ঝিনাইদহে এক হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন যুবক ও দুইজন নারী রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চাপরাইল গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের সাহিদ মোল্লার ছেলে মহসিন মোল্লা (৩১), একই উপজেলার শোতাসী গ্রামের নান্নু বিশ্বাসের মেয়ে লাবনী খাতুন (২৭) ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের শরিফুল মোল্লার স্ত্রী সুমিতা বেগম (৩০)। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মুহাঃ মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, ওই তিন মাদক কারবারী ফরিদপুর থেকে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চাপরাইল বাজারে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করতে আসে। মাদক বিক্রির গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় এক হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে মহাসিন মোল্লার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

৩৬তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ৩৮ জনকে নিয়োগের নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ ৩৬তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তের গেজেটে বাদপড়া ৩৮ জনকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ৩৮ জনের রিটের বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ করে গতকাল বুধবার রায় ঘোষণা করেছেন বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েস আল হারুনী। রায়ের পরে সালাহ উদ্দিন দোলন বলেন, বিভিন্ন ক্যাডারে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন অন্যান্যের সঙ্গে তাদের বিষয়ে সুপারিশ করে। কিন্তু তারা নিয়োগ বঞ্চিত হন। পরে মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ বাদপড়া ৩৮ জন সুপারিশের তারিখ থেকে নিয়োগ চেয়ে ২০১৯ সালে রিট করেন। আদালত ওই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করেন। গতকাল বুধবার এ রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত এই ৩৮ জনকে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই তারিখে প্রকাশিত গেজেটের তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতাসহ নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর এটা করতে হবে আদালতের রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি ৩৪তম ও ৩৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগ না আরো ২৭ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

কুমারখালীর সাদীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

কুমারখালী প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরসাদীপুর ইউনিয়নের একমাত্র চরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিট সাদীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল দিনব্যাপী বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠপ্রাঙ্গনে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাদীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যন ও সাদীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব ড. মো: মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বদরুদ্দোজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিউটের পরিচালক দিল আফরোজ, সমাজ সেবক আবু বক্কর সিদ্দিক, নরসিংদীর তিতাস গ্যাস কোম্পানীর ডিজিএম সিরাজুল ইসলাম, চর সাদীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বয়েন, জাতীয় সাঁতার দলের প্রশিক্ষক মনিরুল আলম শাহীন, আওয়ামীলীগ নেতা আফতার আলী মোল্লা, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস, তোফাজ্জেল হোসেন পরামানিক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সু-নাগরিক হয়ে গড়তে উঠতে হলে খেলার কোন বিকল্প নেই। আজকের শিক্ষার্থীরা আগামীতে দেশ পরিচালনা করবে। সেই লক্ষ্যে লেখাপড়া, খেলাধুলা ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যেতে হবে। সাদীপুর প্রত্যন্ত চরাঞ্চল, এই চরাঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে উন্নতির শিখরে পৌছাতে হবে। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিদ্যালয়ের  জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র নিয়ে সমস্যা, বিদ্যালয়ের স্তর এমপিওসহ নানা সমস্যার কথা শুনেন এবং আশ্বাস দেন সেগুলো দ্রুত সমাধান করার। সেই সাথে এই অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের যে কোন সমস্যা সমাধানে তার দরজা সব সময় উন্মুক্ত থাকবে বলে অশ্বাস্ত করেন। পরে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে ও বিভিন্ন  আকর্ষণীয় খেলা দেখেন। এ সময় তিনি কৃতি খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিরাজুল মেম্বার, আলাল বিশ্বাস, বাদশা বিশ্বাস, মাসুদ মেম্বার, শাহাজাহান মেম্বার, ডা: আব্দুর রশীদ, মতিয়ার শেখ, হাফিজুর রহমান, সাদীপুর বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদ হোসেন, আব্দুল আওয়াল, মাহাবুব হোসেন, সুরাইয়া খাতুনসহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম ও ক্রীড়া শিক্ষক সাবিনা খাতুন।

কুষ্টিয়ায় দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার লাহিনী বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার লাহিনী বটতলা এলাকায় অভিযান চালায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আহমেদ সাদাত, সবুজ হাসান ও খাদিজা খাতুন। ভ্রাম্যমান আদালত সুত্রে জানা যায়, “পন্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামুলক ব্যবহার আইন-২০১০” নিশ্চিতে উক্ত এলাকায় অভিযান চালালে আনারুল নামের এক ব্যবসায়ীকে প্লাস্টিকের বস্তায় চাউল রাখার অপরাধে এ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় জামাল  হোসেন নামক একজন হোটেল মালিককে দুই হাজার টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। উপস্থিত সবাইকে আইনের ধারা সঠিক ভাবে পালন করতে অনুরোধ জানান কুষ্টিয়া জেলার মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস। সেই সাথে জেলাব্যাপি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

 

