ট্রাফিক আইন রক্ষায় অনন্য নজির বনেটে ঝুলে ২ কিমি. গেলেন পুলিশ

ঢাকা অফিস ॥ ট্রাফিক আইন রক্ষা করতে অনন্য নজির গড়লেন ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য। গাড়ি থামাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি নিজেই গাড়ির সামনে ঝাঁপ দেন। গাড়িটির বনেটের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েন তিনি। এভাবে তাকে নিয়ে যায় ২ কিলোমিটার পথ। আর এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজধানী দিলি¬তে। ঘটনাটি ঘটে গত বছরের নভেম্বর মাসে নাঙ্গলোই চকে। সম্প্রতি ওই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দিলি¬ ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য আইন লঙ্ঘনকারী একটি গাড়িকে থামানোর চেষ্টা করেন। সেটি না থামায় তার সামনে ঝাঁপ দেন সুনীল নামের এক ট্রাফিক পুলিশ। এ সময় দ্রুত গাড়িটি চলতে শুরু করে। ফলে গাড়িটির বনেটের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েন ট্রাফিক পুলিশের ওই সদস্য। আর এভাবেই গাড়িটির বনেটে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়েই প্রায় ২ কিলোমিটার পথ ছুটে চলে গাড়িটি। ঘটনাটি গত বছরের নভেম্বর মাসে ঘটলেও সম্প্রতি এর ভিডিও ভাইরাল হয়। দিলি¬ ট্রাফিক পুলিশের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, পুলিশ দিলি¬র নাঙ্গলোই চক এলাকায় গাড়ির বৈধ কাগজপত্র যাচাই করছিল। তখন অন্য একটি রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি চালিয়ে আসেন এক ব্যক্তি। ট্রাফিক পুলিশ চালককে গাড়িটি থামতে বললে সেটির গতি ধীর হয়। কিন্তু সাময়িকভাবে গাড়িটির চলার গতি একটু ধীর করলেও ট্রাফিক পুলিশদের বোকা বানিয়ে আবার গতি দ্রুত করে পালানোর চেষ্টা করে চালক। এ সময় চালককে আটকাতে সুনীল নামের এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মী ওই গাড়িটির বনেটের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ট্রাফিক পুলিশকে গাড়ির বনেটে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেও গাড়ি থামানোর পরিবর্তে গতি বাড়িয়ে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ টেনে নিয়ে যায় চালক। আর গাড়ির চালকের পাশে বসে থাকা সহযাত্রী নিজের মোবাইল ফোনে গোটা ঘটনাটির ভিডিও করেন। ভিডিওতে দেখা যায় যে কী বিপজ্জনকভাবে গাড়ির বনেটে ঝুলছেন ওই পুলিশ কর্মী। এত কিছুর পরও গাড়িটির চালককে ধরতে পারেনি পুলিশ। দুই কিলোমিটার রাস্তা টেনে নিয়ে ওই পুলিশ কর্মীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় গাড়িটি। এই ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত দোষীকে খুঁজে বের করে কোনো শাস্তি দেয়া সম্ভব হয়নি বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গাংনীতে মুক্তিযোদ্ধা তারিকুজ্জামানের ইন্তেকাল

গাংনী প্রতিনিধি ॥ গাংনীতে বীরমুক্তিযোদ্ধা তারিকুজ্জামান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অসুস্থ জনিত কারণে গাংনী উপজেলার বাদিয়াপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান। গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুল হান্নান জানান মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে নিয়ে বুধবার উপজেলা শহরে মানববন্ধন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা তারিকুজ্জামান ওই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে অসুস্থ হয়েছিলেন। পরে কিছুটা সুস্থ্যতাবোধ হলে তাকে বাড়ি পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে পুনরায় অসুস্থ হয়ে মারা যান।

ট্রাম্পের আগেই তার ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’র মৃত্যু ঘটবে – খামেনি

ঢাকা অফিস ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগেই তার ঘোষিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’র মৃত্যু ঘটবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল¬াহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জাতি ও সংগঠনগুলোর সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিরোধ জিহাদ এবং তাতে মুসলিম বিশ্বের সমর্থনই হচ্ছে এই পরিকল্পনা মোকাবেলার একমাত্র পথ । বুধবার তেহরানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার মানুষের এক সমাবেশে খামেনি এসব কথা বলেন। খবর পার্সটুডের। ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ প্রকাশের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মার্কিনীরা ফিলিস্তিন বিরোধী এই পরিকল্পনার একটি বড় নাম দিয়ে এখন ভাবছে যে তাদের পরিকল্পনা সফল হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা বোকামিপূর্ণ ও শয়তানি কাজ করেছে এবং ঘটনার শুরুতেই তারা ক্ষতির শিকার হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতারণার প্রকাশ্য উদাহরণ হিসেবে উলে¬খ করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মার্কিন সরকার ইহুদিবাদীদের সঙ্গে এমন কিছু নিয়ে লেনদেন করছে যা তাদের নিজেদের নয়। খামেনি আরও বলেন, সাম্রাজ্যবাদীরা অস্ত্র ও অর্থের ওপর নির্ভর করে তাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠনগুলো এর মোকাবেলা করবে এবং প্রতিরোধ সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ইরান এসব সংগঠনের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতাকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করে। এ কারণে সম্ভাব্য সব উপায়ে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে এবং এটা ইরানের ইসলামি সরকার ব্যবস্থা ও জনগণেরই দাবি।

