সভাপতি ড. মাহবুব ॥ সম্পাদক ড. আরফিন

ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটির ঘোষণা

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এস এ মালেক স্বাক্ষরিত ১০১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির সভাপতি হয়েছেন প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল আরফিন। গতকাল সোমবার দুপুরে নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসস্থ মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যালে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মধ্যদিয়ে দিয়ে এ কমিটির যাত্রা শুরু হয়। মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যালে শ্রদ্ধা নিবেদন পূর্বে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা থেকে নব গঠিত কমিটির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এস এ মালেক এবং উপদেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। ডা ঃ এস এ মালেক তাঁর বক্তৃতায় আশা প্রকাশ করে বলেন- নবগঠিত কমিটির সাথে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের সকল মুজিব আদর্শের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কাজ করবে এবং শিক্ষাঙ্গন থেকে সকল প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতির মুলৎপাটন করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। প্রফেসর আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক  মুজিববর্ষে বিশ^বিদ্যালয়ের নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে সকল নেতা-কর্মীকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে শরীক হবার আহবান জানান। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত মুজিব আদর্শের প্রায় ৫ শত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে এক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রতিকারে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে তালা

নিজ সংবাদ ॥ ৩৮ বছর ধরে নিজ মালিকানাধীন দোকান ভাড়া দিয়ে নিজের ব্যয়বহুল সংসার পরিচালনা করে আসছেন কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়ার বাসিন্দা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধা ভাতায় সংসারে কোনমতে স্বচ্ছলতা এনে দেয়। কিন্তু আজ ৩৮ বছর পর যেন সব কিছু ওলট পালট হয়ে গেল। ভাই-ভাতিজা কর্তৃক নিজ মালিকানাধীন দোকান জবরদখল আর তাদের হাতে লাঞ্ছণা জীবনের শেষ মুহুর্ত হতে হলো কলঙ্কিত। জীবন হাতে নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন কাটছে চরম আতঙ্কে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েও যেন না পাওয়ার আক্ষেপ তো আছেই। শেষ পর্যন্ত দোকানের দখল পেতে  জেলা প্রশাসনের স্মরনাপন্ন হলেও কর্তৃত্ব যেন অপশক্তির হাতেই।

এমনই বুকভরা কষ্ট নিয়ে একেকটি দিন পার করছেন ৭১’র বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। ৩৮বছর ধরে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া একমাত্র দোকান ভাড়া দিয়েই ৬ সদস্যের ব্যয়বহুল সংসার চালিয়ে আসা এই মুক্তিযোদ্ধা নি:স্ব হয়ে গেলেন গত বছরের ১৯ আগষ্ট। অন্য কারো নয়, লালসার বশবর্তি হয়ে তাঁরই ছোট ভাই মতিউর রহমান ও তার ছেলে শহিদুর রহমান  জোরপূর্ব দখলে নেয় শুকরিয়া টেলিকম নামে ওই দোকান। অন্যের কাছে ভাড়া দেয়া দোকানটির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে যখন অন্য ভাড়াটিয়ার সাথে চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়া চলছিল ঠিক তখনই মতিউর ও ছেলে শহিদুর বলপ্রয়োগ করে দোকানে তালা মেরে দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, চেম্বার নেতৃবৃন্দ এবং সর্বপরি থানা পুলিশের সহায়তা কামনা করলেও কাঙ্খিত সহায়তা পাননি তিনি। উল্টো দোকানের দখল নিতে গেলে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় তাকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। যদিও স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে দোকানের বৈধ মালিকানার প্রমানপত্র হাজিরের নির্দেশনা দিলেও তা দেখাতে ব্যর্থ হন মতিউর গং। এনিয়ে ডজনখানেক বৈঠকও হয় থানায় ও স্থানীয়ভাবে।

এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম গত ২৬ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি আমলে নেয় পুলিশ। পরে বিষয়টির কোন সুরাহা না হলে জেলা প্রশাসকের স্বরনাপন্ন হন আব্দুস সালাম। জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই নির্দেশনা কার্যকর না হওয়ায় এখনো দোকানের নিয়ন্ত্রনে রেখেছেন মতিউর ও তার ছেলে শহিদুর। বিষয়টি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে অবহিত করা হলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে উদ্যোগী হন। কিন্তু আইন আদালতের বিষয় থাকায় তারা আর এগুয়নি।  এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু জানান বিষয়টি আমাদের নলেজে রয়েছে। দোকানের বৈধ মালিক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর ভাই মতিউর ও ছেলে শহিদুর জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন প্রতিষ্ঠানটি। এনিয়ে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ বহুবার সুরাহার চেষ্টাও করেছেন। তাতে কোন ফল আসেনি। বর্তমানে আব্দুস সালামের পরিবারটি ভীষন অর্থ কষ্টে রয়েছেন। বিষয়টির দ্রুত সুরাহা হবার দরকার বলেও মনে করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের এই নেতা।

এবিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান বিষয়টি মীমাংসায় বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তাদের পারিবারিক বিরোধ থাকায় তা সুরাহা হয়নি। যেহেতু বর্তমানে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে তাই আমাদের হস্তক্ষেপ সঠিক হবেনা। আদালতের মাধ্যমেই তার সুরাহা হবে।

