ত্রিপোলির সামরিক একাডেমিতে বিমান হামলায় নিহত ২৮

ঢাকা অফিস ॥ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির একটি সামরিক একাডেমিতে বিমান হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। শনিবার রাতের এ হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ত্রিপোলির কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। ২০১১ সালে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর থেকে দেশটি সহিংসতা কবলিত হয়ে কয়েক অংশে বিভক্ত হয়ে আছে। লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় ঐক্য সরকারের (জিএনএ) নিয়ন্ত্রণে আছে ত্রিপোলি। অপরদিকে দেশটির পূর্বাঞ্চল সামরিক কমান্ডার জেনারেল খলিফা হাফতারের অনুগত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) নিয়ন্ত্রণে আছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ত্রিপোলির আশেপাশে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা বেড়ে গেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। শনিবার রাতে আল হাদবা এলাকায় সামরিক শিবিরে ‘বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে’ বলে জিএনএ-র অনুগত বাহিনীগুলো জানিয়েছে। হামলার জন্য এলএনএকে দায়ী করেছে তারা। কিন্তু হামলার সঙ্গে এলএনএ-র জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন গোষ্ঠীটির এক মুখপাত্র। ঘটনাস্থল থেকে সম্প্রচারিত ফুটেজে এলোমেলোভাবে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। জিএনএ-র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আমিন আল হাশেমি বলেন, “ত্রিপোলির সামরিক একাডেমিতে বিমান হামলায় ২৮ ক্যাডেট নিহত ও বহু আহত হয়েছে।” হতাহতের সংখ্যা এখনও বাড়ছে বলে জিএনএ-র স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামিদ বিন ওমর টেলিফোনে রয়টার্সকে জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ত্রিপোলি ছাড়া করতে গত বছরের এপ্রিল থেকে রাজধানীতে হামলা শুরু করে বিদ্রোহী জেনারেল হাফতারের এলএনএ বাহিনী।

 

ঝিনাইদহে শিক্ষকের বাড়িতে সরকারী বই

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না বাজার কারীগরি স্কুল এন্ড বিএম কলেজের প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে বিনামূল্যে বিতরণ করা সরকারী বই। রবিবার সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে কোন ছাত্র ছাত্রী নাই এবং বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণের জন্য আনা বই ঘরের মধ্যে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন আমি যোগ্যতা সম্পন্ন কোন ছাত্র ছাত্রী পায় নাই এজন্য ছাত্র ভর্তি করেনি, পরে ছাত্র পেলে ভর্তি করে তাদের কে বই দেওয়া হবে, এজন্য সরকারী বই আমার বাসায় রেখে দিয়েছি। ছাত্র না পেলে স্কুলটি না চালানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন তার চাহিদামত সব বই দেওয়া হয়নি। মাত্র ৪০ সেট বই পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম এ আরিফ সরকার বলেন ছাত্রের চাহিদা মাফিক আমরা বই দিই, তবে সেটা প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে রাখার কোন এখতিয়ার নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো এবং বই ফেরত আনার ব্যবস্থা করছি।

ডিআইজি মিজানের জামিন হয়নি

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতি দমন কমিশনের দুই মামলায় পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত। ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ গতকাল রোববার শুনানি করে এই আদেশ দেন। সেইসঙ্গে এ দুই মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ ফেব্র“য়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছেন তিনি। সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রতœা, ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান এবং ভাগ্নে এসআই মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে গতবছরের ১৪ জুন একটি মামলা করে দুদক। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিন কোটি সাত লাখ ৫ হাজার ২১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। আর অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলার মধ্যেই দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ১৬ জুলাই দায়ের করা হয় অপর মামলাটি। দুদকের বাছিরও এ মামলার আসামি।  দুদকের প্রথম মামলায় আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে মিজান গত ১ জুলাই হাই কোর্টে গেলে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। এরপর বেশ কয়েকবার আবেদন করেও তিনি আর জামিন পাননি। এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠায় গত বছরের জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মিজানুর রহমানকে। আর ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছির- দুজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

