সভাপতি শামীম ॥ সম্পাদক ঝন্টু

ভেড়ামারায় লেদ এন্ড ওয়েল্ডিং ওয়ার্কসপ মালিক সমিতি’র সম্মেলন

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা লেদ এন্ড ওয়েল্ডিং ওয়ার্কসপ মালিক সমিতি’র সম্মেলন-২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ভেড়ামারা উপজেলা অডিটোরিয়ামে উক্ত সম্মেলনে মোঃ আকরাম হোসেন শামীমকে সভাপতি ও মোঃ রাহাতুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২বছর মেয়াদী ভেড়ামারা উপজেলা লেদ এন্ড ওয়েল্ডিং ওয়ার্কসপ মালিক সমিতি’র কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অনান্যরা হলেন, উপদেষ্টা আব্দুল আলিম, রকিবুল ইসলাম, মোঃ মজনু, সিনিয়র সহ-সভাপতি নোমান জহির রাজা, সহ-সভাপতি স্বপন আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন ও মাসুম ইসলাম, অর্থ সম্পাদক অসিত দা, সহ-অর্থ সম্পাদক আরব আলী, দপ্তর সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক রাজিব আলী, প্রচার সম্পাদক মোঃ পিকলু, সহ-প্রচার সম্পাদক শামসুজ্জামান রিংকু, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ মিন্টু, ধর্মীয় সম্পাদক মোঃ আব্দুর রহিম। ভেড়ামারা কল্পনা ইঞ্জিয়ারিং ওয়ার্কসপের স্বত্তাধীকারী মোঃ আব্দুল আলিমের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আক্তারুজ্জামান মিঠু। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ শামিমুল ইসলাম ছানা, কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ডাঃ আমিরুল ইসলাম মান্নান, ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের যুগ্ন আহবায়ক ইসমাইল হোসেন বাবু, এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, সাংবাদিক ওলি মাষ্টার প্রমূখ।

সারাদেশে নদী-খালের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ঢাকা অফিস ॥ সারাদেশে নদ-নদী, খাল ও জলাশয় দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে সরকার সারাদেশে নদ-নদী, খাল ও জলাশয়ের পাড় থেকে ৫,৫৭৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে এবং ৫৯৩ একর জায়গা দখলমুক্ত করেছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযান চলাকালে রাজশাহী বিভাগে সর্বমোট ১,০২২ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সরকার এবং এই সময় ৮৮ একর জমি দখলমুক্ত করেছে। শুধুমাত্র সিরাজগঞ্জ জেলাতে ৭০০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। খুলনা বিভাগে বিভিন্ন নদীর তীর থেকে সর্বমোট ১,০৩৮ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সরকার এবং উদ্ধার করেছে ৪০ একর জমি। যার মধ্যে শুধু মাগুরা জেলায় সর্বোচ্চ ২৫০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। অভিযানের সময় রংপুর বিভাগের মোট ৬৫৭টি অবৈধ স্থাপনা ভেঙে নদী দখল থেকে প্রায় ৪৬ একর জমি উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৪৬৫টি অবৈধ কাঠামো উচ্ছেদ করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন প্রায় ১৬ একর জমি উদ্ধার করার জন্য নদীর তীর থেকে ২০১টি অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে । ঢাকা বিভাগে মোট ৭৬৮টি স্থাপনা ভেঙে নদীর তীরের প্রায় ৫৯ একর জমি উদ্ধার করেছে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৬৩টি অবৈধ কাঠামো উচ্ছেদ করেছেন ও ৫৮ একর জমি উদ্ধার করেছেন। শুধু ময়মনসিংহ জেলার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীর থেকে প্রায় ৫৫০টি কাঠামো উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুসারে, সিলেট বিভাগে ২২৫টি অবৈধ স্থাপনা নদী তীর থেকে ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং চট্টগ্রামে মোট ৮০০টি স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে ২৭৫ একর জমি দখল থেকে উদ্ধার করেছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ জানান, সারাদেশে উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় পর্ব গত ২৩ ফেব্র“য়ারি থেকে শুরু হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড সারাদেশের ছোট নদী ও খাল দখলমুক্ত করার জন্য গত ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ থেকে অভিযান শুরু করে। সকল জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় অফিসারগণ নদী, খাল ও জলাশয়ের তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দখলমুক্ত করার জন্য অভিযান পরিচালনা করেন। সারাদেশে ৬৪ জেলায় একযোগে এই অভিযান শুরু হয়েছিল এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ৯২,২৯৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্য স্থীর করেছিল। এই সময় মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর খালের তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ড অভিযান শুরু করে। এই অভিযানটি পানি সম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার উদ্বোধন করেন। দেশের ৬৪ জেলায় ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ের এই অভিযান পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় তদারকি করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবির বিন আনোয়ার বলেন, এক বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষে সব জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী অবৈধ কাঠামোর তালিকা তৈরি করেছেন। তিনি জানান, দখলকারীরা অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই পুনরায় দখল করতে ফিরে আসত, কিন্তু এবার পুনরায় দখল ঠেকাতে খালের তীরে গাছ ও হাঁটার পথ নির্মাণ করছে সরকার ।

