ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করবে ইরান

ঢাকা অফিস ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, সামরিক এবং সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসবাদের জন্য আলাদা তিনটি মামলা করা হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ এ কথা বলেছেন। লেবাননের আল মায়াদিন নিউজ নেটওয়ার্ককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। বৃহস্পতিবার জারিফের এ সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। তিনি বলেন, গত ৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে সার্কিন সেনারা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছে। এটি পরিষ্কারভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ। এক প্রশ্নের জবাবে জাওয়াদ জারিফ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের জন্য এখন ট্রাম্প অভিযুক্ত। একইভাবে তিনি সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদেরই অংশ। জারিফ আরও বলেন, এই তিনটি অভিযোগে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। বর্তমান সময়ে বিশ্ব জনমতের সামনেই ট্রাম্প এই তিনটি অপরাধ করেছেন। ইনশাল্লাহ এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক আইন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করব। পার্স টুডে

 

ঝিনাইদহে আলমসাধুর ধাক্কায় শিশু নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদরে আলমসাধুর ধাক্কায় আছিয়া খাতুন নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার লক্ষ্মীপুর নতুন বাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত  আছিয়া সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের আছির উদ্দিনের মেয়ে। সে কালা-লক্ষীপুর গ্রামের নানা ইনছান আলীর বাড়ীতে থাকতো। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন জানান, হাটগোপালপুর  থেকে ইট বোঝাই একটি আলমসাধু ঝিনাইদহ শহরের দিকে আসছিল। এসময় আলমসাধুটি ওই এলাকার নতুন বাড়ীর সামনে শিশুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে  গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ইয়াবাসহ ভুলন শেখ (৩৯) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার পূর্বে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউপি’র মোহাম্মদপুর মাঠ সীমান্ত এলাকা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা ও একটি মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ রামকৃষ্ণপুর বিওপি’র টহল দল। আটক মাদক ব্যবসায়ী ভুলন শেখ ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ এলাকার ইয়াচ আলীর ছেলে। এসময় বাদশা দফাদার ও শাহজামাল নামে দু’জন মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যায় বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে। পরে আটক মাদক ব্যবসায়ীকে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় নাগরিক সংগঠন জেলা লোকমোর্চার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি সভা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা

চুয়াডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গায় নাগরিক সংগঠন জেলা লোকমোর্চার নবনির্বাচিত ৪৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির (২০২০-২০২২) পরিচিতি সভা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার শহরের মালোপাড়াস্থ ওয়েভ ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দিনব্যাপী কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, নিরাপত্তা বেষ্টনি ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে লোকমোর্চা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।  চুয়াডাঙ্গা জেলা লোকমোর্চার সভাপতি অ্যাড. আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক হাবিবি জহির রায়হান, প্রকল্প সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান যুদ্ধ, লোকমোর্চার সচিব কানিজ সুলতানা ও কর্মসূচি সমন্বয়কারী আব্দুল আলিম সজল বক্তব্য রাখেন। জেলা লোকমোর্চার কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, আ্যাড. মানিক আকবর, পারভীন লায়লা, আবুল কালাম আজাদ, আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, মো. রহমতউল্লাহ,  শেফালী খাতুন, প্রভাষক হেলেনা নাসরিন, শফিকুল ইসলাম সাবু তরফদার, এসএম জাহিদ হাসান জনি ও তৌফিক শুভ বক্তব্য রাখেন।  নবনির্বাচিত  চুয়াডাঙ্গা জেলা লোকমোর্চার সভাপতি পদে অ্যাড. আলমগীর হোসেন, সহসভাপতি পদে  তানজিলা মনোয়ারা মিনি, অ্যাড. বজলুর রহমান ও অ্যাড. বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে শাহ আলম সনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. হানিফ উদ্দিন, দিলরুবা ফেরদৌস খুকু ও লিটু বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জুলিয়াস আহমেদ মিল্টু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নুরুন্নাহার কাকলি, কোষাধ্যক্ষ পদে মনোয়ারা সুলতানা ময়না, প্রচার সম্পাদক পদে আহাদ আলী মোল্লা ও  দপ্তর সম্পাদক পদে কিশোর কুমার কুন্ডু নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে আনোয়ার হোসেন, শরিফুন নাহার শিখা, শাহজাদি মিলি, শিরিণ ল্য়ালা, হাফিজ উদ্দিন, শিরিণা ইয়াসমিন ডলি, সুমিতা দে, অ্যাড. মানিক আকবর, পারভীন লায়লা, এম সবেদ আলী, খন্দকার শাহ আলম মন্টু, আবুল কালাম আজাদ. আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, মো. রহমত উল্লাহ ও সহিদুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন। কমিটির সাধারণ সদস্যরা হলেন, অ্যাড. রফিকুল ইসলাম, ইলিয়াস হোসেন, সাইদুর রহমান, দারুল ইসলাম, হাশেম আলী, আনোয়ার উদ্দিন, শেফালী খাতুন, জাহানারা খাতুন, ইলিয়াস হোসেন (প্রতিবন্ধি) সেলিমুল হাবিব, প্রভাষক হেলেনা নাসরিন, আলী হোসেন, শামীম হোসেন, আল্পনা আক্তার, পূর্ণিমা সাহা, শামসুজ্জোহা রানা, নার্গিস (হিজরা), তামান্না খাতুন ও তৌফিক শুভ  নির্বাচিত হয়েছেন। পরিচিতি ও কর্মশালা অনুষ্ঠানে জেলা লোকমোর্চার সভাপতি অ্যাড. আলমগীর হোসেন বলেন, ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৪ সালে নাগরিক সংগঠন লোকমোর্চা প্রতিষ্ঠিত হয়। লোকমোর্চার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে আগামী দিনগুলোতেও সদস্যদের এবং জেলাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, নিরাপত্তা বেস্টনি ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সমাজে অবদান রাখবে জেলা লোকমোর্চা এ প্রত্যাশা করছি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে কেন্দ্রিয় ঘোষীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিমুল হাসান অপুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক একে বিশ্বাস বাবু, যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টু, জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন মোকা, জেলা মৎস্যজীবি দলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম রেজা, জেলা তাতীঁদলের সদস্য সচিব মীর আয়ুব আলী, মিরপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কুমারখালী উপজেলা যুবদলের সভাপতি এ্যাড. শাতিল মাহমুদ, শহর বিএনপির নেতা খন্দকার মিরারুল ইসলাম দুলাল, হাসানুজ্জামান হাসান, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম আন্টু, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাব্বি, পৌর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সাধীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এ্যাড. ইকবাল খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পাদক বকুল আলী, সদর থানা ছাত্রদলের নেতা শাহারিয়া আল মামুন, সাইফুল ইসলাম, রাসেল হোসেন, পান্নু, সজিব, সবুজ হোসেন, ইবি ছাত্রদল নেতা রোকুনুজ্জামান রোকন, নাজির হোসেন, মিরপুর ছাত্রদল নেতা রাসেল, সাব্বির, জেলা আইনছাত্র পরিষদের আহবায়ক আহমেদুর রহমান সরকার রাব্বি, যুগ্ম-আহবায়ক রোকুনুজ্জামান, ফরিদ, শহর ছাত্রদল নেতা দেবোত্তম বিশ্বাস, তাপশ কুমার সরকার সহ অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সোহরাব উদ্দিন তার বক্তব্য বলেন, নিঃশর্ত ‘প্রয়োজন বোধ করলে বেগম জিয়াকে বের করে নিয়ে আসবো। আমরা মওলানা ভাসানীর উত্তরসূরি। আমরা শহীদ জিয়ার উত্তরসূরি, আমরা বেগম জিয়ার উত্তরসূরি। কথা একটাই, যদি সোজা আঙুলে ঘি না ওঠে, আঙুলটা বাঁকা করবো। মুক্তিকামী জনগণ প্রস্তুত এখন আমরা তাদের সাথে নিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ছিনিয়ে আনবো। এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। তিনি অবশ্যই আমাদের মাঝে আসবেন। দেশের মানুষকে আবারো মুক্ত করবেন। সভায় বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর রোগ মুক্তি ও তার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

এখন আর সভা-সমাবেশ নয়, মাঠে নামবো – ড. কামাল

ঢাকা অফিস ॥ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগ করা হবে উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, আজ খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সভা করতে হবে এটা অকল্পনীয়। এখন সভা-সমাবেশে নয়, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে সামনে রেখে মাঠে নামবো। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে মাঠে নামতে হবে। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। খালেদার মুক্তির আগে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার প্রস্তাবও আসে এই সভায়। গণফোরাম সভাপতি কামাল বলেন, “এখন আমি মনে করি যে, এই ধরনের সভা নয়, এখন আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে সামনে রেখে মাঠে নামব এবং এটা অর্জনে জনগণকে অনুপ্রাণিত করতে আমরা চলুন সবাই ভূমিকা রাখি।” খালেদা জিয়া বন্দি হওয়ার পর কামালের সঙ্গে মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। তবে দলীয় প্রধানকে কারাগারে রেখে ভোটে অংশ নেওয়ার বিরোধিতা ছিল বিএনপির অনেক নেতার। ওই নির্বাচনে ভরাডুবি হওয়ার পর ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি তোলে ঐক্যফ্রন্ট। তবে তাদের কোনো দাবিতে কান দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কামাল বলেন, “এদের (ক্ষমতাসীনদের) বলে তো কোনো লাভ নেই, এদের লাথি মেরে বের করে দরকার, পদত্যাগ পদত্যাগ না বলে।” পদত্যাগ না করলে কী করতে হবে-কামাল এই প্রশ্ন করলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকরা বলেন, লাথি মেরে বের করতে হবে। তখন কামাল বলেন, ‘গুড। ওইসব ভাষা না বলে তাদেরকে অন্তত হাত ধরে টেনে রাস্তায় নামিয়ে দিতে হবে আর কী।” দুর্নীতির মামলায় সাজা নিয়ে বন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান কামাল। তিনি বলেন, “আজকে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এখানে সভা করতে হবে, দাবি করতে হবে, এটা অকল্পনীয়। ৪৮ বছর দেশ স্বাধীন হয়েছে, এখনও রাজবন্দির মুক্তির কথা বলতে হবে, এটা দুঃখের বিষয়। আসুন এখন আর সভা নয়, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামি।” আওয়ামী লীগ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে অভিযোগ করে কামাল বলেন, “মানুষকে বঞ্চিত করে স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করবে, এটা একটা প্রহসন। অর্থাৎ যারা প্রহসন করে এসেছে তাদের এখন সময় এসেছে সহজভাষায় বলা- সরে দাঁড়াও, সরে দাঁড়াও, সরে দাঁড়ান।” সভায় বক্তব্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী আন্দোলনে জনগণকে সংগঠিত করতে কামাল হোসেনকে পদযাত্রা শুরু করার পরামর্শ দেন। খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়ার আগে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নিতে ঐক্যফ্রন্টকে প্রস্তাব দিয়েছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, “যতদিন পর্যন্ত না খালেদা জিয়াকে সরকার মুক্তি দেবে আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রয়োজন নেই। “আমি কিছুটা হলেও তাকে (খালেদা জিয়া) প্রভাবিত করেছিলাম প্রথমবারে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার জন্য। আজকে আমি বুঝতে পারছি, যেভাবে সরকার এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে তাতে অংশ নেওয়া ঠিক হবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচন অংশগ্রহণ অর্থহীন।” খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দুটি প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “একটা হলো আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন সাহেব তার (খালেদা জিয়া) জন্য রিভিউ পিটিশন করুন। সরকারের মান রক্ষার জন্য না, সরকারকে সন্মানজনক এক্সিট দেওয়ার জন্য উনি রিভিউ পিটিশন করুক, তার প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি দেওয়া হোক। “সরকারকে এই নির্বাচনের নামে যে টাকার অপচয় হচ্ছে, তা বন্ধ করতে এই কমিশন বদলিয়ে কমিশনে এমন কর্মকর্তাকে দিতে হবে যার কোমরের জোর আছে, মেরুদন্ড সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে, সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে।” সভায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, “আমি সরকার প্রধানকে বলবো, আপনি শান্তিপূর্ণভাবে যেতে চান না অন্যভাবে যেতে চান? “যদি শান্তিপূর্ণভাবে যেতে চান, তাহলে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। আর যদি শান্তিপূর্ণভাবে না যেতে চান, তাহলে দুই সিটি করপোরেশনে জনগণ ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে যেভাবে অনাস্থা দিয়েছে, সেজন্য অপেক্ষা করুন।” দেশের চিত্র তুলে ধরে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “পুতু পুতু করে কাজ হবে না। স্পষ্ট করে বলেন, এই সরকারকে আমরা চাই না একদিনের জন্যও। তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে চাই। “আমি মনে করি, ঐক্যফ্রন্ট নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার। বিএনপির কাছে একই প্রশ্ন, আপনাদেরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার যদি সত্যি সত্যি এই স্বৈরাচার, দুরাচার, অপশাসন, দুঃশাসন থেকে মুক্তি চান, তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামতে হবে।” কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সঞ্চালনায় এই প্রতিবাদ সভায় বিএনপির আবদুল মঈন খান, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মহসিন রশিদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক হোসেন, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, মমিনুল ইসলাম, জেএসডির শাহ আকম আনিসুর রহমান খান, বিকল্পধারার নুরুল আমিন ব্যাপারী, শাহ আহমেদ বাদল, গণ দলের গোলাম মাওলা চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন।