দেশ থেকে বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা কমেছে – কর্মসংস্থানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ দেশ থেকে বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি বলেন, জনশক্তি নেয়ার ক্ষেত্রে বিদেশিদের চাহিদায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারা দক্ষ জনবল চায়। কিন্তু জনশক্তিকে দক্ষ করতে সময়ের প্রয়োজন। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা কমেছে। তবে গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) বেড়েছে। গতকাল রোববার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস (আরবিএম) আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা এবং আরবিএমের সভাপতি ফিরোজ মান্না। এ সময় সৌদি আরব থেকে নারী শ্রমিকরা ফিরে আসার বিষয়ে সরকার শক্ত অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি জানান। মন্ত্রী বলেন, সত্যি বলা উচিত। না হলে এখাতের প্রকৃত অবস্থা মানুষ জানতে পারবে না। এ কারণে আমি সত্যি কথা বলছি। দেশ থেকে বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা কমেছে। এর কারণ হল বিশ্বের যে সব দেশ জনশক্তি নেয়, তাদের চাহিদায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারা প্রশিক্ষিত লোক চায়। তিনি বলেন, প্রতিবছর দেশ থেকে লাখ লাখ লোক বিদেশ যায়, কিন্তু দক্ষ লোক তৈরি হয় হাজার হাজার। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের সক্ষমতা কম। বিশেষ করে বর্তমানে সারা দেশে ট্রেনিং সেন্টারের সংখ্যা হবে ১৬৪টি। কিন্তু উপজেলা ৪৯২টি। ফলে বাকি উপজেলার লোকজন কোথায় প্রশিক্ষণ নেবে সেটি বিবেচনায় নেয়া দরকার। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রতিটি উপজেলা থেকে ১ হাজার করে দক্ষ লোক বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এটি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। মন্ত্রী বলেন, শুধু বিদেশে নয়, দেশেও দক্ষ লোকের চাহিদা আছে। কারণ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের (জনসংখ্যার বোনাসকাল) মধ্যদিয়ে যাচ্ছে দেশ। বেশিরভাগ জনশক্তি তরুণ। তবে এরা বেশিদিন তরুণ থাকবে না। এখনই এদের কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কয়েকটি দেশে জনশক্তি রফতানির সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরাক এবং লিবিয়া আমাদের অন্যতম বাজার ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা আটকে গেছে। এখানে সবচেয়ে বেশি সমস্যা নিজেদের। কারণ যারা ওই দেশে যায়, তারা পালিয়ে আবার ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে এখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের জনশক্তিতে কী প্রভাব পড়বে এবং এ ব্যাপারে সরকারের ভাবনার বিষয়টি জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করব। সম্ভাব্য কী করা যায়, সেখানে আলোচনা হবে। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে নারী কর্মীদের সমস্যা ছিল। গত বছর বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে সফর করেছে। এই সফরের পর থেকে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। অর্থাৎ আমরা শক্ত অবস্থান নিয়েছিলাম। ফলে এরপর একজনও দেশে ফিরে আসেনি। ইমরান আহমদ বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল সরকারি রেট অনুসারে জনশক্তি বিদেশে যেতে পারছে না। তবে আগের চেয়ে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, চলতি বছরে কমপক্ষে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ বিদেশে যাবে। এ ছাড়াও মুজিব বর্ষ পালন এবং বঙ্গবন্ধু ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রবাসী কল্যাণ সচিব মো. সেলিম রেজা বলেন, ২০১৯ সালে মোট ৭ লাখ ১ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যা ৫১ হাজার বেশি। এ ছাড়াও আলোচ্য সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ১৬ শতাংশ বেশি। এ ছাড়াও চলতি বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসবে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৯ সালে দেশে ২১৪টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ১টির লাইসেন্স বাতিল, ২টি স্থগিত এবং ১৭২টির সার্ভার লক করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এদের কাছ থেকে ৩৫২ জন কর্মীকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সচিব বলেন, ২০১৯ সালে মোট ৩ হাজার ৬৫৮ জন মানুষের মৃত্যুদেহ বিদেশ থেকে এসেছে। আলোচ্য সময়ে বিদেশ থেকে ৮৫০ জনকে ৫৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে – সেলিমা ইসলাম

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয় আরও বেশি অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বোন সেলিমা ইসলাম। সেদিন তো তার ফাস্টিং বললাম ১৫ আজকে ১৮। তিনি হাত সোজা করতে পারছে না। গতকাল রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সেলিমা ইসলাম বলেন, তার হাত বাঁকা হয়ে গেছে। হাতের আঙুল বাঁকা হয়ে গেছে, খুবই খারাপ অবস্থা এবং দুই হাঁটু অপারেশন করা হয়েছে। হাঁটুতেও ব্যথা, হাঁটু ফুলে গেছে। তিনি পা ফেলতে পারছে না। তিনি বলেন, সরকার তাকে জামিন না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার যে চিকিৎসা দরকার এখানে সে চিকিৎসা হচ্ছে না। চিকিৎসা না হলে তিনি কেমনে বাঁচবেন? এর আগে বিকাল তিনটায় খালেদার স্বজনরা হাসপাতালে প্রবেশ করেন। স্বজনদের মধ্যে ছিলেন খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথি, কোকোর ছোট মেয়ে জাহিয়া রহমান, খালেদা জিয়ার নাতি সামিন ইসলাম, রাখীন ইসলাম, নাতনি আরিফা ইসলাম। জামিনের ব্যাপারে খালেদার সঙ্গে স্বজনদের কোনো কথা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিমা ইসলাম বলেন, সেদিন তো জামিন দিল না এ বিষয়ে খালেদা জিয়া কোনো কথা বলেননি। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে, কিছু খাচ্ছেন না এবং খেলেও তা বমি করে ফেলে দিচ্ছেন। চিকিৎসকরা আজকে বোধ হয় এসেছিলেন। তারা ওষুধ দিয়েছেন কিন্তু সে ওষুধে তার কাজ হচ্ছে না। তার উন্নত চিকিৎসার দরকার। খাদেলা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে সহজে অনুমতি পান না জানিয়ে সেলিমা ইসলাম বলেন, আমরা তো পারমিশন পাই না, আজকে একমাস হলো অনেক বলার পরে আমরা দেখা করার অনুমতি পেলাম। আমরা কাছে আসলে তার তো একটু ভালো লাগে। কিন্তু আমরা যে দেখতে আসব সেই পারমিশন তারা দিচ্ছে না। একমাস দেড়মাস হয়ে যায় কোনো পারমিশন দেয় না।

