গ্রেপ্তার মজনু ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ – র‌্যাব

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার কুর্মিটোলায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক এর আগেও ‘বহু নারীকে ধর্ষণ করেছে’ বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গতকাল বুধবার দুপুরে কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, মজনু নামের আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই যুবক ‘মাদকাসক্ত; এবং একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’। র‌্যাব বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের কথাও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন মজনু। তার ছবি দেখানোর পর মেয়েটিও তাকে শনাক্ত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী শেওড়ায় বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কুর্মিটোলায় বাস থেকে নামার পরপরই আক্রান্ত হন। পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে তাকে তুলে সড়কের পাশে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় তিন ঘণ্টা ধরে। কয়েক ঘণ্টা পর চেতনা ফিরে পেয়ে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যান। রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরদিন ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তার বাবা। সহপাঠী ধর্ষিত হওয়ার খবরে সেই রাত থেকেই ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মামলা তদন্তের দায়িত্ব গোয়েন্দা পুলিশকে দেওয়া হলেও র‌্যাবসহ পুলিশের অন্যান্য বিভাগ তদন্তে নামে। র‌্যাব বলছে, ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোন ও ব্যাগ নিয়ে গিয়েছিল ধর্ষক, যার সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর পৌনে ৫টায় শেওড়া রেলের ক্রসিং এলাকা থেকে মজনুকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও পাওয়ার ব্যাংক উদ্ধার করার কথাও জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে। এরপর বুধবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মজনুকে নেওয়া হয় কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে। সেখানে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মজনুর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেন সারোয়ার বিন কাশেম। র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মজনুর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর, বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। জীবিকার তাগিদে  বছর দশেক আগে তিনি ঢাকা আসেন। মজনুর বাবা মাহফুজুর রহমান মারা গেছেন আগেই। মা জীবিত থাকলেও বাড়ির সঙ্গে মজনুর কোনো যোগাযাগ নেই। নিরক্ষর মজনু ১২ বছর আগে ট্রেনে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে দাঁত ভেঙে ফেলেন। এই ভাঙা দাঁতের বিষয়টি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে জানান সারোয়ার বিন কাশেম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সে (মজনু) একসময় বিবাহিত ছিল। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।” প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজনু বলেছেন, তিনি পেশায় দিনমজুর, হকার। পাশাপাশি তিনি ‘ছিনতাই, রাহাজানি, চুরির মত কাজেও’ জড়িত ছিলেন বলে র‌্যাবের ভাষ্য। “সে আমাদের কাছে প্রাথমিক স্বীকারোক্তি দিয়েছে, সে সিরিয়াল রেপিস্ট। সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক মহিলাকেও নানাভাবে ধর্ষণ করেছে। সে মাদকাসক্ত।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষার্থীর বক্তব্য এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজনুর দেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন সন্ধ্যার ঘটনাপ্রবাহের একটি বিবরণ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক।  তিনি বলেন, “আমাদের ভিকটিম কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নামে তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার জন্য। সে পথ ভুল করে সেখানে নামে। পরবর্তীতে সে যখন নির্জন পথ দিয়ে যাচ্ছিল, মজনু তাকে ফলো করতে করতে তার গলায় চাপ দিয়ে জাপটে ধরে একটি ঝোপের আড়ালে নিয়ে যায়। সেখানে সে ধর্ষণের মত বর্বরোচিত করমটি সম্পাদন করে। “ওই মুহূর্তগুলোতে সে বারবারই তাকে (ভিকটিম) ঘুষি দিচ্ছিল, চড় দিচ্ছিল এবং গলা চেপে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল। স্বভাবতই ভিকটিম এ ঘটনায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সে বেশ কয়েকবার অচেতন হয়ে পড়ে। তার যখন চেতনা ফিরে আসে, তখন সে সুযোগ বুঝে মজনুর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।” সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, সেই রাতে মেয়েটির ফেলে যাওয়া মোবাইল ফোন, ব্যাগ এবং পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মজনু। কুর্মিটোলায় অরুণা নামে পরিচিত এক নারীর কাছে ফোনটি বিক্রি করে দেন ৫০০ টাকায়। তবে অরুনা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ৪০০ টাকা দিয়ে, বাকি টাকা পরে দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দেন। সেখান থেকে মজনু প্রথমে যান বিমানবন্দর স্টেশনে। ওই রাত তিনি নরসিংদীতে কাটান। পরে অরুণার কাছে বাকি ১০০ টাকা নিতে ঢাকায় আসেন। মঙ্গলবার সারাদিন তিনি ছিলেন বনানী স্টেশনে। এরপর বুধবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। “এটা একটা ক্লুলেস অপারেশন ছিল, আমাদের কাছে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ ছিল না। কোনো তথ্য ছিল না। জাস্ট কিছু বর্ণনার সূত্র ধরে আমরা তদন্ত করেছি।” র‌্যাব কর্মকর্তা কাশেম বলেন, ভিকটিমের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তারা খায়রুল নামে এক রিকশাচালককে আটক করেন। খায়রুল ওই মোবাইল কিনেছিলেন অরুণার কাছ থেকে। পরে খায়রুলের দেওয়া তথ্যে অরুণাকেও আটক করা হয়। “অরুণার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ভিকটিমের তথ্য মিলিয়ে আমরা সিদ্ধান্তে আসি যে তারা (মোবাইল বিক্রেতা  ও ধর্ষক) একই ব্যক্তি। কারণ তার বাড়ি নোয়াখালী, স্থানীয় ভাষায় সে কথা বলে, তার সামনে দাঁত নেই। চুল কোঁকড়া এবং সে খর্বকায়। এই তথ্যগুলো মিলিয়ে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।” র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মজনু বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের সময় তিনি  একাই ছিলেন।  আর ভিকটিমও তার বিবরণে একজনের কথাই বলেছেন। সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, “আমরা ভিকটিমকে ছবি দেখিয়ে কনফার্ম করেছি, যে এই সেই ব্যক্তি। বেশ কয়েকবারই তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সাথে কথা বলেছি। সে বার বার আমাকে একটা কথাই বলেছে, আমি পৃথিবীর সমস্ত চেহারা ভুলে যেতে পারি, এই লোককে আমি কখনো ভুলব না।” কীভাবে মজনু ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ হয়ে উঠলেন, সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা কাশেম বলেন, “তার স্ত্রী যখন মারা যায়, তারপর আসলে তার যা অবস্থা, সে আর কাউকে বিয়ে করতে পারেনি। তখন যেটা সে করত, বিভিন্ন ভিক্ষুক, তাদের সে ধর্ষণ করত।  এবং প্রতিবন্ধী নারী, তাদের সে বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরে এনে রাখত এবং এই কাজগুলো করত। ” এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, মজনু সেদিন কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়েছিলেন প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর একটি মেয়েকে নির্জন ফুটপাতে একা ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে দেখে তিনি অনুসরণ শুরু করেন। “সে ওঁৎ পেতে ছিল যে কেউ যদি আসে এই কাজ করবে। যেখানে সে নিয়ে গিয়েছিল, সেটা ঝোপের আড়ালে। প্রথমে আমরাও অবাক হয়ে গিয়েছিলাম এই রকম একটা জায়গায় সে কীভাবে এতক্ষণ এটা করল, প্রায় তিন ঘণ্টা…। “সেখানে ওই সময় মানুষের চলাচল সীমিত থাকে। সে কারণে সে দীর্ঘক্ষণ ধরে এই অপকর্মগুলো করতে পেরেছিল।  আগেও সে একই জায়গায় এরকম অপকর্ম করেছে।”

আরেক প্রশ্নে কাশেম বলেন, মজনুর মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনার ভাব তারা দেখেননি। “সে পুরোপুরি নির্বিকার। ধরা পড়ে প্রথমেই সে এগুলো স্বীকার করে নেয়। সে যে কয়েকবার (সেই ঢাবি শিক্ষার্থীকে) হত্যার চেষ্টা করেছিল, এটাও সে অকপটে স্বীকার করেছে।… এটা নিয়ে যে দেশজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে, এ বিষয়ে সে অবগত ছিল না।”

প্রধানমন্ত্রীর সত্য ভাষণ বিএনপির গাত্র দাহের কারণ – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া সত্য ভাষণ বিএনপির গাত্র দাহের কারণ বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতি হতাশ’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সত্য ভাষণ বিএনপি’র গাত্রদাহের কারণ। প্রধানমন্ত্রী সত্য কথা বলেছেন, সত্য বলার সৎ সাহস রয়েছে। ভুল ভ্রান্তি স্বীকার করার সৎ সাহস রয়েছে। যেখানেই অপরাধ হয়েছে, সেখানেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সবকিছু এই পরিসরে বলা সম্ভব নয়। উনি যে বিষয় গুলো বলা দরকার, যেমন দুর্নীতি নিয়ে বলেছেন। দুর্নীতিবাজ যেই হোক যত শক্তিশালী হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। যে অঙ্গীকার নিয়ে জাতির কাছে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন সেটা অব্যাহত থাকবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী মুখরোচক প্রতিশ্র“তিতে বিশ্বাস করেন না, তার প্রধান লক্ষ্য তরুণদের কর্মসংস্থান এবং সেই প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। আমরা আমাদের যা করণীয় তা করে যাবো, দেড় কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজেই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলেননি, এটা ঠিক নয়। তিনি বলেন, সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে সে বিষয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে জড়িতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মুহূর্তে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে মূল ঘটনার সঙ্গে যে জড়িত, সে গ্রেপ্তার হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মেট্রোরেলের কাজ অনেকাংশেই শেষ হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান যে সময় দিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের কাজ মোটামুটি শেষ হবে বলে জানিয়েছে। আমরা তাদের আরো সময় বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত টার্গেট দিয়েছি। তারা টার্গেট মিস করেছে, এমন রেকর্ড আমাদের জানা নেই।

 

ইয়াবা এখন মিয়ানমারকেও ভোগাচ্ছে – বিজিবি প্রধান

ঢাকা অফিস ॥ ইয়াবা ঠেকাতে মিয়ানমার সহযোগিতা না করার মধ্যে এবার বিজিবি প্রধান জানালেন, এই মাদক নিয়ে এখন দেশটিও ভুগছে। ঢাকায় মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্মেলন চলার মধ্যে গতকাল বুধবার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। ভারত থেকে আসা ফেনসিডিলকে ছাপিয়ে গত দেড় দশক ধরে ইয়াবার রাজত্ব চলছে বাংলাদেশের নেশার রাজ্যে। এই ইয়াবা ট্যাবলেট আসে মিয়ানমার থেকে। ফেনসিডিল পাচার বন্ধে ভারতের সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গত বছরই বলেছিলেন, ইয়াবা বন্ধে মিয়ানমার সহযোগিতা করছে না। পিলখানায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বিশেষত ইয়াবা পাচার রোধে বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে এবং মিয়ানমার তাদের জাতীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুযায়ী মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। মাদক মিয়ানমারের সমাজেও একই  প্রভাব ফেলছে বলে দেশটির প্রতিনিধি দল জানায়। তাই মাদক পাচার রোধে ‘পূর্ণ সহযোগিতার’ আশ্বাসও তারা দেয় বিজিবিকে। বিজিবি প্রধান সাফিনুল বলেন, “মিয়ানমারও অনেক ইয়াবা জব্দ করে তা ধ্বংস করেছে। তার চাক্ষুস প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা তাদের মাদকবিরোধী অভিযান আরও বেগবান করার অনুরোধ জানিয়েছি।” টেকনাফের নাফ নদী দিয়ে বর্তমানে ইয়াবা পাচার অনেক কমেছে দাবি করে তিনি বলেন, “অন্যান্য পথ দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে ঢোকে।” বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির পাঁচ দিনের এই সম্মেলন শুরু হয় গত ৫ জানুয়ারি। মিয়ানমারের চিফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ, পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থান তাদের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিজিবির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেজর জেনারেল সাফিনুল। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে তার দেশের কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বাংলাদেশে অবস্থান করছে। “কিন্তু আমরা তাদের জানিয়েছি, এ ধরনের কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপ এখানে নেই। আমাদের সরকার এদেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে দেবে না,” বলেন বিজিবি প্রধান। উভয় পক্ষই যে কোনো ধরনের অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম বা প্রবেশ এবং সীমান্ত লঙ্ঘন রোধে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞতাবশত সীমান্তরেখা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে উভয়ে দেশের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী তাদেরকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও মতৈক্য হয়েছে। মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উভয় পক্ষই আন্তঃদেশীয় অপরাধ, অস্ত্র চোরাচালান, মানব পাচার, পণ্য চোরাচালান ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লডাইয়ে একে অন্যকে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। সীমান্তে গোলাগুলি বা গুলি চালানোর ঘটনা যদি ঘটে, তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একে অন্যকে জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে বিজিবি ও বিজিপি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলনটি ২০২০ সালের মে-জুন মাসে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হবে।

 

সরকারি চাকরির জন্য মনোনিবেশ না করে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ রাষ্ট্রপতির

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি চাকরি বা অন্য চাকরির পেছনে মনোনিবেশ না করে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। গতকাল বুধবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় শাবি বাংলাদেশে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক সুনাম বয়ে এনেছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের সুনাম সৃষ্টিতে অনন্য ভূমিকা রাখছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যা আমাদের জন্য গৌরবের। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চা ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি দেশ ও বিদেশে কর্মক্ষেত্রে শাবির গ্র্যাজুয়েটরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মাধ্যমে দেশের সুনাম বয়ে আনছে। এ সময় গ্র্যাজুয়েটদের পাশাপাশি উপস্থিত অতিথিবৃন্দের কাছে ফরমালিনমুক্ত দেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ফরমালিনের কারণে বর্তমানে দেশে ক্যান্সারসহ অন্যান্য মরণঘাতী রোগ বেড়ে যাচ্ছে, যার দায়ভার আমরা কেউই এড়াতে পারি না। মো. আবদুল হামিদ বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তরুণদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাই সরকারি চাকরির বা অন্য চাকরির পেছনে মনোনিবেশ না করে উদ্যোক্তা হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান, পিএইচডি প্রদান ও স্বর্ণপদক প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি। এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০০০-০১ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ৬ হাজার ৭৫০ জন গ্র্যাজুয়েটের ডিগ্রি ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি। তাদের মধ্যে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ২০ জন শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। বিকাল সাড়ে ৪টার পর রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম। এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সত্য-মিথ্যা যাচাই ছাড়া ইন্টারনেটে কোন কিছু শেয়ার করবেন না 

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্টারনেটে ক্ষতিকর ডিজিটাল কনটেন্ট ফিল্টারিং করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সত্য-মিথ্যা যাচাই ছাড়া ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনকিছু শেয়ার বা পোস্ট না করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বৃদ্ধি আমাদের সুযোগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নানা সমস্যারও সৃষ্টি করছে। দেখা যায় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা অ্যাপস ব্যবহার করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের অনেক অপ্রয়োজনীয় লিঙ্ক চলে আসে। তাই, ক্ষতিকর ডিজিটাল কনটেন্ট যধাযথভাবে ফিল্টার করার ব্যবস্থা করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৩য় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০১৯’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষকে আমি বলবো একটা কিছু আসলো (ইন্টারনেটে আপলোড হলো) অমনি সেটা শুনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা বা অন্য কিছু করা ঠিক নয়। সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া দরকার।’ তিনি বলেন, ‘যাচাই না করে শুধুমাত্র গুজবে কান দেয়া বা শুধুমাত্র নিজের কৌতুহলবশত সেগুলোতে প্রবেশ না করাই ভাল। কোন ধরনের মন্তব্য দেওয়া বা ছড়ানো বা সেটাতে হাত দেওয়াই উচিত নয়। ’ তিনি বলেন, ‘কোন পোষ্ট শেয়ার করতে গেলে আগে তার খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে এটা কতটুকু সত্য বা মিথ্যা।’ ‘এই অভ্যাস গড়ে তুললে সেটা আমাদের সমাজের জন্য, দেশের জন্য এবং প্রত্যেকের ব্যক্তি জীবনের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে, ’যোগ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ-২০১৯’ সম্মাননা প্রদান করেন। তিনি ‘আমার সরকার’ শীর্ষক একটি অ্যাপও অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান একেএম রহমতউল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এএনএম জিয়াউল আলম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সরকারের আইসিটি সেক্টরের অগ্রগতি তুলে ধরে একটি ভিডিও চিত্রসহ গত ১২ ডিসেম্বর সারাদেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ উদযাপনের তথ্যচিত্রও অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়। মন্ত্রি পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ সহ উদ্যোক্তা, আইএসপি এবং টেলিকমিউনিকেশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আইসিটি-ভিত্তিক সেবা সম্পর্কে জনগণকে শিক্ষিত করা এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গত ১২ ডিসেম্বর সারাদেশে ৩য় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদযাপিত হয়। যার এবারের প্রতিপাদ্য ছিল-‘সত্য মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছোট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ সমাজকে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করা একান্তভাবে দরকার।’ তিনি বলেন, মানুষ যেন এ ব্যাপারে আরো সজাগ হন সেজন্য অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে সকলকেই আমি সচেতন থাকার আহবান জানাচ্ছি। কারণ এতে করে ছেলে-মেয়েরা অনেক সময় বিপথে চলে যায়। অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়, অনেক ধরনের অপরাধের সঙ্গে তারা যুক্ত হয়ে পড়ে। এটা যেন না হতে পারে সেজন্য সকলকেই সচেতন হতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা বাচ্চাদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছেন। কিন্তু তারা কি দেখছে, কোথায় যাচ্ছে-তার ওপর নজরদারি অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ আসলে এটা একটা আসক্তির মত হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ইন্টাররেটে বা মোবাইল, আইপড ও কম্পিউটারে যুক্ত থাকলে মনের ওপর একটা চাপ আসে। এতে শরীরের ওপর চাপ আসে। চোখের ক্ষতি হয়, ব্রেনের ক্ষতি হয়। কাজেই এই বিষয়গুলোর ওপরে সচেতনতা একান্তভাবে প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।’ ‘কাজেই এই আসক্তিতে যেন কোন তরুন বা শিশু-কিশোর না পড়ে। বিশেষকরে শিশু-কিশোরদের বেলায় এটা আরো বেশি প্রযোজ্য। কারণ আমরা চাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের সমাজটাও যেন ভালভাবে গড়ে ওঠে,’ যোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আজ দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ২০ ভাগে আনতে সক্ষম হয়েছি এবং এটাকে আরো কমাতে চাই। প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত করেছি, মূল্যস্ফীতি ৫ ভাগে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় এক হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান’ ঘোষণা করে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলাম। আমরা জনগণকে ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দিয়েছি। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এখন অন্যদেশ অনুসরণ করছে । তাঁর সরকার বিগত প্রায় ১১ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশের চার স্তম্ভ–কানেক্টিভিটি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্মেন্ট এবং আইসিটি ইন্ডাষ্ট্রি প্রোমোশনকে ঘিরে নেওয়া অধিকাংশ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করায় জনগণ এখন ঘরে বসে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। সারাদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশের গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দিতে সারাদেশে ৫ হাজার ৮শ’ ৬৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেছে। শুধুমাত্র ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে ১০ বছরে মানুষকে ৪৬ কোটি সেবা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে এখন মোবাইল ফোন গ্রাহক ১৬ কোটি ৪১ লক্ষ ৭০ হাজার। বিএনপি সরকারের এক মন্ত্রীর মনোপলি ব্যবসা ভেঙ্গে তাঁর সরকার মোবাইল ফোনকে বেসরকারী খাতে উন্মুক্ত করে দেওয়াতেই এটা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রচারভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ সহজ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩ হাজার ৬শ’টি ইউনিয়ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির আওতায় এনেছি, এ বছর আরও ২০০ ইউনিয়নে কানেক্টিভিটি দেওয়া হবে। ২০২১ সালের মধ্যে দুর্গম এলাকার বাকি ৭৭২টি ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিব। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৯ কোটি ৯৫ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি। সরকার প্রধান বলেন, ই-টেন্ডার ও ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে সফলতা অর্জন করেছি। এক জায়গায় সকল সমস্যার সমাধান-এই লক্ষ্য নিয়ে ‘একসেবা’, ‘এক-পে’ ও ‘একশপ’ উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসঙ্গে জনগণ ‘৯৯৯’, ‘৩৩৩’ এবং ‘১০৯’ নম্বরে কল করে বিভিন্ন জরুরি সেবা পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশে স্টার্টআপ সংস্কৃৃতি গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছি।’ ‘তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা মেটাতে জেলা পর্যায়ে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে,’ বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে নির্মিত ৩টি হাইটেক ও সফটওয়্যার পার্কে ১০৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা এ পর্যন্ত ২৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব করেছে। এখন পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া সরকার বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে ডিজিটাইজড তথ্যসেবা ও ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা সংরক্ষণের জন্য ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার চালু করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সাথেও দেশকে যুক্ত করা হবে। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশের তথ্য চুরি হয়ে যাবে বলে অজুহাত টেনে দেশকে বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হতে দেয়নি, দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।’ তিনি সে সময় নেদারল্যান্ডের একটি কোম্পানীর কাছ থেকে অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করে বাকীটা অনুদানে দেশের জন্য ১০ হাজার কম্পিউটার সংগ্রহের প্রকল্প চুড়ান্ত হওয়ার পরেই সরকারের দায়িত্বে আসতে না পারায় এবং বিএনপি সে প্রকল্প বাতিল করে দেয়ার ফলে দেশের লোকসান ঘটানোর ঘটনা স্মরণ করে এর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এজন্য পরিশোধকৃত অর্থ গচ্চা সহ দেশের অতিরিক্ত ৩২ কোটি টাকার জরিমানা গুণতে হয়েছিল। কারন নেদারল্যান্ডের জাতীয় ফুল টিউলিপ নামে সেই ডাচ কোম্পানীর নাম থাকায় বিএনপি’র লোকেরা খালেদা জিয়াকে বোঝায় যে- ‘এটি শেখ রেহেনার মেয়ে’র কোম্পানী (বর্তমানে টানা তৃতীয়বারের মত নির্বাচিত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী)।’ ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের উদ্যোগ সহ আগামী প্রজন্মের জন্য শতবর্ষ মেয়াদী ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ গ্রহণের প্রসংগ টেনে আইসিটির সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়নে তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখারও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ইরানের দাবি

 ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮০ মার্কিন সন্ত্রাসী নিহত

ঢাকা অফিস ॥ ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যস্থলগুলোতে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৮০ ‘মার্কিন সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটিকেও প্রতিহত করা হয়নি বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভশন গতকাল বুধবার জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডের এক ঊর্ধ্বতন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরও বলেছে, যদি ওয়াশিংটন কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আরও ১০০টি লক্ষ্যস্থল ইরানের নজরদারির মধ্যে আছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন হেলিকপ্টার ও সামরিক সরঞ্জামের ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছে গণমাধ্যমটি। বুধবার ভোররাতে ইরান ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীগুলোর অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বলা হচ্ছে, ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে যে সময় হত্যা করেছিল মার্কিন বাহিনী ঠিক ওই একই সময় ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড বাহিনী। শুক্রবার ভোররাতে ইরাকে রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে সোলেমানিকে হত্যা করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হামলাটি চালানো হয়। এ হত্যার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক একটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরাকে মার্কিন সেনাদের অবস্থানে ইরানের হামলার ঘণ্ট দুয়েক পর এক টুইটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটে ‘অল ইজ ওয়েল’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলেছে, এই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। বুধবার ইরাকের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর সেনা ঘাঁটি আইন আল আসাদ ও ইরাকি কুর্দিদের রাজধানী ইরবিলের আরেকটি ঘাঁটিতে ইরান ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তাতে ইরাকের সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়নি। এক বিবৃতিতে ইরাকি বাহিনী জানিয়েছে, আইন আল আসাদ লক্ষ্য করে ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে যার মধ্যে দুটি বিস্ফোরিত হয়নি। ইরবিল লক্ষ্য করে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্রের সবগুলো জোট বাহিনীর সদরদপ্তরে গিয়ে আঘাত হেনেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণে ইরাকি বাহিনীর কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে তারা।নরওয়ের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আইন আল আসাদ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত তাদের কোনো সৈন্য ইরাকি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহত হয়নি। এই ঘাঁটিতে নরওয়ের প্রায় ৭০ জন সৈন্য আছে বলে জানিয়েছে নরওয়ের সামরিক বাহিনী। আল আসাদ বিমান ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদেরও কোনো সৈন্য হতাহত হয়নি বলে বুধবার এক টুইটে জানিয়েছে ডেনমার্কের সশস্ত্র বাহিনী। ইরাক ও সিরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইরত জোট বাহিনীতে ডেনমার্কের প্রায় ১৩০ জন সৈন্য অংশ নিচ্ছে। ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সেখানে অবস্থানরত তাদেরও কোনো সেনা হতাহত হয়নি বলে পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন।

বছরের প্রথম ছাড়পত্র পেল ‘হৃদয়জুড়ে’

বিনোদন বাজার ॥ সময়টা ছিল ২০১৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। এই দিনই মহরতের মধ্য দিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান ওপার বাংলার অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ও এপার বাংলার অভিনেতা নিরব। বেশ কিছুদিন শুটিংয়ের পর হঠাৎ করেই পরিচালকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাঁধে নায়িকার। কিছুদিন বিরতির পর গত বছর শেষ হয়েছিল ছবিটির কাজ। অবশেষে তিন বছর পর ছবিটি মুক্তির আলো দেখতে যাচ্ছে। রফিক শিকদার পরিচালিত এ ছবিটি গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছবির প্রযোজক মো. মনির হোসেন। তিনি জানান, ছবিটি বিনা কর্তনে ছাড়পত্র পেয়েছে। এটি বছরের প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেল। রোমান্টিক গল্পে নির্মিত হয়েছে ‘হৃদয়জুড়ে’। ছবির নায়ক নিরব বলেন, ‘পুরোটাই রোমান্টিক গল্পে নির্মিত। ছবির কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছিল। এবার মুক্তির পালা।’ ‘হৃদয়জুড়ে’ সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন কাজী হায়াৎ, সুচরিতা, সুব্রত, রোদেলা প্রমুখ। এদিকে নিরব এখন ব্যস্ত আছেন ‘ক্যাসিনো’ সিনেমার কাজ নিয়ে।

মুখোশধারীদের হামলা দেখে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি: অনিল কাপুর

বিনোদন বাজার ॥ দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতে অন্ধকারে মুখোশধারীদের হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলিউড অভিনেতা অনিল কাপুর।

সোমবার মালাং ট্রেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ হামলার নিন্দা জানান।

অনিল কাপুর বলেন, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপর মুখোশধারী দুষ্কৃতিকারীরা যেভাবে হামলা চালিয়েছে, সেই ছবি দেখে আমি সারা রাত ঘুমোতে পারিনি। অপরাধীদের চিহ্নিত করে শিগগিরই শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

অনিল কাপুরের পাশাপাশি জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন আদিত্য রায় কাপুরকও।

এদিকে শুধু অনিল কাপুর বা আদিত্য রয় কাপুর নন, এ হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বলিউডের একাধিক সেলিব্রিটি। আয়ুষ্মান খুরানা, রিতেশ দেশমুখ, জেনেলিয়া ডিসুজা, বিশাল দাদলানি, অনুরাগ কাশ্যপ, শাবানা আজমি, স্বরা ভাস্কর, তপসি পান্নুরা নিজেদের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সরব হন হামলার প্রতিবাদে।

উল্লেখ্য, রোববার রাতে নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় মুখোশধারীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হন। তথ্যসূত্র: জি নিউজ।

টাইগার ছাড়া আমার ক্যারিয়ার শূন্য নয় : দিশা

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডে অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পান দিশা পাটনি। যার কারণ শুধু অভিনয় নয়, টাইগার শ্রফের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বেশ আলোচনায় ছিলেন তিনি। অনেকে তো ভেবেছিলেন টাইগার ছাড়া তার ক্যারিয়ার শূন্য। কিন্তু তেমনটা একদমই নয়, জানালেন দিশা।

তিনি বলেন, ‘টাইগারের সঙ্গে আমার ক্যারিয়ারের খুব সুন্দর সময় গেছে। দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও ভালো ছিল। কিন্তু টাইগার ছাড়া আমার ক্যারিয়ার শূন্য নয়। আমার নিজস্বতা সব কাজেই রয়েছে।’

দিশার এই কথার ভিত্তিও রয়েছে। টাইগারের সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আর সেগুলোতেও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন দিশা। নতুন বছরেও নতুন রসায়ন নিয়ে আসছেন তিনি। প্রথমবার আদিত্য রায় কাপুর ও দিশা পাটানি জুটি হিসেবে অভিনয় করেছেন ‘মালাঙ্গ’ সিনেমায়। এরইমধ্যে সিনেমার ট্রেলর রিলিজ পায়। তাদের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি এরইমধ্যে প্রশংসায় ভাসছে। এই সিনেমায় অনিল কাপুরকে পুলিশের চরিত্রে দেখা যাবে। এই থ্রিলার সিনেমায় যেখানে মূল চরিত্রদের খুনি বলে দাবি করা হয়। বলিউডে গুঞ্জন এই নতুন জুটির রসায়ন দেখে নাকি বেশ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন টাইগার শ্রফ। এই সিনেমায় রয়েছে আদিত্য ও দিশার বেশ কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য। তবে টাইগার এই নিয়ে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেননি।

আশিকি ২-এর প্রযোজক ভূষণ ও লাভ রঞ্জন এই ছবির প্রযোজনা করেছেন। এছাড়া এই ছবিটি পরিচালনাও করেছেন আশিকি ২-এর পরিচালক মোহিত। ছবিতে রয়েছে প্রতিশোধের গল্প। জানা যাচ্ছে, ছবিতে রয়েছেন কুণাল খেমু, অনিল কাপুরও। এই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘মালাং’ মুক্তি পেতে চলেছে বলে জানা গেছে।

দেশি শিমের পোকা ব্যবস্থাপনা

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশে শীতকালীন সবজির মধ্যে দেশি শিম অন্যতম জনপ্রিয় একটি সবজি। আমিষসমৃদ্ধ পুষ্টিকর সবজিটির কচি অবস্থা ছাড়াও এর বীজ শুকিয়ে সংরক্ষণ করে খাওয়া যায়। অন্যান্য লতাজাতীয় সবজির মতো এটি মাচায় চাষ করা হয়, তবে বসতবাড়িতে ঘরের চালে বা বেড়ায়, গাছে, জমির আইলে, রাস্তার ধারে, পুকুর পাড়ে লাগানো যায়। দেশি শিম চাষে বেশ কিছু সমস্যা দেখা যায়। এর মধ্যে জাব পোকা, পাতা সুরঙ্গকারী পোকা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে। নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শনের মাধ্যমে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে কাঙ্খিত ফলন পাওয়া সম্ভব হয়। জাব পোকা ঃ চারা বাড়ন্ত গাছ বা গাছে ফল ধরা অবস্থায় জাব পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তবে ফুলের কুঁড়ি, ফুল ও কচি ফলে জাব পোকার আক্রমণে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। শিম গাছে যে জাব পোকা আক্রমণ করে তা খুব ছোট আকৃতির ও দেখতে কালো রংয়ের। বাড়ন্ত লতার কচি ডগা, কচি পাতায়, ফুলের ডগায়, ফুলে ও কচি ফলে আক্রমণ করে। জাব পোকা শিমের অন্যতম ক্ষতিকর পোকা। অপ্রাপ্ত বা প্রাপ্ত বয়স্ক পোকা শিম গাছের বিভিন্ন অংশ থেকে (কচি ডগা, পাতা, কুঁড়ি, ফুল ও কচি ফল) এর রস চুষে খায়। এতে প্রথমত গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। পরে আক্রান্ত ফুল ও ফল নষ্ট হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা ঃ জাব পোকা নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত ফুলের ডগার জাব পোকা হাত দিয়ে পিষে মেরে ফেলতে হয়। গাছের গোড়া এবং শিম মাচার সব খুঁটির গোড়ার চারদিকে ছাই (ধানের তুষের ছাই হলে ভালো) ছিটিয়ে দিলে জাব পোকার শরীর থেকে বের হওয়া মধুরস খাওয়ার জন্য পিঁপড়ার আনাগোনা বন্ধ হয়, এতে নিজের শরীরের মধুরসে পোকার শরীর ঢেকে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে পোকা মরে যায়। এ ছাড়া আক্রান্ত ফুলের ডগায় কেরোসিন মিশ্রিত ছাই (এক কেজি ছাইয়ের সঙ্গে ২-৩ চামচ কেরোসিন) ছিটানো যায়। ১ কেজি অর্ধ ভাঙ্গা নিম বীজ ১০ লিটার পানিতে ১২-১৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে অথবা ১০ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম (২ চা চামচ) গুঁড়ো সাবান গুলিয়ে নিয়ে সকালের দিকে ¯েপ্র করতে হয়। তবে আক্রমণ বেশি হলে ইমিডাক্লোরপিড জাতীয় কীটনাশক (ইমিটাফ/ এম্পায়ার/ এডমায়ার ইত্যাদি) ¯েপ্র করতে হয়। পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকা ঃ চারা বা গাছ ছোট অবস্থায় এ পোকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এ পোকার মথ দেখতে হালকা লালচে বাদামি রংয়ের। সামনের পাখার রং গাঢ় বাদামি। এ পোকা বছরে ৮ বারেরও বেশি বার বংশ বৃদ্ধি করতে পারে। এরা বাড়ন্ত গাছের কচি পাতা আক্রমণ করে থাকে। এ পোকার ডিম থেকে লার্ভা বের হয়েই শিমের নতুন বা কচি পাতার ভেতরে ঢুকে সুড়ঙ্গ তৈরি করে সবুজ অংশ কুরে কুরে খেতে থাকে। এতে করে পাতার উপরের দিকে সবুজ অংশের মাঝে সাদা সাদা আঁকা-বাঁকা দাগ দেখা দেয়। পাতা ধীরে ধীরে লালচে বাদামি রং ধারণ করে, কুঁকড়িয়ে শুকিয়ে যেতে থাকে। শেষে পাতা দুর্বল হয়ে মরে যায় এবং অনেক সময় ঝরে পড়ে। এতে শিমের ফলন কমে যায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা ঃ শিম গাছ বা শিমের মাচা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এ পোকার উপদ্রব কম হয়। এ জন্য রোপণ দূরত্ব ঠিক রাখার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেতে ভালোভাবে আলো-বাতাস প্রবেশ করার ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া শিম গাছের গোড়ার দিকে ৩-৪ পর্ব বা গিঁট পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় শাখাসহ ঝোপালো অংশ ছেঁটে পাতলা করে দিতে হবে। ক্ষেতের আশপাশে লেবু জাতীয় গাছে বা বেগুন/টমেটো/বরবটি ক্ষেতে এ পোকার উপস্থিতি থাকলে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হয়। পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকা নিয়ন্ত্রণে ফেনিট্রথিয়ন ৫০ ইসি (সুমিথিয়ন বা লিথিয়ন) অথবা ফেনথিয়ন ৫০ ইসির (লেবাসিড বা ড্রাগন) যে কোনো একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে সম্পূর্ণ গাছে ভালোভাবে ¯েপ্র করতে হয়। আক্রমণ কম হলে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার ফেনিট্রথিয়ন ৫০ ইসি (সুমিথিয়ন বা লিথিয়ন) বা ডায়াজিনন ৬০ ইসি মিশিয়ে পাতার উপর ও নিচে ¯েপ্র করতে হয়। ফল ছিদ্রকারী পোকা ঃ গাছের ফল ধরা অবস্থায় এ পোকার আক্রমণে শিম বা ফল খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। শিম বাজারজাত করতে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়। ফল ছিদ্রকারী পোকার কীড়ার মাথা গাঢ় বাদামি থেকে কালো রংয়ের হয়ে থাকে। দেহ হলদেটে সাদা ও নরম এবং পিঠের দিকে মধ্য রেখা বরাবর লম্বালম্বি লালচে ফোটা দেখা যায়। মাথার অংশ শক্ত। পূর্ণ বয়স্ক পোকা দেখতে কালচে ছাই রংয়ের। নীলচে রংয়ের পাখা দেখতে সাদা তুলার মতো। শিমের ফলছিদ্রকারী পোকা শিমের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা। স্ত্রী পোকা ফুলের কুঁড়ি, কচি ফল বা শুঁটি এবং কচি ডগায় ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বের হয়ে কীট ফলন্ত গাছের এসব অংশে আক্রমণ করে থাকে। বিশেষ করে ফুলের কুঁড়ি ও কচি ফল ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকে বীজ ও শাঁস খায় ও মল ত্যাগ করে শিমের শুঁটিটি খাওয়ার অনুপযোগী করে ফেলে। আক্রান্ত ফল অনেক সময় কুঁকড়ে যায় ও অসময়ে ঝরে পড়ে। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে শিমের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা ঃ আক্রান্ত কুঁড়ি, ফুল বা শুঁটি সংগ্রহ করে কম পক্ষে ১ ফুট গভীর গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হয়। ক্ষেত সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখতে হয়। কীটনাশকমুক্ত শিম চাষাবাদে এমএনপিভি (নিউক্লিয়ার পলিহেড্রিসিস ভাইরাস) প্রয়োগ করে এ পোকার আক্রমণ কমানো সম্ভব এবং প্রতি সপ্তাহে একবার করে ডিম নষ্টকারী পরজীবী পোকা ট্রাইকোগ্রামা কাইলোনিজ (হেক্টর প্রতি এক গ্রাম পরজীবী পোকা আক্রান্ত ডিম, যেখান থেকে ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার পূর্ণাঙ্গ ট্রাইকোগ্রামা বের হয়ে আসে) ও কীট নষ্টকারী পরজীবী পোকা ব্রাকন (হেক্টর প্রতি এক বাংকার বা ৮০০-১২০০টি হিসেবে) পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করতে হয়। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে কীটনাশক প্রয়োগের আগে খাওয়ার উপযোগী শিম সংগ্রহ করতে হয়। শিমের ফল ছিদ্রকারী পোকা নিয়ন্ত্রণে ডাইমেথোয়েট জাতীয় (স্টার্টার/টাফগর/ডায়মেথিয়ন/সেলাথয়েট/ বিস্টারথয়েট/ ডেলথয়েট ইত্যাদি) অন্তর্বাহী বিষক্রিয়াসম্পন্ন কীটনাশক বা কার্বারিল জাতীয় (সেভিন) কীটনাশক ¯েপ্র করতে হয়। দু’সপ্তাহ পর পর ২-৩ বার ¯েপ্র করতে হয়। ¯েপ্র করার পর ১৫ দিন পর্যন্ত কোনো শিম সংগ্রহ করা উচিত নয়।
লেখক ঃ কৃষিবিদ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম

জেএনইউ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালেন দীপিকা

বিনোদন বাজার ॥ দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হামলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় সরব গোটা বলিউড। অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর থেকে শুরু করে দিয়া মির্জা, তাপসী পান্নু, ট্যুইঙ্কেল খান্না, জেনিলিয়া ডিস্যুজার মতো নামি-দামী বলিউড তারকারা গর্জে উঠেছেন। প্রতিবাদের সুরে ভেসেছেন অনুরাগ কাশ্যপ, জয়া আখতার, অনুভব সিনহা, বিশাল ভরদ্বাজের মতো বলিউডের পরিচালকেরা। এবার সেই তালিকাতেই নাম লিখিয়েছেন বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। ছাত্রদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন দীপিকা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটায় নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে যান দীপিকা। সেখানে এক সভায় যোগ দেন বলিউড সুন্দরী। তবে সভায় দীপিকা কোন বক্তব্য রাখেননি। সমাবেশ চলাকালে তাকে ছাত্রদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আয়েশ ঘোষ। সমাবেশ শেষে দীপিকা ছাত্র ইউনিয়নের কয়েক জন নেতার সঙ্গে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

সেই ছবি ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। তার পক্ষে-বিপক্ষে নানা কথা উঠেছে। ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতা তাজিন্দর পাল সিং বগ্গা লিখেছেন, ‘দীপিকা পাড়ুকোনের সিনেমা বয়কট করুন …’। অন্যদিকে অনেকেই টুইট করে দীপিকার প্রশংসা করেছেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুখে কাপড় বাঁধা এক দল যুবক ঢুকে তা-ব চালায়। সবরমতি ছাত্রাবাসে ঢুকে লোহার রড, বাঁশ, লাঠি দিয়ে মারধর করে শিক্ষার্থীদের। তাছাড়া শিক্ষকদের উপরও হামলা চালায় তারা। এতে আহত হন অন্তত ৩৪ জন।

পরিণীতি আউট, নোরা ফাতেহি ইন

বিনোদন বাজার ॥ কয়েকদিন আগেই ঘোষণা এসেছিল অজয় দেবগণ অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ভূজ: দ্য প্রাইড অব ইন্ডিয়া’-এ অভিনয় করবেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। কিন্তু ছবিটির শুটিং শুরুর আগ মুহূর্তে এসে ছবি থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি। আর তার পরিবর্তেই এবার ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হলেন নোরা ফাতেহি।

ভারতীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, বর্তমানে একাধিক সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত পরিণীতি। ফলে ‘ভূজ: দ্য প্রাইড অব ইন্ডিয়া’ সিনেমার জন্য শিডিউল মেলাতে পারছেন না তিনি। এজন্যই মূলত এই সিনেমা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী।

আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে শুটিং শুরু হবে ‘ভূজ: দ্য প্রাইড অব ইন্ডিয়া’র। ছবিটিতে একজন দেশপ্রেমিক বিমান সেনার চরিত্রে দেখা যাবে অজয়কে। এছাড়াও ছবিটিতে আরো অভিনয় করবেন সঞ্জয় দত্ত, সোনাক্ষী সিনহা সহ আরো অনেকেই।

মুখ খুললেন আলিয়া

বিনোদন বাজার ॥ বর্তমানে এনআরসি, সিএএ, এনপিআর, জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে উত্তাল ভারত। প্রথম সারির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এসব বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট।

প্রতিবাদ জানাতে তিনি রাজপথে না নামলেও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে জেএনইউ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। স্টোরিতে তিনি লিখেছেন যখন ছাত্র-শিক্ষক, শান্তিপূর্ণ মানুষজন প্রতিদিনই শারীরিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে তখন সবকিছু ঠিক আছে ভান করাটা বন্ধ করুন। আমাদের চোখ দিয়ে অবশ্যই সত্যটা দেখা উচিত যে নিজের ঘরেই আমরা যুদ্ধরত আছি। ভিন্ন আদর্শের হলেও আমরা প্রত্যেকেই এ দেশের মানুষ, আমাদের বর্তমান জটিল অবস্থার একটা মানবিক সমাধান বের করতে হবে এবং ভিন্ন আদর্শের মধ্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে হবে যে আদর্শ-নীতিতে আমাদের দেশের নির্মাণ হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি তা-বের প্রতিবাদে সবাই পথে না নামলেও পথে নেমেছিলেন বলিউড তারকাদের কেউ কেউ। তালিকায় রয়েছেন অনুরাগ কাশ্যপ, রিচা চাড্ডা, তাপসী পান্নু, বিশাল ভরদ্বাজ, অনুভব সিনহারা। রয়েছেন অঙ্কর পাঠক, জোয়া আখতার, দিয়া মীর্জা, রাহুল বোসরাও।

নায়িকা শাবানা কেন অভিনয় ছাড়লেন, জানালেন স্বামী সাদিক

বিনোদন বাজার ॥ ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়কার দাপুটে অভিনেত্রী ছিলেন শাবানা। তিন দশকের ক্যারিয়ারে প্রায় তিনশ’র মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয় দিয়ে তিনি জয় করেছেন কোটি ভক্তের হৃদয়। অভিনয় ছেড়ে শাবানা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অবসর জীবন’ কাটাচ্ছেন।

নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে অভিনয় জগতকে টা টা বলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বামী-সন্তান নিয়ে থিতু হন শাবানা। কিংবদন্তি এই নায়িকা অভিনয় ছেড়ে দেয়ার পর ঢাকার চলচ্চিত্র জগতের এমন ‘দুরবস্থা’ হবে তা কল্পনাও করতে পারেননি তার স্বামী প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক।

এমনটি জানিয়ে ওয়াহিদ সাদিক গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এখনও শাবানাকে হারানোর ‘ক্ষত’ সেরে উঠতে পারেননি।

পারিবারিক কাজে সপ্তাহ খানেক আগে ঢাকায় এসেছেন শাবানা ও ওয়াহিদ সাদিক। সপ্তাহ দুয়েক পর তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন।

এই ফাঁকেই ঢাকার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক। শাবানা কেন অভিনয় ছেড়েছেন তা নিয়েও কথা বলেছেন তার স্বামী।

বলেন, শৈশব থেকে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শাবানা। নিজেকে দেয়ার মত সময় পাননি। তাই অভিনয় ছেড়ে এখন নিজের মত করে সময় কাটাচ্ছেন শাবানা।

শাবানা শুন্যতা পূরণ হবে না ভাবেননি স্বামী সাদিক। বলেন, শাবানা অভিনয় ছেড়ে দেয়ার পর ঢাকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এই দুরবস্থা হবে কল্পনাও করিনি। শাবানা অভিনয় থেকে তো অবসর নিতেই পারেন তাই বলে আরেকজন সিনেমা করবে না? সিনেমায় এমনটা হচ্ছে বলেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না বলেও মনে করেন তিনি। শাবানা ও প্রযোজন ওয়াহিদ সাদিকের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে ফারহানা সাদিক এমবিএ, সিপিএ করেছেন। ছোট মেয়ে সাবরিনা সাদিক ইয়েল ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে শিকাগোর হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন। একমাত্র ছেলে শাহীন সাদিক নিউজার্সির রাদগার্স ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় এক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।

উল্লেখ্য, ষাটের দশকের শুরুতে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে হাতেখড়ি আফরোজা সুলতানা রতœার; ১৯৬৭ সালে নাদিমের বিপরীতে ‘চকোরী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় চিত্রপরিচালক এহতেশাম তার নাম দেন ‘শাবানা’। এরপর ‘ভাত দে’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘রাঙা ভাবী’, ‘মাটির ঘরসহ অসংখ্য দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্র উপহার দেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই গুণী শিল্পী।

ইউনাইটেডের মাঠে জিতে ফাইনালের পথে সিটি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে খুব একটা লড়াইও করতে পারল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দলটিকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে লিগ কাপের ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মঙ্গলবার রাতে সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে ৩-১ গোলে জিতেছে পেপ গুয়ার্দিওলার দল। সিটির পক্ষে একটি করে গোল করেন বের্নার্দো সিলভা ও রিয়াদ মাহরেজ। অন্যটি আত্মঘাতী। স্বাগতিকদের একমাত্র গোলদাতা মার্কাস র‌্যাশফোর্ড। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটে বল দখলের লড়াইয়ে যা একটু সমতা ছিল, এরপরই পাল্টে যায় চিত্র। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সিটি। সপ্তদশ মিনিটে সিলভার নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় শিরোপাধারীরা। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে একজনকে কাটিয়ে ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে ঠিকানা খুঁজে নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। ৩৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলের উৎসও সিলভা। পাল্টা আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে তার রক্ষণচেরা থ্রু পাস ডি-বক্সে পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে ঠেলে দেন আলজেরিয়ার মিডফিল্ডার মাহরেজ। পাঁচ মিনিট পর আরেকটি প্রতি-আক্রমণে ব্যবধান আরও বাড়ে। কেভিন ডে ব্রুইনের শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক দাভিদ দে হেয়া; কিন্তু ফিরতি বল তাদের মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়াস পেরেইরার পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ৭০তম মিনিটে গ্রিনউডের পাস পেয়ে কোনাকুনি শটে ব্যবধান কমান ইংলিশ ফরোয়ার্ড র‌্যাশফোর্ড। কিছুটা হলেও জেগে ওঠে তাদের ম্যাচে ফেরার আশা। বাকি সময়ে যদিও আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।  আগামী ২৯ জানুয়ারি সিটির ইতিহাদ স্টেডিয়ামে হবে ফিরতি লেগ। আরেক সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি অ্যাস্টন ভিলা ও লেস্টার সিটি।

 

আফ্রিকার বর্ষসেরা লিভারপুলের মানে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আফ্রিকা মহাদেশের বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন সেনেগালের ফরোয়ার্ড সাদিও মানে। মিশরে মঙ্গলবার কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লিভারপুলের এই তারকার হাতে ২০১৯ সালের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সেরা হওয়ার পথে তিন জনের তালিকায় থাকা ক্লাব সতীর্থ মোহামেদ সালাহ ও ম্যানচেস্টার সিটির আলজেরিয়ান উইঙ্গার রিয়াদ মাহরেজকে পেছনে ফেলেন মানে। গত মৌসুমে লিভারপুলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে বড় অবদান ছিল ২৭ বছর বয়সী মানের। সব প্রতিযোগিতা মিলে করেন ৩০ গোল। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলে করেছেন ১৫ গোল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দুরন্ত গতিতে ছুটছে লিভারপুলও। পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা লেস্টার সিটির চেয়ে ১৩ পয়েন্ট এগিয়ে আছে মানের দল। সেনেগালের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন মানে। এর আগে ২০০১ সালে দেশটির এল হাজি দিউফ আফ্রিকার সেরা হয়েছিলেন। গত দুই বছরও সেরার লড়াইয়ে সেরা তিনে ছিলেন মানে। দুবারই পুরস্কারটি জেতেন সালাহ।

যে কারণে ৩ খানকে এক ছবিতে কখনই দেখা যাবে না

বিনোদন বাজার ॥ অনেক দিন থেকেই শোনা যাচ্ছিন বলিউডের জনপ্রিয় তিন নায়ক সালমান, শাহরুখ ও আমির খানকে এক ছবিতে দেখা যাবে। তবে সেই সম্ভাবনা একেবারেই নেই।

সালমন-শাহরুখকে এক সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে শেষ দেখা গিয়েছিল ২০০২ সালে। তবে শাহরুখ আর আমিরকে একফ্রেমে দেখা যায়নি কখনো। এটিকে নিন্দুকেরা ‘ইগোর লড়াই’ বলে আখ্যা দেন।

তবে সমালোচকরা যে যাই বলুক না কেন তিন খানকে কখনই এক ছবিতে দেখা যাবে না। এর কারণ জানালেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। সম্প্রতি ভারতের এক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সালমান বলেন, আমি শাহরুখ এবং আমির যদি একসঙ্গে ছবিতে কাজ করি তাহলে সেই ছবির যা বাজেট হবে তা কোনো প্রযোজক সংস্থার পক্ষে বহন করা সম্ভব না।

ছবি মুক্তির জন্য কমপক্ষে ২০০০০ হাজার প্রেক্ষাগৃহের দরকার। এত প্রেক্ষাগৃহই বা কোথায়? একে ‘বিগ বাজেট’ তার উপর ‘বিগ নেমস’ সব মিলিয়ে সালমানের মতে আপাতত তিনখানকে নিয়ে ছবি করা সম্ভব না।

কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছেন সালমানের দাবং সিরিজের তৃতীয় পর্ব। একে ‘দবং’ তার উপর সালমান! হিট যে হবেই তা ধরে নিয়েছিল সবাই। কিন্তু সেখানেও সালমানকে ক্লিন বোল্ড করে ট্রফি নিয়ে চলে গেলেন অক্ষয় কুমার। তার নতুন ছবি ‘গুড নিউজ’। আমির খানও তার পরের ছবি ‘লাল সিং চাড্ডা’ নিয়ে আজ কলকাতা, কাল দিল্লি পরশু মুম্বই করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু শাহরুখ খানের হাতে এই মুহূর্তে কোনও ছবি নেই।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

নিলামে ওয়ানেূর ব্যাগি গ্রিন ছাড়িয়ে গেছে ৫ লাখ ডলার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অস্ট্রেলিয়ায় বিধ্বংসী দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের তার ‘ব্যাগি গ্রিন’ ক্যাপটি নিলামের তোলার সিদ্ধান্ত ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এরই মধ্যে এটির দাম পাঁচ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ছাড়িয়ে গেছে। নিলামের সময় এখনও দুদিন বাকি আছে। তাই এটির মূল্য আরও উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার কোনো টেস্ট ক্রিকেটারের ব্যাগি গ্রিন ক্যাপের জন্য এর আগে কখনোই এত বেশি দাম ওঠেনি। এতদিন পর্যন্ত নিলামে সর্বোচ্চ মূল্য উঠেছিল কিংবদন্তি ক্রিকেটার ডন ব্র্যাডম্যানের ক্যাপের, চার লাখ ২৫ হাজার ডলার। ৫০ বছর বয়সী ওয়ার্ন অস্ট্রেলিয়ার সফলতম টেস্ট বোলার। ক্যারিয়ারে মোট ৭০৮টি উইকেট পাওয়া বিশ্বকাপজয়ী এই তারকাকে ক্রিকেটের ইতিহাসের সেরা লেগ স্পিনার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার আরেক কিংবদন্তি বোলার জেফ টমসনও একই উদ্দেশে তার ব্যাগি গ্রিন ক্যাপটি নিলামে তুলেছেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ক্যারিয়ারে ৫১ টেস্টে ২০০ উইকেট নেওয়া ৬৯ বছর বয়সী এই সাবেক পেসারকে একসময় ক্রিকেটের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া কয়েকটি দাবানলে এ পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। বহু লোক নিখোঁজ রয়েছে ও প্রায় দেড় হাজার বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

কুমিল্লাকে নিরাশ করে প্লে-অফের পথে খুলনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ব্যাট হাতে কাজটা করে রেখেছিলেন শান্ত, মিরাজ, রুশো। বোলিংয়ে বাকিটুকু সারলেন ফ্রাইলিংক। তাতে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে ৩৪ রানে হারাল খুলনা টাইগার্স। দুর্দান্ত এ জয়ে প্লে-অফের পথে এগিয়ে গেল তারা। এ নিয়ে ১০ ম্যাচে ৬ জয় পেল দক্ষিণের দলটি। হাতে রয়েছে আর ২ ম্যাচ। এর মধ্যে ১টিতে জিততে পারলেই শেষ চারের টিকিট পাবে মুশফিক বাহিনী। এতে নিরাশ হতে হলো কুমিল্লাকে। সরাসরি প্লে-অফে যাওয়ার জন্য এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না তাদের। সেখানে স্বপ্ন জাগিয়েও হেরে বসল তারা। ১১ ম্যাচে দলটির জয় মাত্র ৫টিতে। বাকি ১ ম্যাচে জিতলেও শেষ চারে মালান ব্রিগেডের খেলা যদি, কিন্তুর ওপর ঝুলে থাকল। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার কিছুক্ষণ পরই হোঁচট খায় কুমিল্লা। ফ্রাইলিংকের বলে সাজঘরে ফেরেন ভ্যান জেল। ওয়ানডাউনে নেমে শফিউলের বলে চটজলদি ফেরেন ইনফর্ম মালান। পরে সৌম্যকে নিয়ে খেলা ধরেন এদিন ওপেনিংয়ে নামা সাব্বির। ভালো সমর্থন পান তিনি। তাতে শুরুর দিকের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে দলটি। একপর্যায়ে জমে ওঠে সাব্বির-সৌম্য জুটি। দুজনই স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটাতে থাকেন। তাতে হু হু করে বাড়ে দলীয় রান। জয়ের স্বপ্নও দেখতে শুরু করে তারা। কিন্তু আচমকা স্তব্ধ হয়ে যান সৌম্য। ফ্রাইলিংকের বলে বিদায় নেন তিনি। তবে থেকে যান সাব্বির। রানের ফোয়ারা ছোটাতেই থাকেন দীর্ঘদিন রানখরায় ভোগা এ ব্যাটার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ইয়াসির আলি। দারুণ খেলছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ বিপথগামী হন দুর্দান্ত খেলতে থাকা সাব্বির। আমিরের বলে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন তিনি। ফেরার আগে ৩৯ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। মূলত সাব্বিরের বিদায়ে কুমিল্লার জয়ের স্বপ্ন ভেস্তে যায়। সেই রেশ না কাটতেই শহিদুলের বলির পাঁঠা হন ইয়াসির। খানিক বাদেই একই বোলারের বলে ফিনিশ হন আবু হায়দার। তার বালির বাঁধের মতো উড়ে যায় কুমিল্লা। একে একে ফেরেন উইজ, সানজামুল ও আল-আমিন। এর মধ্যে প্রথম দুজনকে তুলে নেন ফ্রাইলিংক। আর শেষেরজনকে কাটেন আমির। শেষ পর্যন্ত ১৮.২ ওভারে ১৪৫ রানে প্যাকেট হয় দলটি। বোলিংয়ে খুলনার এ জয়ের নেপথ্য নায়ক ফ্রাইলিংক। তিনি একাই শিকার করেন ৫ উইকেট। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৬ রান খরচ করেন তিনি। এটি এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার।স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতে। এর আগে বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে খুলনা। সাবধানী শুরু করেন দুই ওপেনার মিরাজ ও শান্ত। সূচনা থেকে মাঝপথ পর্যন্ত ধীরলয়ে পথ হাঁটেন তারা। মারার বল মারেন আর ধরারটি ধরেন। যদিও একটু আক্রমণাত্মক হতেই ভাঙে এ জুটি। দলীয় ৭১ রানে সৌম্য সরকারের বলে ফেরেন শান্ত। ফেরার আগে ২৯ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন তিনি। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি মিরাজ। খানিক বাদে ডেভিড উইজের শিকার হয়ে ৩৯ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৩৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে ফেরত আসেন তিনি। ততক্ষণে বড় স্কোরের ভিত পেয়ে যায় খুলনা। ২ উইকেট হারিয়েই ৯৪ রান তুলে ফেলে তারা। পরে সেটা বাড়াতে থাকেন রুশো ও মুশফিক। তবে বেশি চড়াও ছিলেন রুশো। ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে কুমিল্লা বোলারদের কচুকাটা করেন তিনি। মাত্র ২৬ বলে ফিফটি তুলে নেন এ প্রোটিয়া। পরেও তার তাণ্ডব চলতে থাকে। সুযোগ পেলে ত্রাস ছড়ান মুশফিক। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৭৯ রান করে খুলনা। মাত্র ৩৬ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭১ রানের হার না মানা বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রুশো। আর ১৭ বলে ২ চারে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন মুশফিক।