পশ্চিম তীরে বিক্ষোভে ইসরায়েলের গুলিতে ফিলিস্তিনি নিহত

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েলের গুলিতে ১৭ বছরের এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসা কর্মকর্তারা বুধবার একথা জানিয়েছেন। নিহত ওই ফিলিস্তিনি কিশোরের নাম মোহাম্মদ আল-হাদাদ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে তার শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশের পর ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতায় এই প্রথম এক ফিলিস্তিনির মৃত্যু ঘটল। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাটি ইসরায়েল ঘেঁষা। এ পরিকল্পনায় অধিকৃত অঞ্চলের ইহুদি বসতি বাদ দিয়ে এবং প্রায় পুরোপুরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের অধীনে একটি অসামরিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ার কথা বলা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরাসহ আরব লিগ এবং ওআইসি এরই মধ্যে পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে বিক্ষোভ হয়।এতেই অংশ নিয়ে ইসরাইলি সেনার ছোড়া গুলিতে নিহত হন ফিলিস্তিনি কিশোর আল-হাদাদ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, ফিলিস্তিনিদের ছোড়া ককটেইলের জবাবেই তারা পাল্টা গুলি ছুড়েছে। ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগে ফিলিস্তিনিরা ট্রাম্প প্রশাসনকে পরিহার করে চলছে। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনাটি ফিলিস্তিনিদের দাবি এবং অধিকার মেটাতে সহায়ক নয় বলেই অভিযোগ তাদের।

সাব-রেজিস্ট্রারদের আইনমন্ত্রী

সেবা দিতে কার্পণ্য করবেন না

ঢাকা অফিস ॥ জনগণকে হয়রানি না করে ভালোভাবে সেবা দিলেই সাব-রেজিস্ট্রারদের ইমেজ সংকট দূর হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। জনগণকে সেবা দিতে কার্পণ্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নিবন্ধন অধিদফতরের সাবেক মহাপরিদর্শক খান মো. আব্দুল মান্নানের বিদায় অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নিবন্ধন পরিদফতরকে অধিদফতরে উন্নীত করা হয়েছে। বালাম বই সংকট দূর করা হয়েছে। নকল নবীশদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারের শূন্য পদগুলো পূরণ এবং দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এখন শুধু জনগণকে সেবা দেয়ার পালা। তিনি বলেন, নিবন্ধন অধিদফতরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করলেই জনগণ প্রকৃত সেবা পাবে এবং নিবন্ধন অধিদফতরের মর্যাদা বাড়বে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আইন সচিব মো. গোলম সারওয়ার সব সাব-রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব সাব-রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারকে অবশ্যই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। এ সময় ছুটি ছাড়া কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। নিবন্ধন অধিদফতরের নতুন মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নিবন্ধন পরিদফতরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদায়ী মহাপরিদর্শকের কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে যুগ্ম-সচিব বিকাশ কুমার সাহা ও উম্মে কুলসুম, সলিসিটর রুনা নাহিদ আকতারসহ আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নিবন্ধন অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

করোনাভাইরাস

আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে বিপর্যয়

ঢাকা অফিস ॥ চীনে প্রাণঘাতী নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য নৌপথে পরিবহন হয়। এক্ষেত্রে বিশ্বের ১০টি ব্যস্ততম সমুদ্র বন্দরের সাতটিই রয়েছে চীনে। তার কাছাকাছি সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও একটি করে বড় বন্দর আছে। চীন থেকে বিশ্বজুড়ে পণ্য বহনকারী শিপিং সংস্থাগুলিকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা সিএনএন বলছে, ধমনীর মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে মানুষের যে অবস্থা হয় নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যেও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাস ছড়ানো রোধে তারা নৌযান চলাচল কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে তাদের পরিষেবার চাহিদা কমে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে শিপিং কোম্পানিগুলোর আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক শিপিং অ্যাসোসিয়েশন বিআইএমকোর প্রধান বিশ্লেষক পিটার স্যান্ড বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের সংযোগস্থল চীনের বন্দরগুলোর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ায় শিপিং ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ আন্তঃএশীয় ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। “এর ফলে অনেক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কন্টেইনারবোঝাই পণ্য পরিবহনের চাহিদা সংকুচিত হয়ে পড়বে।” গাড়ি, যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে পোশাকসহ অন্যান্য ভোক্তাপণ্য পর্যন্ত সব কিছুই কন্টেইনারে পরিবহন করা হয়। কন্টেইনার শিপিং বিপর্যস্ত হলে এর প্রভাব চীন ছাড়িয়ে বহু দূর গড়াবে। কারণ দেশটি কারখানা বন্ধ রেখে, শ্রমিকদের আবদ্ধ করে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলার চেষ্টা করছে। এই স্বাস্থ্য সংকট যত দিন স্থায়ী হবে, বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন তত বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। করোনাভাইরাসে ৫৬০ জনের বেশি মানুষ মরেছে, কমপক্ষে ২৮ হাজার সংক্রমিত হয়েছে, যা মূলত চীনেই ছড়িয়েছে, যেখানকার শহরগুলোতে প্রায় ছয় কোটি মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে আছে। গাড়ি নির্মাতা হুন্দাই এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে যন্ত্রপাতি সরবরাহে বিপর্যয় উত্পাদন স্থগিতে বাধ্য করেছে বলে সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

ভাসমান কোয়ারান্টিন

নৌপথে পণ্য পরিবহণকারী আন্তর্জাতিক সমিতির মহাসচিব গাই প্লাটেন বলেন, পণ্য উঠা-নামা কমে যাওয়ায় কিছু পণ্যবাহী জাহাজ চীনের বন্দরে ঢুকতে পারছে না। অনেক জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত কাজের জন্য শ্রমিকদের অপেক্ষায় ডকে আটকে আছে। “আরও অনেক জাহাজ সাগরে ‘ভাসমান কোয়ারান্টিন এলাকায়’ অলস দাঁড়িয়ে আছে। কারণ চীনা বন্দরে ভেড়া এসব জাহাজের ক্রুদের ভাইরাসমুক্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলি তাদের নিজেদের বন্দরে ঢুকতে দিচ্ছে না।” দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ সাগরে অলস পড়ে থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন এমন একজন  ক্রুর খবর প্ল্যাটেন নিজেই দিয়েছেন। মার্স্ক, এমএসসি মেডিটেরানিয়ান শিপিং, হাপাগ-লয়েড ও সিএমএ-সিজিএমের মতো বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো বলছে, চীন ও হংকং হয়ে ভারত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম আফ্রিকার পথে চলাচলকারী নৌযানের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। এসব জাহাজ মালিকরা বলছেন, চীনে বার্ষিক ছুটির মৌসুমে এমনিতেই পণ্য পরিবহনের চাহিদা কমে যায়। তার মধ্যে করোনাভাইরাসের কারণে চীনা কারখানাগুলিকে অলস রাখায় জাহাজের চাহিদা কমে গেছে। একারণে তারাও জাহাজ চলাচল কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। প্রায় দুই হাজার জাহাজ মালিক, অপারেটর, ম্যানেজার, দালাল ও এজেন্ট নিয়ে গঠিত বিআইএমকোর সদস্যদের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে প্ল্যাটেন বলেন, কয়লা, অপরিশোধিত তেল ও লোহার মতো সমুদ্রপথে পরিবহনযোগ্য পণ্যগুলোর জন্য চীনা ক্রেতাদের কোনো চাহিদা নেই বললেই চলে। চাহিদা কমায় দাম পড়ে গিয়ে তেলের বাজার মন্দা পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। চীন থেকে পণ্য আসতে বিলম্বের বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করে দিয়ে জাহাজের বদলে বিমানে, এমনকি সম্ভব হলে ভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আনার পরামর্শ দিয়েছে লজিস্টিকস কোম্পানি ফ্রেইটোস। ফ্রেইটোস বলছে, সাধারণত চান্দ্র নববর্ষের পর জমে থাকা যেসব চালান আসে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বাজে অবস্থায় পড়বে। সমুদ্র পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যাবে এবং অনেক বিলম্ব হবে।

বিপর্যয় বিমানে পণ্য পরিবহনেও

শুধু জাহাজে পণ্য পরিবহনই নয়, আকাশপথে পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হয়েছে। ব্রিটিশ কোম্পানি আইএজি কার্গো চীনের মেইনল্যান্ডের সঙ্গে অন্তত একমাসের কার্গো ফ্লাইট সোমবার বাতিল ঘোষণা করেছে বলে সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। জামান কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএল চীনকে কেন্দ্র করে ‘আকাশপথে, ট্রাক ও রেলে পণ্য পরিবহনে মারাত্মক বিপর্যয়ের’ খবর দিয়েছে। এর ফলে চীনজুড়ে গাড়ি, ওষুধ ও মেডিকেল পণ্য ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের মতো শিল্পগুলোতে সরবরাহ ব্যবস্থা ও উৎপাদনের বড় ধরনের প্রভাব’ পড়বে বলে ডিএইচএলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল উহান রাজ্যে পণ্য পৌঁছানো আপাতত বন্ধ রেখেছে ডিএইচএল। এছাড়া অদূর ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করছে কোম্পানিটি। চীনে পণ্য আনা-নেওয়া অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ইউপিএস ও ফেডেক্স। তবে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া সেবার জন্য চাহিদা কমে গেছে বলে ইউপিএস জানিয়েছে।

 

পৃথিবীর প্রথম ইউটিউব গ্রাম কুষ্টিয়ার শিমুলিয়া

গ্রামীণ জীবন তুলে ধরা হচ্ছে বিশ্ব দরবারে

সুজন কর্মকার ॥ পৃথিবীর প্রথম ইউটিউব গ্রাম, তাও আবার আমাদের বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া নামক গ্রামে। এই গ্রামের লিটন আলী খানসহ আরো ২৫/৩০ জন মিলে একটা ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করেন স্থানীয় দেলোয়ার মাস্টারের নেতৃত্বে। চ্যানেলটির নাম ‘এরাউন্ডমি বিডি’। গ্রামীণ জীবন, মূলত রান্না-বান্নাকে তাঁরা তুলে ধরছেন বিশ্ব দরবারে। শত শত মানুষের জন্য রান্না করা হয়, আর এই রান্নার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শৈল্পিকভাবে তুলে ধরা হয় ভিডিওতে। এখানে নাই কোন উপস্থাপনা, নাই কোন ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক। গ্রামের মানুষের সহজাত কথা বার্তাগুলোই ন্যাচারাল সাউন্ডসহ হুবহু তুলে ধরা হয়। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ধারণা করা ইউটিউবের এই চ্যানেলের প্রতিটি ভিডিও’র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপভোগ করে উৎসুক দর্শক। অনুভব করেন যেন নিজের চোখের সামনেই বড় কোন উৎসবের রান্না চলছে। বর্তমানে ২৩ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ এরাউন্ড মি বিডি’র সাবস্ক্রাইবার। রান্নার পর তা গ্রামের শত শত মানুষকে বিনা খরচে খাওয়ানো হয়। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা মাঠে বসে উৎসবের আমেজে যে খাবার খাচ্ছে, সেই দৃশ্যও অতিমনোরম। ভিডিওগুলো দেখা শুরু করলে যেন চোখ ফেরানো যায় না। শুধু তাইনা, গ্রামীণ জিনিসপত্র দিয়ে খোকসার শিমুলিয়া গ্রামে তৈরি করা হয়েছে ‘থিমপার্ক’। এই পার্ক কি ভাবে বানানো হয়েছে, তার উপরেও আছে ভিডিও। সহজ, সরল গ্রামীণ জীবনে আনন্দ দিতে গেলে নিজেদের চেষ্টায় যতটা করা সম্ভব, সবই যেন করা হচ্ছে এই ইউটিউব গ্রামে। পৃথিবী বিখ্যাত একজন ফুডরিভিওয়ার আছেন, সানি। তাঁর চ্যানেলের  নাম, ‘বেস্ট এভার ফুড রিভিও শো’। বছর খানেক আগে তিনি ইউটিউবে খুঁজে পান এই এরাউন্ড মি বিডিকে। সুদূর আমেরিকা থেকে তিনি আসেন বাংলাদেশে তাদের সাথে দেখা করার জন্য। সানি’র আগমন উপলক্ষে মহিষ জবাই করে ৪ হাজার মানুষ খাওয়ানো হয়। সাথে ছিলো বাংলাদেশের বিখ্যাত ফুড রিভিওয়ার আদনান ফারুক (টেলিভিশন নাটকের নায়ক হিলে¬াল) ও আরেক বিখ্যাত ফুডরিভিওয়ার রাফসান দ্যা ছোটভাই।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানান, বিষয়টি তার জানা নাই, ইউটিউব বিষয়ে তার ধারণা নাই।

তবে শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তিনি জানান, লিটন থাকেন ঢাকায়, আর দেলোয়ার মাস্টার শিমুলিয়ার ডাঙ্গি পাড়া প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রতি মাসে লিটন গ্রামে এসে সবাই মিলে রান্না-বান্নার আয়োজন করে থাকেন। লিটনের সাথে বিভিন্ন জেলার মানুষও আসেন। প্রতি মাসে রান্না করে তা ভিডিও করা হয় এবং গ্রামের মানুষদের খাওয়ানো হয়। মূলত এর মাধ্যমে গ্রামীণ জীবন তুলে ধরা হচ্ছে। বিষয়টা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য গর্বের।

এ বিষয়ে ‘এরাউন্ডমি বিডি’ চ্যানেলটির এ্যাডমিন লিটন আলী খান জানান, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তারা কাজ শুরু করেন। তার একটি সফটওয়্যার ফার্মও রয়েছে। মূলত গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করাই মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে ২৩ লাখেরও বেশি এরাউন্ড মি বিডি’র সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। মূলত গ্রাম্য ধারায় রান্না করা হয়। রান্নার পর মানুষকে বিনা খরচে খাওয়ানো হয়। সহজ, সরল গ্রামীণ জীবনে আনন্দ দিতে গেলে নিজেদের চেষ্টায় যতটা করা সম্ভব, সবই করা হচ্ছে এই ইউটিউব চ্যানেলে।

এ ব্যাপারে ‘এরাউন্ডমি বিডি’ চ্যানেলটির পরিচালক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন মাস্টার জানান, আমি ঢাকায় ভাগ্নে লিটন এর ফার্মে যায়। সেখান থেকে ভাগ্নেসহ আমরা পরিকল্পনা করি এ বিষয়ে। একদিন মাছ ধরার ভিডিও আপলোড করি। সেখান থেকে শুরু। এর পর রান্না সহ গ্রামের বিভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরা হয়। মূলত গ্রামের মানুষের খুশির জন্যই এটি করা। বর্তমানে ৩০ জন কর্মচারী এর সাথে জড়িত রয়েছে। ভবিস্যতে এটি আরো বৃহৎ আকারে করতে চাই।

গাংনীতে  জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষে মহিলাসহ ৭জন আহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তি কাজিপুর গ্রামে জসি দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মহিলাসহ উভয়পক্ষের ৭জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন-ওই গ্রামের আবু তালেব (৫৫), তার স্ত্রী শিল্পী খাতুন (৫০), দু’ভাই কাবের আলী (৬৫) ও বাবলুর রহমান (৫০)। অন্যপক্ষের একই গ্রামের মানজুবত আলী (৬৫), আফাজ উদ্দীন (৫৫) ও সাজেদুর রহমান (৪৭)। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় কাজিপুর গ্রামের মোজাম্মেল হক ও বাবলুর রহমানদের সাথে ১৩ শতক জমি নিয়ে মামলা চলে আসছে। বৃহস্পতিবার সকালে উভয়পক্ষ জমি দখল করতে গেলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পোড়াদহে মাদক বিরোধী মতবিনিময় ও আলোচনা সভা

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহে মাদক প্রতিরোধ বিষয়ক জনসচেতনামূলক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তেঘরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে  পোড়াদহ ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটি’র আয়োজনে এই মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পোড়াদহ ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডাঃ আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি (বিএমপিসি)’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হাসিবুর রহমান রিজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি (বিএমপিসি)’র কুষ্টিয়া  জেলা শাখার সহ-সভাপতি মীর আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক এম  সোহাগ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, তেঘরিয়া আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোজিনা পারভীন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু আজম বাবু, আহম্মদপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ সোলাইমান, পোড়াদহ ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি (বিএমপিসি)’র পোড়াদহ ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা বলেন, মাদক  দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। আমরা সকলেই মাকে যেমন ভালোবাসি ঠিক তেমনভাবে দেশকেও ভালোবাসি। মাদক মাকে কাঁদায়। আজ থেকে সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় মাদকমুক্ত দেশ গড়তে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ‘মুল্যবোধ ও দেশপ্রেমের অভাবেই দুর্নীতির বিস্তার ঘটে’ এ বিষয়ে চুড়ান্ত পর্বে পক্ষে অংশগ্রহণ করে ক্যাডেট কলেজের নবম-১ শাখা ও বিপক্ষে অংশগ্রহণ করে একাদশ-খ শাখা। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিজয়ী হয় একাদশ-খ শাখা। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ক্যাডেট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লোকমান হাকিম, দুদকের যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত, সহকারী পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম প্রমুখ। এর আগে দুদকের যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের আয়োজনে গত ৩ ফেব্র“য়ারি শুরু হয় এ প্রতিযোগিতা। এতে ক্যাডেট কলেজের ৪টি শ্রেণীর ৮টি টিম অংশগ্রহণ করেন। এবারের প্রতিযোগিতায় হাউজ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খায়বার হাউজ।

গডফাদারদের ধরতে ২২ জেলায় দুদকের গোয়েন্দা

ঢাকা অফিস ॥ অপরাধ জগতের গডফাদারদের ধরতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত ২২ জেলায় ২২ জন গোয়েন্দা নিয়োগ দেয়া হবে বলে কমিশনের ২২তম সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী। এদিন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এটির উদ্বোধন করেন। এ সময় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত সহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই ডে কেয়ার সেন্টার চালুর মাধ্যমে আমাদের নারী কর্মকর্তাগণ আরও নিশ্চিন্ত মনে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মায়েরা এখন অনেকেই চাকরি করছেন। নারীরা এখন আর ঘরে বসে শুধু সন্তান পালনই করছেন না বরং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে তারা চাকরি করছেন। দুদকেও এখন অনেক নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। আবার অনেক পুরুষ কর্মকর্তা রয়েছেন যাদের স্ত্রী চাকরি করেন। তাদের সন্তানদের পরিপালনের বিষয়টি একটি উদ্বেগের কারণ। কমিশন তাদের উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নিয়েছে। কমিশনের কর্মপরিবেশ আরও উন্নত করার জন্যই এই ডে কেয়ার সেন্টারটি চালু করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দফতরে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন। দুদকের এ কার্যক্রম দেখে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে আরও সক্রিয় হবে বলে আশা করছি।’ তিনি বলেন, ‘দুদকে যেসব নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রেফতার, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানেও তারা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। দুর্নীতি দমনে তাদের দৃঢ় মানসিকতা রয়েছে। তাদের শিশুদের নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করায় তাদের কাজের মান ও পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। শিশুরা এখানে খেলাধুলা করতে পারবে এবং আনন্দের সঙ্গে কিছু শিখতেও পারবে। শিশুদের নিরাপত্তায় অবশ্যই এটি দুদকের একটি ভালো দৃষ্টান্ত।’ পরবর্তীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘অর্থপাচার শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়। এটি বৈশ্বিক সমস্যা, আমাদের আশপাশের দেশগুলোতেও অর্থপাচারের ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক উন্নয়নও হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকারও কাজ করছে, দুদকও কাজ করছে। কমিশন থেকে বিভিন্ন প্রকল্প মনিটরিং করা হচ্ছে। এভাবে যারা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করছেন, তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গতকালই কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যে বা যারা অবৈধভাবে ব্যাংকের বা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে, তা পাচার করে বিদেশে বিলাসবহুল জীবন-যাপন করছেন, তাদের প্রত্যেককেই অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ইন্টারপোলসহ আন্তর্জাতিক সকল আইনি টুলস- টেকনিক প্রয়োগ করে অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং দেশের সম্পদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।’ সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিঙ্গাপুরসহ আমাদের আশপাশের দেশগুলো থেকে আমরা কিছু কিছু তথ্য পাচ্ছি। কমিশন থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে কীভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় ওইসব দেশের আদালতের সহায়তায় অপরাধীদের সম্পদ জব্দ করা যায় এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। কমিশনের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যেই হংকংয়ের আদালতের সহায়তায় কিছু অবৈধ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এটি একটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ট্রেড-বেইজড মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমেই সর্বাধিক অর্থপাচারের ঘটনা ঘটে। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে দুদক কার্যালয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি, পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় এ জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদকের ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে ২২ জন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিটি জেলায় যারা মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, খাস জমি দখল, ঘুষ-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধ জগতের গডফাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, তাদের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট করবেন। কমিশন এসব রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করে এসব অপরাধীদের আইন-আমলে নিয়ে আসবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না।’ কমিশনের এমন সক্ষমতা আছে কি-না? জবাবে তিনি বলেন, ‘সক্ষমতা আপনারাই দেখছেন। সক্ষমতা আমাদের আছে। সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, কাজের প্রতি কমিটমেন্ট বা দৃঢ় অঙ্গীকারই সক্ষমতার উৎস। আজকের কমিশন বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ কমিশন, সচিব ও মহাপরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সকলের দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে। আমরা একটি টিম। টিমওয়ার্কের মাধ্যমেই আমাদের সক্ষমতা সর্বাধিক বিকশিত করার চেষ্টা করছি।’

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুত সমিতির বার্ষিক সাধারন সভায় রেজওয়ান আলী খাঁন

মুজিববর্ষে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ এবং উত্তম গ্রাহক সেবা নিশ্চিত হবে

জাহিদ হাসান ॥ কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যু সমিতির ৩৩তম বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি কুষ্টিয়ার ত্রিমোহনীস্থ সমিতির প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হারুন-অর রশিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি রেজওয়ান আলী খাঁন। এসময় তিনি বলেন, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১৯৮৩ সালে কার্যক্রম শুরুর প্রারম্ভিক সময় হতে কুষ্টিয়া জেলার কৃষি, শিল্প ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে। আধুনিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বৃহৎ-সহ মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের ব্যাপক প্রসার এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও তথ্য প্রযুক্তি বিকাশের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে কুষ্টিয়া জেলা তথা সারা বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে দেশব্যাপী পরিচালিত পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের একটি অংশরূপে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। লাভ নয়,  লোকসান নয়-গ্রাহকগণই প্রকৃত মালিক ও সেবক মূলনীতিতে এবং সমবায় ভিত্তিতে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিস্টেমলস ও নিরাবিচ্ছিন্ন এবং নিরাপদ বিদ্যুতের জন্য সকল সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। মুজিববর্ষে নিরাবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ এবং উত্তম গ্রাহক সেবা নিশ্চিত হবে। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হারুন-অর রশিদ বলেন- বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকার “আমার গ্রাম-আমার শহর” বাস্তবায়ন এবং বহুমূখি কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ ত্বরান্বিত ও সহজতর করার লক্ষ্যে  ৫০ কিলোওয়াট লোড পর্যন্ত ট্রান্সফারমার সরবারহ করা হচ্ছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে রেগুলার ইলেক্ট্রিশিয়ানদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তিনি সময়মত গ্রাহকদের বিদ্যুৎবিল প্রদানের জন্য আহবান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ঢাকার উপ-পরিচালক এসএম কামাল হোসেন, সহকারী পরিচালক মিথুন দেবনাথ, কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মহিউদ্দিন, সহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোষাধ্যক্ষ শরীফা খাতুন, সহ-সভাপতি জুমারত আলী মাস্টার, এলাকা পরিচালক তানজিলুর রহমান এনাম, কাঞ্চন কুমার হালদার, মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ, তাফিকুল ইসলাম, আলী রেজা খাঁন, হাসিনুর রহমান, নার্গিস আখতার, শাহানারা রহমান লিপি, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রাক্তন সভাপতি রেজাউল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, প্রাক্তন সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, হাজ্বী আয়ূব আলী, প্রাক্তন এলাকা পরিচালক আব্দুল হাকিম, আবুল কালাম আজাদ, প্রফেসর শফিউল আলম সান্টু, শাহ জালাল, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভেড়ামারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) এ,বি,এম মিজানুর রহমান, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দৌলতপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জাহাঙ্গীর আলম, ভেড়ামারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার ঘোষ, কুমারখালী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী কামাল জিয়াউল ইসলাম, মিরপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী এনামূল হক, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (এইচআর) আব্দুল হক, এজিএম (ওএন্ডএম) আব্দুল হাকিম, এজিএম (প্রশাসন) মফিজুল ইসলাম, এজিএম (ওএন্ডএম/ইএন্ড সি) বিশুন্দানন্দ পুরাব্রহ্মণ, এজিএম (ওএন্ডএম) মনিরুল ইসলাম, এজিএম (ওএন্ডএম) মনিরুল ইসলাম, এজিএম (ওএন্ডএম) মোস্তাফিজুর রহমান, এজিএম (অর্থ-রাজস্ব) আয়েশা খাতুন, এজিএম (ওএন্ডএম) মেহেদুল ইসলাম মেহেদী, এজিএম (ওএন্ডএম) জ্যোতি রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমিতির কার্যক্রম সম্পর্কে সভাপতির প্রতিবেদন দাখিল করেন সমিতির সভাপতি  রেজওয়ান আলী খাঁন। কোষাধ্যক্ষের প্রতিবেদন দাখিল করেন কোষাধ্যক্ষ শরীফা খাতুন এবং সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হারুন-অর রশিদ তার প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই সাথে গ্রাহকদের বিভিন্ন লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন জেনারেল ম্যানেজার হারুন-অর রশিদ। পরে সদ্য নির্বাচিত ১নং এলাকা পরিচালক হিসাবে আরাফাত আলী, ৪নং এলাকা পরিচালক হিসাবে আতিকুজ্জামান বিশ্বাস ও ৫নং এলাকা পরিচালক হিসাবে আব্দুর রহিম এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক বিভিন্ন শ্রেণী পেশা হতে পরিচালক হিসাবে মোহাম্মদ সুলতান মাহামুদ এর নাম ঘোষনা করেন কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুত সমিতির রির্টানিং অফিসারের পক্ষে এজিএম (এমএস) জসীম উদ্দিন। সাধারন সভা শেষে উপস্থিত সমিতির সদস্যগণদের মধ্য থেকে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যাফেল ড্র তে ২০জন বিজয়ীদের মাঝে এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গ্রাহক পর্যায়ে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধকারী গ্রাহকগণের মধ্য থেকে লটারিতে নির্বাচিত গ্রাহকদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন আগত অতিথিরা। দিনব্যপি এ অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (এমএস) মোঃ জসীম উদ্দিন। শেষে এলাকা পরিচালক ও মহিলা পরিচালকদের সমন্বয়ে আগামী এক বছরের জন্য রেজওয়ান আলী খাঁনকে সভাপতি, শরিফা খাতুনকে সহ-সভাপতি, কাঞ্চন কুমার হালদার সচিব ও তানজিলুর রহমান এনামকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচন করে নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সাড়ে বেলা ১১টায় দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ জয়পুর বিওপি চত্বরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়্। পতাকা বৈঠকে ১৪ সদস্যের বিএসএফ প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার ১৪১ বিএসএফ লালবাগ ব্যাটালিয়ন কমান্ডডেন্ট (অধিনায়ক) ডিআইজি সাথিয়াবান খানচি এবং ২৩ সদস্যের বিজিবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম পিএসসি। বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা পতাকা বৈঠকে সীমান্তে গুলি ও হত্যা বন্ধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, কাটাতারের বেড়া কর্তন না করা, নারী ও শিশু পাচার রোধ, সীমান্তে যৌথ টহল, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পতাকা বৈঠক চলাকালে উভয় সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

ফায়ার সাভির্সের কর্মীরা পুতুলের মত দাঁড়িয়ে দেখল

খোকসায় আগুনে পুড়ে গেল এক কৃষকের সর্বস্য

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সামনে বিদ্যুতের সর্ট সাকিটের আগুনে এক কৃষকের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা সদরের জানিপুর স্কুলপাড়া কৃষক কপিল বিশ^াসের থাকার ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা খোকসা ফায়ার সার্ভিসে মোবাইল ফোনে জানায়। আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। গ্রামবাসীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে কিন্তু ততক্ষনে কৃষকের থাকার ঘর, গোয়াল ঘর, রান্না ঘরসহ সব ভষ্মে পরিণত হয়। খবর দেওয়ার ২৫ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অগ্নিকান্ডের স্থলে পৌছায়। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে অগ্নি নির্বাপণ গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে সটকে পরে। এ সময় ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা পুতুলের মত দাঁড়িয়ে কৃষকের বাড়ি পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য উপভোগ করে। দীর্ঘ সময় পর অগ্নি নির্বাপন গাড়িটি আবার ঘটনাস্থলে ফিরে আসে এবং তার ভাষ্মের উপর পানি ছিটায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের এ আচরণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকশ নারী পুরুষ আরো ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তারা ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীদের বিচার চেয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। স্কুল ছাত্র মুছা হোসেন জানান, অগ্নিকান্ডের সূত্রপাতের সময় তিনি পাশের রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বিকাল ৫টা ৩ মিনিটের দিকে সে ৯৯৯ তে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানায়। কিন্তু মাত্র এক কিলোমিটার দূর থেকে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি এসে পৌছায় ৫টা ৩০ মিনিটে। অগ্নিকান্ডের সূত্রপাতের সময় কৃষক কপিল বিশ^াসের বাড়িতে তারা কেউ ছিলেন না। কিভাবে অগ্নিকান্ড ঘটেছে সে ব্যাপারেও তিনি চিশ্চিত নয়। তবে অনুমান করছেন ফ্রিজের থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তিনি আরো জানান, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি সময় মত পৌছালে তার বাড়ি পুড়ত না। খোকসা ফায়ার ব্রিগেডের লিডার টুটুল ইসলাম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, বাজারের মধ্যে জ্যাম থাকায় তার ২০ মিনিট আটকে ছিল। এ কারনে তাদের পৌছাতে বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া জনতার ভয়ে ড্রাইভার গাড়ি রেখে পালিয়ে যাওয়ায় তারা কাজ করতে পারেনি।

 

বিএনপির হামলার শঙ্কায় ভোটার আসেনি – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য হারে ভোটারের অনুপস্থিতির কারণ জানাতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপির লোকজন হামলা করবে, এমন আশঙ্কা থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে আসেননি।’ ভোটার সংখ্যা কম হলেও উপমহাদেশের মানদন্ডে ঢাকা সিটি নির্বাচনে সবচেয়ে ভালো ভোট হয়েছে বলে জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি বলেছে, এটি আন্দোলনের অংশ। এখন বিএনপির আন্দোলন মানে মানুষ মনে করে জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসংযোগ খুন। বিএনপির এই সহিংসতার আশঙ্কায় মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে নানারকম বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। আমি মনে করি উপমহাদেশের মানদন্ডে এটি সবচেয়ে ভালো নির্বাচন।’ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কোনো হাঙ্গামা হয়নি। অবৈধভাবে কোনো সিল মারার ঘটনা ঘটেনি। ইভিএমে ভোটগ্রহণ করার কারণে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। এ জন্য জালভোটও পড়েনি। কারণ ইভিএমে একজনের ভোট অন্যজনের দেয়ার সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘ইভিএম নিজেই প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের একজন এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। আঙুলের ছাপ নিয়ে সমস্যার কারণে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন।’ ইভিএম প্রশ্নে বিএনপি অভিযোগ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে বিএনপি নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আসলে বিএনপি প্রযুক্তিকে সব সময় ভয় পায়।’ উদারহণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বিনামূল্যে বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের সুযোগ এসেছিল। বাংলাদেশের সব গোপন তথ্য বাইরে চলে যাবে অজুহাতে তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাব-মেরিন ক্যাবলে বাংলাদেশকে যুক্ত করেননি। পরে বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়েছে আমাদের।’ সভায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান দলের রাজশাহী বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন জেলার সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কমিটির এটি প্রথম প্রতিনিধিসভা। সভায় জেলা নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, বেগম আখতার জাহান, ডা. মেরিনা জাহান কবিতা, এমপি আয়েন উদ্দিন এমপি, ডা. মুনসুর রহমান এমপি, ইঞ্জি. এনামুল হক এমপি ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা।

সংসদে মোস্তাফা জব্বার

২০২৩ সালে স্যাটেলাইট-২ উতক্ষেপণ

ঢাকা অফিস ॥ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, দেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট ২০২৩ সালের মধ্যে উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অর্জন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে স্যাটেলাইট ক্লাবের ৫৭তম গর্বিত সদস্যে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ঘোষণা রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট কী ধরনের হবে এবং এর দ্বারা কি কি সেবা প্রদান করা হবে তা নির্ধারণের জন্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষক নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপার ভাটই বাজার এলাকায় নছিমনের ধাক্কায় সৈকত হোসেন নামে স্কুল শিক্ষক নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মহব্বতপুর নামক স্থানে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আক্কাচ আলীর ছেলে। নিহত সৈকত হোসেন ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার নিত্যনন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। পুলিশ জানায়, তিনি রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী নসিমনের ধাক্কায় মারাত্মক আহত হয়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চীন থেকে আর কাউকে আনা হবে না – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ চীন থেকে আর কোনো বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, চীন থেকে আর কাউকে ফেরত আনা হবে না। তবে কেউ অসুস্থ হলে সে দেশেই চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আত্মীয়স্বজন ও দেশের স্বার্থে উহানসহ চীনের করোনাভাইরাস আক্রান্ত এলাকায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে এখনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে শনাক্ত করা হয়নি। হাসপাতাল, চিকিৎসক, নার্স প্রস্তুত। করোনাভাইরাস দেখা দিলে তা ছড়িয়ে যাওয়া রোধে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। চীনা নাগরিকদের সম্পর্কে তিনি বলেন, চীনা নাগরিকদের বাংলাদেশে আসতে হলে ভিসা নেয়ার পাশাপাশি মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। এ ছাড়া অনঅ্যারাইভ্যাল ভিসা বন্ধ করা হয়েছে সাময়িক সময়ের জন্য। এ সময় মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, সুস্থ ব্যক্তির এ মুহূর্তে মাস্ক পরার কোনো প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ৫৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

ঝিনাইদহে ছাগলে ক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ গ্রামে ছাগলে ক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় সবুজ হোসেন (৩০) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে আরও ৩ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সবুজ হোসেন মুরারীদহ গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মঈন উদ্দিন জানান, দুপুরে মুরারীদহ গ্রামের মাঠে সবুজ মিয়ার লালিম ক্ষেতের কিছু গাছ খায় একই এলাকার মজিদের ছাগলে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে গ্রাম্যভাবে মিমাংশা করে দেয়। বিকালে সবুজ মিয়া ও তার চাচাতো ভাই রানা মাঠে কাজ করতে যায়। সেসময় মজিদসহ আরও কয়েকজন মিলে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের পিটাতে ও কোপাতে থাকে। তাদের চিৎকারে সবুজের ছোট ভাই শাকিল ও মা আমেনা বেগম ছুটে আসলে তাদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক সবুজ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তাপসের আসনে ভোট ২১ মার্চ

ঢাকা অফিস ॥ শেখ ফজলে নূর তাপসের ছেড়ে দেওয়া ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে আগামী ২১ মার্চ উপ-নির্বাচনের তারিখ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একইদিনে গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনেও উপ-নির্বাচন হবে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছেন । দুপুরে নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিন উপ-নির্বাচনের মধ্যে কেবল ঢাকায় ইভিএমে ভোট হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গত ২৯ ডিসেম্বর শেখ ফজলে নূর তাপসের পদত্যাগে শূন্য হয় ঢাকা-১০ আসন। গত ১ ফেব্র“য়ারি ওই ভোটে জিতে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনবারের সাংসদ তাপস। আর গত ২৭ ডিসেম্বর মো. ইউনূস আলী সরকারের মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৩ এবং ১০ জানুয়ারি মো. মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যুতে বাগেরহাট-৪ আসন শূন্য হয়।

ইসি সচিব মো. আলমগীর জানান, তিন উপ-নির্বাচনে ১৯ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়, ২৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই, ২৪ থেকে ২৬ ফেব্র“য়ারি আপিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৮ ফেব্র“য়ারি। ২৯ ফেব্র“য়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার। প্রতীক বরাদ্দ ১ মার্চ আর ভোটগ্রহণ হবে ২১ মার্চ। সংবিধান অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী, গাইবান্ধা-৩ আসনে ২৫ মার্চ, ঢাকা-১০ আসনে ২৭ মার্চ ও বাগেরহাট-৪ আসনে ৮ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করবে আগামী ১৬ ফেব্র“য়ারি। কমিশনের সচিব মো. আলমগীর বলেন, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন ও বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে আগামী ১৬ ফেব্র“য়ারি কমিশন বৈঠক হবে। “ওইদিন এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।” ঢাকার মতো চট্টগ্রাম সিটিতেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোট হবে। ২০১৫ সালে ঢাকার দুই সিটির সঙ্গে নির্বাচন হলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন পর্ষদের দায়িত্ব পালন পরে শুরু হয়েছিল। সেজন্য ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি থেকে ১৮০ দিন গণনা শুরু হবে। চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুলাইয়ে। এরই মধ্যে গত ১ ফেব্র“য়ারি ঢাকা সিটিতে ভোট হয়েছে।

হাসপাতালে শয্যার মারাত্মক সংকট

চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬০

ঢাকা অফিস ॥ চীনের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা এবং চিকিৎসা উপকরণের মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। ভাইরাসের উৎপত্তি কেন্দ্রের দূরের অনেক নগরী তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। খবর এএফপি’র। চীনে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দেশব্যাপী বেড়ে ২৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের ২০টিও বেশি দেশে এ করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে এক নবজাতক রয়েছে। ভুমিষ্ট হওয়ার ৩০ ঘন্টার মধ্যেই তার শরীরে এই ভাইরাস ধরা পড়ে। উহান নগরীর কর্মকর্তা হু লীসান বলেন, অতিরিক্ত হাজার হাজার রোগীর চাপ থাকায় এখানে হাসপাতালের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ নগরীতে করোনাভাইরাস চিকিৎসার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণেরও সংকট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তারা নগরীর বিভিন্ন হোটেল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা কেন্দ্র খোলার কথা বিবেচনা করছে। এদিকে এ ভাইরাস বিশ্ব স্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ডব্লিউএইচও নতুন এ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার অর্থ সাহায্য দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।