পাকিস্তানের অনুরোধ রাখল না সৌদি, হতাশ ইমরান খান

ঢাকা অফিস ॥ কাশ্মীর সংকট নিয়ে জেদ্দায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) জরুরি বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু সৌদি আরবের অনিচ্ছায় সে বৈঠকটি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাক প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরকালে এক ভাষণে কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির নীরবতায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এর কারণ হলো আমাদের কোনো কণ্ঠস্বর নেই; আমাদের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। এমনকি আমরা কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির বৈঠকে সামগ্রিকভাবে একসঙ্গে আসতে পারি না। সদস্যভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে সভা না করতে পারার ব্যর্থতায় ওআইসির সঙ্গে ইসলামাবাদের অস্বস্তিবোধ বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডন অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী রোববার (৯ ফেব্র“য়ারি) সদস্যভুক্ত সব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে জেদ্দায় ওআইসির বৈঠকের জন্য প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কাশ্মীর সংকট নিয়ে পাকিস্তানের জরুরি বৈঠকের অনুরোধের পরও বুধবার ওই বৈঠকের জন্য অসমম্মতি জানিয়েছে সৌদি আরব। জাতিসংঘের পর ৫৭টি মুসলিম দেশ নিয়ে গঠিত দিত্বীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকারি সংগঠন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। গত আগস্টে ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীর অধিগ্রহণ করার পর থেকেই ওআইসির সদস্যভুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের উদ্যোগী করার চেষ্টা করে আসছে পাকিস্তান।

সভাপতি শেখ আকতার, সাঃ সম্পাদক এম.ডি আসাদ

উত্তরণ সাহিত্য পরিষদ কুষ্টিয়া’র কার্যনির্বাহী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

নিজ সংবাদ ॥ উত্তরণ সাহিত্য পরিষদ কুষ্টিয়া’র কার্যনির্বাহী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৭ ফেব্র“য়ারি শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের বজলুর মোড়স্থ এ্যাপোলো ইন্টারন্যাশনাল মডেল স্কুল প্রাঙ্গনে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরণ সাহিত্য পরিষদ কুষ্টিয়া’র আহবায়ক কবি শেখ আকতার এবং সার্বিক পরিচালনা করেন সদস্য সচিব এম.ডি আসাদ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির নেতৃবৃন্দরা হলেন, উপদেষ্টা কবি সৈয়দা হাবিবা, সাহিত্যিক মোহাম্মদ তাজউদ্দীন,  কবি শরিফুল আলম সিদ্দিক কচি,  কবি শিরিন বানু। সভাপতি কবি শেখ আকতার, সহ-সভাপতি কবি জামিরুল ইসলাম এবং সুলতানা রেবেকা নাসরিন, সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তি শিল্পী এম.ডি আসাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক কবি হোসনে আরা খাতুন এবং সাকিলা পারভীন দোলা, সাংগঠনিক সম্পাদক কবি আইরিন সুলতানা আইভি, দপ্তর সম্পাদক কবি জসীম উল্লাহ আল হামিদ, প্রকাশনা সম্পাদক কবি কাজী সোহান শরীফ,  প্রচার সম্পাদক কবি এস এস রাসেল হাসান, অর্থ সম্পাদক কবি মহাদেব দাস, নির্বাহী সদস্য আবৃত্তি শিল্পী আনোয়ার কবির বকুল, কবি এস এস রুশদী, কবি রেহানা জামান, কবি মান্নান মণি, কবি আব্দুর রাজ্জাক, কবি আব্দুল আওয়াল।

গাংনীতে  দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে বিচালী পুড়ে ছাই

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে এক কৃষকের ৩০ হাজার টাকার মূল্যের বিচালী পুড়ে ছাই হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে হাড়িয়াদহ গ্রামের খেজমত আলীর বিচালী গাঁদায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। কৃষক খেজমত আলী জানান রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। মধ্যরাতে বসত বাড়ির পিছনে বিচালী (ধানের খড়) গাঁদায় আগুন জ্বলে উঠলে,প্রতিবেশীরা টের পায়। এসময় আমার পরিবারকে জানালে,শত চেষ্টা করে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার বিচালী পুড়ে ছাই হয়েছে।

গাংনীতে মুক্তিযোদ্ধা তারিকুজ্জামানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাদিয়াপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা (অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার) তারিকুজ্জামান (৬৮)্ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (টেনশনে) মৃত্যুবরণ করেছে।(ইন্না লিল্লাহে .. .. .. রাজেউন)। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার সময়  নিজ বাড়ীতে ট্রোক করে তারিকুজ্জামান মারা গেছেন।  তিনি উপজেলার বাদিয়াড়ার মৃত টগা বিশ্বাসের ছেলে। মুক্তিযোদ্ধা তারিকুজ্জামানকে তার বর্তমান বসবাসের জায়গা ছাতিয়ান ব্রিকফিল্ড মাদ্রাসা ময়দানে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার সময় জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়  দাফন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে শ্রদ্ধা জানান গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়ানুর রহমান। এসময় তারিকুজ্জামানকে গার্ডঅপ অনার প্রদান করে গাংনী থানা পুলিশের একটিদল। তার মৃত্যুতে গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুল হান্নান জানান, গেজেট প্রাপ্ত ও সনদপত্র ধারী মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাইয়ের নামে হয়রানি ও নানাভাবে হেয় করা হচ্ছে এমন অপমানের কারণে টেনশনে তারিকুজ্জামান মারা যায়। তারিকুজ্জামান  তার স্ত্রী ও  ৩ সন্তানসহ বহু গুনগ্রাহী এবং আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

কুষ্টিয়ায় জাতীয় কন্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০১৯ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

