ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিবে যুক্তরাজ্য

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাজ্য ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুসংহত করতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল, কালচার, মিডিয়া অ্যান্ড স্পোর্ট মন্ত্রী ম্যাট ওয়্যারম্যান যুক্তরাজ্য সফররত তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠককালে এই প্রতিশ্র“তি দেন। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ওয়েস্টমিনস্টারে আয়োজিত বৈঠকে তারা দু’দেশের পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পলক বৈঠককালে ম্যাটকে জানান, বাংলাদেশে দ্রুত বিকাশ লাভ করছে ডিজিটাল অর্থনীতি। দেশের ১০ কোটির মতো মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। আর এটি ডিজিটাল অর্থনীতির সবেচেয়ে সম্ভাবনাময় দিক। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে ডিজিটাল হচ্ছে। পলক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে ডিজিটাল অর্থনীতির ৩টি এজেন্ডা গ্রহণ করেছে। এগুলো হলো প্রযুক্তি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, দেশের সব নাগরিককে ব্রডব্যান্ড সংযোগের আওতায় নিয়ে আসা এবং ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলা। মোবাইল ব্যাংকিং থেকে ডিজিটাল ওয়ালেটে রূপান্তরের কাজও শেষ পর্যায়ে। দেশের নারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ে উল্লেখযোগ্য হারে এগিয়ে আসছে। তরুণ্য শক্তিই এই ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন। বৈঠকে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত সাদিয়া মুনা তাসনিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম বাংলাদেশকে কীভাবে দেখছে সে বিষয়টি ম্যাটের দৃষ্টিতে আনা হয়। তাকে জানানো হয়, অনলাইন শ্রমশক্তির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সাশ্রয়ী শ্রমবাজার এবং মূলধন ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাজ্যের আইটি কোম্পানিগুলোও বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছে। মূলত: ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার পর দেশ এখন ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে হাঁটছে। বৈশ্বিক বিভিন্ন অর্জন ও উপাত্ত তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একসময় কৃষির অবদান ছিলো ৮০ শতাংশ। এখন দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান মাত্র ১৯ শতাংশ। তারপরও বাংলাদেশ এখন খাদ্য উদ্বৃত্বের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। মেধা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে খাদ্য উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। আবার উৎপাদিত কৃষি পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে এখন ব্যাপকভাবে ডিজিটাল মাধ্যম, মোবাইল পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে। ফেসবুকের মাধ্যমেও হাজার হাজার তরুণ গড়ে তুলছে নিজেদের কর্মসংস্থান। বৈঠকে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে অভাবনীয় বলে উল্লেখ করেন ম্যাট ওয়্যারম্যান। তিনি ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার ব্যাপারে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারস্পারিক যোগাযোগ ও মতবিনিময় করা, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বিষয়ে সক্ষমতা তৈরি করতে ইমার্জিং টেকনোলজি, আইওটি, বিগ ডাটা, ব্লক চেইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তি সম্পর্কে যৌথভাবে গবেষণা বিষয়ে উভয়ে একমত পোষণ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক ও ফিনটেক এরিয়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার লক্ষে দুই দেশের মধ্যে যৌথভাবে সমঝোতা চুক্তির সম্পাদনের বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। চলতি বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আইসিটি বিভাগ দেশি-বিদেশি স্টার্টআপদের জন্য “বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্ট” ঘোষণা করেছে। এতে ব্রিটিশ স্টার্টআপগণও অংশগ্রহণ করবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

পুলিশের ওপর ‘হামলা’, নবনির্বাচিত কাউন্সিলর শাখাওয়াত গ্রেপ্তার

ঢাকা অফিস ॥ পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলর মো. শাখাওয়াত হোসেন। সোমবার রাতে খিলগাঁও এলাকা থেকে এই কাউন্সিলরের সঙ্গে তার ছেলে, ভাতিজাসহ আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান জানিয়েছেন। গত ১ ফেব্র“য়ারি ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রেডিও প্রতীক নিয়ে ভোট করে উত্তরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থক শাখাওয়াত হোসেন। খিলগাঁওয়ের ওসি মশিউর রহমান বলেন, “সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে খিলগাঁও পল্লীমা ক্লাবের সামনে পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই আব্দুল মজিদের সঙ্গে কাউন্সিলর ও তার লোকজনের গন্ডগোল হয়। “পরে ওই এসআই কর্তব্য কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে শাখাওয়াত হোসেনসহ আটজনের নাম উলে।লখ এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের নামে থানায় মামলা করেন।” ওসি বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো রিমান্ড চাওয়া হয়নি।

গাংনীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামে পানিতে ডুবে নাঈম হোসেন (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশু নাঈম ধানখোলা গ্রামের উত্তরপাড়ার জেহাদ আলীর ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির আঙ্গিনায় স্থাপনকৃত টিউবওয়েল-এর পরিত্যক্ত গর্তের পানিতে ডুবে শিশু নাঈমের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সকালে নাঈমের মা বাড়ির কাজ-কর্ম করছিলেন। এবং নাঈম বাড়ির উঠানে খেলা করছিল। সে খেলতে-খেলতে টিউবওয়েল-এর পরিত্যক্ত গর্তের নিকটে যায়। এক পর্যায়ে অসাবধানবশত ওই গর্তে পড়ে ডুবে যায়। প্রতিবেশীরা  তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপে¬ক্সে নেয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এসময় কুষ্টিয়া নেয়ার পথে মারা যায়।

ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অতুল চন্দ্র সাহার পরলোকগমন

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অতুল চন্দ্র সাহা সোমবার দিবাগত রাত ৩ টার সময় ঝাউদিয়াস্থ তার নিজ বাসভবনে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোক গমন করেছেন। তার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন পরিবারের সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অতুল চন্দ্র সাহা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রথমে আব্দালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি ১৯৮৫ সালে ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গণিতের শিক্ষক হিসেবে  যোগদান করেন। তিনি ২০০৯ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক  রেজাউল হক অন্য স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলে বর্তমান প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার বিশ্বাস যোগদানের পূর্বে প্রায় ৬ মাস সুনামের সাথে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের মার্চ মাসে তিনি ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে কাঁদিয়ে অবসরে যান। তিনি ঝাউদিয়া বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অংক বিষয়ের গুণী শিক্ষক ছিলেন। তিনি এক মেয়ে ও তিন ছেলে সন্তানের জনক। এ ঘটনায় মৃত শিক্ষক পরিবার ও তার স্কুলে শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে।

