করোনাভাইরাসের বিপদের মধ্যে চীনে বার্ড ফ্লুর আপদ

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় জেরবার চীনে এবার বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হুনানে একটি খামারে দ্রুত ছড়াতে সক্ষম এমন ধরনের এইচ৫এন১-এর ছড়িয়ে পড়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রায় আট হাজার মুরগির একটি খামারে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। এতে আক্রান্ত হয়ে এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মুরগি মারা গেছে। এজন্য চীন এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৮২৮টি মুরগি মেরে ফেলেছে বলে চ্যানেল নিউজ এশিয়ার খবরে বলা হয়েছে। এর আগে এ মাসের প্রথম দিকে এই বার্ড ফ্লু ভাইরাসে সংক্রমিত মুরগি ও ডিম ধ্বংস করা শুরু করে ভারত। এইচ৫এন৮ নামে ভিন্ন এক ধরনের ভাইরাস সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৩ সালে চীনে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার কারণে দেশটি ৬৫০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় বলে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মত। সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবটি এমন এক সময়ে এলো যখন চীন ঝাঁপিয়ে পড়েছে নতুন করোনাভাইরাস মোকাবেলায়, যা হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত তৎপর না হওয়ায় শুক্রবার উহানের কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা দুঃখপ্রকাশ করেছেন। এই প্রাদুর্ভাবকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ‘বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসাবে ঘোষণা করলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেনি।

ধর্ম নিয়ে কটূক্তি

আরেক বাউলশিল্পীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ

ঢাকা অফিস ॥ পালা গানে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় রিতা দেওয়ান নামের এক বাউলশিল্পীর বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস্সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে গতকাল সোমবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য মো. ইমরুল হাসান এই অভিযোগ দায়ের করেন বলে ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম আল মামুন জানিয়েছেন। বিচারক অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ (১) ধারায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি পালা গানের আসরে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে রিতা দেওয়ান মহান আল্লাহকে নিয়ে চরম ধৃষ্টতা, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। ইউটিউবে সেই পালা গানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনেন আইনজীবী ইমরুল হাসান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮(১) ধারায় বলা হয়েছে- ‘যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করিবার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদ-ে বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন’। এদিকে রিতা দেওয়ানের গানটি ইউটিউবে ছড়ানোর পর গত ১ ফেব্র“য়ারি ক্ষমা চেয়েছেন বাউলশিল্পী রিতা দেওয়ান। ‘গান রুপালি এইচডি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে দুই মেয়ে পাশে নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ক্ষমা চান। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক পীর এ কামেল হযরত হেলাল শাহ’র ১০ম বাৎসরিক মিলন মেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে শরিয়ত বয়াতি নামের এক শিল্পীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামের জামে মসজিদের ঈমাম ফরিদুল ইসলাম মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন শরিয়ত বয়াতি। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ। শরিয়ত বয়াতির বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও কথা বলতে হয়েছে সংসদের অধিবেশনে। গত ২২ জানুয়ারি সংসদে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শরিয়ত বয়াতি নিশ্চয়ই কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত বলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী দিল্লির হাসপাতালে

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে। তিনি জ্বর এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। রোববার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তাকে দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালে ভরতি করা হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সনিয়া গান্ধী জটিল রোগে ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হয়েছে সনিয়াকে। আর কয়েক দিন পরেই দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সনিয়ার অসুস্থতার খবরে কংগ্রেস কর্মীরা উদ্বিগ্ন। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন সনিয়া। এরপর তার ছেলে রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের নেতৃত্বে এসেছিলেন। কিন্তু গতবছর লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জেরে হঠাৎই কংগ্রেস সভাপতি পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন রাহুল। তার পর দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে দল নেতৃত্বহীন অবস্থায় থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের দায়িত্ব ফের কাঁধে নেন সনিয়া গান্ধী। তাকে অন্তর্বর্তী সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়।

লন্ডনে ছুরি হামলা, একজনকে গুলি করেছে পুলিশ

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাজ্যে লন্ডনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ব্যস্ত রাস্তায় ছুরি হামলার পর পুলিশ এক ব্যক্তিকে গুলি করেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, স্ট্র্যাথাম হাই রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে বেশ কয়েকজন মানুষ ছুরি হামলার শিকার হয়েছেন এবং ঘটনাটি সন্ত্রাসী হামলা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। স্যোশাল মিডিয়ায় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, রোববার তারা তিনটি গুলির শব্দ শুনেছেন এবং ডাক্তাদেরকে কয়েকজন মানুষের চিকিৎসা করতে দেখেছেন। স্যোশাল মিডিয়ার ছবিতে এক ব্যক্তিকে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়েও থাকতে দেখা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা তার দিকে বন্দুক তাক করে ছিলেন। ওই ব্যক্তির কোমরে আত্মঘাতী বেল্ট বাঁধা ছিল বলে ছবিতে মনে হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ এক টুইটে জানিয়েছে, “স্ট্র্যাথামে সশস্ত্র কর্মকর্তারা একজনকে গুলি করেছে। এ পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে, বেশ কয়েকজন মানুষ ছুরিকাহত হয়েছেন।” স্ট্র্যাথাম হাই রোডের বেশ অনেকটা অংশ ঘিরে রাখা হয়েছে এবং পুলিশ মানুষজনকে ওই এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

কালুখালীতে শান্তিপূর্ণভাবে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালীতে গতকাল সোমবার সারা দেশের ন্যায় এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে। এ বছরে উপজেলার ৩টি কেন্দ্রের মধ্যে কালুখালী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা ১ম পত্রে ৯৭৩জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬৭জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। হোগলাডাঙ্গী কামিল মডেল মাদরাসা কেন্দ্রে কুরআন মাজিদ ও তাজবীদ বিষয়ে ২৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫৫জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এছাড়াও মৃগী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা ১ম পত্রে ৫৭৭জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৭৬জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।  সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলাকালীন সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ নুরুল আলম। কেন্দ্রের আইন শৃঙ্খলা রক্ষঅয় বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন কালুখালী থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান। মৃগী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত সচিব মোঃ রাশিদুল ইসলাম, কেন্দ্র সচিব হিসেবে মোঃ শাজাহান আলী, সরকারী কর্মকর্তা একাডেমিক সুপারভাইজার ইমতিয়াজ দেওয়ান মুরাদ, সহ-সচিব মোঃ রেজাউল আলম, মোখলেছুর রহমান, ফিরোজ হায়দার, কালুখালী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিব মোঃ ফরিদ শেখ, সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুজিত কুমার নন্দি, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জব্বার, সহ-সচিব মোঃ সিহাব উদ্দীন মোল্লা, শাজাহান আলী, আঃ জলিল এছাড়া হোগলাডাঙ্গী এমআই কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে সহকারী কমিশনার রাজবাড়ী আসাদুজ্জামান, কেন্দ্র সচিব মাদরাসা অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আহম্মেদ, সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়ন্ত কুমার দাস, সহ-সচিব অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ নুরুল ইসলাম হেলাল, অধ্যক্ষ মাওঃ লুৎফর রহমানসহ অন্যান্যরা দায়িত্ব পালন করেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন মৃগী কেন্দ্রে মৃগী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শওকত হোসেন, কালুখালী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসআই বিল্লাল, হোগলাডাঙ্গী মাদরাসা কেন্দ্রে এএসআই শাহিনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

করোনাভাইরাসে মৃত্যু বেড়ে ৩৬২ চীনে পুঁজিবাজারে ধস

ঢাকা অফিস ॥ চীনে নতুন করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আতঙ্ক, চন্দ্র নববর্ষের দীর্ঘায়িত ছুটির পর প্রথম দিনেই বড় ধসের কবলে পড়েছে পুঁজিবাজার। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার একদিনেই নতুন করে ২ হাজার ৮২৯ জনের শরীরে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে চীনে এ পর্যন্ত আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২০৫ জনে। আরও ৫৭ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চীনে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬১ জনে। রোববারই চীনের বাইরে প্রথম এ ভাইরাসে মৃত্যু খবর আসে ফিলিপিন্স থেকে, তিনি চীনেরই একজন নাগরিক। সব মিলিয়ে   নতুন করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬২ জনে। সিএনএন জানিয়েছে, চীনের বাইরে অন্তত ২৫টি দেশ ও অঞ্চলে অন্তত দেড়শ মানুষের দেহে এই করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ধরা পড়ছে। তাতে সব মিলিয়ে বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মৃত্যু ও সংক্রমণের অধিকাংশ ঘটনা ঘটছে চীনের হুবেই প্রদেশে। এ প্রদেশের উহান শহরের একটি সি ফুড মার্কেট থেকেই গতবছরের শেষে এই ভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়,যাকে বলা হচ্ছে নভেল করোনাভাইরাস বা ২০১৯-এনসিওভি। চীনে এ ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০২ সালের সার্সের প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে উহানসহ বেশ কয়েকটি শহর বার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে চীন। গণপরিবহন বন্ধ রাখায় ছয় কোটি মানুষের চলাচল হয়ে পড়েছে সীমিত। কিন্তু ভাইরাস ছড়ানো ঠেকানো যাচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)ইতোমধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশসহ বেশ দেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের চীন থেকে সরিয়ে নিয়েছে বা নিচ্ছে। শঙ্কিত কয়েকটি দেশ তাদের সীমান্তে চীনাদের জন্য কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনকে একদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে পানির মত টাকা খরচ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়ায় অর্থনীতির জন্য তৈরি হচ্ছে অশনি সংকেত। আর সেক্ষেত্রে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকেও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মধ্য চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর নতুন এক করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। একে বলা হচ্ছে নভেল করোনাভাইরাস বা ২০১৯-এনসিওভি। ২০০২ সালে সার্স এবং ২০১২ সালের মার্সের মত একই পরিবারের সদস্য নভেল করোনাভাইরাস সাধারণ ফ্লুর মত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে, ছড়াতে পারে মানুষ থেকে মানুষে। করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। বছরের এমন এক সময়ে চীনে এ ভাইরাস ছড়াতে শুরু করে, যখন চন্দ্রবর্ষের উৎসবে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়ত করে। ফলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগও বেড়ে যায় অনেক। লোক চলাচল সীমিত রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে নববর্ষের ছুটি ২ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছিল চীন। সেই ছুটি শেষে সোমবার প্রথম কর্মদিবসেই বড় ধাক্কা খায় দেশটির পুঁজিবাজার। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সাংহাই কম্পোজিট সূচক পড়ে যায় আট শতাংশ, এক ধাক্কায় বাজার মূলধন কমে যায় ৩৭০ বিলিয়ন ডলার। মুদ্রাবাজারের লেনদেনে চীনের ইউয়ান এখন চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্যে লোহা, তেল ও তামার দামও পড়ে গেছে। অর্থনীতির এই আতঙ্ক প্রশমনে তারল্য বাড়াতে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (১৭৩.৮ বিলিয়ন ডলার) বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গাংনীর হাড়িয়াদহ মাঠ থেকে ৪টি সেচ পাম্প চুরি

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের হাড়িয়াদহ গ্রামের একই মাঠ থেকে চতুর্থ বারের মতো ৪টি সেচ পাম্প (মটর) চুরি হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাতে হাড়িয়াদহ গ্রামের ভিটের মাঠ থেকে এসব সেচ পাম্প চুরি হয়। ওই গ্রামের কৃষক আব্দুল রব, জাহিদুল ইসলাম, সাবুর আলী ও রুবেল হোসেনের সেচ পাম্প চুরি হয়েছে। কৃষক আব্দুল রব জানান রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত মাঠের সব ক’টি পাম্প দিয়ে সেচ কাজ চালানোর পর সকলেই বাড়ি আসি। সকালে মাঠে গিয়ে দেখি আমারসহ আরো ৩ জনের সেচ পাম্প চুরি হয়ে গেছে। এছাড়াও আরো ৩/৪টি পাম্প খোলার পর ফেলে গেছে চোরেরা। এর আগে এই মাঠ থেকে আরো ৩ বার অন্তত ১৭টি কেবি ও সেচ পাম্প চুরি হয়েছে। বোরো মৌসুমে সবেমাত্র সেচ দিয়ে জমি তৈরীর কাজ চলছিল। এমন মৌসুমে সেচ পাম্প চুরি হওয়ায় এবার ধান চাষ ব্যাহত হবে। কারণ একাধিকবার সেচ পাম্প বা কেবি চুরি হওয়ায় তা নতুনভাবে চালু করা সম্ভব হবে না।

গ্রাম্য সালিশে নির্যাতন

খোকসায় জরিমানার টাকা দিতে না পারায় কৃষককে সমাজচ্যুত

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় গ্রাম্য সালিশে নির্যাতনে দুই পায়ের হাড় ফেটে যাওয়ায় মধ্যবয়সী কৃষক সনজীৎ সরকার জরিমানার ১৫ হাজার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তার পরিবারটিকে এবার সমাজ চ্যুত করা হয়েছে। অর্থাভাবে কৃষকের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, ফলে তার পঙ্গু হয়ে যাওযার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক সনজীৎ সরকারের সাথে একই গ্রামের বিভুতি পোদ্দারের কথা কাটাকাটি থেকে ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌছায়। এ ঘটনায় আহত বিভুতির পক্ষ নিয়ে গ্রামের মাতুব্বরেরা সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেয়। এক গভীর রাতে গ্রামে সালিশী বৈঠক বসানো হয়। গ্রীজা ঘোষের বাড়িতে চিত্তরঞ্জন সরকারের সভাপতিত্বে সালিশে কৃষক সনজীৎ সরকারকে ভরা মজলিশে ২৫ দোর্রা (জিগে গাছের ডাল দিয়ে) মারা ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কৃষকের পরিবারের বিরোধিতার পরেও সে রাতে জনসম্মুখে এ রায় বাস্তবায়ন করা হয়। সালিশি বৈঠকে দোররা মারার পর কৃষক সনজীৎ সরকার অসুস্থ হয়ে পরেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৫দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসায় অনেকটা সুস্থ্য হয়ে উঠলেও সালিশি নির্যাতনের পর থেকে সে আর একা উঠে দাঁড়াতে পারেনি। দুই পায়ের হাঁটুর নিচের অংশের প্রধান হাড় দুটি ফেটে গেছে। পায়ের ব্যথায় সে আর কাজ করতে পারছে না। অর্থাভাবে কৃষকের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এরই মধ্যে সালিশে ধার্য করা জরিমানা ১৫ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য তার পরিবারের ওপর চাপ দিতে থাকে সালিশ কর্তারা। জরিমানা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে গতকাল রবিবার রাতে আবার দ্বিতীয় দফায় সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কৃষকে শারীরিক নির্যাতনে সন্তুষ্ট না হতে পেরে এবার এই পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। সালিশ কর্তারা বলছে হয় জরিমানা ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে না হয় সমাজচ্যুতের রায় বহাল থাকবে। নতুন রায় ঘোষনার পর কৃষকের পরিবারটি জিম্মি হয়ে পরেছে। সোমবার সকাল থেকে গ্রামের কেউ প্রকাশ্যে তাদের সাথে মেলামেশা করতে সাহস পাচ্ছে না। এমনকি গ্রামের লোকেরা তাদের মাঠে যেতেও বাধা দিচ্ছে। ফুলতলা-ঈশ^রদী পাকা রাস্তার পাশের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রাম। সম্প্রতি চোরের উপদ্রোব বেড়ে যাওয়ায় গ্রামটিতে পাহাড়া দেওয়া হয়। ৫ জানুয়ারী রাতে গ্রাম পাহাড়া দলের সদস্য বিভুতি পোদ্দারের সাথে সনজীৎ সরকারের কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরদিন বিকালে দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। এ নিয়ে ৯ জানুয়ারী গভীর রাতে গ্রামে সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেয় গ্রাম্য মাতুব্বররা। সে রাতের সালিশের প্রধান চিত্তরঞ্জন সরকারসহ সালিশ বোর্ডে ছিলেন শ্রীকান্ত ঘোষ, হরেন রায়, কল্যান সরকার, কান্তিসহ ৭ জন। রায়ের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে সালিশ নামায় লেখা হয়। সেখানেও উল্লেখ করা হয় ২৫ দোররা মারার রায়। ঘোষিত দোররা মারার রায় বাস্ত বায়ন করেন চিত্তরঞ্জন সরকার নিজে। এ রায়ের বিরুদ্ধে অনেকেই থাকলেও প্রভাবশালী মাতুব্বরদের ভয়ে তারা মুখ খুলতে সাহস পাননি বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষক। সালিশে শারীরিক নির্যাতন চালানো ও সমাজচ্যুত করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। অসুস্থ কৃষক সনজীৎ সরকার জানান, প্রতিবেশী এক ছেলের সাথে তার ছেলের ধস্তাধস্তির ঘটনায় তার পরিবার টিকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। সালিশ কর্তারা পরিকল্পিত ভাবে তাকে ভরা মজলিশে জিগের মোটা ডাল দিয়ে পিটিয়ে দুটি পায়ের হাড় ফাটিয়ে দিয়েছে। সে অসুস্থ্য হয়ে পরলে সে রাতে গ্রামের ভ্যান চালকদের হাসপাতালে যেতে দেয়নি। তাকে চিকিৎসা করানোর কারনে তার স্ত্রী শীলা রানীকে একদিন বাড়িতে আটকে  রেখেছিল গ্রাম্য মাতুব্বরদের লোকেরা। এবার আবার তাকে সমাজ চূত করায় সে ও তার পরিবার বেশী ভেঙ্গে পরেছে। একমাত্র ছেলে সৌমেন ও তার নিজের জীবনের শঙ্কার কথা জানালেন তিনি। তারা এখন সালিশ কর্তাদের হামলার ভয়ে মাঠে যেতে পারছে না। এ ঘটনার পর থেকে কৃষকের পুরো পরিবারটি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আবার থানায় গেলে যদি হিতে বিপরীত হয় এ নিয়েও করছে নানা শঙ্কা। সালিশ কর্তা চিত্তরঞ্জন সরকার ও গ্রীজা ঘোষের সাথে কথা বলা হয়। তারাও স্বীকার করেন কৃষক সনজীৎ সরকারের পরিবারকে সম্জাচ্যুত করা হয়েছে। এ ছাড়া উচ্ছৃঙ্খলতার অপরাধে ওই কৃষককে দোর্রা মারা হয়েছে। গ্রাম পাহাড়া দলের বিভুতির ফোন নষ্ট করে ফেলায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে তারা জরিমানা দিলে সমাজের নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তারা প্রথমে সালিশ নামার কপি দেখাতে রাজি হলেও পরে আর সে কাগজ দেখান নি। শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ খান বলেন, এই ঘটনা সাংবাদিকের মুখে তিনি প্রথম শুনলেন। এ ছাড়া এসব ব্যাপার গ্রামীন মক্কেলদের। এখানে তার তেমন কিছু করার থাকে না।  থানার ওসি (তদন্ত) ইদ্রিস আলীও এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানান। তবে তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমানের সাথে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

সমাজের অবক্ষয় ঠেকাতে স্পর্শ করার মতো অপারেশন চালাতে হবে – গণপূর্তমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ সাংবাদিক মিজান মালিকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘গল্প ছাড়া মলাট’ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।  অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম ও খ্যাতিমান কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। অতিথি ছিলেন জি টিভি ও সারাবাংলার প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, শিশু সাহিত্যিক আনজীর লিটন, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল খায়ের, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য কুদ্দুস আফ্রাদ প্রমুখ।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, সমাজে যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, সেই অবক্ষয় থেকে রক্ষা পেতে হলে জনকয়েক রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর বক্তব্য যথেষ্ট নয়। আমাদের ভেতরে স্পর্শ করার মত কিছু কিছু অপারেশন চালাতে হবে। সে অপারেশন হতে পারে কবিতা-কাব্য, গ্রন্থ-উপন্যাস ও লেখার ভেতর দিয়ে। সেটা যেভাবে আমাদের সন্তানকে স্পর্শ করবে, বিপদগামী মানুষকে আকৃষ্ট আকৃষ্ট করবে তা মন্ত্রী-এমপির গতানুগতিক বক্তৃতায় আকৃষ্ট করবে না। একজন মন্ত্রী হয়েও শপথ নিয়ে নাগরিকবোধ থেকে এ কথাটা বলছি। এটা আমার নির্ভেজাল উপলব্ধি।   শ ম রেজাউল করিম বলেন, কবিতার ছোট দুটি লাইন দিয়েও যেভাবে আকৃষ্ট করা যায় তা অন্য কিছুতে হয় না। সেটা অনেক ভেতরে স্পর্শ করে। আজকে নৈতিকতা  ও মূল্যবোধের এই শংকিত সময়ে আমাদের আত্মোপলব্ধি দরকার। আর সেটা আসতে পারে সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে। গল্প ছাড়া মলাট আমাদেরকে জানান দেয় নৈতিকতা ও মানবিকতার একটা মলাট আমাদের দরকার। মিজান মালিক সেই সত্যই উচ্চারণ করেছেন।  অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, সব মানুষের মধ্যে কবি মন আছে। তবে কবিতা লেখা সহজ কাজ নয়, কঠিন। মিজান মালিক সাংবাদিক হিসেবে সেই কঠিনকে ভালোবেসেছেন। কবিতা আমাদেরকে সৌহার্দ্যরে কথা বলে, ভালোবাসার কথা বলে, মানবিকতার কথা বলে। আমরা যেন কবিমন নিয়ে সব সময় চলতে পারি। তাহলে আজকের এই সময়ে আমরা যেখানে এক শূণ্যতার মধ্য দিয়ে, যে অনাচারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা কিছুটা হলেও দূর হবে। দেশের বরেণ্য কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, সংবাদ ও কবিতার বিভেদ নেই। দুটোই সত্যের কথা বলে, সত্যকে ধারণ করে। কবিতা সত্যকে উদ্ঘাটনও করে। ‘গল্প ছাড়া মলাট’ এর কবি মিজান মালিকের কবিতাগুলো আমি পড়েছি। তার কবিতার ভাষা, বিষয় আঙ্গিক বলে এই সময়ের কবি হিসেবে তিনি টিকে গেলেন। কবিতায় তিনি নানা কায়দায় সংকটের কথা তুলে এনেছেন। ভেতরে একটা বেদনাবোধ আছে। মিজান মালিকের কবিতা আমার ভাল লেগেছে। তিনি সময়ের কথা বলছেন। তাকে নিয়ে আমি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখবো।   সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, মিজান ভালো কবিতা লেখেন। সাহিত্য ভুবনে তিনি যেন সমাদৃত হন। তার কবিতার বইটি যেন আমরা সংগ্রহে রাখি। তার কবিতার মতোই আমাদের জীবনে মলাট আছে কিন্তু গল্প নেই। আমি মনে করি বইয়ের নামটি যথার্থ হয়েছে। আমাদের জীবনে একটি মলাট দরকার।   আনজীর লিটন বলেন, মিজান মালিক আমাদেরকে ‘গল্প ছাড়া মলাট’ বইটি উপহার দিলেন। সাহিত্য এক দীর্ঘযাত্রা। তিনি কবিতার মধ্য দিয়ে তার সেই যাত্রা শুরু করেছেন। তিনি যেন এ যাত্রায় আরও মনোনিবেশ করেন, আত্মমগ্ন থাকেন। মিজান মালিক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করি। অনেক সময় অনেক কিছু বলতে চেয়েও বলা যায় না। যেসব কথা বলতে পারিনি তাই কবিতার ভাষায় আনতে চেয়েছি। প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, সমাজে অনাচারের গল্প কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছি।  ‘গল্প ছাড়া মলাট’ বইটি প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রকাশনী সংস্থা ঐতিহ্য। মূল্য রাখা হয়েছে ১৭০ টাকা। দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি মিজান মালিক সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিয়মিত কাব্যচর্চা করেন। তার লেখা কবিতাগুলো এবার মলাটবন্দী হয়েছে। কাব্যগ্রন্থটির নাম ‘গল্প ছাড়া মলাট’-এ। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, সমাজে যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, সেই অবক্ষয় থেকে রক্ষা পেতে হলে জনকয়েক রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর বক্তব্য যথেষ্ট নয়। আমাদের ভেতরে স্পর্শ করার মত কিছু কিছু অপারেশন চালাতে হবে। সে অপারেশন হতে পারে কবিতা-কাব্য, গ্রন্থ-উপন্যাস ও লেখার ভেতর দিয়ে। সেটা যেভাবে আমাদের সন্তানকে স্পর্শ করবে, বিপথগামী মানুষকে আকৃষ্ট আকৃষ্ট করবে তা মন্ত্রী-এমপির গতানুগতিক বক্তৃতায় আকৃষ্ট করবে না। একজন মন্ত্রী হয়েও শপথ নিয়ে নাগরিকবোধ থেকে এ কথাটা বলছি। এটা আমার নির্ভেজাল উপলব্ধি। সোমবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সাংবাদিক মিজান মালিকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘গল্প ছাড়া মলাট’ এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম ও খ্যাতিমান কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। অতিথি ছিলেন জি টিভি ও সারাবাংলার প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, শিশু সাহিত্যিক আনজীর লিটন, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল খায়ের, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য কুদ্দুস আফ্রাদ প্রমুখ। শ ম রেজাউল করিম বলেন, কবিতার ছোট দুটি লাইন দিয়েও যেভাবে আকৃষ্ট করা যায় তা অন্য কিছুতে হয় না। সেটা অনেক ভেতরে স্পর্শ করে। আজকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের এই শংকিত সময়ে আমাদের আত্মোপলব্ধি দরকার। আর সেটা আসতে পারে সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে। গল্প ছাড়া মলাট আমাদেরকে জানান দেয় নৈতিকতা ও মানবিকতার একটা মলাট আমাদের দরকার। মিজান মালিক সেই সত্যই উচ্চারণ করেছেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, সব মানুষের মধ্যে কবি মন আছে। তবে কবিতা লেখা সহজ কাজ নয়, কঠিন। মিজান মালিক সাংবাদিক হিসেবে সেই কঠিনকে ভালোবেসেছেন। কবিতা আমাদেরকে সৌহার্দ্যের কথা বলে, ভালোবাসার কথা বলে, মানবিকতার কথা বলে। আমরা যেন কবিমন নিয়ে সব সময় চলতে পারি। তাহলে আজকের এই সময়ে আমরা যেখানে এক শূণ্যতার মধ্য দিয়ে, যে অনাচারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা কিছুটা হলেও দূর হবে। দেশের বরেণ্য কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, সংবাদ ও কবিতার বিভেদ নেই। দুটোই সত্যের কথা বলে, সত্যকে ধারণ করে। কবিতা সত্যকে উদ্ঘাটনও করে। ‘গল্প ছাড়া মলাট’ এর কবি মিজান মালিকের কবিতাগুলো আমি পড়েছি। তার কবিতার ভাষা, বিষয় আঙ্গিক বলে এই সময়ের কবি হিসেবে তিনি টিকে গেলেন। কবিতায় তিনি নানা কায়দায় সংকটের কথা তুলে এনেছেন। ভেতরে একটা বেদনাবোধ আছে। মিজান মালিকের কবিতা আমার ভাল লেগেছে। তিনি সময়ের কথা বলছেন। তাকে নিয়ে আমি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখবো। সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, মিজান ভালো কবিতা লেখেন। সাহিত্য ভুবনে তিনি যেন সমাদৃত হন। তার কবিতার বইটি যেন আমরা সংগ্রহে রাখি। তার কবিতার মতোই আমাদের জীবনে মলাট আছে কিন্তু গল্প নেই। আমি মনে করি বইয়ের নামটি যথার্থ হয়েছে। আমাদের জীবনে একটি মলাট দরকার। আনজীর লিটন বলেন, মিজান মালিক আমাদেরকে ‘গল্প ছাড়া মলাট’ বইটি উপহার দিলেন। সাহিত্য এক দীর্ঘযাত্রা। তিনি কবিতার মধ্য দিয়ে তার সেই যাত্রা শুরু করেছেন। তিনি যেন এ যাত্রায় আরও মনোনিবেশ করেন, আত্মমগ্ন থাকেন। মিজান মালিক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করি। অনেক সময় অনেক কিছু বলতে চেয়েও বলা যায় না। যেসব কথা বলতে পারিনি তাই কবিতার ভাষায় আনতে চেয়েছি। প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, সমাজে অনাচারের গল্প কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছি। ‘গল্প ছাড়া মলাট’ বইটি প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রকাশনী সংস্থা ঐতিহ্য। মূল্য রাখা হয়েছে ১৭০ টাকা। দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি মিজান মালিক সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিয়মিত কাব্যচর্চা করেন। তার লেখা কবিতাগুলো এবার মলাটবন্দী হয়েছে। কাব্যগ্রন্থটির নাম ‘গল্প ছাড়া মলাট’-এ।

ঝিনাইদহে শান্তিপূর্ণ ভাবে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে গতকাল সোমবার এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার প্রথম দিন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার মোট ৬টি উপজেলার ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে এসএসসিতে ৩৬টি, দাখিলে ৯ এবং ভোকেশনালে ৯টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জেলায় মোট ১৯,৭৯৬ জন পরীক্ষার্থী এবছর পরীক্ষায় অংশগ্রহন  করে।  প্রথম দিনের পরীক্ষায় এসএসসি তে ১৬,০৩৬ জন, দাখিলে ২,৪৬১জন এবং কারিগরী বোর্ডে আওতায় এসএসসি ভোকেশনালে ১,২৯৯জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে বলে জানা গেছে। প্রথম দিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১৩৬জনের মধ্যে এসএসসিতে ৭৪, দাখিলে ৫৩ এবং ভোকেশনালে ৯জন পরীক্ষার্থী। তবে প্রথমদিন কোন পরীক্ষার্থী বহিস্কারের খবর পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা শেষে ঝিনাইদহ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরীক্ষার প্রশ্ন ভালো হয়েছে প্রশ্নে কোন ভুলক্রটি চোখে পড়েনি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল ফিলিস্তিন

ঢাকা অফিস ॥ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েল ঘেঁষা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের পর শনিবার সম্পর্ক ছিন্নের এ ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। কায়রোতে আরব লিগের বৈঠকে আব্বাস এ ঘোষণা দেন। আরব লিগ ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের অবস্থানকে সমর্থন দিয়েছে। আর ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সায় দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ পরিকল্পনায় অধিকৃত অঞ্চলের ইহুদি বসতি বাদ দিয়ে এবং প্রায় পুরোপুরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের অধীনে একটি অসামরিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা নিয়ে আরব লিগ একদিনের জরুরি বৈঠক করেছে। আর সেখানেই শনিবারের ভাষণে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন,“আমরা ইসরায়েলি পক্ষকে অবহিত করেছি যে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা সম্পর্কসহ সব ধরনের সম্পর্কই আর থাকবে না।” ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের এ ঘোষণার ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলো পাহারা দেওয়ার ক্ষেত্রে। তাছাড়া, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সঙ্গেও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা নিয়ে চুক্তি আছে। ২০১৭ সালে ফিলিস্তিন ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি প্রচেষ্টা বয়কট করার পরও এ সম্পর্ক অটুট ছিল। এবার তা ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন আব্বাস। তিনি এমনকী ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ফোনে তার সঙ্গে আলাপ করেননি এবং পরিকল্পনাটি পড়ে দেখার জন্য সেটির কপিও গ্রহণ করেননি।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানি এক মাস পিছিয়েছে

ঢাকা অফিস ॥ গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি এক মাস পিছিয়েছে। গতকাল সোমবার মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন থাকায় এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তাই কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন ৩ মার্চ শুনানির নতুন দিন ঠিক করেছেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী নূরুজ্জামান তপন বিষয়টি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন। দুদকের উপ-পরিচালক মো. গোলাম শাহরিয়ার ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১৩ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জহিরুল হুদা। চার দলীয় জোট সরকারের নয় মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ মোট ২৪ জনকে সেখানে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, এম শামছুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, আকবর হোসেন, আব্দুল মান্নান ভুইয়া এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রাহমান কোকো মারা গেছেন। আর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, আকবর হোসেনর স্ত্রী জাহানারা আকবর, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন এবং একেএম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, প্রাক্তন নৌ সচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন সদস্য একে রশিদ উদ্দিন আহমেদ, গে¬াবাল এগ্রোট্রেড প্রাইভেট লি. (গ্যাটকো) এর পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, প্রাক্তন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও প্রাক্তন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় ১০ ও সাত বছরের কারাদন্ডে দন্ডত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। বর্তমানে বিএসএমএমইউ চিকিৎসাধীন।

