ভেড়ামারায় কমিউনিটি লেট্রিন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার কুচিয়ামোড়া বাজার ঈদগাহ ময়দানের পাশে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কমিউনিটি ল্যাট্রিন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আক্তারুজ্জামান মিঠু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কুষ্টিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহিম মোহাম্মদ তৈমুর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বুলবুল হাসান পিপুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইন্দোনেশিয়া খাতুন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসিকুর রহমান ছবি। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্ড সদস্য নাজির হোসেন, ওয়ার্ড সদস্য মইনুল হোসেন, কুচিয়ামোড়া বাজার কমিটির সহ-সভাপতি রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, সহ-সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, কোষাধ্যক্ষ সাগর মন্ডল, আব্দুর রাজ্জাক, জয়যাত্রা টেলিভিশন প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। উল্লেখ্য, এখানে ভেড়ামারা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে আধুনিক এই কমিউনিটি লেট্রিন নির্মাণ করবে।

 

 ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে মাদক মামলার আসামীর মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে নিজাম উদ্দিন নামে এক মাদক মামলার আসামীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর বাজার পাড়ার হিম চাঁদের ছেলে।ঝিনাইদহ জেল সুপার গোলাম হোসেন জানান, নিজাম উদ্দিন মাদক মামলায় জেলাখানায় আটক ছিলেন। সোমবার বিকেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

উত্তরণ সাহিত্য পরিষদ, কুষ্টিয়া’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন

নিজ সংবাদ ॥ উত্তরণ সাহিত্য পরিষদ, কুষ্টিয়া’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের বজলুর মোড়ে এ্যাপোলো ইন্টারন্যাশনাল মডেল স্কুলের সভাকক্ষে বিশিষ্ট কবি সুলতানা রেবেকা নাসরিন এবং বিশিষ্ট সংগঠক চর্যাপদ কুষ্টিয়া’র সম্মানিত সভাপতি আনোয়ার কবির বকুল এর উপস্থিতিতে সাহিত্য চর্চার ও সৃজনশীলতার বিকাশের বিস্তৃতি ঘটাতে নতুন একটি সাহিত্য সংগঠনের প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আলোচনার ভিত্তিতে সংগঠনের একটি নামকরণ করা হয়। নব গঠিত এই সংগঠনের নাম “উত্তরণ সাহিত্য পরিষদ, কুষ্টিয়া। কবি শেখ আকতারকে আহ্বায়ক এবং কবি ও আবৃত্তিশিল্পী এম.ডি আসাদকে সদস্য সচিব হিসাবে মনোনীত করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন অধ্যাপক কবি জামিরুল ইসলাম, অধ্যাপক কবি আয়ুব আলী, কবি সোহান শরীফ, কবি এস এস রুশদী,  কবি জসীম উল্লাহ আল হামিদ সহ অনেকে। পরবর্তী মাসিক সভায় পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানাগেছে।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে – র‌্যাব ডিজি

ঢাকা অফিস ॥ র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, জঙ্গিবাদের প্রচার ও প্রসারের বিরুদ্ধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। জঙ্গিবাদ ছড়ানোর অন্যতম জায়গা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার সব কিছুই বিশ্বাস করা যাবে না। কোন্টি মিথ্যা, কোন্টি গুজব সে বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামের নামে দেশে জঙ্গিবাদি অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। ইসলামী চিন্তাবিদদের এ বিষয়ে কথা বলতে হবে। কারণ জঙ্গিবাদকে ইসলাম কোনভাবেই সমর্থন করে না। জঙ্গিবাদের দর্শন ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত নয়।র‌্যাব ডিজি মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) অডিটোরিয়ামে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ‘মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ হোক যুবসমাজের অঙ্গীকার’ শীর্ষক ‘নবীন বরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান।বেনজীর আহমেদ নবীন শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মাদক এমন একটি জিনিষ যা যুবসমাজের বিকাশ ও সম্ভাবনা ধ্বংস করে দেয়। মাদকের কারণে পরিবেশ ও সমাজ ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। এটি আমাদের জন্য অভিশাপ’।তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকের সরবরাহ বন্ধে কাজ করছে। কিন্তু মাদকের চাহিদা বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। কেননা চাহিদা বন্ধ না হলে সরবরাহ বন্ধ করা কঠিন হয়ে যায়। তিনি মাদক নির্মূলে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সিভাসু’র মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম. নূরুল আবছার খান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল আহাদ বক্তৃতা করেন।ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন ।বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মীর্জা ফারুক ইমাম ও সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ, র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনাসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

গাংনীতে কাম ফর হিউম্যানিটি-সিএফএইচের কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত কাম ফর হিউম্যানিটি-সিএফএইচের আলোচনা ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে গাংনী উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে এ সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মামুন-অর-রশিদ বিজন। সভায় বক্তব্য রাখেন গাংনী পৌরসভার কাউন্সিলর মিজানুর রহমান,সাংবাদিক নুরুজ্জামান পাভেল,সমাজ সেবক নুর আহমেদ রিন্টু,সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক তানভীর আহমেদ সাজু সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার তুরিন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোমানুর রহমান সবুজ, মাইমুনুর রহমান ইমন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দীন সাজ্জাদ উদয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হালিম, সদস্য সবুজ খান, জারিন তাসনিন রোজা, মাহমুদা রহমান মিম, সোহরাব হোসেন, ইরফানা তাবাসুম অদিতি, সাব্বির রহমান নাহিদ, মাহমুদুল সাব্বির, আশিক ইসলাম, বিজয়, আকাশ আল আবরার, নাহিয়ান রাজ প্রমুখ।

পূজা-ভোট দুটোই পবিত্র কাজ, একসঙ্গে সমস্যা নেই – ইসি সচিব

ঢাকা অফিস ॥ নির্বিঘেœ সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠানের বিষয়ে আশ্বস্ত করে নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন ও পূজা দুটোই  ‘পবিত্র’ কাজ হওয়ায় একসঙ্গে অনুষ্ঠানে কোনো সমস্যা হবে না। সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের একটি আবেদন হাই কোর্ট মঙ্গলবার খারিজ করার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন তিনি। বিকালে নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নির্বাচন ও পূজা একসঙ্গে হবে, এটি সাংঘর্ষিক হবে না। আদালতের আদেশ সবাইকে মানতে হবে। রংপুরের ভোটও পূজার সময়ে হয়েছে। এবারও তা হতে কোনো অসুবিধা নেই। পূজা উৎসবের আমেজে হবে; একই সঙ্গে ভোটও হবে।” যেসব কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পূজা হবে সেখানে ভোটের আয়োজনে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সচিব।তিনি বলেন, “পূজায় যেন সমস্যা না হয় সে অনুযায়ী সব ব্যবস্থা করা হবে।ৃ পূজার জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়েই নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। নির্বাচন মানেই এমন নয় যে মারামারি হবে. তাই পূজা করা যাবে না।“নির্বাচন ও পূজা পবিত্র কাজ। সুতরাং কোন সমস্যা হওয়ার কথা না।”ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আইন, সরস্বতী পূজা ও এসএসসি পরীক্ষাসহ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সর্বোত্তম দিন হিসাবে ৩০ জানুয়ারি ঠিক করেছে। আদালত রিট আবেদন রিট খারিজ করায় ভোট আয়োজনে বাধা নেই। এজন্য সব প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের নেতাদের উদ্দেশ্যে সচিব বলেন, “তারা অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আদালত যেখানে রায় দিয়েছে কমিশনের বিষয় না, আদালতের রায়ে তারা শ্রদ্ধা জানাবে বলে আশা করছি। গণমাধ্যমের মাধ্যমে শুনলাম তারা আপিল করতে পারেন, আপিলে কি আসে সে জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। তবে পূজা এবং নির্বাচন একসঙ্গে হতে পারে।” ৩০ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন।কিন্তু ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা থাকায় ভোটের তারিখ পরিবর্তনের জন্য আদালতে এই রিট আবেদন করেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। তার যুক্তি ছিল, ইসির ঘোষিত নির্বাচনের তারিখ সংবিধানে বর্ণিত প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’।আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে আদালত আদেশে বলেছে, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডারেও ২৯ তারিখ ছুটির কথা বলা আছে। আর নির্বাচন কমিশন ৩০ তারিখ ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে। তার দু’দিন পর এসএসসি পরীক্ষা।“উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোটের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই, তাই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হল।”

সমালোচনার মুখে হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

ঢাকা অফিস ॥ তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় হাসপাতালের তথ্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয় বাদ দিয়ে দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মিঞার স্বাক্ষরিত নতুন নির্দেশনাটি জারি করা হয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে গত ১২ জানুয়ারি দেয়া নির্দেশনায় যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল- তা বাদ দেয়া হয়েছে। উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মিঞা মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ৪ জানুয়ারি রাজশাহীতে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেছিলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে কোনো সাংবাদিকরা ঢুকতে পারবেন না। এরপর ১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মিঞা স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়, গবেষণা, জরিপ, অন্য কোনো তথ্য বা সংবাদ সংগ্রহের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। সংগৃহীত তথ্য বা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। বিনা অনুমতিতে হাসপাতালের ভেতরে রোগী বা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের কোনো স্থিরচিত্র বা ভিডিওচিত্র ধারণ করতে পারবেন না। সংগৃহীত তথ্য প্রকাশের আগেই বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। এ নির্দেশনার পরই তুমূল সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বলতে থাকেন, হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার অনিয়ম-দুর্নীতি ঢাকতেই মন্ত্রণালয়ের এমন নিষেধাজ্ঞা। সমালোচনার মুখে অবশেষে মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

রিমান্ড শেষে হাজতে শরিয়ত বয়াতি

ঢাকা অফিস ॥ ধর্ম অবমাননার মামলায় গ্রেপ্তার শরিয়ত সরকার বয়াতিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেল হাজতে নেওয়া হয়েছে। মির্জাপুর থানার ওসি সায়েদুল ইসলাম বলেন, তিনদিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। “শরিয়ত বয়াতি তার আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত। রিমান্ডে তিনি তার ভুল স্বীকার করেছেন।” গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক পীর এ কামেল হযরত হেলাল শাহ’র ১০ম বাৎসরিক মিলন মেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে এই বয়াতির বিরুদ্ধে।   এই অভিযোগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামের  জামে মসজিদের ঈমাম ফরিদুল ইসলাম মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিনই মির্জাপুর থানা পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে টাঙ্গাইল কোর্টে হাজির করলে বিচারক তিন দিন মঞ্জুর করেন। শরিয়ত বয়াতি মির্জাপুরের আগধল্যা গ্রামের মৃত পবন সরকারের ছেলে। শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারী শতাধিক নারীপুরুষ মির্জাপুর থানায় ভিড় জমান। মঙ্গলবারও তাকে আদালতে আনার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাউল শিল্পী এবং তার পরিবারের সদস্যসহ গ্রামের লোকজন মির্জাপুর থানায় আসেন। শরিয়ত বয়াতির ভাই মারফত সরকার বলেন, “আমার ভাই একজন মাটির মানুষ। সে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তাই নবী রাসুল এবং ধর্ম সম্পর্কে সে আপত্তিকর কথা বলতে পারে না।” মঙ্গলবার দুপুরে মির্জাপুর থানায় শরিয়ত বয়াতিকে দেখতে আসা বাউল শিল্পী বাবলি দেওয়ান বলেন, “মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। হয়তবা শরিয়ত সরকারের বেলায় তাই হতে পারে। পালা গান গাইতে গিয়ে বিভিন্ন যুক্তিতর্ক করতে হয়। তখন কোনো ভুল হতে পারে।” বাউল শিল্পী কাজল দেওয়ান বলেন, “কথা বলতে গেলে কোনো না কোনো ভুল হতে পারে। শরিয়ত বয়াতির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।”

