দৌলতপুর সীমান্তে গাঁজা উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে গাঁজা ও মদ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে জামালপুর বিওপি’র টহল দল জামালপুর পশ্চিপাড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন অবস্থায় ৮কেজি ভারতীয় গাঁজা ও ৪৩ বোতল মদ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন বিওপি’র টহল দল ১০১ বোতল মদ উদ্ধার করেছে। তবে কেউ আটক হয়নি।

ইভিএম নীরবে-নিঃশব্দে ভোট চুরির ডিজিটাল প্রকল্প – দুলু

ঢাকা অফিস ॥ ইভিএম একেবারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীরবে-নিঃশব্দে ভোট চুরির ডিজিটাল একটি প্রকল্প ছাড়া কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে সকল ভোটে জেতানোর দায়িত্ব নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার ভোট চুরির নতুন প্রকল্প ইভিএম। দেশের জনগণ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলায় তারা আর ভোট দিতে যান না। এর বড় প্রমাণ চট্টগ্রামের উপ-নির্বাচন ’ বুধবার সকালে নাটোরের আলাইপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত নবগঠিত নাটোর পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রামের উপ-নির্বাচনে সরকার দলীয় লোকদের দেওয়া শতকরা পাঁচ ভাগ ভোটকে ২২ ভাগ দেখানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন,‘ ভোটারবিহীন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে এভাবেই ক্ষমতাসীনরা দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করছে। নির্বাচনের ফলাফল কী হবে সেটা নির্ভর করবে ইভিএমের প্রোগ্রামের ওপর। সিইসি নির্বাচনের নামে জাতির সাথে তামাশার আয়োজনে জাতি লজ্জিত ও হতাশ। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে এমনিতেই জাতির আস্থা নেই। এই নির্বাচনের মাধ্যমে এই নির্বাচন কমিশন যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে তা প্রমাণিত।’ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলেন, ‘অন্যদিকে আইন-আদালত-প্রশাসনসহ সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠাগুলোকে করায়ত্ত করে ফেলেছেন। সরকারের মদদে খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা গোপন করা হচ্ছে। সরকারের অত্যাচারে বিরোধী দলের নিশ্চিন্তে বেঁচে থাকার সুযোগ নেই।’ তিনি অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। নাটোর পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র শেখ এমদাদুল হক আলমামুনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান বাবুল চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ ও বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম বাচ্চু।

বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি: যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতির ঘটনায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, জনসংযোগ কর্মকর্তাসহ দোষীদের বিরুদ্ধে সংবিধান ও আনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। এ সংক্রান্ত জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গতকাল বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এম কে রহমান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলে সাইফুল ইসলাম। রায়ের পর এমকে রহমান সাংবাদিকদের বলেন,যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির ঘটনায় করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যারা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে এ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যপারে সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। “যেহেতু সংবিধানের ৪(ক)অনুচ্ছেদে জাতির জনকের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এটি সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে এই অংশের যদি কেউ ব্যত্যয় ঘটানোর চেষ্টা করেন তাহলে অবশ্যই সে ব্যক্তি ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন। আমাদের এই ব্যাখ্যা আদালত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। আশা করি, পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়টি প্রতিফলিত হবে।” যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃতির অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন যশোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল। আদালত প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই ২৯ জানুয়ারি যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনসহ তিন জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তেরও নির্দেশ দিয়ে এ ঘটনায় যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও জনসংযোগ কর্মকর্তাকে তলব করে হাই কোর্ট। গত বছরের ৪ নভেম্বর তারা আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেও আদালত সেদিন বলে, অভিযোগের প্রমাণ হলে ছাড় দেওয়া হবে না। সেদিন ভিসির আইনজীবী কে এম সাইফুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃতির ঘটনা ঘটেনি। অন্য কেউ ডেস্ক ক্যালেন্ডারে ছবি বিকৃতির দায় চাপাতে চাচ্ছে। রিট আবেদনকারী আনোয়ার হোসেন বিপুল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ছবি বিকৃতির অভিযোগ এনেছেন দাবি এ আইনজীবী এ ঘটনাটিকে ভিত্তিহীন বলেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের লাঞ্ছিত করায় রিট আবেদনকারীকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। এদিকে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পরামর্শে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. বেলায়েত হোসেন তালুকদারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। গত বছরের ১৫ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিল করে কমিটি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতার ছবি এবং ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। এছাড়া ২০১৮ সালের ক্যালেন্ডারে জাতির পিতার ছবির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নাম লেখাও সমীচীন হয়নি। প্রতিবেদনে আরও  বলা হয়, ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডার পুনঃমুদ্রিত। আগের (প্রথম) প্রিন্ট করা কপিতে জাতির পিতার ছবি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিদ্র করে স্পাইরাল বাইন্ডিং করা হয়। এছাড়া জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি (ছবির মাথা কেটে) বিকৃত করা হয়, যা প্রথম মুদ্রিত ডেস্ক ক্যালেন্ডার থেকে স্পষ্টতই প্রমাণ পাওয়া যায়। জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা তা করেননি বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। “এক্ষেত্রে কোনোভাবেই তারা দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। তাদের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বর করা উচিত ছিল।”

