বিএনপি পরিবারতন্ত্র লালন করে – তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি পরিবারতন্ত্রের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং তারা পরিবারতন্ত্র লালন করে। আওয়ামী লীগে পরিবারতন্ত্র চলছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পরিবারতন্ত্রের মধ্যে বসে তিনি যে কথা বলেছেন, এটি তার দলের বেলায়ই প্রযোজ্য।” গতকাল রোববার সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী তার দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রেসব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনকে কোন যোগ্যতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে প্রশ্ন রেখে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তিনি কি আগে কখনো রাজনীতি করেছেন? নাকি সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বলেই তাকে এই পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাবিথ আউয়ালের বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। প্রথমবার যখন মনোনয়ন দেয়া হয়, তখন তিনি কোন যোগ্যতায় পেয়েছিলেন? ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলে যোগ্যতায়!।’ আরো উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া তো তার দলের মধ্যে পুরোপুরি পরিবারতন্ত্র চালু করেছেন। তার বোন খুরশিদ জাহান হককে তিনি প্রথমে মহিলা দলের নেতৃত্ব দেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বানান এরপর তাকে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বানান। তার ভাই সাঈদ ইস্কান্দরকে তিনি এমপি বানান এবং দলে তার জন্য বিশেষ সম্পাদকের পদ তৈরী করা হয়েছিল। তার আরেক ভাই শামীম ইস্কান্দর কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলেও বিমানের ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে সবকিছু তিনিই নিয়ন্ত্রণ করতেন।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার আরেক বোন ব্রুনাইতে থাকেন। তার ছেলে সাইফুল ইসলাম ডিউককে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এ পদে থেকে তিনি যেমন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তেমনি অনেক কলংকেরও জন্ম দিয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি সরকারি বাড়ি দখল করেছিলেন। তার আরেক ভাই তুহিন নীলফামারী বিএনপির সভাপতি অর্থাৎ খালেদা জিয়ার ভাগ্নে।’ ‘এছাড়া আমরা একদিন সকাল বেলা দেখতে পেলাম, বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র জনাব তারেক রহমান হঠাৎ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব’ উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) কোনো রাজনীতির মধ্যে ছিলেন না, ওয়ান ফাইন মর্নিং আমরা দেখলাম তিনি বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এখন বিএনপি চেয়ারম্যান হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হচ্ছেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। দু’জনই শাস্তিপ্রাপ্ত আসামী, দুর্নীতি এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায়ে তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নেই। আপনারা দেখেন নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে নিপুন রায় চৌধুরী, বাবা মেয়ে দুজনই বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তারপর, গয়েশ্বর বাবুও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং উনার ছেলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। মির্জা আব্বাস বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং তার স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি। পুরো পরিবারতন্ত্রের মধ্যে বসে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব যে কথাটি বলেছেন এটি তাদের দলের বেলায়ই প্রযোজ্য।’ ‘আমাদের দলে কাউকে পারিবারিক কারণে কোনো পদ দেয়া হয় না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তারেক রহমান হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে সমান্তরাল সরকার পরিচালনা করেছিলেন। আমাদের দলে এ ধরণের কোনো কিছু হয়নি এবং ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী ও তিনবারের সংসদ সদস্য। জনপ্রিয়তার বিচারে, যোগ্যতার বিচারে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমার প্রশ্ন, কোন বিচারে ইশরাক হোসেনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে? সুতরাং যে কথাটি তিনি বলেছেন, এটি বিএনপির বেলায় প্রযোজ্য, আমাদের দলে সেই চর্চা নাই।’ আওয়ামী লীগের গত কাউন্সিলে চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিনের পুত্র ব্যারিস্টার নওফেলকে পিতার মৃত্যুর পর দায়িত্ব দেয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘তাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব এবং তৎপরবর্তিতে শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তিনি তার যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত যে সঠিক, সেটি তিনি প্রমাণ করেছেন। এবং শেখ ফজলে শামস পরশের ব্যাপারেও আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করবেন পরশ একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ। কেউ কেউ বলে যে, রাজনীতিতে শিক্ষিত মানুষের বড় অভাব। সেই ক্ষেত্রে আমি মনেকরি তার মতো একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিকে যুবলীগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেটি সমুচিত পদক্ষেপ ছিল। এটি সারাদেশে প্রশসিংত হয়েছে।’ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি বেগম সুলতানা কামালের পরিবেশ নিয়ে এক বক্তব্য প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সুলতানা কামালের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তিনি সবসময় কড়া কথা বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। যেভাবে ঢালাওভাবে কথাগুলো বলেছেন, তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিচালিত জরিপের ডাটা দেখার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলোর দিকে তাকালে তিনি নিশ্চয়ই তার ভুল বুঝতে পারবেন এবং বক্তব্যের জন্য লজ্জা পাবেন। সবিস্তার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে পরিবেশ গবেষক ও আওয়ামী লীগের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার আগে বাংলাদেশে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ১৮ শতাংশের কম। এখন বাংলাদেশে বৃক্ষআচ্ছাদিত এলাকা ২২.৪%। বাংলাদেশে বনভূমির পরিমান ছিল আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার আগে ৯ শতাংশ, এখন সেটি ১২.৭ শতাংশ। আমরা যখন ২০০৯ সালের সরকার গঠন করি তখন বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ শিল্প কারখানায় ইটিপি (এফফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) ছিল, এখন সেটি ৮৫ শতাংশের বেশি শিল্প কারখানায় আছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আপনারা একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় দেখেছেন সুন্দরবনে কার্বন স্টক বেড়েছে। সুন্দরবনে আগে কার্বন স্টক ছিল ১০৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন এখন সুন্দরবনে কার্বন স্টক হচ্ছে ১৩৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন। আমি সুলতানা কামালকে অনুরোধ জানাবো এই ‘ডাটা’গুলো দেখার জন্য। এগুলো আমার দেয়া ‘ডাটা’ নয়, বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থা এই ডাটাগুলো তৈরি করেছেন। সুতরাং এগুলোর দিকে তাকালে তিনি তার ভুল বুঝতে পারবেন। সুলতানা কামাল নিজে দেখতে না পারলেও জাতিসংঘ কিন্তু লক্ষ্য করেছে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার অর্থাৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পর রাজনীতিবিদরা এই সমস্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যে অনেক কাজ হয়েছে, সেটি বেগম সুলতানা কামাল লক্ষ্য না করলেও জাতিসংঘ লক্ষ্য করেছে। এই জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আপনারা জানেন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে উৎসাহিত করার জন্য বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ওয়াইল্ড লাইফ এওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যাপক বনায়ন করা হয়েছে। এবং একইসাথে পরিবেশ সংরক্ষণে যারা কাজ করে, তাদেরকে পুরস্কৃত করার জন্য ২০০৯ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক চালু করা হয়েছে। এবং এই জাতীয় পরিবেশ পদক আমরা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপাকেও দিয়েছি।’