দৌলতপুর সীমান্তে গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে। শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রাগপুর বিওপি’র টহল দল পশ্চিম প্রাগপুর মাঠে অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন অবস্থায় ২৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে। অপরদিকে চরচিলমারী বিওপি’র টহল দল শনিবার সন্ধ্যায় চিলমারীর ডিগ্রিরচর মাঠে অভিযান চালিয়ে ১৩৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।

নাহিদার কৃতিত্ব

নিজ  সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের পোড়াদহ গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মহিদুল হক বাবলুর মেয়ে মোছাঃ নাহিদা আক্তার জুই কৃতিত্ব দেখিয়েছে। সে কাটদহ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা-২০১৯-এ অংশগ্রহণ করে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। গৃহিনী মাতা মোছাঃ নাদিরা খাতুন-এর দুই সন্তানের মধ্যে নাহিদা একমাত্র কন্যা সন্তান। নাহিদার কৃতিত্বে তার মায়ের ভূমিকা অতুলনীয়। নাহিদা ভবিষ্যতে উচ্চতর লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হতে চায়। সে সকলের  দোয়া কামনা করেছে।

গাংনীতে এমপি খোকনের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী (মুজিববর্ষ) উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে  মতবিনিময়  সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল  ১১টার সময় গাংনী উপজেলা শহরের (থানা রোডস্থ)  মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকনের বাসভবন চত্বরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। গাংনী উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও এমপি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকনের  সৌজন্যে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন। এ সময় বক্তব্য রাখেন গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুর  রহমান, গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, মেহেরপুর জেলা পরিষদের সদস্য মজিরুল ইসলাম, জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নুরজাহান বেগম, গাংনী উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  ও তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা বিশ্বাস, গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আমিরুল ইসলাম প্রমুখ। বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হুদার সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আ.লীগের সিনিয়র নেতা ও বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, আ.লীগ নেতা হাজী মোহাম্মদ মহাসিন আলী, সাহারবাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, গাংনী উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান আলী আজগর, আ.লীগ নেতা মনিরুজ্জামান আতু, গাংনী পৌরসভার কাউন্সিলর নবীরউদ্দীন, গাংনী উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এনামুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক, তাহাজউদ্দীন, মতিয়ার রহমান, আশরাফুল হক, আব্দুর রহমান, হিসাবউদ্দীন, আব্দুল হান্নান, গোলাম মোস্তফা মাষ্টার, যুবলীগ নেতা আল ফারুক, আ.লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান বাবু, বামন্দী ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুর রহমান কমল, গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসন রাজা সেন্টু প্রমুখ। মতবিনিময় সভা শেষে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মাঝে ১টি করে কম্বল (শীতবস্ত্র) প্রদান করা হয়।