মিরপুরে আমরা নতুন শিক্ষা নিকেতন’র বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে আমরা নতুন শিক্ষা নিকেতন’র বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে মিরপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজ মাঠে প্রতিযোগিতা শেষে এ পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। আমরা নতুন শিক্ষা নিকেতন’র প্রতিষ্ঠাতা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দৈনিক মাটির পৃথিবী পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এবং গ্রামের কাগজ পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি বাবলু রঞ্জন বিশ্বাস’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘খেলাধুলার মূল কথা হলো প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করা। প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব  খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরী করে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যাবসায়, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্ব। খেলাধুলার সঙ্গে স্বাস্থ্য ও মনের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সুস্থ দেহ মানেই সুস্থ মন। খেলাধুলা জীবনকে করে সুন্দর, পরিশীলিত। তিনি আরো বলেন, শিশুদের দৈহিক ও মানষিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা এবং প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনটাই বড়। লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের মধ্যে সমন্বয় রেখে তাদেরকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এছাড়াও খেলা যেমন মানুষের মনকে সুন্দর রাখে, তেমনি জীবনের চলার পথটা করে দেয় সুন্দর। সুস্থ দেহ থাকলে, একটা সুস্থ মনও থাকবে। এই মন আর এদিক-ওদিক যাবে না। এখন সমাজে একটা সাংঘাতিক অসুস্থতা দেখা যাচ্ছে। যেমন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকাসক্তি-মানুষের মন-মানসিকতা একেবারেই নষ্ট করে দিচ্ছে। সমাজকে কলুষিত করে দিচ্ছে। এখান থেকে আমাদের যুব-সমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে। নিকেতন’র অধ্যক্ষ জীবন কৃষ্ণ পালের পরিচালনায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিরপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী এনামুল হক, মিরপুর পৌরসভার ২নং প্যানেল মেয়র সাংবাদিক জমির উদ্দিন, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার হালদার, প্রেসক্লাবের সাধানণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির হিমু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মারফত আফ্রিদী, অর্থ-সম্পাদক মজিদ জোয়ার্দ্দার, দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আহাম্মেদ, মিরপুর প্রেসক্লাবের সদস্য আব্দুল মজিদ জোয়ার্দ্দার প্রমুখ। সকাল ৯টায় শিক্ষার্থীদের সমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা শুরু হয়। ১৭ টি ইভেন্টের খেলা পরিচালনা করেন নিকেতন’র সহকারী শিক্ষক বিচিত্রা রানী পাল, রূপা রাণী পাল, সুব্রত কুমার টুটুল পন্ডিত, সুরুজ আলী এবং সালাউদ্দিন আহমেদ রাজন।

 

কুষ্টিয়ায় নির্মানাধীন বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের পরিকল্পনায় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের অর্থায়নে সরকারি কলেজের সামনে নির্মানাধীন বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের কাজ গতকাল শুক্রবার বিকেলে পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব. জেলা পরিষদের সহকারি প্রকৌশলী শফিকুল আজম, সাংবাদিক এফসি রিপনসহ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। বঙ্গবন্ধুর সুউচ্চ ম্যুরালটি মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি’র পক্ষে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামের মুজিববর্ষের উপহার।

মিরপুরে মাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় তিন দিনের প্রশিক্ষণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় জৈব সার উৎপাদন এবং বসতবাড়িতে নিবিড় সবজি, মসলা ও ফল চাষের উপরে তিনদিন ব্যাপি কৃষক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসরন অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনদিন ব্যাপি কৃষকদের এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। সমাপনি অনুষ্ঠানে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) হাসিবুল হাসান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা সেলিম হোসেন, মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার প্রমুখ। তিনদিনের এ প্রশিক্ষণ শেষে কৃষকদের সনদপত্র ও প্রকল্পের বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন’র জেলা শাখার সম্মেলনে বক্তারা

হোটেল সেক্টরের ৭ দফা দাবী ও শ্রম আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং বি ২১২৬ এর কুষ্টিয়া জেলা শাখার ২য় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ ফেব্র“য়ারি শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়া ল’কলেজের হল রুমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ত্রি-বার্ষিক এ সম্মেলনে জেলা শাখার সভাপতি রমজান বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত মৃধার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা সভাপতি আব্দুর  রশিদ। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল খালেক। প্রধান বক্তা ছিরেন বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং ২১২৬ এর সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। বিশেষ বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা সাধারণ সম্পাদক পলান বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের জেলা সভাপতি সামসুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন’র যুগ্ম-সম্পাদক মানবেন্দ্র দাস মিন্টু, প্রগতিশীল চিন্তাবিদ এ্যাডঃ আব্দুল বারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক সেলিম উল্লাহ মিয়া, বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়ন রাজবাড়ী জেলার সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলার সভাপতি বাবুল শেখ প্রমুখ। সম্মেলনে বক্তারা বলেন, হোটেল সেক্টরে নিম্নতম মূল মজুরী ২০ হাজার টাকা ঘোষনা, ঘোষিত মজুরী কাঠামো বাস্তবায়ন, গত ২৬ নভেম্বর ২০১৯ শ্রম ও কর্ম সংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শ্রমিকদের নিয়োগপত্র পরিচয়পত্র প্রদানসহ চূড়ান্ত তাগিদপত্র দ্রুত কার্যকরী করার দাবী জানান। সাথে সাথে শ্রমিকদের উপর সকল ধরনের অন্যায় অত্যাচার, ছাঁটাই, নির্যাতন বন্ধকরা সহ শ্রমিক আন্দোলন থেকে সুবিধাবাদী-দালাল নেতৃত্ব উচ্ছেদ; করে সৎ, সংগ্রামী ও শ্রেণী সচেতন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবী জানান। সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে রমজান বিশ্বাসকে সভাপতি, লিয়াকত মৃধাকে সাধারণ সম্পাদক ও দর্পণ শেখকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মুজিব বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের কার্যনির্বাহী সভা

