দখল আর দুষণে ঝিনাইদহের নদ-নদীগুলো পরিণত হয়েছে মরা খালে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহ। জেলার ৬টি উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে ১২টি নদ-নদী। কিন্তু খননের অভাব আর দখলদারদের কারণে নদীগুলো পরিণত হয়েছে মরা খালে। এখন আর যৌবন নেই নদ নদীগুলোতে। পাওয়া যায়না দেশীয় প্রজাতির মাছ। শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকেনা। সেখানে চাষ করা হয় ধান, পাট, সরিষাসহ নানা ফসলের। এই সুযোগে নদীর পাড়ের জায়গা দখল করতে ব্যস্ত দখলদাররা। ঝিনাইদহে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। জানা যায়, ঝিনাইদহের উপর দিয়ে বয়ে গেছে নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, বেগবতি, গড়াই, ইছামতি, ডাকুয়া, কপোতাক্ষ, কালীগঙ্গা, কোদলা, বুড়ী ও ফটকী নদ-নদী। যার মোট আয়তন ১ হাজার ৬’শ ৪১ দশমিক ৭৫ হেক্টর। ঝিনাইদহ শহরের বুকচিরে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা নদী। বিভিন্ন স্থানে নদীর জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ড্রেনের ময়লা আবর্জনা গিয়ে পড়ছে নদীতে। এসব কারণে একদিকে যেমন কমছে নদীর প্রশস্ততা, সেই সঙ্গে মাছসহ জলজ প্রাণী ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। তাই দ্রুত সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবি স্থানীয়দের। ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চন নগর এলাকার ষাটোর্ধ রাশেদ মালিতা বলেন, ছোটকালে দেখেছি নবগঙ্গা নদীতে বড় বড় নৌকা আসত। ধোপাঘাটা ব্রীজ এলাকায় নৌকা নোঙর করে ব্যবসায়ীরা ঝিনাইদহ শহরে আসতো। কিন্ত সেই নদীতে এখন ডিঙ্গি নৌকাও চলে না। বর্ষা মৌসুমে একটু পানি থাকলেও শীত মৌসুমে পানি থাকে না। হেটেই নদী পার হওয়া যায়। একই এলাকার পার্থ মল্লিক নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, দখল হওয়া জায়গা দখলমুক্ত করে নদী খনন করা হলে নদীগুলো তার নাব্যতা ফিরে পেত। এ জন্য জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। ঝিনাইদহ পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নদী রক্ষা কমিটির নেতা মিজানুর রহমান বলেন-জেলার সবগুলো নদীই এখন দখলদারদের দখলে। এ দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য আমরা প্রশাসনকে বার বার তাগাদা দিচ্ছি। তাদের সাথে মিটিং করছি, স্মারকলিপি দিচ্ছি। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে আজ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন দখলদারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। সারাদেশের ন্যায় ঝিনাইদহে নদীগুলো দখলমুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, নবগঙ্গা নদীর উৎসমুখ চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে আসা এ নদীটির মুখ বন্ধ হয়ে আছে বহুবছর ধরে। এবার চুয়াডাঙ্গা জেলাকে অনুরোধ করা হয়েছে উৎস্যমুখ খনন করার জন্য। সেখানকার জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন উৎসমুখ খনন করার জন্য মন্ত্রনালয়ে প্রস্তবনা পাঠিয়েছেন। সেখানে খনন করা হলে চিত্রা, বেগবতি আর নবগঙ্গা কিছুটা হলেও পানি পাবে। এছাড়াও যেসব স্থানে অবৈধ দখলদার রয়েছে সেখানে দ্রুতই অভিযান চালিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।

পদদলনের ঘটনার পর সোলেমানির দাফন স্থগিত

ঢাকা অফিস ॥ দাফন অনুষ্ঠানে পদদলনে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যুর পর ইরানের কুদস ফোর্সের নিহত কমান্ডার কাসেম সোলেমানির দাফন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি এক গণমাধ্যম। মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে মঙ্গলবার তার নিজের শহর কেরমানে দাফন করার কথা ছিল। অনুষ্ঠানটিতে যোগ দিতে এদিনও রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নামে। ইরানি স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সির (ইসনা) প্রতিবেদনে ৬২ বছর বয়সী এ জেনারেলের দাফন স্থগিত করার কথা বলা হলেও, কতক্ষণ দেরি করা হবে সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কুদস বাহিনীর এ নিহত কমান্ডারের দাফন অনুষ্ঠানে পদদলনে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু এবং ৪০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে বলে এর কিছুক্ষণ আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল। শুক্রবার ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন বিমান হামলায় সোলেমানি নিহত হন। এর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধোন্মাদনা বিরাজ করছে।

ইরানে সোলেমানির দাফন অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে নিহত ৩৫

ঢাকা অফিস ॥ ইরানের কুদস বাহিনীর কমান্ডার কাসেম সোলেমানির দাফন অনুষ্ঠানে ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনায় অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে মঙ্গলবার তার নিজের শহর কেরমানে দাফন করার কথা। এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এদিনও রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নামে। শুক্রবার ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন বিমান হামলায় ৬২ বছর বয়সী এ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধোন্মাদনা বিরাজ করছে। সোলেমানির মৃত্যুতে ইরান তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল। ইরাক ও ইরানের বিভিন্ন শহরে কুদস বাহিনীর নিহত এ প্রধানের মৃতদেহর প্রতি সম্মান জানাতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ কামনা করে স্লোগান দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কেরমানে সোলেমানির দাফন অনুষ্ঠানে পদদলনে ৪০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। ১৯৯৮ সাল থেকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ‘বিদেশি শাখা’র দায়িত্ব প্রাপ্ত সোলেমানিকে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। যুক্তরাষ্ট্র তাকে ‘সন্ত্রাসী’ ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন বাহিনীর জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করলেও নিজের দেশে সোলেমানি বীরের মর্যাদা পেয়ে আসছিলেন। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে তার সমর্থন ছিল বাশার আল আসাদের প্রতি। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটবিরোধী শিয়া গোষ্ঠীগুলোকেও তিনি দিক-নির্দেশনা দিতেন বলে মনে করা হতো। মঙ্গলবার ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কেরমানে সোলেমানির দাফন অনুষ্ঠানেও শোকার্ত জনগণ ‘আমেরিকার মৃত্যু’, ‘ট্রাম্পের মৃত্যু’ চেয়ে শ্লোগান দেয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন। “মৃত হলেও শহীদ কাসেম সোলেমানি এখন আরও ক্ষমতাধর,” দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে বলেছেন ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল হোসেন সালামি। বিপ্লবী এ রক্ষীবাহিনী ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থার রক্ষক; রাজনীতিতে এবং সামরিক বাহিনীতে তাদের প্রভাব ব্যাপক। এর আগে সোমবার তেহরান সোলেমানির জানাজায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ইমামতি করেন; এক পর্যায়ে তাকে কাঁদতেও দেখা গেছে। সোলেমানির হত্যাকান্ডের পরপরই এক ভাষণে আয়াতুল্লাহ ‘শক্রদের জন্য ভয়াবহ প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কুদস বাহিনীর নতুন প্রধান ইসমাইল ঘানিও বলেছেন, তেহরান ‘কয়েক ধাপে’ সোলেমানি হত্যার বদলা নেবে।

