কুষ্টিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননার মধ্যদিয়ে কালের কন্ঠের দশম প্রতিষ্ঠাবাষিকী উদযাপন 

সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ঃ ইবি উপাচার্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য কালের কণ্ঠ জনপ্রিয় হচ্ছে ঃ জেলা প্রশাসক

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশীদ আসকারী বলেছেন, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষকে একযোগে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। আর কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন বলেছেন, জাতির বিবেকের প্রতিনিধি হচ্ছে সাংবাদিক। বস্তুনিষ্ঠতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য কালের কণ্ঠ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিকে পরিণত হয়েছে। আমরা কালের কন্ঠের এই অগ্রযাত্রাকে সাধুবাদ জানায়। গতকাল শুক্রবার কুষ্টিয়ায় কালের কন্ঠের দশম প্রতিষ্ঠাবাষিকী উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননার মধ্যদিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়েছে। দুপুরে শহরের একটি অভিজাত রেস্তোরায় কালের কন্ঠ শুভসংঘের সভাপতি নীলিমা বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। কালের কন্ঠের কুষ্টিয়ার স্টাফ রিপোর্টার তারিকুল হক তারিকের সঞ্চালনায় শুরুতে কালের কন্ঠের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক)  জেলা সভাপতি মো: রফিকুল আলমকে সম্মাননা জানানো হয়। তার হাতে সম্মাননা স্বারক ও উপহার তুলে দেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. শাহীনুর রহমান, ট্রেজারার ড. সেলিম তোহা  ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলুসহ কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্য ও শহরের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। এরআগে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন কালের কন্ঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এঅনুষ্ঠানে গুরুত্বপুর্ণ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ইবির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহীনুর রহমান বলেন, কালের কণ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে সমাজ তথা দেশের উন্নয়নের অংশীদার হচ্ছে। তাই কালের কন্ঠ মহাকালের কন্ঠে উন্নীত হবে বলে আমার বিশ্বাস। ইবির ট্রেজারার ড. সেলিম তোহা বলেন, রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে দেশ ও মাতৃকার কল্যানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্ভিক সাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছেন কালের কন্ঠের সাংবাদিকরা। তিনি বলেন হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই বিশেষ দিনে কালের কন্ঠের সুচনাতে আমরা অভিভুত। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন- নানান সীমাবদ্ধতা ও সমাজের নানান ঘাত প্রতিঘাত উপেক্ষা করে আমাদেরকে কাজ করতে হয়। এই সীমাবন্ধতার মধ্যেও কালের কন্ঠ তার লেখনী দিয়ে পাঠক হৃদয়ে  যে যায়গা করে নিয়েছে তাতে আমরা উচ্ছসিত। কালের কন্ঠের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদ রতন, সাবেক ব্যাংকার খলিলুর রহমান মজু, বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান জহুরুল হক চৌধুরী, টিআইবির এরিয়া ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম, সংবাদের জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান লাকি, দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান মন্জু, প্রথম আলো প্রতিনিধি  তৌহিদী হাসান শিপলু, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ষ্টাফ রিপোর্টার ও দি  টিচারের সম্পাদক শরীফ বিশ্বাস, দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি এম জুবায়েদ রিপন, আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিনিধি আরিফ মেহমুদ প্রমুখ। শেষে অতিথিরা কালের কন্ঠের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন। এরআগে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের তত্বাবধানে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেনের নেতৃত্বে শহরের প্রধান সড়কে শোভাযাত্রা বের করা হয়।

বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী উপলক্ষে বছরব্যাপী মুজিব বর্ষ উদযাপনের জন্য গতকাল শুক্রবার ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেছেন। পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের এই দিনে দেশে ফিরে আসেন। প্রধানমন্ত্রী নগরীর পুরাতন বিমান বন্দরে আয়োজিত এক বণার্ঢ্য অনুষ্ঠানে মুহূর্তটিকে বঙ্গবন্ধু’র ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসাবে উৎসর্গ করে বলেন, ‘আমি ক্ষণগণনার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।’ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তাঁর স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম পা রাখেন এই স্থানেই। শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বে মযার্দার আসনে অধিষ্ঠিত করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের হাতে বিজয়ের মশাল তুলে দিয়েছেন, আমরা এখন এই বিজয় নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের দখলদারিত্ব থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার কয়েক সপ্তাহ পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ব্রিটিশ রাজকীয় এয়ার ফোর্সের একটি বিমানে করে লন্ডন থেকে নয়াদিল্লী হয়ে দেশে ফিরে তেজগাঁওয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঃ শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধুর সেই মশাল নিয়েই চলতে চাই 