গতকাল বিকাল ৫টায় বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায় কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের কার্যনির্বাহী প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউসুফ আলী সভাপতি আলোচ্যসূচির উপভোগ্য জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক  আমজাদ আলী খান সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি জিল¬ুর রহমান আব্দুর রশিদ হাফিজুর রহমান, ইউসুফ আলী, মিন্টু সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মতিউর রহমান,  মহিলা শ্রমিকলীগের সম্পাদক মেহেরুন্নেসা বিউটি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, সম্পাদক শাহিনুর রহমান লেবু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, রাহাত আলী, প্রচার সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, শংকর কুমার বিশ্বাস, কুষ্টিয়া সুগার মিলস শ্রমিক নেতা আব্দুর রশিদ। উপস্থিত ছিলেন তারিক হাসান সাগর, আফজাল হোসেন, মোবারক হোসেন, শ্রমিকলীগ  নেতা খমিনিসহ প্রমুখ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ৬ টি উপজেলা শ্রমিকলীগের উদ্দেশ্যে আলোচনা সভা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ৩ হাজার চারার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ক. জেলা শ্রমিক লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর ৫০০ শব্দ রচনা প্রতিযোগিতা। খ, কবিতা আবৃতি, গ, চিত্র অঙ্কন প্রতিযোগিতা, ঘ, কাবাডি, হাডুডু, খেলা ভলিবল, ক্রিকেট, সাঁতার , ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম সুইমিংপুল মোহিনী মিলের মাঠে পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে পৌরসভার বিজয় উল¬াস মজমপুর বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে এই সকল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সকল কর্মসূচি থেকে আমন্ত্রিত অতিথি বসার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এমপি, জেলা প্রশাসক। পুলিশ সুপার  জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সমাজের নিয়ে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় নতুন প্রজন্মের মাঝেই বঙ্গবন্ধুর জীবনী আদেশ তুলে ধরার জন্য স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অংশের মধ্যে দিয়ে বার্ষিকী উদযাপন সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়। এসময় কিছু কমিটির মাধ্যমে কাবাডি, হা-ডু-ডু, বলি ব্যাডমেন্টন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বৃক্ষরোপন উপ কমিটি, সাংস্কৃতি উপ কমিটি, কবিতা ও চিত্রাংকন এবং রচনা প্রতিযোগিতার উপ কমিটি, সাজসজ্জা উপ কমিটিসহ মোট ১০টি উপ কমিটি গঠন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভেড়ামারায় ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস পালিত

ভেড়ামারা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। ভেড়ামারা ডায়াবেটিক সমিতির পক্ষ থেকে দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় পদযাত্রা, বিনামূল্যে লেন্স সংযোজন, চক্ষু শিবির, চিকিৎসা ক্যাম্প ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রা শেষে ভেড়ামারা ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি ও উপজেলার নির্বাহী অফিসার  সোহেল মারুফ’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আক্তারুজ্জামান মিঠু। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ শামিমুল ইসলাম ছানা। এসময় অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা ডায়াবেটিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক ড. অমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস,  ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের যুগ্ন আহবায়ক ইসমাইল হোসেন বাবু, এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, আল-আমিন ফার্মেসী’র প্রোঃ আব্দুর রাজ্জাক, ভগবান চন্দ্র সিংহ রায়, মদন কুমার আগরওয়ালা, হাসান বিন ঝন্টু প্রমূখ। সমিতির পক্ষ থেকে দিবসটি উপলক্ষে ডায়াবেটিস ঝুঁকি এড়াতে নিয়িমত খাদ্যাভ্যাসসহ নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি হাঁটাচলা ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

গাংনীতে সালিশ বৈঠকের প্রস্তুতির সময় দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত-১৫