গতকাল শুক্রবার বিকেলে শহরের মিলাপাড়ায় মোহিনীমিল মাঠে জাতীয় কন্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০১৯ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টুর্নামেন্ট উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় আব্দুল জব্বার এর দৈহিত্র আব্দুর রব জনি’র সভাপতিত্ব অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছ কোরাইশী ও ১০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিন খাঁন। আনিস কোরাইশী তার বক্তব্যে বলেন,  কুষ্টিয়ার কৃতি  সন্তান মরহুম আব্দুল জব্বার ১৯৩৮ সালে কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়া শহীদ লিয়াকত সড়কে জন্মগ্রহন করেন। তিনি প্রথম বেতারে গান পরিবেশন করেন ১৯৫৮ সালে। ১৯৬৪ কন্ঠযোদ্ধা আব্দুল জব্বার চলচিত্রে প্রথম গান পরিবেশন করেন। এর পরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সুর ও গানকে অস্ত্র হিসেবে গ্রহন করেছিল বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ। আর বাঙ্গালী জাতিকে জাগ্রত করেছিল এই গুণী শিল্পীর গানে। ২০১৭ সালে ৩০ আগষ্ট জাতীয় কন্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার মৃত্যুবরণ করেন। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে প্রয়াত আব্দুল জব্বারকে তুলে ধরার জন্য ২য় বছরের ন্যায় এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।  আর এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩২ টি দল অংশ গ্রহন করেছে। সাংস্কৃতির রাজধানী কুষ্টিয়াতে এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আরো জাতীয় ক্রিকেটার তৈরি হবে বলে আমি আশা করি। ফাইনাল খেলায় এল বি ফ্যাশানকে ৯ ইউকেটে হারিয়ে সুরু স্মৃতি বিজয়ী হয়। পরে বিজয়ী সুরু স্মৃতিকে চাম্পিয়ান টপি ও কুড়ি হাজার টাকার প্রাইজমানি এবং রানার্সআপ এল বি ফ্যাশানকে টপি ও দশ হাজার টাকা প্রাইজ মানি  প্রদান করা হয়। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ ও ম্যান অব দ্যা টুনামেন্ট হয়েছে শৈশব। টুর্নামেন্টের সার্বিক পরিচালনা করেন রনি আমিন জ্যাকি ও হাসিব কোরাইশী। উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টকে ঘিরে মাঠ সেজেছিল নতুন সাজে। বিভিন্ন শ্রেনী পেশা  আর উঠতি বয়সী ছেলেদের ভিড়ে মোহিনীমিল মাঠে ছিল আনন্দ মুখোর পরিবেশ। এসময় আব্দুল জব্বার  পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ঝিনাইদহ শহরে উচ্চ প্রযুক্তির আইপি ক্যামেরা স্থাপন শুরু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ অপরাধ দমনে ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থানে উচ্চ প্রযুক্তির আইপি ক্যামেরা স্থাপন শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের পায়রা চত্বরে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শৈলকুপা-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি, জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. আজিজুর রহমান, নুরজাহান বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ফোটন, এম হাকিম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুর রশিদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হিরণ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জীবন কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্রমুখ। আয়োজকরা জানান, সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকীর সহযোগিতায় জেলা পুলিশ শহরের পোষ্ট অফিস মোড়, পায়রা চত্বর, আরাপপুর, হামদহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থানে ১’শ টি আইপি ক্যামেরা স্থাপন করবে। যা জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রন করা হবে। এতে শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করবে।

দৌলতপুরের আল্লারদর্গায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে ৩দিন ব্যাপী তাফসির মাহফিল

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের আল্লারদর্গায় আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ৩দিন ব্যাপী তাফসির মাহফিল। আল্লারদর্গা হাইস্কুল মাঠে প্রতিদিন বাদ আছর থেকে এ তাফসির মাহফিল শুরু হবে। ইদ্রিস আলী বিশ^াস ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এলাকাবাসীর আয়োজনে ৩দিন ব্যাপী তাফসির মাহফিলে দেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদগন তাফসির করবেন। তাফসির মাহফিলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দলে দলে যাগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২৫তম বার্ষিক তাফসির মাহফিল শেষ হবে সোমবার।

ভালোবাসা দিবসে ঝিনাইদহে জেলায় দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রির কথা বল্লেন চাষিরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥  সৗন্দর্য ও বিশুদ্ধতার প্রতীক ফুলের চাহিদা থাকে সবসময়। ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। সারা বছরই বিয়ে, জন্মদিন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ নানা অনুষ্ঠানে প্রয়োজন হয় ফুলের। পাশাপাশি রয়েছে একুশে ফেব্র“য়ারি ও ভালোবাসা দিবসের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎসব। তাই প্রতিবারের মতো এবারও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে অন্তত দুই কোটি টাকা ব্যবসার পরিকল্পনা করছেন ঝিনাইদহের ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এখন ফুল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২০৪ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৭, কালীগঞ্জে ৩০, কোটচাঁদপুরে ১৫ এবং মহেশপুরে ১৩৬ হেক্টর জমিতে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগদ্ধা, গ্লাডিওলাস ও জারবেরাসহ দেশি-বিদেশি ফুলের চাষ হয়েছে। এখানের মাটি ও আবহাওয়া ফুল চাষের উপযোগী হওয়ায় কম খরচে দ্বিগুণ আয় হয়। এজন্য জেলায় দিন দিন বাড়ছে ফুল চাষ। বছরের অন্যান্য সময় ফুল চাষিদের আয় কিছুটা কম হলেও বিভিন্ন উৎসব ও দিবসে আয় হয় দ্বিগুণ। কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর এলাকার সারোয়ার বলেন, মালিকের ফুল বাগানে কাজ করি। আমাদের বাগানে তিন বিঘায় জারবেরা ফুল রয়েছে। এসব ১১ রঙের ফুল। এখন ফুল বিক্রি করছি ৭-৮ টাকা পিস। সামনে ভালোবাসা দিবস, একুশে ফেব্র“য়ারি। এজন্য ফুলের বাড়তি পরিচর্যা করছি। তখন প্রতি পিস ফুল বিক্রি হবে ১৫-২০ টাকা। একই এলাকার ফুল চাষি মুকুল বলেন, আমার আড়াই বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুল আছে। বর্তমানে ফুলের পিস পাঁচ টাকায় বিক্রি করছি। তবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দিগুণ দামে ফুল বিক্রি হবে। কোটচাঁদপুর এলাকার ফুল চাষি আয়ুব হোসেন বলেন, আমার দেড় বিঘা জমিতে গাঁদা ফুল আছে। এখন ওষুধ দিচ্ছি। এতে করে ফুলে পোকা লাগবে না, রঙ ভালো থাকবে, মানও ভালো হবে। তখন বেশি দামে ফুল বিক্রি করব। ফুল চাষিরা জানান, এখন গোলাপ প্রতি পিস বিক্রি হয় পাঁচ টাকা। গাঁদা ফুলের মালা ১২০ টাকা। তবে ভালোবাসা দিবস ও একুশে ফেব্র“য়ারি উপলক্ষে গোলাপের পিস বিক্রি হবে ১৫-২০ টাকা। গাদা ফুলের মালা বিক্রি হবে ২৫০-৩০০ টাকা।

