‘সুপরিকল্পিতভাবে’ হামলা করেছেন বিএনপির প্রার্থী – আমু

ঢাকা অফিস ॥ গোপীবাগে সংঘর্ষের দায় বিএনপিকে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেখানে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে ‘সুপরিকল্পিত হামলার’ অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু। সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টা পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। সেই মুহূর্তে হামলার ঘটনা। আর এই ঘটনা নিয়ে আমাদের সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে এটা দুঃখজনক। “বিএনপি গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসছে মনে করে আমরা স্বাগত জানিয়েছিলাম, সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। গণতান্ত্রিক ধারা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে চলবে এই আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল।” রোববার দুপুরে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলা ওই সংঘর্ষের মধ্যে এক সংবাদকর্মীসহ ডজনখানেক লোক আহত হয়েছেন। বিএনপি কর্মীরা বলছেন, দুপুর ১টার দিকে ইশরাক মিছিল নিয়ে গোপীবাগে নিজের বাসার দিকে যাওয়ার সময় সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের মোড়ে ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা’ তাদের ওপর হামলা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইশরাকের মিছিলের সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিক কাউন্সিলর প্রার্থী ব্যাডমিনটন মার্কার রোকন উদ্দিন আহমেদ এবং সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী লাভলী চৌধুরীর কর্মীরা উপস্থিত হন ওই মোড়ে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ¯ে¬াগানের এক পর্যায়ে উত্তেজনা এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে হয় ঢিল ও চেয়ার। সংঘর্ষের পরে সংবাদ সম্মেলন করে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন বানচাল করতেই সরকারি দল প্রচারে হামলা চালিয়েছে। আমু বলেন, “আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ফজলে নূর তাপসের নির্বাচনী কার্যালয়ে ওই এলাকার কাউন্সিলর যখন প্রবেশ করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নেতৃত্বে একটি মিছিল এসে আমাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা শুরু করে। “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বলেছে, এই এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা করার কোনো সিডিউল ছিল না। অর্থাৎ প্রচারণায় যাওয়ার পরে এ ঘটনা ঘটেনি এটা পরিষ্কার। এটা তারা হঠাৎ করে করেছেন।” আমির হোসেন আম্ ুবলেন, “এটা আমাদের উপর তাদের সুপরিকল্পিত আঘাত। এটা আগামী দিনে নির্বাচন বানচালের একটি ইঙ্গিত। আগে থেকে বিএনপি নেতারা যা বলে আসছে এটা তার প্রমাণ। “আজকে আমাদের প্রার্থীর অফিসের সামনে আট রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। প্রায় ৫০ জনের মত আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ৩৫ জন ভর্তি আছে।” এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আরও সতর্ক ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাই।” সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে বলে জানান আমু। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গির কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুরে হোসেন নিখিল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

 

মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো চারে

দৌলতপুরে বিষাক্ত এ্যালকোহল পানে আরও ১জনের মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিষাক্ত এ্যালকোহল পানে আরও ১জনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার মৃত কালু মোল¬ার ছেলে কাওছার মোল¬া (২৭) বিষাক্ত এ্যালকোহল পান করে অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সে মারা গেলে তড়িঘড়ি করে রাতে তাকে দাফন করা হয়। এনিয়ে এ্যালকোহল পানে মৃত্যু হলো ৪জনের। অসুস্থ রয়েছে এখনও ৩জন। এদের মধ্যে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ২জন এবং দৌলতপুর হাসপাতালে ১জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, শুক্রবার রাতে উপজেলার হোসেনাবাদ বাজারে রাসেল ফার্মেসী  থেকে হোসেনাবাদ এলাকার সফের মিয়ার ছেলে খায়ের কসাই (৫৫), একই এলাকার এজবার আলীর ছেলে মফিজুল ওরফে মুক্তি (৩৪), ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহিরমাদি মসজিদপাড়া এলাকার চুন্নু কসাই (৪৫), হোসেনাবাদ এলাকার জিল¬ু (৪৪) ও হান্নান (৪২), তারাগুনিয়া এলাকার কাওছার মোল¬া (২৭) ও  লিপু (৩২) সহ ৭-৮জন বিষাক্ত এ্যালকোহল পান করে। পরে অসুস্থ হয়ে পর্যায়ক্রমে খায়ের কসাই, মফিজুল ওরফে মুক্তি, চুন্নু কসাই ও কাওছার মোল¬া মারা যায়। অসুস্থ হয়ে হোসেনাবাদ এলাকার জিল¬ু ও হান্নান কুষ্টিয়া হাসপাতালে এবং লিপু দৌলতপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বেসরকারি ৩ বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা

ঢাকা অফিস ॥ বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করায় বেসরকারি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ওই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগে ৫০ জনের বেশি ছাত্র ভর্তি করায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ গতকাল রোববার এ আদেশ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি হচ্ছে- সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও ইসলামিয়া ইউনিভার্সিটি। জরিমানার এই টাকা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে লিভার ফাউন্ডেশন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কিডনি ফাউন্ডেশনে জমা দিতে বলা হয়েছে। আদালতে বার কাউন্সিলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন ও শাহ মঞ্জুরুল হক। আইন বিভাগ থেকে পাশ করার পর বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট করেন। এর শুনানি নিয়ে উচ্চ আদালত রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল আপিল বিভাগে যায়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদনটি করা হয়েছিল। পৃথক আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ ওই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ৩০ লাখ টাকা লিভার ফাউন্ডেশন ও কিডনি ফাউন্ডেশনে দিতে বলেছেন। এই অর্থ জমা দেয়ার রসিদ বার কাউন্সিলে জমা দেয়া হবে। সেই শর্তে শিক্ষার্থীরা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।

 

গোপীবাগে ইশরাকের নির্বাচনী প্রচারে হামলা

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (ডিএসসিসি) বিএনপির মেয়রপ্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজন গণমাধ্যমকর্মীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর গোপীবাগে নির্বাচনী গণসংযোগ চালাতে গেলে ইশরাকের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগÑ আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের সমর্থকরা এ হামলা চালায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০ মিনিট থেকে থেমে চলে এ সংঘর্ষ। অবিভক্ত ঢাকার প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বাসার অদূরে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। কয়েকজনকে রাস্তায় ফেলে বাঁশ দিয়ে পেটানো হয়। হামলায় আহত হন বেশ কয়েকজন বিএনপি কর্মী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী প্রচারে প্রতিপক্ষের হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে সংঘর্ষ চলে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় উভয় দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন সকালে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে গণসংযোগ শুরু করে উইমেন্স সেন্ট্রাল কলেজের সামনে আসলে হঠাৎ করেই সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। আধাঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। হামলা শুরু হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইশরাককে নিয়ে তার বাসার দিকে যান। পরে ইশরাক গণমাধ্যমের সঙ্গে হামলার বিষয়ে অভিযোগ করেন, বিনা উসকানিতে পরিকল্পনামাফিক এ হামলা করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় প্রতিপক্ষ এই হামলা চালায়। তার নেতাকর্মীদের ভোট থেকে বিরত রাখতে এ হামলা। তিনি জানান, বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক এ হামলায় রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। আহত হয়েছেন তার ৭-৮ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। ইশরাক হোসেন এ হামলার নিন্দা জানিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে এসে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেয়ার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত এর আগে গাবতলীতে ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ।