গাংনী পৌর জাতীয় পার্টির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী পৌর (জাপা) জাতীয় পার্টি পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে গাংনী উপজেলা পরিষদ চত্বরে পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাংনী পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি কামরুজ্জামান।  মেহেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল হামিদ।  প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও মেহেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সেলিম। জাপা নেতা সেলিম রেজার সঞ্চালনায়  বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল হামিদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মর্তুজা আলম বুলবুল, জাপা নেতা কেতাব আলী বিএসসি, মেহেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সহ-সভাপতি যথাক্রমে আব্দুল বাকী, বাবলুর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাদি, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মুন্টু, জাপা নেতা রফিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আনছারুল ইসলাম, ঝন্টু আহমেদ, গাংনী পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যেই জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম সেলিম বলেন বাংলাদেশের সফল ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জাপার প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের জন্ম না হলে, সারাদেশে উপজেলা প্রতিষ্ঠা হতো না। জাতীয় পার্টির শাসনামলে দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছিল। জনগণ দেশের উন্নয়ন দেখতে আবারো জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চাই।

কুষ্টিয়ায় আ’লীগ যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ

ইসির আভ্যন্তরিন বিষয়গুলো বাহিরে প্রকাশ করাটা কোন মতেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ইসির আভ্যন্তরিন বিষয়গুলো বাহিরে প্রকাশ করাটা কোন মতেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। গতকাল বুধবার সকালে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো বলেন, বিএনপির বিক্ষোভ আন্দোলন বিএনপিই ভালো জানে, এটা নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই, জনগনও এটা নিয়ে ভাবছে না। বিএনপি গত জাতীয় নির্বাচনের পর হরতাল ডেকেছিল। জনগন ভোটের দিক থেকে যেমন বিএনপিকে প্রত্যাক্ষান করেছে আন্দোলনের দিক থেকেও প্রত্যাক্ষান করেছে। এই দলটাই জনগন প্রত্যাক্ষিত দল। এই দলটার বিভিন্ন অপকর্মের কারনে জনগন ধীকৃত। এদের কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামীলীগের ভাবার কোন প্রশ্নই উঠে না জনগনও ভাবে না। যিনি বা যারা নির্বাচন কমিশনের আভ্যন্তরিন বিষয় নিয়ে মিডিয়ার সামনে কথা বলেন এটা দেশবাসী মনে করেন তার অযোগ্যতা অদক্ষতাই প্রমান করে। সে ক্ষেত্রে যদি কেউ মনে করেন এই কাজ করার মত সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন তার সেই যোগ্যতা নেই সেই পথও তার জন্য খোলা আছে ইচ্ছে করলে তিনি অবসরে যেতে পারেন। এ সময় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এস এম মুসতানজীদ, মেডিকেল কলেজের ডাক্তার, শিক্ষার্থী, জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দসহ  সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।

গাংনীতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই বন্ধ ও প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে ভাতাভোগি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই বাতিলসহ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মার্টকার্ড ও ডিজিটাল সনদ তথ্য ফরম প্রদানের দাবীতে মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাংনী উপজেলা শহরের প্রধান সড়কের পাশে মানববন্ধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের আয়োজনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। প্রথমে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, মোজাম্মেল হক ও আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা শহীদ মিনারের পাদদেশে  সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুল হান্নান। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম সোনা, গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, ডা. মোশারফ হোসেন প্রমুখ। স্মারকলিপির উদ্ধৃতি তুলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান তার বক্তব্যে বলেন- গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়  হতে গত ২৮ জানুয়ারি ইউএনওর স্বাক্ষরিত সরকারী পরিপত্র উপেক্ষা করে ভাতাভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা  ও মৃত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানি ও হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। সভা শেষে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

কুমারখালীতে আগুনে বসতবাড়ী ও নগদ টাকাসহ মালামাল ভষ্মিভুত

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আগুনে বসতবাড়ী ও নগদ টাকাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যাবতীয় মালামাল ভষ্মিভুত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বুজরুখ বাঁখই গ্রামের কৃষি শ্রমিক উকিল উদ্দিন সেখের বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ইউনিটের উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের আনলেও মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। বাড়ীর মালিক উকিল উদ্দিন সেখ জানান, রাতে পরিবারের সবাই ঘরের ভিতরে বসে গল্প করছিলাম। হঠাৎ পাশের বাড়ীর লোকজনের আগুন আগুন চিৎকারে ঘর বের হয়ে যাই। মুহুর্তের মধ্যে চোখের সামনে আমার বসতঘরটি পুড়ে ভষ্মিভুত হয়ে গেল। মালামাল কিছুই বের করতে পারি নাই। শুধু পাশের ঘর থেকে দুইটি গরু নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া বসতঘর সহ নগদ ৪৫ হাজার টাকা, দুইটি বাইসাইকেল, ধান ও চাল, সন্তানদের পাঠ্যবই সহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখাগেছে, দরিদ্র উকিল উদ্দিনের ভিটায় শুধু কয়েকটি সিমেন্টের তৈরী খুঁটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ ছাড়া সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। উকিল উদ্দিনের বড় ছেলে নবম শ্রেনীতে পড়ে। তার পাঠ্যবই পুড়ে গেছে। নেই পরিবারের কারো পরিধেয় বস্ত্র ও খাবার সামগ্রী। গ্রামের লোকজন জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় একেবারেই নি:স্ব হয়ে গেছে পরিবারটি।  এ ব্যাপারে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ইউনিটের স্টেশন অফিসার অমিও কুমার বিশ্বাস জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা তাদের। এ ঘটনায় ওই পরিবারটির আনুমানিক লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে। এমনকি ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি। নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারনম্যান মো. নওশের আলী বিশ্বাস বলেন, এই মুহুর্তে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। এ জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে নগদ টাকা ও ঢেউটিন বরাদ্দ পেতে আবেদন করা হবে। এ ঘটনায় গ্রামবাসীও তাদের সামর্থ অনুযায়ী সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ উকিল উদ্দিনকে।