ঢাকা অফিস ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে বিজয়ের যে ‘আলোকবর্তিকা’ তুলে দিয়েছেন, তা নিয়েই পথচলার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রত্যয়ের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে বিজয়ের আলোকবর্তিতা তিনি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, সে মশাল নিয়েই আমরা আগামী দিনে চলতে চাই। বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসাবে গড়তে চাই।” ৪৮ বছর আগের এই দিনে জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘটনাপ্রবাহের প্রতীকী মঞ্চায়ন করা হয় ক্ষণ গণনার শুরুর আয়োজনে। আয়োজকদের ধন্যবাদ দিয়ে ১৯৭২ সালের সেই দিনের ফিরে ঘটনাপ্রবাহে ফিরে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “সেদিনটিতে আমরা হয়ত বিমানবন্দরে আসতে পারিনি, তখন আমার বাচ্চাটি ছোট ছিল, আমরা এমন অবস্থায় ছিলাম। “কিন্তু আমার মনে পড়ে মা সর্বক্ষণ একটি রেডিও নিয়ে বসেছিলেন, ধারাবাহিক বিবরণ শুনছিলেন, আমরা পাশে বসে সারাক্ষণ ধারা বিবরণী শুনেছিলাম।” জনগণের প্রতি বাবার গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বলেন, “আমার মনে পড়ে, তিনি কিন্তু বাংলার মাটিতে নেমে আমাদের কথা ভাবেননি, পরিবারের কথা ভাবেননি। তিনি চলে গিয়েছিলেন রেসকোর্স ময়দানে তার প্রিয় জনগণের কাছে, তার প্রিয় মানুষগুলির কাছেই তিনি সর্বপ্রথম পৌঁছে যান। তারপর আমরা তাকে পাই। “তিনি এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবেসেছেন। চেয়েছিলেন এ দেশের মানুষ সুন্দর জীবন পাবে।” এই প্রেক্ষাপটে কবিগুরুর ’বঙ্গমাতা’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ’সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি’। তারই উত্তর (বঙ্গবন্ধু) দিয়েছিলেন এই ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে। “জাতির পিতা বলেছিলেন, কবি গুরু দেখে যান আপনার সাত কোটি মানুষ আজ মানুষ হয়েছে, তারা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে।” বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাঝখানে একটা কালো অধ্যায় আমাদের জীবন থেকে চলে গেছে, সেই কালো অধ্যায় যেন আর কোনো দিন আমাদের দেশের মানুষের উপর ছায়া ফেলতে না পারে। ”আমাদের দেশের মানুষ যেন জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলে এই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারে, সেই কামনা করে ক্ষণগণনার শুভ সূচনা ঘোষণা করছি।” বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, “চলুন আজকের দিনে আমরা সেই প্রত্যয় নিই যে, এই বাংলাদেশ কারও কাছে মাথা নত করে না, বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে বিশ্বে চলবে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সেই সোনার বাংলা ইনশাআল্লাহ আমরা গড়ে তুলব।”

মুজিব বর্ষের ক্ষণগননা

কুষ্টিয়ায় স্মরণকালের বর্ণাঢ্য র‌্যালী জেলা প্রশাসনের

নিজ সংবাদ ॥ মুজিব বর্ষের ক্ষণগননা উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গতকাল দুপুর আড়াইটায় কালেক্টরেট চত্বর থেকে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করে জেলা প্রশাসন। র‌্যালীটি শহর প্রদিক্ষণ করে ফের কালেক্টটরেট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।  র‌্যালীতে জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, পৌর মেয়র আনোয়ার আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারন সম্পাদক আজগর আলী, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কাজি মনজুর কাদির, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম টুকু, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।

দুপুরের আগেই কালেক্টটরেট চত্বর লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। র‌্যালীতে অংশ নেয়ার জন্য দুর-দুরান্ত থেকে আসেন নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। এছাড়া র‌্যালীতে সারা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠাপনা শিক্ষার্থীরা, সরকারি, আধা সরকারি ও সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও সামাজিক সংগঠনের কর্মিরা অংশ নেন।

র‌্যালী শেষে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন, সদ্য স্বাধীন বাঙালী জাতি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে একটি স্বাধীন দেশ পেলেও স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে বাঙালির বিজয় ছিল অসম্পূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের মধ্য দিয়ে সেই বিজয় পূর্ণতা পেয়েছে। তাই আজকের এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। বাঙালী জাতি স্বদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মাটিতে নেমেই মাটি ছুঁয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা শিশুর মতো আবেগে আকুল হয়েছিলেন। আনন্দ-বেদনার অশ্র“ধারা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। তাঁর দুচোখ বেয়ে নেমেছিল অশ্র“ধার। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দশ্র“তে সিক্ত হয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বাংলার আকাশ-বাতাস।  গতকাল শুক্রবার বিকেলে কালেক্টরেট চত্বরে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য পাদদেশে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা উদ্বোধনী ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সদ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে বিশে^র দরবারে পরিচিতি গড়ে তুলতে, বাঙালি জাতিকে মাথা উচু করে বাঁচতে শেখাতে সেদিন দেশের দায়িত্ব নেন।  স্বপ্ন দেখেন এদেশকে সোনার বাংলা গড়ে তোলার এবং দেশের মানুষকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলার। আজকে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাঝে বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে। রয়ে গেছে তাঁর সোনার দেশের সোনার মানুষ। আজকের এই দিনে আমাদের স্বপথ হোক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার এ দিবসটি বাঙালি জাতির মাঝে অনেক বেশি দ্যুতিময় হয়ে ধরা দিচ্ছে। কারণ একাত্তরের অমোচনীয় ইতিহাস যার হাত ধরে সৃষ্টি, যার বদৌলতে এ জাতি পেয়েছে সবুজ জমিনে লাল সূর্যের একটি পতাকা, সেই মহান রাজনীতিক বঙ্গবন্ধুর আসন্ন জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনাও শুরু হচ্ছে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস অর্থাৎ আজ থেকেই। তিনি জেলার সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক, সূধীজন সহ নানা বয়সী মানুষ আজকের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি যেভাবে সফল ও সুন্দর করতে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেছেন তা যেন আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানে অব্যাহত থাকে। আপনাদের এই সহযোগীতা সত্যিই মনে রাখার মত। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। শুক্রবার দুপুর সোয়া দু’টায় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিবসের মুল কর্মসূচী শুরু হয়। পরে কালেক্টরেট চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালেক্টরেট চত্বরে এসে আলোচনা সভায়  মিলিত হয়। স্বরণকালের সর্ববৃহৎ শহরের সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ্য বর্ণাঢ্য র‌্যালী সহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার অনুষ্ঠানে ঢল নেমেছিল বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের। শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই কুষ্টিয়া শহরের সড়কগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  ছাত্র-শিক্ষক, সূধীজন সহ নানা বয়সী মানুষের। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ  থেকে শহরে বের করা হয় অসংখ্য মিছিলও। সেখান থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান প্রকম্পিত করে তোলে চারপাশ। বিকেলে ঢাকার প্যারেড গ্রাউন্ডের সাথে একযোগে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মুহুর্মুহু করতালি আর শ্লোগানের মধ্য দিয়ে মার্কিন জেট বিমান থেকে প্রত্যাবর্তন করা জাতির জনকের আলোকবর্তিকাকে বরণ করা হয়। স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক মৃনাল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে স্মৃতিচারণমুলক বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার), জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আ.স.ম.আখতারুজ্জামান মাসুম (জিপি), বিশিষ্ট লেখক ও কলামিষ্ট শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু প্রমুখ। জন্মশতবার্ষিকী ও বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন দু’দিনব্যাপী এ কর্মসূচীর আয়োজন করেছে। হয়েছে সরকারী বেসরকারী দপ্তরে বর্ণিল আলোকসজ্জা, করা হয় বিভিন্ন আতোশবাজী। প্রজেক্টরের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত একটি ডিজিটাল কিয়স্কের উদ্বোধন করবেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা শিশু একাডেমি ও লালন একাডেমির শিল্পীরা। চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও নানা কর্মসুচী পালন করা হয়। র‌্যালী অংশ নেন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা। এছাড়া রাতে বর্নিল আতশবাজির আয়োজন করেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। পাশাপাশি ক্ষণগননার জন্য বিশাল ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ লাইনে।