সাংবাদিকদের সতর্ক করলেন দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে কোন ধরনের মনগড়া বা কোনও ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন। গতকাল রোববার গোপীবাগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বৈঠক চলাকালে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, গতকাল (শনিবার) এক প্রার্থী এসেছিলেন কিছু অভিযোগ জানাতে। তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই এমন কোনও বক্তব্য না রাখলেও সাংবাদিক আমাকে এসে বলেন-সেই প্রার্থী বলেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। এর বিপরীতে সাংবাদিক আমার বক্তব্য জানতে চান। এধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করা হলুদ সাংবাদিকতা। প্রার্থী যে অভিযোগ করেননি, তেমন বক্তব্য সাজিয়ে কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা হলুদ সাংবাদিকতা। এসব বরদাস্ত করা হবে না। দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, এধরনের সাংবাদিকতা বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ আসবে। উনি অভিযোগ দিয়েছেন-আমরা যাচাই করবো। এরমধ্যে অতি উৎসাহী হয়ে আমার বক্তব্য নিচ্ছে। ইট ইজ ইয়োলো জার্নালিজম। আমাদের কর্মকর্তা অতি উৎসাহী হয়ে কিছু করবেন না। আমরা বরদাস্ত করবো না। সবাই মিলে সুষ্ঠু-স্বাভাবিক নির্বাচন চাই। আই মিন ইট। যার যার অবস্থা থেকে দায়িত্ব পালন করবো। বাতেন বলেন, নির্বাচনি প্রচারণায় ক্যাম্প করতে পারবে, কিন্তু যত্রতত্র করা যাবে না উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, বাছাইয়ের দিন আমরা প্রার্থীদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় সাজিয়ে একটা কাগজ দিয়েছি। সেখানে তাদের স্বাক্ষরও দিয়েছেন তারা। ফলে এসব তারা জানেন না- এটা বলতে পারবেন না। বাছাইয়ের সময় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ছিলেন। তারা আচরণবিধি মেনে চলবেন ও সার্বিক সহায়তা করবেন বলে কথা দিয়েছেন। তারা কথা দেওয়ার মানে তাদের দলও কথা দিয়েছে। অফিস উদ্বোধন করতে পারবেন না এমপি সাহেবরা, এটা তারা জানেন। এমপি প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এমনকি মন্ত্রী মহোদয়ও কোন কিছু উদ্বোধন বা প্রচার করতে পারবেন না। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষা শুরু ফেব্র“য়ারির ২ তারিখ থেকে। প্রচারণায় সতর্ক থাকতে হবে। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রচারণা শুরু হবে। একই ওয়ার্ডে অনেক মাইক বাজলে সবাই বিরক্ত হবে। একজন প্রার্থী এক ওয়ার্ডে কয়টা মাইক ব্যবহার করতে পারবেন, সেটাও নির্ধারিত আছে। এটা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাস্তবায়ন করবেন, সবার সহযোগিতায় এটা সম্ভব। আব্দুল বাতেন বলেন, আজ আমরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি। কোনোভাবেই যেন আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই। কোনো প্রার্থী যেন আচরণবিধি লঙ্ঘন না করতে পারেন, সে বিষয়ে সংরক্ষিত ২৫টি ওয়ার্ডের মোট ২৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি। তাদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে আচরণবিধির বিষয়ে সক্রিয় ও সচেষ্ট হতে বলা হয়েছে।

 

 

ঝিনাইদহে আঃ রউফ ডিগ্রি কলেজে মাদক বিরোধী গণসচেতনতা মূলক আলোচনা সভা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ‘মাদককে রুখবো, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়বো’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ঝিনাইদহে আঃ রউফ ডিগ্রি কলেজে মাদক বিরোধী গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে সদর উপজেলার ডাকবাংলা আঃ রউফ ডিগ্রি কলেজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়। এসময় আঃ রউফ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জে,এম রবিউল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আজিজুল হক, প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ বিবেকানন্দ তরফদার, সহকারি অধ্যাপক কে এম সালেহ, জিন্নাত জেসমিন, মনোয়ার হুসাইনসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক শাহানুর আলম। এর আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা, মাদকের কুফল ও প্রতিরোধে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা করেন।

কালুখালীর হিরুমোল্লার ঘাটে প্রস্তাবিত ব্রিজের যায়গা পরিদর্শন করলেন এলজিইডির ব্রিজ প্রকল্প পরিচালক এবাদত আলী

ফজলুল হক ॥ গতকাল রবিবার বেলা ১২টার দিকে রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে অরুণগঞ্জ জিসি রাজবাড়ী ক্যান্টনমেন্ট ভায়া হিরু মোল্লার ঘাট আরএইচডি মাধবপুর বাজার সড়কের ২৩২৫ মিটার চেইনেজে মরা পদ্মা নদীর  উপর প্রস্তাবিত ব্রিজ সরজমিনের পরিদর্শন করেছেন  এলজিইডি সদর দপ্তরের ব্রিজ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবাদত আলী। এসময় এলজিইডি রাজবাড়ী সিনিয়র সহকরী প্রকৌশলী মোঃ মামুন বিশ্বাস, এলজিইডি কালুখালী উপ সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুসা বিশ্বাস, কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম খায়ের, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মনিরুজ্জামান চৌধুরী (মবি), রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার সাহা এছাড়াও  ইউপি সদস্য  আঃ লতিফ, মাসুদুর রহমান হিটু, মাসুদ করিম সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি এ ব্রিজটি নির্মাণ হলে রাজবাড়ীর সাথে পাবনার যোগাযোগ এবং চরাঞ্চলের ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের সুব্যবস্থা এবং ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও এ ব্রিজটি নির্মিত হলে চরে প্রস্তাবিত রাজবাড়ী সেনানিবাস মাধবপুর বাজার সংলগ্ন ৯৬ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ নির্মাণ সার্থকতা হবে। ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে   এলজিইডি সদর দপ্তরের ব্রিজ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবাদত আলী বলেন- আগামী ২ মাসের মধ্যে এই ব্রিজটি অনুমোদন হবে বলে উপস্থিত সকলকে আশ্বস্ত করেন।

