বুধবার থেকে ই-পাসপোর্ট

ঢাকা অফিস \ দীর্ঘ প্রতীক্ষার ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পেতে যাচ্ছেন দেশের নাগরিকরা। তবে আপাতত শুধু ঢাকার আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে এটি দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বুধবার  বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সর্বপ্রথম ই-পাসপোর্ট পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই এ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবে। “প্রথমে উত্তরা, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ী থেকে ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ কার্যক্রম চালু হবে। এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের মধ্যেই সারাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরতরাও পর্যায়ক্রমে ই-পাসপোর্ট পাবেন। পাশাপাশি এমআরপি পাসপোর্ট কার্যকর থাকবে বলে জানান আসাদুজ্জামান খাঁন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ই-পাসপোর্ট হবে ৪৮ ও ৬৪ পাতার। আর মেয়াদ হবে পাঁচ ও ১০ বছর মেয়াদী। ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদী সাধারণ পাসপোর্টের (১৫ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে) এর জন্য ফি লাগবে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। আর সাতদিনের মধ্যে (জরুরি) পেতে হলে ৫ হাজার ৫০০ টাকা ও দুইদিনে (অতি জরুরি) পাওয়ার জন্য খরচ করতে হবে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সংখ্যক পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য পাঁচ হাজার, জরুরি সাত হাজার ও অতি জরুরির জন্য নয় হাজার টাকা হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট করতে লাগবে যথাক্রমে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি সাত হাজার ৫০০ টাকা ও অতি জরুরি ১০ হাজার ৫০০ টাকা। ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট করতে লাগবে যথাক্রমে সাত হাজার (সাধারণ), নয় হাজার (জরুরি) ও ১২ হাজার (অতি জরুরি) টাকা। ই-পাসপোর্ট এর আবেদন অনলাইনে অথবা পিডিএফ ফরমেট ডাউনলোড করে পূরণ করা যাবে। এতে কোনো ছবির প্রয়োজন হবে না; কাগজপত্র সত্যায়নও করতে হবে না। ই-পাসপোর্ট চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের ১১৯তম দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে নানা জটিলতায় কয়েক দফা পেছাতে হয়েছে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরুর দিন তারিখ। বাংলাদেশে হাতে লেখা পাসপোর্ট থেকে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট বা এমআরপি প্রবর্তনের পর এক দশকও পার হয়নি। কিন্তু এমআরপির ডেটাবেইজে ১০ আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এক ব্যক্তির নামে একাধিক পাসপোর্ট করার ঘটনা দেখা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিক ভোগান্তি কমাতে এবং একজনের নামে একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা বন্ধ করতে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) চালু করতে উদ্যোগী হয় সরকার। ২০১৮ সালের ২১ জুন প্রকল্পটি একনেকের সায় পায়। প্রকল্পটি বা¯Íবায়নে ওই বছরের জুলাইয়ে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোসের সঙ্গে চুক্তি করে পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদপ্তর। সোয়া তিন হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশকে ই-পাসপোর্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করছে তারা। ই-পাসপোর্ট নামে পরিচিত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টে স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যাতে মাইক্রোপ্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এ পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাসপোর্টের ডেটা পেইজ এবং চিপে সংরক্ষিত থাকে।

সহযোদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে ১২১ মুক্তিযোদ্ধার গণস্বাক্ষর, প্রতিবাদ

পাঁচ মাস ধরে কুষ্টিয়ায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ঝুলছে তালা

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম আজো দখল পাননি তাঁরই মালিকানাধীন কুষ্টিয়া শহরের এনএসরোডস্থ শুকরিয়া টেলিকম নামক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। ৩৮বছর যে প্রতিষ্ঠানটি টানাপড়েন সংসারের নিয়ামক হয়ে আসছিল অথচ সেই প্রতিষ্ঠানটিই কিনা জবর দখল করেছেন তারই সহদর মতিউর রহমান ও ছেলে শহিদুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ সর্বোপরি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও তার সুরাহা হয়নি আজো। প্রায় ৫মাস ধরে জবর দখলে নেয়া ওই প্রতিষ্ঠানের দখল বুঝে না পেয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানী আব্দুস সালাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় প্রশাসন তাঁর প্রতি সুবিচার না করলেও তাঁর পাশে ঠিকই দাঁড়িয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। কুষ্টিয়ার ১২১ জন মুক্তিযোদ্ধা এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এজন্য তারা গণস্বাক্ষর করে দোষি ভুমি দস্যূদের শা¯িÍও দাবী করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কমান্ডার মোশাররফ হোসেন জানান বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের যোগ্য মর্যাদা দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবমুল্যায়নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তাঁর এবং তাঁর সরকারের। অথচ আমাদের কুষ্টিয়ার একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম লাঞ্ছনার শিকার হবেন, তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভূমিদস্যূরা জবর দখল করবে এমনটি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। তাই আমরা মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে ওই ভূমিদস্যূদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভব জানিয়ে গণস্বাক্ষর করেছি। অনতিবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দখলমুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসনের হ¯Íক্ষেপও কামনা করেন তিনি। উল্ল¬খ্য দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম তাঁর পরিবার পরিজন নিয়ে ওই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানেরও ওপর ভিত্তি করে দিনাতিপাত করে আসছিলেন। কিন্তু গত ৫মাস ধরে তাঁরই ভাই মতিউর রহমান ও ভায়ের ছেলে শহিদুর রহমান জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানে তালা মেরে দখলে নেয়। অথচ ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। এর স্বপক্ষে প্রমাণাদী উপস্থাপন করা হলেও তার কোন মুল্যায়ন করা হয়নি। প্রশাসনের সহায়তা চেয়েও কাঙ্খিত সহায়তা পাননি তিনি।

