বড় বিনিয়োগ নিয়ে মিয়ানমার যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে অভিযোগে যখন মিয়ানমার থেকে পশ্চিমাবিশ্ব মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, ঠিক তখনই বড় বিনিয়োগ নিয়ে কোটি কোটি ডলারের অবকাঠামো চুক্তি করতে দেশটিতে সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার দু’দিনের সফরে মিয়ানমার যাচ্ছেন জিনপিং। ১৯ বছরের মধ্যে তিনিই প্রথম কোনো চীনা প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেশটিতে যাচ্ছেন। সফরের প্রথম দিন রাজধানী নেপিধোতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি, সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এবং ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শি জিনপিং। এরপর চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (সিএমইসি) এর অধীনে উভয় দেশ বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে। এ সফরে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে ১৩০ কোটি ডলারের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, পূর্বদিকে দ্রুতগামী ট্রেন এবং বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র ইয়াঙ্গনে আরো কিছু শিল্প গড়ে তোলা নিয়ে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। রাখাইনে কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে চীন নাগালে পেতে চায় বঙ্গোপসাগর এবং এর মাধ্যমে সরাসরি ভারত মহাসাগরকে। তাছাড়া, দ্রুতগামী ট্রেনের মাধ্যমেও চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ওই বন্দরকে জোড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। এ পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পের পথ সুগম করা এবং মিয়ানমারে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারি দেশ হিসেবে চীনের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করাই শি-র সফরের লক্ষ্য। কিয়াউকফিউ বন্দর প্রকল্পের জন্য চীন ৭২০ কোটি ডলার বিনিয়োগে ইচ্ছুক ছিল। কিন্তু চীনা লগ্নিতে ঋণের ফাঁদে পড়ে দেশ বিকিয়ে যাওয়ার ভয়ে সে বিনিয়োগ ১৩০ কোটি ডলারে নামিয়ে এনেছে মিয়ানমার। বন্দর নির্মাণ ছাড়াও বিস্তীর্ণ শস্যভূমি ও বন উজাড় করে চীনের বিনিয়োগে গার্মেন্টস ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কখনো কখনো সমস্যাশঙ্কুল থাকলেও রোহিঙ্গা প্রশ্নে চীন মিয়ানমারের পাশে দাঁড়ানোর পর থেকে দু’য়ের সম্পর্ক অনেকটাই উষ্ণ হয়েছে।

৯২ হাজার কোটি রুপি দিতেই হবে ভারতীয় মোবাইল অপারেটরদের

ঢাকা অফিস ॥ ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন আইডিয়াসহ ভারতের কয়েকটি টেলিকম অপারেটরের কাছ থেকে ৯২ হাজার কোটি রুপি আদায়ের যে আদেশ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গতবছর দিয়েছিল, তা পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। এনডিটিভি লিখেছে, বৃহস্পতিবার ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়কে টেলিকম খাতে বিশ্বের বড় বাজারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের টেলিকম বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই অপারেটরগুলোর কাছ থেকে লাইসেন্স ফি,লেভি ও সুদ মিলিয়ে ‘অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ’ (এজিআর) হিসেবে ওই অর্থ দাবি করে আসছিল। দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে গতবছর অক্টোবরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সরকারের টেলিকম বিভাগের পক্ষে রায় দেয়। পাওনা পরিশোধে অপারেটরগুলোকে ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন আইডিয়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া টাটা টেলিসার্ভিসেস আদালতের ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল। বৃহস্পতিবার তা খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, অপারেটরদের ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে তিন মাসের মধ্যে। এর বাইরে স্পেকট্রাম ফি বাবদ অপারেটরগুলোকে আরও ৪১ কোটি রুপি পরিশোধ করতে হবে ভারতের টেলিকম বিভাগকে। রয়টার্স লিখেছে, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ঋণভারে ধুঁকতে থাকা ভারতের টেলিকম কোম্পানিগুলো এই রায়ের ফলে আরও বড় সমস্যায় পড়ল। আর ভোডাফোন আইডিয়ার জন্য এই আদেশ রীতিমত অস্তিত্বের সঙ্কট তৈরি করবে। ব্রিটেনের ভোডাফোন গ্র“প ও ভারতের আইডিয়া সেলুলারের মিলিত এই কোম্পানিই গ্রাহক সংখ্যার দিক দিয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় অপারেটর। তাদের কাছে ভারতের টেলিকম বিভাগের দাবি ১৯ হাজার ৮২৩ কোটি রুপি। এছাড়া ভারতী এয়ারটেলকে ২৩ হাজার কোটি রুপি এবং রিলায়েন্স কমিউনিকেশনসকে ১৬ হাজার ৪৫৬ কোটি রুপি পরিশোধ করতে হবে। ভোডাফোন বলেছে, সরকার যদি ওই পাওনা মওকুফ না করে, অথবা আইনি একটি সমাধান যদি খুঁজে বের করা না হয়, তাহলে আর তাদের পক্ষে ভারতে ব্যবসা করা সম্ভব নাও হতে পারে। আর ভারতী এয়ারটেল বলেছে, টেলিকম খাত যেখানে আগে থেকেই ধুঁকছে, আদালতের এই আদেশের ফলে এখন টিকে থাকাই কঠিন হয়ে

আপনাদের জন্য আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত – ইশরাক

ঢাকা অফিস ॥ কোনো বাধা বিপত্তি না মেনে আগামী ৩০ তারিখে নগরবাসীকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, আমার বাবা শিখিয়েছে কোন মানব সন্তান অন্য মানুষের কাছে মাথা নত করবে না। আল্লাহ তাআলা বানিয়েছে উনাকে ভয় করবে। আমরা কারো জমিদারি মানবো না। জনগণকে সামনে নিয়ে জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দেব। আপনারা বিএনপি-সমর্থিত সব কাউন্সিলরদের ভোট দেবেন। কারণ তারা আমাদের সঙ্গে সংগ্রামে যুক্ত। ইনশাআল্লাহ রাজপথে দেখা হবে। আপনাদের জন্য আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত। শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণার অষ্টম দিনের শুরুতে রাজধানীর কদমতলী থানার ৬১ নং ওয়ার্ডের দনিয়া বর্ণমালা স্কুলের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ইশরাক বলেন, গত ৯ বছর তাদের অধীনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হচ্ছে। আমি এই এলাকার দুর্দশার কথা জানতে পেরেছি, আমি নিজেও এই এলাকায় এসে ঘুরে দেখেছি আপনাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে । আসার সময় দেখলাম বড় একটা নর্দমা। সেই নর্দমার মধ্যে দিয়ে ময়লা পচা আবর্জনা যুক্ত পানি বয়ে যাচ্ছে। তার ঠিক পাশেই ঘনবসতি। কাঁচা বাজার এবং অন্যান্য সামগ্রী দোকানপাট রয়েছে। এইযে দূষিত পরিবেশ বিরাজমান এইটা পুরো ঢাকা শহরের চিত্র। তিনি বলেন, আপনারা জানেন বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা এক নম্বরে আছে। বিশ্বের সবচেয়ে বায়ু দূষণের তালিকায় গত তিন দিন যাবত ঢাকার অবস্থান এক নম্বরে রয়েছে। নারী এবং শিশুদের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ শহরের একটি তালিকা হয়েছিল মাস দুয়েক আগে। সেখানেও ঢাকার তালিকা এক নম্বরে রয়েছে। ইশরাক বলেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় ঢাকা নগরীকে এই সরকারের আমলে তিলে তিলে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। তারা দেখাচ্ছে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আপনারা একটু চিন্তা করে দেখেন, শেয়ার মার্কেট লুট, বাংলাদেশ ব্যাংক লুট, ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা লুট, সরকারি ব্যাংক লুট, বেসরকারি ব্যাংকগুলো লুট, ধর্ষণ, হত্যা, গুম, খুন, ভোটের অধিকার হরণ, জনগণের কথা বলার অধিকার হরণ, আমাদের বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন করা হয়েছিল এই বাংলাদেশের জন্য না। এরা এমনই উন্নয়ন করে যে পদ্মা সেতুর একটা করে পিলার বসিয়ে হেডলাইন করে। এমন আজব উন্নয়ন আমরা দেখিনি। এই ব্রিজ কবে খুলবে? কবে আমরা ব্যবহার করতে পারব? সেটা আমরা জানি না। এক টাকার জিনিস ২০ টাকা হয়েছে। জনগণের টাকার অপচয় করা হয়েছে। দুঃখ দুর্দশার একটা নগরীতে পরিণত হয়েছে ঢাকা। তারা হাজার কোটি টাকা বিদেশে সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা পাচার করছে। এরা ২০০ টাকার বালিশ ৭ হাজার টাকায় কিনেছে। ইশরাক আরো বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের রাজনীতি করে। আমরা কোন পরিবার কেন্দ্রিক রাজনীতি করি না। আমরা জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দেব। বাংলাদেশকে আবারো স্বাধীন করবো। আগামী ৩০ তারিখে আপনারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। আপনারা কোনো বাধা বিপত্তি মানবেন না। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যে আন্দোলনের সূচনা করেছে আগামী ৩০ তারিখে আপনারা ভোট দিয়ে ধানের শীষ কে জয়যুক্ত করবেন। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে প্রথমে এই এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করব। ঢাকা ওয়াসা কে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসব। বিশুদ্ধ পানির সঞ্চালনের জন্য ওয়াসার সঙ্গে বসে আমরা সেই সঞ্চালন লাইন প্রতিস্থাপন করব। ডেঙ্গুর বিষয়ে পুরো ঢাকার ওপর আমাদের একটা কার্যক্রম রয়েছে। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন, তানভীর রবিন সহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে কৃষিতে সফলতা এসেছে – এলজিআরডি মন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের উন্নতির পাশাপাশি দেশ স্বর্নিভর হবে। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে সফলতা অর্জন করেছে। আমরা এখন বিদেশেও খাদ্য রফতানি করতে পারছি। দেশ যত বেশী উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ততই আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার কুমিল্লার লাকসামে আধুনিক যন্ত্র নির্ভর ও কমিউনিটি ভিত্তিক যৌথ চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক করার লক্ষে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) কর্তৃক গৃহীত কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ ও যৌথ খামার ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, যান্ত্রিকীকরণের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করে আধুনিক চাষ ব্যবস্থা প্রবর্তনের মডেল উদ্ভাবনের লক্ষে এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে খন্ড খন্ড জমিকে ডিজিটাল ভূমি জরিপের মাধ্যমে আইল উঠিয়ে দিয়ে জমিতে বিভিন্ন জাতের ফসলের চাষাবাদ ও শস্য উৎপাদন করা হচ্ছে। আধুনিক এ পদ্ধতিতে কৃষকদের নিয়ে গঠিত একটি সামাজভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ এর মাধ্যমে চাষাবাদ পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে সরকারের সব ধরনের ভর্তুকির পরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে যৌথ খামার প্রতিষ্ঠার ফলে কৃষি পণ্যের উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে এবং কৃষি হবে কৃষকের জন্য আরেকটি লাভজনক জীবিকা। আমার বিশ্বাস, পরীক্ষামূলক এ প্রকল্পটি একটি উন্নয়ন মডেল হিসাবে দাঁড়াবে এবং কৃষিতে আরেকটি নতুন বিপ্লব সূচিত হবে। কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রেজাউল আহসান, বার্ডের মহা-পরিচালক মো. শাহজাহান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও কুমিল্লার উপ-পরিচালক সুরজিত চন্দ্র দত্ত, লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান এড. ইউনুছ ভূঁইয়া, ভাইস-চেয়ারম্যান মহব্বত আলী, পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি তাবারক উল্লাহ কায়েস প্রমুখ। বার্ড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল ভূমি জরিপের মাধ্যমে উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের নোয়াপাড়া, ছনগাঁও গ্রামের যৌথ খামার প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী ৭৫ জন কৃষকের ৪০ একর কৃষিজমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়।

 

২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর শিক্ষার্থীরা – শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরাই হচ্ছে ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তাদের হাত ধরেই দেশে পরিবর্তন আসবে। একেকজন হবে চ্যাম্পিয়ন অব চেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠতে শেখ হাসিনার সরকার পাশে আছে। বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে ও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ব্যবস্থাপনায় কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার ৪৯তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উদ্বোধনী সভা শেষে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মন্ত্রী এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবদুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাউশি বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ ও অন্যান্য অতিথিরা। অনুষ্ঠানে দেশের সকল শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, দেশের ৪টি অঞ্চলের ৮০৮ জন প্রতিযোগী সকল ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে। এতে অ্যাথলেটিক্স, হকি, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় বকুল অঞ্চল (চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা), গোলাপ অঞ্চল (খুলনা, বরিশাল), পদ্ম অঞ্চল (ঢাকা, ময়মনসিংহ) এবং চাঁপা অঞ্চলের (রাজশাহী, রংপুর) ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করছে। ৬ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার পর্দা নামবে আগামী ২২ জানুয়ারি। এদিন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে ট্রফি, মেডেল, প্রাইজবন্ড ও সনদপত্র বিতরণ করা হবে।

আলমডাঙ্গায় ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের পুরষ্কার বিতরণ করলেন পুলিশ সুপার

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় কলেজপাড়া একাদশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ১৬ দলের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় কলেজপাড়া একাদশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গোবিন্দপুর এশিয়া একাদশ। প্রধান অতিথি থেকে টুর্নামেন্টের পুরষ্কার বিতরণ করলেন পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কলিম উল্লাহ, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবীদ গোলাম ছরোয়ার মিঠু, সহকারী অধ্যাপক আবু মোনায়েম, আলমডাঙ্গা পৌর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামীম রেজা। মাসুদ রানা তুহিনের উপস্থাপনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মীর আসাদুজ্জামান উজ্জ্বল, হাশেম রেজা, সোয়েবুজ্জামান সোহেল, জুয়েল, আরিফুল ইসলাম, সেলিম, প্রিন্স, মাসুম, জুয়েল আহমেদ, জহির, সোহাগ, হিল্লোল প্রমুখ। গতকালের ফাইনাল খেলায় অংশগ্রহণ করে কলেজপাড়া একাদশ ও গোবিন্দপুর এশিয়া একাদশ। খেলায় কলেজপাড়া একাদশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া একাদশ জয়ি হয়। ম্যাচ অব দ্যা ম্যানের পুরষ্কার লাভ করেন এশিয়া একাদশের জামিরুল ও ম্যান অব দ্যা সিরিজের পুরষ্কার লাভ করেন কলেজপাড়া একাদশের মানিক। সেরা ব্যাটসম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কলেজপাড়ার সোয়ান। রানার আপ দলকে ৮ হাজার টাকার প্রাইজমানি ও বিজয়ি দলকে এসবি প্রধান মীর শহিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে ১৫ হাজার টাকার প্রাইজমানি প্রদান করা হয়। এছাড়া কলেজপাড়া একাদশের অধিনায়কত্ব করেন সেলিম এবং এশিয়া একাদশের অধিনায়কত্ব করেন রায়হান।

ভেড়ামারায় র‌্যাবের অভিযানে দেশীয় তৈরী চোলাইমদসহ একজন গ্রেফতার

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় ‘‘কুষ্টিয়া জেলার  ভেড়ামারা থানাধীন ভেড়ামারা বাজারস্থ ডাক্ বাংলার বিপরীত পাশের্^ ভাই ভাই ইলেট্রনিক এর দোকানের সামনে পাঁকা রাস্তার পাশের্^ হতে’’ একটি মাদক অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ৬৬ লিটার দেশীয় তৈরী চোলাইমদ এবং নগদ ৯৪০ টাকাসহ শাজাহান (৬৩), পিতা-মৃত বারেক মোল্ল্যা, মাতা-মৃত মোছাঃ কুটি বেগম, সাং-কাচারীপাড়া, থানা-ভেড়ামারা, জেলা-কুষ্টিয়া’কে গ্রেফতার করা হয়। পরর্বতীতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামীকে ভেড়ামারা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

মহিলা উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে তাঁত শিল্প বিষয়ে আলোচনা

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ মহিলা উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে তাঁত শিল্প বিষয়ে আলোচনা সভা হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাওতা কারিগরপাড়ায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা জহুরা বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন চাপড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চাপড়া ইউনিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান চায়না খাতুন, বাংলাদেশ মহিলা উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার খন্দকার জুলফিকার ইমাম। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নির্মল বিশ^াস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারী বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। তাদের জন্য সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ অথবা এককালিন অনুদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে অল্প মূল্যে সুতা ক্রয় এবং উৎপাদিত পন্য সঠিক দামে বিক্রি করতে পারে।

দৌলতপুর সীমান্তে মাদক উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাদক উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মহিষকুন্ডি বিওপি’র টহল দল মহিষকুন্ডি কলেজমাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মদের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

কুষ্টিয়া পৌর, সদর ও মিরপুর উপজেলা কমিটি অনুমোদন

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার নির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার নির্বাহী পরিষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে, ১৭ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. মোফাজ্জেল হক। পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুনীল কুমার চক্রবর্তী। বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি সৈয়দা হাবীবা, সহ-সভাপতি খন্দকার শরিফুল আলম সিদ্দিক কচি, সহ-সভাপতি সনৎ কুমার পাল বাবলু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসান জামিল খান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডঃ শীলা বসু (এজিপি), নারায়ন চন্দ্র, দেবাশীষ বাগচী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. শর্মিষ্ঠা হোসেন, অর্থ সম্পাদক ইয়ার আলী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএস আকরাম হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, নির্বাহী সদস্য স্বপন আলী, শ্যামলী ইসলাম, প্রীতম মজুমদার প্রমুখ। সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে একটি উদ্যাপন কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ’র বিভিন্ন শাখা কমিটি অনুমোদন সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোফাজ্জেল হক, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী মনির আহাম্মদ, মিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মাজিজুর রহমান (মাজেদ), সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মানিক এবং কুষ্টিয়া পৌর শাখার সভাপতি শ্যামলী ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার এর নাম ঘোষণা করেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদন দেয়া হয়। শেষে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি খন্দকার শরিফুল আলম সিদ্দিক কচি একটি কবিতা পাঠ করেন।

তাপস-আতিকের গণসংযোগে উপচে পড়া ভিড়

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার অষ্টম দিনের মতো আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগে ছিল উপচে পড়া ভিড়। হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভোট প্রার্থনা করে তারা। এ সময় ঢাকা উত্তরে নৌকার প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ‘জবাবদিহিতামূলক ঢাকা’ এবং দক্ষিণে নৌকার প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ‘ঐতিহ্যবাহী ঢাকা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সিটি কর্পোরেশনের মতো বিভিন্ন ওয়ার্ডগুলোতেও গুণগত সেবার মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন ভোটারদের। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আপনারা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি কথা দিতে চাই, মেয়র, কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনব। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতি মাসে সবাইকে নিয়ে টাউন হল মিটিং করব। যে মিটিংয়ে কাউন্সিলরসহ এলাকার জনগণ উপস্থিত থাকবেন। এলাকার যত সমস্যা, যা সমাধান হয়নি, এলাকার উন্নয়নে আর কি কি করা বাকি আছে, কোন কাজ আগে করতে হবে, অর্থাৎ সমস্যা চিহ্নিত এবং তার সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে টাউন হল মিটিংয়ে। যার মাধ্যমে জনগণের কাছে আমাদের সবার জবাবদিহিতা থাকবে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মানিকদি কালিবাড়ির বাউনিয়া এলাকায় গণসংযোগের শুরুতে তিনি এ ঘোষণা দেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আসন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি আরও বলেন, নৌকার কোনো ব্যাক গিয়ার নেই, নৌকার আছে শুধু ফ্রন্ট গিয়ার। আর এ ফ্রন্ট গিয়ার মানে শুধু উন্নয়নের গিয়ার। নয় মাস দায়িত্বপালনকালে আমরা নানা সমস্যা চিহ্নিত করেছি, সেসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারির ভোটে আমি নির্বাচিত হলে ফুটপাত, এলইডি লাইট, ড্রেনেজ, রাস্তাসহ আধুনিক পরিকল্পিত বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে শুরু করব ইনশাআল্লাহ্। এদিন কালিবাড়ির (বালুঘাট) বাউনিয়া মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করে মানিকদি, মাটিকাটা, লালসরাই এলাকায় এবং দুপুরের পর ভাষানটেক, বাইগারটেক, আলব্দীটেক, বারনকোট, দামালকোট ও বিআরবি কলোনি এলাকায় নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে গণসংযোগ করেন আতিকুল ইসলাম। এসব এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে আতিকুল আরও বলেন, বস্তিবাসীও আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাট তৈরি করে দেয়া হবে। আমরা কাজগুলো হাতে নিয়েছি। আমরা মনে করি- পুনর্বাসন ছাড়া কোনো উচ্ছেদ করা যাবে না। এটার আইনি দিক আমরা দেখব। বস্তিতে যে কয়দিন থাকুক না কেন, তাকে ওই কয়দিনের ভাড়া দেয়ার ব্যবস্থা আমরা করব। এরকম একটা ডিজাইন তৈরি করেছি আমরা। কিন্তু ৯ মাসে সবকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। অনেক কিছু আমরা প্ল্যান করে ফেলেছি। এ সময় নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকার জন্য ভোট চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেককে ভোট দিতে হবে। প্রত্যেককে ভোটের মাঠে আনতে হবে। এদিকে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে দিনব্যাপি প্রচার-প্রচারণা চালান আতিকুল ইসলামের সহধর্মিনী ডা. শায়লা সাগুপ্তা ইসলাম। এ সময় মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, আমিই একমাত্র মেয়র প্রার্থী যিনি ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে নিয়ে চিন্তা করে সুনির্দিষ্ট উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছি। আমরা মৌলিক ৫টি উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছি। আমাদের পাচঁটি রুপরেখা হল- ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা। এই ৫টির সমন্বয়ে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা হবে। ঐতিহ্যবাসী ঢাকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং এর স্বকীয়তাকে আমরা পুনরুজ্জীবিত করব। শুক্রবার সকালে রাজধানীর বংশাল থানার ফুলবাড়ীয়ায় কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের সামনে নির্বাচনী গণসংযোগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তপস বলেন, আগামী ৩০ জানুয়ারি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশে গণসংযোগ করছি। কোনো রকম আচরণবিধি লঙ্ঘনের অবকাশ নেই। নেতাকর্মী এবং জনগণের মাঝে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ আছে। ইনশাআল্লাহ আগামী ৩০ জানুয়ারি আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। এ সময় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির নেতাদের অভিযোগের প্রসঙ্গে তুলে তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মী ও জনগণের মাঝেও একটি উৎসবমুখর সুষ্ঠু পরিবেশ আছে। উনারা অভিযোগ নিয়ে ব্যস্ত, আমরা গণসংযোগ নিয়ে ব্যস্ত। শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আমরা যে গণসংযোগ শুরু করেছি তাতে ঢাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। আমরা যে উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছি, ঢাকাবাসী তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে। আগামী ৩০শে জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমাকে নির্বাচিত করবে বলে আমি আশাবাদী। এ সময় তিনি ৩৪নম্বর ওয়ার্ডে দলের কাউন্সিলর প্রার্থী মীর সমীর ও মহিলা কাউন্সিল রুনা হুমায়ুন পারভীনকে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে শেখ তাপস নেতাকর্মীদের নিয়ে পুরান ঢাকার সংশ্লিষ্ট এলাকার অলিগলিতে লিফলেট বিতরণ করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ভোট চান। বঙ্গবাজার এলাকা থেকে তাপস কাজী আলাউদ্দিন রোড হয়ে পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে প্রচার চালান। দুপুরে আরমানিটোলার তারা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তিনি। পরে চকবাজার, বংশাল ও কোতোয়ালি এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। এসব এলাকায় গণসংযোগকালে ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে আমি সেবা প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ঢাকা নগরীকে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকে শুরু করে বাসযোগ্য সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, রাস্তায় আবর্জনা থাকবে না। মশক নিধন, সবুজায়ন এসব আমরা দৈনন্দিন ভিত্তিতে করব। ২৪ ঘণ্টা সিটি কর্পোরেশন এই কাজে নিয়োজিত থাকবে। আমাদের প্রাণের ঐতিহ্যের ঢাকা থাকবে একটি গর্বের জায়গায়। পুরান ঢাকায় প্রচারে গিয়ে পুরান ঢাকার সমস্যা সমাধানের গুরুত্ব দিয়ে তাপস বলেন, পুরাতন ঢাকার সমস্যা নিয়ে আগে কেউ কোনো পরিকল্পনা নেয়নি। আমার এ বিষয়ে বিস্তর পরিকল্পনার আছে। আমাদের প্রথম পরিকল্পনাই হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে নিয়ে এখানে জলাবদ্ধতা নিরসন থেকে শুরু করে আমাদের ব্যাপক কার্যক্রম আমরা হাতে নেব। আমাদের যে মহাপরিকল্পনা সেই পরিকল্পনার আওতায় ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে সচল করে তুলব। নগরবাসী বাসযোগ্য সুন্দর নগরী পাবে। প্রচারকালে তাপস আবারও প্রথম ৯০ দিনে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় ব্যাপকভাবে কাজ শুরুর কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা যে মহাপরিকল্পনা নেব সেখানে ঐতিহ্যবাহী ঢাকাকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা সেভাবে কাজ করতে চাই। যে ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে তা কীভাবে পুনরুদ্ধোর, পুরজ্জীবিত করতে পারি এবং বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পারি সেটাই মূল লক্ষ্য থাকবে।

চেইন-আংটির জন্য শিশু মাহিনকে হত্যা করে মিজান

ঢাকা অফিস ॥ শিশু মাহিনের গলায় ছিল রুপার চেইন আর হাতের আঙ্গুলে ছিল একটি সোনালী রংয়ের আংটি। সোনালী রংয়ের হওয়ায় ইমিটেশনের আংটিকে সোনার আংটি ভেবে সেটি আত্মসাতের কুমতলব আটে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া মিজান। সুযোগ বুঝে গত বছর ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাসার সামনে থেকে মাহিনকে ধরে পাশের ঝোপের মধ্যে নিয়ে যায় মিজান। ভয়ভীতি দেখিয়ে মাহিনের গলার চেইন ও আংটি খুলে নেয়। এসময় মাহিন চিৎকার করতে থাকলে মিজান গলাটিপে মাহিনকে হত্যা করে। পরে লাশ মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। দুই মাস পর বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট থেকে মিজানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। শুক্রবার তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে মিজান। গত বছরের ২৪ নভেম্বর রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ বালুর মাঠ সংলগ্ন ঝোপের মধ্যে মাটিতে পোতা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশু রবিউল ইসলাম মাহিনের লাশ। ওই এলাকার জনৈক বাদশা মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ইসলামইল মিয়ার পুত্র মাহিন। পাশের কক্ষে পরিবার নিয়ে থাকতো মিজান। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসিকুজ্জামান জানান, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল মিজান। প্রথম থেকেই আমরা মিজানের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম যে সেই খুনি। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে করে হত্যার মোটিভও জানা যায়নি। অবশেষে বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টার পর চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে মিজান জানিয়েছে, শিশু মাহিনের গলায় থাকা রুপার চেইন ও হাতের সোনার আংটির জন্য তাকে গলাটিপে হত্যা করে মিজান। পরে রুপার চেইনটি ৩০০ টাকায় বিক্রি করে দেয়। আর আংটি ছিল ইমিটেশনের (নকল)। এতে মিজান আশাহত হয়ে সেটি রাস্তায় ফেলে দেয়।

ঝিনাইদহে নসিমনচাপায় শিশু নিহত

ঢাকা অফিস ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় নসিমনচাপায় তিন বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার মোস্তবাপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান। তিনি বলেন, ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে আদনান বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় রডবোঝাই একটি নসিমন এসে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সে মারা যায়। পুলিশ চালককে ধরতে পারেনি। তবে নসিমন আটক করেছে বলে জানিয়েছেন ওসি মাহফুজুর রহমান।

হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিহ্ন হতে চাই না – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ দশম সংসদ নির্বাচন ও এর বর্ষপূর্তি ঘিরে ধারাবাহিক অবরোধ-আন্দোলনে বিএনপির যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে উঠতে এখনও বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এখন হঠাৎ করে আর কোনো ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিহ্ন হতে চান না বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার: বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সিটি নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচকদের নানা আশঙ্কার জবাবে একথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। দলের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা যখন কোর্টে যাই সেটা আন্দোলনের একটা অংশ, আমরা যখন আলোচনা সভা করি সেটাও আন্দোলনের অংশ, আমরা যখন নির্বাচনে অংশ নেই সেটাও আন্দোলনের অংশ। আমরা এই আন্দোলনগুলোকে এক সাথে করে নিয়ে বড় একটা আন্দোলনের চেষ্টা করছি।” এক দশকের বেশি সময় ধরে বিরোধী দলে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের যে বৈরিতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “আমাদের ৩৬ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এক লাখের বেশি মামলা হয়েছে, ৫০০ এর বেশি মানুষ গুম হয়ে গেছে, খুন হয়েছে, প্রতিদিন গ্রেপ্তার হচ্ছে। ছোট-খাটো বিষয়েও মামলা হয়ে যাচ্ছে। এই সেদিনও আমার বিরুদ্ধে তিনটা মামলা হয়েছে। এগুলোকে ফেইস করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।” সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে ক্ষমতার বাইরে যাওয়া বিএনপি এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর পাঁচ বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে তার প্রতিরোধের ডাক দেয় দলটি। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ জোট। এরপর ওই নির্বাচনে প্রথম বর্ষপূর্তি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে টানা তিন মাস অবরোধ-হরতাল চালিয়ে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই দুই আন্দোলনের মধ্যে গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার নানা ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়, আহত হন কয়েকশ মানুষ। ওই আন্দোলন যে বিএনপির জন্য ভালো ফল বয়ে আনেনি তা স্বীকার করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের ভুল-ত্রুটি হয়েছে, সেই ভুল-ত্রুটি নিয়ে আমরা কিন্তু সরে দাঁড়াইনি। বিশ্ব রাজনীতির যে পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনগুলোকে সামনে নিয়ে সেগুলোকে পাশে রেখে আমাদের এগোতে হবে। আমরা আজকে হঠাৎ করে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে চাই না। “আমাদের অভিজ্ঞতা আছে ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়ে এবং ২০১৫ সালের আন্দোলনের সময়ে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এখনও আমাদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে।” তবে এখনও আত্মবিশ্বাস হারাননি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা ভীষণভাবে বিশ্বাস করি, আমরা সফল হব। আমরা একটা বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলছি যে, একটা বৃহত্তর ঐক্য সৃষ্টি করে যে দানব আমাদের সমস্ত অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে তাকে পরাজিত করতে হবে।” জনগণকে একত্রিত করতে পারলে এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনেই কাঙিক্ষত জয় ধরা দেবে বলে আশাবাদী বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “আমরা যদি জনগণকে একত্রিত করতে পারি তাহলে তাদের (সরকার) সমস্ত ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়ে আমরা এই নির্বাচনে জয়ী হতে পারব ইনশাল্লাহ। যদি বলেন, তাহলে বলতে হয়, জয়ের জন্যই আমরা নির্বাচনে গেছি, পরাজয়ের জন্য যাইনি। “আগে থেকে আমরা কখনোই বলতে রাজি নই যে, এখানে আমরা হেরে যাব। আমরা হারব না, অবশ্যই আমরা জয়লাভ করব। আমরা তরুণদের নিয়েছি, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে নিশ্চয়ই আমরা জয়লাভ করব।” তবে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ভোট হওয়া সম্ভব নয় মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের সমস্ত সুযোগ নষ্ট হয়ে গেছে সেই দিন যেদিন বিচারপতি খায়রুল হক সাহেব যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের রায় প্রদান করেছিলেন। এই কথাটা আমরা অনেকেই বলি না। সেই দিন থেকে বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।” তাছাড়া ‘দলীয় দৃষ্টিকোণ’ থেকে নির্বাচন কমিশনকে গঠন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “অনেকের মনে থাকার কথা তখন আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচন কমিশন গঠনের একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সঙ্গতকারণেই যেহেতু তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে, রাষ্ট্রপতিও সেদিন সেটার প্রতি গুররুত্বারোপ করেনি।” এই সভায় আলোচনায় ইভিএমে ভোট কারচুপির শঙ্কা জানিয়ে নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। “যতই চিৎকার করেন, যা- ই করেন ৩০ তারিখের ভোট কোনো ভোট নয়। ওই ভোটে ধানের শীষ জিততে পারবে না। ওরা জিততে দেবে না,” বলেন তিনি। সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন। অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্রের মাধ্যমে ত্রুটিযুক্ত ইভিএমে ‘ভোট কারচুপির’ বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। আয়োজক সংগঠন পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি শওকত মাহমুদ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, আইন বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম বোরহানউদ্দিন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হক, সাংবাদিক এম এ আজিজ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কাদের গনি চৌধুরী।

ইসির নির্দেশনায় কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে । নির্বাচন ও পূজা একই দিন হওয়ায় সরকারের কিছু করার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তারা যেভাবে চাইবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেভাবে কাজ করবে। শুক্রবার রাজধানীর মধুবাগে শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ও সরস্বতী পূজা একই দিন হলেও বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের। এই সিদ্ধান্ত তারা নেবে। এতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হবে এমন কোনো কারণ নেই। আমরা মনে করি সবাই সবার গুরুত্বটা বোঝেন। নির্বাচন কমিশন যা বলবেন আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেই দিকে নজর রেখেই কাজ করবে। এছাড়া আমাদের জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অনেক দায়িত্ববান। কাজেই কোনো কিছুতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয় এমন কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন কমিশন আমাদের যে নির্দেশনা দিচ্ছে আমরা সেটাই করছি। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি, তারপর দেশের স্বাক্ষরতার হার একদম কমে যায়। ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর এখন দেশের স্বাক্ষরতার হার ৭৩ ভাগে পৌঁছেছে। এখন অভিভাবকরা বুঝতে শিখেছেন শিক্ষার বিকল্প নেই। জোর গলায় বলতে পারি, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে মানুষ তার সন্তানদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করছেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রী বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সব স্কুলে ইমারতসহ সবক্ষেত্রে সুন্দর ও উন্নত করা হয়েছে। এ কারণে আমরা সবস্তরে শিক্ষার সুফল পাচ্ছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে যেসব ওয়াদা আমরা করেছিলাম একের পর এক তাতে সফল হচ্ছি। এই কারণে বাংলাদেশ আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। শুধু শিক্ষার হার না, সবকিছুতে আমরা সফল থেকে সফলতর হচ্ছি। যা বলে শেষ করা যাবে না। সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সাত্তার, প্রতিষ্ঠানটির গর্ভনিং বডির সভাপতি সুফি সুলতান আহমেদ প্রমুখ।

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লীর জুম্মার নামাজ আদায়

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে তুরাগ তীরে লাখো মুসল্লীর অংশগ্রহণে জুম্মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ভোর থেকেই আশপাশের জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুসল্লীরা এসে এ জুম্মার নামাজে শরীক হন। জুমার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মোশারফ। গতকাল শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। দ্বিতীয় পর্বে জুম্মার বয়ানে বিশিষ্ট আলেমগণ বলেন, পরকালের চিরস্থায়ী সুখ শান্তির জন্য আমাদের প্রত্যেককে দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বীনের দাওয়াতের কাজে সঠিকভাবে মেহনত করতে হবে। ঈমান আমলের মেহনত ছাড়া কেউ হাশরের ময়দানে কামিয়াব হতে পারবে না। তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় তাবলিগ জামাতের দেশ-বিদেশের বুজুর্গ আলেমগণ ঈমান, আমল, আখলাক ও কালেমা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন। বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জুম্মার নামাজে অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ¦ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: আনোয়ার হোসেনসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ। বিশ্ব ইজতেমায় বার্ধক্যজনিত কারণে বৃহস্পতিবার রাতে এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তিনি সুনামগঞ্জের লক্ষ্মীপুর চাঁনপুর এলাকার হযরত আলীর ছেলে কাজী আলাউদ্দিন (৬৬)। অপরদিকে বিশ্ব ইজতেমার আসার পথে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- নরসিংদী জেলার বেলাব থানার সুরুজ মিয়া (৬০) ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানা এলাকার গোলজার (৪০)। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনে মুস¬ীদের নিরাপত্তাদানে র‌্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তা দিতে সতর্ক দেখা গেছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথম পর্বের ন্যায় দ্বিতীয় পর্বেও ৫ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ট্রাফিকের লোকবল বৃদ্ধি করে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘন্টা মুসল্লীদের নিরাপত্তাদানে নিয়োজিত রয়েছে।

ভোট বর্জন করে রাজপথে অঞ্জলি দেওয়ার ঘোষণা হিন্দু মহাজোটের

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন কমিশন সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। সংগঠনটি বলছে, তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারিই যদি ভোটের আয়োজন হয়, তাহলে সেদিন সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সরস্বতী পূজা করে রাজপথে অঞ্জলি নিয়ে কালো পতাকা মিছিল করবে তারা। পূজার দিনে ভোটের তারিখ রাখার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন হিন্দু সম্প্রদায়ের ‘আস্থা হারিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা ৩০ জানুয়ারির ঢাকা সিটির ভোট বর্জন করছি। কোনো হিন্দু ভাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। কোনো প্রচারে অংশ নেবেন না। “আমরা ৩০ তারিখ সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঘটপূজা করে রাজপথে অঞ্জলি নেব এবং কালো পতাকা মিছিল করব।” ভোটের তারিখ পেছানোর দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী অনশনে বসেছেন। এ বিষয়ে এক আইনজীবীর করা রিট হাই কোর্টে খারিজ হয়ে গেলেও তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। আর নির্বাচন কমিশন বলে আসছে, পূজা ও ভোট দুটোই পবিত্র, একসঙ্গে হলে কোনো সমস্যা তারা দেখছে না। এই ভূমিকার কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র বলেন, “যারা একটি গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায়, তারা সাংবিধানিক কোনো পদে থাকতে পারে না। এই কমিশনের প্রতি আমাদের আর আস্থা নেই। আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি। “আমরা সকল রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলরদের অনুরোধ করছি আমাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করার জন্য।” এই কমিশন দিয়ে নিরপেক্ষ ও  সুষ্ঠু ভোট আশা করা যায় না মন্তব্য করে পলাশ বলেন, “যারা একটি বৃহৎ সম্প্রদায়কে ভোট দান থেকে বিরত রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য ভালো না, তারা মুজিববর্ষের বাংলাদেশকে বিতর্কিত করতে চায়।” ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করার দাবি তুলে হিন্দু মহাজোটের সমন্বয়কারী শ্যামল কুমার রায় বলেন, “১০ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরপর ১৫ দিন প্রচারের সময় তো আছে। এ সময় পার হওয়ার পর ২৪ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ যে কোনো দিন নির্বাচন করা যায়। “সুতরাং নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা যেতে পারে, কিন্তু পূজার তারিখ পরিবর্তন করা সম্ভব না।”

নির্বাচন কমিশনের এই অনঢ় অবস্থান কেন- সেই প্রশ্ন তুলে শ্যামল কুমার বলেন, “নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে। মেয়র প্রার্থী সকলেই তারিখ পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেছেন। সেতুমন্ত্রীও বলেছেন। এখন যেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্ন হওয়ার মত পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের ব্যাপার। “এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এতো হার্ডলাইনে কেন? নির্বাচনের তারিখ কী আসমানি বিধান নাকি যে ওই তারিখেই হতে হবে। অবশ্যই পরিবর্তন করা যাবে।” নির্বাচন কমিশন পূজার দিনে ভোটের আয়োজন করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে কিনা- সেই সন্দেহ প্রকাশ করে হিন্দু মহাজোটের এই নেতা বলেন, “অতীতের নির্বাচন কমিশনের মত এই নির্বাচন কমিশনের ভেতরেও গলদ রয়েছে নাকি? যে দলের নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছেন সেই দলে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এরা কারা? “দেশের স্বাধীনতার পেছনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবদানকে যারা খাটো করে, সে সমস্ত চিন্তা-চেতনাকারীরাই এই ধরনের তারিখ দিতে পারে।” পূজার দিনে ভোটের তারিখ রাখার মধ্যে দিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপনকে ‘কলুষিত করার চেষ্টা’ চলছে বলে অভিযোগ করেন মহাজোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রভাস চন্দ্র মন্ডল। নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “দেশে দুই থেকে আড়াই কোটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আছে। এমন তারিখ দিয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবমাননা করা হয়েছে। এই তারিখ পরিবর্তন না করা হলে কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচি আসবে।” অন্যদের মধ্যে হিন্দু মহাজোটের সহ-সভাপতি ডিসি রায়, রণজিত মৃধা, যুগ্ম মহাসচিব সমীর সরকার, অখিল মন্ডল, ফণি ভূষণ হালদারস সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আনন্দঘন পরিবেশে মুজিবনগরের আম্রকাননে কুষ্টিয়ার ভোরের পাখি‘র বার্ষিক পিকনিক অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘ভোরের পাখি‘র বার্ষিক পিকনিক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী খেলাধুলা, গান, নাচ ও নানা রকমের খাবার দাবারের আয়োজনে মুজিবনগর আম্রকাননের পরিবেশ হয়ে উঠেছিল ভিন্ন রকমের। কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বর থেকে ৬ শতাধিক সদস্যের অংশগ্রহনে সকাল সাড়ে ৮টায় ১০টি বাসের বহর যাত্রা শুরু করে মুজিবনগরের উদ্দেশ্যে।  ভোরের পাখির নানান বয়সের সদস্যদের উপস্থিতিতে মুজিবনগর আম্রকাননের পরিবেশে ভিন্ন রূপ নেয়। সকালে শিশুদের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে খেলাধুলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এরপর মেয়েদের বালিশ বদল, শিশুদের বালিশ বদল ও পুরুষদের বেলুন ফুটানো খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভোরের পাখির সদস্যদের অংশগ্রহনে সংগীত পরিবেশিত হয়। বেলা শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মাহবুবউল আলম হানিফ ভোরের পাখি’র সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং পিকনিক অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করেন। হানিফ বলেন- আপনারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত মুজিবনগরে পিকনিক করতে গিয়েছেন সেখানকার সঠিক ইতিহাস জানুন। পরে মুজিবনগরের ইতিহাস তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম মানিক। পিকনিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাজী নুরুল ইসলাম। উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গার জেলা ও দায়রা জজ রাফিজুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবাদত হোসেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, কেএনবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান নাসির ও পিকনিক উদযাপন কমিটির আহবায়ক এ,এম,এম রোকনুজ্জামান নান্টু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল হক, ভোরের পাখির সদস্য ও কুষ্টিয়া চেম্বারের সহসভাপতি এস.এম কাদেরী শাকিল, চেম্বারের  পরিচালক মুক্তারুজ্জামান মুরাদ, চেম্বারের পরিচালক আলহ্জ্বা ওমর ফারুক, কুষ্টিয়া অটো চাল মিল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সাধু, মতিয়ার রহমান, আলী হোসেন, কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শাহেদ আলী, এস,এম আতিকুর রশিদ আতিক, আজাদুর রহমান, ইবি‘র ডেপুটি রেজিষ্টার মোয়াজ্জেম হোসেন, আতিয়ার রহমান আতি, হামিদুল ইসলাম, অধ্যাপক শিহাবউদ্দিন, আনোয়ার হোসেন বুলবুল, আব্দুস সালাম, সাজু ঘোষ, রেজাউল ইসলাম, আব্দুল আওয়াল, আব্দুল আজিজ, কামরুজ্জামানর মিন্টু, মনিরুল ইসলাম, নওয়াব আলী, সোহানুর রহমান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইএফআইসি ব্যাংকের ঢাকা মহাখালী শাখার ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম, র‌্যাফেল ড্র পরিচালনা করেন আলী হোসেন। ভোরের পাখি’র পিকনিক অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অজয় সুরেকা, বিশিষ্ট শিল্পপতি কেএনবি‘র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান নাসির ও মেহেরপুর সনো ডায়গনষ্টিক ও সনো নার্সিং হোমের স্বত্বাধিকারী জেপি আগরওয়াল। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া পৌর চত্বরে সকালে স্বাস্থ্য সচেতনা নিয়ে প্রতিদিন যারা হেঁটে থাকেন তাদের সংগঠন ‘ভোরের পাখি’  জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত থেকে কুষ্টিয়ার মানুষের মাঝে স্থান করে নিয়েছেন।

ভোট পেছানোর দাবিতে অনশনরত ২ ঢাবি শিক্ষার্থী হাসপাতালে

ঢাকা অফিস ॥ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজার দিনে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন পরিবর্তনের দাবিতে অনশনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুইজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনশনরত অপূর্ব চক্রবর্তী ও অর্ক সাহা। এছাড়াও জগন্নাথ হল ইউনিয়নের জিএস কাজল দাসকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, গত কয়েকদিনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে জাগো হিন্দু পরিষদ। উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ ফুটবল-২০২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের আয়োজনে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় কুষ্টিয়া একাদশ বনাম রাজশাহী একাদশ অংশগ্রহণ করে। কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মকবুল হোসেন লাবলু’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার)। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রফিউস সামস প্যাডি, রাজশাহী বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহাফুজ্জুর আলম লোটন, রাজশাহী জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডাবলু সরকার, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসান খান, কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি আলী হাসান মন্টা, শেখ সুলতান আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ লিয়াকত আলী খান, বঙ্গবন্ধু জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ কুষ্টিয়া ভেন্যুর চেয়ারম্যান খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সাদাত-উল-আনাম পলাশ, সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোহামদ আলী নিশান প্রমুখ। খেলায় প্রথমার্ধে কুষ্টিয়া একাদশের পক্ষে প্রথম গোলটি করেন তানিম (জার্সি নম্বার-১৭) ও প্রথমার্ধে রাজশাহীর পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন আবুল কালাম আজাদ (জার্সি নম্বর-১০)। দ্বিতীয়ার্ধে কুষ্টিয়া একাদশের পক্ষে আবারও তানিমের গোলে জয়লাভ করে কুষ্টিয়া একাদশ।

সিটি নির্বাচনে তারিখ নিয়ে কমিশন গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্বাচন কমিশন আলোচনা সাপেক্ষে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাবে বলে মনে করি। তিনি বলেন, সরস্বতি পূজার কারণে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করলে আওয়ামী লীগ বা সরকারের আপত্তি নেই। তারিখ পরিবর্তনের এখতিয়ার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। কাদের গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদক মন্ডলীর মূলতবি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে মন্তব্য করেছেন তা বিভ্রান্তিকর। তিনি নিজেও ইভিএম পদ্ধতিতে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বগুড়া সদর আসন থেকে। সর্বশেষ ইভিএমে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া পৌরসভা যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে বিএনপি’র প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। অপর প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়াামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলছেন অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন যখন যা খুশি তাই বলছেন। তার পরেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেনি। তারা গ্রেফতারও হননি। এই স্বাধীনতা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাহলে তাদের কণ্ঠরোধ করা হলো কিভাবে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং তারিখ প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন। এখানে সরকার কিভাবে অন্যায় করল। কামাল হোসেনের এ মন্তব্য সঠিক নয়। যারা ঢাকা সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, অবিলম্বে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে। শৃঙ্খলা কমিটি তাদের চাপ প্রয়োগ করবে। তিনি বলেন, আগামী ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, মহিলা বিষয়ক সস্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।