গাংনী প্রতিনিধি ঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটী গ্রামে সালিশ বৈঠকে পূর্বে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৫জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতরা হলেন-সাহারবাটী গ্রামের মনিরুল ইসলাম (৪৪),আমান উদ্দীন (৪০),খলিলুর রহমান (৫০), রবিউল ইসলাম (৪৬),জুয়েল রানা (২৬), জান্নাত আলী (৪৭)। অপর পক্ষের  ঠান্ডু মিয়া (৫০), শফিকুল ইসলাম (৫০), রাসেল আহমেদ (২০), আফাম আলী (২২)। আহতদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ৪জনের শারীরিক অবস্থা আরো গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার সময় চারচারা বাজারের ২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা যায়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সাহারবাটী গ্রামের চারচারা বাজারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান সাহারবাটী গ্রামের কিছু যুবক মিলে একটি রক্তদান সংগঠন করেছিল। সদস্যদের মধ্যে মনোমালিন্যের কারণে কয়েক মাস পূর্বে সংগঠনটি ভেঙ্গে যায়। এনিয়ে সাহারবাটী গ্রামের সুজন আলী নামের এক যুবক ফেসবুকের মাধ্যমে রক্তদান কমিটিকে কটাক্ষ করে বলেন টাকার মাধ্যমে কমিটির সদস্যরা রক্ত বিক্রি করতেন। এনিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা টুটুল হোসেন তাকে মারধর করেছিলেন। মারধরের ঘটনায় সাহারবাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বিষয়টি মিমাংসার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় সাহারবাটী চারচারা বাজারে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। সালিশ বৈঠক শুরু হওয়ার পূর্বে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ১৫জন আহত হয়। পরে গাংনী থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

 

মিরপুরে বঙ্গবন্ধু অলিম্পিয়াডের পুরষ্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

মিরপুর অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে বঙ্গবন্ধু অলিম্পিয়াডের পুরষ্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদ ও আইডিয়াল শিক্ষা পরিবারের যৌথ উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে মিরপুরস্থ কুষ্টিয়া সেক্টরের ২নং ফটকের সামনে আইডিয়াল শিক্ষা পরিবারের ক্যাম্পাসে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। আইডিয়াল শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের প্রভাষক মওদুদ আহমেদ রাজীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ বলেন- শিক্ষার আলো প্রতিটি শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সেই জাতি তত বেশি উন্নত। তাই দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে শিক্ষিত জাতি গঠনের বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে সৎ যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন পৌর মেয়রের প্রতিনিধি কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন টোকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব বিটিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল মাহমুদ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডাঃ আশরাফ-উল হক দারা, ডাঃ লিজা-ডাঃ রতন ম্যাটস্’র চেয়ারম্যান ডাঃ আসমা জাহান লিজা, পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল হামিদ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ চৌধুরী সরওয়ার জাহান, কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সিরাজুল হক, জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি শামসুর রহমান বাবু, জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আইডিয়াল শিক্ষা পরিবারের সহকারী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম সজীব। এ সময়ে ২শ’ ১ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে পিইসিতে ১শ’ ৫৫ জন ও জেএসসিতে ৪৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান অধিকারী খাদিমপুর পঞ্চগ্রাম কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সাকিবুল ইসলাম, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী বহলবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী উম্মে আসফি এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সাদিয়া আফিন প্রমাকে পুরস্কৃত করা হয়।

খোকসায় হাওড় নদীর বেড়িবাঁধের গাছ কেটে নিচ্ছে স্থানীয়রা

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা সিরাজপুর হাওড় নদীর বেড়িবাধ ও পাকা রাস্তার পাশ থেকে আম কাঠালে বড়বড় গাছ  কেটে নিচ্ছে স্থানীয়রা। জানা গেছে, স্থানীয় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সিরাজপুর হাওড় নদীর উৎস্য মুখ এলাকার বেড়িবাধ থেকে প্রায়ই গাছ কেটে বিক্রি করে আসছে। এ চক্রের নেতা কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল বারিক ওরফে আলোর নেতৃত্বে গতকাল শুক্রবার সকালে বেতবাড়িয়ার ইউনিয়নে সামনের বেড়িবাঁধ থেকে আম ও কাঁঠালের ৯টি বড়বড় গাছ কাটতে শুরু করে। গ্রামবাসী স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জানালে বেলা ১২টার দিকে থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে। একই সাথে কাটা গাছের অংশ বিশেষ উদ্ধার করে স্থানীয় যুবক সবুজের জিম্মায় রেখে আসে। তবে বন্ধ হয়নি গাছকাটা। বেড়ি বাঁধের একাধিক পয়েন্টে  গাছ কাটা চলছে বলে সূত্র গুলো দাবি করে। বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক এক সদস্য নাম প্রকাশ করার শর্তে জানান, সিরাজপুর হাওড় নদীর দুই তীরের প্রায় ১২ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ও পাকা রাস্তায় প্রায় ১৫/১৮ কোটি টাকার গাছ রয়েছে। এ সব গাছের মালিক সরকার। প্রভাবশালীরা নিবিচারের যেভাবে গাছ কাটা শুরু করেছে তাতে অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল এলাকা মরুভুমিতে পরিনত হবে। সরকার হারাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। তারা গাছ কাটা বন্ধ ও দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল বারিক ওরফে আলো জানান মেহের আলী নামের এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকায় নিয়ে ৯টি গাছ বিক্রি করেছে। তারা ৩টি গাছ কেটেছে বলেও স্বীকার করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মেহের আলীর ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেন, প্রকৃত পক্ষে হাওড় নদীর বেড়িবাঁধটি নদীতে ভেঙ্গে যায়। পরে গ্রামবাসী তাদের নামীয় রেকডিও জমিতে রাস্তা নির্মান করে। তারা তাদের রেকডিও জমির উপর থেকে গাছ বিক্রি করেছে। থানা পুলিশের এস আই ওয়াজেদ আলী বলেন, সরকারী  বেড়িবাঁধ ও পাকা রাস্তার পাশ থেকে কাটা গাছের অংশ জব্দ করে এক জনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেবে।