উদিত নারায়ণের পুত্রবধূ হচ্ছেন নেহা কাক্কর?

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নেহা কাক্করের সঙ্গে সম্প্রতি হিমাংশুর সম্পর্ক ভেঙে গেছে। এরপর থেকে সংবাদমাধ্যমজুড়ে আলোচনায় বিষয় হয়ে উঠেছেন নেহা।

এখন শোনা যাচ্ছে, নেহা ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী উদিত নারায়ণের ছেলে আদিত্যকে বিয়ে করতে চলেছেন। তাদের এ বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন আদিত্যর বাবা উদিত নারায়ন নিজেই।

আদিত্য বর্তমানে ভারতের সনি চ্যানেলের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ইন্ডিয়ান আয়ডল ১১ এর উপস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন। আর এই শোতে বিচারকের আসনে আছেন নেহা কাক্কর।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে হাজির হন আদিত্যর বাবা মা উদিত নারায়ণ ও দীপা নারায়ণ। শোতে উদিত নারায়ণ বলেন, ইন্ডিয়ান আইডল শোটি এবার তার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণ এই শোয়ের বিচারক নেহা, যে তার পুত্রবধূ হতে চলেছেন। তবে এখানেই শেষ নয় নেহাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিয়েছেন উদিত নারায়ণের স্ত্রীও।

নেহার বাবা মাও আদিত্যকে জামাই হিসেবে মেনে নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। নেহাকে তিনি বিয়ে করে তবেই বাড়িতে ফিরবেন বলেও জানান উদিত নারায়ণর ছেলে। যদিও শোতে পুরো ব্যাপারটাই ছিল নিছক জোকস। তথ্যসূত্র জিনিউজ।

নুসরাতের জন্মদিনে গান গাইলেন নিখিল

বিনোদন বাজার ॥ কলকাতার জনপ্রিয় তারকা নুসরাত জাহানের জন্মদিনে গান গাইলেন স্বামী নিখিল জৈন।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে স্ত্রী নুসরাতের জন্মদিন সেলিব্রেশনের ভিডিও পোস্ট করেছেন নিখিল নিজেই।

গত বৃহস্পতিবার নুসরাত জাহান ৩০ বছরে পা দিয়েছেন। জন্মদিন উপলক্ষে নিজেদের পার্টি দিয়েছিলেন নিখিল। সেই পার্টিতে নুসরাতের একাধিক কেককাটা ও নিখিলের সঙ্গে ড্যান্স পারফরম্যান্সের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এসেছে।

জন্মদিনে উপস্থিত বন্ধুদেরও সেই ভিডিওতে দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছেÑ নিখিলকে এভাবে দেখে আর সোফায় বসে থাকতে পারলেন না নুসরাত। তিনি উঠে গিয়ে নিখিলকে জড়িয়ে ধরলেন এবার তাকে নিখিলের হাত ধরে নাচতেও দেখা গেল।

প্রসঙ্গত বিয়ের পর সম্প্রতি ‘অসুর’ ছবির মাধ্যমে পর্দায় ফিরেছেন সাংসদ অভিনেত্রী। অসুর ছবিতে জিৎ ও আবির চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে দেখা গেছে তাকে। অসুরে নুসরাতের চরিত্রের নাম অদিতি। ছবিটি বানিয়েছেন পরিচালক পাভেল। তথ্যসূত্র: জিনিউজ

ফের ক্রিকেটে ফিরছেন সাইফউদ্দিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকেই ইনজুরিতে ভুগছিলেন বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৯ বছর আগে পাওয়া চোট আবার ফিরে আসে তার। তা সত্ত্বেও ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেন তিনি। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেন সাইফউদ্দিন। ফলে চোট আরো বাড়ে। একপর্যায়ে গুরুতর আকার ধারণ করে। ফলে দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে চলে যান তিনি। তবে লম্বা পুনর্বাসনের পর ফের ক্রিকেটে ফিরছেন টাইগার পেস অলরাউন্ডার। নিয়মিত কোমরের ফ্যাসেল জয়েন্টে ব্যথা অনুভব করতেন সাইফ। সেই ইনজুরির সবশেষ স্ক্যান রিপোর্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাতে এসেছে। সেটাই মূলত তার ফেরার ব্যাপারে আশা জোগাচ্ছে। বিসিবি চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, গেল বুধবার সাইফউদ্দিনের স্ক্যান করানো হয়। সেই রিপোর্ট ভালো। ফলে এখন থেকে ওয়ার্ক লোড নিতে পারবেন তিনি। ধীরে ধীরে ব্যাটিং-বোলিং শুরু করতে পারবেন। ভারত সিরিজের পর ছুটিতে ছিলেন জাতীয় দলের দক্ষিণ আফ্রিকান ফিজিও জুলিয়ান ক্যালেফাতো। তিনি বাংলাদেশে আসছেন শুক্রবার। তার অধীনে সাইফউদ্দিনের শেষ ধাপের পুনর্বাসন শুরু হবে। গেল অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সাইফউদ্দিনের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যে কারণে এবারের বিপিএলে দর্শক সারিতে তাকে বসে থাকতে হচ্ছে।