ঝিনাইদহে সীমান্ত থেকে ভারতীয় নাগরিক আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে প্রবেশকালে মঞ্জয় কুমার (৩৫) নামের ১ ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বিজিবি। বুধবার ভোর রাতে উপজেলার জুলুলী সীমান্তের মাটিলা থেকে তাকে আটক করা হয়। সে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাগদা থানার কুলিয়া গ্রামের সুশান্ত কুমারের ছেলে। খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়ানের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খাঁন জানান, বুধবার ভোর রাতে জলুলী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে ১ ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃত ভারতীয় নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে সে বাংলাদেশে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়ানোর জন্য বাংলাদেশে আসে।  তাকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ঝিনাইদহে ইছামতি নদী থেকে বাংলাদেশী যুবকের লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে এক বাংলাদেশী যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়ে। সে মহেশপুরের পলিয়ানপুর গ্রামের সবুর আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন। ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ওসি মোহম্মদ মোর্শেদ হোসেন খান জানান, বুধবার সকালে মহেশপুরের পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী  থেকে এক বাংলাদেশেী যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সকালে নদীতে স্থানীয়রা ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তার লাশ উদ্ধার করে।  পুলিশের ধারনা মৃত হৃদয় হোসেন অবৈধভাবে ভারত থেকে ইছামতি নদী পার হয়ে  বাংলাদেশে প্রবেশ করছিল এবং পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারন জানা যাবে বলেও পুলিশ জানায়।

মহিলা উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবন্ধিদের মাঝে উপকরণ বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ মহিলা উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবন্ধিদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের ৩৭৬ হাউজিং ডি ব্লকে সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ উপকরণ বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিবন্ধি উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা জহুরা বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক উপ পরিচালক আব্দুর বাতেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন এলজিইডির উপ সহকারী প্রকৌশলী জহুরুল ইমাম। আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সমন্বয়কারী আঁখি বেগম, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মিনা বেগম। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নির্মল বিশ^াস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন প্রতিবন্ধিরা আজকের সমাজের বোঝা নয় বরং আজকের সমাজের অল্কংার হিসেবে তারা কাজ করছে। কেননা তারা শিক্ষাদিক্ষাসহ বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তারা আর অবাঞ্চিত নয়। তারাও সমাজের আর দশ জনের মত সব ক্ষেত্রে সমান ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধিদের প্রতি আমাদের সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

৩০ জানুয়ারি জীবনবাজির লড়াই – তাবিথ

ঢাকা অফিস ॥ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসা বিএনপি মনোনীত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, আগামী ৩০ জানুয়ারির নির্বাচন হবে ‘জীবনবাজির লড়াই’। গতকাল বুধবার ৪১ ননম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগে এসে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে এ কথা বলেন। সকালে উত্তর বাড্ডার রহমতউল্লাহ গার্মেন্টসের সামনে থেকে প্রচারণা শুরু করেন তাবিথ আউয়াল। পরে তিনি পশ্চিম পদরদিয়া, পূর্ব পদরদিয়া হয়ে সাতারকুল, ইসলামবাগ ও মগাইরে গণসংযোগ করেন। মগাইর বাজারে তাবিথ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আগামী ৩০ জানুয়ারি হবে আমাদের জীবনবাজির লড়াই।” “আপনারা কোনো ভয়ভীতি না পেয়ে, মনের বিশ্বাস ও আমাদের ঐক্য একসাথে করে ৩০ জানুয়ারি আমাদের বিজয়ী করবেন। ” বাড্ডার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুড়ি প্রতীকে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নবী হোসেন, আইয়ুব আনসার মিন্টু  ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী আসনে আনারস প্রতীকের প্রার্থী সালেহা ইসলামকে ভোট দিতে অনুরোধ করেন তিনি। “যারা আপনাদের অধিকার রক্ষা করবেন, আপনাদের গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবেন; তাদের বিজয়ী করার লক্ষ্যে আপনারা অবশ্যই আনারস মার্কা, ঘুড়ি মার্কা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ধানের শীষ মার্কাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন,” বলেন তাবিথ। উত্তর বাড্ডার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে প্রগতি সরণির যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও ‘নাজুক’ রয়েছে জানিয়ে তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন আওতাভুক্ত এসব এলাকার নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা জানি এ এলাকার মানুষ ঢাকার অংশ হয়েও দীর্ঘদিন সিটি করপোরেশনের সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আমরা আপনাদের বঞ্চিত হতে দেব না, বঞ্চিত থাকতেও দিব না। আগামী দিনগুলোতে আপনাদের অধিকার রক্ষা করা ও বাস্তবায়ন করা হবে আমার দায়িত্ব। “আগামী দিনে আপনারা যদি আমাকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেন, আপনাদের পক্ষে লড়ব, আপনাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করব। আপনাদের আওয়াজ যেন সিটি করপোরেশনে দরজা অবধি পৌঁছাতে পারে, সেটা আমি প্রাধান্য দেব।” উত্তর বাড্ডা এলাকায় মশা নিধন ও শিশুদের খেলার মাঠ করার প্রতিশ্র“তিও দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী।

 

পোড়াদহ ষ্টেশন মাস্টার শরিফুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়া ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ জংশনের ষ্টেশন মাস্টার শরিফুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা বর্তমান মাস্টার জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে জাক জমক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সংবর্ধিত অতিথি বিদায়ী ষ্টেশন মাস্টার শরিফুল ইসলামকে ফুল দিয়ে বরণ করে ক্রেষ্ট প্রদান করেন বুকিং মাস্টার আব্দুল আলিম। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহী অঞ্চলের সিও, পিএস শহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি বলেন শরিফুল মাস্টার ছিলেন ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সর্বজন শ্রদ্ধীয় সম্মানিত একজন গুণী মানুষ। যার বাস্তবতা আমি আজকে এই বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে মর্মে মর্মে অনুধাবন করছি। আর কর্মচারী কর্মকর্তা ও সাধারন মানুষের চোখের পানি প্রমান করে একজন রেলওয়ে মাস্টার মানুষের হৃদয়ের গভীরে নিজের স্থান করে নিয়েছে। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিসিএম রাজশাহীর মোহাম্মদ আহসান উল্যা ভুঁঞা, পোড়াদহ ইউপির চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস মজনু, মজিবুর রহমান পাকসী, জিয়াউল আহসান, মজিবুর রহমান, এ,টি ও  সোবহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন, আব্দুল আলীম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি আব্দাস সামাদ, নাজমুল আলম, সেলিম। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী ষ্টেশন মাস্টার আল আমিন হোসেন।

কতিপয় ছাত্রনেতার নীল নকশা, বের হচ্ছে থলের বিড়াল

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ ছাত্র হোস্টেলের পিস্তুল কান্ডের গোমর ফাঁস!