৭ মাস আগে সোলাইমানি হত্যায় অনুমোদন দেন ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ সাত মাস আগেই ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যায় কর্তৃত্ব দিয়ে রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তাতে শর্ত উল্লেখ করে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হয়নি। পাঁচ সাবেক ও বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাতে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, যদি ইরানের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনে কোনো আমেরিকানের মৃত্যু হয়; তবেই সোলাইমানিকে হত্যায় কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা যাবে। ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, আসন্ন হুমকির কথা বলে সোলাইমানিকে হত্যা করা হলেও নতুন ফাঁস হওয়া তথ্য সেই দাবিকে আরও জটিল পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। মার্কিন বাহিনী বিশ্বাস করে, কয়েক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর জন্য ইরানের এ শীর্ষ জেনারেল দায়ী। ইরান একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার পরেই এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।ইরাকে ইরানি ছায়া বাহিনীর হামলার জবাবে ট্রাম্পের কাছে যেসব বিকল্প তুলে ধরা হয়, তার মধ্য দিয়ে সেখানে সোলাইমানি হত্যার সিদ্ধান্তকে বেছে নেয়া হয়েছে।এর আগে ইরাকি ছায়া বাহিনীর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের এক বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছিলেন। এ ছাড়া মার্কিন সেনাবাহিনীর চার সদস্য আহত হন।হামলার ক্ষেত্রে পাল্টা প্রতিশোধ আসার যে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তা আমলে নেননি ট্রাম্প। তখন তিনি বলেন, তারা যদি আমেরিকানদের ওপর আঘাত হানে, তবেই এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে।সোলাইমানিকে হত্যার অনুমোদনে তোড়জোড় করেছিলেন সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার পর বোল্টন তাতে সমর্থন জানিয়েছিলেন।যুক্তরাষ্ট্রের পরররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এই হামলার পক্ষে ছিলেন। ফক্স নিউজকে গত সপ্তাহে তিনি বলেন, বেশ কিছু হামলার ষড়যন্ত্র করেছিলেন সোলাইমানি। ট্রাম্প দাবি করেন, বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এই ইরানি সামরিক কর্মকর্তা।

মসজিদ ভিত্তিক দুস্থ সহায় সংস্থার শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার পূর্ব মজমপুরের সেবামুলক প্রতিষ্ঠান “ মসজিদ ভিত্তিক দুস্থ সহায়তা সংস্থা” শিক্ষার মান উন্নয়নে গরীব অসহায় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ইংরেজী, বাংলা ও অংক বিষয়ের খাতা বিতরণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পূর্ব মজমপুরের ৯৭ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ফ্রেন্ডস ক্লাব মিলনায়তনে এই শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। মসজিদ ভিত্তিক দুস্থ সহায়তা সংস্থা’র সভাপতি হাজী ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গরীব অসহায় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ খাতা বিতরণ করেন তাসলিমা রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার শামিমা সুলতানা, নওশিন শারমিন বনি, হাজী মজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান মাষ্টার, ৯৭ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকছুমা রহমান, মোজ্জাম্মেল হক, মেহেদী হাসান রনি প্রমুখ। সকাল সাড়ে ১০টায় গরীব অসহায় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ইংরেজী, বাংলা ও অংক বিষয়ের ৪৫০ টি খাতা বিতরণ করেন। প্রধান অতিথি তাসলিমা রহমান তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, অর্থের অভাবে এই এলাকার অনেক গরীব অসহায় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর পড়া-লেখা বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের এই সেবামুলক প্রতিষ্ঠান “মসজিদ ভিত্তিক দুস্থ সহায়তা সংস্থা” সেসব পরিবারের ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখার জন্য সার্বিক সহযোগিতা ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে সব সময় পাশে আছে এবং আগামীতেও তাদের পাশে থাকবে। সমাজের প্রতিটি সচ্ছল ও বিত্তশালী মানুষকে আত্ম মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে হবে। এসব ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা যাতে ঝরে না পড়ে সেজন্য তাদের স্কুল মুখি করতে দূর্দিনে পাশে থেকে তাদের সেবায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। গরীব দুঃখি মানুষের সেবায় সব সময় নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে হবে। সেবামুলক প্রতিষ্ঠান “মসজিদ ভিত্তিক দুস্থ সহায়তা সংস্থা’র মত শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং সমাজ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবহেলিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে যে কোন মুহুর্তে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ভারতে শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশ বেতার

