে গেলেও রাকিবুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে একাই লড়াই করে যান আকবর আলি। রাকিবুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেট জুটিতে জয়ের অসমাপ্ত কাজটিকে সমাপ্ত করলেন আকবর। ১৭৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত জুটি গড়ার পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যান দুই ওপেনার। ১৭ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তানজিদ হাসান। ২৫ বল মোকাবেলা করে ২টি বাউন্ডারি এবং ১টি ছক্কা মারেন তিনি। তানজিদ হাসান আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন মাহমুদুল হাসান জয়। আগের ম্যাচে যার ব্যাট থেকে এসেছিল দারুণ এক সেঞ্চুরি। কিন্তু জয় আউট হয়ে যান মাত্র ৮ রান করে। দলের আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান তৌহিদ হৃদয় আউট হয়ে যান কোনো রান না করেই। শাহাদাত হোসেন বোকার মত স্ট্যাম্পিং হলেন মাত্র ১ রান করে। ১৭৮ রানের লক্ষ্য। ফাইনাল হলেও রান তাড়া করতে গিয়ে যখন ব্যাটসম্যানদের সামনে লক্ষ্যটা থাকে সহজমাত্রার, তখন চাপ থাকে খুবই কম। ফলে সাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করে যাওয়া যায়। বাংলাদেশ দলের দুই ওপেনার পারভেজ হাসান ইমন এবং তানজিদ হাসান ব্যাট করতে নামলেন পুরোপুরি চাপমুক্তভাবে। দেখে-শুনে খেলে বাংলাদেশ দলকে যতদুর এগিয়ে নেয়া যায়, সেটাই চিন্তা দুই ওপেনারের। তবে, ভারতীয় বোলারদের রীতিমত ভড়কে দিয়েই ব্যাট হাতে সূচনা করলেন দুই ওপেনার পারভেজ হাসান এবং তানজিদ হাসান। ৪ ওভারেই তারা তুলে ফেললেন ২৮ রান। যেখানে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শুরুতে বেশ ধুঁকে ধুঁকে ব্যাট করছিল বাংলাদেশের বোলারদের সামনে, সেখানে টাইগার ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশকে এনে দিলেন উড়ন্ত সূচনা। অতিরিক্ত রানের সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়, ভারতীয় বোলাররা কেমন খেই হারিয়েছে। ওয়াইড, নো কিংবা লেগ বাইতেই তারা এই রানগুলো দিল। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতকে চেপে ধরে বাংলাদেশের বোলাররা। যার ফলে ৪৭.২ ওভারে ১৭৭ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। ব্যাট করতে নামার পর বাংলাদেশের বোলার অভিষেক দাস শুরুতেই ফিরিয়ে দেন ভারতের ওপেনার সাক্সেনাকে। এরপর জাসওয়াল এবং তিলক ভার্মা মিলে ৯৬ রানের জুটি গড়েন।  এই জুটিতে ভাঙন ধরান তানজিম হাসান সাকিব। এরপর শরিফুল ইসলাম অ্যাকশনে এসে ফিরিয়ে দেন ৮৮ রান করা জাসওয়ালকে। পরের বলেই তিনি তুলে নেন আরেক ব্যাটসম্যান, সিদ্ধেস ভিরকে। পরপর দুটি রানআউট এবং অভিষেক দাসের আবারও অন অ্যাকশনে এসে ভারতকে চেপে ধরার পরই তারা অলআউট হয়ে গেলো ১৭৭ রানে। অভিষেক দাস নেন ৩ উইকেট। শরিফুল ইসলাম এবং তানজিম হাসান সাকিব নেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া রাকিবুল হাসান নেন ১টি উইকেট। দুটি হলেন রান আউট।