মুখোমুখি লড়াইয়ের শঙ্কা বাধিয়েও ‘আপাত স্বস্তিতে’ ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ ইরানের শীর্ষ এক জেনারেলকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা উসকে দেশে-বিদেশে তীব্র সমালোচনা কুড়ালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আপাতত ইরানের সঙ্গে বিস্তৃত যুদ্ধের শঙ্কা কাটাতে পেরেছেন। বুধবার ভোররাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যখন ইরাকে মার্কিন বাহিনীর আবাসস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছিল, আসন্ন বিপদের চোরা শঙ্কা তখন হোয়াইট হাউসজুড়ে ঘুরঘুর করছিল। পরিস্থিতির বিভিন্ন খুঁটিনাটি একে একে উন্মোচিত হচ্ছিল, তার মধ্যেই ট্রাম্প ও তার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভেতর-বাইরে ঝড়ের বেগে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। কুদস বাহিনীর কমান্ডার কাসেম সোলেমানি হত্যার পাল্টায় তেহরানের ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যেকোন হতাহতের ঘটনাই পাল্টা হামলার চাপ বাড়াত; যা কয়েক বছর ধরে বাড়তে থাকা উত্তেজনাকে মুখোমুখি যুদ্ধের দিকেই নিয়ে যেত বলে ধারণা বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। বুধবার সকালে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে যখন কথা বলছিলেন, ইরান আরও হামলা চালাতে পারে এমন উদ্বেগের মধ্যেও সম্ভাব্য সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতির শঙ্কা কাটাতে পেরে ট্রাম্প তখন অনেকটাই দুশ্চিন্তামুক্ত, বলেছেন উপদেষ্টারা। যদিও এর আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভাদ জারিফ সোলেমানি হত্যাকান্ডের প্রতিক্রিয়া দেখানো তেহরান ‘শেষ করেছে’ বলে জানান; প্রভাবশালী ইরাকি শিয়া নেতা মোক্তাদা আল-সদরও ‘সংকটের সমাপ্তির’ ঘোষণা দেন। “ইরান পিছিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে, এটা উদ্বিগ্ন সকল পক্ষের জন্যই ভালো হয়েছে, বিশ্বের জন্যও ভালো হয়েছে,” ঠান্ডা স্বরে বলেছেন ট্রাম্পও। কয়েকদিনের হুমকি ধামকির পর এদিন তার বিবৃতিও ছিল অনেকটাই নমনীয়। ভাষণে তিনি ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা চালানোর প্রয়োজনীয়তা নেই বলেও মন্তব্য করেছেন। উত্তেজনা এ হারে কমতে থাকলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘর্ষ বাধানোর দায় থেকে মুক্ত হয়েই নভেম্বরের নির্বাচনের প্রচারে নামতে পারবেন এ রিপাবলিকান; যিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরাক-আফগানিস্তানে পূর্বসুরীদের ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ সমালোচনা করে আসছিলেন। “ট্রাম্প খুব সুশৃঙ্খলভাবে এবং শান্তভাবে তারা (ইরান) কী প্রতিক্রিয়া দেখায় তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তার আর উত্তেজনা বাড়ানোর দরকার নেই। আমার মনে হয় ট্রাম্প সংযম দেখিয়েছেন,” বলেছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক রিপাবলিকান স্পিকার নিউট গিংরিচ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্ত সামনের সপ্তাহগুলোতেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুখোমুখি হতে পারে; যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সম্মুখ লড়াইয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর চেয়ে তেহরানের ঝোঁক বেশি থাকবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দিয়ে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা এবং সাইবার হামলার দিকেই। ইরানের সঙ্গে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার এ নীতি ক্যাপিটল হিলের বেশিরভাগ ডেমোক্রেট, এমনকী কিছু কিছু রিপাবলিকানকেও উদ্বিগ্ন করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। “ইরানের সঙ্গে শত্রুতায় জড়ানো এবং কৌশলগত ঘাটতি নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে কংগ্রেসের সদস্যরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন,” বলেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।

 

ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ না করার নির্দেশনা চেয়ে রিট

ঢাকা অফিস ॥ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ না করার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে হাইকোর্টে। গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন। রিটে ইভিএম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮ এবং এর বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, ‘ইভিএম সংক্রান্ত আইন সংসদে পাস হয়নি এবং আরপিও ধারা ২৬(এ) অনুযায়ী ইভিএম বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং এ আইন জরুরি ছিল না। এটি সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, অনুচ্ছেদ ৯৩ বলে কেবল জরুরি প্রয়োজনে সংসদ না থাকলে অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। ২০১৮ সালে সংসদ বহাল ছিল এবং ইভিএমের বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা জরুরি ছিল না। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ছয়টিতে ইভিএম চালু ছিল। কিন্তু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। এ ছাড়া সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে এবং অন্যান্য আইনে জনগণের সরাসরি ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেয়ার বিধান আছে, যন্ত্রের মাধ্যমে নয়। যন্ত্রের মাধ্যমে প্রকৃত ভোটার যাচাই-বাছাই করা যেতে পারে, কিন্তু ভোট ব্যালটের মাধ্যমেই সরাসরি দিতে হবে।’ রিটে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে ইভিএম নেই। ওই আইন (ইভিএম সংক্রান্ত) পাস করতে জনগণের গণভোট নেয়া হয়নি। ওই আইন সংবিধানের ৭, ১১, ১৯, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৯৩ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