জয় দিয়ে বিপিএল শেষ করল রংপুর

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লক্ষ্যটা বড় ছিল না। তবু সেই রানটিই তুলতে পারল না ঢাকা প্লাটুন। বাজে ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখালো দলটি। শেষ অবধি ১৩৮ রান তুলতে সামর্থ্য হলো তারা। এতে ১১ রানের জয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএল শেষ করল রংপুর রেঞ্জার্স। ১২ ম্যাচ খেলে ৫ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বিশেষ আসর থেকে বিদায় নিল তারা। অন্যদিকে ১১ ম্যাচে ৭ জয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা। ইতিমধ্যে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে তারা। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভূমিকাতেই হোঁচট খায় ঢাকা। রানআউটে কাটা পড়েন আনামুল হক। পরে মেহেদী হাসানকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪৪ রানের জুটি গড়েন তারা। তবে তারা বিচ্ছিন্ন হতেই পথচ্যুত হয় দলটি। ব্যক্তিগত ২০ রান করা মেহেদীকে তুলে নিয়ে তাদের জুটি ভাঙেন সানি। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি তামিম। একই বোলারের শিকার হয়ে ৩৩ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৪ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে ঢাকার ব্যাটিং অর্ডার। তাসকিন আহমেদের বলে ফেরত আসেন মুমিনুল হক ও আসিফ আলি। অল্প বিরতিতে শাদাব ও ফাহিম আশরাফকে ফিনিশ করেন জুনায়েদ খান। আর আরিফুল হককে প্যাভিলিয়নের পথ ধরান মোস্তাফিজুর রহমান। এদের আগে পেরেরাকে কাটেন গ্রেগরি। মূলত সেখানেই ম্যাচ হেরে যায় রাজধানীর দলটি। শেষদিকে চেষ্টা করেন মাশরাফি। তবে সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ১২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৮ রান সংগ্রহ করে ঢাকা। রংপুরের হয়ে তাসকিন, জুনায়েদ, সানি নেন ২টি করে উইকেট। শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন ঢাকা প্লাটুন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফলে আগে ব্যাটিং করতে নামে শেন ওয়াটসনের রংপুর রেঞ্জার্স। তবে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মাশরাফির শিকার হন ওয়াটসন। তার পর মেহেদী হাসানের বলে ক্যামেরন ডেলপোর্ট দ্রুত ফিরলে চাপে পড়ে দলটি। পরে লুইস গ্রেগরিকে নিয়ে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন নাঈম শেখ। তবে সফল হতে পারেননি তিনি। শাদাব খানের বলে ব্যক্তিগত ১৭ রানে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার। এরপর আল-আমিনকে দলের হাল ধরেন গ্রেগরি। ধীরে ধীরে ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন তারা। ক্রিজে সেটও হয়ে যান এ জুটি। তবে রানের গতি মন্থর ছিল। সেটা বাড়াতে গিয়ে থিসারা পেরেরার বলির পাঁঠা হন গ্রেগরি। ফেরার আগে ৩২ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৬ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। মূলত তার লড়াইয়ে মাঝারি পুঁজি গড়ার ভিত পায় রংপুর। পরে সেটার ওপর দাঁড়িয়ে রান বাড়ানোর চেষ্টা করেন আল-আমিন। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসা জহুরুল ইসলামের কাছ থেকে ভালো সমর্থনও পান তিনি। তাতে ঘুরে দলের রানের চাকা। কিন্তু হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যান আল-আমিন। শাদাব খানের বলে বিদায় নেন তিনি। ফেরার আগে ২৪ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩৫ রান করেন এ মিডলঅর্ডার। জোট ভাঙার পর তৎক্ষণাৎ ফেরেন জহুরুল। থিসারা পেরেরার বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে ২৪ বলে ৩ চারে ২৮ রান করেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। পরে আর কেউ ঝড় তুলতে পারেননি। উল্টো পেরেরার বোলিং তোপে পড়ে রংপুর। সোজা বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন তাসকিন আহমেদ। এতে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান পেরেরা। তবে বাস্তবে রূপদান করতে পারেননি তিনি। মোস্তাফিজুর রহমান ও আরাফাত সানি রানআউটে কাটা পড়েন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৮ রান করে উত্তরবঙ্গের দলটি। ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন পেরেরা। আর ২ উইকেট নেন শাদাব।

আসছে রাজা-রুবায়েতের নতুন তিন গান

বিনোদন বাজার ॥ নতুন তিনটি গান নিয়ে শ্রোতা-দর্শকের সামনে আসছেন প্রবাসী শিল্পী ও সঙ্গীতপরিচালক জুটি রাজা কাশ্যফ ও রুবায়েত জাহান। তারা দু’জনই লন্ডনে বসবাস করেন।

গত ডিসেম্বরে প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লার একটি গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকা এসেছেন। এরই মধ্যে নতুন তিনটি গানের কাজ সম্পন্ন করেছেন। গান তিনটি হচ্ছে ‘অনুভবে’, ‘বৈশাখী মেলা’ ও ‘দুটি চোখ’। এরই মধ্যে ‘অনুভবে’ গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মিত হয়েছে। এ গানটি প্রকাশিত হবে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেলে।

‘বৈশাখী মেলাতে’ গানটি আরটিভি মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে। ‘দুটি চোখ’ গানটি কোথা থেকে প্রকাশ হবে সেটি এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। নতুন গান প্রসঙ্গে রুবায়েত জাহান বলেন, ‘প্রত্যেকটি গান নিয়েই আমি ভীষণ আশাবাদী। কারণ প্রতিটি গানের কথা, সুর এবং সঙ্গীতায়োজন খুব ভালো হয়েছে।’

