দেশে একটি ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি স্থাপন হবে – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বর্তমানে বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বিচারকদের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে একটি ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি স্থাপন করা হবে। শুক্রবার মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমির জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, শিবচর উপজেলাটি পদ্মার পাড়ে অবস্থিত। পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে শিবচর দেশের গুরুত্ব স্থানে পরিণত হবে। তাছাড়া এখানকার নান্দনিক গুরুত্ব বেড়ে যাবে। সে কারণে শিবচরে ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি স্থাপন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সাধারণ জনগণকে ন্যায় বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে শিবচরে একটি চৌকি আদালতও স্থাপন করা হবে। এর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই- আলম চৌধুরী আইনমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শিবচর উপজেলার উন্নয়ন কর্মকান্ড ঘুরে দেখান। উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখে আইনমন্ত্রী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, চিফ হুইপ শিবচরে যে উন্নয়নকাজ করেছেন তা অনুসরণ করলে বাংলাদেশের চিত্র বদলে যাবে এবং প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন তা বাস্তবে পরিণত হবে। এ সময় ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জর হোসেন বুলবুল, আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, মাদারীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান, মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি মুনির চৌধুরী, শিবচর পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী ফরিদপুর জেলার ভাঙা উপজেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত মতবিনিময় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।

 

আবরার ফাহাদের বাবাকে আপসের প্রস্তাব!

ঢাকা অফিস ॥ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্মম নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারকে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনে সাত্তার নামে এক ব্যক্তি আসামিদের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেন। শুক্রবার দুপুরে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বরকত উল্লাহ বলেন, কয়েকদিন আগে অপরিচিত একটা নম্বর থেকে আমার মোবাইলে ফোন আসে। জয়পুরহাট থেকে নিজেকে সাত্তার পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আপনার ছেলে তো চলে গেছে, আর তো ফিরে আসবে না। কিন্তু এতগুলো ছেলের জীবনও তো নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেছেন, হত্যার বদলে হত্যা কিন্তু মাফ করে দেয়া সর্বোত্তম। আসামিদের মধ্যে অনেকের বাড়ির লোকই অসুস্থ। সবার বাবা মারা গেছেন। আমরা কয়েকজন আসামিদের পক্ষ থেকে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই’। একথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে বরকত উল্লাহ জবাব দেন, এরপর ভুলেও আর যেন কল না দেয়া হয় বলেই ফোন কেটে দেন। আসামিদের পক্ষ থেকে আপস প্রস্তাব দেয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। তিনি লিখেছেন, লজ্জাহীনতা আর দুঃসাহস, দুইটারই লিমিট থাকা উচিত ছিল। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

আজ নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে বিএনপি

ঢাকা অফিস ॥ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে দলটি। আজ শনিবার দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, সমাবেশ করার অনুমতির জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামকে আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। শুক্রবার (৭ ফেব্র“য়ারি) তাদের পক্ষে থেকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ৮ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের দুই বছর পূর্ণ হবে। দিবসটি উপলক্ষে গত ৪ ফেব্র“য়ারি সমাবেশ করার ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেন আদালত। এ কারাদন্ডাদেশ বাতিল চেয়ে করা আপিলের রায়ে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন উচ্চ আদালত।খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩৩টি মামলা চলছে। দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি অসুস্থ্য বিএনপি চেয়ারপারসনকে গত বছরের ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়।

করোনাভাইরাস: আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৩০ হাজার

ঢাকা অফিস ॥ চীনে নতুন করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৬ জনে, আক্রান্তের সংখ্যা ত্রিশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। উহানের যে চিকিৎসক প্রথম এ ভাইরাসের বিপদ নিয়ে সতর্ক করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের কোপে পড়েছিলেন, তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বৃহস্পতিবার। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মূল ভূখন্ডে বৃহস্পতিবার আরও ৭৩ জন প্রাণ সংহারী এ নতুন করোনাভাইরাসে মারা গেছেন। তাতে চীনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩৬ জনে। চীনের বাইরে হংকং ও ফিলিপিন্সে মারা গেছে আরও দুজন। কেবল চীনের মূল ভূখন্ডেই নভেল বা নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ১৪৩ জনে। চীনের বাইরে আরও অন্তত ২৫টি দেশ ও অঞ্চলে আড়াইশর বেশি মানুষ এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। সিএনএন এর হিসাবে সব মিলিয়ে পুরো পৃথিবীতে ৩১ হাজার ৪২০ জনের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে এ পর্যন্ত। বেশিরভাগ মৃত্যু ও নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে চীনের হুবেই প্রদেশে, যে প্রদেশের উহান শহরকে এ ভাইরাসের ‘উৎসস্থল’ বলা হচ্ছে। ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে রোধ করতে চীনের বেশ কয়েকটি শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার লোককে রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টিন করে। কিন্তু ভাইরাস ছড়ানো ঠেকানো যাচ্ছে না। জাপানের ইয়োকোহামা এবং হংকং বন্দরে দুটি প্রমোদতরীর কয়েক হাজার যাত্রী ও ক্রুকে পর্যবেক্ষণের জন্য জাহাজেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে নোঙ্গর করে থাকা ডায়মন্ড প্রিন্সেসে ৬১ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।  আর  হংকং বন্দরের ওয়ার্ল্ড ড্রিমে আক্রান্ত হয়েছেন আটজন। বেইজিং বলেছে, নতুন করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে ‘জনযুদ্ধ’ শুরু করেছে তারা।  আর এ কাজে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে টেলিফোন করে তিনি বলেছেন, নতুন এ করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সম্ভব সবকিছুই চীন করবে। আর এই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার বিষয়ে চীন আত্মবিশ্বাসী। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের অর্থনীতিই ক্ষতির মুখে পড়ছে। আতঙ্কের কারণে বিভিন্ন দেশ চীনের সঙ্গে বিমান ও জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখায় বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন বড় কোম্পানি চীনে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখায় সামনের দিনগুলোতে অটোমোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক্স থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক রূপ্লাস্টিকসহ নানা পণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল চাই – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য আমরাও শক্তিশালী বিরোধী দল চাই। পরাজিত হয়ে বিএনপি হতাশায় ভুগছে এবং আবোলতাবোল কথা বলছে। তারা নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ না, জনগণকে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করবে?’ গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কাদের বলেন, ‘ফেব্র“য়ারি মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কমিটির তালিকা দলীয় দফতরে ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। আর যেসব জেলায় যাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের এপ্রিলের মধ্যে সম্মেলন শেষ করতে বলা হয়েছে।’ আগামীকাল বিকাল ৪টায় ঢাকা মহানগরের নবনির্বাচিত মেয়র ও ঢাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বসা হবে বলেও জানান তিনি। সিটি নির্বাচনে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু দুর্বলতা অবশ্যই আছে। এটা উত্তরণের জন্য মহানগরে ওয়ার্ড, থানায় সম্মেলন করে কমিটি করা হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ ওয়ার্ডে বিজয়ী কাউন্সিলর ৯৮ জন, সংরক্ষিত ৩৪ জন, মোট ১৩২ জন। ১৬ জন বিদ্রোহী কাউন্সিলর বড় কোনো সংখ্যা নয়।’ আগামীকাল (শনিবার) খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখছে- জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহমান। এই মুক্তিযুদ্ধের দেশে সাম্প্রদায়িক ধারায় ফিরিয়ে নেয়ার রাজনীতি চলবে না।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল, মির্জা আজম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাবু, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য প্রমুখ।

