সহজ ও স্বল্প খরচ

ড্রাম সিডার দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে বীজ বপন

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কাদাময় জমিতে ড্রাম সিডার দিয়ে সারিবদ্ধভাবে সরাসরি বীজ বপন ধান চাষের একটি সহজ ও উদীয়মান প্রযুক্তি। এ যন্ত্র ব্যবহার করে ধান উৎপাদনে সময়, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব। বিশ্বের অনেক দেশেই যেমন ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনে এখন এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্য পক্ষে প্রচলিত পদ্ধতিতে চারা রোপণ করে ধান চাষের জন্য বীজতলায় চারা তৈরি, উত্তোলন, রোপণ ইত্যাদি কাজ বেশ শ্রমসাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। আউশ, আমন ও বোরো সব মৌসুমেই এ যন্ত্র দিয়ে ধান চাষ করা সম্ভব, তবে বোরো মৌসুমই হচ্ছে বেশি উপযোগী। বিশেষ করে নিচু এলাকার এক ফসলি বোরো জমি ও দুই ফসলি জমিতে যেখানে সেচের সুব্যবস্থা আছে সেখানে এ পদ্ধতিতে ধান চাষ উপযোগী হবে। প্লাস্টিকের তৈরি ছয়টি ড্রাম একটি লোহার দন্ডে পর পর সাজানো থাকে যার দৈর্ঘ্য ২ মিটার। লোহার দন্ডের দুই প্রান্তে প্লাস্টিকের তৈরি দুটি চাকা এবং যন্ত্রটি টানার জন্য একটি লোহার তৈরি হাতল যুক্ত থাকে। প্রতিটি ড্রামের দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ৫৫ সেন্টিমিটার, যার দুই প্রান্তে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে দুই সারি ছিদ্র আছে। প্রয়োজনে রাবারের তৈরি বেল্টের দ্বারা এক সারি ছিদ্র বন্ধ রাখা যায়। পাতলা ছিদ্র খোলা রাখলে বিঘাপ্রতি ৩ কেজি, ঘন ছিদ্র খোলা রাখলে ৫ কেজি এবং উভয় ছিদ্র একসঙ্গে খোলা রাখলে ৮ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। প্রতিটি ড্রামের ধারণক্ষমতা প্রায় ২ কেজি ধানের বীজ। তবে অঙ্কুরিত বীজ ভরার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ড্রামের এক-তৃতীয়াংশ অবশ্যই খালি থাকে। প্রয়োজনে ড্রামের সংখ্যা কমানো বা বাড়ানো সম্ভব। বীজ বপন প্রক্রিয়া ঃ বোরো মৌসুমে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে এবং আমন মৌসুমে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে জমি প্রয়োজনমতো চাষ ও মই দিয়ে কাদাময় করে নিতে হবে। জমি এমনভাবে সমতল করতে হবে যেন কোথাও পানি দাঁড়িয়ে না থাকে। বোরো মৌসুমে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে অর্থাৎ শীত পড়ার আগেই বীজ ফেলে চারা প্রতিষ্ঠিত করে নিতে হবে যেন ঠান্ডায় চারা মারা না যায়। আর আমন মৌসুমে বীজ বপনের অন্তত এক দিন যেন বৃষ্টিমুক্ত রাখা যায় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। বীজ আমন মৌসুমে ২৪ ঘণ্টা এবং বোরো মৌসুমে ২৪-৪৮ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরে চটের বস্তায় শক্ত করে বেঁধে তিন থেকে পাঁচ দিন জাক দিয়ে ভালোভাবে অঙ্কুরিত করে নিতে হবে। বীজ ভালোভাবে গজায়ে না নিলে বীজ হার অনেক বেড়ে যাবে। আবার শিকড় যেন ততটা লম্বা না হয় যে একটির সঙ্গে আরেকটি জড়িয়ে যায়। অঙ্কুরিত বীজ ড্রামে ভরার আগে ১-২ ঘণ্টা ছায়ায় শুকিয়ে ঝরঝরে করে নিতে হবে যাতে বীজের শিকড় একটার সঙ্গে অন্যটা পেঁচিয়ে না থাকে। বোনার সময় হাতলের সঙ্গে ছোট একখন্ড চিকন কলা গাছ বেঁধে নিলে জমিতে পায়ের দাগ বা গর্ত মুছে যাবে। এতে বীজ অপচয়ও রোধ হবে। এ পর্যন্ত গবেষণায় দেখা যায় শুধু একক ঘন সারিতে বীজ বপন