 

ঝিনাইদহে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ী দৌড় প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ আধুনিককালে খেলা মানেই শুধু ক্রিকেট আর ফুটবল। গ্রাম বাংলায় কৃষি পণ্যের বাহন গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতাও হতে পারে একটি বিরাট আকর্ষণীয় খেলা ও বিনোদনের মাধ্যম তা যেন ভাবাই যায় না। এমনই এক আয়োজন হয়ে গেল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেতাই গ্রামের মাঠে। গান্না ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব এর আয়োজনে দিনভর এ আয়োজন দেখতে মাঠে ভীড় করেছিল হাজার হাজার দর্শক। সকাল থেকেই যতœআত্তি চলে প্রতিযোগীদের। এখন আর হালচাষে গরু নয়। রীতিমত মনিবের মর্যাদার লড়াইয়ে নামতে হয়েছে গরুর। আর যা দেখতে ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলার হাজার হাজার দর্শক আসতে শুরু করে। দুপুর গড়াতেই শুরু হয় প্রতিযোগিতা। ৬টি সারিতে ১ কিলোমিটার দুর থেকে শুরু হয় দৌড়। একে অপরকে পিছনে ফেলতে গাড়োয়ানরা যেন ঝড়ের গতিতে চালায় গাড়ি। দৌড়ের সাথে সাথে যেন উল্লাসে মেতে ওঠে দর্শক। নির্মল এ চিত্ত বিনোদন বিমোহিত করে আগতদের। রোমাঞ্চকর এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে আয়োজন করা হয় আনন্দ মেলারও। আসে নাগরদোলা, নানা পণ্য সামগ্রীর দোকান। অনেকে আগে এসেছে আবার অনেকে জীবনে প্রথম এ প্রতিযোগিতা দেখে চরম খুশি। ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি থেকে যাওয়া হাসান আলী নামের এক দর্শক বলেন, আমি জীবনের প্রথম এই গরুর গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতা দেখছি। দেখে আমি খুবই খুশি। এ ধরনের আয়োজন প্রতিনিয়ত করার দাবী তার। সদর উপজেলার হলিধানী এলাকা থেকে যাওয়া মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় অনুসঙ্গ গরুর গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতা যে এত মনমগ্ধকর তা না দেখলে বোঝা যেত না। সত্যিই উপভোগ্য এ প্রতিযোগিতা। কালীগঞ্জ থেকে আসার আরিফ মোল্লা নামের এক দর্শক বলেন, গরুর গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগিতা হবে শুনে সকালেই বেতাই গ্রামে এসেছি। এখানে শুধু ঝিনাইদহ নই, আশপাশের জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার দর্শক এসেছে। এ যেন কৃষক ভাইদের এক মিলন মেলা। দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা,মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা, সাতক্ষীরা, ও খুলনা থেকে মোট ৫৬ টি গরুর গাড়ি এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম হয় বেতাই গ্রামের আমিরুল খান ও ২য় হয় যশোরের বাঘারপাড়ার মশিউর রহমনের গাড়ি। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র আলহাজ সাইদুল করিম মিন্টু। তিনি বলেন, সমাজকে অন্যায়, অপরাধ থেকে দূরে রাখতে আর ভবিষ্যত প্রজন্মকে জানান দিতে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজন করা উচিত। এ ব্যাপারে আয়োজক গান্না ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে আর তা বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা পেলে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করার আশ্বাস দেন তিনি।

তাথৈ-তাথিয়া ক্রিকেট লীগ ও ক্রিকেট একাডেমী’র উদ্বোধন

কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া তরণ সংঘ পাঠাগার ও ক্লাবের ৮৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে তাথৈ-তাথিয়া টি টেন ক্রিকেট লীগ ও তাথৈ-তাথিয়া ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সকালে হাউজিং এফ ব্লকে তরুণ সংঘ ক্লাব মাঠে কুষ্টিয়া পৌরসভা উন্নয়নের রূপকার ও কুষ্টিয়া পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার ঐতুবৃ কেমিক্যাল ওয়ার্কস এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ ফজলে করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাউন্সিলর সাবা উদ্দিন সওদাগর, আনিছ কোরাইশী, গোলাম মোস্তফা লাভলু ও তরুণ সংঘ পাঠাগার ও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তাথৈ-তাথিয়া টি-টেন ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের আহবায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ আনোয়ার তনু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলে করিম বলেন- ৮৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন উপলক্ষে আমাকে অতির্থি করার জন্য ক্লাবের সভাপতি ও প্রবীন রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই ক্রীড়াবীদ পারভেজ আনোয়ার তনুকে। কারন যুব সমাজকে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং নেশা হতে দূরে রাখার জন্য খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। আর এই কাজটি তনু করে আসছে। তিনি আরো বলেন, আমার খুব ভালো লাগছে এই মাঠের পরিবেশ দেখে। এছাড়াও ক্রিকেট খেলার জন্য পরিকল্পিত ভাবে মাঠকে তৈরি করা হয়েছে এটা আমাদের সন্তানদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এছাড়াও এই ক্রিকেট একাডেমির মাধ্যমে প্রশিক্ষন গ্রহন করে আগামীতে ক্রিকেটার হিসেবে কুষ্টিয়া সহ দেশের মুখ উজ¦ল করবে বলে আমি আশা করি। সভাপতির বক্তব্যে পৌরসভা উন্নয়নের রূপকার ও জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি পাকিস্থানের কারাগার হতে মুক্ত হয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। এটি ছিল বাঙ্গালি জাতির আনন্দের দিন। আর এই দিনটাকে আরো আনন্দময় করে তোলার জন্য আজকে এই ক্রিকেট লীগ ও ক্রিকেট একাডেমীর উদ্বোধনের দিন ধার্য করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের প্রধান সমস্যার মধ্যে নেশা অন্যতম। আর এই নেশা যুব সমাজকে গ্রাস করে রেখেছে। এই যুব সমাজকে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মধ্যে রাখলে শরীর ও মন দুটোর ভাল থাকবে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সন্তানদেরকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে উড়ে তুলতে হলে শরীর ও মন সুস্থ রাখতে হবে। আর এটা একমাত্র খেলাধুলার মাধ্যমেই সম্ভব। মেয়র আরোও বলেন, আজকে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাথৈ-তাথিয়া ক্রিকেট একাডেমির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হল। আপনারা চাইলে আপনার সন্তানকে স্বল্প খরচে এই ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করে ক্রিকেট খেলা শেখাতে পারবেন। পরে তাথৈ-তাথিয়া ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন অত্র ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজল হোসেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মিটু নিয়ে আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য তনুশ্রী দত্তের