 

ঝিনাইদহ র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ ২ সন্ত্রাসী আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা এলাকা থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার রাতে ডাকবাংলার নাথকুন্ডু এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো-চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রাইসা গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে আসাদুল ইসলাম আশা (৩৫) ও জীবননগর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সুলতান খানের ছেলে আশানুর রহমান (৩৮)। র‌্যাব ৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে নাথকুন্ডু এলাকায় একদল সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল। এসময় অন্যান্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে আসাদুল ইসলাম ও আশানুর রহমান নামের ২ জনকে। পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়, ১টি কাটা রাইফেল, ১টি পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি। আটককৃতরা সন্ত্রাসী, তাদের নামে বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। দুপুরে আটককৃতদের সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।

ইবিতে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত

“পড়ব বই গড়ব দেশ’ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত হয়েছে। দিনটি পালন উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ইবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। বুধবার বেলা ১১ টায় প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বর সমবেত হয়। র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং লাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ। র‌্যালি শেষে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে গ্রন্থাগারিক (ভারঃ) মু. আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস এম আব্দুল লতিফ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন। বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (ভারঃ) ড. মোঃ নওয়াব আলী খান, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম জোহা, সাধারণ সম্পাদক মীর মোঃ মোর্শেদুর রহমান এবং লাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক আব্দুল আলিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল হক। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া আশ্রয়ন বস্তির রাস্তা ও ড্র্রেণ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন  পৌর মেয়র আনোয়ার আলী

গতকাল বুধবার সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের উত্তর মিলপাড়া আশ্রয়ন বস্তির রাস্তা ও ড্রেণ নির্মান কাজের উদ্বোধন করলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী। উদ্বোধনকালে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন- বাংলাদেশ সরকার, এডিবি এবং এফআইসি সহায়তাপুষ্ট তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতি করণ (সেক্টর) প্রকল্পের আওতায় বেসিক সার্ভিস টু দি আরবান পুয়র খাতে বস্তি উন্নয়ন কমিটি (সিচ) এর মাধ্যমে কুষ্টিয়া পৌরসভার বাস্তবায়নে এই অঞ্চলে ৮৬৮ মিটার আরসিসি রাস্তা, ৯৭৩ মিটার ড্রেন, ১৩ টি হাত টিউবয়েল নির্মান করা হবে। তিনি আরো বলেন- পৌর এলাকায় ২১টি ওয়ার্ডে ৪১টি সিডির মাধ্যমে নারীর সহিংসতা প্রতিরোধে ও নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ দারিদ্র দূরিকরনের জন্য হাতের কাজ শেখানোর পাশাপাশি ব্যবসা অনুদান, দারিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি এবং মায়েদের পুষ্টি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মেয়র আরও বলেন- ২১টি ওয়ার্ডে আরো নতুন সিডিসি গঠন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। আপনাদের সহযোগীতায়   পৌরবাসীর সকল নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী ১০ নং ওয়ার্ডে আবাসন প্রকল্পে পৌছালে স্থানীয় বাসিন্দা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে স্থানীয়দের সাথে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা লাভলু, সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহেদুর রহমানসহ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মিরপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা রোধকল্পে সমন্বয় সভা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা  রোধকল্পে করণীয় শীর্ষক বিশেষ সমন্বয় সভা গতকাল বুধবার সকালে কুষ্টিয়া পল্লীল বিদ্যুৎ সমিতির মিরপুর জোনাল অফিসের উদ্যোগে মিরপুর সাব স্টেশনে অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেনারেল ম্যানেজার হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে ও মিরপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী এনামুল হকের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকা পরিচালক কাঞ্চন কুমার হালদার, প্রভাষক নার্গিস আখতার, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (কারিগরী) প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার ঘোষ, এজিএম (ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রকৌশলী বিশুদ্ধ নন্দপুর ব্রাক্ষন, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিরপুর জোনাল অফিসের এজিএম মেহেদুল ইসলাম মেহেদী, ইসি ফজলুল হক, জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম, কাবাতুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময়ে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিরপুর জোনাল অফিসের সকল অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ ও লাইন ক্রু কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে লাইন  ক্রুদের মাঝে ব্যক্তিগত ইলেকট্রিক টেস্টার এবং সহজে বহনযোগ্য কয়েকটি অস্থায়ী গ্রাউন্ডিং সেট বিতরণ করা হয়।

