ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন

আস্থা না থাকলে বিএনপি ভোটে কেন

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থার কথা বলে আসলেও বিএনপি কেন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তা জানতে চান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও রেল-ট্র্যাক বসানোর কাজের উদ্বোধন করতে এসে আসন্ন সিটি ভোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হবে। বিএনপি ইভিএম এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থার কথা বরাবর বলে আসলেও দুই সিটিতেই প্রার্থী দিয়েছে। উত্তরে তাবিথ আউয়াল আর দক্ষিণে ইশরাক হোসেন বিএনপির হয়ে মেয়র পদে মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপির অনাস্থা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তাহলে নির্বাচনে অংশ নিল কেন, জানতে চাই। নির্বাচন কমিশনে তাদের লোক অবিরাম তাদের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছে। আর কেউ তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে না। নিরপেক্ষ কথা বলছে, একজন তাদের পক্ষ নিচ্ছে, অসুবিধা কি?” ইভিএম নিয়ে বিএনপির দুশ্চিন্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আধুনিকতা থেকেও তারা পিছিয়ে। আজকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সারা পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধদ্ধি যারা পছন্দ করে না তারা কতটা আউটডেটেড, মন-মানসিকতায় কতটা পেছিয়ে আছে, এটাই ভাবতে হবে। তাই তারা ক্ষমতায় এলে দেশ কোনোদিনও এগিয়ে যাবে না। “ইভিএম নিয়ে ভারতে বহু আলোচনা হয়েছে, বিতর্ক হয়েছে। সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে, প্রযুক্তি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু বিতর্কের পর এ সিদ্ধান্তে তারা উপনীত হয়েছে যে, এটা সর্বশেষ প্রযুক্তি। যদি (ইভিএমে) কোথাও নির্বাচন হয় সেটা ত্রুটিমুক্ত হবে। এটা সহজে ভোটগ্রহণ এবং গণনার কাজ সম্পন্ন করার সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি। এটা গ্রহণযোগ্য সিস্টেম, এটা নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই।” বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আওয়াল শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার যে প্রত্যয় ব্যক্ত তার প্রশংসাও করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। “এটা তো ভাল কথা। তারা কি নির্বাচন বয়কট করার পুরনো সংস্কৃতি আঁকড়ে থাকতে চান? তারা সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছেন শুনে ভাল লাগল। নির্বাচন যখন করছেন, রেজাল্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। “আর জানি রেজাল্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা বলবে কারচুপি, জালিয়াতি হয়েছে, ভোট ডাকাতি হয়েছে, কেন্দ্র দখল হয়েছে অনেক অভিযোগই তারা দেবে। তারপরও যে অঙ্গীকার সে করছে এটা যেন শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়।”

কাদেরের প্রশ্নের জবাব দিলেন ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা রাখার পরও সিটি নির্বাচনে বিএনপির যাওয়া নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগকে সরকারে রেখে নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবে না, তা প্রমাণের জন্যই তাদের এই অংশগ্রহণ। নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যানের পর দলটি বলেছিল, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। এরপর ইসির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন বর্জন করলেও এ বছরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা না থাকলেও বিএনপি কেন সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বুধবার সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। এদিন বিকালে ছাত্রদলের এক সমাবেশে বক্তৃতায় বিএনপি মহাসচিব ফখরুল তার জবাব দেন। তিনি বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করেন, আপনারা নির্বাচনে কেন গেলেন? “প্রথমে বলতে চাই, ২০১৪ সালের নির্বাচনে যাইনি, তখন আমাদেরকে বলেছিলেন যে, ভুল করেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে না যাওয়াটা প্রমাণ করার জন্যই আমরা ২০১৮ সালে নির্বাচনে গেছি, আওয়ামী লীগের অধীনে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, তা প্রমাণ করার জন্য গেছি। “আজকেও প্রশ্ন যে, আপনারা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে গেছেন কেন? ওই একই কথা বলতে চাই, নির্বাচনে এজন্য যাচ্ছি যে এই কথা বার বার প্রমাণ কর্রা জন্য যে আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।” ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ফখরুল বলেন, “এই নির্বাচন কমিশন, যারা নিজেরাই বলে যে, আমরা পারি নাই, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথা-আমরা পারি নাই। আরেকজন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার পরিষ্কারই বলেই দিয়েছেন, এই নির্বাচন কমিশন যোগ্য নয় সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করার জন্য।” “আমি বলতে যে, এই নির্বাচন কমিশনকে সরাতে হবে, এই সরকারকে সরাতে হবে এবং একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন করতে হবে “ বলেন তিনি। আওয়ামী লীগকে দেশের মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। “ওই বন্দুক দিয়ে, পিস্তল দিয়ে গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। জনগণের সরকার তো তারা নয়, জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই, যে ১০০ জন লোককে জিজ্ঞাসা করুন রাস্তার মধ্যে, ৯০ জন লোকই বলবে যে, এই সরকারকে আমরা চাই না।” “ওবায়দুল কাদের সাহেব, আসুন আপনার ওই পুলিশ-টুলিশ বাদ দিয়ে দেখুন মানুষ কী বলে? দেখুন দেয়ালের ভাষা কী লেখা আছে,” বলেন ফখরুল।

 

ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের দুদফা হাতাহাতি

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দুই দফায় হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বেলা ১১টায় সভা শুরু হলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে দুবার হাতাহাতি হয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। পরে সিনিয়র নেতারা এসে বিবাদমান গ্রুপকে সরিয়ে দেয়। এদিকে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন ছোটাছুটি করতে থাকে। এই ককটেল বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের ঘটেনি। এর আগে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন, পায়রা উড়িয়ে ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, বর্তমান সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সিনিয়র সহসভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ অনেক লম্বা লম্বা কথা শুনতে পাই। অনেকেই মিডিয়ায় বড় বড় কথা বলছেন। এসব কথা বলার নৈতিক অধিকার তাদের নেই। আমি ওবায়দুল কাদেরকে বলতে চাই– আসুন, দেখুন মানুষ আপনাদের ভালোবাসে কিনা। অস্ত্র ছেড়ে, নিরাপত্তা ছেড়ে; আসুনÑ দেখুন মানুষ কী বলে। একাদশ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। রাস্তায় দাঁড়িয়ে একশজনকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, তাদের ৯০ জনই বলবে ভোট দিতে পারেনি। জনগণের ম্যান্ডেটহীন অবৈধ সরকার জোর করে টিকে আছে। তিনি বলেন, গুম-খুনের এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি, তাবেদারি করার জন্য নয়। গণতন্ত্রহীনতা দেখার জন্য নয়। সিটি নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মহাসচিব বলেন, আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি এ কথা বারবার প্রমাণ করার জন্য যে, এই সরকারের অধীনে সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না–¬ এটি প্রমাণ করার জন্য।

গণভবনে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টার মামলায় যুবকের বিচার শুরু

ঢাকা অফিস ॥ অবৈধভাবে গণভবনে প্রবেশের চেষ্টার ঘটনায় এস এম রায়হান কবির নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। ৩৫ বছর বয়সী রায়হান নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন হিযবুত তাওহীদের সদস্য বলে পুলিশের অভিযোগ। তবে তার পরিবারের দাবি, রায়হান মানসিক রোগী। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান বুধবার রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামী ২০ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রেখেছেন। এ ট্রাইব্যুনালের সহকারী পেশকার রুহুল আমিন বলেন, এদিন আদালতে শুনানিতে রায়হানের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। রায়হানের বিরুদ্ধে মামলায় বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর রাত আড়াইটার সময় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত গণভবনের দুই নম্বর প্রবেশপথে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের না বলে চতুরতা করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন রায়হান। ধরা পড়ার পর দায়িত্বরত পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান বলেন, তিনি হিযবুত তাওহীদের সঙ্গে যুক্ত। তার মোবাইল ফোন জব্দ করলে দেখা যায় যে, তিনি নিজের ছবি সম্বলিত ‘মারিয়ম তনয় ঈশা’ নামে একটি ভুয়া ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে হিযবুত তাওহীদের নেতা হিসাবে কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন। মোহাম্মদপুর থানার এসআই নয়ন মিয়া রায়হানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় গণভবনে অবৈধ প্রবেশের হুমকির অভিযোগে দন্ডবিধির দুটি ধারা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গত ১৫ অক্টোবর রায়হানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আব্দুর রশীদ সরকার। এর আগে রায়হানের বাবা এস এম এমদাদুল হক এবং তার সাবেক আইনজীবী আসাদুজ্জামান উজ্জ্বল আদালতে দাবি করেছিলেন, রায়হান মানসিকভাবে অসুস্থ। সাত বছর ধরে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে তার চিকিৎসা চলছিল।

আড়য়াপাড়া ৩নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত

গতকাল বুধবার সকালে আড়ুয়াপাড়া ৩নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া শহরের ৩নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আকতার জাহার’র সভাপতিত্বে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসবের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার  মেয়র উন্নয়নের রূপকার আনোয়ার আলী।

উদ্বোধনকালে পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর এজন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার হার বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছেন। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রসার ও আধুনিকায়ন করার জন্য প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ট্রেনিংসহ ক্লাসরুমগুলোকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই স্কুলে আমার শিক্ষা জীবন শুরু, এজন্য এই স্কুলের সাথে আমার জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তিনি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া করবে। লেখা-পড়ার পাশাপাশি ভাল মানুষও হতে হবে। যাতে তোমার, তোমার পরিবার ও দেশের মুখ উজ¦ল করতে পারো। মেয়র আরোও বলেন, আমি পৌরসভা থেকে দারিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার জন্য শিক্ষাবৃত্তিসহ লেখাপড়ার খরচ প্রদান করে থাকি। এই শিক্ষাখাতে গত বছরে প্রায় ৭৯ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এর ফলে দারিদ্র পরিবারে সন্তানেরা তার স্বপ্নপূরন করতে পারছে। সেইসাথে তার পরিবার আর্থিকভাবে সাবলম্বি হচ্ছে। এছাড়া এই ছাত্রছাত্রীরা দেশের মুখ উজ¦ল করবে বলে আমি আশা করি। পরে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বছরের প্রথম দিনে নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলেদেন মেয়র আনোয়ার আলী সহ অতিথিবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ৩নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা সাসুম সুলতানাসহ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্কুলের সহকারী  শিক্ষক অশোক কুমার পাল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

  ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংকে ২০২০ সালের  বর্ষপণ্য ঘোষণা

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার জন্য লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং (হাল্কা প্রকৌশল) পণ্যকে ২০২০ সালের ‘বর্ষপণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি নীতি অনুযায়ী পণ্যভিত্তিক রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য আমরা ২০২০ সালের জন্য ‘লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যকে জাতীয়ভাবে বর্ষপণ্য ঘোষণা করছি। এখাতে আমরা আরো বিনিয়োগের আহবান জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২০’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প খাতের বিকাশে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এর রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখারও জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’ এ খাতের পণ্যসমূহের মধ্যে বাইসাইকেল, মটরসাইকেল, অটোমোবাইল, অটো-পার্টস, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স, অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারী, সোলার ফটোভলটিক মডিউল এবং খেলনা প্রভৃতি রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। পণ্যভিত্তিক রপ্তানিকে উৎসাহিত করার জন্য প্রতিবছর একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ ঘোষণার রীতি অনুযায়ী অতীতে চামড়া এবং পাটকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করায় এগুলোর বিকাশ ঘটে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই এ বছর আমরা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংকে গুরুত্ব দিচ্ছি যেহেতু এই শিল্পটির বিনিযোগ আকর্ষণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ‘বাংলাদেশ বিশ্বে এখন বিনিয়োগ এবং সোর্সিং-এর জন্য সর্বাধিক অনুকূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে,’ বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। বরাবরের মত এবারও সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুারো (ইবিপি) যৌথভাবে মেলার আয়োজন করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন এবং এফবিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা ইয়াসমিন স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে দেশের বাণিজ্য খাতের অগ্রগতির ওপর একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ,সংসদ সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র সচিব, সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও রপ্তানিকারকবৃন্দ, মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশী প্রতিনিধিগণ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনকে সামনে রেখে দেশের পণ্য প্রদর্শনী এবং পারিবারিক বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দৃষ্টিনন্দন করে এবারের মেলাকে সাজানো হয়েছে। মেলায় বাংলাদেশসহ ২১টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৮৩টি স্টল থাকছে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু প্যাভেলিয়নকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরের মেলা প্রাঙ্গনের গেটের ফিতা কেটে মেলা উদ্বোধনের পর এর বিভিন্ন স্টল ও প্যাভেলিয়ন ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ভোক্তার বাজার নিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গেটওয়ে হওয়ায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ভোক্তার সঙ্গে সংযুক্ত। বাংলাদেশের বিনিয়োগ বান্ধব নীতি একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত সুবিধা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে। তিনি বলেন, ‘আমি কূটনীতিক এবং বিদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানাবো যে, উইন-উইন পরিস্থিতির জন্য ব্যবসার সুবিধার্থে বিনিয়োগ এবং সোর্সিং-এর জন্য বাংলাদেশকে বেছে নিন।’ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কর্তৃক সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের অনলাইনভিত্তিক ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু, অন লাইন পেমেন্ট গেটওয়ের উদ্যোগ গ্রহণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে তাঁর সরকারের নানাবিধ উদ্যোগও তুলে ধরেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ‘ডুয়িং বিজনেসে ব্যয় হ্রাসে’র জন্য বিভিন্ন সংস্কারমূলক কর্মসূচি এবং উন্নয়নের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিসসহ সমগ্রিকভাবে ইকোনমিক জোন এবং সারাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। অতীতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভূমির যে সমস্যা ছিল তা দূরীকরণ এবং যত্র-তত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে আবাদী জমি যেন নষ্ট না হয়। আবার ব্যবসায়ীদের সবরকমের সুযোগ সুবিধা যেন একটি জায়গায় পাওয়া যায় সে জন্যই সরকারের এ উদ্যোগ, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক আপডেট-২০১৯’এর রিপোর্ট অনুসারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে পণ্য ও সেবা খাতে আমাদের রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।’ তাঁর সরকার মাত্র ১০ বছরের মধ্যে আমরা এই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিশ্ব ব্যাংকের ২০২০ প্রতিবেদন অনুযায়ী ইজ অব ডুয়িং বিজনেস গ্লোবাল র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯০টি দেশের মধ্যে গত বছর থেকে ৮ ধাপ উপরে ১৬৮তম অবস্থানে এসেছে। কাজেই, ২০২০ বছরটি তাঁর সরকারের জন্য খুবই গুতুরুত্বপূর্ণ, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা ব্যবসায়ী এবং দেশে ব্যবসা করতে চান তাদের জন্য ইজ অব ডুয়িং বিজনেস আরো সহজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা ব্যবসা করি না। কিন্তু সরকার ব্যবসা বান্ধব। তিনি বলেন, আমরা ব্যবসার জন্য অন্যদের সুযোগ করে দেই। আর বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান গত বছরের ৮৯তম থেকে বর্তমানে ৭২তম অবস্থানে আমরা চলে এসেছি। ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আরো উন্নতি করতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করার লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স ও গঠন করা হয়েছে।’ ‘বাংলাদেশ এখন ২০২টি দেশে ৬ শতাধিক পণ্য রপ্তানি করছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের রিজার্ভ এখন অতীতের যেকোন সময়ের থেকে বেশি সমৃদ্ধ আখ্যায়িত করে সরকার প্রধান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোর রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনারদেরকে নিয়ে লন্ডনে ’দূত সম্মেলনে’র আয়োজন করে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে তাঁর সরকারের পদক্ষেপও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এখন আসলে ডিপ্লোমেসিটা হয়ে গেছে ‘ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি’। এখন আর শুধু পলিটিক্যাল দিকে দেখলে হবে না।’ ‘ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য নতুন বাজার খুঁজে বের করার এবং নতুন নতুন রপ্তানি পণ্য খুঁজে বের করার’ দিকে ও দৃষ্টি দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান তিনি। টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট (এসডিজি) লক্ষ অর্জনে অর্থনৈতিক খাত বিশেষ করে শিল্প ও উৎপাদনশীল প্রকল্পে বিনিয়োগ একান্ত প্রয়োজন, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী উদ্যোক্তাবৃন্দকে আইসিটিসহ অন্য সব সেবা খাতের রপ্তানিতে এগিয়ে আসার মাধ্যমে সীমিত পণ্যের উপর রপ্তানি নির্ভরতা দূর করারও আহ্বান জানান তিনি। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি জরুরী বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মানুষকে কর্মক্ষম করা, তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, তাঁদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করাটাও একান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেই তাঁর সরকারের নানা উদ্যোগ, বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘একটা কথাই আছে-বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী-তাই আমরা বাণিজ্যের দিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছি।’ একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা বিষয়ের দিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি তা হলো-দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা আমাদেরকে বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এ প্রসঙ্গে আমি উদ্যোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই যে, দেশজ কাঁচামাল নির্ভর রপ্তানি পণ্য যথা পাটভিত্তিক বহুমুখী পণ্য, খাদ্যসহ এগ্রো-প্রসেসড্ পণ্য, হিমায়িত চিংড়ি, হিমায়িত মাছ, আম, আলু, হস্তশিল্পজাত পণ্য ইত্যাদি খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এসব পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।’ প্রতিবেশী দেশে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকেই আমাদের দৃষ্টি। যে কারণে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং ব্যবসা-বাণিজ্যটাকে সহজ করে দেওয়ার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। একইসঙ্গে দেশে যাতে বিনিয়োগ আসে সেদিকেও দৃষ্টি দিয়েছি।’ তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব বাণিজ্য প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এ মেলার আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তাগণ যেমন তাদের নতুন পণ্যসম্ভার প্রদর্শনীর সুযোগ পাবেন, তেমনি দেশি-বিদেশি ক্রেতার পছন্দ, রুচি ও চাহিদা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বিস্তৃত করতে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি। মেলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিদেশি অংশগ্রহণকারীসহ সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং একই সঙ্গে আরও বেশি পণ্য নিয়ে ভবিষ্যতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের অনুরোধও জানান।

 

কুষ্টিয়ায় পাঠ্যপুস্তক উৎসব দিবসে ডিসি আসলাম হোসেন

নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মানবিক মুল্যবোধের গুনাবলি অর্জন করতে হবে

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ কুষ্টিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে পাঠ্যপুস্তক উৎসব দিবসের প্রথম প্রহরে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে বই বিতরন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মিলনায়তনে জেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইফতে খাইরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আসগর আলী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবায়দুর রহমান। স্বাগত বক্তব্যে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান বলেন- আজ শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসব ও আমেজে পরিপুর্ন একটি দিন। এদিনটির জন্য তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে নতুন বই প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে। তিনি বলেন- ২০১০সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় জানুয়ারী মাসের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হচ্ছে। এবার কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৮০৬ টি, দাখিল পর্যায়ে ৩ লাখ ৪হাজার ৮৩১টি, ইবদেতায়ী পর্যায়ে ১লাখ ৬১হাজার ৯৪২টি, এসএসসি ভোকেশনাল ৮৬হাজার ৪০টি এবং ইংলিশ ভার্সনে ৭হাজার ৭৭৫টি বই বিতরন করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন- ৩১ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রাপ্তীর একটি আনন্দ শেষ হতে না হতে ১জানুয়ারী বছরের প্রথম দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়ে দারুনভাবে আনন্দিত ও খুশি। আজকের দিনে আমি জেলার সকল শিক্ষার্থীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাই। আজকের বই বিতরনী অনুষ্ঠান সকলের জন্য গুরুত্ববহন করে কেননা এবছরে মুজিব বর্ষ উদযাপিত হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমাদের বীরদের ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমাদের নতুন প্রজম্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, কেন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা কি ছিল, মুক্তিযুদ্ধের বিভিষিকাময় ঘটনাবহুল তথ্য জানাতে না পারলে তাদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাটি গুরুত্ব পাবে না। জেলা প্রশাসক বলেন- দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ আমাকে যা দিয়েছে বিনিময়ে আমি একজন নাগরিক হিসেবে কি দিলাম তা উপলব্ধি করতে হবে। আমাদের চেতনাকে শানিত করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের আজকের শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যত সম্পদ। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলে মানব সম্পদে রূপ দিতে হবে। আর সেই লক্ষ্যে তাদের শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ব্যাপারে অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভাল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ভাল কাজ করতে হবে। নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মানবিক মুল্যবোধের গুনাবলি অর্জন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেনতাকে শানিত করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীকে তার কথা, কাজ ও দায়িত্বশীরতার মধ্যদিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে। মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার, আদব কায়দা মেনে চলা এবং আচরন ভাল করতে হবে। শিক্ষক ও মাতা-পিতাকে সম্মান করতে হবে। বড়দের প্রতি সম্মান  ও শ্রদ্ধাবোধ রাখতে হবে তখনই একজন শিক্ষার্থীর পরিপুর্ন গুনাবলি ফুটে উঠবে।  জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন আরো বলেন- আমাদের সন্তানদের জন্য যোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারলে তারা ক্ষতির মধ্যে পড়বে আর তাতে আমরাও ক্ষতিগ্রস্থ হবো। তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নতুন বই গ্রহনের মধ্যে দিয়ে নতুন প্রেরনায় উজ্জীবিত হয়ে লেখাপড়ার প্রতি বিশেষ মন দিতে আহবান জানান। পরে তিনি ১০টি স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে বই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এদিকে হাউজিং এষ্ট্রেট সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।

টবে চাষ করুন শীতের শাক-সবজি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ শহর জীবনেও শীতের স্বাদ উপভোগ করতে পারেন। তার জন্য একটু কাজ তো করতেই হবে। সেজন্য কম পরিশ্রমে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, কার্ণিশে বিভিন্ন আকারের টবে শাক-সবজির চাষ করতে পারেন। তাহলে জেনে নিন টবে সবজি চাষের নিয়ম-কানুন ঃ- যা চাষ করবেন :- টমেটো, বেগুন, মরিচ, শসা, ঝিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, মটরশুটি, কলমি শুটি, কলমি শাক, লাউ, পুঁই শাক, পেঁপে, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, থানকুনি, লেটুস, ব্রোকলি প্রভৃতি। টবের মাটি:- মাটি হতে হবে ঝরঝরে, হালকা এবং পানি ধরে রাখার ক্ষমতাসম্পন্ন। মাটি চালনি দিয়ে চেলে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। দুই ভাগ  বেলে দো-আঁশ মাটির সঙ্গে দুই ভাগ জৈব সার মিলিয়ে বীজতলার মাটি  তৈরি করতে হয়। মাটি এঁটেল হলে একভাগ বালি মিশিয়ে হালকা করে নিতে হয়। মাটিকে জীবাণুমুক্ত করে চারাকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে হয়। সাধারণত ১ লিটার ফরমালডিহাইড শতকরা ৪০ ভাগ ৪০ লিটার পানিতে মিশিয়ে এই দ্রবণের ২৫ লিটার প্রতি ঘন মিটার মাটিতে কয়েক কিস্তিতে ভিজিয়ে দিতে হয়। এরপর দু’দিন চটের কাপড় দিয়ে মাটি ঢেকে রেখে পরে চট উঠিয়ে দিলে মাটি জীবাণুমুক্ত হয়। বীজ বপন ঃ মাটি হালকা ঝরঝরে করে টবের উপরের ভাগ সমতল করতে হবে। হালকাভাবে বীজ ছিটিয়ে দিতে হবে। এরপর জৈব সার দিয়ে বীজগুলোকে ঢেকে দিতে হবে। সেচ ঃ নিয়মিত ছোট ছোট ছিদ্রযুক্ত ঝাজরি দিয়ে পানি দিতে হবে। পানির ঝাপটায় যাতে বীজের উপর জৈব সারের আবরণ সরে না যায়। আকারে ছোট বীজগুলোর উপর দিয়ে পানি দিলে পানির ধাক্কায় একস্থানে অঙ্কুরোদগমে ব্যঘাত ঘটতে পারে। তাই সব টবের উপর দিয়ে পানি না দিয়ে তলা দিয়ে  সেচের ব্যবস্থা করা উচিত। পরিচর্যা: হেপ্টোক্লোর ৪০ পরিমাণ মত দিয়ে পিঁপড়া ও মাকড়সার আক্রমণ  থেকে রক্ষা করা যায়। পাখির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে হলে টবের উপর তারের বা নাইলনের জাল দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। টবের মাটিতে বীজ বপনের আগে বিভিন্ন প্রকার আগাছা জন্মাতে পারে। তাই নিড়ানি দিয়ে খুঁচিয়ে তুলে ফেলতে হবে। চারার গোড়ায় যেন আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। টবগুলো অবশ্যই আলো-বাতাসযুক্ত জায়গায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত ঝড়-বৃষ্টি-রোদ-তাপ থেকে রক্ষার জন্য সাময়িকভাবে টব নিরাপদ স্থানে সরানো যেতে পারে। সবজি সংগ্রহ : সবজি বেশিদিন গাছে না রেখে নরম থাকতেই তুলে খাওয়া ভালো। সবজি গাছ থেকে ছিঁড়ে সংগ্রহ করা যাবে না। আস্তে করে কেটে সংগ্রহ করতে হবে। তাহলে সবজি গাছের কোন ক্ষতি হবে না।

 

ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি অমিত হাসান

বিনোদন বাজার ॥ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের সংগঠন বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন চিত্রনায়ক অমিত হাসান। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতিকুর রহমান লিটনকে হারিয়ে ২৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। নির্বাচনে জয়লাভ করেছে অমিত হাসানের পুরো প্যানেল। আগামী ১ বছরের জন্য সংগঠনটির কর্মপরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এই প্যানেল।

অমিত হাসান বলেন, ফিল্ম ক্লাবে এর আগে পাঁচবার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছি আমি। এবার আপনারা আমাকে সভাপতি নির্বাচন করেছেন। কথা দিলাম, ভালোবাসার সম্মান রাখব।

এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন ওমর সানী, পপি, রতœা, সাফি উদ্দিন সাফি, রাফিউদ্দিন সেলিম, মাহমুদুল হক পলাশ, জাহিদ হোসেন, রবিন খান, রশিদুল আমিন হলি, আব্দুল্লাহ জেয়াদ। নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই জয়ী হয়েছেন চিত্রনায়িকা পপি। তিনি পেয়েছেন ৩২৫ ভোট। নির্বাচনে জয়লাভ করে বেশ উচ্ছ্বসিত বিজয়ীরা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ফিল্ম ক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১ জন সভাপতি ও ১০ সদস্যের জন্য মোট ১৯ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৫১১ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৯৪ জন, ভোট বাতিল হয়েছে ১৬টি। ফিল্ম ক্লাবের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চলচ্চিত্র প্রযোজক মেহেদী হাসান সিদ্দিকী মনির।

কনসার্ট দিয়েই বিশ্বজিতের নতুন বছর শুরু

বিনোদন বাজার ॥ ২০১৯ সালটা ছিল কুমার বিশ্বজিতের জন্য সবচেয়ে বেদনার বছর। কারণ এই বছরের শেষটাতে তিনি তার মাকে হারিয়েছেন। হারিয়েছেন সঙ্গীতাঙ্গনের আরো অনেককেই। তাই নতুন বছরে কুমার বিশ্বজিতের প্রত্যাশা সবার মা যেন ভালো ও সুস্থ থাকেন। নতুন বছরে স্টেজে কুমার বিশ্বজিতের শুরুটা হবে আজ ২ জানুয়ারি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে। টানা ৩, ৪ ও ১০ জানুয়ারি স্টেজ শো নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত থাকবেন তিনি। এরপর ১৩ জানুয়ারি কলকাতার যোদপুর পার্কে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন বিশ্বজিৎ।

কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, নতুন বছরে একটাই চাওয়া, আমাদের সবার প্রিয় কিশোর দা (অ্যান্ড্রু কিশোর) যেন সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসেন, ঈশ্বর যেন সহায় হন। আর গেল বছর আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেককেই হারিয়েছি। এই বছরটা যেন হারানোর বছর না হয়, হয় যেন প্রাপ্তির বছর। আমার মাকে হারানোর বছর ছিল ২০১৯। আমার মায়ের জন্য সবাই আশীর্বাদ করবেন যেন মা স্বর্গবাসী হন।

এদিকে আগামী ১৭ জানুয়ারি বরিশাল ক্যাডেট কলেজে এবং পরবর্তী সময়ে ১৮ জানুয়ারি চ্যানেল আইর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

বিশ্ব আর্চারির বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় রোমান সানা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টোকিও অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে দারুন এক সুখবর দিয়েছিলেন দেশসেরা আর্চার রোমান সানা। এবার নতুন বছরের শুরুতেই বিশ্ব আর্চারির বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত হয়ে রোমান সানা আরো একবার বাংলাদেশকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে গর্বিত করেছেন। মঙ্গলবার বিশ্ব আর্চারি ২০১৯ সালের বর্ষসেরাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করে। যেখানে দুটি ক্যাটাগরিতে রয়েছে রোমান সানার নাম। রিকার্ভ ও ব্রেকথ্রু তারকার ক্যাটাগরিতে রোমান সানা জায়গা করে নিয়েছেন। প্রায় সব ক্যাটাগরিতেই যেখানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্চারদের নাম রয়েছে সেখানে রোমান সানার এই উত্থান বিশ্ব আর্চারিতে বাংলাদেশকে এক অনন্য জায়গা উপহার দিয়েছে। মনোনীতদের এই তালিকায় রয়েছেন রিকার্ভ পুরুষ ও কম্পাউন্ড নারীতে পাঁচবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাডি এলিসন ও কলম্বিয়ার সারা লোপেজ, কম্পাউন্ড পুরুষে বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়ন জেমস লুটজ ও রিকার্ভ নারীতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন লেই চিয়েন-ইং। চমক দেখানো নতুনদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এ্যালেক্সিস রুইজ ও দক্ষিণ কোরিয়ার আন সানের সাথে রয়েছে রোমান সানার নাম। বিশ্ব আর্চারি র‌্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ১০ম স্থানে আছেন রোমান সানা। রিকার্ভ পুরুষ বিভাগে রোমান সানার সাথে সংক্ষিপ্ত তালিকায় আরো রয়েছেন ব্রাডি এলিসন (যুক্তরাষ্ট্র), লি উ সিউক (কোরিয়া), খাইরুল আনোয়ার মোহাম্মদ (মালয়েশিয়া) ও মাওরো নেসপোলি (ইতালি)। ব্রেকথ্রু বিভাগে বর্ষসেরা আর্চারদের তালিকায় রয়েছেন রোমান সানা (বাংলাদেশ), জেমস লুটজ (যুক্তরাষ্ট্র), আন সান (কোরিয়া), ভ্যালেন্টিনা আকোস্টা (কলম্বিয়া), আন্দ্রেস ফগাস্টাড (নরওয়ে) ও এ্যালেক্সিস রুইজ (যুক্তরাষ্ট্র)। ২০১৯ সালে রিকার্ভ পুরুষ, রিকার্ভ নারী, কম্পাউন্ড পুরুষ, কম্পাউন্ড নারী, প্যারা পুরুষ ও প্যারা নারী ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরাদের পুরস্কৃত করা হবে। এই ক্যাটাগরিতে সেরাদের বেছে নেয়া হবে জনগনের ভোট ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ভোটের ভিত্তিতে। এছাড়া বর্ষসেরা কোচ, ব্রেকথ্রু আর্চার ও জাজ বিভাগেও নতুনদের বেছে নিবে বিশেষজ্ঞ প্যানেল। বর্ষসেরা কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বাংলাদেশের কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকের নাম রয়েছে। এই তালিকায় অপর দু’জন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের কিসিক লি ও ভুটানের স্যালি পার্ক।

যুব বিশ্বকাপ নয়, বাংলাদেশের অপেক্ষায় নাসিম শাহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দল থেকে নাসিম শাহের নাম সরিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা গতিময় এই পেসারকে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে খেলানোর পরিকল্পনা আছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের। গত নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিসবেন টেস্টে জাতীয় দলে অভিষেক হয় নাসিমের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তার চেয়ে কম বয়সে অভিষেক হয়নি আর কোনো ক্রিকেটারের, ওই দিন তার বয়স ছিল ১৬ বছর ২৭৯ দিন। এরপর আরও দুটি টেস্ট খেলেছেন ডানহাতি এই পেসার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করাচিতে সবচেয়ে কম বয়সী পেসার হিসেবে টেস্টে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি। চলতি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দলে নাসিমকে রেখেছিল পাকিস্তান। একই সময়ে দেশটিতে টেস্ট খেলতে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের। তাই যুব বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে তাকে জাতীয় দলের জন্য রেখেছে পিসিবি। এ প্রসঙ্গে পিসিবির প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম আকরাম বলেন, “আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ তারকাদের নিজেদের মেলে ধরার একটা ধাপ। এটি তরুণ প্রতিভাবানদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ওঠার ধাপ।” “নাসিম সম্প্রতি সেই পর্যায় পেরিয়ে এসেছে। নিজেকে একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এজন্য পিসিবি একটা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে আগামী বছরের (২০২০ সাল) প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেন এই সুযোগ আরেকজন উঠতি ক্রিকেটারকে দেওয়া যায়।”

কক্ষপথে ফিরতে ‘পরিশ্রম ও প্রার্থনা’ করতে হবে সিটিকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে থাকা লিভারপুলের চেয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় মুকুট ধরে রাখার আশা অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে ম্যানচেস্টার সিটির। শিরোপা লড়াই নতুন করে জমিয়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করা এবং আরও ভালো খেলার পাশাপাশি প্রার্থনা করতে হবে বলে মনে করেন দলটির কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা। লিগে শেষ পাঁচ ম্যাচে দুটিসহ মৌসুমে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচ ম্যাচে হেরেছে সিটি। অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে এগিয়ে চলেছে লিভারপুল। ১৯ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে সবার ওপরে তারা। এক ম্যাচ বেশি খেলা সিটির অর্জন ৪১ পয়েন্ট। বুধবার ঘরের মাঠে নিজেদের পরের ম্যাচে এভারটনের মুখোমুখি হবে গুয়ার্দিওলার দল। দলের সবাই ফিট থাকলে লিভারপুলকে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব বলে মনে করেন স্প্যানিশ এই কোচ। কক্ষপথে ফিরতে কী করতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে গুয়ার্দিওলা বলেন, “কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, আরও ভালো খেলতে হবে এবং প্রার্থনা করতে হবে।” “আমরা সবসময় তাই করতে পারি যা আমাদের করার সুযোগ আছে। কিন্তু কিছু বিষয় আছে, যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।” “লিভারপুলের মতো দুর্দান্ত একটা দল এখন পর্যন্ত যা করেছে তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।” অন্য বিষয় বলতে কী বোঝাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে গুয়ার্দিওলা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ও সিটির চোটে পড়া খেলোয়াড়দের কথা উল্লেখ করেন।

দশকের শীর্ষ গোলদাতা মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জাতীয় দলের হয়ে কাটেনি সাফল্য খরা, তবে ক্লাব ফুটবলে সেই আগের মতোই অপ্রতিরোধ্য লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে এনে দিয়েছেন শিরোপার স্বাদ। আর ব্যক্তিগত অর্জনের বিচারে, গোলের প্রশ্নে অন্যদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে তিনি। গত দশ বছরে ক্লাবের হয়ে লিগে গোলের যত রেকর্ড, সবই প্রায় তার দখলে। এমনকি গোল করানোতেও আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের ধারেকাছে নেই কেউ।

২৫ বছর বয়সী যুককের প্রেমে পড়েছেন ম্যাডোনা!

বিনোদন বাজার ॥ জনপ্রিয় মার্কিন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা এর আগে তার জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে এসেছেন খবরের শিরোনামে। সেটা হোক কাজ দিয়ে বা ব্যক্তিজীবনের কোনো ঘটনা নিয়ে।

এবার এমনই একটি অবাক করা খবরে আবারো শিরোনাম হলেন তিনি। রূপবতী এই পপ গায়িকা এবার ২৫ বছরের যুককের সঙ্গে অসম প্রেমে জড়িয়েছেন বলে গুঞ্জন রটেছে মিডিয়ায়। ম্যাডোনার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো সেই যুবকের নাম আহমালিক উইলিয়ামস।

জানা গেছে, উইলিয়ামসের বাবা ড্রিউকে নাকি এরইমধ্যে ম্যাডোনা জানিয়েছেন, তার ছেলের প্রতি ভালোবাসার কথা। ম্যাডোনা আহমালিকের বাবা-মাকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের ছেলের প্রতি ভালোবাসার কথা জানান।

ড্রিউ জানিয়েছেন তার ছেলে ও স্ত্রীর কোনো আপত্তি নেই। তবে তিনি জানান, ম্যাডোনা তার চেয়ে যেমন বয়সে বড় তেমনি তার স্ত্রীও বয়সে ছোট ম্যাডোনার চেয়ে। তার ছেলের চেয়ে ম্যাডোনা ৩৬ বছরের বড় হলেও মার্কিন পপ তারকার সঙ্গে ছেলের সম্পর্কে উইলিয়ামসরা বেশ খুশি বলেই জানান।

জানা গেছে, ২০২০ সালে লন্ডন এবং ফ্রান্সে ম্যাডোনার যে শোগুলো রয়েছে সেখানেও তার ভালোবাসার মানুষের বাবা-মাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গানের পাশাপাশি নৃত্যশিল্পী, অভিনয়শিল্পী ও ছবি নির্মাতা হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে এই গায়িকার। বেস্ট-সেলিং নারী রেকর্ডিং শিল্পী হিসেবে গিনেস বুকে তার নাম রয়েছে ম্যাডোনার। তার গাওয়া ৪৬টি সিঙ্গেল গান ইউকে চার্টের সেরা পাঁচে স্থান পেয়েছে। ম্যাডোনার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইক আ ভার্জিন, হাঙ আপ, হলিডে, লা ইসলা বোনিতা, লাইক অ্যা প্রেয়ার।

নির্বাচনে জয়ী হয়ে যা বললেন অভিনেত্রী পপি

বিনোদন বাজার ॥ বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পী সংশ্লিষ্টদের সংগঠন বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব লিমিটেডের এক বছর মেয়াদি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে চিত্রনায়িকা পপি।

গত সোমবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে নতুন মেয়াদে সভাপতি হিসেবে জয়ী হয়েছেন চিত্রনায়ক অমিত হাসান। আর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি।

ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পপি। তিনি পেয়েছেন ৩২৫ ভোট। পপি বলেন, ভোটারদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সবার ভালোবাসা আর সমর্থনে আমি জয়ী হয়েছি। এটি আমার ক্যারিয়ারের বিরাট একটি প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।

নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে চাই উল্লেখ করে পপি বলেন, পুরনো কমিটি যে কাজগুলো হাতে নিয়েছিল সেগুলোও সবার অংশগ্রহণে দ্রুত শেষ করতে চাই। সবাই মিলে বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাবকে সফল একটি সংগঠন বানাতে কাজ করে যাব।

বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাবের নির্বাচনে অমিত হাসানের পূর্ণ প্যানেল নির্বাচিত হয়েছে। সভাপতি পদে অমিত হাসান ২৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন ওমর সানী (৩২৫), রতœা (৩৪৪), মাহমুদুল হক পলাশ (২৮৮), জাহিদ হোসেন (৩১৬), সাফি উদ্দিন সাফি (২৮২), সৈয়দ রাফি উদ্দিন সেলিম (২৩২), রবিন খান (২৬৪), রশিদুল আমিন হলি (৩০১), আব্দুল্লাহ জেয়াদ (৩০০)।

বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাবের নির্বাচনে ৫১১ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৯০ জন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন মেহেদী হাসান সিদ্দিকী মনির।

আমেরিকায় বেবী নাজনীনের গজল সন্ধ্যা

বিনোদন বাজার ॥ শুরু হল নতুন বছর। বছরের শুরুতেই ব্লাক ডায়মন্ডখ্যাত প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী বেবী নাজনীন একক গজল সন্ধ্যা নিয়ে আমেরিকায় উপস্থিত থাকছেন।

‘সাম ই গজল’ শিরোনামে ৪ জানুয়ারি আমেরিকার নিউইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসের বেলোজিনোতে শো টাইম মিউজিকের ব্যানারে আয়োজন করা হয়েছে এ গজল সন্ধ্যা। আমেরিকায় বাংলাদেশি কোনো সঙ্গীত তারকার এটাই প্রথম গজল সন্ধ্যা বলে জানিয়েছেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

নিজের মৌলিক গান ছাড়াও বেবী নাজনীনের কণ্ঠে রবীন্দ্র, নজরুল সঙ্গীত, হিন্দি, উর্দু গান এবং গজলও শোনা যায় বিভিন্ন স্টেজ প্রোগ্রামে। ইতিমধ্যেই এ আয়োজনের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বেবী নাজনীন বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর আগে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আমার প্রথম একক গজল সন্ধ্যা। ৯০ দশকের শুরুতে হওয়া সেই গজল সন্ধ্যাটি আমার ক্যারিয়ারে মাইলফলক হয়ে আছে। এরপর বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের অনেক অনুষ্ঠানেই গজল পরিবেশনা করেছি।

আসলে কোন গান কোথায় গাইব এটা নির্ভর করে কোনো ধরনের গানের শ্রোতার সামনে আমি উপস্থিত রয়েছি। বাংলা গান গাইতে গাইতে অনেক স্টেজেই আমি হিন্দি উর্দু গান এবং গজল করেছি দর্শকদের অনুরোধে। তবে এবারের আয়োজনটি শুধু গজলকে কেন্দ্র করেই। যে কারণে এবারের প্রস্তুতিটাও নিতে হচ্ছে একটু ভিন্নভাবে।’

দশকের শীর্ষ গোলদাতা মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জাতীয় দলের হয়ে কাটেনি সাফল্য খরা, তবে ক্লাব ফুটবলে সেই আগের মতোই অপ্রতিরোধ্য লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে এনে দিয়েছেন শিরোপার স্বাদ। আর ব্যক্তিগত অর্জনের বিচারে, গোলের প্রশ্নে অন্যদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে তিনি। গত দশ বছরে ক্লাবের হয়ে লিগে গোলের যত রেকর্ড, সবই প্রায় তার দখলে। এমনকি গোল করানোতেও আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের ধারেকাছে নেই কেউ।

বাংলা নববর্ষে আসছে জয়ার বিউটি সার্কাস

বিনোদন বাজার ॥ অভিনয় নিয়ে দুই বাংলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জয়া আহসান। ঢাকায় মাহমুদ দিদারের পরিচালনায় ‘বিউটি সার্কাস’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অনেক দিন আগে। এবার এ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে।

বাংলা নববর্ষে প্রেক্ষাগৃহে এটি মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন ছবিটির নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ছবিটির ডাবিংয়ের কাজ চলছে। কয়েকদিনের মধ্যে আশা করছি ডাবিং শেষ হবে। এরপর এটি সেন্সরে জমা দেয়া হবে এক মাসের মধ্যেই। সব ঠিক থাকলে বাংলা নববর্ষে ছবিটি মুক্তি দেয়ার ইচ্ছা আছে।’

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা আছে জয়ার। তবে এবারই প্রথম সার্কাস কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে সরকারি অনুদানে শুরুর পর বিভিন্ন কারণে মাঝপথে বন্ধ ছিল ‘বিউটি সার্কাস’-এর শুটিং। অনেকদিন আগে এ ছবির টিজারও প্রকাশ পেয়েছিল।

এক মিনিট ১৫ সেকেন্ডের টিজারে জয়াকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দেখা যায় সার্কাসের প্যান্ডেলে। তখন টিজারের লিংক অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শেয়ার করে জয়া আহসান লিখেছিলেন, ‘শিগগির সিনেমা হলে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিউটি সার্কাস।’ কিন্তু সেই শিগগিরই আর দ্রুত হয়নি।

অবশেষে আবারও পরিচালক জানালেন মুক্তির কথা। এ ছবির শুটিং হয়েছে নওগাঁ ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে। অন্যদিকে গত ২৭ ডিসেম্বর কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে জয়া অভিনীত ছবি ‘রবিবার’। এতে তার সহশিল্পী প্রসেনজিৎ।