মাইকিং করে টাকা ফেরত!

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিলেন আলমগীর মন্ডল নামের এক যুবক। টাকার প্রকৃত মালিক খুঁজতে রোববার দিনভর করেন মাইকিং। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পৌর বাসস্ট্যান্ড বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। আলমগীর মন্ডল মিরপুর উপজেলার  পৌর বাজারের হাজী ফার্মেসির মালিক। আলমগীর মন্ডল জানান, শনিবার মিরপুর উপজেলার পৌর বাসস্ট্যান্ড বাজারের রাস্তায় ভাঁজ করা অবস্থায় সাত হাজার কুড়িয়ে পায়। পরে টাকাগুলোর প্রকৃত মালিক খুঁজতে থাকি। অনেক খোঁজাখুজি করেও টাকার মালিক না পেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় মসজিদের মাইকে বলায়। পরে রোববার দিনব্যাপি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করি। পরে রোববার সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া এলাকার রইচ উদ্দিন নামের এক ব্যাক্তি টাকার মালিক বলে দাবী করেন। পরে তিনি সঠিক তথ্য ও উপযুক্ত প্রমান দেন। তার কাছে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দিয়েছি। রইচ উদ্দিন জানান, এলাকায় কাজ না থাকায় বেশ কয়েকদিন আগে ফরিদপুরে যায় শ্রমিকের কাজ করতে। শনিবার কাজ করে ফেরার পথে টাকাগুলো পড়ে যায়। আজকে মাইকিং এ টাকার খবর শুনে আসি। এসে আমি আমার টাকা ফেরত পেয়েছি। এ যুগে এমন মানুষ বিরল

ঝিনাইদহে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক বিতরণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক হস্তান্তর করলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু। রবিবার সন্ধ্যায় হরিণাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য সাজেদা খাতুনকে অসুস্থতা জনিত কারনে ৫০হাজার টাকা এবং ঝিনাইদহ পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা মৃত তরিকুল ইসলামের মায়ের নিকট ৫০হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ৮নং চাঁদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান মালিতা, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক নুরে আলম বিপ্লব, সাবেক যুবলীগ নেতা ফজল মাহমুদ পাভেল, রিপন আহমেদ, জেলা বাস্তহারা লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সংগ্রাম, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা রাসেল, মাসুম ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আদালত খারিজ করে দেয়ার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলের পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল রোববার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে বাড্ডার সুবাস্তু নজরভ্যালী টাওয়ারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মিছিলটি ফুজি টাওয়ারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পুলিশ মিছিলে ধাওয়া দিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ভয়াবহ অসুস্থ বেগম জিয়াকে জেলে রেখে হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। একারণে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই । এই মিডনাইট সরকারের পতন ঘটাতে না পারলে নেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।’ রিজভী ‘নারকীয় কায়দায়’ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও প্রবীণ সম্পাদককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আজকে দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। গণমাধ্যমের মতপ্রকাশ ও মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। কারো সাথে কারো মতের মিল না থাকতে পারে। রাজনীতিতে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে এটা স্বাভাবিক। তাই বলে দৈনিক সংগ্রামের মতো প্রাচীন পত্রিকার কার্যালয়ে ঢুকে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও সম্পাদককে টেনে হিচড়ে বের করে আনার চরম ফ্যাসিবাদী শাসনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার অভিযোগ করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭০ সালে মেজর পদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন কেএম সফিউল্লাহ৷ ১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান কেএম সফিউল্লাহকে ডেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে বলেন। তখন দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধান অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন এমএজি ওসমানী। সফিউল্লাহর পদবী তখন লে. কর্নেল ছিলো (যুদ্ধের সময় পদোন্নতিপ্রাপ্ত), তিনি সেনাপ্রধান হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে হয় এবং তাকে পূর্ণ কর্নেল পদে উন্নীত করা হয়। অথচ জিয়াউর রহমান ছিলেন সে সময়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি ব্রিগেডিয়ার এবং একই বছরের ১০ অক্টোবর তিনি মেজর জেনারেল পদবী লাভ করেন, তার সঙ্গে জিয়াউর রহমানও পদোন্নতি পেয়ে উপ সেনাপ্রধান হয়েছিলেন। যারা সরকারি চাকরি করেন তারা তো পদোন্নতি পাবেন এটা স্বাভাবিক। সেটা যখন যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন। সুতরাং শহীদ জিয়া কারও বদান্যতায় সেনাবাহিনীর প্রধান হননি। তিনি নিজের যোগ্যতা বলেই সেনাবাহিনীর প্রধান হয়েছিলেন।’ রিজভী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সফিউল্লাহ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। সেসময়ই তো শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ১৬ বছর কেএম সফিউল্লাহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। এরমধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইডেন আর ইংল্যান্ড। ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন। কই, প্রধানমন্ত্রী তো সে বিষয়ে কিছু বলেননি! জনগণের মাঝে শহীদ জিয়ার জনপ্রিয়তা অত্যন্ত উঁচুমানের। তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কোনও লাভ হবে না।’ রিজভী বলেন, ‘সেসময় শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারে হত্যাকান্ডের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই বহু নেতা তাদের আত্মতৃপ্তির কথা বলেছিলেন। তাদেরই একজন আব্দুল মালেক উকিল লন্ডনে থাকাবস্থায় বলেছিলেন যে, “ফেরাউনের পতন হোক”। এমনকি খন্দকার মোশতাকের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচটি ইমাম। আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম সিনিয়র উপদেষ্টা। কই, প্রধানমন্ত্রী তো সে বিষয়ে কিছু বলেননি। অথচ পরবর্তীতে মালেক উকিলসহ মুজিব হত্যাকান্ডের সমর্থনকারী বহু নেতাই তো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ‘মুজিব হত্যার সমর্থনকারী বহু নেতাই আপনার নেতৃত্বে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত না হয়ে আজকে আপনি নিজের ঘরের দিকে তাকান। আমি বলবো, আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন আর ভাবুন যে, কারা খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন? মিছিলে অন্যদের মধ্যে মহানগর উত্তর বিএনপির আহসানুল্লাহ হাসান, এজিএম শামসুল হক, এবিএম আবদুর রাজ্জাক, তাজুল ইসলাম, আব্দুল কাদের বাবু, নুরুল ইসলাম কাজী, তুহিন, সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, হারুনুর রশিদ সহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

বিজয় দিবস উপলক্ষে আলমডাঙ্গায় উপজেলা ও পৌর যুবলীগের জরুরী সভা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর যুবলীগের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও সম্প্রতি গঠিত উপজেলা এবং পৌর যুবলীগের কমিটি অবৈধ দাবী করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস যুবলীগের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়াও সভায় যুবলীগ নেতৃবৃন্দ দাবী করে বলেন, সম্প্রতি তারা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর যুবলীগের নব গঠিত কমিটির পরিচিতি সভা হয়েছে। যুবলীগ নেতৃবৃন্দ দাবী করেন কেন্দ্র কমিটি কর্তৃক সারা দেশের যুবলীগের কমিটি গঠন বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক ও অবৈধভাবে কাউকে কিছু না জানিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর যুবলীগের কমিটি গঠিত হয়েছে। যা যুবলীগ নেতা কর্মিরা মেনে নিতে পারে না। আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর যুবলীগের পূর্বের কমিটি বহাল রয়েছে উল্লেখ করে সকল নেতা কর্মিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে জেলার অভিভাবক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানানো হয়।  আলমডাঙ্গা পৌর যুবলীগের সভাপতি আব্দুল গাফ্ফারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আহসান উল্লাহ। উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শাহিন রেজার উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম স্বপন, জেলা যুবলীগের সদস্য পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, যুবলীগ নেতা সাইফুর রহমান পিন্টু,রাজাবুল হক মনা, আব্দুল লতিফ, এরশাদ আলী, লাল্টু, বাপ্প্ িরহমান, জিনারুল ইসলাম, সুমন খান, রেজাউল ইসলাম, নেকবার হোসেন, সাজু আহম্মেদ, বিল্লাল হোসেন, রাজু আহম্মেদ, পলাশ আচার্য্য, ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শুভ, সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ১নং ওয়ার্ড সভাপতি তুহিন মোল্লা, সম্পাদক রাজ কুমার, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি মনিরুল ইসলাম সম্পাদক শিবলী, মিকাইল, সেরেগুল প্রমুখ।

বিএনপির ‘এক দফা’ ফাঁকা আওয়াজ – নাসিম

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সভপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপির ‘এক দফা’ রফা হয়ে গেছে। এটা তাদের ফাঁকা আওয়াজ। অবশ্য কোনও দফা কিংবা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে লাভ হবে না। তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আইনের পথে থাকতে হবে। কারণ দেশের জনগণ নৈরাজ্য সমর্থন করে না। গতকাল রোববার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত অভ্যর্থনা উপ-কমিটির সঙ্গে মঞ্চ ও সাজসজ্জা, স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা এবং খাদ্য উপ-কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভয়মুক্ত বাংলাদেশ, ভয়মুক্ত বাঙালি, ভয়মুক্ত শেখ হাসিনা। কোনো চক্রান্ত ও কোনো অপশক্তি শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রা রোধ করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। একটি অসাম্প্রদায়িক সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে এই যাত্রা চলতেই থাকবে। গণতন্ত্র প্রশ্নে আওয়ামী লীগ আপোষহীন, যেকোনো সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একটি সুখি-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে আওয়ামী লীগের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকায় সময়নুযায়ী দলের সম্মেলন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র, স্বনির্ভর অর্থনীতি এবং সন্ত্রাস-জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এবারের সম্মেলনে লক্ষাধিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকের উপস্থিতির মধ্যদিয়ে নতুন করে শপথ নেওয়া হবে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ¬ব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান প্রমুখ।

সীমান্তে বাংলাদেশি ছাড়া কেউ ঢুকলে বিদায় করে দেব – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি ছাড়া অন্য কেউ ঢুকলে তাদের বিদায় করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। সম্প্রতি কথিত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে ভারতের আসামে নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশ এবং কেন্দ্রীয় সংসদে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের পর দেশটি থেকে সীমান্ত দিয়ে অনেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে বলে খবর বেরিয়েছে সংবাদমাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন দেখে ভারত থেকে ফড়িয়া ধরে এদেশে লোক আসছে। যারা আসছে তারা কাজকর্ম পাচ্ছে। ভারতের তুলনায় আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো। ফড়িয়ারাও গরিব মানুষদের বলছে, বাংলাদেশে গেলে তোমাদের না খেয়ে থাকতে হবে না। তবে বাংলাদেশের লোক ছাড়া অন্য কেউ এদেশে ঢুকলে তাদের বিদায় করে দেওয়া হবে। ড. মোমেন বলেন, আমরা ভারতকে বলেছি, আমাদের কোনো অবৈধ লোক তোমাদের দেশে থাকলে স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউরের (যথার্থ প্রক্রিয়ায়) মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠাও। এনআরসি প্রকাশের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশটির কোনো কোনো নেতা বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। আমরা সেসব বক্তব্য আমলে নিচ্ছি না। কারণ, সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের জন্য সংসদে উত্থাপনকালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের নামও উল্লেখ করে বলেন, এসব দেশে সংখ্যালঘুরা (অমুসলিমরা) নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের ভারত আশ্রয় ও নাগরিকত্ব দেবে, সেজন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন করা হয়েছে। অমিত শাহর এ অভিযোগ নাকচ করে দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে অসন্তোষও প্রকাশ পায় ড. মোমেনের বক্তব্যে। পরে তিনি তার নির্ধারিত ভারত সফর বাতিল করেন। ড. মোমেন তার সাম্প্রতিক ভারত সফর বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকারের একটি অলিখিত নিয়ম আছে, মন্ত্রী-সচিব একই সময়ে বিদেশে যাওয়া যাবে না। যদিও সম্প্রতি মন্ত্রী-সচিব একই সাথে বিদেশ সফর করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর গৌরবের মাস। এ মাসে আমার ভারত সফরে যাওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী-সচিব বিদেশে অবস্থান করছেন। সে কারণে সফর বাতিল করা হয়েছে। তবে এজন্য দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না। এদিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সভায় ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এনআরসির বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ভারত আমাদের প্রতিবেশী। ভারতের পার্লামেন্টে যে আইন পাস হয়, সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সে ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভারতের হাইকমিশনারের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে। যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে নেবো। ভারতের সঙ্গে আমাদের বাইলেটারাল রিলেশন (দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক) খুব ভালো। ইতিবাচক সম্পর্ক আছে। এ সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন সৃষ্টি হোক আমরা তা চাই না। উল্লেখ্য, এনআরসি প্রকাশের পর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষোভ দমনে সংঘাতে জড়াচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিজেপি সরকারের কর্মকান্ডে উদ্বেগের তথ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ড. গ্রেগরি স্ট্যানটন সম্প্রতি এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বলেন, ভারতে গণহত্যার প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন। আসাম এবং কাশ্মীরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন গণহত্যার আগের পর্যায়ে রয়েছে। এর পরের পর্ব হলো নির্মূলকরণ- আমরা যেটাকে গণহত্যা বলে থাকি।

মটরসাইকেলে আগুন

 ফখরুলসহ ২৩ জনের আগাম জামিন

ঢাকা অফিস ॥ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় তিনটি মটরসাইকেল আগুনে পোড়ার ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়ের করা দুই মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৩ নেতাকর্মী আগাম জামিন পেয়েছেন। দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির আগের দিনের ঘটনায় করা এই মামলায় রোববার সকালে তারা আগাম জামিন চাইলে হাই কোর্টের দুটি বেঞ্চ তাদের ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাদের সঙ্গে ছিলেন, সগীর হোসেন লিয়ন, একেএম এহসানুর রহমান ও তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ। আইনজীবী এহসানুর পরে সাংবাদিকদের বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৩ নেতা-কর্মীর ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।” খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির আগের দিন বুধবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট এলাকার কেন্দ্রীয় ঈদগাঁর সামনের ফটকে একটি মটরসাইকেলে আগুন দেয় সন্ত্রাসীরা। এদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন সকালে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে জামিন পান। আর বিকেলে বিচারপতি বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি রিয়াজউদ্দিন খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে জামিন নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, জাতীয় কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও শাহ আবু জাফর, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালা উদ্দিন টুকু, খন্দকার আবু আশফাক ও ইশতিয়াক আজিজ উলফতসহ ২১ জন। দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির আগের দিন গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় তিনটি মটরসাইকেল আগুনে পুড়ে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই ছামসুল রহমান ও এসআই ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে রাতেই দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি মামলায় আসামির সংখ্যা ৭০ জন এবং অন্যটিতে ৬৫ জন।

ইবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন

ইবি কর্তৃপক্ষের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন চলাকালে গতকাল (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী),  প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। অনুষদ ভবনের ৪২৭ নম্বর কক্ষে স্থাপিত ভোটবুথে এসময় তাঁরা নিজ-নিজ ভোট প্রদান করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মিরপুরে প্রতিবন্ধীদের মাঝে গরু বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিনামূল্যে গরু বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সবার সাথে গড়বো প্রতিবন্ধী  সংস্থার উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন’র (বিএনএফ) সহযোগিতায় গতকাল রোববার সকালে তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সবার সাথে গড়বো প্রতিবন্ধী সংস্থার সভাপতি আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন- প্রতিবন্ধীরা সমাজের একটি অবিচ্ছিদ্র অংশ। এ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠিকে ব্যাতিরেকে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই দেশের উন্নয়নকে ত্বরানিত্ব করতে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠিকে উন্নয়নের মূল্যস্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে ৯টি সেলাই মেশিন ও ২শ’ কম্বল প্রদানের প্রতিশ্র“তি দেন। এতে বিশেষ অতিতি ছিলেন তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান মন্ডল, মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থার সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন। কম্পন জেলা প্রতিবন্ধী ফেডারেশনের সভাপতি জেদ আলী’র পরিচালনায় এ সময়ে মিরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক আহায়ক হুমায়ূন কবির হিমু, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দিলরুবা শারমিন, সদস্য হাশেম আলী, ইয়াসিন আলী, লুৎফর রহমান, নুরবানু বেগম, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ শরীফ আহাম্মেদ, আলোর পথিক প্রতিবন্ধী সংস্থার সভাপতি ময়েজ উদ্দিন, সবার সাথে চলবো প্রতিবন্ধী ফেডারেশনের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সবার সাথে গড়বো প্রতিবন্ধী সংস্থার সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, অর্থ-সম্পাদক মেহেরুপা সুলতানা রনি, মহিলা শিশু ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন বয়সের ৭ জন প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষের হাতে সাতটি গরু তুলে দেন।

ঝিনাইদহ সীমান্ত থেকে আরো ৬ জনকে আটক করেছে বিজিবি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর আরো ৬ জনকে আটক করেছে বিজিবি। গতকাল রোববার সকালে উপজেলার সস্তা বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। বিজিবি খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারি পরিচালক নজরুল ইসলাম খান জানান, ভারত থেকে অবৈধভাবে কয়েকজন নারী পুরুষ প্রবেশ করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে অভিযান চালানো হয়। এসময় সস্তা বাজার থেকে ৩ জন পুরুষ, ১ জন নারী ও ২ জন শিশুকে আটক করা হয়। বিজিবি’র জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করে তারা কাজের সন্ধানে অবৈধ ভাবে ভারত গিয়েছিল। আটককৃতদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর নভেম্বর মাসে ২’শ ৬০ জন ও ডিসেম্বর মাসের এ পর্যন্ত ৬১ জনকে আটক করলো বিজিবি।

আ’লীগে অনুপ্রবেশকারী রাজাকারের তালিকা দরকার – আবদুল গাফফার চৌধুরী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশেও অনেক রাজাকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভাষাসৈনিক আবদুল গাফফার চৌধুরী। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সম্প্রীতি, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালির বিজয়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এখনো রাজাকার আছে। অনেক রাজাকার আছে। এমনকি আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনার আশপাশেও আছে। তাদের নাম বললে আমার আর ঢাকায় আসা হবে না। তাই আমি নাম বলতে চাই না। প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামে সংগঠনটির ওই অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, রাজাকারদের তালিকা করলে দেখা যাবে, রাজাকাররাই সেই তালিকা তৈরি করছে। ওই তালিকায় মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার, রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের ভেতরে জামায়াতের লোকও আছে মন্তব্য করে বর্ষীয়ান এ সাংবাদিক আরও বলেন, আওয়ামী লীগে কত রাজাকার আছে। বিপদের সময় এরা ভয়ানকভাবে আসে। রাজাকারদের লিস্ট করার আগে এই রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা উচিত। আওয়ামী লীগের ভেতরে জামায়াতের লোক ঢুকে গেছে। তারা এখন বঙ্গবন্ধুর নাম বেশি বলে। বাকশাল থাকলে ভালো হতো’ উল্লেখ করে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, বাকশালের সময় আওয়ামী লীগ দাঁড়াতে পারেনি। কারণ, বাকশাল গঠনের তিন মাসের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলো। তাই বাকশাল ভালো-মন্দ যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। আমার ধারণা, বাকশাল থাকলে আজকের বাংলাদেশের দুর্নীতি, সন্ত্রাস এত ব্যাপক হতো না। অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান রাজাকারকে শহীদ বলায় সংগ্রাম পত্রিকার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

শৃঙ্খলা উপ-কমিটিকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহবান ওবায়দুল কাদেরের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষ্যে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপ-কমিটির সদস্যদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেছেন, এবারের সম্মেলনে সর্বকালের সর্ববৃহৎ উপস্থিতি থাকবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলকে নতুনভাবে সাজাতে চান। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রায় ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা কাজ করবে। ওবায়দুল কাদের গতকাল রোববার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপ-কমিটির  বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের জন্য তৈরি মঞ্চ আগামী ১৯ ডিসেম্বর পরিদর্শন করবেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিধি ঠিক থাকবে। ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে কাউন্সিলের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের জন্য আমরা প্রস্তুত। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সম্মেলনে বিদেশী কোন অতিথিকে দাওয়াত দেয়া হবে না। তবে বাংলাদেশে বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের দাওয়াত দেয়া হবে। মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে বিদেশী অতিথিদের দাওয়াত দেয়া হবে বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ভারতের সংসদে যে আইন পাস হয়েছে সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ভারত সরকারের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। কোনো বিষয়ে আমাদের সঙ্গে ভারতের সমস্যা হলে তা আলোচনা করে সমাধান করবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে এবং আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিমের সঞ্চালনায় সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বক্তব্য রাখেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়াসহ স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপ-কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে কুষ্টিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে রবিবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিউল-উল হাসান অপুর পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মহাসিন রেজা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খান, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম আলম, মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, একে বিশ^াস বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার শাসসুজ্জাহিদ, যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টু, মিরপুর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হক, ভোড়ামেরা শহর বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু দাউদ, কুষ্টিয়া শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম  প্রমুখ। মেহেদী রুমী তার বক্তব্যে বলেন, খালেদা জিয়াকে মামলার কারণে নয়, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কারণেই কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সব সময় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। এখনও তিনি তা করে যাচ্ছেন। এখন যে তিনি কারাগারে আছেন এটাও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই। সরকার খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে সাজা দিয়ে কারাগারে আটক  রেখেছে। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা চরম আকার ধারণ করেছে। তাকে কারামুক্ত করে উন্নত চিকিৎসা না করালে জীবনহানির ঝুঁকি রয়েছে। খালেদা জিয়াকে নিয়ে আমরা চরম শঙ্কায় আছি। দেশের প্রতিটি মানুষ জানে, সরকারের কারসাজিতেই দেশনেত্রীর জামিন নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে।  দেশনেত্রীকে বাঁচাতে হলে এখনই জামিন ও সুচিকিৎসা দরকার। সোহরাব উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে সব বাধা উপেক্ষা করে এখন রাস্তায় নামতে হবে। এখন আর ঘরে বসে থাকলে চলবে না। তিনি বলেন, এখন দেশ চলছে এক ব্যক্তির ভয়ঙ্কর কর্তৃত্ববাদী শাসন।  যেখানে দেশের জনগণ এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিরোধী পক্ষকে বন্দি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর সেই কারণেই বিরোধী দল ও মতের ওপর চলছে অবর্ণনীয় নানামুখী নির্যাতন। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে কারাগারে আটকে রেখে বিএনপিকে নির্মূল করার চেষ্টা করছে সরকার। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শিলাইদহে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মা সমাবেশ

কুমারখালী প্রতিনিধি : প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝড়ে পড়া রোধ ও শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী ও শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ্উদ্দিন খান তারেকের নিজস্ব অর্থায়ণে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমড়কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী ও শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ্উদ্দিন খান তারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ও মা সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মমতাজ পারভীন, কোমড়কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাজী কাইয়ুম উদ্দিন, শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কোমরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান। এ ছাড়াও কৃতি শিক্ষার্থীদের মায়েদের মধ্যথেকে বক্তব্য রাখেন, আফরোজা খাতুন ও কৃতি শিক্ষার্থী আয়সা সিদ্দিকা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কুমারখালী সরকারি কলেজের প্রভাষক মাসুদ রানা, শিলাইদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

মা সমাবেশ শেষে শিলাইদহ ইউনিয়নের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ফুলসহ সম্মাননা ক্রেষ্ট তুলে দেন সাংসদ সহ অতিথিবৃন্দ।

 

মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা ২৬ মার্চ

ঢাকা অফিস ॥ সব ধরনের তালিকা যাচাই-বাছাই করে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার প্রাথমিক খসড়া আমাদের কাছে রয়েছে। বর্তমান তথ্যমতে, কোনো না কোনো তালিকায় অর্ন্তভুক্তির সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৫৬ জন। এর মধ্যে দাবিদার মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২ লাখ ৫১ হাজার ২৮৫ জন।” বর্তমানে ২ লাখ ১ হাজার ৪৬১ জন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন জানিয়ে মোজাম্মেল বলেন, “একজনের নাম একাধিক দলিলে রয়েছে। এজন্য মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেশি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এ সংখ্যা ২ লাখ ১০ হাজারের বেশি নয়।” মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার নাম পাঁচ জায়গায় রয়েছে। যাদের নাম একাধিক তালিকায় রয়েছে তা বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। একই নাম একাধিক বানানে লেখার কারণে একাধিকবার সেসব নাম ছাপা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছায়ের প্রক্রিয়া তুলে ধরে মোজাম্মেল হক বলেন, এর আগে আইন লংঘন করে ৪৪ হাজার জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। পরে আইনের মধ্যে তালিকা প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাধনীতার পর গত ৪৮ বছরে ছয়বার মুক্তিযোদ্ধা তালিকা সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার বয়স, সংজ্ঞা ও মানদন্ড পাল্টেছে ১১ বার। সর্বশেষ ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ‘প্রকৃত’ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন, আবেদনকৃত ও তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিরীক্ষণ এবং তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে উপজেলা, জেলা/মহানগর যাচাই-বাছাই কমিটি করেছে সরকার। এ কাজে চারটি মানদন্ড নির্ধারণ করে দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ঠিক হয়, ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা, বেসামরিক গেজেট ও বাহিনীর গেজেট- এই চারটি তালিকার অন্তত একটিতে নাম থাকলে তবেই একজন ব্যক্তির নাম আসবে চূড়ান্ত তালিকায়। এরপর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা চূড়ান্ত করতে সরকার সারা দেশে ৪৭০টি উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করে। কিন্তু আইনি জটিলতায় অনেক কমিটির প্রতিবেদন তৈরি হতে সময় লেগে যায়।  আবার অনেক কমিটির প্রতিবেদনে অসঙ্গতি ও ভুলক্রটি থাকায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে আপত্তি আসায় অসঙ্গতি দূর করতে গঠন করা হয় আরেকটি কমিটি। আওয়ামী লীগের গত মেয়াদের শেষ বছর ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক। কিন্তু নান জটিলতায় তা আর হয়নি।

গাংনীতে আ.লীগের দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে বিজয় দিবস পালনের পতাকা উত্তোলনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে আ.লীগের দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার দুপুরের দিকে গাংনী উপজেলা শহরের বাসস্ট্যান্ডের রেজাউল চত্বরে গাংনী উপজেলা আ.লীগ ও গাংনী পৌর আ.লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে গাংনী উপজেলা শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গাংনী পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম বাবু জানান, প্রতি বছরই আ.লীগের উদ্যোগে গাংনী রেজাউল চত্বরে বিজয় দিবস ও অন্যান্য দিবস পালন করা হয়ে থাকে। এ বছর বিজয় দিবসের আগে গাংনী উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সাহিদুজ্জামান খোকন তার নিজ বাসভবনে ১০ থেকে ১৫জন লোকজন নিয়ে আ.লীগের অন্যান্য নেতা-কর্মীদের না জানিয়ে প্রস্তুতি সভা করেন। সেখানে আমাদের জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি। তাই আমরা মুজিব সৈনিক। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করে আসছি। আমরা বিজয় দিবস পালন করবো এ নিয়ে মেহেরপুর জেলা আ.লীগের নেতাদের সাথে কথা বলার পর  গাংনী পৌর আ.লীগের আয়োজনে বিজয় দিবস পালনের প্রস্তুতি  নিয়েছি। তারই ধারাবহিকতায় আমরা রেজাউল চত্বরে পতাকা উত্তোলনের স্থান নির্ধারণ করছিলাম। এরই মধ্যে এমপি সাহিদুজ্জামান  খোকনের লোকজন এসে আমাদের অনুষ্ঠানের বিঘœ ঘটনোর উদ্দেশ্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরী করে। গাংনী উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভায় গাংনী পৌর আ.লীগের নেতা-কর্মীদের ডাকলেও তারা আসেননি। এ কারণে এ বার তাদের ডাকা হয়নি। তবে বিষয়টি যেনো বাড়াবাড়ি না হয় সে নিয়ে এমপি সাহিদুজ্জামান খোকন ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেকের সাথে কথা হবে।

দৌলতপুরে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের শুভ সুচনা। এরপর মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। একই সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হবে। সকাল ৮টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতী পতাকা উত্তোলন ও সালাম গ্রহণ, মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, স্কাউটস্, গার্লস গাইড ও কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৯টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জিয়ারত, ১০টায় খেলাধুলা, সাড়ে ১০টায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা, বিকেলে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হা-ডু-ডু খেলা এবং সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এদিকে বিজয় দিবস উদযাপনের লক্ষে গতকাল রবিবার শিশুদের চিত্রাঙ্কন, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীর রচনা, কবিতা ও দেশাত্মকবোধক গানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যদায় উদযাপনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার।

মিরপুর সেনানিবাসে গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক-সুদক্ষ বাহিনীতে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম একটি আধুনিক, পেশাদার এবং সুদক্ষ বাহিনীতে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ আলোকে একটি আধুনিক, পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা আধুনিক অস্ত্রসস্ত্র জোগাড় এবং প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি)-২০১৯ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডবি¬উসি কোর্স)-২০১৯ এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনার যে নীতিমালা করে যান তারই আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরো শক্তিশালী এবং যুগোপযোগী করতে এবং সেটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাটা জরুরি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলার জন্যই আমরা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নতুন নতুন অস্ত্রসস্ত্র জোগাড় থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে সেনানিবাসও গড়ে তুলেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ দেশের জন্য যখন যেটা প্রয়োজন সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সচেতন এবং সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি। কারণ, আমরা একটা পেশাদার এবং প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে শন্তিরক্ষী মিশনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যাচ্ছে এবং সেক্ষেত্রেও আমাদের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হচ্ছে। আবার শান্তিরক্ষী মিশনে গিয়ে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যেন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা চলতে পারে, যুদ্ধ সরঞ্জামের সঙ্গে যেন তাঁদের পরিচিতি থাকে এবং তাঁরা যেন যেকোন ক্ষেত্রে ভূমিকা পালনে কোন ধরনের দ্বিধাগ্রস্ত না হন সেজন্য প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের বিষয়ে আমরা সচেতন।’ যতদূর সম্ভব সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকার তাঁর জোগান দিয়ে যাচ্ছে, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সবসময় এটা মনে করি প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এবং মানুষের প্রতি ভালবাসা প্রতিটি মানুষের মাঝেই এ চিন্তাটা থাকা উচিত। দেশ মাতৃকার জন্য যেকোন ত্যাগ স্বীকারেই আপনারা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এখানে এসেছেন।’ এই দেশ আপনাদের এবং আমাদের সকলের-এই চিন্তা থেকেই এদেশকে আমরা আগামীর পথে এগিয়ে নিয়ে যাব, বলেন তিনি। তিনি এ সময় প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সদস্যবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা অন্যান্য দেশ থেকে এসেছেন তারা পরবর্তীতে নিজ নিজ দেশের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাবেন। আমি আপনাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই হবেন আমাদের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর। কারণ, আপনারা একটি বছর এখানে থেকে বাংলাদেশকে চিনেছেন, জেনেছেন, সকলের সঙ্গে মিশেছেন এবং আপনারা দেখেছেন যে, বাংলাদেশের মানুষ সাধারণভাবে খুব আন্তরিক এবং বন্ধুসুলভ। কাজেই, আপনারা আমাদের শুভবার্তা নিয়ে যাবেন নিজ দেশে।’ তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের অভিজ্ঞতা দেশ ও দেশের মানুষের কাজে লাগাবেন। সেটাই আমি কামনা করি এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ ‘সিকিউরিটি থ্রু নলেজ’ অর্থাৎ ‘জ্ঞানেই নিরাপত্তা’- ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এই মূলমন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশকে স্থিতিশীল, টেকসই উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সর্বোপরি গৌরবময় অবস্থানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সরকার প্রধান বলেন, সবসময় একটা কথাই মনে রাখবেন-অনেক রক্ত দিয়ে এই স্বাধীনতা অর্জন। কোনক্রমেই আমরা একে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।’ তিনি কলেজের কমান্ড্যান্ট, সকল ফ্যাকাল্টি সদস্য, রিসোর্স পারসনস ও স্টাফ অফিসারদেরকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। প্রায় ৮৫ জন সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রশাসন এবং বিদেশী সামরিক কর্মকর্তাগণ ‘এনডিসি কোস-২০১৯’ এ এবং সশস্ত্র বাহিনীর ৩৮ জন কর্মকর্তা ‘এএফডবি¬উসি কোর্স-২০১৯’ অংশগ্রহণ করেন। ১৬টি দেশের সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এতে অংশ নেন। দেশগুলো হচ্ছে- চীন, মিশর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, তানজানিয়া, যুক্তরাজ্য, মালি এবং নাইজার। জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিনবাহিনী প্রধানগণ, মুখ্য সচিব, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং অধ্যাপকবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং মিলিটারি এ্যাটাচিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সমাদৃত এই ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ অত্যন্ত সীমিত পরিসরে তাঁর সরকারের হাত ধরে এর যাত্রা শুরু করেছিল বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ বছর পর ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ১৯৯৮ সালে মাত্র ১৫ জন নিয়ে এর যাত্রা শুরু মাত্র দুই কোটি টাকা ব্যয়ে।’ তিনি বলেন, ‘ সেটাও আমার অবশ্য চ্যালেঞ্জ ছিল যে, সবকিছু টাকার মাপে হয় না। শুরুটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। একবার শুরু করলে এটি একদিন বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করবে এবং আজকে সেটাই আমরা দেখতে পাচ্ছি।’ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ স্ট্যাটেজিক স্তরে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে অসামরিক পরিমন্ডলেও যথেষ্ট সমাদৃত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি উচ্চপদস্থ অসামরিক কর্মকর্তাগণ এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভূত অবদান রেখে চলেছেন। তিনি বলেন, এনডিসি এবং এএফডবি¬উসি কোর্স ছাড়াও এনডিসি কর্তৃক পরিচালিত ‘ক্যাপস্টোন কোর্স’- এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ এমনকি দেশের সফল উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, সম্পাদক, সাংবাদিক, অধ্যাপক, সংসদ সদস্যসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি নাগরিকবৃন্দ বর্তমানে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্সে অংশগ্রহণ করছেন। ফলে আন্তর্জাতিক পরিপন্ডলে একটি চমৎকার সংহতির পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের উত্তোরত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সবধরণের সহযোগিতারও প্রতিশ্র“তি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে এটাতো আমি করবোই, কেননা এটা আমার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান। কাজেই এর প্রতি আমার একটা আলাদা আন্তরিকতা রয়েছে।’ সশস্ত্র বাহিনীকে আমাদের স্বাধীনতা এবং স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা দেশের দুর্যোগকালীন জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এর ভূমিকার ভূয়সী প্রসংসা করেন এবং তা ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এদেশের জনগণের সেবা করাটা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। এই সাধারণ মানুষের অর্থেইতো আমাদের বেতন-ভাতা সবকিছু। কাজেই তাঁদের জীবনযাত্রাটা সুন্দর করাই আমাদের লক্ষ্য।’ বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাঁর সরকার একটি পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে দেশকে পরিচালিত করছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি। আশু করণীয় কি- সেটাও আমরা ঠিক করেছি এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে কিভাবে গড়ে তুলবো সে পরিকল্পনাও আমরা প্রণয়ন করেছি।’ ভাত-মাছ, শাক-সবজী, ফলমূল, তরিতরকারী উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত করায় তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে এজন্য গবেষণায় অধিক গুরুত্ব প্রদান এবং কৃষি উপকরণকে সহজলভ্য এবং বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়ায় কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। জাতির পিতার গুচ্ছগ্রাম কর্মসূচির আলোকে তাঁর সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের সফল কর্মসূচি যেমন গৃহহীনকে ঘর প্রদানে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’সহ দারিদ্র্য বিমোচনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপেরও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে জাতির পিতা একটি যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ পুণর্গঠনকালেই দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে রেখে যেতে সমর্থ হন। যেখান থেকে আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন লাভ করেছি। যা আমাদের ধরে রাখতে হবে আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত। অবশ্য সেই ক্রাইটেরিয়া ইতোমধ্যেই অর্জিত হওয়ায় আমরা আরো সামনে এগিয়ে যেতে চাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুণর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য স্থির করেছি ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। ২০২১ সালে স্বাধীনতার জয়ন্তীতে দেশকে মধ্যম আয়ের এবং২০৪১ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো।’ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি ১০ বছর এবং ২০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং আগামীর প্রজন্মকে সুন্দর জীবন দেওয়ার জন্য নেদারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগের ও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ যে দুঃখ ও দারিদ্র্য আমরা দেখেছি ভবিষ্যত প্রজন্মকে তা যেন আর দেখতে না হয় সেজন্য আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে রেখে যেতে চাই এবং উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’ পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এনডিসি ও ডিএসসিএসি এর পরিচালনা পর্ষদের যৌথ সভাতেও যোগদান করেন।

ইবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তিচ্ছুদের জ্ঞাতব্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান/ইঞ্জিনিয়ারিং/ফার্ম) শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নির্বাচিত ভর্তিচ্ছুদের আগামী ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ বুধবার সকাল ৯টা ৩০মিনিটে পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনে অবস্থিত গণিত বিভাগের সেমিনার গ্রন্থাগার (২য় তলার পূর্ব পাশে)-এ উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। নির্বাচিতদের রোল নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী বিশ^বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (িি.িরঁ.ধপ.নফ) থেকে জানা যাবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পূবালী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখায় ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো’র যাত্রা শুরু

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় ইসলামী শরিয়াহ্ মোতাবেক ব্যাংকিং সেবা প্রদানের ব্রত নিয়ে  পূবালী ব্যাংক লিমিটেড কুষ্টিয়া শাখায় ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো‘র যাত্রা শুরু করেছে। গতকাল রবিবার সকালে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো’র মহাব্যবস্থাপক দেওয়ান জামিল মাসুদ। কুষ্টিয়া চেম্বার ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর উপ-মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমার আতা, কুষ্টিয়া চেম্বারের সহ-সভাপতি এস.এম কাদেরী শাকিল ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাফর ফুডের কর্নধার আবু জাফর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর অঞ্চলের অঞ্চল প্রধান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক এ.কে.এম, আব্দুর রকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক ইসলামী উইন্ডো শাখার ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন। বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক শাহ আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো’র মহাব্যবস্থাপক দেওয়ান জামিল মাসুদ বলেন- পূবালী ব্যাংক বিগত ৬০বছর দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে আসছে অত্যন্ত সুনামের সাথে। দক্ষ কর্মীদের আন্তরিকতাপুর্ন পরিবেশে দেশের ৪৭৮টি শাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করে দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংকিং কার্য্যক্রম পূবালী ব্যাংকের নিজস্ব সফটওয়ারের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা প্রদান হয়ে থাকে। একসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম আমাদের এই ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। তিনি জানান-আমাদের দেশে এখন ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই আলোকে ধর্মপ্রান গ্রাহকদের ইসলামী ব্যাংকিং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পূবালী ব্যাংক এই বছর সারাদেশে ১৫টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর কার্যক্রম শুরুর করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১১টি চালু হয়েছে বাকী ৪টি শীঘ্রই চালু করা হবে। সম্পুর্ন ইসলামী শরিয়াহ্ মোতাবেক পরিচালিত এই কার্যক্রমে যে কেউ শরীক হতে পারবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, পুবালী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রাচীনতম ব্যাংক, আমি ব্যবসায়িক সুত্রে এই ব্যাংকের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন সেবা গ্রহন করে আসছি। এই ব্যাংকের কর্মচারীদের সেবার মান প্রশংসনীয়। আজ কুষ্টিয়ায় এই ব্যাংকের শরিয়া ভিত্তিক কার্যক্রম ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে জেনে খুশি হয়েছি আশা করি মানুষেরা তাদের এই সেবা সানন্দে গ্রহন করে উত্তম সেবা পাবেন। পরে ফিতা কেটে পূবালী ব্যাংকের ইসলামী উইন্ডোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

নির্ধারিত সময়েই উন্নয়নমুলক কাজ শেষ করতে হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, আমাদের প্রত্যেকের পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারনে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ। এসব কাজ বাস্তবায়নে আপনার সমস্যা যদি আপনিই সৃষ্টি করেন তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। প্রত্যেকটি উন্নয়নমুৃল কাজে সঠিক ভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখবেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ শেষ করতে হবে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগের অগ্রাধিকার ভিত্তিক যে সব কাজ এখনো চলমান আছে তা অতি দ্রুত শেষ করতে হবে। কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। কাজের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাঁড়াতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি সড়ক ও জনপথ কুষ্টিয়া বিভাগের নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলীর উদ্দেশ্যে বলেন, কুমারখালী-রাজবাড়ী সড়ক প্রসস্থকরণ কাজের অগ্রগতিতে জনগণ উপকৃত হলেও কাজ শেষ হতে না হতেই রাস্তার ধারে অনেক ধস দেখা দেয়ায় জনঅসন্তুষ্টি বাড়ছে।  জনভোগান্তি বাড়ার আগেই দ্রুত এসব ধস ঠেকাতে কাজ করা সহ প্রকল্পের কাজ সম্পুর্নভাবে শেষ করতে হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। কোন কাজেই গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না। জেলাব্যাপী ব্যাপকহারে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। এক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার ভংগুর পরিস্থিতি বার বার জনগণের মুখোমুখি করলেও আজকে সেই অবস্থা আর নেই। দ্রুত রাস্তা মেরামত, নির্মাণ, সড়ক প্রসস্থ করনের কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই যোগাযোগ ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি কমে আসবে। তিনি আরো বলেন, তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটি উন্নয়নমূলক কাজে সঠিকভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। উন্নয়নমুলক প্রতিটি কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাড়াতে হবে। কাজের নামে অকাজ করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকেল এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। যে এলাকার যত বেশি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সেই এলাকা তত বেশি উন্নত। আমরা যারা উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট তারা যদি  দেশের জন্য এ জেলার জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে ছোট্ট ছোট্ট পরবির্তন আনতে পারি তাহলেই আমাদের উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরন হবে। তবেই তো এগিয়ে যাবে দেশ। আর এক্ষেত্রে সবার আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গণপুর্ত কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর উদ্দেশ্যে বলেন, গড়াই বধ্যভুমি চিহিৃতকরণ, ভূমি বরাদ্দ, ভুমি জরিপ সহ অধিক গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা নির্মাণে অংশিদারিত্বমুলক অংশগ্রহন থাকা কিংবা জবাবদিহিতা থাকার প্রয়োজন রয়েছে। জেলার গৌরবোজ্জল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরনীয় বরনীয় করে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যক্তিগত কারনে অথবা অফিসের জটিলতা দেখিয়ে মহৎ এ কাজ বিলম্ব করা যাবেনা। জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নিজেকে একজন দেশ প্রেমিক হিসেবে মানসিকভাবে তৈরী হতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কুষ্টিয়া পিছিয়ে থাকতে পারে না। যে কাজ করবেন সেটি যেন দেশের উন্নয়নে ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া জেলার উন্নয়নে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য সরকারী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনভাবেই অনিয়ম না করতে পারে এবং জনগনকে সঠিকভাবে যথাসময়ে সেবা প্রদান করতে পারে সে জন্য সরকারী সব কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। বিগত মাসের বিস্তারিত তুলে ধরে তাকে সহযোগিতা করেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান।  সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন, কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ^াস, খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরিন কান্তা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম মারুফ আল ফারুকী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেল সুপার জাকের হোসেন, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক ,বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লীবিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এটিএম জালাল উদ্দিন, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক  রোখসানা পারভীন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান প্রমুখ।