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় কুষ্টিয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল

নিজ সংবাদ ঃ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা ও মুক্তি চেয়ে কেন্দ্রিয় ঘোষীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপির উদ্যেগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা কুষ্টিয়া কেন্দ্রিয় বড় জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির নাধারণ সম্পাদক শহীদ সরকার মঙ্গল, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড.শামীম উল হাসান অপু, খন্দকার শামসুজ্জাহিদ, যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টু, জেলা কৃষকদলের সভাপতি এসএম গোলাম কবির, সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন মোকা, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার শামসুজ্জোহা লাল্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, বিএনপি নেতা বাবর আলী সহ অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

চীনের আকাশে বাতাসে বাঁচার আকুতি

ঢাকা অফিস ॥ বেইজিংয়ের সরু গলিতে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করেন ল্যানিং কৌ। গত সাতদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে তিনি রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেন। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চীন সরকার নাগরিকদের বাড়িতে অবস্থানের পরামর্শ দেয়ার পর ল্যানিংয়ের আয় কমে গেছে। চীনা চন্দ্রবর্ষের ছুটি শেষে মানুষ কর্মস্থলে ফিরবেন; তখন বেশি গ্রাহক পাওয়া যাবে এমন আশায় মঙ্গলবারও রেস্তারাঁ চালু করেন তিনি। কিন্তু সেই সরু গলি এখন একেবারেই শান্ত-নীরব। ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বেইজিংয়ের পৌর কর্মকর্তারা চন্দ্রবর্ষের ছুটি বাড়িয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়ি থেকেই অফিসের কাজ করতে বলেছেন। একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে রাজধানী বেইজিংসহ অন্যান্য প্রদেশ এবং পৌরসভাকেও। বেইজিং পৌর সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতের জন্য জরুরি সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্যরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর মানে এ সময় পর্যন্ত গ্রাহক পাওয়া ল্যানিংয়ের জন্য কষ্টসাধ্য। কাঁদতে কাঁদতে বেইজিংয়ের সরু গলির এই নারী হোটেল মালিক বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে আসলেই আমার কোনো আয় নেই। আমি জানি না, এভাবে কতদিন বেঁচে থাকতে পারবো। আমি বাঁচতে চাই। কিডনি বিকলের শেষ ধাপে রয়েছেন ল্যানিং এবং চার বছর ধরে তিনি ডায়ালাইসিস করে আসছেন। সন্তানহীন এই নারীর বিয়ে হলেও স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছে। পুরোপুরি আত্মনির্ভরশীল তিনি। চিকিৎসার জন্য এখনও প্রত্যেক সপ্তাহে অন্তত তিনদিন হাসপাতালে যেতে হয় তাকে। চিকিৎসককে দেখানোর জন্য প্রতিদিন আয় না হলে তিনি বেশিদিন বাঁচতে পারবেন না। চীনের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাস মারাত্মক বিপর্যয় আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু ল্যানিংয়ের মতো দেশটির নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এটি আরও ধ্বংসাত্মক হতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য বলছে, চীনের কুরিয়ার এবং নির্মাণখাতের মতো এ ধরনের বেসরকারি খাতে প্রায় ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমিক কাজ করেন। অন্যরা স্বনির্ভর। স্থিতিশীল আয় অথবা চুক্তিভিত্তিক বীমা ব্যতীত যেকোনো অর্থনৈতিক মন্দায় প্রথম আঘাত আসে এই শ্রমিকদের ওপর। চীনের স্ট্রোল ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিকসের অধ্যাপক শাও অ্যান হুয়াং বলেন, প্রাদুর্ভাব রোধ এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাবের ব্যাপারে প্রচেষ্টা প্রবল করতে যে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়; তা ক্ষুদ্র অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের লড়াইকে কঠিন করে তোলে। জুন জিয়াংয়ের ঘটনাটি আবার আলাদা। জিয়াংয়ের ক্ষেত্রে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ শুধু তার জন্য নয় বরং তার পুরো পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। প্রাদুর্ভাবের বিস্তারের আগে তিনি উহানে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু চন্দ্রবর্ষের ছুটি উপলক্ষে তিনি হুনান প্রদেশে তার বাড়ি আসেন। তারপরই উহান অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এখন অর্থ সংকটে পড়ায় পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগার ও মেয়েকে স্কুলে পাঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। উহানের আকাশচুম্বী অট্টালিকা তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিলেন জিয়াং। এ আকাশচুম্বী ভবনের নির্মাণকাজ করতে পেরে গর্ববোধ করে তিনি বলেন, ‘আমি উহানের গ্রিনল্যান্ড সেন্টার তৈরিতে কাজ করেছি। সেখানকার নির্মাণ শ্রমিকরা দিনে অথবা ঘণ্টা হিসেবে পারিশ্রমিক পান। কাজ না করলে অর্থ মেলে না। জিয়াং বলেন, সত্যি আমি যদি সেখানে ফিরে যেতে পারতাম, তাহলে যেতাম। কারণ আমার মেয়েকে স্কুলে যাওয়া দরকার। হুনানে আমাকে কেউ কাজে নেবে না। এখানে সবাই আমাদের ভাইরাস হিসেবে দেখেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী জিয়াং। হুনানে কোনও কাজ না পেয়ে এভাবে আটকা থাকলে তার পুরো পরিবারকে অনাহারে থাকতে হবে। চীনের অর্থনীতির প্রান্তিক পর্যায়ে লাখ লাখ জীবন-যাপন করাদের মধ্যে আছেন এই ল্যানিং এবং জিয়াং। বিশ্লেষকরা প্রান্তিক পর্যায়ের এমন নিম্ন আয়ের মানুষকে সহায়তা দেয়ার জন্য দেশটির সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে অবরুদ্ধ থাকাকালীন তারা স্বাভাবিক খাবারের নিশ্চয়তা পান। সিনহুয়া ইউনিভার্সিটির ইকোনমি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক হংজে রেন বলেন, প্রাদুর্ভাবের কারণে যাতে দেশের স্বল্প আয়ের এবং বেকার মানুষ স্থিতিশীল জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন; সেটি সরকারের নিশ্চিত করা উচিত। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সম্ভাব্য সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয় সে ব্যাপারে সরকারের প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।চীনা ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত বছর দেশটির মানুষের গড় নিষ্পত্তিযোগ্য আয় ছিল মাথাপিছু ২২ হাজার ৮৩২ ইউয়ান (বাংলাদেশি দুই লাখ ৭৭ হাজার ১৩৩ টাকা)। কিন্তু দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের আয় এর নিচে।রেন বলেন, সরকার সংবেদনশীল গোষ্ঠীগুলোর ক্ষতি প্রশমনের জন্য যে ধরনের ব্যবস্থাই গ্রহণ করুক না কেন; তা দ্রুত করা উচিত। সরকারি নীতিমালা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও মানুষের জীবন তো থেমে থাকতে পারে না।৬ কোটি মানুষের স্থলবেষ্টিত হুবেই প্রদেশে গত বছরের ডিসেম্বরে নতুন করোনাভাইরাস ২০১৯-এনকভ প্রথমবারের মতো শনাক্ত করা হয়। তখন থেকে এটি ব্যাপক আকার ধারণ করে চীনের গ-ি পেরিয়ে ছড়িয়েছে বিশ্বের অন্তত ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৬৩ জন নিহত ও ২৮ হাজার মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লেও ভয়াবহ কোপ পড়েছে হুবেই প্রদেশে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে চীনসহ বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত এবং প্রাণহানি যত হয়েছে তার ৯৭ শতাংশ হুবেইতে এবং সব রোগীর ৬৭ শতাংশও সেখানকার। সূত্র : আলজাজিরা, ডেইলি মেইল।