স্কলাসটিক অনলাইন ইন্সটিটিউটের উদ্বোধন

ঈড়সব ঃড় ষবধৎহ, এড় ঃড় ংবৎাব শিখো এবং শেখাও এই  শ্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করল স্কলাসটিক অনলাইন গত ২ ফেব্র“য়ারি সন্ধ্যায় হাউজিং ডি-১২, রোড নং-৮, কুষ্টিয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে কেক কেটে যাত্রা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে স্কলাসটিক অনলাইনের প্রতিষ্ঠাতা  মো ইয়াসিরুল ইসলাম ও মো: আবু তালহা তাদের  স্বাগত বক্তব্যে বলেন এটি এমন একটি প্লাটফর্ম  যেখানে রয়েছে ঈধভব ভড়ৎ ঋৎরফধু, খধহমঁধমব পষঁন, ঔড়ন যধপশবৎ পষঁন ও ড়হষরহব ষবধৎহরহম. ঈধভব ভড়ৎ ঋৎরফধ যা প্রতি শুক্রবার বিকেল ৩ টায় শুরু হয়ে রাত ৯ পর্যন্ত খোলা থাকবে। যেখানে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে ইংরেজি ভাষায়। তারা বলেন, ইংরেজি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা এই ভাষা ভীতি অনেকের মাঝেই বিদ্যমান । ইংরেজি ভীতি দুর করতেই এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্দ্যোগ  নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ক্যাফেতে একাধিক ইংরেজি পত্রিকা পাঠ ও ইংরেজি মুভি উপভোগের সুযোগ রয়েছে। আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের অধিনে একটি ইংরেজি ভাষা ক্লাব থাকবে যেখানে এ ভাষা শেখায় আগ্রহীরা বিভিন্ন এ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে ভাষা দক্ষতা সহজে আয়ত্ব করতে সক্ষম হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ ক্লাবের সদস্য কোন ফিস ছাড়ায় অংশ গ্রহনের সুযোগ পাবেন। জব হ্যাকার ক্লাবে প্রতিষ্ঠানের আরও একটি অংশ যেখানে চাকরি প্রত্যাশিদের জন্যে প্রতি শুক্রবার সকাল ১০ থেকে সাড়ে ১১টায় প্রতিযোগিতা মূলক সরকারি বেসরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা অংশগ্রহনের ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারকারীদের পুরষ্কার প্রদান করা হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম বলেন- প্রতিষ্ঠানটি পূর্নউদ্দ্যোমে দক্ষ নাগরিক গড়াতে কাজ করে যাবে। নি:সন্ধে এটা একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্দ্যোগ শিক্ষার্থীরা কফি  খেতে  খেতে ইংরেজি চর্চা করবে। এধরনের উদ্দ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে হানিফ

বঙ্গবন্ধু মানেই লাল সবুজের পতাকা

আল-মাহাদী ॥ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, জয় বাংলা রণাঙ্গনের শ্লোগান। যে শ্লোগানে বাংলার মুক্তিকামী মানুষ উদ্দীপ্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো। সেই শ্লোগান নিষিদ্ধ করেছিল বিএনপি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছিল বিএনপি। তিনি গতকাল  মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজে নবীন বরণ ও বঙ্গবন্ধু কর্ণারের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানেই লাল সবুজের পতাকা। বঙ্গবন্ধু’র দৃঢ় নেতৃত্বেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। বিএনপির আমলে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এর ভাষন বাজানো যেতো না। তারা নিষিদ্ধ করেছিল। অথচ সেই বক্তব্যই আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বক্তব্য হিসেবে ইউনেসকো সংরক্ষন করেছে। বাঙ্গালী হিসেবে আমরা গর্বিত বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের জন্য। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক রাজা, কানাডিয়ান সরকার’র নিগোসিয়েটর, অবসর প্রাপ্ত প্ল্যানিং ডাইরেক্টর রবিউল আলম, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়’র সাবেক সচিব যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রশিদুল আলম, শহীদ আব্দুর রব  সেরনিয়াবাত এর কন্যা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ’র উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মিসেস হাবিবা আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভাগ্নী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর’র অবসর প্রাপ্ত পরিচালক শহিদুল আলম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ’র সহ সভাপতি এম এ আজিজা খানম কেয়া, মিসেস ফাতেমা আশরাফী প্রমুখ।

কুষ্টিয়ার খোকসায় জার্মান প্রবাসী এক যুবককে কুপিয়ে জখম, ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে অপপ্রচার

কুষ্টিয়ার খোকসায় জার্মান প্রবাসী এক যুবককে কুপিয়ে জখম, ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে অপপ্রচার

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় জার্মান প্রবাসী এক যুবককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ জানুযারী খোকসার সেনগ্রাম মুরগীডাঙ্গা এই ঘটনা ঘটে। আহত যুবক সিহাবুর রহমান সোহাগ খোকসার তাহেরপুর গ্রামের আলতাফ মাস্টারের ছেলে। সে বর্তমানে জার্মান প্রবাসী। এই ঘটনায় সোহাগের বাবা আলতাফ হোসেন মাস্টার অভিযুক্ত ওমাঃ ওসমান ও তার সহযোগিদের নাম উল্লেখ করে খোকসা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরী করার পর থেকে ওসমানসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা আরো বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সোহাগকে মারধরের ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগে ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযুক্ত মোঃ ওসমান খোকসার সেনগ্রাম মুরগীডাঙ্গা গ্রামের মোঃ আতাই মোল্লার ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেদের মাদকে আসক্ত করাসহ ইভটিজিং ও বিভিন্ন মেয়েদের সাথে প্রতারনার অভিযোগ আছে। মারপিঠে আহত সিহাবুর রহমান সোহাগের বাবা জানান, আমার ছেলে কয়েকদিন আগে জার্মানি থেকে দেশে এসেছে। আমার ছেলে যাতে জার্মানি ফিরে যেতে না পারে এইজন্য ওসমানসহ তার সহযোগিরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে। জার্মান প্রবাসী যুবক সিহাবুর রহমান সোহাগ জানান, আমি পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে সাইপ্রাস যায়। সেখানে একটি কলেজে পড়াশোনা করা অবস্থায় ওসমান আমার সাথে যোগাযোগ করে এবং সাইপ্রাস যাওয়ার ইচ্ছাপোষন করে। এলাকার ছেলে হিসেবে আমি তাকে জানাই আমি যতটুকু পারি তাকে সহযোগিতা করবো। এরপর আমি তাকে পাসপোর্টসহ তার একাডেমিক কাগজপত্র প্রস্তুত করার কথা বলি। সাইপ্রাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরে দুইটি সময়ে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। আমি তাকে সাইপ্রাসের কাতা ইউনিভার্সিটি কলেজে হোটেল ম্যানেজমেন্টে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং সে নিজেও সেখানে ভর্তি হতে চেয়েছিলো। ওসমান প্রথমবার আবেদন করার আগে কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সে আমাকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পাঠায়। প্রথমবার আবেদনের পর তার ভিসা হয় না। আমি এসময় সাইপ্রাস থেকে ক্রেডিট ট্রান্সফার নিয়ে জার্মানীতে চলে আসি। আমি ওসমানকে পরামর্শ দেই সে যেন পরবর্তী সেমিস্টারের জন্য পূনরায় আবেদন করে। কিন্তু ওসমান আবেদন না করে কিছুদিন পরে আমাকে বলে আমি সাইপ্রাসে যাবো না আমার টাকা ফেরত দিতে হবে। আমি তখন তারে বলি ঠিক আছে টাকা ফেরত দিয়ে দিবো। কয়েকদিন পরেই তার পাঠানো ২ লক্ষ ২০ টাকা তাকে ফেরত দিয়ে দিই। সে তখন দাবি করে বসে সাইপ্রাসে যাওয়ার জন্য তার আরো কিছু টাকা খরচ হয়েছে। পাসপোর্টসহ কাগজপত্র গোছাতে ৩০ হাজার টাকা খরচ দাবি করে বসে। আমি ওরে বলি আমি তোমাকে কেন টাকা দিবো, তুমি সাইপ্রাস যাবা তোমার একবার ভিসা হয়নি আবার চেষ্টা করো আমি কেন টাকা ফেরত দিবো। তখন ওসমান আমাকে বলে আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না, আপনি একটু সহযোগিতা করেন। আমি এলাকার ছেলে হিসেবে ওর অনুরোধে বলি ঠিক আছে আমি তোমাকে কিছু টাকা দিবো। এরপর আমি তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি কিন্তু সে ৩০ হাজার টাকাই দাবি করে বসে। আমি আর তাকে টাকা পয়সা দিতে পারবো না জানালে সে সহ তার চাচাতো দুইভাই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকী ধামকী দিতে থাকে। আমি দেশে আসার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে জানয়ারি মাসের ৩১ তারিখ তার বাড়িতে যায়। আমি ওর বাড়িতে গিয়ে কথা বলা শেষে ফিরে আসার সময় তার বাড়ির পাশে একটি ব্রীজের কাছে আমার এক আত্বীয়ের সাথে দেখা হলে আমি তার সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে ওসমানসহ তার কয়েকজন সহযোগি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে মারপিট করে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই সে সহ তার সহযোগিরা বেধড়ক মারপিঠ করে আহত করে। আমার মাথায় মারাত্বক জখম হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমি খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। বর্তমানে আমার মাথায় ১০টি সেলাই দেওয়া লেগেছে। দুইদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর ছাড়পত্র নিয়েছি। আমি এই ওসমানের শাস্তি চাই, পাশাপাশি ও যেন আর কোন নিরপরাধ মানুষের সাথে প্রতারনা না করতে পারে এই ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ওসমানের বিরুদ্ধে এলাকায় বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে। সে একজন নিয়মিত মাদকসেবী বলেও জানান স্থানীয়রা। শুধু সেবন নয় সে মাদকের ব্যবসা এবং উঠতি বয়সী ছেলেদেরকে মাদকে আসক্ত করার অভিযোগ রয়েছে এই যুবকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় মেয়েদের সাথে ইভটিজিংসহ বিভিন্ন এলাকার নারীদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন ও তাদের কাছ থেকে প্রতারনার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ স্বর্নালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এই রকম একটি ঘটনায় দুই মাস মত আগে কুষ্টিয়ার এক নারী খোকসা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওসমান তার সাথে পরকিয়ার সম্পর্ক করে বেশকিছু স্বর্নালঙ্কার হাতিয়ে নিয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ তাকে আটক করলে স্থানীয় আমবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য মোক্তার হোসেন ও ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কাশেম ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ওসমানকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

ঘটনার সতত্য স্বীকার করে আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মোক্তার হোসেন ও ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কাশেম জানান, একটি  মেয়ের সাথে ওসমানের ঝামেলা হয়েছিলো পরে ৪০ হাজার টাকায় মীমাংসা হয়।

 

’অযোগ্য’ ইসির দায়িত্ব ছাড়ার দাবি সংসদে

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটার খরার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ‘অযোগ্য’ ‘অপদার্থ’ আখ্যা দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনে ইসির ভূমিকার সমালোচনা করে এই আহ্বান জানান তিনি। হারুন বলেন, “গত ১ তারিখ বাংলাদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ প্রসঙ্গে আপনার দৃষ্টিতে (স্পিকার) আনতে চাই যে নির্বাচন কমিশন যে ফলাফল দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটা সিটি কর্পোরেশনে তাদের যে ফলাফল, একটা সিটি কর্পোরেশনে মাত্র ২৪%। আরেকটা সিটি কর্পোরেশনে মাত্র ২৭%। “এখানে বাংলাদেশে যত জায়গায় নির্বাচিত বডি রয়েছে কার্যক্রম চালানোর  ক্ষেত্রে মিনিমাম…। আমার কথা হচ্ছে, যেখানে এক-তৃতীয়াংশ ভোটার উপস্থিত হল না, এই নির্বাচনের কি কোনো গ্রহণযোগ্যতা আছে মাননীয় স্পিকার?” প্রচার-প্রচারণায় সরগরম থাকলেও শনিবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ইভিএমে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণে ২৯ ও উত্তরে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের আমলে মানুষ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদে রোববার হরতালও ডেকেছিল দলটি। হারুন বলেন, “এই নির্বাচনের কি কোনো বৈধতা আছে? যেখানে সিংহভাগ মানুষ সংখ্যগরিষ্ঠ মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারল না। “মাননীয় স্পিকার আপনার দৃষ্টিতে এ কারণেই নিয়ে আসতে চাই, সংবিধানটা যখন প্রণয়ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও কোথাও নির্বাচনে ৩০ ভাগের কম ভোটার উপস্থিতির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে এটা যদি ভাবত, তাহলে ওখানে সংখ্যা নির্ধারণ করে দিতে যে কম করে হলেও ৫০ ভাগ ভোটার উপস্থিতি ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।” ইভিএমের বিরোধিতা করে হারুন বলেন, “আজকের পত্রিকায় বলছে, ইভিএমে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। মানবজমিনের প্রথমেই এই নিউজ। আজ ইভিএম নিয়ে এত কথা বলা হচ্ছে, ইলেকট্রনিক যন্ত্র। এখানে কিছু করা যায় না।” ইসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশনের আমল ছাড়া অতীতে কোন সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনে ৫০ ভাগের কম ভোটের নজির নেই মাননীয় স্পিকার। “যে কারণে মনে করি, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণ করার ক্ষেত্রে টোটালি ব্যর্থ। অযোগ্য,অপদার্থ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিত। জনগণের এই অবস্থা থেকে অবিলম্বে মুক্তি দেবে বলে আশা রাখি।”

সিডিএল ট্রাস্ট’র উদ্যোগে পাঠচক্রের আয়োজন

নিজ সংবাদ ॥ সিডিএল ট্রাস্ট’র উদ্যোগে আবুল কালাম আজাদের সহযোগিতায় এক পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়। গতকাল ৪ ফেব্র“য়ারি বিকেল ৫ টায় সিডিএল ট্রাস্ট মিলনায়তনে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটির উপর এ পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়। সিডিএল এর আজীবন সদস্য ও নারী ফোরাম সদস্য তানজিমা রহমান তানি বইটি পাঠ শুরু করেন। পরবর্তীতে জেসমিন হোসেন মিনি, হাসিনা রহমান, আসমা আনসারী মিরু, সালমা পারভীন, হোসনে আরা আফরোজ, আলাউদ্দিন আহমেদ, মীর আবু কালাম আজাদসহ অন্যান্যরা বইটি পাঠ করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নজরুল ইসলঅম। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আক্তারী সুলতানা।

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও লিফলেট ক্যাম্পেইন

‘ও অস অহফ ও ডরষষ’  এবারে ২০১৯-২০২১ তিন বছরের প্রতিপাদ্য “আমি আছি, আমি থাকব” ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়বো। প্রাণঘাতী ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে বিশ্বব্যাপী ৪ ফেব্র“য়ারি পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছর বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। জনসচেতনতার লক্ষে দিবসটিতে কুষ্টিযার পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনে সাফ‘র আয়োজনে মানববন্ধন ও ষ্টিকার ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। সাফ‘র নির্বাহী পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাকের পরিচালনায় লিফলেট ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন হোমিও ডাক্তার আফরোজা খাতুন ও হারুন অর রশিদ। বক্তাগণ বলেন, প্রতিরোধ নিরাময়ের চেয়ে ভালো। মানুষ সচেতন হলে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সার থেকে অনেকাংশে রক্ষা করা সম্ভব। এবারের প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমরা সবাই যেন বলি, “আমি আছি, আমি থাকব” ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়বো। মীর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ক্যান্সার প্রতিরোধে ফাস্টফুড, কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিঙ্কস নিয়ন্ত্রণে সারচার্জ আরোপ করা হোক। বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখ ক্যান্সার রোগী রয়েছে। প্রতিবছর দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষ এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় এক লাখ আট হাজার মানুষ মারা যায়। ৩৬ ধরনের ক্যান্সারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যার মধ্যে খাদ্যানালি, মুখ, স্তন, ফুসফুস ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার অন্যতম। বিশ্বে প্রতি বছর ৮২ লাখ মানুষ ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করে। ক্যান্সারে আক্রান্তের অধিকাংশই হচ্ছে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক। এ সকল রোগে আক্রান্তদের ভোগ করতে হচ্ছে অবর্ণনীয় কষ্ট এবং চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে প্রচুর অর্থ ও সময়। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসতন্ত্র ও ক্যান্সার এর মতো ভয়াবহ অসংক্রামক রোগ সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার। একটু সচেতন হলেই এ রোগগুলো অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। ফাস্টফুড, কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিঙ্কস, মোড়কজাত ক্যামিকেল জুস ও চিপসসহ সকল প্রকার অস্বাস্থ্যকর খাদ্যই ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এসকল পণ্য নিয়ন্ত্রণে আমাদের দাবি: * ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুড এর উপর উচ্চ হারে কর আরোপ করা হোক। * সকল ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবারের উপর ১% হারে সারচার্জ আরোপ করা হোক। * অস্বাস্থ্যকর খাবার উৎপাদনকারীদের স্পন্সরশীপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। * অস্বাস্থ্যকর খাবারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরীতে উদ্যোগ গ্রহণ করা। * রোগ প্রতিরোধে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন চাই। তামাক নয়, জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেয়া হোক। সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করণের মাধ্যমে এসডিজি‘র ৩নং গোল অর্জিত হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 ॥ নাজীর আহ্মদ জীবন ॥

আত্মার উর্দ্ধগতি আর অধোঃগতি

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “আমার (অবাধ্য) উম্মতেরা কেয়ামতের দিন উঠবে বিভিন্ন আকৃতির দলে, কেহ বানর, কেহ বাঘ, আবার কেহ শূকর রূপে।” (বুখারী শরীফ) আল্লাহ বলেন; “হে রাসূল! এরা আপনার কাছে জানতে চায় “আত্মা কি জিনিষ, আপনি বলে দিন ‘আত্মা’ হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে আমার আওতাধীন একটা বিষয়। এ সম্পর্কে (সৃষ্টি রহস্য)  তোদের খুব কম জ্ঞান দেয়া হয়েছে।” (সূরা বনী ইসরাইল) বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ্ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ) বলেছিলেন (১৯-১২-৮১ তে) ঃ আত্মার কোন আকার  নেই, রং নেই, গন্ধ নেই, আমাদের কর্মের ছাপ আত্মার  উপর পড়ে। ভাল কাজ করলে তার প্রতিফল আত্মাতে হয়, খারাপ কাজ করলে তার প্রতিফলও আত্মাতে হয়। কোরাণে আছে, সর্ব অংগ স্বাক্ষি দিবে। তাহলো; আমাদের আত্মা কর্মের ফলে মানব আত্মা আবার পশু আত্মায় রূপ নিবে। তখন হাত, মুখ এসব পশুর মতো হবে। তাই, ফেরেশ্তা এসে এরূপ দেখে বুঝতে পারবে কে কি করেছে। অর্থাৎ হাত, মুখ, পা স্বাক্ষী দিবে বা বলে দিবে। আত্মা এক অদৃশ্য আলো। যা পানিতে ভাসতে পারে যে কোন বস্তু ভেদ করে চলে যেতে পারে। পৃথিবীর কোন এক্সরে মেশিন বা কোন যন্ত্র একে ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে না।

বিদ্যুতের আলো যদি ডিম লাইট অর্থাৎ ০ শক্তি, ২০০ শক্তি, ১০০০ শক্তি হতে পারে তবে আত্মা হবেনা কেন? ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্র (অধোগতির জন্য) আবার আত্মার উৎকর্ষ সাধনে তা বৃদ্ধি পেতে পেতে মহা আলো বা শক্তিতে পরিণত হতে পারে। বা আল্লাহর আলোর সাথে মিলিত হতে পারে। যদি শহীদের আত্মা সুবজ পাখির মধ্যে দেয়া হয় যার ফলে সবুজ পাখি হয়ে জান্নাতে উড়ে বেড়ায় শহীদের আত্মা। প্রশ্ন আসে তাহলে অধোঃপতিত পাপীর আত্মা কেন নিকৃষ্ট পাখিতে ফুঁকে দেবে না? যেমন ঃ কাক, প্যাচা, ইত্যাদি। ইমাম (রঃ) বলেনঃ আত্মার উর্দ্ধ ও অধোঃগতি আছে। আত্মার উন্নতি সাধন করতে পারলে তখন আপনি কোথায় কি হচ্ছে বলে দিতে পারবেন। আত্মার অধোঃগতি হলে তখন আত্মার রূপ বিকৃত হয়। এ ধরণের আত্মা অনেক সময় ভর করে। (আল্লাহ ও মুর্শিদ হতে প্রাপ্ত জ্ঞান)  (২৯-০১-২০২০)

আত্মার উর্দ্ধগতি, পরমাত্মায় মিলন। কারণ; আত্মা, পরমাত্মা হতে  আগত। তাই ঐ পরমাত্মার সাথে যোগাযোগ করতে পারলে মানবাত্মা অসাধারণ শক্তি অর্জন করে। তখনই হয়Ñ“মোমেনের অন্তকরণ আল্লাহর আরশ। মানব জনম তখন হয় স্বার্থক আর আত্মার মুক্তি। তখন মানুষ হয় “আশরাফুল মাখ্লুকাত।” তার পূর্বে নয়।” মানবীয় জৈব শক্তি (ারঃধষ ভড়ৎপব) হচ্ছে আল্লাহর এই রুহ বা আত্মা। যা মানব সত্তা ও তার অন্তঃকরণের  মধ্যখানে অবস্থিত। আত্মার অধোঃগতি প্রসঙ্গে ইমাম (রঃ) বলেছিলেন; “একদিন ঈসানবী রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এমন সময় একটা মানুষের মাথার খুলি তার পায়ে লাগলো। তিনি এভাবে মানুষের খুলির করুণ অবস্থা জানতে চাইলেন। রূহানী শক্তির দ্বারা তিনি উক্ত  মানুষের আত্মাকে হাজির করে কথা বললেন। ঈসার এই শক্তি বেশী ছিল। যার জন্য তিনি, ‘ঈসা রুহুলুল্লাহ’। আদম শফিউল্লাহ্ থেকে ঈসা হয়ে এটা এসে থাকে। তবে এটা নিয়ন্ত্রণ করেন রাসূল (সাঃ)। রুহুকে উনি জিজ্ঞাসা করেন কতদিন তুমি এ অবস্থায় আছ? বললো, তিন হাজার বছর। রুহু ক্রন্দন করতে থাকলো। বললো; আমি দুনিয়াতে  জীবিত কালে বহু পাপ করি। তাই, মৃত্যুর  পর আমার রুহু এরূপ আকৃতি ধারণ করে। আল্লাহ বলেছেন; ‘যদি কোন দিন তোর মাথা জামানার নবীর পায়ের সাথে ঠক্কর খাই, তবে সেদিন যদি তিনি দোয়া করেন তো তুই সেদিন বেহেস্তে বা মুক্তি পাবি।’ একথা বলে রুহু ক্রন্দন করতে করতে মুক্তির জন্য দোয়া চাইলো। ঈসা, দোয়া করলেন। ফলে উক্ত রুহু মানুষের আকৃতি পেয়ে ‘আলমে-আরওয়ার’ (আত্মার জগতে) জগতে উঠে গেল।