 

ব্যাংক ঋণের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার

ইন্টারপোল ও এফবিআইয়ের সহায়তায় বিদেশে পলাতক অর্থ পাচারকারীদের ফিরিয়ে  আনতে টিম পাঠাবে দুদুক

ঢাকা অফিস ॥  গত বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া যে, হয় অর্থ পাচারে জড়িত বিদেশে পলাতক দুর্নীতিবাজদের ফিরিয়ে আনতে টিম পাঠাবে দুদুক। এর প্রস্তুতি হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা ও অনুসন্ধান চলছে, তাদের নামের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। বিদেশে পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। অনুমতি সাপেক্ষে যেসব দেশে অর্থ পাচারকারীরা পালিয়ে আছে, ওইসব দেশের আদালতে দুদকের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে। দুদকের যে টিম যাবে, তাদের সঙ্গে আইন বিভাগের কর্মকর্তারও থাকবেন। তারাই মূলত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় এ সংক্রান্ত আবেদন দাখিল করবে। এরপর ইন্টারপোল ও এফবিআইয়ের সহায়তায় বিদেশে পলাতক অর্থ পাচারকারীদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করছেন, তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যিনি বা যারা অবৈধভাবে ব্যাংকের বা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন, তা পাচার করে বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন, তাদের প্রত্যেককেই অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ইন্টারপোলসহ আন্তর্জাতিক সব আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। দেশের সম্পদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে। প্রসঙ্গত, ‘ব্যাংক ঋণের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার: দুইশ জনকে দেশে ফেরাতে চায় দুদক’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিবেদন যুগান্তরে প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক চেয়ারম্যান এদিন এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সাংবাদিকদের অপর প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিঙ্গাপুরসহ আশপাশের দেশগুলো থেকে আমরা কিছু কিছু তথ্য পাচ্ছি। কমিশন থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে কীভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় এসব দেশের আদালতের সহায়তায় অপরাধীদের সম্পদ জব্দ করে তা দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। কমিশনের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই হংকংয়ের আদালতের সহায়তায় কিছু অবৈধ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এটি একটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমেই সর্বাধিক অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে দুদক কার্যালয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি, পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় এ জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, ‘কমিশনের সভায় দুদকের ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (সজেকা) ২২ জন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার কার্যালয়ের আওতাধীন প্রতিটি জেলায় কাজ করবেন। যারা মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, খাসজমি দখল, ঘুষ-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত থেকে গডফাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে জমা দেবেন। কমিশন সেসব প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না।’ কমিশনের এমন সক্ষমতা আছে কি না- সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সক্ষমতা আপনারাই দেখছেন। সক্ষমতা আমাদের আছে। সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, কাজের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারই সক্ষমতার উৎস। আজকের কমিশন বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ কমিশন, সচিব ও মহাপরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সবার দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে। আমরা একটি টিম। টিমওয়ার্কের মাধ্যমেই আমাদের সক্ষমতা সর্বাধিক বিকশিত করার চেষ্টা করছি।’ উল্লেখ্য, বিদেশে অর্থ পাচারে জড়িত ২০০ জনের তালিকা করে প্রথম পর্যায়ে শীর্ষ কয়েকজনকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে দুদক। তারা হচ্ছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রশান্ত কুমার হালদার, বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলাম, এনন টেক্সের কর্ণধার ইউনুছ বাদল, শেয়ার কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা লুৎফর রহমান বাদল, যুবলীগ নেতা কাজী আনিসুর রহমান, জজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ, ঢাকা ট্রেডিংয়ের টিপু সুলতান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের আবজাল হোসেন, এমএম ভেজিটেবলসের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন, বিসমিল্লাহ গ্রুপের গাজী সোলেমান ও তার স্ত্রী নওরীন হাসিব।

হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ডগলাসের জীবনাবসান

বিনোদন বাজার ॥ হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা কার্ক ডগলাস আর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার ১০৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির।

কার্ক ডগলাসের মৃত্যুতে সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে ছেলে মাইকেল বলেন, দুঃখের সঙ্গে আমি ও আমার ভাই জানাচ্ছি যে, আজ বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

নিউইয়র্কে জন্ম নেয়া বিংশ শতাব্দীর সফল অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম কার্ক ডগলাস। তিনি স্কুলজীবন থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনে কাজ করেন। তিনি তিন বার অস্কারে মনোনীত হন। হলিউডে টানা ৫০ বছর অভিনয় করেন।

ডগলাস ১৯৪৬ সালে প্রথমবার অভিনয় করেন ‘দ্য স্ট্রেঞ্জ লাভ অব মার্থা আইভার্স’ ছবিতে। তবে তার অভিনয়ের প্রিয় জায়গা ছিল মঞ্চ। ক্ল্যাসিক চলচ্চিত্র ‘সাইক্লোপস’-এর মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেন সিনেমাপ্রেমীদের প্রিয় অভিনেতা।

৫০ এ দশকে তার বেশ কয়েকটি সিনেমা সাড়া ফেলে। সেগুলো হলো- এইস ইন দ্য হোল (১৯৫১), দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য বিউটিফুল (১৯৫২), অ্যাক্ট অব লাভ (১৯৫৩), টু থাউজেন্ড লিগ আন্ডার দ্য সি (১৯৫৪), চ্যাম্পিয়ন (১৯৪৯), লাস্ট ফর লাইফ (১৯৫৬) ও স্পার্টাকাস (১৯৬০)।