দৌলতপুর সীমান্তে ফেনসিডিল ও গাঁজাসহসহ আটক-২

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ ওহাদ আলী (৪২) ও আতারুল মন্ডল (৫০) নামে দু’জন মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। র‌্যাব সূত্র জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ক্রোফোর্ডনগর বাজার সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের পাশে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের অভিযানিক দল মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে ১২বোতল ফেনসিডিলসহ ওহাদ আলীকে আটক করে। সে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ পশ্চিমপাড়া গ্রামের আমির বিশ^াসের ছেলে। অপরদিকে একইদিন রাত সোয়া ১১টার দিকে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের অপর একটি অভিযানিক দল উপজেলার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ কেজি গাঁজাসহ আতারুল মন্ডলকে আটক করেছে। সে তাজপুর ঘাটপাড়া এলাকার মৃত ছলেমান মন্ডলের ছেলে। আটক মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

এ বছর হজে যাচ্ছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার বাংলাদেশি

ঢাকা অফিস ॥ চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাচ্ছেন ১৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার জন। সব মিলিয়ে ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। গতকাল রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী। এছাড়া কমিটির সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, জিন্নাতুল বাকিয়া, তাহমিনা বেগম এবং রতœা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, ২০২০ সালে (১৪৪১ হিজরি) হজ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য হজ ক্যালেন্ডার তৈরি করা হয়েছে। এ বছর শতভাগ হজ যাত্রীর ইমিগ্রেশন মক্কা রুটের মাধ্যমে ঢাকায় সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। হজ যাত্রীদের আরও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হজ মেডিক্যাল টিমে সহায়ক হিসেবে মেডিকেল ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটধারীদের অগ্রাধিকার দেয়ার সুপারিশ করে কমিটি। বৈঠকে কমিটি প্রতিটি সংসদীয় আসনে মসজিদের মেরামত ও সংস্কার করার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বার্ষিক ১০ লাখ টাকা, মাদ্রাসার জন্য ৫ লাখ টাকা এবং মন্দিরের জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করে। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন ও কল্যাণ ট্রাস্ট্রের জন্য নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য স্থায়ী জমি বরাদ্দ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে।

দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩ ড্রাম ট্রাকের ৩০ হাজার টাকা দন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩টি ড্রাম ট্রাকের ৩০হাজার টাকা দন্ড দিয়েছেন আদালতের বিচারক। গতকাল রবিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাজারে অতিরিক্ত বালি ভর্তি (ওভার লোড) ৩টি ড্রাম ট্রাক আটক করে এ দন্ড দেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদ, ঈশ^রদীর আলহাজ¦ মোড়ের পলাশ ও বাবু’র ৩টি ড্রাম ট্রাক মাত্রাতিরিক্ত বালি ভর্তি করে দৌলতপুর যাওয়ার পথে উপজেলা বাজারে ড্রাম ট্রাক ৩টি আটক করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলী সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৪৩(১) ধারা লংঘনের দায়ে ৮৬ ধারায় ৩টি ড্রাম ট্রাক মালিককে ১০ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করেন।