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় আটক চার

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকালে আগামীনিউজ ডটকমের অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যা চেষ্টা মামলায় চার অস্ত্রধারীকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-২)। গত তিন দিন বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব-২। র‌্যাব-২ জানায়, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী আরো ১১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

ভেড়ামারা বাহিরচর ইউনিয়নে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা’র বাছাই কার্যক্রম

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নে ‘শেখ হাসিনার মমতা, বয়স্কদের জন্য নিয়মিত ভাতা’ শ্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের অতিরিক্ত বরাদ্দপ্রাপ্ত বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত মহিলা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীদের উন্মুক্ত বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়ার আয়োজনে দিনব্যাপী বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বাহিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রওশন আরা বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান মিঠু, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আবু নাসের, রেল বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদ, বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান কচি, ইউপি সদস্য রকিুল ইসলাম, ইউপি সচিব আশরাফুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, ফারুক আহামেদ, বাহিরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন গামা, সুমন আহমেদ সখি প্রমুখ।

সাংবাদিক আব্দুস সালাম খানের “কলম, ক্যামেরা ও মানুষ” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা আড্ডা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ চারণ সাংবাদিক আব্দুস সালাম খানের কলম, ক্যামেরা ও মানুষ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরীর পাঠ কক্ষে নবরুপে জাগো সাহিত্য আসর এই প্রকাশনা আড্ডার আয়োজন করে। নবরুপে জাগো সাহিত্য আসরের  সভাপতি কবি  সৈয়দা হাবিবার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কবি,  লেখক ও  সাংস্কৃতিক সংগঠন বোধদয়ের সভাপতি এ্যাড. লালিম হক। লালিম হক তাঁর বক্তব্যে বলেন- বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করাই হবে একজন সাংবাদিকের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।  বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন করে দেশ ও জাতিকে সচেতন করতে হবে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদকর্মীরদের ক্ষুরধার লেখনিতে অনিয়ম, অন্যায়, দুর্নীতি, কুসংস্কার তুলে ধরা হয় পাঠকের সামনে। সমাজের মানুষ হয় সচেতন। চারণ সাংবাদিক আব্দুস সালামের কর্মময় জীবনী তুলে ধরে স্মৃতি চারণ করে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি নজরুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত  রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত ) ড. মোঃ নওয়াব আলী, ডিরেক্টর বিবিসি এ্যাকশন বিশ্বজিত দাশ, প্রফেসার অজয় বিশ্বাস, অধ্যাপক মিজান সরকার, সাংস্কৃতিক সংগঠক কারশেদ আলম, সাংস্কৃতিক কর্মী এ্যাড. সুব্রত চক্রব্রতী, কবি ও লেখক ডা. তাজউদ্দিন, এ্যাড. সিরাজ প্রামাণিক, কবি আজিজুর রহমান, কবি রেবেকা নাসরীন, কুষ্টিয়া ফটোগ্রাফিক্স সোসাইটির সভাপতি খলিলুর রহমান মজু,  ফেয়ার’র নির্বাহী পরিচালক দেওয়ান আক্তারুজ্জামান, দীপ্ত টিভির কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবেশ চন্দ্র সরকার প্রমুখ।

লেখক আব্দুস সালাম, তাঁর লেখা বই “কলম, ক্যামেরা ও মানুষ” নিয়ে বলেন, আগের দিনে সাংবাদিকতা করে মানুষের কথা বলতে  গেলে সেই সব মানুষের কাছে যেতে হয়েছে। কিন্তু এখন ডিজিটাল  ফেইজবুকে কিছু লেখা দেখে সেটা কপি করে পেপারে ছাপিয়ে দিয়, যে কারণে এখন আর সাংবাদিকরা মানুষের কাছে যেতে চাইনা। সাংবাদিকতা করতে হলে মানুষের কাছে যেতে হবে এবং  যে কোন বিষয়কে সবার চাইতে আলাদাভাবে ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে চারণ সাংবাদিক আব্দুস সালামের লেখা “ কলম, ক্যামেরা ও মানুষ” বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কবি কনক চৌধুরী। এসময় কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

 ॥ নাজীর আহমেদ জীবন ॥

ওলী আল্লাহর মৃত্যু নেই

রাসূল (সাঃ) বলেন ঃ “আমার পর্দা করার পর নবুয়াতের ধারা বন্ধ হয়ে যাবে; কিন্তু সুসংবাদের ধারা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।  সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন; সুসংবাদের ধারা কি? রাসূল বললেন, “আউলিয়া কেরামগণ।” তাই; রাসূল বলছেন; ”আলাইন্না আউলিয়াল্লাহ্ লাইয়া মুতুন বাল ইয়ান কালেবু মিন্দার ইলাদ্দারÑঅর্থাৎ, ওলী আল্লাহর মৃত্যু নেই, তারা দরজা বদরজা ঘুরে বেড়ায়।”

