প্রথম সিনেমার প্রযোজককে শ্রদ্ধায় বিদায় দিলেন সাইমন

বিনোদন বাজার \ দেশের সিনেমার ইতিহাসে ব্যবসাসফল শীর্ষ সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোসনা’। এ ছবির দুইজন প্রযোজকের একজন আব্বাস উলøাহ শিকদার শনিবার (১৮ জানুয়ারি) তার নিজ ভবনে মৃত্যুবরণ করেন। রোববার (১৯ জানুয়ারি) বাদ যোহর রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যান বাড়িতে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে তাকে।

এই প্রযোজককে শেষ বিদায় জানাতে জানাজায় শরিক হয়েছিলেন চিত্রনায়ক সাইমন। নায়কের প্রথম ছবি ‘জ্বি হুজুর’র প্রযোজক ছিলেন আব্বাস উলøাহ। সাইমনের সঙ্গে তার সম্পর্কটা ছিলো পিতা-পুত্রের মতো। সেই প্রিয় মানু্ষরে মৃত্যুতে শোকাহত তিনি।

শোকাহত পুরো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। তবে সিনেমার খুব বেশি মানুষ কিংবা কোনো সংগঠনকেই দেখা গেল না ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সিনেমা উপহার দেয়া প্রযোজককে শেষশ্রদ্ধা জানাতে। অল্প যে ক’জন জানাজা ও দাফনকার্যে উপস্থিত ছিলেন তাদের একজন সাইমন।

দাফন শেষে আব্বাস উলøাহ শিকদারকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন ‘জান্নাকত’খ্যাত এ নায়ক। তিনি বলেন, ‘খুব মনে পড়ছে ওই দিনটির কথা। যেদিন আমি প্রথম ক্যামেরর সামনে দাঁড়ালাম। জাকির হোসেন রাজু স্যার শুটিং করছেন। পাশে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক আব্বাস উলøাহ। প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি, ভয় পাচ্ছি, আমার টেক ওকে হচ্ছে না। এক সময় বিরক্ত হয়ে আমাকে ছবি থেকে বাদ দিয়ে দিতে বললেন প্রযোজক। জাকির হোসেন রাজু স্যার বললেন আর একটু চেষ্টা করে দেখি। আমার খুব মন খারাপ হয়েছিলো।

দ্বিতীয় দিনের শুটিং শুরু হলো। আমাকে সারাদিন তিনি বসিয়ে রাখলেন। একসময় ডাকলেন শুটিং হবে। গেলাম। দেখলাম উনার সঙ্গেই আমার দৃশ্য। প্রযোজক হলেও আব্বাস উলøাহ সাহেব একজন অভিনেতাও ছিলেন। ‘জ্বি হুজুর’ ছবিতে তিনি আমার বাবার বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

ভয়ে ছিলাম। আবার একটা জেদও কাজ করছিলো। উনি আমাকে পছন্দ করছেন না। ভালো অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ নিলাম। খুব ইমোশনাল একটি দৃশ্য ছিলো। ভালো হলো সেটি। শুটিং শেষে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। মনে পড়ে, তিনি বলছিলেন, ‘তুই কী মনে করেছিস তোকে সত্যিই বাদ দিতে চেয়েছিলাম। আজকের দৃশ্যটার জন্যই গতকাল তোর সঙ্গে খারাপ ব্যাবহার করেছি। ভালো করেছিস। এভাবে জেদ নিয়ে কাজ করবি।’

এ নায়ক বলেন, ‘সেই জেদ অনেক কাজে দিয়েছিলো। এখনো অনেক সময় উনার কথাটা আমার মনে পড়ে। এমনই একজন অনুপ্রেরণার মানুষ ছিলেন। খুব বেশি মেশার সুযোগ পাইনি। যতটুকু মিশেছি বুঝতাম আমাকে অনেক ভালোবাসেন। একজন রুচিশীল মানুষ। রুচিশীল প্রযোজক। তাকে হারিয়ে ফেলা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি।’

‘দুঃখের বিষয় হলো ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ছবিসহ অসংখ্য সুপারহিট ও ভালো মানের সিনেমার এই প্রযোজকের শেষ বিদায়ে সিনেমার মানুষদের দেখা যায়নি। শ্রদ্ধেয় আলমগীর স্যার এসেছেন বলে শুনেছি। এছাড়া আর তেমন কাউকে দেখিনি।’

প্রসঙ্গত, আব্বাস উলøাহর মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। আব্বাস উলøাহ স্ত্রী-সন্তানসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন দেশীয় সিনেমার অন্যতম সফল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলা চলচ্চিত্রের একজন কর্ণধার। মতিউর রহমান পানুর সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।

আনন্দমেলা চলচ্চিত্রের ব্যানারে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘পাগল মন’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘মোলøাবাড়ির বউ’, ‘জ্বী হুজুর’সহ অনেক দর্শকপ্রিয় সিনেমা নির্মিত হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রযোজনার পাশাপাশি অসংখ্য চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয়ও করেছেন। পরিচালনাও করেছেন তিনি। গুণী এই মানুষটি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন, কিন্তু বেঁচে থাকবে তার রেখে যাওয়া কাজ।

প্রোটিয়াদের গুঁড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ জয়ের মঞ্চ ছিল প্র¯Íুত। একমাত্র বাধা হয়ে ছিলেন কেশভ মহারাজ। তার প্রতিরোধ ভেঙে পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। সেন্ট জর্জেস পার্কে সোমবার ইনিংস ও ৫৩ রানে জিতেছে জো রুটের দল। দেশের বাইরে ২০১১ সালের পর এই প্রথম ইনিংস ব্যবধানে জিতল ইংল্যান্ড। চার ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে ২-১ ব্যবধানে। সফরকারীদের আবার ব্যাটিংয়ে পাঠাতে পঞ্চম ও শেষ দিনে আরও ১৮৮ রান করতে হতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। সেই সুযোগ দেননি ইংলিশ বোলাররা। প্রথম সেশনেই প্রোটিয়াদের গুটিয়ে জয়োল্লাসে মেতে ওঠে ইংলিশরা। দিনের প্রথম ঘণ্টায় বিদায় নেন ভারনন ফিল্যান্ডার, কাগিসো রাবাদা ও আনরিক নরকিয়া। এরপর বাড়ে অপেক্ষা। শেষ উইকেটে ড্যান প্যাটারসনকে নিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়েন আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান মহারাজ। দুজনে ১২ ওভারে যোগ করেন ৯৯ রান। ইনিংসে আর কোনো জুটি ৩০ পেরোয়নি। বোলারদের সব প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ, তখন সরাসরি থ্রোয়ে মহারাজকে রান আউট করে দেন স্যাম কারান। ২৩৭ রানে শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। ১০৬ বলে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ৭১ রান করে ফেরেন মহারাজ। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট ফিফটির পথে দারুণ এক কীর্তি গড়েন মহারাজ। রুটের এক ওভারে চার বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় নেন ২৮ রান; টেস্ট ক্রিকেটে যা এক ওভারে সর্বোচ্চ রান। স্পর্শ করেন ব্রায়ান লারা ও জর্জ বেইলির রেকর্ড। ২০০৩-০৪ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকান রবিন পিটারসনের এক ওভারে ২৮ রান নিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি। আর অস্ট্রেলিয়ার বেইলি ২০১৩-১৪ মৌসুমে পার্থ টেস্টে ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসনের ওভারে ২৮ রান নিয়ে স্পর্শ করেছিলেন লারাকে। অভিষেক টেস্টে প্যাটারসন অপরাজিত থাকেন ৪০ বলে ৬ চারে ৩৯ রানে। সেঞ্চুরির পর দুই ইনিংসে ছয়টি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন পোপ। ইংল্যান্ডের হয়ে এক টেস্টে যা সর্বোচ্চ ক্যাচের যৌথ রেকর্ড। নতুন কোচ মার্ক বাউচারসহ কোচিং স্টাফ ও পরিচালনা পরিষদে এক ঝাঁক সাবেক তারকা খেলোয়াড়দের হাত ধরে প্রথম টেস্ট জিতে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেছিল ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু টানা দুই পরাজয়ে আবারও জাগছে পুরনো শঙ্কা। সিরিজ বাঁচাতে আগামী শুক্রবার জোহানেসবার্গে শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে ফাফ দু পে¬সির দল। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৯৯/৯ ইনিংস ঘোষণা

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ২০৯ দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: (ফলোঅন) ৮৮.৫ ওভারে ২৩৭ (আগের দিন ১০২/৬) (মালান ১২, এলগার ১৫, হামজা ২, দু প্লেসি ৩৬, ফন ডার ডাসেন ১০, ডি কক ৩, ফিল্যান্ডার ১৩, মহারাজ ৭১, রাবাদা ১৬, নরকিয়া ৫, প্যাটারসন ৩৯; ব্রড ১০-৫-১৪-১, কারান ৬-০-৪৬-০, উড ১৬.৫-৬-৩২-৩, বেস ২২-১১-৩৬-১, স্টোকস ৫-২-৯-০, রুট ২৯-১৩-৮৭-৪) ফল: ইংল্যান্ড ইনিংস ও ৫৩ রানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: অলি পোপ সিরিজ: চার ম্যাচ সিরিজে ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে

 

ওভারে ২৮ রান, লারা-বেইলির রেকর্ডে মহারাজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ ব্রায়ান লারা আর কেশভ মহারাজকে এমনিতে এক বন্ধনীতে রাখা মুশকিল। একজন সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, আরেকজন বাঁহাতি স্পিনার, যিনি টুকটাক ব্যাটিং পারেন। অথচ ব্যাটিংয়ের একটি বিশ্বরেকর্ডে এই দুইজনের নাম এখন পাশাপাশি! টেস্টে এক ওভারে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডে লারা ও জর্জ বেইলির সঙ্গে নাম লিখিয়েছেন মহারাজও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যাওয়া পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টের শেষ সময়ে সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে খানিকটা বিনোদনের উপলক্ষ্য এনে দেন মহারাজ। ইংলিশ অধিনায়ক জো রুটের ওভারে পরপর তিন বলে মারেন বাউন্ডারি, পরের দুই বলে ছক্কা। ওভারের শেষ বলটিতে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি মহারাজ, তবে গ¬াভসে জমাতে পারেননি কিপার জস বাটলারও। বাই থেকে আসে আরও চার, ওভার থেকে আসে মোট ২৮ রান! তাতেই মহারাজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাম উঠে যায় রেকর্ড বইয়ে। যে পাতায় আগে থেকেই জ্বলজ্বল করছে লারা ও বেইলির নাম। ওই দুজনের সৌজন্যেও এক ওভার থেকে এসেছিল ২৮ রান। দুজনের কারও ক্ষেত্রে ছিল না অন্য কোনো ব্যাটসম্যান কিংবা অতিরিক্ত রানের অবদান। ২০০৩ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি স্পিনার রবিন পিটারসনের এক ওভারে চারটি চার ও দুই ছক্কায় ২৮ নিয়েছিলেন লারা। পরে ২০১৩-১৪ অ্যাশেজের পার্থ টেস্টে লারাকে স্পর্শ করেন বেইলি। জিমি অ্যান্ডারসনের ওভারে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ছক্কা মেরেছিলেন তিনটি, চার দুটি। আর এক বলে এসেছিল দুই রান। রেকর্ডের দুইয়ে আছেন শহিদ আফ্রিদি ও পাকি¯Íান। ২০০৬ সালে লাহোরে ভারতের হরভজন সিংয়ের ওভারে প্রথম চার বলেই ছক্কা মেরেছিলেন আফ্রিদি। লারার রেকর্ড তখন ছিল প্রবল হুমকিতে। ওভারের পঞ্চম বলে আফ্রিদি নিতে পেরেছিলেন ২ রান, শেষ বলে কেবল সিঙ্গেল। ওভার থেকে আসে ২৭ রান। টিকে যায় লারার রেকর্ড।

এবার সহকারী পুলিশ কমিশনার হচ্ছেন এবিএম সুমন

বিনোদন বাজার \ ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমায় পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় বেশ প্রশংশিত হয়েছিলেন এবিএম সুমন। স¤প্রতি তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সৌরভ কুন্ডুর ‘গিরগিটি’ সিনেমায়। মজার ব্যাপার হলো আবারও পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাকে। এবার এই তিনি সহকারী পুলিশ কমিশনারের চরিত্রে অভিনয় করবেন। তাকে।

জানা গেছে, সোমবার মানিকগঞ্জে ‘গিরগিটি’র শুটিং শুরু হবে। প্রথম দিন থেকেই অংশ নিচ্ছেন এই অভিনেতা।

এবিএম সুমন বলেন, ‘অভিনয়টা সব সময় মন থেকেই করার চেষ্টা করি। সৌরভ কুন্ডু ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার সহকারী পরিচালক ছিলেন। তখন থেকেই তার সঙ্গে আমার ভালো পরিচয়। এই ছবির গল্প শুনেই আমার ভালো লেগেছে। তাই এতে কাজ করতে আমি আগ্রহী হয়েছি। আশা করছি আমরা ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো।’

সৌরভ কুন্ডু বলেন, ‘সুমন ভাই যে চরিত্রটি করছেন, সে চরিত্রে তিনি ছাড়া আমি আর কাউকে ভাবতে পারিনি। আমি গল্প শোনানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি কাজ করতে রাজি হয়ে গেলেন। সেজন্য সুমন ভাইকে ধন্যবাদ।’

সুমন ছাড়াও ‘গিরগিটি’তে অভিনয় করছেন তাসকিন রহমান, শতাব্দী ওয়াদুদ, দীপু ইমাম, মিলি বাসার, হামিদুর রহমান ও খালেকুজ্জান। সিনেমাটির কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন শাহজাহান সৌরভ।

স¤প্রতি এই সিনেমার টাইটেল সং করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে দেশের জনপ্রিয় হার্ড রক ব্যান্ড ওয়ারফেইজ। এবারই প্রথম ব্যান্ডটি সিনেমার গান করছে।

জন্মদিনে সৌমিত্রের চমক

বিনোদন বাজার \ বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। জাদরেল এই অভিনয় শিল্পী জীবনের ৮৫টি বসন্ত কাটিয়ে দিয়েছেন সাফল্যের মুগ্ধতায়। রোববার, ১৯ জানুয়ারি তিনি পা রাখেন ৮৬ বছরে। ৬০ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রায় তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এখনো করে চলেছেন নিয়মিতভাবে। সর্বশেষ ‘বেলাশেষে’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অনুরাগীদের।
বর্তমানে ‘বেলাশুরু’ সিনেমা নিয়ে ব্য¯Í সময় পার করছেন সৌমিত্র। রোববার তার জন্মদিনেই প্রকাশ হয়েছে বেলাশুরু সিনেমার ফার্স্ট লুক। এল শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের এই সিনেমার ফার্স্ট লুকে দেখা যাচ্ছে স্বাতীলেখা সেনগুপ্তের চুল আঁচড়ে দিচ্ছেন সৌমিত্র।
২০১৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের ছবি ‘বেলাশেষে’। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘ঘরে বাইরে’ সিনেমার ৩০ বছর পরে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আর স্বাতীলেখা সেনগুপ্তর কিংবদন্তি জুটি ফিরেছিলেন পর্দায়। ছবিটি যে শুধুমাত্র সমালোচকদের তারিফ পেয়েছিল তা নয়, বক্সঅফিসেও সাফল্য পেয়েছিল। খোদ অমিতাভ বচ্চন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা করেছিলেন ছবিটির। এবার এই জুটির ‘বেলা শুরু’ দেখবেন দর্শক। প্রশংসায় ভাসছে ছবিটির ফার্স্ট লুক। এ যেনো সৌমিত্রের জন্মদিনের বিশেষ চমক।
উপমহাদেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায়ের ‘অপুর সংসার’ ছবিতে অভিনয় করে ১৯৫৮ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের। এরপর সত্যজিতের ১৪টি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন তিনি। তপন সিনহার ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘ঝিন্দের বন্দী’, অসিত সেনের ‘স্বয়ংম্ভরা’, পাশাপাশি মৃণাল সেনের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘আকাশকুসুম’, ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘অসুখ’ ছবিতে নানা ধরনের চরিত্রে সৌমিত্র অনায়াস বিচরণ করেছেন।
১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি কবি ও নাট্যকার দ্বীজেন্দ্রলাল রায়ের শহর নদীয়ার কৃষ্ণনগরে সৌমিত্রের জন্ম। নাট্যচর্চার এই তীর্থক্ষেত্রেই গড়ে উঠেছিল তার নাটক করার মানসিকতা। ছাত্রজীবনেই নাটকে অভিনয় শুরু। কলেজ জীবনে অহীন্দ্র চৌধুরী ও পরবর্তী সময়ে নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ির সান্নিধ্যে এসে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেয়ার ব্যাপারে সৌমিত্র মনস্থির করে নিয়েছিলেন।
তবে প্রথমে আকাশবাণীতে কিছুদিনের জন্য ঘোষক হিসেবে কাজ করেছিলেন এই বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী অভিনেতা। নায়ক হিসেবে তিনি তার সমসাময়িক সব নায়িকার বিপরীতেই সাফল্য পেয়েছেন। তেমন করে তাই কারো সঙ্গে জুটি গড়ে উঠেনি। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘দত্তা’ ছবিতে সৌমিত্র হয়ে উঠেছিলেন অনন্য এক অভিনেতা। তেমনি করে সাবিত্রি, সুপ্রিয়া, অপর্ণারাও সৌমিত্রের সঙ্গে মিশেছেন অবলীলায়।

লাভজনক হওয়ায় অনেকেই পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন হাঁস চাষ

কৃষি প্রতিবেদক \ আমাদের দেশের আবহাওয়া হাঁস পালনে খুবই উপযোগী। সমস্যা হচ্ছে হাঁসের মাংস ও ডিম মুরগির মাংসের চেয়ে জনপ্রিয় কম। তবে বর্তমানে এটি অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এখন হাঁস চাষ লাভজনক একটি প্রযুক্তি। অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে হাঁস চাষে এগিয়ে আসছেন এবং প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন হাঁস চাষ। মৎস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে, পুকুরে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে খুব সহজে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। হাঁস চাষে অনেক সুবিধা রয়েছে যেমন- মাছের জন্য পুকুরে তেমন বাড়তি সার ও খাদ্য দিতে হয় না । হাঁস থাকলে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। হাঁস পালনে সুবিধা ঃ হাঁসের রোগবালাই তুলনামুলক খুবই কম। তাছাড়া খাবারের তেমন অভাব হয় না। দেশি মুরগি যেখানে গড়ে বছরে ৫৫টি ডিম দেয়, দেশি হাঁস সেখানে ৯০টির বেশি ডিম দিয়ে থাকে। আর উন্নত জাত হলে বছরে ২৫০-৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে। যেভাবে শুরু করতে পারেন ঃ এ প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে চাইলে আপনার ৪০-৫০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুর লাগবে। ১০০-২০০টি হাঁস এবং হাঁসের ঘর তৈরি করে নিতে হবে। এসব পরিকল্পিতভাবে করলে ভালো হবে। পাহারাদারের ঘরটি হাঁসের ঘরের দক্ষিণ পাশে হলে ভালো হয়। উন্নত হাঁসের জাত ঃ হাঁসের জাত নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যে জাতের হাঁস বেশি ডিম দেয় সে জাতের হাঁস নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে খাকি ক্যাম্পেবেল, ইন্ডিয়ান রানার, সিলেট মিটি ও নাগেশ্বরী জাত নির্বাচন করা যেতে পারে। এ জাতের হাঁস ৫ মাস বয়স থেকে ২ বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। যেভাবে হাঁস পালন করবেন ঃ হাঁস বিভিন্ন পদ্ধতিতে পালন করা যায়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মুক্ত জলাশয়ে হাঁস পালন। এ পদ্ধতিতে ২৫-১০০টি হাঁস মুক্ত পুকুরে, লেকে অথবা ধান কাটার পর পরিত্যক্ত জমিতে পালন করা যায়। অপরটি হচ্ছে ইনটেনসিভ হাঁস পালন। এ পদ্ধতিতে ১-১০ লাখ হাঁস পালন করা সম্ভব। দিনের বেলায় হাঁস পানিতে থাকতে পছন্দ করে। শুধু রাতযাপনের জন্য ঘরের প্রয়োজন। হাঁসের ঘর তৈরি ঃ পুকুরপাড়ে কিংবা পুকুরের ওপর ঘরটি তৈরি করতে হবে। ঘরের উচ্চতা ৫-৬ ফুট হলে ভালো হয়। ঘর তৈরিতে বাঁশ, বেত, টিন, ছন, খড় ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ইট দিয়ে মজবুত করে ঘর তৈরি করতে পারলে ভালো হবে। ঘরটি খোলামেলা হতে হবে এবং সাপ ও ইঁদুর থেকে মুক্ত রাখতে হবে। শহরে বিভিন্ন মাপের চৌবাচ্চায় হাঁস পালন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশস্ত ছাদ থাকলে সুবিধা বেশি। ছাদের একপাশে ঘর অপর পাশে চৌবাচ্চা নির্মাণ করতে হবে। প্রজননের জন্য আটটি হাঁসের সঙ্গে একটি পুরুষ হাঁস রাখা দরকার। এরপর দেশি মুরগির সাহায্যে অথবা ইনকিউবেটরে হাঁসের ডিম ফোটানো যায়। কোথায় পাবেন হাঁসের বাচ্চা ঃ দৌলতপুর হাঁস খামার, নারায়ণগঞ্জ হাস প্রজনন কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত হাঁস-মুরগির খামার ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাঁস বা হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করতে পারেন। হাঁসের খাদ্য ঃ হাঁস চাষে সুবিধা হলো হাঁস খাল-বিল-পুকুর থেকে তার কিছু খাবার সংগ্রহ করে নেয়। তাছাড়া বাজারে হাঁসের তৈরি খাবার কিনতে পাওয়া যায়। শুকনো খাদ্য না দিয়ে হাঁসকে সবসময় ভেজা খাদ্য দেয়া উচিত। খাদ্যে আমিষের পরিমাণ ডিম দেয়া হাঁসের ক্ষেত্রে ১৭-১৮ শতাংশ ও বাচ্চা হাঁসের ক্ষেত্রে ২১ শতাংশ রাখা উচিত। হাঁস দানা, খইল, ভূষি, ঝিনুকের গুঁড়ো, ডিমের খোসা, কেঁচোসহ অন্যান্য খাবার বেশি পছন্দ করে। মাছের পুকুরেও হাঁস পালন ঃ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাছের পুকুরে হাঁস পালন করলে কৃষকরা বেশি লাভবান হন। এ চাষে হাঁস বেশি প্রোটিন পায়। মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সম্ভাব্য আয়-ব্যয় ঃ ২০-৪০ শতাংশের একটি পুকুরে ১০০-২০০টি হাঁসের জন্য এ প্রকল্প শুরু করলে সব মিলে খরচ হবে ৫০-৬০ হাজার টাকা। সঠিক পরিচর্যা আর যতœ নিতে পারলে প্রথম বছরে যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে ২০-৫০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। রোগমুক্ত, উন্নত জাতের হাঁস আধুনিক পদ্ধতি ও সঠিক নিয়ম অনুযায়ী চাষ করুন।

মেসির গোলে শীর্ষে ফিরল বার্সা

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ ম্যাচ জুড়ে একচেটিয়া চাপ ধরে রেখেও গোলের জন্য ভীষণ ভুগতে হলো বার্সেলোনাকে। শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির গোলে প্রত্যাশিত জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে ফিরেছে কাতালান ক্লাবটি। কাম্প নউয়ে রোববার রাতে লা লিগায় গ্রানাদাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা মেসি দ্বিতীয়ার্ধে একমাত্র গোলটি করেন। গত সেপ্টেম্বরে লিগে প্রথম দেখায় গ্রানাদার মাঠে হতশ্রী পারফরম্যান্সে ২-০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। এবার গোল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও ম্যাচে শিরোপাধারীদের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় অসাধারণ। ৮৩ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয় তারা। তাই স্কোরলাইনে ব্যবধানটা বড় না হলেও নতুন কোচ কিকে সেতিয়েনের অধীনে দলটির শুরুটা যে দারুণ আশাব্যঞ্জক হলো, তা বলাই যায়। বার্সেলোনা এগিয়ে যেতে পারতো ষষ্ঠ মিনিটে। কিন্তু অরক্ষিত আনসু ফাতির কোনাকুনি শট রুখে দেন গোলরক্ষক। ২১তম মিনিটে আরেকটি দারুণ সুযোগ পেলেও বলে পা লাগাতে পারেননি তরুণ এই ফরোয়ার্ড। এই দুই সুযোগ নষ্টের মাঝে আরেকবার হতাশ হতে হয় বার্সেলোনাকে। মেসির বাঁকানো ফ্রি-কিকে বল ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে চলে যায়। দারুণ গোছালো আক্রমণে ৪৫তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। কিন্তু তার শট পোস্ট ঘেঁষে পাশের জাল কাঁপায়। দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে প্রতিপক্ষের রক্ষণে একচেটিয়া চাপ ধরে রাখে বার্সেলোনা। কিন্তু আক্রমণের শেষভাগে বারবার গুলিয়ে ফেলছিল শিরোপাধারীরা। খেলার ধারার বিপরীতে ৬৬তম মিনিটে গোল খেতে বসেছিল তারা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ইয়ান এতেকির নিচু শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও পোস্টে বাধা পায়। তিন মিনিট পর বড় ধাক্কা খায় গ্রানাদা। মেসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সানচেস। এক জন কম নিয়ে প্রতিপক্ষকে আর আটকে রাখতে পারেনি তারা। দুর্দান্ত গোছালো আক্রমণে ৭৬তম মিনিটে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। অঁতোয়ান গ্রিজমানকে বল বাড়িয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। গ্রিজমানের পাস পেয়ে ব্যাকহিল করেন আর্তুরো ভিদাল। প্রথম ছোঁয়ায় ডান পায়ের শটে ঠিকানা খুঁজে নেন রেকর্ড ছয়বারের বর্ষসেরা ফুটবলার। এবারের লা লিগায় মেসির মোট গোল হলো সর্বোচ্চ ১৪টি। সব প্রতিযোগিতা মিলে মৌসুমে ১৭টি। ৮৪তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতেন গ্রিজমান। কিন্তু পাশের জালে মেরে হতাশ করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ২০ ম্যাচে ১৩ জয় ও চার ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট হলো ৪৩। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ।  তিন নম্বরে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ৩৫।

সিনেমার জন্য নিজেকে তৈরী করছেন রোমানা স্বর্ণা

বিনোদন বাজার \ নাটক, টেলিফিল্ম, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন নিয়ে ব্য¯Í সময় পার করছেন রোমানা স্বর্ণা। স¤প্রতি ‘কেএনবি ফিডের’ নতুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ শেষ করেছেন।

গত বছরের শেষের দিকে দুটো স্বল্পদৈর্ঘ্যে অভিনয় করেন রোমানা স্বর্ণা। মাবরূর রশিদ বান্নাহ পরিচালিত ‘পয়েন্ট অব ভিউ’ এবং এস এম মনিরের ‘পুরুষ পতিতা’।

‘পয়েন্ট অব ভিউ’ স্বল্পদৈর্ঘ্যে অসম প্রেম দেখানো হয়েছে। প্রেমের মাধ্যমে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা জয় করা সম্ভব এমন বক্তব্য উঠে এসেছে স্বল্পদৈর্ঘ্যে। বিগবি এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ‘পয়েন্ট অব ভিউ’ অবমুক্ত করা হয়। অন্যদিকে ‘পুরুষ পতিতা’ স্বল্পদৈর্ঘ্যে তুলে ধরা হয়েছে সমাজের একটি অন্ধকার দিক। ছেলেরাও যে পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং জীবন ঝুঁকিতে ফেলে দেয় সে চিত্র দেখা যায় এ স্বল্পদৈর্ঘ্যে। এফএইচ মাল্টিমিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে স্বল্পদৈর্ঘ্যটি প্রকাশ করা হয় গত বছরের ১৪ নভেম্বর। রোমানা স্বর্ণা বর্তমানে কয়েকটি ধারাবাহিক ও খন্ড নাটকে অভিনয় নিয়ে ব্য¯Í আছেন। কয়েকটি ওয়েব সিরিজেও দেখা যাবে তাকে। এছাড়াও গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে রোমানা স্বর্ণার নতুন ধারাবাহিক ‘ইষ্টিকুটুম’। একুশে টেলিভিশনে শনি থেকে সোম প্রতিদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হবে।ধারাবাহিক নাটকটিতে আরো অভিনয় করেছেন তৌকির আহমেদ, নাজিরা মৌ, হুমায়রা হিমু, ডা: এজাজ, প্রাণ রায় প্রমুখ।

বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্য¯Í সময় পার করছেন রোমানা স্বর্ণা। তবে এত সব ব্য¯Íতার মাঝেও নিজেকে তৈরী করছেন সিনেমার জন্য।

সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু ভালো গল্পে, চরিত্রে টেলিভিশন নাটক, স্বল্পদৈর্ঘ্যতে অভিনয় করছি, তাই যেনোতেনো সিনেমায় কাজ করে দর্শকদের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হতে চাই না। সিনেমায় কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরী করছি। ভালো স্ক্রিপ্ট পেলে কাজ করবো।

সুইজারল্যান্ডে মুক্তি পাচ্ছে ‘কাঠবিড়ালী’

বিনোদন বাজার \ সুইজারল্যান্ডে মুক্তি পাচ্ছে ‘কাঠবিড়ালী’। নিয়ামুল মুক্তা পরিচালিত সিনেমা ‘কাঠবিড়ালী’ গত ১৭ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে। দেশের ১৮টি হলে প্রদর্শিত হচ্ছে সিনেমাটি। আর মুক্তির পরই পেয়েছে দর্শকের অকুণ্ঠ প্রশংসা। সে ধারাবাহিকতায় এবার দেশের বাইরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ছবিটি।

প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ফরহাদ শাহী জানান, দেশের গÐি পেরিয়ে এবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ‘কাঠবিড়ালী’ সিনেমার দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৫ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রæয়ারি জুরিখের বাংলা স্কুলের হলরুমে ছবিটি প্রদর্শিত হবে।

পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা বলেন, “আমাদের স্বপ্নের ছবি ‘কাঠবিড়ালী’। মুক্তির প্রথম দুই দিনে দর্শক সিনেমাটির প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় এবার সুইজারল্যান্ডের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ‘কাঠবিড়ালী’ মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।”

তাসনিমুল তাজের চিত্রনাট্য এবং নিয়ামুল মুক্তার রচনা ও পরিচালনায় ২০১৭ সালের ২ মার্চ শুরু হয় ‘কাঠবিড়ালী’ চলচ্চিত্রের শুটিং। নানা ধাপে টানা দুই বছর চিত্রায়ণের পর মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এতে অর্চিতা স্পর্শিয়ার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান আবীর ও সাইদ জামান শাওন। আরও অভিনয় করেছেন শাহরিয়ার ফেরদৌস, শিল্পী সরকার, হিন্দোল রায়, এ কে আজাদ, তানজিনা রহমান।

সিমন্সের ছক্কা ঝড়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়দের জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ ওপেনার লেন্ডল সিমন্সের ব্যাটিং তাÐবে আইরিশদের গুঁড়িয়ে সমতায় সিরিজ শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রান উৎসবের প্রথম ম্যাচে আইরিশরা পেয়েছিল নাটকীয় জয়, দ্বিতীয় ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। শেষটি জিতে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা সিরিজ শেষ করল ড্রয়ের স্ব¯িÍতে। বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে সেন্ট কিটসের এই ম্যাচে কাইরন পোলার্ড ও ডোয়াইন ব্রাভোর দারুণ বোলিংয়ে আয়ারল্যান্ড গুটিয়ে যায় ১৩৮ রানে। রান তাড়ায় ক্যারিবিয়ানরা জিতে যায় ১১ ওভারেই। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ৪০ বলে ৯১ রানে অপরাজিত থেকে যান সিমন্স। তার ইনিংসে চার ছিল ৫টি, ছক্কা ১০টি! অথচ ম্যাচের শুরুটা আয়ারল্যান্ডের ছিল উড়ন্ত। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দল ৩.২ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে তুলে ফেলে ৫০ রান! মূলত কেভিন ও’ব্রায়েনের সৌজন্যেই রান এসেছে দ্রুতগতিতে। তাকে ফিরিয়েই দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেন পোলার্ড। ১৮ বলে ৩৬ রান করে ফেরেন ও’ব্রায়েন। পরের ওভারেই ব্রাভো ফেরান আরেক ওপেনার পল স্টার্লিংকে। সেই যে দিশা হারাল আইরিশ ব্যাটিং, আর কোনো ব্যাটসম্যান পারেননি দলকে পথে ফেরাতে। তিনে নেমে অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবার্নি রান আউট হয়ে গেছেন ২৩ বলে ২৮ করে। মিডল অর্ডারে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি কেউ। নয়ে নেমে ব্যারি ম্যাককার্থি করেছেন অপরাজিত ১৮। আগের ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের পর পোলার্ড এই ম্যাচেও নিয়েছেন ২৫ রানে ৩ উইকেট। ১৯ রানে ৩টি নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের সেরা বোলার ব্রাভো। এই পুঁজিতে ক্যারিবিয়ানদের সামান্যতম চ্যালেঞ্জ জানাতেও পারেনি আইরিশরা। সিমন্স ও এভিন লুইসের উদ্বোধনী জুটিতেই ম্যাচ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। শুরুর জুটিতেই দুজন ১৩৩ রান তোলেন কেবল ৬৪ বলে! ২৫ বলে ৪৬ করে লুইস আউট হয়ে যান দলকে জয়ের দুয়ারে রেখে। সিমন্স শেষ করে আসেন কাজ। ২৮ বলে স্পর্শ করেছিলেন ফিফটি। এরপর ছক্কার জোয়ারে ভাসিয়ে দেন তিনি আইরিশ বোলিংকে। ম্যাচের সেরা সিমন্সই। সিরিজের সেরা ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক পোলার্ড। তবে ব্যাটিংয়ে নয়, দারুণ বোলিং দিয়ে। শেষ দুই ম্যাচেই নিয়েছেন ৭ উইকেট। সংক্ষিপ্ত স্কোর: আয়ারল্যান্ড: ১৯.১ ওভারে ১৩৮ (স্টার্লিং ১১, ও’ব্রায়েন ৩৬, বালবার্নি ২৮, ডেলানি ৬, টেক্টর ১, উইলসন ৭, অ্যাডায়ার ৬, সিমি ৫, ম্যাককার্থি ১৮*, ইয়াং ৮, লিটল ৫; কটরেল ৪-০-৩৩-০, শেফার্ড ৪-০-৩৭-১, পোলার্ড ৪-০-১৭-৩, ব্রাভো ৩.১-০-১৯-৩, ওয়ালশ ১-০-৬-০, রাদারফোর্ড ৩-০-২১-১)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১১ ওভারে ১৪০/১ (সিমন্স ৯১*, লুইস ৪৬, পুরান ১*; স্টার্লিং ১-০-১-০, ম্যাককার্থি ২-০-৩৫-০, সিমি ৩-০-৪১-১, লিটল ২-০-২৫-০, অ্যাডায়ার ২-০-২২-০, ইয়াং ১-০-১৬-০ )। ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে জয়ী সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ ড্র ম্যান অব দা ম্যাচ: লেন্ডল সিমন্স ম্যান অব দা সিরিজ: কাইরন পোলার্ড

এন্ড্রু কিশোরের চিকিতসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিনোদন বাজার \ ক্যান্সারে আক্রান্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসায় পূর্ণ সহায়তা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর বর্তমানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

আশরাফুল আলম খোকন জানান, শিল্পীর চিকিৎসার পুরো বিষয়টি তদারকির জন্য ইতোমধ্যে (রোববার দুপুরে) সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ দূতাবাসকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করছেন।

ফেব্রæয়ারি মাসের শেষদিকে চিকিৎসা শেষ করে এন্ড্রু কিশোরের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফেব্রæয়ারিতে দেশে ফেরা হচ্ছে না তার। চিকিৎসকরা জানান, এন্ড্রু কিশোরকে ছয়টি সাইকেলে ২৪টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। ইতোমধ্যে ৪টি সাইকেলে তার ১৭টি কেমো সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্চম সাইকেলের দ্বিতীয় কেমোথেরাপি চলছে। এখনও ৬টি কেমো বাকি।

সিঙ্গাপুর হাসপাতাল থেকে এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার বাজেট দেয়া হয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত দুই কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে শিল্পীর পরিবার। চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর জন্য রাজশাহীর নিজের ফ্ল্যাটও বিক্রি করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ কণ্ঠশিল্পী।

এদিকে জানা গেছে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেতের তত্বাবধানে এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করে মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কিংবদন্তি শিল্পীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

প্রসঙ্গত, সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ, প্রেম-বিরহ সব অনুভূতির গানই তিনি গেয়েছেন। তার সবচেয়ে জনপ্রিয়গানের মধ্যে রয়েছে- জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমার ছুঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি, সবাইতো ভালোবাসা চায়, বেদের মেয়ে জোসনা আমায়কথা দিয়েছে, তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন, ভালো আছি ভালো থেকো, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, চোখ যে মনের কথা বলে, পড়েনা চোখের পলক ইত্যাদি।