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘটিত ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে একপক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে একটি মহল ইন্দন যোগাচ্ছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করছে। এই হামলার সূত্র ধরে যে গল্প সাজানো হয়েছে তার পিছনে অনেক বড় রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে বলে নিশ্চিত করছেন অনেকে। এই ঘটনার পর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে নাটক সাঁজানোর চেষ্টা করা হলেও বের হচ্ছে থলের বিড়াল। কারা, কেন, কিভাবে এই নকশা প্রনয়ন করেছে তার আদ্যেপান্ত উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। তাতে অনেক ছাত্র নেতার অজানা কর্মকান্ডের একাধিক তথ্যপ্রমান এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এতে ফেঁসে যেতে পারেন প্রভাবশালী অনেক ছাত্রনেতা। এই কুচক্রী মহলটি কুষ্টিয়া সদর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই ন্যাক্কারজনক নীল নকশা করেছে বলে অনেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী নিশ্চিত করেছেন। যাদের সবার রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ই ছিলো মূলমন্ত্র। কারন জয়নাল আবেদীন ছাত্রলীগ কর্মী ও সাধারণ ছাত্রদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় আর এই জনপ্রিয়তা রুখতে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ জয়নালকে বেকায়দায় ফেলতে গাল গল্প সাঁজিয়ে জজ মিয়া নাটক সাঁজিয়েছে। ঘটনার সময় ৩রা জানুয়ারী ২০২০ দুপুর ২টা, যা বাদী তার মামলার আরজিতেও উলে¬খও করেন। কিন্তু কয়েকজন ছাত্রনেতা আগে থেকেই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে তোড়ঝোড় শুরু করেন। মূলত ঘটনাটি নিজেদের মত তৈরী করতে আগে থেকেই ছক কষে এই মহলটি। কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের ছাত্রাবাসের আবাসিক বেশ কয়েকজন ছাত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে ঐ দিন কলেজ হোস্টেলে যে ঘটনার কথা তারা বিভিন্ন পত্রিকা এবং স্যোসাল মিডিয়া থেকে শুনেছেন তার কিছুই সেদিন হোস্টেলে ঘটেনি। হোস্টেলের সাধারণ ছাত্রদের দাবি, স্যোসাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে ছাত্রলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন পিস্তুল নিয়ে হোস্টেলে ছাত্রদের উপর হামলা করেছে। তার সাথে আরো অনেকেই ছিলো। তারা হোস্টেলের ছাত্রদের মারপিট করেছে। নাম না প্রকাশের শর্তে তারা বলেন মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা উচিৎ। তবে তারা ইঙ্গিত দেন, জেলা ছাত্রলীগের রাজনৈতিক পদপদবী নিতে যারা চেষ্টা করছেন তারাই মূলত নাটের গুরু। জয়নালের সাধারণ ছাত্রদের কাছে একটা গ্রহনযোগ্যতা আছে সেটাকে সমালোচনায় ফেলতেই মূলত জয়নালকে বলির পাঠা করা হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, ছাত্রলীগ নেতা জয়নাল পিস্তুল নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের হোস্টেলে হামলা করেছে। তার সাথে আরো অনেকেই ছিলো, তারা হোস্টেলের ছেলেদের মারপিট করেছে। এই সংবাদকে হাস্যকর অভিহিত করে হোস্টেলের সাধারণ ছাত্ররা বলছেন, জয়নাল যে পিস্তুল নিয়ে কলেজ হোস্টেলে হামলা করেছে তার ছবি কোথায়? কলেজ হোস্টেলে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তো পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ঐ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে যে মিথ্যাচার করা হয়েছে তাতে করে গণমাধ্যম তথা সাংবাদিকদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস তলানিতে গিয়ে জমেছে। এই ঘটনাটি যে একটি সাজানো ঘটনা তার স্বপক্ষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট আছে। প্রথমত, গণম্যাধম ও স্যোসাল মিডিয়ায় প্রচার করা হলো, জয়নাল আবেদীন পিস্তুলসহ বহিরাগতদের নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ হোস্টেলে হামলা করেছে। এই পয়েন্টে ধরে যদি বলতে হয় তাহলে, জয়নালের পিস্তল হাতে হামলার ছবি কোথায়? ঘটনায় মামলার এজাহারের কোথাও পিস্তুল নিয়ে হামলা করেছে তা উলে¬খ করা হয়নি। মামলার এজাহার বলা হয়েছে, “বেআইনী জনতাবদ্ধে মারপিট করিয়া সাধারণ জখম, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ “সেখানে ১৮৬০ সালের ১৪৩/৩২৩/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোডের ধারা উলে¬খ করা হয়েছে। জয়নাল যদি পিস্তুল নিয়ে হামলা করেই থাকে সেটা বাদী তার এজাহারে কেন উলে¬খ করলেন না? দ্বিতীয়ত, জেলা ছাত্রলীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ছাত্রলীগের পদ থেকে বহিঃষ্কারের জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে চিঠি দেওয়া হয়। জেলা ছাত্রলীগ কিভাবে নিশ্চিত হলো জয়নাল আবেদীন পিস্তুল নিয়ে ঐদিন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের হোস্টেলে হামলা করেছে? জেলা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে যে চিঠি দিলো সেখানে জয়নালের বিরুদ্ধে কি অভিযোগের তথ্য প্রমান দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিঃষ্কারের সুপারিশ করলো? এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