উদাহরণ স্বরূপÑসূরা কাহাফে যে কয়জন ব্যক্তির কথা উল্লেখ আছে তারা সবাই ছিল আউলিয়া। তাই ৩০৯ বছর ঘুমানোর পরও তারা জীবিত ছিল। এটা এক বিরল ঘটনা। আর এদের সাথে একটা  কুকুর ও ছিল ফলে সেই কুকুরটিও জান্নাতে প্রবেশ করবে। কুকুর  যদি ওলীদের সাথে থেকে জান্নাতে যেতে পারে তাহলে মানুষ কেন পার পাবে না? মাওলানা রুমী বলেছেন ঃ ”তুমি যদি নিজেকে বিলীন করে দিয়ে আল্লাহর তাওহীদে অবস্থান  করতে পার, তাহলে তুমি তার পরম বন্ধু রূপে তাঁরই সত্তায় অবস্থান করতে পারবে।” এই স্তরে উত্তীর্ণ সাধক অমরত্ব লাভ করেন। এই অর্থেই হাদীসে বলা হয়েছে ঃ “আল্লাহর ওলীদের জন্য মৃত্যু নেই।”

এ প্রসঙ্গে আওলাদে রাসূল বারো শরীফের মহান ইমাম (রঃ) কলেমার ব্যাখ্যা দানের মাধ্যমে এ বিষয়টি বুঝিয়েছেন। যেমন ঃ কলেমা তৈয়ব  অর্থাৎ স্বাক্ষ্য বাক্য অর্থাৎ ইসলামে অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এর পর শাহাদৎ অর্থাৎ শহীদ হয়ে যাওয়া। এটা এসে গেলে আসে তৌহিদ অর্থাৎ একত্ববাদ। এই অবস্থায় কুলুবুল মুমেনিনা আরশিল্লাহ হয়। এরপর তাম্জিদ অর্থাৎ পরিপূর্ণতা। এটাই বাকাবিল্লাহ। আগে ফানাফিল্লাহ, তারপর আবার অস্তিত্বে ফিরে আসা। এ স্তরে সাধক হন মৃত্যুঞ্জয়ী। তাই, আল্লাহ বলেন ঃ আল্লাহর রাস্তায় যারা শহীদ হন, তাদের মৃত মনে কর না; তারা আল্লাহর দৃষ্টিতে জীবিত ও রিযিক প্রাপ্ত।” (আল-কোরআন)

তাই, ইমাম গাজ্জালী; মোল্লা আলীক্বারী; আল্লামা মানাভী তাদের নিজ  নিজ কিতাব যথাক্রমে ঃ ইহ ইয়াউল উলুম, মেরকাত; ও তাইছির-এ বর্ণনা করেছেন পবিত্র আত্মা সমূহ যখন উর্দ্ধ জগতের ফেরেশতাদের সাথে মিশে যায়, তখন আসমান ও জমিনের বিভিন্ন স্থানে তারা ভ্রমণ করেন এবং জীবিত ব্যক্তিদের ন্যায়ই তাঁরা সবকিছু দেখতে ও শুনতে পান।” (বই ঃ নূর নবীÑঅধ্যক্ষ, এম.এ, জলীল)।

যার পীর নেই তার পীর শয়তান Ñ (হাদীস)।

“প্রত্যেক মানুষকে তার শরীয়ত ও তরিকতের ইমামের সাথে হাশরÑনাশর করাব।” (সূরা ঃ বণি ইসরাঈল) রাসূল (সাঃ) বলেছেন ঃ নবীর মর্যাদা তার সম্প্রদায়ে যেমন শায়েখের মর্যাদা ও তার সম্প্রদায়ে তেমন। হযরত ঈসা (আঃ) বলেন Ñ “যারা আমাকে  না মেনে বলে এক আল্লাহকে মানি, তারা শয়তানের ইবাদত করে।” প্রশ্ন আসে যারাÑনবীÑরাসূলÑওলীÑআউলিয়াÑপীরÑমুর্শিদ মানিনা; যানি নাÑতারা কার ইবাদত করে? ওছিলা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন; “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে পেতে ওছিলা খোঁজ কর এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেন তোমরা মুক্তি পাও।” এ দুনিয়াতে যত ওলী আউলিয়া এসেছেন তারা ওছিলা যা পীর মুর্শিদ ধরেছেন।

হযরত আদম (আঃ)  এর দোয়া কবুল হয় রাসূল (সাঃ) এর ওছিলায়।  নবী হয়েও যদি আদম এর ওছিলা লাগে দেয়া কবুলের তাহলে আমাদের  দোয়া ওছিলা ছাড়া কবুল হবে এর নিশ্চয়তা কোন দলীলে আছে?

বনি ইস্রাইলের নবী হযরত মূসা (আঃ) এর উপর তৌরাত কিতাব নাযিল হয়। একবার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় এ জামানার শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী কে? উনি চিন্তা করলেন আমি বর্তমান জামানার নবী অতএব আমি  ছাড়া কে হবে জ্ঞানী! তাই উত্তর দিলেনÑআমিই জামানার শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী। কিন্তু মহাজ্ঞানী আল্লাহ এতে অসন্তুষ্ট হলেন।  মুসার ওপর ওহী নাযিল বন্ধ হয়ে গেল। মুসা তখন বললেন, হে প্রভু! আমার উপর অসন্তষ্ঠির কারণ কি? আল্লাহ বললেন; তুমি নিজেকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী মনে করে অপরাধী হয়েছো। তখন মুসা ক্ষমা প্রার্থী হলেন। আল্লাহ বললেন; তুমি খাযাখিযির এর কাছে যাও। খিযির হলেন কিতাব হীন নবী বা ওলী। নবী হয়েও যদি উনাকে ওলীর কাছে যেতে হয় তবে আলেম সমাজ আমরা গেলে দোষটা কি? আমরাতো সাধারণ জ্ঞানী।