জড়িত ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুত্বর আহত কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রশি

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রকাশ্য দিবালকে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুত্বর আহত হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ ওরফে রশি (২৪)। গুরুত্বর আহত রশি কুমারখালী সরকারি কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের দুর্গাপুর এলাকা (বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিমে) থেকে তার উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার সাথে জড়িত ৫ জনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেছে পুলিশ। সজল নামের একজন প্রত্যক্ষদর্র্শী জানায়, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শান্ত, ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ ও ৩ নং সাংগঠনিক সম্পাদক রশি সহ ছয়জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী দেখতে গিয়েছিল। সেখান থেকে বাসস্ট্যান্ডের দিকে ফেরার পথে কাজীপাড়া মোড় এবং বাসস্ট্যান্ডের মাঝে ঝিলিক পার্লারের সামনে দাঁড়িয়ে সোহাগের স্বজনের সাথে কথা বলছিল। সে সময় হাত কুড়াল, চাপাতি ও স্টিলের পাইপ নিয়ে আরিফ, আরিফুল, পাপ্পু, সবুজ, রিজভী, পলক, রিফাত, সম্রাট, অভি সহ ১০/১২ জন মোটর সাইকেলে এসে অতর্কিত হামলা করে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রশীদ রশি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আরিফুল তাকে লক্ষ্য করে কুড়াল ছুড়ে মারে। সে সময় দিশেহারা হয়ে রশি পার্শ্ববর্তী পুকুরে লাফিয়ে পড়লে হামলাকারীদের কয়েক জন পানিতে নেমে তাকে ধরার চেষ্টা করে। ছাত্রলীগ নেতা রশি সাঁতার দিয়ে পুকুরের ওপারে উঠতে গেলে হামলাকারীরা তার বুকে এবং ডান পায়ে কোপ দেয়। এরই মধ্যে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়ক দিয়ে পুলিশের গাড়ি যেতে দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশের গাড়ি থামিয়ে ঘটনার বিবরণ দিলে তাৎক্ষণিক পুলিশ হামলাকারীদের ধাওয়া করে ৫ জনকে আটক করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা রশিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সে সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা ছাত্রলীগ নেতা রশি’র অবস্থা গুরুত্বর দেখতে পেয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে জরুরী ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।  সে সময় কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রাইসুল ইসলাম জানান, ছাত্রলীগ নেতা রশি’র উপর হামলা হয়েছে এই খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে এসে দেখলাম রশি’র অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ডান পায়ের কয়েকটি রগ কেটে গেছে। প্রায় দুই ঘন্টা হয়ে গেছে এখনো অপারেশন চলছে। রশি’র উপর হামলার সঠিক কারণ জানাতে পারেনি কেউ। কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, হামলার সাথে জড়িত কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দিতে আসেনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৌলতপুর সীমান্তে মাদক চোরাচালান এবং নারী ও শিশু পাচাররোধে মতবিনিময় সভা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাদক, চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচাররোধে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত নবগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. রফিকুল আলম, পিএসসি ও উপ-অধিনায়ক মেজর আবু বিন ফয়সাল। মতবিনিময় সভায় জেলা পরিষদের সদস্য নাসির উদ্দিন মাষ্টার ও রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজমন্ডলসহ স্থানয়ি সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ সীমান্ত পারাপার, সীমান্ত হত্যা রোধ এবং নারী ও শিশু পাচাররোধকল্পে সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মামলা তুলে নিতে হুমকি