প্রার্থীদের অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না ইসি – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা দলের সমর্থিত প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার এবং সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা জুলুম নির্যাতন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।” তিনি বলেন, “হুমকি-ধামকি ও অপহরণের মাধ্যমে প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদেরকে এলাকা ছাড়া করা হচ্ছে, হামলা চালিয়ে আহত করা হচ্ছে। গতরাতেও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত ৬ নম্বর (১৬, ১৭ ও ২১ নম্বর) ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী অধ্যক্ষ রফিকা আফরোজকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ফজলে নূর তাপসের সমর্থকরা জোর করে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ধরে এনে প্রার্থিতা বাতিলে বাধ্য করেছে।” “বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা যেটা বলি, এটা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের কাছে অরণ্যে রোদন। কারণ এই কথাগুলো তাদের কানে যায় না, সরকারের বিশ্বস্ত মোসায়েব হিসেবে কমিশন এর আগে প্রতিটা নির্বাচনে কাজ করেছে।” সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান রিজভী। এক প্রশ্নে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে দল যাদের সমর্থন দিয়েছে তারাই বিএনপির একক প্রার্থী। আমাদের প্রার্থী ঠিক হয়ে গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থী সেরকম আমাদের নেই।” বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “যাদের সমর্থন দেয়া হয়েছে তারাই বিএনপির প্রার্থী। এর বাইরে থাকলে যেমন ব্যবস্থা নেয়ার সেরকম নেবে। তবে আমাদের তেমন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।” বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারের প্রতিহিংসার কঠোর সমালোচনা করে অবিলম্বে তার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানান রিজভী। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে বিদেশে চিকিসা দিন ঃ খন্দকার মাহবুব

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আহ্বান জানান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারা মোতাবেক কোন সাজার কার্যকারিতা শর্তহীনভাবে স্থগিত করার একমাত্র ক্ষমতা সরকারের হাতে। আমরা আশা করি সরকার প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে আইনগতভাবেই চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারেন। এজন্য প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা। তাই আমরা সরকারের নিকট অবিলম্বে খালেদা জিয়ার দন্ডাদেশ ৪০১(১) ধারা অনুযায়ী স্থগিত করে তার ইচ্ছামত চিকিৎসা নিতে দেশে/বিদেশে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। খন্দকার মাহবুব বলেন, জিয়া ঢারিটেবল ট্রাস্টের মামলায় সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি ২ বছর কারাগারে আটক রয়েছেন। তাই আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছাড়াও তিনি একজন বয়ষ্ক অসুস্থ মহিলা। এ কারণেও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তিনি জামিন প্রাপ্য। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য দেশের সর্বোচ্চ আদালত এ মামলায় তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে দেশের বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণœ হয়েছে। তিনি বলেন, পিজি হাসপাতাল হতে মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে তার বর্তমান অবস্থায় অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নাই। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নিজেদের চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বিদেশে যান অথচ তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিজ ব্যয়ে তার পছন্দ মত সুচিকিৎসার জনা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আমরা মনে করি এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম অভিব্যক্তি।

ইসির নিয়মে অসুবিধায় আওয়ামী লীগ – হাছান মাহমুদ 

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া নিয়ম বিএনপিকে সুবিধা দিলেও আওয়ামী লীগ তা পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে মন্ত্রী-এমপিরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে পারে না। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যান্য দেশে বিষয়টি এ রকম নয়। “ভারতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও যে সুযোগ-সুবিধা পায়, সেগুলো বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে পারে, এমপিরা তো পারেই। ইংল্যান্ডে মন্ত্রী ও এমপিরা নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে পারে। পৃথিবীর অন্যান্য সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে এমপি ও মন্ত্রীরা সরকারি প্রটোকল এবং সুযোগ-সুবিধা বাদ দিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে।” প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের হয়ে’ কাজ করছেন বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ নাকচ করে হাছান মাহমুদ বলেন, “আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশনের যে নির্দেশনা, মন্ত্রী এমনকি এমপিরাও প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না, এই নির্দেশনা বিএনপিকে সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে গেছে। এই নির্দেশনা বিএনপির জন্য সুবিধা হয়েছে, আওয়ামী লীগের জন্য অসুবিধা হয়েছে। “বিএনপির যে বক্তব্য এটি তাদের বেলায় প্রযোজ্য, আওয়ামী লীগ এই ক্ষেত্রে অসুবিধাজনক অবস্থায় আছে সিইসির বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে।” সম্প্রতি ‘আচরণ বিধি লংঘন করে’ ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধনের বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন,  “আপনারা দেখেছেন নির্বাচন কমিশন আমাদের উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রার্থীকে নোটিস দিয়েছে, বিএনপিকে কিন্তু নোটিস দেয়নি। এই বিষয়গুলো যদি আমরা দেখি তাহলে দেখা যায় সিইসি বা নির্বাচন কমিশনের যে কার্যক্রম এতে বিএনপি সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছে।” সরকারের এক বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ‘জাতি হতাশ হয়েছে’ বলে যে প্রতিক্রিয়া বিএনপি নেতা দিয়েছেন সে বিষয়েও উত্তর দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তারা মনে করে দেশের সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক। তাদের দাবি হচ্ছে সহসা আরেকটি নির্বাচন দেওয়া। এই দাবি কিন্তু জনগণের নয়। “রাজনৈতিক সমস্যা দেশে নাই, রাজনৈতিক সমস্যা আছে বিএনপির মধ্যে। বিএনপির মধ্যে নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং দিক নির্দেশনাহীন যাত্রা, সব মিলিয়ে বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে। বিএনপির রাজনৈতিক সংকট তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমাধান করতে পারবেন না। দেশে কোনো রাজনৈতিক সঙ্কট নাই।” তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডিআরইউ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় অন্যদের মধ্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, তথ্যসচিব কামরুন নাহার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে সাক্ষ্য দিলেন রিফাতের মা ও বোন

ঢাকা অফিস ॥ বরগুনায় আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে তাদের জেরাও শেষ করেছেন আসামিপক্ষের সাতজন আইনজীবী। এ সময় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৯ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সোমবার সকালে আবার তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন আদালত। বুধ এবং বৃহস্পতিবার বাদীসহ চারজনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। এর আগে ১ জানুয়ারি মিন্নিসহ ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বরগুনা কারাগার থেকে আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইয়ূম রাব্বি আকন, রেজোয়ানুল ইসলাম টিকটক হৃদয়, হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, কামরুল হাসান সায়মুন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাতকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে মুক্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি তার চাচার সঙ্গে আদালতে হাজির হয়। আদালতে তিনজনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বেলা ৩টায় আবার ওই আসামিদের বরগুনা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলা ১১টায় সাক্ষীর বক্সে সাক্ষ্য দিতে ওঠেন মামলার বাদীর স্ত্রী নিহত রিফাত শরীফের মা ডেইজি বেগম। এরপর সাক্ষ্য দেন নিহত রিফাত শরীফের চাচাত বোন নুসরাত জাহান অনন্যা ও রিফাত শরীফের আপন ছোট বোন ইসরাত জাহান মৌ। প্রথমে পিপি ভুবনচন্দ্র হাওলাদার তাদের জবানবন্দি দেয়ার সহায়তা করেন। নিহত রিফাত শরীফের মা ডেইজি বেগম দীর্ঘ সময় নিয়ে তার পুত্র হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আদালতে কয়েকবার কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। আসামিপক্ষের ৭ জন আইনজীবী তাকে জেরা করেন। ডেইজি বেগম আদালতে বলেছেন, তার ছেলে রিফাত শরীফকে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজি, রিশান ফারাজিসহ আদালতে উপস্থিতসহ আরও অনেক আসামিরা বরগুনা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গেটের সামনে কুপিয়ে জখম করে। ওইদিন বিকালে তার ছেলে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। ডেইজি বেগম তার ছেলে রিফাত শরীফ হত্যার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে আদালতে চিহ্নিত করেন। সাক্ষী নুসরাত জাহান অনন্যা ও ইসরাত জাহান মৌ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে রিফাত শরীফের হত্যাকারী হিসেবে ওই আসামিদের কথা বলেন। সাক্ষ্য দেয়ার পরে নিহত রিফাত শরীফের বোন মৌ বলেন, আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই। মিন্নির কারণে আমার ভাই খুন হয়েছে। আমরা জানতাম না মিন্নি নয়ন বন্ডকে বিয়ে করে গোপন রেখে আবার আমার ভাইকে বিয়ে করেছে। মৌ আরও বলেন, মিন্নি আমার ভাইর সঙ্গে বিয়ে বসে গোপনে আগের স্বামী নয়ন বন্ডের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত। আমার ভাই জানতে পেরে মিন্নিকে নিষেধ করেন। এতে একাধিকবার মিন্নি আমার ভাইর কাছে তালাক চেয়েছে। এই বিষয় নিয়ে মিন্নি ও আমার ভাইর মধ্যে ঝগড়াজাটি হতো। মিন্নি আমার ভাইকে হত্যা করে পথের কাটা দূর করার জন্য নয়ন বন্ড, রিফাত ফারজিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ২৬ জুন বরগুনা কলেজ গেটের সামনে কুপিয়ে হত্যা করে। মৌ বলেন, এই কথাগুলো আমি আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে একদল যুবক রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে। পরে ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় বরিশাল শেরেইবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় রিফাত শরীফ। মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হয় নৃশংস হত্যাকান্ডের কোপানো দৃশ্য। ২৭ জুন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ নয়ন বন্ডসহ ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ২ জুলাই পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় রিফাত হত্যার মূল আসামি নয়ন বন্ড। ১ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই খন্ডে ২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক মিন্নিসহ ১০ জন এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ২৪ জন।

ঘড়ি একটাও নিজের কেনা নয়, উপহার – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তার হাতে আর পরনে যেসব দামি ঘড়ি আর পোশাক দেখা যায়, তার সবই কর্মীদের ‘ভালোবাসার উপহার’, নিজের কেনা নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কাদের এ কথা বলেন। সুইডেনভিত্তিক বাংলাভাষার অনলাইন পোর্টাল নেত্র নিউজে গত ডিসেম্বরে ওবায়দুল কাদেরের ঘড়ি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বাংলাদেশ থেকে ওই পোর্টাল দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, “আমার যত ঘড়ি আছে একটাও আমার নিজের না, পয়সা দিয়ে কেনা না। ধরেন আপনি বিদেশে গেলেন এসে আমাকে একটা ঘড়ি দিলেন, আমি নিলাম।” নেত্র নিউজের ওই প্রতিবেদনে ওবায়দুল কাদেরের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি ঘড়ির ছবি দিয়ে দেখানো হয়েছে, সেটি কোন ব্র্যান্ডের এবং কোনটির দাম কত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিখ্যাত সব কোম্পানির ওই ঘড়িগুলোর বাজার মূল্য ৯ থেকে ২৮ লাখ টাকা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “এটা একেবারে ফর গডস সেক, আমি বলছি এগুলো, আমার দামি পোশাক এগুলো আমার কেনা না। আমি পাই হয়ত আমাকে অনেকে ভালবাসেৃ আমার অনেক কর্মী আছে, তারা বিদেশে আছে, আসার সময় স্যুট নিয়ে আসে। “গতকাল সিঙ্গাপুর থেকে একজন তিনটা কোটি ওখান থেকে বানিয়ে নিয়ে এসেছে, এ রকম এখন আপনি যদি নিয়ে আসেন, আমাকে উপহার দেন, আমি কি করব? এটা গিফট আইটেম!” গত জাতীয় নির্বাচনে ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া হলফনামার সঙ্গে মিলিয়ে নেত্র নিউজ দেখানোর চেষ্টা করেছে, ওই সাতটি ঘড়ির মধ্যে একটির দামই সেতুমন্ত্রীর এক বছরের আয়ের প্রায় সমান। হলফনামায় ওইসব ঘড়ির কোনো উল্লেখও নেই। এর মধ্যে অত্যন্ত দামি একটি ঘড়ি কোনো একটি ‘কন্ট্রাক্ট পাস’ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ‘উৎকোচ হিসেবে’ নিয়েছেন- এমন অভিযোগ পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে নেত্র নিউজের প্রতিবেদনে। ওই অভিযোগ অস্বীকার করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “এটা সড়কের সাথে কোন… আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব, কোনো কন্ট্রাকটরের থেকে… কোনো কন্ট্রাকটরকে বসতেও দিই না, আমার সাথে কোনো কন্ট্রাকটরের বৈঠক হয় না, যেটা হত অতীতে। “আজকাল প্রমোশনের জন্য কোনো তদবির হয় না। কন্ট্রাকটররা ইলেকশনের আগে একটা অ্যামাউন্ট দিতে চেয়েছিল, সরাসরি না করেছি। আমারে ইলেকশনের টাকা প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিয়েছেন, কারো থেকে টাকা নিতে হয়নি।”

জিনের বাদশার আস্তানায় ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতা ইসমাইল আটক

ঢাকা অফিস ॥ জিনের বাদশার আস্তানায় ইয়াবাসহ এক যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি একই স্থান থেকে আরও ৮ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছে থেকে ৩১৩ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ২৫ গ্রাম গাঁজা ও নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুলাইপত্তন গ্রামের জিনের বাদশা মোকাম্মেল ভূঁইয়ার পরিত্যক্ত ঘর থেকে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আটককৃতদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। আটক যুবলীগ নেতা ইসমাইল খান ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। আটকদের মধ্যে মাকসুদুর রহমান ওরফে মকসুদ উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাদ্দাম হোসেন প্রচার সম্পাদক। আটক অন্যরা হলেন- কুঞ্জেরহাটের আবু তাহের ভূঁইয়ার ছেলে মোকাম্মেল ভূঁইয়া, তজুমদ্দিন উপজেলার তালুক গ্রামের আব্দুর রব তালুকদারের ছেলে মো. সবুজ তালুকদার, একই উপজেলার কেয়ামুল্লা গ্রামের সেরাজল হকের ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন, চরফ্যাশনের শশিভূষণ থানার চরমঙ্গল গ্রামের ছিদ্দিক বেপারীর ছেলে মো. কবির বেপারী, একই উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের মাইনুদ্দিনের ছেলে মোশারেফ হোসেন মঞ্জু, বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউনুছ মিয়ার ছেলে মো. মামুন। পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) মো. রাসেলুর রহমানের নেতৃত্বে বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মু. এনামুল হক, এসআই মোহাইমিনুল ইসলাম, এসআই মো. হেমায়েত উদ্দিনসহ পুলিশের একটি টিম বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের চকডোষ গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। ওই সময় মোকাম্মেল ভূঁইয়ার ঘর থেকে ৯ মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়। পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে ৩শ’ ১৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১ কেজি ২৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ আস্তানায় বসেই জিনের বাদশা সেজে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে প্রাথমিক তথ্য নেয়া হয়। পরে ইমো বা ভিডিও কলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে রোগমুক্তি, আদালতের মামলার রায় পক্ষে আনা, সংসারে শান্তি আনা, ব্যবসায় লাভবান হওয়া, প্রেমিক-প্রেমিকার মন পাওয়া, নিঃসন্তান নারীর সন্তানলাভ করাসহ নানা বিষয়ে প্রলুব্ধ করে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মু. এনামুল হক আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। তাদের কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। জিরো টলারেন্সে মাদকবিরোধী অভিযান মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে বলেও তিনি জানান।

দৌলতপুর সীমান্তে গাঁজা উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে গাঁজা ও মদ উদ্ধার হয়েছে। বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ঠোটারপাড়া বিওপি’র টহল দল শকুনতলা মাঠে অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন অবস্থায় সাড়ে ৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন বিওপি’র টহল দল ১০২ বোতল মদ, ৩৯ প্যাকেট পাতার বিড়ি ও ৮০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে। তবে কেউ আটক হয়নি।

আজ ইবিতে বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হবে

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের আয়োজনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ  বাঙালি, মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হবে। এ উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে। এরপর সেখানে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী)। বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন রেজিস্ট্রার (ভার:) এস এম আব্দুল লতিফ। সভাপতিত্ব করবেন ছাত্র-উপদেষ্টা ও উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখবেন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ। সভা শেষে বঙ্গবন্ধুৃ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হবে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী’র ক্ষণগণনার জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে একটি ঘড়ি স্থাপন করা হয়।

ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ ও ফ্রি চিকিসা সেবা প্রদান

সমাজের অবহেলিত মানুষের কল্যানে কাজ করতে হবে ঃ ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ

নিজ সংবাদ ॥ ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ও মালিহাদ ইউনিয়নের শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন এবং ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের সভাপতি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ কুর্শা ইউনিয়নের ইশালমারী বাজারে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে দুস্থ্যদের মাঝে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন এবং দুস্থ্য শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন করেন। এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়ার সাধারন সম্পাদক ও ইসলামী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান বাবু, কুর্শা ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যাান আব্দুল হান্নান, সাংবাদিক আ.ফ.ম নুরুল কাদের ও সাংবাদিক মিলন আলী। প্রফেসর ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ বলেন, দুনিয়াতে আল্লাহপাক মানুষকে পাঠিয়েছেন তাঁর সৃষ্টির নেয়ামত গ্রহন করা এবং সেবা প্রদানের মধ্যদিয়ে শোকরিয়া আদায়ে তাদের সেবা প্রদান। একজন মানুষ হিসেবে আমাদের সকলের জন্য মানুষের কল্যানে ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসা জরুরী। তিনি বলেন- একজন নাগরিক হিসেবে আমার এবং আপনার অনেক কিছু  দেয়ার  সুযোগ রয়েছে এই দেশকে, দেশকে ভালবেসে আমাদের করনীয় সেবা প্রদান করা জরুরী আর তারই ধারাবাহিকতায় আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে সমাজের অবেহেলিত মানুষদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন- দেশ আমাকে অনেক দিয়েছে। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে এদেশের জনগনের সেবা প্রদানের লক্ষে আমি এবং আমার পরিবার কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমি আপনাদের উপজেলার সন্তান, আমার মরহুম পিতা-মাতার স্মৃতি রক্ষার্থে এলাকার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গিকার নিয়ে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, দুস্থ্যদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্বর্ধনা ও শিক্ষা উপকরন বিতরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। এসময় উপস্থিত ছিলেন আমবাড়িয়া ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। পরে মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদ অফিস চত্বরে অসহায়, দুস্থ্য শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন করা হয় এবং সেখানে রোগীদের মাঝে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এসময় মালিহাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, মালিহাদ ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি আকরাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এলাকার ২ শতাধিক মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন এবং ২ শতাধিক দুস্থ্যদের মাঝে ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

কুষ্টিয়া শহরে ইবির ছাত্রীর ব্যাগ ছিনতাই

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরের টালিপাড়া এলাকায় সন্ধ্যায় এক ছাত্রী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে ভ্যানিটি ব্যাগ, মোবাইল, টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুইয়েছে।  গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পেছনে এঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীদের সাথে ধস্তাধস্তিতে ওই ছাত্রীর বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে গেছে। জান্নাতুল ফেরদৌস নামে ওই ছাত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ছাত্রী। ঘটনার পর ওই এলাকায় কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একাধিক দল সাড়াশি অভিযান চালায়।

ঘটনার পর পৌনে ৮টার দিকে অন্য এক ছাত্রীর মোবাইলফোনে ওই ছাত্রী বলেন, তিনি টালিপাড়া এলাকায় মেসের পাশে গলির মাথায় একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় ওই গলিতে দুই যুবক (একজন লাল জামা) হেটে আসে। এরপর ব্যাগ ধরে টানাটানি করতে থাকে। এতে তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে কেটে রক্তাক্ত হয়। এরপর ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে চলে যায়। ব্যাগের ভেতর মোবাইলফোনসহ যাবতীয় জিনিসপত্র রয়েছে। এরপর তিনি মেসে চলে যান। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  মোস্তাফিজুর রহমান বলেন-  ঘটনার সাথে সাথে ওসিসহ পুলিশ পাঠানো হয়েছে।  যেকোন মূল্যে ছিনতাইকারীদের ধরা হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন উর রশীদ আসকারী বলেন, ওই ছাত্রীর কাছে প্রক্টরসহ শিক্ষক প্রতিনিধি পাঠানো হচ্ছে।

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ প্রতিবাদ ও ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে কুষ্টিয়ায় সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের মানববন্ধন

“গোটা দেশে ধর্ষন-জেগে ওঠো জনগন” শ্লোগানে ঢাবি ছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষনের প্রতিবাদ এবং ধর্ষক-সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন করেছে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়া।  গতকাল বৃহষ্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া থানা মোড়স্থ স্বাধীনতা চত্বরে সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করে সংহতি জানান। এসময় বক্তব্য রাখেন- রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান, প্রক্টর এসএম হাসিবুর রহমান তামিম, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা জাসদের নেতা কারশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক শরীফ বিশ^াস, জাসদ নেতা আহাম্মদ আলী, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী হাসান আলী, বাসদ নেতা কমরেড শফিউর রহমান, ওয়ার্কার্স পার্টি কমরেড নেতা হাফিজ সরকার, সাংস্কৃতিক সংগঠক কনক চৌধুরী, উদিচীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গোপা সরকার, জ্যোতি ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দা হাবীবা, প্রবীন হিতৈষী সংঘের সাধারণ সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কুষ্টিয়ার সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি লাবনী সুলতানা প্রমুখ। বক্তারা বলেন- সারাদেশে অব্যাহতভাবে যে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, এই ঘটনা তারই বিচারহীনতার ফল। একের পর এক ধর্ষনকারী ধরাছোয়ার বাইরে থাকায় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গত ৫ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী  কুর্মিটোলায় অপহরণ ও নৃসংশভাবে ধর্ষনের স্বীকার হয়। বিচানহীনতার সংস্কৃতির কারণে অতীতে ধর্ষণকারীদের বীরদর্পে মুক্তভাবেই ঘুরতে দেখা গেছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করার ঘটনা থেকেই বোঝা যায় সারাদেশে নারীদের নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। বিচারহীনতার রেওয়াজ, আইনের দীর্ঘসূত্রিতা, নারীর প্রতি সমাজের অধস্তন দৃষ্টিভঙ্গী, মাদক-পর্নোগ্রাফির বিস্তার নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যাকে প্রায় মহামারী পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। অবিলম্বে  প্রকৃত দোষী এসব ধর্ষক-সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গবেষক ম, মনিরউজ্ জামানের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী কাল

কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান বিশিষ্ট সাহিত্যিক, লালন ও মীর মশাররফ  গবেষক এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী কুষ্টিয়ার সাবেক জেলা সংগঠক ম, মনিরউজ্ জামানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ১১ জানুয়ারী। এই উপলক্ষে কাল শনিবার বাদ আসর আড়–য়াপাড়া সাখাবী জামে মসজিদে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত দোয়া মাহফিলে আত্মীয়-পরিজন স্বজন ও শুভাকাঙ্খীদের অংশগ্রহণ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইবি ভিসি’র সাথে নব-নির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সৌজন্য সাক্ষাত

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র (ড. রাশিদ আসকারী) সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বিশ^বিদ্যালয়ের নব নির্বাচিত শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভাইস চ্যান্সেলরের সভাকক্ষে এ সৌজন্য সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। এসময়  উপস্থিত ছিলেন  ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কাজী আকতার হোসেন, সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মেহের আলী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ নির্বাচিত সকল নেতৃবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘লড়াইয়ে থাকবেন’ তাবিথ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, এবার এই নির্বাচনকে ‘রাজনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে নিয়েছেন তিনি এবং লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই মাঠ ছাড়বেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের এক কর্মী সভায় বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ।