এদিকে একমাত্র উপার্জন মাধ্যম দোকান বেদখল হওয়ায় চরম অর্থকষ্টে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। তিনি জানান অভাবের সংসার। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে যা আয় হয় এবং দোকান ভাড়া  পেয়ে যে অর্থ আসত তা দিয়ে ব্যয়বহুল সংসার কোনমতে চলে আসছিল। গত ২৬ডিসেম্বর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় দোকানের দখল বুঝে নিতে দোকানে গেলে আামাকে লাঞ্ছিত এবং আমার সাথে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের কটুক্তি করে মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যরা। এবিষয়ে ২৮ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়। প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয় যার কপি। বিষয়টি অবহিত করা হয় স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকেও। এছাড়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে ১১২জন মুক্তিযোদ্ধা স্বাক্ষরিত একটি পত্রও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমানে চরম দুরাবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে। তাই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনসহ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় তথা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে ইবিতে মতবিনিময় সভা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় বর্ষব্যাপী পালনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে প্রশাসন ভবনের সভাকক্ষে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র (ড. রাশিদ আসকারী) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, বিভিন্ন অনুষদীয় ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা, অফিস প্রধানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ। সভা থেকে নি¤œরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়- (১) সরকার ঘোষিত “মুজিববর্ষ” যথাযোগ্য মর্যাদায় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ইন্সটিটিউট, সকল হল/বিভাগে বছরব্যাপী উদ্যাপন (২) ১২ মাসে ১২টি শিরোনামে বিশেষজ্ঞ বক্তার একক বক্তৃতা (৩) বঙ্গবন্ধু কেন্দ্রীয় নাটক, গান, কবিতা আবৃত্তি, নাচ, বির্তক প্রতিযোগিতা, শিশু-কিশোরদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ছবি আকাঁ, চিত্র প্রদর্শনী, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সাত দিনব্যাপী বইমেলা, বিভাগ ভিত্তিক বিভিন্ন খেলাধুলা, মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশসহ সৃজনশীল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কর্মসূচি গ্রহণ (৪) মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ প্রভৃতি।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় শিল্পকলা একাডেমি পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ যোগ্য সাংস্কৃতিক কর্মী তৈরীতে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেছেন, সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গন অনেক ঐতিহ্য বহন করে আসছে এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় গুরুত্বপূর্ন অবদান রেখে চলেছেন। দেশের খ্যাতনামা, যোগ্য ও বলিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী তৈরীতে কুষ্টিয়া অনেক এগিয়ে রয়েছে এবং সফলতা, সুনামও সুখ্যাতী অর্জন করেছেন। দেশের বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রী, কন্ঠশিল্পী, সুরকার-গীতিকারসহ অনেক মহা মনীষিদের জন্ম এই জেলার মাটিতেই। খ্যাতনামা, যোগ্য ও বলিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী তৈরীতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ায় নির্মানাধীন আধুনিক শিল্পকলা একাডেমি ভবনের কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক চর্চা সত্যিকার অর্থে অন্য জেলার চেয়ে অনেক গ্রহনযোগ্য। সুনামের সাথে এগিয়ে নিচ্ছে  বাংলা সাংস্কৃতিকে। শিল্পকলা একাডেমিকে সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বেশি বেশি করে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা, নাটক, থিয়েটার মঞ্চস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ােেত হবে। তুলে আনতে হবে বাংলার হারানো ঐতিহ্যকে। অনেক অভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রী চর্চার অভাবে পড়ে রয়েছে বাংলার পরতে পরেত। তাদের যোগ্য সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত এনে দিতে হবে শিল্পকলাকেই। মন্ত্রী বলেন- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যোগ্য সাংস্কৃতিক কর্মী গড়ে তুলতে সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ে ১০০টি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছে। এই প্রকল্পের আওতাধীন সর্বপ্রথম কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, এধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে লেখাপড়ার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চায় আরো মনোযোগি করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের সম্মানী ভাতাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে। অসহায় , দুস্থ্য ও অবসর নেয়া বয়স্ক সাংস্কৃতিক কর্মীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের পাশে আছে এবং আগামীতেও থাকবে। এ সময় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম  হোসেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুর নাহার, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আব্দুর রশীদ চৌধুরী, আশরাফ উদ্দিন নজু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহীন সরকার, নির্বাহী সদস্য জাফর আহামেদ, নাসির উদ্দিন, জিল্লুর রহিম, কালচারাল অফিসার সুজন রহমান, অফিস সহকারী বিউটি আক্তারসহ, শিল্পকলা একাডেমির সদস্য ও জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ লালন একাডেমি পরিদর্শন করেন এবং জেলা প্রশাসকের আয়োজনে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে এক মতবিনিময় যোগ দেন। মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলা সংস্কৃতির মূল ধারা লোকসংস্কৃতি। এই ধারাকে যারা পুষ্ট করেছে ফকির লালন তাদেরই একজন। এক্ষেত্রে কুষ্টিয়া খুব সৌভাগ্যবান। যেখানে বাউল সম্রাট লালন সাঁই তাঁর অসংখ্য গান রচনার ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছে এবং এই কুষ্টিয়ার পুণ্যভুমিতে বসবাস করেছেন। বাঙালী সংস্কৃতির মহান প্রতিনিধি লালন ফকির, গানে ও সাধনায় তার দর্শণে সেই মানবিক মূল্যবোধে সেই সামাজিক চেতনা উঠে এসেছে। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের অমরত্বের জন্যই কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়া এখন বিশ্ব মরমীর তীর্থ কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। লালন মেলাকে আরো প্রানবন্ত ও উপভোগ্য করতে সরকারি বরাদ বৃদ্ধি করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী ঘোষনা দেন। প্রতিমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমি পরিদর্শন শেষে লালন একাডেমিতে শিল্পীদের কন্ঠে পরিবেশিত লালন সংঙ্গীত অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

আজ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন-রেডিও এবং অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি নতুন সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে টানা এতদিন ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড কারও নেই।

আওয়ামী লীগ সরকারের বছর পূর্তি আজ

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের বছর পূর্তি আজ মঙ্গলবার। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা গত বছরের ৭ জানুয়ারি চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন এবং ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন। একই বছরের ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়ে ২৬ কার্যদিবস চলার পর ১১ মার্চ অধিবেশনটি শেষ হয়। অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন এই এক বছরে দেশের সার্বিক উন্নয়নে বেশ কিছু সাফল্য দেখিয়েছে সরকার। বিশেষ করে-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি সরকারের বড় সাফল্য। আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী মেগা প্রকল্পকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পদ্মা সেতু নির্মাণসহ প্রায় ডজনখানেক বড় প্রকল্প সময়মত শেষ করার লক্ষেই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে কাজ। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট। যার মধ্য দিয়ে দেশের ৯৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতাভুক্ত। এছাড়াও ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্যতম কর্মসূচির কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, কম্পিউটার ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধার মাধ্যমে গ্রামের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যহত রয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন। অন্যদিকে নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের নিশ্চয়তা বাস্তবায়নের পথে। শিল্পায়ন, শিক্ষায় উন্নতি, সড়ক, রেলপথ ও বিমান পথে যোগাযোগের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণের পথে অনেক দূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ মহাজোট গঠনের মধ্যদিয়ে নিরঙ্কুশভাবে জয় পায় এবং টানা তৃতীয়বারের মতো পাঁচ বছরের জন্য সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায় । একই বছরের ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষণায় ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হলেও ১২ নভেম্বর পুনঃতফসিলে তা পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশের দু’টি দল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোটসহ বাংলাদেশের নিবন্ধিত সর্বমোট ৩৯টি দল অংশগ্রহণ করে।

দেহরক্ষীর মৃত্যুতে  শাকিবের শোক

বিনোদন বাজার ॥ ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের দেহরক্ষী হারুন অর রশিদ মারা গেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর গ্রিনরোডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না…রাজিউন)।

শাকিব খানের ব্যক্তিগত মেকআপ আর্টিস্ট সবুজ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। সবুজ জানান, হারুন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন এবং তার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল।

হারুনের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সেখানে পারিবারিক কবরস্তানে তার দাফন হবে।

এদিকে দীর্ঘদিনের দেহরক্ষী হারুনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন নায়ক শাকিব খান। তিনি বলেন, আমার জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন হারুন। শুটিং ও ব্যক্তিগত চলাফেরায় তিনি সবসময় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি আমার পরিবারের একজন সদস্যের মতই ছিলেন। হারুনের এত দ্রুত চলে যাওয়াটা আমার জন্য ভীষণ কষ্টের। হারুনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

 

প্রথমবার একসঙ্গে নোবেল-পূর্ণিমা

বিনোদন বাজার ॥ দীর্ঘদিন শোবিজ অঙ্গনে থাকলেও একসঙ্গে কাজ করা হয়ে উঠেনি নোবেল ও পূর্ণিমার। তবে এই দুই তারকাকে প্রথমবার একই পর্দায় হাজির করতে যাচ্ছেন নাট্যনির্মাতা শেখ সেলিম। তার ‘মেঘ বলেছে যাব’ নাটকে অভিনয় করছেন নোবেল ও পূর্ণিমা। নাটকটির গল্প প্রসঙ্গে নির্মাতা জানান, দীর্ঘদিন প্রেম করার পর নোবেল ও পূর্ণিমা সংসারী হয় বিয়ের মাধ্যমে। কিন্তু বিয়ের অল্পদিনের মধ্যেই সংসারে সংকট শুরু হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মান-অভিমান চলতে থাকে। এভাবেই নানা ঘটনায় নাটকের গল্প এগিয়ে যাবে।

নাটকটি লিখেছেন মেহরাব জাহিদ। চলতি মাসের শেষদিকে রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে নাটকটির শুটিং শুরু হবে। এতে স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে দেখা যাবে এই দুই তারকাকে। নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে নোবেল বলেন, নাটকটির গল্প শুনেছি। সমসাময়িক ঘটনা এ নাটকে উঠে আসবে। আশা করছি ভালো একটি কাজ হবে এটি। অন্যদিকে পূর্ণিমা বর্তমানে ওমরা হজ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলেই নাটকের শুটিং কবে শুরু হচ্ছে সেই তারিখ নির্ধারণ করা হবে। আগামী ঈদে সম্প্রচারের উদ্দেশে নাটকটি নির্মিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু আঙ্গুর চাষের জন্য উপযোগী

কৃষি প্রতিবেদক ॥ প্রবাদ আছে আঙ্গুর ফল টক। আর এ কথাটি আমাদের জন্য বেশ কার্যকর এ কারণে যে এই ফলটি আমরা এতদিন ফলাতে পারিনি। পুরোটাই আমদানি করতে হয়। উচ্চমূল্যের কারণে বরাবরই সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। কখনো কেউ অসুস্থ হলে কিংবা কালেভদ্রে সাধারণ পরিবারের মানুষ আঙ্গুর খায়। কিন্তু আমাদের মাটি ও জলবায়ু আঙ্গুর চাষের জন্য উপযোগী। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঙ্গুর চাষ হলেও সেটা পারিবারিক বাগানের আওতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক আঙ্গুর চাষের চেষ্টা চালানো হয় ১৯৯০ সালে গাজীপুরের কাশিমপুরস্থ বিএডিসির উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে। আঙ্গুর চাষের জন্য জমি ও মাটি নির্বাচন দোআঁশযুক্ত লালমাটি, জৈব সারসমৃদ্ধ কাঁকর জাতীয় মাটি এবং পাহাড়ের পাললিক মাটিতে আঙ্গুর চাষ ভালো হয়। জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে যেখানে পানি দাঁড়িয়ে থাকবে না এবং প্রচুর সূর্যের আলো পড়বে এমন জায়গা আঙ্গুর চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। জমি তৈরি কীভাবে করবেন। ভালোভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুর করবেন । তারপর ৭০দ্ধ ৭০দ্ধ ৭০ সেন্টিমিটার মাপের গর্ত করে তাতে ৪০ কেজি গোবর, ৪০০ গ্রাম পটাশ, ৫০০ গ্রাম ফসফেট এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া গর্তের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন রেখে দিতে হবে যেন সারগুলো ভালোভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। সংগৃহীত চারা গোড়ার মাটির বলসহ গর্তে রোপণ করে একটি কাঠি গেড়ে সোজা হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে এবং হালকা পানি সেচ দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আঙ্গুর চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় মার্চ-এপ্রিল মাস। আঙ্গুর যেহেতু লতানো গাছ তাই এর বৃদ্ধির জন্য সময়মতো বাড়তি সার প্রয়োগ করতে হবে। রোপণের ১ মাসের মধ্যে বাড়বাড়তি না হলে গোড়ার মাটি আলগা করে তাতে ৫ গ্রাম ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা দরকার। ১-৩ বছরের প্রতিটি গাছে বছরে ১০ কেজি গোবর, ৪০০ গ্রাম পটাশ, ৫০০ গ্রাম ফসফেট এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। পটাশ সার ব্যবহারে আঙ্গুর মিষ্টি হয় এবং রোগ-বালাইয়ের উপদ্রব কম হয়। গাছ বেড়ে ওঠার জন্য গাছের গোড়ায় শক্ত কাঠি দিতে হবে এবং মাচার ব্যবস্থা করতে হবে- সে মাচায় আঙ্গুর শাখা-প্রশাখা ছড়াবে। গাছের কান্ড ছাঁটাই রোপণের পরবর্তী বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে মাচায় ছড়িয়ে থাকা আঙ্গুর গাছের কান্ড ছাঁটাই করতে হবে। অধিকাংশ খামারিরই প্রশ্ন- গাছে ফুল হয় কিন্তু ফল হয় না। এর কারণ কী? কান্ড ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে আঙ্গুর গাছের ফলন বৃদ্ধি হয় এবং ফুল ঝরে পড়া কমে যায়। ছাঁটাইয়ের ৭ দিন আগে এবং পরে গোড়ায় হালকা সেচ দিতে হয়। গাছ রোপণের পর মাচায় ওঠা পর্যন্ত প্রধান কান্ড ছাড়া অন্যসব পাশের শাখা ভেঙে ফেলতে হবে। প্রথম ছাঁটাই মাচায় কান্ড ওঠার ৩৫-৪৫ সেন্টিমিটার পর প্রধান কান্ডের শীর্ষদেশ কেটে দিতে হবে যাতে ওই কান্ডের দুই দিক থেকে দুটি করে চারটি শাখা গজায়। দ্বিতীয় ছাঁটাই গজানো চারটি শাখা বড় হয়ে ১৫-২০ দিনের মাথায় ৪৫-৬০ সেন্টিমিটার লম্বা হবে তখন ৪টি শীর্ষদেশ কেটে দিতে হবে যেখানে থেকে আরো আগের মতো দুটি করে ১৬টি প্রশাখা গজাবে। তৃতীয় ছাঁটাই এই ১৬টি প্রশাখা ১৫-২০ দিনের মাথায় ৪৫-৬০ সেন্টিমিটার লম্বা হবে তখন আবার এদের শীর্ষদেশ কেটে দিতে হবে যাতে প্রতিটি প্রশাখার দুদিকে দুটি করে ৪টি নতুন শাখা এবং এমনিভাবে ১৬টি শাখা থেকে সর্বমোট ৬৪টি শাখা গজাবে। অবশ্য সর্বক্ষেত্রেই যে ৬৪টি শাখা গজাবে এমন কোনো কথা নেই। এই শাখার গিরার মধ্যেই প্রথমে ফুল এবং পরে এই ফুল মটরদানার মতো আকার ধারণ করে আঙ্গুর ফলে রূপান্তরিত হবে। প্রথম বছর ফল পাওয়ার পর শাখাগুলোকে ১৫-২০ সেন্টিমিটার লম্বা রেখে ফেব্র“য়ারি মাসে ছেঁটে দিতে হবে ফলে বসন্তের প্রাক্কালে নতুন নতুন শাখা গজাবে এবং ফুল ধরবে। এই পদ্ধতি ৩-৪ বছর পর্যন্ত চলবে এবং ফলের স্থিতি লাভ করবে। পরিমিত সার এবং উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে একটি আঙ্গুর গাছ না হলেও ৩০ বছর ফলন দিতে পারে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি একরে ৪৩৬টি আঙ্গুর গাছ লাগানো যায় এবং জাতিতে ভিন্নতায় গড়ে প্রতি গাছে প্রতিবছর ৪ কেজি হিসাবে মোট ১৭৪৪ কেজি আঙ্গুর এক একরে উৎপাদন করা সম্ভব। হিসাব করে দেখা গেছে, কৃষকের বসতভিটার ৯ বর্গমিটার জায়গায় ৪টি গাছ লাগিয়ে বছরে সর্বোচ্চ তিনটি ফলনের মাধ্যমে ১৬ কেজি আঙ্গুর উৎপাদন করা সম্ভব। লাউ, শিম, কুমড়া এখন বসতভিটার আঙিনা থেকে বাণিজ্যিকভাবে মাঠপর্যায়ে চাষ হচ্ছে, অতএব বসতভিটার ওই মাচাটি এখন চাইলে আমরা আঙ্গুর মাচায় রূপান্তরিত করতে পারি।

শুরুর আগেই দ. আফ্রিকা সিরিজ শেষ ব্রাউনের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজের দল থেকে ছিটকে গেছেন প্যাট ব্রাউন। পিঠের নিচের দিকে চোট পেয়েছেন ইংল্যান্ডের ডানহাতি এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে অনুশীলনের সময় ব্যথা অনুভব করেন ব্রাউন। পরে স্ক্যানে চোট ধরা পড়ে। দ্রুত তার বিকল্প ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। ফেব্রুয়ারিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। দুই দলেই ছিলেন ব্রাউন। গত নভেম্বরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। এখনও ওয়ানডেতে অভিষেক হয়নি ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের।

দীপিকার বিরুদ্ধে স্ক্রিপ্ট চুরির অভিযোগ!

বিনোদন বাজার ॥ বর্তমানে ‘ছপাক’ সিনেমার প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন দীপিকা পাড়–কোন। সম্প্রতি সিনেমাটির এক সংবাদ সম্মেলনও করা হয়েছে। সে সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন যার জীবনকাহিনী নিয়ে নির্মিত এই সিনেমা সেই এসিড আক্রান্ত লক্ষ্মী আগরওয়ালও। মুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন ‘ছপাক’ তখনই সিনেমার স্ক্রিপ্ট চুরির অভিযোগ উঠল। গত শনিবার প্রযোজক রাকেশ ভারতী দীপিকা ও সিনেমার নির্মাতা মেঘনা গুলজারের নামে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে স্ক্রিপ্ট চুরির অভিযোগ করেছেন।

রাকেশ জানান, তিনি ও তার ছেলে এসিড আক্রান্ত তরুণীর জীবন নিয়ে একটি সিনেমার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২০১৫ সালের মে মাসে ‘ব্যাক ডে’ এই সিনেমার রেজিস্ট্রেশনও করেন তারা। সিনেমা নিয়ে কথা বলেছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই, কঙ্গনা রানাওয়াত ও ফক্স স্টার স্টুডিওজের সঙ্গে। রাকেশ দাবি করেন, ফক্স স্টার স্টুডিওজের অফিসে তিনি স্ক্রিপ্টটি জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই কেউ স্ক্রিপ্টে কিছু পরিবর্তন করে ‘ছপাক’ নামে বিক্রি করে দেয়।

বলিউডে এখন আলোচনা-সমালোচনা চলছে ‘ছপাক’ সিনোমার চুরির বিষয়টি নিয়ে। তবে দীপিকা ও ছপাকের টিমের কেউই এ বিষয় নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।

ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির পর নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিলেন লায়ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ তাসমান পারের দুই দেশের লড়াই জমল না মোটেও। ব্যাটে-বলে নিজেদের মেলে ধরে প্রতিবেশী নিউ জিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির পর পাঁচ উইকেট নিয়ে চার দিনেই সিডনি টেস্টে স্বাগতিকদের জয় এনে দিলেন ন্যাথান লায়ন। তিন ম্যাচের সিরিজে কিউইদের হোয়াইটওয়াশড করল টিম পেইনের দল। তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ২৭৯ রানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। লায়নের ৫ ও মিচেল স্টার্কের ৩ উইকেটে ৪১৬ রান তাড়ায় ১৩৬ রানে গুটিয়ে গেছে নিউ জিল্যান্ড। ম্যাচে ১০ উইকেট পেলেন অফ স্পিনার লায়ন। প্রথম ইনিংসে ৬৮ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট, এবার পেলেন ৫০ রানে। ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার ম্যাচে পেলেন ১০ উইকেট, ইনিংসে পাঁচ উইকেট হলো ১৮বার। দুই ওপেনার টম ব্লান্ডেল ও টম ল্যাথামকে শুরুতেই ফিরিয়ে দিয়ে সফরকারীদের নাড়িয়ে দেন স্টার্ক। জিত রাভালকে দিয়ে শিকার শুরু করেন লায়ন। প্রথম ইনিংসে ফিফটি পাওয়া অভিষিক্ত গ্লেন ফিলিপসকে খুলতে দেননি রানের খাতা। স্টিভেন ফ্লেমিংকে (৭১৭২) ছাড়িয়ে টেস্টে নিউ জিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে রস টেইলরের প্রয়োজন ছিল ২১ রান। এর চেয়ে এক রান বেশি করার পরই তাকে বোল্ড করে দেন প্যাট কামিন্স। ৩৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা নিউ জিল্যান্ড খানিকটা লড়াই করে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও বিজে ওয়াটলিংয়ের ব্যাটে। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে ৬৮ বলে ৫২ রান করা ডি গ্র্যান্ডহোমকে ফিরিয়ে ৬৯ রানের জুটি ভাঙেন লায়ন। এরপর বেশিদূর এগোয়নি নিউ জিল্যান্ডের ইনিংস। মাটি কামড়ে পড়ে থাকা ওয়াটলিংয়ের প্রতিরোধ ভেঙে নিউ জিল্যান্ডকে গুটিয়ে দেন লায়ন। এর আগে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউেন্ড বিনা উইকেটে ৪০ রান নিয়ে দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে যায় ওয়ার্নার ও জো বার্নসের ব্যাটে। এলবিডব্লিউর সফল রিভিউ নিয়ে বার্নসকে ফিরিয়ে ১০৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন টম অ্যাস্টল। দ্বিতীয় উইকেটে আরেকটি শতরানের জুটি গড়েন ওয়ার্নার ও মার্নাস লাবুশেন। আগের পাঁচ ইনিংসে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে না পারা ওয়ার্নার এবার পান তিন অঙ্কের দেখা। ২৪তম সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া বাঁহাতি এই ওপেনার ৯ চারে ১৫৯ বলে করেন ১১১ রান। প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান লাবুশেনের সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করছিলেন পেইন। দারুণ ছন্দে থাকা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান অবশ্য তিন অঙ্কের দেখা পাননি। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় সীমানায় ক্যাচ দিয়ে থামেন ৫৯ রানে। তার আউটের সঙ্গে সঙ্গে ২ উইকেটে ২১৭ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। পরে লায়ন-স্টার্কদের দারুণ বোলিংয়ে জয় তুলে নেয় চার দিনেই। অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্মে কোনো ম্যাচই গেল না পাঁচ দিনে। দারুণ ছন্দে থাকা লাবুশেন পান ম্যাচ ও সিরিজ সেরার পুরস্কার। সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৪৫৪ নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৫৬ অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৪০/০) ৫২ ওভারে ২১৭/২ ইনিংস ঘোষণা (ওয়ার্নার ১১১*, বার্নস ৪০, লাবুশেন ৫৯; হেনরি ১২-২-৫৪-১, ডি গ্র্যান্ডহোম ১৩-১-৪৩-০, ওয়েগনার ৯-১-৩৭-০, সমারভিল ১০-০-৩৬-০, অ্যাস্টল ৮-১-৪১-১) নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৭.৫ ওভারে ১৩৬ (ল্যাথাম ১, ব্লান্ডেল ২, রাভাল ১২, টেইলর ২২, ফিলিপস ০, ওয়াটলিং ১৯, ডি গ্র্যান্ডহোম ৫২, অ্যাস্টল ১৭, সমারভিল ৭, ওয়েগনার ০*, হেনরি আহত অনুপস্থিত; স্টার্ক ৯-৩-২৫-৩, কামিন্স ১১-৩-২৯-১, প্যাটিনসন ৬-৩-৮-০, লায়ন ১৬.৫-৪-৫০-৫, লাবুশেন ৫-০-২০-০) ফল: অস্ট্রেলিয়া ২৭৯ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৩-০ ব্যবধানে জয়ী ম্যান অব দা ম্যাচ: মার্নাস লাবুশেন ম্যান অব দা সিরিজ: মার্নাস লাবুশেন

 

টেস্টেও ফ্লেমিংকে ছাড়িয়ে চূড়ায় টেইলর

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ওয়ানডের পর টেস্টেও নিউ জিল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি রান করা ক্রিকেটার এখন রস টেইলর। সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন ফ্লেমিংকে ছাড়িয়ে তালিকার চূড়ায় উঠেছেন এই মিডল অর্ডার। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের চতুর্থ দিনে এই কীর্তি গড়েন টেইলর। ১৮৯ ইনিংসে ফ্লেমিংয়ের রান ৭ হাজার ১৭২। ১৭৫ ইনিংস খেলে তাকে পেরিয়ে গেলেন টেইলর, তার রান এখন ৭ হাজার ১৭৪। ফ্লেমিংকে ছাড়াতে এদিন ২১ রান করতে হতো টেইলরকে। ন্যাথান লায়নের বলে দৌড়ে তিন রান নিয়ে তা পেরিয়ে যান তিনি। রেকর্ড গড়ার পর আর এক রান করে বোল্ড হয়ে যান প্যাট কামিন্সের বলে। ম্যাচে ২৭৯ রানে হেরে সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয় কিউইরা। এই ইনিংসের মতো সিরিজটাও ভালো কাটেনি টেইলরের। পার্থে প্রথম টেস্টে ৮০ রান করার পরও সিরিজে তার মোট রান ২৫.৩৩ গড়ে ১৫২। সিরিজে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ওয়েলিংটনে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামলে ১০০ টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন টেইলর। ২০০৭ সালে জোহাসেনবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেকের পর করেছেন ১৯টি সেঞ্চুরি। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল কেন উইলিয়ামসনের, ২১ টি।   গত ফেব্রুয়ারিতে ডাবলিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ওয়ানডেতে ফ্লেমিংকে টপকে নিউ জিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন টেইলর। দেশটির হয়ে ওয়ানডেতে আট হাজার রান আছে কেবল এই দুজনের। রেকর্ড গড়ার পর আরও কয়েক বছর খেলা চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন ৩৬ ছুঁই ছুঁই টেইলর। “কবে থামব তা এখনো ঠিক করিনি। সবাই যেমনটা বলেৃতুমি নিজেই বুঝতে পারবে, কখন অবসর নিতে হবে। একবারে আমি কয়েক মাসের লক্ষ্য ঠিক করি। খুব বেশি সামনে তাকাই না, তবে সবকিছু ঠিক মতো চলছে। আশা করি, নিউ জিল্যান্ড দলের হয়ে আরও কয়েক বছর খেলব আমি।” সাবেক সতীর্থকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন ফ্লেমিং। “আজকের এই অর্জনের রস টেইলর অভিনন্দন তোমাকে। সিরিজটি কঠিন ছিল কিন্তু চমৎকার এই ক্যারিয়ারের জন্য তুমি গর্বিত হতে পারো…ওয়েল ডান।”

বিসিবির সঙ্গে গিবসনের ‘আলোচনা চলছে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশের বোলিং কোচ হতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সাবেক ক্যারিবিয়ান পেসার ওটিস গিবসনকেÑ এমন গুঞ্জনের মধ্যে গিবসন নিজেই জানালেন, সেটি সত্যিই। বিসিবির সঙ্গে আলোচনা চলছে তার। বিপিএলে এবার কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের কোচ হয়ে এসেছেন গিবসন। তিনি যখন এলেন, তখনও বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ ছিলেন শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট। কিন্তু বিপিএল চলার সময়ই জানা গেল, দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেয়ে বাংলাদেশ ছাড়ছেন তিনি। এরপর বিপিএল এগিয়ে গেছে, আলোচনায় উঠে এসেছে গিবসনের নাম। বিসিবি একাডেমি মাঠে সোমবার কুমিল্লার অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গিবসন নিশ্চিত করলেন বাংলাদেশের বোলিং কোচের প্রস্তাব পাওয়ার কথা। জানালেন নিজের আগ্রহের কথাও। “আলোচনা চলছে, অবশ্যই চলছে। এটা আমি অস্বীকার করব না। তবে চূড়ান্ত কিছু হওয়া এখনও অনেক অনেক দূর। তবে আলোচনা চলছে।” “দেখি কী হয়Ñ অবশ্যই আমি ক্রিকেট ভালোবাসি ও বোলারদের কোচিং করাতে পছন্দ করি। যদি এখানে এসে কাজ করা ও তরুণ ফাস্ট বোলারদের শেখানোর সুযোগ হয়, আমি অবশ্যই সুযোগটি নিতে চাইব।” সবশেষ গিবসন ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের প্রধান কোচ। সেখানে দুই বছরের দায়িত্ব শেষে আর নবায়ন না করার কথা জানানো হয় গত অগাস্টে। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচও ছিলেন, তার কোচিংয়ে ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা। দুই দফায় বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কোচিংয়ের স্বাদ প্রথম পেয়েছেন কুমিল্লার দায়িত্ব দিয়েই। গিবসনের ধারণা, সত্যিই বাংলাদেশের বোলিং কোচের দায়িত্ব পেলে তার কাজে সহায়তা করবে এবার বিপিএলে কাজ করার অভিজ্ঞতা। “কিছু ক্রিকেটারকে আমি এর মধ্যেই চিনতে পেরেছি। আল আমিন আছে আমাদের দলে, সে জাতীয় দলের পেসার। একটা সম্পর্ক তাই গড়ে উঠেছে। আমি নিজেও ক্রিকেটার ছিলাম, তাই ক্রিকেটারদের সঙ্গে সম্পর্ক কিভাবে গড়ে তুলতে হয়, জানা আছে আমার। এখানে এসে তাই তরুণ পেসারদের, এমনকি অভিজ্ঞদেরও কিছু শেখাতে আমার সমস্যা নেই।”

বিতর্কের তোপে সোনম কাপুর!

বিনোদন বাজার ॥ ‘সবার জন্য একটি ছোট্ট পরামর্শ আছে। রক্ষণশীলদের ভোট দেবেন না। তাদের থেকে দূরে থাকুন। তারাই আমাদের পৃথিবী ধ্বংসের জন্য দায়ী থাকবেন।’

মন্তব্যের কারণে কয়েকবার বিতর্কের তোপে পড়েছেন সোনম কপুর। আবারো পুনরাবৃত্তি ঘটলো সেই ঘটনার। সম্প্রতি তার টুইটারের একটি পোস্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ভক্তরা।

যা বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার দিকেই অভিনেত্রী ইঙ্গিত করছেন এমনটা মনে হতেই পারে। সোনম কাপুর তার টুইটে লিখেছেন, ‘সবার জন্য একটি ছোট্ট পরামর্শ আছে। রক্ষণশীলদের ভোট দেবেন না। তাদের থেকে দূরে থাকুন। তারাই আমাদের পৃথিবী ধ্বংসের জন্য দায়ী থাকবেন।’ সোনম কাপুরের এই টুইটটি এখন বেশ ভাইরাল। টুইটার ব্যবহারকারীরা তার এই টুইটে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। সোনমের এই টুইটটি পাকিস্তানের শিখ সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র গুরুদ্বারা নানকানা সাহেবের ওপর পাথর ছুঁড়ে মারার ঘটনার পরেই আসে। তবে তিনি নিজের টুইটে কোনোকিছুই স্পষ্ট করে ব্যক্ত করেননি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের একটা দল নানকানা সাহেবে আক্রমণ করে। তার একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরালও হয়েছিল। সোনম কাপুরকে শেষবার ‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’ ছবিতে দেখা যায়। এ বছর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সিনেমার খোঁজ নেই তার। তবে শিগগিরই নতুন সিনেমার খবর পাওয়া যাবে এ অভিনেত্রীর।

শেষ হলো নো ল্যান্ড’স ম্যানের শুটিং

বিনোদন বাজার ॥ মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন ছবি ‘নো ল্যান্ড’স ম্যান’র শুটিং শেষ হয়েছে। খবরটি ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন এই ছবির অভিনেতা ও সহ-প্রযোজক নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী। পোস্টে তিনি নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে পুরো ইউনিটের একটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে ফারুকী-নুসরাত ইমরোজ তিশা দম্পতি ছাড়াও আছেন কলাকুশলীরা।
নওয়াজ লিখেছেন, নিউইয়র্ক ও সিডনিতে ‘নো ল্যান্ড’স ম্যান’ ছবির শুটিং শেষ হলো। প্রাণবন্ত একটি ইউনিটের সঙ্গে কাজ করে দারুণ অভিজ্ঞতা হলো। সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। ছবিটির গল্প দক্ষিণ এশিয়ার একজন মানুষকে ঘিরে। আমেরিকায় অস্ট্রেলিয়ার এক তরুণীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর যার জীবনটা অদ্ভুতভাবে বদলে যায়।
ইংরেজি ভাষায় নির্মিত এই ছবিতে নওয়াজুদ্দিন ছাড়াও অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের সঙ্গীতশিল্পী তাহসান ও অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী মিশেল মেগান।

কাজ দিয়েই উত্তর দিতে চাই: বুবলী

বিনোদন বাজার ॥ এই বছর মুক্তির তালিকায় এরইমধ্যে দুটি সিনেমা যোগ হয়ে গেছে চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর। সিনেমাগুলো ‘বীর’ ও ‘ক্যাসিনো’। গতবছরে শুরু হওয়া এই সিনেমাগুলোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। এরমধ্যে কাজী হায়াত্ পরিচালিত ‘বীর’ সিনেমাটি রোজার ঈদে মুক্তি পাবে বলে জানা যায়। এর বাইরে ‘ক্যাসিনো’ সিনেমাটিও মুক্তি পাবে এ বছরেই। তাই বছরের শুরুটা বেশ ব্যস্ততার মধ্য দিয়েই শুরু হলো বুবলীর।

নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে বুবলী বলেন, ‘প্রতিটি নতুন বছরেই তো পরিকল্পনা থাকে ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাদার জায়গাটা যেন বেশ ভালো কাটে। সেই প্রত্যাশা এবারো। কাজের মাধ্যমে তো প্রতিদিনই শিখছি। একটি বছর যাওয়া মানে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে নতুন আরো কিছু অভিজ্ঞতা যোগ হওয়া। এই বছরেও ভালো কিছু অভিজ্ঞতা ক্যারিয়ারে যোগ হবে সেই প্রত্যাশা করি। আর পরিকল্পনার কথাগুলো বলার চেয়ে কাজ দিয়েই উত্তর দিতে চাই। তবে দর্শকদের ভালোবাসা যেন আরো বেশি পাই সেভাবেই কাজ করবো।’

গত কয়েকবছরে সিনেমার যে অবস্থা সেই জায়গা থেকে এ বছর সিনেমার ভালো অবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে বুবলী আরো বলেন, ‘এই বছরটা আমি বেশ আশাবাদী। কারণ গত ২ বছর আমাদের সিনেমার অবস্থাটা যে কিছুটা হলেও উন্নতির দিকে গেছে সেটি বলতে পারি। হয়তো সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু সিনেমায় যে নতুনত্বের হাওয়া লেগেছে সেটি বেশ পজিটিভ।

সেই ধারাবাহিকতা এ বছর আরো বেশি থাকবে। অনেকেই এখন সিনেমার দিকে ভিড়ছেন। মূলধারার সিনেমার বাইরেও সিনেমা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে। এটি খুব ভালো একটি দিক। কারণ এক্সপেরিমেন্ট না হলে ভালো কিছু বের হবে না। সেই চর্চাটা আমাদের এখন শুরু হয়েছে এবং এ বছর এর ব্যাপ্তি আরো বাড়বে।’