আতঙ্কে ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে মারধর, থানায় মামলা

মিরপুর অফিস ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় হাসেম আলী নামের এক শিক্ষককে মারধর করেছে ইভটিজাররা। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। এরই প্রেক্ষিতে ঐ শিক্ষক থানায় মামলা করেন। পুলিশ ইভটিজারদের মধ্যে একজনকে আটক করে আদালতে পাঠায়। একদিন পরেই জামিনে মুক্তি পেয়ে ঐ শিক্ষককে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। ফলে প্রায় হীতে বিপরিত হয়েছে। ইভটিজারদের ভয়ে এখন আতঙ্কে রয়েছে ঐ শিক্ষক এবং ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম ইভটিজিং এবং বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসেম আলীকে অবৈধভাবে মারধর করার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দৌলতপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। এদিকে মারধরের ঘটনায় দৌলতপুর থানায় ১৩ আসামীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জনকে আসামী করে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন শিক্ষক হাসেম আলী। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, গত ২ ফেব্র“য়ারি দৌলতপুর উপজেলার ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ছাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর যৌথ উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর ছাত্রীদের ছাতারপাড়ার মৃত ঝাড়– মন্ডলের ছেলে আলীহিম, মৃত ওইরদ্দিন মন্ডলের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, শাহীন আলী, আলীহিমের ছেলে আশিক আলী, আলম ফকিরের ছেলে ইসরাইল হোসেন, নূর ইসলামে ছেলে জীবন আলী, মসলেম উদ্দিনের ছেলে তহমেদুর রহমান ও আফজাল হোসেন, রপাজ্জেলের ছেলে আলী ইসলাম ও আশরাফুল, মালিপাড়া এলাকার রাকিবুল ইসলাম, তেলকান্দিয়া এলাকার দবি উদ্দিনের ছেলে জামছের আলীসহ আরো ৫/৭ জন বকাটেরা উত্ত্যক্ত করছিলো। এমন সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) হাসেম আলী বকাটেদের প্রতিবাদ করেন। এ সময় প্রতিবাদ করার কারনে বখাটেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ শিক্ষককে মারধর করে। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। দৌলতপুর থানার পুলিশের অভিযানে রুপাজ্জেলের ছেলে আশরাফুলকে আটক করে আদালতে প্রেরন করেন। কিন্তু একদিন পরেই জামিনে মুক্তি পেয়ে বেপরয়ো হয়ে উঠেছে আসামিরা।  এজাহার দায়েরকারী এবং ভুক্তভূগি শিক্ষক হাসেম আলী জানান, আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশায় আইনের আশ্রয় নিয়েছি। তবে আসামী আটকের পরে জামিন নিয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে। আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ধামকি দিচ্ছে। সেই সাথে আমি আতঙ্কে রয়েছি। ইতিপূর্বে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর উপরোক্ত কয়েকজন আসামী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার উপরে হামলা চালায় এসময় তারা আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। সেদিন প্রাণে বেঁচে যায় আমি।  বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নওয়াব আলী জানান, ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসেম আলীকে বহিরাগত কিছু বখাটে ও সন্ত্রাসী পিটিয়ে আহত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। সেই সাথে আসামীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। এদিকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে বিদ্যালয়ের অধ্যায়রত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। দোষীদের শাস্তির দাবি জানায় সর্বস্তরের মানুষ।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অন্ধকার থেকে আলোতে এসেছে – হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বিগত জোট সরকারের আমলে দেশ অন্ধকারে ছিল। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন খালেদা জিয়া আর তার ছেলে তারেক জিয়া হাওয়া ভবন ও খাওয়া ভবন নিয়ে এতোই ব্যস্ত ছিল যে দেশ দুর্নীতিতে কয়েক বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই ১০ বছরে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অন্ধকার থেকে আলোতে এসেছে। গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টায় মুক্তিযোদ্ধা জনতা সংবর্ধনা কমিটির আয়োজনে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশি রেলওয়ে ফুটবল মাঠ সংলগ্ন আমতলা মাঠে গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের তিনি এ কথা বলেন। হানিফ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নতি হয় না। তারা লুটপাটে ব্যস্ত থাকে। ক্ষমতাকে দেশসেবার সুযোগ হিসেবে দেখে বলেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নতি হয়েছে। আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন আর বিএনপি মানেই ধ্বংস, হত্যা, লুটপাট, দুর্নীতি। তিনি আরও বলেন, আজ দেশের অসহায় মানুষগুলো শান্তিতে আছেন। ২০ বছর আগে অসহায় মা-বোনেরা ছেড়া জোড়াতালি শাড়ি পড়ে থাকতো। এখন কোনো অসহায় মানুষের ছেড়া শাড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়না। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বয়স্ক-অসহায় নারীদের বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা জনতা সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাজী সদরুল হক সুধার সভাপতিত্বে ও পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম বাবু মন্ডলের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বহির্বিশ্বে জনমত গঠনে ভূমিকা পালনকারী রবিউল আলম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ম-লীর সদস্য রশিদুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান বিশ্বাস প্রমুখ। এর আগে, বেলা ১২টায় পাকশী উদীচী শিল্পীদের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত ও গণ সংগীতের মাধ্যেমে এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ ও সম্মাননা স্মারক দেন। এর আগে গতকাল বুধবার সকালে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন হানিফ। এসময় তিনি বলেন, ইসির অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো বাইরে প্রকাশ করাটা কোনো মতেই যুক্তিযুক্ত নয়। যিনি বা যারা অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মিডিয়ার সামনে কথা বলেন এটাকে দেশবাসী তার অযোগ্যতা অদক্ষতার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেয়। সেক্ষেত্রে যদি কেউ মনে করেন এই কাজ করার মতো সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন তার সেই যোগ্যতা নেই সেই পথও তার জন্য খোলা রয়েছে। ইচ্ছে করলে তিনি অবসরে যেতে পারেন। হানিফ বলেন, বিএনপির বিক্ষোভ আন্দোলন বিএনপিই ভালো জানে, এটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই, জনগণও এটা নিয়ে ভাবছে না। বিএনপি গত জাতীয় নির্বাচনের পর হরতাল ডেকেছিল। জনগণ ভোটের দিক থেকে যেমন বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনের দিক থেকেও প্রত্যাখ্যান করেছে। এদের কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগের ভাবার কোনো প্রশ্নই ওঠে না জনগণও ভাবে না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. এস এম মুসতানজীদ, মেডিকেল কলেজের ডাক্তার, শিক্ষার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের নেতারাসহ সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা।

গেজেট প্রকাশ হয়ে গেছে, ফল বাতিলের সুযোগ নেই – ইসি সচিব

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ হয়েছে। তাই ফল বাতিলের কোনো সুযোগ নেই। তবে আদালত আদেশ দিলে বাতিল হতে পারে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন বাতিলের কোনো সুযোগ নাই। নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করেছে। তবে আদালত করতে পারে। কেউ যদি চায়, আদালত পর্যন্ত যেতে পারে। পরবর্তীতে আদালত যদি কোনো আদেশ দেন নির্বাচন কমিশনকে, সেটা আমরা দেখব। তিনি বলেন, ইভিএমে যা ভোট প্রকৃতপক্ষে দিয়েছে, ঠিক সেটাই পড়েছে। কারণ এখানে অতিরিক্ত ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ নাই। আঙুলের ছাপ ও আইডি কার্ড ছাড়া যেহেতু ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ নাই, ভোটারকে অবশ্যই ফিজিক্যালি যেতে হয়েছে। ভোটার কেন্দ্রে না গেলে ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ নাই। ভোটার সংখ্যার চেয়ে ভোট বেশি পড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. আলমগীর বলেন, একজন ভোট দিতে যান নাই, অথচ তার ভোটটি পড়েছে – এরকম একটা দেখাক। তাহলে বলা যাবে, ভোটাররা আসেননি, অথচ ভোট পড়েছে। ইভিএম সিস্টেমে ভোটার না এলে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইভিএমের যে কারিগরি দিক রয়েছে, তাতে এটা সম্ভব না। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এক শতাংশের বেশি ভোট নিজের আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করার অভিযোগের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, কমিশনের কাছে এ ধরনের কোনো অনুরোধ আসে নাই। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসে নাই। তবে করতে পারে, দুইটা-একটা কেন্দ্রে হয়তো করতে পারে। এখানে ভোটার আছে ৪০০, সেখানে ৪ জনের বেশির আঙুলের ছাপ মিলছে না। এ রকম অভিযোগ এক হাজার কেন্দ্রের মধ্যে একটি কেন্দ্র থেকে এমন অভিযোগ এসেছে বলে আমি শুনিনি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ১ শতাংশের বেশি অনুরোধ এসেছে কি না? তারা বলেছেন, আসেনি। ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝাচ্ছেন, জানি না। নির্বাচন করার জন্য যে পরিবেশ থাকা দরকার, তার পরিবেশ একেবারে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ ছিল। বাকি পয়েন্ট জিরো জিরো নিয়ে যদি আপনারা কিছু বলতে পারেন। তবে মারামারির কিছু ঘটনা আমরা পরে শুনেছি। নির্বাচনের পরে শুনেছি যে, একই দলের মধ্যে হয়তো বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। তারা হয়তো হাতাহাতি করেছে। একেবারে যে ওখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়া, ও রকম মারামারি কোথাও হয়নি। গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৪ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ হয়েছে। তবে ঢাকা দক্ষিণের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের ফল স্থগিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী উত্তর

বর্তমান সরকারের সময়ে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন ও প্রভাবমুক্ত থেকে বিচারকার্য পরিচালনা করছে। গতকাল বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ইতালি সফরে থাকায় তার প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে বিচার বিভাগ জনগণের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। আমরা জনগণের মাঝে এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃত আসামিরা যাতে সাজা পায় এবং নিরপরাধীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সজাগ রয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমরা বিচার বিভাগে নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছি। তিনি বলেন, অপরাধীর কোন দল নেই তার পরিচয় কেবলই অপরাধী এবং অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন তার বিচার হবেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৯ (২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)। বর্তমানে কর্মরত বিচারকের সংখ্যা অপ্রতুল। ইতোমধ্যে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৬ জন, হাইকোর্ট বিভাগে ৩৭ বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অধস্তন আদালতে ৭৬৮ জন সহকারী জজ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১৩তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১০০ জন সহকারী জজ নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ১৪তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ১০০ জন সহকারী জজ নিয়োগ এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৮৬টি পদ সৃজনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি বলেন, এজলাস স্বল্পতা দূর করে সর্বোচ্চ কর্মঘণ্টা ব্যবহার করে বিচার কাজে গতিশীলতা আনায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অধস্তন আদালতের জন্য ৪২টি জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি জেলায় সম্পূর্ণ ভবন নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ১৪টি জেলায় ভবন নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নতুন ১২তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আদালতে মামলার বিচার নিষ্পত্তির পাশাপাশি নতুন মামলা দায়েরের হার কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এই পদ্ধতিকে ফলপ্রসু করতে সারাদেশে জেলা জজ আদালতে একজন করে সরকারি সিনিয়র/সহকারী জজ পর্যায়ের বিচারককে লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে সারাদেশে ২৮ হাজার ৯৫৫ টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থার বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি করার জন্য জাপানের সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া অসহায় ও দুস্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে ইতোমধ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৪ জনকে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ডিজিটাইজেশন করার লক্ষ্যে আমরা ই-জুডিশিয়ারি শীর্ষক একটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ৪ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা করে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং জঙ্গিবাদকে উসকে দেয়ার চক্রান্ত করা হয়েছিল। হলি আর্টিজান মামলার আসামিদের মৃত্যুদন্ডের রায় প্রদান করে বিচার নিষ্পত্তির মাধ্যমে এই চক্রান্ত রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া রিশা হত্যা মামলা, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দিয়া খানম ও আবদুল করিম রাজীবের মামলা, গাইবান্ধা সংসদ সদস্য হত্যাসহ বহুল আলোচিত মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার বিচার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচনের সব তথ্য প্রকাশের দাবি তাবিথের

ঢাকা অফিস ॥ সদ্য শেষ হওয়া ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তথ্য ও ফলাফল জনগণের কাছে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েলস ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজিত নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। তাবিথ বলেন, ১ ফেব্র“য়ারি ডিএনিসসি নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে আমি অফিসিয়ালি আজকে সেটা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা দাবি করছি, সব কর্মকান্ড বন্ধ রেখে নির্বাচন কমিশন ওই নির্বাচনের সব তথ্য, ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট শিট থেকে শুরু করে রেজাল্ট শিট জনগণের সামনে এবং যারা প্রার্থী ছিলেন তাদের সামনে প্রকাশ করবে। নির্বাচনের দিনটি শুরুই হয়েছে ব্যাপক পরিকল্পিত হামলার মধ্য দিয়ে। এতে গণমাধ্যমকর্মীরা আহত হয়েছেন এবং আমাদের পোলিং এজেন্টরাও আহত হয়ে এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, আমাদের পোলিং এজেন্টরা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে নিয়ে বাইরে পেটানো হয়েছে। এসব হামলার বিষয়ে আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পুলিশকে জোরালো তাগিদ দিচ্ছি। ওঁরা যেন সুষ্ঠু তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেন। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাদের হুমকি শুরু হয়েছিল যে, তাদের গুন্ডাবাহিনীর পেশীশক্তি ব্যবহার করে কেন্দ্র দখল করবে। নির্বাচনের দিন শুরুতে সমস্ত কেন্দ্রের বাইরে ক্ষমতাসীন দলের গুন্ডা ও কর্মী অবস্থান নিয়ে গেট বন্ধ রাখে। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যে কারণে বেশিরভাগ ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রে বানানো লাইন করা হয়েছিল যে কারণে ভোটারেরা কেন্দ্রে ঢুকতে পারেনি। বানানো লাইন দিয়ে ভোটারদের দমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিষ্কারভাবে প্রমাণ হয়, আমাদের প্রতিপক্ষের কৌশলও ছিল ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে না প্রবেশ করতে পারে। এ পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। তাবিথ আউয়াল বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে পুলিশের ফেক (ভুয়া) কর্মকর্তা ছিল। আমি শুনতে চাই- পুলিশ কর্মকর্তাদের উচ্চমহল থেকে ফেক কর্মকর্তাদের কী আটক করা হবে? আমি দাবি জানাচ্ছি, তারা যেন এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেন। তিনি বলেন, বলা হয়েছিল ইভিএমে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে রেজাল্ট দেওয়া হবে। তার মানে রাত ৯ টার মধ্যে সব কেন্দ্রের রেজাল্ট প্রকাশ করা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ভোর চারটা পর্যন্ত। এরপরও আমরা শুধু মৌখিক রেজাল্ট পেয়েছি। লিখিত কোনো রেজাল্ট আমরা পাইনি। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের তাদের কাজের কোনো মিল নেই। আমরা মনে করি এখানে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং ভোট চুরি করা হয়েছে, অনেক ভোট বদলানো হয়েছে। সে কারণে ভোর চারটা পর্যন্ত তাদের সময় লেগেছিল। ইভিএম প্রসঙ্গে বিএনপি প্রার্থী বলেন, বলা হয়েছিল কন্ট্রোল ইউনিটের প্রিন্ট দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা এখনো তা পাইনি। অপেক্ষায় আছি। আদৌ পাবো কিনা এ নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, ইভিএমে সমস্ত লগ রাখা যায় আমরা শুনেছি। যদি সমস্ত লগ রাখা হয়ে থাকে আমরা দাবি জানাচ্ছি, নির্বাচন কমিশনকে সবার সামনে এই লগ পেশ করা হোক। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারবো কন্ট্রোল ইউনিটে কী লেখা ছিল, রেজাল্ট কী এসেছে, ফাইনালি মৌখিক রেজাল্টে আমরা কী পেয়েছি। তাবিথ বলেন, ২৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছে বিকেল ছয়টার মধ্যে সমস্ত রেজাল্ট যেন প্রার্থীদের কাছে রিটার্নিং কর্মকর্তা পেশ করে দেন। কিন্তু তারা সেই গাইডলাইন ফলো করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরাজয়ের পরও অর্জন দেখছেন ইশরাক: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন পরাজিত হলেও এর মধ্যে অর্জন দেখছেন তিনি। ইশরাক বলেন, সিটি নির্বাচনে আমাদের অর্জন কম নয়। আমরা নগরবাসী ও দেশবাসীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, তাদের আজ কোনো মৌলিক অধিকার নেই। ইশরাক হোসেন বলেন, আমি কথা দিয়েছিলাম, জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়ায়। প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করার। আমি এবার ব্যর্থ হয়েছি, সফল হতে পারিনি। সিটি নির্বাচনে নগরবাসীর সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় শুরু থেকে আমাদের নানাভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু কোনো বাধা আমাকে দমাতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, আমি ঘুমের মধ্যেও আমার বাবার শেষ সময়ে দুঃখগুলো দেখতে পাই। তারপরও আমি প্রতিদিন সকালে উঠে হাসি মুখে টানা ২১ দিন নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছি। ৬০০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছি। আমরা ধানের শীষের পক্ষে একটি গণজোয়ার সৃষ্টি করতে পেরেছিলাম। এগুলো দেখে ক্ষমতাসীনরা নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। সব কিছুতে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচনের দিন তারা ভোট কেন্দ্রগুলো সকাল সকাল দখল করেছে। দিনশেষে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আমি হতাশ হয়েছি। আমার একটি আশা ছিল, তারা হয়তো জনগণের ভাষা বুঝতে পারবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা করবে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য পদক্ষেপ নেবে, কিন্তু তারা আবারও দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল। ইশরাক বলেন, সবশেষে বলতে চাই, আমাদের অর্জন কম নয়। আমরা নগরবাসী দেশবাসীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে তাদের মৌলিক অধিকার আজকে আর নেই। আমি আশা করি দেশবাসী তার অধিকার রক্ষার জন্য আবারও সোচ্চার হবে। আমি সেই দিনটির অপেক্ষায় রইলাম।

চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে মেয়র নাসিরের ডাকা মহাসমাবেশ আজ

ঢাকা অফিস ॥ চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘী মাঠে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে শুরু হবে এ মহাসমাবেশ। সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী এ সমাবেশে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে গঠিত কমিটির আহ্বায়কের নেতৃত্বে ‘সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিকে না বলুন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলুন’ শ্লোগানে ওয়ার্ডের জনগণ অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা। মহাসমাবেশে চসিক মেয়রের নেতৃত্বে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ নিবেন নগরবাসী। অঙ্গীকার করবেন একসঙ্গে সুন্দর ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। ইতোমধ্যে মহাসমাবেশ উপলক্ষে লালদিঘী ময়দানে তৈরি করা হয়েছে বৃহৎ আকারের প্যান্ডেল। মাঠের ভেতরে বসানো হচ্ছে ৫টি বড় এলইডি স্কিন। এ ছাড়া কোতোয়ালী মোড়, জেলা পরিষদ মার্কেট, সোনালী ব্যাংক, লালদিঘীর পূর্ব পাশ ও সিনেমা প্যালেস মোড়ে এলইডি ডিসপ্লে বসানো সহ আন্দরকিল্লা ও নিউমার্কেট মোড় পর্যন্ত পর্যাপ্ত মাইক বসানো হচ্ছে। এ সমাবেশ সফল করতে মাইকিং ও প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে নগরজুড়ে। সমাবেশে সার্বক্ষণিক ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারী থাকবে। মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি থাকবেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল। এর আগে সোমবার সকালে সমাবেশ স্থল পরিদর্শন করেন চসিক মেয়র। পরিদর্শনকালে মেয়র লালদিঘীর দক্ষিণ অংশে একটি বৃহৎ আকারের প্যান্ডেল, মঞ্চে কার্পেট, ভিআইপি টেবিল বক্স, ডায়েস, কুসুম চেয়ার, কাঠের চেয়ার, ভিআইপি সোফাসহ মাঠে মহিলা ও মুরব্বিদের জন্য ৭ হাজার চেয়ার বসানোর নির্দেশনা দেন তিনি। নির্দেশনা অনুযায়ী এখন চলছে শেষ মুহুর্তের কাজ।