ঝিনাইদহ লেডিস ক্লাবের শীতবস্ত্র বিতরণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ লেডিস ক্লাবের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট মুক্তমঞ্চে এ কম্বল বিতরণ করা হয়। এসময় লেডিস ক্লাবের সভাপতি জেলা প্রশাসক পতœী শ্যামলী রানী নাথ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদরোদ্দাজা শুভ, সহ-সভাপতি রোজী আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক শাহরিনা আক্তার, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরতী রানী দত্ত, সদস্য ঋতু দাস, সেলিনা রহমান মিনা, নমিতা ভৌমিক, রাশেদা খানম প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা ইয়াসমিন। পরে শীতার্ত অসহায় ও দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

কুষ্টিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতে ব্যবসায়ীর জরিমানা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজার এলাকায় প¬াস্টিকের বস্তা ব্যবহারের দায়ে মুদি ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শহরের বড়বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আহমেদ সাদাত ও শাহীনুর আক্তার। ভ্রাম্যমান আদালত সুত্রে জানা যায়, “পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০” নিশ্চিতে উক্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইন অমান্য করে প¬াস্টিকের মোড়ক ব্যবহার করার অপরাধে বড় বাজারের জহুরুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান শেষে কুষ্টিয়ার পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস উপস্থিত সকলকে উক্ত আইনটি মেনে চলার জন্য আহবান জানান। সেই সাথে জেলাব্যাপি এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ইরাক থেকে কিছু সেনাপ্রত্যাহার করে নেবে জার্মানি

ঢাকা অফিস ॥ ইরাকে আইএসবিরোধী জোটের অংশ হিসেবে মোতায়েন করা সেনাদের কিছু সংখ্যক প্রত্যাহার করে নেবে বলে জানিয়েছে জার্মানি। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার এমন তথ্য দিয়েছে। বাগদাদ ও তাজিতে মোতায়েন করা ৩০ সেনাকে জর্ডান ও কুয়েতে সরিয়ে নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, শিগগিরই এই প্রত্যাহার শুরু হতে যাচ্ছে। আইএসবিরোধী জোটের অংশ হিসেবে ৪১৫ সেনা মোতায়েন করেছিল জার্মানি। তাদের মধ্যে ১২০ সেনা ইরাকে রয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে করা চুক্তির অবসান ঘটাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরাকের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস করা হয়েছে। এরপরেই জার্মানির এমন সিদ্ধান্তের কথা এসেছে। সোমবার জার্মানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেন, ইরাকি সরকার ও পার্লামেন্টের আমন্ত্রণের ভিত্তিতে ইরাকে সামরিক উপস্থিতি ছিল। এদিকে ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার। এর আগে ইরাকি সরকারকে পাঠানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি চিঠিকে ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পর সোমবার তিনি এমন তথ্য দিয়েছেন। আর ওয়াশিংটনের এই বিভ্রান্তির মধ্যেই ইরাকি ভবিষ্যৎ মার্কিন সেনার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।-খবর রয়টার্স, গার্ডিয়ান, এএফপি ও বিবিসির। পেন্টাগন বলছে, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হচ্ছে বলে ইরাকি সরকারের কাছে পাঠানো মার্কিন এক জেনারেলের ওই চিঠিটি ভুল ছিল। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উইলিয়াম সিলি তার ইরাকি সমকক্ষকে রোববারের তারিখ দেয়া এক চিঠিতে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরাক ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চিঠিটি তিনি পাঠিয়েছেন ইরাকে জয়েন্ট ফোর্সের উপ পরিচালক আবদুল আমিরের কাছে। এতে বলা হয়, স্যার, ইরাকের সার্বভৌমত্ব এবং পার্লামেন্ট ও ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে কম্বাইন্ড জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সামনের দিনগুলোতে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাহিনীর অবস্থান নতুন করে সাজানো হবে। চিঠিতে বলা হয়, ইরাকের বাইরে নিরাপদে যাওয়ার জন্য এয়ার ট্রাফিক বাড়ানো সহ কিছু পদক্ষেপ ডার্কনেস আওয়ারে করা হবে। এছাড়া বাগদাদে গ্রিন জোনে নতুন কোয়ালিশন ফোর্স আনা হচ্ছে বলে যে ধারনা তৈরি হয়েছে তাও দূর করা হয় এই চিঠিতে। এতে বলা হয়, আমাদের চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আপনাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তিনি বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট তাদের বাহিনী নতুন জায়গায় সরিয়ে নেবে। সিলি বলেন, এই কাজটি সারতে জোট বাহিনীকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। নিরাপদ ও দক্ষতার সঙ্গে ইরাক থেকে তাদের বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হবে। মার্কিন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি করছে তেহরান। সেই প্রেক্ষাপটে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে একটি বিল পাস হয়েছে দেশটির পার্লামেন্টে। এসপার বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। আমরা এখন যে অবস্থায় রয়েছি, তার সঙ্গে এই চিঠি অপ্রাসঙ্গিক। এখান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আর মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল মার্ক মিল্লিই বলেন, ভুলে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে। এটি ছিল একটি খসড়া। এটা ছিল ভুল। এই চিঠি প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিরত রাখতে মার্কিন কংগ্রেসে আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি সব সময় প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরোধীতা করে