নব্বইটিরও বেশি টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রের নায়ক হয়েছিলেন ডগলাস। হলিউডে ৫০ বছর অভিনয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৯৬ সালে সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছিলেন।

ভালোবাসা দিবসে মিথিলার ‘প্রাইসলেস’

বিনোদন বাজার ॥ ভালোবাসা দিবসে মিথিলা তার ভক্ত-দর্শকের জন্য একটি বিশেষ নাটকে অভিনয় করেছেন। নাটকের নাম ‘প্রাইসলেস’। এটি নির্মাণ করেছেন গৌতম কৈরী। রচনা করেছেন জাফরিন সাদিয়া। এনটিভিতে প্রচারের জন্য এরই মধ্যে নাটকটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নাটকটিতে আরো অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, ইফফাত রশীদ মিশৈরী।

মিথিলা বলেন, ‘প্রাইসলেস’ নাটকটির গল্প আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে এবং আমার চরিত্রটিও বেশ ইন্টারেস্টিং। নাটকে আমাকে ৩০ বছর আগে ও পরের দুটি বয়সের চরিত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে। দুটি চরিত্রে আমাকে অনেক মনোযোগ দিয়েই অভিনয় করতে হয়েছে। আর সাজ্জাদের সঙ্গে এর আগেও নাটকে অভিনয় করেছি। তবে এই নাটকে বাড়তি ভালোলাগা হচ্ছে আমার ছোট বোন মিশৈরীও অভিনয় করেছে। কৈরী মেধাবী একজন পরিচালক এবং তার সঙ্গে কাজ করাটা আমি সবসময়ই ভীষণ উপভোগ করি। সবমিলিয়ে প্রাইসলেস নাটকটি আশা করছি দর্শকের কাছে বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠবে।

মিথিলা সর্বশেষ বিজয় দিবসে ‘হৈ চৈ’র জন্য তানিম নূরের নির্দেশনায় একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন। কিছুদিন আগে মিথিলা কলকাতার গুণী চলচ্চিত্র পরিচালত সৃজিত মুখার্জিকে বিয়ে করেছেন। নতুন জীবন কেমন চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে মিথিলা বলেন, ভালোই চলছে। তেমন কোনো পার্থক্য নেই। এখনো তো আমরা দুজন দুজায়গাতে আছি। যে যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত।

প্রথমবার ‘ভোগ’ প্রচ্ছদে বিলি

বিনোদন বাজার ॥ বিশ্বসঙ্গীতের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের ৬২তম আসরে অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার, রেকর্ড অব দ্য ইয়ার, সং অব দ্য ইয়ার ও সেরা নতুন সঙ্গীতশিল্পীর পুরস্কার ঘরে তুলেছেন বিলি আইলিশ।

শিগগিরই অস্কার মঞ্চেও দেখা যাবে তার পরিবেশনা। এরই মধ্যে আমেরিকান ভোগ ম্যাগাজিন ২০২০-এর প্রচ্ছদকন্যা হয়েছেন ১৮ বছর বয়সী বিলি।

এবারই প্রথম ভোগের প্রচ্ছদে দেখা গেল মার্কিন এই সঙ্গীতশিল্পীকে। গত মঙ্গলবার ভোগ ম্যাগাজিনের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে বিলি আইলিশের ফটোশুটের তিনটি ছবিও।

বিশ্বের সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ রবার্ট প্যাটিনসন

বিনোদন বাজার ॥ গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন লন্ডনের ফেসিয়াল কসমেটিকস সার্জন জুলিয়ান ডি সিলভা। সেই তালিকায় বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ হলিউড অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন।

এই জরিপ চালাতে তিনি অনুসরণ করেছেন সৌন্দর্য পরিমাপ পদ্ধতি ‘গোল্ডেন রেশিও অব বিউটি ফাই স্ট্যান্ডার্ড’। এই পরিমাপ অনুযায়ী রবার্টের চেহারা ৯২ দশমিক ১৫ শতাংশ নিখুঁত। তাকে নিয়ে ডি সিলভা বলেন, মুখের বাহ্যিক সবকিছু পরিমাপ করে রবার্ট প্যাটিনসন সবার চেয়ে এগিয়ে। শুধুমাত্র ঠোঁটের ক্ষেত্রে তিনি একটু কম নম্বর পেয়েছেন। কারণ তার ঠোঁট কিছুটা পাতলা এবং সমান। তালিকায় প্যাটিনসনের পরেই আছেন হেনরি ক্যাভিল (৯১.৬৪)। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে আছেন ব্র্যাডলি কুপার (৯১.০৮) এবং ব্র্যাড পিট (৯০.৫১)।

অভিনেতা জর্জ ক্লুনি রয়েছেন পঞ্চম স্থানে। এছাড়াও তালিকায় আছেন হিউ জ্যাকম্যান, ডেভিড বেকহাম, ইদ্রিস এলবা, কানইয়ে ওয়েস্ট, রায়ান গসলিংয়ের মতো তারকারা।

হিমেশ ও উদিত নারায়ণের সঙ্গে ডুয়েট গাইলেন রানু মন্ডল

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডে হিমেশ রেশমিয়ার সুরে ‘তেরি মেরি’ শিরোনামে গাওয়া গানে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছিলেন রানু মন্ডল। এবারও নতুন আরেক গান গেয়ে আলোচনার এলেন তিনি। তবে এবার হিমেশের সুরে নন, গাইলেন তার সঙ্গেই। এখানেই শেষ নয় ‘হ্যাপি হার্ডি অ্যান্ড হীর’ ছবি থেকে গাওয়া ‘ক্যাহে র‌্যাহি হ্যায় নাজদিকিয়া’ গানে তাকে সঙ্গ দিয়েছেন বলিউড কিং খ্যাত উদিত নারায়ণ। আরও রয়েছেন পায়েল দেব।

উদিত নারায়ণের সঙ্গে রানুর গানটির রেকর্ডিঙয়ের কিছু ভিডিও আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন হিমেশ রেশমিয়া। সে সময়ই উদিত নারায়ণের সঙ্গে রানু গান গাওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ চর্চা হয়েছিল। অবশেষে সেই পুরো গানটিই এবার ইউটিউবে প্রকাশ্যে আনা হলো।

রানাঘাট স্টেশন ‘এক পেয়ার কা নগমা’ গেয়ে ভাইরাল হন রানু মন্ডল। সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল হওয়ার পর প্রথমে মুম্বইয়ের একটি রিয়েলিটি শোয়ে হাজির হন তিনি। এরপর সেখান থেকে সোজা হিমেশ রেশমিয়ার স্টুডিওতে গিয়ে পর পর দুটি গান রেকর্ড করান রানু মন্ডল। তবে শুধু হিন্দি গানই নয়, গত বছর পুজোর গানও রেকর্ড করেছিলেন রানু।

বেশ কিছুদিন আগে লতা মঙ্গেশকরের বহুল জনপ্রিয় ‘আমার দুচোখে চোখ রেখে দেখো,. বাজে কি বাজে না মনোবীণা’ গানটি গেয়ে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন রানু।

অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল রসুন

কৃষি প্রতিবেদক ॥ রসুন বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। এটি রান্নার স্বাদ, গন্ধ ও রুচি বৃদ্ধিতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর বিদেশ থেকে আমদানী করে আমাদের দেশের রসুনের ঘাটতি মেটানো হয়ে থাকে, যা দেশের জন্য কাম্য নয়। বাংলাদেশের প্রায় ৬৬ হাজার একর জমিতে রসুনের আবাদ হয় এবং মোট উৎপাদন প্রায় ১০২ হাজার টন কিন্তু তা আমাদের চাহিদার মাত্র ৪ ভাগের এক ভাগ পূরণ করে। পুষ্টিমূল্য ও ভেষজ গুণ ঃ রসুনে আমিষ, প্রচুর ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন ‘সি’ থাকে। রসুন ব্যবহারে অজীণর্তা, পেটফাঁপা, শুলবেদনা, হৃদরোগ, অর্শ, ক্রিমি, সর্দি, কাশি, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, বাতরোগ, গুরুপাক, বলবর্ধক, শুক্রবর্ধক ও যে  কোন  প্রকার চর্মরোগ সারে। এছাড়া রসুন থেকে তৈরি ঔষুধ নানা রোগ যেমন-ফুসফুসের রোগ, আন্ত্রিকরোগ, হুপিংকাশি, কানব্যাথা প্রভৃতিতে ব্যবহৃত হয়। উপযুক্ত জমি ও মাটি ঃ পানি জমে না এমন উর্বর দো-আঁশ মাটিতে রসুন ভাল জন্মে তবে এঁটেল দো-আঁশ মাটিতেও চাষ করা যায়। এঁটেল মাটিতে কন্দ সুগঠিত হয় না। জমিতে পানি বের হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে কন্দ বড় হয় না এবং রসুনের রং খারাপ হয়ে যায়। বাংলাদেশের দিনাজপুর, রংপুর, নাটোরের গুরুদাসপুর ও বরাইগ্রাম, পাবনা জেলার চাটমহর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার তারাশ উপজেলায় রসুন  বেশি উৎপাদিত হয়। জাত পরিচিতি ঃ বারি রসুন-১: গড় উচ্চতা ২৫ ইঞ্চি, পাতার সংখ্যা (প্রতি গাছে) ৭-৮টি, কোয়ার সংখ্যা (প্রতি কন্দে) ২০-২২টি, কোয়ার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ইঞ্চি, বাল্বের ওজন ২০.০৮ গ্রাম, রোগ ও পোকার আক্রমণ খুব কম, জীবন কাল ১৪০-১৫০ দিন, ফলন (একর প্রতি) ২০০০-৩০০০ কেজি। বারি রসুন-২: গড় উচ্চতা ২২ ইঞ্চি, পাতার সংখ্যা (প্রতি গাছে) ৯-১০টি, কোয়ার সংখ্যা (প্রতি কন্দে) ২৩-২৪টি,  কোয়ার  দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ইঞ্চি, রোগ ও পোকার আক্রমণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ও সংরক্ষণ ক্ষমতা ভাল, জীবন কাল ১৪৫-১৫৫ দিন, ফলন (একর প্রতি) ৩০০০-৪০০০ কেজি। বাউ রসুন-১ ঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ হতে এ নামের একটি রসুনের জাত বের করা  হয়েছে। এটি ব্যাকটেরিয়াল সফ্ট-রট প্রতিরোধী, ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কিছু রোগ প্রতিরোধী, উচ্চ ফলনশীল এবং সংরক্ষণ গুন ভাল। বাউ রসুন-২: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ দীর্ঘদিন যাবত গবেষণা চালিয়ে ভাইরাস প্রতিরোধী এ জাত বের করেছে। এটি উচ্চ ফলনশীল, ভাইরাস রোগ প্রতিরোধী, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম, সংরক্ষণ গুন ভাল এবং ফলন প্রতি একরে ৫০০০-৬০০০ কেজি। ইটালী (দেশী জাত): গাছগুলো শক্ত, চওড়া, পাতাগুলো উপরের দিকে থাকে এবং ফলন বেশি হয়। আউশী (দেশী জাত): পাতা অপেক্ষাকৃত ছোট ও চিকন, কন্দ ছোট, ঢলে পড়ে, ফলন কম, বাজারে চাহিদা ও মূল্য কম। বীজ বপন ঃ শুকনো রসুনের বাহিরের সারির কোয়া লাগানো হয়। ১৫ সে.মি. দূরত্বে সারি করে ১০ সে.মি. দূরে ৩-৪ সে.মি. গভীরে রসুনের  কোয়া লাগানো হয়। প্রতি হেক্টরে ৩০০-৩৫০ কেজি বীজ রসুনের প্রয়োজন হয়।

সার ব্যবস্থাপনা ঃ রসুনে হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ হলো- গোবর ১০ টন, ইউরিয়া ২০০  কেজি, টিএসপি ১২৫ কেজি, এমওপি ১০০ কেজি, জিংক সালফেট ২০ কেজি, বোরাক্স ১০ কেজি ও জিপসাম ১০০ কেজি। জমি তৈরির সময় সমুদয়  গোবর, টিএসপি, জিংক সালফেট, বোরাক্স ও জিপসাম মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। রসুন লাগানোর ৩০ দিন ও ৬০ দিন পর যথাক্রমে ১ম ও ২য় কিস্তির উপরি সার প্রয়োগ করা হয়। প্রতিবারে প্রতি হেক্টরে ১০০ কেজি ইউরিয়া ও ৫০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। চাষের সময় পরিচর্যা ঃ আগাছা দমনঃ রসুন লাগানোর ১৫ দিন পর আগাছা বেশি হলে অর্থাৎ আগাছাগুলো নাড়ার উপর দিয়ে যখন উঠে তখন রনষ্টার ৫০ মিলি প্রতি বিঘাতে ৪০-৫০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। জমিতে আগাছা হলে অবস্থা বুঝে একাধিকবার নিড়ানী দিতে হবে। বন্যা প্লাবিত এলাকায় জিরো টিলেজে মালচিং এর মাধ্যমে রসুন লাগানো যাবে। তবে কোন কোন সময় বীজ রোপণ হতে রসুন উত্তোলন পর্যন্ত একটি নিড়ানী লাগতে পারে। তবে নিড়ানী নির্ভর করবে রসুন  ক্ষেতে আগাছার পরিমাণের উপর।  সেচ ব্যবস্থা ঃ রসুন লাগানোর পর জমির রস বুঝে সেচ দিতে হয়। রসুনের কোয়া লাগিয়েই একবার সেচ দেওয়া হয়। এর পর চারা বের না হওয়া পর্যন্ত জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকতে হবে। চারা একবার হয়ে গেলে ১০-১৫ দিন অন্তর সেচ দিলেও চলে। রসুনের জমিতে বিশেষ করে, কন্দ গঠনের সময় উপযুক্ত পরিমাণে রস থাকা দরকার। সে জন্য এ সময় অবশ্যই সেচ দিতে হবে। কন্দ যখন পরিপক্ক হতে থাকে তখন সেচ কম দিতে হয়। এই ফসলে মোটামুটি ৪-৫ টি সেচের দরকার হয়।  ড্রেনের দু’পাশের নালা দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া সুবিধাজনক। নালা দিয়ে জমিতে সমভাবে ও সহজেই পানি সেচ দেয়া এবং জমিতে বেশি পানি থাকলে তা বের করে  দেওয়া যায়। গাছের গোড়ায় মাটি ঃ চারা গজালে সারির দু’ধার থেকে গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হয়। জমিতে খড় বিছানো ঃ বীজ জমিতে বপনের পর পরই জমিতে খড় বিছিয়ে দেয়া যায়। রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা ঃ পোকার নাম ঃ থ্রিপস- এ পোকা ছোট কিন্তু পাতার রস চুষে খায় বিধায় গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। সে কারনে ক্ষেতের মধ্যে পাতা বিবর্ণ দেখালে কাছে গিয়ে মনোযোগ সহকারে দেখা উচিৎ, তা না হলে ফলন অনেক কমে যাবে।  পোকা আকৃতিতে খুব ছোট। স্ত্রী পোকা সরু, হলুদাভ।  পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ গাঢ় বাদামী। বাচ্চা সাদা বা হলুদ। এদের পিঠের উপর লম্বা দাগ থাকে। ক্ষতির নমুনা ঃ এরা রস চুষে খায় বলে আক্রান্ত পাতা রূপালী রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতায় বাদামী দাগ বা ফোঁটা দেখা যায়। অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। রাইজোম আকারে ছোট ও বিকৃত হয়। জীবন চক্র ঃ স্ত্রী পোকা পাতার কোষের মধ্যে ৪৫-৫০ টি ডিম পাড়ে। ৫-১০ দিনে ডিম হতে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। নিম্ফ ১৫-৩০ দিনে দুটি ধাপ অতিক্রম করে। প্রথম ধাপে খাদ্য গ্রহণ করে  এবং দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য গ্রহণ না করে মাটিতে থাকে। এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে। এবং স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই বাচ্চা দিতে সক্ষম। ব্যবস্থাপনা ঃ সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার। ক্ষেতে মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়। আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেক্সিন গ্র“পের সাইপেরিন, সাইপার অথবা ইমাডিক্লোরো ফিড গ্র“পের এডমায়ার প্রতি লিটারে ১ মিলি সাইপারমেক্সিন অথবা ইমিডা ক্লোরোফিড প্রতি লিটারে ০.৫ মিলি গাছে ৪ থেকে ৫ দিন পরপর ¯েপ্র করতে হবে। রোগের নাম ঃ কান্ড পঁচা- স্কেলরোসিয়াম রলফসি ও ফিউজারিয়াম নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়।  যে কোন বয়সে গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কন্দ ও শিকড়ে এর আক্রমণ  দেখা যায়। আক্রান্ত কন্দে পচন ধরে এবং আক্রান্ত কন্দ গুদামজাত করে বেশী দিন রাখা যায় না। ক্ষতির নমুনা ঃ আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যায় ও ঢলে পড়ে।  টান দিলে আক্রান্ত গাছ খুব সহজে মাটি থেকে কন্দসহ উঠে আসে। আক্রান্ত স্থানে সাদা সাদা ছত্রাক এবং বাদামী বর্ণের গোলাকার ছত্রাক গুটিকা (স্কেলরোসিয়াম)  দেখা যায়। অধিক তাপ ও আর্দ্রতা পূর্ণ মাটিতে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।  ক্ষেতে সেচ দিলেও এ রোগ বৃদ্ধি পায়। এ রোগের জীবাণু মাটিতে বসবাস করে বিধায় সেচের পানির মাধ্যমে ও মাটিতে আন্ত পরিচর্যার সময় কাজের হাতিয়ারের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার হয়। ব্যবস্থাপনা ঃ আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংশ করতে হবে। মাটি সব সময় স্যাঁত স্যাঁতে রাখা যাবে না। আক্রান্ত জমিতে প্রতি বছর পেঁয়াজ/রসুন চাষ করা যাবে না। ম্যানকোজেব গ্র“পের এগ্রিজে ডাইথেনএম-৪৫ অথবা ব্যাভিষ্টিন (কার্ববোন্ডাজিম) ছত্রাকনাশক প্রতি কেজি বীজে ১০০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধণ করে বপন করতে হবে। ফসল সংগ্রহ ঃ রসুন গাছের পাতা শুকিয়ে বাদামী রং ধারণ করলে ঢলে পড়ে তখন রসুন তোলার উপযোগী হয়। গাছসহ রসুন তোলা হয় এবং ঐ ভাবে ছায়াতে ভালভাবে শুকিয়ে মরা পাতা কেটে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ১০-১২ টন ফলন পাওয়া যায়। ফসল সংগ্রহের পর করণীয় ঃ ছায়াতে শুকাতে পারলে ভাল গুণাগুণ বজায় থাকে। রোদে শুকালে রসুন নরম হয়ে যেতে পারে। ফুতি পোকার র্লাভা থেকে রক্ষা পেতে হলে সংরক্ষণের সময় সেভিন পাউডার ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম করে ¯েপ্র করে দিতে হবে। রসুন খুব ভালোভাবে পরিপক্ক করে নিয়ে ক্ষেত থেকে তুলতে হবে। অপরিপক্ক রসুন তুললে সেটা থেকে বীজ করা যাবে না। জমিতে ফুলকা হলে বুঝতে হবে রসুন পরিপক্ক হয়েছে। বাছাই ঃ রসুন মাঠ  থেকে সংগ্রহের পর ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিনটি গ্রেডে ভাগ করতে হবে। বীজ হিসাবে সংরক্ষণ পদ্ধতি ঃ রসুন সংগ্রহের পর ৫-৭ দিন ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে হয়। একে রসুনের কিউরিং বলে। পরে পরিমাণ মতো (৪-৫ কেজি) রসুনের শুকানো গাছ বেনি তৈরি করে বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এক ঝোপা থেকে অন্য ঝোপা কিছুটা দূরে/ফাঁকা করে রাখতে হবে যাতে করে বাতাস চলাচল করতে পারে। এছাড়া রসুন উত্তোলনের পর পাতা ও শিকড় কেটে ব্যাগে এবং বাঁশের র‌্যাক, মাচায় এবং চটের বস্তাতেও সংরক্ষণ করা যায়। বীজের জন্য এভাবে সংরক্ষণ করার আগে যেটা মোটা, সুস্থ, সবল, রোগব্যাধি বিহীন রসুন বাছাই করতে হবে।

 

হারের হতাশা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ জিদানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে হেরে কোপা দেল রের শেষ আট থেকে বিদায় নেওয়ার কারণ হিসেবে কোনো অজুহাত দেখাতে চান না রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান। হারের হতাশা ভুলে খেলোয়াড়দের ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন এই ফরাসি। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে বৃহস্পতিবার ৪-৩ গোলে হারে রিয়াল। সব প্রতিযোগিতা মিলে ২১ ম্যাচ পর হারের মুখ দেখে স্পেনের সফলতম ক্লাবটি। ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রতিযোগিতাটিতে নিজেদের ১৯তম ও সবশেষ শিরোপা জিতেছিল তারা। গত শনিবার লা লিগায় আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলা একাদশে ৭টি পরিবর্তন আনেন রিয়াল কোচ। বিরতির আগে এক গোল খাওয়া দলটি দ্বিতীয়ার্ধে হজম করে আরও তিনটি। ৪-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ দিকে দুটি গোল শোধ করে রোমাঞ্চ জাগালেও বিপর্যয় এড়াতে পারেনি জিদানের দল। স্পেনের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হতাশ দলের সবাই। তবে ভেঙে না পড়ে শিষ্যদের ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন জিদান। “জটিল একটা ম্যাচ। আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছি এবং ছেলেরা ভালো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেৃআমাদের প্রতিপক্ষকে স্বাগত জানাতে হবে এবং একই সঙ্গে হার মেনে নিতে হবে।” জিদান মনে করেন, রক্ষণে ভুলের মূল্য দিতে হয়েছে তার দলকে। তবে এই ম্যাচ থেকে সামনে এগোনোর রসদও পাচ্ছেন তিনি। “আমাদের কোনো কিছুতেই পরিবর্তন আনতে হবে না। আমাদের পরিশ্রম ও লড়াই করা অব্যাহত রাখতে হবে। মৌসুমে আরও অনেক কঠিন ম্যাচ আছেৃহার সব সময়ই বেদনানায়ক, কেউই এটা পছন্দ করে না, তবে এটা মেনে নিতেই হবে।” এই ম্যাচেও সুযোগ পাননি গ্যারেথ বেল, কাসেমিরো ছিলেন বিশ্রামে। তবে দল গঠনে কোনো সমস্যা দেখছেন না জিদান।

 

কলম্বিয়াকে হারিয়ে অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা, অপেক্ষায় ব্রাজিল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দুই গোল করল আর্জেন্টিনা। এক গোল শোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলার ইঙ্গিত দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি কলম্বিয়ার। তাদের হারিয়ে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকের ফুটবল ইভেন্টে খেলার টিকেট পেয়েছে আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের চূড়ান্ত বাছাইয়ের ম্যাচে বৃহস্পতিবার কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। ৫০তম মিনিটে আগুস্তিন উরসি দলকে এগিয়ে নেওয়ার তিন মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নেহুয়েন পেরেস। ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান কমায় কলম্বিয়া। এ জয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে কনমেবল থেকে সবার আগে টোকিও অলিম্পিকে খেলা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। ২ পয়েন্ট নিয়ে অপেক্ষায় আছে ব্রাজিল। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আগামী রোববার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল; ওই ম্যাচ জিতলে অন্য কোনো হিসেব ছাড়াই অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে দলটি। স্বাগতিক জাপানসহ ১৬ দল নিয়ে হবে অলিম্পিকে ছেলেদের ফুটবল ইভেন্ট। কনমেবল থেকে দুটি দল পাবে খেলার সুযোগ। আর্জেন্টিনা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় বাকি এক টিকেটের জন্য ব্রাজিল ছাড়াও লড়বে ১ করে পয়েন্ট নিয়ে নিচের দিকে থাকা দুই দল উরুগুয়ে ও কলম্বিয়া।

আফগান দলে ফিরলেন শাপুর ও উসমান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন পেসার শাপুর জাদরান ও তরুণ ওপেনার উসমান গনি। মার্চে ভারতের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে আফগানরা। সিরিজের জন্য শুক্রবার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড, নেতৃত্ব দিবেন আসগর আফগান। গত ডিসেম্বরে রশিদ খানকে সরিয়ে এই পেস অলরাউন্ডারকে সব ফরম্যাটে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। শাপুর সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০১৮ সালের জুনে, বাংলাদেশের বিপক্ষে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার পুরস্কার হিসেবে আবারও দলে ফিরলেন ৩২ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসার। গত বছরের ফেব্র“য়ারিতে সবশেষ দেশের হয়ে খেলা ২৩ বছর বয়সী উসমান ১৫টি ওয়ানডে খেলেছেন, টি-টোয়েন্টি ১৯টি। ১৯ বছর বয়সী সম্ভাবনাময় দুই তরুণকে নিয়ে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। এই সিরিজেই আন্তর্জাতিক অভিষেক হতে পারে পেস-বোলিং অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের। এই সংস্করণে অভিষেক হতে পারে দেশের হয়ে একটি টেস্ট খেলা লেগ স্পিনার কাইস আহমেদেরও। এখনও পুরোপুরি চোট কাটিয়ে উঠতে না পারলেও দলে আছেন ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই। তবে ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক অ্যান্ডি মোলস। উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডা স্টেডিয়ামে আগামী ৬, ৮ ও ১০ মার্চ হবে ম্যাচ তিনটি। টি-টোয়েন্টির আফগানিস্তান দল: আসগর আফগান (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ, হজরতউল্লাহ জাজাই, করিম জানাত, নাজিব জাদরান, মোহাম্মাদ নবি, গুলবাদিন নাইব, রশিদ খান, নাভিন-উল-হক, শাপুর জাদরান, মুজিব উর রহমান, কাইস আহমেদ, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, সামিউল্লাহ শিনওয়ারি, উসমান গনি।