আল্লাহ বলেন; “যারা তোমার কাছে রাসূল (সাঃ) আত্ম বিক্রয় করেছে তারা আমারই কাছে আত্মবিক্রয় (বয়াত বা মুরিদ) করেছে। তাদের হাত আমার হাতের উপর।” কোরাণে আছে ঃ ”আতিউল্লাহ ওয়া আতিউর রাসূল ওয়াউলিল আমরে মিনকুম (সূরাঃ নিসাÑ৫৭)। অর্থ; তাবেদারী কর আল্লাহর, তাবেদারী কর রাসূলের এবং তাবেদারী কর মাশায়েখগণের।” মাশায়েখ অর্থ পীরÑওলীগণ। মানব জনম ওছিলায়; জীবন ধারণ ওছিলায়; এবং মৃত্যু ও ওছিলায়। নির্বাক জিনিস (কোরান) কখনও সবাকের ওছিলা হতে পারে না। তাই, দরকার জীবিত কামেল বা ওলীর।

ডাঃ এস খলিউল্লাহ লিখেছেন ঃ হাদীসে আছে উম্মতের জন্য নবী  যেরূপ, ভক্তদের জন্য পীরও তদ্রুপ। মুর্শিদ ছাড়া আল্লাহর রাস্তায় চলা বড় কঠিন ও দৃষ্টতা। তাই নবী (সাঃ) বলেছেনঃ “যার গুরু নেই  শয়তান  তার গুরু।”

বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ সূফীমীর মাস্উদ হেলাল (রঃ) বলেছেন; ওলীর হাতে হাত মিলানো দরকার। মুরিদ হওয়ামানে আপন হওয়া। সে দিনের জন্য একটা অবলম্বন। আমাদের জীবনে  আল্লাহ ও রাসূল পাবার জন্য কামেলের সংস্পর্শ খুবই দরকার। আমাদের সমাজে  মাওলানা মৌলভী বা আলেম সম্প্রদায় এ দিকটা আলোচনা করেন না। বাড়ীর পাশর্^ দিয়ে ঈঁৎৎবহঃ এর লাইন গেছে বলেই  কি বলবো এটা কোর্টপাড়ার বা আমাদের পাড়ার ঈঁৎৎবহঃ, কিন্তু এটা সেই মুল এর সাথে যোগ রেখেছে। তেমনি আল্লাহর স্বীকৃত খলিফার কাজও সেই  মহা ঈঁৎৎবহঃ এর সাথে যোগাযোগটা করে দেয়া। আবার ঈড়হহবপঃরড়হ খড়ড়ংব হলে ঠিক মতো কাজ হবে না ঈঁৎৎবহঃ আসবে না। তাই  মুরিদ  বা বায়াত বা দীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তাই কবি নজরুল বলেছেন ঃ  নবী মোর পরশমণি ……..। তাই সে পরশ নিতে হলে দরকার তার খলিফা যে আগেই পরশের স্পর্শে পরিপূর্ণ (কামেল)। তাই পীর  বা মুর্শিদ প্রয়োজন। সংসার ধর্মের মাঝে মুক্তির ব্যবস্থা দরকার। মুরিদ হলে একটা অবলম্বন থাকে।” (মোহাম্মদী ডাইরী ১৮Ñ৫Ñ৮৩)

এ মাস বাংলা ভাষার জন্য শহীদী মাস। ইমাম (রঃ) বলেছেন ঃ  নিজ মাতৃভাষার যে কত গুরুত্ব  তা আলেম সমাজ বুঝতে চান না। তারা  কেবল আরবী শিক্ষার উপরই জোর দেন। এটাকে বুঝতে হলে মাতৃভাষা শিক্ষা করা যে আগে দরকার এটা তারা বুঝতে চান না। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন আগে মাতৃভাষা; তারপর রাষ্ট্রীয় ভাষা তারপর ধর্মীয় ভাষা।”

 

ইসলামী বিশবিদ্যালয়ে একাডেমিক কনসালটেন্সি বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ ইন্টারন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (আই আই আইটি) এর উদ্যোগে ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়ে অপধফবসরপ ঈড়হংঁষঃধঃরড়হ রিঃয ঋধপঁষঃু গবসনবৎং-দের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। দা’ওয়াহ বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ একাডেমিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড. সোলায়মান। সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (আই আই আইটি) এর বাংলাদেশ কান্টি ডিরেক্টর ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক টেকনলজি এর ভিজিটিং লেকচারার ড. আবদুল আজিজ। থিওলজি ফ্যাকাল্টির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ মত বিনিময় সভা পরিচালনা করেন দা’ওয়াহ বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সেক্রেটারী অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হোছাইন। অপধফবসরপ ঈড়হংঁষঃধঃরড়হ রিঃয ঋধপঁষঃু গবসনবৎং সভায় কান্ট্রি ডিরেক্টর  ড. আব্দুল আজিজ তাঁর প্রতিষ্ঠানের সাথে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষনা উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স, একাডেমিক একচেঞ্জ, স্কলারশিপ সহ বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ জন্য বিশ^বিদ্যালয় রিচার্সার, গবেষক অধ্যাপকসহ প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে বলে উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় থিওলজি ফ্যাকাল্টির ডীন বিশ^বিদ্যালয়ের আইনী কাঠামোর মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা কুলাবরেশন বৃদ্ধির সকল কার্যক্রমে আই আই আইটির সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। আই আই আইটি থেকে প্রস্তাবনা পেলে তিনি ভিসি মহোদয়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে অফিসিয়ালি আলাপ করবেন বলে ও জানান। সভায় শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে উপস্থিত শিক্ষকগণ বিভিন্ন বিষয়ে যুগোপযোগী পরামর্শ প্রদান করেন। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দা’ওয়াহ এন্ড ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড মুহাম্মদ শহীদ রেজওয়ান, ইসলামী বিশ^বিদালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. অলীউল্যাহ, প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ, ড. মো. ওবায়দুল্লাহ, ড. মফিজুল ইসলাম পাটওয়ারী, ড. আবদুল করিম, ড. মো. আখতার হোসেন, ড. রহমান হাবীব, ড. মো. আবদুল মালেক, ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ আলী ও আলতাফ হোসেন। আলোচনার পর আই আই আইটির কান্ট্রি ডিরেক্টর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড, এয়াকুব আলীর সাথে বিভাগের অফিস কক্ষে সাক্ষাত করেন। উভয়ে একাডেমিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে তিনি বিবিএ ফ্যাকাল্টির সাবেক ডীন প্রফেসর ড. আবু সিনাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানসহ অনেক একাডেমিশিয়ানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