বিশ্ব বাঁচাতে একটি প্রদেশকেই বলি দিচ্ছে চীন

ঢাকা অফিস ॥ সংগীত শিল্পী ঝ্যাং ইয়ারুর দাদি কোমায় থেকে গত সোমবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। হাসপাতালে ভর্তির জন্য গেলেও বারবার তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। জন চেন একজন স্নাতক শিক্ষার্থী। তার মায়ের জন্য সহায়তা পেতে পাগলের মতো ছুটে বেরিয়েছেন। তার মায়ের প্রচন্ড জ্বর। ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য উহানের হাসপাতালের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার মতো শক্তি তার নেই। শত শত রোগীর সারির সামনে ৩০ বছর বয়সী এক ক্লান্ত-বিধ্বস্ত চিকিৎসক বসে আছেন। গত দুই সপ্তাহে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি। চীনের হুবেই প্রদেশে প্রতিদিন এমন বিশৃঙ্খলা ও হতাশার হাজারও দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ৬ কোটি মানুষের স্থলবেষ্টিত হুবেই প্রদেশে গত বছরের ডিসেম্বরে নতুন করোনাভাইরাস ২০১৯-এনকভ প্রথমবারের মতো শনাক্ত করা হয়। তখন থেকে এটি ব্যাপক আকার ধারণ করে চীনের গ-ি পেরিয়ে ছড়িয়েছে বিশ্বের অন্তত ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৬৩ জন নিহত ও ২৮ হাজার মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লেও ভয়াবহ কোপ পড়েছে হুবেই প্রদেশে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে চীনসহ বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত এবং প্রাণহানি যত হয়েছে তার ৯৭ শতাংশ হুবেইতে এবং সব রোগীর ৬৭ শতাংশও সেখানকার। প্রতিদিন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানি আগের দিনের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দ্রুতগতিতে এর প্রকোপ সামলাতে গিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতাও প্রকাশ পাচ্ছে; এমনকি মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াও অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। পুরো বিশ্ব এবং দেশটির অন্যান্য অঞ্চলকে রক্ষায় পুরো একটি শহরকে বলি দেয়ার মতো পথে হেঁটেছে চীন। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে অবরুদ্ধ এ শহর এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ কোয়ারেন্টাইন পয়েন্ট। গাড়ি কারখানা এবং উদীয়মান অর্থনীতির জন্য পরিচিত উহানকে করোনাভাইরাসের মূল্য দিতে হচ্ছে বাসিন্দাদের প্রাণের বিনিময়ে। করোনাভাইরাসে মৃতদের ৩ দশমিক ১ শতাংশ এ শহরের; যখন চীনের অন্যান্য অঞ্চলে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার মাত্র ০ দশমিক ১৬ শতাংশ। চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের সাবেক মহাপরিচালক ইয়াং গংহুয়ান বলেন, প্রদেশটি বন্ধ করে না দেয়া হলে মেডিক্যাল সহায়তার জন্য দেশের অন্য প্রান্তে লোকজন ছুটে যেতো। আর এর ফলে পুরো দেশকেই মহামারিতে পড়তে হতো। তিনি বলেন, হুবেই এবং উহানে এই কোয়ারেন্টাইন মানুষের জীবনকে কষ্টের মুখে ফেললেও এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এটা একটি যুদ্ধের বিরুদ্ধে লড়াই- কিছুটা কঠিন হলেও এটি অবশ্যই করতে হবে। চীনের দ্বিতীয় একটি শহর উহান। সেখানকার বাসিন্দা এক কোটি ১০ লাখ। উন্নয়ন কর্মকা- চলমান থাকলেও দেশটির মেট্রোপলিটন শহর সাংহাই, বেইজিং অথবা গুয়াংঝুর মতো নয়। উহানে মানসম্পন্ন হাসপাতাল থাকলেও মানবসম্পদের ঘাটতি রয়েছে। গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে নতুন এই করোনাভাইরাস উহানের একটি সামুদ্রিক খাবার বিক্রির বাজার থেকে পশুর মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমণ ঘটায়। এর পর মানুষের মধ্যে ব্যাপকহারে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয় জানুয়ারির শুরুর দিকে; সেই সময় কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের জনসমাগম ঘটে এমন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়। চীনের নতুন চন্দ্রবর্ষ শুরুর দিন ২৪ জানুয়ারির আগে এটি পুরোপুরি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। উহান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক জেং ইয়ান বলেন, এটা হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাতের মতো হয়ে এসেছিল; যা মুহূর্তেই উহানকে নিরাপত্তাহীন করে তোলে। এমন নির্মম পরিস্থিতিতে উহানের বাসিন্দারা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। ২৩ বছর বয়সী কলেজ শিক্ষার্থী জন চেন বলেন, শুধুমাত্র করোনাভাইরাসের পরীক্ষার জন্যই মানুষকে গড়ে ৮ ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তার জ্বরাক্রান্ত মৃতপ্রায় মায়ের পরীক্ষা এখনও করাতে পারেননি। তিনি বলেন, প্রথমের দিকে হাসপাতালে কর্মী এবং কর্মকর্তাদের কাছে সহায়তা চেয়ে না পেয়ে আমি মুষড়ে পড়েছিলাম। তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। কিন্তু পরে আমি বুঝতে পেরেছি যে, এটা এমন নয় যে, তারা সহায়তা করতে চাচ্ছেন না। আসলে সব জায়গায়ই তো জনবলের ঘাটতি রয়েছে। আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। কারণ কেউ যদি চীনে বেড়ে উঠেন তাহলে জানতে পারবেন এখানকার সিস্টেম কীভাবে কাজ করে।

রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা  অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ ফেব্র“য়ারি শুক্রবার সকাল ৯ টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে এ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডঃ মোঃ শাহজাহান আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুষ্টিয়া জজ কোর্টের বিজ্ঞ জিপি অ্যাডভোকেট আ.স.ম আখতারুজ্জামান মাসুম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্ষিক ক্রীড়া উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ডঃ মোঃ শহিদুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া কমিটির সদস্য সচিব জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ মোঃ জহুরুল ইসলাম ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ট্রেজারার শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মোট ৬ টি ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এছাড়া  যেমন খুশি তেমন সাজো ইভেন্টে বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আকর্ষণ ছিল ভাইস-চ্যান্সেলর, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও শিক্ষকমন্ডলীর ম্যারাথন দৌড়। এই দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডঃ মোঃ শাহজাহান আলী। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো জহুরুল ইসলাম এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ডঃ মোঃ শহীদুর রহমান। যেমন খুশি তেমন সাজো ইভেন্টে প্রথম স্থান অধিকার করে বাংলা বিভাগের টোকাই অভিনয়কারী আল বুখারি অনিক, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ন্যায় বিচারের প্রতীকে অভিনয়কারী আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে যৌথভাবে মটু পাতলু ভূমিকায় অভিনয়কারী আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী নওশীন সায়রা ও ফাতেমা ইসলাম জয়া। ক্রীড়া ইভেন্ট পরিচালনা করেন  শেখ মুস্তাফিজুর রহমান, মোঃ মনিরুজ্জামান, জুলফিকার আলী, রেজাউর রহমান শাহীন, জাতীয় অ্যথলেট রুপালি খাতুনসহ রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী ও কর্মকর্তাবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইন বিভাগের প্রভাষক সাবিনা ইয়াসমিন ও আশিকুর রহমান। ক্রীড়াা ধারাভাষ্যে ছিলেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাব্বির সুমন ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এস এম হাসিবুর রশীদ এর নেতৃত্বে একদল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।

ভেড়ামারায় ১৫ কেজি গাঁজা সহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো, দৌলতপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকার মৃত ফরজ মন্ডলের পূত্র বিল্লাল হোসেন, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানার মেরুচর এলাকার আজিজুল হকের পূত্র রবিউল ও ভোলা জেলার লালমোহন থানার লেকগুটিয়া এলাকার মৃত আনিছুল হকের পুত্র নূরনবী। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে দৌলতপুর হতে আলুভর্তি পিক-আপ ভ্যানে বস্তার মধ্যে মাদকদ্রব্য বহন করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী। এই সংবাদের ভিত্তিতে ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আল বেরুনী ও অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজালাল এর নেতৃত্বে এসআই আবুল কালাম আজাদ সঙ্গীয় ফোর্স সহ উপজেলার হাওয়াখালি নামক স্থানে অবস্থান নেয়। এরপর পিকভ্যানের তল্লাশি চালিয়ে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসময় আটক করা হয় তিন মাদক ব্যবসায়ীকে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সভা ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ ফেব্র“য়ারি ২০২০ তারিখ শুক্রবার বেলা ১১ টায় দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির অডিটোরিয়ামে এ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল গণি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পাঠ করেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কামাল আহম্মেদ করিম। আয়-ব্যয় উপস্থাপন করেন জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার কোষাধ্যক্ষ উত্তম কুমার কর্মকার। সভা পরিচালনা করেন জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র রায়। বক্তব্য রাখেন জুয়েলার্স সমিতি ভেড়ামারা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, নিউ গিনি হাউস এর প্রোপাইটর আলহাজ্ব আমান উল্লাহ খান (বাবুল), সদস্য এস এম আতিকুর রশিদ টিপু, মতিউর রহমান মতি, উত্তম কুমার ঘোষ প্রমুখ। বক্তারা স্বর্ণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। এছাড়া সভায় আলোচনা শেষে মাসিক চাঁদা ১৫০/= টাকা, হাসান জুয়েলার্স এর প্রোঃ মোস্তফা কামাল মারুফ এর সদস্য পদ বাতিল সহ  বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি বিজন কুমার কর্মকার, সহ-সভাপতি নির্মল কুমার দত্ত, কানাই কুমার কর্মকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র কর্মকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন দত্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান লোটন, প্রচার সম্পাদক প্রবীর কর্মকার, দপ্তর সম্পাদক অলোক কুমার ঘোষ, কার্য নির্বাহী সদস্য শ্যামল কুমার কর্মকার, প্রতাপ চন্দ্র ঘোষ, বিপুল কুমার শিকদার, গোবিন্দ কুমার কর্মকার, নাসির উদ্দিন আজিম, অফিস সহকারী মিহির চক্রবর্তী সহ  জেলা শাখার সাধারণ সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শুরুতে সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন সদস্য মতিয়ার মহমান। পবিত্র শ্রীশ্রী গীতা থেকে পাঠ করেন জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি বিজন কুমার কর্মকার। এরপর শোক প্রস্তাব করে প্রয়াত সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে আপ্যায়ন শেষে উপহার প্রদান করা হয়।

