কাউন্সিলর প্রার্থীদের ‘সুরক্ষায়’ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ইশরাক

ঢাকা অফিস ॥ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা পরোয়ানা ছাড়া কোনো কাউন্সিলর প্রার্থীকে যেন গ্রেপ্তার না করা হয় সেই দাবি নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গেলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গোপীবাগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে গিয়ে এই দাবি জানান অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক। পুরনো এক নাশকতার মামলায় বিএনপির বংশাল থানার সভাপতি এবং ঢাকা দক্ষিণের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী তাজউদ্দিন আহমেদ তাজুকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি বলেছে, নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কা থেকে তাদের জনপ্রিয় প্রার্থীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “কাউন্সিলর প্রার্থীদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আমরা কমিশনের কাছে একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা চেয়েছি।” ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন শুক্রবার রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন শুক্রবার রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, “দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন আমাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়ে গেছেন যাতে ওয়ারেন্ট ছাড়া কোনো প্রার্থীকে গ্রেপ্তার না করা হয়। আমরা উনাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।” তিনি বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্টদের বলব, অতি উৎসাহী হয়ে কোনো কাজ করা যাবে না। পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার না করতে আমাদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। নির্বাচন যাতে কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেই বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি। প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে চলবেন বলে আমাদের কাছে অঙ্গীকার করেছেন, আমরা তা পর্যবেক্ষণ করছি।”

দৌলতপুরে অর্ধশত বছরের প্রাচীন সরকারী জায়গার বটগাছ কেটে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায় অর্ধশত বছরের প্রাচীন সরকারী জায়গার বটগাছ কেটে নিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এনিয়ে সাধারণ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাগুয়ান কান্দিরপাড়া এলাকার শাহীন ডাক্তারের বাড়ির সমানের সড়কের প্রাচীন বটগাছটি কেটে নেওয়া হয়। ওই গাছের ছায়াতলে বসে গ্রীষ্মের তাপদাহ থেকে রক্ষা পেতে এলাকার শত সহস্র নারী পুরুষ আশ্রয় নিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, বাগুয়ান কান্দিরপাড়া এলাকার প্রায় অর্ধশত বছরের প্রাচীন বটগাছ যা এলাকাবাসীর শীতল পরশের আশ্রয়স্থল। ওই গছের ওপর নজর পড়ে একই এলাকার প্রভাবাশালী মুক্তার, ছিদ্দিক ও তাহেরুল গংয়ের। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে কাউকে না জানিয়ে সরকারী সম্পদ বটগাছটি হোসেনাবাদ এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মিন্টুর কাছে বিক্রি করে। মিন্টু বৃহস্পতিবার সকালে তার লোকজন নিয়ে কালের স্বাক্ষী প্রাচীন বটগাছটি কাটতে গেলে এলাকাবাসী তাতে বাঁধা দেয়। এসময় প্রভাবশালী ওই গাছ বিক্রেতারা এলাকাবাসীর ওপর চড়াও হলে তারা আত্মভয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে তৎক্ষনাত দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসলে প্রভাবশালী ওই চক্রটি গাছটি কেটে ভূমিষ্মাত করে। বর্তমানে গাছের গুড়ি ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি নিষেধাজ্ঞা সত্বেও সবার জন্য উন্মুক্ত ‘শীতল আশ্রয়স্থল’ সরকারী সম্পদ প্রাচীন বটগাছটি কেটে নেওয়া ওই প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের। গতকাল শুক্রবার সকালেও গাছের গুড়িগুলি ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখেছে এলাকাবাসী।

দৌলতপুরে বেঙ্গল সমবায় সমিতির শীতবস্ত্র বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বেঙ্গল সমবায় সমিতি শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলার মহিষকুন্ডি এলাকায় বেঙ্গল সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত দরিদ্র ব্যক্তিদের মাঝে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম হালসান। শীতার্তদের মাঝে ১৪০০পিস কম্বল তুলে দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে ছাত্রদলের অগ্রণী ভূমিকা চান গয়েশ্বর

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, রাষ্ট্র ক্ষমতা স্থায়ী করতে মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ছাত্রদলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেরানীগঞ্জে নিজ বাড়িতে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রদল সমাবেশের আয়োজন করে। এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাদের অনুপ্রেরণার বাতিঘর খালেদা জিয়া। তাকে মুক্ত করতে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আওয়ামী লীগ চেতনাব্যবসায়ী ভন্ড। এরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, মতপ্রকাশে বিশ্বাস করে না। মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করে জোরপূর্বক রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। গণতন্ত্রকে তারা নির্বাসনে পাঠিয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহিন রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান সোহেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন- ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন মাস্টার, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুর রায় চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেল আলী বাবু ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাজী দেলোয়ার হোসেন মাসুম।

বাসের ধাক্কায় মাইক্রোবাস চুরমার প্রাণ গেলো ভাই-বোনের

ঢাকা অফিস ॥ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে বগুড়ার মোকমতলায় এক আত্মীয়ের দাফনে অংশ নিতে যাওয়ার সময় বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মাইক্রোবাস আরোহী ভাই-বোনের প্রাণ গেছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাস চালকসহ আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার অবিলের বাজারে কিশোরগঞ্জ-রংপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল আজিজ জানান। নিহতরা হলেন- নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের নবাগঞ্জ ভাদুরদর্গা গ্রামের মোবারক আলীর দুই সন্তান জহুরুল ইসলাম (৭০) ও আনোয়ারা বেগম (৬৫)। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের বারাতে এসআই বলেন, গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জগামী একটি বাসের সঙ্গে জলঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। “এ সময় মাইক্রোবাসের দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।” প্রত্যক্ষদর্শী কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডি ইউনিয়নের অবিলের বাজার এলাকার মো. আসাদুজ্জাম (৩৫) বলেন, “সকালে হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল।এ সময় একটি বাস টার্ন নিতে গিয়ে মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাক্রোবাসের দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। ’ আরেক প্রতক্ষদর্শী বদিউর রহমান বাদশা বলেন,“বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মাক্রোবাসের দরজা-জানালা শাবল দিয়ে ভেঙ্গে দুইজনের মৃতদেহ এবং ১২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।“ এরপর পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং নিহতদের লাশ কিশোরগঞ্জ থানায় নিয়ে যায় বলে জানান বাদশা। জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল আলম বলেন, মাইক্রোবাসের যাত্রীরা বগুড়ার মোকামতলায় এক আত্মীয়ের দাফন কাজে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। পথে কিশোরগঞ্জে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ভাই-বোন নিহত হন।” এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের আরও ১১ সদস্য ও মাইক্রোবাসের চালক আহত হন বলে জানান তিনি। এসআই বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর এবং দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রো ও বাসটি উদ্ধার করে আপাতত থানায় আনা হয়েছে।তবে দুর্ঘটনার পর থেকে বাসের চালক, তার সহকারী ও সুপারভাইজার পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানায়।

অস্ট্রেলিয়ার ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড থেকে

ঢাকা অফিস ॥ অস্ট্রেলিয়ার বড় একটা অংশে কালো ধোঁয়ার মেঘ। পরিবেশবিদরা বলছেন, সেই মেঘের আকার জাপানের চেয়ে ১৫ গুণ বড়! প্রায় ৫৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে সেটি। ফিনিশ মিটিয়োরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী আন্তি লিপ্পোনেন সেই মেঘকে কল্পরূপ দিয়েছেন।-আনন্দবাজার। তাতে দেখা গিয়েছে, আইসল্যান্ড থেকে তুরস্ক প্রায় গোটা ইউরোপকে ঢেকে ফেলার ক্ষমতা রাখে সেই ধোঁয়া। এখন তাসমান সাগর পেরিয়ে নিউজিল্যান্ড থেকেও দেখা যাচ্ছে ধোঁয়ার কুন্ডলী। তার জেরে কালো হয়ে উঠছে নিউজিল্যান্ডের বহু হিমবাহ। দ্রুত গলতে শুরু করেছে বরফ। পর্যটক ও স্থানীয়দের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই ছবি। পরিবেশবিদরা বলছেন, মেঘের এই বিশালাকারেই বিপদ আন্দাজ করা যাচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় তাপমাত্রা আরও বাড়বে। দাবানলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নিউ সাউথ ওয়েলস আর ভিক্টোরিয়ার তাপমাত্রা বেড়ে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। দাপট বাড়বে ঝোড়ো হাওয়ারও। এই দুই প্রদেশে রোজই নতুন নতুন আগুন লাগার খবর মিলছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ভিক্টোরিয়ার লেক কনজোলায় এখনও পর্যন্ত ১৭৫টি বাড়ি পুড়ে ছাই। শহর ছেড়ে সমুদ্রের দিকে পালাচ্ছে মানুষ। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, বেশ কয়েকটি প্রজাতি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুবিজ্ঞানীদের অনুমান, পুড়ে মারা গিয়েছে অন্তত ৫০ কোটি পশু-পাখি-সরীসৃপ। তাদের মধ্যে ৮০০০ কোয়ালা।

কাতলামারীতে আওয়ামীলীগ নেতা খালেকুজ্জামান মানিকের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আওয়ামীলীগ নেতা খালেকুজ্জামান মানিকের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার  আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ দিনব্যাপি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন। বিকেলে কাতলামী গোরস্থানে খালেকুজ্জামান মানিকের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন করেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হালিমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দরা। এর আগে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে বাদ জুময়া মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সব লোক দেখানো – মওদুদ

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে যে আয়োজন চলছে, তা ‘লোক দেখানো’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। গতকাল শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমি বলব এটা একটা লোক দেখানো নির্বাচন। হৈ চৈ হবে, মিছিল-টিছিল হবে, টেলিভিশনে আপনারা মিছিলও দেখবেন, সবাই স্লোগান-টোগান দেবেন। নির্বাচনের দুই দিন আগে দেখবেন সব ঠান্ডা।” এই সংশয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ বলেন, “গতকাল আমাদের একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে ধরে নিয়ে গেছে। একদিকে গ্রেপ্তার চলছে, ভয়-ভীতি-আতঙ্ক চলছে, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচার চলছে। এগুলো লোক দেখানো। আমি বলব, এই নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রহসন ছাড়া অন্য কিছু না।” তারপরও বিএনপি কেন নির্বাচনে যাচ্ছে- সেই ব্যাখ্যায় মওদুদ বলেন, “আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি কারণ আমরা জনগণের সমর্থিত রাজনৈতিক দল। আমরা মনে করি, যদি দেশের মানুষ ভোট দিতে পারে, এই সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরাজিত করবে। “কিন্তু সেটা তারা (সরকার) করতে দেবে না- এটাও আমরা জানি। সেজন্য এটা (সিটি নির্বাচন) শুধু লোক দেখানো। গণতন্ত্রের যে মৃত্যু ঘটেছে বাংলাদেশে, সেটা এই সরকার আবার এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করবে।” দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত খালেদা জিয়ার জামিন না পাওয়াকে বিচার বিভাগের ‘ওপর সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব’ বৃদ্ধির ‘সবচাইতে বড় প্রমাণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন মওদুদ। তিনি বলেন, “যেদিন শুনানি হবে, তার আগের দিন প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, বেগম জিয়া তো রাজার হালে আছে। সব কাগজে বেরিয়েছে। যখন প্রধানমন্ত্রী দেশের নির্বাহী  প্রধান, তিনি বলছেন, বেগম জিয়া রাজার হালে আছেন, অর্থাৎ তিনি খুব ভালো আছেন, উনার কোনো সমস্যা নেই, এই সিগন্যালটা উনি দিয়ে দিয়েছেন। তারই প্রতিফলন আমরা বিচারের মধ্যে পেলাম।” এখন আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি ‘সম্ভব নয়’ মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, “এবার আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে মাঠে-ময়দানে থেকেৃ আন্দোলন সফল না হওয়া পর্যন্ত আমরা এবার কেউ বাড়ি ফিরে যাব না।” ভারতে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন হওয়ার পর নভেম্বর-ডিসেম্বর দুই মাসে ভারত থেকে ৪৪৫ জনের দেশে ফেরার যে তথ্য বিজিবি মহাপরিচালক দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গ টেনেও সরকারের সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ। “বিজিবির ডিজি গতকাল বললেন, ‘অনুপ্রবেশকারীরা সব বাংলাদেশি।’ অর্থাৎ দে আর রিকগনাইজিং। এর চাইতে লজ্জাজনক কী হতে পারে! ভারত সরকারের আইনের অধীনে সবচাইতে বড় ভিকটিম হবে বাংলাদেশের মুসলমানরা, যারা বহু বছর আগে ভারতে চলে গেছে, ভারতের নাগরিক হয়েছে, ভোটার হয়েছে, ভোট দিয়েছে, আজকে তাদেরকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আমাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে।” মওদুদ বলেন, “এই সরকার এত নতজানু হয়ে গেছে, এতো সেবাদাস হয়ে গেছেৃ প্রতিবাদ করা তো দূরের কথাৃ এই সরকার কত গভীরভাবে নিজেদেরকে অবনমিত করেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে, নিজেদেরকে কত নিচে নামিয়ে দিয়েছে শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য।” গতবছর সীমান্ত হত্যা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মওদুদ বলেন, “সীমান্তে ২০১৮ সালে ১৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে গিয়ে সেটা বেড়ে হয়েছে ৪৩। অর্থাৎ তিনগুণ বেশি। যখন কথা-বার্তা বলা হয়, তখন বলা হয় যে, কোনো সমস্যা নেই আমাদের।” জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্বাধীনতা, ভোটাধিকার হরণ এবং আজকের বাস্তবতা, বেগম খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন কিন্তু প্রতিহিংসার বিচারে অবরুদ্ধ জামিন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের উদ্যোগে। সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, উলামা দলের আহ্বায়ক শাহ নেছারুল হক, তাঁতী দলের সদস্য সচিব হাজী মজিবুর রহমান আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।

তিন দিনব্যাপি মিরপুরে কৃষি মেলা

কৃষকরা একযোগে পাচ্ছেন কৃষি প্রযুক্তি জ্ঞান

জাহিদ হাসান ॥ কৃষকদের সামনে একযোগে কৃষির সকল সেবা, প্রযুক্তি, আধুনিক জাত ও যন্ত্রপাতির নিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুরে চলছে তিন দিনের কৃষি মেলা। মেলার মাধ্যমে কৃষির আধুনিক যন্ত্রপাতি, সনাতন যন্ত্রপাতি, প্রায় ফসলে সনাতন, আধুনিক জাত, ফসল উৎপাদন কৌশল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে কৃষকরা একযোগে জ্ঞান লাভ করছে কৃষকরা। “বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প” এর আওতায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার থেকে উপজেলা কৃষি অফিস চত্ত্বরে শুরু হওয়া এ মেলায় ভীড় করছেন কৃষক/কৃষাণী, সাধারন ভোক্তা ও শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার  ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই এ মেলায় ভীড় করছেন অনেকেই।  মেলা ঘুরে দেখা যায় ২৫টি স্টল বসেছে। স্টলগুলো সাজানো বিভিন্ন বিষয়ের উপরে। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সাধারন কৃষক ও দর্শনার্থীদের বিভিন্ন কৃষি পণ্য উৎপাদন, কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার, কৃষির বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত করছেন। দেখাচ্ছেন সনাতন ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পার্থক্য, কৃষি যাত্রিকীকরণ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিভিন্ন কৌশল। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মেলায় স্টল ও পন্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে দর্শনার্থীদের কৃষির সাথে পরিচিত করছেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনকারী, রপ্তানিকারক, মডেল কৃষকরা। মেলায় ঘুরতে আসা কৃষক কামাল হোসেন জানান, “মেলায় এসে অনেক ভালো লাগছে। কৃষির প্রায় সবকিছুই এখানে দেখছি। আমি ধানের আধুনিক ও সনাতন জাত সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বর্তমান সময়ে উচ্চ ফলনশীল জাত সম্পর্কে বিস্তারিত শুনেছি। কিভাবে উৎপাদন করতে হবে তা জানতে পেরেছি।” কৃষক মারুফ হোসেন জানান, “কৃষি মেলায় আমি  জৈব সার তৈরী করা শিখেছি। আমরা বাড়ীর আঙ্গিনায় এসব জৈব সার কিভাবে সহজেই উৎপাদন করতে পারবো তা জেনেছি। এছাড়া কিভাবে বিষমুক্ত উপায়ে চাষ করতে পারবো তা জানতে পেরেছি। আমি চিন্তা করেছি বাড়ীর আঙ্গিনায় এসব নিজে চেষ্টা করবো।” মনিরুল ইসলাম নামের এক দর্শনার্থী জানান, “আমি মাশরুম সম্পর্কে অনেক শুনেছি। তবে এখানে এসে তা দেখলাম। কিভাবে চাষ করা যায় সেটাও জানতে পেরেছি।” উপজেলার মডেল কৃষক আব্দুল মোমিন জানান, “আমরা কৃষক সংগঠন (সিআইজি) এর মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করি। কম খরচে খুব সহজেই আমরা বিভিন্ন চাষাবাদ করি। সেগুলো কিভাবে চাষাবাদ করি তা এ মেলায় প্রদর্শন করেছি। এছাড়া আধুনিক চাষ কিভাবে করলে লাভবান হওয়া যায় তা অনান্য কৃষকদের কাছে বলে তাদের উদ্বুদ্ধ করছি।” তিনি আরো বলেন, “আমরা যন্ত্রের সাহায্যে খুব কম সময়ে এবং কম খরচে কিভাবে বীজ-সার বপন, চারা রোপন, শস্য কর্তন, মড়াই ও ঝাঁড়াই করি। সেগুলো এ মেলাই তুলে ধরেছি।” মেলায় স্টল নিয়েছে মিরপুর উপজেলার সফল মৌ খামারী মধু মামুনও। মধু মামুন জানান, “আমি কিভাবে মধু উৎপাদন করি সেগুলো এ মেলায় প্রদর্শন করেছি। আশা করছি এগুলো অনান্যরা দেখে উপকৃত হবে।” দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার জানান, “পাঠ্য বই এ দেশি লাঙ্গল দেখেছি। বাস্তবে কখনো দেখিনি। এ মেলায় দেশি লাঙ্গল, জোয়াল দেখলাম। সেই সাথে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারলাম। এছাড়া নাম না জানা অনেক সবজি ও ফলের নাম জানতে পেরেছি।” মেলায় ঘুরতে আশা শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, “কিভাবে আমাদের এলাকায় তরমুজ উৎপাদন করা হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছি। ভালো লাগলো এসব কৃষি সম্পর্কে একযোগে দেখে।” উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক ও সাদ্দাম হোসেন জানান, “আমরা মেলায় বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে কৃষি সম্পর্কে অবগত করছি। সেই সাথে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করছি।” মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, “কৃষি মেলায় আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষক ও দর্শনার্থীদের পরামর্শ দিচ্ছি। সেই সাথে আমরা ফসলের সনাতন ও আধুনিক জাত চাষের মধ্যে পার্থক্য দেখাচ্ছি। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা তুলে ধরছি। এবং আধুনিক ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনের কৌশল তুলে ধরছি।” বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা সেলিম হোসেন জানান, “কৃষি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রযুক্তি একযোগে কৃষকদের মাঝে তুলে ধরার জন্য আমরা ৩ দিনের এ মেলার আয়োজন করেছি। এতে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে বলে আশা করছি।” মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন জানান, “কৃষি মেলার মাধ্যমে কৃষকরা কৃষি সম্পর্কে জানতে পারছে। নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে। এবারে মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করার মতো।” কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) হাসিবুল ইসলাম জানান, “কৃষি মেলার মধ্যদিয়ে কৃষকরা নতুন প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবিত ফসলে জাত সম্পর্কে জানতে পারছে। নতুন কৃষি প্রযুক্তি কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এ মেলার মাধ্যমে। এতে কৃষকরা অধিক লাভবান হবে বলে আমরা মনে করি।”

মিরপুরে ট্রেনে কাটা সেই ভিক্ষুকের টাকা ফেরত দিলেন ব্যবসায়ী

কাঞ্চন কুমার ॥ আনোয়ারা বেগম (৬৫) পেশায় একজন ভিক্ষুক ছিলেন। শ্রবণ ও মানসিক প্রতিবন্ধী এই নারী ভিক্ষা করতেন কুষ্টিয়ার মিরপুর  পৌর বাজার ও রেল ষ্টেশন এলাকায়। আনোয়ারা বেগম কুষ্টিয়ার  দৌলতপুর উপজেলার শশীধরপুর এলাকার মৃত তোফা মিয়ার স্ত্রী ছিলেন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ঠাঁই হয় মিরপুর রেল ষ্টেশনে। সারাদিন মিরপুর বাজার ও রেল ষ্টেশনে ভিক্ষা শেষে রাতে প্লাটফ্রমে ঘুমাতেন তিনি। গত ২২ ডিসেম্বর সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্তঃনগর ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি কুষ্টিয়ার মিরপুর স্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আনোয়ারা বেগম। সারাদিন ভিক্ষাবৃত্তির টাকা সে জমিয়ে রাখতো মিরপুর পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড বাজার সংলগ্ন পৌর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ফাষ্টফুড ব্যবসায়ী মোস্তফা মল্লিক (৫৮) এর কাছে। টাকাগুলো একবারো খুলেও দেখেনি মোস্তফা মল্লিক। আনোয়ারা বেগম দিন শেষে যেভাবে টাকাগুলো দিতেন ঠিক সেভাইবেই একটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখতেন মোস্তফা মল্লিক। এ কথা মোস্তফা মল্লিক আর আনোয়ারা বেগম ছাড়া কেউই জানতেন না। এর মধ্যে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যায বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম। তার জমানো টাকাগুলো রয়ে যায় মোস্তফা মল্লিকের কাছে। বৃদ্ধার মৃত্যুর পরে তার আমানতের টাকা নিয়ে চিন্তায় পড়ে মোস্তফা মল্লিক। অবশেষে সন্ধ্যান পান মৃত আনোয়ারা বেগমের একমাত্র মেয়ে শিরিনা খাতুনকে। একমাত্র মেয়ে শিরিনা খাতুনের হাতেই মায়ের রেখে যাওয়া আমানত ফেরত দিলেন ফাষ্টফুড ব্যবসায়ী মোস্তফা মল্লিক।

ফাষ্টফুড ব্যবসায়ী মোস্তফা মল্লিক জানান, “মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ মহিলা আনোয়ারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে ভিক্ষা করতেন। ভিক্ষা করে যা পেতেন একটা টুপলি করে আমার কাছে আমানত হিসাবে গচ্ছিত রাখতেন। সে যেভাবে দিতো আমি সেভাবেই রেখে দিতাম। কোনদিন খুলেও দেখিনি। হঠাৎ ২২ ডিসেম্বর ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যায় আনোয়ারা। এরপর আমি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়ি তার আমানতের টাকার পুটলিটি নিয়ে। অনেক খোঁজ করে তার একমাত্র মেয়ে শিরিনা খাতুনকে। আজ শুক্রবার (০৩ জানুযারি) দুপুরে তার মেয়ের হাতে মায়ের রেখে যাওয়া টাকাসহ ব্যাগটি তুলে দেয়। এসময় দেখা যায় ঐ ব্যাগে ১৪ হাজার ৯শ টাকা ছিলো। পুরো টাকাটা তার সন্তানের হাতে তুলে দিতে পেরে নিজেকে খুব হালকা লাগছে।” আনোয়ারা বেগমের একমাত্র মেয়ে শিরিনা খাতুন জানান, “আমার মা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এই মিরপুর বাজারে ভিক্ষা করতেন। ভিক্ষার টাকাটা ফাষ্টফুড ব্যবসায়ী মোস্তফা মল্লিকের কাছে রাখতেন বিষয়টি আমরা জানতাম না। মোস্তফা মল্লিকই স্ব-ইচ্ছায় মায়ের রেখে যাওয়া টাকাটা আমার হাতে তুলে দিয়েছেন।” মিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী আলম মন্ডল জানান, “আনোয়ারা বেগমের গচ্ছিত ১৪ হাজার ৯শ টাকা তার মেয়ে শিরিনা খাতুনের হাতে তুলে দিয়ে মস্তফা মল্লিক এক মহানুভবতার পরিচয় দিলেন।” শুক্রবার দুপুরে শিরিনা খাতুনের হাতে তার মায়ের টাকা তুলে দেওয়ার সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বাজারের কিছু ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষুব্ধ নাগরিকদের তোপে পড়ে পালিয়ে বাঁচলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ভয়াবহ দাবানলে পুড়তে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় এবার একটি শহর পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের তীব্র ভৎর্সনা আর তোপে পড়ে তড়িঘড়ি সফর সংক্ষিপ্ত করে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার নিউ সাউথ ওয়েলসের কোবারগো পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মরিসন। দাবানলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে কোবারগো অন্যতম। শহরটির বেগা ভ্যালি মঙ্গলবার সকাল থেকে দাবানলে পুড়ছে। মারা গেছে তিনজন। অন্যান্যদের বাড়িঘর পুড়ে গেছে। মরিসন তার সহযোগীদের নিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছে স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে গেলে বাসিন্দাদের তোপের মুখে পড়েন। লোকজন তাকে গালিগালাজও করে। স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মরিসন এক নারীর কাছে তার কুশল জানতে চেয়ে তার সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ওই নারী। বরং কড়া চোখে মরিসনের দিকে তাকিয়ে রাগাম্বিত স্বরে তিনি বলছেন, “আমাদের রুরাল ফায়ার সার্ভিসকে আপনি আরো তহবিল দিলেই কেবল আপনার সঙ্গে হাত মেলাব। বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছে।” “আমাদের আরো সাহায্য চাই” বলতে শোনা যায় ওই নারীকে। এ সময় একজনকে এগিয়ে এসে ওই নারীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এরপর আরো কয়েকজন অধিবাসী প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে চেচিঁয়ে চেচিঁয়ে কথা বলে। “আপনি এখানে আর কোনো ভোট পাবেন না”, আপনি একটা ইডিয়ট”, “চলে যান, দূর হয়ে যান,” “আপনি এখানে স্বাগত নন,”- এমন সব কথা বলতে শোনা যায় তাদেরকে। এমন বিরূপ আচরণের শিকার হয়ে শেষমেশ প্রধানমন্ত্রী মরিসন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মন্ত্রী ডেভিড লিটলপ্রাউড দ্রুত হেঁটে গাড়িতে উঠে সঙ্গে সঙ্গে এলাকা ত্যাগ করেন। গত সেপ্টেম্বর থেকেই ক্রমাগত দাবানলে জ্বলছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন এলাকা। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার মধ্যেই কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী মরিসন হাওয়াই দ্বীপে অবকাশ যাপনে ছিলেন। মরিসন তার পূর্বনির্ধারিত ছুটিতে থাকলেও দেশের এ পরিস্থিতিতে তার অনুপস্থিতি অনেককেই ক্ষুব্ধ করে। কোবারগো পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সম্ভবত সেই রোষেরই শিকার হয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে এ পর্যন্ত মারা গেছে ১৮ জন; ধ্বংস হয়েছে ভিক্টোরিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের ১২ শ’র বেশি বাড়িঘর। সামনের দিনগুলোতে দাবানল আরও হিংগ্র হয়ে উঠতে পারে বলে কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাসের পর হাজার হাজার মানুষ ‘ট্যুরিস্ট লিভ জোন’ ছেড়ে পালাচ্ছে। শনিবার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে আগুন আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।দাবানলের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে তৃতীয়বারের মতো সাতদিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

সুবিচার চাই ভুক্তভোগী

দৌলতপুরে অসুস্থ্য মেয়েকে সুস্থ্য করতে নিয়ে এসে মামলা

সেলিম রেজা ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কায়ামারি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে রিয়াজুলের স্ত্রী চক মাদিয়া গ্রামের নিয়ামত মল্লিকের মেয়ে ইভা ইয়াসমিন। রিয়াজুল ইসলাম জানান- প্রায় ১ বছর আমার বিয়ে হয় ইভার সাথে। গত বছরের ২৯ জুলাই  অসুস্থ্যতার কথা বলে কিন্তু আমি তাকে নিজে চিকিৎসা দিতে চাইলে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বলে আমি আমার বাবার বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা নিবো। তার ভিতরে আমি খারাপ উদ্দেশ্য বুঝতে পারি তাই ঘটনাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরীকে জানায়। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আমার শ্বশুর আমার স্ত্রীকে নিয়ে যায় বলেন সুস্থ্য হলে আমি নিজে রেখে যাবো। নিয়ে গিয়ে এখন আমার নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছে। আমি বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে নিয়ামত মল্লিকের বাড়িতে গেলে ইভা সাংবাদিকদের সামনে আসেননি। তার ভাই এর স্ত্রী বলেন আমাকে বলেন কি জানতে চান আমি কথা বলবো আমি সব বলতে পারবো। রিয়াজুল ঢাকাতে চাকুরী করতো চাকুরীটা ছেড়ে আসে বাড়িতে আসার পরে তাকে ঠিকমত খেতে দিতে পারেনা সেখান থেকে ঝামেলা শুরু হয় পরে আমরা রিয়াজুলের নামে একটি মামলা করেছি। এ বিষয়ে ইউনিয়ন  চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী জানান- আমার মাধ্যমে রিয়াজুলের অসুস্থ্য  স্ত্রীকে তার পিতা নিয়ামত মল্লিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় বলেন এখানে আমার মেয়ে একা, আমার ওখানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করবো। সুস্থ্য হলে আবার আমি রেখে যাবো বা রিয়াজুল নিয়ে আসবে। পরে আর মেয়েকে দিতে চাইনা আমি বহুবার  ডেকেছি আমার কোন কথা না শুনে তিনি মামলায় গিয়েছে।

জেল-ফাঁসি দিয়ে জঙ্গিবাদ বন্ধ করা যাবে না – মনিরুল

ঢাকা অফিস ॥ জরিমানা করে, হাজত খাটিয়ে কিংবা ফাঁসি দিয়ে জঙ্গিবাদ বন্ধ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, উগ্রবাদের চাষাবাদ হয় মস্তিষ্কে। এই জায়গায় আমরা আঘাত হানতে চাই। আর এক্ষেত্রে তরুণদেরও অগ্রণী ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘তারুণ্যের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আলোচনায় মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিবাদ ও উগ্রতা দমন বা নিয়ন্ত্রণ করা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়, এ কাজ সবার। আর এজন্য পরিবার, শিক্ষাব্যবস্থা, সুশীল সমাজ, সংস্কৃতিকর্মী, মসজিদের ইমাম, আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে। এসবের কুফল সম্বন্ধে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। তাহলেই সম্প্রীতির সংস্কৃতি, পরমতসহিষ্ণু মানসিকতার একটা সহনশীল প্রজন্ম গড়ে উঠবে। কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা ও ডিএসপির সভাপতি জিয়াউল হাসান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এ দেশের তরুণদের কারণেই স্বাধীনতা এসেছে। তবে মুক্তির লড়াই এখনও শেষ হয়নি। এখনকার তরুণদের মাদক, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। কর্মশালার প্রথম অধিবেশনে অংশ নেন বাংলাদেশের রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটস জাফর রাজা চৌধুরী, যাত্রাশিল্পী জ্যোৎস্না বিশ্বাস। এই অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএসপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল আলম। কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন ডিএসপি ও উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের ৬৪টি জেলার তরুণ প্রতিনিধিরা।

ভারতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে গোবরের টুথপেস্ট শ্যাম্পু ও কফি

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে গোবর তৈরি হচ্ছে সাবান, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ এমনকি টুথপেস্টও। আর সেসব ব্যাপক হারে বাজারজাত হচ্ছে সে দেশে। এসব পণ্য কিনতে বিভিন্ন দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন ভারতীয়রা। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট বা ই-বের মতো বড় বড় অনলাইন শপিং সাইটগুলোতে নিয়মিত অর্ডার চলছে। সম্প্রতি ভারত সরকারের এক ঘোষণার পরই গরুজাত পণ্য তৈরি ও ব্যবসায় আগ্রহী হয়েছেন অনেক ভারতীয় ব্যবসায়ী। মোদি সরকারের ঘোষণা ছিলÑ গরুজাত পণ্যের কোনো উদ্যোগ নিলে তাতে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেবে সরকার। ২০১২ সাল থেকেই গোবর দিয়ে নানা ধরনের পণ্য তৈরি করছেন কাওপ্যাথি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক উমেশ সনি। ৩৬ বছর বয়সী মুম্বাইয়ের এই বাসিন্দা পেশায় একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানের তৈরি গোবরের সাবান বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গোবরের শ্যাম্পু ও টুথপেস্ট তৈরি করা হয় উমেশ সনির প্রতিষ্ঠানে। সম্প্রতি গরুর মূত্র প্রক্রিয়াজাত করে তা থেকে কফিও তৈরি করে সফল হয়েছেন এই মাইক্রোবায়োলজিস্ট। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ নিউজকে তিনি জানান, প্রথম দিকে কেউ তেমন কিনত না। বিশ্বাসও করত না অনেকে। তখন এসব পণ্য গিফট করতাম। আর গোবরের তৈরি পণ্য পেয়ে সবাই খুশি হতো। তবে বর্তমানে চিত্রটি পাল্টে গেছে বলে জানান উমেশ। তিনি বলেন, এখন ৪০০-এর বেশি পাইকারি বিক্রেতা এসে আমার পণ্য নিয়ে যায়। আগে থেকেই টাকা জমা দিয়ে বুকিং দিতে হয় তাদের। বর্তমানে আমার এই প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার আড়াই কোটি রুপির বেশি।

খালেদার সঙ্গে স্বজনদের দেখা  করতে দেয়া হচ্ছে না – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ ‘দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, ‘প্রায় ৩১ দিন পর গত ১৬ ডিসেম্বর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে ১৯ দিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও দেশনেত্রীর স্বজনদের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ করার পরও এখন পর্যন্ত অনুমতি দেয়া হয়নি। সরকারের নেক নজরে থাকার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ দেশনেত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের দেখা করতে দিচ্ছেন না।’ তিনি বলেন, এটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের চরম বহিঃপ্রকাশ। এ সরকার আইন, আদালত ও বিচারাঙ্গন নিজেদের কব্জায় নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ন্যায় বিচার পাবার অধিকার হরণ করে নানা কায়দায় নির্যাতনের বিভীষিকা অব্যাহত রেখেছে। কারাবন্দি বেগম জিয়ার সঙ্গে তার পরিবার-পরিজনদের দেখা করতে না দেয়া কারাবিধির শুধু চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবিশ্বাস্য উত্থানের চরম নজির। গত ২৭ ডিসেম্বর দেশনেত্রীর আপন বোন বেগম সেলিমা ইসলাম, পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান, নাতনি জাহিয়া রহমান, নাতি শামীন ইসলাম, রাখীন ইসলাম ও নাতনি আরিবা ইসলামকে দেশনেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেনি। রিজভী বলেন, দেশনেত্রীর প্রতি সরকারের এ আচরণ শুধু দেশীয় নয় আন্তর্জাতিক আইনেরও লঙ্ঘন। এমনিতেই তিনি গুরুতর অসুস্থ, এ মূহুর্তে নিকটজনরা বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করলে তিনি মানসিক শান্তি পাবেন। অথচ অগণতান্ত্রিক সরকার মানসিক শান্তির সেই সুযোগটুকুও বেগম জিয়াকে দিতে চায় না। বেগম খালেদা জিয়ার মানবাধিকার কেড়ে নিয়েছে সরকার। আমরা বারবার বলেছি, দেশনেত্রীর নামে মামলা ও সাজা দেয়া সম্পূর্ণরূপে প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। সাজা দেয়ার জন্য দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, নির্জন ও অস্বাস্থ্যকর কীট-পতঙ্গ ভরা কারাকক্ষে থাকতে বাধ্য করে তার পছন্দ মতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে একদলীয় দুঃশাসনকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করা। রিজভী আরও বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও ‘৭১ এর রণাঙ্গনের সেক্টর কমান্ডার সাবেক রাষ্ট্রাপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী চারবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার সেই অধিকারটুকু নেই যে অধিকারটুকু একজন সাধারণ বন্দির রয়েছে। সাধারণ বন্দিদের সাতদিন পরপর সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু দেশনেত্রীর সেই সুযোগ নেই। অসুস্থ দাদীকে দেখার জন্য সদ্য বিদেশ থেকে ছুটে এসে দেখা না পাওয়ায় শিশু-কিশোর নাতি-নাতনিদের বুকফাটা কান্নার আহাজারি আকাশে-বাতাসে ধ্বণিত হলেও সরকারের পাষাণ হৃদয়ে তা বিন্দুমাত্রা আঁচড় কাটেনি।’ ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন তখন কারা কর্তৃপক্ষ তার কত আবদারই পূরণ করেছে, তা জাতি জানে। অথচ কারাবিধি অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বেগম জিয়া। আমি এ মূহুর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের সাক্ষাতের সুযোগ দিতে জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’ ‘৯০ ভাগ জনগণ বিএনপিকে সমর্থন করে না’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে দেশের জনগণ সমর্থন করে না। গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেখা গেছে, কুকুর দাঁড়িয়ে আছে। এ থেকে প্রমাণ হয় আওয়ামী লীগকে চতুষ্পদ প্রাণী এবং ভারতের নীতিনির্ধারকরা সমর্থন করে। এর বাইরে দেশের সাধারণ জনগণ তাদের সমর্থন করে না।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শাহিদা রফিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন হামলা বিপর্যয়কর যুদ্ধের হুমকি – ইরাকি প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ইরানি শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি কমান্ডার আবু মাহদি আল মুহান্দিসকে হত্যায় মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইরাকের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি। এই হামলাকে আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে এতে বিপর্যয়কর যুদ্ধ লেগে যেতে পারে বলে জানান তিনি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন ইরাকি সামরিক কমান্ডারকে হত্যা ইরাকি সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন। এতে ইরাকি মাটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতির শর্তের গর্হিত লঙ্ঘন ঘটেছে বলেও জানান ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। ইরাকি কমান্ডার মুহান্দিস ছিলেন আধা সামরিক বাহিনী হাশেদ আল-শাবির উপপ্রধান। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কাসেম সুলাইমানিকে যারা হত্যা করেছে, সেই অপরাধীদের জন্য ভয়াবহ প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে। তার মৃত্যুতে ইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে। তিনি বলেন, সব শক্রদেরই জেনে রাখা উচিত, প্রতিরোধ বাহিনীর জিহাদ দ্বিগুণ উদ্যমে অগ্রসর হবে; অবশ্যই পবিত্র এ যুদ্ধে যোদ্ধাদের জন্য নিশ্চিত বিজয় অপেক্ষা করছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এ প্রতিরোধ বাহিনীর বিকাশ এবং ইরানের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মেজর জেনারেল সোলেমানিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচনা করা হতো।

ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের শপথ খামেনির

ঢাকা অফিস ॥ কুদস ফোর্সের প্রধান কাশেম সোলেমানিকে যারা হত্যা করেছে সেই ‘অপরাধীদের’ জন্য ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি। শুক্রবার তাকে উদ্ধৃত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সোলেমানির মৃত্যুতে তিনদিনের ‘রাষ্ট্রীয় শোকের’ ঘোষণাও দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। “সব শক্রদেরই জেনে রাখা উচিত, প্রতিরোধ বাহিনীর জিহাদ দ্বিগুণ উদ্যমে অগ্রসর হবে; অবশ্যই পবিত্র এ যুদ্ধে যোদ্ধাদের জন্য নিশ্চিত বিজয় অপেক্ষা করছে,” বলেছেন খামেনি।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইরত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র শক্তিকে ইরান প্রায়ই ‘প্রতিরোধ বাহিনী’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এ প্রতিরোধ বাহিনীর বিকাশ এবং ইরানের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মেজর জেনারেল সোলেমানিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ‘বিদেশি শাখা’ হিসেবে কাজ করা কুদস ফোর্স সরাসরি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে জবাবদিহি করতো। খামেনির ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে ইরাকের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন হামলায় সোলেমানি নিহত হন বলে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে। শুক্রবার ভোরে ওই হামলায় সোলেমানির সঙ্গে নিহতদের মধ্যে ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে। ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া বাহিনীর নেতৃত্বাধীন হামলা-ভাংচুরের কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সোলেমানিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাল। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাম্প বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন উত্তেজনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে; কাশেম সোলেমানির মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করতে সাহায্য করবে বলেও শঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ৪ শতাংশের মতো বেড়ে গেছে।

বাগদাদে মার্কিন হামলায় ইরানি কমান্ডার নিহত

ঢাকা অফিস ॥ বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর এলিট কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানিসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। বিবিসির খবরে বলা হয়, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডস জেনারেল কাসেমের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে বলেছে মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।  এ ঘটনার পর ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজাই। শুক্রবার ভোরে ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও রয়েছেন বলে ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বাগদাদ বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালের কাছে দুটো গাড়িতে মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া তিনটি রকেট আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি গাড়িতে ছিলেন জেনারেল সোলেমানি ও মিলিশিয়া নেতা আল-মুহান্দিস। আর তাদের নিরাপত্তার জন্য ইরাকের প্যারা মিলিটারি ফোর্সের সদস্যরা ছিলেন দ্বিতীয় গাড়িতে।  ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর ঘাঁটিতে মার্কিন হামলায় ২৫ জন নিহত হওয়ার পর বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা-ভাংচুরের দুই দিনের মাথায় এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দেবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।  বিবিসি লিখেছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীতে জেনারেল কাসেম সোলেমানি ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে দেওয়া হত জাতীয় বীরের সম্মান। তার কুদস ফোর্স কাজ করে মূলত বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর ‘ফরেইন উইং’ হিসেবে। এই বাহিনী জবাবদিহি করে সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী বিদেশে তাদের সদস্যদের সুরক্ষার স্বার্থে ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে’ কাসেম সোলেমানিকে হত্যা করেছে।  “ইরানের ভবিষ্যত হামলা পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়াই ছিল এই আক্রমণের উদ্দেশ্য। বিশ্বের যেখানেই আমাদের নাগরিক ও সম্পদ রয়েছে, তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থাই যুক্তরাষ্ট্র নেবে।” জেনারেল কাসেম সোলেমানি বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা-ভাংচুরের পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে পেন্টাগন দাবি করে আসছে, যদিও ওই হামলার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। জেনারেল কাসেম নিহত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আসার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার একটি ছবি টুইট করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে ৪ শতাংশ।

অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায়  ৪ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর ছাত্রত্ব বাতিল

ঢাকা অফিস ॥ রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে টেনে হেঁচড়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় চারজনের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচজনের সনদও আটকে দেয়া হয়েছে। আগামী ১ ফেব্র“য়ারি সাতজনকে অন্যত্র বদলি করে দেয়া হবে। মোট ১৬ জন ছাত্র এ ঘটনায় শাস্তি পাচ্ছে। সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। মিডটার্মে অকৃতকার্য ও ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা দুই শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিনের ওপর চাপ দেন তারা। এ নিয়ে গত ২ নভেম্বর সকালে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে ওই দিন দুপুরে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করে টেনে হিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে মামলা করেন অধ্যক্ষ। এতে সাতজনের নাম উল্লেখসহ ৫০ জনকে আসামি করা হয়। অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে দেয়ার ঘটনায় ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইন্সটিটিউটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার, পাঁচ শিক্ষার্থীর মূল সদনপত্র আগামী তিন বছর আটকে রাখা ও সাত শিক্ষার্থীকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিয়ে অন্য কোনো ইন্সটিটিউটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তদন্ত কমিটির এই সুপারিশ গত মাসে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ড গত ১৫ ডিসেম্বরের সভায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুমোদন করা হয়। সুপারিশ অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন বলে বোর্ডের চেয়ারম্যান মোরাদ হোসেন মোল্লা সিদ্ধান্ত জানান। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় একাডেমিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চেয়ারম্যান ২০১০ ও ২০১৬ প্রবিধানের নিবন্ধনের ৩ এর ২ ধারা অনুযায়ী চার ছাত্রের নিবন্ধন বাতিল (ছাত্রত্ব) করার সিদ্ধান্ত দেন। একইভাবে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী শেষ পর্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় পাঁচ ছাত্রের সনদ তিন বছরের জন্য জব্দ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার দায়ে সাত শিক্ষার্থীকে অন্য প্রতিষ্ঠানের বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন ছাত্রলীগের পলিটেকনিক শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পরে বহিষ্কৃত) ২০১৫-১৬ সেশনের কম্পিউটার বিভাগের অষ্টম পর্বের শিক্ষার্থী কামাল হোসেন ওরফে সৌরভ, একই সেশনের ইলেকট্র মেডিকেল বিভাগের সপ্তম পর্বের শিক্ষার্থী রায়হানুল ইসলাম, ২০১৭-২০১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের পঞ্চম পর্বের মুরাদ হোসেন এবং ২০১৮-২০১৯ সেশনের মেকানিক্যাল বিভাগের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী সজিব ইসলাম। যাদের সনদ আটক রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে তারা হলেন ২০১৫-২০১৬ সেশনের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের কৌশিক জামান ওরফে বনি, ইলেকট্রো-মেডিকেল বিভাগের সালমান রহমান ওরফে টনি, পাওয়ার বিভাগের সাব্বির অহম্মেদ, মেকাট্রনিক্স বিভাগের হাসিবুল হাসান এবং কম্পিউটার বিভাগের মারুফ হোসেন। ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার দায়ে ২০১৫-২০১৬ সেশনের পাওয়ার বিভাগের ষষ্ঠ পর্বের (অকৃতকার্য) নাঈম ইসলামকে বরিশাল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে, ২০১৬-২০১৭ সেশনের ইলেকট্রনিক্স সপ্তম পর্বের প্লাবন কুমার ন্ডুন্ডুকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে, মেকাট্রনিক্স সপ্তম পর্বের মেহেদী মাহমুদকে শরিয়তপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে, মেকানিক্যাল বিভাগের সপ্তম পর্বের মেহেদি হাসানকে কাপ্তাই বিএস পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে, ২০১৭-১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের পঞ্চম পর্বের ওমর আজিজকে পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে, ২০১৮-২০১৯ সেশনের তৃতীয় পর্বের কম্পিউটার বিভাগের মাহবুবুর রহমানকে বরগুনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে এবং একই সেশনের পাওয়ার তৃতীয় পর্বের মাসুদ রানাকে খুলনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে বদলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, বুধবার বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত তারা হাতে পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও সনদ আটকের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। আর যাদের অন্যত্র বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাদের পরীক্ষা আছে। পরীক্ষার পরে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের বদলির আদেশ কার্যকর করা হবে।

ট্রাম্পের নির্দেশেই ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধানের উপর বিমান হামলা

ঢাকা অফিস ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই ইরানের বিপ্লবী এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানির গাড়ি বহরে বিমান হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ‘পেন্টাগন’। ভবিষ্যতে ইরানকে যেকোনো হামলার পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে বিদেশি জঙ্গি বাহিনীর প্রধান উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশক্রমে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের রক্ষার উদ্দেশ্যে কাসেম সোলাইমানির উপর হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ভবিষ্যতে ইরানকে যেকোনো ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। একই সঙ্গে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করা মার্কিন নাগরিকদের রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ হামলার পর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের উপর কয়েকটি হামলা করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবেই এই হামলা করা হয়েছে। শুক্রবার ইরাকের বাগদাদের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের বিপ্লবী এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরান সমর্থিত পপুলরার মবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) উপ-প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ইরাকি সামরিক বাহিনী জানায়, বাগদাদের ওই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাসেম সোলাইমানির গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে মোট তিনটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। তবে এই হামলায় মোট কতজন নিহত হয়েছেন তা জানায়নি তারা। হামলায় মোট কতজন নিহত হয়েছেন তা না জানালেও ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরান সমর্থিত পিএমএফ বাহিনীর উপ-প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিএমএফ। একই সঙ্গে তাদের দুইজনকে ‘শহীদ’ বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।  এর আগে পিএমএফ জানিয়েছিল, ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে বহনকারী দুইটি গাড়ি মার্কিন রকেট হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল পিএমএফ কর্মকর্তারা। এদিকে হামলার পর থেকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ইরান দূতাবাসের আকাশে একটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার টহল দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে আমেরিকা ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে যা চলমান উত্তেজনাকে আরো তীব্র করতে পারে।

ইরানি জেনারেলকে হত্যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াবে- রাশিয়া

এনএনবি : ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর এলিট কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানি নিহত হওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন (চালক বিহীন বিমান)হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার সোলেমানিকে।এরপরই রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ার ওই সতর্কবার্তা দিয়েছে। সোলেমানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ মার্কিন হামলার ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়েছেন। এ ঘটনার ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ নেওয়ারও হুমকি এরই মধ্যে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওদিকে, পেণ্টাগন সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য দিয়ে বলেছে, “ইরানের ভবিষ্যৎ হামলা পরিকল্পনা ঠেকাতেই হামলা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী তাদের স্বার্থ এবং জনগণকে রক্ষায় সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ  নিয়ে যাবে।” বহু মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা এবং মধপ্রাচ্যে অনেক প্রাণহানির জন্যও পেণ্টাগন সোলেমানিকে দায়ী করেছে। ওদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণকে দুবৃর্ত্ত অভিযান আখ্যা দিয়ে এর সব পরিণতির জন্য তাদেরকেই দায়ী করে পাল্টা জবাবে দ্বিগুণ উদ্যমে জিহাদে অগ্রসর হওয়ার শপথ নিয়েছে। ফলে সোলেমানি নিহতের ঘটনাটি কেবল ইরাকের জন্যই নয়, সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের জন্যই বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে। পুরো অঞ্চলে ঘনিয়ে আসতে চলেছে ছদ্মযুদ্ধের এক নতুন অধ্যায়।মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সব দেশেই যে এ ঘটনার প্রভাব পড়বে তা একরকম নিশ্চিত।সবাই এখন ইরান কী করে তা দেখার অপেক্ষায় আছে। ধীর পদক্ষেপে এগুচ্ছে ইরান: ইরান পাল্টা পদক্ষেপে এখনই আগ্রাসী কিছু না করলেও ধীরে ধীরে কূটনৈতিক পন্থায় প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে এরই মধ্যে ডেকে পাঠানো হয়েছে সুইস রাষ্ট্রদূতকে। ইরানে আমেরিকান স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করছে সুইস দূতাবাস। ১৯৯৭ সালে ইরানে ইসলামি রূপ্লবের পর দেশটিতে দূতাবাস বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র। তখন থেকে সেখানে সুইস দূতাবাসই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছে। সুইস দূত ডেকে পাঠানো ছাড়াও তেহরানে এ মুহূর্তে চলছে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বৈঠক। পরবর্তীতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থির পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরো বাড়তে চলেছে বলেই বিশে¬ষকদের ধারণা। মধ্যপ্রাচ্যে গত এক বছর ধরেই যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করে আসছিলেন অনেকেই। তবে সব পক্ষই বলে আসছিল তারা যুদ্ধ এড়াতে চায়। কিন্তু এবার মার্কিন হামলায় ইরানি জেনারেল নিহতের যে বিস্ফোরক ঘটনা ঘটল তা পুরোপুরি পাল্টে দিল মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপট। মধ্যপ্রাচ্যকে ঠেলে দিল পুরোপুরি একটি ভিন্ন এবং বিপজ্জনক সংকটের দিকে। নতুন ইরানি কমান্ডার ইসমাইল ঘানি: বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর এলিট কুদস ফোর্সের নিহত কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানির জায়গায় এরই মধ্যে তার উপপ্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল ঘানিকে নিয়োগ করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব প্রতিপত্তি সোলেমানির সময় যেমন ছিল এখন নতুন কমান্ডারের অধীনেও তা একই থাকবে বলে এক বিবৃতিতে ঘোষণা দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওদিকে, সোলেমানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানের রাস্তায় এরই মধ্যে দানা বেঁধে উঠতে শুরু করেছে বিক্ষোভ। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরুদ্ধে রাজধানী তেহরানের রাস্তায় নেমেছে লাখো মানুষ। কারণ, জেনারেল সোলাইমানি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঘোর প্রতিপক্ষ হলেও ইরানিদের কাছে ছিলেন খুবই প্রিয়। কুদস ফোর্সের প্রধান হিসাবে ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে ইরানের বাড়তে থাকা সামরিক প্রভাবের কারিগর ছিলেন তিনি। প্রায় ২০ বছর কুদস ফোর্স এর নেতৃত্ব দিয়েছেন সোলেমানি। সামরিক শক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা,মিত্রদেরকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা এবং ইরাকে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীর একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা ছাড়াও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী ভূমিকা ছিল সোলেমানির।তাকে হত্যা করা ইরানিদের কাছে যুদ্ধেরই সামিল এবং এর প্রতিশোধ না নিয়ে তারা ক্ষ্যান্ত হবে না। পাল্টা আঘাত কোথায় হানতে পারে ইরান? সোলেমানি হামলার পরিণতি কি হতে পারে তা এখনো বোঝা না গেলেও ইরান পাল্টা জবাবে কোথায় কোথায় আঘাত হানতে পারে তা কিছুটা আঁচ করা যায়। তাদের একটি সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে সিরিয়ায় ছোট মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো। সেখানে কোথাও কোথাও এ ঘাঁটিগুলো ইরাকি পপুলার মবিলাইজেশন ইউনিটের কয়েকমাইলের মধ্যেই অবস্থিত। সিরিয়া থেকে অনেক মার্কিন সেনা চলে গিয়ে সেখানে সেনা উপস্থিতি এমনিতেই কমে এসেছে।ফলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র এখন সামরিক শক্তিতে অনেকটাই দুর্বল। সিরিয়া ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলো বিশেষ করে বাহরাইন,সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব ইরানের প্রতিশোধ হামলার শিকার হতে পারে।একই ঝুঁকিতে আছে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ ঘাঁটি। যদিও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, ইরানের ক্ষোভ যত গভীরই হোক,তারা প্রতিশোধ হিসেবে এখনই যুদ্ধ শুরু করবে বলে মনে হয় না। তবে তারা মার্কিন বিভিন্ন বাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক নানা পদক্ষেপ নিতে পারে।আর সেকারণেই সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কন্টিনজেন্টগুলো ইরানি হামলার শিকার হতে পারে।