দৌলতপুরের এক নারীকে নির্যাতনের পর দু’সন্তানসহ তাকে তালাক দিয়েছে পুলিশ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের এক নারীকে নির্যাতনের পর দু’টি সন্তানসহ তাকে তালাক দিয়েছে সাইফুল ইসলাম নামে এক পুলিশ। এনিয়ে মামলা হলে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিচ্ছে ওই পুলিশ। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দু’টি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সকল নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করেও সংসারে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অত্যাচারের পর পাষন্ড এএসআই স্বামী অবশেষে তাকে তালাক দিয়ে সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় বিচারের দাবীতে দুই সন্তানসহ আদালতের স্মরণাপন্ন হলে মামলা তুলে নিতে স্বাক্ষীসহ তাদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে নিলুফা ইয়াসমিন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগীরচর গ্রামের বাবা আবু আব্দুল্লার বাড়িতে অবস্থান করছেন। নিলুফার স্বজনদের অভিযোগ, ২০১০ সালে বিয়ে হয় সেসময় পুলিশের এএসআই ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট গ্রামের মুন্নু মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলামের সাথে। একই কলেজে লেখাপড়ার সুবাদে পরিচয় হয় বিয়ের আরো দু’এক বছর আগে। বিয়ের পর থেকে নিজ বাড়ি কাশিয়ানীতে নিয়ে নানা অজুহাতে নিলুফাকে প্রতিনিয়ত মারধরসহ শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে থাকেন সাইফুল ইসলাম। তাদের সংসারে দুটি সন্তান থাকায় নিলুফার বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে সাইফুলের সাথে কথা বলা হলেও সাইফুল কারও কথা আমুলে নিতেন না। বরং নির্যাতন বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে সাইফুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে নিলুফার উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিতেন। নিলুফার স্বজনরা তাকে স্বামী সাইফুলের বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি নিয়ে আসতে চাইলেও সন্তানের দোহায় দিয়ে তিনি বারবার স্বামীর বাড়িতেই থাকতে চাইতেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সাইফুল কঙ্গোতে মিশনের ডাক পেলে সেখানে যাওয়ার জন্য নিলুফার বাবার কাছে টাকা দাবী করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে নিলুফার বাবা আবু আব্দুল্লাহ মোল্লা সাইফুলকে মিশনে যাওয়ার আগে এক লক্ষ টাকা দেন। মিশনে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সাইফুল। মিশনে থাকা অবস্থায় সাইফুল নিলুফার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ২০১৮ সালের মে মাসে মিশন থেকে ফিরে এসে নিলুফার উপর আবারও নির্যাতন চালাতে থাকে সাইফুল। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে নিলুফাকে তালাক দেন সাইফুল। বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দিয়েও ন্যায় বিচার না পেয়ে অবশেষে ২০১৮ সালের আদালতে মামলা করেন নিলুফা। মামলা দায়েরের পার থেকেই নিলুফা ও তার স্বজনদের নানা ভাবে হয়রানীসহ মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকেন সাইফুল। রাজি না হওয়ায় নিলুফা ও তার মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে সাইফুলের কথিত প্রেমিককে দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করান সাইফুল। নিলুফার ভাই আসিফ আহমেদ বলেন, মামলা তুলে নিতে সাইফুল প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। সাইফুল নিজের অপকর্ম ঢাকতে বিভিন্ন জায়গায় তাদের বিরুদ্ধে টাকা ও মালামাল চুরির লিখিত অভিযোগ করে হয়রানী করছেন। নিলুফা বলেন, তার সন্তানদেরও কোন খোঁজ খবর নেন না সাইফুল। বর্তমানে দু’সন্তান নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। তিনি বলেন, সাইফুল তার উপর অবর্ননীয় অত্যাচার করেছেন। পুলিশের চাকরী করার কারণে সাইফুল সব সময় নিজেকে ক্ষমতাধর মনে করেন। সে কারণে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি  দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। তিনি সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার দাবী করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, নিলুফার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তাকে কোন ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। নিলুফা সংসার করতে ইচ্ছুক না হওয়ায় যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় তাকে ডিভোর্স দেয়া হয়েছে। নিলুফার পরিবার বিষয়টি মিমাংসা করতে চাইলে তার আপত্তি নেই বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

পার্লামেন্টই নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করবে – মাহাথির

ঢাকা অফিস ॥ মালয়েশিয়ার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, পার্লামেন্টই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজা। পার্লামেন্টেই সিদ্ধান্ত হবে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন। যার পর্যাপ্ত সমর্থন থাকবে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন। যদি কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হন, সেক্ষেত্রে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। খবরে বলা হয়েছে, আগামী সোমবার মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভোটাভুটি হবে।

জোট রাজনীতিতে জটিলতার মুখে গত সোমবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এর কয়েক ঘণ্টা পরই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে দেশটির রাজা মাহাথিরকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। মালয়েশিয়ায় মাহাথির ও আনোয়ার ইব্রাহিমের রাজনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সর্বশেষ এই দুই নেতা ২০১৮ সালে ক্ষমতাসীন ইউএমএনও নেতৃত্বাধীন বারিসান ন্যাসিওনাল জোটকে ক্ষমতা থেকে সরাতে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে। তাদের চুক্তি ছিল, একটি নির্দিষ্ট সময় পর মাহাথির প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন আনোয়ার ইব্রাহিম। কিন্তু পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে মাহাথির নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণে রাজি না হওয়ায় পাকাতান হারাপান জোটে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মাহাথির হঠাৎ পদত্যাগ করায়, আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে মাহাথির একটি ঐক্যমত্যের সরকার গঠনের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন।

তবে আনোয়ার বুধবার এই ‘ব্যাকডোর সরকার’ গঠনের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে সাবেক পাকাতান হারাপান জোটের তিনটি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে রাজার কাছে তার নাম প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) দল, যারা প্রায় ছয় দশক মিয়ানমারের ক্ষমতায় ছিলো তারাও মাহাথিরের পরিকল্পনা নাকচ করেছে। তারা নতুন নির্বাচন চায়।

 

শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন নিয়ে ভাবছে সরকার – পরিকল্পামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার গিয়ার পরিবর্তন করা হবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন নিয়ে ভাবছে সরকার। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেরানী তৈরির উৎস কিংবা কেরানী নির্ভর প্রতিষ্ঠান না বানিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান করা হবে। একটি কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি শিক্ষার্থী রাখা যাবে না। প্রয়োজনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এর জন্য প্রতি জেলাতেই মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি করেছে। দেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। দেশে এখন একশোর ওপরে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অথচ এক সময় এসব চিন্তার বাইরে ছিল। সুনামগঞ্জের হাওর এলাকাতেও মেডিকেল কলেজের কাজ শুরু হয়েছে। তাই দেশের মানুষকে উন্নয়নের পক্ষে থাকতে হবে। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাহেল মাহমুদ, উপাধ্যক্ষ মাজহরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন, ব্যবসায়ী মো.জিয়াউল হক, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদযাপনের আহ্বায়ক ইফতেখার আলম প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে সরকার – মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে। বারবার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ আদেশের মধ্য দিয়ে সরকারের সেই হিংগ্রাশ্রয়ী নীতিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটল।’ শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু প্রয়াত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরোর মরদেহে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। শুভেচ্ছা বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও সরকারের ইচ্ছায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করা হয়েছে। বিনাচিকিৎসায় বেগম জিয়ার অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে নেয়ার চক্রান্ত চলছে। সরকার এ জন্য আদালতকে ব্যবহার করছে।’ প্রয়াত পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেরোর বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি শুধু বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু নয়, তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক বাতিঘর। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষ তাকে আমরণ স্মরণ রাখবে। তিনি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সব সম্প্রদায়ের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন।’ ধর্মীয় গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যজীবীবিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

 কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ভূয়া র‌্যাব গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গী, অস্ত্র, নাশকতা, অপহরণ, ডাকাতি, দস্যুতা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, অর্থ জালিয়াতি ও বড় ধরণের মাদক চোরাচালান সহ চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ সকল অপরাধ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে উপরোক্ত সকল অপরাধ দমনে পারদর্শিতা প্রদর্শন করে জনমনে স্বস্তি আনয়ন ও আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি/সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এলিট ফোর্স এর মত সু-সজ্জিত ও শৃংখলাপূর্ণ বাহিনীর নামে ভূয়া পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সকল অসাধু সংঘবদ্ধ চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া এর একটি বিশেষ টিম গোয়েন্দা নজরদারী ও টহল অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের সূত্র ধরে র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার স্বজল কুমার সরকার জানতে পারেন যে, একটি অসাধু প্রতারক চক্রের সদস্য কথিত সার্জেন্ট আব্দুস সালাম (৬২), ২৭ বেঙ্গল, রেজিমেন্ট, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১২ এর উদ্ধর্তন অফিসার পরিচয়, ভূয়া র‌্যাব আইডিকার্ড প্রদর্শন করে প্রায় ৩০/৪০ জন ব্যক্তির নিকট হতে দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন ব্যক্তির/প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে প্রতারণা করে বিকাশের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান’কে ঢেউটিন, সিমেন্ট, ইট, সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে তাদের নিকট হতে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এরইপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্প প্রায় ১০/১৫ টি লিখিত এবং মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল ২৮ ফেব্র“য়ারি কুষ্টিয়ার খোকসা থানাধীন বুজরুক মির্জাপুর গ্রামস্থ জনৈক আব্দুর রব বিশ^াস (বাদশা মাষ্টার) এর নিজ বাড়ীর পশ্চিম অংশে ভাড়াদেয়া টিনশেড বিল্ডিং এর দক্ষিণ দুয়ারি আসামীর নিজ শয়ন কক্ষে সময় অনুমান রাত ২টায় অভিযান পরিচালনা করে ভূয়া র‌্যাব সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান (৬২), পিতা-মৃত আছির উদ্দিন মোল্ল্যা, মাতা-মৃত দুদু বিবি, সাং-আন্দলবাড়ীয়া, থানা-জীবননগর, জেলা-চুয়াডাঙ্গা, বর্তমান ঠিকানা- বুজরুক মির্জাপুর গ্রামস্থ আব্দুর রব বিশ^াস (বাদশা মাস্টার) এর বসত বাড়ীর ভাড়াটিয়া, থানা- খোকসা, জেলা-কুষ্টিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীর দখল হইতে ভূয়া র‌্যাব ভিজিটিং কার্ড ২টি, প্রতারণার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ১টি, সীমকার্ড ২টি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রেশন সার্টিফিকেট ১টি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ২টি সহ উদ্ধর করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতসহ কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

দিল্লিতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকায় বিশাল বিক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনসহ মসজিদ-মাদ্রাসায় আগুন দেয়ার প্রতিবাদে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশের সমমনা ইসলামী দলগুলো। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে নয়াপল্টনের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে। এ সময় দিল্লির আক্রান্ত মুসলিম ও মসজিদের ছবি সংবলিত পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করার পাশাপাশি সেখানকার মুসলিমদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন ¯ে¬াগান দেন মুসল্লিরা। বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সমমনা ইসলামী দলগুলোর নেতা ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, দিল্লিতে মুসলমানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। সেখানে কোনো নিরাপত্তা নেই। আগুন দিয়ে মসজিদ পোড়ানো হচ্ছে। মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চলছে। অনতিবিলম্বে এই নির্যাতন ও হত্যাকান্ড বন্ধ করা হোক। সমাবেশ থেকে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়কে ভারতের মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান বক্তারা। বক্তারা বলেন, ভারতের সাম্প্রদায়িক মোদি সরকার সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। মুসলমানদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। নারী ও শিশুদের ওপরও নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে বিশ্ব মুসলিম নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপিকে দায়ী করে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে মোদির আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের দাবি জানান বক্তারা। প্রসঙ্গত, ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে গত রোববার থেকে দিল্লিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

পাপিয়ার সঙ্গে জড়িতদেরও ছাড়া হবে না – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার সঙ্গে যারা ছিলেন, তাদের বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, যারা পাপিয়ার সঙ্গে অপরাধ করেছেন কিংবা পাপিয়ার অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার গেরুয়া বাজার এলাকায় দারুল উলুম মাবিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার একটি ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সরকারের সময় অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ‘এখনো দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অপরাধীদের কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না’, বললেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি জানান, জামিন দেয়া-না-দেয়া সম্পূর্ণ আদালতের ব্যাপার। আর খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া-না-দেয়াও আদালতের নিজস্ব এখতিয়ার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন, বিচার বিভাগের ওপর সরকারের কোনো হাত নেই। খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে আদালত যা করছেন, সেটা তারা ভেবে চিন্তে এবং আইন অনুযায়ী করছেন। এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, মাদরাসার অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান নবাবগঞ্জী, সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মুছা মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভোটের দিন ছুটি না রাখার ভাবনা ইসির

ঢাকা অফিস ॥ ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নির্বাচনের দিন আর সাধারণ ছুটি ঘোষণা না করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরশন নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই নিয়ে শুক্রবার নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই ভাবনার কথা বলেন। তিনি বলেন, “শুধু স্কুল-কলেজ ছুটি দিয়ে এবং অফিস-আদালত খোলা রেখে নির্বাচন করা যায় কি না তা ভেবে দেখছে কমিশন। আর সেজন্য ঢাকা- ১০ আসনের উপ-নির্বাচনে এভাবে নির্বাচন করে মডেল দাঁড় করানোর চিন্তা করছে কমিশন।” গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকায় নানা রকম আলোচনা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন লম্বা ছুটির চক্করে পড়ায় ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব পড়বে কি না, সেই প্রশ্ন আসছে। বাংলাদেশে সব নির্বাচনেই ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ২৯ মার্চ চট্টগ্রামের ভোটের আগে বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবস এবং শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা চারদিনের ছুটি থাকবে চট্টগ্রামে। এ কারণে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ভোট দুই দিন পেছানোর পাশাপাশি সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। “আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা, এরপর রোজা। আর দ্বিতীয় অপশন আছে বর্ষার মধ্যে নির্বাচন করার। বিশ্বাস করেন, বর্ষার সময়ে চট্টগ্রামে নির্বাচন করার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। “আমাদের অভিজ্ঞতা হল, চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট ডুবে থাকে বর্ষার সময়। যেহেতু হাই কোর্ট লেমিনেটেড বা প্লাস্টিক মোড়ানো পোস্টার লাগাতে নিষেধ করে দিয়েছে, আমরা যদি বর্ষার মধ্যে নির্বাচন করতে চাই, তাহলে প্রার্থীরা কোনো প্রচার করতে পারবে না।” চট্টগ্রামের ভোটে সেনা মোতায়েনের দাবি উড়িয়ে দিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কখনো সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় না। তবে ইভিএম পরিচালনায় কমিশনকে সহায়তার জন্য প্রতি কেন্দ্রে দুজন করে সেনা সদস্য উপস্থিত থাকবেন। ঢাকার দুই সিটি এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকার বিষয়টি নিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটকেন্দ্রে আসতে যাতে বাধার দেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সবাইকে বারবার অনুরোধ করেছেন তারা। “ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে যেতে কাউকে বাধা দেওয়া হয়েছে এমন কোনো তথ্য আমরা পাইনি, কিন্তু মানুষজন যায়নি।” ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে আশা প্রকাশ করে রফিকুল বলেন, “নির্বাচনের সমস্ত পরিবেশ নিশ্চিত করব। যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। ভোট কেন্দ্রে গেলে মানুষ কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে। এটুকু আশ্বস্ত করছি।” গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের গোপন কক্ষে প্রার্থীর সমর্থকদের উপস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন,  “আইনে আছে যদি কেউ অসুস্থতা কিংবা চোখের জন্য ভোট দিতে অপারগ হয়, তারা একজনকে সহায়তাকারী নিয়ে যেতে পারবেন। “ওই রকম যদি কেউ করেন তাহলে আপনারা যদি বলেন এটা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তাহলে আমি অসহায়। তবে আপনারা যখন বলছেন, এরকম ঘটনা; আমি অস্বীকার করছি না, ঘটতে পারে।”