করাই উত্তম এবং এতে বিঘাপ্রতি ৫-৬ কেজি বীজ লাগে। তবে বোরো মৌসুমে ঘন এবং পাতলা উভয় ছিদ্র খোলা রেখে বীজ বপন করাই শ্রেয়। তা না হলে বীজ হার কম-বেশি হয়ে যাবে। সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা বপনের প্রথম সপ্তাহ জমিতে দাঁড়ানো পানির প্রয়োজন নেই। মাটি ভেজা থাকলেই চলবে। পরে জমিতে ছিপছিপে পানি রাখতে হবে এবং চারা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পানির পরিমাণ বাড়ালে একদিকে আগাছার উপদ্রব কম হবে আবার অন্যদিকে বোরো মৌসুমে শীতের প্রকোপ থেকেও ফসল রক্ষা পাবে। বোরো মৌসুমে বিঘাপ্রতি যথাক্রমে ৩৬, ১৭, ১৬, ১০ ও ১.৫ কেজি এবং আমন মৌসুমে যথাক্রমে ২৪, ১৪, ১০, ৮ ও ১.৫ কেজি ইউরিয়া, টিএসপি, এমপি, জিপসাম, জিংক সালফেট সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ছাড়া বাকি সব সার জমি তৈরির শেষ পর্যায়ে মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া সার বোরো মৌসুমে বপনের ২৫, ৩৫, ৫০ দিন এবং আমন মৌসুমে ১৫, ৩০, ৪৫ দিন পর সমান তিন ভাগে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে লিফ কালার চার্ট (এলসিসি) ব্যবহার করে ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করাই ভালো। এলসিসি ব্যবহারে বোরো মৌসুমে বীজ বপনের ২১ দিন এবং আমন মৌসুমে ১৫ দিন পর এলসিসি দ্বারা ইউরিয়া সার প্রয়োগের সময় নিরূপণ করে বিঘাপ্রতি যথাক্রমে ৯ কেজি ও ৭.৫ কেজি ইউরিয়া সার প্রথম উপরি প্রয়োগ করতে হবে। অবশ্য প্রথম উপরি প্রয়োগের জন্য এলসিসি পর্যবেক্ষণ না করলেও চলে। পরে ধানের থোড় অবস্থা পর্যন্ত প্রতি ১০ দিন পর পর এলসিসির সঙ্গে পাতার রঙ মিলিয়ে নাইট্রোজেনের চাহিদা নির্ণয় করতে হবে এবং ঘাটতি (এলসিসির মান ৩.৫-এর কম) দেখা দিলেই কেবল বিঘাপ্রতি বোরোতে ৯ কেজি ও আমন মৌসুমে ৭.৫ কেজি হারে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। আগাছা দমন বপনের প্রথম ৪০-৫৬ দিন জমি অবশ্যই আগাছামুক্ত রাখতে হবে। নিড়ানি বা ব্রি উইডার দ্বারা দুই সারির মধ্যকার আগাছা সহজেই দমন করা যায়। পরে হাত দিয়ে সারির মধ্যকার আগাছাগুলো উঠিয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত সময়ে পরিমিত মাত্রায় আগাছানাশকও ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বীজ বপনের পাঁচ-ছয় দিন পর জমিতে আগাছানাশক প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, আগাছানাশক ¯েপ্র করার সময় থেকে অন্তত চার-পাঁচ দিন জমিতে অবশ্যই ছিপছিপে পানি রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই শুকনো জমিতে আগাছানাশক প্রয়োগ করা যাবে না। অন্যথায় আগাছার সঙ্গে ধানের চারাও মারা যেতে পারে। গবেষণার ফলাফল বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের (ব্রি) ফলিত গবেষণা বিভাগ কর্তৃক আমন ২০০৩ মৌসুমে গাজীপুরের শ্রীপুর, কাপাসিয়া, সদর, কালীগঞ্জ উপজেলায় কৃষকের মাঠে ও ব্রি-ফার্মে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে রোপা পদ্ধতির চেয়ে ড্রাম সিডার দিয়ে বপন পদ্ধতিতে আবাদ করলে ফলন গড়ে প্রায় ১৫% বেশি পাওয়া যায় এবং ৭-১০ দিন আগে ধান কাটা যায় বা উফশী ধানের জীবনকাল ৭-১০ দিন কম হয়। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বপন পদ্ধতিতে আবাদ করলে রোপণের তুলনায় হেক্টরপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৭০০ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।

খালেদার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে রাজধানীতে বিক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীর মগবাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিল মগবাজার রেলগেটে গিয়ে শেষ। এ সময় গলি থেকে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মী বিএনপির মিছিলে ধাওয়া দেয়। কয়েকটি গাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক কাউছার, যুবদলের সোহেল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নাছির উদ্দিন নাছির, রাজু আহমেদ, ওয়ারী থানা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আবদুর রহিম প্রমুখ। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন শে¬াগান দেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে পুরোদমে টালবাহানা চলছে। ২৯ ডিসেম্বরের রাতের ভোটের সরকার সব অবৈধ ক্ষমতার জোরে খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে। গুরুতর অসুস্থ নেত্রীর জামিনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে অরাজকতা, অনাচার, দুরাচার ঢাকতেই খালেদা জিয়াকে এখনো মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। তাকে মিথ্যা সাজানো মামলায় বন্দি করার মূল কারণই ছিল মধ্যরাতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা। খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে ভোট ডাকাতির কলঙ্কিত নির্বাচন কখনো সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হয়নি। আমরা দ্রুতই খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

প্রথমবারের মতো এমপি হলেন বাংলাদেশি কন্যা আফসানা

ঢাকা অফিস ॥ এবার পূর্ব লন্ডনের পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস আসন থেকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আফসানা বেগম। বিরোধী দল লেবার পার্টির চরম ভরাডুবির মধ্যেও দলটির প্রার্থী আফসানা ৩৮ হাজার ৬৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। আসনটিতে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কনজারভেটিভ প্রার্থী শন ওক। তিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৫৬ ভোট। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপির সংখ্যা বেড়ে হলো চারজন। পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার আসন। এটি লেবার দলের নিরাপদ আসন হিসেবে পরিচিত। প্রায় দুই দশক ধরে এ আসনে এমপি ছিলেন লেবার দলের জিম ফিটজপেট্রিক। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তখন অনেকটা চমক দেখানোর মতো করে আসনটিতে মনোনয়ন পেলেন বাঙালি তরুণী আফসানা বেগম। তিনি লেবার দলের লন্ডন রিজিয়ন শাখার সদস্য। জন্ম ও বেড়ে ওঠা টাওয়ার হ্যামলেটসে হলেও বাংলাদেশে তার আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে।

দৈনিক সংগ্রামের অফিস ঘেরাও, হামলা

ঢাকা অফিস ॥ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন। পরে কার্যালয়ে তালা দিয়ে পত্রিকাটির সম্পাদককে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে প্রথমে পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সদস্যরা।  পরে বিক্ষুব্ধ কয়েকজন কার্যালয়ে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। গত বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা প্রকাশিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যা ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অনেকে ফেসবুকে প্রতিবাদ করলেও কার্যত কোনো ফল আসেনি। এরপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বিক্ষুব্ধ সদস্যরা বিকেলে পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহমুদ বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া কাদের মোল্লা একজন রাজাকার, দেশদ্রোহী। সংগ্রাম পত্রিকা তাকে ‘শহীদের’ মর্যাদা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এখানে এসেছি। এমন কর্মকান্ডের জন্য পত্রিকার সম্পাদককে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছি।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে নব-নিযুক্ত ৯ বিচারপতির শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সুপ্রিমকোট ও হাইকোর্ট বিভাগের নব-নিযুক্ত ৯ বিচারপতি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিচারপতিরা বঙ্গবন্ধু সমাধী সৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে তারা ফাতেহাপাঠ ও বিশেষ মোনাজাত অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন। নব-নিযুক্ত বিচারপতিরা হলেন, মুহম্মদ মাহবুব-উল-ইসলাম, শাহেদ নূরউদ্দিন, জাকির হোসেন, আখতারুজ্জামান, মাহমুদ হাসান তালুকদার, কাজী ইবাদত হোসেন, কে এম জাহিদ সারওয়ার, এ কে এম জহিরুল হক ও কাজী জিনাত হক। এ সময় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, পৌর মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মির্জা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইলিয়াসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অপরিবর্তিত থাকবে  – ব্রিটিশ হাই কমিশনার

ঢাকা অফিস ॥ ব্রিটেনে বরিস জনসনের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টি বিপুল বিজয়ের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্কের কোনো হেরফের হবে না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এমন আভাস দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ব্রিটেনে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা থাকায় সম্পর্ক একই থাকবে। বাংলাদেশ ও ব্রিটেন সবসময় সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে। গতকাল শুক্রবার ব্রিটেনে ভোটের ফলাফল দেখাতে ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনারের বাসভবনে এক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। এতে ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট ডিকসন আগত অতিথিদের স্বাগত জানান। সেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দেশি কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্নস্তরের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বড় পর্দায় ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ নানা আলোচনায় ফলাফল বিশ্লেষণে মুখর ছিলেন। আড্ডার ফাঁকে রবার্ট ডিকসন বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। এ দুই বন্ধু দেশের মধ্যে সহযোগিতাও একই থাকবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই একমত যে, বরিস জনসনের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টির অবস্থান শক্ত হওয়ায় ব্রেক্সিট এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইইউ থেকে ব্রিটেন বেরিয়ে যাচ্ছে এটা নিশ্চিত। এখন বিচ্ছেদের নতুন সময় নির্ধারণ হবে। আলোচনার মাধ্যমে ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্কের নতুন ধরণ নির্ধারণ হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সেতুবন্ধন হিসাবে কাজ করে দেশটিতে বাংলাদেশি ডায়াসপোরা। পাঁচ লাখের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ওই দেশে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশিরা সাধারণত লেবার পার্টির সমথর্ক। ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনে আনন্দ আয়োজনে সবার নজর ছিল বাংলাদেশি ডায়াসপোরার ফলাফলের প্রতি। প্রথমে আসে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র টিউলিপ সিদ্দিকের জয়ের খবর। লেবার পার্টির এ ভরাডুবির সময়ে টিউলিপসহ চারজনের বিজয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। রুশনারা আলি, রূপা হক এবং নতুন মুখ আফসানা বেগমও জয়ী হন। বরিস জনসন আবারও অনেক বেশি আসন পেয়ে বিজয়ী হওয়ায় ব্রিটেনে এখন জনসনের একতরফা কর্তৃত্ব থাকবে। কনজারভেটিভ পার্টিতে থাকা তার বিরোধীরা এখন চুপসে যাবে। এদিকে ব্রেক্সিট না থাকায় ইইউ বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যে যে জিরো ট্যারিফ দিচ্ছে, তার জন্যে বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করতে হবে।

 

সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেবে একথা ভাবা আহাম্মকি – গণপূর্তমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতির দায়ে কারাদন্ড হয়েছে খালেদা জিয়ার। এই দুর্নীতির দায় থেকে সরকার তাকে মুক্ত করে দেবে একথা ভাবা যেমন আহাম্মকি, আর আইনেরও পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। এ সময় গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। ফলে কোনোভাবেই কোনো দুর্নীতিবাজ বা দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সরকারের সাহায্য করার প্রশ্নই উঠে না। তাছাড়া বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের বিবেচনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন দেয়ার ব্যাপারে উপযুক্ত কারণ না পাওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সব বিচারপতিরা সর্বসম্মতিক্রমে তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। গণপূর্তমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি রাজনৈতিকভাবে এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদের আন্দোলনে সরকার ভীত নয়। আওয়ামী লীগ অনেক পুরনো দল। পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবেলা করে আজকে এ পর্যন্ত এসেছে। তাই আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বিএনপি নেতারা যে সরকার পতন আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন- এটা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছুই না। জাতীয় স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনকালে এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলে উদ্দিন আহম্মদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শঙ্কর কুমার মালো, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু হায়াত মোহাম্মদ শাকিউল আজম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান প্রমুখ।

জলবায়ু অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি তথ্যমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জলবায়ু অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন কোন ‘মার্কেট ম্যাকানিজম’ থেকে নয়, বরং তা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হওয়া উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মাদ্রিদ সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জলবায়ু সম্মেলনের ‘হাই- লেভেল সেগমেন্টে’ বাংলাদেশের পক্ষে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ (সাবেক পরিবেশমন্ত্রী) এ দাবি জানান। গতকাল ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন মার্কেট মেকানিজমের উপর চাপাতে চাইছে। মার্কেট ম্যাকানিজম হলে মুনাফার বিষয় থাকবে। মুনাফা না হলে মার্কেট ম্যাকানিজম থেকে অর্থ আসবে না। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে প্রায় ৯৫০ কোটি ডলার জমা হলেও বাংলাদেশ এ তহবীল থেকে এপর্যন্ত মাত্র ৯ কোটি ডলার পেয়েছে, উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলো সামরিক খাতে কোটি কোটি ডলার খরচ করছে অথচ গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ দিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র এ ফান্ডে ৩০০ কোটি ডলার প্রদানের প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল। কিন্তু ১০০ কোটি ডলার প্রদানের পর বাকি ২০০ কোটি ডলার প্রত্যাহার করে নিয়েছে, এটা হতাশাজনক। অর্থপ্রদান প্রক্রিয়া জটিল হওয়ার কারণে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থ পাচ্ছে না উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অর্থ প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ সক্ষম বলেই এ পর্যন্ত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে ৯ কোটি ডলার পেয়েছে। শুধু সক্ষমই নয়, বাংলাদেশ এবিষয়ে অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। বিশ্বে বাংলাদেশেই প্রথম দেশ যারা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় ক্লাইমেট চেঞ্জ একশ্যান প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। নিজের বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে। এ ফান্ড থেকে এ পর্যন্ত ৭২০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, বলেন পরিবেশবিদ ড. হাছান মাহমুদ। মাদ্রিদে জাতিসংঘ জলবায় সম্মেলনে যোগদান শেষে শনিবার তথ্যমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

ঝিনাইদহে সড়ক দূর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহত

সুলতান আল একরাম  ॥ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার সাধুহাটী-হরিণাকুন্ডু সড়কের দখলপুর স্টোন ইটভাটার কাছে মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পুলিশের কনস্টেবল ইসমাইল হোসেন (২৫) নিহত হয়েছেন। দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ইসমাইল হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভেড়াখালী গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। গতকাল শুক্রবার বিকাল প্রায় ৬টার দিকে মটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে তিনি আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।  সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই জাকির হোসেন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৫ দিনের ছুটিতে ইসমাইল বাড়ি যান। তিনি নববিবাহিত। শুক্রবার বিকালে ঝিনাইদহের সাধুহাটী বাসষ্ট্যান্ড থেকে মটরসাইকেলযোগে বাড়ি যাওয়ার পথে দখলপুরের নাওমারা মাঠে স্টোন ইটভাটার সামনে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন। ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু থানার এস আই আব্দুল জলিল জানান, ৫ বছর আগে ইসমাইল পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তার মৃত্যুতে দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ও নিজ গ্রাম ভেড়াখালীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ডিজিটাল সহিত্য আড্ডা’র নবগঠিত কুষ্টিয়া জেলা শাখার অভিষেক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডিজিটাল সহিত্য আড্ডা (ডি.সা.আ) এর নবগঠিত কুষ্টিয়া জেলা শাখার অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (ডি.সা.আ) এর কুষ্টিয়া জেলা শাখার অভিষেক উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে (ডি.সা.আ) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি শ্যামলী ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পদাক গুল আফরোজের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেব-উন-নেসা সবুজ। প্রধান আলোচক ছিলেন অধ্যক্ষ রেজাউল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. এম.এ মান্নান, বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজু, সুন্দরম ললিতকলা একাডেমী কুষ্টিয়ার পরিচালক কনক চৌধুরী, কুষ্টিয়া লেখক ফোরামের সভাপতি মুনশী সাঈদ, গার্ডিয়ান লাইফ ইনসুরেন্সের ব্র্াঞ্চ ম্যানেজার ফারজানা খান, একটু পাশে দাঁড়াই’র সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া। আলোচনা সভা শেষে কবিতার আসর ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 ॥ নাজীর আহ্মদ জীবন ॥

রাসূল (সাঃ) এর ইল্মে গায়েব ও ওলী আল্লাহ

আমাদের সেই প্রতিক্ষিত ও সুন্দর মাস পবিত্র রবিউল আউয়াল বিদায় নিয়েছে। এটাই যে স্রষ্টার নিয়ম। কিন্তু প্রেমিক হৃদয় যে তা মানতে কষ্ট পায়। তাই তো আওলাদে রাসূল প্রেমিক হযরত শাহ্ সূফী মীর  মাস্উদ হেলাল (রঃ) ২০-১২-৮৩ ফাতেহা শরীফ হয়ে যাবার পর বড় মন কষ্টে বলেছিলেন ঃ “ফাতেহা শরীফ-ফাতেহা শরীফ, ফাতেহা শরীফ হয়ে গেল”।  ইমাম (রঃ) যে কত উচ্চস্তরের রাসূল প্রেমিক ও ওলী আল্লাহ তা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। ২৮-১২-৮১-১লা রবিউল আউয়াল সোমবার হুজরা ঘরে মাহ্ফিলের পূর্বে প্রথমে, “সালাম দিলেন রবিউল আউয়াল মাসকে ও রাসূল (সাঃ) কে। বললেন, বহু আকাঙ্খিত সেই মাস ও দিন এসেছে। শুধু মনে হচ্ছে আবার বিদায় নিবে।” মোনাজাতে বললেন, “প্রভু হে! বছরের শুরুতে তোমার গোনাহগার  বান্দা সকলকে নিয়ে ভিক্ষার হাত পেতেছি, তুমি আমাদের গোনাহ মাফ করে নতুন বছরের শুরুতে নতুন করে বাঁচার পথ দেখাও। যে ১২ শরীফ দান করেছো এটা নিয়ে নিও না দোহাই তোমার আল্লাহ। সামনের ফাতেহা শরীফ সুন্দরভাবে পালন করতে দয়া করো।” ১-১-৮৪ রবিবার  বললেন ঃ কালকে বিদায়ী সোমবার, চিন্তা করতে খুব খারাপ লাগছে।” ১৯৭১-এ প্রথম, ১৯৮২ তে “১২-তম ফাতেহা শরীফ” মুর্শিদ পালন করেন। ১৬-১২-৮৫ বুধবার বলেন ঃ এবার ২৯ টা খাসি ফাতেহা শরীফে হয়েছে, এত দিনের মধ্যে  সর্বোচ্চ, ৩ টা হতে শুরু।” ফাতেহা শরীফ হয়ে যাবার পর, তিন দিনের দিন শুকরানা মাহ্ফিল করতেন।

এ মাস ফাতেহা ইয়াজদাহ্ম এর মাস। আমাদের মুর্শিদ (রঃ) সাধনা জীবনে বড়পীর সাহেব হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) এর সাহায্য প্রথম আসে। তখন মুর্শিদ (রঃ) ১১ শরীফ করতেন। ৩-৪-৮৪ মঙ্গলবার বলেন ঃ ১৯৬৯ সালে ২৭ বছর বয়সে বড়পীর সাহেবের রাহানী দর্শন পায় এবং রুপ পায়। বিভিন্ন সময়ে গায়েবী আওয়াজ দিয়ে সাহায্য করেছেন।” ১২-৬-৮৪ মঙ্গলবার বলেন ঃ আজ থেকে এক হাজার বছর পূর্বে বড় পীর সাহেব ১২ শরীফ করতেন। তিনি একজন খুব বড় সাধক ছিলেন। তাই বুঝতে পেরেছিলেন ১১ শরীফ ছাড়াও আরও একটা রয়েছে সেটা ১২ শরীফ। পরে রাসূল (সাঃ) উনাকে এটা বন্ধ রাখতে বলেন। কারণ এর সময় হয় নাই।” ০৮-০৩-১৯৮৪ বৃহস্পতিবার ওলী আল্লাহ প্রসঙ্গে বলেন, “আতরের শিশি হাতে থাকলে তার সুগন্ধ একটু হাতে লাগবেই। সে সুগন্ধ ছড়াবে। লোহা যতক্ষণ আগুনের মধ্যে থাকে ততক্ষণ সে আগুনের গুণে গুণান্বিত হয়ে থাকে। আল্লাহর ওলীরা এরূপ। ১৯-০৪-৮১ তে বলেন; কামেলদের জীবনে এক একটা স্তর থাকে এবং এক এক সময় এক এক হাল্ত থাকে। যেমন; কামেল ফানাফিল্লাহ অবস্থায় থাকে তখন যদি সেজ্দা দেয়া হয় তো গোনাহ হয় না; কারণ পক্ষান্তরে তা আল্লাহকে দেয়া যেমন ঃ হাদীসে আছে, সাধক যখন; এমন অবস্থায় থাকে তখন আমি তার হাত, পা, চোখ, জবান হয়ে যায়, সে যা বলে আমি তাই করি।” মুর্শিদ বললেন ঃ (০৮-০৩-৮৪) বৃহস্পতিবার একদিন মুসা নবী তার ভক্তদের নিয়ে পথ চলছিলেন। হঠাৎ বনের মধ্যে একটা গাছ হতে আল্লাহ আল্লাহ শব্দ তিনি শুনতে পেলেন এবং তার কাশ্ফ এর সাহায্যে ভেদ বুঝতে পেরে গাছটিকে সেজদা দিলেন। এতে ভক্তরা বিষ্মিত হয়ে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলেন; ঐ সময় গাছের মধ্যে আল¬াহ অবস্থান করছিলেন। মুসা (আঃ) এর গাছ ঃ (দৈনিক ইনকিলাব ১৬-০১-২০০৩ ইং)।

পবিত্র কুরআনের সূরা নামলের ৭ নং আয়াতে উক্ত গাছ সম্পর্কে এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, “যখন আল্লাহর রাসূল মুসা (আঃ) পরিবার বর্গকে বললেন; আমি অগ্নি দেখেছি; এখন আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য খবর আনতে পারব অথবা তোমাদের জন্য জ্বলন্ত অঙ্গার আনতে পারব; যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।”

মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দুরে তুর পর্বত বা জাবালে মুসার পাদদেশে অবস্থিত এই সেই গাছ, যে গাছে আল্লাহর রাসূল মুসা (আঃ) সর্বপ্রথম আল্লাহর নুর দেখতে পান এবং এখান থেকে তার পরিবারের জন্য আগুন নেয়ার জন্য এসে আগুন স্পর্শ করতে চাইলে এই কাঁচা গাছে জ্বলন্ত অগ্নি থেকে আওয়াজ এলো “নিশ্চয় আমি মহাপরাক্রমশালী বিজ্ঞানময় আল্লাহ”। প্রশ্ন আসে তবে কি সে নূর স্বয়ং আল¬াহ যা কুরআনের আয়াত হতে বোঝা যাচ্ছে; যদি তিনি অরুপই হয়ে থাকেন; তবে কি প্রকারে তিনি স্বরূপ হয়ে প্রকাশিত হলেন একটি ক্ষুদ্র বৃক্ষে। কুরআনে তিনটি স্থলে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে এবং তা ভিন্ন ভিন্ন ভঙ্গিতে।

সুদীর্ঘ সাড়ে চার হাজার বছর পূর্বের আল্লাহর নূরের তাজ্জালী প্রাপ্ত সেই গাছ এখনো  জীবন্ত এবং তাজা সবুজ শ্যামল অবস্থায় যেন আল্লাহর নূরের তাজাল¬ী বিকিরণ ঘটাচ্ছে। গাছটি গোলাকার আকৃতির এবং নিচের অংশ পাথর দিয়ে ঢাকা। (মুহাম্মদ আহ্ছানুল করীম আল-আযহারী বাংলাদেশী ছাত্র। আল-আযাহারে পড়াশুনা করছেন)

মুর্শিদকে তাই সেজ্দা দেয়া অবস্থা বিশেষের ব্যাপার। এটা একটা বড় সূক্ষè উপলব্ধির বিষয়। নতুবা পাপ হবে।”

এ দরবার শরীফে; হাজ্তে রাওয়া ও মুস্কিল কুশা আছে। এখানে বড়পীর সাহেব ও খাজাবাবার অবস্থান আছে। সবার উপরে রাসূল (সাঃ) এর দরবার। তাই আমরা, আমাদের মনবাহ্ন পূরণের আশা নিয়ে বাতি ধরায়ে থাকি মুর্শিদ (রঃ) এর নির্দেশ মত।  ৮-৩-৮২ তে বলেন; “তিনটি বাতি ধরায় কারণ ঃ আল্লাহ ও তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি রাসূল, আর এ অধম আমরা। অর্থাৎ আল্লাহ ও রাসূল আর একটি আমাদের মন ইচ্ছার  জন্য জ্বালাতে হবে।”

প্রশ্ন আসে এ ক্ষেত্রে আমাদের মুর্শিদ কি বাদ যাবেন? বিষয়টা জ্ঞান  ও প্রেমের। ১-৬-৮২ তে জগতি থেকে আসা একজনকে মুরিদ করার সময়  তার বাম দিকে কাল্বে হাত দিয়ে বললেন, “এটা রাসূলের নূরে। সেদিকে খেয়াল রাখবেন। আল্লাহুম্মা যখন বলবেন, তখন আল্লাহ এ দিক (বাম) হতে উঠবে। ইয়া রাসূল আল্লাহ জিকির ডান হতে বামে। আমরা হাতে হাত দুইবার দেয়। একবার স্ত্রীর হাতে হাত দিয়ে গ্রহন, আর একবার মুর্শিদের হাতে হাত। একটাতে দুনিয়া, অন্যটাতে দ্বীন। ১৯৭৫ এ প্রথম মুরিদ হয় আনিসুরের মা ও আব্বা।” ১৩-১১-৮৪ মঙ্গলবার বলেন ঃ সবুজ টুপি আমরা মাথায় দেয়। আমাদের যে কল্ব এটা রাসূলের নূরে। আল্লাহর নূরে মোহাম্মদ আর তার নূরে সব কিছু। এই আত্মাটাও তার নূরে তৈরী। তাই, আমরা সবুজ টুপি মাথায় দেয়।”