সভা-সমাবেশ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সভা-সমাবেশ কওে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না, বরং বিএনপির এই দাবিতে সমাবেশ আইন-আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি’র শনিবারের সমাবেশ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির দায়ে আদালতের বিচারে সাজাপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে কেবল আদালতে জামিন বা খালাস পাওয়া ছাড়া বেগম জিয়ার মুক্তির অন্য কোন পথ নেই।’ মন্ত্রী এসময় পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফ ও ভারতের জয়রাম জয়ললিতার বিচারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিপুল জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তাদের গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় নেয়া হয়েছে। জয়ললিতার গ্রেফতার ও মৃত্যুর পর অনেক ভক্ত জীবন দিয়েছেন কিন্তু তার দল কখনো আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমাবেশ বা আন্দোলন করেনি। ‘বিএনপি’র মেশিন বেচার ইতিহাস রয়েছে’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি তাদের আমলে আদমজী পাটকলসহ দেশের বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধ করে সেখানকার মেশিনপত্র কেজি দরে বেচে দিয়েছিল বলেই তাদের নেতা খসরু সাহেব আজ নির্বাচনে হেরে ইভিএমগুলো কেজি দরে বেচার কথা বলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন।’ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় খাতে জমা রাখার বিধানের বিরুদ্ধে বিএনপিনেতা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনাকে অযৌক্তিক বলে বর্ণনা করা ড. হাছান বলেন, ‘কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে রাখা হতো, যার হিসাব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রতিবেদনে সময়ে সময়ে অপ্রদর্শিত থাকায় তা অর্থনীতিতে যুক্তও হতো না।’ ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ মেটানো ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রেখেই উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় খাতে জমা রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলের। এবিষয়টি না বুঝে বা বুঝেও মূর্খের মতো সমালোচনা করলে তারা নিজেরা লজ্জা না পেলেও আমরা লজ্জা পাই। এটি না করার অনুরোধ জানাবো।’ সভার শুরুতে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ সমাগত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম না হলে ঘুমন্ত বাঙালি জাগ্রত হতো না, বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু দেশ স্বাধীনই করেননি, দেশের ভেতরে এক কোটি গৃহহারা ও ভারতে আশ্রিত প্রায় আরো এক কোটি মানুষকে পুণর্বাসিত করেছেন।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে যাওয়া যাওয়া ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে দেশের অর্থনীতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি এনে দিয়েছেন। আর তার মৃত্যুর পর দেশ যে দুর্নীতি-দুঃশাসনে পিছিয়ে পড়েছিল, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দেশকে অদম্য গতিতে এগিয়ে নিচ্ছেন। সমস্ত সূচকে আজ আমরা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছি। গত ১১ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার বিশ্বে সর্বোচ্চ।’ ‘দেশের এই উন্নয়ন যারা সহ্য করতে পারেনা, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে তারা যে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে, তা থেকে সমগ্র জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সারাহ বেগম কবরী’র সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক কণ্ঠশিল্পী মো. রফিকুল আলম প্রমুখ।

কুষ্টিয়ায় হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন বাস্তবায়ন বিষয়ক সমন্বয় সভা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন বাস্তবায়ন বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় “নারী ও কন্যাদের অধিকার ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করণ” প্রকল্পের এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের চিলিস ফুড পার্কে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পিপি এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী। কুষ্টিয়া কোর্টের এজিপি এ্যাডঃ শীলা বসুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডঃ জয়দেব বিশ^াস, ব্লাস্ট কুষ্টিয়া ইউনিটের কো-অডিনেটর এ্যাডঃ শংকর মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী জায়েদুল হক মতিন। হিন্দু বিবাহ আইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন মনিটরিং অফিসার বিপ্লব বিশ^াস। পরিচালনা করেন প্রোগ্রাম সুপারভাইজার তারক নাথ কুন্ডু। শুরুতে পবিত্র শ্রীশ্রী গীতা থেকে পাঠ করেন রামকৃষ্ণ দেবরায়।

ভারতে ময়নাতদন্ত লাশ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে আহত বাংলাদেশী কৃষক ছলেমানের মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে আহত বাংলাদেশী কৃষক ছলেমান (৪৭) এর মৃত্যু হয়েছে। গত ৪ ফেব্র“য়ারী মঙ্গলবার সকালে বিএসএফ’র গুলিতে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএসএফ’র তত্ত্বাবধানে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাংলাদেশী কৃষক ছলেমানের মৃত্যুর বিষয়টি গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষে সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান বিজ্ঞপ্তি সূত্রে নিশ্চিত করেছেন। একই সাথে নিহত ছলেমানের লাশের ময়নাতদন্ত ভারতে সম্পন্ন হওয়ার পর হস্তান্তর করা হবে বলে বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহত ছলেমান দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ছলিমেরচর এলাকার শাহাদতের ছেলে। বিজিবি ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, গত ৪ ফেব্র“য়ারী সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ছলিমেরচর সীমান্ত এলাকার কৃষক গাজী, রুবেল, ছলেমান, আরিফুল ও সাহাবুল ১৫৭/২(এস) সীমান্ত পিলার সংলগ্ন বাংলাদেশী ভূ-খন্ডে নিজ জমিতে রায়-শরিষা কর্তন করছিল। এসময় ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার ১৪১ বিএসএফ কমান্ডেন্ট অধিনস্থ মুরাদপুর ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ বিনা উস্কানিতে তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কৃষক ছলেমান গুলিবিদ্ধ হলে অপর কৃষকরা পালিয়ে প্রানে বাঁচলেও গুলিবিদ্ধ কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। পালিয়ে আসা কৃষক আরিফুল ইসলামের ভাষ্য মতে ছলেমানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বিএসএফ তাকে বেধড়ক মারপিট করে। ছলেমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্ষেতের পাশের একটি ঝোপে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় বিএসএফ তাকে খুঁেজ বের করে মারপিট করে নিজ ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে তাকে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে ছলেমান মারা যান। আজ রবিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানা পুলিশ নিহত ছলেমানের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করবে। এরপর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কৃষক ছলেমানের লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন সময় লাশ হস্তান্তর করা হবে তা নিশ্চিত করেনি বিএসএফ এমন তথ্যও বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর পূর্তিতে বিএনপি এ সমাবেশের আয়োজন করে। মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন। তার মুক্তির জন্য আমরা সভা-সমাবেশ করেছি, মিছিল করেছি। এখন একটাই কথা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবোই এবং সরকারকে বাধ্য করব খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক কারণে বন্দি রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ, নিজে খেতে পারেন না, চলতে পারে না। দুই বছর বিনা দোষে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার ক্ষমতায় রয়েছে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। এ সরকার জনগণের সরকার নয়। কারণ তাদের জনগণের ম্যান্ডেট নেই। তারা গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করেছে। দেশের বিচারব্যবস্থা এখন স্বাধীন নয়। দেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। একদিন আগে অর্থমন্ত্রী বললেন সবদিক থেকে অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী। পরদিন জাতীয় সংসদে বললেন, অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। এরপরও তার মন্ত্রিত্ব থাকে কী করে?