 

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলি

গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশী কৃষককে ফেরত দেয়নি বিএসএফ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে ছলেমান নামে এক বাংলাদেশী কৃষক গুলিবিদ্ধ হলে তাকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। দু’দিন পার হলেও তাকে ফেরত দেয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বর্তমানে সে বিএসএফ’র তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ছলিমেরচর সীমান্তে বিনা উস্কানিতে বিএসএফ বাংলাদেশীদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে মাঠের ক্ষেতে কর্মরত কৃষক ছলেমান (৩৭) গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। গুলিবিদ্ধ কৃষক ছলেমান ছলিমেরচর এলাকার শাহাদতের ছেলে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, ছলিমেরচর সীমান্ত এলাকার কৃষক গাজী, রুবেল, ছলেমান, আরিফুল ও সাহাবুল ১৫৭/২(এস) সীমান্ত পিলার সংলগ্ন বাংলাদেশী ভূখন্ডে নিজ জমিতে রায়-শরিষা কর্তন করছিল। এসময় ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার মুরাদপুর ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কৃষক ছলেমান গুলিবিদ্ধ হলে অপর কৃষকরা পালিয়ে প্রানে বাঁচে। পরে গুলিবিদ্ধ কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। পালিয়ে আসা কৃষক আরিফুল ইসলামের ভাষ্য ছলেমানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বিএসএফ তাকে বেধড়ক মারপিট করে। ছলেমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্ষেতের পাশের একটি ঝোপে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় বিএসএফ তাকে খুঁেজ বের করে মারপিট করে। এদিকে ছলেমানকে ফেরতে নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।

কুষ্টিয়ায় অস্ত্র মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থানার একটি অস্ত্র মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী আদালতে আসামীদ্বয়ের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাবলু হোসেনের ছেলে শিপন (২৮) এবং মৃত: ইদ্রিস আলীর ছেলে রফিকুল আলম ওরফে বাদশা(৪০)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টায় একটি হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার আসামী শিপন ও রফিকুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি এবং দেখানো মতে ইবি থানাধীন শিবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বর হতে মাটিতে পুঁতে রাখা একটি বিদেশী পিস্তলসহ ৪ রাউন্ড গুলিভর্তি অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব-১২ এর একটি দল। এই ঘটনায় র‌্যাব বাদি হয়ে ইবি থানায় মামলা দায়ের করে।  মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১ নভেম্বরে আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কৌশুলী (পিপি) এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- কুষ্টিয়া ইবি থানার এই অস্ত্র মামলাটিতে আসামী শিপন ও রফিকুল আলম বাদশা বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে চার্জ গঠন পূর্বক দীর্ঘ স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় অস্ত্র আইনের দন্ডবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

পুলিশের জন্য ৬৫ হাজার ডলার দিয়ে আনা হলো ৬টি ঘোড়া

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ভারত থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ছয়টি ঘোড়া আমদানি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে পেট্রাপোল বন্দর থেকে ভারতীয় একটি হর্স অ্যাম্বুলেন্সের ট্রাকে করে ঘোড়াগুলো বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ওসি মামুন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, গতকাল বুধবার সকালে ঘোড়াগুলো ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ঘোড়াগুলোর সাপ্লাইকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ঢাকার মহাসিন ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মহাসিন ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক এনামুল হক বলেন, ঘোড়াগুলো বাংলাদেশ পুলিশের জন্য কেনা হয়েছে। ঘোড়া ছয়টির দাম ৬৫ হাজার ডলার বলেও জানান তিনি। জানা গেছে, কলকাতার বারাসাত এলাকার বিধাতা সাপ্লায়ারস নামের একটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে ঘোড়াগুলো ক্রয় করা হয়েছে। শার্শা উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, বেনাপোল বন্দরে ঘোড়াগুলো প্রবেশের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেগুলো সুস্থ মনে হওয়ায় ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ওসি মামুন খান বলেন, আমদানি করা ঘোড়া দ্রুত খালাসের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।