যেভাবে হত্যা করা হয় কাসেম সোলাইমানিকে, ভিডিও ভাইরাল

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। শুক্রবার ভোরে এই নারকীয় হত্যাকান্ড ঘটে। সোলাইমানিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মুহূর্তের ভিডিও শনিবার প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে। যেটি এরইমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শুক্রবার ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে রকেট হামলা চালিয়ে ইরানের আল-কুদস ফোর্সের প্রধান ও বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরানের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল মুহানদিসকে হত্যা করা হয়। এর এক সপ্তাহ আগে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস চত্বরে হাজার হাজার ইরাকির হামলা চালানোর পর এ বিষয়ে ইরানকে দায়ী করে ওয়াশিংটন। এই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা চালানো হলো। আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেছে রাশিয়া টুডে। ভিডিও দিয়ে রাশিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, কুদস ফোর্সের প্রধান লেবানন থেকে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। হামলার সময় ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মোহান্দেসের সঙ্গে একই গাড়িতে ভ্রমণ করছিলেন কাসেম। ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাস্থল থেকে ধোঁয়ার কুন্ডলি উঠছে এবং বিধ্বস্ত গাড়িতে আগুন জ্বলছে। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় সোলাইমানির গাড়িতে আঘাত হানে দু’টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানায়, প্রায় নিঃশব্দ এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয় সোলেমানির গাড়িবহরে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এ ড্রোনটিকে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়ংকর বলে মনে করা হয়। ‘হান্টার-কিলার’ বলে পরিচিত ড্রোনটি পাঠানো হয়েছিল কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড হেডকোয়ার্টার থেকে। এটি একই সঙ্গে হামলা ও ঘটনার ভিডিওচিত্র পাঠাতে সক্ষম। ৬৪ মিলিয়ন ডলার (৫৪৩ কোটি টাকা প্রায়) মূল্যের হাইটেক ড্রোনটিতে চারটি লেজার গাইডেট হেলফায়ার ক্ষেপনাস্ত্র ছিল। এতে অন্তত ১৭ কেজি বিস্ফোরক থাকে যা, খুব সহজেই একটি ট্যাংক ধ্বংস করতে সক্ষম। ড্রোনটি এতটাই শব্দহীনভাবে উড়তে পারে যে শিকার তার বিপদের কথা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারবে না। দু’জন ক্রুর পরিচালনায় ড্রোনটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৩০ মাইল বেগে যমদূতের মতো এসে হাজির হয় সোলেমানিদের গাড়ির ওপর। হামলা চালায় বিশেষভাবে তৈরি হেলফায়ার আর৯এক্স ‘নিনজা’ ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে। এ মিসাইলের শেষভাগে ছয়টি পাখা থাকে যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগমুহূর্তে বের হয়। এটি লক্ষ্যবস্তুর ওপর সুনিপুণভাবে আঘাত হানতে সাহায্য করে ও বিস্ফোরণের ব্যাপ্তি কমিয়ে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে শিকারকে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর বিদেশি অভিযানের দায়িত্ব আল-কুদস ফোর্সের। ৬২ বছর বয়সী নিহত সোলাইমানি ছিলেন এই বাহিনীর প্রধান। হামলায় বিপ্লবী গার্ডসের পাঁচ ও হাশেদের পাঁচ সেনা নিহত হয়েছেন।

‘আমেরিকা সবচেয়ে বড় শয়তান’

ঢাকা অফিস ॥ ইরাকে মার্কিন হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার বাগদাদজুড়ে শোকমিছিল হয়েছে। এসময় ক্ষুব্ধ লোকজনকে ‘আমেরিকা সবচেয়ে বড় শয়তান’ বলে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি নিউজে ‘আমেরিকা সবচেয়ে বড় শয়তান’ বলে শিরোনাম করা হয়। শুক্রবার সকালে বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে আল-কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি মিলিশিয়া নিতে আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে হত্যা করা হয়েছে। মার্কিন হামলায় নিহতদের মধ্যে সোলাইমানিসহ পাঁচজন ইরানি ও মুহান্দিসসহ পাঁচজন ইরাকি রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। শিয়া ইসলামে অন্যতম সম্মানিত ইমাম খাদিমের মাজার থেকে শোকমিছিল শুরু হয়। এরপর শোকার্ত লোকজন মিছিল নিয়ে রাস্তায় বের হন। এসময় তাদের সঙ্গে সাঁজোয়া যানও দেখা গেছে।

শোকার্তদের অনেকের চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। তারা ‘নো, নো, আমেরিকা’, ‘আমেরিকা নিপাত যাক, ইসরাইল নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। শোকমিছিলে যোগ দেয়া লোকজনের মধ্যে পিএমএফের উর্দি পরা অনেক সদস্যও হাজির ছিলেন। তাদের অনেকে ইরাকের ও তাদের বাহিনীর পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন। শোকমিছিলে যোগ দেয়া অনেকের হাতে সোলাইমানি ও মুহান্দিসের ছবি ছিল। মিছিলে থাকা সাঁজোয়া যানগুলোতেও তাদের ছবি শোভা পাচ্ছিল। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল-মাহদি শোক মিছিলে যোগ দিলে উপরে দুটি হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। এতে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া নেতারাও অংশ নিয়েছিলেন। পরে শোকমিছিল মধ্য ইরাকের পবিত্র শহর কারবালায় যায়।

যুব সমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে কুষ্টিয়ায় সভায় বক্তারা

মাদক নিয়ন্ত্রনে সকলকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে

মানব উন্নয়ন কেন্দ্র মউক এর আয়োজনে কুষ্টিয়ায় “যুব সমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে প্রচার অভিযান” শীর্ষক ক্যাম্পেইন এ্যাপ্রাইজাল ও শেয়ারিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় জিলা স্কুল মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শিরিন আখতার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুল হাসান মালিক, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এফতে খায়রুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মউক এর নির্বাহী প্রধান আসাদুজ্জামান সেলিম, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি রিজিওনাল কো-অডিনেটর মাসুদ আহমেদ, রূপান্তরের ক্যাম্পইন কো-অর্ডিনেটর অসিম আনন্দ দাস। সভা পরিচালনা করেন মানব উন্নয়ন কেন্দ্র মউক এর প্রোগ্রাম অফিসার মুরাদ হোসেন। সভায় বক্তারা বলেন- আমাদের যুব সমাজকে মাদকের কুফল সম্পর্কে আরো সচেতন হতে হবে। নিজের জন্য ও জাতির উন্নয়নের জন্য যুব সমাজকে তৈরি হতে হবে। আর এ জন্য মাদক থেকে দুরে থাকতে হবে। বক্তারা বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রনে সকলকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ইমাম গাজ্জালী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি ইব্রাহীম খলিল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়া পৌরসভায় আয়োজনে ১১ জানুয়ারি জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে এ্যাডভোকেসী ও পরিকল্পনা সভা