২৩৩ রানে থামল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ একটা সময় বড় বিপদেই ছিল বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল, হয়তো দেড়শও পার হতে পারবে না। তবে মোহাম্মদ মিঠুন আর তাইজুল ইসলামের লড়াকু এক জুটিতে দুইশ পেরিয়ে যায় টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত মিঠুনের হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৩৩ রানে অলআউট হয়েছে মুমিনুল হকের দল। ব্যাট করেছে ৮২.৫ ওভার। আর বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ার পরই প্রথম দিনের খেলার ইতি টেনেছেন আম্পায়াররা। রাওয়ালপিন্ডিতে স্বাগতিকদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ব্যাটিংয়ের শুরুটা একদমই ভালো করতে পারেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ও সাইফ। তবে প্রথম ওভারের প্রথম বল মিডউইকেট থেকে ৩ রান নিয়ে ইঙ্গিতটা ইতিবাচকই দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। যা ধরে রাখতে পারেননি এ অভিজ্ঞ ওপেনার। শাহিন শাহ আফ্রিদির করা সে ওভারের তৃতীয় বলে দৃষ্টিকটু শটে আউট হন সাইফ। ফুল লেন্থের ডেলিভারিতে কোনো রকমের ফুট মুভমেন্ট ছাড়াই ব্যাট এগিয়ে দেন তিনি। বাইরের কানায় লেগে যা চলে যায় দ্বিতীয় স্নিপে দাঁড়ানো আসাদ শফিকের হাতে। যার সুবাদে উড়ন্ত সূচনা পায় পাকিস্তান। তাদের শুরুটা আরও দুর্দান্ত করে দেন মোহাম্মদ আব্বাস। দ্বিতীয় ওভার করতে এসে চতুর্থ বলেই তিনি আউট করেন তামিমকে। হালকা ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিটি সরাসরি আঘাত হানে তামিমের প্যাডে। আম্পায়ার প্রথমে নট আউট দেন। তবে রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে নেয় পাকিস্তান। ৩ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপরই উইকেটে আসেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। আর প্রথম ওভারে সাইফের বিদায় আগেই এসেছিলেন নাজমুল শান্ত। দুজন মিলে নেমে পড়েন চাপ সামাল দেয়ার মিশনে। তবে তাদের জুটিটা ছিল পুরোপুরি নড়বড়ে। বিশেষ করে অধিনায়ক মুমিনুলের ব্যাটিং। ইনিংসের ১১তম ওভারের পঞ্চম বলে নাসিম শাহর দ্রুতগতির বাউন্সারটি যেন দেখতেই পাননি মুমিনুল হক। চোখ সরিয়ে নেন বলের লাইন থেকে, মুহূর্তের মধ্যে সেটি গিয়ে লাগে তার ব্যাটের ওপরের দিকে, অল্পের জন্য গালিতে দাঁড়ানো ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে চলে যায় বাউন্ডারিতে- মুমিনুলের ৫৯ বলের ইনিংসের প্রতীকী দৃশ্যই বলা চলে এই এক ডেলিভারির ঘটনাকে। যেখানে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছেন পাকিস্তানি পেসার নাসিম শাহ। কিন্তু কোনোমতে নিজেকে বাঁচিয়ে ৪ রান পেয়ে গেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল। ঠিক এভাবেই বাজে শুরুর পর প্রথম ঘণ্টাটা কাটিয়ে দেন মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে মুমিনুলের তুলনায় বেশি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাটিং করছেন শান্ত। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে দুর্দান্ত এক কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জানান দিয়েছেন নিজের আত্মবিশ্বাসের কথাও। অন্যদিকে মুমিনুল খুঁজে পাননি ছন্দ। নাসিম শাহর শর্ট লেন্থের ডেলিভারিতে বেশ বিপাকেই পড়তে দেখা গেছে তাকে। যার ধারাবাহিকতায় নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক। ৩০ রান করে শাহীন শাহর শিকার হন ইনিংসের ২২তম ওভারে। এরপর মাহমুদউল্লাহ আর শান্ত’র ৩৩ রানের একটি জুটি। দারুণ খেলছিলেন শান্ত। হঠাৎই কি মনে করে মোহাম্মদ আব্বাসের বেরিয়ে যাওয়া বলটায় ব্যাট ছুয়ে দেন। উইকেটের পেছনে ক্যাচ হন ৪৪ রানে। তার ১১০ বলের ইনিংসটায় ছিল ৬টি বাউন্ডারির মার। মিঠুন ক্রিজে আসার পর কিছুটা সময় ভালোই কেটেছে বাংলাদেশের। তবে মাহমুদউল্লাহ শাহীন শাহ আফ্রিদির অনেক বাইরের একটি ডেলিভারিতে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ হন আসাদ শফিকের। ৪৮ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তিনি তখন ২৫ রানে। ১০৭ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। সেখান থেকে ৫৪ রানের আরেকটি লড়াকু জুটি লিটন দাস আর মোহাম্মদ মিঠুনের। দারুণ খেলছিলেন লিটন। হঠাৎ একটি বল লেগে যায় পায়ে। হারিস সোহেলের টার্নিং ডেলিভারিটি লিটনের প্যাডে লাগলেও অবশ্য আউট দেননি আম্পায়ার নাইজেল লং। রিভিউ নেয় পাকিস্তান। এবারও জিতে যায় তারা। ৪৬ বলে ৭ চারের সাহায্যে ৩৩ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন। তবে এরপর আবারও প্রতিরোধ বাংলাদেশের। সপ্তম উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে প্রায় ২৩ ওভারের মতো কাটিয়ে দেন তাইজুল, দলকে পার করে দেন ২০০ রান। ৫৩ রানের জুটিটি অবশ্য ভেঙেছে তাইজুলেরই ভুলে। হারিস সোহেলকে অযথা তুলে মারতে গিয়ে মিডঅফে ইয়াসির শাহর সহজ ক্যাচ হন তিনি। ৭২ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তাইজুলের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। এরপর ১ রানেই রুবেলকে বোল্ড করে দেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। পরের ওভারে এক বল বিরতিতেই বাংলাদেশের শেষ ভরসা মোহাম্মদ মিঠুনকেও তুলে নেন নাসিম শাহ। হাফসেঞ্চুরিয়ান মিঠুন অবশ্য নিজের ভুলে আউট হয়েছেন বলা যাবে না। নাসিমের দুর্দান্ত ডেলিভারিটি হাত আর পেটের মাঝখানের ফাঁক দিয়ে ব্যাটে লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষকের গ¬াভসে। শুরুতে আউট দেননি আম্পায়ার। পাকিস্তান রিভিউ নেয়। তাতে দেখা যায় পরিষ্কার ইনসাইড এজ। মিঠুনের ১৪০ বলে ৭ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৬৩ রানের লড়াকু ইনিংসটার সমাপ্তি সেখানেই। এরপর আর এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আব্বাসের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন আবু জায়েদ। শাহীন শাহর বলে এক রান নিতে চেয়েছিলেন জায়েদ, কিন্তু সঙ্গী এবাদত হোসেন না করে দেন। ক্রিজে ফিরে যান জায়েদ, কিন্তু বোকার মতো ব্যাটটা রাখেননি ক্রিজের দাগে। আব্বাসের থ্রোতে স্ট্যাম্প ভাঙলে শেষ উইকেটটির পতন হয় বাংলাদেশের। পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল শাহীন শাহ আফ্রিদি। ৫৩ রানে তিনি নিয়েছেন ৪টি উইকেট। ২টি করে উইকেট মোহাম্মদ আব্বাস আর হারিস সোহেলের।