হযরত ইব্রাহীম কেয়ামতের দিনে তার পিতার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং কৃষ্ণবর্ণ দেখে বলবেন; “হে খোদা! দুনিয়াতে তুমি আমার দোয়া কবুল করেছো, এখন  কেয়ামতের দিন তুমি আমার অবস্থা শোচনীয় করো না। অর্থাৎ আজকে পিতাকে যে অবস্থায় দেখছি তা দুঃখজনক। তখন আল¬াহ বলবেন; “হে ইব্রাহীম। আমি কাফেরদের প্রতি বেহেশ্ত হারাম করে দিয়েছি।” হাদীসটির সারমর্ম হচ্ছে; ইব্রাহীম (আঃ) তার পিতা আযরের দুরবস্থা দেখে তার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ্তা’য়ালা আযরকে কেয়ামতের দিন বন্য পশুর আকৃতিতে রূপ দিবেন। যেনে দেখে ইব্রাহিমের ঘৃণার উদ্রেক হয়।

সময়টা ১৯৮২ এর কোন একদিন। আমি, আমার মহান বন্ধু বারোশরীফের  মহান ইমাম (রঃ) এর কাছে বসে। উনি চেয়ারে বসে রুটি খাচ্ছেন। সামনে একটা কুকুর বসে। অর্ধেক খেয়ে একটা রুটির টুকরা কুকুরটার দিকে ছুড়ে দিয়ে বললেনÑ ‘নে, খা, মুক্তি পেতে হবে।” সেদিন এর রহস্য বুঝতে পরিনি। পরে মুর্শিদ হতে জ্ঞান পেয়ে বুঝেছিলাম। বললেন; একবার মনে করে ছিলাম বারো শরীফ দরবারে পশু জবাই করা (গরু-ছাগল) বন্ধ করবো। তখন আমাকে বলা হলো না এটা চলতে থাকবে। এতে এসব পশু আত্মাগুলো (যা মানব আত্মার অধোগতি) ভাল কাজে ব্যবহার হওয়ায় মুক্তি পাবে।” তাই বারো শরীফের ইমাম (রঃ) মানুষের আত্মার মুক্তির জন্য দোয়া করতেন; এবং এখনও করা হয়Ñ“আমরা মানুষ রূপে দুনিয়ায় এসেছি, যেন মানুষ রূপে ফিরে যেতে পারি।”

“জামালুল কুলুব কিতাবে” আছে; মোগল আমলে দিল¬ীর শাহি জামে মসজিদের ইমাম প্রত্যেক দিন একটা দোকানে গিয়ে পান খেতেন। একদিন দোকানদার দোয়া চাইলে ইমাম দোয়া করলেনÑ‘ইসকো ইন্সান বানাদো আল্লাহ’ Ñ অর্থাৎ ‘ হে আল্লাহ একে মানুষ বানিয়ে দাও।’ দোকানদার প্রতিদিনই দোয়া চায় ইমাম ও একই দোয়া করেন। একদিন বিনয়ের সঙ্গে দোকানদার প্রশ্ন করল হুজুর, আমি দোয়া চাই আমার ব্যবসার উন্নতি হওয়ার জন্য।

কিন্তু  আপনি দোয়া করেন, আমাকে মানুষ বানিয়ে দেয়ার জন্য। আমার মা মানুষ, বাবা, মানুষ, আমি মানুষ। তাহলে এ দোয়া কেন? ইমাম মুচকি হেসে তার মাথার পাগড়ি খুলে দোকানদারের মাথায় দিয়ে বললেন; চোখ বন্ধ করে বল কী দেখতে পাও? দোকানদার চিৎকার দিয়ে বললো খোদার কসম, সারাটা দুনিয়া হাতের তালুর মতো দেখতে পাচ্ছি। সমগ্র দুনিয়া পশুতে ভরপুর। অনেক দুরে মাত্র দু’একজন মানুষ দেখা যায়। আবার কারও অর্ধেক শরীর মানুষের বাকিটা পশুর সুরত। এখন আমি বুঝতে পারছি; কেন আপনি দোয়া করেন আমাকে মানুষ বানিয়ে দেয়ার জন্য। এই কোটি কোটি পশুর মধ্যে আমি কী ধরণের পশু, তা দেখতে চাই। ইমাম এবার তার টুপিটা দোকানদারের মাথায় দিলেন। দোকানদার নিজেকে একটা বানর আকৃতিতে দেখতে পায়। ইমাম এবার বলেন, আমি যখন পান খেতে আসি দেখি একটা বানর বসে পান বিক্রি করছে, আমি পান কিনলেই বলে; আমার জন্য দোয়া করুন। তাই, দয়াপরবশ হয়ে দোয়া করি, “খোদা একে মানুষ বানিয়ে দাও।’

মানব জনম একবরাই, আর দুনিয়াতে আসাটাই হলো এক দূর্ঘটনা যা দুঃখজনক। আমরা নফসের তাড়নাই দুনিয়াতে আসি। নফ্স নিয়ন্ত্রণ ও পবিত্র করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য তাই বারো শরীফের সূফী সাধক আওলাদে রাসূল প্রেমিক হযরত শাহ্ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ) বলেছিলেন; “আমাদের “ঝবীঃঁধষ খরভব ঈড়হঃৎড়ষষ” করে বিবাহ করা দরকার। আমরা দুনিয়াতে মানুষ রূপে আসি; যেন মানুষ রুপেই ফিরে যেতে পারি। তা না হলে এ দুর্লভ মানব জনম বৃথা হয়ে দুঃখ কষ্টের শেষ থাকবে না। তাই প্রার্থনা করি ঃ

“এমন বাঁধন দাও হে প্রভু!

বাঁধন যেন ছিড়ে না আর;

তুমি যেন বলতে না পার

বাঁধন হারা বান্দা তোমার।”

আমীন সূম্মা আমীন।*

বীরমুক্তিযোদ্ধা রশিদুল আলম প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বীরমুক্তিযোদ্ধা রশিদুল আলম প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান-২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা রশিদুল আলম প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ লাকি আক্তার। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কানাডিয়ান সরকার’র নিগোসিয়েটর, অবসরপ্রাপ্ত প্ল্যানিং ডাইরেক্টর রবিউল আলম। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়’র সাবেক সচিব যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রশিদুল আলম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ, শহীদ আব্দুর রব  সেরনিয়াবাত এর কন্যা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ’র উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মিসেস হাবিবা আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভাগ্নী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর’র অবসর প্রাপ্ত পরিচালক শহিদুল আলম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ’র সহ সভাপতি এম এ আজিজা খানম কেয়া, মিসেস ফাতেমা আশরাফী প্রমূখ।

সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ হাছানের

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রাজনৈতিক মনোবল জোরদারে ঐক্য ও অখন্ডতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নৈতিক অবক্ষয় রাজনীতি ও ব্যক্তি জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাছান বলেন, ‘যদি আমরা আমাদের সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখতে পারি, তবে অন্য কোন দল আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে পারবে না।’ গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিন্যুয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিদের সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। হাছান সতর্ক করে বলেন, নৈতিক অবক্ষয় রাজনৈতিক দলগুলোকেও গ্রাস করতে যাচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মীদের অবশ্যই তাদের সততা ও নীতি নৈতিকতাকে দৃঢ়তার সাথে ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের উচিৎ দলকে নৈতিক অবক্ষয় মুক্ত করা।’ মন্ত্রী বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আমাদের সাংগঠনিক ঐক্যের কারণেই এই সাফল্য এসেছে এবং এই নির্বাচনে আমরা আমাদের সাংগঠনিক শক্তি দেখাতে পেরেছি। ভোট কেন্দ্রগুলোর বাইরে শুধু আওয়ামী লীগের কর্মীরাই ছিলেন এমন অভিযোগের জবাবে হাছান বলেন, ‘এদেশের সকল রাজনৈতিক দলই ভোট কেন্দ্রগুলোর বাইরে ক্যাম্প স্থাপন করে। এটা তাদের একটা অভ্যাস। আওয়ামী লীগও কেন্দ্রগুলোর বাইরে ক্যাম্প স্থাপন করে এবং সেগুলোতে দলের বেশকিছু কর্মী ছিল। এ ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু বিএনপি অনেক ভোট কেন্দ্রের সামনে তাদের ক্যাম্পই স্থাপন করেনি। এটা তাদের (বিএনপি) সাংগঠনিক দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ।’ হাছান বলেন, ‘আমি মনে করি যে দলের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সাংগঠনিক শক্তিকে আরো জোরদার করতে হবে।’ মন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনীতি নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত নয়। সুতরাং আমাদের নৈতিকতার উন্নতি করা উচিৎ। আওয়ামী লীগ কর্মীদের এই সত্যটি উপলব্ধি করা উচিৎ যে, রাজনীতি একটি ব্রত। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অসামান্য সংকল্প নিয়ে সমস্ত সঙ্কটের মুখোমুখি হয়ে টানা তিনবার ক্ষমতায় রয়েছেন। তার গতিশীল নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। বিশ্বনেতা, নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী, বিশ্বব্যাংকের প্রধান, বিশ্বের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করছেন। তিনি বলেন, জনগণের সুবিধার্থে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য দেশবাসী দলকে (আওয়ামী লীগ) সমর্থনও দিচ্ছেন। তবে তারা (জনগণ) রূঢ় মনোভাব পছন্দ করে না। আমাদের উন্নয়নের কার্যক্রম বিনয়ের সঙ্গেই করা উচিৎ বলে তিনি উল্লেখ করেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বি এম মোজাম্মেল হক ও এস এম কামাল হোসেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, আসাদুজ্জামান নূর এমপি, আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সাফুরা খাতুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রংপুর বিভাগের সকল জেলা শাখার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মিরপুরে বিজিবি’র ১ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস

মিরপুর অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৪৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)’র উদ্যোগে বিপুল পরিমাণের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকালে শহীদ কর্ণেল শামসুল আরেফিন হলে এক মাদক বিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জালাল গণি খান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল জিয়া সাদাত খান, চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খালেকুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গাস্থ বিজিবি হাসপাতালের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল শাহরিয়ার আহমেদ, যশোর রিজিয়নের লজিষ্টিক পরিচালক লেঃ কর্ণেল সাইফুল আলম, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন নাহার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস, পৌর মেয়র হাজী এনামুল হক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আবু বিন ফয়সাল। এ সময়ে কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শিরিন আক্তার, কুষ্টিয়া সেক্টরের জেনারেল স্টাফ অফিসার মেজর সৈয়দ আবু হাসান, বিএসবির কমান্ডার মেজর মামুন-অর-রশিদ, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ আকুল উদ্দিন, মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু কালাম, জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মাহম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে ৪৭ বিজিবির আটককৃত ৫ হাজার ৯শ’ ৭ বোতল মদ, ৫ হাজার ৭৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩শ’ ৯২ কেজি গাঁজা, ৪৯ হাজার ৪ প্যাকেট পাতার বিড়ি, ৪৬ পিচ ইয়াবা, ৩৭ বোতল বিষ ও বিভিন্ন প্রকার ট্যাবলেট ১৬ হাজার ২০ পিচ। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ১৭ হাজার ৪৫০ টাকা।

কুষ্টিয়া শহরের ঢাকা ঝালুপাড়ায় রাস্তা ও ড্র্রেণ নির্মান কাজের উদ্বোধন করলেন পৌর মেয়র আনোয়ার আলী

গতকাল সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৭নং ওয়ার্ডের ঢাকা ঝালুপাড়া রাস্তা ও ড্রেণ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী। উদ্বোধনকালে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন- বাংলাদেশ সরকার, এডিবি এবং এফআইসি সহায়তাপুষ্ট তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতি করণ (সেক্টর) প্রকল্পের আওতায় বেসিক সার্ভিস টু দি আরবান পুয়র খাতে বস্তি উন্নয়ন কমিটি (সিচ) এর মাধ্যমে কুষ্টিয়া পৌরসভার বাস্তবায়নে এই অঞ্চলে ১৩৮৩ মিটার আরসিসি রাস্তা, ৩৪১ মিটার ড্রেন, নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও এই এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি আরো বলেন, পৌর এলাকায় ২১ টি ওয়ার্ডে ৪১ টি সিডির মাধ্যমে নারীর সহিংসতা প্রতিরোধে ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য এবং অবকাঠামো উন্নয়ন সহ দারিদ্র দূরিকরনের জন্য হাতের কাজ শেখানোর পাশাপাশি ব্যবসা অনুদান, দারিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি এবং মায়েদের পুষ্টি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। মেয়র আরোও বলেন, ২১টি ওয়ার্ডে আরো নতুন সিডিসি গঠন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো নির্মান করা হবে। আপনাদের সহযোগীতায়  পৌরবাসীর সকল নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী ১৭নং ওয়ার্ডে পৌছালে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলবৃন্দ ও  স্থানীয়রা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে স্থানীয়দের সাথে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার  কাউন্সিলর ওলিউল্লাহ, মহিলা সংরক্ষিত কাউন্সিলর সামসুন্নাহার মায়া, সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহেদুর রহমান, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা একেএম মঞ্জুরুল ইসলাম সহ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মানুষের রায় ৫-৭%, বাকিটা জাল ভোট – কামাল হোসেন

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার দুই সিটিতে ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীরা যত ভোটে বিজয়ী হয়েছেন, তার মধ্যে সর্বোচ্চ সাত শতাংশ বাদে বাকিটা ‘জাল ভোট’ বলে মনে করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মতিঝিলের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর গণফোরাম সভাপতির লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন। গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটারদের অনাগ্রহের প্রেক্ষাপটে এবার ঢাকার সিটির ভোটে নির্বাচন কমিশন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল। মেশিনে অনিয়মের সুযোগ নেই বলে ইসি আশ্বস্ত করলেও কারচুপির শংকা নিয়েই বিএনপি এতে অংশ নেয়। কিন্তু দিন শেষে দলীয় প্রার্থীদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া ও কারচুপিরসহ নানা অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, “নির্বাচিত মেয়ররা মাত্র পাঁচ থেকে সাত শতাংশ মানুষের রায় পেয়েছে। বাকি ফলাফল ইভিএমের জ্বাল ভোট। বর্তমান সরকারের আমলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এই সরকার চায় ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না যাক, তারা ভোটারদের ভয় পায়। “সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর বাংলাদেশের জনগণ ও যুব সমাজ অনাস্থা প্রকাশ করেছে। জনগণ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অর্থ- তারা মনে করে তাদের ভোটে এই সরকারের পরিবর্তন হবে না। এটা দেশ ও জাতির জন্য একটা অশনি সংকেত।”

এভিএমের ভোটে কারচুপির সুযোগ নেই বলে ইসি দাবি করলেও গোপন ভোটকক্ষে ঢুকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে বলে কোনো কোনো ভোটার অভিযোগ করেছেন। এছাড়া আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট দিতে গিয়ে অনেককে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কামাল হোসেনসহ এমন অনেকের ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসারের ১ শতাংশ ভোট দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হয়েছে। এই সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভোটের দুপুরে মাঠ পর্যায় থেকে কমিশনের কাছে প্রিজাইডিং অফিসারের ক্ষমতা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এই ক্ষমতা আর বাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছেন ইভিএম প্রকল্পের অপারেশন প্ল্যানিং অ্যান্ড কমিউনিক্যাশন অফিসার ইন চার্জ স্কোয়াড্রন লিডার কাজী আশিকুজ্জামান। গত ১ ফেব্র“য়ারির এ নির্বাচনে ভোটার নিয়ে হা-পিত্যেশের মধ্যে দিন শেষে উত্তরে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ ও দক্ষিণে ২৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশে বেশি ভোটার কেন্দ্রেই যাননি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১১ ও দক্ষিণের শেখ ফজলে নূর তাপস জয়ী ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যার হিসাবে উত্তরের নতুন মেয়র ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ ও দক্ষিণের মেয়র ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়েছেন। ঢাকার সদ্য নির্বাচিত দুই মেয়রকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে মেয়র’ বলা যাবে কিনা সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, “তাদেরকে এটা মোটেই বলা যাবে না, এটা মোটেই বলা যাবে না।” এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, “সরকার দায়িত্বহীনভাবে সংবিধানের পরিপন্থি কাজ করে গোটা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে ফেলেছে। যার ফলে এই ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। “এভাবে দেশ চলতে পারে না। জনগণকে নিয়ে আমাদেরকে পরিবর্তন আনতে হবে। এদেশের মানুষ সচেতন, তারা কখনো স্বৈরতন্ত্রকে গ্রহণ করেনি, এখনো করবে না।” খালেদা জিয়ার কারাগারে দুই বছরপূর্তিতে তার মুক্তির দাবিতে ৮ ফেব্র“য়ারি সকাল ১১টায় সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি নিয়েছে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি। ড. কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে জেএসডির আসম আবদুর রব, শহীদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন, বিএনপির আবদুল মঈন খান, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের স্ব্রুত চৌধুরী, মোশতাক হোসেন, মহসিন রশিদ, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, বিকল্পধারা নুরুল আমিন ব্যাপারী, শাহ আহমেদ বাদল,  জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে কামালের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মহসিন রশিদ।

কুষ্টিয়ায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শাখা উদ্বোধন করলেন আ’লীগ যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ

নিজ সংবাদ ॥ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ কুষ্টিয়া শাখার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল ৪ ফেব্র“য়ারি মঙ্গলবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের মীর মোশাররফ হোসেন সড়কে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ কুষ্টিয়ার এ শাখার উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি থেকে ফিতা কেটে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ কুষ্টিয়া শাখার শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ। এ সময় তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে চলেছে। চিকিৎসা সেবায় উন্নত দেশের মত বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দিকে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্য সেবা জনগণের হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়েছেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ মুস্তাফিজুর রহমান। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান সহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, জেলার চিকিৎসকবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় ছিলেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ কুষ্টিয়া শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ এর এইচ আর এ্যাডমিন অচিন্ত কুমার নাগ, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, শান্তিনগর, সাভার, বগুড়ার শাখা ব্যাবস্থাপকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

ইতালির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতের আমন্ত্রণে ৪ দিনের এক সরকারি সফরে গতকাল রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সফরকালে ৫ ফেব্র“য়ারি জিউসেপ কোঁতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে সাংস্কৃতিক বিনিময়, রাজনৈতিক বিষয় এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্পর্কিত তিনটি চুক্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি বিমান সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ইতালির রাজধানী রোমের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করেছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কৃষি মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), কূটনীতিক কোরের ডিন এবং বেসরকারি ও সামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। বিমানটি স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া ৪টায় রোমের ফিয়ামিসিনো বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। মিনিস্টার প্লেনিপোটেনসিয়ারি অব ইটালিয়ান ফরেন মিনিস্ট্রি ক্রিস্টিয়ানো কোস্তাফাবি এবং ইতালিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাবেন। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রাসহকারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পার্কো দেই প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পায় নিয়ে যাওয়া হবে। ইতালির রাজধানীতে সফরকালে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। শেখ হাসিনা একই দিন সন্ধ্যায় পার্কো দেই প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পায় তাঁর সম্মানে আয়োজিত একটি সংবর্ধনায় যোগ দিবেন। তিনি ৫ ফেব্র“য়ারি সকালে রোমের ভায়া ডেল’এন্টারটাইড এলাকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের চ্যান্সরি ভবন উদ্বোধন করবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন পালাজো চিগিতে আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন। দুই শীর্ষ নেতা তাদের শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সব বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরে, ইতালীয় ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আবাসকালীন হোটেলের সভাকক্ষে সাক্ষাত করবেন। প্রধানমন্ত্রী এরপর একই হোটেলে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন। ৬ ফেব্র“য়ারি সকালে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী এদিন দুপুর ১২ টা ৫০ মিনিটে ট্রেনে রোম থেকে ইতালির মিলান শহরের উদ্দেশে যাত্রা করে স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় সেখানে পৌঁছবেন। মিলান সফরে তিনি এক্সেলসিয়ার হোটেল গালিয়ায় অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রী ৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আমিরাত এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে মিলান মালপেন্সা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। শেখ হাসিনা ৮ ফেব্র“য়ারি দুবাই হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালে ঢাকা ও রোমের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, রাজনৈতিক বিষয় এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্পর্কিত ৩টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী কৃষক গুলিবিদ্ধ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে এক বাংলাদেশী কৃষক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে সে বিএসএফ’র তত্বাবধানে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার লালবাগ বিএসএফ কমান্ডডেন্ট সদরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ছলিমেরচর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ কৃষকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এলাকাবাসীর দাবি একই এলাকার শাহাদতের ছেলে ছলেমান (৩৭)। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ছলিমেরচর সীমান্ত এলাকার কৃষক গাজী, রুবেল, ছলেমান ও সাহাবুলসহ ৫-৬জন কৃষক ১৫৭/২(এস) সীমান্ত পিলার সংলগ্ন বাংলাদেশী ভূখন্ডে নিজ জমিতে রায় কর্তন করছিল। এসময় ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার মুরাদপুর ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে এক কৃষক পায়ে গুলিবিদ্ধ হলে অপর কৃষকরা পালিয়ে প্রাণে বাঁচে। পরে গুলিবিদ্ধ কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। বিনা উস্কানিতে বাংলাদেশীদের লক্ষ্য করে বিএসএফ’র গুলিবর্ষনে সীমান্ত এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, ছলিমেরচর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ’র গুলিতে একজন কৃষক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তবে সে মারা গেছে কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ চিলমারী বিওপি’র পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রন জানিয়ে বিএসএফের নিকট পত্র প্রেরণ করা হলেও গতকাল রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ৪৭ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল রফিকুল আলম পিএসসি জানান, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী একজনের পায়ে গুলি লেগেছে। সে ভারতে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের

ভোটারদের অনীহা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয় 

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভোটের রাজনীতিতে ভোটারদের অনীহা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। এটি গভীর ভাবনার বিষয়। শতকরা হারে যে ভোট পড়ার কথা ছিল, সেভাবে পড়েনি। ভাবনার বিষয় আমাদের এতো জনসমর্থন, সেখানে আরো বেশি ভোট আশা করেছিলাম। আওয়ামী লীগের ভোটারের যে পার্সেন্টেজ সেজন্য এই ভোট আশান্বিত নয়। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। দুই সিটি করপোরেশনের ভোটের মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে কাদের বলেন, মূল্যায়ন করার জন্য আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে বৈঠক করে ভোট নিয়ে মূল্যায়ন, বিশ্লেষনসহ সবকিছু নিয়ে আমরা আলোচনা করবো, এমন চিন্তা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ওভারঅল ভোটের দুর্বলতা নিয়ে দেশে ফিরলেই মিটিং করা হবে। তিনি বলেন, এবার ইভিএমে এতো বড় এলাকায় ভোট হয়েছে, যা আগে বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও কোথাও হয়েছে। কিন্তু এতো বড় এলাকায় এটা নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে কিছু ভুল ত্রুটিও থাকতে পারে। তবে অনেকে প্রতিক্রিয়ায় বলেছে তারা সহজে ভোট দিতে পেড়েছে। এতো বড় এলাকায় দুই একটি ভুলত্রুটি হয়েছে হয়তো। ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকে দুই দিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন, পরিবহন সঙ্কটও কিছুটা দায়ি। তবুও ভালো নির্বাচন হয়েছে। বর্তমানের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি ভবিষ্যতে এড়ানো যাবে। আমার মনে হয় বিএনপি ভালো করেছে। বিএনপির পারফরমেন্স বিবেচনা করলে এই ভোটেও তাদের ভোটের সংখ্যা কম নয়। বিরোধীদল হিসাবে তারা ব্যর্থ হয়েছে তা নয়। তবে এটি গণতন্ত্রের জন্য ভালো। তিনি বলেন, ভোট কম পড়ার ক্ষেত্রে আগে ভাগে শঙ্কা তৈরী করা, ভোট দেয়া যাবে না, এ সব প্রচারণাও বড় কারণ। ফলে কিছু মানুষের আগ্রহ তো কমতেই পারে। আগে অপপ্রচার অনেক হয়েছে, ইভিএম নিয়ে, সরকারি দল নিয়ে, নির্বাচন নিয়ে, বিএনপি সতর্ক থাকবে, বাইরে থেকে লোক এনেছে; এসব ইনফরমেশন তো ছিলই। ভবিষ্যতে এই ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো জনমত তৈরী করতে ভূমিকা রাখবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, দুই সিটিতে চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচন থেকে বেশি ভোট পড়েছে। এখানে ২৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটের পার্সেন্টেজ অনুযায়ী যে ভোট পড়ার কথা ছিল তা যায়নি। সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয় আছে। ওয়ার্ড পর্যন্ত দলের কমিটি ঢেলে সাজানো দরকার। আমি সবাইকে বলেছি কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হোক। ওয়ার্ডে ও সিটিতে সম্মেলন করা দরকার। সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এগুলো বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছন্নভাবে হয়েছে যেটা হওয়া উচিত ছিল না। এ ধরনের বড় নির্বাচনে নির্বাচনী যে সংঘাত বা সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল তা হয়নি। কিছু লোক আহত হয়েছে। ভালো নির্বাচন হয়েছে একথা স্বীকার করতে হবে। কিছু ভুলত্রুটি তো থাকবেই। সাংবাদিকদের উপর যে হামলা হয়েছে ভবিষ্যতে যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে নজর রাখব। নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো সংঘাত কিংবা সংঘর্ষ হয়েছে বলে নজরে আসেনি। দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন কীভাবে মূল্যায়ন করবেন জানতে চাইলে কাদের বলেন, মূল্যায়ন করার জন্য আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বৈঠক করবেন। তখন ভোট নিয়ে মূল্যায়ন, বিশ্লেষণসহ সবকিছু নিয়ে আমরা আলোচনা করব, এমন চিন্তা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওভারঅল ভোটের দুর্বলতা নিয়ে দেশে ফিরলেই মিটিং করবেন তিনি।

কুষ্টিয়ায় নেতা কর্মিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের হানিফ

জিয়াউর রহমান প্রথম এ দেশে ভোট ডাকাতির রাজনীতি শুরু করেছিলেন

নিজ সংবাদ ॥  আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, সিটি কর্পোরেশনের ফল প্রত্যাখান করবে কি করবে না এটা বিএনপির বিষয়। তবে জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখান করেছে সেটি এবারও প্রমাণিত হয়েছে। এই দল ক্ষমতায় থাকতেও দেশ বিরোধী কাজ করেছে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তাই এই দলকে নিয়ে মানুষ আর ভাবছে না। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া পিটিআই রোডস্থ নিজ বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে আগামীতে ভোট ডাকাতির রাজনীতি কায়েম করতে চায় সরকার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তেব্যের প্রশ্নোত্তোরে হানিফ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রথম এ দেশে ভোট ডাকাতির রাজনীতি শুরু করেছিল। তিনি হাঁ-না ভোট করেছিলেন এবং কোথাও কোথাও ১২০ পার্সেন্ট ভোট পড়েছিল। সেটাও দেশবাসী জানে। বিএনপি ১  কোটি ৩০ লক্ষ ভুয়া ভোটার বানিয়ে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিল। আজিজ মার্কা ভোট করেছিল। ভোট সংক্রান্ত এত অপকর্মের সাথে যারা জড়িত তাদের মুখে ভোট নিয়ে কোন কথা মানায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক, আওয়ামীলীগ নেতা প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।