১১ জানুয়ারি জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে এ্যাডভোকেসী ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার আয়োজনে পৌরসভার ম,আ,রহিম মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল অব মেয়র-০১ মতিয়ার  রহমান মজনু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইউএইচএন্ডএফপিও ডাঃ সৌনিয়া কাত্তকাবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইদা সিদ্দিকা, সিভিল সার্জন অফিসের ডাক্তার এমওডিএস ডাঃ নুসরাত জাহান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার ডাঃ সৌনিয়া কাত্তকাবি বলেন- প্রতিবছরের ন্যায় ১১ জানুয়ারি ১ম বারের মত  ৬-১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি করে নীল রঙ্গের ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ বয়সী সকল শিশুকে ১টি করে লাল রঙ্গের ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তিনি আরোও বলেন, এই ক্যাপসুল অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে। এছাড়াও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা কমায় এবং শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। বাংলাদেশে ভিটামিন “এ” এর অভাবজনিত সমস্যা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় পুষ্ঠি সেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্ঠি প্রতিষ্ঠান বছরে দুইবার জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে প্যানেল অব মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু বলেন, আপনারা যেভাবে প্রতিবার এই জাতীয় ভিটামিন“এ” প্লাস  খাওয়ানো কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তাঁর জন্য আপনাদের ধন্যবান জানায়। এবারও আপনাদের  সহযোগিতায় এই কার্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, পৌর এলাকায় মোট ৯০ টি ভ্রাম্যমান কেন্দ্রে দুইজন করে সেচ্ছা সেবক কাজ করবে। সকাল ৮ ঘটিকা হতে বিকাল ৪ ঘটিকা পর্যন্ত এই কার্য়ক্রম চলবে। ৬-১১ মাস বয়সী ১৭৭২ জন শিশু ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ১১,৯৭৪ জন শিশু সর্বমোট ১৩,৯৪৬ জন শিশুকে ভিটামিন“এ” প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম, পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ রানবির আহমেদ, স্যানেটারী ইন্সপেক্টর আব্দুর রহিম, পৌরসভার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলোয়াত পাঠ করেন পৌরসভার পেশ ঈমাম আবুল কালাম আজাদ। উক্ত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পৌরসভার টিকাদানকারী সুপারভাইজার  গাজীউর রহমান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

কুষ্টিয়া সপ্তাহব্যাপী গাইড গাইডার কোর্স প্রশিক্ষণ শুরু

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সপ্তাহব্যাপী গাইড গাইডার কোর্স প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে কলকাকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হলরুমে কুষ্টিয়া জেলা গার্লস গাইডস্ এসোসিয়েশনের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়। কুষ্টিয়া গার্লস গাইডস্ এসোসিয়েশনের কমিশনার ও কলকাকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেব-উন-নিসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার  মোঃ জায়েদুর রহমান। কুষ্টিয়া গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুন নাহার শিখার পরিচলনায় অনুষ্ঠানে জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক সাবিনা খাতুন, গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের সহকারী কমিশনার পারভীন আক্তার মিলি, কোষাধ্যক্ষ শাহিনা বেগম, সদস্য অলকা রায়, নুরুন নাহার শেফা, গার্লস গাইডস্ এসোসিয়েশন খুলনা অঞ্চলের ট্রেইনার শিরিন গুলশান আরা, রেঞ্জার সর্দ্দার তানজিনা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। কুষ্টিয়া জেলার ৬ উপজেলা ৬০জন সহকারী শিক্ষক এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করেছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার – স্পিকার

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, মিয়ানমারে নির্যাতিত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা বিশ্বে বিরল। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সুন্দর জীবন সুরক্ষিত করতে ইতোমধ্যেই পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সেবা নিশ্চিত করেছে সরকার। গতকাল রোববার কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা ও প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কক্সবাজারস্থ প্রধানগণের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন সমস্যা বিবেচনায় রেখে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য স্থানীয় জনসাধারণের দুর্ভোগের বিষয়টিও ভাবতে হবে। তিনি আরো বলেন, পাহাড় কেটে আবাসস্থল তৈরি ও অন্যান্য কারণে পরিবেশগত ক্ষতি, স্থানীয় জনগণের সাথে রোহিঙ্গাদের ব্যবসা বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের সম্মিলিত প্রয়াসের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দীর্ঘ সময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রয়েছে। এই পরিবেশ অব্যাহত রাখতে সকলকে সতর্কতার সাথে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পরে তিনি প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয় ‘অরুনোদয়’ পরিদর্শন করেন এবং প্রতিবন্ধীদের পরিবেশিত অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করেন। জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম, সাইমুম সরোয়ার কমল, আশেকউল্লাহ রফিক, শাহীন চৌধুরী, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কক্সবাজারের ডিজিএফ আই প্রধান, কক্সবাজারের এনএসআই অতিরিক্ত পরিচালক, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি, পৌর মেয়র, ইউএনও বৃন্দ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্যবৃন্দ, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও গনমাধ্যমকর্মীবৃন্দ সভায় যোগদান করেন।

এস কে সিনহার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ঢাকা অফিস ॥ জালিয়াতি করে ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের গ্রেপ্তার করা গেল কি না- সে বিষয়ে পুলিশকে ২২ জানুয়ারি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে আদালতের আদেশে। এ মামলায় দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ গতকাল রোববার এ আদেশ দেন। বিচারপতি সিনহা বাদে মামলার অপর আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়। বিচারপতি সিনহা গত দুই বছর ধরে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। আসামিদের মধ্যে কেবল বাবুল চিশতী অন্য মামলায় কারাগারে আছেন। ঋণ জালিয়াতির এই মামলায় এখনও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি বলে আদালত তার বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে। রীতি অনুযায়ী তা এখন হাজতি পরোয়ানা হিসেবে গণ্য হবে। দুদক কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ গত ৯ ডিসেম্বর এই ১১ জনকে আসামি করে ঋণ জালিয়াতির এ মামলার  অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবের চার কোটি টাকা জব্দ করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংকে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে সেই টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন  ও পাচার করেছেন, যা দ-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২)(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দুদকের করা এই মামলায় বাবুল চিশতীর নাম না থাকলেও অভিযোগপত্রে তাকে নতুন করে আসামি করা হয়। আর এজাহারে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. জিয়া উদ্দিন আহমেদকে আসামি করা হলেও অভিযোগপত্রে মামলার দায় থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। বিচারক রোববার সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। বিচারপতি সিনহা নানা নাটকীয় ঘটনার মধ্যে দুই বছর আগে বিদেশে পাড়ি জমানোর পর দুদক অভিযোগ পায়, তিনি ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ব্যবসায়ী পরিচয়ে দুই ব্যক্তির নেওয়া ঋণের চার কোটি টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়েছিলেন। অভিযোগ পেয়ে ওই বছরই তদন্তে নামে দুদক। দীর্ঘ তদন্তে পর চলতি বছরের ১০ জুলাই সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আসামি শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র  ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় আলাদা দুইটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। ব্যবসা বাড়ানোর জন্য পরদিন তারা ওই ব্যাংক থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেন। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ঋণের আবেদনে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়, যার মালিক ছিলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। ঋণের জামানত হিসেবে আসামি রনজিৎ চন্দ্রের স্ত্রী সান্ত্রী রায়ের নামে সাভারের ৩২ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয় ঋণের আবেদনে। ওই দম্পতি এস কে সিনহার পূর্ব পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার এজাহারে। দুদক বলছে, ব্যাংকটির তৎকালীন এমডি এ কে এম শামীম কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই, ব্যাংকের নিয়ম-নীতি না মেনে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ দুটি অনুমোদন করেন।  মামলার এজাহারে বলা হয়, ৭ নভেম্বর ঋণের আবেদন হওয়ার পর ‘অস্বাভাবিক দ্রুততার’ সঙ্গে তা অনুমোদন করা হয়। পরদিন মোট চার কোটি টাকার দুটি পে-অর্ডার ইস্যু করা হয় এস কে সিনহার নামে। ৯ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে জমা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ক্যাশ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে এস কে সিনহার ভাইয়ের নামে শাহজালাল ব্যাংকের উত্তরা শাখার অ্যাকাউন্টে দুটি চেকে দুই কোটি ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় ওই বছরের ২৮ নভেম্বর। এজাহারে বলা হয়, “আসামি রনজিৎ চন্দ্র ঋণ দ্রুত অনুমোদনের জন্য প্রধান বিচারপতির প্রভাব ব্যবহার করেন। রনজিৎ চন্দ্রের ভাতিজা হলেন ঋণ গ্রহীতা নিরঞ্জন এবং অপর ঋণ গ্রহীতা শাহজাহান ও রনজিৎ ছোটবেলার বন্ধু। ঋণ গ্রহীতা দুইজনই অত্যন্ত গরিব ও দুস্থ। তারা কখনও ব্যবসা-বাণিজ্য করেননি।” সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। পরে বিদেশ থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন; তিনি এখন আছেন যুক্তরাষ্ট্র হয়ে কানাডায়। তবে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসা বিচারপতি সিনহা গতবছর যুক্তরাষ্ট্রে বসেই একটি বই প্রকাশ করেন। তাতে তিনি দাবি করেন, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।