অজয়ের সঙ্গে আমার ছবি হিট হবে এটা আমিও ভাবিনি : কাজল

বিনোদন বাজার ॥ ছবিটি নিয়ে বেশ সংশয় ছিল। এতদিন পর অজয়-কাজলের নতুন ছবি দর্শকরা কীভাবে গ্রহণ করবে তা নিয়েই ছিল সংশয়। বলিউডের বক্স অফিস কাঁপাচ্ছে অজয় দেবগণ, কাজল ও সাইফ আলী খানের সিনেমা ‘তানাজি : দ্য আনসাং ওয়ারিওর’। গত ১০ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। মুক্তির ৬ দিনে ১০০ কোটি রুপিরও বেশি আয় করে তানাজি। এরইমধ্যে ২৫০ কোটি ছাড়িয়েছে ছবিটির আয়।

দর্শক সাড়ায় ভেসেছে মারাঠি ইতিহাস নির্ভর সিনেমাটি। সেই আনন্দে ভাসছেন ছবির অভিনেতা অজয় দেবগণ, কাজল ও সাইফ আলী খানেরাও। তবে ছবির প্রধান চরিত্রে অজয় থাকলেও দর্শকের প্রশংসায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন সাইফ। তার অভিনয় মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘তানাজি’র রিভিউ সেই প্রমাণই দিচ্ছে।

গত সোমবার চলচ্চিত্র সমালোচক ও বাণিজ্য বিশ্লেষক তারান আদর্শ টুইটারে জানিয়েছেন, একাধিক সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও তানহাজি এগিয়ে চলেছে। গত শুক্রবার ছবিটি আয় করেছে ২.৭৭ কোটি, শনিবার ৪.৪৮ কোটি, রবিবার ৬.২৮ কোটি, মোটি আয় হয়েছে ২৫১.৪০ কোটি রুপি (ইন্ডিয়া বিজ)। কাজল গণমাধ্যমে মজা করে বলেন, ‘অজয়ের সঙ্গে আমার ছবি হিট হবে এটা আমিও ভাবিনি।’

প্রসঙ্গত, ওম রাউত পরিচালিত তানাজি ছবিতে মুখ্য দুই অভিনেতা অজয় দেবগণ ও সাইফ আলী খান। সাইফ এখানে হিং¯্র রাজপুত দুর্গ-রক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেন ঔরঙ্গজেব। তানাজি ও মোঘল খলনায়কের যুদ্ধই এই ছবির মূল উপাদান। যদিও যোদ্ধাদের ভূমিকায় দুই অভিনেতাই যথাযথ ছিলেন। ছবিতে তানাজির স্ত্রী সাবিত্রী বাঈয়ের ভূমিকায় দেখা গেছে কাজলকে।

ইমরান হাশমির ক্যান্সারজয়ী ছেলের হৃদয় ছোঁয়া বার্তা

বিনোদন বাজার ॥ ক্যান্সারের ভয়াবহতার কথা বলতে গিয়ে ভারতীয় অভিনেতা ইমরান হাশমির ছেলে আয়ান হাশমি জানায়, এটি মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রচ- আঘাত করে। কিন্তু ক্যান্সার হওয়ার পর আমার পুরো জীবনই বদলে গেছে। তবে এই রোগটি নিরাময় সম্ভব বলেও সে জানায়।

কথাগুলো বলছিল বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নার্গিস দত্ত ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে। প্রিয়া দত্ত এটির সঞ্চালনা করছিলেন।-খবর হিন্দুস্থান টাইমসের

জীবনের ওপর বয়ে যাওয়া ভয়াবহ এই ঝড়কে নিয়ে ১০ বছর বয়সী এই শিশুটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই কথা বলে। সে বলল, ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠার পর আমি আরও শক্তিশালী হই। হয়ে উঠি ভয়ডরহীন নেতা।

‘ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হলে বেশ কিছু গুণ থাকা চাই, আর যেটি এখানকার সবার আছে। আপনাকে শক্ত হতে হবে। এখানে উপস্থিত সবাই দৃঢ়চেতা, ভয়ডরহীন ও যোদ্ধা।’

আয়ান হাশমি বলে, মঙ্গলবার ছিল আমার জন্মদিন। আর পরের দিন ক্যান্সার দিবস। এটি কাকতালীয়। প্রথম দিন আমি টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের অনুষ্ঠানে যোগ দিই। সেটি দারুণ ছিল। কিন্তু এখন আরও ভালো লাগছে। কারণ আমি ক্যান্সার নিয়ে কিছু বলতে পারছি।

অনুষ্ঠানে ক্যান্সারজয়ী সোনালি বেন্দ্রেও উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য শেষে ইমরান হাশমির ছেলেকে তিনি হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান।

আয়ানের এই বক্তব্য সামাজিকমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে নেটিজেনদের কাছ থেকে সে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। একজন লিখেছেনÑ আমি তোমাকে ভালোবাসি, ছোট্ট নায়ক। আরেকজন লেখেনÑ আদুরে, শক্তিশালী ও স্মার্ট বাচ্চা!

ছয় বছর আগে ২০১৪ সালে আয়ান হাশমির ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। গত বছর সে এ রোগ থেকে নিষ্কৃতি পায়।