কুষ্টিয়া জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

উন্নয়নমুলক প্রতিটি কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে

আরিফ মেহমুদ \ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, প্রত্যেকটি উন্নয়নমুৃল কাজে সঠিকভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখবেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ শেষ করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারনে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ। এসব কাজ বা¯Íবায়নে আপনার সমস্যা যদি আপনিই সৃষ্টি করেন তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগের অগ্রাধিকার ভিত্তিক যে সব কাজ এখনো চলমান আছে তা অতি দ্রুত শেষ করতে হবে। কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। কাজের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাড়াতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে  জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটি উন্নয়নমুলক কাজে সঠিকভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। উন্নয়নমুলক প্রতিটি কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাঁড়াতে হবে। কাজের নামে অকাজ করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। তিনি সড়ক ও জনপথ কুষ্টিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর উদ্দেশ্যে বলেন, কুমারখালী-রাজবাড়ী সড়ক প্রসস্থকরণ কাজের অগ্রগতিতে জনগণ উপকৃত হলেও কাজ শেষ হতে না হতেই রা¯Íার ধারে অনেক ধস দেখা দেয়ায় জনঅসন্তুষ্টি বাড়ছে।  জনভোগান্তি বাড়ার আগেই দ্রুত এসব ধস ঠেকাতে কাজ শেষ করতে হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।  কোন কাজেই গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না। জেলাব্যাপী ব্যাপকহারে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। এক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার ভংগুর পরিস্থিতি বার বার জনগণের মুখোমুখি করলেও আজকে সেই অবস্থা আর নেই। দ্রুত রা¯Íা মেরামত, নির্মাণ, সড়ক প্রসস্থ করনের কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই যোগাযোগ ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি কমে আসবে। তিনি গণপূর্ত কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীকে মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার কুষ্টিয়ার বড় বাজারের পিছনে বধ্যভূমির সঠিক জায়গা চিহ্নিত করে খুব দ্রুত সেখানে ভিত্তিপ্র¯Íতরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। যা খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ ৭১-এর স্মৃতি বিজড়িত বধ্যভূমির ভিত্তিপ্র¯Íতর করবেন। তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকেল এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। যে এলাকার যত বেশি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সেই এলাকা তত বেশি উন্নত। আমরা যারা উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট তারা যদি দেশের জন্য এ জেলার জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে ছোট্ট ছোট্ট পরবির্তন আনতে পারি তাহলেই আমাদের উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরন হবে। তবেই তো এগিয়ে যাবে দেশ। আর এক্ষেত্রে সবার আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, নিজেকে একজন দেশ প্রেমিক হিসেবে মানসিকভাবে তৈরী হতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কুষ্টিয়া পিছিয়ে থাকতে পারে না। যে কাজ করবেন সেটি যেন দেশের উন্নয়নে ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়। কুষ্টিয়া জেলার উন্নয়নে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য সরকারী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানগুলো  যেন কোনভাবেই অনিয়ম না করতে পারে এবং জনগনকে সঠিকভাবে যথাসময়ে সেবা প্রদান করতে পারে সে জন্য সরকারী সব কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। বিগত মাসের বি¯Íারিত তুলে ধরে তাকে সহযোগিতা করেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ¦ রবিউল ইসলাম, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ^াস, খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরিন কান্তা, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম মারুফ আল ফারুকী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেল সুপার জাকের হোসেন, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক মুনতাকিম মোঃ ইব্রাহিম, বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এটিএম জালাল উদ্দিন, জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসানা পারভীন, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান প্রমুখ।

 

৪টি পদক্ষেপে বদলে গেছে মাদকের জেলা কুষ্টিয়ার চিত্র

অনেক মাদক ব্যবসায়ী এখন আলোর পথে

মাদকের বিরুদ্ধে অন্য রকম সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত

বিশেষ প্রতিনিধি \ সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে যে কোন ভাল কাজ বা¯Íবায়ন করা যায় তার নজির স্থাপন করেছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। আগে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা মাদক নির্মূলের জন্য ঢাকঢোল পিটিয়ে মাঠে নামলেও কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি। ওইসব কর্মকর্তারা যখন ব্যর্থ সেখানে মাত্র দেড় বছরেরও কম সময়ে মাদক প্রবণ কুষ্টিয়া জেলাকে অনেকটা মাদকমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন এ কর্মকর্তা। তার নেয়া কয়েকটি উদ্যোগের ফলে বদলে গেছে চিত্র। সুযোগ পেয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে অনেকেই এখন সৎভাবে উপার্জন করছে অন্য পেশায়। শুধু মাদক ব্যবসায়ীদেরই নয় নিজের ঘরকেও পরিশুদ্ধ করতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর উদ্যোগ সাড়া ফেলেছেন জেলা জুড়ে।

মাদকের জেলা ও রুট হিসেবে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের নাম আসে প্রথমেই। দেশের যে কয়েকটি সীমান্তবর্তি জেলা রয়েছে তার অন্যতম কুষ্টিয়া। এখানে জেলার দৌলতপুর উপজেলার সাথে প্রায় ৪৫ কিলোমিটারের বেশি সীমানা রয়েছে পার্শবর্তি দেশ ভারতের। ৮০’র দশক থেকেই দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্রসহ চোরাচালান বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ফেনসিডিল আসতে থাকে বানের পানির মত। উপজেলার সীমান্তবর্তি তিনটি ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষ জড়িয়ে পড়ে মাদক কারবারে। উপার্জনের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে মাদক। এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়িত মাদকের চালান দেশে আসে। এখান থেকে সারা জেলাসহ সবখানে ছড়িয়ে পড়ে। একটা সময় দৌলতপুর থানায় বসেই এক সময় চোরাচালানের জন্য টোকেন দেয়া হতো। থানা পুলিশের আয় ছিল মাসে লাখ লাখ টাকা। এ থানায় ওসির পোষ্টিং পেতে লাখ লাখ টাকার ঘুষ দিয়ে আসতে হতো কয়েক বছর আগেও। তবে গত দেড় বছরে ভিন্ন চিত্র। এখন আর এ থানায় কেউ চাকুরি করতে চাই না। কারন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে মাদক কারবার।

গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, এ চিত্র বদলে যেতে শুরু করে ২০১৮ সালের শেষ দিক এসে। ২০১৮ সালে এসএম তানভীর আরাফাত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেয়ার পর পরই জেলার মাদক নির্মুলের ওপর বিশেষ নজর দেন। আগে নিজের দপ্তর থেকে শুরু করেন শুদ্ধি অভিযান। দৌলতপুরসহ জেলার ৭টি থানার দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্টপোষকতা করেন এমন অফিসার  ও সদস্যদের গোপনে তালিকা করে তাদের একে একে সরিয়ে দেন। অনেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। এমনকি ওসিদেরও সরিয়ে দেয়া হয় বেশ কয়েকটি থানা থেকে। এরপর নামেন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানে। দৌলতপুর থেকে শুরু করে ইবি থানা পর্যন্ত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করেন। এরপর গ্রেফতার হতে থাকে বড় বড় রাঘব বোয়ালরা। এর মধ্যে শীর্ষ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এরপর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে  জেলার মাদক দুনিয়ায়। পালিয়ে অনেকেই ভারতে চলে যায়। অনেকেই পুলিশের মাধ্যমে আত্মসমর্পন করে।

দৌলতপুর থানা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান,‘ বর্তমান পুলিশ সুপারের (তানভীর আরাফাত) নেয়া কয়েকটি পদক্ষেপের ফলে বদলে গেছে চিত্র।

প্রথমত পুলিশ সুপার প্রতিটি এলাকায় সব শ্রেণীর পেশার মানুষদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভা করেন। সেখানে মাদক কারবারীদের উদ্দেশ্য করে কঠোর হুশিয়ারি দেন। সময় বেঁধে দেন আত্মসমর্পনের। এরপরেই বদলে যেতে শুরু করে চিত্র।

দ্বিতীয়ত, পুলিশের অসৎ কর্মকর্তা যাদের সাথে মাদক কারবারিদের আঁতাত ছিল তাদেরকে চিহিৃত করার ওপর জোর দেন। যাতে অভিযান হলে মাদক ব্যবসায়ীরা খবর না পান। এমন অনেকের নাম আসে তালিকায়।

তৃতীয়ত, যেসব মাদক ব্যবসায়ী আলোর পথে আসতে চাই তাদের তালিকা করে কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য কাজের সুযোগ করে দেয়া ছিল অন্যতম।

চতুর্থ, এছাড়া মাদক মামলায় দ্রুত চার্জশীট প্রদান করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন। যাতে ভয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা আর ও পথে পা না বাড়ায়। গত এক বছরে মাদক মামলার রায়ে অনেকের যাবজ্জীবন দন্ড হয়েছে। গত এক বছরে দায়ের হওয়া প্রায় সব মামলার চার্জশীট দ্রুত সময়ের মধ্যে দেয়া হয়েছে আদালতে। শুরু হয়েছে এসব মামলার বিচার কাজ। এছাড়াও জনসাধারন ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ধারাবাহিক প্রচার-প্রচারনা অব্যাহত রাখার ফলেই এমন ফল মিলেছে বলে মনে করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন বলেন,‘ দৌলতপুর উপজেলার নাম আসতেই মাদকের বিষয়টি চলে আসে। বছর দুয়েক আগেও মাদকের বি¯Íার ছিল। তবে বর্তমান পুলিশ সুপারে সময় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পন করে আলোর পথে ফিরে এসেছে। এরপর দৃশ্যপট বদলে গেছে অনেকখানি। পুলিশ ইচ্ছা করলে যে কোন ভাল কাজ করতে পারে তার নজির স্থ্াপন হয়েছে। এটা ধরে রাখতে হবে।’ দৌলতপুর থানার বর্তমান ওসি আরিফ আহমেদ। তার আগে গত এক বছরে দুইজন ওসিকে বদলি করা হয় এ থানা থেকে। তাদের বিরুদ্ধে ছিল নানা অভিযোগ। এরপর তরুণ অফিসার আরিফকে আনা হয় এ থাকায় মাদক নির্মূল করার জন্য।

গত এক বছরে পুলিশের হিসাব মতে জেলায় মাদক মামলা দায়ের হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৭টি। এর মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার ৩৭১জন। উদ্ধার করা হয়েছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিপুল সংখ্যক মাদক। এর মধ্যে ৮ শতাধিকের বেশি মামলার চার্জশীট দেয়া হয়েছে আদালতে। তবে গতবছর এক থানা হিসেবে দৌলতপুরে সব থেকে বেশি মাদক মামলা ও গ্রেফতার হয়েছিল আসামী। ৩১০টি মামলা হয় এ থানায়। গ্রেফতার করা হয় ৪০৭জনকে।

সর্বশেষ গত বছরের মাঝামাঝি পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের আহবানে সাড়া দিয়ে জেলার প্রায় ২ শতাধিক মাদক কারকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পন করে শপথ পাঠ করেন। এর মধ্যে ২৫ নারী মাদক ব্যবসায়ী ছিল। মাদক নির্মুলে ভূমিকা রাখায় স¤প্রতি রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ হয়েছে কুষ্টিয়া।

দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের সাজিদ মালিথা ও একই ইউনিয়নের ময়রামপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম ছিলেন এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। এসপির আহবানে সাড়া দিয়ে তারা গত বছর আত্মসমর্পন করেন। এরপর সাজিদ কৃষি কাজ ও রবিউল মুদি দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের মত অনেকেই এখন আলোর পথে এসেছেন।

রবিউল ও সাজিদ বলেন,‘ তারা দীর্ঘ সময় ধরে মাদকের কারবারে ছিলেন। এ কারনে সমাজের মানুষের কাছে ঘৃর্ণীত হয়ে থাকতে হয়েছে। তাই পুলিশ সুপারের আহবানে আমরা সাড়া দিয়ে শপথ নিয়ে এখন সৎভাবে উপার্জন করে সংসার চালাচ্ছি। আমরাও এখন মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি। সমাজ থেকে মাদক নির্মুল না হলে আমাদের ছেলে-মেয়েরাও ধবংস হয়ে যাবে, এটা বুঝতে পেরেছি।’

প্রাগপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন,‘ মাদক আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যারা ব্যবসা করতো তারাও এখন পেশা বদল করেছে পুলিশের আহবানে সাড়া দিয়ে। দু’একজন যারা পলাতক আছে তারাও ভাল রা¯Íায় আসার চেষ্টা করছে।’

সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম টুকু বলেন,‘ কুষ্টিয়া তথা এ অঞ্চলে মাদকের একটি রুট রয়েছে। সহজলভ্য হওয়ায় অনেকেই এ কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন। আগে হাত বাড়ালেই পাড়ায় পাড়ায় ফেনসিডিল ও হেরোইন পাওয়া যেত। তবে সেই চিত্র এখন নেই বললেই চলে। এটা পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ ও জনসচেতনতার ফলেই সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো শতভাগ সাফল্য আসেনি। তাই কাজ এখনো অনেক বাকি।’

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ জেলায় যোগ দেয়ার পর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষনা করি। আমার নিজের ঘর থেকেই সেই অভিযান শুরু করেছিলাম। অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, বাঁধা এসেছে। তবে কোন আপোষ করিনি। অভিযানের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের আলোর পথে আনার চেষ্টা করেছি। অনেকেই সেই আহবানে সাড়া দিয়ে ভাল পথে এসেছে। আবার মাদক মামলায় যাতে দ্রুত সাজা হয় সেই লক্ষ্যে চার্জশীট দিতে কাজ করেছি। সাধারন মানুষসহ সংবাদকর্মিদের ব্যাপক সহযোগিতা পেয়েছি বলেই অনেকটা সফল হতে পেরেছি। পুরোপুরি মাদক নির্মুল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। যতদিন এ জেলায় থাকবো মাদক নির্মুলে কাজ করে যাব।’

এবার ইন্তেখাব দিনারের সঙ্গে প্রভা

বিনোদন বাজার \ ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল সাদিয়া জাহান প্রভা। অনেক সময় পাড়ি দিয়ে কাজ করে চলেছেন প্রশংসার সাথে। একের পর এক নাটক টেলিছবিতে অভিনয় করে চলেছেন তিনি। স¤প্রতি নিজেকে জড়িয়েছেন অন্যরকম এক গল্পের সঙ্গে। আর এই গল্পে প্রভার সঙ্গী ইন্তেখাব দিনার।স¤প্রতি ইন্তেখাব দিনার ও প্রভা জুটি বেঁধেছেন ‘পরের মেয়ে’ নামের একটি ধারাবাহিক নাটকে। গতকাল থেকে এনটিভিতে প্রচার শুরু হয়েছে নতুন এই ধারাবাহিক নাটকটি। প্রতি সপ্তাহের রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রচার হবে এটি।সৈয়দ জিয়াউদ্দিনের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন হাবিব শাকিল। ইন্তেখাব দিনার-সাদিয়া জাহান প্রভা ছাড়াও নাটকটিতে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, গোলাম কিবরিয়া তানভীর, জিয়াউল হাসান কিসলু, আদৃতা, আল মামুন, মুনিরা ইউসুফ মেমী, ইলোরা গওহর, টয়া, হিন্দোল রায় প্রমুখ।নাটকটি নিয়ে নির্মাতা হাবিব শাকিল বলেন, ‘একটি পারিবারিক গল্পের নাটক। সংসারে নানা টানাপোড়েনের গল্প এতে উঠে এসেছে এখানে। দেখা যাবে একটি মেয়ের স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানকে নিয়ে তার একা পথ চলার গল্প। অনেক সংগ্রাম ও সংকটময় পরিস্থিতি পাড়ি দিতে হয় তাকে। আশা করছি, দর্শকদেরও ভালো লাগবে নাটকটি।’‘পরের মেয়ে’ নাটকের গল্পে দেখা যাবে মেধাবী নাজিফা ছাত্রী অবস্থায় তার পরিবারের অসম্মতিতে বাউন্ডুলে মিতুলকে ভালোবেসে বিয়ে করে ফেলে। এর ফলে নাজিফার বাবা মেয়েকে ত্যাজ্য করেন। নাজিফার শ্বাশুড়ি, নাজিফার প্রতি মমত্ব অনুভব করেন। নাজিফাও তার শ্বাশুড়িকে ভালবেসে ফেলে।শ্বাশুড়ি অসুস্থ হলে নাজিফা ও মিতুল প্রায় দেড় বছর সেবা শুশ্রুষা করে শ্বাশুড়িকে বাঁচিয়ে তোলে। এর মাঝেই জন্ম নেয় আরিয়ানা। পারিবারিক এসব ঝঞ্জাটের কারণে নাজিফার নিজের পড়াশোনাটা আর হয়না। মেয়ের বয়স যখন মাত্র ছয় মাস, তখনই নাজিফার জীবনে সব থেকে বড় আঘাতটা আসে। গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মিতুল খুন হয়ে যায়। এভাবেই এগিয়ে যাবে গল্প।

প্রেমের কথা স্বীকার করলেন আমির কন্যা

বিনোদন বাজার \ ইরা মিশাল। বলিউড তারকা আমির খানের মেয়ে। তার সঙ্গে নাকি এক ছেলের সম্পর্ক রয়েছে। এমন গুঞ্জন অনেক আগেই ছিল। তবে এবার সেই গুঞ্জনের সত্যতা মিললো। বিষয়টি নিজেই স্বীকার করেছেন আমির কন্যা ইরা। স¤প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরা বলেন, ‘আমি তো এ কথা সকলকে জানাতে চাইছিলাম। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটাই পোস্ট করি, যেটা আমি অনুভব করি। তবে আসলে সবকিছু নির্ভর করে কে কেমন মানুষ, তার উপর। আমি লুকোছাপা করতে পছন্দ করি না। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় সেভাবেই তুলে ধরি।’মাঝে মধ্যে ইরাকে মিশাল কৃপালানির সঙ্গে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতে দেখা যায়। এমনকি দুজনে একসঙ্গে ছুটিও কাটাতে যান। স¤প্রতি সম্পর্কের দুবছর হওয়ার পর ইরা ও মিশাল তাদের সম্পর্ক সেলিব্রেটও করেছিলেন। প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে আমির কন্যা নিউইয়র্কে পড়াশোনা করছেন। আর মিশাল হলেন একজন সঙ্গীত পরিচালক ও শিল্পী। তবে মেয়ে ও তার প্রেমিকের বিষয়ে আমির অবশ্য মুখ খোলেননি। খবর: জিনিউজ

 

সবার চোখে আমি পানি দেখেছি – জাহ্নবী কাপুর

বিনোদন বাজার \ তারকা হওয়ার আগেই ‘তারকা’ জাহ্নবী কাপুর। শ্রীদেবীর মেয়ে হওয়ায় খুব ছোট থেকেই তারকাদের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠা। তাই তারকা খ্যাতি খুব বেশি আলাদাভাবে দেখার সুযোগ হয়নি তার। তবে তারকা সন্তান হিসেবে শুধু নয়, নিজের যোগ্যতার প্রমাণও তিনি দিয়েছেন মাত্র একটি সিনেমা দিয়েই। ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট গুঞ্জন সাক্সেনার চরিত্রে অভিনয় করছেন জাহ্নবী। কিছুদিন আগেই সেই ছবির পোস্টারও সামনে এসেছে। ছবির শুটিংয়ের বেশকিছু মুহূর্তের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আগেই পোস্ট করেছেন তিনি। সিনেমায় অভিনয় করতে নিজহাতে হেলিকপ্টার উড়িয়েছেন। তবে তার সঙ্গে ছিলেন পাইলট ফ্রাঞ্চেসকো। শুটিং চলাকালীন জাহ্নবী এতক্ষণ হেলিকপ্টারে কাটিয়েছিলেন যে, তিনি প্রায় সবটা শিখে গিয়েছিলেন! তাই তার হাতে কন্ট্রোল দিয়ে দেন ফ্রাঞ্চেসকো।১ বছর ধরে চলে এই সিনেমাটির শুটিং। প্রতিদিন জাহ্নবী বলতেন, ‘আমি উড়তে চাই। আমি পাইলট হতে চাই।’ তাই যেদিন তিনি সত্যিই হেলিকপ্টার ওড়ালেন সেদিন সেটের সবার চোখে জল চলে এসেছিল। সেই মুহূর্তের কথাও বর্ণনা করেছেন জাহ্নবী।

জাহ্নবি বলেন, ‘আমার অনেক ইচ্ছা ছিল নিজের হাতে হেলিকপ্টার ওড়াবো। অনেকদিন ধরে আমার ইচ্ছার কথা সবার কাছে বলছিলাম। যেদিন সত্যি নিজে ওড়াতে পারলাম সেদিন আমার মতো টিমের সবাই বেশ খুশি হয়। আর সবার চোখে আমি পানি দেখেছি।’স¤প্রতি ‘দো¯Íানা টু’ ছবির শুটিং শুরু করেছেন জাহ্নবী কাপুর। দো¯Íানার সিক্যুয়েলে জাহ্নবী কাপুরের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করছেন কার্তিক আরিয়ান। স¤প্রতি কার্তিক আরিয়ানের জন্মদিনের পার্টিতে জাহ্নবীর হাত ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায় কার্তিক আরিয়ানকে। দো¯Íানা টু-এর পর জাহ্নবীর হাতে রয়েছে তখত। করণ জোহরের এই সিনেমায় কারিনা, রণবীর সিং, আলিয়া, বিকি কৌশলদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন জাহ্নবী কাপুর।

যেভাবে চেহারা পাল্টে ফেলেন দীপিকা

বিনোদন বাজার \ অ্যাসিড আক্রান্ত এক নারীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। কিন্তু তার এ যাত্রা সহজ ছিল না। নিজের মুখকে অ্যাসিড আক্রান্ত মুখে রূপান্তর করতে বেশ কষ্টই করতে হয়েছে তাকে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, স¤প্রতি দীপিকা অভিনীত ‘ছপাক’ ছবি মুক্তি পায়। এতে দীপিকা অ্যাসিড আক্রান্ত ল²ী আগরওয়ালের ভূমিকায় অভিনয় করেন। ছবিতে তার চরিত্রের নাম মালতি।ছবির টিম থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, দীপিকার চেহারা ‘অ্যাসিড আক্রান্ত’ করতে প্রসেথটিকসে মেকআপের সাহায্য নেওয়া হয়। আর এই মেকআপ করতে দীপিকার লেগেছে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা। রোজ ৪ ঘণ্টার টানা মেকআপেই তিনি হয়ে উঠতেন আগরওয়াল। খ্যাতনামা মেকআপ শিল্পী ক্লোবার উটন দীপিকার মেকআপ করতেন।স¤প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে দীপিকার চেহারা পরিবর্তনের ভিডিও। ঠিক কিভাবে দীপিকা হয়ে উঠেছিলেন অ্যাসিড আক্রান্ত নারী তাই ধরা পড়েছে ভিডিওতে।দীপিকা বলছেন, ছবির শুটিং শুরু হওয়ার পর ভেবেছিলেন এই অভিনয় তিনি করতে পারবেন না। চরিত্রটি করা এতটাই শক্ত ছিল যে তিনি মাঝপথেই তা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন।এই নায়িকা আরও জানান, দ্বিতীয় দিনের শুটিংয়ে আমার প্যানিক অ্যাটাক হয়। মনের উপর এতটাই চাপ পড়েছিল। মালতীর মেকআপ নেওয়ার পর আমি ঘামতে শুরু করি। বুঝতে পারি আমার পা দিয়ে রক্ত ঝরছে। নিজে অনুভব করছিলাম, ল²ী আগরওয়াল তো কতটা কষ্ট সহ্য করছে। বহুকষ্টে আবার নিজেকে বোঝাই। ওদের মনের জোর দেখেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করেছিলাম।

মারা গেলেন বেদের মেয়ে জোসনা প্রযোজক আব্বাস উল্লাহ

বিনোদন বাজার \ বেদের মেয়ে জোসনা প্রযোজক আব্বাস উলøাহ শিকদার (৬৫) আর নেই। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিলøাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু ও পরিচালক সমিতির সাংগঠনিক সচিব কাবিরুল ইসলাম রানা সাংবাদিকদের তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।খোরশেদ আলম খসরু বলেন, আব্বাস উলøাহ ভাই দুই বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল। তিনি কাউকে চিনতে পারছিলেন না। নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যেই ছিলেন। কিন্তু শনিবার আমাদের ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন।আব্বাস উলøাহ শিকদারের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চলচ্চিত্র সংশিøষ্ট অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। আব্বাস উলøাহ শিকদার ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘পাগল মন’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘মোলøাবাড়ির বউ’, ‘জ্বী হুজুর’সহ দর্শক নন্দিত চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলার অন্যতম কর্ণধার ছিলেন। তার বাবা ছিলেন সাবেক বনানী পৌরসভার চেয়ারম্যান।

সড়ক দুর্ঘটনায় শাবানা আজমি, হাসপাতালে ভর্তি

বিনোদন বাজার \ গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অভিনেত্রী শাবানা আজমি। মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়েতে শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে । পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরেই শাবানি আজমিকে নিয়ে যাওয়া হয় নভি মুম্বইয়ের এমজিএম হাসপাতালে। আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।পুলিশ সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার খালাপুরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল সে সম্পর্কেও নিশ্চিত ভাবে এখনও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে শাবানার আজমির গাড়ির। সামনের অংশ অনেকটাই দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে।দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন জাভেদ আখতারও। তবে তিনি সুস্থই রয়েছেন। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।প্রসঙ্গত, শুক্রবারই জাভেদ আখতারের ৭৫তম জন্মদিন ছিল। সেই উপলক্ষ্যে আয়োজন ছিল বিলাসবহুল পার্টিরও। রেট্রো থিমের সেই পার্টিতে হাজির ছিলেন বিটাউনের চেনা পরিচিত অনেক তারকাই।এদিন শাবানা আজমির দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর দ্রæত আরোগ্য কামনা করেছেন বিটাউনের তারকারা। অভিনেত্রীর দ্রæত আরোগ্য কামনা করে টুইট করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

 

শীতে মুরগির খামারের জরুরি ব্যবস্থাপনা

কৃষি প্রতিবেদক \ শীতকালে বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। এ সময় খামারি ভাইদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণে শীতকালে মুরগির খামারে বিশেষ পরিচর্যার দরকার হয়। তাই লাভজনক খামার ব্যবস্থাপনার জন্য খামারি ভাইদের নিচের বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে।

মুরগির বাসস্থান : শীতকালে বয়সভেদে মুরগির ঘরের ভেতরের পরিবেশ ঠিক করতে হবে। যে বয়সের মুরগি পালন করা হবে সে বয়সের মুরগির জন্য ঘরে উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের আশপাশের ঝোপ-জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে দিনের আলো পরিপূর্ণভাবে ঘরের চালার ওপর পড়ে। ঘরের দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ করে দিতে হবে যেন ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে না পারে। মুরগির ঘরে উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।

লিটার ব্যবস্থাপনা : শীতকালে লিটার হিসেবে ধানের শুকনা তুষ সবচেয়ে ভালো। তুষ মুরগিকে গরম রাখে। ব্রম্নডার হাউজে ৫-১০ সেন্টিমিটার পুরু করে লিটারসামগ্রী বিছাতে হবে। মুরগি যদি ফ্লোরে পালন করা হয়, তাহলে বড় মুরগির জন্য লিটারের পুরুত্ব ৪ ইঞ্চির কম হবে না। লিটারসামগ্রী হতে হবে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত। কোনো কারণে পানি পড়ে লিটার ভিজে গেলে ভিজা লিটার বদলে ওই স্থানে শুকনা লিটার বিছাতে হবে। লিটার যেন খুব শুকনা ধুলাময় না হয়।

খামারের তাপমাত্রা : মুরগির ঘরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা দরকার ৬৫-৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তবে ব্রম্নডার হাউজে প্রাথমিক তাপমাত্রা দরকার ২৩-৩৫ ডিগ্রি  সেলসিয়াস। যখন পরিবেশের তাপমাত্রা খুব বেশি কমে যায়, তখন ব্র“ম্নডারে  বৈদ্যুতিক বাল্ব সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে। ঘরের চালা টিনের হলে হার্ডবোর্ড বা এই জাতীয় পদার্থ দিয়ে সিলিং দিতে হবে। ঘর উষ্ণ রাখতে টিনের বা ছাদের ওপর খড় বিছিয়ে দিতে হবে। ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ব্রম্নডিং পিরিয়ডে বাচ্চা যাতে সমভাবে তাপ পায় এ জন্য ৫০০ বাচ্চার জন্য ১০০ ওয়াটের তিনটি বাল্ব সংযুক্ত একটি ব্রম্লডার হার্ডবোর্ড স্থাপন করতে হবে। খামারের আলো চলাচল : মুরগির ঘরে আলো এমনভাবে দিতে হবে যেন তা ঘরে সমভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রম্নডিং পিরিয়ডে প্রথম তিন দিন নিরবচ্ছিন্ন আলো রাখা দরকার।

প্রতি বর্গমিটারে বাচ্চার ঘনত্ব: ব্রম্নডার হাউজে প্রতি বর্গমিটারে প্রথমে ৫০টি বাচ্চা রাখতে হবে এবং চার দিন বয়সের পর থেকে ক্রমান্বয়ে জায়গা বাড়িয়ে দিতে হবে। ১৪ দিন বয়সের পর ঘরের তাপমাত্রা ঠিক রেখে বাচ্চা যাতে পুরো ঘরে বিচরণ করতে পারে সে অনুযায়ী জায়গা বাড়াতে হবে। ডিমপাড়া মুরগি বা লেয়ারের শরীরের তাপমাত্রা ঘরের তাপকে কিছুটা প্রশমিত করলেও বেশি ডিম উৎপাদনের জন্য এটা ভালো নয়। তাই ঘরে মুরগির ঘনত্ব কেমন হবে তা নির্ভর করবে ঘরের ধরন, ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি, মুরগির বয়স, জাত ও পালন পদ্ধতির ওপর, পরিবেশের তাপমাত্রার ওপর নয়।

হভেন্টিলেশন : মুরগির ঘরে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা বাতাস প্রবাহের মাধ্যমে ঘরে উৎপন্ন বিষাক্ত বাতাস বের করে এবং বিশুদ্ধ বাতাস প্রবেশে সহায়তা করে। শীতকালে ঘরে ঠান্ডা বাতাস যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সব দরজা-জানালা বন্ধ রাখলেও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা অবশ্যই চালু রাখতে হবে।

ভ্যাক্সিনেশন : সঠিক খামার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। ব্রয়লারের জন্য রানিক্ষেত এবং গামবোরো এই দু’টি ভ্যাক্সিনই যথেষ্ট। তবে খামারের জন্য সম্পূর্ণ ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচি অনুসরণ করতে হবে। শীতকালে পরিবেশের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণ বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও রানিক্ষেত রোগ সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। ধারণা করা হয় রানিক্ষেত রোগ প্রতিরোধ করার মাধ্যমে এভিয়ান ইনফস্নুয়েঞ্জা সংক্রমণ কমানো যায়। এ জন্য সময় মতো রানিক্ষেত রোগের ভ্যাক্সিন দিতে হবে।

শীতকালের খাদ্য ব্যবস্থাপনা : শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়ায় মুরগি খাবার বেশি খায়। অতিরিক্ত খাবার খেয়ে শরীরে তাপ উৎপাদন করে। অর্থাৎ শীতকালে শরীরে  বেশি ক্যালরি দরকার হয়। এ জন্য খাবারে শর্করা-চর্বি উৎপাদনের উৎস কিছুটা বাড়িয়ে দিতে হবে। তবে সব খাদ্য উপাদানের পরিমাণগুলো ঠিক রেখে কিছু পরিমাণ তেল মিশিয়ে ক্যালরির পরিমাণ বাড়ানো যায়। ব্রম্নডিং অবস্থায় প্রথম তিন দিন লিটারের ওপর চট বা কাগজ বিছিয়ে তার ওপর খাদ্য ছিটিয়ে দিলে ভালো হয়। বাচ্চা মুরগিকে অল্প অল্প করে বারবার খাবার দিতে হবে। ফলে খাবার খাওয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। শীতকালে সব বয়সের মুরগির উৎপাদন (গোশত, ডিম) কমে যায়। তাই সরবরাহকৃত খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করতে হবে।

পানি : মুরগি যা খাবার গ্রহণ করে তার দ্বিগুণ পানি পান করে। তবে শীতকালে ঠান্ডার কারণে পানি গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়। তাই পানি গ্রহণের পরিমাণ ঠিক রাখতে প্রচন্ড শীতের সময় সকালে ঠান্ডা পানি না দিয়ে হালকা গরম দিতে হবে। পানি ভরার আগে পাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ ক্রিকেটের পরাক্রমশালী শক্তি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গুনে গুনে কয়েকটি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। অজিদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলা হয়নি টাইগারদের। গুনে গুনে মাত্র চারটি ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে দুদল। বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসপ্রাপ্তির বয়স ২০ বছর চলছে। এত দীর্ঘ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মাত্র তিনটি টেস্ট সিরিজ খেলেছে লাল-সবুজের দল। ২০০৮ সালের পর অস্ট্রেলিয়া সফরে যাননি মুশফিকরা। বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তাদের। তাই বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনালে বিশেষ অতিথি হিসেবে আসা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টসকে পেয়েই এ নিয়ে আলোচনা করেছে বিসিবি। সেই আলোচনায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জেনে কেভিন রবার্টস জানিয়েছেন, হ্যাঁ দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা প্রয়োজন। আমরা এতে আগ্রহী। ফিরে যাওয়ার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের কেভিন রবার্টস বলেন, ‘বিসিবির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে সব ফরম্যাটেই হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ খেলতে আগ্রহী। ২০২৩ থেকে ৩৩ পর্যন্ত এই ১০ বছরে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বেশ কয়েকটি সিরিজ খেলতে চাই। দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক সে প্রত্যাশা রাখি।’ এ বিষয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে চমৎকার বৈঠক হয়েছে আমাদের। তারা আমাদের সঙ্গে আরও বেশি সিরিজ খেলায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’ তিনি যোগ করেন, এক সময় বয়সভিত্তিক ও প্রেসিডেন্ট একাদশ নামে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু দল বাংলাদেশ সফর করত। অনেক দিন ধরেই তা বন্ধ রয়েছে। আমরা সে বিষয়টি তুলে ধরতেই আবারও সেই সফর শুরু করতে রাজি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শুধু খেলাই নয়; কোচ ও লজিস্টিক সাপোর্ট বিনিময়ে দুই বোর্ড সম্মত হয়েছে।

ভিএআর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সেভিয়া, জিদানের জবাব

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ লিগ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে হারের পর রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সেভিয়া কোচ হুলেন লোপেতেগি ও ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর মনচি। পাল্টা জবাব দিয়েছেন মাদ্রিদের দলটির কোচ জিনেদিন জিদানও। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে শনিবার সেভিয়াকে ২-১ গোলে হারায় রিয়াল মাদ্রিদ, তিনটি গোলই হয় ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। স্বাগতিকদের পক্ষে জোড়া গোল করেন কাসেমিরো। সেভিয়ার একমাত্র গোলটি লুক ডি ইয়ংয়ের। ম্যাচের ৩০তম মিনিটেও একবার হেডে জালে বল পাঠিয়েছিলেন সেভিয়ার ডাচ ফরোয়ার্ড লুক ডি ইয়ং। তবে এর আগমুহুর্তে ডি-বক্সে রিয়ালের ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও প্রতিপক্ষের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে গেলে ভিএআরের সাহায্যে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। সিদ্ধান্তটি নিয়ে রীতিমত বিস্মিত সেভিয়া কোচ লোপেতেগি। মানতেই পারছেন না তিনি। “কেউ আমাকে বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আসলেই আমি বুঝতে পারছি না কেন গোলটা বাতিল করা হলো এটি ছিল বড় ধরনের ভুল।” দলটির ক্রীড়া পরিচালক মনচির মতে, মুহুর্তটা ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। “ট্যাকটিক্যালি অথবা টেকনিক্যালি আমি ম্যাচটা বিশে¬ষণ করতে যাচ্ছি না। কারণ মুহুর্তটা ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।” মাদ্রিদ কোচ জিদান অবশ্য এটাকে দেখছেন খেলার অংশ হিসেবেই। “এ বিষয়ে আমি বলতে পারি আমি যা দেখেছি তা হলো-এটি ফাউল ছিল। রেফারি ভিএআরের সাহায্যে ফাউল দিয়েছে।” একটা জায়গায় অবশ্য জিদানেরও আপত্তির জায়গা আছে। সেটি সেভিয়ার ব্যবধান কমানো গোলটি নিয়ে। “দ্বিতীয়ার্ধে ওটা হ্যান্ডবল ছিল (ডি ইয়ংয়ের গোলের আগে), কিন্তু রেফারি দেয়নি।” “আমি কিছুই ব্যখ্যা করতে পারছি না এবং মূল্যায়নও করতে যাচ্ছি না। এটা রেফারির সিদ্ধান্ত। কখনও এটা আপনার পক্ষে যাবে কখনও বিপক্ষে।” “রেফারিই ম্যাচের ফল নির্ধারক ছিল, এমনটা আমি মনে করি না। তার যা করার ছিল সে তাই করেছে।” ২০ ম্যাচে ১২ জয় ও সাত ড্রয়ে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে রিয়াল। এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা ৪০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে। তবে রোববার ঘরের মাঠে গ্রানাদার বিপক্ষে জিতলে আবারও শীর্ষে ফিরবে বার্সেলোনা।

পোলার্ডের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের ম্যাচে উইন্ডিজের হতাশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ সিরিজ জয়ের আশা টিকিয়ে রাখতে ম্যাচটি জিততেই হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। কাইরন পোলার্ডের সৌজন্যে জয়ের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু অধিনায়কের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হতাশ করল বৃষ্টি। ভেসে গেল ক্যারবিয়ানদের সিরিজ জয়ের আশা। নিশ্চিত হয়ে গেল, সিরিজ হারছে না আয়ারল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়-পরাজয় হতে দেয়নি বৃষ্টি। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে আইরিশরা। সেন্ট কিটসে শনিবার বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ১৯ ওভারে ৯ উইকেটে তোলে ১৪৭ রান। পোলার্ড নেন ২৫ রানে ৪ উইকেট। ক্যারিবিয়ানদের রান তাড়া বৃষ্টিতে থমকে যায় তৃতীয় ওভারে। আর শুরু হতে পারেনি খেলা। আইরিশরা ব্যাটিংয়ে নেমেছিল টস হেরে। ২৩ রানের মধ্যে হারায় তারা দুই ওপেনার পল স্টার্লিং ও কেভিন ও’ব্রায়েনকে। কিন্তু তৃতীয় উইকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে উল্টো ক্যারিবিয়ানদের চাপে ফেলে দেন অ্যান্ড্রু বালবার্নি ও গ্যারেথ ডেলানি। ৪৩ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। দুই ব্যাটসম্যানকেই ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে ফেরান পোলার্ড। ৫ ছক্কায় ২২ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন ডেলানি। অধিনায়ক বালবার্নি করেছেন ৩৪। পোলার্ড-কটরেলদের বোলিংয়ে এরপর আর সুবিধে করতে পারেনি আইরিশরা। পাঁচে নেমে হ্যারি টেক্টর ২৩ বলে ৩১ করেছেন বটে। তবে পরের ৫ ব্যাটসম্যানের কেউ ছাড়াতে পারেননি ৫ রান। ৩৬ রানের মধ্যে হারায় তারা ৬ উইকেট।

ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৪ উইকেটের স্বাদ পান পোলার্ড। ৪ ওভারে মাত্র ১০ রানে ২ উইকেট নেন কটরেল। ক্যারিবিয়ানদের রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই হয়ে যায় অনেক নাটক। স্টার্লিংকে ছক্কা ও চারের পর আউট হয়ে যান লেন্ডল সিমন্স। একটু পরই সব নাটকীয়তায় জল ঢেলে দেয় প্রকৃতি।

তৃতীয় ম্যাচ জিতলে এখন কেবল সিরিজে সমতাই ফেরাতে পারবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সংক্ষিপ্ত স্কোর: আয়ারল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৪৭/৯ (স্টার্লিং ১৭, ও’ব্রায়েন ৪, বালবার্নি ৩৬, ডেলানি ৪৪, টেক্টর ৩১, উইলসন ৫, ডকরেল ২, সিমি ৪, ম্যাককার্থি ০, লিটল ০*; কটরেল ৪-০-১০-২, শেফার্ড ৪-০-৩৮-১, পিয়ের ২-০-২১-০, ওয়ালশ ২-০-৩২-০, ব্রাভো ৩-০-১৮-০, পোলার্ড ৪-০-২৫-৪)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: (লক্ষ্য ১৯ ওভারে ১৫২) ২.১ ওভারে ১৬/১ (সিমন্স ১০, লুইস ২*, হেটমায়ার ৪*; স্টার্লিং ১-০-১১-১, সিমি ১-০-৫-০, ম্যাককার্থি ০.১-০-০-০)। ফল: ম্যাচ পরিত্যক্ত। সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে আয়ারল্যান্ড ১-০তে এগিয়ে।

বিসিবি সভাপতি পাপনও যাচ্ছেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক \ পাকি¯Íান সফরে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট দলই যাচ্ছে না, ক্রিকেটারদের উৎসাহ দেয়া এবং সরাসরি ম্যাচ দেখার জন্য পাকি¯Íান যাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। গতকাল রোববার বিকেলে বিসিবিতে এসে নিজেই এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়ে গেছেন বিসিবি সভাপতি। একই সঙ্গে জানিয়ে দিয়ে গেছেন, বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কে কে ম্যানজার এবং অন্য কর্মকর্তা হিসেবে যাচ্ছেন। তুমুল বিতর্ক আর আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে পাকি¯Íান সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিন দফায় বাংলাদেশ পাকি¯Íান গিয়ে খেলবে তিনটি টি- টোয়েন্টি, দুটি টেস্ট এবং একটি ওয়ানডে ম্যাচ। শুরুতেই তিন ম্যাচের টি- টোয়েন্টি। ২৪ তারিখ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকি¯Íান। টি- টোয়েন্টি সিরিজের জন্য এরই মধ্যে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়ে গেছে। সিরিজে অংশ নিতে ২২ তারিখ রাতে পাকি¯Íানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মাঝে দুবাই কিংবা আবুধাবিতে যাত্রা বিরতি দিয়ে ২৩ তারিখ সকাল ১০টায় লাহোর গিয়ে পৌঁছাবে টাইগাররা। বিসিবি সভাপতি গতকাল দুপুর ২টার দিকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামস্থ কার্যালয়ে আসেন। প্রায় ৪০ মিনিট বোর্ডে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে পাকি¯Íান সফরের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। সেখানেই পাপন জানান যে, তিনি নিজেও পাকি¯Íানের লাহোরে যাচ্ছেন। তবে, পাপন পুরো টি- টোয়েন্টি সিরিজ পাকি¯Íানে থাকবেন নাকি প্রথমটি মিস করবেন, সেটা নিয়ে একটু দ্বিধা-দ্ব›দ্ব আছে। কারণ, পাপন নিজে বলেছেন যে, তিনি ২৩ তারিখ গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। কিন্তু বিসিবির একটি অফিস সূত্র জানিয়েছেন, বিসিবি সভাপতি প্রথম টি-টোয়েন্টি নয়, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় টি-টোয়েন্টি দেখবেন। বিসিবি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মুহুর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পাপন জানান, তিনি যাচ্ছেন এটা নিশ্চিত। তিনি বলেন, ‘আমার ইমার্জেন্সি কালকে (সোমবার) রাতে একটু বাইরে যেতে হচ্ছে। আবার আমি চলে আসব ২২ তারিখে। সুতরাং, আমি ওদের সাথে যেতে পারছি না। তো ওরা আবার ভাববে যে আমি আবার কোথাও চলে যাচ্ছি। আমি বলেছি যে, আমি ২৩ তারিখ ওখানে গিয়ে তোমাদের সাথে দেখা করব।’ দল কখন যাবে, সাপোর্ট স্টাফ কারা কারা থাকছে, সে বিষয়ে কথা বলেন পাপন। তিনি বলেন, ‘সাপোর্ট স্টাফ কারা যাচ্ছে বা যাচ্ছে না এটা মেক সিউর করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তো এটা নিয়ে বসব এখন (আজ, রোববার)। যাওয়া-আসার (খেলোয়াড়দের) ব্যাপারটাও দেখব এখন। কীভাবে যাচ্ছি, ভ্রমণের সেরা উপায়টা কি? ওরা ২২ তারিখ রাতে রওনা দিয়ে ২৩ তারিখ সকাল ১০ টায় গিয়ে পৌঁছাবে।’ বিসিবি সভাপতি যে যাচ্ছেন, সেটা তো তিনি নিজেই জানালেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে কারা থাকবেন পাকি¯Íানে? এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাপন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট থাকবে, পরিচালকের আবার দরকার আছে নাকি? থাকবে ইনশাআল¬াহ। থাকবে সবাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম নান্নু যাচ্ছে?  বলে নান্নু যাচ্ছে। এরপর জিজ্ঞেস করলাম, আকরাম যাচ্ছে, পরে বলে যে, মনে হয় যাচ্ছে। তো আমি বললাম, যে মনে হয় না। এখনই কনফার্ম করো আমাকে। কে কে যাচ্ছে। আমরা চাচ্ছি যে আমরা সবসময় যেভাবে ট্যুরে যাই ওভাবেই যাবো।’ জানা গেছে, লজিস্টিক ম্যানেজার হিসেবে পাকি¯Íান যাচ্ছেন সাব্বির খান। সঙ্গে থাকছেন আকরাম খান। তিনি ম্যানেজার নাকি শেপ দ্য মিশন- সেটা নিশ্চিত করেনি বিসিবি। এছাড়া সঙ্গে যাচ্ছেন বিসিবি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘ইন্ডিয়াতে যেমন ছিল। অপারেশনে তো সাব্বির থাকছেই। তারপরেও এসব আলাপ করতেই আসলে (আজ বিসিবিতে) এসেছি। আমি আসলে আলাপ শুরু করিনি। ওগুলোই দেখতে এসেছি কে কে যাচ্ছে, না যাচ্ছে। এটা জানি আমি যাচ্ছি।’