‘রফতানি আয় নিচের দিকে, রাজস্ব আয় কমে গেছে কিন্তু দুর্নীতি কমেনি। দুর্নীতির জন্য যুবলীগের প্রেসিডেন্টকে বাদ দিতে হয়েছে, ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্টকে বাদ দিতে হয়েছে। জনগণ এখন আর আওয়ামী লীগকে চায় না। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, মাত্র ১৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জনগণের মেয়র হওয়া যায় না। নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট দিন, জনগণের মেয়র নির্বাচিত করুন। নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন দিন। দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, মো. শাজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা বক্তৃতা করেন।

যুগান্তর স্বজন সমাবেশ কুষ্টিয়ার পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিচিতি সভা

নিজ সংবাদ ॥ যুগান্তর স্বজন সমাবেশ কুষ্টিয়ার পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া কলেজ মোড়স্থ স্বজন সমাবেশের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। স্বজন সমাবেশ কুষ্টিয়ার সভাপতি আসমান আলীর সভাপতিত্বে পরিচিতি সভায় কমিটির সদস্যবৃন্দসহ উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরিচিতি সভা শেষে সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ২১ ফেব্র“য়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথভাবে পালনসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। পরিচিতি সভায় বক্তব্য রাখেন স্বজন সমাবেশ কুষ্টিয়ার উপদেষ্টা ও যুগান্তরের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এ এম জুবায়েদ রিপন, শ্যামল কুমার চৌধুরী ও এ্যাড. পি এম সিরাজুল ইসলাম। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বজন সমাবেশ কুষ্টিয়ার সহ-সভাপতি সুলতানা রেবেকা নাসরিন, আবু ওবাইদা আল মাহাদি, সহ-সাধারণ সম্পাদক রতন মাহমুদ, আরিফুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মিনু রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিউলী রহমান, সাহিত্য সম্পাদক রেখা রহমান, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক মৃদুল হোসেন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আরজিনা খাতুন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মেহেদি হাসান, পাঠচক্র সম্পাদক কাজী সাইফুল নির্বাহী সদস্য কবি শিরিন বানু ও এস এস রুশদী প্রমূখ। পরিচিতি সভা পরিচালনা করেন স্বজন সমাবেশ কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক আল আমীন হোসেন। সভা শেষে কুষ্টিয়া শহরের কলাপাতা রেস্টেুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

চীন থেকে আসা ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি

ঢাকা অফিস ॥ চীন থেকে আসা এক ব্যক্তি ‘করোনাভাইরাসের লক্ষণ’ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ২৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ওই ব্যক্তি গত ২৯ জানুয়ারি রাতে চীন থেকে বাংলাদেশ আসেন। আসার পর গ্রামের বাড়িতে ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। সহকারী পরিচালক মোকাদ্দেম বলেন, “তার গায়ে জ্বর নেই। তবে করোনাভাইরাসের সিম্পটম দেখা যাচ্ছে। তার গলা ও বুকে ব্যথা রয়েছে। তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।” স্বজনরা জানান, ওই ব্যক্তি শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে অসুস্থ বোধ করেন। তিনি যেহেতু চীন থেকে এসেছেন সেহেতু আশঙ্কা থেকে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা বিশেষ কোনো সমস্যা দেখতে পাননি। চীনে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা সাতশ ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্ত অনেককে পরীক্ষা করেও সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চীনের চিকিৎসকরা।

চীন থেকে ১৭১ জনকে আনা এখন সম্ভব হচ্ছে না – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ চেষ্টা থাকলেও চীন থেকে ১৭১ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্ক নিয়ে এসব বাংলাদেশির চীনে অবস্থানের মধ্যে গতকাল শনিবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় একথা জানান তিনি। করোনাভাইরাস চীনের যে নগরী থেকে ছড়িয়েছিল সেই উহান থেকে গত ১ ফেব্র“য়ারি ৩১২ বাংলাদেশিকে বিমানের একটি উড়োজাহাজ গিয়ে দেশে ফেরত আনে। কিন্তু তারপর ওই পাইলটদের অন্য দেশ ঢুকতে দিতে না চাওয়া বিপাকে পড়েছে বিমান। অন্যদিকে চীনের বিভিন্ন শহরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটানো বাংলাদেশিদের অনেকে ফেরার দিন গুণছেন। এই পরিস্থিতিতে মোমেন বলেন, “যারা এখন আসতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য আমরা অনেক খরচ করেছি। তারপরও সম্ভব হচ্ছে না। বিমানের ক্রুরা কেউ বাইরে যেতে পারছে না,  বিমান কোথাও যেতে পারছে না। সিঙ্গাপুরে পর্যন্ত যেতে পারছে না। “একমাত্র চাইনিজ চাটার্ড ফ্লাইটে তাদের আনা সম্ভব হত। এক পর্যায়ে চীন রাজিও হয়েছিল। কিন্তু পরে তারা না করে দিয়েছে। আমরা তো কোনো ফ্লাইট পাঠাতে পারছি না, কোনো ক্রুও যেতে চাচ্ছে না।” চীনে থাকা নাগরিকদের আরও অন্তত কিছু দিন সেখানে থেকে তারপর দেশে ফেরার পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিদেশে থাকা ওই বাংলাদেশিদের অন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মোমেন বলেন, “তাদের খাওয়া-দাওয়া চাইনিজরা এনশিওর করছে। ২৩টি জায়গায় বাংলাদেশিরা থাকে, সবগুলো জায়গায়ই খাবার, পানি সময়মতো পাঠিয়ে দিচ্ছে তারা। তারা খাবার সঙ্কটে আছে বলে যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, তা সঠিক না। “আমাদের দূতাবাস ওদের সাথে সব সময় যোগাযোগ করছে। ৩৮৪ জনের একটা গ্রুপ কনটিনিউয়াসলি খোঁজ নিচ্ছে তাদের।” নতুন ধরনের এই ভাইরাসে চীনে ইতোমধ্যে সাত শতাধিক মানুষ মারা গেছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। চীন থেকে দুই ডজনের বেশি দেশে সংক্রমিত হয়েছে প্রাণ সংহারী এই ভাইরাস।