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি সব সময়ই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিরোধীতা করে। তাই তারা আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ইলেক্ট্রোনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্তেরও বিরোধীতা করছে। তথ্যমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার তার মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। ড. হাছান বলেন- ‘বিএনপি বুঝতে পেরেছে দেশবাসী আর তাদের সাথে নেই। তাই তারা সব সময়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।’ মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইভিএম ব্যবহৃত হয়। ‘কিন্তু আমি জানি না বিএনপি কেন সব সময়ই এর ব্যবহারের বিরোধীতা করে। শুধু ইভিএমই নয়,এমনকি ব্যালট পেপারে নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও বিরোধী। আসলে, তারা নির্বাচনে তাদের নিশ্চিত পরাজয়ের বিষয়টি বুঝতে পেরেই এমনটা করছে।’ ড. হাছান বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবল আনার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছিলেন। ‘পরে বিপুল অথের্র বিনিময়ে আমরা সাবমেরিন ক্যাবল ক্রয় করি।’ মন্ত্রী বলেন,তাদের (বিএনপি) বিবৃতিতে বুঝা যায় তারা আসন্ন নির্বাচনে পরাজিত হবে। ‘তাদের মুল লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা।’ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও তার মুক্তি নিয়ে ড. কামাল হোসেনের এক মন্তব্যের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি (ড. কামাল) যে কোন ইস্যুতেই সংবিধানকে টেনে আনেন। তিনি বলেন, শুধু ড. কামাল হোসেনই নন, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যগত ইস্যুতে, বিএনপিও অসুস্থ্য-রাজনীতি করে আসছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ বলেন, ‘একমাত্র বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব। এ ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। খালেদার মুক্তির ব্যাপারে সরকারের আইনগত কোন এক্তিয়ার নেই।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে বরাবরই অসুস্থ্য রাজনীতি করে আসছে। বস্তুত, সরকার তাকে সর্বোত্তম চিকিৎসা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ ড.হাছান বলেন, খালেদা জিয়াকে দেশের সর্বোচ্চ মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা চিকিৎসা করছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি তার স্বাস্থ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাকে বলেছেন খালেদা জিয়া বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভূগছেন। পাশাপাশি তার হাঁটু ও কোমরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাথা আছে। চিকিৎসকরা তাকে সর্বোত্তম চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছেন।’ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরকে ধারাবাহিক সাফল্যের আরো একবছর বলে অভিহিত করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। সেই সাথে তিনি বলেন, নেতিবাচক রাজনীতি না থাকলে দেশের অগ্রগতি আরো বেশি হতো। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতবছরের ৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদে জনগণের রায় নিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এদিন টানা তৃতীয়বার এবং দেশে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। একইসাথে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ শপথ গ্রহণ করেছিলেন। সেই হিসেবে সরকারের আজকে একবছর পূর্তি।’ দশ বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে গতবছরও বাংলাদেশের জন্য আরেকটি সাফল্যের বছর ছিল, উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ২০০৯ সালের দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে, ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই অভিযাত্রায় বাংলাদেশ এখন আর স্বল্পোন্নত নয়, ইতিমধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর খাদ্য ঘাটতির দেশ নয়, খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। ড. হাছান বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.১৫ শতাংশ, যেটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একইসাথে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ শতাংশের নিচে, এবং গত ১১ বছরে পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রসমূহের যদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যোগফল নেয়া হয় তাহলে, বাংলাদেশে গত ১১ বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল পৃথিবীতে সর্বোচ্চ। জাতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই অর্জন জাতিকে লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে, স্বপ্ন পূরণের অভিযাত্রা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলার স্বাক্ষর। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় যেটি ২০০৮ সালে ছিল ৬শ’ ডলার, সেটি গত বছর প্রায় ২০০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রবাসী আয় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৩ কোটি ডলারে যা আগের বছর ছিল ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ডলার। আজকে বাংলাদেশ সমস্ত অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে পাকিস্তানকে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সাফল্য সেখানেই পাকিস্তানে টেলিভিশনে আলোচনা হয় পাকিস্তানকে যেন পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অকপটে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ আজকে সমস্ত সূচকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে। আমি আরো কিছু তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই-উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশে শিক্ষিতের হার প্রায় ৭৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। এতো ব্যাপকভাবে বিনামূল্যে বই বিতরণ পৃথিবীর আর কোনো দেশে নাই। ২০২০ সালে ১ জানুয়ারি ৪ কোটি ২৬ লক্ষ ১৯ হাজার ৮শ ৬৫জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র বাংলা বই বিতরণ করা হয় তা নয়, দেশে ৫টি নৃ-গোষ্ঠির জন্য তাদের ভাষা ৭৭ লক্ষ বই বিতরণ করা হয়েছে। মায়ের হাসি প্রকল্পের মাধ্যমে ১ম থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর মায়েদের কাছে মোবাইল ফোনে উপবৃত্তির টাকা পাঠানো হচ্ছে, যা পৃথিবীতে একটি অনন্য নজির। বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন দেশে ৪০ শতাংশের মতো মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পেত, বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩৩শ’ মেগাওয়াট। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সূচনাকাল ১৯০২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ১০৬ বছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩৩শ’ মেগাওয়াট। আর ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে সেই উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৬৩ মেগাওয়াট। ৯৫ শতাংশ মানুষ আজ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। মুজিববর্ষে আমরা আশা করছি দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। সরকার পৃথিবীর দীর্ঘতম সেতু পদ্মাসেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করছে, উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, পদ্মাসেতুর ৮৪.৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ড. হাছান বলেন, উপমহাদেশের প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে মোটর টানেল কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দ্রুত নির্মাণ হচ্ছে, যার ৪০ শতাংশের এর বেশি কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর ঢাকায় চলাচলের সুবিধার্থে মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে, যা ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর উন্মুক্ত হবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামেও মেট্রোরেল নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। খাদ্য উৎপাদন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৫০ এর দশকে দেশের জনসংখ্যা যখন ৪ কোটি ছিল, তখন দেশ ছিল খাদ্যঘাটতির। এখন আমরা বিশ্বের সবচেয়ে কম আয়তনের জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও উদ্বৃত্তের দেশ, যা শুধু অন্য দেশগুলোর কাছে নয়, বিশ্ব খাদ্যসংস্থা কাছেও বিস্ময়। বর্তমানে খাদ্যশস্য উৎপাদন ৪ কোটি ৪৪ লাখ মেট্রিক টন যা ২০০৬ সাল অর্থাৎ তুলনায় ৬১ ভাগ বেশি। ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয়। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে সপ্তম। আলু উৎপাদনে সপ্তম। বিএনপি-জামায়াত আমলে কৃষি ভর্তুকি ছিল না বললেই চলে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সম্মেলন কক্ষে সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নেতিবাচক রাজনীতি ও সংঘর্ষের রাজনীতি পরিহারের পক্ষে। কিন্তু একপক্ষ হাত প্রসারিত করলে তা সম্ভব নয়, বিরোধী পক্ষকেও এগিয়ে আসতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার ও প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার এসময় উপস্থিত ছিলেন।

নিজ মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারতে বাংলাদেশ টেলিভিশন দেখানো প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল কয়েক যুগ আগে থেকে। কিন্তু সেটি সম্ভবপর হয়নি। গত বছর ২ সেপ্টেম্বর থেকে দুরদর্শনের ফ্রি ডিশের মাধ্যমে সমগ্র ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রদর্শিত হচ্ছে। এ মাসেই বাংলাদেশ বেতারও সমগ্র ভারতে সম্প্রচারিত হবে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ক্রম নির্ধারণের জন্য বারং বার তাগাদা দেয়া হয়েছিল, যা গত বছর আমরা ঠিক করতে পেরেছি। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধিনে ভারত এবং বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে যার কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ড. হাছান বলেন, বিদেশি টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধ করেছি। অনেকগুলো টেলিভিশনে বিদেশি সিরিয়াল কোনো অনুমতি ছাড়া প্রদর্শিত হচ্ছিল, যেটিকে আমরা একটি নিয়মনীতির মধ্যে এনেছি। অবৈধ ডিটিএইচ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মোবাইল কোর্ট চলছে। চলচ্চিত্র শিল্পীদের দাবি ছিল একটি কল্যাণ ট্রাস্ট করা। সেই কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করতে ট্রাস্ট আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে।

ইরাক ছাড়ার ‘বার্তা’ অস্বীকার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে, মার্কিন এক জেনারেলের চিঠি থেকে এমন বার্তা ছড়িয়ে পড়লেও তা অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে পেন্টাগনের এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী মার্ক এস্পার বলেন, “ছেড়ে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।” বিবিসি জানিয়েছে, ইরাকের পার্লামেন্ট সদস্যরা মার্কিন বাহিনীকে ইরাক ছাড়ার আহ্বান জানানোর পর ‘কম্বাইন্ড জয়েন্ট অপারেশন্স’ এর উপপরিচালক আবদুল আমিরকে পাঠানো মার্কিন জেনারেলের ওই চিঠিতে বলা হয়, “আসছে দিন ও সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বাহিনীগুলোর অবস্থান পুনর্বিন্যাস করতে পারে”।

চিঠিটি ইরাকে মোতায়েন মার্কিন মিলিটারি টাস্ক ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উইলিয়াম এইচ সিলে পাঠিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বলা হয়, “স্যার, রিপাবলিক অব ইরাকের সার্বভৌমত্বের প্রতি যথাযোগ্য শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং ইরাকি পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দ্বারা অনুরুদ্ধ হয়ে সিজেটিএফ-ওআইআর (কম্বাইন্ড জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স-অপারেশন ইনহ্যারেন্ট রিসলভ) এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে আসছে দিন ও সপ্তাহগুলোতে বাহিনীগুলোর অবস্থান পুনর্বিন্যাস করতে পারে।” এতে আরও বলা হয়, “ইরাকের বাইরে যাওয়ার বিষয়টি নিরাপদ ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা নিশ্চিত করতে রাতে বিমান চলাচল বৃদ্ধিসহ নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।” বাগদাদের গ্রিন জোনে জোট বাহিনীর আরও সেনা আনা হচ্ছে না, চিঠিতে এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়। এই চিঠির সূত্র ধরেই ‘ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার জন্য সৈন্যদের পুনর্বিন্যস্ত করা হচ্ছে, ইরাকি কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী’, এমন খবর প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ অন্যান্য গণমাধ্যম। প্রকাশিত খবর অস্বীকার করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এস্পার বলেন, “ইরাক ছেড়ে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি জানিনা, ওই চিঠিটি কী। তাতে কী আছে, কোথা থেকে এসেছে আমরা তা বের করা চেষ্টা করছি। “কিন্তু ইরাক ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।” মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ মার্ক মিলি ঘটনাটি ‘ভুল’ করে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। চিঠিটি দুর্বল শব্দে লেখা একটা খসড়া ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। চিঠিটিতে কোনো স্বাক্ষর করা হয়নি এবং এটি প্রকাশ করাও উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। চিঠিটি বিভিন্ন হাত ঘুরে সাংবাদিকদের হাতে এসে পড়ে ‘হট্টগোল’ বাঁধিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন তিনি। ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্যরা সরছে না বলে তিনিও নিশ্চিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের বের করে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাস করেছে ইরাকি পার্লামেন্ট।

এস. এম. কামাল হোসেনকে  নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মাননীয় ভাইস-চেয়ারম্যান এস.এম. কামাল হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। তার কর্মদক্ষতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এতদঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এবং বিশেষ করে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন যুগের সৃষ্টি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃতে দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাঙালী জাতির কষ্টার্জিত স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মাননীয় সদস্য ওবায়দুল্লাহ রিপন, পবিত্র কুমার সরকার, বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সুধীর কুমার পাল, সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি ফ্যাকাল্টির ডীন প্রফেসর ড. মোঃ নওশের আলী মোড়ল, রেজিস্ট্রার মোঃ শহীদুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, প্রক্টর শেখ মাহরুফুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) রবীন্দ্র নাথ দত্তসহ,  শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আলমডাঙ্গায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে এক প্রস্ততি সভা গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। তিনি বলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিবস পালন করতে পেরে নিজেদের গর্বিত মনে করছি। যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ হত না, একটি রাষ্ট্র, একটি পতাকা হত না, বিশ্বদরবারে আজ আমরা মাথা উচু করে বলতে পারি আমরা বাঙ্গালী, বাংলা আমার ভাষা। সেই ব্যক্তি যিনি যৌবনের ১৪ বছর পাকিস্থানীদের কারাগারে কাটিয়েছেন, জীবনের বেশির ভাগ সময় এদেশের স্বাধীনতা, কৃষক, শ্রমিকসহ মধ্যবিত্ত, নিন্মবিত্ত মানুষের মুক্তির জন্য, গনতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার জন্মশত বার্ষীকি পালন করতে আমাদের সকলকে প্রস্ততি নিতে হবে। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারি কমিশনার ভুমি সীমা শারমিন, থানা অফিসার ইনচার্জ  সৈয়দ আশিকুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। সমাজ সেবা কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিনের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি কাউছার আহম্মদ বাবলু, ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, এ্যাডঃ আব্দুল মালেক, আব্দুল হালিম, আব্দুস সালাম বিপ্লব, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নুর মহাম্মদ জকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনদ্দিন, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি শাহ আলম মন্টু, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারি, প্রকল্প কর্মকর্তা এনামুল হক, জনস্বাস্থ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ প্রমুখ।

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে সেমিস্টার ২০২০ এর ভর্তি মেলা উদ্বোধন

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, খুলনা এর ¯িপ্রং সেমিস্টার ২০২০ এ ভর্তি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।  জানুয়ারি ৭ থেকে  শুরু হওয়া এ ভর্তি  মেলা চলবে আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। সরকারী ছুটির দিনসহ সপ্তাহে ৭ দিনই ভর্তি মেলা চলবে এবং ভর্তি শাখা খোলা থাকবে। ভর্তি মেলার উদ্বোধন করেন বিশ^বিদ্যালয় বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মাননীয় ভাইস-চেয়ারম্যান এস.এম. কামাল হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মাননীয় সদস্য ওবায়দুল্লাহ রিপন, পবিত্র কুমার সরকার, বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সুধীর কুমার পাল, সায়েন্স এ্যান্ড টেকলোজি ফ্যাকাল্টির ডীন প্রফেসর ড. মোঃ নওশের আলী মোড়ল, রেজিস্ট্রার মোঃ শহীদুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, প্রক্টর শেখ মাহরুফুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) রবীন্দ্র নাথ দত্ত, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। ভর্তি মেলা চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুযোগ সুবিধাসমূহ প্রদান করা হচ্ছে। ফেয়ারে ভর্তিতে সকল প্রোগ্রামে ১০% টিউশন ফি ছাড়, এস এস সি ও এইচ এস সি/সমমান পরীক্ষার ফলাফলের উপর ১০০% পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ১০০% টিউশন ফি ছাড়, সহোদর ভাইবোনদের জন্য ২৫% টিউশন ফি ছাড়, ছাত্রী ও উপজাতিদের জন্য অতিরিক্ত ৫% টিউশন ফি ছাড়, ডিপে¬ামা হোল্ডারদের জন্য অতিরিক্ত ১০% টিউশন ফি ছাড়, ৪ বছর মেয়াদি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ১৫% এবং ইইই প্রোগ্রামে ১০% অতিরিক্ত টিউশন ফি ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে বিশ^বিদ্যালয়ে স্নাতক প্রোগ্রামে বিএসসি ইন সিএসই, ইইই ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিবিএ, এলএলবি (অনার্স), বিএ (অনার্স) ইংরেজি এবং স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে এমবিএ, ইএমবিএ,  এমএ ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, এমএসএস অর্থনীতি ও সোসিওলোজি, মাস্টার অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এমডিএস) ও মাস্টার অব পাবলিক হেল্থ (এমপিএইচ) কোর্স চালু আছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

১০ জানুয়ারী থেকে ভেড়ামারা ও পোড়াদহে

বেনাপোল এক্সপ্রেসের যাত্রা বিরতি : যাচ্ছে কমিউটার ট্রেনও

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রাজধানী ঢাকা ও দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের মধ্যে চলাচলকারী বিরতিহীন আন্ত:নগর ট্রেন ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ষ্টেশন ও পোড়াদহ জংশনে যাত্রা বিরতি করবে। আগামী ১০ জানুয়ারী শুক্রবার থেকে উভয় পথের যাত্রীরা পোড়াদহ থেকে ওঠানামা করতে পারবেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও রাজশাহী থেকে যে কমিউটার ট্রেনটি ঈশ্বরদী পর্যন্ত আসা যাওয়া করতো ওই ট্রেনটিকেও এক্সটেনশন করে ভেড়ামারা হয়ে পোড়াদহ জংশন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পোড়াদহ জংশনের ষ্টেশন মাষ্টার শরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী অঞ্চলের (পশ্চিম) চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টে-এর পক্ষে সহকারী চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টে আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে যাত্রা বিরতির বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম. সারওয়ার জাহান বাদশাহ কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের সাথে সাক্ষাত করে ভেড়ামারা ষ্টেশন ও পোড়াদহে জংশনে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবি জানান। এ সময় রেলমন্ত্রী যাত্রা বিরতি বিষয়ে সাংসদকে আশ্বাস দেন। পরে রেলমন্ত্রীর নির্দেশে অল্প সময়ের মধ্যে এই ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর আসনের সাংসদ এ্যাড. আ. কা. ম. সারওয়ার জাহান বাদশা বলেন, বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে ঢাকায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এ উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ভেড়ামারা ও পোড়াদহে যাত্রা বিরতির ফলে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের মানুষের ঢাকার সাথে যোগাযোগের নতুন দিগন্তের সুচনা হলো। তিনি বলেন, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা একটি কমিউটার ট্রেন ঈশ্বরদী পর্যন্ত যাতায়াত করে। ওই ট্রেনটিকেও ঈশ্বরদী থেকে ভেড়ামারা হয়ে পোড়াদহ পর্যন্ত নিয়ে আসা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে সেটি বাস্তবায়ন হবে। এ জন্য রেলমন্ত্রীকে কুষ্টিয়াবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদও জানান সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ১৭ জুলাই তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিরতিহীন ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ নামের এই নতুন ট্রেনের উদ্বোধন করেন। সেই দিন থেকে ১২বগির ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন বেনাপোল-ঢাকা পথে চলাচল করে।

পোড়াদহ ষ্টেশন মাস্টার শরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকাগামী যাত্রীদের জন্য ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ভেড়ামারা ষ্টেশন ও পোড়াদহ জংশনে এসি কামরা বাদে সব ধরনের আসনের টিকেটের ব্যবস্থা থাকবে। অনলাইনে অ্যাপসের মাধ্যমে টিকেট কাটার সুবিধা রাখা হয়েছে। ট্রেনটি ঢাকায় যাওয়ার পথে এবং আসার পথে পোড়াদহে কোন সময় যাত্রা বিরতি করবে সে বিষয়ে ৮ জানুয়ারী বুধবার জানা যাবে।

ইরাক প্রবাসীদের নিয়ে ‘উদ্বিগ্ন’ বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বাংলাদেশ ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থানে থাকবে বলে জানালেও ইরাকে প্রবাসী কর্মীদের নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। মঙ্গলবার রাজধানীতে এক বৈঠক শেষে ইরাক প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “ সেটা ভেবে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। আমরা কনটিনিউয়াসলি খবর নিচ্ছি। আমাদের প্রায় লাখ তিনেক শ্রমিক ইরাকে আছেন। তারা সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বাগদাদ বিমানবন্দরে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেমানিকে হত্যা করার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে ওই হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড  ট্রাম্পও বলেছেন, তার দেশের স্বার্থ আক্রান্ত হলে ইরানে হামলার জন্য ৫২টি জায়গা তিনি বাছাই করে রেখেছেন। এই কথার যুদ্ধের মধ্যে অস্থিরতা বেড়েছে ইরাকেও। ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইরাকি মিলিয়াশিয়া দলগুলোর অবস্থানে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ”এগুলোতো খুব টার্গেটেড অ্যাটাক হচ্ছে, সুতরাং তারা এখনো কোনো ঝামেলায় পড়ে নাই।” সোমবার ইরাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপ হওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ”আমি বলেছি, আপনি খোঁজ রাখেন, ওদেরকেও সতর্ক থাকতে বলেন।” আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, “গ্লোবালাইজড ওয়ার্ল্ডে কোথাও যদি অস্থিতিশীলতা হয়, (তাহলে) আমাদের দুশ্চিন্তা হয়। কারণ আমাদের এক কোটি ২২ লাখ লোক বিদেশের বিভিন্ন দেশে আছে। ওদের ইকোনম খারাপ হলেও আমাদের দুঃখ লাগে, কারণ স্থিতিশীলতা থাকলে আমরা উন্নয়নের রোডম্যাপ অর্জন করতে পারি। ”এজন্য আমরা সব জায়গায় স্থিতিশীলতা চাই, শান্তি চাই। কারণ আমরা সব জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছি। আরেক দেশে ঝামেলা হোক আমরা এটা চাই না।” ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বাংলাদেশের অবস্থানের নিয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অন্যরা ঝগড়া-ঝাটি করুক, কিন্তু আমরা ব্যালেন্সড, ইনডিপেনডেন্ট, নন-অ্যালাইনড থাকতে চাই। আমাদের নীতি- সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শক্রতা নয়’। ”ওরা ওখানে ঝগড়া-ঝাটি করুক, এটা তাদের ঝগড়া-ঝাটি, আমাদের না।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের

গত ১০ বছরে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা জনগণের কাছে দৃশ্যমান

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইভিএম পদ্ধতি রাখা না রাখা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার জিরো পয়েন্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী মুজিব বর্ষ উদযাপনে বছরব্যাপি কর্মসূচির ফলক উন্মোচন এবং শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি রাখলেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকবে, না রাখলেও থাকবে। এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। তিনি বলেন, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এ পর্যন্ত শীতার্তদের মাঝে ১৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিশু ও দুস্থদের জন্য শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা জনগণের কাছে দৃশ্যমান। এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। এর আগে তিনি কবিরহাট পৌরসভার হাজী ইদ্রিছ মিলনায়তনে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। পরে ওবায়দুল কাদের তার বাবা ও মায়ের কবর জিয়ারত করেন। এসময় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম, সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, আয়েশা ফেরদৌস এমপি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান, হাতিয়া উপজেলা সভাপতি মোহাম্মদ আলী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহাব উদ্দিন, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র মীর্জা আবদুল কাদের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইবিতে ছাত্রীদের বহনে আরো দু’টি নতুন বাস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার জন্য পরিবহন পুলে যুক্ত হলো আরো নতুন দু’টি ৫২ আসনের হিনো বাস। বাস দু’টি কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ রুটের ছাত্রীদের বহন করবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রশাসন ভবনের সামনে ফিতা কেটে রোড যাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী)। উদ্বোধনী বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর ড. রাশিদ আসকারী বলেন- প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদিত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। আশারাখি ২০২২ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। তখন আমরা  প্রায় ৮৫% আবাসন সুবিধা পাব। ফলে আমাদের পরিবহন নির্ভরতা কমে যাবে। অনুষ্ঠানে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন- আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। পরিবহন উন্নয়নে অচিরেই আরো দু’টি বাস ক্রয় করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভার:) এস, এম, আব্দুল লতিফ, পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান, প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের মতবিনিময়ে ডাঃ রওশন আরা বেগম

শনিবার শিশুদের ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

শিশুদের মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে ভিটামিন এ খাওয়াতে হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম বলেছেন- শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের গুরুত্ব অনেক। সময় মত আপনার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান এবং অন্যদের খাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিন। বর্তমান সরকারের যে সকল সফলতা রয়েছে তাদের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানো অন্যতম। এক্ষেত্রে শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালন উপলক্ষে জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন- পলিওমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা থেকে অনেক সুনাম অর্জন করেছে। আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠেছে। দেশপ্রেম বোধ ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও টিকার মতই বাচ্চাদের ঘরে ঘরে পৌছে দিতে হবে। যাতে তাদের মধ্যে আগামীর দেশ গড়তে দেশপ্রেম বোধ অধিক কাজে লাগে।

শিশু অবস্থা থেকে সরকারের প্রদত্ত বিনামূল্যে যে সকল ভিটামিন ও টিকা দেয়া হয় তা দেয়ার ব্যাপারে সকলকে আন্তরিক হতে হবে। সরকারের ভিটামিন খাওয়ানো ও টিকা দান কর্মসূচী দিনে দিনে সফলতা লাভ করায় আজ শিশু ও মাতৃমৃত্যু নেই বললেই চলে। ভাল কাজের শুরু আছে শেষ নাই। প্রত্যেকের মধ্যে দেশ ও জাতির জন্য দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষকে আরো বেশি সচেতন করে তুলতে সাংবাদিকদের গুরুত্ব দিয়ে এই খাতটির সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গাজী মাহাবুব রহমান, কালের কন্ঠ পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার তারিকুল হক তারিক, নিউট্রেশন ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিনিধি ডাঃ পরিমল সাহা ও ডাঃ নুসরাত জাহান। ভিটামিন এ প্লাস সম্পর্কে প্রজেক্টরের মাধ্যম্যে বিস্তারিত তুলে ধরেন সিভিল সার্জন অফিসের  মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাকিবুল হাসান।

সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার যোগ্য জেলার শিশুদের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এতে দেখা যায় আগামী ১১ জানুয়ারী ২০২০ শনিবার ২০১৯ সালের দ্বিতীয় রাউন্ডে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রংযের ১টি ক্যাপসুল কেটে খাওয়ানো হবে। ১২ মাস হতে ৫৯মাস বয়সী সকল শিশুকে লাল রংয়ের ১টি ক্যাপসুল কেটে খাওয়ানো হবে। শিশুকে ভরাপেটে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। আপনার নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে যেয়ে ১১ জানুয়ারী শনিবার ২য় দফায় জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইনে আপনার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর অনুরোধ করেন তিনি। ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা কর্তৃক মানসম্মত এবং নিরাপদ। জেলার দৌলতপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর, কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও খোকসা ৬ উপজেলা এবং কুষ্টিয়া, ভেড়ামারা ও কুমারখালি ৩ পৌরসভায় ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী মোট ২৬ হাজার ৯১ এবং ১২ মাস হতে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৪ হাজার ২৮১ জন সর্বমোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭২ শিশুকে ১৫৬৬ টি কেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এই কর্মসূচী বাস্তবায়নে ৩ হাজার ১৩২ জন সেচ্ছাসেবক কাজ করবে। সভায় স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সম্পাদক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

 

খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে লড়বেন ড. কামাল

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলায় প্রয়োজন হলে লড়বেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। মঙ্গলবার কামাল হোসেনের মতিঝিল চেম্বারে খালেদা জিয়া ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জরুরি সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে টালবাহানার নিন্দা জানাচ্ছি। তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়াসহ অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি। খালেদা জিয়ার মামলায় ড. কামাল হোসেন লড়বেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বলার কথা না। যদি প্রয়োজন হয়, অবশ্যই আমি মামলায় লড়ব। ড. কামাল বলেন, সম্প্রতি মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যের আলোকে আমরা জেনেছি, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তার স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমরা গভীর উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমরা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করতে চাই, খালেদা জিয়ার অনভিপ্রেত কিছু হলে তার সব দায় সরকারকেই নিতে হবে। অসুস্থ খালেদা জিয়াকে জামিন না দিয়ে আদালত ভুল করেছেন মন্তব্য করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন- একটা অসম্পূর্ণ রিপোর্ট দেখে মামলা ডিসমিস করে বিচারপতিরা ভুল কাজ করেছেন। অনৈতিক কাজ করেছেন। মানবিক কারণেই উনাকে মুক্তি দিতে কোথাও কোনো বাধা নেই। যদি প্রয়োজন হয় আমাদের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন কোর্টে যাবেন খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য। কিন্তু বিচারপতিরা যদি পাথরের মত থাকেন, বিবেকহীন থাকেন, তাহলে তো কিছু হবে না। আন্দোলন ছাড়া আমাদের কোনো পথ নাই। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের একাংশের সভাপতি অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী প্রমুখ।

ঢাবির ছাত্রী ধর্ষণ

২৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকা মহনগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা মঙ্গলবার মামলার এজাহার গ্রহণ করে এই নির্দেশ দেন। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা ঘটনার দিন রাতেই ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যাচাই শেষে পরদিন অভিযোগটি পরে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মামলায় অজ্ঞাত একজনকেই আসামি করা হয়েছে। মামলাটি প্রথমে ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পরে তদন্তভার যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। তবে ডিবির কোন কর্মকর্তা তদন্তের ভার পেয়েছেন আদালত পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগ জানাতে পারেনি। সিএমএম আদালতে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই দীপক কুমার মিত্র দীপু বলেন, “আদালতে পাঠানো নথিতে আগের তদন্ত কর্মকর্তার নামই রয়েছে। ডিবির কোন কর্মকর্তার উপর তদন্তভার পড়েছে তা আমাদের জানা নেই।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী শেওড়ায় বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে রোববার সন্ধ্যায় কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কে নেমে ধর্ষিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নামার পরপরই তিনি আক্রান্ত হন। মুখ চেপে ধরে তাকে তুলে সড়কের পাশে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ওই দিন গভীর রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। মেয়েটির দেওয়া বর্ণনা থেকে পুলিশ ধারণা পেয়েছে, ধর্ষণকারী একজনই, তার বয়স ২৫-৩০ বছরের মতো। ধর্ষণের খবর শোনার পর ওই রাত থেকেই বিক্ষোভ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নির্যাতিত ছাত্রীটির চিকিৎসা চলছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

কুষ্টিয়ায় মুজিববর্ষ ক্ষণগণনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রস্তুতি সভা

নিজ সংবাদ ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে মুজিববর্ষ ক্ষণগণনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিষয়ক এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। আগামী ১০ জানুয়ারির অনুষ্ঠানাদির বিষয় তুলে ধরে সভাপতি মোঃ আসলাম হোসেন বলেন- জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন থেকে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটবে এদিন। সেদিন শহরে বিশাল র‌্যালি শেষে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পাদদেশে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। মুজিববর্ষকে ঘিরে এই সমাবেশ মহাসমাবেশে রূপ নেবে। দল-মত নির্বিশেষে সকল প্রগতিশীল মানুষ সেদিন একই মোহনায় মিলিত হবে। প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আজাদ জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবায়দুর রহমান, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃণাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফন নাহার, এনডিসি মুছাব্বিরুল ইসলাম, আরডিসি পার্থ প্রতীম শীল, আওয়ামীলীগ নেতা শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু প্রমুখ। প্রস্তুতিমূলক সভায় জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাসহ জেলায় কর্মরত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন

শুক্রবার থেকে শুরু হতে হচ্ছে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা

ঢাকা অফিস ॥ টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হতে হচ্ছে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। ইতোমধ্যে ইজতেমার প্রায় সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এবার ইজতেমায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৮হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইতিমধ্যে ময়দানের ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। প্রতি বছরের মতো এবারও বাড়তি পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন মাঠের ভেতর ও বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। ১০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম পর্বের ইজতেমার আখেরি মোনাজাত হবে ১২ জানুয়ারি রোববার। মাঝে ৪দিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা আগামী ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে ১৯ জানুয়ারি আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইজতেমা ময়দানের বিশাল সামিয়ানা টাঙ্গানো, রাস্তাঘাট মেরামত ও পয়ঃনিষ্কাশনের কাজ চলছে জোরেশোরে। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তায় থাকছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ১৬০ একর জমির ওপর প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিশাল চটের প্যান্ডেলের সামিয়ানার নিচে এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ময়দানে প্যান্ডেল তৈরির কাজ করছেন। এছাড়া রাস্তা মেরামত, মাইক টানানো, টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ময়দানের আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছেন আগত মুসল্লিরা। বিদেশি নিবাস, বয়ান মঞ্চ, তাশকিল কামরা এরই মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ইজতেমার জনৈক মুসল্লি সেলিম মিয়া জানান, প্রায় ৭০ জন সাথী নিয়ে তিনি ময়দানে কাজ করতে এসেছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, তাদের ব্যবস্থাপনায় ৮টি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মাঠের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৫টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ১৪টি এবং র‌্যাবের পক্ষ থেকে ১০টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া মাঠে ব্লিচিং পাউডার ও মশক নিধনের পর্যাপ্ত ওষুধ ছিটানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া ৭৫০টি বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন ও ধুলোবালি যাতে না ওঠে সেজন্য পানি ছিটানোর ব্যবস্থা থাকছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মুসল্লির সমাগমকে সামনে রেখে প্রতিদিন সাড়ে তিন কোটি গ্যালন পানির ব্যবস্থা থাকছে। বাড়তি টয়লেট নির্মাণ ও পাকা টয়লেটগুলো ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে মুসল্লিদের কোনো সমস্যা হবে না। গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত লাখ লাখ মুসল্লির নিরাপত্তায় পুরো ইজতেমা ময়দান ও এর আশেপাশে এলাকায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয়  তৈরি করা হবে। সিসিটিভি, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর থাকছে পুরো ময়দানজুড়ে। খিত্তায় খিত্তায় নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। সার্বিক নিরাপত্তায় এবার ইজতেমায় ৮ হাজার পুলিশ সদস্য কাজ করবে। এবারের ইজতেমা রেকর্ড সংখ্য মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব ইজতেমার মাঠের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। আগের খিত্তাগুলোর সঙ্গে এবার অতিরিক্তি ১৪টি খিত্তা যোগ করা হয়েছে।

সরকারের বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আমাদের লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়নসহ সকলের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতি দমন করে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসীকে বলেছেন, “আমার উপর ভরসা রাখুন।” ২০০৮ সালে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসীন শেখ হাসিনা পরের দুটি নির্বাচনে আরও বড় জয় নিয়ে এখন টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি নতুন সরকার নিয়ে যাত্রা শুরু করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সেই সরকারের বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ নিয়ে আসেন তিনি, যাতে তিনি বিগত সময়ের সাফল্য ও ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগের ক্ষমতারোহনের সঙ্গে এখনকার তুলনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “১০ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে, ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। “এদেশের মানুষ ভালো-কিছুর স্বপ্ন দেখা ভুলেই গিয়েছিল। মানুষ আজ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখে উন্নত জীবনের। স্বপ্ন দেখে সুন্দরভাবে বাঁচার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।” শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তার কন্যা হিসেবে আমার জীবনেরও একমাত্র লক্ষ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই।” পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশ যখন আর্থিক স্থবিরতা কাটিয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মহাসড়কে অভিযাত্রা শুরু করে, ঠিক তখনই ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি-জামাত আবার ক্ষমতায় আসে। “রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ায় শুরু হয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন। ২১ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়। শুধু রাজনৈতিক কারণে বহু চলমান উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত করে দেওয়া হয়। ‘হাওয়া ভবন’ খুলে অবাধে চলতে থাকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট।” ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার পর আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাতের ‘অগ্নিসন্ত্রাস’ তুলে ধরে তাদের হুঁশিয়ার করে শেখ হাসিনা বলেন, “যে কোনো শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানাই। “তবে, অযৌক্তিক দাবিতে ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডকে আমরা বরদাশত করব না। বাংলাদেশের মাটিতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না।” ২০০৯ সাল থেকে একটানা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়নসহ সব মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা তার সরকারের লক্ষ্য। “২০০৯ সাল থেকে আমরা একটানা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। আমরা একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার পরিচালনা করছি। আর সে লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়নসহ সকলের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।” অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি  বলেন, “আপনাদের জন্য কী করতে চেয়েছিলাম, আর কী করতে পেরেছি, এ বিষয়ে আমরা সব সময়ই সচেতন। আপনারাও নিশ্চয়ই মূল্যায়ন করবেন। “তবে আমরা মুখরোচক প্রতিশ্র“তিতে বিশ্বাসী নই। আমরা তা-ই বলি, যা আমাদের বাস্তবায়নের সামর্থ্য রয়েছে।” প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী মধ্যম আয়ের দেশে বাংলাদেশকে উন্নীত করা, মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার হওয়া, দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশে কমে আসা, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮.১৫ শতাংশে উন্নীত হওয়া, পদ্মা সেতু-মেট্রোরেল স্থাপন, মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। ছোটোখাটো অভিঘাত এই অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ।” গত এক দশকে দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি ভবিষ্যত পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নের সুফল যেন সবাই পায়, সেজন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। “মানুষের কল্যাণের জন্য আমি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দ্বিধা করব না। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি আবারও সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই, দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।” গত বছরের কাজের মূল্যায়নের ভার জনগণের উপর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে। আমরা সবক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়েছি, তা দাবি করব না। কিন্তু এটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি, আমাদের চেষ্টার ক্রটি ছিল না।” বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত বছরের ‘অনাকাঙ্খিত’ ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আমরা এসব কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের প্রশ্রয় দেইনি। জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। “কোনো কোনো মহল গুজব ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। আমরা জনগণের সহায়তায় দ্রুত সেসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।” ডেঙ্গু মোকাবেলার গত বছরের ব্যর্থতার নিরিখে এবার আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা। “এডিস-মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর গত বছর সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও বেশ কিছু মূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে এই রোগে। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এডিস-মশার বিস্তার রোধে আগে থেকেই সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিচ্ছি।” জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপন থেকে প্রেরণা নিয়ে নতুন পথ চলার কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “এই উদযাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব নয়, এই উদযাপনের লক্ষ্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা; স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তির প্রাক্কালে জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া। “আসুন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে তার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন করে শপথ নেই।”