অর্থবিত্ত দেখে আওয়ামী লীগে কোন পদ পদবী দেয়া যাবে না – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কারো অর্থবিত্ত দেখে আওয়ামী লীগে কোন পদ পদবী দেয়া যাবে না। ‘অমুকের পয়সা আছে, দল চালাতে সুবিধা হবে’ এই বিবেচনায় কাউকে পদ দেয়া যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের দলের রাজনীতি ও আদর্শ নয়। দল ও আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা এবং নেত্রীর প্রতি একাগ্রতাই হবে দলীয় পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা।’ হাছান মাহমুদ গতকাল আওয়ামী লীগ পাবনা জেলা শাখার তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন। পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের আব্দুস সাত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় সভাপতিত্ব করেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল। সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুখ প্রিন্স এমপি’র পরিচালনায় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। যারা সুবিধাভোগের জন্য দল করছেন তাদের চিহ্নিত করে পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরপর তিনবার ক্ষমতায় থাকার কারণে দলের মধ্যে অনেক সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। যারা একসময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করেছে এবং নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেছে তারা এখন এই সংগঠনের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। এই কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি সমস্ত প্রতিকুলতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর বঙ্গবন্ধুহীন আওয়ামী লীগকে মায়ের মমতায়-বোনের ¯েœহে লালন করে বারবার মৃত্যু উপত্যক্যা থেকে ফিরে এসেছেন। আরো প্রত্যয়ী হয়ে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভোট এবং ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের কর্মীরা কখনো দলের সাথে বেঈমানি করেনি। তৃণমূল সবসময় দল ও নেতার সাথে ঐক্যবদ্ধ থেকেছে, বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করেছে। সেই কারণে আওয়ামী লীগ আজ দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং পরপর চারবার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। হাছান মাহমুদ বলেন ,‘দলের কারণে সরকার, সরকারের কারণে দল নয়। আমাদের মূল ঠিকানা দল। নির্বাচিত এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান পর্যন্ত সবার মূল ঠিকানা হচ্ছে দল। সবাই এখন দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। দলের কারণে সবাই আমরা পদের মধ্যে আছি। সুতরাং দায়িত্ব পালন করার সময় দলের নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দিতে হবে।’ দলের তরুণ নেতা-কর্মীদের বিনয়ী হবার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বলেন, ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ বদলে গেছে। যেই ছেলে দশবছর আগে বিদেশ গেছে, সে দেশে এসে তার শহর চিনতে পারছেনা, গ্রামও চিনে না। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা কেউ যেন উদ্যত আচরণ না করি। কারো উদ্যত আচরণ ও অপকর্মের দায় দল কখনো নেবেনা। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, বেগম আখতার জাহান উপস্থিত ছিলেন।

যে কোনো সময় আ’লীগ সরকার ভূতলে শায়িত হবে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ যে কোনো সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ভূতলে শায়িত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং সাজা প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুররু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার কারাভোগের আজ ৭৩০ দিন। এই মহীয়সী নারী বিনা অপরাধে মিথ্যা মামলায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাজীবন অতিবাহিত করছেন। তিনি বলেন, হীরক রাজার দেশের মতোই বাংলাদেশের মন্ত্রী-নেতাদের উদ্ভট, অসামঞ্জস্য ও লাগামহীন কথাবার্তা এবং আচরণে দেশবাসী এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ‘অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে বিচার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কব্জায় নিয়ে দেশে নব্য বাকশালী শাসন কায়েম করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে দেশকে এক ভয়াল নগরী বানানো হয়েছে। আওয়ামী প্রতিহিংসার রাজনীতির বেড়াজালে দেশ ও দেশের মানুষ এখন কাতরাচ্ছে।’ বিএনপির এ নেতা বলেন, বিনাভোটের সরকার জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে এবং গণতন্ত্রকে তাদের দুশমন হিসেবে গণ্য করে দেশ থেকে বিএনপিসহ সব বিরোধী দল ও মতকে উধাও করার মাধ্যমে একচ্ছত্র ও এক ব্যক্তির শাসন বলবৎ রাখতে চায়। ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে চাইÑ আপনি যত ভয়ঙ্কর ডিক্টেটরই হন না কেন, জনগণের পুঞ্জীভূত ক্রোধ এখন বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে আছে। যে কোনো সময় আপনার সরকার ভূতলে শায়িত হবে।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, জাসাস কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রিপন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা আহসান উদ্দিন খান শিপন, শেখ আব্দুল হালিম খোকন, মেহবুব মাসুম শান্ত, কেএম রেজাউল করিম রাজু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ওমর ফারুক কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নেওয়াজ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রনিসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৭১৭ পণ্যের আমদানি শুল্ক অর্ধেক করছে চীন

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ১ হাজার ৭১৭ পণ্যের শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা জানিয়েছে চীন। চীনা কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং বাকিগুলোর শুল্ক পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হবে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ১৪ ফেব্র“য়ারি থেকে। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন দুই দেশই বহুদিন বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গেছে। একে অপরের আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের মধ্য দিয়ে চলেছে এ বাণিজ্যযুদ্ধ। গত মাসে দু’দেশ প্রথম ধাপের একটি বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছার পর বাণিজ্যযুদ্ধে শান্তির আবহ সৃষ্টি হয়। এ চুক্তিতে সাড়া দিয়েই চীন মার্কিন পণ্যে শুল্ক কমানোর ওই ঘোষণা দিল বলে জানিয়েছে বিবিসি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনে মৃত্যু বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিও সংকটে পড়েছে। দেশজুড়ে কলকারখানাগুলো বন্ধ রয়েছে এবং উৎপাদন খাতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চীন মার্কিন পণ্যে শুল্ক কমানোর যে ঘোষণা দিয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ৭ হাজার ৫শ’ কোটি ডলারের পণ্য কম শুল্কে চীনে যাবে। যদিও এখনো ৩ হাজার ৫শ’ কোটি ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর এখনো রয়ে গেছে বাড়তি শুল্ক। তবে চীন মার্কিন পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক কমালে যুক্তরাষ্ট্রও চুক্তির আওতায় চীনের কিছু পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমাবে। শুল্ক কমানোর এ পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বণিজ্যযুদ্ধ অবসানের পথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসাবেই দেখা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে চীনের অর্থমন্ত্রণালয় বলেছে, চীন-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতি ত্বরান্বিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

দেশের এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে উন্নয়ন হয়নি – নাসিম

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেল হত্যায় জড়িতদের বিচার করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। তিনি দেশ থেকে জঙ্গি দমন করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আলোকিত বাংলাদেশ হয়েছে। তার সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং সাফল্যের কারণে দেশ দ্রুত এগিয়ে চলছে। দেশের এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে কোনো উন্নয়ন হয়নি। গ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকাতেও সে উন্নয়নের ছোঁয়া চোখে পড়ার মতো। গতকাল শুক্রবার পাবনায় সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের আব্দুস সাত্তার মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নাসিম বলেন, যতই মিটিং-মিছিল করেন তাতে লাভ হবে না। জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির এখন মাজা ভেঙে গেছে। তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। তাদের ব্যর্থতায় ঢাকা সিটি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এখন তারা নানাভাবে অপপ্রচার ও সমালোচনা করছে। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, সব কিছুতে ভুল ধরা বিএনপির বদ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থার ব্যাংকে থাকা উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার বিষয়ে সংসদে বিল পাস নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব যে কথা বলেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই। সব কাজে ভুল ধরা যেন তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আশা করি তারা এই বদ অভ্যাস ত্যাগ করবেন। ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সিটি নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে বিএনপি বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।, সেই সঙ্গে নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ বলায় জনগণের মাঝে ভীতি ও আশঙ্কা ছিল। যার কারণে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। আসলে বিএনপি অংকে ভুল করেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লালের সভাপতিত্বে সভায় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মকবুল হোসেন, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলিসহ জেলা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলার প্রবীণ নেতা এম সাইদুল হক চুন্নু, সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু, সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চাটমোহর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মাস্টার, বাবু চন্দন কুমার চক্রবর্তী, বেড়া পৌর মেয়র আলহাজ আব্দুল বাতেন, বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট তসলিম হাসান সুমন, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু, যুগ্ম সম্পাদক আবু ইসহাক শামিম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মোশারোফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলী মর্তজা বিশ্বাস সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক সিবলী সাদিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তথ্যমন্ত্রী পাবনা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, মূলধারার নিউজপ্রিন্ট ও টিভি চ্যানেলগুলোর উন্নয়নসহ মান বৃদ্ধিতেই ইউটিউবসহ অনলাইন পোর্টালগুলোকে করের আওতায় আনা হবে। ইতোমেধ্য বাইরে যেসব বিজ্ঞাপন যেত তা বন্ধ করা হয়েছে। এ সময় বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর সভাপতি ও স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক শিবজিত নাগ, সিনিয়র সহসভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সরকার নারীদের উন্নয়নে প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করছে – শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার নারীদের উন্নয়নে প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করছে। যার কারণে নারীরা এখন স্বাধীনভাবে সব পেশায় কাজ করতে পারছেন। নারীর অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে এবং এর গতি আরো বাড়াতে হলে বাধাগুলো দূর করতে হবে।’ শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৮ দিন ব্যাপী ‘উদ্যমী নারী এসএমই মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘সরকার ব্যাংকগুলোর কাছে সুনির্দিষ্ট করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য টাকা দিয়েছে। কিন্তু এই টাকা নেওয়ার সুযোগ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই অনেক নারী উদ্যোক্তা পান না।’ নারীদের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে তিনি সংশি¬ষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান মন্ত্রী। চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহাঙ্গীর আখন সেলিমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান ও দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ, পরিকল্পনা বিভাগ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল আমিন ও চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান প্রমুখ। চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং অপ্সরা ইন্টারন্যাশনাল এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ মেলায় ২৫টি স্টল স্থান পেয়েছে। মেলায় চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার নারী উদ্যোক্তদের তৈরি পোশাক, জামদানী শাড়ি, নকশী কাঁথা, প্রসাদন, হস্তশিল্প সামগ্রী, মৎস্য ও কৃষি শিল্পসহ বিভিন্ন প্রকার পণ্য সামগ্রীর বিপুল সমাহার থাকবে। উদ্যমী নারীগণ এসব পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করবেন। এছাড়াও থাকবে ৮ দিনব্যাপী মেলায় একদিন থাকবে সেমিনার। এতে দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। প্রতিদিনই থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলা চলবে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত।

ভেড়ামারায় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ২১ তম বর্ষে পর্দাপন অনুষ্ঠান

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ একুশ মানে মাথা নত না করা, একুশ মানে এগিয়ে চলা’র দৃপ্ত শপথ শ্লোগানে উৎযাপিত হলো দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ২১ তম বর্ষে পর্দাপন অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার যুগান্তর’র পাঠক ফোরাম স্বজন সমাবেশ বৃহস্পতিবার বিকালে আয়োজন করে আলোচনা সভা ও কেক কাটা উৎসব’র। স্বজন সমাবেশের আহবায়ক বিজেএম ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ আসলাম উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রেসকিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ জামাল’র সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত উৎসবে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ভেড়ামারা প্রতিনিধি রেজাউল করিম। উৎসবে যোগ দেন, ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিঠু, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ, ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানা, ভেড়ামারা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ্জালাল, উপজেলা জাসদের সভাপতি এমদাদুল ইসলাম আতা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজে সেবক রুবেল আটো’র স্বত্তাধিকারী গোলাম মোস্তফা রুবেল, সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ডাঃ আমিরুল ইসলাম মান্নান, রেল বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবু দাউদ, দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. এম জি মন্টু, দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, যুগান্তরের দর্শনা প্রতিনিধি একরামুল ইসলাম পিপুল, ধরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আ স ম আব্দুর কুদ্দুস, দৌলতপুর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম পাপ্পু, ভেড়ামারা হাজী কল্যান পরিষদের সাধারন সম্পাদক কৃষিবিদ আলহাজ্ব জৈমুদ্দীন আহম্মেদ, অধ্যাপক ফারুক হোসেন, তাহের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, এটিএন নিউজ’র কুষ্টিয়া প্রতিনিধি অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন বাবু, দৈনিক নয়াদিগন্ত ও ১২ মাইল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাসদ করিম, খোলা কাগজ ও দৈনিক আন্দোলনের বাজারের প্রতিনিধি এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, কুষ্টিয়ার মুখ’র সহ সম্পাদক শাহীন আলম লিটন, দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার মাসুদ রানা, দৈনিক দেশের বানী পত্রিকার জাহিদ হাসান প্রমুখ। সত্যের সন্ধানে নির্ভীক দৈনিক যুগান্তর’র ২১ তম বর্ষে পর্দাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তারা বলেন, বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে দৈনিক যুগান্তর গন মানুষের আস্থার পত্রিকায় পরিনত হয়েছে। যুগান্তর সব সময় কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলে এসেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা ও সমৃদ্ধিও কথা তুলে ধরেছে যুগান্তর। দেশের ক্রান্তিলগ্নে হাল ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে কাঙ্খিত লক্ষ্যে। বক্তারা যুগান্তরের এ অগ্রযাত্রা আরো তরান্বিত হউক এ প্রত্যাশা করে যুগান্তর পত্রিকার ভুয়সী প্রশংসা করেন।

ভারতের লোকসভায় বিজেপি-কংগ্রেস এমপিদের হাতাহাতি

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে বিধানসভার ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের জেরে বিজেপি ও কংগ্রেসের সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় লোকসভা সোমবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন স্পিকার ওম বিড়ালা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি বিধানসভায় নির্বাচনের আগে ভোটের প্রচারে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ছয় মাস পর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ডান্ডাপেটা করবে বেকার যুবসমাজ’। শুক্রবার লোকসভায় মেডিকেল কলেজ নিয়ে একটি প্রশ্ন করে কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী। সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধীকে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেন, আমাকে ক্ষমা করবেন। রাহুল গান্ধীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমি তার নিন্দা করতে চাই। দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার তীব্র নিন্দা করছি। স্পিকার ওম বিড়লা হর্ষ বর্ধনকে ওই প্রসঙ্গ ছেড়ে রাহুলের প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাতেও থামেননি। এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কংগ্রেস সংসদ সদস্যরা। স্পিকারের চেয়ারের সামনে গিয়ে তুমুল হই হট্টগোল-বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। হর্ষ বর্ধনের বিরুদ্ধে চলতে থাকে স্লোগান। তার মধ্যেই তামিলনাড়ুর কংগ্রেস সংসদ সদস্য মানিকরাম ঠাকুর সরকার দলের বেঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। দ্বিতীয় সারিতে বক্তব্য রাখছিলেন হর্ষ বর্ধন। সামনের সারি টপকে তার কাছে গিয়ে শাসাতে থাকেন। তখন বিজেপি সংসদ সদস্যরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে আনেন। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই সময় এক বিজেপি সংসদ সদস্য ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং তাকে (মানিকরাম ঠাকুর) পেছন থেকে ধরে বাধা দেন। আর এক কংগ্রেস সংসদ সদস্য হিবি ইডেনও সেখানে আসেন। পরবর্তীতে দুই দলের সংসদ সদস্যদের অনেকেই তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই হর্ষ বর্ধন তার বিবৃতি পড়তে থাকেন। তিনি বলেন,‘‘ রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, ‘ছয়মাস পরে দেশের যুবকরা নরেন্দ্র মোদিকে লাঠি মেরে দেশ থেকে বের করে দেবে’- এমন মন্তব্যের কড়া নিন্দা হওয়া উচিত’’। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সাংসদরা আমার আসনের কাছে চলে আসেন। আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেন এবং হাত থেকে নথিপত্র কেড়ে নেন। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সরকার দলের এমপিদের বিরুদ্ধেই বিশৃঙ্খলা অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস এমপি শশী তারু। এদিকে রাহুল গান্ধীও সংসদের বাইরে বলেন, সংসদের বাইরে আমি কোন মন্তব্য করেছি, সেটা টেনে এনে অধিবেশনের মধ্যে মন্তব্য করা অসংসদীয়। আসলে বিজেপি আসল সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে। আমার উত্তরও দিতে পারেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী।