বলিভিয়ায় নির্বাচন ৩ মে

ঢাকা অফিস ॥ বলিভিয়ায় আগামী ৩ মে সংসদ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে দেশটির নির্বাচন সংক্রান্ত সর্বোচ্চ পরিষদের প্রধান জানিয়েছেন। নির্বাচন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও তফসিল কয়েকদিনের মধ্যে দেয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম ইলেকটোরাল ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট সালভাদর রোমেরো।

এর মাধ্যমে গত বছর অক্টোবরের বিতর্কিত নির্বাচনের পর প্রায় সাত মাস ব্যবধানে লাতিনের দেশটিতে পুনর্নির্বাচনের তারিখ মিলল, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। “আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমরা নির্বাচনী ক্যালেন্ডার, নির্বাচনের তারিখ ও তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবো,” বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে রোমেরো এমনটাই বলেছেন। অক্টোবরের ওই নির্বাচনী ফল নিয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভের পর সেনাবাহিনীর চাপে পড়ে নভেম্বরে পদত্যাগে বাধ্য হন দেশটির বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। প্রাণ বাঁচাতে পরে তিনি মেক্সিকোতে পালিয়েও যান। পরে বিরোধী সিনেটর জেনাইন আনিয়েজ ‘ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির’ দায়িত্ব নেন। মোরালেসের ক্ষমতাচ্যুতিকে কেন্দ্র করে লা পাজসহ বলিভিয়ার অনেক শহরে তার দল মুভমেন্ট ফর সোশালিজমের (এমএএস) নেতা, কর্মী, সমর্থক এবং আদিবাসীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত ৩০ জন, আহত হন শতাধিক। প্রথমে মেক্সিকোতে আশ্রয় নিলেও মোরালেস পরে আর্জেন্টিনায় চলে যান। সেখানে বসেই তিনি এখন পরবর্তী নির্বাচনে দলের প্রার্থী ঠিক করা ও প্রচারণার পরিকল্পনার করছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। গত বছর রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকা আদিবাসী এ প্রেসিডেন্ট চলতি বছরের বড়দিনের আগেই দেশে ফিরবেন বলে সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন। পুর্ননির্বাচনে দাঁড়াবেন না বলেও নিশ্চিত করেছেন এমএএসের এ শীর্ষনেতা। নির্বাচনে দলের পক্ষে সাবেক অর্থ মন্ত্রী লুইস আরকে কাটাকোরা এবং কোকাচাষী ইউনিয়নের সাবেক প্রধান আন্দ্রোনিকো রদ্রিগেজরাই সম্ভাব্য প্রার্থী বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৪ জানুয়ারি শনিবার বেলা ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গাজী মাহবুব রহমান (সম্পাদক, দৈনিক আজকের আলো)। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ও সভা পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু (সম্পাদক দৈনিক আন্দোলনের বাজার ও জেলা প্রতিনিধি চ্যানেল আই)। আলোচনা করেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি তারিকুল হক তারিক (জেলা প্রতিনিধি কালের কণ্ঠ), সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান কুমার (সম্পাদক, দৈনিক মাটির ডাক), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরীফ বিশ্বাস (স্টাফ করেসপনডেন্ট চ্যানেল ২৪ ও সম্পাদক, দি টিচার), কোষাধ্যক্ষ আবু মনি জুবায়েদ রিপন (জেলা প্রতিনিধি দৈনিক যুগান্তর), দপ্তর সম্পাদক এম. লিটন-উজ-জামান (জেলা প্রতিনিধি বাংলা টিভি), প্রচার প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক তৌহিদী হাসান (জেলা প্রতিনিধি দৈনিক প্রথম আলো), ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক নুরুল কাদের (জেলা প্রতিনিধি দৈনিক নয়া দিগন্ত), নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান লাকী (জেলা প্রতিনিধি দৈনিক সংবাদ), আক্তার হোসেন ফিরোজ (সম্পাদক, দৈনিক আজকের সূত্রপাত), এম.এ জিহাদ (সম্পাদক দৈনিক মাটির পৃথিবী), ডালিয়া পারভীন শিউলী (প্রতিনিধি দৈনিক বাংলাদেশের খবর), সুজন কুমার কর্মকার (জেলা প্রতিনিধি দৈনিক সকালের সময় ও সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক আন্দোলনের বাজার), মোকাদ্দেস হোসেন সেলিম (সম্পাদক, দৈনিক সূত্রপাত)। সভায় আলোচনা শেষে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে ঢুকতে  পারবে না সাংবাদিকরা – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে কোনো সাংবাদিক ঢুকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা অনেকেই জানেন, হাসপাতালে অনেক ধরনের রোগী চিকিৎসাধীন থাকে। এর মধ্যে মুমূর্ষু রোগীরাও থাকেন। তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সংক্রমণের বিষয়টি আমাদের আগে ভাবতে হয়। তাই সবাইকে সব জায়গায় ঢুকতে দেয়া সম্ভব হয় না। এ জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও সাংবাদিকদের ঢুকতে নিষেধ রয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই রয়েছে বলেও এ সময় দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ঢুকতে হলে সাংবাদিকরা পরিচালকের কাছে অনুমতি নেবেন তার পরে হাসপাতালে ঢুকবেন। হাসপাতালে অনেক ধরনের অসুখ-বিসুখ থাকে। তাই বেশি অ্যাটেনডেন্টস থাকার কারণে রোগীদের নানারকম সমস্যা ও জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মেনে চলা সবার দায়িত্ব। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন একজন রোগীর স্বজনকে একদল ইন্টার্ন ডাক্তার পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় সাংবাদিকরা ওই স্বজনের ছবি তুলতে গেলে ইন্টার্নিরা দলবেঁধে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে রাজশাহীর বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মরত ১০ সাংবাদিক আহত হন। এরপর থেকে কয়েকবার নোটিশ ঝুলিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ। এ সব নিয়ে এখনও রাজশাহীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টানাপোড়েন রয়েছে।

ছাত্রলীগে ‘ভারমুক্ত’ হলেন জয়-লেখক

ঢাকা অফিস ॥ ছাত্রলীগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসা আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য্য ‘ভারমুক্ত’ হলেন। গতকাল শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দুজনের ‘ভারমুক্তি’র ঘোষণা দেন তাদের ‘সাংগঠনিক নেত্রী’ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে কাউন্সিল ছাড়াই নিয়মিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন জয় ও লেখক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী গত সেপ্টেম্বরে বরখাস্ত হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে এসেছিলেন জয় ও লেখক। গতকাল শনিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় নেত্রীর কাছে জয় ও লেখকের ভারমুক্তির প্রস্তাব তোলেন। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী। ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ভার প্রাপ্ত যুক্ত আছে। সেটা কেমন দেখায় না? ভার উঠিয়ে দিন।” এরপর শেখ হাসিনা বলেন, “ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, এখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রস্তাব করেছে ছাত্রলীগের দুজনের ভার উঠিয়ে দিতে। “ভার উঠিয়ে দিলাম। আজ থেকে তাদের উপর আর ভার নেই, তাদের ভারমুক্ত করে দিলাম। সামনে মুজিব বর্ষ ছাত্রলীগকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।” জয় ও লেখক দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির ১ নম্বর সহ-সভাপতি ছিলেন জয়, আর লেখক ছিলেন ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বরিশালের ছেলে জয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়েছেন। এখন ক্রিমিনোলজি বিভাগ থেকে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স করছেন তিনি। ছাত্রলীগের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটির আইন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা জয় তার আগে সার্জেন্ট জহরুল হক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হওয়া লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের ছাত্র। এখন স্নাতকোত্তর করছেন তিনি। যশোরের মনিরামপুরের ছেলে লেখক ওই এলাকার সাংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ভাতিজা। লেখক ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও জগন্নাথ হল শাখার বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের সর্বশেষ ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন। তার আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই শোভনকে সভাপতি ও রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছর মেয়াদি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে সম্মেলনের আগেই বিদায় নিতে হয় শোভন ও রাব্বানীকে।

কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা’র বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা’র বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ জানুয়ারি শুক্রবার ঢাকার ধামরাই এর আলাদীনস পার্কে সমিতি এ বনভোজনের আয়োজন করে। বনভোজনে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোঃ হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী, কুষ্টিয়া ৩(সদর) আসনের সাংসদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া ১ আসনের সাংসদ আ ক ম সরোয়ার জাহান বাদশাহ, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর সিনিয়র সচিব আনোয়ার হোসেন, সচিব মোঃ আলকামা সিদ্দিকী, স্বরাস্ট্র সচিব মোঃ শহীদুজ্জামান, সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সমিতির সভাপতি আকতার উজ জামান, মহাসচিব  মোঃ রবিউল ইসলামসহ উপদেষ্টা পরিষদ, নির্বাহী পরিষদ এবং অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য ‘ঢাকার বুকে একখন্ড কুষ্টিয়া’ বিনির্মাণে কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক বনভোজন কুষ্টিয়াবাসীর মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল।

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ছাত্রলীগকে মানুষের আস্থা অর্জন করে চলতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনটির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ছাত্র/ছাত্রীদের এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আর্জন করেই চলতে হবে। গতকাল শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ঘোষণা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জাতির ক্রান্তি লগ্নে ছাত্রলীগ সচেষ্ট ছিলো। দেশের সব আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন ছাত্রলীগের বহু কর্মী নিজেদের জীবন দিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসীদের জায়গায় পরিণত করা হয়েছিল।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্ররা আমাদের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতে তারা দেশকে পরিচালনা করবেন। তাদের যদি বিপথে নামানো হয়, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য তাদের ব্যবহার করা হয় তাহলে তারা দেশকে নেতৃত্ব দেবে কীভাবে?’। ‘সততা-আদর্শ ছাড়া সফলতা আসবে না। সাময়িকভাবে নামডাক আসতে পারে, অর্থবিত্ত হতে পারে। কিন্তু দেশের ইতিহাসে মনে রাখার মতো কিছু করতে পারবেন না।’ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক বলেন, ‘২০২০ সাল। এই সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। এই বছরের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী আমরা পালন করব। ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সাল আমরা মুজিববর্ষ ঘোষণা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান সরকার আমাদের ভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে ছাত্রলীগ। আমরা দেখেছি, যখনই কোনো সংগ্রাম হয়েছে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল উল্লেখ করে বাঙালি জাতির ইতিহাসে ছাত্রলীগের নানা অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ নানা সংগ্রামে ছাত্রলীগের অবদানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিক থেকে ভাবতে গেলে ছাত্রলীগই মুরুব্বি সংগঠন। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে পায়রা উড়িয়ে, পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জ্যেষ্ঠ নেতা ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ আলী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের অধিকাংশ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকলেও অপসারিত রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে মঞ্চে দেখা যায়নি। এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলীয় সভাপতিতে স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানায়। ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শুভ শুভ শুভ দিন-ছাত্রলীগের জন্মদিন’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা উদ্যান। উত্তরীয় পরিয়ে শেখ হাসিনাকে বরণ করে নেন ছাত্রলীগের নেতারা। পরে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মাধ্যমে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। এরপর দেশাত্মবোধক গান বাজানো হয়। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন। দুপুর হওয়ার আগেই সংগঠনটির সাবেক-বর্তমান নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় রূপ নেয়সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। প্রসঙ্গত ১৯৪৮ সালের এদিনে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান উপমহাদেশের বৃহৎ এ ছাত্রসংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে সংগঠনটির নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ’। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন ও মহান স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্রসংগঠনটি। সব আন্দোলন-সংগ্রামেই ছাত্রলীগ অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় এসেছে সবাই ছাত্রদেরকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করেছেন। জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া পর্যন্ত সবাই ছাত্র সংগঠনকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছে। নীতি, আদর্শ ও সততা ছাড়া কোন সংগঠন গড়ে উঠতে পারে না। ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকেই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোচনামচা পড়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধান অতিথীর বক্তব্যে শেষ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানের শাসক ঘোষ্ঠির একমাত্র শত্রু ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু কখনও নীতির সঙ্গে আপোষ করেননি বলেই বার বার তাকে জেলে যেতে হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কখনও নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা করেননি। বাঙালীদের অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিলো তার একমাত্র লক্ষ্য। অর্থ সম্পদের দিকে না তাকিয়ে বাঙালি জাতিকে তিনি সব সময় ভালোবেসেছেন। সন্তান হিসেবে আমরাও তার কাছে তেমন কোন ভালোবাসা পায়নি। এসময় ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে নীতি নিয়ে গড়ে উঠতে হবে। আগামী দিনে জাতীর পিতার আদর্শে এই সংগঠনকে গড়ে উঠার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

 

সড়কে দুর্ঘটনা-প্রাণহানি দুটোই বেড়েছে

ঢাকা অফিস ॥ আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশের সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে বলে পরিসংখ্যান দিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন। এই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে দেড় হাজারটি; প্রাণহানি বেড়েছে ৭৮৮ জন। গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার খবর এবং সংগঠনের বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো তথ্য সন্নিবেশ করে তৈরি প্রতিবেদন গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। ২০১৭ সালে দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে আইন সংশোধনসহ নানা পদক্ষেপের মধ্যেও সড়ক নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার চিত্রই এসেছে নিসচার প্রতিবেদনে। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “২০১৭ সালের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর নানা উদ্যোগ নেওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা কিছুটা কমেছিল। কিন্তু তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।” ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ১০ জন (ফাইল ছবি)২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ১০ জন (ফাইল ছবি)নিসচার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৭০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ২২৭ জন নিহত হয়েছেন। ২০১৮ সালের ৩ হাজার ৩৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন ৪ হাজার ৪৩৯ জন। ২০১৮ সালের তুলনায় ১ হাজার ৫৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হয়েছে ২০১৯ সালে। ২০১৮ সালের চেয়ে ২০১৯ সালে ৭৮৮ জন মানুষ বেশি মারা গেছেন। ২০১৯ সালের মোট মৃত্যুর ৮৭১টি হাসপাতালে ভর্তির পর এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ২০ শতাংশ। তবে নিহতের সংখ্যা বাড়লেও কমেছে আহতের সংখ্যা। ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ০৮ জন আহত হয়েছিলেন, ২০১৯ সালে আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৩ জন। ইলিয়াস কাঞ্চন অভিযোগ করেন, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ, সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসন থেকে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলে নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়া হয় না। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সরকারিভাবে কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা সঠিক ও নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, এটি করার দায়িত্ব ছিল সরকোরের। এজন্য আমরা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি দুর্ঘটনা অনুসন্ধান সেল গঠন করে প্রতিবছরের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য জাতির কাছে তুলে ধরার অনুরোধ করছি। যাতে সঠিক ও নিখুঁত সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সবাই জানতে পারে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।” সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৯ সালে ১৬২টি রেল দুর্ঘটনায় ১৯৮ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩৪৭ জন। ৩০টি নৌ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬৪ জন, আহত হয়েছেন ১৫৭ জন। এসব দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিচসা সড়কে দুর্ঘটনার জন্য এককভাবে সবচেয়ে বেশি দায়ী করেছে ট্রাককে। মোট ১০৯৮টি দুর্ঘটনার জন্য  ট্রাক দায়ী বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেল ১০৩৩টি, বাস ৯৯২টি, কভার্ড ভ্যান ১৬০টি, মাইক্রোবাস ১৫৮টি, নসিমন ৮৩টি, প্রাইভেটকার ৭৯টি এবং পিকআপ, অটোরিকশা, ভ্যান এবং অন্যান্য যানবাহন ২ হাজার ১৭৮টি দুর্ঘটনায় দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বড় শহর ও মহাসড়কে। ভ্যান, রিকশা, নসিমন, অটোরিকশার মতো যানবাহন এসব দুর্ঘটনার জন্য বেশি দায়ী বলে নিসচার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে। ধীরগতির এসব যান এখনও মহাসড়কে চলাচল করে দূরপাল্লার বড় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটালেও তা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উদ্যোগ নেই বলে নিচসার অভিযোগ। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে নিসচা। এছাড়া সচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে প্রচার, স্কুলের পাঠ্যক্রমে সড়ক দুর্ঘটনারোধের বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা বাস্তবায়ন, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগের সুপারিশ করেছে নিসচা। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে আমরা জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষক, গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। “আমরা মনে করি নিরাপদ সড়ক চাইর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকেও যদি এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হত, তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যেত।”

টার্গেট ১৯ লক্ষ ঘনমিটার বালু উত্তোলন

ড্রেজিংয়ে সচল হচ্ছে কুষ্টিয়ার গড়াই

বিশেষ প্রতিনিধি ॥  গত বছর এ সময়ে পদ্মার অন্যতম শাখা নদী গড়াই হেঁটে পার পাওয়া যেত। নদীর ঘোড়াঘাট এলাকা দিয়ে দুইপারের লোকজন পাঁয়ে হেটে পারাপার হতো। তবে এবার ভিন্ন চিত্র। নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। নদীতে পানি প্রবাহ বেড়েছে। ড্রেজিংয়ের ফলে পাল্টে গেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গড়াই নদীর পানি প্রবাহের চিত্র। গত কয়েক বছরের তুলনায় শুষ্ক মৌসুমে এবার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশি¬ষ্টরা। গড়াইয়ে পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরবনসহ এ অঞ্চলে নোনা পানির আগ্রাসন বন্ধ হবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে,‘ গড়াই নদীকে সচল রাখতে পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক গত বছরের ২৪ অক্টোবর থেকে উৎসমুখ তালবাড়িয়া থেকে শুরু হয় খনন কাজ। আগে দুটি ড্রেজার দিয়ে খনন কাজ চললেও এবারই প্রথম ৫টি ড্রেজার একসাথে খনন চলছে। সকাল ৬ টা থেকে শুরু করে রাত ১১টা থেকে ১২টা চলে কাজ।

জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষার পর উৎসমুখে প্রচুর পলি পড়ে পদ্মা থেকে গড়াই নদীতে পানি প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। এ কারনে অক্টোবর-নভেম্বর মাসের দিকে গড়াই নদী শুকিয়ে যায়। এছাড়া বিগত কয়েক বছর অপরিকল্পিত খননে নদী একেবারে সংকুচিত হয়ে আসে। আর খনন কাজেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আসে। মানিকগঞ্জ ড্রেজার সাব ডিভিশনের বিরুদ্ধে তদন্তে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এমনকি তেল চুরির সময় ধরা পড়ে তারা। এরপর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নদী পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে মানিকগঞ্জের পরিবর্তে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ড্রেজার বিভাগকে এ কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়।

ভেড়ামারা ড্রেজার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বর মাস থেকে তারা তালবাড়িয়াসহ কয়েকটি পয়েন্ট থেকে খনন কাজ শুরু করে। নদীকে পুরোপুরি সচল রাখার স্বার্থে এবার পরিকল্পিত খননের ওপর জোর দেয়া হয়। সেই মোতাবেক ৬ কিলোমিটার এলাকা সচল করতে এক দফা খনন কাজ করা হয়। এরপর ডিজাইন অনুযায়ী উৎসমুখ পদ্মায় ৩২০ মিটার চওড়া করে খনন কাজ শুরু হয়, পর্যায়ক্রমে তা ১০ মিটারে এসে শেষ হবে।

উৎসমুখ ৩২০ মিটার খননের ফলে এবার পানি প্রবাহ অনেক বেড়ে গেছে। পুরো কাজ শেষ হলে পানি প্রবাহ আরও বাড়বে। নদী যে সংকুচিত হয়ে আসছিল সেটাও আর থাকবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর ১৯ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারন করা হবে। জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও তার আগেই এ কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে জানাগেছে। আর ৩৭ কোটি টাকা বাজেট থাকলেও ২৭ কোটি টাকার মধ্যেই এ কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করছে সংশি¬ষ্টরা।

গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী তাজমীর হোসেন বলেন,‘ এখন পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে ৫ কিলোমিটার কোথাও এক দফা আবার কোথাও দুই দফা খনন কাজ শেষ হয়েছে। গত বছর এ সময় যেখানে নদীতে পানি ছিল না এবার খননের পর চিত্র পাল্টে গেছে। আগের তুলনায় অনেক বেশি চওড়া করে খনন কাজ হচ্ছে। আর নদী থেকে বালু কমপক্ষে ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার দুরে দুরে ফেলা হচ্ছে। যাতে বৃষ্টিতে এ বালু নদীতে না আসে। পুরো খনন কাজ শেষ হলে নদীর চিত্র অনেকটা বদলে যাবে।’

প্রকৌশলীরা জানান,‘ অনেক স্থানে মাটি ও বালু ফেলার জায়গা নেই। এতে খনন কাজ চালাতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া শহরের জিকে ও রেণউইক এলাকায় জায়গা সংকট রয়েছে। এতে কাজ করা কঠিন হচ্ছে। এখানে বালু ফেলার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে।

গড়াই ড্রেজিং করে এ বছর বালু উত্তোলন হচ্ছে ১৯ লক্ষ ঘনমিটারের সামান্য কম বা বেশি। প্রতি ফিট বালু ৫০ পয়সা বা ১ টাকা বিক্রি হলেও বালু বিক্রি করেই সরকারের ৩৫ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। যা দিয়ে খনন কাজের টাকা উঠে আসবে। এ বালু টেন্ডারে বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

এদিকে গড়াই নদী খননের বড় একটি প্রকল্প ফের আসছে। ৩৯ কিলোমিটার খনন ও তীর সংরক্ষনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার বলেন,‘ খননের ফলে গড়াই নদী এখন সচল। পরিকল্পতি খননের ফলে এবার চিত্র বদলে গেছে। পানি প্রবাহ ও লেবেল বেড়েছে। এ নদী বাঁচলে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের জীব-বৈচিত্রসহ পরিবেশ রক্ষা পাবে। তাই নদী খননে কোন অনিয়ম করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডুসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা খনন কাজ পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, গড়াই কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার প্রাণ। এ নদীর সাথে সুন্দরবনের মিঠা পানির সম্পর্ক রয়েছে। তাই অতীতে যেসব অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তারই প্রেক্ষিতে এবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে নদী তীরে কোন বালি ফেলা যাবে না। একটি নির্দিষ্ট জোনে বালি ফেলতে হবে। যাতে নদীর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে।’

জয়া সেরা ৫ ভারতীয় অভিনেত্রীর একজন : প্রসেনজিত

বিনোদন বাজার ॥ জয়া আহসানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় নায়ক প্রসেনজিৎ। জয়াকে ভারতের শীর্ষ ৫ অভিনেত্রীর একজন হিসেবে মন্তব্য করেছেন প্রসেনজিৎ।

প্রসেনজিৎ ও জয়া প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে কাজ করেছেন ‘রবিবার’ ছবিতে। শুক্রবার ভারতে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। এই ছবিতে অভিনয়ে দক্ষ এই জুটির রসায়ন জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একসঙ্গে কাজ করে জয়ায় বিমোহিত প্রসেনজিতের ভাষ্যÑ ‘আমি বলতে পারি, ন্যাশনাল লেভেলে আমাদের দেশের টপ ফাইভ অ্যাকট্রেসের মধ্যে জয়া পড়বে।’

ভারতের এক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ থেকে গিয়ে জয়া যেভাবে টালিউডে শক্ত জায়গা করে নিয়েছেন, সেটিকেও দারুণ কৃতিত্ব দেন প্রসেনজিৎ। বলেন, জয়া কম বয়সেই টোয়েন্টি ওয়ান প্লাস হয়ে এখানে আসেনি। অনেক পরে এসেছে। তবু ওর এই গ্রহণযোগ্যতার একটি ব্যাখ্যা হলোÑ ওর প্রেজেন্স (উপস্থিতি)। নায়িকার প্রেজেন্স লাগে, ব্যক্তিত্ব লাগে। জয়া নিজেকে ভালো ক্যারি করতে পারে। স্ক্রিনে ওর প্রেজেন্স ওর একটি স্ট্রং পয়েন্ট।

জয়ার অভিনয়ের প্রশংসা করে প্রসেনজিৎ বলেন, ওর অভিনয়ের ধারাটা ভীষণ আধুনিক। লুকস বা গ্লামার নয়।

‘রবিবার’ ছবিতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও টালিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ। কোনো এক রবিবার মুখোমুখি দেখা হয়; দুই প্রাক্তনের মাঝে এসে দাঁড়ায় মান-অভিমানের স্মৃতিরা। এমনই গল্পে ছবিটি নির্মাণ করেছেন কলকাতার নির্মাতা অতনু ঘোষ।

এতে প্রসেনজিৎ অভিনয় করেছেন অসীমাভর চরিত্রে। আর জয়াকে দেখা যাবে সায়নীর ভূমিকায়। রীতিবিরুদ্ধ একটি সম্পর্কের গল্পে নির্মিত ছবিটিতে আছে আবেগ ও থ্রিলারের মিশ্রণ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চোখ স্টেইনের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চোটের কারণে লম্বা সময় আছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে। তবে ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলে ফিরতে পুরোপুরি প্রস্তুত দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ গতির বোলার ডেল স্টেইন। বর্তমানে বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে খেলছেন এই ৩৬ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার। গত শুক্রবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার লক্ষ্যের কথা। সব কিছু ঠিক থাকলে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভার ক্রিকেটে ফিরতে পারেন বলেও জানান তিনি। “ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে আমি থাকব, শেষবার এমন কথাই হয়েছে। দুই সপ্তাহের দারুণ একটা বিরতি পেয়েছি, এরপর সোজা দলের সঙ্গে যুক্ত হবো।” “সত্যি বলতে, ওয়ানডের দিকেও আমার নজর আছে। জানি না (ওয়ানডে) কতটা খেলবÑ তবে এজন্য প্রস্তুত থাকব।” গত কয়েক বছর ধরেই চোটের সঙ্গে লড়ছেন স্টেইন। বিশেষ করে ২০১৬ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরে কাঁধে মারাত্মক চোট পাওয়ার পর থেকে। এরপর দেশের হয়ে খেলেছেন মাত্র ৮টি টেস্ট, ৯টি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি। সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন গত মার্চে, ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সীমিত ওভার ক্রিকেটে মনোযোগ বাড়াতে গত অগাস্টে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলেন স্টেইন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট তার, ৯৩ টেস্টে ৪৩৯টি।

লম্বা বিরতির পর ২০১৯ বিশ্বকাপের দলে ফিরলেও পুরনো কাঁধের চোটে আবারও ছিটকে যান কোনো ম্যাচ না খেলেই। সাত মাস পর আবারও জাতীয় দলে ফিরতে প্রস্তুত স্টেইন। “আমার বিবেচনায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভালোভাবেই আছে। এখন আমি অনেক বেশি ক্রিকেট উপভোগ করতে শুরু করেছি। আমি মনে করি, টেস্ট ম্যাচের চেয়ে চার ওভার বোলিং করা শরীরের জন্য অনেক সহজ।” বর্তমানে ক্রিকেট খেলা বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার স্টেইন। সব মিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৬২ ম্যাচে তার উইকেট ৬৯৬টি। তার চেয়ে বেশি উইকেট আছে কেবল দুই ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের। ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ত্রিকেটে খেলেছেন পাঁচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার এই অভিজ্ঞতা দক্ষিণ আফ্রিকার পরবর্তী পেস প্রজন্মের জন্য দারুণ সহায়ক হবে বলে বিশ্বাস স্টেইনের। বর্তমানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

অবসরে ইরফান পাঠান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আইপিএল খেলার সুযোগ হয় না কয়েক বছর ধরে, গত এক বছরে কোনো ঘরোয়া ক্রিকেটেই মেলেনি সুযোগ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সবশেষ পা পড়েছে, সে তো কবেকার কথা! ইরফান পাঠান যে এখনও অবসর নেননি, এটিই হয়তো অনেকের ছিল অজানা। অবশেষে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের ঘোষণাও দিলেন ভারতের বাঁহাতি পেসার। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের অ্যাডিলেইড টেস্টে মাত্র ১৯ বছর বয়সে অভিষেকের পর সুইং বোলিংয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতে আলো ছড়ান ইরফান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় ওভারে আউট করেছিলেন ম্যাথু হেইডেনকে। ২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে গড়েন টেস্ট ম্যাচের প্রথম ওভারে হ্যাটট্রিকের কীর্তি। ২৯ টেস্টে ১০০ উইকেট পাওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও তার পরিসংখ্যানটা মন্দ নয়। এক সেঞ্চুরি ও ছয় ফিফটিতে করেছেন ১ হাজার ১০৫ রান। শেষ টেস্ট খেলেন ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৮ সালে। ২০০৪ সালে অভিষেক হয় ওয়ানডে ক্রিকেটে। ১২০ ম্যাচে ১৭৩ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ১ হাজার ৫৪৪ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইরফানের সেরা অর্জন টি-টোয়েন্টিতে। ২০০৭ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ফাইনালে ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। রঙিন পোশাকে দেশের হয়ে ইরফান শেষ খেলেন ২০১২ সালে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এরপর থেকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যাওয়া ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ২০১৬ সালের পর থেকে আইপিএলে আর সুযোগ পাননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে শেষ দিকে খেলছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে। টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে গত ২৭ ফেব্র“য়ারির ম্যাচটি হয়ে থাকল তার সবশেষ ম্যাচ।

সামাজিক সচেতনতার কাজেই ব্যস্ত বাঁধন

বিনোদন বাজার ॥ মডেল ও অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন পর্দায় নেই দুই বছরের বেশি সময় ধরে। তবে বিরতির এ সময়ে সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকা-ে নিজেকে সরব রেখেছেন তিনি।

কিছুদিন আগে ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার ব্যানারে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত সেই অনুষ্ঠানে তরুণদের ইতিবাচক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। এছাড়া অন্য একটি দেশীয় এনজিওর হয়েও এ ধরনের কর্মকা-ে অংশ নিচ্ছেন। এতে তিনি শীর্ষ পর্যায়ের একটি পদে আসীন আছেন।

এছাড়া সম্প্রতি সাইবার জগতে যে মানুষ হেনস্তার শিকার হচ্ছেন নিয়মিত, এ নিয়ে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজের ভাবনা বিনিময় করেছেন। প্রতিটি সচেতনতামূলক কর্মকা-ের জন্যই সবার সহযোগিতা ও সমর্থন পাচ্ছেন বাঁধন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শোবিজে কাজ করার কারণেই আগে থেকে সবাই আমাকে চেনেন। আমি কয়েক বছর ধরে সচেতনতামূলক কর্মকা-ে নিজেকে যুক্ত রাখার চেষ্ট করে যাচ্ছি। যেহেতু মিডিয়াতে এখন তেমন ব্যস্ততা নেই আমার, তাই এ ধরনের কাজে সময় দিচ্ছি।

সবাই আমার এ কাজগুলোকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। এ ধরনের কাজ করে যেতে চাই আমৃত্যু। আমার কর্মকা-ের কারণে একটি মানুষও যদি সচেতন হন, সেটিই আমার অর্জন। সমাজের অন্যায়, অসঙ্গতি দূর করার প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। এ বিষয়ে সবার সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।’ অন্যদিকে গত বছর অনেকটা গোপনেই একটি সিনেমায় অভিনয় করেন বাঁধন। আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের পরিচালনায় নির্মিত ছবিটি এখন সম্পাদনার টেবিলে রয়েছে।

এর আগে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ‘গহীন অরণ্যে’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন বাঁধন। এছাড়া চলতি বছর অভিনয়ে ব্যস্ত হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। নাটক এবং সিনেমা দুই মাধ্যমেই তাকে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন বাঁধন।

লাউয়ের ফলন বৃদ্ধির উপায়

কৃষি প্রতিবেদক ॥ আমাদের সবজির মধ্যে লাউ অন্যতম। বর্তমানে বাজারে লাউয়ের দাম বেশ একটু চড়া। লাউয়ের উৎপাদন বাড়াতে পারলে কৃষক লাভবান হবে পাশাপাশি ক্রেতারাও কম দাম লাউ কিনতে পারবে। লাউ গাছে প্রচুর ফুল ধরে, কিন্তু লাউ ধরে খুব কম। কৌশল জানা থাকলে অধিকাংশ ফুল থেকেই লাউ ধরানো সম্ভব। লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, কাঁকরোল, পেঁপে ইত্যাদি সবজি গাছ একলিঙ্গ এবং ভিন্নবাসী উদ্ভিদ হওয়ায় প্রাকৃতিক পরাগায়ন কম হয়। অর্থাৎ এসব গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পৃথক পৃথক হয়। পুরুষ ও স্ত্রী গাছও পৃথক হয়। ফলে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল যদি দূরে থাকে তবে কীট-পতঙ্গ, পোকা-মাকড় অথবা অন্য যে কোনো পরাগায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরাগায়ন সম্ভব হয় না। এ জন্য লাউ ধরে না। পুরুষ গাছ বা পুরুষ ফুল থেকে ফল হয় না। লাউয়ের পুরুষ গাছ ও স্ত্রী গাছ পৃথক হওয়ায় কৃত্রিমভাবে পুরুষ ফুল এনে স্ত্রী ফুলের সঙ্গে মিলন ঘটাতে হয়। কৌশল ঃ প্রতিদিন ভোর বেলায় সদ্যফোটা পুরুষ ফুল ছিঁড়ে পুংরেণু সমৃদ্ধ পুংকেশর রেখে পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ফেলতে হয়। এরপর পুংরেণু স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ডে হালকাভাবে সামান্য একটু ঘষে দিতে হয়। এতে স্ত্রী ফুল নিষিক্ত হয়ে ফল ধরে। একটি পুরুষ ফুলের পুংকেশর দিয়ে ৬ থেকে ৭টি স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ডে পরাগায়ন করা যায়। এ জন্য একটা লাউয়ের মাচায় শতকরা ১০টা পুরুষ ফুল রাখতে হয়। এতে শতকরা ৯৫টি স্ত্রী ফুলে ফল ধরবে। এ জন্য পুরুষ ও স্ত্রী ফুল চেনা প্রয়োজন। ফুল চেনার উপায় ঃ পুরুষ ফুল : ফুলের বোঁটার অগ্রভাগে ফুটে। পাপড়ির গোড়ায় গর্ভাশয় থাকে না। পাপড়ির মাঝখান দিয়ে বেড়ে যাওয়া পুংদন্ডে পাউডারের গুঁড়ার মত পুংরেণু থাকবে। পুংদন্ডের শীর্ষভাগে গর্ভমুন্ড থাকবে না। শুধু বোঁটার অগ্রভাগে ফুটে থাকা ফুলগুলো পুরুষ ফুল। স্ত্রী ফুল ঃ ক্ষুদ্রাকৃতি লাউয়ের মত গর্ভাশয়ধারী ফুলগুলো স্ত্রী ফুল। গর্ভাশয়ের ওপর থেকে পাপড়ি থাকবে। পুংদন্ড থাকবে না। গর্ভদন্ড ছোট ও মোটা। গর্ভদন্ডে আঠালো পদার্থ থাকবে। পুংরেণু এখানে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আঠায় আটকে যায়। অনেকেরই ধারণা, শুধু স্ত্রী ফুলের এই গর্ভাশয় থাকলেই লাউ ধরবে। গর্ভমুন্ডে পুরুষ ফুলের পুংরেণু না লাগা পর্যন্ত লাউ ধরবে না। অন্যান্য কৌশল ঃ ১. গর্ভাশয় ঝরে পড়াকে অনেকেই মনে করে কচি লাউ ঝরে পড়ে। সত্যিকারে তা নয়। যেসব স্ত্রী ফুল পুংরেণু দ্বারা নিষিক্ত হয় না অর্থাৎ পরাগায়ন হয় না সেগুলো ঝরে পড়ে। এ জন্য উপরোক্ত নিয়মে কৃত্রিম পরাগায়ন করতে হবে। এরপরেও ঝরে পড়লে গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি দিতে হবে। গাছপ্রতি ৫০ গ্রাম করে টিএসপি ও এমপি সার গাছের গোড়া থেকে ৬ ইঞ্চি দূর দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। ২. কচি লাউ পচে যাওয়ার কারণ হচ্ছে ফ্রুট ফ্লাই পোকা কচি লাউয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে। এ ক্ষতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে লাউ পচিয়ে ফেলে। এ পোকা হাত দ্বারা মারা যায়। ছাই দেয়া যেতে পারে। অথবা ডায়াজিনন/ ডাইমেক্রন/ নগস ছিটাতে পারেন। ৩. লাউ গাছ খুব বড় হয় কিন্তু ফুল কম ধরে। এ জন্য জৈব সার কম দিতে হবে। টিএসপি ও এমপি সার সম্পূর্ণ মাত্রায় দিতে হবে। এছাড়াও গ্রোথ হরমোন ¯েপ্র করতে পারেন। ৪. ফুলের মধ্যে পিঁপড়া আক্রমণ করলে ছাই অথবা সেভিন ছিটাতে পারেন। ৫. ইঁদুরের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য বিষটোপ অথবা ফাঁদ দিতে পারেন। যা হোক লাউ চাষে ওই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারলে লাউয়ের ফলন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।

ডাবল সেঞ্চুরি করে ইতিহাসের পাতায় লাবুশানে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নতুন দশকের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান এবং ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন মার্নাস লাবুশানে। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিন সেঞ্চুরি করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দিনেই দ্বিশতরান পূর্ণ করেন অজি নিউ সেনসেশন। শেষ পর্যন্ত ৩৬৩ বলে ২১৫ রান করে আউট হন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ২০১৯ সালে ব্যাট হাতে যেখানে শেষ করেছিলেন, ২০২০ সালে সেখান থেকেই শুরু করলেন লাবুশানে। বছরের শুরুতে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিনি। তার ২১৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটি ১৯টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো। ২০১৯ সাল ব্যাট হাতে দারুণ গিয়েছিল লাবুশানের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানে তিনি। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতরান করেন ২৫ বছর বয়সী ব্যাটার। এ নিয়ে টানা ৩ টেস্টে তিন অংক ছোঁয়া ইনিংস খেলেন লাবুশানে। মেলবোর্ন টেস্টে করতে পারলে কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান এবং স্টিভ স্মিথের টানা ৪ টেস্টে চারটি সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড ছুঁতেন তিনি। তবে ২ ইনিংসেই ব্যর্থ হন তরুণ ক্রিকেটার। তবে পরের টেস্ট সিডনিতে ব্যাটে ঝড় তুললেন লাবুশানে। এ নিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ৭ ইনিংসে চতুর্থ শতরান পেলেন তিনি। এছাড়া অজিদের হয়ে তৃতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ ৬৩ রান করে আউট হন। দুজনের ব্যাটে প্রথম ইনিংসে ৪০০ রানের গ-ি ছাড়িয়েছে অজিরা।

সংসার ভাঙা নিয়ে যা বললেন মাহি

বিনোদন বাজার ॥ অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির। কোনো একজন নায়কের সঙ্গে প্রেমের সূত্র ধরে তার দাম্পত্য জীবনে ফাটল ধরেছে। এতদিন বিষয়টা মুখে মুখে থাকলেও সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে গণমাধ্যমে।

বেশ কিছু খবরে প্রকাশ করা হয়েছে স্বামী অপুর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে ‘পোড়ামন’ খ্যাত নায়িকা মাহির। খুব শিগগিরই হয়তো আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের ঘোষণা আসবে।

তবে এমন খবরকে গ্রেফ গুঞ্জন বলেই দাবি করেছেন ‘অগ্নি’কন্যা মাহি। তিনি দাবি করেন, স্বামীর সঙ্গে বেশ ভালো আছেন তিনি। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া খবরের প্রেক্ষিতে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন নায়িকা।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের সংসার নিয়ে এক সঙ্গেই আছি এবং ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের উল্টা পাল্টা নিউজে সত্যিই মানুষ বিভ্রান্ত হয়। দয়া করে আপনারা থামুন।’ তবে এ বিষয়ে মাহির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে জানা গেল বর্তমানে কিশোরগঞ্জে রয়েছেন এই নায়িকা। সেখানে নিকলী উপজেলায় তিনি মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের পরিচালনায় ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবির শুটিং করছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন ছবির নায়ক সাইমন সাদিক।

‘পোড়ামন’ ছবি দিয়ে আলোচনায় আসা এই জুটির সর্বশেষ ‘জান্নাত’ ছবিটি মুক্তি পায় ২০১৮ সালে। দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসার পাশাপাশি ছবিটি বেশ কয়টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও জিতে নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৪ মে পারিবারিক আয়োজনে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন মাহিয়া মাহি। তার বরের নাম মাহফুজ আহমেদ অপু। সিলেটের ছেলে অপু পেশায় ব্যবসায়ী।

খুলনাকে হারিয়ে শেষ চারে চট্টগ্রাম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ খুলনা টাইগার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সবার আগে শেষ চার নিশ্চিত করলো চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। আর ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শেষ চারে উঠার অপেক্ষার পালা বাড়লো খুলনার। এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছে বন্দরনগরীর দলটি। ১০ ম্যাচে তাদের জয় ৭টি, হার ৩টি। এতে প্লে-অফের পথে এগিয়ে গেছে তারা  জবাব দিতে নেমে চট্টগ্রামকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন লেন্ডল সিমন্স ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। মারকাটারি ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৬৯ রান তোলেন তারা। এতেই মূলত জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায় তাদের। ২৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ রান করে সিমন্স ফিরলেও থেকে যান জুনায়েদ। ইমরুল কায়েসকে নিয়ে আস্তে আস্তে এগিয়ে যান তিনি। ফিফটির পথে ছিলেন জুনায়েদ। তবে আচমকা থমকে যান বাঁহাতি ব্যাটার। মিরাজের কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন এ ওপেনার। এর আগে ৩৯ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর ফ্রাইলিংকের শিকার হয়ে তৎক্ষণাৎ ফিরে আসেন আসেলা গুনারতেœ। খানিক বাদে একই বোলাররের বলি হন চ্যাডউইক ওয়ালটন। তবে জয় তুলে নিতে বেগ পেতে হয়নি তাদের। একপ্রান্ত আগলে রেখে জয় নিশ্চিত করেন ইমরুল কায়েস। নুরুল হাসানকে নিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর করেন। ২৭ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৩০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন ইমরুল। আর ৬ রানে অপরাজিত থাকেন নুরুল। ১১ বল হাতে রেখেই বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়েন তারা। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে সিলেট পর্বে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খুলনা টাইগার্সের মুখোমুখি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দলটির নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ভুগছেন। ফলে টস করতে নামেন ইমরুল কায়েস।তাতে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেন তিনি। তার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক প্রমাণ করেন এবারের চমক মেহেদী হাসান রানা।শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজ ও অভিজ্ঞ হাশিম আমলাকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর শামসুর রহমানকে দ্রুত তুলে নেন কেসরিক উইলিয়ামস। মুহূর্তেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে খুলনা। বিপর্যয়ের মুখে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে দলের হাল ধরেন রাইলি রুশো। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। তাতে রানের চাকাও ভালোমতো ঘুরছিল। কিন্তু হঠাৎ থেমে যান মুশফিক। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২৯ রানে জিয়াউর রহমানের বলে বোল্ড হন তিনি । পরে রবি ফ্রাইলিংককে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন রুশো। ভালোই খেলছিলেন দুই প্রোটিয়া। চট্টগ্রাম বোলারদের শাসাচ্ছিলেন রুশো। ফিফটির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময়ে পথচ্যুত হন বাঁহাতি ব্যাটার। উইলিয়ামসের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে যান তিনি। ফেরার আগে ৪০ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৪৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন রুশো। এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে খুলনা। পরক্ষণেই উইলিয়ামসের বলে বিদায় নেন আমের ইয়ামিন। খানিক পর রুবেল হোসেনের বলে ফেরেন আলাউদ্দিন বাবু। রুশোর সঙ্গে জোট ভেঙে গেলে টিকতে পারেননি ফ্রাইলিংকও। রানার শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়ে যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দেন তানভীর ইসলাম। তাকে ফিনিশ করেন রুবেল। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রানআউটে কাটা পড়েন আলিস আল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে ১২১ রানে অলআউট হয় দক্ষিণের দলটি। তাদের এ রানে গুটিয়ে দেয়ার নেপথ্য কারিগর রানা-রুবেল। আগুনঝড়া বোলিং করেন তারা। প্রত্যেকে শিকার করেন ৩টি করে উইকেট।

 

নিশিতার গানে আদনান সামীর শুভেচ্ছা

বিনোদন বাজার ॥ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আদনান সামীকে উপলক্ষ করে গেল বছরের সেপ্টেম্বরে এ শিল্পীর জনপ্রিয় কয়েকটি গান রিমেক করে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেন নিশিতা বড়ুয়া। যার শিরোনাম ছিল ‘আদনান সামী মাসাপ’।

সেই গানগুলো একসময় আদনান সামীর দৃষ্টিগোচর হয়। গানগুলো শুনে সেখানে একটি গানের লিঙ্কের নিচে ‘ওয়েল ডান, গড ব্লেস ইউ’ লিখে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন এ সঙ্গীতশিল্পী। বিষয়টি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত নিশিতা।

তিনি বলেন, ‘আদনান সামী স্যারের এ শুভেচ্ছা বাণী দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সত্যিই সত্যিই তিনি আমার গান শুনেছেন, সত্যিই তিনি আমাকে শুভকামনা জানিয়েছেন এটা বিশ্বাস করতেই আমার কিছুটা সময় লেগেছে। মন থেকে স্যারের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা। ঈশ্বরের কাছে মন থেকে কিছু চাইলে তিনি যে তা পূরণ করেন নিজের জীবনে তা নতুন করে অনুভব করলাম। আমার এই কাজটির সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি আমার অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা।’ এদিকে নিয়মিত স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এ সঙ্গীতশিল্পী।

অনলাইনে মুক্তি পেল সৃজিতের ‘গুমনামি’

বিনোদন বাজার ॥ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু হারিয়ে যান ১৯৪৫ সালে। তারপর থেকে তার আর খোঁজ মেলেনি তার। কখনও জাপানে বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর কথা বলা হয়, কখনও বলা হয় উত্তরপ্রদেশে এক সাধুর বেশে হাজির হন নেতাজি। সেই সাধু বাবার নাম ছিলো গুমনামি বাবা। ইতিহাসের এমন গল্প নিয়ে ‘গুমনামি’ সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

গত ২ অক্টোবর কলকাতায় মুক্তি পায় শ্রীকান্ত মোহতা ও মহেন্দ্র সোনি শ্রীভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত ‘গুমনামি’ সিনেমাটি। এতে গুমনামি বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ভিন্ন ধারার গল্প নিয়ে নির্মিত ছবিটি নিয়ে বেশ তর্ক-বিতর্ক চলেছে।

এবার অনলাইনে মুক্তি পেলো সৃজিতের ‘গুমনামি’ সিনেমাটি। ডিজিটাল কনটেইন্ট প্ল্যাটফর্ম হইচই মুক্তি দিয়েছে এই সিনেমা। যারা হইচইয়ের স্ট্রিমিং করেছেন তারা এখন ঘরে বসেই দেখে নিতে পারবেন আলোচিত এই ছবি।

জানা যায়, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মৃত্যুরহস্য বেশ আলোচিত বিষয়। আর এই রহস্য উদঘাটনে গঠিত হয় মুখার্জি কমিশন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চলা ওই শুনানিতে নেতাজির মৃত্যুর রহস্য হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে তিনটি ঘটনা। আর একে ঘিরে নানা চমক ও সংঘাতকে উপজীব্য করেই এগিয়ে গেছে ছবিটির কাহিনি।

ছবিটি সম্পর্কে নির্মাতা সৃজিত বলেন, ‘বিষয়বস্তুর কারণে ছবিটি আমার অনেক প্রিয়। শৈশব থেকেই নেতাজিকে আমি পছন্দ করি। অনেক চেষ্টার পর দর্শকদের আমরা হলমুখী করতে পেরেছি।’

‘গুমনামি’-তে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, তনুশ্রী চক্রবর্তীসহ আরো অনেকে। বক্স অফিসে ভালো আয়ও করছে ছবিটি।

 

শাকিব-অপুর ছেলে জয়ের গান ভাইরাল

বিনোদন বাজার ॥ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের একমাত্র সন্তান আব্রাম খান জয়ের একটি গান।

ভিডিওতে দেখা গেছে, ‘মাম্মি অ্যান্ড ড্যাডি আই লাভ ইউ, কাম টু মি হোয়েন আই কল ইউ’, এই ছড়াগানটি আনমনে গেয়ে চলেছে জয়।

আর স্টারকিডের মুখে সেই গান সারা ফেলেছে এক সময়ের সেরা জুটি শাকিব-অপুর ভক্তদের মধ্যে।

জয়ের এই ছড়া গান শুনেই তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। কেউ বলছেন, অনেক বড় হয়ে গেছে জয়। আর কেউ কেউ আদর প্রকাশ করছেন নানা ইমোজির মাধ্যমে।

জয়ের সেই ছড়াগান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করেছেন জয়ের মা ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস নিজেই।

ছেলের গান মোবাইল ক্যামেরায় চুপিচুপি ধারণ করে সেই ভিডিও শুক্রবার সন্ধ্যায় ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন অপু।

এরপরই তার ফলোয়াররা তা দেখে বিমোহিত হয়।

নিজেদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও ছেলে জয়ের ব্যাপারে খুবই দায়িত্বশীল শাকিব ও অপু দুজনেই। জয় যেন বাবা-মার অভাব বোধ না করে সেজন্য কোনো চেষ্টাই বাদ রাখেন না তারা।

ছবির শুটিংয়ের জন্য দেশ-দেশান্তরে গেলেও জয়ের কথা ঠিকই মনে রাখেন শাকিব খান। এদিকে আবার বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান অপু বিশ্বাস। তাই জয়কে বাবার মতোই ভালোবাসবে এমন মানুষের সন্ধানে রয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি হাসপাতালে শাকিব-অপুর ঘর আলো করে আব্রাম খান জয়ের জন্ম হয়। এই দুই তারকার বন্ধন ছিড়ে গেলেও জয়ের বিষয়ে জানতে আগ্রহী সিনেপ্রিমীরা। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে একাধিক ফ্যানপেজ রয়েছে জয়ের নামে। রয়েছে অসংখ্য ফেসবুক আইডি। ইনস্টাগ্রামেও এই শিশু তারকার ভক্তের অভাব নেই। তার ব্যক্তিগত আইডির পাশাপাশি ইনস্ট্রাগ্রামে তার নামে গ্রুপও আছে।

জয়ের পড়ালেখা, ছবি আঁকা, খেলাধুলার ছবি অপু বিশ্বাস নিজের ফেসবুক ওয়ালে ও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রকাশ করেছে জয়ের এই নতুন ভিডিও।

শাকিব-অপুর ছেলে জয়ের গান ভাইরাল

বিনোদন বাজার ॥ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের একমাত্র সন্তান আব্রাম খান জয়ের একটি গান।

ভিডিওতে দেখা গেছে, ‘মাম্মি অ্যান্ড ড্যাডি আই লাভ ইউ, কাম টু মি হোয়েন আই কল ইউ’, এই ছড়াগানটি আনমনে গেয়ে চলেছে জয়।

আর স্টারকিডের মুখে সেই গান সারা ফেলেছে এক সময়ের সেরা জুটি শাকিব-অপুর ভক্তদের মধ্যে।

জয়ের এই ছড়া গান শুনেই তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা। কেউ বলছেন, অনেক বড় হয়ে গেছে জয়। আর কেউ কেউ আদর প্রকাশ করছেন নানা ইমোজির মাধ্যমে।

জয়ের সেই ছড়াগান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করেছেন জয়ের মা ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস নিজেই।

ছেলের গান মোবাইল ক্যামেরায় চুপিচুপি ধারণ করে সেই ভিডিও শুক্রবার সন্ধ্যায় ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন অপু।

এরপরই তার ফলোয়াররা তা দেখে বিমোহিত হয়।

নিজেদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও ছেলে জয়ের ব্যাপারে খুবই দায়িত্বশীল শাকিব ও অপু দুজনেই। জয় যেন বাবা-মার অভাব বোধ না করে সেজন্য কোনো চেষ্টাই বাদ রাখেন না তারা।

ছবির শুটিংয়ের জন্য দেশ-দেশান্তরে গেলেও জয়ের কথা ঠিকই মনে রাখেন শাকিব খান। এদিকে আবার বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান অপু বিশ্বাস। তাই জয়কে বাবার মতোই ভালোবাসবে এমন মানুষের সন্ধানে রয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি হাসপাতালে শাকিব-অপুর ঘর আলো করে আব্রাম খান জয়ের জন্ম হয়। এই দুই তারকার বন্ধন ছিড়ে গেলেও জয়ের বিষয়ে জানতে আগ্রহী সিনেপ্রিমীরা। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে একাধিক ফ্যানপেজ রয়েছে জয়ের নামে। রয়েছে অসংখ্য ফেসবুক আইডি। ইনস্টাগ্রামেও এই শিশু তারকার ভক্তের অভাব নেই। তার ব্যক্তিগত আইডির পাশাপাশি ইনস্ট্রাগ্রামে তার নামে গ্রুপও আছে।

জয়ের পড়ালেখা, ছবি আঁকা, খেলাধুলার ছবি অপু বিশ্বাস নিজের ফেসবুক ওয়ালে ও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রকাশ করেছে জয়ের এই নতুন ভিডিও।

সাবেক প্রেমিকার বাগানবাড়িতে কী করছেন সালমান?

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় সালমান খানকে। বয়স ৫০ পেরোলেও বিয়ের খবর নেই। তাতে কী প্রেমিকা কি তার কম আছে নাকি। একটি গেলে অন্য আরও কয়েকজন লাইন দিয়ে থাকে।

এ কারণে তার সাবেক প্রেমিকার সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। নায়িকা থেকে গায়িকা কম যাননি সালমান। সম্প্রতি সাবেক এক প্রেমিকাকে নিয়ে ফের আলোচনায় এসেছেন সালমান খান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ের পানভেলের সাবেক এক প্রেমিকার বাগানবাড়িতে দেখা গেছে সালমানকে। সেখানেই নতুন বছর শুরু করেছেন এই সুপারস্টার।

সালমানের সেই সাবেক প্রেমিকার নাম সংগীতা বিজলানী। এই সুদর্শনীর কাছে ফিরে গেছেন সালমান। কি অবাক হচ্ছেন?

ঘটনা কিন্তু সত্যি। বিজলানীর বাগানবাড়িতে সালমানের সঙ্গে বিজলানীর ছবি পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সালমান বাঁ হাতে মুঠোফোন টিপছেন, এমন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ ডিসেম্বর ৫৪ বছরে পা দেন সালমান খান। এবার সোহেল খানের বান্দ্রার ফ্ল্যাটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই জন্মদিন পালন করেন বলিউডের সাল্লু। অত্যন্ত সাদামাটাভাবে জন্মদিন পালন করার পর জমিয়ে নতুন বছর শুরু করেন এই নায়ক।

সেই অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেমিকা সংগীতা বিজলানী, বলিউড অভিনেত্রী ডেইজি শাহ, প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা এবং তার স্ত্রী ওয়ারধা নাদিয়াদওয়ালা উপস্থিত ছিলেন।