আবরার হত্যা 

৪ আসামির বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার পলাতক ৪ শিক্ষার্থীর বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আসামিরা হলেন, মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও মোস্তবা রাফিদ। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন এজহারভুক্ত আসামি। গত ৩ ডিসেম্বর আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এ চার আসামির সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত। আজ ওই তামিল প্রতিবেদন দাখিল করা হলে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন। চার আসামির গ্রেফতার-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য ছিল। তবে তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি বলে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আসামিদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি ক্রোকের পরোয়ানা জারি করা হয়। এর আগে ১৮ নভেম্বর চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম। ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভূক্ত ১৯ জন এবং এজাহার বহির্ভূত ছয়জন। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন ও এজাহারবহির্ভূত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আটজন। আবরার বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদি হয়ে রাজধানীর চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’

ঢাকা অফিস ॥ ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানির এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না ইরান। ইতিমধ্যে দেশটির লাখো মানুষ এর প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। এদিকে ইরাকে তার জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন যারা আমেরিকার মৃত্যু চেয়ে স্লোগান দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, যুদ্ধের জন্য আমরা প্রস্তুত।

জানাজায় অংশ নেয়া অনেক ইরাকি বলেছেন, আমেরিকা ইরাকের সার্বভৌমত্বকে ও আমাদের যোদ্ধাদের আঘাত করেছে। আলি নামের একজন বলেছেন, আমরা ইরাকি সরকার ও পপুলার মোবিলাইজেন ফোর্স বা হাশাদ আশ-শাবি বাহিনীকে আমেরিকার এমন হামলার জবাব নিতে বলছি। এছাড়া আমেরিকার এমন হামলা অনেক বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ভাবে যদি এই হামলার জবাব দেয়া না যায় তাহলে সামরিকভাবে এর জবাব দেয়া হোক। এদিকে সবচেয়ে ক্ষমতাধর জেনারেল এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কুদসের প্রধান কাসেম সোলেইমানি মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কাউন্সিল বলেছে, ‘সঠিক সময়ে এবং সঠিক জায়গায়’ এ হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এমন দুঃসাহসিক সন্ত্রাসীমূলক কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী থাকতে হবে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল কৌশলগত ভুল, এবং যুক্তরাষ্ট্র সহজেই এর পরিণতি থেকে পাড় পাবে না। গত শুক্রবার ইরাকের বাগদাদের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের বিপ্লবী এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানি ও ইরান সমর্থিত পপুলরার মবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) উপ-প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। আল জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন।

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোচিকিসক কেন নয় – হাই কোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পেশাদার বিশেষজ্ঞ মনোচিকিৎসক বা পরামর্শক নিয়োগে পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, জনপ্রশাসন সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সচিবসহ ছয় বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অবক্ষয় রোধ, মূল্যবোধ সম্পন্ন করে গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পেশাদার বিশেষজ্ঞ মনোচিকিৎসক (ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট) বা পরামর্শক (কাউন্সেলর) নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে গত ২৪ নভেম্বর হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া। রোববার শুনানিতে আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ পরে সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধানের ১৭ (খ) ধারা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধসম্পন্ন, আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্র সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।” ফরহাদ বলেন, “আমাদের সমাজে অনেক শিক্ষার্থীই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, কেউ কেউ হতাশায় ভুগছে, সেই হতাশা থেকে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছে। আবার কেউ কেউ নানা অপরাধমূলক কর্মকা-েও জড়িয়ে যাচ্ছে। “শিক্ষার্থীরা সেসব বিষয় পরিবারের সঙ্গ শেয়ার করতে পারছে না বা করছে না। আবার পরিবারও অসচেতন থাকছে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি পেশাদার মনোচিকিৎসক বা পরামর্শক থাকে তাহলে শিক্ষার্থীরা তাদের কাছ থেকে চিকিৎসা বা পরামর্শ নিতে পারত।” বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনো পরামর্শক, চিকিৎসক আছে। সে যুক্তি তুলে ধরেই রিট আবেদনটি করা হয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের

বিএনপিতে গণতন্ত্র নেই

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপিতে গণতন্ত্র নেই। তাই তারা যথা সময়ে দলের সম্মেলন করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে গণতন্ত্র আছে। বিএনপিতে গণতন্ত্র নেই। তারা আমাদের এক বছর আগে সম্মেলন করেছে আজ পর্যন্ত তাদের সম্মেলন করতে পারেনি। তারা মিটিং আহ্বান করলেও তা হয় একটা ফ্লপ মিটিং।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল রোববার রাজধানীর রমনা পার্ক রেস্তোরা প্রাঙ্গনে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উত্তর প্রীতিভোজ ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শুরুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মিটিং আহ্বান করেও সেই মিটিং হয় একটা ফ্লপ মিটিং। সেখান থেকে তারা কোন কর্মসূচি নিতে পারে না। কর্মীরা হতাশ হয়। তাদের কোনো ঘরোয়া গণতন্ত্র নেই। তিনি বলেন, বিএনপির জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির বেশিরভাগ জায়গায় অস্তিত্ব নেই। কবে কমিটি হয়েছে কেউ জানে না। তাই বিএনপি নেতাদের মুখে এই কথা শোভা পায় না। ‘দেশ পরিবারতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া এরা কোন পরিবারের নেতা আমরা জানতে চাই। বিএনপির মূল নেতৃত্বই তো একটি পরিবার থেকে এসেছে। এটা বেগম জিয়া ও তার সন্তান তারাই তো হর্তা কর্তা বিধাতা। এখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম তো তাদেরই ইয়েস ম্যান হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা আমাদের সভাপতি। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে আসেননি। শেখ হাসিনা তার যোগ্যতার বদৌলতে প্রমান করেছেন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের তিনিই হচ্ছেন অসীম সাহসী কান্ডারি। যার কারণে বাংলাদেশ, উন্নয়ন অর্জনে বিশ্ব সভায় বিশেষ মর্যাদায় মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে। এই সাফল্যে স্বাপ্নিক রুপকার হচ্ছে শেখ হাসিনা। ‘বিএনপি আন্দোলনের অংশ হিসেবে সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন এখনো হলোই না। কেমন নির্বাচন এটা তারা এখনই আগাম মন্তব্য করলেন। এটা বিএনপির পুরোনো স্বভাব। তারা এভাবেই কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন হওয়ার আগেই হেরে গেছে। তাদের মুখে এখনই পরাজয়ের সুর। তারা আন্দোলনে পরাজিত, নির্বাচনে কিভাবে বিজয়ী হবে। বিএনপি আন্দোলনে পরাজিত নির্বাচনেও তারা পরাজিত হবে এটা ভালো করেই জানে। এজন্য তারা কথামালার চাতুরী দিয়ে নির্বাচন হওয়ার আগেই নির্বাচন সম্পর্কে আগাম বিষোধগার করে, সরকারি দলকে অভিযুক্ত করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন টা আগে হোক। জাতি দেখবে কেমন নির্বাচন হয়। আমরা বলেছি নির্বাচন কমিশনকে একটা অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আামাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন ভোটারদের ঘরে ঘরে যাওয়ার জন্য। আমরা নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করলে আমরা কেন জনগণের দোরগোড়ায় ভোট ভিক্ষা করতে যাবো। আমরা তো ভোটারদের মন জয় করে বিজয়ী হতে চাই। এ সময়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও মির্জা আজম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদু নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক ব্যরিষ্টার বিপ্লব বড়য়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রশাসন নিশ্চুপ

দৌলতপুরে রাতের আধারে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের ধান 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ শুরু থেকেই রয়েছে। দৌলতপুরের কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের সরকারী নির্দেশনা থাকলেও সেসব ধান ক্রয় করা হচ্ছে দৌলতপুরের বাইরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। আর এসব ধান ব্যবসায়ী ও তাদের পোষা বাহিনীর কড়া প্রহরায় ট্রলি বোঝাই হয়ে দিনের বেলায় সরবরাহ না করে রাতের আধারে দৌলতপুর খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা হচ্ছে। ধান ক্রয়ের প্রকাশ্য এমন অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নির্বিকার ও নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছেন। এরফলে দৌলতপুরের ধান উৎপাদনকারী কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রয় থেকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কৃষকদের অভিমত সূত্রে জানাগেছে, দৌলতপুর খাদ্য গুদামে কৃষকদের পরিবর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মনোনীত ব্যবসায়ীরা ধান সরবরাহ করছেন। তবে এক্ষেত্রে ওইসব ব্যবসায়ীরা চাতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন। ধান ক্রয়ে লটারী ও লটারীর বাইরে যেসব কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে সেই সব কৃষকদের কাছ থেকে ধান সরবরাহকারী ব্যবসায়ীরা কৃষক কার্ড সরবরাহ করেছেন। কোন কৃষককে ট্রন প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে আবার কোন কোন কৃষককে হুমকি দিয়ে তাদের কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জোর করে বা অর্থ দিয়ে সংগ্রহ করা ওইসব কৃষক কার্ড দিয়ে গুটি কয়েক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রশাসনকে ম্যানেজ করে খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করছেন। যা দৌলতপুরের বাইরে এমনকি জেলার বাইরে থেকে ক্রয় করে ট্রলি ভর্তি করে রাতের আধারে দৌলতপুর খাদ্য গুদামে ঢুকানো হচ্ছে। সাইদুর রহমান, আব্দুল জব্বার, খালেকসহ কয়েকজন কৃষক জানান, ধান বিক্রয়ের কৃষক তালিকায় তাদের নাম থাকলেও তারা ধান বিক্রয় করতে পারেননি। তাদের কার্ড স্থানীয় নেতারা ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ে নিয়েছেন। চলতি মৌসুমে সরকারীভাবে দৌলতপুরে ২হাজার ৪২৪ মেট্রিক টন আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে ২হাজার ৪২৪জন কৃষককে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে লোক দেখানো লটারি করা হলেও তাৎক্ষনিকভাবে লটারির মাধ্যমে ঘোষিত নির্ধারিত কৃষকদের নাম ধান ক্রয়ের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি। যদিও লটারি হওয়ার দুই সপ্তাহ পর ইচ্ছেমত ব্যক্তিদের নাম আবার ভৌতিক নাম তালিকাভূক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের সুবিধা আদায়ে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ধান ক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দৌলতপুর খাদ্য গুদামে সাড়ে ৬’শ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে বলে দৌলতপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জনিয়েছেন। রাতের আধারে ধান ক্রয়ের কথা স্বীকার করে তিনি আরো জানান, এমন পরিস্থিতি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে রয়েছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারের সাথে কাল বসবো (আজ  সোমবার)। ধান ক্রয়ে মন্থর গতির বিষয়ে দৌলতপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন- আগামী ২৮ ফেব্র“য়ারী পর্যন্ত ধান ক্রয় করা যাবে। এখনও অনেক সময় রয়েছে।

পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক এবং জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর সরকার বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২০’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা ব্যয় হিসেবে নেই না। আমরা মনে করি জনগণের স্বার্থে জনগণের কল্যাণে এটা আমাদের এক ধরনের বিনিয়োগ। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক সাজে সজ্জিত এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে জনগণের সেবা যাতে নিশ্চিত করতে পারি তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নিয়ে যাচ্ছি।’ ‘যার ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি পুলিশের মাঝেও গুণগত বিরাট পরিবর্তন এসেছে। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের পুলিশ বাহিনী জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী হবে।’ শেখ হাসিনা পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সারাদেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।’

তিনি অনুষ্ঠানে ১১৮ জন পুলিশ সদস্যের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও পুলিশ পদক সেবা এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক সেবায় ভূষিতদের মাঝে পদক বিতরণ করেন। পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ২০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)- সেবা’ এবং ৫৬ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)- সেবা’ প্রদান করা হয়। বিপিএম মরহুম মো. আকতার হোসেন (মরনোত্তর) এর পক্ষে তার সহধর্মিনী এবং দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত এএসআই নান্নœু মিয়া হুইল চেয়ারে বসে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মইনুর রহমান চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সিনিয়র পুলিশ সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ বাহিনীকে জনগণের পুলিশ হিসেবেই নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মধ্যদিয়ে যেকোন ধরনের অপরাধ দমন করা সহজ এবং সেই দৃষ্টিকোন থেকে আপনারা কাজ করবেন সেটাই আমি আশা করি। বর্তমানে দেশে অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকায় বিনিয়োগ আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী একে অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। এই বিনিয়োগ যাতে কোনভাবে ব্যহত না হয় এবং দেশের অর্থনৈতিক যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোন দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়ায় পুলিশ। কাজেই যে কোন প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীর পাশে দাঁড়ানোটা আমি কর্তব্য বলে মনে করি। ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রতিবারের ন্যায় এবারও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা এবং আনন্দমুখর পরিবেশে পাঁচ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২০ উদযাপিত হচ্ছে। চলবে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ২০১৩, ’১৪ ও ’১৫ সালে আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা এবং নৈরাজ্য মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ বাহিনীর ২৯ জন সদস্যকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করে। তারা বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। পুলিশ সদস্যগণ তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডকে প্রতিরোধ করেছে এবং জনগণ তাদের পাশে ছিল।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় প্রতিটি পুলিশ সদস্য নিজের জীবনকে বাজি রেখে দেশের মানুষ এবং জাতীয় সম্পদকে রক্ষা করেছেন। তিনি এজন্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানান। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, বাংলাদেশ থেকে আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতি দূর করবো এবং এসবের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করে বাংলাদেশ পুলিশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’ ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসনেও পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্প্রতি আর্মড পুলিশের দু’টি এবং র‌্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন গঠনপূর্বক কক্সবাজারে মোতায়েন করা হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে জনগণের সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে পুনরায় স্কুল পর্যায় থেকে ট্রাফিক আইন শিক্ষা করার বিষয়েও জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একদিকে যেমন জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে তেমনি সড়কে শৃঙ্খলাও ফিরিয়ে আনতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনী যথেষ্ট সুশৃঙ্খল ভূমিকা রাখছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় জরুরি সেবা-‘৯৯৯’ ইতোমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জনগণ ‘৯৯৯’ ব্যবহার করে এখন খুব সহজেই ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের সেবা পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সোশ্যাল মিডিয়াসহ অন্যান্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দেশে গুজব রটনাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতেও পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রাপ্তির জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পুলিশ বাহিনীতে গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বিশেষায়িত ইউনিট- পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করা হয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশ এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) গঠন, পুলিশ স্টাফ কলেজ ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিসহ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারগুলিতে আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগসহ বাংলাদেশ পুলিশে সাইবার পুলিশ সেন্টার, ডিএনএ ল্যাব, আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব এবং হাসপাতাল স্থাপনের উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, তাঁর সরকার থানা, ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, ব্যারাক, আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দসহ বিদেশে পাঠিয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং যানবাহন সমস্যার সমাধানে উল্ল্যেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন সরবরাহ করেছে। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যেন পুলিশ বাহনী চলতে পারে সে ব্যবস্থাও তাঁর সরকার নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে নারী পুলিশের জন্য একটি স্বতন্ত্র ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এছাড়া পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা,এর আওতায় কমিউনিটি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু এবং পুলিশ সদস্যদের জন্য একই ধরনের রেশনিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। তিনি বলেন,‘অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টিও আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। আমরা সেটারও ব্যবস্থা করে দেব।’ প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে তৎকালিন পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দুর্বার প্রতিরোধ এবং মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন,‘১৯৭১ সালের ২৫-এ মার্চ কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্যগণ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল পুলিশ সদস্যকে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’ প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। আপনারা বিদেশী শোষকদের পুলিশ নন- জনগণের পুলিশ।’ বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি জনগণের সমস্যাকে আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখারও আহবান জানান। ২০২০ সালকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৭ মার্চ জাতির পিতা জন্ম গ্রহণ করেছেন। আর ২০২১ সালের ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী। আমরা ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছি।’ তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের এই দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ এবং দেশের জনগণ সারবিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলবে, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি, আমাদের তা ধরে রেখে আরো সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যাতে আমাদের দেশের জনগণ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম সুন্দর এবং উন্নত জীবন পেতে পারে। দারিদ্র্য হ্রাসে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, এই প্রয়াসে আরো এগিয়ে ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতাও আমাদের কাম্য।’

রোমানা স্বর্ণার বছর শুরু বিজ্ঞাপনে

বিনোদন বাজার ॥ রোমানা স্বর্ণার বছরের শুরু হলো বিজ্ঞাপনে অভিনয় দিয়ে। এর আগে ধারাবাহিক ও খন্ড নাটকে অভিনয় করলেও ২০২০ সালের শুরুতে অভিনয় করেছেন কেএনবি ফিডের একটি বিজ্ঞাপনে। রোমানা স্বর্ণা ছাড়াও অভিনেতা ফারুক আহমেদ ও ডাঃ এজাজকে নিয়ে বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেন মারুফ আহমেদ খান রিজভী।

নতুন বছরের পরিকল্পনা জানিয়ে রোমানা বলেন, ভালো ভালো কাজ করতে চাই। নাটকে কাজ করছি। ভালো গল্প পেলে সিনেমাতেও কাজ শুরু করবো। নতুন বছেরর শুরুতে বিজ্ঞাপনে কাজ করলাম। নাটক, সিনেমার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও সময় দিবো।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে তন্ময় তানসেন নির্মিত রান আউট সিনেমায় অভিনয় করেন রোমানা স্বর্ণা। বর্তমানে রোমানা স্বর্ণা অভিনীত ধারাবাহিক ‘ট্রাফিক সিগনাল’ আরটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়াও তিনি ব্যস্ত আছেন শর্ট ফিল্ম ও খন্ড নাটকের কাজে।

‘কাশ্মীরি প্রেমিকা’ নিয়ে আসছেন ফারিয়া শাহরিন

বিনোদন বাজার ॥ ঢাকায় ‘কাশ্মীরি প্রেমিকা’ শিরোনামের একটি নাটকে জুটি বেঁধেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক ও ফারিয়া শাহরিন।

লেখক ও সাংবাদিক মাহতাব হোসেনের গল্পে ‘কাশ্মীরি প্রেমিকা’ শিরোনামের নাটকটি পরিচালনা করেছেন কাজী সাইফ।

নাটক প্রসঙ্গে কাজী সাইফ বলেন, এই নাটকে ব্যতিক্রমী প্রেমের গল্পের মধ্যে কাশ্মীর বিষয়টা আছে। যদিও শুটিংটা আমরা ঢাকায় করছি। এখনই এর বেশি কিছু বলা যাবে না। ৩ জানুয়ারি থেকে উত্তরার বিভিন্ন স্পটে শুটিং শুরু হয়েছে নাটকটির।

অভিনেতা মনোজ বলেন, নাটকটি মূলত ভালোবাসা দিবসের। কাজেই নাটকের গল্পে ভালোবাসার নানা দিক ফুটে উঠবে।

নাটকটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন গল্পের। এটি দেখে দর্শকরা পছন্দ করবেন বলে আমার বিশ্বাস। সব ঠিক থাকলে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে একটি বেসরকারি চ্যানেলে নাটকটি প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।

আরব আমিরাতের রাস্তায় সানি লিওনের স্কেটিংয়ের ভিডিও ভাইরাল

বিনোদন বাজার ॥ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের রাস্তায় বলিউড তারকা সানি লিওনির স্কেটিংয়ের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

স্কেটিংয়ের ভিডিওটি প্রকাশ্যে এনেছেন সানি নিজেই। শুক্রবার নিজের ইনস্টাগ্রাম আইডিতে ভিডিও পোস্ট করেন।

এরপরই ভিডিওটি সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওতে সাবেক এই পর্নো তারকাকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল।

জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এখন শীতকাল চলছে। শীত উপভোগ করতেই দুবাইয়ে গেছেন সানি লিওনি।

আর সেখানে গিয়ে স্কেটিংয়ে মেতে উঠেন তিনি। স্কেটিংয়ের সময় ভক্তদের হাত নেড়ে অভিবাদন জানান তিনি।

জেমসের দিদিমণি গানের শিরোনামে এবার চলচ্চিত্র

বিনোদন বাজার ॥ ‘এই শহরে তোমার পাশে, আমিও যে থাকি, ও লাল টুকটুক সেলাই দিদিমণি’- গার্মেন্টে কাজ করা নারীদের উৎসর্গ করে এমন কথার একটি গান গেয়েছিলেন নগরবাউলখ্যাত জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জেমস।

এবার সেই গানে অনুপ্রাণিত হয়ে একই নামে নির্মিত হচ্ছে একটি চলচ্চিত্র। এটি পরিচালনা করছেন রিয়াজুল রিজু। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে এর শুটিং শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। মূলত এটি একটি লেডি অ্যাকশন ধাঁচের চলচ্চিত্র।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ‘বাপজানের বায়োস্কোপ বানানোর পর সঠিক টাইমিং এবং ব্যাটে বলে না মেলায় দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে বিরত ছিলাম। মাঝে প্রেমের কবিতা ও কাঙাল বানানোর ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা আর হয়ে ওঠেনি। তবে এবার আমার শুভাকাক্সক্ষীদের আশ্বস্ত করছি দিদিমণি চলচ্চিত্রটি দ্রুত শেষ করে দর্শকদের উপহার দিতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের হাতেগোনা কয়েকজন সুপারস্টারের মধ্যে অন্যতম জেমসের একজন অন্ধ ভক্ত। আমার এ চলচ্চিত্রটির নাম পছন্দ করার ক্ষেত্রে তার গাওয়া গানটি আমাকে বেশ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’ শিগগিরই এ চলচ্চিত্রের প্রধান নারী চরিত্রসহ অন্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, এ পরিচালক ২০১৫ সালে ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ নামে একটি চলচ্চিত্রের জন্য সেরা নির্মাতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। চলচ্চিত্রটি নয়টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেয়।

ভাতেই মিলবে দরকারি পুষ্টি উপাদান জিঙ্ক

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কী, শিরোনাম পড়ে অবাক হচ্ছেন তো! অবাক হওয়ার কিছুই নেই। দেশের কৃষি বিজ্ঞানীর কল্যাণে এটি এখন সত্যি হয়ে গেছে। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। দেশের বাজারে খোঁজ করলেই পাবেন এমন ভিটামিন যুক্ত চাল। আর সে চাল সিদ্ধ করেই পেতে পারেন জিঙ্ক ভিটামিন। কৃষি বিজ্ঞানীরা বলেছেন, জিঙ্ক সাধারণত সামুদ্রিক মাছ, মাংস, কলিজা ও ফলমূলে বেশিরভাগ পাওয়া যায়- যার বেশিরভাগই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রতিদিন গ্রহণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। প্রতিদিন ঘাটতি থেকে যায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। মানবদেহে জিঙ্ক প্রায় ৩৬০ ধরনের হরমোনকে তাদের কার্যকারিতা সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। জিঙ্কের ঘাটতির কারণে অসম্পূর্ণ থেকে যায় আমাদের বিপাকীয় কার্যক্রম- তথা বৃদ্ধি ও বিকাশ। আর এসব কারণেই বাংলাদেশের উচ্চ ফলনশীল ধানের সঙ্গে পরাগায়ন ঘটিয়ে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের জাতগুলো উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ ধান থেকে কৃষকরা নিজেরাই বীজ তৈরি করে রোপণ করতে পারবেন। কৃষি বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোপা আমন মৌসুমের জন্য দুটি জিঙ্কসমৃদ্ধ জাত ব্রি ধান৬২ এবং ব্রি ধান৭২ (স্বল্প জীবনকাল) উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। ব্রি ধান৬২ এর প্রতি কেজি চালে প্রায় ২০ মিলিগ্রাম জিঙ্ক রয়েছে। হেক্টর প্রতি এর ফলন ৪ থেকে সাড়ে ৪ টন। বছরের অন্যান্য মৌসুমেও এ ধানের আবাদ করা যায়। ব্রি ধান৭২-এর প্রতি কেজি চালে জিঙ্ক রয়েছে ২২ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন ৫ দশমিক ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ টন। এ ধান চাষাবাদে প্রচলিত জাতের চেয়ে কম পরিমাণে ইউরিয়া সার লাগে। এদিকে বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি ধান৬৪ উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার প্রতি কেজিতে ২৫ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক রয়েছে। হেক্টর প্রতি এর ফলন ৭ টন। উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের মতো। ব্রি ধান৭৪-এর প্রতি কেজি চালে জিঙ্ক রয়েছে ২৪ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন ৮ টনেরও বেশি। এ জাতটি মধ্যম মানের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী। ব্রি ধান২৮-এর বিকল্প হিসেবে সম্প্রতি উদ্ভাবন করা হয়েছে ব্রি ধান৮৪, এটিও জিঙ্কসমৃদ্ধ। বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মীর্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবন করেছে বিনাধান২০। এর চালের রঙ লালচে ও বাদামি। প্রতি কেজি চালে ২৬ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক রয়েছে। এ জাতটি চাষাবাদ উচ্চ ফলনশীল ধানের আবাদের মতোই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি হাইব্রিড জাতের জিঙ্ক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। বিইউ হাইব্রিড ধান১ নামে এই জাতে মানবদেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় আয়রন ও জিঙ্ক রয়েছে। এটি সুগন্ধি গুণসম্পন্ন। প্রতি কেজি চালে ২২ মিলিগ্রাম জিঙ্ক রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কর্মশালায় বেসরকারি সংস্থা হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ড. মো. খায়রুল বাশার বলেন, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ পর্যন্ত ১৬টি বায়োফরটিফাইড ক্রপ জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের জাত ৮টি। যা দেশের মানুষের জিঙ্কের চাহিদা পূরণ করবে। কিভাবে সেগুলো বাজারজাত করা যায়, সে লক্ষ্যে তার প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ২০১৩ সালে প্রথম কৃষক-পর্যায়ে জিঙ্ক ধানের বিতরণ শুরু করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং এনজিওদের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ উপজেলায় বীজ বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ধান ছাড়া বায়োফর্টিফাইড ফসলের অন্যান্য জাতগুলো কৃষকপর্যায়ে খুব সহজলভ্য না হলেও আগ্রহী উৎপাদনকারীরা গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে বীজ সংগ্রহ করতে পারেন। বর্তমানে বিএডিসি কিছু পরিমাণে বীজ উৎপাদন শুরু করেছে এবং মেহেরপুর, যশোর, বগুড়া, মানিকগঞ্জ এবং রাজশাহী এলাকায় কিছু বীজ উৎপাদনকারী প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার জিঙ্ক ধান বীজ উৎপাদন করে যাচ্ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে দেশে পাঁচ বছরের নিচে এমন বয়সী ৪৪ শতাংশ শিশু জিঙ্ক স্বল্পতায় ভুগছে। আবার বিভিন্ন বয়সী ৫৭ শতাংশ নারীর রয়েছে জিঙ্কস্বল্পতা। ১৫ থেকে ১৯ বছরের শতকরা ৪৪ ভাগ মেয়ে জিঙ্কের অভাবে খাটো হয়ে যাচ্ছে। এর সমাধান খুঁজতেই ভাতের মাধ্যমে জিঙ্কের অভাব দূর করতে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, অধিক পরিমাণে জিঙ্ক থাকা সত্ত্বেও এই ভাতের স্বাদ ও রঙয়ের কোনো তারতম্য হয় না। পুষ্টি গবেষকদের মতে, জিঙ্কের ঘাটতির কারণে শিশুর শরীরের কলা গঠন ব্যাহত হয়, বাড়বাড়তি কমে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, খাদ্য গ্রহণে অরুচি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়াসহ শিশুর নানাবিধ রোগ দেখা দেয়, স্মৃতিশক্তি কমে যায় ও কম মেধাবী হয়। নারীদের সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হারানো, কম ওজনের সন্তান জন্ম দেওয়া, বামন বা খাটো শিশুর জন্মদান, গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন জটিলতা দেখা দেয়- যা মা ও শিশুমৃত্যুর কারণ হতে পারে। তা ছাড়াও জিঙ্কের অভাবে মানসিক ভারসাম্যহীনতা, দৃষ্টিশক্তিতে ব্যাঘাত ঘটা, মাথার চুল পড়ে যাওয়া ও প্রস্টেট গ্রন্থির সমস্যা দেখা দেয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১২-১৫ মিলিগ্রাম, দুগ্ধদানকারী মায়েদের ১৬ মিলিগ্রাম এবং শিশুদের ২-১০ মিলিগ্রাম জিঙ্ক প্রয়োজন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, সরকার যদি জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত ও সহযোগিতা করে তাহলে ভালো ফল আসবে। এ ছাড়া সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের সময় যদি জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান-চাল ক্রয় করা হয় তবে কৃষকদের মধ্যে এ ধান আবাদে আগ্রহ বাড়বে। লেখক ঃ আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি

গেতাফেকে হারিয়ে বছর শুরু রিয়ালের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টানা তিন ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে বড় দিনের ছুটিতে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ নতুন বছরের শুরুতে কাঙ্খিত জয় পেয়েছে। রাফায়েল ভারানের জোড়া গোলে গেতাফেকে হারিয়েছে জিনেদিন জিদানের দল। প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার লা লিগার ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছে প্রতিযোগিতাটির সফলতম দল। আগের তিন রাউন্ডে ভালেন্সিয়া, বার্সেলোনা ও আথলেতিক বিলবাওয়ের সঙ্গে ড্র করেছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি। দারুণ এ জয়ে বার্সেলোনাকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছে রিয়াল। প্রথমার্ধের লড়াই ছিল অনেকটা রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বনাম গেতাফে। এ সময়ে চারটি দুর্দান্ত সেভে জাল অক্ষত রাখেন বেলজিয়ান কিপার। ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলে রিয়াল এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে আধিপত্য ছিল গেতাফের। ২৪তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুযোগে এগিয়েও যেতে পারতো স্বাগতিকরা। তবে লেয়ান্দ্রো কাবরেরার জোরালো ভলি ঝাঁপিয়ে রুখে দেন কোর্তোয়া। খেলার ধারার বিপরীতে ৩৪তম মিনিটে গোল পেয়ে যায় রিয়াল। বাঁ দিক থেকে ফেরলঁদ মঁদির ক্রস পাঞ্চ করার চেষ্টায় এগিয়ে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক, লাফিয়েছিলেন ভারানে। বল তার মাথা ও গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে এক ড্রপে জালে জড়ায়। ৪২তম মিনিটে দুরূহ কোণ থেকে করিম বেনজেমার জোরালো শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। বিরতির আগের বাকি সময়ে দারুণ দুটি সুযোগ পেয়েছিল গেতাফে, দুবারই রুখে দেন কোর্তোয়া। দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে আরেকটি সেটপিসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভারানে। ডান দিক থেকে টনি ক্রুসের দারুণ ক্রসে লাফিয়ে হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি ডিফেন্ডার। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন গ্যারেথ বেল। লুকা ইয়োভিচের বাড়ানো বল ধরে গোলরক্ষককে প্রায় কাটিয়ে ফেলেছিলেন ওয়েলস ফরোয়ার্ড; কিন্তু তার শট হাত বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। চার মিনিট পর ম্যাচ শেষের আগমুহূর্তে স্কোরলাইন ৩-০ করেন মদ্রিচ। পাল্টা আক্রমণে মিডফিল্ডার ভালভেরদের নিঃস্বার্থ পাস ডি-বক্সে পেয়ে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি ক্রোয়াট মিডফিল্ডার, তবে বল তার পায়ে লেগে ঠিকানা খুঁজে নেয়। ১৯ ম্যাচে ১১ জয় ও সাত ড্রয়ে শীর্ষে ওঠা রিয়ালের পয়েন্ট ৪০। ১ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা। অবশ্য দিনের শেষ ম্যাচে এস্পানিওলের মাঠে জিতলে আবারও শীর্ষে ফিরবে এরনেস্তো ভালভেরদের দল।

 

 

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বার্সাকে রুখে দিল এস্পানিওল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রথমার্ধে সাদামাটা ফুটবল খেলা বার্সেলোনা ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। তবে শেষ দিকে দারুণ এক গোলে লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়েছে এস্পানিওল। আরসিডিই স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ২-২ ড্র করে ফিরেছে শেষ ১৫ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলা এরনেস্তো ভালভেরদের দল। মূল্যবান দুটি পয়েন্ট হারালেও লিগ টেবিলের শীর্ষে ফিরেছে কাতালান ক্লাবটি। দুইয়ে নেমে গেছে আগের ম্যাচে গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারানো রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের প্রথম ভাগে বার্সেলোনা বল দখলে এগিয়ে থাকলেও তাদের আক্রমণগুলো ছিল অগোছালো। মাঝমাঠেও বেশ ভুগতে দেখা যায় দলটিকে। ২৩তম মিনিটে গোল খেয়ে বসে তারা। ডান দিক থেকে মার্ক রোকার দারুণে ক্রসে হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার দাভিদ লোপেস। জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখেন মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের চোটে বার্সেলোনার জার্সিতে লা লিগায় প্রথম খেলতে নামা গোলরক্ষক নেতো। বিরতির আগের শেষ পাঁচ মিনিটে বার্সেলোনার স্বরূপে ফেরার আভাস মেলে। ভালো দুটি সুযোগও পেয়েছিল; তবে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ৪১তম মিনিটে মেসির দুর্বল হেডের পর লুইস সুয়ারেসের শট পোস্টে বাধা পায়। দ্বিতীয়ার্ধে আত্মবিশ্বাসী শুরু করা বার্সেলোনা ৫০তম মিনিটে সমতায় ফেরে। বাঁ দিক থেকে জর্দি আলবার বাড়ানো ক্রসে টোকা দিয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে বল লক্ষ্যে পাঠান সুয়ারেস। আসরে উরুগুয়ের স্ট্রাইকারের এটি একাদশ গোল। আট মিনিট পর বার্সেলোনার এগিয়ে যাওয়া গোলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুয়ারেসের। ডি-বক্সে ক্ষিপ্রতায় একজনকে এড়িয়ে চিপ করে ডান দিকে বল বাড়ান তিনি। হেডে বল ঠিকানায় পাঠান ইভান রাকিতিচের বদলি নামা আর্তুরো ভিদাল। প্রথমার্ধে অনুজ্জ্বল মেসি ৬৫তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পায়ে আক্রমনে উঠে রক্ষণচেরা পাস বাড়ান ডি-বক্সে। গোলরক্ষক বরাবর মেরে সুযোগ নষ্ট করেন সুয়ারেস। ৭৫তম মিনিটে কাইয়েরির জার্সি টেনে ধরে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং। এর খানিক পরেই ফরোয়ার্ড গ্রিজমানকে বসিয়ে ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদোকে নামান কোচ ভালভেরদে। এরপরও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে তারা। তবে পায়নি সাফল্যের দেখা।

উল্টো ৮৮তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে পয়েন্ট হারায়। ডান দিক থেকে কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ২-২ করেন চাইনিজ ফরোয়ার্ড উ লেই। ১৯ ম্যাচে ১২ জয় ও চার ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৪০। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে আছে রিয়াল। দিনের আরেক ম্যাচে লেভান্তেকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে উঠছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে চারে নেমে গেছে সেভিয়া।

রাহুলের সঙ্গে আথিয়ার প্রেম, যা বললেন বাবা সুনীল শেঠি

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেত্রী নাতাশা স্টানকোভিচের সঙ্গে সম্প্রতি বাগদান সেরেছেন ভারতের ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া। তাদের বাগদান নিয়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখন ফের আলোচনায় উঠে এসেছে ক্রিকেটার কে এল রাহুলের সঙ্গে আথিয়া শেঠির প্রেম প্রসঙ্গ। তবে মেয়ে আথিয়ার সঙ্গে কে এল রাহুলের সম্পর্ক নিয়ে এবার মুখ খুললেন অভিনেতা সুনীল শেঠি।

শোনা যাচ্ছে আথিয়ার সঙ্গে কে এল রাহুলের বন্ধুত্ব ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে। তারা আরও বেশি করে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইছেন। সম্প্রতি একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে বিদেশ ভ্রমণেও গিয়েছিলেন আথিয়া ও রাহুল।

সম্প্রতি মেয়ের এই প্রেম নিয়ে বাবা সুনীল শেঠি বলেন, আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনেই ছেলেমেয়েদের খুব ভালোবাসি। আমার মনে হয় ক্যারিয়ারের থেকেও তাদের ব্যক্তিগত জীবনে সুখী হওয়াটা আরও বেশি করে দরকার।

আর তাই সুনীলের এই কথা থেকে অনেকেই মনে করছেন, তিনি এবং তার স্ত্রী জামাই হিসাবে কে এল রাহুলকে পছন্দ করছেন। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

 

ওভারে ৬ ছক্কায় রেকর্ড বইয়ে কার্টার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জয়ের জন্য ৫ ওভারে প্রয়োজন ৬৪ রান। সমীকরণ হয়ে উঠছিল কঠিন। এক ওভারেই চিত্র বদলে দিলেন লিও কার্টার। ৬ বলে ৬ ছক্কা! লক্ষ্য চলে এলো নাগালে, নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান নাম লেখালেন রেকর্ড বইয়ে। নিউ জিল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সুপার স্ম্যাশে গতকাল রোববার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছেন ক্যান্টারবুরির কার্টার। ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটির পথে ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান উপহার দিয়েছেন চমক। খুব আগ্রাসী হিসেবে পরিচিতি ছিল না এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের। টি- টোয়েন্টিতে স্ট্রাইক রেট কেবল ১২০ স্পর্শ করেছে, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে স্ট্রাইক রেট ৬১.০৮। সেই ব্যাটসম্যানই এবার ২৯ বলে ৭০ রানের ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ইনিংসে ছক্কা মারলেন ৭টি। ৬টিই এক ওভারে। ওই ওভারের আগে কার্টারের রান ছিল ১২ বলে ১১। হুট করেই চড়াও হন অ্যান্টন ডেভচিচের বাঁহাতি স্পিনে। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাতিয়ে তোলেন ৬ ছক্কার ঝড়ে। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওভারে ৬ ছক্কার চতুর্থ নজির এটি। ২০ ওভারের ক্রিকেটে প্রথম এই কীর্তি উপহার দিয়েছিলেন যুবরাজ সিং। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ বলে ফিফটির পথে ভারতীয় ব্যাটসম্যান স্টুয়ার্ট ব্রডকে উড়িয়েছিলেন ৬ ছক্কায়। এরপর ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব¬াস্টে ইয়র্কশায়ারের কার্ল কার্ভারের বাঁহাতি স্পিনে উস্টারশায়ারের রস হোয়াইটলি দেখান একই ঝলক। ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে আরেক বাঁহাতি স্পিনার আব্দুল¬াহ মাজারাইকে একই তেতো স্বাদ উপহার দেন হজরতউল¬াহ জাজাই। স্বীকৃত ক্রিকেটে ওভারে টানা ৬ বলে ৬ ছক্কার ঘটনা আছে আর মোটে তিনটি। সবচেয়ে বিখ্যাতটি নিঃসন্দেহে স্যার গ্যারি সোবার্সের। ১৯৬৮ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার বলে বিবেচিত সোবার্স। গ¬্যামরগনের বাঁহাতি স্পিনার ম্যালকম ন্যাশকে উড়িয়েছিলেন মাঠের নানা প্রান্তে। ১৯৮৫ সালে সোবার্সের পাশে নাম লেখান রবি শাস্ত্রী। মুম্বাইয়ের হয়ে বরোদার বিপক্ষে গড়েন ৬ ছক্কার কীর্তি। শিকার এবারও এক বাঁহাতি স্পিনার, বরোদার তিলক রাজ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওভারে ৬ ছক্কার ঘটনা এই দুটিই। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে এক ওভারে ৬ ছক্কার প্রথম ও এখনও পর্যন্ত একমাত্র কীর্তিটি গড়েন হার্শেল গিবস। ২০০৭ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের পার্ট টাইম লেগ স্পিনার ড্যান ফন বাঙ্গের ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান মেরেছিলেন ৬ ছক্কা। টানা ৬ বলে ছক্কা না হলেও এক ওভারে ৬ ছক্কার আরেকটি নজির আছে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে। সেটিও নিউ জিল্যান্ডে, ২০১৮ সালের নভেম্বরে। ঘরোয়া একদিনের ম্যাচের প্রতিযোগিতায় সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের মিডিয়াম পেসার উইলেম লুডিকের ওভারে ৬টি ছক্কা মেরেছিলেন নর্দান ডিস্ট্রিক্টসের জো কার্টার ও ব্রেট হ্যাম্পটন মিলে। তবে সেই ওভার শুরু হয়েছিল চার রান দিয়ে, মাঝে একটি সিঙ্গেলও ছিল। নো বল ছিল দুটি, সেই দুটিতে হয় ছক্কা। এক ওভার থেকে এসেছিল বিশ্বরেকর্ড ৪৩ রান! সেই কার্টার ও এবারের কার্টারের সঙ্গে অবশ্য আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে একটি সম্পর্ক হয়েই গেল এখন। দুজনই ৬ ছক্কার নায়ক!

নিজের বিয়ে নেচে ডান্স ফ্লোর মাতালেন অভিনেত্রী নেহা

বিনোদন বাজার ॥ শার্দুল ব্যাসের সঙ্গে আংটি বদল সেরে ফেললেন বিগ বসের প্রাক্তন প্রতিযোগী নেহা পেনসে। গ্রহ পূজা দিয়ে সম্প্রতি শুরু হয় নেহার বিয়ের অনুষ্ঠান। এরপর শার্দুল ব্য়াসের সঙ্গে পরপর মেহেদি এবং সঙ্গীতে হাসি মুখে হাজির হন অভিনেত্রী। শার্দুলের সঙ্গে সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে ডান্স ফ্লোর মাতিয়ে দিতে দেখা গেল নেহাকে।

ফ্লোরাল লেহঙ্গা পরে নেহা যখন ডান্স ফ্লোরো হাজির হন, সেই সময় জনপ্রিয় পঞ্জাবি গানের সঙ্গে নাচতে দেখা য়ায় বিগ বসের প্রাক্তন প্রতিযোগীকে। নেহার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওই অনুষ্ঠানে নাচতে দেখা যায় শার্দুল ব্যাসকেও।

সম্প্রতি শার্দুল ব্যাসের সঙ্গে ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে নতুন বছর শুরু করেন নেহা পেনসে। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে নেহা শেয়ার করেন সেই ছবিও। টেলিভিশন অভিনেত্রীর সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

অবশেষে গেইল আসছেন আজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বঙ্গবন্ধু বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মাতাতে আজ সোমবার ঢাকায় আসছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল। চলমান আসরে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ৭ জানুয়ারি রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে খেলবেন তিনি। বিপিএলের সবচেয়ে সফল বিদেশি পারফরমার ক্রিস গেইল সপ্তম আসরের পে¬য়ার্স ড্রাফটে তার নাম দেখে অবাকই হয়েছিলেন। ফলে বিশেষ বঙ্গবন্ধু বিপিএলে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয় প্রথমে। কিন্তু পরবর্তী সময় তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স কর্তৃপক্ষ। অবশেষে দলটি জানায়, বিপিএলের শেষ দিকে খেলবেন গেইল। অবশ্য গেইলকে ছাড়াই এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত পারফর্ম করছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ১০ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে বিপিএলের শীর্ষে চট্টগ্রাম। চলতি বিপিএলে সর্বোচ্চ ও বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রানও করে বন্দর নগরীর দলটি। তিনি আসার পর ঢাকায় শেষ পর্বে কোয়ালিফায়ার ও এলিমিনেটর পর্ব বা নকআউট পর্বের আগে দুটি রবিন লিগের ম্যাচ বাকি থাকবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের। বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান ৬ জানুয়ারি ঢাকা আসার পর যে দুই ম্যাচ পাবেন, তার কোনোটি না জিতলেও হয়তো সেরা চারে থাকবে চট্টগ্রাম। শনিবার (৪ জানুয়ারি) সিলেট পর্বের শেষ দিন খুলনা টাইগার্সকে ৬ উইকেটে হারানো চট্টগ্রাম এখন ১০ ম্যাচে সর্বাধিক ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত)। তবে গতকাল রাতের ম্যাচে সিলেট থান্ডার্সকে হারাতে পারলে সমান ১০ খেলায় ১৪ পয়েন্ট হয়ে যাবে রাজশাহী রয়্যালসেরও। আগামী ৭ ও ১১ জানুয়ারি শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের শেষ দুটি ম্যাচ এই রাজশাহীর বিপক্ষে। এখন দেখার বিষয় চট্টগ্রাম না রাজশাহী-কোন দল এগোবে আর কে পেছাবে।

আরোহী সঙ্গীত আয়োজিত ‘মেহফিল এ মুসিকী’ অনুষ্ঠিত

বিনোদন বাজার ॥ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব ‘মেহফিল-এ-মুসিকী’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে আরোহী সংগীত নিকেতন আয়োজিত এ উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি সংগীত কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কৃষ্টি হেফাজ। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও দেশের প্রখ্যাত নাট্যকার মাসুম রেজা শুভেচ্ছা বাণী দেন।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আরোহী সংগীত নিকেতনের গুণীজন সম্মাননায় সম্মানিত হন প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী এবং বিখ্যাত সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান।

এর আগে ২০১৬ সালে গুণীজন সম্মাননায় সম্মানিত হয়েছিলেন সংগীতজ্ঞ উস্তাদ আজাদ রহমান এবং ২০১৭ তে প্রখ্যাত নজরুল সংগীত শিল্পী প্রয়াত খালিদ হোসেন।

মেহফিল-এ-মুসিকী তে উচ্চাঙ্গসংগীত পরিবেশন করেন আরোহী সংগীত নিকেতন এর শিক্ষার্থীবৃন্দ। বিশেষ পরিবেশনায় শাস্ত্রীয় নৃত্য (মণিপুরী) পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব। আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে খেয়াল পরিবেশন করেন ভারতের গুণী উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী পৃথ্বীজিৎ ঘোষাল এবং উচ্চাঙ্গসংগীতের অতি প্রাচীন গীত শৈলী ধ্রুপদ পরিবেশন করেন আরোহী সংগীত নিকেতন এর কর্ণধার ইমামুর রশিদ। মিলনায়তন পূর্ণ ছিল বোদ্ধা শ্রোতাদের উপস্থিতিতে।

আরোহী সংগীত নিকেতন ২০১৪ সাল থেকে গুরু-শিষ্য পরম্পরায় শুদ্ধ সংগীত চর্চা, প্রসার ও প্রচারের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়ে মানবিক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করে চলছে।