বিনোদন বাজার ॥ আবারও পুরনো অভিযোগ উসকে দিয়ে মিটু নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত।

এর আগে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছিলেন ভারতের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী বলেন, যদি তোমার কাছে পয়সা থাকে, তবে ন্যায়বিচার মিলবে। যদি পয়সা না থাকে, তা হলে কিছুই মিলবে না।

নানাকে স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর সঙ্গে তুলনা করে তনুশ্রী বলেন, এই লোকটাকে বোকা বানানো খুব সহজ। শুধু গাঁধী টুপি এবং সাদা রঙের কুর্তা পরতে হবে।

এর পরই নানার এনজিও’র নাম উল্লেখ করে তনুশ্রী বলেন, ওই সংস্থা বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করে। তবে আমি গরিব, এক কামরার ফ্ল্যাটে থাকি’Ñ এমন একটি ইমেজ নিয়ে ঘুরে বেড়ান। ওর পুরোটাই মিথ্যা।

২০১৮-তে অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত অভিযোগ তুলেছিলেন, ২০০৯ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি গানের শুটিংয়ে তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ হতে চেয়েছিলেন নানা। তিনি রাজি না হওয়ায় নানা তাকে চরম হেনস্তাও করেছিলেন ওই অভিনেতা। এমনকি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ডেকে তার গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। শুধু নানাই নন, কোরিওগ্রাফার গণেশ আচারিয়া এবং রাকেশ সরংসহ সেটের অধিকাংশই দল পাকিয়ে এই কাজ করেছিলেন বলে দাবি করেন তনুশ্রী। এ ঘটনায় নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগও করেছিলেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

বিচ্ছেদ গুজব নিয়ে মুখ খুললেন মাহি-অপু

বিনোদন বাজার ॥ গত ২০১৬ সালের ২৪ মে সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে বিয়ে করেন মাহিয়া মাহি। বিয়ের পর সুখী দম্পতিরূপেই দেখা গেছে মাহি-অপুকে। সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে একত্রে দেখা যাচ্ছে না মাহিকে।

এছাড়া ফেসবুকে শেয়ার করা মাহির কোনো ছবিতেও নেই অপু। যার ফলে চলচ্চিত্রপাড়ায় গুঞ্জন উঠেছে অপুর সঙ্গে মাহির বিচ্ছেদ হয়েছে! বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়ে মাহি বলেন, অপু আমাকে ভালোবাসে, আমি অপুকে শ্রদ্ধা করি এবং এরকম একটা ভালো মানুষকে যে ছেড়ে দিতে চায়, সে হচ্ছে আস্তো একটা বোকা মেয়ে। এরকম একটা শ্বশুরবাড়ি যে ছেড়ে দিতে চায় সেও আস্তো একটা বোকা মেয়ে। আমি ওইরকম বোকা মেয়ের দলে যেতে চাই না। এদিকে মাহির স্বামী পারভেজ মাহমুদ অপুও বিষয়টি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বিরক্ত।

প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ জন সাংবাদিকের ফোন ধরতে হচ্ছে। আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে! আমরা নিজেরাই জানি না অথচ আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে! আসলে বিষয়টি হলো, ধরুন কাউকে অফিস থেকে পোস্টিং করা হলো ঢাকার বাইরে। এর জন্য তাকে পরিবার-পরিজন ছেড়ে ওখানে থাকতে হলে কি তার সংসার ভেঙে যাবে? সিলেটে আমার ব্যবসা আছে। সেটাতে অনেক সময় দিতে হয়। যার ফলে আমি সিলেটেই বেশি থাকি। সুতরাং আমাদের বিচ্ছেদ হয়নি কিংবা সম্পর্কের মাঝে দূরত্বও তৈরি হয়নি।

মোশাররফ করিম-পিয়া বিপাশার ‘গল্পওয়ালা’

বিনোদন বাজার ॥ এবার একজন সিরিয়াস লেখকের চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা মোশাররফ করিমকে। যার চরিত্রের নাম নাট্যকার মাহবুব হোসেন। নাটকটিতে টেলিভিশন নাটকের প্রতিশ্রুতিশীল চিত্রনাট্যকার তিনি। লেখার বিষয়ে বরাবরই বেশ খুঁতখুঁতে। নিজের লেখা যে কোনো চিত্রনাট্য তিনি আগে নিজের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন। চরিত্র বিশ্বাসযোগ্য না মনে হলে, সেটি তিনি লেখেন না।

এমনই একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম। তার বিপরীতে আছেন ‘জেসমিন’ চরিত্রে অভিনেত্রী পিয়া বিপাশা। নাটকটির নাম ‘গল্পওয়ালা’। এর নির্মাতা মুরসালিন শুভ জানান, নাটকটির শেষাংশে থাকবে দর্শকদের জন্য ভয়ঙ্কর এক বিস্ময়! যার জন্য দর্শকরা মোটেও প্রস্তুত থাকবেন না। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি চলমান নাটকের বাজারে আউট অব বক্স একটা গল্প বলতে। আমরা চেয়েছি একজন সত্যিকারের একজন লেখকের পাগলামি তুলে ধরতে, সঙ্গে নির্মম বাস্তবতাও।

