বিএনপি’র বিজয়ের কোন ইতিহাস নেই – কাদের

ঢাকা অফিস \ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির বিজয়ের কোন ইতিহাস নেই। তিনি বলেন,“ তারা জয়ী হবে না, এটা নিশ্চিত জেনে, কখনো ইভিএম আবার কখনো নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ তুলছে। আসলে এসব নালিশ, এসব বিষোদগার তাদের নির্বাচনে হেরে যাওয়া।” ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনা বাংলা বিনির্মাণে সোনার মানুষ তৈরির কারখানা হিসেবে আওয়ামী লীগকে যুগের চাহিদা অনুযায়ী ঢেলে সাজাব। সাংগঠনিক কাঠামোকেও শুদ্ধ করব, সুশৃঙ্খল করব। সারাবাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত এই লক্ষ্য ছড়িয়ে দেওয়ার শপথ ও অঙ্গীকার নিতেই আমরা আজ এখানে এসেছি।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে অভিমুখে আমরা উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যেতে চাই। সেতু মন্ত্রী আরো বলেন, সোনার বাংলা বিনির্মাণ একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য। আমাদের টার্গেট আছে, ভিশন আছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার যে ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১ ও ডেল্টা প¬্যান রয়েছে, আমরা এই তিনটিকে সামনে রেখে আমাদের এজেন্ডা ঠিক করেছি। সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে উলেøখ করে তিনি বলেন, “ বাধা ও চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। সময়ের পরিবর্তনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। নতুন নতুন বাধাও আসতে পারে। চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। আর তার জন্য সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। সাংগঠনিক শক্তি ও আদর্শের পতাকা হাতে আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব।’

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনে কেন্দ্রীয় আ’লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান করেছে

ঢাকা অফিস \ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাষ্ট্র ক্ষমতায় তাঁর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা দেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান করেছে। তিনি জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর লক্ষ্যে সরকারের প্রয়াসে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহŸান জানান। গতকাল শুক্রবার বিকেলে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর থেকে একটানা তিন মেয়াদের জন্য সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকারের ধারাবাহিকতার ফলে দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। তিনি বলেন, দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে জাতির জনকের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ইনশাল¬াহ, আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলা গড়তে পারবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল এবং পল¬ী এলাকায় বসবাসকারী জনগণ যাতে আমাদের সকল অর্জনের সুফল পায় সে লক্ষ্যে তাঁর সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দেশবাসীর ভাগ্য পরিবর্তন করা। আমরা এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি এবং এই কাজ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধি হার অর্জন করেছি এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে আমরা ভাল অবস্থানে রয়েছি। আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখবো। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার জাতীয় পযার্য়ে মুজিব বর্ষ উদযাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করেছে। পাশাপাশি অন্যান্য সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানও ভাবগম্ভীর পরিবেশে বঙ্গবন্ধু’র জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করবে। আমরা ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পযর্ন্ত মুিজব বর্ষ উদযাপন করবো এবং আমরা ইতোমধ্যেই ক্ষণগণনা শুরু করেছি। আমরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবো।

তিনি আরও বলেন, ‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সকলের মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।’ ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করে তাঁর নাম একেবারে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল উলে¬খ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিন্তু এখন আর কেউ তাঁর নাম মুছতে পারবেনা, কারণ তিনি সংগ্রাম করেছিলেন এবং সারাজীবন দেশের মানুষের জন্য কষ্ট সহ্য করেছিলেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর ২৪ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং জাতির পিতার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে তাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে স্বাধীন করেছিলেন তখন ৮২ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করত। তিনি বলেন, ‘আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার দারিদ্র্য হারকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন এবং তিনিও এ লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে আমাদের দুর্ভাগ্য, বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পরে বাংলাদেশ সেই আদর্শ ও চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছিল।’ দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশ আবারও উন্নয়নের দিকে যাত্রা শুরু করে উলে¬খ করে তিনি বলেন, ‘এটা সম্ভব হয়েছে যেহেতু আমরা জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করছি। এরআগে, প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁরা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আজ অপরাহ্নে জাতির পিতার সমাধি সৌধে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণের মাধ্যমে এইশ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রথমে জাতির পিতার সমাধিসৌধে পুষ্প¯Íবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সমাধি সৌধের বেদীতে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি সম্মান জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে সমাধি সৌধের বেদিতে আরেকটি শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই বাঙালি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা সেখানে ফাতেহা পাঠ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনা করে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে অনুষ্ঠিত একটি মিলাদেও তাঁরা অংশগ্রহণ করেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সংশি¬ষ্ট সচিবগণ এবং বিশেষ সহকারীগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এরআগে, সকাল ১১টায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার যোগে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার পৈত্রিক নিবাস গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এসে পৌঁছান। টুঙ্গিপাড়া পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বঙ্গবঙ্গুর সমাধিসৌধে যান এবং সেখানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং ফাতেহা পাঠ করেন। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি পুন:নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই ছিল টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। গত ২০ এবং ২১ আগষ্ট আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা পর পর ৯ম বারের মত আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদের টানা দ্বিতীয় বারের মত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

প্রতিদিন গড়ে ট্রলি প্রতি লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায়

দৌলতপুরে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন

বিশেষ প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে একটি প্রভাবশালী মহল। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচরের নীচে পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলি বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এরফলে বন্যার সময় হুমকির মুখে পড়বে রায়টা-মহিষকুন্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। সেই সাথে ধ্বস নামতে পারে ফিলিপনগর-ইসলামপুর ব্লক দিয়ে নির্মিত স্থায়ী বাঁধে। এলাকাবাসী সূত্র জানিয়ছে, বৈরাগীরচর রিফুজিপাড়ার হাম্বার খা এবং বৈরাগীরচর পূর্বপাড়ার নাসির উদ্দিন মেম্বর ও শাহীন আলীসহ ১৫-২০জন স্থানীয় প্রভাবশালী বৈরাগীরচরের আবু বক্কর হাজীর বাড়ির নীচে ও ভাদুশাহ্র মাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী  থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলি অবৈধভাবে এ বালি উত্তোলন করে থাকেন। অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনকারীদের নিষেধ ও সতর্ক করেন। প্রশাসনের নিষেধ ও সতর্কতা অমান্য করে ওই প্রভাবশালী মহল পদ্মনদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। ট্রলি প্রতি ২০০ টাকা চাঁদা নিয়ে ওই প্রভাবশালী মহল প্রতিদিন শত শত ট্রলি বালি উত্তোলন করে থাকে। গড়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা ট্রলি প্রতি চাঁদা আদায় করে ওই প্রভাবশালী মহল। কেউ মুখ খুললেই তাদের বিরুদ্ধে নেমে আসে খড়গ ও দেওয়া হয় নানা ধরনের হুমকি। বালি উত্তোলনে চাঁদা আদায়কারী ওই মহল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা বালি উত্তোলন করছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন সুধীজন জানিয়েছেন। তবে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট গত ২০ জানুয়ারী পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং অন্তত ৫টি বালি ভর্তি ট্রলির ইঞ্জিনের ফিতা কেটে দেন। সেইসাথে ট্রলির যন্ত্রাংশ জব্দ করেন। এরপরও থেমে নেই ওই প্রভাবশালী মহলের অবৈধভাবে পদ্মা নদীর তীরবর্তী ও বসতি এলাকায় অবৈধভাবে বালি উত্তোনের কাজ। বিষয়টি অতি দ্রুততার সাথে আমলে নিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধে বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।

নামমাত্র পানি ব্যবহার করে বোরো ধান চাষের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন

কৃষি প্রতিবেদক \ মাটি ছাড়াই সবজি চাষ সম্ভব। এবার পানি ছাড়াই ধান চাষ করলে  কেমন হয়। অবাক হচ্ছেন! এটি আবার কীভাবে সম্ভব। হ্যাঁ, এটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। নামমাত্র পানি ব্যবহার করে বোরো ধান চাষের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। আর এ প্রযুক্তিটি অ্যারোবিক বা শুকনো পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ৫ বছর গবেষণার পর এমন একটি কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি গবেষকরা। ডিএই (এইসি)-ডানিডা এএসপিএসের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত¡ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মশিউর রহমানের সঙ্গে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণায় সহযোগিতা করেন পিএইচডি শিক্ষার্থী মেহেদী মাসুদ ও মাস্টার্স শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজ প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ গবেষণাগারে সফলভাবে শেষ করার পর দিনাজপুরের সুন্দরবন, রাজশাহীর বিজয়নগর, নেত্রকোনার নারান্দিয়া ও টাঙ্গাইলের নরকোনায় পরীক্ষামূলক মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষকরা এ পদ্ধতিতে আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে জানিয়েছেন। এ পদ্ধতিতে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে সেচের পানি ৬০ শতাংশ কম লাগে। ফলনও প্রতি ধানের গোছায় বেশি হয়। বিদ্যুৎ সঙ্কটের এ সময় এ পদ্ধতি সারা দেশে স¤প্রসারণ করলে প্রতি বছর দেশের ২ হাজার ৮০০  কোটি টাকার ডিজেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। জানা যায়, বোরো ধান চাষের জন্য ভূগর্ভ থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি উত্তোলনের প্রয়োজন হয়, যার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুত্, ডিজেল বা জ্বালানি লাগে, সে কারণে  বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি বেড়ে যায়। তাছাড়া অনেক সময় বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং ফসলহানি ঘটে থাকে। অন্যদিকে প্রচুর পানি উত্তোলনের ফলে অনেক সময় ভূমি দেবে যায়, মাটিতে লবণাক্ততা, আয়রন, আর্সেনিক দূষণ ইত্যাদি পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেচের জন্য সেচ সাশ্রয় করতে পারলে একদিকে বিদ্যুৎ, ডিজেল ইত্যাদি সাশ্রয় হবে এবং উৎপাদন খরচ কমে যাবে, অন্যদিকে পরিবেশগত সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে। বোরো ধান চাষে রসচ সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ম্যাজিক পাইপ পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে গ্রহণের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ ভাগ  সেচের পানি সাশ্রয় হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত¡ বিভাগের গবেষণার মাধ্যমে অ্যারোবিক বা শুকনা পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ করলে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সেচের পানি সাশ্রয় হবে ও ধানের ফলন প্রচলিত বা এডব্লিউডি পদ্ধতির সমান বা বেশি হবে। এ পদ্ধতির জন্য ব্রিধান ২৯ সবচেয়ে ভালো। তবে বিনা ধান ৬, ব্রিধান ৪৭ ও ব্রিধান ২৮ জাতের চাষ করা যেতে পারে। ধানের বীজ প্রথমে ২৪-৩০ ঘণ্টা পানিতে ভিজানো হয় ও পরে ২৪-৩০ ঘণ্টা জাগ দিয়ে ধান বীজের মুখ ফাটা অবস্থা তৈরি করা হয়। আমন ধান কাটার পর জো অবস্থায় প্রয়োজন মতো চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করতে হবে। জমিতে রস না থাকলে সেচ দিয়ে পরে জো অবস্থা তৈরি করতে হবে। হাতে অথবা যন্ত্রের সাহায্যে ২৫ সে.মি. দূরে দূরে লাইন এবং লাইনে ১৫ সে.মি. দূরে দূরে ৩-৫ সে.মি. গভীর গর্তে ও প্রতিগর্তে ৪-৬টি বীজ বপন করা হয়। জমির উর্বরতা ও ধানের জাতভেদে সারের মাত্রা নির্ধারিত হবে।  গোবর, কম্পোস্ট, টিএসপি, এমপি, জিপসাম ও দস্তা সার জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ৪ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। যন্ত্র/নিড়ানির মাধ্যমে আগাছা দমন করা যাবে। শুকনো পদ্ধতিতে আগাছার আক্রমণ রোধ করতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ২ বা ৩টি বেশি নিড়ানি দরকার হয়। নিড়ানি খরচ বেশি হলেও পানি ও চারা  রোপণের খরচ কম লাগে বলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে। চীন ও ভারতে বিভিন্ন আগাছা নাশক যেমন- বাই স্পাইরিকেব সোডিয়াম, ট্রাইফ্লুরালিন, পেনক্সসুলাম ইত্যাদি ব্যবহার করে কম খরচে সফলতার সঙ্গে শুকনো পদ্ধতির ধানের জমিতে আগাছা দমন করা হয়। বপনের পর জমিতে রস না থাকলে হালকা সেচ দিতে হবে। এরপর ৬০-৭০ দিন পর হতে প্রয়োজন মতো ৭-১০টি সেচ দিতে হবে। উল্লেখ্য, অ্যারোবিক পদ্ধতিতে বপন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত খুব অল্প পরিমাণ সেচ লাগে। থোড় আসার সময় থেকে বীজ পুষ্ট হওয়ার সময় পর্যন্ত জমিতে সামান্য পানি রাখা ভালো। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এ পদ্ধতিতে পোকামাকড় ও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়। পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ হলে আইপিএম অথবা আইসিএম পদ্ধতি অনুসরণ করে দমন করতে হবে। এ পদ্ধতিতে প্রচলিত বা এডব্লিউডির তুলনায় বীজ থেকে বীজ পর্যন্ত ১৫-২০ দিন কম সময় লাগে। প্রচলিত বা এডব্লিউডি পদ্ধতিতে ৩০ দিনের চারা রোপণের দিন থেকে ফসল কর্তন পর্যন্ত যে সময় লাগে শুকনো পদ্ধতিতে বীজ বপন থেকে ফসল কর্তন পর্যন্ত তার থেকে ১০-১৫ দিন বেশি সময় লাগে। অ্যারোবিক পদ্ধতিতে অবস্থাভেদে প্রচলিত বা এডব্লিউডি পদ্ধতির সমান অথবা কিছুটা বেশি ফলন পাওয়া যাবে।

চ্যাম্পিয়ন ওসাকাকেও হারালেন গাউফ

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাওমি ওসাকাকে সরাসরি সেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছেন ১৫ বছরের কিশোরী কোকো গাউফ। মেলবোর্ন পার্কের রড লেভার অ্যারেনায় শুক্রবার মাত্র ৬৭ মিনিটে ৬-৩, ৬-৪ গেমে জেতেন র‌্যাঙ্কিংয়ের ৬৭তম গাউফ। যুক্তরাষ্ট্রের এই উঠতি তারকা প্রথম রাউন্ডে হারিয়েছিলেন সাতবারের গ্র্যান্ড ¯¬্যামজয়ী ভেনাস উইলিয়ামসকে। গত ইউএস ওপেন জয়ের পথে তৃতীয় রাউন্ডে গাউফকে হারিয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী ওসাকা। শেষ ষোলোয় গাউফ লড়বেন চীনের ঝাং শাউই ও যুক্তরাষ্ট্রের সোফিয়া কেনিনের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে। একই দিন চতুর্থ রাউন্ড নিশ্চিত করেন মেয়েদের এককের এক নম্বর তারকা অ্যাশলি বার্টি ও গতবারের ফাইনালিস্ট পেত্রা কেভিতোভা। তৃতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছেন সাত বারের চ্যাম্পিয়ন সেরেনা উইলিয়ামস ও ২০১৮ সালের বিজয়ী কারোলিন ওজনিয়াকি।

হতাশায় ক্যারিয়ার শেষ ওজনিয়াকির

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ হার দিয়ে ক্যারিয়ার শেষ হলো কারোলিন ওজনিয়াকির। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে ওনস জাবেরের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিয়েছেন মেয়েদের সাবেক এক নম্বর খেলোয়াড়। মেলবোর্ন পার্কে শুক্রবার তৃতীয় রাউন্ডে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেননি ২৯ বছর বয়সী ওজনিয়াকি। ক্যারিয়ার জুড়ে যেই ফোরহ্যান্ড এরর-এ বারবার ভুগেছেন তিনি, তার শেষটাও হলো ওই ভুলেই। ম্যাচ হেরে যান ৭-৫, ৩-৬, ৭-৫ গেমে। ম্যাচ শেষ তাই যেন কিছুটা মজা করে বললেন, “শেষ ম্যাচটা যেন এমনই হওয়ার ছিল-তিন সেটের লড়াই এবং আমার ক্যারিয়ার শেষ হবে ফোরহ্যান্ড এরর-এ, ক্যারিয়ার জুড়ে আমি এগুলোই অনুশীলন করেছি।” “মনে হয়, এটা এমনই হওয়ার ছিল। দারুণ এক পথচলার শেষ হলো।” ৭১ সপ্তাহ মেয়েদের এককে  র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন ওজনিয়াকি। ডবি¬উটিএ শিরোপা জিতেছেন ৩০টি। ইউএস ওপেনের ফাইনালে দুইবার হারের পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেন ২০১৮ সালে; প্রথম গ্র্যান্ড ¯¬্যাম জয়ের স্বাদ পান ফাইনালে সিমোনা হালেপকে হারিয়ে। ক্যারিয়ারে গ্র্যান্ড ¯¬্যাম ওই একটিই।

রান উতসবের ম্যাচে ভারতের রেকর্ড গড়া জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ ছোট মাঠ, উইকেট ব্যাটিং স্বর্গ। ইডেন পার্ক তাই প্রায়ই হয়ে ওঠে বোলারদের বধ্যভূমি আর ব্যাটসম্যানদের প্রিয় প্রাঙ্গন। তেমনই আরেকটি রান উৎসবের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত হেরে গেল নিউ জিল্যান্ড। দেশের বাইরে নিজেদের রান তাড়ার নতুন রেকর্ড গড়ে জিতল ভারত। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। অকল্যান্ডে শুক্রবার তিন ব্যাটসম্যানের ঝড়ো ফিফটিতে নিউ জিল্যান্ড ২০ ওভারে করেছিল ২০৩ রান। ভারত জিতেছে ১ ওভার বাকি রেখে। ভারতের রান তাড়ায় ওপেনিংয়ে দারুণ ফিফটি করেছেন লোকেশ রাহুল। বিরাট কোহলি খেলেছে কার্যকর ইনিংস। দুর্দান্ত অপরাজিত ফিফটিতে ম্যাচ জিতিয়ে ফিরেন শ্রেয়াস আইয়ার। দেশের বাইরে এই প্রথম দুইশ রান তাড়ায় জিতল ভারত। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৮ সালে, ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডের ১৯৮ রান টপকে জয়। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন কলিন মানরো ও মার্টিন গাপটিল। পাওয়ার পে¬র ৬ ওভারে দুজন দলকে এনে দেন ৬৮ রান। মার্টিন গাপটিলকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শিবম দুবে। অষ্টম ওভারে তখন ৮০ রান তুলে ফেলেছে কিউইরা। ১৯ বলে ৩০ করে গাপটিল আউট হন সীমানায় রোহিত শর্মার দারুণ ক্যাচে। শুরুর গতি দ্বিতীয় উইকেটে ধরে রাখেন মানরো ও কেন উইলিয়ামসন। ৩৬ বলে মানরো স্পর্শ করেন তার দশম টি-টোয়েন্টি ফিফটি। মানরোর ইনিংস থামে ৪২ বলে ৫৯ রান করে শার্দুল ঠাকুরের বলে। পরের ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার বলে আলগা শটে শূন্য রানেই বিদায় নেন বিপজ্জনক কলিন ডি গ্রান্ডহোম। তবে জোড়া ধাক্কায় খুব কাবু হয়নি নিউ জিল্যান্ড। উইলিয়ামসন ও রস টেইলর টর্নেডো জুটিতে এগিয়ে নেন দলকে। ২৮ বলে ৬১ রানের জুটি গড়েন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক উইলিয়ামসন ফেরেন চারটি করে চার ও ছক্কায় ২৬ বলে ৫১ রান করে। টেইলর দলকে পার করান দুইশ। অপরাজিত থাকেন তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২৭ বলে ৫১ রান করে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, প্রায় ৬ বছর পর টি-টোয়েন্টি ফিফটি করলেন টেইলর। সবশেষটি ছিল ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। মাঝের সময়টায় ফিফটি না করলেও অবশ্য রান পেয়েছেন তিনি। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ে সামনে কিউইদের সেই রানও যথেষ্ট হয়নি। রোহিত শর্মা যদিও আউট হয়ে যান একটি ছক্কা মেরেই। দ্বিতীয় উইকেটে রাহুল ও কোহলির জুটি দলকে গড়ে দেয় জয়ের ভিত। ৫১ বলে ৯৯ রানের জুটি গড়েন দুজন। দশম টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে রাহুল করেছেন ২৭ বলে ৫৬। গাপটিলের অসাধারণ ক্যাচে কোহলি ফেরেন ৩২ বলে ৪৫ রান করে। পরপর দুই ওভারে এই দুজনকে হারালেও পথ হারায়নি ভারতের ইনিংস। শিবম দুবে ও মনিশ পান্ডেকে নিয়ে দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যান শ্রেয়াস। মনিশের সঙ্গে ৩৪ বলে ৬২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন শ্রেয়াস, যেখানে মনিশের রান কেবল ১৪, শ্রেয়াসের অবদান ৪৮। ২৯ বলে ৫৮ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংসে ম্যাচের সেরা শ্রেয়াস। সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ২০৩/৫ (গাপটিল ৩০, মানরো ৫৯, উইলিয়ামসন ৫১, ডি গ্র্যান্ডহোম ০, টেইলর ৫৪*, সাইফার্ট ১, স্যান্টনার ২*; বুমরাহ ৪-০-৩১-১, শার্দুল ৩-০-৪৪-১, শামি ৪-০-৫৩-১, চেহেল ৪-০-৩২-১, দুবে ৩-০-২৪-১, জাদেজা ২-০-১৮-১)। ভারত: ১৯ ওভারে ২০৪/৪ (রোহিত ৭, রাহুল ৫৬, কোহলি ৪৫, শ্রেয়াস ৫৮*, দুবে ১৩, মনিশ ১৪*; সাউদি ৪-০-৪৮-০, স্যান্টনার ৪-০-৫০-১, বেনেট ৪-০-৩৬-০, টিকনার ৩-০-৩৪-১, সোধি ৪-০-৩৬-২)। ফল: ভারত ৬ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে ভারত ১-০তে এগিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ: শ্রেয়াস আইয়ার

হার দিয়ে বাংলাদেশের শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ মোহাম্মদ রিজওয়ানের শটে মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ, কিন্তু মোহাম্মদ মিঠুন পারলেন না হাতে জমাতে। ওই শটেই দুই রান নিয়ে জিতে গেল পাকি¯Íান। ম্যাচের শেষটা বাংলাদেশের জন্য হয়ে রইল যেন প্রতীকী। ব্যাটিং-বোলিংয়ে বাংলাদেশ ক্ষেত্র তৈরি করে দারুণ কিছুর, কিন্তু বারবার নিজেরাই ফসকে ফেলেছে সুযোগ। পাকি¯Íান সিরিজ শুরু করেছে জয়ে। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার পাকি¯Íানের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ২০ ওভারে করতে পারে ১৪১ রান। রান তাড়ায় শুরুটা ভালো করতে পারেননি পাকি¯Íান, খুঁড়িয়েছে শেষ দিকেও। তবে হারায়নি পথ, জিতেছে ৩ বল বাকি রেখে। সবশেষ দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর শোয়েব মালিককে প্রায় এক বছর পর দলে ফিরিয়েছে পাকি¯Íান। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দিয়েছেন প্রতিদান। ৪৫ বলে ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনিই দলকে নিয়ে গেছেন কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের উইকেট ছিল বেশ মন্থর। বল ব্যাটে এসেছে ধীরে, নিচু হয়েছে অনেক ডেলিভারি। দুই দলের ব্যাটিংয়েই তাই ছিল না টি-টোয়েন্টির ঝাঁঝ। অভিজ্ঞ মালিক সেখানে গড়ে দিয়েছেন ব্যবধান। বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে ব্যাটিংয়ে। ছিল না খুব পরিকল্পনার ছাপ। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ ১০ ওভার খেললেও পাননি টি-টোয়েন্টির ছন্দ। পরের ব্যাটসম্যানরাও মেটাতে পারেননি সময়ের দাবি। মাঝারি পুঁজিতে বোলাররা চেষ্টা করেন লড়াইয়ের। পেরে ওঠেননি মালিকের সঙ্গে। ম্যাচের প্রথম ওভার থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, উইকেট বেশ মন্থর। বাংলাদেশের রানের গতিও ছিল উইকেটের মতো ধীর। পাওয়ার পে¬র ৬ ওভারে তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ তোলেন কেবল ৩৫ রান। পাওয়ার পেরু পরও গতি খুঁজে পাননি দুজন। কোনো উইকেট না হারিয়েও ১০ ওভার শেষে রান ছিল মোটে ৬২। লেগ স্পিনার শাদাব খানকে স্লগ সুইপে ছক্কা মেরে তামিম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শেকল ভাঙার। কিন্তু দ্বিতীয় রান নেওয়ার চেষ্টায় রান আউট হয়ে যান সেই ওভারেই। ৩৪ বলে ৩৯ করে ফিরেছেন তামিম। ইনিংসটির পথে সাকিব আল হাসানকে টপকে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের তালিকায় আবার উঠে গেছেন শীর্ষে। আরেক ওপেনার নাঈমের ইনিংসও এগিয়েছে একই পথ ধরে। পারেননি শুরুর ঘাটতি পরে পুষিয়ে দিতে। আউট হয়েছেন ৪১ বলে ৪৩ করে। ঝড় তোলার জন্য যার দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ, সেই লিটন দাস করতে পেরেছেন ১৩ বলে ১২। আফিফ হোসেন করেছেন কেবল ১০ বলে ৯। প্রায় একই পথের পথিক সৌম্য সরকার (৫ বলে ৭)। রানের গতি বাড়াতে চারে উঠে আসা মাহমুদউল্লাহও পারেননি প্রত্যাশিত দ্রুততায় রান তুলতে। ১৪ বলে করেছে ১৯। বাংলাদেশ তাই যেতে পারেননি দেড়শ পর্যন্তও। ব্যাটিংয়ে ১৫-২০ রান কম হওয়ার হতাশা পেছনে ফেলে বোলিংয়ের শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে শফিউল ইসলাম ফিরিয়ে দেন বাবর আজমকে। টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যান এই সংস্করণে প্রথমবার শূন্য রানের স্বাদ পেলেন ঘরের মাঠে নিজের প্রথম নেতৃত্বে ম্যাচে। মু¯Íাফিজুর রহমান আলগা কিছু বলে রান গুনলেও ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ হাফিজকে। পাওয়ার প্লেতে পাকি¯Íান ২ উইকেট হারিয়ে তোলে কেবল ৩৬ রান। সেই চাপ থেকে পাকি¯Íান আ¯েÍ আ¯েÍ বেরিয়ে আসে এহসান আলি ও মালিকের জুটিতে। অভিষিক্ত এহসান নিজের ২৫ রানে একটি সুযোগ দিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বিপ¬বকে, কিন্তু কঠিন সেই ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি এই লেগ স্পিনার। পরে বিপ্লবকেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে এহসান ফেরেন ৩২ বলে ৩৬ রান করে। শফিউল-আল আমিনদের দারুণ বোলিংয়ে পাকি¯Íানের পরের পথটুকু পাড়ি দেওয়া হয়ে উঠেছে কঠিন। কিন্তু অভিজ্ঞতার ভেলায় দলকে টেনে নিয়ে গেছেন মালিক। শেষ দিকে দুর্দান্ত ডাইভ দিয়েও মালিকের ক্যাচ নিতে পারেননি লং অফ ফিল্ডার। মালিক তখন বিদায় নিলেও হতে পারত নাটকীয় কিছু। এমনকি শেষে রিজওয়ানের ওই ক্যাচ মিঠুন নিতে পারলেও ৩ বলে পাকি¯Íানের লাগত ২ রান। হতে পারত অনেক কিছুই। কিন্তু হলো না কিছুই। পারল না বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪১/৫ (তামিম ৩৯, নাঈম ৪৩, লিটন ১২, মাহমুদউলøাহ ১৯*, আফিফ ৯, সৌম্য ৭, মিঠুন ৫*; ইমাদ ৩-০-১৫-০, আফ্রিদি ৪-০-২৩-১, হাসনাইন ৪-০-৩৬-০, রউফ ৪-০-৩২-১, মালিক ১-০-৬-০, শাদাব ৪-০-২৬-১) পাকি¯Íান: ১৯.৩ ওভারে ১৪২/৫ (বাবর ০, এহসান ৩৬, হাফিজ ১৭, মালিক ৫৮*, ইফতিখার ১৬, ইমাদ ৬, রিজওয়ান ৫*; শফিউল ৪-০-২৭-২, মু¯Íাফিজ ৪-০-৪০-১, আল আমিন ৪-০-১৮-১, সৌম্য ২.৩-০-২২-০, বিপ¬ব ৪-০-২৮-১, আফিফ ১-০-৬-০) ফল: পাকি¯Íান ৫ উইকেটে জয়ী ম্যান অব দা ম্যাচ: শোয়েব মালিক

 

আমি সবসময় চরিত্রের খোঁজ করি : ইয়ামি

বিনোদন বাজার \ অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের বছরটা শুরু হওয়ার কথা ছিল একটি রোমান্টিক কমেডি ঘরানার সিনেমা দিয়ে। কিন্তু সেটা আর হলো না। প্রযোজক রমেশ তৌরানী বা পরিচালকের দোষে নয়, অন্য কারণেই এ প্রজেক্ট থেকে বেরিয়েছেন তিনি।

ইয়ামি গৌতম বলেন, ‘বছরের প্রথম প্রজেক্ট থেকে আমি সরে দাঁড়িয়েছি পেশাদারিত্বের কথা ভেবেই। শুধু পারিশ্রমিক আমার কাছে মুখ্য নয়। চিত্রনাট্য পড়ার পর আমার খুব একটা পছন্দ হয়নি। প্রথমে দিলজিতেরও অভিনয় করার ছিল, তিনিও সরে গেলেন। আসলে প্রযোজনা সংস্থার পেশাদারিত্ব নিয়েও আমি সন্দিহান।’

বলিউডে অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের লড়াইটা অসাধারণ। এ অভিনেত্রী তার প্রথম হিন্দি ছবি ভিকি ডোনার-এর মাধ্যমে বলিউডে তার সম্ভাবনার বিষয়টি দর্শকদের জানান দেন। শুধু সুন্দর চেহারা নয়, অভিনয়টাও যে পারেন তা তিনি ভিকি ডোনার-এর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন বলে স¤প্রতি এ অভিনেত্রী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইয়ামি প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ‘আপনারা কীভাবে সুন্দর চেহারা দেখে একজন অভিনেত্রীর দক্ষতা বিচার করতে পারেন? আপনি দেখতে কেমন? বিষয়টির মধ্যে যখন মানুষ আটকে থাকে তখন তাদের আপনার সম্ভাবনা, সক্ষমতা সম্পর্কে বোঝানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে বড় কিংবা ছোট যেটাই হোক না কেন, আমি সবসময় চরিত্রের খোঁজ করি। কারণ এ চরিত্রগুলোর মাধ্যমেই আমি আমার সক্ষমতার বিষয়টি দেখানোর সুযোগ পাই।’

স¤প্রতি উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক মুক্তির ১ বছর পূর্ণ করেছে। ইয়ামি অভিনীত ছবিটি ২০১৯ সালে মুক্তি পায়। এ ছবির পর তাকে বালা-তে অভিনয় করতে দেখা গেছে। বালায় তিনি টিকটক তারকার চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে উরিতে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার ভূমিকায় ছিলেন তিনি।

ভালোবাসা দিবসে ফারিনের ‘বয়ফ্রেন্ড’

বিনোদন বাজার \ ভালোবাসা দিবসে বয়ফ্রেন্ড শিরোনামের একটি নাটক নিয়ে ছোটপর্দায় হাজির হচ্ছেন এ প্রজন্মের মডেল-অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন। এর আগে ‘এক্স বয়ফ্রেন্ড’ নাটকে অভিনয় করে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

বয়ফ্রেন্ড নাটকে তাসনিয়া ফারিনের সহ-শিল্পী হিসেবে থাকছেন মুশফিক আর ফারহান। সমকালীন তারুণ্যের ভালোবাসার গল্পের নাটকটি রচনা করেছেন মুনতাহা বৃত্ত এবং পরিচালনা করেছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। নাটকটি প্রযোজনা করেছেন তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ।

ফারিন বলেন, ‘এটি বেশ মজার নাটক। গল্পটিও সুন্দর। তারুণ্যের প্রেমের নানা চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে। আছে সামাজিক বার্তাও। আমার তো কাজ করতে সবসময়ই ভালো লাগে। এই কাজটি করতে গিয়ে পুরো টিম খুব উপভোগ করেছি। আমার বিশ্বাস এই নাটকটি ভালো লাগবে দর্শকদের।’

বা¯Íবে বয়ফ্রেন্ড আছে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে ফারিন বলেন, ‘প্রেম করছি না। আপাতত বিয়ে নিয়েও ভাবতে চাই না। আলøাহতায়ালা যা লিখে রেখেছে তাই হবে। অভিনয়ে পরিণত হতে চাই। মনোযোগ দিয়ে অভিনয়টা করতে চাই।’

হালের আলোচিত মডেল-অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন ছোটবেলা থেকে গান আর নাচের তালিম নিয়েছেন। ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে গান নিয়ে কাজ করার। কিন্তু হয়েছেন মডেল-অভিনেত্রী। বেশকিছু বিজ্ঞাপন, নাটকে অভিনয় করে দর্শক হূদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এ অভিনেত্রী।

শাকিব হঠাত ৮ কেজি ওজন কমালেন কেন?

বিনোদন বাজার \ মাঝে বেশ নাদুসনুদুস লাগছিল সুপারস্টার শাকিবকে। ‘বীর’ সিনেমার শুটিয়ের জন্য ওজন বাড়িয়েছিলেন তিনি। এবার স্বরূপে ফেরা।

গত এক সপ্তাহে নিয়মিত জিমে ঘাম ঝরিয়েছেন শাকিব খান। প্রায় আট কেজি ওজন কমিয়েছেন দেশের এই শীর্ষ নায়ক। কেন শাকিব হঠাৎ এত ওজন কমালেন। জানা গেছে, সামনে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন শাকিব। চরিত্রের প্রয়োজনেই শরীর থেকে মেদ ঝেড়ে ফেলেছেন ঢাকাই সিনেমার এ জনপ্রিয় নায়ক।

আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে কলকাতার একটি প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে মিটিং ও ‘বীর’ সিনেমার এডিটিংয়ের কাজ সারতে যাচ্ছেন শাকিব খান।

বেশ কয়েক মাস ধরে কলকাতার সিনেমায় আবারও কাজ করছেন শাকিব খান; এই খবর শোনা গেলেও অফিসিয়ালি কোনো মিটিং হয়নি। এবারই কলকাতার অন্যতম শীর্ষ প্রযোজনা সংস্থা শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন নায়ক। মিটিং শেষ করে দেশের ফিরেই ঈদের চলচ্চিত্রে কাজে হাত দেবেন শাকিব। এসব শুটিংয়ের দিনক্ষণও চূড়ান্ত হয়ে আছে।

পাক অভিনেত্রী মাহিরার যে ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

বিনোদন বাজার \ সামাজিকমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে ঝড় তুলেছেন পাকি¯Íানি অভিনেত্রী মাহিরা খান।

মঙ্গলবার নিজের ওয়ালে ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘কেউ বলেছিলেন ছবিটি ‘অ্যাডজাস্ট’ করতে। ভাই আমি অ্যাডজাস্ট করি না।’

শুরুতে ‘রইস’ ছবির অভিনেত্রীর পোস্ট করা এই ছবি দেখে চমকে ওঠেন তার ৫৪ লাখ ফলোয়ার। কিন্তু ছবির ক্যাপশন দেখে অনেকেই খুশি হয়েছেন।

প্রথম ঝলকে ছবিটি দেখে মনে হবে নায়িকা বুঝি শুয়ে রয়েছেন। কিন্তু ভালো করে খেয়াল করলে বোঝা যাবে, মাহিরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বরং ছবিটিই এমন ভাবে রয়েছে মনে হচ্ছে তিনি শুয়ে রয়েছেন।

পাক অভিনেত্রীর এই ছবিতে প্রায় দুই লাখ লাইক পড়েছে। অভিনেত্রীর প্রশংসা করে শত শত কমেন্ট জমা পড়েছে।

একজন লেখেন, ‘মজাদার ক্যাপশন।’

আরেকজন লেখেন, ‘হবেন না (অ্যাডজাস্ট)। আপনি যেমন, তাতেই সুন্দর।’

অন্যজন লেখেন, ‘আপনার অ্যাডজাস্ট করার কোনো দরকার নেই।’

আরেক ফলোয়ার লিখেছেন, ‘এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল আপনি শুয়ে রয়েছেন।’

দুই সপ্তাহে ৩৬ কোটি রুপি আয় করল দীপিকার ‘ছপাক’

বিনোদন বাজার \ বলিউড চলচ্চিত্র ছপাকে অ্যাসিড দগ্ধ নারী ল²ী আগরওয়ালের জীবন সংগ্রাম পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলে দীপিকা পাডুকোন অনবদ্য অভিনয় ক্ষমতায় সব দর্শককে কাঁদিয়েছে।

এরই মধ্যে ব্যাপক আলোচিত এ ছবিটি দ্বিতীয় সপ্তাহে পা রেখেছে। ১৩তম দিনে পা রাখলেও সেই অর্থে তেমন ব্যবসা করতে সক্ষম হয়নি। খবর এনডিটিভির।

যত দিন যাচ্ছে ‘ছপাক’-এর ব্যবসার গতি যেন ততই মন্দা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ছবিটি সব মিলিয়ে ৪০ কোটির ব্যবসা করতে পারেনি।

বুধবার ৯০ লাখ রুপি ব্যবসা করেছে। যার ফলে সব মিলিয়ে ‘ছপাক’-এর ঝুলিতে ঢুকেছে ৩৫ কোটি ৯০ লাখ রুপি।

চলচ্চিত্র সমালোচকরা বলছেন, উপার্জনের দিক দিয়ে ‘ছপাক’ ক্রমাগত হতাশ করছে। প্রথম সপ্তাহ থেকেই দীপিকা অভিনীত আশা অনুসারে ফল করতে অসমর্থ হয়েছে।

বিদেশের বাজারেও সেই অর্থে সাড়া ফেলতে পারেনি ‘ছপাক’। এখন পর্যন্ত বিদেশের বাজারে ছবিটির উপার্জনের পরিমাণ ১৩ কোটি।

গত ১০ জানুয়ারি বিগস্ক্রিনে রিলিজ করে মেঘনা গুলজারের ছবি ‘ছপাক’। বা¯Íবে অ্যাসিড আক্রান্ত ল²ী আগরওয়ালের চরিত্রে পর্দায় অভিনয় করেছেন দীপিকা পাডুকোন। ছবিতে তার চরিত্রের নাম মালতি।

এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন অভিনেতা বিক্রান্ত মাসে। চোখ ধাঁধানো মেকআপের বদলে অ্যাসিডে ঝলসানো তামাটে চামড়াতেই এবার পর্দায় দেখা গিয়েছে দীপিকা পাডুকোনকে।

ছবি রিলিজের আগেই অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, এই সিনেমা তার মনে ভীষণ দাগ কেটেছে। পরিচালক মেঘনা গুলজারের থেকে স্ক্রিপ্ট শোনার পর তাই সম্মতি জানাতে বিন্দুমাত্র সময় নেননি দীপিকা।

আর সিনেমা দেখার পর দর্শকরা অনেকেই বলছেন, এখনও পর্যন্ত নিজের সেরাটা অভিনয় নাকি এই ছবিতে করেছেন দীপিকা।

 

পাঁচ বোনের গল্পে ‘খান বাড়ি বাড়াবাড়ি’

বিনোদন বাজার \ বছরের প্রথম মাসেই নাট্যপরিচালক সকাল আহমেদ নতুন একটি ধারাবাহিক নাটকের কাজ শুরু করেছেন। নাটকটির নাম ‘খান বাড়ি বাড়াবাড়ি’। মূলত এই ধারাবাহিকটি একটি কমেডি ঘরানার। রচনা করেছেন ইউসুফ আলী খোকন।

নাটকটিতে চার বোনের চরিত্রে অভিনয় করছেন- পারসা ইভানা, কাজল সুবর্ণ, নিশাত প্রিয়ম ও সামান্তা। তাদের আরো একজন বোনের চরিত্রে অভিনয় করছেন মিম চৌধুরী। মূলত এই পাঁচ বোনের গল্প নিয়েই নাটকের কাহিনী আবর্তিত। তাদের বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু।

নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে ইভানা বলেন, ‘সকাল ভাই একজন মেধাবী ও গুণী পরিচালক। দীর্ঘদিন পর তার পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটকে কাজ করছি। যেহেতু এখানে আমাদের পাঁচ বোনকে ঘিরে নাটকের গল্প আবর্তিত, তাই আমরা ভীষণ উপভোগ করছি কাজটি।’

কাজল সুবর্ণ বলেন, ‘এই নাটকে আমার চরিত্রটি অনেকটাই টম বয়ের মতো। টম বয়ের চরিত্রে আমি আফরান নিশো ভাইকে দেখেছি অসাধারণ অভিনয় করতে। আমি আমার নিজের ভেতর নিশো ভাইকে লালন করেই চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি।’

শিগগিরই ‘খান বাড়ি বাড়াবাড়ি’ ধারাবাহিকটি বৈশাখী টিভিতে প্রচারিত হবে। ধারাবাহিক এ নাটকটি প্রযোজনা করছেন তুহিন বড়–য়া ও কাজী রিটন।