প্রথম ধাপে ১০৭৮৯ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের হাতে থাকা নথির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে একাত্তরে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর বেতনভোগী ১০ হাজার ৭৮৯ জন স্বাধীনতাবিরোধীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হেফাজতে থাকা দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম তালিকা রোববার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো তালিকা প্রকাশ করা হবে। গতকাল রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস তাদের স্থানীয় দোসর জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও শান্তি কমিটির সহায়তায় বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দুই লাখ মা-বোনের সন্ত্রমহানি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে সেই সব স্বাধীনতাবিরোধীর মধ্যে ১০ হাজার ৭৮৯ জনের প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হল বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, আমরা কোনো তালিকা তৈরি করছি না। যারা একাত্তরে রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং যেসব পুরোনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল সেটুকু প্রকাশ করছি।” তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে কি-না জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, “কোনো গেজেট প্রকাশ করা হবে না। তবে জাতি প্রত্যাশা করলে এবং সরকার মনে করলে গেজেট করবে। আমরা তালিকা প্রকাশ করলাম, আগে রিঅ্যাকশনটা দেখব, জাতি চাইলে এটা হবে।” একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কয়েকটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী। তখন যুদ্ধরত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করতে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল। আনসার বাহিনীকে এই বাহিনীতে একীভূত করা হয়েছিল। প্রথমে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠিত শান্তি কমিটির অধীনে থাকলেও পরে একে আধা সামরিক বাহিনীর স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। একই রকম আধা সামরিক বাহিনী ছিল আল বদর বাহিনী ও আল শামস বাহিনী। তবে স্বাধীনতাবিরোধী এই বাহিনীগুলোকে সাধারণ অর্থে রাজাকার বাহিনী হিসেবেই পরিচিত বাংলাদেশে। প্রায় এক দশক আগে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর রাজাকারের তালিকা তৈরির দাবি জোরালো হয়। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিলেন, রাজাকারের কোনো তালিকা সরকারের কাছে নেই। তবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের খুলনায় আনসার হেডকোয়ার্টার্সে পাওয়া তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি রাজাকারের তথ্য মিলেছিল। ওই তালিকাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রয়েছে। এরপর গত ২৫ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহে কাজ শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়। বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের বেতনভোগী রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের জন্য চলতি বছর ২১ মে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চিঠি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। পরে ওই তালিকা করার জন্য আবারও তাগিদ দেওয়া হয়।  কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, “তালিকা হাতে আসা শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ১৬ ডিসেম্বর থেকে যতটুকু আসবে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।” এর ধারাবাহিকতায় বিজয় দিবসের আগের দিন ৬৫৯ পৃষ্ঠার প্রথম তালিকা প্রকাশ করতে এসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় অনেক নথি সুকৌশলে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে পরিপূর্ণ তালিকা পাওয়া কঠিন হচ্ছে। “তৎকালীন ১৯ জেলার রেকর্ড রুমে যেসব দালিলিক প্রমাণ ছিল, সেগুলো দিতে বলা হয়েছিল; আশারুরূপ তালিকা পাইনি। তাই জানুয়ারি মাসের মধ্যে রেকর্ড পাঠানোর জন্য বলেছি।” বিভিন্ন জেলার রেকর্ড রুম এবং ওই সময় বিজি প্রেসে ছাপানো তালিকাও সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “যাচাই-বাছাই করে ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে। এক প্রশ্নে মোজাম্মেল বলেন, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যদি কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে এই তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাদের বিচারের দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তার বিশ্বাস। “তবে কারো বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই তালিকা নয়। তালিকাভুক্ত হলে মামলা করা যাবে বা তালিকাভুক্ত না হলে মামলা করা যাবে না এমন নয়। বাদী অভিযোগ আনলে মামলা হবে।” মন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় চিহ্নিত করা হয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বেচ্ছায় যারা ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন তারাও স্বাধীনতাবিরোধী।

আজ মহান বিজয় দিবস

নিজ সংবাদ ॥ আজ মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি হচ্ছে বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। আজ কৃতজ্ঞ জাতি সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল নামবে। শ্রদ্ধার সাথে তারা শহীদের উদ্দেশে নিবেদন করবেন পুষ্পাঞ্জলি। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সব প্রান্তের মানুষ অংশ নেবে বিজয় দিবসে। বঙ্গবন্ধুর বজ্র নিনাদ ভাষণ আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাস হবে মুখরিত। যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকবাহিনী দীর্ঘ নয় মাস ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দু’লাখ মা- বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে এক রাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে। বিজয়ের ৪৮ বছর পেরিয়ে এবার ৪৯তম বিজয় দিবস। এবারের বিজয় দিবস এসেছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে। আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী এবং এর পরের বছর ২০২১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে বাংলাদেশ। মহান বিজয় দিবসে উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত সদস্যগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরস্থ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমভিত্তিক যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীও এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। বিজয় দিবস সরকারি ছুটির দিন। সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হবে। রাতে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় করা হবে আলোকসজ্জা। হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানাগুলোতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সংবাদপত্র বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে, বেতার ও টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক -সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করেছে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম- মুক্তিযুদ্ধ’৭১ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে‘ শিখা চিরন্তন ’ বেদি সংলগ্ন ‘স্বাধীনতা চত্বরে বিস্তারিত অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করেছে। এর আগে সকাল ৮ টায় ফোরাম নেতৃবৃন্দ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। আওয়ামী লীগের দুইদিনক্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়াও সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ১৭ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভ অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এদিন বাঙালি জাতি পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে। ২৪ বছরের নাগ পাশ ছিন্ন করে জাতির ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় এক নতুন সূর্যোদয়। প্রভাত সূর্যের রক্তাভা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। সমস্বরে একটি ধ্বনি যেন নতুন বার্তা ছড়িয়ে দেয় ‘জয়বাংলা’ বাংলার জয়, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল। আদি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক জীবন এবং ক্রমবিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে বাঙালির শৌর্যবীর্য যেন আর একবার ধপ করে জ্বলে উঠে। প্রথম আগুন জ্বলে ৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি। ফাগুনের আগুনে ভাষা আন্দোলনের দাবি আর উন্মাতাল গণমানুষেল মুষ্টিবদ্ধ হাত একাকার হয়ে যায় সেদিন। ভাষার জন্য প্রথম বলীদান বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করে। সেই থেকে শুরু হয়ে যায় বাঙালির শেকল ভাঙার লড়াই। পাকিস্তানিদের সাথে হিসেব-নিকেশের হালখাতার শুরুতেই রক্তের আঁচড় দিয়ে বাঙালি শুরু করে তার অস্তিত্বের লড়াই। পলাশীর আম্রকাননে হারিয়ে যাওয়া সেই সিরাজদ্দৌলা আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপে এ লড়াইয়ে সেনাপতি হিসেবে আবির্ভূত হন। ’৫২ সালে যে আগুন জ্বলেছিল রাজধানী ঢাকা শহরে সে আগুন যেন ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেশের আনাচে-কানাচে সবখানে। যে আগুন জ্বলেছিল মোর প্রাণে, সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে সবখানে সবখানে। বাঙালির বুকের ভেতর জ্বলে উঠা আগুন যেন সহ¯্র বাঙালির মধ্যে প্রবাহিত হতে থাকে। বাষট্টি, ঊনসত্তর এবং ’৭০ শেষ করে একাত্তরে বাঙালি জাতি হিসাব করতে বসে। হিসেব-নিকেশ আর দেনা-পাওনায় পাকিস্তানীরাও বসে নেই। তারাও অংক কষতে থাকে কিভাবে বাঙালি জাতিকে যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শেকল পরিয়ে রাখা যায়। তাদের কাছে এই অলংকারই বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্য। ঘড়ির কাঁটার টিক টিক শব্দ জানিয়ে যায় সময় আসছে হিসেব নিকেশ চুকিয়ে দেয়ার পালা। অবশেষে গভীর কালো নিকষ আঁধার থেকে জেগে উঠে হিরন্ময় হাতিয়ার। সাত মার্চ একাত্তরের বিশাল জনসমুদ্র থেকে এক যুগের কবি, মহাকাব্যের প্রণেতা বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। রক্ত যখন দিয়েছি তখন আরো দেব, তবুও এদেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।’ এই একটি মাত্র উচ্চারণে যেন বাঙালি সত্যিকার দিক-নির্দেশনা পেয়ে যায়। চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি। বাঙালি বুঝে যায় শেষ কামড় দেয়ার সময় আসন্ন। পাকিস্তানীরাও আর বসে নেই। পুরো জাতিকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে মারাত্মক মারণাস্ত্র নিয়ে ২৫ মার্চ একাত্তর ঘুমন্ত জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় বাঙালি নিধন যজ্ঞ। বাতাসে লাশে গন্ধ বারুদে বারুদে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আকাশ। এ যেন এক প্রেতপুরী। আকাশে শকুনের উদ্যত থাবা, নিচে বিপন্ন মানুষের বিলাপ। হায় বাংলাদেশ। একি বাংলাদেশ। এ যেন এক জ্বলন্ত শশ্মান। কিন্তু ঠিকই হাড়ের খুলীরা একদিন পাললিক হয়। মুক্তি পাগল বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীনতার রক্ত সূর্যকে ছিনিয়ে আনবে বলে একদিন অস্ত্র কাঁধে তুলে নেয়। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, কামার কুমার সবাই শরিক হয়ে থাকে এ লড়াইয়ে। যতই দিন অতিবাহিত হতে থাকে আরো শাণিত হয় প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র। লক্ষ্য স্থির রেখে শক্র হননে দৃঢ়তায় এগিয়ে যায় বীর বাঙালি। ইতোমধ্যেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন স্পষ্ট হয়ে উঠে। প্রতিবেশী ভারতও জড়িয়ে পড়ে বাঙালির ভাগ্য যুদ্ধে। ডিসেম্বর শেষ পর্যায়ে এসে চূড়ান্ত রূপ নেয় এই যুদ্ধের। অবশেষে ন’মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। এলো হাজার বছরের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সূচিত হলো মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য বিজয়। বাঙালি জাতি এদিন অর্জন করে তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত আর লাখ লাখ ধর্ষিতা মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা ধরা দেয় বাঙালির জীবনে।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বার্সাকে রুখে দিল সোসিয়েদাদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বার্সেলোনাকে ঘরের মাঠে পেয়ে ম্যাচের শুরু থেকে দারুণভাবে চেপে ধরল রিয়াল সোসিয়েদাদ। শুরুতে গোলও পেয়ে যায় তারা। বিরতির আগে-পরে দুই গোল করে অবশ্য জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল এরনেস্তো ভালভেরদের দল। তবে পরে আরও এক গোল খেয়ে পয়েন্ট হারিয়েছে কাতালান ক্লাবটি।  প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার লা লিগার ম্যাচে ২-২ ড্র করে ফিরেছে বার্সেলোনা। লিগে টানা চার জয়ের পর পয়েন্ট হারাল দলটি। মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলে পিছিয়ে পড়া বার্সেলোনা সমতায় ফেরে অঁতোয়ান গ্রিজমানের গোলে। লুইস সুয়ারেসের গোলে এগিয়েও গিয়েছিল তারা; কিন্তু সে আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের। খানিক পর আলেক্সান্দার ইসাক বল জালে পাঠালে মূল্যবান ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে সোসিয়েদাদ। বার্সেলোনার যেকোনো ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, বল দখলে তাদের এগিয়ে থাকাটা চিরচেনা দৃশ্য। তবে সোসিয়েদাদের বিপক্ষে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র; শুরু থেকে বল দখলে আধিপত্য করল স্বাগতিকরা। দ্বাদশ মিনিটে ওইয়ারসাবালের সফল স্পট কিকে এগিয়েও যায় তারা। ডি-বক্সে বার্সেলোনা মিডফিল্ডার সের্হিও বুসকেতস প্রতিপক্ষের দিয়েগো ইয়োরেন্তেকে জার্সি ধরে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। ৩৮তম মিনিটে অনেকটা আচমকা পাল্টা আক্রমণে সমতা টানে বার্সেলোনা। ম্যাচে এটাই তাদের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ। সুয়ারেসের বাড়ানো বল ধরে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ চিপ শটে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন গ্রিজমান। সাবেক দলের বিপক্ষে গোল উদযাপন করেননি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সোসিয়েদাদে খেলা ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। সতীর্থের পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু নিজে শট না নিয়ে বাড়ান বাঁ দিকে সুয়ারেসকে। অনায়াসে আসরে নিজের নবম গোলটি করেন উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার। দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে মেসির দারুণ কর্নারে হেড করেছিলেন বিশ্রাম শেষে ফেরা জেরার্দ পিকে। বল লক্ষ্যেই ছিল, শেষমুহূর্তে গোললাইন থেকে ফেরায় স্বাগতিকরা। ৬২তম মিনিটে সোসিয়েদাদের সমতায় ফেরা গোলে কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল। বাঁ দিক থেকে ওইয়ারসাবালের শট ইভান রাকিতিচের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে ঢুকতে যাচ্ছিল, ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। কিন্তু বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি, আলগা বল ছোট ডি-বক্সের মুখে পেয়ে জালে ঠেলেন দেন তরুণ সুইডিশ ফরোয়ার্ড ইসাক। মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকোর আগে এই ড্র বার্সেলোনার জন্য বড় এক ধাক্কাই বটে। লিগে আগামী বুধবার ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এখানে হোঁচট খেলেও লিগের পয়েন্ট টেবিলে রিয়ালের চেয়ে ১ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে বার্সেলোনা। তবে রোববার ভালেন্সিয়ার মাঠে জিতলে শীর্ষে উঠে যাবে জিনেদিন জিদানের দল। ১৬ ম্যাচে ১১ জয় ও দুই ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৩৫। এক ম্যাচ কম খেলা রিয়ালের পয়েন্ট ৩৪। ১৬ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে সেভিয়া। চার নম্বরে থাকা সোসিয়েদাদের সংগ্রহ ১৭ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট।

 

যে রেকর্ড শুধুই আবিদ আলির

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেতে পেতে বয়স ছিল ৩২ ছুঁইছুঁই। অনেক প্রতীক্ষার সেই অভিষেক রাঙিয়েছিলেন দারুণভাবে। গত মার্চে ওয়ানডে অভিষেকে করেছিলেন সেঞ্চুরি। সেই আবিদ আলি এবার টেস্ট অভিষেকেও করলেন সেঞ্চুরি। গড়লেন এমন এক কীর্তি, ক্রিকেট ইতিহাসে যা করতে পারেননি আর কেউ! ১০৫ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পর টেস্ট অভিষেক হয়েছে আবিদের। সেই টেস্টেও ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন পঞ্চম দিনে এসে। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষেই এসেছে অনির্বচনীয় স্বাদ। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুটি সংস্করণে অভিষেকে সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের পঞ্চম দিনে রোববার এই কীর্তি গড়েন আবিদ। দিনের শেষ সেশনের শুরুর দিকে পেসার বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে দুই রান নিয়ে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ৩২ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার নাম খোদাই হয়ে যায় ইতিহাসে। গত মার্চে দুবাইয়ে অভিষেক ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন আবিদ। একদিনের ক্রিকেটে অভিষেকে সেঞ্চুরি আছে আবিদসহ ১৫ জনের। টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরির স্বাদ আবিদকে দিয়ে পেলেন ১০৬ জন। কেবল আবিদের নামই আছে দুটি তালিকায়। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে সেঞ্চুরি আছে তিন জনের। তাদের কারও দেশ টেস্ট খেলার ধারেকাছে নেই। তিনজনের দুইজন টি-টোয়েন্টি ছাড়া অন্য কোনো সংস্করণ খেলেননি। একজন ওয়ানডে খেললেও করতে পারেননি সেঞ্চুরি।

দুটি সংস্করণে সেঞ্চুরির সবচেয়ে কাছে আগে যে দুইজন গিয়েছিলেন, তাদের কেউই সেঞ্চুরি করতে পারেননি একটিতেও। প্রথম জন নিউ জিল্যান্ডের স্টিভেন ফ্লেমিং। ১৯৯৪ সালে টেস্ট অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে ৯২ রানে আউট হওয়ার তিন দিন পর ওয়ানডে অভিষেকে আউট হয়েছিলেন ৯০ রানে। আরেকজন রিকি পন্টিং। ১৯৯৫ সালে টেস্ট অভিষেকে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এলবিডবি¬উ হয়েছিলেন ৯৬ রানে। ২০০৫ সালে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে অপরাজিত ছিলেন ৯৮ রানে।

 

ধনাঞ্জয়ার ৫ দিনে সেঞ্চুরি, আবিদের ইতিহাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন দিন শেষে। বৃষ্টি পরের তিন দিনেও শেষ হতে দিল না শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস। একটু একটু করে এগিয়ে টিকে রইলেন ধনাঞ্জয়াও। অবশেষে শেষ দিনে দেখা গেল সূর্যের হাসি, ধনাঞ্জয়ার ব্যাটেও মিলল সেঞ্চুরির হাসি। বৃষ্টিবিঘিœত টেস্টের শেষ দিনটি এরপর ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরিতে রাঙালেন পাকিস্তানের আবিদ আলি। ম্যাচের সম্ভাব্য ফল নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। প্রথম চার দিনেও যে ম্যাচে শেষ হয়নি এক ইনিংস, সে টেস্টে ড্র ছাড়া আর কিছুর সুযোগ নেই। বৃষ্টির কাছে অসহায় কয়েকটি দিন শেষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের শেষ দিনে খেলা হলো মোটামুটি। ধনাঞ্জয়ার সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩০৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান ২ উইকেটে ২৫২ রান তোলার পর ম্যাচ ড্র। ১০ বছর পর পাকিস্তানে টেস্ট ক্রিকেট ফেরার ম্যাচটিতে শেষ দিনে কিছুটা বিনোদন পেলেন দর্শকরা। অভিষেকে সেঞ্চুরিতে আবিদ আলি গড়লেন অনন্য কীর্তি। ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই সংস্করণে সেঞ্চুরি। গত মার্চে ওয়ানডে অভিষেকেও তার ব্যাট থেকে সেঞ্চুরি এসেছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। দেশের মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট স্মরণীয় করে রেখেছেন বাবর আজমও। পাকিস্তান ক্রিকেটের সময়ের সেরা বিজ্ঞাপন সেঞ্চুরি করেছেন ওয়ানডের গতিতে। ম্যাচের প্রথম দিনে খেলা হয়েছিল ৬৮ ওভার। পরের দুই দিন মিলিয়ে হয় ২৩.৪ ওভার। চতুর্থ দিনে খেলাই হয়নি। পঞ্চম দিনে সকাল থেকে ছিল রোদ। শ্রীলঙ্কা দিন শুরু করেছিল ৬ উইকেটে ২৮২ রানে। ধনাঞ্জয়ার সেঞ্চুরির পরপরই তারা ঘোষণা করে দেয় ইনিংস। টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে ১৬৬ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন ধনাঞ্জয়া। পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে ধাক্কা খায় শুরুতেই। ওপেনার শান মাসুদ ফেরেন শূন্য রানে। আরেক ওপেনার আবিদ জুটি গড়ে তোলেন আজহার আলির সঙ্গে। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন যোগ করেন ৮৭ রান। অধিনায়ক আজহার আউট হন ৩৬ রানে। এরপর আবিদ ও বাবরের দারুণ জুটি। আবিদের ইতিহাস গড়া মুহূর্তটি আসে চা বিরতির পর। ১৮৩ বলে স্পর্শ করেন তিন অঙ্ক। ১০৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার পর টেস্ট অভিষেক তার। সুদীর্ঘ সেই প্রতীক্ষার অবসান হলো ৩২ বছর বয়সে অবিস্মরণীয় সাফল্য দিয়ে। বাবর তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়ে যান একটু পরই। স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান ১১৮ বলে স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি। দুজনই ছিলেন অপরাজিত। আলেকস্বল্পতা ম্যাচের ইতি টেনে দেয় নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই। সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৯৭ ওভারে ৩০৮/৬ (ডি.) (করুনারতেœ ৫৯, ওশাদা ৪০, কুসল ১০, ম্যাথিউস ৩১, চান্দিমাল ২, ধনাঞ্জয়া ১০২*, ডিকভেলা ৩৩, দিলরুয়ান ১৬*; আব্বাস ২৭-৯-৭২-১, শাহিন শাহ ২২-৭-৫৮-২, উসমান ১৫-৪-৫৪-১, নাসিম ২৭-৫-৯২-২, হারিস ৩-০-১২-০, মাসুদ ১-১-০-০, শফিক ২-০-৮-০)। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৭০ ওভারে ২৫২/২ (মাসুদ ০, আবিদ ১০৯*, আজহার ৩৬, বাবর ১০২*; রাজিথা ৬-২-৫-১, বিশ্ব ১৩-১-৪৯-০,  কুমারা ১৪-৪-৪৬-১, দিলরুয়ান ২৪-০-৮৫-০, ধনাঞ্জয়া ১১-০-৪৮-০, ওশাদা ১-০-৩-০, কুসল ১-০-১৪-০)।

ফল: ম্যাচ ড্র। সিরিজ: ২ ম্যাচ সিরিজে ০-০ সমতা। ম্যান অব দা ম্যাচ: আবিদ আলি।

নাচের জন্য অভিনয়ও ছেড়ে দিতে পারি – শ্রদ্ধা কাপুর

বিনোদন বাজার ॥ শ্রদ্ধা কাপুর এখন বলিউডের হিট নায়িকাদের একজন। বাবা শক্তি কাপুর হলেও নিজের ক্যারিয়ারের অবস্থানটা নিজেই তৈরি করেছেন শ্রদ্ধা। শুরুটা বড় পরিসরে না হলেও বক্স অফিসে কয়েকশ’ কোটি টাকার ব্যবসা করা সিনেমা এখন তার ঝুলিতে। শেষবার ‘সাহো’ সিনেমায় অভিনয় দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। এরপর নিজেকে আবারো নতুন করে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন শ্রদ্ধা। তার পরবর্তী সিনেমা ‘স্ট্রিট ড্যান্সার থ্রিডি’। বৃহস্পতিবার এ সিনেমার ফার্স্টলুক প্রকাশিত হয়েছে। পোস্টারে দেখা যায়, ঝলমলে ব্যাকগ্রাউন্টে কালো রঙের শর্টসের সঙ্গে টপস পরেছেন শ্রদ্ধা। এই সিনেমায় শ্রদ্ধা বিপরীতে রয়েছেন বরুণ ধাওয়ান। তিনি টুইটারে পোস্টারটি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘মেয়েটি হূদয় ভঙ্গকারী।’ শ্রদ্ধা কাপুর সিনেমাটি প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই সিনেমাটি করতে গিয়ে সাইনা নেহওয়ালের বায়োপিকটি করতে পারিনি। স্ট্রিট ড্যান্সার থ্রিডি সিনেমাটি করতে চেয়েছিলাম। কারণ নাচ আমি খুব পছন্দ করি। এমন হতে পারে নাচের জন্য অভিনয়ও ছেড়ে দিতে পারি। তবে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। কারণ আমি খুব ভালো ড্যান্স করতে পারি না। তাই এই রিস্কটা হয়তো নেবো না!’ উল্লেখ্য, ‘স্ট্রিট ড্যান্সার থ্রিডি’ সিনেমাটি পরিচালনা করছেন রেমো ডি’সুজা। আগামী ২৪ জানুয়ারি সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা আছে।

 

নীল রঙা মুকুটে জ্যামাইকান সুন্দরী

বিনোদন বাজার ॥ মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৯ প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছেন টনি অ্যান সিং নামে এক জ্যামাইকান সুন্দরী। লন্ডনের এক্সেল অ্যারেনায় অনুষ্ঠানে টনি অ্যান সিংয়ের মাথায় নীল রঙা মুকুটটি পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড মেক্সিকোর ভ্যানেসা পন্সে। প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হন ফ্রান্সের অফেহলি মেজিনো। আর দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন ভারতের রাজস্থানের মেয়ে সুমন রায়।

গত ১৪ ডিসেম্বর প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালেতে তার নাম ঘোষণা করেন মিস ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া মোরলি।শীর্ষ পাঁচ প্রতিযোগী প্রতিযোগিতার শেষ পর্ব; প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। ব্রিটিশ ব্রডকাস্টার পাইরেস মরগান এ প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক ছিলেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনিই ফাইনালিস্টদের প্রশ্ন করেন। ‘মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৯’ এ প্রতিযোগিতার ৬৯তম সংস্করণ। ১২০ দেশের প্রতিযোগী এই মুকুটের জন্য লড়াই করেছেন। নভেম্বরের ২০ তারিখে লন্ডনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। নানা রকমের টাস্ক সম্পন্ন করার পর ১০ জনকে ফাইনালের জন্য মনোনীত করা হয়।

উঠতি নায়কে আগ্রহ ক্যাটরিনার

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড সেনসেশন ক্যাটরিনা কাইফের পছন্দের তারিফ করতেই হয়। ক্যারিয়ারে যে কয়জন নায়ককে বেছে নিয়েছেন সফল হয়েছেন। ক্যারিয়ার চাঙ্গা রাখতে তিনি চাতুরির সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তবে ক্যাটরিনার উত্থান শীর্ষ নায়কদের সঙ্গে অভিনয় করেই। বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ও অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ক্যাটরিনার জুটি তাকে নিয়ে গেছে খ্যাতির শীর্ষে। তবে ক্যাটরিনা অন্যদের মতো নির্দিষ্ট নায়কের গ-িতেই আটকে থাকেননি। সালমানের সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করেও ক্যারিয়ারের তাগিদে বেছে নিয়েছেন অন্য নায়ক। অক্ষয়ের বৃত্তও তিনি ভেঙেছেন টিকে থাকার প্রয়োজনে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিউডে ক্যাটরিনার প্রায় যুগ পেরিয়েছে। এরই মধ্যে তিনি কিছু বক্স কাঁপানো ছবি করেছেন। তবে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখতে তিনি প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় অল্প বয়সী নায়কদের পাশে দেখা যাচ্ছে তাকে। ক্যাটরিনার পাশে এরই মধ্যে পর্দায় হাজির হয়েছেন বলিউড তারকা রণবীর কাপুর, সিদ্ধার্থ মালহোত্রার মতো তরুণ অভিনেতারা। এমনকি এ তালিকায় সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন আদিত্য রায় কাপুরের মতো নবাগতও। এখানেই থেমে থাকেননি ক্যাট। পরের প্রজন্মের নায়কদেরও দেখা যাবে ক্যাটরিনার সঙ্গে অভিনয় করতে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্মাতা ফারহান আখতার ও রিতেশ সিদ্ধানির এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে ক্যাটরিনার অভিনয় করার কথা রয়েছে। আর এতে তার সঙ্গে থাকবেন অভিনেতা ঈশান খট্টর ও সিদ্ধান্ত চতুর্বেদি।

নুসরাতের নাচের ভিডিও ভাইরাল

বিনোদন বাজার ॥ কলকাতার জনপ্রিয় তারকা নুসরাত জাহানের একটি নাচ সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। জনপ্রিয় হিন্দি গানÑ ‘ইয়াদ পিয়া কি আনে লাগে’র সঙ্গে জমিয়ে নাচলেন অভিনেত্রী? সম্প্রতি নুসরাতের একটি ফ্যান ক্লাবের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে অভিনেত্রীর একটি নাচের ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কালো জিন্স ও কালো রঙের ক্রপ টপ পড়ে নাচছেন এ অভিনেত্রী। মেকআপ ছাড়াই অভিনেত্রী-সাংসদ নুসরাতকে অন্য রকম লাগছিল।দেখে বোঝার উপায় নেই কিছু দিন আগেই অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাকে। নুসরাত ভক্তরা সেই নাচের ভিডিও দেখে প্রশংসায় ফেটে পড়েছেন।কেউ লিখেছেন, আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছ। আবার কেউ কমেন্ট করেছেন, এই ভাবে বুকে ঝড় তোলার অধিকার তোমার নেই নুসরাত!নাচতে বেশ ভালোই বাসেন অভিনেত্রী। মাঝেমধ্যেই টিকটকে শেয়ার করেন নাচের ভিডিও।গত মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল নুসরাতকে। একসঙ্গে অনেক ওষুধ খেয়ে নেয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বসিরহাটের সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরাত। সম্ভবত ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। ফুলবাগান থানায় তার ‘ড্রাগ ওভারডোজ’ নিয়ে রিপোর্টও করেছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

সঙ্গীতশিল্পী পৃথ্বীরাজ আর নেই

বিনোদন বাজার ॥ তরুণ সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক পৃথ্বীরাজ আর নেই। গতকাল রোববার ভোর বেলায় হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পৃথিবীকে বিদায় জানান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছোটভাই ঋতুরাজ। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বেশকিছু দিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন তিনি। তারপরও গত শনিবার রাতে পৃথ্বীরাজ তার ধানমন্ডির স্টুডিওতে যান। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মুঠোফোনে পাচ্ছিলেন না। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। সবশেষে দরজা ভেঙে স্টুডিওর ভেতর নিথর অবস্থায় দেখতে পান তাকে। সেখান থেকে দ্রুত রাজধানীর সিটি হসপিটালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৫ ডিসেম্বর) ভোররাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পৃথ্বীরাজের ছোটভাই ঋতুরাজ জানান, রোববার জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। রিয়েলিটি শো ক্লোজআপ ওয়ানের মাধ্যমে পরিচিতি পান পৃথ্বীরাজ। ২০১১ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘ডট’ প্রকাশিত হয়। বর্তমানে তিনি এবিসি রেডিওর প্রডাকশন ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

‘কাঁটাতারের বেড়া’য় মূল নায়িকা শাবনুর

বিনোদন বাজার ॥ নায়িকা শাবনুর। ঢালিউডে সফল পদচারনা তার। অভিনয় নৈপুণ্যে জয় করে নিয়েছেন অগনিত ভক্তদের হৃদয়। দীর্ঘদিন দখল করে রেখেছিলেন অভিনয় জগতে নায়িকা চরিত্র। তাকে ঢালিউডের সম্রাজ্ঞী নামেও অভিহিত করা হয়।বিয়ে, বয়স ও দৈহিক ফিটনেসের কারণে অনেক দিন ছবি থেকে দূরে ছিলেন এই নায়িকা। বিয়ের পর অস্ট্রেলিয়ায় পারি জমান এই নায়িকা। কিন্তু সম্প্রতি ‘কাঁটাতারের বেড়া’ নামের একটি ছবিতে মূল নায়িকা চরিত্রে ফিরছেন বলে জানা গেছে। তবে তার বিপরীতে নায়কের ভূমিকায় কাকে নেয়া হবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এক্ষেত্রে দর্শকদের জন্য চমক রয়েছে লে জানান ‘কাঁটাতারের বেড়া’র পরিচালক।ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য শাবনুর অস্ট্রেলিয়ান নিউট্রেশিয়ান ও জিমে নিজেতে ইতোমধ্যে তৈরি করেও নিয়েছেন। চলচ্চিত্রটিতে শাবনূরকে নতুন গ্ল্যামারাস হিসেবে ভক্তরা পাবে বলে জানায় জাজ মাল্টিমিডিয়া। শাবনূর পুরোপুরি তৈরি হলেই এই ছবির শুটিং শুরু হবে বলেও জানানো হয়।

এবার অনন্য মামুনের সিনেমার জুটি রোশান-পূজা

বিনোদন বাজার ॥ তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা অনন্য মামুন হাজির হচ্ছেন নতুন সিনেমা নিয়ে। এর নাম ঠিক করা হয়েছে ‘সাইকো’। এখানে জুটি বাঁধছেন তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় নায়ক জিয়াউল রোশান ও ‘পোড়ামন ২’ ছবি খ্যাত নায়িকা পূজা চেরি।অনন্য মামুন গতকাল রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি রোশান-পূজা ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তারা এ ছবির জন্য ফটোশুটেও অংশ নিয়েছেন।ছবিটি প্রসঙ্গে নির্মাতা মামুন বলেন, ‘সিনেমার গল্প নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। এখানে তারুণ্য, ভিন্ন ভাবনায় প্রেমের উপস্থাপন ও কিছু বার্তা থাকবে।’তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে রোশানকে নিয়ে আমি কাজ করেছি। ‘মেকআপ’ ছবিতে তার অভিনয় মুগ্ধ করেছে। আবারও আমরা এক হয়েছি নতুন সিনেমার জন্য। এবার আমাদের টিমে নায়িকা হিসেবে যুক্ত হলেন পূজা। প্রত্যাশা করি দর্শককে একটি ভালো মানের চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারবো আমরা।’অনন্য মামুন জানান, আসছে বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। ছবিটিতে রোশান-পূজার পাশাপাশি অভিনেতা তাসকিন রহমানকেও দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।‘সাইকো’ সিনেমাটি প্রযোজনা করছে আরবিএস এন্টারটেইনমেন্ট ও সেলিব্রেটি প্রোডাকশন।

কৈ মাছের কৃত্রিম প্রজননের কৌশল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কৈ মাছের কৃত্রিম প্রজননের জন্য এমন একটি কৌশলের কথা উল্লেখ করছি যেখানে কৈ মাছের প্রজননের জন্য কোন ওভারহেড ট্যাংক এর প্রয়োজন পড়বে না বা কোন হাউজ বা সিস্টার্নেও প্রয়োজন পড়বে না। শুধুমাত্র একটি হাপা হলেই এই মাছের প্রজনন করা সম্ভব। চাহিদামত বা ইচ্ছানুযায়ী লক্ষ লক্ষ রেনু এবং পোনা উৎপাদন করা যাবে। যার ফলে একজন মৎস্যচাষী অন্ততপক্ষে  পোনা  কেনা থেকে অনেক টাকা বাচাতে পারবেন।

পুকুর প্রস্তুতকরণ ঃ যে পুকুরে কৈ মাছকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হবে  সেই পুকুরটিকে প্রথমেই ভালভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। পুকুরের ভেতরের চারপাশের যাবতীয় ঘাস বা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। তারপর পুকুরের চারপাশ দিয়ে ভালভাবে জাল দিয়ে বেড়া দিতে হবে যাতে বাইরে থেকে কোন ব্যাঙ বা সাপ পুকুরের ভেতর না ঢুকতে পারে। তারপর যেদিন কৈ মাছকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হবে ঠিক সেদিনই পুকুরে পানি ঢুকাতে হবে। অন্যথায় পুকুরে পানি  তোলার পর ২/৩ দিন দেরি হয়ে গেলে ওই পানিতে প্রাণী প্লাংটন জন্মাবে। যার কারণে কাঙ্খিত পরিমাণে পোনা উৎপাদন সম্ভব হবে না। অর্থাৎ প্রাণী প্লাংটনে কৈ মাছের রেনু  ছোট হওয়ার কারণে রেনুগুলোকে সহজেই নষ্ট করতে পারে।

হাপা সেটিং ও প্রজনন কৌশল ঃ পানি উচ্চতা ২ ফুট হলে ওই দিনই পুকুরে হাপা  সেট করতে হবে। পুকুরে হাপা সেটিং করার পর বিকেলের দিকে অর্থাৎ তিনটা চারটার দিকে হাপা পুকুরে স্থাপন করে কৈ মাছগুলোকে ইঞ্জেকশনের জন্য বড় পাতিল করে পুকুরের কাছে আনতে হবে। এরপর পুকুরে স্থাপিত হাপায় মাছগুলোকে ইঞ্জেকশন করে হাপায় ভরতে হবে।

ইঞ্জেকশন প্রয়োগ পদ্ধতি ঃ প্রতি কেজি স্ত্রী কৈ মাছকে ৭/৮ মি:গ্রা: পিজি দিয়ে ইঞ্জেকশন করতে হবে। প্রথমে ১ মি:লি: এর একটি ইনসুলিন সিরিঞ্জ নিতে হবে যে সিরিঞ্জে ৫০টি দাগ থাকতে হবে। বাজারে ১০০ দাগ সম্পন্ন পর্যন্ত ইনসুলিন সিরিঞ্জ পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ৫০ দাগ মাত্রার সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত কৈ মাছের ক্ষেত্রে ১ কেজি মাছের জন্য ০.৫ মি: লি: পানি ব্যবহার করা যায়। সেক্ষেত্রে প্রথমে ১ কেজি মাছের জন্য ৮ মি: গ্রা: পিজি একটি কাচের বাটিতে ভালভাবে পিষিয়ে তারপর ধীরে ধীরে ওই ১ মি:লি: পানি মেশাতে হবে। এভাবে ১ কেজি স্ত্রী  কৈ মাছের ইঞ্জেকশনের জন্য দ্রবণ প্রস্তুত হয়ে গেল। আমরা আগেই উল্লেখ করেছি  যে সিরিঞ্জে দাগ থাকবে ৫০টি। তা হলে প্রতিটি দাগের জন্য আমরা ২০ গ্রাম ওজনের মাছকে ইঞ্জেকশন করতে পারবো। যদি কোন মাছের ওজন ১০০ গ্রাম হয় তাহলে ৫ দাগ ওষুধ মিশ্রিত দ্রবণ ব্যবহার করতে হবে। এই হিসেবে সবগুলো স্ত্রী মাছকে ইঞ্জেকশন করে তারপর পুরুষ মাছকে ইঞ্জেকশন করতে হবে। ইঞ্জেকশন করে তারপর পুরুষ মাছকে ইঞ্জেকশন করতে হবে। পুরুষ মাছের ক্ষেত্রে ১ কেজি মাছের জন্য মাত্র ৫ মি: গ্রা: পিজি মিশিয়ে উপরোউল্লেখিতভাবে প্রয়োগ করে সবগুলো স্ত্রী এবং পুরুষ মাছকে একসাথে হাপায় ভরতে হবে।

এই পদ্ধতিতে রেনু উৎপাদনের জন্য থাই জাল (পলিথিন জাতীয়) দিয়ে একটি হাপা  তৈরি করতে হবে। হাপার মাফ হবে দৈর্ঘ্যে দেড় মিটার প্রস্থে ছয় মিটার। হাপাটি সব দিক থেকেই একই নেট দিয়ে আবদ্ধ থাকতে হবে। আর তা না হলে প্রজননের সময় মাছ বেরিয়ে যেতে পারে। প্রথমে এই হাপাটি তৈরি করার পর পুকুরে ১.৫/২ ফুট পানিতে করতে হবে। যাতে হাপাতে কমপক্ষে ১ ফুট পানি থাকে। হাপার উপরের অংশের এক কোণায় সামান্য খোলা রেখে মাছগুলোকে পি.জি. হরমোন দিয়ে ইঞ্জেকশন করার পর হাপার এক কোণার খোলা অংশ দিয়ে হাপাতে মাছগুলোকে  ছেড়ে দিতে হবে। সাধারণত বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে মাছগুলোকে ইঞ্জেকশন দিয়ে হাপাতে ছাড়তে হবে। অর্থাৎ ৭/৮ঘন্টা পর অর্থাৎ গভীর রাতে মাছগুলো যাতে ডিম পাড়ার সময় হয়। এরপর সন্ধ্যার পর  থেকে পুকুরের পাশে যে কোন শ্যালো দিয়ে ওই হাপার আশপাশ দিয়ে পানির প্রবাহ দিতে হবে। এভাবে ৫/৬ ঘন্টা পানি দিলেই ওই হাপাতে কৈ মাছ ডিম পারবে। কৈ মাছের ডিমগুলো ভাসমান বিধায় ওই ডিমগুলো হাপার জালের ফাঁক দিয়ে অনায়াসে পুকুরে চলে যাবে। সকালের দিকে ডিমপাড়া শেষ হলে কৈ মাছসহ হাপাটিকে পানি থেকে উঠিয়ে ফেলতে হবে। পুকুরে শুধুমাত্র ভাসমান অবস্থায় ডিমগুলো থেকে যাবে। ডিম দেওয়ার ২০ ঘন্টার মধ্যে ডিম  থেকে বাচ্চা বের হবে। বাচ্চা বের হওয়ার ৭২ ঘন্টা পর থেকে ডিম সিদ্ধ করে গ্লাস নাইলন কাপড় দিয়ে ছেঁকে রেনু পোনাকে খাবার দিতে হবে দিনে অন্তত ৩ বার। এবাবে ১ সপ্তাহ ডিমের কুসুম খাওয়ানোর পর নার্সারি ফিড দিতে হবে আরও ১৫ দিন।  রেনু ফোটা থেকে ২২ দিনের মধ্যে পোনা তৈরি হয়ে যাবে। এভাবে পুকুরে হাপাতে কৈ মাছের ব্র“ড মাছকে ইঞ্জেকশন দিয়ে অনায়াসে ইচ্ছানুযায়ী রেনু এবং  পোনা উৎপাদন করা সম্ভব।

কৌতিনিয়োর হ্যাটট্রিকে জয়ে ফিরল বায়ার্ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মৌসুমের শুরুতে বার্সেলোনা থেকে ধারে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়া ফিলিপে কৌতিনিয়ো নতুন ঠিকানায় প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা রবের্ত লেভানদোভস্কি করলেন জোড়া গোল। বুন্ডেসলিগায় টানা দুই হারের ধাক্কা কাটিয়ে জয়ের পথে ফিরল বায়ার্ন মিউনিখ। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শনিবার ভার্ডার ব্রেমেনকে ৬-১ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন। হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি দুই সতীর্থের গোলেও অবদান রাখেন কৌতিনিয়ো। টানা সাতবারের চ্যাম্পিয়নদের আরেক গোলদাতা টমাস মুলার। গত ৩০ নভেম্বর বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারের পর গত সপ্তাহে বরুশিয়া মনশেনগ-ডবাখের মাঠে একই ব্যবধানে হেরেছিল বায়ার্ন। ব্রেমেনের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকে পিছিয়ে পড়ে বায়ার্ন। ২৪তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোলটি করেন কসোভোর মিডফিল্ডার মিলোত রাসিচা। ৪৫তম মিনিটে সের্গে জিনাব্রির বাড়ানো বল অনাযাসে লক্ষ্যে পাঠিয়ে সমতা টানেন কৌতিনিয়ো। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বায়ার্নকে এগিয়ে নেন দলটির সর্বোচ্চ গোলদাতা লেভানদোভস্কি। দ্বিতীয়ার্ধে ১৫ মিনিটের মধ্যে চারবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠায় বায়ার্ন।

৬৩তম মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে থেকে ব্যবধান বাড়ান কৌতিনিয়ো। আট মিনিট পর সতীর্থের বাড়ানো বল ফ্লিকে জালে পাঠান লেভানদোভস্কি। আসরে পোলিশ এই ফরোয়ার্ডের এটি অষ্টাদশ গোল। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে এই নিয়ে ২৩ ম্যাচে ২৯ গোল করলেন লেভানদোভস্কি। তিন মিনিট পর ছোট ডি-বক্সের মধ্যে থেকে ভলিতে স্কোরলাইন ৫-১ করেন জার্মান ফরোয়ার্ড মুলার। আর ৭৮তম মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে বাঁকানো শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন কৌতিনিয়ো। বুন্ডেসলিগায় ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের মোট গোল হলো ছয়টি। ১৫ ম্যাচে আট জয় ও তিন ড্রয়ে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তিন ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠেছে বায়ার্ন। ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে তিন নম্বরে আছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড।