ধর্ষক গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে – আইজিপি

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণে যে বা যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী জানিয়েছেন। এখন পুলিশের অগ্রাধিকারের তালিকায় এই বিষয়টি এক নম্বরে আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করে জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, পুলিশের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ‘আন্তরিকভাবে’ চেষ্টা করছে, অপরাধী গ্রেপ্তার হবে বলে তিনি আশাবাদী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী শেওড়ায় বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে রোববার সন্ধ্যায় কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কে নেমে ধর্ষিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নামার পরপরই তিনি আক্রান্ত হন। মুখ চেপে ধরে তাকে তুলে সড়কের পাশে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ওই দিন গভীর রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। মেয়েটির দেওয়া বর্ণনা থেকে পুলিশ ধারণা পেয়েছে, ধর্ষণকারী একজনই, তার বয়স ২৫-৩০ বছরের মতো। মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বিগত বছরে প্রশংসনীয় কাজের জন্য পুলিশ সদস্যদের ‘আইজিপি ব্যাজ’ দেওয়ার পর সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন পুলিশ প্রধান। তিনি বলেন, “যে ঘটনাটি ঘটেছে এটি মর্মান্তিক ও অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনাটি শোনার পর থেকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি, আমাদের ‘প্রায়োরিটির’ মধ্যে এটি এক নম্বর ‘প্রায়োরিটি’ হিসেবে গণ্য করছি। “যাতে যে বা যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, সে সকল দুষ্কৃতিকারীকে আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।” অতীতে যেভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে সেভাবে এই ঘটনার কিনারা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নলেজে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার জন্য সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। “সব টিম একযোগে কাজ করছি এবং আমরা খুবই আশাবাদী যে অন্যান্য ঘটনা অতীতে যা ঘটেছে এবং প্রত্যেকটি ঘটনা উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি এবং এক্ষেত্রে সক্ষম হব।” সহপাঠী ধর্ষিত হওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার তাদের এক কর্মসূচি থেকে ধর্ষককে ধরতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, “তদন্ত করার জন্য সময় লাগে, একেকটি তদন্ত একেক সময় লাগে। কোনোটা তদন্ত করতে কয়েক মিনিট সময় লাগে, কোনোটা তদন্ত করতে এক ঘণ্টা সময় লাগে, কোনো ঘটনা একদিন সময় লাগে। “তদন্ত তার নিজস্ব যে প্রক্রিয়া আছে, সে প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। সুতরাং দিন- ঘণ্টা সময় ধরে তদন্ত হয় না। আমরা শুধু এটুকু বলতে চাই, সবাই মিলে চেষ্টা করছি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি উদঘাটিত হবে।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই ছাত্রীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এ ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যখন নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন, সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে তখন এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক।” মন্ত্রণালয় বলছে, নির্যাতিত ছাত্রী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন আছে। “তার নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা এ মন্ত্রণালয় হতে দেওয়া হচ্ছে।”

৮ হাজার ৮৫০ কোটি ব্যয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ সমগ্র দেশের গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ছয় লাখ গভীর ও অগভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৮ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ নামে একটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আগামী ৫ বছরে দেশের পল্লী এলাকায় নলকূপ বসানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পসহ মোট ৭টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত ব্রিফ করেন। তিনি জানান,৭ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ১১ হাজার ৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর পুরোটাই বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে গ্রামীণ এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপদ পানির উৎস স্থাপনের লক্ষে ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর জানুয়ারি ২০২০ হতে জুন,২০২৫ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি জানান। প্রকল্পের আওতায় ৯০ হাজার ৬৩৬টি অগভীর নলকূপ, ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৭টি গভীর নলকূপ,২ লাখ ৬ হাজার ৬৬৪টি সাবমার্সিবল পাম্প, জলাধারসহ গভীর সাবমার্সিবল পাম্প ১ লাখ ৭০ হাজার ২২২টি, রিংওয়েল ৩ হাজার ৩৭৯টি, রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ইউনিট ৩ হাজার ২১০টি, রুরাল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম ৪৯১টি, সোলার পিএসএফ ৩২০টি,আর্সেনিক আয়রণ রিমোভাল প্ল্যান্ট (ভ্যাসেল টাইপ) ২৯ হাজার ৫৭০টি এবং কমিউনিটি ভিত্তিক পানি সরবরাহ ইউনিট ৮ হাজার ৮৩৮টি বসানো হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সমগ্র দেশের গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে পরিকল্পনামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৫৬ হাজার ৭১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে,যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তখন মোট খরচের পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। মান্নান বলেন, সরকার এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে চিন্তিত নয়, কারণ গত অর্থবছরে তুলনায় এ বছর বেশি টাকার এডিপি আমরা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের যেকোন সেতুর গোড়া বা এর আশাপাশ থেকে বালু তোলা বন্ধে সড়ক ও জনপদ অধিদফতর এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, যেসব পুরনো জরাজীর্ন বেইলি ব্রীজ অপসরান করা হবে, সেগুলো ফেলে না রেখে নিলামে বিক্রি করে দিতে হবে। একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো- সিংড়া-গুরুদাসপুর-চাটমোহর সড়কের সিংড়া অংশে বাঁধ উচুকরণ, পেভমেন্ট নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প, এতে খরচ হবে ১৩৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। পুঠিয়া-বাগমারা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ হবে ১৩০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গন থেকে বীর শ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু রক্ষায় নদীতীরে স্থায়ী রক্ষাবাঁধ কাজ। এই প্রকল্পে খরচ হবে ২৮৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি সেতু এবং আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন (ঢাকা জোন) প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৯০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বরিশাল স্থাপন’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় হবে ৪১২ কোটি টাকা এবং নরসিংদী বিসিক শিল্প নগরী সম্প্রসারণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। একনেক সভায় মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, এসডিজির মুখ্য সমন্বয়কসহ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় সরকার সব রকম উদ্যোগ নিয়েছে

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন- যারা অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা তাদেরকে সব রকম সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়ি তৈরী করে দেবার সিদ্ধান্তও হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের যত স্মৃতিস্থান আছে সবগুলি আমরা সংরক্ষন করব। দেশরতœ শেখ হাসিনা বলেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্থান সংরক্ষনে সবকিছু করা হবে। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের যেসব দাবী দাওয়া রয়েছে তা পর্যায়ক্রমে পুরণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহম্মেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রজত জয়ন্তী উদযাপন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

রণাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ’র সাবেক প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফর, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির মৃধা, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক ও চ্যানেল আই প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করলেও মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা জাতির বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা দিয়েছেন। তাদের পুনর্বাসনে সব রকম সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। যা বিগত কোন সরকার করেনি। তাই এদেশের আপামর জনতা শেখ হাসিনাকে বার বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বসিয়েছেন। অথচ আগের সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান তো দুরের কথা, যুদ্ধাপরাধীদের সম্মান দেখিয়েছে।

মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রসঙ্গে বলেন মুক্তিযোদ্ধাদের  ভাতা এখন আর কোন দপ্তর থেকে নিতে হবে না। ব্যাংক থেকে সরাসরি যার যার একাউন্টে পৌছে যাবে। মুক্তিযোদ্ধারা বছরে দুইটি বোনাস পাবে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে। একই সাথে আগামি ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের  হাতে সকলের পরিচয়পত্র পৌছে দিতে চান মন্ত্রী।

বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ বলেন- মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন মন্ত্রী। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। কিভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কল্যাণে কাজ করা যায় তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এসময় আব্দুর রউফ মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বলেন  বংশীতলা, দুর্বাচারাসহ মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিবিজড়িত এলাকায় পরিদর্শন করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের ধন্য করেছেন। একই সাথে বাঁশগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘর পরিদর্শন এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণে সরকারের উদ্যোগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আব্দুর রউফ।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক যশোর থেকে সড়ক পথে বংশীতলায় পৌছান। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সাংসদ আব্দুর রউফ, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন জাফর, জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এসময় বংশীতলা যুদ্ধের সেই বীরত্বগাঁথা ইতিহাস সম্পর্কে অবগত হন মন্ত্রী। পরে দুর্বাচারা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সমাধীতে যান এবং শাহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর পুর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহম্মেদ ডিগ্রী কলেজের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। এসময় প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী তাঁকে উষ্ণঅভ্যর্থনা জানায়।

ঢাকায় আসছেন অঞ্জন দত্ত

বিনোদন বাজার ॥ গত জুলাইয়ে ‘সেলসম্যানের সংসার’ মঞ্চ নাটক নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন কলকাতার গায়ক অঞ্জন দত্ত। এবার তিনি ঢাকায় আসছেন তার গান নিয়ে। আগামী ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে মুজিববর্ষ ও ৩১তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের চাকরিতে প্রবেশের ৭ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন এই শিল্পী।

বেলা বোস, রঞ্জনা, ম্যারিয়েন, শুনতে কি পাও, মালা, কাঞ্চনজংঘা এমন অসংখ্য গানের গ্রষ্টা অঞ্জন দত্ত। গানের পাশাপাশি ১৯৯৮ সালে প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসেন তিনি। এছাড়া অভিনয়ও করেছেন বেশকিছু চলচ্চিত্রে।

সাইকোপ্যাথ চরিত্রে অভিনয় করার খুব ইচ্ছে : সুনেরাহ

বিনোদন বাজার ॥ নতুন বছরের আগমন ঘটেছে ৭ দিন হলো। পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে গ্রহণ করেই সবাই নতুন উদ্যমে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে। শোবিজ তারকারাও এর বাইরে নয়। নতুন সিনেমা, নাটক, বিজ্ঞাপন, শর্টফিল্ম নিয়ে তারকা অভিনেতা থেকে শুরু করে নবাগত সকলেই ব্যস্ত। কিন্তু ন ডরাইয়ের সুনেরাহ বিন্তে কামাল নতুন বছরে কোনো নতুন সিনেমার কাজে ব্যস্ত হন নি।

সম্প্রতি তিনি নতুন বছরের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, আপাতত কোনো নতুন কাজে যুক্ত হই নি। কয়েকটি সিনেমার কথা চলছে। সব কিছু মিলিয়ে গল্প, চরিত্র ভালো লাগলে হয়ত সেগুলোতে কাজ করব।

সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘ন ডরাই’ ইতোমধ্যে সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে আঁচড় কেটেছে। সিনেমায় সুনেরাহ বিনতে কামালের অভিনয়ও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তানিম রহমান অংশু পরিচালিত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম সার্ফিং সিনেমা ‘ন ডরাই’। কক্সবাজারের মেয়ে নাসিমার সার্ফিং জীবনের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয় সিনেমাটি। এতে নাসিমা চরিত্রটি আয়েশা হয়ে ফুটিয়ে তোলেন সুনেরাহ।

কী ধরণের চরিত্রে অভিনয় করতে চান সুনেরাহ? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাইকোপ্যাথ চরিত্রে অভিনয় করার খুব ইচ্ছে। জানি না বাংলাদেশে এমন গল্প নিয়ে কাজ করা হবে কিনা! যদি হয় এবং আমাকে তার জন্য ডাকা হয় তাহলে আমি সে চরিত্রে অভিনয় করব।

কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বিলুপ্তি প্রায় শিং মাছ রক্ষা পদ্ধতি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ এক সময় আমাদের খাল-বিল-হাওর-বাঁওড়ে প্রচুর শিং মাছ পাওয়া যেত। বিভিন্ন কারণে প্রাকৃতিক এই সব অভয়াশ্রম নষ্ট ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে এখন আর শিং মাছ তেমন একটা পাওয়া যায় না। সে সব দিনে শিং মাছ পুকুরে চাষ হত না। যে কারণে বছর কয়েক আগে শিং মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল। আশার কথা হল এই যে, আমাদের দেশের মৎস্য খামারিরা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করে শিং মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। পুকুর নির্বাচন ঃ শিং মাছ চাষের জন্য পুকুর নির্বাচনের সময় কয়েকটা দিক লক্ষ্য রাখতে হবে- ১. পুকুর অবশ্যই বন্যামুক্ত হতে হবে। ২. পুকুরের পাড় মজবুত হতে হবে। কোন প্রকার ছিদ্র থাকলে সমস্ত- শিং মাছ চলে যাবে। ৩. বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় পানির উচ্চতা ৪ ফুটের বেশি হবে না এই জাতীয় পুকুর নির্বাচন করতে হবে। ৪. চাষের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, শিং মাছের পুকুর আয়তাকার হলে ভাল ফল পাওয়া যায়। বর্গাকার একটি পুকুরের চেয়ে আয়তাকার পুকুরে একই হারে খাদ্য ও ব্যবস্থাপনায় কমপক্ষে ১০ ভাগ বেশি উৎপাদন হয়। ৫. পুকুরের আয়তন ৪০/৫০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে এবং পুকুরের এক প্রান্ত- অন্য প্রান্তের চেয়ে ১ ফুট ঢালু রাখতে হবে যাতে মাছ ধরার সুবিধাসহ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা যায়।
পুকুর প্রস্তুত ঃ নতুন ও পুরাতন উভয় ধরনের পুকুরে শিং মাছ চাষ করা যায়। তবে নতুন পুকুরের চেয়ে পুরাতন পুকুরে শিং মাছ চাষ ভাল হয়। নতুন পুকুরে শিং মাছ চাষ করলে পুকুর ভালভাবে চাষ দিয়ে প্রতি শতাংশে কমপক্ষে ২০ কেজি গোবর ও ভালভাবে মই দিয়ে তারপর চুন দিতে হবে। তাতে মাটির উর্বরতা বাড়বে। শিং মাছের পুুকুর উর্বর না থাকলে অনেক সময় শিং মাছ মজুতের পর পোনা আঁকাবাঁকা হয়ে যায়। পুরাতন পুকুরে শিং মাছ চাষের জন্য প্রথমেই সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। পুকুরের তলায় বেশি কাদা থাকলে উপরের স্তরের কিছু কাদা উঠিয়ে ফেলতে হবে। এরপর চুন দিতে হবে শতাংশ প্রতি ১ কেজি। তারপর পুকুরের চারদিকে জাল দিয়ে ভালভাবে ঘের দিতে হবে। এতে কোন সাপ বা ব্যাঙ পুকুরে ঢুকতে পারবে না। ব্যাঙ বেশি ক্ষতিকর না হলেও সাপ শিং মাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর। শিং পোনার চলার ধীর গতির কারণে সাপ অনেক পোনা খেয়ে ফেলতে পারে। চারপাশে জাল দেয়ার পর পুকুরে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে ২ থেকে ৩ ফুট পরিষ্কার পানি দিতে হবে। পানি দেয়ার ২/৩ দিনের মধ্যে পোনা ছাড়তে হবে। পোনা ছাড়ার পর এক ইঞ্চি ফাঁসের একটি জাল পেতে রাখতে হবে তাতে পুকুরের ভেতর কোন সাপ থাকলে ওই জালে আটকা পড়বে। পোনা মজুদ ঃ পুকুর প্রস্তুতের পর গুণগতমানের পোনা উৎপাদনকারী হ্যাচারি থেকে প্রায় ২ ইঞ্চি সাইজের পোনা মজুদ করতে হবে। আজকাল পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণে অনেক হ্যাচারিই শিং মাছের পোনা উৎপাদন করে। কিন্তু পোনাকে কীভাবে মজুদ করলে পোনার মৃত্যুহার কম হবে বা আনুসাঙ্গিক ব্যবস্থাপনা কি হবে তা অধিকাংশ হ্যাচারিই না জানার কারণে শিং মাছের পোনা মজুদের পর ব্যাপকহারে মড়ক দেখা দেয়। প্রথমে যা করতে হবে তা হল, হ্যাচারিতে পোনা তোলার পর কন্ডিশন করে এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিনে গোসল দিয়ে তারপর পোনা ডেলিভারি দিতে হবে। পোনা পরিবহনের পর এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিনে গোসল দিয়ে পুকুরে ছাড়তে হবে। আর তা না হলে পুকুরে ছাড়ার পর পোনা ক্ষতরোগে আক্রান্ত- হতে পারে। পুকুরে পোনা ছাড়ার ২/৩ দিন পর আবার একই জাতীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। এতে শিং মাছের পোনা মজুদের পর আর কোন রোগবালাই আসবে না। মজুদ ঘনত্ব ঃ শিং মাছ এককভাবে বা মিশ্রভাবে চাষ করা যায়। মিশ্রভাবে চাষ করতে হলে কার্প জাতীয় মাছের সাথে প্রতি শতাংশে ৩০টি পর্যন্ত- আঙ্গুল সাইজের শিং মাছের পোনা ছাড়তে হবে। পোনা মজুদের সময় পোনাকে এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিনে গোসল দিয়ে তারপর পুকুরে ছাড়তে হবে। কার্প জাতীয় মাছ ছাড়া তেলাপিয়া এবং পাঙ্গাসের সাথেও শিং মাছের মিশ্রচাষ করা যায়। সে ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ৫০টি পর্যন্ত- শিং মাছের পোনা মিশ্রভাবে ছাড়া যায়। কার্প জাতীয়, তেলাপিয়া বা পাঙ্গাসের সাথে শিং মাছ চাষ করলে বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না। পুকুরের তলায় উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়েই এরা বড় হয়ে থাকে। উপরোন্ত- এই জাতীয় মাছের পুকুরে শিং মাছ মিশ্রভাবে চাষ করলে পুকুরে অ্যামোনিয়াসহ অন্যান্য গ্যাসের কম হয়। একক চাষে শিং মাছ প্রতি শতাংশে ৫০০ থেকে ১০০০ টি পর্যন্ত ছাড়া যায়। খাবার প্রয়োগ পদ্ধতি ঃ পুকুরে শিং মাছের পোনা মজুদের পর প্রথম ১০ দিন দৈনিক মাছের ওজনের ২০% খাবার প্রয়োগ করতে হয়। ছোট থাকা শিং মাছ সাধারণত রাতের বেলায় খেতে পছন্দ করে; তাই ২০% খাবারকে দু’বেলায় সমান ভাগ করে সন্ধ্যার পর অর্থাৎ ভোরের দিকে একটু অন্ধকার থাকতে পুকুরে প্রয়োগ করতে হয়। মাছ মজুদের পরের ১০ দিন ১৫% হারে এবং এর পরের ১০ দিন মাছের ওজনের ১০% হারে পুকুরে খাবার প্রয়োগ করতে হয় একই নিয়মে। এভাবে এক মাস খাবার প্রয়োগের পর ৫% হারে পুকুরে খাবার দিতে হবে। শিং মাছ ছোট থাকা অবস্থায় রাতে খাবার খেলেও ৩ ইঞ্চির মত সাইজ হওয়ার সাথে সাথে দিনের বেলাতে খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যার পর যে খাবার দেয়া হত সেটি সন্ধ্যার একটু আগে এগিয়ে এনে আস্তে আস্তে বিকেলে দিতে হবে। অন্যদিকে ভোর বেলার খাবারও এমনি করে সকাল ৯/১০ টার দিকে পিছিয়ে নিতে হবে। শিং মাছের ওজন ১৫ গ্রাম হলে ৩% এর অধিক খাবার দেয়া মোটেই ঠিক নয় এবং বিক্রির আগ পর্যন্ত এই নিয়মই বজায় রাখতে হবে। পুকুরে বেশি পরিমাণ খাবার দিলে পানি নষ্ট হয়ে যেতে পারে যা শিং মাছ চাষের একটি বড় অন্তরায়। শীতকালে শিং মাছ চাষের জন্য করণীয় ঃ শীতকালে শিং মাছের রোগবালাই থেকে রক্ষার জন্য প্রতি ১৫ দিন অন্তর অন্তর পুকুরের পানি পরিবর্তন করতে হয়। সাথে প্রতি মাসে একবার এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিন দেয়া দরকার। পানির উচ্চতা ২ ফুটে রাখা বাঞ্চনীয়। গ্যাস দূর করতে কোন অবস্থাতেই শিং মাছের পুকুরে হররা টানা যাবে না। এতে শিং মাছ খাবার ছেড়ে দিয়ে আরো বেশি গ্যাসের সৃষ্টি করবে। নিচের অ্যামোনিয়া গ্যাস দূর করতে গ্যাসোনেক্স ব্যবহার করা যেতে পারে। শিং মাছ আহরণ পদ্ধতি ঃ অন্যান্য মাছ জাল টেনে ধরা গেলেও শিং মাছ জাল টেনে ধরা যায় না। শিং মাছ ধরতে হলে শেষ রাতের দিকে পুকুর সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। শিং মাছ ধরার উত্তম সময় হল ভোর বেলা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। রোদের সময় মাছ ধরলে মাছ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মাছ ধরার পর মাছ থেকে গেলে শ্যালো দিয়ে কমপক্ষে ২ ফুট ঠান্ডা পানি দিয়ে পুকুর ভরে রাখতে হবে। পরের দিন আবার একই নিয়মে মাছ ধরতে হবে। শিং মাছ ধরতে একটা কৌশল অবলম্বন করতে হয়। একহাতে নুডুল্সের প্লাস্টিক ছাকনী আর অন্য হাতে স্টিলের ছোট গামলা দিয়ে মাছ ধরে প্লাস্টিকের বড় পাত্রে রাখতে হবে। এরপর মাছগুলো হাপায় নিয়ে ছাড়তে হবে। আগেই উল্লেখ করেছি, শিং মাছের পুকুর এক পাশে ঢালু রাখা দরকার। এতে পুকুর সেচ দেয়ার পর সমস্ত মাছ একপাশে চলে আসবে। তা না হলে সমস্ত পুকুর জুড়ে মাছ ছড়িয়ে থাকবে। মাছ ধরায় খুব সমস্যা হবে। সাধারণত শিং মাছ ধরার সময় একটু সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। মাছের কাঁটা বিঁধলে সেখানে খুবই ব্যথা হয়। কাঁটা বিঁধানো জায়গায় ব্যথানাশক মলম লাগিয়ে গরম পানি দিলে সাথে সাথে কিছুটা উপশম হয়। এছাড়া মলম লাগিয়ে গরম বালির ছ্যাক দিলেও আরাম পাওয়া যায়। তাই শিং মাছ ধরার আগে এমন ব্যবস্থা রাখলে মন্দ হয় না। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে এসবের কিছুরই প্রয়োজন হয় না। শিং মাছ বাজারের একটি দামি মাছ। ডাক্তাররা বিভিন্ন রোগির পথ্য হিসেবে শিং মাছ খাবার উপদেশ দিয়ে থাকেন। কথায় আছে, শিং মাছে গায়ে দ্রুত রক্ত বৃদ্ধি করে থাকে। পুকুরে শিং মাছের কীভাবে চাষ করতে হয় তা আলোচনা করা হল। আলোচিত পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষ করলে ১০ মাসে এক একরে প্রায় ৪ টন শিং মাছ উৎপাদন সম্ভব যা নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি বিলুপ্তির হাত থেকেও রক্ষা পাবে এই শিং মাছ।

স্প্যানিশ সুপার কাপের আগে বড় ধাক্কা খেল রিয়াল মাদ্রিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ স্প্যানিশ সুপার কাপের আগে বড় ধাক্কা খেল রিয়াল মাদ্রিদ। চোটের কারণে আগে থেকেই নেই তারকা ফরোয়ার্ড এদেন আজার। এবারে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন আক্রমণভাগের বাকি দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় গ্যারেথ বেল ও করিম বেনজেমা। দুটি ভিন্ন বিবৃতিতে দুজনের ছিটকে পড়ার খবর নিশ্চিত করে রিয়াল। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ভুগছেন চলতি মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা বেনজেমা। আর অসুস্থতার কারণে নেই বেল। তারা কবে মাঠে ফিরতে পারেন, তা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। নতুন আঙ্গিকে এবার দেশের বাইরে হবে স্প্যানিশ সুপার কাপ। বুধবার প্রথম সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও ভালেন্সিয়া। পর দিন দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। ১২ জানুয়ারি হবে ফাইনাল। সব ম্যাচই হবে সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে। গেতাফের বিপক্ষে গত শনিবার বছরে রিয়ালের প্রথম ম্যাচের একাদশে ছিলেন বেল ও বেনজেমা দুজনেই। ৩-০ গোলে ম্যাচটি জিতেছিল জিনেদিন জিদানের দল।

রোনালদোর হ্যাটট্রিকে ইউভেন্তুসের দুর্দান্ত শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নতুন বছরে আরও দ্যুতিময় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করে আগের বছর শেষ করা তারকা ফরোয়ার্ড এবার করলেন হ্যাটট্রিক। কাইয়ারিকে উড়িয়ে দিয়ে ২০২০ সালের পথচলা শুরু করলো ইউভেন্তুস। ঘরের মাঠে সোমবার সেরি আর ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতেছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। ইউভেন্তুসের আরেক গোলদাতা গনসালো হিগুয়াইন। সবকটি গোল হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে।

ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় কাইয়ারি। মিরালেম পিয়ানিচের কর্নারে দেমিরাল হেড করতে গিয়ে ঠিকমতো পারেননি, তারপরও বল লক্ষ্যেই ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল লাগে পোস্টে। দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুল আর রোনালদোর চতুরতায় এগিয়ে যায় ইউভেন্তুস। ডি-বক্সের বাইরে কাইয়ারির ডিফেন্ডার ক্লাভান সতীর্থকে দুর্বল পাস দেন। পাশেই থাকা রোনালদো দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল ধরে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠিকানায় খুঁজে নেন। ৬০তম মিনিটে ম্যাচে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। দারুণ সুযোগও পেয়েছিল তারা। তবে জিওভান্নি সিমেওনের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে। ৬৭তম মিনিটে স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রোনালদো। ডি-বক্সে পাওলো দিবালা ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টিটি পায় ইউভেন্তুস। ৮১তম মিনিটে হিগুয়াইন স্কোরলাইন ৩-০ করলে ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায় চ্যাম্পিয়নরা। বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। পরের মিনিটেই হ্যাটট্রিক পূরণ করেন রোনালদো। ডান দিকে থেকে দগলাস কস্তার পাস ডি-বক্সে পেয়ে গোলরক্ষকের পায়ের নিচ দিয়ে ঠিকানায় পাঠান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলে ক্যারিয়ারে এটি তার ৫৬তম হ্যাটট্রিক। এই নিয়ে আসরে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের গোল হলো ১৩টি। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে ক্লাবের হয়ে তার মোট গোল হলো ১৫টি।

এপিজে কালামের বায়োপিকে পরেশ রাওয়াল

বিনোদন বাজার ॥ ভারতের প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের জীবনী নিয়ে তৈরি হচ্ছে সিনেমা।

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা পরেশ রাওয়ালকে ওই সিনেমায় কালামের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে। খবর এনডিটিভির।

পরেশ রাওয়াল সম্প্রতি এক টুইটে জানিয়েছেন, বায়োপিকে এপিজে আব্দুল কালামের ভূমিকায় তাকে নেয়া হয়েছে। দুবছর ধরে ছবিটি তৈরি নিয়ে কথা চলছে বলেও জানান তিনি।

বায়োপিকটি যৌথভাবে প্রযোজনা করবেন অভিষেক আগরওয়াল এবং অনিল সুনকারা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হবে ছবির শ্যুটিং।

গত কয়েক বছরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে বায়োপিকের যেন ধুম লেগেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ক্রিকেটার আজাহার উদ্দিন, বালসাহেব ঠাকরে, এনটি রামা রাও প্রমুখের জীবনী নিয়েও চলচ্চিত্র হয়েছে।

ডাকসাইটে রাজনৈতিক নেতাদের জীবনের অজানা অধ্যায় সাধারণ মানুষের সামনে নিয়ে আসাই এসব বায়োপিক তৈরির উদ্দেশ্য। এবার সেই তালিকায় নাম উঠতে চলেছে বিজ্ঞানী এপিজে আব্দুল কালামের।

উল্লেখ্য, এপিজে আব্দুল কালাম ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে তামিলনাড়ু রাজ্য) রামেশ্বরমের এক তামিল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

২০০২ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থনে দেশটির রাষ্ট্রপতি মনোনীত হত। ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

রিয়াল-ইউনাইটেডকে কখনও কোচিং করাবেন না গুয়ার্দিওলা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব শেষে যাবেন অন্য কোনো ঠিকানায়। নিবেন অন্য কোনো দলের দায়িত্ব। তবে কখনোই রিয়াল মাদ্রিদ বা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হবেন না বলে স্পষ্ট করে করে জানিয়ে দিয়েছেন পেপ গুয়ার্দিওলা। গত দুই মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন সিটি চলতি মৌসুমে কিছুটা মলিন। লিগে ২১ ম্যাচে তাদের অর্জন ৪৪ পয়েন্ট। ১৪ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে পিছিয়ে আছে টেবিলের শীর্ষে থাকা লিভারপুলের চেয়ে। ২০২১ সাল পর্যন্ত সিটির সঙ্গে চুক্তি আছে গুয়ার্দিওলার। তবে চলতি মৌসুমে দলের পারফরম্যান্সে তার শেষ দেখছেন অনেকেই। ওল্ড ট্রাফোর্ডে মঙ্গলবার রাতে ইংলিশ লিগ কাপ সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হবে সিটি ও ইউনাইটেড। ম্যাচের আগে ক্যারিয়ারের ভবিষ্যত ভাবনায় এসব কথা বলেন বার্সেলোনার সাবেক কোচ গুয়ার্দিওলা। “সিটিকে কোচিং করানোর পর, আমি ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিব না। যেমনটা আমি কখনোই রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেব না। অবশ্যই না।” “যদি অন্য কোনো প্রস্তাব না থাকে, আমি হয়তো মালদ্বীপে থাকব! মালদ্বীপ নাও হতে পারে, কারণ সেখানে কোনো গলফ কোর্স নেই।” সিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইউনাইটেডের বিপক্ষে গুয়ার্দিওলার রেকর্ড দারুণ। এ সময়ে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে আটবারের দেখায় চারটিতে জিতেছে তার দল। অন্যটি ড্র।

মালান-সৌম্যর ফিফটিতে টিকে থাকলো কুমিল্লার আশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কঠিন উইকেটে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি করলেন দাভিদ মালান। ক্রিজে গিয়েই ঝড় তুললেন সৌম্য সরকার। সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে এনে দিলেন দারুণ জয়। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে কুমিল্লা। ১৪২ রানের লক্ষ্য পাঁচ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে দলটি।  হার দিয়েই বঙ্গবন্ধু বিপিএল শেষ হলো সিলেটের। ১২ ম্যাচে কেবল একটি জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থেকে আসর শেষ করল দলটি। বিপিএলের ইতিহাসে কোনো দলের এটাই সবচেয়ে বাজে ফল। সিলেটের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের সবাই যান দুই অঙ্কে। কেউই পারেননি নিজের ইনিংস খুব একটা বড় করতে। ২০ এর বেশি বল খেলা আব্দুল মজিদ, আন্দ্রে ফ্লেচার ও মোহাম্মদ মিঠুন পারেননি দ্রুত রান তুলতে। জনসন চার্লস ও জিবন মেন্ডিসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পরও নিজেদের শেষ ইনিংসে সিলেট করতে পারে কেবল ১৪১ রান। এক সময়ে সমীকরণ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল কুমিল্লার জন্য। সৌম্যর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ঠিকই পথ খুঁজে নেয় দলটি। ১০ ম্যাচে পঞ্চম জয়ে টিকিয়ে রেখেছে শেষ চারের আশা।  পাওয়ার প্লেতে অধিনায়ক ফ্লেচারকে হারিয়ে ৩২ রান তুলতে পারে সবার আগে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া সিলেট। চার্লস ক্রিজে যাওয়ার পর কিছুটা বাড়ে রানের গতি। বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানকে বেশিদূর যেতে দেননি আল আমিন হোসেন। সময়ের দাবি মেটাতে পারেননি মিঠুন। মন্থর ব্যাটিংয়ে ১৮ রান করতে ২৫ বল খেলেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। মজিদও পারেননি রানের গতিতে দম দিতে। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে এই ওপেনার ৪০ বলে করেন কেবল ৪৫ রান। শেষের দিকে ১১ বলে ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে রানের গতি কিছুটা বাড়ান মেন্ডিস। রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি কুমিল্লার। দ্বিতীয় ওভারে এলবিডবি¬উর রিভিউ নিয়ে ফারদিন হাসানকে ফেরান নাঈম হাসান। পরের ওভারে স্বপ্নের এক ডেলিভারিতে উপুল থারাঙ্গাকে বোল্ড করে দেন এই অফ স্পিনার। মিডল স্টাম্পে পড়ে স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বল পা বাড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন লঙ্কান বাঁহাতি ওপেনার। বলের নাগাল পাননি, আঘাত হানে অফ স্টাম্পের ওপরের অংশে। জোড়া উইকেটের ধাক্কা সামাল দিতে সাবধানী ব্যাটিং করেন মালান ও প্রমোশন পেয়ে চারে নামা মাহিদুল ইসলাম। পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে কুমিল্লা তোলে কেবল ১৬ রান। নাঈমকে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলে একই চেষ্টা করতে গিয়ে থামেন কিপার-ব্যাটসম্যান মাহিদুল। ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হন সৌম্য। প্রথম ৩৪ বলে ২৫ রান করা মালানও পরে শট খেলা শুরু করেন। ৩৫তম বলে পান প্রথম বাউন্ডারির দেখা। পরে দেলোয়ার হোসেনকে হাঁকান পরপর দুই ছক্কা। ৪৯ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ৫৮ রান করা মালানকে ফিরিয়ে ৭২ রানের জুটি ভাঙেন ইবাদত হোসেন। একটি করে ছক্কা ও ১৩ রান করে বিদায় নেন ডেভিড ভিসা। ইয়াসির আলীকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন সৌম্য। চার্লসকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেওয়ার সঙ্গে পৌঁছান ফিফটিতে। তার ৩০ বলের দারুণ ইনিংসটি গড়া দুই ছক্কা ও ছয় চারে।

কঠিন সময়ে নেমে দায়িত্বশীল ইনিংসে পথ দেখানো মালান জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সংক্ষিপ্ত স্কোর: সিলেট থান্ডার: ২০ ওভারে ১৪১/৫ (ফ্লেচার ২২, মজিদ ৪৫, চার্লস ২৬, মিঠুন ১৮, মেন্ডিস ২৩, মিলন ২*, সোহাগ ২*; সানজামুল ৩-০-৩০-০, আবু হায়দার ৩-০-১৮-০, মুজিব ৪-০-২৩-১, আল আমিন ৪-০-৩০-২, সৌম্য ২-০-৭-০, ভিসা ৪-০-৩১-২) কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স: ১৯.১ ওভারে ১৪২/১ (থারান্দা ৪, ফারদিন ১, মালান ৫৮, মাহিদুল ১১, সৌম্য ৫৩*, ভিসা ১৩, ইয়াসির ০*; ইবাদত ৪-০-২৬-১, নাঈ, ৪-০-২১-৩, সোহাগ ৪-০১৬-০, দেলোয়ার ৩-০-৩৫-০, চার্লস ৩.১-০-৩৪-১, অপু ১-০-৯-০) ফল: কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ৫ উইকেটে জয়ী ম্যান অব দা ম্যাচ: দাভিদ মালান

যে কারণে সালমানকে ছেড়ে অভিষেককে জীবনসঙ্গী করেন ঐশ্বরিয়া

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনের সাতপাকে বাঁধা পড়া এখনও বলিউডের অন্যতম আলোচিত বিয়ে।

বিয়ের আগে সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ও বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে প্রেম করেছেন।

কিন্তু শেষশেষ দুজনকেই ছেড়ে বলিউডের আরেক তারকা অভিষেকে তরী ভেড়ান ঐশ্বরিয়া। সবাইকে হতভম্ব করে দিয়ে সাতপাকে বাঁধাও পড়েন তাঁরা।

সালমানের সঙ্গে যখন প্রেম করতেন ঐশ্বরিয়া, তখন অভিষেকও চুটিয়ে প্রেম করতেন আরেক বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের সঙ্গে।

জানা যায়, ‘ভাইজানের’ খারাপ ব্যবহারের কারণে এক সময় বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন ঐশ্বরিয়া। এরপর আরেক বলিউড তারকা বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। বিবেকের সঙ্গেও সেই সম্পর্ক বেশিদিন টিকেনি।

ওই সময় কারিশমার সঙ্গে অভিষেক সম্পর্কে জড়ালেও তা মেনে নিতে চাননি অভিষেকের মা জয়া বচ্চন। এরপরই অভিষেক-কারিশমার বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে।

এরইমধ্যে আলোচনায় চলে আসে ঐশ্বরিয়া ও অভিষেকের সম্পর্কের বিষয়টি। বিয়ের আগে প্রায়ই দেখা হতো তাদের। বলা হয়ে থাকে, মুগ্ধতা ছড়ানো ঐশ্বরিয়ার হাসি ও সাদাসিধে স্বভাব দেখে তাকে মন দেন অভিষেক।

শেষমেষ যুক্তরাষ্ট্রের টরেন্টোতে ‘গুরু’ ছবির প্রিমিয়ারে ঐশ্বরিয়াকে প্রস্তাব দেন অভিষেক। সব দেখেশুনে সম্মতি দেন ঐশ্বরিয়া।

এরপর ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল গাঁটছড়া বাঁধেন ঐশ্বরিয়া-অভিষেক। এরই মধ্যে বিয়ের ১২ বছর পূর্ণ করেছেন দুজন। আরাধ্যা বচ্চন নামে তাঁদের আট বছর বয়সী কন্যাশিশু রয়েছে।

 

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় যা বললেন ৩ নায়িকা

বিনোদন বাজার ॥ রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করেছেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তিন নায়িকা মৌসুমী, পপি ও অপু বিশ্বাস।

চিত্রনায়িকা মৌসুমী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঘটনার অবশ্যই সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। ধর্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোর শাস্তির দেয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘শুধু এ ঘটনাই নয়, দেশজুড়ে অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এর বিচার যদি কঠোর ও দ্রুত কার্যকর করা হয়, তবে এসব ঘটনা কমে যাবে।’

‘যারা এই নোংরা কাজগুলো করছে তাদের মুখোশ খুলে দিতে হবে। কোনো ভাবেই তাদের ছাড় দেয়া উচিত না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আরেক নায়িকা পপি বলেন, ‘এভাবে আর কত! ধর্ষকরা ছাড় পায় বলে দেশে বারবার এমন ঘৃণিত কাজটি হচ্ছে। অপরাধীরাও সাহস পাচ্ছে। যে কোনো সময়, যে কোনো মেয়ে এমন ঘটনার শিকার হতে পারে।’

‘আমি এসব ঘটনার কঠোর শাস্তির দাবি করছি। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক। যাতে তাদের দেখে অন্যরা ভয় পায়।’

অপু বিশ্বাস বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার হন। এটা খুব দুঃখজনক। কিন্তু এর প্রতিকার হতে হবে। ধর্ষকদের এমন কোনো মর্মান্তিক শাস্তি দেওয়া উচিত যা দেখে অন্যরা এই ধরনের জঘন্য কাজ করতে সাহস পাবে না।’ ‘ধর্ষকদের মনে ভয় জন্মাবে। ধর্ষকদের ওপেন প্লেসে মৃত্যুদ- দেয়া উচিত। এত প্রতিবাদ সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না! কোনো মা, কোনো বোন, কোনো কন্যা ধর্ষিত হয়েছে- মানুষ হিসেবে এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে?’