কুষ্টিয়া সদর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন জানান, ঐদিন কলেজ হোস্টেলে রুবেল হোস্টেলের ১০২ রুমে শুয়ে ছিলো। এসময় সজল ও বিপুল ছাত্রলীগকর্মী রুবেলের রুমে এসে ১০০টাকা দিতে বলে। এই টাকাটা সজল ও বিপুল আতাউল নামে অপর এক ছাত্রের কাছে পাবে সুতরাং রুবেল তাদের বলে আতাউল পাবনা গেছে আসলে আমি ওরে টাকার বিষয়ে বলবো। এসময় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সজল ও বিপুল রুবেলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। রুবেল এর প্রতিবাদ করলে সজল ও বিপুল রুবেলকে বেধড়ক মারপিট করে। অবস্থা বেগতিক দেখে হলের অন্যান্য ছাত্ররা এসে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় রুবেল ১০২ নাম্বার রুমে গিয়ে দরজা আটকিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। হোস্টেলে বিপুল ও সজলের সহযোগিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, হকষ্টিক নিয়ে রুবেলের ১০২ নাম্বার কক্ষের সামনে অবস্থান নেই এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এই সময় রুবেল ফোন দিয়ে তাকে মারপিটের ঘটনা বললে আমি দ্রুত হোস্টেলে ছুটে গিয়ে রুবেলকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসি। জয়নালের দাবি রুবেলকে হোস্টেল থেকে বের করে নিয়ে আসার পর হোস্টেলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সজল ও বিপুলকে কিলঘুষি মারে বলে পরে শুনেছি। জয়নাল আরো দাবি করেন, আমি হোস্টেলে খালি হাতে গিয়েছি, আমার হাতে একটা লাঠিও ছিলো না। আমার সাথে কারো মারামারিও হয়নি। পিস্তল নিয়ে হামলার বিষয়ে জয়নাল জানান, হোস্টেলে সিসিটিভি রয়েছে, ফুটেজ দেখেন, ঐখানে হোস্টেলের অনেক ছাত্রও  ছিলো, আমার মুখের কথা কেন বিশ্বাস করবেন। পূরো ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে নাটক সাজানো হয়েছে বলেও তার দাবি।

মামলার বাদী মোমিনুল ইসলাম সজল জানান, জয়নাল বহিরাগত। সে হোস্টেলের নিয়মিত ছাত্র না। সে এর আগে হোস্টেলে ছিলো। সে ঐদিন হঠাৎ করে হোস্টেলে এসে মারপিমট করে। জয়নাল পিস্তল নিয়ে ঐদিন হোস্টেলে এসেছিলো। আপনি স্বচক্ষে দেখেছেন কি না? জানতে চাইলে সজল জানায় হোস্টেলের ছাত্রদের সে পিস্তুল দেখিয়ে ভয় দেখিয়েছে। আপনি জয়নালের হাতে পিস্তুল দেখেছেন কি না জানতে চাইলে সজল কোন জবাব দিতে পারিনি।

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির জানান, ঐদিন ছাত্রদের মধ্যে মারামারির বিষয়টি জানতে পেরে আমিসহ কলেজের কয়েকজন শিক্ষক সেখানে গিয়ে সাধারণ ছাত্রদের সাথে কথা বলে জানতে পারি হোস্টেলের খাবারের টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে জয়নালসহ কয়েকজন এসে তাদের মারপিট করেছে এতে তিনজন ছাত্র আহত হয়। তাদের মধ্যে মোমিনুল ইসলাম সজল নামে হোস্টেলের এক আবাসিক ছাত্র একটু বেশি আহত হয়। এই ঘটনায় কলেজের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরীর জন্য থানায় গেলে মোমিনুল ইসলাম সজল বাদী হয়ে মামলা করায় আর সাধারণ ডায়েরীর প্রয়োজন হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। তারা ভালো বলতে পারবে তারা কি পেয়েছে।

 

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রবাসের হল সুপার(ভারপ্রাপ্ত) হাবিবুর রহমান জানান, মোমিনুল ইসলাম সজল নামে হোস্টেলের এক আবাসিক ছাত্র তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলো। সে লিখিত অভিযোগে উলে¬খ করেছিলো, জয়নাল আবেদীনসহ কয়েকজন বহিরাগত কলেজ হোস্টেলে এসে তাদের মারপিট করেছে ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এর পরে আমরা হলের দুজন আবাসিক ছাত্রের হলে সিট বাতিল করি। ঐদিন হলে পিস্তুল নিয়ে জয়নালসহ কয়েকজন হামলা করেছিলো বলে সজল নামে যে ছাত্র অভিযোগ করছে, মামলায় পিস্তুল নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি উলে¬খ করা হয়নি, তার অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে, হল সুপার জানান, লিখিত অভিযোগে সজল নামে ঐ ছাত্র পিস্তুল নিয়ে হামলার কথা জানিয়েছে। মামলায় কেন সেটা উলে¬খ করেনি সেটা মোমিনুল ইসলাম সজল ভালো বলতে পারবে।

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষারের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন পরে কথা বলবেন বলে জানান।

তবে হোষ্টেলের সাধারণ ছাত্রদের সাথে কথা বললে, তারা এই ঘটনার যে বর্ননা দেন তা থেকে অনেকটা পরিষ্কার যে এই ঘটনার সেট তৈরী করতে বেশকিছুদিন থেকেই কুচক্রী মহলটি কাজ করছিলো। নাম না প্রকাশের শর্তে হোস্টেলের এক ছাত্রলীগকর্মী জানান, এই ঘটনা সাজাতে ঘটনার পিছনের নৈপত্তের কারিগরদরদের ১ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এই টাকার ভাগ কয়েকজন সাংবাদিকসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে। কারা এই টাকার ভাগ পেয়েছে তাদের নামের তালিকাও রয়েছে সেই তালিকাও প্রকাশ করা হবে। তবে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ হোস্টেল নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বেশকিছু অভিযোগ সামনে আসছে। হোস্টেলের ৩০৫ নম্বর রুমে নিয়মিত মাদক সেবনের আড্ডা বসে। ঐ রুমে গাঁজা সেবন অবস্থায় বেশকিছু ছবি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এছাড়াও ঐ রুম নিয়ে হোস্টেলের আবাসিক ছাত্রদের মাঝে  বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে। সেসব তথ্য প্রমাণ বিশে¬ষন চলছে। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে সেসব সংবাদ পরিবেশন করা হবে। জয়নাল জামিন নিলেও তাকে পূনরায় পিস্তুল দিয়ে আটক দেখিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