মুরসালিন শুভর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নাটকটি নির্মিত হয়েছে সিএমভির ব্যানারে। এতে মোশাররফ করিম ও পিয়া বিপাশা ছাড়াও অভিনয় করেছেন মুসাফির সৈয়দ, শহীদুল্লাহ সবুজ প্রমুখ। আগামী ১১ জানুয়ারি ‘সিএমভি ড্রামা’ ইউটিউব চ্যানেলে উন্মুক্ত হবে নাটকটি।

তিল চাষ কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা পুষ্টি সমস্যা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশে তিল দ্বিতীয় প্রধান তৈল বীজ ফসল হিসেবে পরিগণিত। তিলের তেলের স্বাদ ও গন্ধ সুমিষ্ট এবং পচনরোধী উঁচুমানের ভোজ্য তেল। খাদ্য হিসেবেও তিল বীজ জনপ্রিয়। একক বা মিশ্র ফসল হিসেবেও স্ব-পরাগায়ণ প্রকৃতির উদ্ভিদ। তিল চাষ করে কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা পুষ্টি সমস্যা নিরসনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ধান ভিত্তিক ফসল পরিক্রমায় তিল চাষে কোন অসুবিধা হয় না। বিদেশ হতে সংগৃহীত একটি জার্মপ্লাজমে গামারশ্মি প্রয়োগ করে উন্নত লাইন নির্বাচন এবং নির্বাচিত লাইনটিকে দেশের বিভিন্ন কৃষি পরিবেশে অঞ্চলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিনা তিল-১ নামে নতুন এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ জাতটি স্থানীয় আবাদি জাত টি-৬ অপেক্ষা প্রায় দেড়গুণ বেশি ফলন দেয়। বিনা তিল-১ এর গাছ শাখাবিহীন এবং পাতার রঙ ঘন সবুজ। প্রতিটি গিরায় ৩-৬ বড় আকারের লম্বা ফল ধরে। বীজাবরণ পাতলা, নরম ও ক্রীম রঙের বিধায় খোসা না ছড়িয়ে তিলের চাহিদাও প্রচুর। বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৫০-৫২ ভাগ। জীবনকাল ৮৫-৯০ দিন। গড় ফলন হেক্টর প্রতি ১৩০০ কেজি (একর প্রতি ৫৩০ কেজি বা বিঘা প্রতি ১৭৫ কেজি)। বাংলাদেশের উপকূলীয় বিশাল লবণাক্ত এলাকা বছরের প্রায় ছমাস (ডিসেম্বর থেকে জুন) পতিত থাকে। এ সময়ে অর্থাৎ খরিফ-১ মৌসুমে বিনা তিল-১ এর লবণাক্ততা সহিষ্ণুতার কারণে এর চাষ করে বাংলাদেশে তেলবীজের বিরাট ঘাটতি বহুলাংশে লাঘব করা যেতে পারে। দেশের বৃহত্তম জেলাসমূহ যেমন-ঢাকা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, জামালপুর ও পার্বত্য জেলাসমূহে বিনা তিল-১ চাষ করে অধিক ফলন পাওয়া যেতে পারে। আউস ধান, আখ ও গ্রীষ্মকালীন মুগের সাথে সাথী ফসল হিসেবেও বিনা তিল-১ চাষ করা যায়। বেলে দো-আঁশ বা দো-আঁশ মাটি বিনা তিল-১ চাষের জন্য উপযোগী। এই ফসল জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তবে জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে সকল প্রকার মাটিতেই জাতটি চাষ করা যেতে পারে । তিল কুয়াশা ও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না কিন্তু যথেষ্ট খরা সহিঞ্চু। যদি তাপমাত্রা ২৫-৩৫ সেলসিয়াসের নীচে নামে তাহলে বীজ গজাতে দেরী হয় এবং চারাগাছ ঠিকমত বাড়তে পারে না। বাড়ন্ত অবস্থায় অনবরত বৃষ্টিপাত হলে তিল গাছ মরে যায়। খরিপ মৌসুমে বীজ বপনের ৩৫-৩০ দিনের মধ্যে তিল গাছে ফুলের কুঁড়ি আসে এবং ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে ফুল ফোটা শুরু হয়। সাধারণত ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালভাবে ঝুরঝুরে এবং জমি সমান করে বিনা তিল-১ এর বীজ বপন করতে হয়। মুগসহ অন্যান্য ফসলের সাথে সাথী ফসল হিসেবে আবাদ করলে প্রধান ফসলের জন্য জমি তৈরি করতে হবে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ (মধ্য ফাগুন) বিনা তিল-১ এর বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। তবে উঁচু শ্রেণীর জমিতে ভাদ্র/আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়েও বিনা তিল-১ চাষ করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে পপ্রন্ড শীত শুরুর আগেই ফসল কর্তন করতে হবে। ছিটিয়ে বপনের ক্ষেত্রে হেক্টর প্রতি ৯ কেজি (একর প্রতি ৩-৩.৫ কেজি) এবং সারিতে বপন করার জন্য ৭ কেজি (একর প্রতি ২.৫-৩.০ কেজি) বীজ যথেষ্ট। তবে সাথী ফসল হিসেবে আবাদ করার সময় উভয় ফসল কি হারে বা কত সারি পর পর কোন ফসলের বীজ বপন করা হবে, তার উপর নির্ভর করে বীজের হার নির্ধারণ করতে হবে। জমিতে রস বেশি হলে অল্প গভীরে বীজ বপন করলে বীজ পচে না। মাটি শুষ্ক হলে বপনের পূর্বে একটি হলকা সেচ দিয়ে জমি তৈরি করে বীজ বপন করতে হবে। বিনা তিল-১ এর বীজ ছিটিয়ে বা সারিতে বপন করা যেতে পারে। বীজ ও শুকনো বালু একত্রে মিশিয়ে ছিটিয়ে বপন করলে সমান দূরত্বে বীজ ফেলতে সুবিধে হয়। বিনা তিল-১ এর জন্য সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটার দিতে হবে। বীজ বপনের ২ দিনের মধ্যে অংকুরোদগম ঘটে এবং ৩-৪ দিনের মধ্যে মাটির উপর উঠে আসে। জমিতে চারা যদি ঘন হয় তবে ১৫ দিনের মধ্যে গাছ তুলে পাতলা করে দিতে হবে। বিনা তিল-১ চাষে সারের মাত্রা নির্ভর করে জমির ধরণ ও কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের উপর। সাধারনত বিনা তিল-১ চাষে একর প্রতি ইউরিয়া- ৪০-৫০ কেজি, টিএসপি- ৩৬-৪৮ কেজি, এমপি- ২০-৩০ কেজি, জিপসাম- ৫০-৬০ কেজি, জিংক সালফেট- ১-২ কেজি ও বোরন- ০.৪-০.৮ কেজি হারে প্রযোগ করতে হবে। বোরন ঘাটতি এলাকায় হেক্টরপ্রতি ১০ কেজি হারে বরিক এসিড প্রয়োগ করে অধিক ফলন পাওয়া যেতে পারে। জমি প্রস্তুতকালে অর্ধেক ইউরিয়া এবং পূর্ণ মাত্রায় অন্যান্য সার মাটির সঙ্গে ভালভাবে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া সার বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পর গাছে ফুল আসার সময় উপরি প্রয়োগ করতে হবে। অধিক ফলন পেতে হলে জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। চারা অবস্থায় প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত তিল গাছের বৃদ্ধি ধীর গতিতে হতে থাকে। এ সময় জমির আগাছা দ্রুত বেড়ে তিল গাছ ঢেকে ফেলতে পারে। তাই বীজ বপনের পূর্বেই জমিকে ভালভাবে আগাছা পরিষ্কার করে নিতে হবে। প্রয়োজনে সর্তকতার সাথে নিড়নী দিয়ে আগাছা তুলে ফেলতে হবে। সাধারনত বিনা তিল-১ চাষাবাদে সেচের প্রয়োজন হবে না। বপনের সময় মাটিতে রসের অভাব থাকলে একটি হালকা সেচ দিয়ে বীজ গজানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এর ২৫-৩০ দিন পর ফুল আসার সময় জমি শুষ্ক হলে একবার এবং ভীষণ খরা হলে ৫৫-৬০ দিন পর ফল ধরার সময় আর একবার সেচ দিতে হবে। তিল ফসল জলাবদ্ধতা মোটেই সহ্য করতে পারে না। তাই জমির মধ্যে মাঝে মাঝে নালা কেটে বৃষ্টি বা সেচের অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে ফসলকে রক্ষা করতে হবে । রোগবালাই দমন ঃ কান্ড পচা রোগ এবং বিছা পোকা ও হক মথ তিল ফসলের ক্ষতি করতে পারে। কান্ড পচা রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে বাজারে যেসব ছত্রাকনাশক পাওয়া যায়, যেমন রেভিস্টিন এক গ্রাম বা ডাইথেন এম-৪৫, ২ গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পরপর তিনবার দুপুর ২-৩ টার সময় জমিতে ছিটিয়ে রোগটি দমন করা যেতে পারে। বিছাপোকা দমনের জন্য ডিম পাড়ার সাথে সাথে আক্রান্ত পাতা ছিঁড়ে কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে কার্যকরভাবে মেরে ফেলা যেতে পারে। সাইথ্রিন-১০ ইসি বা সবিক্রন-৪২৫ ইসি প্রয়োগ করে দমন করা যেতে পারে। ফসল কাটা ঃ বিনাতিল-১ পাকার সময় পাতা, কান্ড ও ফলের রঙ হলুদাভ হয় এবং বীজের খোসা ধূসর বর্ণ ধারণ করে। তিল ফসলের প্রতিটি গাছের সব বীজ এক সঙ্গে পাকে না। গাছের গোড়ার দিকের বীজ আগে পাকে এবং এভাবে ক্রমান্বয়ে উপরের দিকের বীজ পাকাতে শুরু করে । এ সমস্যা থেকে উত্তরণের বাস্তব উপায় হল, গাছের নীচের অংশের বীজ যখন পাকা শুরু করে তখন ফসল কেটে বাড়ির উঠানে কয়েকদিন স্তুপ করে রেখে দিলে উপরের দিকের বীজও পেকে যায়। তারপর তিল গাছ রৌদ্রে শুকিয়ে লাঠির সাহায্যে পিটিয়ে মাড়াই করতে হবে। এরপর বীজ ভালভাবে ৪-৫ দিন টানা রৌদ্রে ৩-৪ ঘন্টা করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। তিল ফসল কর্তনের ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বিলম্বে ফসল কাটা হলে বীজ ক্ষেতে ঝরে পড়ে, আবার আগাম কাটা হলে অনেক বীজ অপরিপক্ক থেকে যায়, উভয় ক্ষেত্রেই ফলন হ্রাস পায়। বীজ সংরক্ষণ ঃ বীজের মান ভাল রাখার জন্য পরিষ্কার বীজ পুরু বা শক্ত পলিথিন ব্যাগে ভরে মুখ বেঁধে অপেক্ষাকৃত শীতল স্থানে কম আর্দ্রতায় সংরক্ষণ করতে হবে। সংরক্ষণকালে বীজের আর্দ্রতা অবশ্যই শতকরা ৮ থেকে ৯ ভাগ হতে হবে। আরও ভাল হয় যদি ব্যভিস্টিন (প্রতি কেজি বীজে ২ গ্রাম হারে) দিয়ে বীজ শোধন করে সংরক্ষণ করা যায়। এভাবে সংরক্ষিত বীজের মান ভাল থাকে এবং অংকুরোদগম ক্ষমতা সহজে নষ্ট হয় না।