সভাপতি সালাম ॥ মহাসচিব রবিউল

কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা’র দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা’র ২০২০-২১ দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গত ৭ ফেব্র“য়ারি শুক্রবার সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।  সভাপতি পদে এম এ সালাম এবং মহাসচিব পদে ২য় বারেরমত মোঃ রবিউল ইসলাম নির্বাচিত হন। এছাড়াও সহ-সভাপতি, যুগ্ম মহাসচিব, নির্বাহী পরিষদের সদস্যসহ বিভিন্ন পদে সর্বমোট ৭১ জন নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য কুষ্টিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও নানামুখী উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সভাপতি ও মহাসচিবসহ নব-নির্বাচিত পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকার কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে কুষ্টিয়াবাসীর প্রাণের সংগঠনে পরিনত করার জন্য সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

ইবিতে ডিজিটাল লাইবে্িরর এক্সেস সেন্টার উদ্বোধনকালে ভিসি ড. রাশিদ আসকারী

বিশবিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও জ্ঞান বিতরণের ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে হবে

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং জ্ঞান বিতরণের ক্ষেত্র উন্মুক্ত করতে হবে। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল লাইব্রেরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। গতকাল শনিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিডার সারভিস চালু করবার জন্য ডিজিটাল লাইব্রেরী এক্সেস সেন্টারের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ  হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়নকে গাল ভরা বুলি হিসাবে দেখতে চাই না, আমি দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে চাই। এই প্রান্তিক জনপদের বিশ^বিদ্যালয়টি নতুন নতুন উদ্ভাবন ও জ্ঞানের সৃষ্টি করবে, আর এই অভিযাত্রা চলমান থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিশ^বিদ্যালয় আমাকে কি দিলো সেটা বড় বিষয় নয় বরং আমি বিশ^বিদ্যালয়কে কি দিলাম সেটাই বিবেচ্য বিষয়। তিনি ডিজিটাল লাইব্রেরির সর্বোচ্চ বিকাশ ও পরিস্ফুটনের লক্ষ্যে কাজ করে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি  প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিকীকরণের পথে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে ডিজিটালাইজেশন একটি মাইলফলক হিসাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, বিশ^মানের যে বিশ^বিদ্যালয়গুলো আছে সেমানে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত উন্নয়নমুলক যতকিছুর উদ্বোধন হয়েছে তার মধ্যে আজকের ডিজিটাল লাইব্রেরির উদ্বোধন শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন, আমাদের  শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য  লাইব্রেরি অটোমেশনের গুরুত্ব অপরসীম। সে ব্যাপারে আমরা শুরু থেকে কাজ করে যাচ্ছি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর লাইব্রেরিয়ান মোঃ আক্কাস আলী পাঠান, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অটোমেশন কমিটির আহবায়ক সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, আইসিটি সেল এর পরিচালক প্রফেসর ড. আহসানুল হক আম্বিয়া, এশিয়ান প্যাসিফিক কমিউনিকেশন এর পরিচালক শাহমা সুমন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. নাসিম বানু, প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার(ভারঃ) ড. নওয়াব আলী খান, অটোমেশন কমিটির সদস্য মোঃ জসীম উদ্দিন ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান মুহঃ আতাউর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। বর্তমানে  ইবির  কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে থাকা মোট ১ লাখ ৮ হাজার বইয়ের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার বইয়ের তথ্য অনলাইনে সার্চ দিয়ে শিক্ষার্থীরা তথ্য পেতে পারবে। এছাড়া  কোনও একটি বইয়ের নাম, লেখক, প্রকাশনী, যে বিষয় সম্পর্কিত বই সে বিষয় এবং প্রতিটি বইয়ের জন্য থাকা নির্দিষ্ট বার কোড দিয়ে সার্চ করলে বইটি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট বিভাগ বা শিরোনামের বইয়ের ক্ষেত্রে সে বিভাগ বা শিরোনাম লিখে অনুসন্ধান করলে সে বিষয়ে থাকা সব বইয়ের তালিকা ও তথ্য পাওয়া পাওয়া যাবে।  একইভাবে কোনো লেখক বা প্রকাশনীর নাম লিখে সার্চ করলে  গ্রন্থাগারে থাকা সেই লেখক বা প্রকাশনীর সকল বইয়ের তথ্য জানা যাবে। প্রসঙ্গত, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) নির্দেশনায়  এবং ইবির আইসিটি সেলের কারিগরি সহযোগিতায় ৭ মাস ধরে এই অনলাইনে তথ্য লিপিবদ্ধের কাজ চলে আসছে। এ অনলাইন সুবিধা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদেরকে আর সেল্ফ থেকে কষ্ট করে বই খুঁজতে হবে না। এখন থেকে  বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত  হতে জানা যাবে বইটি গ্রন্থাগারের কত তলায় কোন সেলফে পাওয়া যাবে। এছাড়াও  জানা যাবে গ্রন্থাগারের বই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

১৫ ফেব্রয়ারি দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন। গণতন্ত্রের আপোসহীন নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক কারণে বন্দী রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ, নিজে খেতে পারেন না, চলতে পারে না। দুই বছর বিনা দোষে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার ক্ষমতায় রয়েছে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। এ সরকার জনগণের সরকার নয়। কারণ তাদের জনগণের ম্যান্ডেট নেই। তারা গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের বিচার ব্যবস্থা এখন স্বাধীন নয়। দেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা বক্তৃতা করেন।