তিনি বলেন, “এই সিটি নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা নির্বাচনে জয়ের রায় হবে না, সমস্ত দেশের মানুষের এটা রায় হবে। পুরো বাংলাদেশের সব জেলার মানুষ ঢাকা শহরে বাস করে। ৩০ লক্ষ ভোটার অপেক্ষায় আছে ১৬ কোটি মানুষের পক্ষে আবার শক্তভাবে বিএনপির প্রতি একটা জনরায় দেওয়ার জন্য।” “আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, প্রস্তুত থাকতে হবে। উনাদেরকে সহযোগিতা করে যেন ভোটের বাক্সে জনরায়টা নিয়ে আসতে পারি, রক্ষা করতে পারি, গণনা পর্যন্ত যেন আমরা লড়তে পারি।” দ্বিতীয় দফায় মেয়র প্রার্থী করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাবিথ আউয়াল বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, এই নির্বাচন একটা যুদ্ধ, এই যুদ্ধে আমরা এগিয়ে যাব। যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি আপনাদের সামনে থেকে লড়াই করে যাব। “এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর আন্দোলন ত্বরান্বিত করে ভোটের অধিকার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির পথে ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রস্তুত। আগামীকাল থেকে এই লড়াই আমরা শুরু করব। ইনশাল্লাহ, এই লড়াইতে আমরা অবশ্যই বিজয় ছিনিয়ে আনব।” ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগ হওয়ার পর ২০১৫ সালে প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল। ভোটের দিন দুপুরে কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী প্রয়াত আনিসুল হক। নির্বাচনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী। তিনি বলেন, “অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য গণমাধ্যমকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নাই, আশঙ্কাটা বেড়েই যাচ্ছে, সরকারের উপরে তো কোনো আস্থা নাই। “গণমাধ্যমের প্রতি আমাদের অনেক আস্থা আছে, অনেক সম্মান আছে। আগামী দিনে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।” সোনারগাঁও রোডে হক টাওয়ারের তৃতীয় তলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এই কর্মী সভা হয়। সভাপতির বক্তব্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে তাদের বিভিন্ন সংরক্ষিত আসনের মহিলা প্রার্থী, কাউন্সিলর প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি ‘হানা দেওয়া হচ্ছে’। “কাউকে জোর করে বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, কাউকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কাউকে বিভিন্নভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো কিন্তু আগামী নির্বাচন হবে কি হবে না- এখান থেকে জনগণ পরিমাপ করে।” এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও জালিয়াতি হয় কি না সেই আশঙ্কা প্রকাশ করে অবাধ-সুষ্ঠু ভোট আদায়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান গয়েশ্বর। তিনি বলেন, “আমরা ঘরে ঘরে যাব, মহল্লায় যাব, সবাইকে সাহস যোগাব, সবাই ভোট কেন্দ্রে আসবে তারা ভোট দিতে পারবে, তাদেরকে ভোট দিতে হবে।” বিএনপি হারার আগে হেরে যায় বলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গয়েশ্বর বলেন, “আপনার কথাটা তো অসত্য না। কারণ ৩০ তারিখের ভোট যদি আপনি ২৯ তারিখে ফলাফল দেন, তাহলে হারার আগে হারা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নাই। “আমরা হারার আগে হারি নাই, আমরা হারার আগে হারব না।” নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র-জালিয়াতির আভাস পাওয়া গেলে এখান থেকেই সরকার পতনের আন্দোলনের সূচনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। “কোনো দিক নির্দেশনার অপেক্ষায় আমরা থাকব না। আমরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কালক্ষেপণ না করে যেখানে যে রকম অবস্থায় আছে সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমে পড়ব, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না,” বলেন তিনি। বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসানের পরিচালনায় কর্মী সভায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, যুব দলের সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, উত্তরের সহ-সভাপতি বজলুল বাসিত আনজু, ছাত্র দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ভোটে থাকছেন জাপার মিলন

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী সাঈফুদ্দিন আহমেদ মিলনের ভোটে থাকা না থাকা নিয়ে সংশয় অবশেষে দূর হল; ভোটের মাঠে থাকছেন তিনি। ঢাকা সিটি ভোটে মহাজোটভুক্ত অন্যান্য দলগুলোর মতো জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করবে কিনা এ প্রশ্নে দোদুল্যমান ছিল মিলনের ভাগ্য। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক ঘরোয়া বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত আসে- দক্ষিণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছেন সাঈফুদ্দিন মিলন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর কলাবাগানে পার্টির কো চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা দায়িত্বে থাকা আমির হোসেন আমুর সঙ্গে ‘সমঝোতা’  বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত আসে। “আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী মহাজোট রয়েছে। কিন্তু সেটা জাতীয় নির্বাচনের জন্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা এককভাবেই প্রার্থী দেব। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আমাদের তেমন কথাই হয়েছে,” বলেন রাঙ্গাঁ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের আগে জানিয়েছিলেন, এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে প্রার্থী দেবে। এরপর দক্ষিণে প্রেসিডিয়াম সদস্য সাঈফুদ্দিন আহমেদ মিলন এবং নবম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগে দলে যোগ দেওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা জি এম কামরুল ইসলামকে উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছিল জাতীয় পার্টি। কিন্তু জিএম কামরুল ইসলাম ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ভোটার হওয়ায় নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়, যা পরে আপিল করেও ফেরত পাননি তিনি। অন্যদিকে দক্ষিণে আওয়ামী লীগের ফজলে নূর তাপসকে সমর্থন দেওয়া হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্তে আটকে ছিল মিলনের ভোটে থাকা না থাকার বিষয়টি। “আমাদের প্রার্থী সাঈফুদ্দিন আহমেদ মিলন ভোটের মাঠে থাকবেন কি না, এ বিষয়ে আমরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। মহাজোটের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়নি এখনও। তারা ডাকেওনি আমাদের। তারা বললে তো আমাদের প্রার্থী সরে দাঁড়াত,” গত মঙ্গলবার এমনটাই বলেছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রাঙ্গাঁ। দক্ষিণে জাতীয় পার্টির জয়ের সম্ভাবনা না দেখলেও নেতাকর্মীদের মিলনের পক্ষে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন মহাসচিব। শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রার্থীরা।

‘জাতীয় বস্ত্র দিবস’ এবং ‘বহুমুখী বস্ত্রমেলা’র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিশ্ব বাজারের সাথে ধারাবাহিকতা রেখে টেক্সটাইল পণ্যগুলোর বৈচিত্র্যকরণ করা খুব প্রয়োজন

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বস্ত্রখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি নতুন বাজার খুঁজে বের করার আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি বিশ্ব বাজারের সাথে ধারাবাহিকতা রেখে টেক্সটাইল পণ্যগুলোর বৈচিত্র্যকরণ করা খুব প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘একই জিনিস সবসময় চলেনা। পোষাকের ক্ষেত্রেও তার ডিজাইন, রং এবং সবকিছু পরিবর্তন করতে হয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০১৯’ এবং ‘বহুমুখী বস্ত্রমেলা’র উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘একই সাথে, আমাদের বিদ্যমান পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু অ্যাড’ এবং দেশের রফতানি আয় বাড়াতে নতুন নতুন বাজারের সন্ধান করতে হবে।’ ‘এখন বিশ্ব পোষাক বাজারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থান অধিকার করে আছে। বাস্তবিক ক্ষেত্রে তা বিশ্ব বাজারের মাত্র ৬.৪০ শতাংশ। তাই আমাদের এই বিষয়টিতে নজর দিতে হবে, যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিশ্ব বাজারে আমাদের পণ্যের চাহিদা বাড়ানোর জন্য আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমাদরকে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তিনি একইসঙ্গে বাজার সম্প্রসারণ এবং বস্ত্র খাতের প্রসারের জন্য বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে যতটুকু সম্ভব দরাদরি করে পণ্যের উপযুক্ত মূল্য আদায়েও ব্যবসায়ীদের মনযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সভাপতিত্ব করেন। বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান মির্জা আজম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়াঁ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বস্ত্র খাতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ৯টি সংস্থা এবং উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন সিজনে বা বছরের কোন সময়ে কোন রংটা বেশি প্রভাব ফেলে- এরসঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমাদের উৎপাদন বহুমুখীকরণ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আর এজন্য আমাদের কিছু স্বল্প মেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা থাকা উচিত। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আশা করি আপনারা এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও গ্রহণ করবেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে আমরা সবধরনের সহযোগিতা করবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে তৈরী এসব পোষাক পার পিস খুব অল্প টাকায় আমরা বিক্রয় করি। এক্ষেত্রে আমাদের পণ্য ক্রেতারা এক ডলার করেও যদি দাম বাড়াতো তাহলে মনে হয় এই খাতটাকে আমরা আরো উন্নত করতে পারতাম। তিনি বলেন, যেহেতু প্রতিযোগিতার একটা ব্যাপার থাকে সেহেতু আমাদের রপ্তানিকারকগণ বায়ারদের সঙ্গে এই ‘বার্গেনিংটা’ করেন কিনা আমি বলতে পারবোনা। কিন্তু আমার মনে হয় একটু করা উচিত। বায়ার বা দেশগুলোকে বিষয়টি বলা উচিত। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, যেসব দেশে আমাদের তৈরী পোষাক রপ্তানি হয় সেসব দেশ সফরে গেলে তাঁদের সরকার প্রধানদের কাছে তিনি নিজে বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একা তুলে ধরলে হবেনা। আপনারা যারা ব্যবসা করেন তাদেরও বোধ হয় একটু উদ্যোগ নিতে হবে।’ সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের প্রসংগ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে পারেন ব্যবসায়ীরা। আশা করি বিদেশি বিনিয়োগও আসবে।’ প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘পোশাক শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশ এবং বিশেষ করে এর আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অগ্রগণ্য। তাই এখাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা দরকার।’ তিনি নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে রাষ্ট্রীয় খাতের দুরাবস্থার কথাও এ সময় উল্লেখ করেন। সরকার প্রধান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় খাতে গেলেই অজানা কারণে আমরা লাভের মুখ দেখি না। জানি না এর পেছনে মূলত কী কারণ। তাই বেসরকারি খাতের দিকেই আমাদের আগ্রহ বেশি। তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বস্ত্রখাতের ভূমিকা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১৩ শতাংশ।  তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৪৪ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে যার অধিকাংশই নারী। পরোক্ষভাবে প্রায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষ এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে এ খাতকে শক্তিশালী করছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পের ৪টি খাতে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বছরে অবশিষ্ট সকল খাতে ১ শতাংশ হারে রপ্তানি প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে। এ প্রণোদনা বাবদ বাজেটে অতিরিক্ত ২,৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, ন্যূনতম মজুরি কমিশন শক্তিশালী করা, শ্রম আইন সংশোধন ও শ্রম বিধিমালা জারি সহ শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো উল্লেখ করেন, দেশের বস্ত্র খাতকে যুগোপযোগীকরণ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনে সহায়তাকরণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে বস্ত্রনীতি, ২০১৭ এবং বস্ত্র আইন, ২০১৮ প্রণয়ন এবং বস্ত্র পরিদপ্তরকে শক্তিশালী করে বস্ত্র অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বস্ত্রখাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে সারাদেশে এ পর্যন্ত ৭টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ৭টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এবং ৪২টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বস্ত্রখাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে বিজিএমইএ প্রতিষ্ঠিত ‘ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি’ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁতশিল্পের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বস্ত্র চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ তাঁতশিল্প যোগান দিয়ে থাকে।’ পাটপণ্যের প্রসারে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘পাট এমন একটি কৃষিপণ্য যা পরিবেশবান্ধব। আমরা পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছি। এখন পাট দিয়ে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি বস্ত্র নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে। এর বিকাশে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’ একদা সারা বিশ্বে দেশের মসলিনের সুনামের প্রসংগ টেনে তিনি বলেন, ‘মসলিনের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় নিবিড় গবেষণার মাধ্যমে মসলিনের সূতা ও কাপড় তৈরীর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড রেশম চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে এ শিল্পের সাথে জড়িতদের উন্নয়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের সাথে রেশম চাষ সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ বছর রাজশাহী রেশম কারখানায় ১৯ টি পাওয়ার লুম চালু করা হয়েছে।  দেশের বন্ধ কল-কারখানা চালুতে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন এর ১৬টি বন্ধ মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ পদ্ধতিতে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে দুটি বন্ধ মিল পিপিপি’র আওতায় পরিচালনার নিমিত্তে চুক্তি স্বাক্ষরপূর্বক প্রাইভেট পার্টনারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও আরব আমিরাতের সঙ্গে যৌথভাবে ৪টি কারখানা পিপিপি এর আওতায় চালু করার ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি এ সময় বর্ষব্যাপী ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনের প্রসংগ টেনে এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি এখানেই থেমে না থেকে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যাতে একটি সুন্দর দেশ পায়, উন্নত জীবন পায় তা নিশ্চিত করতে সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগামীকাল ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ১৭ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনের আনুষ্ঠানিক ক্ষণ গণনা শুরু হবে এবং ২৬ মার্চ ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন পর্যন্ত এই ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপিত হবে।

সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

সিটি নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা নেই

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভায় রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় রদবদল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। তারপরও আমি বলব এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যে কোনো সময় মন্ত্রিসভা পরিবর্তন করতে পারেন। খুব তাড়াতাড়ি কিছু হবে এমন খবর আমার কাছে নেই, কিংবা থাকলেও সে সম্ভাবনা খুব কম।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন। সিটি নির্বাচনে অনেক বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বৃহস্পতিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। দেখেন কারা প্রত্যাহার করেন, আজকের পরে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। তিনি বলেন, যাদেরকে বিতর্কিত বলা হয় দেখা যায় নির্বাচনে তারাই জয়লাভ করে। এ রকম অতীতে অনেক দেখেছি। গতবারও সিটি নির্বাচনে হয়ত একজনকে মনোনয়ন দিয়েছি কিন্তু জিতেছে বিতর্কিত ব্যক্তি। জনগণ যাকে নির্বাচিত করে তাকে একসেপ্ট না করে তো উপায় নেই। এখন আমরা সবকিছু মূল্যয়ন করছি। সড়ক নিয়ে অস্বস্তি আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সড়ক আইনে সংযম করছি। সড়ক আইনের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলছে, আমরা নিজেরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আমাদের জনবল সংকট আছে। বিআরটিএর জনবল বৃদ্ধি করা দরকার। আমরা শিগগিরই জনবল পেয়ে যাব। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য টেন্ডার হয়েছিল। সেখানে ত্রুটি দেখা গেছে, তাই অন্যায়ভাবে কাউকে আমরা কাজ দিতে পারিনা। রিটেন্ডার করতে হচ্ছে বলে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার এবং দলকে আলাদা করার জন্য অনেক মন্ত্রীকে দলের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এখন যারা মন্ত্রিসভায় আছেন তাদের মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন যারা মন্ত্রিসভায় আছেন তাদের মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হবে কিনা। তার সিদ্ধান্ত আমরা সবাই মেনে নেব। আমাকে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতে বললে আমিও ছেড়ে দেব। মধ্যপ্রাচ্যে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, বিষয়টি সরকার কিভাবে দেখছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। যেখানে আমেরিকা-ইরাক মুখোমুখি অবস্থানে, সেখানে বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তেলের দাম বাড়লে তার প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও আসবে। আমরা চাই তারা যুদ্ধ থেকে সরে আসুক। আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যার সমাধান করুক। আমরা যুদ্ধ চাই না।

 

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

ঢাকা অফিস ॥ আজ ১০ জানুয়ারি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির এই অবিসংবাদিত নেতা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে লন্ডন যান। তারপর দিল্লী হয়ে ঢাকা ফেরেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালনের ব্যাপক প্রস্তুতিকে সামনে রেখে এবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হচ্ছে। আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী। বাংলাদেশ এ বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। এদিন থেকেই মুজিববর্ষ উদযাপন শুরু হবে। আর বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই দিনে সারাদেশে শতবর্ষ উদযাপনের কাউন্টডাউন শুরু হবে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনার উদ্বোধন করবেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে এদিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দলের কন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। এছাড়াও দুপুর ৩টায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ক্ষণগণনা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাঁকে গ্রেফতার করে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি  সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে। জাতির পিতা পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোর রাতে ইংরেজি হিসেবে ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধু ও ড. কামাল হোসেনকে বিমানে তুলে দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তাঁরা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। পরে ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিমানে করে পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন। দশ তারিখ সকালেই তিনি নামেন দিল্লীতে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য অতিথি ও সেদেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পিতা শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের কাছে তাদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা হিসেবে।’ বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমান বন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাঁকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। পরের দিন দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে এভাবেই লিখা হয়- ‘স্বদেশের মাটি ছুঁয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা শিশুর মতো আবেগে আকুল হলেন। আনন্দ-বেদনার অশ্র“ধারা নামলো তার দু’চোখ বেয়ে। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্র“তে সিক্ত হয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বাংলার আকাশ-বাতাস। জনগণ নন্দিত শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ধ্র“পদি বক্তৃতায় বলেন, ‘যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’ সশ্রদ্ধ চিত্তে তিনি সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন, সবাইকে দেশ গড়ার কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।

বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর ব্যয় বাড়ল ৩ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণে প্রায় সোয়া তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দিয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন। ব্যয় বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, “কাজের পরিমাণ বেড়েছে। তবে কি ধরনের কাজ বেড়েছে সেটি মৌখিক জানানো হয়েছে। এটি একনেকেই আলোচনা হওয়া ভালো।” পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালীন অবস্থায় এটি অনুমোদন দিয়েছিলেন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাড়তি ব্যয়ের পুরো অর্থ জাইকা ঋণ সহায়তা হিসেবে দেবে। যমুনা নদীর উপর রেলসেতু নির্মাণে ২০১৬ সালে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। তিন বছরের মাথায় ব্যয় বেড়ে হলো ১২ হাজার ৯৫০ কোটি ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৭ টাকা। মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবসহ প্রকল্পটির আবার ডিপিপি করতে হবে, আবার একনেকে যাবে। তখন একনেক থেকে অনুমোদনের পর আর ক্রয় কমিটিতে আসতে হবে না। রীতি অনুযায়ী, ডিটেইলড প্রজেক্ট প্লান (ডিপিপি) তৈরির পর প্রকল্প অনুমোদন হয়। তারপর ব্যয়ের প্রস্তাব আসে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে। প্রকল্প সংশোধনের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনসৃত হয়। তবে মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর এর ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা কাজে গতি আনতে চাই, এ জন্য পদ্ধতি সহজ করতে হব। আজকে যদি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দিয়ে দিতাম, তাহলে আবার একনেকে নিতে হত। “একনেক অনুমোদন দিলে আবার ক্রয় কমিটিতে আনতে হত। এ প্রকল্প একনেক প্রথমে অনুমোদন দিয়েছে। অনেক ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে, তাই আবার একনেকে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এটা দেখা উচিত, দেখে যদি উনি অনুমোদন দেয় ওকে। একনেক অনুমোদন না দিলে হবে না।’