ঝিনাইদহে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কালীগঞ্জে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থীসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলার ঘিঘাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস জানান, সকালে মহেশপুর উপজেলার কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কের বজরাপুর এলাকায় আলমসাধু ও বিদ্যুতের পোল বহনকারী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে হয়। এসময় ঘটনাস্থলেই আলমসাধু যাত্রী কামাল হোসেন নামের একজন মারা যায়। আহত হয় আরও ৪ জন। সেখানে থেকে আহতদের উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে খলিলুর রহমান নামের একজনের শারিরীক অবস্থান অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই তার মৃত্যু ঘটে। এদিকে সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার শাহপুর ঘিঘাটি এলাকায় দ্রুতগামী মাইক্রোবাস চাপায় রনি আহম্মেদ নামের ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্র নিহত হয়েছে। সে শাহপুর ঘিঘাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

আল-আরাফাহ্ ইসলামী বাংক কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক এসভিপি মজিবর রহমান খুলনা জোনাল হেড

নিজ সংবাদ ॥ আল-আরাফাহ্ ইসলামী বাংক কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক এসভিপি মজিবর রহমান খুলনা জোনাল হেড হিসেবে বদলী হয়েছেন। তিনি গতকাল সন্ধায় কুষ্টিয়া শাখা থেকে বিদায় নিয়েছেন। আজ খুলনা জোনাল হেড হিসেবে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে। মজিবর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার সুচনালগ্ন ২০১৪সালের ১৪আগষ্ট থেকে কুষ্টিয়ায় ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি কুষ্টিয়া শাখায় কর্মরত অবস্থায় ব্যাংকের ব্যবসায়ীক উন্নয়নে অভুত সাফল্য প্রদর্শনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বেশ কয়েক বছর পুরস্কার লাভ করেন। তিনি কিছু দিন পুর্বে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তিতে তিনি খুলনা জোনাল হেড (খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) হিসেবে বদলী হন। গতকাল বুধবার কুষ্টিয়াতে শেষ কর্মদিবস হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে বিদায় জানাতে ব্যাংকে উপস্থিত হন অনেকে। সন্ধায় কুষ্টিয়া ব্যাংক ম্যানেজার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে তাঁকে বিদায় সম্বর্ধনা দেয়া হয়। এছাড়া আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক কুষ্টিয়ার শাখার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় সম্বর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। মজিবর রহমান কুষ্টিয়া ব্যাংক ম্যানেজার এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্য অন্যতম ছিলেন। সদা হাস্যোজ্জল মিষ্টভাষী মজিবর রহমান ৭বছর কুষ্টিয়ায় অবস্থানকালীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের সাথে আন্তরিক ও হৃদ্যতাপুর্ণ সম্পর্ক রেখেছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী, ১কন্যা ও ১ পুত্রের জনক। তিনি কুষ্টিয়াবাসীর নিকট দোয়া কামনা করেছেন সেই সাথে কারো মনে কষ্ট দিলে তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

মার্কিন সেনা তাড়াতে বিশাল পদযাত্রার ঘোষণা আল সদরের

ঢাকা অফিস ॥ ইরাকের জনপ্রিয় আমেরিকাবিরোধী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল সদর দেশ থেকে মার্কিন বাহিনী বিতাড়িত করার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের বিশাল এক পদযাত্রারও ঘোষণা দিয়েছেন এ শিয়া নেতা। খবর আলজাজিরার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক পোস্টে মুক্তাদা আল সদর ওই পদযাত্রার ঘোষণা দেন। ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে টুইটারের ওই পোস্টে সদর বলেন, প্রতিদিন দখলকারী সেনাদের মাধ্যমে ইরাকের আকাশ, ভূমি ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হচ্ছে। তাদের অযাচিত উপস্থিতির নিন্দা জানাতে দেশবাসীকে একতাবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ওই পদযাত্রায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান সদর। তবে ঠিক কবে, কোথায় ওই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি এ নেতা। এরই মাঝে সদরের পদযাত্রায় অংশ নেয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়েছে দেশটির শিয়া গোষ্ঠীগুলো। ইরাকের পার্লামেন্টে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারবিষয়ক একটি বিল পাস হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সদর এ পদযাত্রার ঘোষণা দিলেন। ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির কট্টর সমালোচক মুক্তাদা আল সদর। সেনা প্রত্যাহার বিষয়ে ইরাকি পার্লামেন্টে পাস হওয়া সাম্প্রতিক বিলকে ‘দুর্বল’ পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন তিনি। বিল পাসের পর পর পার্লামেন্টকে দেয়া এক চিঠিতে সদর আরও বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে আছে- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত নিরাপত্তাসংক্রান্ত চুক্তি বাতিল, ইরাকে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়া এবং ‘লাঞ্ছিত’ করে মার্কিন সেনাদের ইরাক থেকে বের করে দেয়া।

গাংনীতে গাছের সাথে এসবি গাড়ীর ধাক্কায় হেলপারসহ ৫ জন আহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে গাছের সাথে যাত্রীবাহি একটি বাসের ধাক্কায় হেলপারসহ ৫জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনীর জোড়পুকুরিয়া বাজারের নিকট এ দূর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা   জানান, ঢাকা থেকে এসবি সুপার ডিলাক্স নামক একটি যাত্রীবাহি বাস কুষ্টিয়া হয়ে গাংনী উপজেলা শহরের দিকে যাচ্ছিল। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া এলাকার জোতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিকট পৌঁছালে, চালক ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় গাড়ীটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। ধাক্কায় গাড়ীর সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় গাড়ীর হেলপারসহ আরো ৪জন যাত্রী আহত হন। গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পূজার দিনে সবাই ভোটও দেবে, আশা তাপসের

ঢাকা অফিস ॥ সরস্বতী পূজা এবং সিটি ভোট একদিনে হওয়ায় হিন্দু ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চারের প্রেক্ষাপটে তাদের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। পূজার জন্য নির্বাচন পেছাতে সনাতন ধর্ম্বালম্বীদের দাবির বিষয়ে গতকাল বুধবার রাজধানীর কদমতলী-শ্যামপুর এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তাপস বলেন, “তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচনী প্রচারণা করছি। আমি যেটা জেনেছি নির্বাচন কমিশন আলাপ করেছিল। কিন্তু পঞ্জিকা অনুযায়ী হয়তো একটু ভুল হয়ে গেছে। “তাদের প্রতি সমবেদনা-সহমর্মিতা রয়েছে। কিন্তু এখন যেহেতু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, সেহেতু আমার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। আমি আশা করি সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।” তিনি বলেন, “নির্বাচনে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ কিন্তু নেমে গেছে। একটা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের আমেজ বজায় রেখেছে। আমরা আশা করি যে, অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনটা সম্পন্ন হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে।” ৩০ জানুয়ারি ভোট সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীরা। কিন্তু ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা থাকায় ভোটের তারিখ পরিবর্তনের জন্য আদালতে একটি রিট করা হলে আদালত তা কালিজ করে দেয় মঙ্গলবার। ফলে ৩০ জানুয়ারিই ভোট হচ্ছে ঢাকায়। পূজা-ভোট একইদিনে হওয়ায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ঢাকা উত্তরে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবারের পথসভায় ফজলে নূর তাপস দাবি করেন, ঢাকার উন্নয়নে তিনি যে রূপরেখা দিয়েছেন তা ভোটাররা সাদরে গ্রহণ করেছে। “গত পাঁচদিন ঢাকাবাসীর কাছ থেকে আমরা গণসংযোগে ব্যাপক স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছি। আমরা যে উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছি পাঁচভাবে বিভক্ত করে, ঢাকাবাসী সেটা সাদরে গ্রহণ করেছে। “তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন এবং আমাদের অনেক ভালোবাসা দিয়ে আলিঙ্গন করে নিচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি, ৩০ জানুয়ারি বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় হবে। আমরা ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম দিন থেকে কাজ আরম্ভ করব এবং উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব।” আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে এক প্রশ্নে নৌকার প্রার্থী বলেন, “কোনো ধরনের কাজে যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয় সেজন্য আমাদের মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। সেদিকে আমরা খুব সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। যেখানে আমরা জানতে পারছি, সেখানে সাথে সাথে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। “আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও সার্বিকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক যে নির্বাচনী মনিটরিং টিম করেছি তারাও কাজ করছে। মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। একটি গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য কিছুটা হয়তো জনগণের অসুবিধা হতে পারে। তবে আমরা এই বিষয়টি আরো সচেতভাবে দেখব।” তিনি বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করেছেন আমি যেখানেই যাচ্ছি, সেখানে কিন্ত সবাইকে নির্দেশনা দিচ্ছি তারা যেন সুশৃঙ্খলভাবে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে। জনগণের জন্য কোনো ভোগান্তি যেন না হয়।” আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, সানজিদা খানম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন এসময় তাপসের সঙ্গে ছিলেন।

বসতভিটা হারানোর আতঙ্ক

কুমারখালীতে সংখ্যালঘু আদিবাসীদের বিক্ষোভ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পূর্বপুরুষের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কায় বিক্ষোভ করেছে সংখ্যালঘু আদিবাসীরা। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসবাসকারী সংখ্যালঘু আদিবাসী পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বসতভিটা রক্ষার্থে ও ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়ে রাস্তায় নেমে আসে এবং কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে আদিবাসী পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুরা বিক্ষোভ মিছিল সহকারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে গিয়ে বিচার প্রার্থনা করেন। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া আদিবাসী পরিবারের সদস্য প্রীতম সরদার অভিযোগ করেন বলেন, কুমারখালী শহরের বাসস্ট্যান্ডের পাশের (পশ্চিম) দুর্গাপুর মৌজার সরকারি জমিতে আমাদের পুর্ব পুরুষেরা প্রায় এক’শ বছরের অধিক সময়কাল যাবৎ বসবাস করে আসছে। আমরা প্রায় ৩০/৩৫ বছর যাবৎর ওই জমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আমাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবৎ আমরা লক্ষ্য করছি আমাদের বসতবাড়ি সংলগ্ন জমি দুর্গাপুর গ্রামের তুহিন বিশ্বাস নিজের বলে দাবী করে ওই জমিতে মার্কেট নির্মাণসহ জলাশয়ে বালিভরাট শুরু করেছে। কুমারখালী শহরের সর্বস্তরের মানুষ জানেন ওই জমি সরকারি। আদিবাসী পরিবারের সদস্য প্রীতম আরো জানান, গত মঙ্গলবার তুহিন বিশ্বাস এসে তাদের বসতভিটার মধ্যেও তার জমি রয়েছে বলে দাবী করে এবং রাতে এসে তাদের বসতভিটায় হামলা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের দেওয়া বেশকিছু সাইনবোর্ড ভাংচুর করেছে। এদিকে, মুঠোফোনে  আলাপকালে তুহিন বিশ্বাস জানান, আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসতভিটা এবং আমার নিজস্ব জমির দাগ নম্বর ও মৌজা আলাদা। সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তির জন্য কয়েকমাস আগে পৌরসভার মেয়র ও সার্ভেয়ারের উপস্থিতে জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমি আমার নিজের ক্রয়কৃত জমিতের মার্কেট নির্মাণ করেছি। আর আদিবাসীদের সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। আর আমি ওদের জমি দখল করতে যাবো কেন, ওদের বসতভিটার পাশে আমার আরো জমি আছে। ওরা হয়তো কারো ইন্ধনে আমার জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে, তবুও আমি কিছুই বলিনি। তবে আজ বুধবার আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন আমার মার্কেটের ভাড়াটিয়াদের দোকান বন্ধ করতে বলে এবং দোকানে তালা লাগিয়ে দিতে আসে। এই খবর পেয়ে আমি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মার্কেটের সামনে গেলে আদিবাসী পরিবারের সদস্যরা লাঠিসোটা ও দা-বটি নিয়ে আমার উপর হামলা করে এবং পরে আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা সহকারি কমিশনার (ভুমি) এর কার্যালয়ের সামনে প্রায় আধাঘন্টা যাবৎ অবস্থান করেন। সে সময় সহকারি কমিশনার (ভুমি) আদিবাসীদের অভিযোগ শোনেন এবং তদেরকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলে তারা উপজেলা পরিষদ ত্যাগ করেন। এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলসহ এসেছিলেন, তবে তারা কোন অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ দিলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরসভার কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এস, এম রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের বিক্ষোভের সাথে ছিলাম এবং ভবিষতেও ওদের পাশে থাকবো।

মিরপুরে যুব প্রশিক্ষণের উদ্বোধনকালে কামারুল আরেফিন

সরকারের লক্ষ অর্জনে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে যুব সংগঠনের করণীয় বিষয়ক” এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দিনব্যাপি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সভাকক্ষে উপজেলা পরিষদের আয়োজনে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সী (জাইকা) এর সহায়তায় এবং উপজেলা যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন বিষয়ক কমিটির বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। এসময় তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ হলো এসডিজি অর্জন। ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত ও অপুষ্টির অবসান, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের এ লক্ষ অর্জনের জন্য যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে চেষ্টা করবো দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিজের ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। বেকারদের নিজ নিজ উদ্যোগে উদ্যোক্তা গড়ে উঠতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম নান্নু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উত্তম কুমার প্রমুখ। দিনব্যাপি এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩০জন যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করে।

দৌলতপুরে অটোরিক্সার চাপায় শিশু নিহত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সায় চাপা পড়ে আসিফ (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার তারাগুনিয়া-দৌলতপুর সড়কের তারাগুনিয়া মন্ডলপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আসিফ রিফাইতপুর বিন্দিপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের ছেলে ও নাসির উদ্দীন বিশ্বাস বিন্দিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানায়, আসিফ তার মায়ের সাথে তারাগুনিয়ায় নানা মুয়াজ্জেম হোসেনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় অটোরিক্সার নীচে চাপা পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

ছিন্নমূল গরীব অসহায় শীতার্তদের মাঝে কুষ্টিয়া বিচার বিভাগের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

নিয়ামুল হক ॥ ছিন্নমূল গরীব অসহায় শীতার্তদের মাঝে কুষ্টিয়া বিচার বিভাগের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামীর নেতৃত্বে ফকির লালন শাহ’র মাজার, বড় স্টেশন, কোর্ট স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ছিন্নমূল গরীব অসহায় দুস্থ শীতার্তদের মাঝে তিন শতাধিক কম্বল বিতরণ করা হয়। এসময় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’র বিচারক মুন্সি মশিউর রহমান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা প্রথম আদালতের বিচারক রাখিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রেজাউল করিমসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হল বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা সর্বসম্মতিক্রমে ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ড ব্যুরোর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত মরক্কো ও লিথুয়ানিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ফলে এখন থেকে বাংলাদেশ শিশুদের জন্য বিশেষভাবে নিয়োজিত জাতিসংঘ সংস্থা ইউনিসেফের কর্মকান্ডে কৌশলগত দিক-নির্দেশনা প্রদান করতে পারবে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে ২০১৯-২০২১ মেয়াদে বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে নির্বাহী বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হয়। রাষ্ট্রদূত ফাতিমা সম্প্রতি জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তাঁর পূর্বসূরী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ২০১৯ সালে ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্বব্যাপী শিশুরা যে সকল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তা মোকাবিলাসহ ২০২০ সালকে ইউনিসেফের জন্য একটি অর্থবহ ও কার্যকর বছরে পরিণত করতে বোর্ড সদস্যগণ সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা রেখেছেন সেজন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। শিশুদের কল্যাণ সাধন, উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষার জন্য এই নির্বাহী বোর্ড নতুন নতুন ধারণা ও কৌশল সৃজনে নিবেদিতভাবে কাজ করবে মর্মে প্রতিশ্র“তির কথা জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে ইউনিসেফ গৃহীত বিভিন্নমুখী পদক্ষেপসমূহের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি সেবা গ্রহণকারী দেশসমূহের প্রাধিকার ও প্রয়োজনভিত্তিক কর্মকান্ডে ইউনিসেফের সেবা আরও নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করবে বলে জানান স্থায়ী প্রতিনিধি। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিএটা ফোর নতুন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তাঁর সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার আলোকে ইউনিসেফ আলোকিত হবে। নতুন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে নির্বাহী বোর্ডের দিক-নির্দেশনা ইউনিসেফের কাজকে আরও গতিশীল করবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মিজ ফোর।

কুষ্টিয়ায় দুই দিনব্যাপী তথ্য মেলার সমাপনী

“তথ্যই শক্তি: জানবো জানাবো, দুর্নীতি রুখবো” স্লোগানকে সামনে রেখে ১৪-১৫ জানুয়ারি ২০২০ জেলা প্রশাসন কুষ্টিয়া, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), কুষ্টিয়ার যৌথ আয়োজনে আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরী চত্বরে আয়োজিত হয় এবারের তথ্য মেলা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আজাদ জাহান। প্রধান আলোচক হিসাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আব্দুস সবুর, কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা বেগম এবং তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক আলোচক হিসাবে বিজ্ঞ পিপি, সনাক সদস্য ও সভাপতি কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী। সনাক কুষ্টিয়ার সভাপতি রফিকুল আলম টুকুর সভাপতিত্বে সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন, টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং সনাক কুষ্টিয়ার সদস্য মো: খলিলুর রহমান মজু প্রমূখ।

প্রধান অথিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আজাদ জাহান বলেন- স্বাধীনতার ৪৯ বছর এবং মুজিব বর্ষে দাঁড়িয়ে আয়োজিত তথ্য মেলার গুরুত্ব অনেক। জন অধিকার বাস্তবায়নে দপ্তর প্রধানসহ সকল পর্যায়ের সরকারি বেসরকারি অফিসারদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগনের চাহিত তথ্য হয়রানি ব্যতীত প্রদান করতে হবে। স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তথ্য প্রকাশে প্রযুক্তিগত তথ্য ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে হবে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হালনাগাদ করতে হবে। তিনি বলেন- জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জবাবদিহিতা বৃদ্ধিপেলে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই দুর্নীতি শব্দটি বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিবে। তিনি জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তরুন সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মো: আব্দুস সবুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মেলার মাঠে বিনামূল্যে পুলিশ ক্লিয়ারিং, অনলাইনে জিডি কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়ে বলেন আজকের মেলার মাঠ থেকে শুরু হওয়া এ সেবা চলমান থাকবে। বিনা হয়রানিতে জনগন পুলিশি সেবা পাবে। তিনি বলেন, ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতেই জেলা পুলিশ নিরলস কাজ করে চলেছে। তিনি আরও বলেন, অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতকরনের মাধ্যমে স্ব স্ব জায়গা থেকে আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। কোন পুলিশ সদস্য সেবা প্রদানে অবৈধ অর্থের লেনদেন করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে হলে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। সিভিল সার্জন ডা: রওশন আরা বেগম বলেন, পদস্থ অফিসারদের দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার সবটুকু উজার করে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের চাকরী আমাদের কাছে দেশের আমানত এর খেয়ানত করা যাবে না।

মেলায় সনাকসহ মোট ২৯টি সরকারি বেসরকারি অফিস অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের সেবা সম্পর্কিত তথ্য জনগনের মাঝে উন্মুক্ত করার পাশাপাশি স্টলগুলিতে সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ফেস্টুন, লিফলেট, পোস্টার, মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেছে। মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জেলা প্রশাসক, কুষ্টিয়া; পুলিশ সুপারের কার্যালয়, কুষ্টিয়া; সিভিল সার্জনের কার্যালয়, কুষ্টিয়া; এলজিইডি, কুষ্টিয়া; জন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুষ্টিয়া; সমাজসেবা অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কুষ্টিয়া; যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; জেলা সমবায় অফিস, কুষ্টিয়া; পরিবেশ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; জেলা রেজিষ্টার অফিস, কুষ্টিয়া; জেলা তথ্য অফিস, কুষ্টিয়া; জেলা শিক্ষা অফিস, কুষ্টিয়া; উপ-কর কমিশনারের কার্য়ালয়, কুষ্টিয়া; কাষ্টমস বিভাগীয় দপ্তর, কুষ্টিয়া; কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল, কুষ্টিয়া; জেলা মৎস্য অফিস, কুষ্টিয়া; জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস, কুষ্টিয়া; জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, কুষ্টিয়া; জেলা মহিলা বিষয়ক অফিস, কুষ্টিয়া; পাসপোর্ট অফিস, কুষ্টিয়া; বি আর টি এ, কুষ্টিয়া; ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কুষ্টিয়া; দিশা এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুষ্টিয়া। মেলায় কুষ্টিয়া সনাকের ইয়েস গ্রপের সদস্যরা দর্শনার্থীদেরকে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন ফরম পূরণ শেখানোর পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরকে তথ্য জানার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে। মেলায় সর্বোচ্চ তথ্য সেবা প্রদানকারী ৩টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক এবং সকল স্টলকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। টিআইবি কুষ্টিয়ার এরিয়া ম্যানেজার মো: আরিফুল ইসলাম এর সঞ্চালনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মীবৃন্দ, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ,সাংবাদিকবৃন্দ কুষ্টিয়ার নানা শ্রেনী পেশার মানুষ এবং সনাক কুষ্টিয়ার সদস্য এবং কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কাদেরের হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বেড়েছে

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস পরবর্তী স্বাস্থ্যের উন্নতি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে বুধবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান ওবায়দুল কাদের। পরে চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. ফিলিপ কোহ কাদেরের স্বাস্থ্যের আশানুরূপ উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. আবু নাসের। ডা. ফিলিপ কোহের বরাত দিয়ে আবু নাসের জানান, ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্য স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রতিটি প্যারামিটার আশানুরূপ উন্নতি করেছে। কাদেরের হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বেড়েছে এবং শতকরা হারে তা ক্রমশ উন্নতির দিকে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে জানান চিকিৎসক দলের প্রধান। ১৩ জানুয়ারি ফলোআপ চিকিৎসায় সিঙ্গাপুর যান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।