ঢাকা অফিস ॥ রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল বাংলাদেশ টেভিলিশনের পর ভারতে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদকার মঙ্গলবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ বেতার ও ভারতের আকাশবাণী বেতারের অনুষ্ঠান বিনিময় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে বাংলাদেশ টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু করে। এর সাড়ে তিন মাসের মাথায় সারা ভারতে শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশ বেতার। বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান আকাশবাণী চ্যানেলে কলকাতায় এফএম ১০০.১ মেগাহার্টজ, আগরতলায় এফএম ১০১.৬ মেগাহার্টজ এবং আকাশবাণী অ্যাপ ও ডিটিএইচের মাধ্যমে সারা ভারতে স্থানীয় সময় সকাল ৭.৩০-৯.৩০টা এবং সন্ধ্যা ৫.৩০-৭.৩০টায় একযোগে সম্প্রচার শুরু হয়েছে। একই সময়ে আকাশবাণীর অনুষ্ঠান বাংলাদেশ বেতারের এফএম ১০৪ মেগাহার্টজে সম্প্রচার করা হবে বলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল প্রসার ভারতী ও বাংলাদেশ বেতারের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে দুই দেশের বেতারের মধ্যে অনুষ্ঠান বিনিময় কার্যক্রম উদ্বোধন করা হল। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে চুক্তি যৌথভাবে বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত নুজহাত ইয়াসমিন এবং ভারতের এনএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিসিএ কল্যাণী মঙ্গলবর দুই দেশের চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের মধ্যে যৌথ চলচ্চিত্র প্রযোজনা চুক্তিতে সই করেন। এ সময় বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, “আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ২০২০ সালে বেতার ও চলচ্চিত্রখাতে এই সহযোগিতা দুই দেশের জনগণ ও সরকারের বন্ধুত্বের এক অনন্য মাইলফলক। “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছেন, এই বিনিময় এবং চুক্তি তারই প্রতিফলন।” মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ভারতের প্রত্যক্ষ সহায়তা ছাড়া নয় মাসে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হত না। ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদকার বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ভৌগোলিক নৈকট্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত। গণমাধ্যম ক্ষেত্রের এই সহযোগিতা দু’ই দেশের অন্যান্য খাতে সহযোগিতাকেও প্রসারিত করবে। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনারের দায়িত্বে নিয়োজিত ডেপুটি হাই কমিশনার এটিএম রকিবুল হক, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাহানারা পারভীন, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত প্রেস মিনিস্টার ফরিদ হোসেন, ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব রবি মিত্তাল, প্রসার ভারতীর প্রধান নির্বাহী শশী শেখর ভেম্পতি, অতিরিক্ত সচিব অতুল কুমার তিওয়ারি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মসজিদ ভিত্তিক দুস্থ সহায় সংস্থার কম্বল বিতরণ

অসহায় ছিন্নমুল শীতার্ত মানুষের পাশে দাড়াতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার পূর্ব মজমপুরের সেবামুলক প্রতিষ্ঠান “ মসজিদ ভিত্তিক দুস্থ সহায়তা সংস্থা” এলাকার দুস্থ্য, অসহায় ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পূর্ব মজমপুরের ৯৭ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ফ্রেন্ডস ক্লাব মিলনায়তনে এই শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়। মসজিদ ভিত্তিক দুস্থ সহায়তা সংস্থা’র আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেন হাজী মজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার হাজী ইউনুস আলী, হাজী আরসাদ আলী, হাজী আবুল হোসেন, জুলফিকার আলী, আলাউদ্দিন আলাল ও মেহেদী হাসান রনি প্রমুখ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-৯৭ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকছুমা রহমান, তাসলিমা রহামস. তাসনিয়া পারভিন ববি, শামিমা সুলতানা।  সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুস্থ্য, অসহায় ছিন্নমূল ২০০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।  প্রধান অতিথি হাজী মজিবুর রহমান তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, সমাজের প্রতিটি সচ্ছল ও বিত্তশালী মানুষকে আত্ম মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে হবে। দুস্থ্য, অসহায় ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষের দূর্ভোগে ও দূর্দিনে পাশে থেকে তাদের সেবায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। গরীব দুঃখি মানুষের সেবায় সব সময় নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে হবে। সেবামুলক প্রতিষ্ঠান “ মসজিদ ভিত্তিক দুস্থ সহায়তা সংস্থা” মত সমাজ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে যে কোন দূর্যোগ মুহুর্তে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, অসহায় ও ছিন্নমূল বৃহৎ জনগোষ্ঠির মধ্যে সেবামুলক প্রতিষ্ঠান “ মসজিদ ভিত্তিক দুস্থ সহায়তা সংস্থা”এই সীমিত শীতবস্ত্র একেবারেই অপ্রতুল। তার পরও এসব মানুষের দূর্ভোগে ও দূর্দিনে পাশে থেকে তাদের সেবায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি। তবে তিনি প্রত্যাশা করেন সমাজের প্রতিটি সচ্ছল ও বিত্তশালী বিত্তবান মানুষ এমন উদ্যোগ গ্রহন করে আত্ম মানবতার সেবায় এগিয়ে আসলে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষেরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন।

আজ কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির বেদনাবিধূর ১৫ বছর

মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ৪ আইনজীবীসহ ১৩ জনের করুন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে

আরিফ মেহমুদ ॥ আজ সোমবার কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতিরি বেদনাবিধূর ১৫ বছর। ২০০৫ সালে ১৫ জানুয়ারী কোয়াকাটা পিকনিক শেষে কুষ্টিয়ায় ফেরার পথে ডাকাতের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পানি ভর্তি খাদে উল্টে গেলে কুষ্টিয়া বারের ৪ আইনজীবি ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়া আইনজীবি সমিতির পক্ষ থেকে ১৩ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে দুটি বাসযোগে বিনোদন প্রেমী আইনজীবীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুয়াকাটায় পিকনিকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। শুক্রবার ভোর ৬টায় তারা কুয়াকাটায় পৌঁছায়। সারাদিন আইনজীবীরা পরিবার পরিজন নিয়ে সমুদ্র সৈকতের অপূর্ব নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন, উপভোগ আর পিকনিক শেষে পরিশ্রান্ত দেহে সকলে খুব হাসি-তামাশার মধ্যে দিয়ে সন্ধ্যার দিকে কুষ্টিয়ার অভিমুখে বাড়ী ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া-ফরিদপুর মহাসড়কের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার সন্নিকটে একটি ব্রীজ অতিক্রম করা মাত্রই বাস দুটি ডাকাতদের কবলে পড়ে। রাস্তার মাঝে গাছ ফেলে আগে থেকে অবস্থান নিয়া ডাকাতরা বাসে ডাকাতি শুরু করলে পিছনে থাকা বাসটি ডাকাতের কবল থেকে রক্ষা পেতে পিছনের দিকে হটতে থাকে। এ সময় হটাৎ করে বাসটি রাস্তার বাম পাশে একটি পানি ভর্তি খাদে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ আইনজীবী, শিশু পুত্র, কন্যা ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ দূর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-কুষ্টিয়া জজ কোর্টের স্পেশাল পিপি এ্যাড.মকবুল হোসেন (৫৫), তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৪২), সাবেক এপিপি এ্যাড. মাসুদুজ্জামান ওরফে ছোটন (৪৫), তার স্ত্রী বিউটি (৩৫), তার কন্যা শুভ্রা (১১) ও পুত্র অভি (৭), এ্যাড. শামসুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী এ্যাড. হোসনেয়ারা নাজনীন ওরফে হীরা (২৬), এ্যাড. খন্দঃ সিরাজুল ইসলামের কন্যা বৃষ্টি (৮), এ্যাড. আবুল হাশেমের পুত্র হাশিমুর রহমান ওরফে অমিত (৫) ও মুহুরী আশরাফুল হক (৩৫)। আহত হয় অনন্ত ২০ জন। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এই দূর্ঘটনার কয়েকদিন পরে সিনিয়র এ্যাড. আজিজুর রহমান সহ আরো ২জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন খুব ভোরে ফরিদপুর থেকে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদটি কুষ্টিয়ায় পৌছানোর পর সর্বত্রই শোকের ছায়া নেমে আসে। বেদনায় ও শোকে মুচড়ে পড়েন নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির দীর্ঘদিনের সহকর্মী সহযোদ্ধা বন্ধুরা। সেদিনের মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতি হারিয়েছে অভিজ্ঞ ও দক্ষ আইনজীবীকে। অপর দিকে পরিবার হারিয়েছে এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.আবু সাঈদ জানান, বেদনাবিধূর এদিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে সোমবার কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতি নিহতদের স্বরণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচীর আয়োজন করেছে। সকাল থেকে শুরু হবে কোরআন খানী, কালো ব্যাচ ধারণ। মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত শহীদ আইনজীবীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সকাল ১০টায় শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ অশ্র“র আলপনাতে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী ও সম্পাদক এ্যাড.আবু সাঈদসহ সমিতির সদস্যবৃন্দ পুস্পমাল্য অর্পন করবেন। দুপুর ২টায় সিনিয়রদের হলরুমে শহীদ আইনজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া,স্মৃতি চারন সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

দৌলতপুরে কালিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কালিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতপুরের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ কালিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষ ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার পারদর্শিতা যাচাই করেন। এছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধ কর্নার ও শিশু শ্রেণীর কক্ষ পরিদর্শন করেন। এসময় দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী, আড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী বিপ্লব ও কালিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এরআগে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিস, দৌলতপুর ভূমি ও আড়িয়া ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন।

বিএনপি মানে ‘বাংলাদেশ নেগেটিভ দল’ – তোফায়েল

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব ওর্ডারে দাড়িয়ে আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিএনপির সমালোচনা করে বলেছেন, এ দলটি সব কিছুতেই নেগেটিভ দেখে। তা সে রাজনীতিতেই হোক আর নির্বাচনে হোক। তাই বিএনপি মানে- ‘বাংলাদেশ নেগেটিভ দল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব ওর্ডারে বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদের ‘নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল কারচুটি করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নির্বাচন সম্ভব নয়’ এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন। সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাড়িয়ে হারুন প্রশ্ন তুৃলে বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়েছে। কিন্তু এখানে এখনই বিএনপি প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে। প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। এমপি মন্ত্রীদের প্রচারে যাওয়া সিইসি নিষেধ করলেও তারা প্রচার করছেন। নির্বাচনী আইন মানছেন না। এমন অবস্থায় কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসময় তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনের মাত্র ২০ শতাংশের মত ভোট পড়েছে, যাতে ভোট দিতে আগের রাত থেকে বাধা দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর জবাব দিতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি যতক্ষণ ভোটে না জেতে ততক্ষণ বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। কারা কত ভোট পাবে, কটা আসন পাবে তা জানেন শুধু খালেদা জিয়া, আর কেউ জানে না। ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া বলেছিলেন আওয়ামী লীগ মাত্র ৩০ টি আসন পাবে। কিন্তু নির্বাচনে দেখঅ গেলে বিএনপিই পেয়েছে ৩০টি আসন। আমরা কিন্তু কোন নির্বাচন খারাপ হয়েছে সুষ্ঠু হয়নি কারচুপি হয়েছে তা বলিনি। তারা ৫ সিটিতে বিজয়ী হয়। আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু যতক্ষণ না বিএনপি জেতে ততক্ষণ তারা বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। বিএনপির ট্রাডিশন হচ্ছে- বলা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, নির্বাচন নিয়ে গন্ডোগোল পাকান। আগে থাকতে নির্বাচনের প্রতি একটা বিরুপ প্রভাব ফেলা। তোফায়েল আহমেদ বলেন, সিইসির সঙ্গে আমরা বৈঠক করি, তিনি বলেছেন, আপনারা যারা এমপি মন্ত্রী তারা নির্বাচনে প্রচার করতে পারবেন না। ভোট চাইতে পারবেন না। আমরা ভোট চাইব না। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। তবে আমরা মুজিব বর্ষের প্রচার বা বক্তব্য দিতে পারবো। তিনি বলেন, এটা আইন নয়, এটা একটা বিধিমালা। সিইসি আমাদের প্রচারে যেতে নিষেধ করেছেন। আমরা যাব না। তবে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী এমপিরা যদি প্রচারে যেতে পারেন আমরা কেন যেতে পারবো না। আমরা সিইসিকে বলেছি, আমরা এ বিধিকে বদলাতে আসেনি। আমরা সরকারী দলের লোক, এটা বদলালে লোকের মনে একটা বিরুপ প্রভাব পড়বে। বিধিতে যা আছে তাই মেনে নেব। তবে আমরা মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সভায় বক্তব্য দিতে পারবো, রাজনৈতিক বক্তব্য দিব, ভোট চাইবো না। অন্যরা ভোট চাইবে। এবিষয়ে এ বিষয়ে মাহবুব তালুকদার ছাড়া অন্য চার কমিশনার একমত হয়েছেন বলে জানান তিনি। এবিষয়ে আরেক বর্ষিয়ান নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমীর হোসেন আমু বলেন, বিএনপি নির্বাচনেও যেমন নেগেটিভ, তেমনি রাজনীতিতেও নেগেটিভ। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করাই এ দলটির কাজ। দলটি অবৈধভাবে জিয়াউর রহমান তৈরি করেন এবং অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে। নির্বাচন নিয়ে আগে ভাগেই প্রশ্নবিদ্ধ করে একটা অপশক্তির সহায়তায় তারা ক্ষমতায় আসতে চেষ্টা করে। জনগণের ওপর তাদের বিশ্বাস নেই। তাই নির্বাচন শুরুর আগেই তারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণতন্ত্রকেও হেও করে।

পদ্মাসেতুতে বসানো হল ২১ তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৩১৫০ মিটার

ঢাকা অফিস ॥ পদ্মা সেতুর ২১তম স্প্যান স্থাপন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৩মিনিটের সময় এই স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়। এর ফলে পদ্মাসেতু অর্ধেকের বেশী ৩১৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো।বছরের প্রথম স্প্যান খুঁটিতে বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু আরেক ধাপ এগিয়ে গেলে। ৬.১৫ মিটার দীর্ঘ এই মূল সেতুতে আর ২০টি স্প্যান বসানো বাকী। চলতি মাসে সেতুর আরও দু’টি স্প্যান উঠার কথা রয়েছে।সেতু বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, প্রতি মাসে সেতুর তিনটি করে স্প্যান বসবে। এতে আগামী জুলাই মাসেই সব অর্থ্যাৎ ৪১টি স্প্যান বসানো সম্ভব হবে।স্থায়ীভাবে সেতুতে ২১ স্প্যান বসেছে। তবে অস্থায়ী ভাবে আরও একটি অর্থ্যাৎ সেতুতে এখন ২২টি স্প্যান দৃশ্যমান। ‘৫এফ’ নম্বরের স্প্যানটি এখন অস্থায়ীভাবে সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটিতে রাখা আছে। এটি সরিয়ে নেয়া হবে ৩০ ও ৩১ নম্বর খুঁটিতে। রেলওয়ে এবং রোডওয়ে ¯¬াব বসানোর সুবিধার্থে এটি সেখানে যথাস্থানে বসানো হয়নি। তবে শিঘ্রই এটিও ৩০ ও ৩১ নম্বর খুঁটিতে বসানো হবে।আবহাওয়া জনিত কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও এরই মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জাজিরা প্রান্তে সেতুর ৩২ ও ৩৩ নম্বর খুঁটির ওপর ‘৬বি’ নম্বর স্প্যানটি পিলারের উপর বসানো হয়।মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটিকে নিয়ে যায় ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেন। নির্ধারিত পিলারের কাছে পৌঁছায় সকাল ১১টার দিকে। ২০তম স্প্যান বসানোর ১৪ দিনের মাথায় বসেছে ২১তম স্প্যানটি।দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টীল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সেতুর দু’প্রান্তে আরও প্রায় তিন কিলোমিটার সংযোগ সেতু রয়েছে। তাই সেতুটি দীর্ঘ প্রায় ৯কিলোমিটার। সেই সংযোগ সেতুর কাজের অগ্রগতিও সন্তোসজনক। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে।

কুষ্টিয়ায় ৩ অবৈধ ইটভাটায় সদর ইউএনও’র অভিযান

৭ লাখ টাকা জরিমানা, গুড়িয়ে দেয়া হলো চিমনি

নিজ সংবাদ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ টি অবৈধ ইট ভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি টিম। এ সময় ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় তিনটি ইট ভাটাকে।গতকাল মঙ্গলবার এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকসহ পুলিশের কর্মকর্তারা  সাথে ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঝাউদিয়া মাদি মাঠ এলাকায় অবস্থিত আসাদুজ্জামান ডাবুলর অবৈধ ড্রাম চিমনির ইটভাটা গুড়িয়ে দেয়া হয়। এ সময় তাকে অবৈধ ভাটা পরিচালনার অপরাধে ইট প্র¯ত ও ভাটা স্থাপন আইনে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর একই ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর এরাকার রঞ্জুর ইটভাটা গুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ভাটায়ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।সর্বশেষ আলামপুর ইউনিয়নের রাজাপুর ব্রীজ সংলগ্ন ফসলি জমির মধ্যে অবৈধ ড্রাম চিমনির ভাটা স্থাপন করা ও ইট প্রস্তুতের অপরাধে ডাবলু হোসেনের ভাটা গুড়িয়ে দেয়া হয়। একই সাথে জরিমানা করা হয় ১ লাখ টাকা। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন,‘ পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে বন্ধ করে দেয়া হবে। কোন ভাটাবে ছাড় দেয়া হবে। আজ (গতকাল) অভিযান পরিচালনা করে তিনটি ভাটার চিমনি গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ৭ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’

ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের শোক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোষাধ্যক্ষ এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. দেবাশীষ শর্মা’র পিতা বিনোদ কুমার শর্মার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের পক্ষ থেকে শোকবার্তা প্রেরণ করেছেন পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল আরফিন। প্রেরিত শোক বার্তায় তাঁরা, স্বর্গীয় আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