গাংনীতে নির্ধারিত সময় শেষে পরীক্ষা নেয়ার অপরাধে কেন্দ্র সচিবকে শোকজ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ সারাদেশের ন্যায় মেহেরপুরের গাংনীতেও এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছ্।ে গতকাল সোমবার গাংনী উপজেলার সব ক’টি পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলমুক্ত পরিবেশ ও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলেও রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে  নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত সময়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। এ ধরণের অপরাধে কেন্দ্র সচিব ও রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে শোকজ করা হয়েছে। এসময় দায়িত্বে অবহেলা করার জন্য ২০৪ নং কক্ষের দু’জন  কক্ষ পরিদর্শককেও কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্ষ পরিদর্শক ভাটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক  ওয়াজ্জেল হোসেন ও বাঁশবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা দিলারা পারভীন  পরীক্ষা শেষে খাতা সংগ্রহ করার নামে অতিরিক্ত ১০ মিনিট সুযোগ দেয়ার অভিযোগে তাদের শোকজ করা হয়েছে। একই সাথে কেন্দ্র সচিব মিজানুর রহমানকেও দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়ম করার জন্য শোকজ করা হয়েছে। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান লিখিতভাবে রাইপুর পরীক্ষা কেন্দ্রে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রেরণ করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান জানান, উপজেলার সব ক’টি পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলমুক্ত পরিবেশে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোন সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। রাইপুর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্র ধরে কেন্দ্র সচিবসহ কক্ষ পরিদর্শকদের শো-কজ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গাংনীতে এবছর ১৩ টি পরীক্ষা কেন্দ্রে (মূল কেন্দ্র-৯ টি ও উপকেন্দ্র -৪ টি), ১৪৭ টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এবছর ৪ হাজার ৭৭৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। গাংনী  ইউএনও অফিসের কন্ট্রোল রুম থেকে সব কয়টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার বারখাদা মধ্যপাড়া কলোনীর রাস্তা ও ড্র্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন মেয়র আনোয়ার আলী

গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার বারখাদা মধ্যপাড়া কলোনীর রাস্তা ও ড্রেন নির্মান কাজের উদ্বোধন করলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী। উদ্বোধনকালে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন- বাংলাদেশ সরকার, এডিবি এবং এফআইসি সহায়তাপুষ্ট তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতি করণ (সেক্টর) প্রকল্পের আওতায় বেসিক সার্ভিস টু দি আরবান পুয়র খাতে বস্তি উন্নয়ন কমিটি (সিচ) এর মাধ্যমে কুষ্টিয়া পৌরসভার বাস্তবায়নে এই অঞ্চলে ১৬৫ মিটার আরসিসি রাস্তা, ১৭৫ মিটার ড্রেন, ৫ টি সোলার, ১৫টি টয়লেট সহ ৯টি টিউবয়েল প্লাটফ্রম নির্মাণ করা হবে। তিনি আরোও বলেন, পৌর এলাকায় ২১ টি ওয়ার্ডে ৫১টি সিডির মাধ্যমে নারীর সহিংসতা প্রতিরোধে ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ দারিদ্র দূরীকরনের জন্য হাতের কাজ শেখানোর পাশাপাশি ব্যবসা অনুদান সহায়তা, দারিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তি এবং মায়েদের পুষ্টি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আপনাদের সহযোগীতায়   পৌরবাসীর সকল নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। উল্লেখ্য কুষ্টিয়া পৌরসভা মেয়র আনোয়ার আলী বারখাদা মধ্যপাড়া পৌছালে  স্থানীয়রা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার  কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম, মহিলা সংরক্ষিত কাউন্সিলর তাসলিমা খাতুন, সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহেদুর রহমান, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা একেএম মঞ্জুরুল ইসলাম, প্রান্তীক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা কহিনুর খাঁন সহ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঢাবিতে ফের ককটেল বিস্ফোরণ

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবারও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মধুর ক্যান্টিনের সামনের রাস্তার পাশে বিস্ফোরণটি হয় বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যখন ককটেলটি বিস্ফোরিত হয় তখন মধুর ক্যান্টিন ও ডাকসু ভবনের কাছেই সাদা পোশাকে দুজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। এক রিকশাওয়ালাও সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে ঘটনাস্থলে নিউ মার্কেট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রইস উদ্দিন বলেন, “কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বা কোথা থেকে ককটেলটি ছুড়ে মারা হয়েছে তা অনুমানের উপর বলা যাচ্ছে না। তবে এতে কারো কোনো ক্ষতি হয়নি।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। প্রক্টরিয়াল টিম ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সেখানে আছে। “যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের বের করার চেষ্টা চালাচ্ছি।” গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওইদিন ছোট একটি বিস্ফোরণের পর মধুর ক্যান্টিন ও আইবিএ ভবনের গেইটের মাঝামাঝি জায়গায় একটি অবিস্ফোরিত ককটেল পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ককটেলটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটায়। এর তিনদিন পর ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় মধুর ক্যান্টিনের সামনে তিনটি এবং বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ডাকসু ভবনের পাশে ককটেল ফাটানো হয়। পরদিন ফের মধুর ক্যান্টিনের সামনে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হলে হৃদয় নামের এক ক্যান্টিন বয়ের কোমরে স্প্লিন্টার লাগে। ১ জানুয়ারি সকালে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশের কয়েক গজ দূরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় । তখন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বক্তব্য দিচ্ছিলেন। ৫ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে আধা ঘণ্টার মধ্যে কলাভবনের তিনটি স্থানে তিনটি ককটেল ফাটানো হয়, যার দুটি বিস্ফোরিত হয় ছাত্রদলের কর্মসূচি চলার সময়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের কোনো কারণ উদঘাটন করতে না পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সংগঠনগুলো এজন্য পরস্পরের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করছে।

কোম্পানির সঙ্গে সিলের নিবন্ধন লাগবে না

ঢাকা অফিস ॥ কোম্পানির নিবন্ধনের সময় সিলের নিবন্ধন করানোর বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে কোম্পানি আইনের একটি বিধান সংশোধনে সায় দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২০’ এর খসড়ার একটি অংশের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আইনটিকে অধিকতর ব্যবসাবান্ধব ও সহজ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছিল। বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় এই আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়, বিভিন্নজনের মতামতও নেওয়া হয়। “তবে সব ধারা নিয়ে ঐক্যমত না হওয়ায় খসড়াটি চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে একটি সভা হয়। সেখানে কোম্পানি আইনের বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট একটি ধারা কমিটি গঠন করে দ্রুত সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়। “বিদ্যমান আইন পর্যালোচনা করে দেখা যায় যায়, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশনের জন্য সিলের প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে কোম্পনির নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনায় কোম্পানি সিল ব্যবহার করে। কোম্পানির কমন সিল, সাধারণ সিল, অফিসিয়াল সিল বিলোপ করার জন্য কোম্পানি আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের জন্য খসড়া উপস্থাপন করা হলে মন্ত্রিসভা বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।” আনোয়ারুল বলেন, “রেজিস্ট্রেশনের সময় সিল থাকতে হবে এই বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে ইজ অব ডুয়িং বিজেনেসে ৬/৭ নম্বর বেড়ে যায়। তখন আমাদের র‌্যাংকিং উপরের দিকে চলে যাবে। সে চিন্তাভাবনা করে মন্ত্রিসভা এটাকে ভোটিংয়ে নেওয়ার শর্তে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।” আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে কোম্পানি আইনে এই সংশোধন করা হলে ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে ৭ বা ৮ পয়েন্ট পাওয়া যাবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

বিদেশ যেতে এখন সঙ্গে নেওয়া যাবে ১০ হাজার ডলার

ঢাকা অফিস ॥ বিদেশ গমনাগমনে এখন থেকে ঘোষণা ছাড়াই ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত সঙ্গে রাখা যাবে, যা আগে ছিল পাঁচ হাজার টাকা। বিদেশে যাওয়া-আসায় সঙ্গে ডলার রাখার সর্বোচ্চ অঙ্ক দ্বিগুণ করে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে। বিদেশ গমনাগমনে সঙ্গে রাখা অর্থের অঙ্ক বাড়িয়ে ২০১৫ সালের ফেব্র“য়ারিতে ৫ হাজার ডলার করা হয়েছিল। তখন একবারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার বহনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বছরে ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত নেওয়ার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়, যা এখনও কার্যকর রয়েছে। এখন থেকে একবারে কোনো বাংলাদেশি বিদেশ যাওয়ার সময় কোনো ঘোষণা ছাড়া অনধিক ৫ হাজার মার্কিন ডলার সঙ্গে রাখতে পারবেন এবং বিদেশ থেকে আসার সময়ও একই পরিমাণ ডলার ঘোষণা ছাড়াই বহন করতে পারবেন। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংকগুলোর নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন,“এই সিদ্ধান্তটি খুব ভালো একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমেরিকায় ১০ হাজার ডলার নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্ত বাংলাদেশ থেকে এতদিন ৫ হাজার ডলার নিয়ে যাওয়া যেত। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী ডলার বৈধভাবে নিয়ে যাবে।” নিয়ম অনুযায়ী, ঘোষণা ছাড়া আনা ডলার অনিবাসী বাংলাদেশিরা ফেরত আসার পর যে কোনো সময় টাকায় ভাঙাতে পারবেন অথবা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমা করতে পারবেন। তবে এই পরিমাণের বেশি ডলার ঘোষণা দিয়ে আনার ৩০ দিনের মধ্যে টাকায় ভাঙাতে হয়। শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে এফএমজে ফরমে ঘোষণা দিয়ে যে কোনো পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে আনার সুযোগ রয়েছে। এখন ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত আনার ক্ষেত্রে কোনো ঘোষণার প্রয়োজন হবে না।

দু’সিটি নির্বাচন

জাতীয়পার্টিসহ ৯ মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ঢাকা অফিস ॥ সদ্য সমাপ্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ ৯জন মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই নির্বাচনে দু সিটিতে মেয়রপ্রর্থী ছিলো ১৩ জন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএপির ২জন করে দু সিটিতে ৪জন প্রার্থী ছাড়া সবারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী নৌকায় তুলে এনে এনেছেন ৫৯ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট। আর ধানের শীষের দুই প্রার্থী পেয়েছেন ৩৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট। ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ লাখ ৭২ হাজার ১১ ভোট। আর দক্ষিণে নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস পেয়েছেন ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫ ভোট। আর উত্তরে বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ৪১ হাজার ৬১ ভোট। আর দক্ষিণের ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ১২ ভোট। অন্য দলগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি দুই সিটিতেই প্রার্থী দিয়ে নিজেদের ঘরে তুলে নিয়েছে ৫৪ হাজার ৭২৫ ভোট। অর্থাৎ ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ ভোট পড়েছে হাতপাখা প্রতীকে। দলটির উত্তরের প্রার্থী শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ পেয়েছেন ২৮ হাজার ২০০ ভোট এবং দক্ষিণের প্রার্থী মো. আবদুর রহমান পেয়েছেন ২৬ হাজার ৫২৫ ভোট। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেবল উত্তর সিটিতে প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির আহাম্মদ সাজেদুল হক কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ১২২ ভোট। যা দুই সিটিতে প্রদত্ত ভোটের এক দশমিক শূণ্য ৩ শতাংশ। গণফ্রন্ট কেবল দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থী দেয়। দলটির প্রার্থী আব্দুস সামাদ সুজন মাছ প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। দুই সিটিতে প্রদত্ত ভোটের শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ। ন্যাশনাল পিপল পার্টির আম প্রতীকে দুই সিটিতে ভোট পড়েছে ৭ হাজার ৮টি। যা মোট প্রদত্ত ভোটের শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ। দলটির উত্তরের প্রার্থী মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৩ ভোট। আর দক্ষিণের প্রার্থী মো. বাহারানে সুলতান বাহার পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৫ জন। জাতীয় পার্টি কেবল দক্ষিণে প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির প্রার্থী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন লাঙ্গল মার্কায় পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৯৩ ভোট। যা দুই সিটির প্রদত্ত ভোটের শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ। বাংলাদেশ কংগ্রেসও কেবল দক্ষিণে মো. আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহকে প্রার্থী দিয়ে ডাব প্রতীকে নিজেদের ঘরে তুলেছে ২ হাজার ৪২১ ভোট। দুই সিটির প্রদত্ত ভোটের যা শূন্য ১৬ শতাংশ। প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি কেবল উত্তরে প্রতিদ্বদ্বিতা করেছে। দলটির প্রার্থী শাহীন খান বাঘ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১১১ ভোট, যা দুই সিটির প্রদত্ত ভোটের শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ। দুই সিটিতে ভোট পড়েছে ২৭ দশমিক শতাংশ। এর মধ্যে ডিএনসিসিতে ভোট পড়েছে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর দক্ষিণে পড়েছে ২৯ দশমকি ০৭ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের বিভক্ত ঢাকার প্রথম নির্বাচনে উত্তরে ভোট পড়েছিল ৩৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর দক্ষিণে পড়েছিল ৪৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ভোট। গত ১ ফেব্রুয়ারী এ দুসিটির ভোট গ্রহণ করা হয়।

 

ইবিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ভিসি ড. রাশিদ আসকারী

সাফল্য নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে উপর ভিত্তি করে হতে পারেনা

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, সাফল্য নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে উপর ভিত্তি করে হতে পারেনা। যে কোন বিষয়ের উপর সাফল্য আসতে পারে। তাই তোমরা যে যে বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছ তা মেনে নিয়ে তোমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে এবং আগ্রহ, আনন্দ ও ভালবাসার সাথে অধ্যয়ন করে জীবনে সাফল্য অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে ভীশন থাকতে হবে, নিন্দুকদের কথায় নিরুৎসাহিত হবে না, কোন কাজ কখনই পরিত্যাগ করো না, কখনই বিফল মনোরথ হয়ো না এবং যতটুকু পারো অন্যের জন্য এবং দেশের জন্য কিছু করো। আমার এই ৫টি পরামর্শ যদি তোমরা গ্রহণ করো তাহলে অবশ্যই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে বিখ্যাত মানুষদেরকে অনুসরন করতে শিক্ষার্থীদের আহবান জানান ড. রাশিদ আসকারী।

ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এমেরিটাস ড. অরুণ কুমার বসাক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস এম আব্দুল লতিফ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ড. শাহিনুর রহমান বলেন, তোমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান। মুুজিববর্ষে তোমরা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তোমরা গর্ব করে বলতে পারবে আমরা মুজিববর্ষে বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র। অপর বিশেষ অতিথি ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, আত্মবিশ^াস, মনোবল, অধ্যাবসায় ও প্রজ্ঞা  নিয়ে তোমরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা শিক্ষিত জীবন বোধ আলোকিত মানুষ হিসেবে তোমাদেরকে দেখতে চাই। মুখ্য আলোচক ড. অরুণ কুমার বসাক বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি দুর্বল শিক্ষকদের কারণে আজ ছাত্ররা দুর্বল হচ্ছে। শিক্ষকরা সব জানবে এমন কথা নয়। তবে না জানলে তা প্রকাশ করতে হবে এবং সত্য কথা বলতে হবে। তা না হলে জাতি এগুতে পারবে না। তিনি বলেন, পৃথিবীর উন্নত কোন দেশের  থেকে আমাদের মেধা কম নয়। আমাদের অনেকেই পৃথিবীর বুকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের উপর মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বলেন, তোমরা জ্ঞান দান করবে, জ্ঞান দান করলে কেউ গবীর হয় না। ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক শাহিদা আক্তার ও বনানী আফরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা, মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ জাকারিয়া রহমান, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার, প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন, ইন্টারন্যাশনাল এ্যাফেয়ার্স ডিভিশন এর পরিচালক প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ, নবাগত শিক্ষার্থী আইন বিভাগের ওনাম চাকমা এবং ফার্মেসী বিভাগের তাওহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের দেয়া সম্বর্ধনায় কানাডা প্রবাসী রবিউল আলম

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক, কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের বড় ভাই কানাডা প্রবাসী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রবিউল আলমকে সম্বর্ধনা দিয়েছে ইসলামিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ। গতকাল  সোমবার সকালে তিনি কলেজ চত্বরে পৌছালে সেখানে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং শিক্ষকরা ফুল দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে শিক্ষক মিলনায়তনে রবিউল আলমকে সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়। ইসলামিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি শামসুর রহমান বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত অতিথি  রবিউল আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মনজুর কাদির, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান, ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ নওয়াব আলী। এসময় বক্তব্য রাখেন ইসলামিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক জেবুন্নাহার বেগম। অনুষ্ঠানের শুরুতে কলেজের গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে এবং শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে পৃথক ক্রেষ্ট তুলে দেয়া হয় সংবর্ধিত অতিথি রবিউল আলমের হাতে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন মৃধা, এ্যাড, আব্দুল হালিম, আতিয়ার রহমান, হাফিজুর রহমান হেলাল, জেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক সাদ, হাসিব কুরাইশী, ছাত্রলীগ ইসলামিয়া কলেজ শাখার সভাপতি তাকিমুল ইসলাম অনি ও সাধারন  সম্পাদক এজাজ আহমেদ। ইসলামীয়া কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদিকা রুমানা পারভিন ও শিক্ষক আশরাফুজ্জামান টুটুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ নওয়াব আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রবিউল আলম বলেন- কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসলামিয়া কলেজ আজ আমাকে সম্বর্ধনা দিয়ে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করেছে। এই কলেজে প্রবেশ করে আমার মন এবং প্রান ভরে গেছে। আমি সাংঘাতিকভাবে খুশি। এই কলেজে আমার মা ও বাবার নামে একটি ভবন নির্মিত হচ্ছে এটি আমাকে আরো বেশি আবেগ আপ্লুত করেছে। তিনি বলেন, আমার মায়ের কথা এখন মনে পড়ে যায় তিনি আমাদের ভাই- বোনদের মানুষ করতে যেয়ে অনেক ত্যাগ শিকার করেছেন। তাঁর সেই কষ্টের মুল্য দিয়ে আমরা সকলেই যার যার মত করে মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, আমার শিক্ষা জীবনে অনেক ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে। আজকের মত এত সহজেই আমরা শিক্ষা লাভ করতে পারিনি। অনেক বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে আজকের অস্থানে আসতে পেরেছি। কিন্তু সব কিছুর মুল্যে আমার একটি লক্ষ্য ছিল যেন মা-বাবার কষ্টের মুল্য দিতে পারি মানুষের মত মানুষ হয়ে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন- আমাদের সকলের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যে থাকতে হবে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমার মা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন আমরা তাদের ভিশন বুঝে নিয়েছিলাম যে আমাকে মানুষ হতে হবে আর তাই আজ প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা জীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে ছিলাম। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমার স্থান ছিল। ছাত্রলীগের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার উন্নয়নের রূপকার হিসেবে আমার ছোট ভাই হানিফকে আপনারা সহযোগিতা করার কারনেই সে উন্নয়নের উপযুক্ত পরিবেশ পাচ্ছে এটা ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীদের সাথে নেতার সম্পর্কের উপর নির্ভর করে সেখানকার উন্নয়নের পরিবেশ। তবে আমি সাংঘাতিকভাবে খুশি হয়েছি আপনাদের সম্পর্কের খবর জেনেছি। আপনারা আপনাদের নেতার সাথে আন্তরিক ও হৃদ্যতাপুর্ণ   সম্পর্ক বিদ্যমান রাখুন তাহলে আপনাদের এলাকার আরো উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। এর আগে ইসলামিয়া কলেজ ক্যাম্পাসে নবনির্মিত রহিমা-আফসার ভবনের কাজের অগ্রগতি ঘুরে ঘুরে দেখেন। এসময় কলেজ গভর্নিং বডির সদস্যা এবং শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবক আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে মমিন (৩২) নামে এক যুবক আটক হয়েছে। রবিবার রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউপি’র দফাদারপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। আটক যুবক একই এলাকার পচু দফাদারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা মমিন প্রভাব খাটিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে বিভিন্ন অযুহাতে চাঁদা আদায় করে থাকতো। তার চাঁদাবাজিতে এলাকাবাসীকে অতীষ্ঠ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় মমিনের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় অভিযোগ হলে দৌলতপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে।