গাংনীতে রুরাল ভিশন সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ 

গাংনী প্রতিনিধি \ মেহেরপুরের গাংনীতে প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে গাংনী রুরাল ভিশন সংস্থার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় শীতবস্ত্র বিতরণের আয়োজন করে রুরাল ভিশন সংস্থা। বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রুরাল ভিশন সংস্থার পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে শীতবন্ত্র বিতরণ করেন গাংনী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা তুলসি কুমার পাল।

ঢাকায় ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে -খন্দকার মোশাররফ

ঢাকা অফিস \ সারা দেশের মতো রাজধানীতেও ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের হোসেন মার্কেট এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের গণসংযোগ শুরুর আগে উপস্থিত নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইঞ্জি. ইশরাক হোসেন ঢাকার সাবেক সফল মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সুযোগ্য সন্তান। আজকে ডেমরাবাসী ধানের শীষের সমর্থনে ইশরাক হোসেনের জন্য যে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন এ জন্য আপনাদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। তিনি বলেন, এই পথসভার মাধ্যমে আজকে প্রমাণিত হয় পুরো ঢাকার শহরে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইশরাকের নির্বাচন পরিচালনা টিমের প্রধান মোশাররফ আরও বলেন, আজকে আপনাদেরকে বলতে চাই ধানের শীষ জিয়াউর রহমানের মার্কা, ধানের শীষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মার্কা, এই মার্কা দেশনায়ক তারেক রহমানের ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের।

ধানের শীষকে ভোট দেয়ার আহŸান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে যে অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন, অপশাসন ও স্বৈরশাসন চলছে এর হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে ঢাকাবাসীকে শপথ নিতে হবে। আপনাদের কাছে আগামী ১ তারিখের নির্বাচন একটি বড় সুযোগ। ধানের শীষ এবং ইঞ্জিনিয়ার ইশরাককে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবেন। দেশের গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য ধানের শীষকে জয়যুক্ত করবেন। বেলা ১১টার দিকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ইশরাক হোসেন যখন সেখানে পৌঁছান, তখন নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন হোসেন মার্কেট এলাকা। তারা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগানের পাশাপাশি খালেদা জিয়ারও মুক্তি দাবি করেন। আজ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির টিম লিডারকে পেয়ে ইশরাকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। ফলে গণসংযোগ কর্মসূচি জনসমাবেশে রূপ নেয়।

 

দৌলতপুরে পাট চাষীদের দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ

আমলা অফিস \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ শীর্ষক চাষীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপি উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলার মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অথিথির বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল হালিমসহ আরো অনেকে। কর্মশালায় আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত পাট চাষের বিভিন্ন কলাকৌশল ও পাটের ভালো আঁশ পাওয়ার জন্য কী কী করনীয় ইত্যাদি বিষয়ে বি¯Íারিত আলোচনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন কুষ্টিয়া জেলার মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস। এ ছাড়াও বিভিন্ন বক্তারা এ বিষয়ে তাদের সুচিন্তিত মতামত ও মুল্যবান বক্তব্য তুলে ধরেন। এসময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের চাষীরা অংশ গ্রহন করেন।

দৌলতপুর সীমান্তে ১২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ১২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশ্রয়ন বিওপি’র টহল দল মুন্সিগঞ্জ বাঁশবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

আমলায় আশার’র প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আমলা অফিস \ কুষ্টিয়ার মিরপুরে বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আশা’র সেবিকাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার আমলা শাখার উদ্দ্যোগে গত ২০ ও ২১ জানুয়ারি ২ দিনব্যাপী আশা প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচীর আওতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আশা আমলা বাজার ব্রাঞ্চের ম্যানেজার নারায়ন মিত্র (সুখেন) এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আশা’র মিরপুর অঞ্চলের আরএম তাজ উদ্দিন শেখ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আমলা ব্রাঞ্চ এর সহকারী ম্যানেজার মাসুদ রানা, শিক্ষা সুপারভাইজার আব্দুল হাকিম প্রমুখ। দুইদিনের এ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষন প্রদান করেন মিরপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার জহুরুল হক। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় একজন শিক্ষা সুপারভাইজার ও ১৫ জন শিক্ষা সেবিকা অংশগ্রহন করে। উল্লেখ্য বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী  সংস্থা আশা তাদের ক্ষুদ্র ঋণের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালীকরনের জন্য তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৬ সাল থেকে আমলা ব্রাঞ্চের উদ্দ্যোগে প্রায় ৪৫০ হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে  মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরে ১৫টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৫ জন শিক্ষা সেবিকা এবং একজন শিক্ষা সুপারভাইজার দ্বারা ছেলে মেয়েদের ক্লাশের পড়া শেখানো হয়। এতে করে ছেলে মেয়েদের আর বাইরে প্রাইভেট পড়া লাগে না। সারা বাংলাদেশে এভাবে আশা কর্তৃক প্রায় ৫ লক্ষ ছেলে মেয়েদের পড়ানো হচ্ছে।

ঝিনাইদহে ২ দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড শুরু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি \ ‘মেধাই সম্পদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই ভবিষ্যৎ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে ২ দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে এ মেলার আয়োজন করে সদর উপজেলা প্রশাসন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা শুভ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জীবন কুমার বিশ্বাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম এম আরিফ সরকার, ফজর আলী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জয়া রানী চন্দ, ওয়াজির আলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান। আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শণ করেন। ২ দিনব্যাপী এ মেলায় সদর উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০টি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রদর্শণ করেছে। এসব স্টলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আবিষ্কৃত বিভিন্ন প্রকল্প স্থান  পেয়েছে। বুধবার বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মেলা শেষ হবে। মেলায় আগত শিক্ষার্থীরা বলেন, বিজ্ঞান মেলা উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন ছোট ছোট প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও প্রকল্পের মডেল নিয়ে এখানে এসেছি। নিজেদের মডেলের পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের মডেল দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হচ্ছি।

৫ বছরের প্রেমিকের বিরুদ্ধে প্রেমিকাকে ধর্ষনের মামলা

বিয়ের ৪৫ দিন পর বাচ্চা প্রসব, প্রেমিক ও স্বামী আটক

আমলা অফিস \ সোহাগ নামের এক প্রেমিকের সাথে দীর্ঘ ৫ বছরের প্রেম। পাঁচ বছরের এই প্রেমে ভেঙ্গে দেড় মাস আগে বিয়ে হয় সাদ্দাম নামের এক ছেলের সাথে। বিয়ের মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় ঐ নারী এক মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন। এ ঘটনায়  প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষকের অভিযোগ করেছেন থানায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ ঐ প্রেমিক ও গর্ভপাত ঘটানোর দায়ে স্বামীকে আটক করেছে। মঙ্গলবার (২১ জনুয়ারি) বিকেলে মিরপুর থানা পুলিশ ঐ নারীর প্রেমিক ও স্বামীকে আটক করেছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে মিরপুর থানায় ধর্ষনের অভিযোগ এনে এজাহার দায়ের করেন ঐ নারী নিজেই। আটককৃতরা হলেন- ভিকটিমের প্রেমিক কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরুপদহ শিলের খাল এলাকায় খয়বার আলীর ছেলে সোহাগ (১৮) এবং ভিকটিমের প্রেমিক স্বামী একই উপজেলার ধুবাইল ইউনিয়নের কাদেরপুর গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২২)। ঐ নারীর দায়ের করা মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, সোহাগের সাথে গত ৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বছরের ২ ফেব্র“য়ারী  সোহাগ তাকে নির্মাণাধীন বাড়ীর কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় তাকে ডেকে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে। একাধীকবার শারিরিক সম্পর্ক হলেও গর্ভবর্তী হওয়ার বিষয়টি ভিকটিম অনুমান করতে পারেনি বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন। তিনি এজাহারে আরো উল্লেখ করেছেন, এক পর্যায়ে গত দেড়মাস আগে ভিকটিমের পিতামাতা সাদ্দাম হোসেনের সাথে তার বিয়ে  দেয়। গত ১৯ জানুয়ারী রাতে স্বামী তাকে ৪টি ট্যাবলেট খাওয়ালে পেট ব্যাথা হয়। পরদিন ২০ জানুয়ারী মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ৭/৮ মাসের মৃত কন্যা সন্তান প্রসব করে। পরে মৃত কন্যা সন্তানটিকে স্বামীর গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুুল কালাম জানান, অভিযুক্ত ধর্ষক সোহাগ এবং ঐ নারীর গর্ভপাতের দায়ে তার স্বামী সাদ্দামকে আটক করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজাতে পাঠানো হয়।

বইমেলায় ‘ধর্মীয় অনুভূতির’ সুরক্ষায় তৎপর থাকবে পুলিশ

ঢাকা অফিস \ গত কয়েক বছরের মত এবারও একুশে বইমেলার স্টলে ‘ধর্মীয় উসকানিমূলক’ বইয়ের বিষয়ে নজরদারির কথা বলেছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি সদর দপ্তরে একুশে বইমেলার নিরাপত্তা নিয়ে এক সমন্বয় সভায় তিনি বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বই বইমেলায় থাকতে দেওয়া যাবে না।” ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে এমনই এক হামলায় নিহত হন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী লেখক অভিজিৎ রায়। ঘাতকদের কোপে আঙ্গুল হারান তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। ওই ঘটনার পর থেকে বইমেলায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি বাড়ানোর পাশাপাশি বইয়ের বিষয়ব¯Íুর দিকেও নজরদারিতে নামে পুলিশ। ২০১৬ সালে বইমেলায় আসা ‘ইসলাম বিতর্ক’ নামের একটি বইয়ে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ হানার উপাদান রয়েছে দাবি করে প্রকাশনা সংস্থা ব-দ্বীপের স্টল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পাশাপাশি ব-দ্বীপের মালিক ও বইটির সম্পাদক শামসুজ্জোহা মানিক, এক বিপণনকর্মী এবং বইটির ছাপাখানার মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়। মানিকের মুক্তি আন্দোলনে সামনের কাতারে থাকা রবিন আহসানের প্রকাশনা সংস্থা শ্রাবণ প্রকাশনীকে পরের বছর বইমেলায় নিষিদ্ধ করে বাংলা একাডেমি। পরে সমালোচনা-প্রতিবাদের মুখে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। গতবছরও বাংলা একাডেমির সারভেইলেন্স টিম ও পুলিশের গোয়েন্দারা এ বিষয়ে নজরদারি করেন। কোনো স্টলে কী বই প্রকাশ হচ্ছে, সেই খোঁজ খবর নিতে দেখা যায় তাদের। সমন্বয় সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, “বইমেলা বাংলা একাডেমি আয়োজন করলেও আমরা (পুলিশ) এর একটি অংশ হয়ে গেছি। বইমেলা ঘিরে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” বইপ্রেমীদের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে সবার সহযোগিতা চেয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে বাঙালির প্রাণের মেলা সফলভাবে শেষ করতে পারব।” বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সভায় জানান, মোট ৫৩৮টি প্রকাশনা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবারের বইমেলায় অংশ নেবে। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে ৪১১টি স্টল। আর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৭টি স্টল বসবে। সব মিলিয়ে স্টল থাকবে ৮৭২টি। এছাড়া শিশু চত্বর, মসজিদ, টয়লেট, ফুড পার্ক ও প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র থাকবে বইমেলা প্রাঙ্গণে। বইমেলায় আসা বই ‘মনিটরিং’ করতে থাকবে ‘মনিটরিং কমিটি’। মেলার নিরাপত্তায় তিনশর বেশি সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। বাঁশ ও টিন দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ ঘিরে শক্ত বেষ্টনী দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বুক স্টলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোসাম্মৎ জোহরা খাতুন, বাংলাদেশ পু¯Íক প্রকাশক সমিতির সহ-সভাপতি শ্যামল পাল ছাড়াও মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন সমন্বয় সভায়। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কারণে একুশে বইমেলা এবার এক দিন পিছিয়ে গেছে।  ২ ফেব্র“য়ারি বিকালে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন।

তাহলে তো পল্টনের হামলায় আ. লীগও দায়ী – রিজভী

ঢাকা অফিস \ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তার দলকে জড়ানো হলে পল্টনে সিপিবির সমাবেশে হামলার জন্যও তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করতে হয়।  প্রায় দুই দশক আগে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার রায়ের পরদিন ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা রিজভীর এমন মন্তব্য আসে।  তিনি বলেন, “যদি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপি নেতারা দায়ী হয়ে থাকেন, সরকারের লোকজন দায়ী হয়ে থাকেন, তাহলে সিপিবির জনসভায় যে হামলা, সেখানে শেখ হাসিনা (তখনকার প্রধানমন্ত্রী) দায়ী নন কেন? সেই সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী নন কেন? পুলিশের যারা কর্মকর্তা ছিলেন তারা দায়ী নন কেন?” ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির লাল পতাকা সমাবেশে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত হন। সে সময় ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। দীর্ঘ ১৯ বছর পর সোমবার সেই মামলার রায়ে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ১০ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম তার রায়ের পর্যক্ষেণে বলেন, সিপিবিকে নিশ্চিহ্ন করতে এবং তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই ওই হামলা চালায় জঙ্গিরা। আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে যখন ২৪ জনকে হত্যা করা হল, তখন ক্ষমতায় বিএনপি। চৌদ্দ বছর পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে এ মামলার রায়ে সেই বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত। আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদন্ড। এছাড়া ওই মামলার আসামি ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায়’ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ওই হামলা ছিল আওয়ামী লীগকে ‘নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা’। ওই রায়ের সঙ্গে সিপিবির সমাবেশে হামলার রায়কে মিলিয়ে রিজভী বলেন, “২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যদি বিএনপি নেতৃবৃন্দ জড়িত হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের আমলে সিপিবির সমাবেশে হামলা মামলায় আওয়ামী লীগও জড়িত, আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী এর দায় এড়াতে পারেন না।” চট্টগ্রামের লালদীঘিতে আওয়ামী লীগের জনসভায় হামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “যে ৫ জন পুলিশের ফাঁসির আদেশ হয়েছে গতকালকে ওই মামলার জন্য এরশাদ ও তার সরকার দায়ী, কারণ ওই গুলির ঘটনা তো পুলিশ করেছে। এরশাদসহ তার সরকার সেখানে দায় এড়াতে পারে না।” বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় সময় সরকারের কেউ ছিলেন না মন্তব্য করে এখনকার ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, “তাকে একেবারে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হয়েছেৃ আপনাদের মনের মধ্যে হল বিএনপির নেতৃত্বকে ধ্বংস করা, তারেক রহমানকে ধ্বংস করা।” আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরেরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, “ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, বিএনপি সকল ক্ষেত্রে ব্যর্থ। আমি মনে করি আওয়ামী লীগ সকল ক্ষেত্রে সফল। কী করে ৯ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করতে হবে সেক্ষেত্রে সফল, কী করে ইলিয়াস আলীর মতো সাবেক সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের গুম করতে হবে সেক্ষেত্রে সফল, কী করে বেসিক ব্যাংক লুট করতে হবে সেক্ষেত্রে সফল, কী করে বিরোধী দলের আন্দোলনকে রক্তাক্ত কায়দায় দমন করতে হবে সেক্ষেত্রে সফল, কী করে নির্দোষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখতে হবে সে ব্যাপারে আপনারা সফল। “আর অন্য কোনো বিষয়ে আপনারা সফল নন। মানুষ ধুঁকছে, ব্যাংকে টাকা নাই। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বেকারত্ব বেশি। শুধু মুখ দিয়ে বাগাড়ম্বর করলে হবে না। আপনারা কোন কোন ক্ষেত্রে সফল তা মানুষ জানে।” পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

মেহেরপুরে বিজয় দিবস যাত্রা উৎসবের শুভেচ্ছা স্মারক ও সনদ বিতরণ 

গাংনী প্রতিনিধি \ ‘শেকড়ের অনুসন্ধানে, এসো মিলি বিশুদ্ধ যাত্রা আয়োজনে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মেহেরপুরে বিজয় দিবস যাত্রা উৎসব-২০১৯ ইং-এর শুভেচ্ছা স্মারক ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর বা¯Íবায়নে যাত্রা উৎসবের অংশগ্রহণকারী ১০টি দলের মাঝে স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়েছে। গত সোমবার দিবাগত রাত ৮টার সময় মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর হলরুমে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও যাত্রা উৎসব উপ-কমিটির আহবায়ক ইবাদত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক  ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি (পৃষ্ঠপোষক ও সার্বিক নির্দেশক) আতাউল গনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,  মেহেরপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ও যাত্রা উৎসব উপ-কমিটির সদস্য হাসানুজাজামান মালেক, সদস্য পল্লব ভট্টাচার্য (পিপি), সদস্য এ্যাডভোকেট ইব্রাহীম শাহীন, মেহেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান রিটন, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান  প্রমুখ। মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় ১০টি দলের পক্ষে দলের পরিচালক, ম্যানেজার, পৃষ্ঠপোষকবৃন্দ অনুভূতি ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। এদের মধ্যে সাংস্কুতিক কর্মী নিশান সাবের, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম অল্ডাম উল্লেখযোগ্য। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মেহেরপুর ড. সামসুজ্জোহা পার্কে অনুষ্ঠিত ১০ রজনীব্যাপি যাত্রা উৎসব  অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে সকল দলকে শুভেচ্ছা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।

ঝিনাইদহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইলেক্ট্রনিক্স মিস্ত্রির মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি \ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী এলাকার কড়ইতলা নামক স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মহিবুল ইসলাম (২২) নামের এক ইলেক্ট্রনিক্স মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মহিবুল ইসলাম সদর উপজেলার বিষয়খালী পশ্চিমপাড়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে। স্থানীয় বাবুল হোসেন নামের একজন জানান, মহিবুল ইসলাম কড়ইতলা এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করছিল। হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসলিমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ পিঠা  উৎসব-২০২০

গতকাল ক্যাম্পাস ২ এ প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সকাল ৯ টায় সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ র্কতৃক আয়োজিত পিঠা উৎসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠতি হয়। মাঘের শীতের সকালে শীতকালের বিভিন্ন রকম দেশীয়  পিঠা সমাহার নিয়ে উপস্থতি অভভিাবকবৃন্দ। পুলি পিঠা , পাকান পিঠা, পাটসিাপটা, ধুপি পিঠা , সেমাই পিঠা, রস পিঠা,  সড়া পিঠা, বরফি পিঠা, ঝাল পাকান, ফুল পিঠা, ফল পিঠা, ডিম পিঠা, রুটি  মাংস, বড়া পিঠা, সন্দেশ পিঠা, বস্কিুট পিঠা, তালের পিঠা, কেক পিঠা ভাপা পিঠা, খেঁজুর রসে ভাপা পিঠা, শাহি ভাপা পিঠা, খোলা চিতুই,  দুধ চিতুই, রস চিতুই বা রসের, ডিম চিতই, ডিম, সিদ্ধ কুলি পিঠা, ভাজা কুলি পিঠা, ঝাল কুলি, তিলের পুলি, ছানার পুলি, দুধপুলি, নারকেলের তিল পুলি, ক্ষীরে ভরা পাটি সাপটা ক্ষীর, চিংড়িমাছের নোনতা পাটিসাপটা, গাজর কপি পাটিসাপটা, তেলেভাজা পিঠা অথবা পাকান পিঠা, সুন্দরী পাকান পিঠা, গোলাপফুল পিঠা, চুসি পিঠার পায়েস, মেরা পিঠা, বিবিখানা পিঠা, কলার পিঠা, ইলিশ পিঠা, লবঙ্গ লতিকা , আনারস পিঠা, কাস্তুরি, চাপাতি পিঠা, নকশি পিঠা, ফুলঝুরি পিঠা, বাদাম-নারকেল ঝালপিঠা, মুগ ডালের নকশি পিঠা, ফুলন দলা, তালের বড়া, তালের কেক, তালের পায়েস,  চিড়ার মোয়া, লাল পুড়া পিঠা, তিলের নাড়–, মুরালি পিঠা সহ শতাধিক ভিন্ন পিঠা পরিদর্শন হয়।  পিঠা সমাহার নিয়ে পিঠা উৎসব এক জাঁকজমক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সকল অভিভাবকবৃন্দ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রী প্রতিটা স্টলে স্টলে  ঘুড়ে পিঠা উপভোগ করেন। ছাত্রীদের নিত্য অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় এবং ২০১৯ সালের ট্যালেন্টপুলে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ এ্যাড. মোসাদ্দেক আলী মনি, অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠাতা সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ কাজী সামছুন নাহার আলো, সহকারী অধ্যক্ষ, ফায়জুর রহমানসহ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা অভিভাবক ও  ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ উপস্থতি ছিল। অনুষ্ঠানের শেষে অধ্যক্ষ সানআপের পক্ষ থেকে সকল উপস্থিত অভিভাবকদের  পিঠা  তৈরি করে আনার জন্য ধন্যবাদ জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভেড়ামারায় বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির কর্মবিরতি

আল-মাহাদী \ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মচারীদের (গ্রেড ১৩-১৬) পদবী পরিবর্তন এবং বেতন গ্রেড উন্নতি করণের দাবিতে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন চত্বরে এ কর্মবিরতি পালন করা হয়। এসময়  মোঃ হাবিল উদ্দিন, মোঃ নুরুল ইসলাম, দিলীপ কুমার বিশ্বাস,  মোঃ মু¯Íাফিজুর রহমান সহ বাকাসস এর অন্যান্য সদস্যরা অংশগ্রহন করেন।

রাসূল (সাঃ) এর পবিত্র হাদীস ও ওয়াহ্বীদের ভূল ব্যাখ্যা

\ নাজীর আহ্মদ জীবন \

আমরা গত মাসে বারো শরীফে পঠিত প্রবন্ধে বলেছিলাম, সৌদি আরবের রিয়াদস্থ ইমাম মোহাম্মদ বিন্ সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী নেয়া ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার লেখা বই ঃ ‘হাদীসের নামে জালিয়াতিতে বহু প্রচলিত ও সহি হাদীসকে জাল বলেছেন। উনি  সৌদি ওয়াহাবী চিন্তা ধারায় প্রভাবিত হয়ে এমন বহু  হাদীস শরীফকে জাল বলেছেন যেগুলো বহু সূফী সাধক ও বিখ্যাত আলেম দ্বারা সমর্থিত। বারো শরীফের মহান  ইমাম (রঃ) ও যেগুলোকে নিজে বলতেন ও ব্যাখ্যা  করতেন। যেমন ঃ (১) আপনি না হলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতাম না। (২) যে নিজেকে চিন্ল সে তার প্রভুকে  চিনল। (৩) যার পীর নেই তার পীর শয়তান। (৪)  ওলী আল¬াহগণ মরেন না। (৫) রাসূল (সাঃ) এর ছায়া নাই। (৬)  যে ব্যক্তি হজ্ব করলো; এরপর আমার কবর যিয়ারত করলো, সে যেন সে ব্যক্তির ন্যায় যে জীবদ্দশায় আমার সাথে দেখা করলো। (৭) আমি যে সময় ও নবী ছিলাম যখন আদম পানি এবং মাটির মাঝে মিশ্রিত ছিলেন।

উনি, সূরা সুমারÑ৩০ আয়াত এর তাফ্সীর করেছেন ঃ “নিশ্চয় তুমি (হে মোহাম্মদ) মৃত এবং নিশ্চয় তারাও (অতীত নবীগণ) মৃত।”

হযরত ইব্নে আব্বাছ (রাঃ) হতে বর্ণিত ঃ আল্লাহ্ তা’আলা ঈস (আঃ) ওহী মারফত আদেশ পাঠালেন, মোহাম্মদের প্রতি তুমি ঈমান গ্রহণ করবে এবং নিজ উম্মতকে আদেশ দিবে, তারা যেন (বর্তমানে তোমার মুখে শুনে এবং পরবর্তীতে তাঁর আবির্ভাব হলে) তাঁর  প্রতি ঈমান আনে। মোহাম্মদ (সাঃ) এর বিকাশ সাধন (হচ্ছে)  না হলে আদমকেই সৃষ্টি করতাম  না, বেহেশ্ত ও সৃষ্টি করতাম না, দোযখ ও সৃষ্টি করতাম না।”

(যোরকানীÑ১Ñ৪৪)

বই ঃ মীলাদে-বে-নযীর

আল্লামা মুফতী মো: দুবাগী

হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “হে আমার দোস্ত হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) তোমাকে সৃষ্টি করা যদি আমার উদ্দেশ্য না হ’ত তবে আমি সৃষ্টি জগত সৃষ্টি  করতাম না”। হযরত সালমান ফারসী (রঃ) বর্ণনা করেছেন ঃ “একদা হযরত জিবরাঈল (আঃ) নবী করীম (সাঃ) এর নিকট এসে বললেন, আল্লাহ তা আলা সংবাদ পাঠিয়েছেন যে;  ইব্রাহীম আমাকে দোস্ত বানিয়েছিলেন, আমি তা গ্রহণ করেছিলাম; কিন্তু আমি স্বয়ং আপনাকে দোস্ত বানিয়েছি। আমার নিকট আপনার চেয়ে সম্মানী কোন কিছু সৃষ্টি করিনি। আমি শপথ করে বলছি;  বিশ্বজগত এবং তার মধ্যকার সবকিছু আমি এ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি যে, তাদের নিকট আপনার গৌরব এবং আমার নিকট আপনার মর্যাদা কতটুকু তা প্রকাশ করব। আপনার বিকাশ সাধনের ইচ্ছা যদি আমার না হ’ত তবে আমি বিশ্ব জগতকে সৃষ্টি করতাম না।” (যোরকানী-১৬৩; বুখারী)

নবী ও ওলীদের প্রতি মাওলানা রুমী (রঃ) এর ভক্তি ছিল অপরিসীম। মস্নবীতে তিনি বলেছেন ঃ মোহাম্মদের (দঃ) সঙ্গে পবিত্র প্রেম একীভূত ছিলো। এ প্রেমের দরুনই আল্লাহতায়ালা “লাওলাকা লামা খালাক্তুল আফ্লাক” (অর্থ, আপনাকে সৃষ্টি না করলে আমি কিছু সৃষ্টি করতাম না ফরমায়েছেন।” (বই ঃ মাওলানা রুমীর আত্ম দর্শন)

হযরত সেখ সাদী (রঃ) ও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ঃ আপনার সম্মান ও ইজ্জত বুঝে নেবার জন্য “লাওলাকা” বলা যথেষ্ট। অর্থাৎ আল্লাহ্-তায়ালা বলেছিলেন “হে হাবীব! আপনি যদি সৃষ্টি না হতেন তবে আমি কোন কিছুই সৃষ্টি করতাম না। আপনাকে সৃষ্টি করার করণেই সমস্ত বিশ্ব জগত সৃষ্টি করেছি।” (বই নূরে মোহাম্মদী (দঃ) মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রঃ))।

একদা হযরত জিব্রাঈল (আঃ) হযরত রাসূলে করীম (দঃ) এর নিকটে বর্ণনা করেনÑইয়া রাসূল্লাহ! আমি আমার জন্মের পর এক হাজার বৎসর পর্যন্ত একই ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু কি যে করবো, তা কিছুই স্থির করতে পারি নাই।  এমন সময় আল্লাহ্-তা’য়ালা আমাকে  ‘হে জিব্রাঈল! বলে ডাক দিলেন। তখন আমার নাম যে ‘জিব্রাঈল’ তা আমি বুঝতে পারলাম। আমিÑ ‘লাব্বায়েক-লাব্বায়েক’ বলে উত্তর দিলাম। তখন আল্লাহ্-তায়ালা বললেন; “হে জিব্রাঈল। “তুমি আমার পবিত্রতা বর্ণনা কর, আমিই তোমাকে সৃজন করেছি।” সৃষ্টি কর্তার জেকের ও প্রশংসা করতে করতে আমার যখন দশ হাজার বৎসর কেটে গেল; তখন, ‘লাওহে মাহ্ফুজে’ লিখা ঃ “লা-ইলাহা ইল্লাল¬াহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ কলেমাটি দেখে পাঠ করলাম এবং প্রতিপালকের নামের সাথে এটা কার নাম বিজড়িত রয়েছে তা চিন্তা করলাম। তখন আল¬াহর তরফ হতে  প্রত্যাদেশ  হ’ল Ñ “লাওলাকা-লামা খালাক্তুল আফ্লাক” Ñ অর্থাৎ  আমি এই প্রিয় নবীকে যদি সৃষ্টি না করতাম; তাহলে কোন  কিছুই সৃজন করতাম।” হযরত জিব্রাঈল বললেন Ñ “হে আল্লাহর হাবীব! আমি, আপনার এই উচ্চ মর্যাদার  কথা শুনে, আবার আমি দশ হাজার বৎসর পর্যন্ত  কেবল আপনার উপর দরুদ শরীফ পড়তে থাকি। ঐ দরুদ পড়ার বরকতে আমার অন্তঃকরণ অতি সমুজ্বল হয়ে যায় এবং হৃদয়ে এক অপূর্ব শান্তি লাভ করি।”

(বই ঃ মজমুয়ে ওয়াজ শরীফ; মৌ:

আয্হার আলী বখ্তিয়ার।)

নিখিল সৃষ্টির মূলে যদি কোন উদ্দেশ্য নিহিত  থেকে থাকে; তবে সে হচ্ছে; আল্লাহরই আত্ম প্রকাশের উদ্দেশ্য। আল¬াহ তাঁর  এ সৃষ্টি লীলার মধ্যে দিয়ে নিজেকে ব্যক্ত করতে চান। আপন মহিমার অন্তলীন হয়ে থাকলে কে তাঁকে চিন্ত? শুধু স্রষ্টা থাকলেই  হয় না, দ্রষ্টাও চাই, নতুবা স্রষ্টার সৃষ্টি সার্থক হবে কেন? দ্রষ্টা না থাকলে কে স্রষ্টার মহিমার গুনগান করবে?

উপযুক্ত গুণীর কদর করার জন্য তাই প্রয়োজন হয় উপযুক্ত গুণ গ্রাহীর। আর সে উপযুক্ত ও সর্বশ্রেষ্ঠ গুনগ্রাহী হলেন মোহাম্মদ বা আহ্মদ (সাঃ)।

“সে নিজেকে চিনেছে, সে তার প্রভুকে চিনেছে।” (হাদীস)

আরবীতে, “মান্ আরাফা নাফস্উ ফাকাদ আরাফা রব্বাহু।”

আমি তোমার নফ্সের সাথে আছি, কিন্তু তুমি দেখছ না Ñ (সূরা ঃ জারিয়াত)

মু’মিনের হৃদয়ে আল্লাহর সিংহাসন Ñ (হাদীস)

আসমান ও যমীন  আমাকে ধারণ করতে পারে না, কিন্তু মুমিনের হৃদয়ে আমার স্থান হয়। (হাদীসে কুদসী); এবং আমি (আল্লাহ) মানুষের প্রাণরগ অপেক্ষা নিকটবর্তী (সূরা ঃ ৫০-১৬)

তাই মাওলানা রুমী (রঃ) বলেছেন ঃ “তুমি সত্যের সন্ধান বা খোদার  অন্বেষণ কোথায় করছ ? তুমিই যে পরম সত্য। তোমার নিজেকে  তুমি জান চিন তবেই তুমি তোমার খোদাকে জানতে পারবে।” (বই ঃ সূফী তত্তে¡র আত্মকথা।)

বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ) বলেছেন ঃ রাসূল (সাঃ) বলেন; “আমরা যেন অবসর সময়ে অন্তরের জিকির করি। যে নিজেকে চিনেছে সে তার প্রভুর পরিচয় পেয়েছে”। ইমাম (রঃ) বলেছেন, “আমাদের এ মাটির দেহে আলোর (নূর) সংযোগ না হলে নূরের জগতে ফিরে যাওয়া কষ্টকর। এ মাটির দেহের কোন দাম নেই। কয়েকদিনের জন্য এ দেহকে বাহন হিসাবে রাখা হয়েছে। এর ভিতর যে  মূল্যবান আত্মা বসে আছে সেটা হলো অবিনশ্বর। সেই  আত্মাকে তার স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব আমাদের।

তাই মস্নবীতে বলা হয়েছে, “বন্ধুর দেখা পেলে মুক্তির উপায় যেন আমরা যেনে নেই। এখানে বন্ধু আল্লাহ্র ওলী বা কামেল সাধক। তাই প্রতিটি লোকের উচিৎ নিজেকে জানা।” (মোহাম্মদী ডাইরী)

এ হাদীসটি হযরত মোজাদ্দেদে আলফেসানী (রঃ) এর বিখ্যাত কিতাব “মাকতুবাদ শরীফে” স্থান পেয়েছে। “আত্ম পরিচয় না জনালে আত্মদর্শন হয় না।” কেবল বই কিতাব পড়ে ও শুনে এটা সম্ভব নয়। এটা একটা বড় কঠিন কাজ। এজন্য যোগ্য মুর্শিদ ও দরকার। কেননা আল¬াহ বলেছেন ঃ আমি গুপ্ত ধনভান্ডারে ছিলাম, আমি পরিচিত হবার জন্য সৃষ্টি জগত সৃষ্টি করলাম। তাই তো পবিত্র কোরআনে বলেছেন ঃ “তোমাদের মধ্যে যা কিছু আছে তা কি তোমরা দেখছো না? আরও বলেছেন ঃ আফাক ও আনফোসে, যা  কিছু আছে তাকি তুমি দেখছো না? রাসূল (সাঃ) এর ঐ  হাদীসটি বুঝার জন্য দরকারÑআফ্াক ও আন্ফাস সম্বন্দে বুঝা।

এসব গুপ্ত তত্ত¡ জানবার সময় বা ইচ্ছা কোথায় ঐ সব ওয়াহাবী  আলেমদের। কারণ এজন্য দরকার কামেল বা ওলী আল্লাহর সহবৎ। তাই এ যাবৎ তাদের মধ্য থেকে কোন ওলী আল্লাহ সৃষ্টি হয় নাই। (সূফী দর্শন” বই এর ১১০ পৃষ্ঠায় ও এ হাদীস রয়েছে।)

ছায়ানা থাকা ঃ ‘রুহুল বায়ান’ Ñ এ আছে, হুযুর (সাঃ) নূরীÑঅথচ মানবীয় আকৃতিতে ছিলেন। এ জন্য তাঁর ছায়া ছিল না। জিব্রাঈল  (আঃ) যখন কখনো মানুষের আকৃতিতে আসতেন, তখন তাঁর দেহ ছায়া বিহীন হতো। কেননা, তিনিও তখন মানবীয় আকৃতিতে ফেরেশ্তা সুলভ গুনাবলীতে থাকতেন।

আল্লামা জুরকানী তার কিতাব ‘জুরকানী শরীফ’ ৪র্থ খন্ডÑ২২০ পৃঃ লিখেছেন, “সূর্য-চন্দ্রের আলোতে নবী করীম (দঃ) এর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা। কেননা তিনি ছিলেন আপাদ মস্তক নূর।”

আল্লামা আহ্মদ রেজাখান বেরলভী (রঃ), ‘হাদায়েকে বখ্শিশ’ গ্রন্থে লিখেছেন ঃ “হে প্রিয় রাসূল! আপনি  খোদার নূরের ছায়া। আপনার প্রতিটি অঙ্গই এক একটি নূরের টুকরা। নূরের যেমন  ছায়া হয় না, তদ্রুপ ছায়ার ও প্রতিচ্ছায়া হয় না। কাজেই আপনার ও  ছায়া নেই।” মকতুবাতে ইমামে রাব্বানী ৩য় জিল্দ মক্তুব নং-১০০ তে, লিখেছেন ঃ “হযরত রাসূলে করীম (দঃ) এর সৃষ্টি কোন মানুষের  সৃষ্টির মত নয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে স্বীয় নূর দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।”

বারো শরীফের মহান ইমাম, হযরত শাহ্ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ) ১৪-০১-৮৪ তে বলেন, “রাসূলের ছায়া ছিল না। এটা সময়ের পূর্বে প্রকাশ হলে ইহুদী আর নাসারা এরা তাঁকে মেরে ফেলবে তাই মেঘে ছায়া দিত। কষ্ট পাবেন সে জন্য না।”

আমরা যেন ঐ সব ওয়াহাবী অনুসারী আলেম ও পীরদের কথায় ভুল না করি। আওলাদে রাসূল বারো শরীফের মহান ইমাম (রাঃ) এর প্রচারিত  তরীকা Ñ “বারো শরীফ তথা মোহাম্মদীতে’ থেকে নিজ আত্মার শান্তি ও মুক্তির পথ করে যায়।

আল্লাহ আমাদের দয়া করুন। আমীন সূম্মা-আমীন।

কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতি চত্বরে ইউলার লাইভ পিঠা উৎসব

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়া জেলার আইনাঙ্গন, জেলা আইনজীবী সমিতি চত্বর গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী মেতে উঠেছিল আনন্দ উৎসবে। সকাল থেকেই কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী চত্বর সেজেছিল নবরুপে, স্পটে তৈরী হচ্ছে হরেক রকমের পিঠা,  পিঠার সেই মৌ মৌ গন্ধে সর্বস্তরের আইনজীবীরা  মেতে উঠেছিলো পিঠা উৎসবের আনন্দ আয়োজনে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ‘ল’ এল্যামনাই এসোসিয়েশন (ইউলা) এর আয়োজনে মঙ্গলবার দিনব্যাপী লাইভ পিঠা উৎসবের  উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী। পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সবচেয়ে সিনিয়র আইনজীবী এনামুল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক এড. শেখ মো: আবু সাঈদ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল’ এল্যামনাই এসোসিয়েশন (ইউলা) এর দায়িত্বে থাকা সিনিয়র এডভোকেট ও অতিরিক্ত পিপি এড. সামস তানিম মুক্তি, এড. হাফিজুল ইসলাম মুনির, এড. রেজাউল করিম, এড. শাতিল মাহমুদ, এডভোকেট ও অতিরিক্ত পিপি নিজাম উদ্দিন, এড. আল মুজাহিদ হোসেন মিঠুসহ ইউলার সদস্যরা  ব্যাস্ত  সময় পার করেছেন সর্বস্তরের আইনজীবীদের ফ্রি পিঠা আপ্যায়নে। প্রথম বারের মত জেলা আইনজীব সমিতি চত্বরে আয়োজিত পিঠা উৎসব, আমার কাছে খুব ভালো লাগছে, এ উৎসবে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত, আইনজীবী দের উৎসবে সবার সঙ্গে পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। পিঠা  খেতে খেতে বলছিলেন সমিতির সবচেয়ে সিনিয়র আইনজীবী এনামুল হক। আনিজীবীদের তিনি নিয়মিত এমন আনন্দ আয়োজনের আহবান জানান। আয়োজক কমিটির অন্যতম একজন এড. সামস তানিম মুক্তি বলেন আজকের পিঠা উৎসবে সর্বস্তরের আইনজীবীদের উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রানিত করেছে, সকল আইনজীবীদের  পিঠা খাওয়াতে  পেরে আমরা আনন্দিত, প্রতি বছর এমন উৎসব আয়োজন করবেন বলেও তিনি জানান। পিঠা উৎসবের  ভাপা, চিতই, পাকান, কুলশি পিঠা, দুধপুলি,  ঝাল পিঠা, নারকেল পিঠা,  কালাই রুটি হরেক রকমের ভর্তাসহ পিঠা খেতে খেতে সিনিয়র আইনজীবী মঞ্জুরী বেগম বলছিলেন আজ  বেগম সুফিয়া কামালকে মনে পড়ছে- পৌষ মাসের পিঠা খেতে বসে, খুশিতে বিষম খেয়ে/আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে, মায়ের বকুনি পেয়ে। বড়দের কথাই বলা হলো। নতুনরা, নতুন প্রজন্ম! না, অমৃতের স্বাদ তাদের জিহŸায়। অজস্র তৃপ্তি তাদের। আকাশছোঁয়া আনন্দ। আনিজীবীদের এই উল্লাস বহাল থাকুক। পৌষ পার্বণ জ্বলজ্বল করুক সবার অন্তরে।

কুমারখালীতে উন্মুক্তভাবে ভাতাভোগী বাছাই সম্পন্ন

কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালী বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এই ভাতাভোগী বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ সময় কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান খান, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও পৌরসভার মেয়র মো. সামছুজ্জামান অরুণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী, উপজেলা প্রকল্প বা¯Íবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম, নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নওশের আলী বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্তভাবে ভাতাভোগী বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান জানান, বয়স্ক, বিধবাসহ স্বামী পরিত্যাক্তা দু:স্থ মহিলা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী বাছাইয়ের লক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে তাদেরকে আসতে বলা হয়েছে। ভাতাভোগী বাছাইয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মানুযায়ী আগতদের ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে উপযুক্ত ভাতাভোগীদের বাছাই করে নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, নন্দলালপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৮৭ জন বয়স্ক, ৬৩ জন বিধবা ও ১৬৯ জন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী বাছাই করা হয়েছে।

তাবিথের উপর হামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে – ইসি

ঢাকা অফিস \ গাবতলীতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হামলার ঘটনার পর বিকালে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিব মো. আলমগীর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে ইসির ৫৮তম  বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। জ্যেষ্ঠ সচিব আলমগীর বলেন, “প্রচারে হামলার বিষয়ে কমিশনের কাছে বিএনপি অভিযোগ করেছে। কমিশন বিষয়টি শুনেছে এবং তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্যে রিটার্নিং অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” ধানের শীষের প্রার্থী তাবিথ অভিযোগ করেছেন, বেলা পৌনে ১২টার দিকে গাবতলীর পর্বতার কলাবাজার এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগে নামলে পুলিশের উপস্থিতিতে তার উপর হামলা হয়। হামলার জন্য ঢাকা উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ঠেলাগাড়ি প্রতীকের মুজিব সারোয়ার মাসুমের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করেছেন তাবিথ। গাবতলীতে মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারে হামলা চালায় একদল যুবক। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থক বলে বিএনপির অভিযোগ। গাবতলীতে মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারে হামলা চালায় একদল যুবক। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থক বলে বিএনপির অভিযোগ। এদিকে দারুস সালাম থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, “ওইখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। দুইপক্ষ মিছিল করার সময় হাল্কা ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে দুই পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” বিকাল ৪টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বেরোনোর সময় ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেছিলেন, “বিএনপি মেয়র প্রার্থীর প্রচারে হামলার বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি।” তাবিথ ইসিতে অভিযোগ দেবেন জানালেও নির্বাচন পরিচালনাকারী এই সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “তারা বলবেন, প্রমাণ আনেন, ফুটেজ আনেন। কিন্তু সব জমা দেওয়ার পরেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলেই পরিস্থিতি আবার অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে।” বেলা ১১টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম-৮ আসনে পুনর্নির্বাচন ও ঢাকার দুই ভাগে ইভিএম ব্যবহারের বন্ধের দাবি জানিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন তারা ঢাকায় তাদের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারে হামলার বিষয়টিও তুলে ধরেছিলেন। বিএনপির দাবির বিষয়ে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি প্রতিনিধিরা কিছু অভিযোগ করেছেন। কমিশন  ধৈর্যের সঙ্গে শুনেছে। কমিশন বলেছে, ভোটের গেজেট হয়ে গেলে তা কমিশনের হাতে থাকে না, এ বিষয়ে (চট্টগ্রাম উপনির্বাচন) আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।” ঢাকার দুই সিটির ভোট ইভিএমে করার সিদ্ধান্ত থেকেও ইসি পিছু হটছে না। আলমগীর বলেন, “ব্যালেটে ভোট হওয়ার সুযোগ নেই। ইভিএমের প্রতি কেন্দ্রে কারিগরি সহায়তার জন্য সেনাসদস্য থাকবে।” দুই সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে রাখা হবে না বলেও জানান তিনি।

দৌলতপুরে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির কর্মবিরতি

দৌলতপুর প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মচারীদের (গ্রেড ১৩-১৬) পদবী পরিবর্তন এবং বেতন গ্রেড উন্নতি করণের দাবিতে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের মত গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দৌলতপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মবিরতি পালন করা হয়। এসময় শিশির কুমার, জাহাঙ্গীর আলম সহ বাকাসস-এর অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইবিতে মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটায় ভর্তির ফল প্রকাশ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটায় ভর্তির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল ২১ জানুয়ারি দুপুরে ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র নিকট এ ফলাফলের তালিকা হ¯Íান্তর করেন মুক্তিযোদ্ধাদের পোষ্য নির্বাচনী উপ-কমিটি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের পোষ্য (পুত্র-কন্যা/নাতি-নাতনি) নির্বাচনী উপ-কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান, সদস্য-সচিব ড. মোঃ নওয়াব আলী খান, কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলী, প্রফেসর ড. মুহাঃ কামরুজ্জামান, ড. মোঃ রকিবুল ইসলাম, ড. মোঃ বখতিয়ার রহমান, ড. মুর্শিদ আলম, ড. মোঃ মুনতাসির রহমান, মোঃ ইয়াকুব আলী ও মৌসুমী আক্তার মৌ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সাঈদ খোকনও আমায় সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন – তাপস

ঢাকা অফিস \ ভোটের প্রচারে পুরান ঢাকায় গিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, নির্বাচনী বিধির কারণে বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকন সরাসরি প্রচারে নামতে না পারলেও তাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে গণসংযোগ শুরুর আগে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। সাঈদ খোকনের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন- এ প্রশ্নে তাপস বলেন, “তিনি এখনও মেয়র হিসেবে আছেন, সুতরাং আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে তার কাছে কোনো সহযোগিতা আমরা প্রত্যাশা করি না। তবে তিনি সব সময় আমাকে সমর্থন দিয়ে চলেছেন। “মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি হয়ত মনে একটু কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু দলগতভাবে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। সর্ব¯Íরের নেতা-কর্মীরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনের মাঠে থেকে গণসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।” ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে গতবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে মেয়র হয়েছিলেন সাঈদ খোকন। পুরান ঢাকার ছেলে সাঈদ খোকনের বাবা মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র। এবার সাঈদ খোকন প্রার্থী হতে চাইলেও মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। এরপর তাকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়। এবারের সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে যে দাবি বিএনপি নেতারা করছেন, তা নাকচ করেছেন নৌকার প্রার্থী তাপস। তিনি বলেন, “এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঢাকাবাসী তাদের যোগ্য, দক্ষ সেবক নির্বাচিত করবে। সেখানে আমরা লক্ষ্য করছি, প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী এই নির্বাচনকে ঢাকাবাসীর উন্নয়নের নির্বাচন হিসেবে নিচ্ছে না। তারা এই নির্বাচনকে তাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিচ্ছে, তাদের নেত্রীকে মুক্ত করার আন্দোলন হিসেবে নিচ্ছে। আমরা ঢাকাবাসীর সেবা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য নেমেছি।” ইভিএম নিয়ে বিএনপির অভিযোগ নিয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমি মনে করি, ঢাকাবাসী এটাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। এটা আধুনিক প্রযুক্তি। আমি এখন পর্যন্ত কারও কাছে শুনিনি এটার ব্যাপারে কোনো শঙ্কা প্রকাশ করতে।” মেয়র হলে ৫ ভাগে উন্নয়নের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা পুরান ঢাকাবাসীর কাছে তুলে ধরেন তাপস। “আমাদের ৫টি রূপরেখা- ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা,সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় উন্নত ঢাকা গড়ে তোলা।  এই নবযাত্রা ও নবসূচনায় আমি বিশ্বাস করি ঢাকাবাসী দল-মত নির্বিশেষে উন্নত ঢাকার পক্ষে রায় দেবেন।” যেখানে যেখানে গণসংযোগ করেছেন, সবখানে জনগণের বিপুল ও স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছেন বলে জানান ক্ষমতাসীন দলের এই প্রার্থী। “ঢাকাবাসী আমাদের উন্নয়নের রূপরেখা সাদরে গ্রহণ করেছে। অধীর আগ্রহে তারা অপেক্ষা করছে আগামী পহেলা ফেব্রæয়ারি নৌকা মার্কায় ভোট দিতে। উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যেই তারা তাদের এই রায় প্রদান করতে চায়।” তাপস ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিল প্রার্থী মো. সেলিম ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নাসিমা আহমেদকে পরিচয় করিয়ে দেন।  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সানজিদা খানম, সুত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী আবু সাঈদ এ সময় তাপসের সঙ্গে ছিলেন।

 

সংসদে  আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

পরপর চারজন এমপির মৃত্যু কষ্টকর

ঢাকা অফিস \ পরপর চারজন সংসদ সদস্যের মৃত্যুকে সংসদের জন্য একটা কষ্টকর বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে গতকাল মঙ্গলবার সংসদে উত্থাপিত শোক প্র¯Íাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা কষ্টকর। এবারের নির্বাচনের পর অনেক সদস্যদের আমরা হারিয়েছি। জানিনা এবার আমাদের সংসদের কি রকম একটা দুর্ভাগ্য যে পর পর আমাদের চারজন সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করলেন। “ডা. ইউনুস চলে গেলেন, ডা. মোজাম্মেল সাহেব মারা গেলেন, মান্নান এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার তিনদিন পর শুনলাম সে আর নেই। আবার আজকে সকালে ইসমাত আরা সাদেক এভাবে মারা গেলেন।” গত ২৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইউনূস আলী সরকার, ৯ জানুয়ারি রাতে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. মোজাম্মেল হোসেন এবং ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান মারা যান। আর মঙ্গলবার সকালে মারা যান সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেক। মারা যাওয়া সাংসদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ইসমাত আরা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উনাকে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দিতে চাইলে উনি তা পালনে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। পারবেন কীনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে আমি তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেই। অত্যন্ত গোছালোভাবে তিনি কাজ করতেন। প্রতিটি কাজ তিনি সুষ্ঠুভাবে সততা, নিষ্ঠার সাথে করতেন। উনার একাগ্রতা, সততা ছিল অসামান্য।” স¤প্রতি ইসমাত আরার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, “উনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে আমার সাথে দেখা করেন। তখন অসুস্থতার কথা বললেন, অনেকক্ষণ আলাপ আলোচনা হল। একটা অপারেশন করার কথা জানালেন। এ বয়সে অপারেশন করবেন কীনা তা চিন্তা করতেও বললাম। অসুস্থতার খোঁজ খবর নিলাম, বললাম ঘাবড়াবেন না, চিকিৎসা আধুনিক হয়ে গেছে। এটাও বললাম আমাদের সবার তো বয়স হয়ে গেছে আমাদের প্র¯Íুত থাকতে হবে। “জবাবে বললেন, আমি তো আপনার থেকে বড়। আমি বললাম মৃত্যু তো বয়স দেখে আসে না। যেকোনো সময়েই আসতে পারে। উনি চলে গেলেন, হাসপাতালে ভর্তি হলেন। পরে শুনলাম উনি স্ট্রোক করেছেন, অবস্থা ভালো না। অপারেশন পর্যন্ত উনাকে নেওয়াই গেল না।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মৃত্যু এভাবেই আসে। তবে উনাকে ভুগতে হল না, কষ্ট করতে হল না। এটাই হচ্ছে বড় কথা।” এলাকার উন্নয়নে ইসমাত আরা সাদেক অনেক কাজ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। নির্বাচনী এলাকা কেশবপুর আলোকিত করেছেন। অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। হঠাৎ করে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন তা ভাবতে পারিনি।” সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর আনা শোক প্র¯Íাবের ওপর তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, উপাধক্ষ্য আব্দুস শহীদ, কাজী নাবিল আহমেদ, ওয়াসিকা আয়শা খানম, আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশা ও জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বেশ কয়েকজন আলোচনা করেন। সর্বসম্মতক্রমে শোকপ্র¯Íাব গ্রহণের পর রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন মুলতবি করেন স্পিকার। এর আগে ইসমাত আরা সাদেকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়।