রিট খারিজ, ৩০ জানুয়ারিই ভোট

ঢাকা অফিস ॥ সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ বদলে দেয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। এই আদেশের ফলে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারিই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ভোট হবে। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো.খায়রুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ রিটটি করেছিলেন। রিটকারী আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ আদালতে নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম। উল্লেখ্য, ৩০ জানুয়ারি ভোটের দিন ঠিক করে ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা থাকায় ভোটের তারিখ বদলানোর জন্য আদালতে রিট আবেদন করেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে আদালত আদেশে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডারেও ২৯ তারিখ ছুটির কথা বলা আছে। আর নির্বাচন কমিশন ৩০ তারিখ ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে। তার দু’দিন পর এসএসসি পরীক্ষা। এমতাবস্থায় ভোটের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই, তাই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হল। আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী। তিনি বলেন, এই আদেশে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা আপিল বিভাগে যাব। পরে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির যে ক্যালেন্ডার আছে সেখানে সরস্বতী পূজার ছুটি ২৯ জানুয়ারি বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডারেও একই কথা বলা হয়েছে। ছুটির তালিকা দেখেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন আর ভোটের তারিখ পেছানোর সুযোগ নেই। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত ও সহসভাপতি সুব্রত চৌধুরীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় দুই দিনব্যাপী তথ্য মেলার উদ্বোধনকালে ডিসি

অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব এবং জনগনের আইনগত অধিকার

নিজ সংবাদ ॥ “তথ্যই শক্তি: জানবো জানাবো, দুর্নীতি রুখবো” স্লোগানকে সামনে রেখে ১৪-১৫ জানুয়ারি ২০২০ জেলা প্রশাসন কুষ্টিয়া, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), কুষ্টিয়ার যৌথ আয়োজনে আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষ্যে দুই দিন ব্যাপী কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরী চত্বরে আয়োজিত তথ্য মেলা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিম সুপার  মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মোসা: নূরুন নাহার বেগম এবং তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক আলোচক হিসাবে সিনিয়র জেলা তথ্য অফিসার মো: তৌহিদুজ্জামান। সনাক কুষ্টিয়ার সভাপতি রফিকুল আলম টুকুর সভাপতিত্বে সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন, টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং সনাক কুষ্টিয়ার সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান লাকী  প্রমূখ।  প্রধান অথিথির বক্তব্যে আসলাম হোসেন বলেন, অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব এবং জনগনের আইনগত অধিকার। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে হলে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে জনগনের মধ্যে বিদ্যমান অসচেতনতা দূর করতে আজকের এ মেলা। তথ্য অধিকার আইন প্রনয়ন এবং আইন বাস্তবায়নে জনসচেতনতা তৈরীতে টিআইবি’র ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকারি বেসরকারি দপ্তরের সিটিজেন চার্টার তথ্য অধিকার আইনের বাস্তবায়নের অন্যতম উদাহরণ। তথ্য মেলা’র উদ্বোধন ঘোষনার মাধ্যমে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন ক্যাম্পেইনেরও শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন। বক্তারা বলেন, সর্বক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার তথ্য অধিকার আইন প্রনয়ন করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সবার আগে অগ্রসর জনগণের মাঝে তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ের জনগোষ্ঠির মাঝে তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকুত পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই এ আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম কর্তব্য। প্রযুক্তির যুগে অবাধ তথ্য প্রবাহ জনগণের ক্ষমতায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত, তাই জনগণের দোরগোড়ায় তথ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। জেলা পুলিশের সেবা সহজীকরণের উদ্দেশ্যে মেলার মাঠ থেকেই বিনামূল্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা অনলাইনে চালু করেছে যা পরবর্তীতেও চলমান থাকবে। মেলায় সনাক সহ মোট ২৯টি সরকারি বেসরকারি অফিস অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের সেবা সম্পর্কিত তথ্য জনগনের মাঝে উন্মুক্ত করার পাশাপাশি স্টলগুলিতে সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ফেস্টুন, লিফলেট, পোস্টার, মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেছে। মেলায় কুষ্টিয়া সনাকের ইয়েস গ্রপের সদস্যরা দর্শনার্থীদেরকে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন ফরম পূরণ শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং তারা দর্শনার্থীদেরকে তথ্য জানার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্তের মাধ্যমে কাঙ্খিত তথ্য সেবা পাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জেলা প্রশাসক, কুষ্টিয়া; পুলিশ সুপারের কার্যালয়, কুষ্টিয়া; সিভিল সার্জনের কার্যালয়, কুষ্টিয়া; এলজিইডি, কুষ্টিয়া; জন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুষ্টিয়া; সমাজসেবা অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কুষ্টিয়া; যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; জেলা সমবায় অফিস, কুষ্টিয়া; পরিবেশ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া; জেলা রেজিষ্টার অফিস, কুষ্টিয়া; জেলা তথ্য অফিস, কুষ্টিয়া; জেলা শিক্ষা অফিস, কুষ্টিয়া; উপ- কর কমিশনারের কার্য়ালয়, কুষ্টিয়া; কাষ্টমস বিভাগীয় দপ্তর, কুষ্টিয়া; কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল, কুষ্টিয়া; জেলা মৎস্য অফিস, কুষ্টিয়া; জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস, কুষ্টিয়া; জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, কুষ্টিয়া; জেলা মহিলা বিষয়ক অফিস, কুষ্টিয়া; পাসপোর্ট অফিস, কুষ্টিয়া; বি আর টি এ, কুষ্টিয়া; ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কুষ্টিয়া; দিশা এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুষ্টিয়া। আলোচনা সভা শেষে মেলা উপলক্ষে টিআইবি’র থিম সং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দুর্নীতি বিরোধী লাল কার্ড প্রদর্শন ক্যাম্পেইন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রের আয়োজন করা হয়। টিআইবি কুষ্টিয়ার এরিয়া ম্যানেজার মো: আরিফুল ইসলাম এর সঞ্চালনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মীবৃন্দ, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ কুষ্টিয়ার নানা শ্রেনী পেশার মানুষ এবং সনাক কুষ্টিয়ার সদস্য এবং কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইরানি হামলা

‘অলৌকিকভাবে’ বেঁচে গেছেন মার্কিন সেনারা

ঢাকা অফিস ॥ কুদস বাহিনীর কমান্ডার কাসেম সোলেমানিকে হত্যার বদলায় ইরাকের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতায় বিস্মিত মার্কিন সেনারা তাদের অক্ষত থাকার ঘটনাকে সৌভাগ্য বলেই মনে করছেন। ওই হামলায় আইন আল-আসাদ ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাকে তেহরানের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতার নজির বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত সপ্তাহে ইরান আল আসাদের পাশাপাশি দেশটির ইরবিলে আরও একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। তেহরানের মদদপুষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় আরও হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। “এটা অলৌকিক যে কেউ আঘাত পায়নি,” আল-আসাদ ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সোমবার সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন মার্কিন লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টাসি কোলম্যান।মার্কিন বিমানবাহিনীর এ নারী কর্মকর্তা ইরাকের পশ্চিম আনবার মরুভূমিতে অবস্থিত আইন আল-আসাদ এয়ারফিল্ডটির পরিচালক। বিস্তৃত এলাকা নিয়ে নির্মিত এ ঘাঁটিতে প্রায় এক হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার বাস।“কে ভেবেছিল যে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে এবং কেউ হতাহত হবে না?” বলেছেন কোলম্যান।৮ জানুয়ারি ইরানের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার কাসেম সোলেমানি হত্যার বদলায় ইরানের পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে বলে জানিয়েছিলেন।এর সপ্তাহখানেক আগে যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর বিদেশি শাখা কুদস বাহিনীর কমান্ডার সোলেমানিকে হত্যা করেছিল।সোলেমানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন একটি যুদ্ধের আশঙ্কা জাগলেও ইরাকের দুটি ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর থেকে উত্তেজনা কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। দুটি সামরিক ঘাঁটিতে তেহরানের ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেউ আহতও হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক এবং অন্যান্য দেশের সেনাবাহিনীগুলো জানিয়েছে।হামলায় ‘আঁচড়’ না লাগায় মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা অবশ্য ইরানের ‘সদিচ্ছাকে’ ধন্যবাদ দিচ্ছেন না, দিচ্ছেন ঘাঁটির কর্মকর্তাদের। ইরান পাল্টা আঘাত হানতে পারে, এমন খবর পেয়ে ঘাঁটিটির কর্মকর্তারা বেশিরভাগ সৈন্য ও সরঞ্জামকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছিলেন।রয়টার্স বলছে, ইরানের ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিটির এক স্থানে বড় একটি গর্ত সৃষ্টি করেছে এবং জাহাজের কন্টেইনার দিয়ে নির্মাণ করা সেনাদের থাকার জায়গাগুলোকে ভস্মীভূত করেছে।বিস্ফোরণ ভারী কংক্রিটের দেয়ালগুলোকে চুর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে; জাহাজের কন্টেইনারগুলো সাইকেল, চেয়ার ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসের মতোই ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় পড়ে আছে।কংক্রিটের দেয়ালের পেছনেই আশ্রয় নিয়েছিলেন কিছু মার্কিন সেনা। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি তাদের ওই আশ্রয় কেন্দ্রের কাছেই পড়েছিল বলে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা বলেছেন।বিমান ঘাঁটিটিতে ডজনখানেকের মতো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মার্কিন বাহিনী সৈন্য এবং সরঞ্জামগুলো বিভিন্ন সুরক্ষিত স্থানে আলাদা আলাদা করে রাখার পরিকল্পনা করেছিল।আল-আসাদের এ ঘাঁটিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা ছিল না; সে কারণে স্থানীয় কমান্ডারদের ওপরই তাদের অধীনস্ত সেনাদের রক্ষার দায়িত্ব বর্তেছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।“কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলা হতে পারে এটি জানতে পেরে আমরা সরঞ্জামগুলো সরাতে পেরেছি,” বলেছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা স্টাফ সার্জেন্ট টমি ক্যাল্ডওয়েল।কোলম্যান জানান, খবর পেয়ে স্থানীয় সময় রাত ১০টা নাগাদ তার কর্মীরা সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গিয়েছিল।“তারা এটিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল,” বলেছেন তিনি।তারও প্রায় তিন-সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানা শুরু করে। হামলার পর আরও প্রায় দুই ঘণ্টা বাংকারেই ছিলেন বলে সেনাদের কয়েকজন জানিয়েছেন। কেউ হতাহত হয়েছে কিনা, তা দেখতে বেরিয়েছিলেন স্টাফ সার্জেন্ট আরমান্দো মার্টিনেজ। একটি ক্ষেপণাস্ত্র কিভাবে কংক্রিটের দেয়াল মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারে তা দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। “যখন একটা রকেট আঘাত করে, সেটা এক জিনিস, আর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, এটা সন্ত্রাসের মতো। আপনি একটি সাদা আলো দেখলেন, অনেকটা তারা খসে পড়ার মতো, এবং তার কয়েক সেকেন্ড বাদে সেটি ভূমিতে পড়লো ও বিস্ফোরিত হল। অন্য একদিন আমার এক সহকর্মী সত্যিকারের তারা খসে পড়তে দেখেও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল,” বলেছেন তিনি। ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারের সার্ভিসিং এরিয়া ও পার্কিংয়ের টারমাকে পড়েছিল। কপ্টারগুলো আগেই সরিয়ে নেওয়ায় সেগুলো রক্ষা পেলেও ক্ষেপণাস্ত্রে দুটি লাইট হ্যাঙ্গার পুরোপুরি ধ্বংস ও কাছাকাছি সহজে বহনযোগ্য কেবিনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। “আমরা বাংকারের মধ্যে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ছিলাম, সম্ভবত ৭ কি ৮ ঘণ্টা। এয়ারফিল্ড ও পার্কিং এলাকায় তারা কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে, তা তারা জানতো,” বলেছেন মার্কিন বিমানবাহিনীর মাস্টার সার্জেন্ট কেনেথ গুডউইন।