ট্রিপল সেঞ্চুরিতে ইতিহাসে তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন তামিম ইকবাল। পরে গড়লেন সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও। বিসিএলের ম্যাচে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল রোববার এই কীর্তি গড়েছেন তামিম। মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে ম্যাচের তৃতীয় দিন লাঞ্চের পর পূর্বাঞ্চলের হয়ে ছুঁয়েছেন তিনশ রানের মাইলফলক। পরে দল যখন ইনিংস ঘোষণা করল, তামিম তখন অপরাজিত ৩৩৪ রানে।

তার ট্রিপল সেঞ্চুরিতে দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘ অপেক্ষাও ফুরালো। সেই ২০০৭ সালে জাতীয় লিগে বরিশালের হয়ে সিলেটের বিপক্ষে ফতুল্লায় অপরাজিত ৩১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রকিবুল হাসান। এটিই এতদিন ছিল দেশের একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরি। সেই রকিবুল এই ম্যাচে তামিমের প্রতিপক্ষ দলে। তিনশর পর অন্যদের সঙ্গে তিনিও ছুটে গিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন তামিমকে। ৫৬০ মিনিটে ৪০৭ বল খেলে তিনশ স্পর্শ করেছেন তামিম। রকিবুলের ট্রিপল সেঞ্চুরি ছুঁতে লেগেছিল ৬০০ বল ও ৬৪০ মিনিট। ট্রিপল সেঞ্চুরির পাশাপাশি আরও দুটি রেকর্ড এই ইনিংসে গড়েছেন তামিম। তিনশ ছোঁয়ার সময় ইনিংসে চার ছিল ৪০টি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসমানদের মধ্যে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি চার ছিল মোসাদ্দেক হোসেনের। জাতীয় লিগে ২৮২ রানের ইনিংসের পথে ৩৭টি চার মেরেছিলেন মোসাদ্দেক। ওপেনার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আগের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল লিটন দাসের। ২০১৮ সালে বিসিএলের ম্যাচেই মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে পূর্বাঞ্চলের হয়ে ২৭৪ রান করেছিলেন লিটন। তামিম দিন শুরু করেন ২২২ রানে। আগের দিনের মতোই খেলেছেন স্বচ্ছন্দে। প্রথম ওভারে শহিদুল ইসলামকে বাউন্ডারিতে শুরু। এরপর এগিয়েছেন অনায়াসেই। মুকিদুল ইসলামের বলে পুল করে সিঙ্গেল নিয়ে আড়াইশ ছুঁয়েছেন ৩১৫ বলে। ২৬৫ রানে অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে দিয়েছিলেন, ব্যাটের কানায় লেগে যেটি গালি দিয়ে উড়ে বেরিয়ে হয়ে যায় চার। সেটি ছাড়া আর কোনো শটই মনে হয়নি ছিল তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। লাঞ্চের আগের ওভারে শহিদুলকে কাভার ড্রাইভে চার মেরে বাউন্ডারির রেকর্ড নিজের করে নেন তামিম। লাঞ্চে যান ২৭৯ রান নিয়ে। লাঞ্চের পরও এগিয়ে যান সাবলিলভাবে। পৌঁছে যান কাঙ্খিত ঠিকানায়। তিনশ ছুঁয়ে রকিবুলের ৩১৩ রানও ছাড়িয়ে যান দ্রুতই। খুব কাছেই ফিল্ডিংয়ে থাকা রকিবুল আবার ছুটে এসে তাকে অভিনন্দন জানান। ট্রিপল সেঞ্চুরির পর বাড়িয়ে দেন রানের গতি। প্রথম তিনশতে ছক্কা না থাকলেও মাইলফলক ছোঁয়ার পর মারেন তিনটি ছক্কা। ২ উইকেটে ৫৫৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দল। তামিমের নামের পাশে তখন ৪২৬ বলে ৩৩৪। চার ৪২টি, ছক্কা তিনটি। রকিবুলের ওই ইনিংসের পর ট্রিপল সেঞ্চুরির সবচেয়ে কাছে গিয়েছিলেন নাসির হোসেন। ২০১৭ সালে জাতীয় লিগে রংপুরের বিপক্ষে আউট হয়ে গিয়েছিলেন ২৯৫ রানে। ২০১৩ সালে বিসিএলে মধ্যাঞ্চলের হয়ে পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে বগুড়ায় ২৮৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মার্শাল আইয়ুব। ২০১৫ সালে জাতীয় লিগে বরিশালের হয়ে চট্টগ্রামের বিপক্ষে বিকেএসপিতে ২৮২ করেছিলেন মোসাদ্দেক।

তামাকে মুলত লাভ হয়না দাবী করে মুখ ফিরিয়েছেন অনেকেই

তরমুজ চাষে এবার স্বপ্ন দেখছেন মিরপুরের চাষীরা

হাবিবুর রহমান ও জাহিদ হাসান ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে গত ১০ বছর ধরেই যেসব জমিতে তামাকের দাপট দেখা গেছে সেসব জমিতে আজ নেই তামাকের অস্তিত্ব। তামাকের পরিবর্তে মাটির বুক চিরে উঁকি দিচ্ছে রসালো তরমুজের চারা। একসময় আঁখের দখলে থাকা যেসব জমিতে দখল নেয় তামাক সেই জমিতে এখন নতুন ফসল তরমুজ। বিভিন্ন তামাক কোম্পানীর প্রনোদরার ফলে বিগত দিনে তামাক চাষে ঝুঁকতো কৃষক। তবে এবছর তামাক চাষ থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কৃষক। বিগত দিনে তামাক চাষের কারন হিসাবে কোম্পানীর প্রলোভন ও কৃষকদের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন। এলাকায় একেবারেই নতুন হলেও তরজুম চাষে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন যে কোন আবাদ করেই তামাককে নীল চাষের মতো বিতাড়িত করার পরিকল্পনা করছেন তারা।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাকিলাদহ এলাকার কৃষক শেরেগুল ইসলাম। লেখাপড়া শেষে চাকুরী করতেন একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানে। পাশাপাশি ৫ বছর ধরে তামাক চাষ করে আসছিলেন তিনি। গত বছর চাষ করেছিলেন ৩ বিঘা জমিতে তামাক। তবে এবছর কোন তামাক চাষ করেননি।
শেরেগুল ইসলাম বলেন, “তামাকে মুলত লাভ হয়না। নিজে কাজ করতে পারলে এক সাথে কিছু টাকা পাওয়া যায়। তবে লেবার নিলে কিছুই পাওয়া যায় না। পরিবারের সকলে মিলে পরিশ্রম করা লাগে। বাড়ীতে রোগ-জীবানুর উপদ্রব বেশি হয়।”
তিনি বলেন, “তামাক কোম্পানী আমাদের সার, বীজ, কীটনাশক ও পরামর্শ দিয়ে তামাক চাষে উৎসাহী করেছিলো। তবে গতবার আমার তিন বিঘা জমির তামাক শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কোম্পনী সেই তামাক আর কিনেনি। তাই এবছর রাগ করে আর তামাক লাগাইনি।”
যতদিন বাঁচবেন এই তামাক চাষ করবেন না উল্লেখ করে বলেন, “কোনদিন আর এই তামাক করবো না। আমি এবছর তামাকের পরিবর্তে দেড় বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। আর এক বিঘা জমিতে বেগুন ও ১০ কাঠা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছি। নতুন হলেও তরমুজ গাছ বেশ ভালই হয়েছ। কৃষি অফিসের পরামর্শে আমি তরমুজের সাথি ফসল হিসাবে একই জমিতে টমেটো চাষ করেছি।”
শেরেগুলকে দেখে তামাকের পরিবর্তে একই মাঠে ২০ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন কৃষকরা। এ এলাকায় নতুন ফসল তরমুজ হওয়ায় কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাঈম উদ্দিন।
সরোজমিনে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পুরাতন আজমপুর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, যেসব জমিতে গতবছর তামাক চাষ হয়েছিলো সেসব জমিতে এখন তরমুজের চারা।
কৃষক বাবলু জানান, “আমি তামাকের একন পাঁকা চাষী। গত বছরও আমার ৫ বিঘা জমিতে তামাক ছিলো। শিলা বৃষ্টির কারণে আমার সব শেষ। প্রায় প্রতিবছরই শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি হয় আমাদের। কিন্তু তামাকের চাষ করি বলে কেউ কোন সহায়তা করে না। তামাকের ক্ষতি হলে তামাক কোম্পানীরাও মুখ ফিরিয়ে নেই। তাই এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তামাক করবো না। তামাকের পরিবর্তে এবছর তরমুজ চাষ করেছি। দেখি শুনেছি ভালো লাভ হয় তরমুজে। দেখি কি হয়। শিল পড়ে তো আর তামাকের মতো নষ্ট হওয়ার নেই।”
আরেকজন কৃষক হোসেন আলী জানান, “গতবছর শিলে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। ঋণ নিয়ে তামাক করি, কিন্তু কোম্পানীও আর পাশে থাকে না। তাই এবছর তরমুজ চাষ করছি। আর তরমুজের জমিতে আমরা অনান্য সবজিও করতে পারছি।”
মাঠের মাঝেই দেখা যায় আলেয়া নামের এক কৃষানী প্লাস্টিকের ঘটি/বদনা হাতে নিয়ে তরমুজের গাছের গোড়ায় গোড়ায় পানি দিচ্ছেন।
কৃষানী আলেয়া খাতুন বলেন, “লোক করে গত বছর দুই বিঘা জমিতে তামাক করেছিলাম। সেখান থেকেই ঘটি সেচ দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তবে শিলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে এবছর আর তামাক করিনি। এবছর নিজের ১০ কাঠায় পাশের জমির মালিকের দেখা দেখি তরমুজ লাগিয়েছি। তবে তরমুজে ঘটি দিয়ে সেচ দিলে ভালো হয়। তাই ঘটি দিয়ে সেচ দিচ্ছি।”
এবছর উক্ত এলাকার সবচেয়ে বড় তরমুজ চাষী নিয়াত আলী লালু। বিগত বছর তিনি ছিলেন তামাক চাষী এবং তামাক ব্যবসায়ী। এলাকার কৃষকদের মাঝেও রয়েছে তার প্রভাব।
চাষী নিয়াত আলী লালু জানান, “আমরা মুলত এই অঞ্চলে আঁখের চাষ করতাম। আঁখ নিয়ে সুগারমিলের অনিয়ম আর হয়রানি কারনে আমরা আঁখ চাষ বন্ধ করে দিয়েছি। সেই সুযোগটা কাজে লাগায় তামাক কোম্পানীগুলো। তারা আমাদের বীজ, সার, কীটনাশক, পরামর্শ, চাষের জন্য লোনসহ নানা প্রলোভন দেখায়। আর কৃষকরা তামাকে ঝুঁকে পড়ে।”
তিনি বলেন, “আমরা কোম্পানীর প্রলোভনে পড়ে তামাক চাষ শুরু করি। কিন্তু আমাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে কোম্পানীগুলো। তামাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে কার্ড চালু রয়েছে। আমরা কোম্পানীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই কার্ড কেটে যাবে এই ভয় থাকতাম আমরা।”
তিনি বলেন, “তামাক চাষ করে আমরা মাটির উর্বরতা নষ্ট করে ফেলেছি প্রায়। আমরা একটা বিষয় লক্ষ করেছি যে, তামাক কোম্পানীগুলো তাদের লাভের জন্য আমাদের প্রলোভন দেখায়। তবে তাদের কথা মতো কৃষক তামাক চাষ করে আমরা কৃষকরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে যায়। কারন তারা ছাড়া তো তামাক কেনার কেউ থাকে না।”
তিনি আরো বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে লক্ষ করছি শিলা বৃষ্টিতে তামাকের ক্ষতি হয়। কিন্তু কোম্পানী চাষীদের দিকে তাকায় না। ফলে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আবার নানা নিয়োম চাষীদের উপরে চাপিয়ে দিতে চাই কোম্পানীগুলো। তাই আমরা এলাকার চাষীরা একত্র হয়েছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই অঞ্চল থেকে চিরোতরে তামাক চাষকে না বলবো। মাদককে যেমন আমরা না বলেছি ঠিক তেমনি তামাক চাষকে না বলছি।”
তিনি বলেন, “আমরা তরমুজের জমিতে সাথি ফসল হিসাবে কপি, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁকড় করেছি। এবছর আমি এক দাগেই ১৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে তরমুজের চাষ করেছি। আমার দেখা দেখি আমাদের এলাকার কৃষকরা প্রায় ৫০-৬০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। যে গুলো বিগত দিনে তামাক চাষ হতো।”
তিনি বলেন, “বিঘা প্রতি তরমুজে প্রায় ১৮-২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বিঘাতে প্রায় আশা করছি আমরা তরমুজ চাষ করে বেশ লাভবান হব। কারন বাজারে তরমুজের দাম অনেক ভালো গেছে এবার। তবে তরমুজের বীজের সহজপ্রাপ্যতা হলে কৃষকরা আরো আগ্রহী হবে।”
মিরপুর উপজেলার ফকিরাবাদ এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর আমি ২৫ কাঁঠা জমিতে মাচা করে তরমুজ চাষ করেছিলাম। ক্রেতা ও ব্যাপারীরা জমি থেকেই ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে তরমুজ কিনে নিয়ে গিয়েছিলো। এতে আমার প্রায় দুই লাখ টাকার মতো তরমুজ বিক্রি করেছিলাম।
কাকিলাদহ এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাঈম উদ্দিন জানান, “এই অঞ্চলের কৃষকরা নতুনভাবে তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমি প্রতিনিয়ত কৃষকদের খোঁজ খরব নিচ্ছি। আমরা তরমুজ চাষ সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। সেই সাথে চেষ্টা করছি বিষমুক্ত উপয়ে কৃষকদের তরমুজ চাষ করাতে। আগামীতে ব্যপকভাবে এই এলাকায় তরমুজ চাষ হবে বলে আশা করছি।”
মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, “মিরপুর উপজেলার কৃষকরা এক সময় তামাক চাষের দিকে বেশি ঝুঁকতো। কিন্তু বর্তমানে কৃষি অফিসের পরামর্শে এবং তামাক চাষের কুফল সম্পকে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে অনেকটাই তামাক চাষ থেকে বেরিয়ে আসছে। তামাকের বিকল্প ফসল চাষাবাদে ঝুঁকছেন।”
তিনি বলেন, “তরমুজ চাষ খুবই লাভজন। আমরা তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের জন্য কৃষকদের পরামর্শ ও উৎসাহ দিচ্ছি। এবছর মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের সদরপুর, আজমপুর, কাকিলাদহ, মল্লিকপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকায় তামাকের পরিবর্তে তারা তরমুজ চাষ করেছেন। এলাকায় নতুন হওয়া সত্ত্বেও তরমুজ চাষ খুবই সাড়া ফেলেছে চাষীদের মাঝে। আমরা চেষ্টা করছি সার্বক্ষনিক চাষীদের পাশে সেবা দেওয়ার জন্য।”

রোনালদোর জোড়া গোলে জয়ে ফিরল ইউভেন্তুস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পেনাল্টি থেকে জোড়া গোল করলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ালেন মাটাইস ডি লিখট। ফিওরেন্তিনাকে হারিয়ে সেরি আয় জয়ে ফিরল শিরোপাধারী ইউভেন্তুস। ইউভেন্তুস স্টেডিয়ামে রোববার ৩-০ গোলে জেতা ইউভেন্তুস ২২ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। এক ম্যাচ কম খেলা ইন্টার মিলান ৬ পয়েন্ট কম নিয়ে আছে দুইয়ে। শুরু থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না আগের ম্যাচে নাপোলির মাঠ থেকে হেরে আসা ইউভেন্তুস। পঞ্চম মিনিটে গনসালো হিগুয়াইনের শট, চতুর্দশ মিনিটে লিওনার্দো বোনুচ্চির হেড খুঁজে পায়নি ঠিকানা। অবশেষে ৪০তম মিনিটে স্পট কিকে ইউভেন্তুসকে এগিয়ে নেন রোনালদো। বলের লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়েও পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের শট আটকাতে পারেননি গোলরক্ষক। লিগে টানা ৯ ম্যাচে গোল করলেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। মিরালেম পিয়ানিচের শটে ডি-বক্সের মধ্যে হেরমান পেসসেইয়ার হাতে বল লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে ইউভেন্তুস। ভিএআর দেখে আবেদনে সাড়া দেন রেফারি। ৬৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফিওরেন্তিনার মার্কো বেনাস্সির শট অল্পের জন্য দূরের পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিন মিনিট পর হিগুয়াইনকে তুলে নিয়ে পাওলো দিবালাকে নামান ইউভেন্তুস কোচ। ৭৭তম মিনিটে ইউভেন্তুসের রদ্রিগো বেন্তানকুর ডি-বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে ভিএআর দেখে আবারও পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। গোলরক্ষককে ছিটকে দিয়ে স্কোরলাইন ২-০ করেন রোনালদো। চলতি লিগে এটি তার ১৯তম গোল। শেষ দিকে দিবালার কর্নারে হেডে জাল খুঁজে নেন ডি লিখট। চলতি লিগে সপ্তদশ জয় নিশ্চিত হয়ে যায় ইউভেন্তুসের।

সান্ত¡নার জয়ও পেল না কিউইরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শততম ম্যাচে ফিফটি করলেন রস টেইলর। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পঞ্চাশ পেরুনো ইনিংস খেললেন টিম সাইফার্ট। এরপরও ম্যাচ শেষে চিত্র সেই একই; সান্ত¡নার জয়ও পেল না নিউ জিল্যান্ড। সিরিজের শেষ ম্যাচে রোহিত শর্মার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের নৈপুণ্যে অনায়াস জয় তুলে নিয়েছে ভারত। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে রোববার শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৭ রানে জিতেছে ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৫-০তে জিতে নিল সফরকারীরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬৩ রান করে ভারত। কিউইরা আটকে যায় ৯ উইকেটে ১৫৬ রানে। আগের দুই ম্যাচে সহজ সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে হেরেছিল নিউ জিল্যান্ড। এদিন শেষ ওভারে তাদের করতে হতো ২১। দ্বিতীয় ও চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রোমাঞ্চের আভাস দেন ইশ সোদি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো তাদের। ব্যাট হাতে শুরুটাও বাজে ছিল নিউ জিল্যান্ডের। ১৭ রানের মধ্যে বিদায় নেন মার্টিন গাপটিল, কলিন মানরো ও টম ব্র“স। চতুর্থ উইকেটে টেইলর ও সাইফার্টের ৯৯ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে স্বাগতিকরা। শিবাম দুবের করা ইনিংসের দশম ওভারে তিন ছয় ও দুই চারে ৩৪ রান তুলে রান-বলের সমীকরণটাও নাগালে আনে। তবে সিরিজজুড়ে দারুণ বোলিং করা ভারত শেষ দিকে আবারও ঘুরে দাঁড়ায়। ৩০ বলে ৫টি চার ও ৩ ছক্কায় ৫০ রান করা সাইফার্টকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নবদিপ সাইনি। ড্যারিল মিচেলকে বোল্ড করেন জাসপ্রিত বুমরাহ। ওভারে জোড়া আঘাত হানেন শার্দুল ঠাকুর। ৩ উইকেটে ১১৬ থেকে ৭ উইকেটে ১৩২ হয়ে যায় স্কোরবোর্ড। নিউ জিল্যান্ডের আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যায় অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেইলরের বিদায়ে। শততম ম্যাচে ৪৭ বলে ৫টি চার ও ২ ছক্কায় ৫৩ রান করা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানকেও ফেরান সাইনি। ৪ ওভারে ১২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা বুমরাহ। দুটি করে নেন সাইনি ও শার্দুল। তৃতীয় ম্যাচে কাঁধে চোট পাওয়া কেন উইলিয়ামসন এই ম্যাচেও খেলতে পারেননি। বিরাট কোহলি বিশ্রামে যাওয়ায় ভারতের নেতৃত্বে ছিলেন রোহিত। দিনের শুরুটা ভালো ছিল না টসজয়ী ভারতের। দ্বিতীয় ওভারে স্কট কুগেলাইনের শিকার হন সাঞ্জু স্যামসন। দ্বিতীয় উইকেটে ৮৮ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুল ও রোহিত। ২২ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রান করে হামিশ বেনেটের শিকার হন রাহুল। শ্রেয়াস আইয়ার আসার পর রানের গতি কমে যায়। পায়ের মাংশপেশিতে টান পেয়ে মাঠ ছাড়েন রোহিত। এর আগে ৪১ বলে ৩টি করে ছক্কা-চারে করেন ৬০ রান। বড় শটের জন্য হাপিত্যেস করতে থাকা আইয়ার অপরাজিত থেকে যান ৩১ বলে ৩৩ রানে। শেষ ওভারে মনিশ পান্ডের একটি করে ছক্কা-চারে ১৬০ পেরোয় ভারত। ২৫ রানে ২ উইকেট নেন কুগেলাইন। ৫ ইনিংসে ৫৬ গড়ে ২২৪ রান করা লোকেশ রাহুল হন সিরিজ সেরা। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত: ২০ ওভারে ১৬৩/৩ (রাহুল ৪৫, স্যামসন ২, রোহিত ৬০ আহত অবসর, আইয়ার ৩৩*, দুবে ৫, মনিশ ১১*; সাউদি ৪-০-৫২-০, কুগেলাইন ৪-০-২৫-২, বেনেট ৪-০-২১-১, সোদি ৪-০-২৮-০, স্যান্টনার ৪-০-৩৬-০)। নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৬/৯ (গাপটিল ২, মানরো ১৫, সাইফার্ট ৫০, ব্র“স ০, টেইলর ৫৩, মিচেল ২, স্যান্টনার ৬, কুগেলাইন ০, সাউদি ৬, সোদি ১৬*, বেনেট ১*; ওয়াশিংটন ৩-০-২০-১, বুমরাহ ৪-১-১২-৩, সাইনি ৪-০-২৩-২, চেহেল ৪-০-২৮-০, দুবে ১-০-৩৪-০)। ফল: ভারত ৭ রানে জয়ী। সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে ভারত ৫-০ জয়ী।  ম্যান অব দা ম্যাচ: জাসপ্রিত বুমরাহ।

ম্যান অব দা সিরিজ: লোকেশ রাহুল।

দুবের চেয়ে খরুচে কেবল ব্রড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দল পেল দারুণ এক জয়, নিউ জিল্যান্ড সফরে ৫-০ ব্যবধানে ঘরে তুলল সিরিজ। কিন্তু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে ম্যাচটিকে হয়তো ভুলে যেতে চাইবেন শিবম দুবে। টি- টোয়েন্টির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরুচে ওভার যে এই ম্যাচে করেছেন ডানহাতি এই পেসার। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে এক ওভারে ৩৪ রান দিয়েছেন দুবে। টি-টোয়েন্টিতে ওভারে সর্বোচ্চ ৩৬ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে ওভারের বিব্রতকর রেকর্ডটি ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডের। গতকাল রোববার ভারতের করা তিন উইকেটে ১৬৩ রানের জবাবে একসময় অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু দশম ওভারে ঝড় তোলেন রস টেইলর ও টিম সাইফার্ট। প্রথম দুই বলে ছক্কার পর তৃতীয় বলে চার মারেন সাইফার্ট। চতুর্থ বলে নেন সিঙ্গেল। পরের বলটি ছিল ‘নো’, মিডউইকেট দিয়ে বাউন্ডারি তুলে নেন টেইলর। শেষ দুই বলে আরও দুটি ছক্কায় রান-বলের সমীকরণ নাগালে আনেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। দিন শেষে যদিও জয়ের হাসি ভারতের মুখে। কিন্তু এমন খরুচে ওভারের পর দুবের হাসিটা হয়তো অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে এক ওভারে ব্রডের সর্বোচ্চ রান দেওয়ার ঘটনাটি ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে। ব্রডের করা ইনিংসের ১৯তম ওভারে ছয় বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ভারতের যুবরাজ সিং। ম্যাচটি ১৮ রানে জিতেছিল ভারত। টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে ৩২ রান দেওয়ার নজির আছে চারটি। এর একটি ছিল স্টুয়ার্ট বিনির। এই অলরাউন্ডারকে ছাড়িয়ে ভারতের হয়ে সবচেয়ে খরুচে ওভারের রেকর্ড এখন দুবের।