আরআই এর জনমত জরিপ

দেশের ৮৫ ভাগ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ওপর সন্তুষ্ট আরআই

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পরিচালনায় দেশের ৮৫ ভাগ মানুষ সন্তষ্ট বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল (আরআই)। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম এক বছরের কার্যক্রমের ওপর পরিচালিত জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মতামত প্রদানকারীদের মধ্যে ৮০ ভাগ উত্তরদাতা জানায়, বর্তমান মেয়াদের প্রথম এক বছর আগের তুলনায় ভালো। জরিপে অংশ নেয়া শতকরা ৩ ভাগ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলেও জানায় আরআই। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম এক বছরের কার্যক্রম’ সম্পর্কে পরিচালিত জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল। এ সময় রিসার্চ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী গবেষক অধ্যাপক আবুল হাসনাত মিল্টন, প্রধান সমন্বয়কারী কর্মকর্তা কাজী আহমদ পারভেজ ও সমন্বয়কারী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। জরিপের ফলাফল প্রকাশকালে অধ্যাপক আবুল হাসনাত মিল্টন বলেন, গত ৭ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ভাষণে দেশবাসীকে তাঁর ওপরে আস্থা রাখতে বলার প্রেক্ষিতে শতকরা ৮৬ ভাগ উত্তরদাতা জানান, তারা তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) ওপর আস্থা রাখেন, মাত্র ৩ ভাগ আস্থাহীনতার কথা জানান এবং ১১ ভাগ মতামত প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সফলতার বিষয়ে পরিচালিত জরিপের ফলাফলে বলা হয়, সবচেয়ে কার্যকরি মন্ত্রণালয় হিসেবে শতকরা ৩০ ভাগ উত্তরদাতা শিক্ষা, ২৮ ভাগ উত্তরদাতা সড়ক পরিবহন সেতু, ৯ ভাগ উত্তরদাতা তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি এবং বাকীরা অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে বেছে নেন। দক্ষতা ও সাফল্যের প্রেক্ষিতে মন্ত্রীদের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন যথাক্রমে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (৩৬ ভাগ) এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি (২৯ ভাগ)। এতে বলা হয়, জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগ উত্তরদাতা বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে কোন আলোচনা করতেই চাননি এবং ২৫ ভাগ উত্তরদাতা বিএনপির কার্যক্রম নিয়ে অসন্তষ্ট, মাত্র ৬ ভাগ উত্তরদাতা বিএনপির কার্যক্রমে সন্তষ্ট। এর মধ্য দিয়ে জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাটির মনে হয়েছে, রাজনীতিতে বিএনপি গুরুত্ব হারাচ্ছে। জাতীয় পার্টির ব্যাপারেও উত্তরদাতাদের মধ্যে আগ্রহ কম পরিলক্ষিত হয়েছে বলেও জানানো হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৪৮ ভাগ উত্তরদাতা দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধীদল থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, ৩২ ভাগ মনে করেন দরকার নেই এবং ২০ ভাগ মতামত প্রদান করেন নি। আরআই জানায়, দেশব্যাপী দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ৮ হাজার ৩৯ জন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে পরিচালিত টেলিফোন জরিপে ৫ হাজার ৪শ’২৯ জন ফোন গ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ২ হাজার ২শ’ ৬৬ জন অর্থাৎ শতকরা ৪১ দশমিক ৭ ভাগ অংশগ্রহণকারী তাদের মতামত প্রদান করেন।

সাধারণ জনগণের উন্নতি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি পানি শোধন প্রকল্প, দুটি সেতু এবং কয়েকটি ট্রেন সার্ভিসসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনকালে তৃণমূলে সাধারণ জনগণের উন্নতিকে দেশের সার্বিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ছাড়া কখনো একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘একটা দেশের সার্বিক উন্নযন করতে হলে শুধু রাজধানী ভিত্তিক উন্নয়ন করলেই হবেনা, একেবারে গ্রামের মানুষ, তৃণমূলের মানুষদের উন্নতি করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে তাঁর সরকারী বাসভন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু ও পূর্ব-তারাকান্দি-জামালপুর-ঢাকা রুটে একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’, ঢালারচর-পাবনা-রাজশাহী রুটে ‘ঢালারচর এক্সপ্রেস’ ও ফরিদপুর রুটে ‘রাজবাড়ী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের রুট বর্ধিতকরণ এবং চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাক পরিবর্তন কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রী এ সময় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রদানের জন্য মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক ‘পল্লী লেনদেন’ কার্যক্রম, এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘গুরুত্বপূর্ণ ৯টি ব্রিজ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় ১৫ হাজার মিটার চেইনেজে তিতাস নদীর ওপর ৫৭৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু এবং মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলাধীন মানিকগঞ্জ-সিঙ্গাইর আরএইচডি রাস্তায় কালীগঙ্গা নদীর ওপর ৪৫৬ মিটার পিসি গার্ডার সেতু উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এছাড়াও চট্টগ্রাম ওয়াসার চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন ও স্যানিটেশন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) আওতায় নির্মিত ‘শেখ রাসেল পানি শোধনাগার’ এবং খুলনা ওয়াসার ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প’-এর আওতায় নবনির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ ও বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ১২ ঘণ্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন । শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই হলো বর্তমান সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য। এ কারণে সারাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকান্ড ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। শহর ও গ্রামের মানুষকে সমান সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার কাজ করছে। অর্থমন্ত্রী এএইচএম মুস্তাফা কামাল, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মজিবুর রহমান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং তথ্য সচিব কামরুন্নাহার তাঁদের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এছাড়াও পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জ্বল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। সূচনা বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের উপকারভোগী, চট্টগ্রামের পানি শোধনাগারের উপকারভোগী, খুলনা পানি শোধনাগারের উপকারভোগী, চট্টগ্রামে টেলিভিশনের উপকারভোগী ও জামালপুরের রেল ব্যবহারকারী উপকারভোগীদের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তাঁর ২৪ বছরের সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের মহান বিজয়ের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা এবং চিকিৎসা পাবে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যে সংবিধান দিয়ে গেছেন তাতে সকলের এই মৌলিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ’৭৫ সালে জাতির পিতা হত্যাকান্ডকে একটি ‘কালো অধ্যায়’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘মিলিটারি ডিক্টেটররা যখন ক্ষমতায় আসে তখন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আর নিজেদের ক্ষমতার ভিত্তিটাকে শক্ত করার জন্য সমাজে একটি এলিট শ্রেণী তৈরী করে। সাধারণের জন্য কিছু করে না। যে কারণে ’৭৫’র পর এদেশের মানুষ সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত ছিল।’ ‘আর আমরা যারা রাজনীতি করি তাঁদের লক্ষ্যই থাকে জনগণের কল্যাণ, তাঁদের সার্র্বিক উন্নতি’, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার দিয়ে যাওয়া সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রামীন জনগণকে সঙ্ঘবদ্ধ করে সমবায় ভিত্তিক কৃষিকে উৎসাহিত করাই তাঁর সরকারের ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে বলেন, ‘এক সময় আমিও ক্ষুদ্রঋণে উৎসাহিত করতাম কিন্তু দেখা গেল ঋণের পরিমান এক সময় এত বেড়ে যায় যে, এক সময় মানুষ ঋণগ্রস্থ হয়ে হয় আত্মহত্যা করে, না হয় ঘর-বাড়ি, ভিটে-মাটি বিক্রী করে একেবারে নি:স্ব হয়ে যায়। সে আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেনা।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য কখনোই এই ক্ষুদ্র ঋণ কার্যকর হয়না।’ কাজেই একটা মানুষ যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ক্ষুদ্র ঋণের পরিবর্তে তাঁর সরকার ক্ষুদ্র সঞ্চয় ভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে একটি বাড়ি একটি খামার (বর্তমানে আমার বাড়ি আমার খামার) প্রকল্প শুরু করে। অর্থাৎ কৃষিভিত্তিক উৎপাদনের বাজারজাত হবে সমবায় ভিত্তিক, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দরিদ্রদের সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রাখার জন্যই তাঁর সরকার ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’ চালু করেছে। তিনি প্রবাস গমনেচ্ছু এবং নবীন উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে তাঁর সরকারের প্রতিষ্ঠিত ‘কর্মসংস্থান’ বাংকের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁর সরকারের সময় মোবাইল ফোনকে বেসরকারী খাতে উন্মুক্ত করে দেয়ার ফলে সারাদেশের সকলের হাতে মোবাইল ফোন চলে এসেছে। তিনি এ সময় দেশের সাড়ে ৩ হাজার ইউনিয়নে ইন্টারনেট ব্রডব্রান্ড সেবা পৌঁছে দেওয়া, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণসহ তথ্য প্রযুক্তি খাতে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি ‘লেনদেন’ ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপস উদ্বোধনের ফলে সৃষ্ট নানা সুযোগ-সুবিধারও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী রেল যোগাযোগের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহের উল্লেখ করে বলেন, ‘পাবনা, ঢালারচর, জামালপুরসহ আরো বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। রেলের মাধ্যমে মানুষ যেমন নিরাপদে যেতে পারে আবার যাতায়াতও সাশ্রয়ী হয়। সে কারণে আমরা রেল সার্ভিসের ওপর অনেক গুরুত্ব দিয়েছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘এইক্ষেত্রে রেলওয়ের কাছে আমার একটা অনুরোধ থাকবে যে, আমরা রেল লাইন বাড়াচ্ছি এবং নতুন নতুন বগি এবং যাত্রী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি। তবে, রেলের পুরনো ব্রীজগুলো, কালভার্টের ওপর ব্রিজসহ বিভিন্ন রেল ব্রীজগুলো মেরামত করতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, এগুলো অত্যন্ত পুরণো হযে যাওয়ায় রেল চলাচলে বিঘœ সৃষ্টিসহ যাত্রী নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের (বিএনপি) আমলে রেল বন্ধ করে দেওয়ায় বিভিন্ন রেলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই এমনটি হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘সে সময়কার সরকারের এটি একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্তÍ ছিল।’ ‘যে কারণে বছরের পর বছর চলে গেছে এসব ব্রিজ মেরামত করা হয়নি। তারা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে রেলের লোকবলকে বিদায় করে দিয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গার লাইন বন্ধ করে দিয়েছে। সারাদেশে সার্ভে করে যেখানে যত পুরনো রেল ব্রিজ আছে সেগুলো মেরামত করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি। এ জন্য একটা প্রকল্প গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর আমরা অনেক পানি শোধনাগার করেছি। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আমরা পানি শোধনাগার করেছি। আমার একটা অনুরোধ থাকবে, পানি ব্যবহারের সময় যেন সবাই মিতব্যয়ী হই।’ তিনি বলেন, অনেক টাকা খরচ করে পানি শোধন করে সেই পানি সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে নোনা পানির জন্য খুলনাবাসীর পানির অভাব তীব্র ছিল। তিনি আরো বলেন, তাদের কষ্ট লাঘবের জন্য মধুমতি নদী থেকে পানি এনে শোধন করে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। ১ লিটার পানি শোধন করতে প্রচুর টাকা খরচ হয়। কাজেই পানির অপচয়টা সবাই বন্ধ করবেন। কল ছেড়ে দিয়ে ব্রাশ করা, সেভ করা বা কল ছেড়ে দিয়ে গোসল করা -এগুলো কেউ করবেন না। প্রয়োজনে বালতি ও মগ ব্যবহার করবেন। বিভিন্ন স্থানে সেতু নির্মাণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যোগাযোগের সুবিধার জন্য আমরা বিভিন্ন জেলায় সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছি। যোগাযোগের ফলে প্রতিটি অঞ্চলে অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি হচ্ছে। তিনি বলেন, হরিরামপুর মানিকগঞ্জ এমন একটি এলাকা যেখানে সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্যা হতো। সবসময় এখানে বন্যা লেগেই থাকত। এখানে যোগাযোগের ব্যবস্থা খুব অনুন্নত ছিল। সেখানে আমরা ব্রিজ করে উন্নত যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছি। তাঁর সরকার জনগণের বিনোদন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, চট্টগ্রাম টেলিভিশনের সম্প্রচারেরর সময় বাড়ানোর উদ্দেশ্যটা হলো, চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের কালচারাল অনুষ্ঠানগুলো মানুষ দেখতে পারবে। সেখানে স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরাও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটা মানুষের ভেতরে যে সুপ্ত মেধা রয়েছে সেই প্রতিভার বিকাশ ঘটবে এই টেলিভিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে। সাংস্কৃতিক হত্যাকান্ড বিকশিত হওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের যারা সংস্কৃতিকর্মী তাদেরও সুবিধা হবে। এছাড়া এখানে অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, আজ এখানে বসে আমরা রেল যোগাযোগ, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, ব্রিজ নির্মাণ, শেখ রাসেল পানি শোধনাগার, বঙ্গবন্ধু ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করলাম। এখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে দেখলেন যে, কোন মন্ত্রণালয়ের কী উন্নয়ন হয়েছে। এতে উন্নয়নের দিকগুলো জানার একটা সুযোগ হলো।

ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ আটে ফেদেরার

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ আগের রাউন্ডের মতো এবারও প্রথম সেটে হার। যথারীতি এই ম্যাচেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন রজার ফেদেরার। একই দিনে সরাসরি সেটের জয়ে শেষ আটে উঠেছেন সাতবারের বিজয়ী নোভাক জোকোভিচ। মেলবোর্ন পার্কে রোববার হাঙ্গেরির মার্টন ফুচোভিচকে ৪-৬, ৬-১, ৬-২, ৬-২ গেমে হারান ফেদেরার।

আগের রাউন্ডে জন মিলম্যানের বিপক্ষে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার লড়াই শেষে শেষ ষোলোর টিকেট পেয়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সী সুইস তারকা। এবার রেকর্ড ২০ গ্র্যান্ড স্ল¬্যাম জয়ী তারকার প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস স্যান্ডগ্রেন। আর্জেন্টিনার দিয়াগো শোয়ার্টজম্যানকে ৬-৩, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে শেষ আটে উঠেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচ। এবার ১৬ গ্র্যান্ড স্ল¬্যাম জয়ীকে লড়তে হবে মিলোস রাওনিচের বিপক্ষে। মারিন সিলিচকে সরাসরি সেটে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছেন ৩২তম বাছাই কানাডার রাওনিচ। শেষ আটে নিজ নিজ খেলায় জিতলে সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবেন ফেদেরার ও জোকোভিচ।

 

থেমে গেল গাউফের স্বপ্নযাত্রা

ক্রীড়া প্রতিবেদক \  গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার অপেক্ষা বাড়ল কোকো গাউফের। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ বছরের কিশোরীর চমকপ্রদ পথচলা থেমে গেছে চতুর্থ রাউন্ডে। স্বদেশি সোফিয়া কেনিনের কাছে হেরে গেছেন গাউফ। মেলবোর্ন পার্কে রোববার টাইব্রেকারে প্রথম সেট জিতলেও পরের দুই সেটে তেমন লড়াই করতে পারেননি গাউফ, হেরে যান ৬-৭ (৫-৭), ৬-৩, ৬-০ গেমে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই উঠতি তারকা প্রথম রাউন্ডে হারিয়েছিলেন সাতবারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী ভেনাস উইলিয়ামসকে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নওমি ওসাকাকে হারিয়ে পান চতুর্থ রাউন্ডের টিকেট। এবারই অবশ্য প্রথম নয়, গাউফ প্রথমবার সাড়া জাগান গত উইম্বল্ডনে। প্রাতিযোগিতার পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভেনাসকে হারিয়ে। গত অক্টোবরে ডব্লিউটিএ শিরোপার স্বাদ পান গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে। এবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও ছুটছিলেন তার প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে।  তবে উইম্বলডনের মতোই থামতে হলো চতুর্থ রাউন্ডে। গাউফকে থামিয়ে সামনে এগিয়েছেন যিনি, সেই কেনিনের জন্যও দিনটি স্মরণীয়। প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার-ফাইনাল উঠলেন তিনি, যেখানে তার প্রতিপক্ষ তিউনিশিয়ার ওন্স জাবের। গাউফের জন্য দিনটা হতাশার হলেও জাবেরের জন্য দিনটি ছিল ইতিহাস রচনার। সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে উঠেছিলেন যিনি, সেই ওয়াং কিয়াংকে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছেন জাবের। আরব বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার-ফাইনালে পা রাখলেন ২৫ বছর বয়সী এই তিউনিশিয়ান। একই দিন শেষ আট নিশ্চিত করেছেন মেয়েদের এককের এক নম্বর বাছাই অ্যাশলি বার্টি। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালিসন রিস্ককে ৬-৩, ১-৬, ৬-৪ গেমে হারান অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা। কোয়ার্টার-ফাইনালে বার্টি লড়বেন সাত নম্বর বাছাই পেত্রা কেভিতোভার বিপক্ষে। একই রাউন্ডে গত আসরে বার্টিকে হারিয়েছিলেন কেভিতোভা। গতবারের ফাইনালিস্ট কেভিতোভা এ দিন হারান গ্রিসের মারিয়া সাকারিকে।

দলের পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখছেন বার্সা কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ ভালেন্সিয়ার কাছে হারের পর হতাশা প্রকাশ করেছেন বার্সেলোনা কোচ কিকে সেতিয়েন। দলের পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। লা লিগায় শনিবার স্থানীয় সময় বিকেলে ভালেন্সিয়ার মাঠে ২-০ গোলে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। পরে ব্যবধান বাড়ান মাক্সি গোমেস। সবশেষ ছয় ম্যাচে বার্সেলোনার জয় কেবল দুটি। নতুন কোচ সেতিয়েনের অধীনে সব প্রতিযোগিতা মিলে তৃতীয় ম্যাচেই হারের স্বাদ পেল কাতালান দলটি। আগের দুই ম্যাচে কষ্টের জয় নিয়ে মাঠে ছাড়ে তারা।

হারের কারণ হিসেবে গোল করতে না পারাকে বড় করে দেখছেন সেতিয়েন। “বা¯Íবতা হলো, আমরা এই ম্যাচে ভালো খেলিনি। বিশেষ করে প্রথমার্ধে। আমরা গোলের পথ খুঁজে পাইনি। এছাড়াও আরো কিছু বিষয় আমরা ঠিকঠাকভাবে করিনি। এরপর ভালেন্সিয়া আমাদের ভুলের সুযোগ নিয়েছে।” অবশ্য পারফম্যান্স খারাপ হলেও খেলোয়াড়দের মনোযোগের অভাব দেখছেন না ৬১ বছর বয়সী কোচ। “সমস্যাটা মনোভাবে নয়, তাদেরকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধই দেখাচ্ছিল। কিন্তু আমরা ভালো খেলতে পারিনি। আমরা প্রচুর অর্থহীন পাস দিয়েছি, কেবল দিতে হয় তাই।” লিগে চলতি মৌসুমে ২১ ম্যাচে বার্সেলোনার এটি চতুর্থ হার। ১৩ জয় ও চার ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৪৩। এক ম্যাচ কম খেলে সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার রাতে রিয়াল ভাইয়াদলিদকে হারিয়ে তালিকার শীর্ষে ওঠার সুযোগ আছে জিনেদিন জিদানের দলের।

‘ইত্যাদি’ ৩১ জানুয়ারি, থাকছে চমক

বিনোদন বাজার \ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ধারণ করা হয়েছে এবারের ইত্যাদি। জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটির নির্মাতা হানিফ সংকেত মুক্তিযুদ্ধের গৌরবদীপ্ত এই উপজেলাকেই বেছে নিলেন ভেন্যু হিসেবে।

‘ইত্যাদি’র নতুন পর্বটি বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে ৩১ জানুয়ারি রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচার হবে। এবারের ইত্যাদিতেও থাকছে নানা চমক।

অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয় ১৭ জানুয়ারি। এ উপলক্ষে তেঁতুলিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মাঠে বসানো হয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটির মঞ্চ। এ উপলক্ষে গোটা পঞ্চগড়বাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ওই স্কুলমাঠ।

সমতল ভূমিতে চা বাগান, নদী থেকে পাথর উত্তোলন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা এবং পঞ্চগড়ের লোকজ সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে মঞ্চ সাজানো হয়। আলোকোজ্জ্বল মঞ্চের সামনে ছিলেন লক্ষাধিক দর্শক।

পঞ্চগড়ের নৃত্যশিল্পীরা ‘ইত্যাদি’তে একটি নৃত্য পরিবেশন করেছেন। পঞ্চগড়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর ওপর তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন রয়েছে এবারের ইত্যাদিতে।

নানি-নাতিসহ নিয়মিত পর্ব ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু সরস নাট্যাংশ।

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।

ডি ক্যাপ্রিওর সিনেমার বিরুদ্ধে ৩০ কোটি ডলারের মামলা

বিনোদন বাজার \ সিনেমাটির নাম ‘উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিট’ ২০১৩ সালে জর্ডান বেলফোর্টের জীবনী নিয়ে নির্মিত হয় ব্ল্যাক কমেডি ধাঁচের এই চলচ্চিত্র। নিউ ইয়র্ক শহরে একজন স্টকব্রোকার হিসেবে বেলফোর্টের ক্যারিয়ার ও তার নিজের ফার্ম স্ট্র্যাটন ওকমন্টের দুর্নীতি তার পতন ঘটায়। এতে জর্ডান বেলফোর্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, তিনি এই ছবির সহ-প্রযোজকও। ছবিটি বক্স অফিসে সফল হয়। তবের এবার এই ছবির জন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের মামলায় মুখে পড়লো।

‘দ্য উলফ অব ওয়ালস্ট্রিট’ ছবিতে বেলফোর্টের চরিত্রে অভিনয় করেন লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। সিনেমাটি এ বছরের অস্কারের জন্য মনোনয়নও পায়। তবে নিজের জীবনের গল্প নিয়ে করা এ সিনেমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বেলফোর্ট।

তার দাবি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রেড গ্রানাইট প্রডাকশ’ তার কাছ থেকে তার জীবনের গল্পের সত্ত¡ নেওয়ার সময় তাদের আর্থিক উৎস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানায়নি। আর এই কারণেই বেলফোর্ট নিজের জীবনী নিয়ে নির্মিত ছবির প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে ৩০ কোটি ডলারের মামলা করেছেন। তবে রেড গ্রানাইট প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে এমন দাবিকে হতাশাজনক ও হাস্যকর বলা হয়েছে।

বেলফোর্টের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধু ডনি আজফ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোনাহ হিল, তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাওমি লাপাগ্লিয়া চরিত্রে মার্গোট রবি, এফবিআই এজেন্ট প্যাট্রিক ডেনহাম চরিত্রে কাইল চ্যান্ডলার। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাথু ম্যাকনাহে, রব রেইনার, জন ফাভরেও, জোয়ানা লামলি, জন ডুজার্ডিন প্রমুখ। স্কোরসেজি-ডিক্যাপ্রিও জুটির পঞ্চম চলচ্চিত্র এটি।

‘সম্পর্কে রহস্য থাকা ভালো : সারা

বিনোদন বাজার \ কার্তিক আরিয়ানের সঙ্গে সারা আলী খানের প্রেম বিচ্ছেদের খবর বেশ আলোচনায় আসে। সেই আলোচনা থেকে সবারই জানা আর একসঙ্গে নেই বলিউডের এই তারকা জুটি। এরপর থেকে বেশ কয়েকদিন তাদের দু’জনকে নিয়ে বিভিন্ন খবর প্রকাশ হয়। একদিকে সারা ব্রেকআপের কথা ভুলতে চলে যান ছুটি কাটাতে। অন্যদিকে নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছে কার্তিক।—এমন সংবাদ শোনা যায়। তবে স¤প্রতি আবারো নতুন গুঞ্জন উঠেছে হয়েছে তাদের নিয়ে। শোনা যাচ্ছে আবারো পুরোনো সম্পর্ক জোড়া লেগেছে তাদের।

আগামী মাসে ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পাচ্ছে সারা আলী খান ও কার্তিক আরিয়ান অভিনীত ইমতিয়াজ আলীর ছবি ‘লাভ আজকাল’। শেষ মুহূর্তে প্রোমোশনে কোথাও কোনো ফাঁক রাখছেন না সারা-কার্তিক।

আধুনিক সময়ের চাহিদা ও পছন্দের কথা মাথায় রেখে সারা-কার্তিক মাঝেমধ্যেই শেয়ার করছেন বিটিএস ছবি এবং ভিডিও। শুক্রবার গভীর রাতেও তেমনই একটি ভিডিও শেয়ার করলে কার্তিক আরিয়ান। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সাফল্যে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময়ে।’

সারা ও কার্তিকের নতুন ছবি ‘লাভ-আজকাল’-এর প্রোমোশন জন্যই ইনস্টাগ্রামে সারা শেয়ার করেন কার্তিকের সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট! যেখানে স্পষ্ট করে কার্তিক লিখেছেন, ‘জো তোমাকে কিছুতেই ভুলতে পারছি না!’ ইমতিয়াজ আলীর লাভ আজকাল ছবিতে সারার চরিত্রের নাম জো এবং কার্তিকের চরিত্রের নাম বীর। তবে এরমধ্য দিয়ে আবারো এক হয়েছে এই তারকা জুটি। এমনটাই গুঞ্জন রটেছে বলিউড পাড়ায়। সারা বলেন, ‘সম্পর্কে রহস্য থাকা ভালো। কার্তিকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে সবাই এখন উদ্বিগ্ন। তাই মনে হয় এই রহস্য নিয়ে আর কথা না বলাই ভালো।’

সুবর্ণা-সব্যসাচীর ‘গ্লরি ট্রেলার প্রকাশ

বিনোদন বাজার \ দুই বাংলার দুই বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রীকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘গÐি’। সুবর্ণা মু¯Íাফা ও সব্যসাচী অভিনীত সিনেমাটির একটি ট্রেলার এরই মধ্যে ইউটিউবে সাড়া ফেলেছে।

গÐি মূলত বন্ধুত্বের গল্প। বন্ধুত্ব যেকোনো বয়সেই হতে পারে। এই সিনেমা দর্শককে পুরনো কোনো বন্ধুর কথা হয়তো মনে করিয়ে দেবে। গল্পের পরতে পরতে থাকছে আবেগ।

ছবির কাহিনি এগিয়ে গেছে ৫৫ ও ৬৫ বছর বয়সী দুজন নারী-পুরুষের জীবনের গল্প নিয়ে। অবসরে থাকা এই বয়সে দুজন নারী-পুরুষের বন্ধুত্ব কেমন হয়, পরিবার এবং আশপাশের মানুষ বিষয়টিকে কীভাবে নেয়, এসব বিষয় উপজীব্য করেই সিনেমাটি তৈরি।

ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশিত গÐি ছবির ট্রেলার থেকে গল্পের সেই আভাস পাওয়া গেছে।

গÐি পরিচালনা করেছেন ফাখরুল আরেফিন খান। সুবর্ণা মু¯Íাফার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার ‘ফেলুদা’খ্যাত শক্তিমান অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী।

আরও অভিনয় করেছেন অপর্ণা ঘোষ, মাজনুন মিজান, শুভাশীষ ভৌমিক, আমান রেজা, পায়েল মুখার্জিসহ অনেকে।

হার্ভি হাত-পা বেঁধে আমাকে নিপীড়ন করে: বলিউড অভিনেত্রী

বিনোদন বাজার \ হলিউডের প্রভাবশালী প্রয়োজক হার্ভি ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী আনাবেলা সিওরার ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মামলার বিচার চলছে।

গত বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানিতে সাক্ষ্য দেন অভিনেত্রী আনাবেলা সিওরার। নিউইয়র্কের জুরি বোর্ডের সামনে তিনি বলেন, ২৫ বছর আগে ওয়াইনস্টিন তার হাত ও পা বেঁধে নির্মমভাবে ধর্ষণ করেন।খবর গার্ডিয়ানের।

অপরাধবিষয়ক টিভি সিরিজ ‘সোপ্রানোস’-এর প্রধান ভূমিকার জন্য তুমুল পরিচিতি পাওয়া সিওরার বলেন, ওয়ানস্টিন জোর করে তার বাসায় ঢোকে তার ওপর আক্রমণ করেন।

১২ সদস্যের জুরি বোর্ডের কাছে সিওরার আরও বলেন, আমি তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। তাকে কিলঘুষিও মারি। লাথিও মেরেছিলাম। কিন্তু আমি পেরে উঠছিলাম না। কারণ আমার হাত বাঁধা ছিল। জোর করেই তিনি আমাকে ধর্ষণ করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ওয়াইনস্টিন আসামির টেবিলে বসেছিলেন এবং নিজের প্যাডে অভিযোগুলো টুকে রাখছিলেন।

তবে ৬৭ বছর বয়সী প্রয়োজক ওয়াইনস্টিন ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নসহ সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

দোষী সাব্য¯Í হলে তাকে সারা জীবন কারাগারে থাকতে হবে। মিমি হালি ও জেসিকা মান দুই অভিনেত্রীও ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনেন।

সয়াবিন চাষ কেবল কৃষকেরই ভাগ্য বদল নয়, জমিরও শক্তি বাড়ায়

কৃষি প্রতিবেদক \ দেশে উৎপাদিত প্রায় ৮০ শতাংশ সয়াবিন উৎপাদন হয় ল²ীপুরে। ১০ বছরের মাথায় সয়াবিন চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সয়াবিনের বাম্পার ফলন এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। সয়াবিন চাষে কেবল কৃষকেরই ভাগ্য বদল নয়, জমিরও শক্তি বাড়ায়, হয়ে উঠে আরো বেশি উর্বর। যে কারণে পরবর্তী যেকোনো ফসল উৎপাদনে অর্ধেকে  নেমে আসে সারের ব্যবহার। এতে কৃষক লাভবান হন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নোয়াখালী অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সয়াবিনের পাতাসহ অন্যান্য অংশ এবং শেকড় অল্প সময়ের মধ্যে পচে-গলে মাটিতে জৈব সার তৈরি করে। এর ফলে মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অনেক উন্নত হয়। মাটি হয় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। সয়াবিন চাষের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরবর্তী ফসলে সারের ব্যবহার অর্ধেক নেমে আসে। উৎপাদন খরচ কমে যায়। ফলনওভালো হয়। তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে সয়াবিন চাষে আমদানি নির্ভরতা কমানো, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি, দারিদ্র দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহিউদ্দিন চৌধুরী বিগত কয়েক বছরের তথ্য উপাত্ত গবেষণা ও বিশ্লেষণে জেনেছেন, বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে শস্য পরিক্রমায় রবি ফসল হিসাবে সয়াবিন একক ও অনন্য সাধারণ ফসল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। সয়াবিন চাষে ঝুঁকি ও খরচ বাদামের তুলনায় অনেক কম, লাভও বেশি। সয়াবিন কাটার পর ওই জমিতে আউশ ধানের ফলন খুব ভালো হয়। সয়াবিন বহুমুখী মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। সয়াবিন মাটিতে নাইট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। প্রতি আবাদ  মৌসুমে হেক্টর প্রতি ২৫০ থেকে ২৭৭ কেজি নাইট্রোজেন সংযোজন করতে পারে। যা ফসলের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের শতকরা প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। সয়াবিন গাছের শেকড়ে ফুলন্ত অবস্থায় ১২-৪৩টি ধূসর বর্ণের গুটি থাকে। এ গুটিগুলোতে বায়োক্যামিকেল প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলীয় নাইট্রোজেন অবমুক্ত করার পর আপনা আপনি শুষ্ক হয়ে শেকড়সহ জৈব পদার্থ হিসেবে মাটিতে মিশে গিয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। সয়াবিনের ক্ষেতকৃষি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে,  যেকোনো ঋতুতেই সয়াবিন চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে সয়াবিনের ব্যাপক আবাদ হয়। এর শেকড়গুচ্ছ মাটির এক মিটার নিচে পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে। গাছের কান্ডে ফুল হয়। ফুল সচরাচর সাদা, গোলাপি ও বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। একটি খোসায় বীজ জন্মে। আর এই বীজগুলোকেই সয়াবিন বলা হয়। বীজ  রোপণের ৯৫ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। হেক্টর প্রতি ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ টন উৎপাদন হয়ে থাকে। সয়াবিন গাছ ৩০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়। এর বীজ অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এটি ভোজ্য তেলের প্রধান উৎস। পরিণত বীজ থেকে শিশুখাদ্য, সয়া-দুধ, দই ও পনির, সয়া-স্যস তৈরি হয়। শুষ্ক বীজে আছে  চর্বি, শর্করা ও  প্রোটিন। গ্লিসারিন, রং, সাবান, প্লাস্টিক, মুদ্রণের কালি ইত্যাদি দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সয়াবিন একটি অপরিহার্য উপাদান। কাঁচা সয়াবিন গাছ গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার্য। সয়াবিনের উচ্চ পুষ্টিগুণসহ নানান ব্যবহারে সয়াবিনের আবাদ দিন দিন বেড়েই চলছে। ল²ীপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ি ল²ীপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি বিভাগ।  এর মধ্যে ল²ীপুর সদর উপজেলায় ৬ হাজর ৫৬০ হেক্টর, রায়পুরে ৬ হাজার ১৫০  হেক্টর, রামগঞ্জে ৮৫ হেক্টর, রামগতি  ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ১৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে সয়াবিনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

‘দীপিকার পোশাক’ পরে চরম ট্রোলের শিকার রণবীর!

বিনোদন বাজার \ এবার ‘নারীদের’ পোশাক পরে চরম ট্রোলের শিকার হলেন বলিউড তারকা রণবীর সিংহ। শুধু তাই নয়, নেটিজেনরা ওই পোশাকটিকে দীপিকার বলেও মজা করেছেন।

শনিবার ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন রণবীর। সেখানে বাহারি পোশাক পরে দেখা যাচ্ছে তাকে। মাথায় ম্যাচিং টুপি। চোখে রোদ চশমাও মানানসই।

তবে দেখে মনে হচ্ছে রণবীর নারীদের পোশাক পরে পোজ দিয়েছেন। পোশাকের ছাপ তার চেহারায় ‘মেয়েলি’ ভাবও ফুটে তুলেছে।

আর তাতেই এক ব্যক্তি কমেন্টে রণবীরকে লিখেছেন, ‘বউয়ের পোশাক পরে চলে এলে নাকি?’

কমেডিয়ান গৌরব গেরাও ওই পোস্টের কমেন্টে লিখেছেন, ‘এটা কী পোশাক! বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশা পারেখ তো কোনো এক ছবিতে এমন পোশাক পরেছিলেন।’

সবাই যে নেতিবাচক কমেন্ট করেছেন এমনটাও নয়। একজন লিখেছেন, ‘আপনি আগুন’। আবার আর একজনের বক্তব্য , ‘আপনিই আসল রকস্টার।’

বিদায়ের আগে ফিল্যান্ডারের শাস্তি

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেবেন জানিয়েছেন আগেই। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে অনুপযুক্ত ভাষা ব্যবহারের জন্য শা¯িÍর মুখে পড়লেন ভার্নন ফিল্যান্ডার। প্রোটিয়া অলরাউন্ডারকে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। সঙ্গে পেয়েছেন একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। জোহানেসবার্গে সিরিজের চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শনিবার এই কান্ড ঘটান ফিল্যান্ডার। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ৮৫তম ওভারে জস বাটলারকে আউট করার পর তাকে লক্ষ্য করে অনুপযুক্ত ভাষা ব্যবহার করেন তিনি। মাঠে অশ্লীল কোনো কথার প্রমাণ পেলে সেটিকে আইসিসি আচরণবিধির লেভেল এক ভাঙার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মাত্রার আচরণবিধি ভাঙার অপরাধে ডিমেরিট পয়েন্টসহ ফিল্যান্ডারকে জরিমানা করেন ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রাফট। ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার অপরাধ মেনে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

 

কারো কাছে জবাবদিহি করার নেই : রাইমা

বিনোদন বাজার \ শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) মুক্তি পেয়েছে রাইমা সেন অভিনীত ‘দ্বিতীয় পুরুষ’। সর্বশেষ সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় তিনি অভিনয় করেন ‘২২শে শ্রাবণ’ সিনেমায়। দীর্ঘ বিরতির পর আবারো সৃজিতের সিনেমায় কাজ করলেন রাইমা। স¤প্রতি ‘দ্বিতীয় পুরুষ’ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ভারতীয় এক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে রাইমা সেনের সাক্ষাৎকার। তারই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো।

প্র: ‘দ্বিতীয় পুরুষ’-এর শুটিং করতে গিয়ে কতটা নস্টালজিক হয়েছিলেন?

উ: ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর যে সিক্যুয়েল হতে পারে, সেটা কখনো ভাবিনি। কিন্তু সৃজিত (মুখোপাধ্যায়) আর মণি (মহেন্দ্র সোনি) যখন ফোন করে ছবির কথা বলল, খুশিই হয়েছিলাম। সৃজিতের সঙ্গে এত বছর পরে কাজ করলাম। আগে একটু হট-হেডেড ছিল। বিয়ে করে বেশ শান্ত হয়ে গিয়েছে (মুচকি হাসি)। আবীরের (চট্টোপাধ্যায়) সঙ্গে অনেক দিন পরে কাজ করলাম। ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর সময়ে একটু ভয়ে ভয়ে ছিলাম। কিন্তু এবার পুরনো কানেকশন, চেনাজানা ইউনিট, সব মিলিয়ে ব্যাপারটা কমফর্টিং ছিল।

প্র: এই ছবিতে আগেরটির মতোই পুরুষ চরিত্র অনেক বেশি। সেই সুবাদে সেটে একটু বেশি অ্যাটেনশন পেতেন?

উ: পরম-সৃজিত-আবীর একসঙ্গে থাকলে, ওরা আমারও এক ধাপ ওপর দিয়ে যায়। সারাক্ষণ আমার লেগ-পুল করেছে শুটিংয়ে। আসলে ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর সময়ে আমি সৃজিতকে এত ভালো করে চিনতাম না, পরমকেও না। আবীরকে একটু-আধটু। কিন্তু এখন তো এত বছরের চেনা সবাই। তাই এবার শুটিংয়ের শেষে জমিয়ে আড্ডা হতো।

প্র: বিরিয়ানি ও ডাল-ভাতের মিম ফলো করছেন?

উ: শুনেছি অনেক মিম হয়েছে।

প্র: পরমব্রত এবং আবীরের মধ্যে কে বিরিয়ানি আর কে ডাল-ভাত?

উ: যার নামই বলব, আরেকজন রেগে যাবে। আমি নিরপেক্ষ। দুজনেই আমার কাছে সমান।

প্র: দুজনেই ডাল-ভাত, না বিরিয়ানি?

উ: ডাল-ভাত ।

প্র: গত বছর ‘তারিখ’ ছাড়া আর কোনো বাংলা ছবিতে আপনাকে দেখা যায়নি। কেন?

উ: গত বছর অ্যামাজন প্রাইমের জন্য ‘দ্য লাস্ট আওয়ার’-এর সিজন ওয়ান শুট করলাম। বিনয় পাঠকের সঙ্গে ‘আলিয়া গায়েব হো গায়ি’র শুট করেছি। অতুল কুলকার্নির সঙ্গে ‘আনিয়া’ করলাম। এগুলো এ বছর রিলিজ করার কথা। আর সিয়াটেলে ‘গ্রে স্টোরিজ’ নামে আর একটি ওয়েব সিরিজ করেছি। যেটায় আমার সঙ্গে আছেন গৌরব গেরা। এগুলো করতে গিয়ে বাংলায় বেশি কাজ করা হয়নি।

প্র: হিন্দির জন্য বাংলায় কাজ কম করছেন?

উ: তামিলেও একটা ছবি করেছি। অন্য ভাষায় যখন এত কাজ পাচ্ছি, বাংলায় সেরা পরিচালক বা অন্য ধরনের স্ক্রিপ্ট ছাড়া আর কাজ করব না। সে দিন চলে গিয়েছে, যখন যা-ই অফার করা হতো, তাই করতে হতো।

প্র: এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আপনি নাকি পার্টি করা কমিয়ে দিয়েছেন?

উ: ওই সাক্ষাৎকারটা বোধহয় এপ্রিল ফুলের দিন বেরিয়েছিল (মুচকি হাসি)। আসলে আমি যত বেশি কাজ করি, পার্টি তার চেয়েও বেশি করি।

প্র: আপনার সা¤প্রতিক একটি পার্টির ছবি নিয়ে তো খুব চর্চা হয়েছে?

উ: কোনটা?

প্র: আপনি, পাওলি দাম আর অর্জুন দেবের ছবিটা।

উ: ২০১৯-এর লাস্ট স্যাটারডে সেলিব্রেট করতে আমরা তিনজনে নাইট ক্লাবে গিয়েছিলাম। দ্যাট ওয়াজ গ্রেট। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ওই ছবি বাদে আরো কিছু ছবি দিয়েছিলাম।

প্র: কিন্তু ওই ছবির পেছনে গল্প আছে? ইনস্টাগ্রামে এখন নেই ছবিটা!

উ: আমি ভীষণ মুডি। পরে হয়তো মনে হয়েছে, আমাকে দেখতে ভালো লাগছে না, তাই ডিলিট করে দিয়েছি। এমনিতে আমি, অর্জুন আর পাওলি প্রায়ই হ্যাংআউট করি।

প্র: সেখানে ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে গসিপ হয়?

উ: মনে হয়, আমি টলিউডে কোনো কিছুরই কেন্দ্রে নেই। তাই আমাকে কেউ গসিপ দেয় না।

প্র: পাওলিও কোনো গসিপ দেন না?

উ: ও কী গসিপ দেবে? বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আর পাওলির এটা বড় গুণ, কোনো দিন কাউকে নিয়ে গসিপ করে না। পার্নোর (মিত্র) সঙ্গেও কথা হয়।

প্র: পার্নোও গসিপ করেন না?

উ: আসলে আমি তো সবার সামনে বলে দিই, ‘ওহ, এটা হয়েছিল?’

প্র: কবে বিয়ে করবেন প্রশ্নটা শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে যান না?

উ: আমার বিয়ে হলে কার কী সুবিধে হবে?

প্র: পাওলি, নুসরাত (জাহান) বিয়ে করলেন। আপনারটাও তো পাঠকেরা জানতে চান।

উ: আমি হ্যাপিলি সিঙ্গেল। বাবা-মা যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়েছেন, রোজগার করছি, ট্রাভেল করছি। কারো কাছে জবাবদিহি করার নেই। শুধু বিয়ে করার জন্য বিয়ে করব না, যদি না পাগলের মতো কারো প্রেমে পড়ি। আর তাকেও আমার সব কিছুর সঙ্গে অ্যাডজাস্ট, ক¤েপ্রামাইজ করতে হবে।

প্র: বোন রিয়াকে দেখেও বিয়ের ইচ্ছে হয় না?

উ: রিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম, ম্যারেড লাইফ কেমন? ও বলল, ‘সেম, কোনো পার্থক্য নেই। ইট’স অ্যাজ গুড অ্যাজ হ্যাভিং আ নিউ বয়ফ্রেন্ড।’ ও আর শিবম খুব ভালো আছে। আমাকে বিয়ে করতে হলে কিছু নতুনত্ব তো চাই।

প্র: দেশজুড়ে এত বিষয়ে এত প্রতিবাদ। কিছু বলবেন না?

উ: সাক্ষাৎকারের আগে মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এই প্রশ্নটা করলে কী বলব? মা বলেছেন, ‘নো কমেন্টস’।

প্র: ছাত্র নির্যাতনের প্রতিবাদেও কিছুই বলবেন না?

উ: ভায়োলেন্স সাপোর্ট করি না। একজন বলেছেন, ছাত্রদের না মেরে তাদের বোঝাতে। সেটা আমারও মত।

প্র: কিন্তু আপনি কোনো মন্তব্য না করলে লোকে তো জানতেও পারবেন না, আপনি কী ভাবছেন?

উ: আমাকে ফলো করলে দেখবেন, কোনো দিনই রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করি না। বিতর্কে ঢুকি না। কোথা থেকে কী হয়ে যাবে, ট্রোলড হবেৃ

প্র: ট্রোলিংকে ভয় পান?

উ: আমি তো পোস্টই করি না। তাই ট্রোলড হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু অন্যদের তো দেখি। ট্রোলিং অ্যাফেক্ট তো করেই।