প্রসঙ্গত ক্লাস শেষে ক্যাম্পাস থেকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে রোববার রাতে রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন।

গভীর রাতে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।

এরপর সোমবার সকালে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে যাওয়ার পথে একটি ঝোপের মধ্য থেকে ভিকটিমের বই, ঘড়ি, ইনহেলার ও চাবির রিংসহ বেশ কিছু আলামত পাওয়া যায়।

ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. ডা. সোহেল মাহমুদ।

এদিকে ধর্ষণের বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ঘটনার দিন রাতেই ধর্ষকদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বিক্ষোভ করেছে।

জানা গেছে, রাজধানীর কুর্মিটোলায় বান্ধবীর বাসায় যেতে বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ওঠেন ওই ছাত্রী। বাস থেকে কুর্মিটোলা এলাকায় নামার পর অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তার মুখ চেপে ধরে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

এরপর তাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়। রাত ১০টার দিকে চেতনা ফেরার পর তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বান্ধবীর বাসায় যান। বান্ধবীকে ঘটনা জানান। এরপর সহপাঠীরা তাকে আবাসিক হলে নিয়ে আসেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই ছাত্রী বলেছেন, রোববার সন্ধ্যায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য একসঙ্গে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি কুর্মিটোলা এলাকায় বাস থেকে নামেন। সেখান থেকে অজ্ঞাত কয়েক ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এরপর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

নির্যাতনের একপর্যায়ে জ্ঞান ফিরে পান ওই ছাত্রী। পরে পাশবিক নির্যাতনে আবারও জ্ঞান হারান।

রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফেরে ওই ছাত্রীর। তিনি তার বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যাম্পাসে যান। পরে তার বন্ধুরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার পেলেন যারা

বিনোদন বাজার ॥ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বেভারলি হিলটন হোটেলে ৫ জানুয়ারি রাতে বসেছিল গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের ৭৭তম আসর। হলিউড ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই অনুষ্ঠান। ২০১৯ সালের চলচ্চিত্র ও আমেরিকান টেলিভিশন অঙ্গনের সেরাদের হাতে তুলে দেয়া হয় গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডস ।

এবারের অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন ব্রিটিশ কমেডিয়ান রিকি গারভেইস। ৭৭তম আসরে রাসেল ক্রো, ব্র্যাড পিট আর কোয়ান্তিন তারান্তিনোর মতো বড় তারকাদের হাতে পুরস্কার যেমন উঠেছে তেমনি পুরস্কার লাভ করেছেন নতুন তারকারাও।

দেখে নেয়া যাক ৭৭তম গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের পুরস্কার কাদের হাতে উঠলÑ

সেরা চলচ্চিত্র (ড্রামা): ১৯১৭

সেরা চলচ্চিত্র (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি): ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড

সেরা অভিনেতা (ড্রামা): ওয়াকিন ফিনিক্স (জোকার)

সেরা অভিনেত্রী (ড্রামা): রেনে জেলওয়েগার (জুডি)

সেরা অভিনেতা (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি): টেরন এজারটন (রকেটম্যান)

সেরা অভিনেত্রী (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি): অকোয়াফিনা (দ্য ফেয়ারওয়েল)

সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: ব্র্যাড পিট (ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড)

সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: লরা ডার্ন (ম্যারেজ স্টোরি)

সেরা পরিচালক: স্যাম মেন্ডেস (১৯১৭)

সেরা চিত্রনাট্য: ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন হলিউড (কোয়েন্টিন টারান্টিনো)

সেরা মৌলিক সুর: জোকার (হিলদুর গুনাডট্টির)

সেরা মৌলিক গান: আই’ম গনা লাভ মি অ্যাগেইন (রকেটম্যান)

সেরা অ্যানিমেটেড ছবি: মিসিং লিংক

সেরা বিদেশি ভাষার ছবি: প্যারাসাইট (দক্ষিণ কোরিয়া)

সেসিল বি. ডিমিলে অ্যাওয়ার্ড (আজীবন সম্মাননা): টম হ্যাঙ্কস

টেলিভিশন

সেরা সিরিজ (ড্রামা): সাকসেশন (এইচবিও)

সেরা সিরিজ (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি): ফ্লিব্যাগ (অ্যামাজন)

সেরা টেলিভিশন সিরিজ/টেলিভিশন মুভি: চেরনোবিল (এইচবিও)

সেরা অভিনেতা (ড্রামা): ব্রায়ান কক্স (সাকসেশন)

সেরা অভিনেত্রী (ড্রামা): অলিভিয়া কোলম্যান (দ্য ক্রাউন)

সেরা অভিনেতা (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি): রামি ইউসেফ (রামি)

সেরা অভিনেত্রী (মিউজিক্যাল অথবা কমেডি): ফিবি ওয়ালার-ব্রিজ (ফ্লিব্যাগ)

সেরা অভিনেতা (মিনি সিরিজ/টেলিভিশন মুভি): রাসেল ক্রো (দ্য লাউডেস্ট ভয়েস)

সেরা অভিনেত্রী (মিনি সিরিজ/টেলিভিশন মুভি): মিশেল উইলিয়ামস (ফসি/ভার্ডন)

সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: স্টেলান স্কার্সগার্ড (চেরনোবিল)

সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: প্যাট্রিসিয়া আর্কেট (দ্য অ্যাক্ট)

ক্যারল বার্নেট অ্যাওয়ার্ড (আজীবন সম্মাননা): এলেন ডিজেনারেস