সৌদি ওয়াহাবীরা দীর্ঘ বছর সারা মুসলিম বিশ্বের মাদ্রাসাগুলোতে অঢেল টাকা দিয়ে তাদের ওয়াহাবী মতাদর্শ প্রচার করেছে।  যা স্বীকারে করেছেন বর্তমান সৌদি যুবরাজ পররাষ্ট্র মন্ত্রী। এ ধরণের একটা বই হ’ল ঃ “হাদীসের নামে জালিয়াতি”, লেখক ড. আব্দুল্লাহ্ জাহাঙ্গীর। যিনি সৌদি আরবের রিয়াদস্থ ইমাম মোঃ বিন্ সাইদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬, ১৯৯২ ও ১৯৯৮ সালে যথাক্রমে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পি.এইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েÑহাদীস বিভাগে শিক্ষকতা করেন। বিবাহ করেন, ফুরফুরার পীর জনাব আবুল আনসার সিদ্দীকী সাহেবের মেয়েকে। এই সুবাদে উক্ত পীর সাহেব বইটিকে সমর্থন দিয়ে কিছু লিখে স্বাক্ষর দিয়েছেন। উক্ত বই হতে মাত্র কয়েকটি হাদীস আমি  জানাচ্ছি যে গুলোকে উনারা জাল হাদীস বলেছেন ঃ (১) আপনি না হলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতাম না। (২) যে নিজেকে চিন্ল সে তার প্রভুকে চিন্ল। (৩)  যার পীর নেই তার পীর শয়তান (৪) ওলীগণ মরেন না। (৫) রাসূল (সঃ) এর ছায়া না থাকা।

চার নং হাদীস এর বিরুদ্ধে লিখেছেন ঃ “নিশ্চয় তুমি (হে মোহাম্মদ) মৃত এবং নিশ্চয় তারাও (অতীত নবীগণ) মৃত”। (সূরাঃ সুমার-৩০ আয়াত) এ,কে, এম ফজলুর রহমান মুন্সী তাফ্সীর করেছেন ঃ “নিশ্চয় হে রাসূল! তুমিও মৃত্যু মুখে পতিত হইবে এবং নিশ্চয় তারাও মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে।  (অতীত নবীগণ)। খেয়াল করেন ওহাবী মতবাদি ডক্টর সাহেব কি ভাবে তাফ্সির করেছেন। ওয়াহাবী আলেমদের খপ্পরে পড়ে সুন্নী নামধারী পীর আবদুল কাহ্হার সাহেব ও নবী করীম (সাঃ) এর আল¬াহ প্রদত্ত “ইল্মে গায়েব’ কে অস্বীকার করেছেন।

রাসূল (সাঃ) জীবিত কালে প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে “ইল্মে গায়েব” প্রকাশ করতেন। এটা ছিল তাঁর প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান। কোরানের যে যে স্থানে নবী করীম (সাঃ) এল্মে গায়েব জানতেন না বলা হয়েছে এবং হাদীসে ও অনুরুপ কথা এসেছে, তার অর্থ হচ্ছে  নিজে নিজে এল্মে গায়েব জানতেন না।” কিন্তু আল্লাহ প্রদত্ত এল্মে গায়েব এর নিষেধাজ্ঞা মূলক কোন আয়াত বা হাদীস নেই। এল্মে গায়েব হল ঃ অদৃশ্য জ্ঞান। গায়েব বা অদৃশ্য বলতে ঐ সব কিছুকে  বুঝায়Ñযা ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যের অতীত। ইন্দ্রিয়  হ’ল শ্রবণ, দর্শন, ঘ্রান, স্বাদ ও স্পর্শ। এল্ম শব্দটি বাবে ছামিয়া-ইয়াছ্মাউ হতে নির্গত হলে তার অর্থ হয় “নিজে নিজে জানা; আর বাবে তাফ্ঈল হতে নির্গত হলে  তার অর্থ হয় Ñ “আল্লাহ কর্তৃক জানা।” রাসূল (সাঃ) এর ক্ষেত্রে প্রথমটি  নিষিদ্ধ; কিন্তু দ্বিতীয়টি সিদ্ধ বা জায়েজ। এসবতো উনার জীবিত কালের বিষয়।

আমরা একটা ঘটনার কথা জানাচ্ছি যা আমাদেরকে নতুন জ্ঞান দিবে এবং রাসূল প্রেম বৃদ্ধি করবে ইন্শাল্লাহ ঃ বারো শরীফের ইমাম (রঃ) এর একজন ভক্ত ও মুরিদ, সরকারী গ্রন্থগার হতে একটা বই ঃ ধর্ম  ও সঙ্গীত, (লেখক ঃ মোঃ আনসার আলী (বি,এ,বি,এড) বইটি পড়েন। উক্ত বই এর ২৫ পৃষ্ঠায় লেখক একটা হাদীস লিখেছেন ঃ “আনা আহ্মাদুন বিলামীম” অর্থাৎ “আমি মীম ছাড়া আহ্মদ।” মদীনা শরীফ যাবার ছয় মাস পূর্বে উনি বইটি পড়েন। হাদীসটি লিখে রাখেন। কিন্তু বইটির নাম ও লেখকের নাম লিখেন নাই। কারণ, হাদীসটি কখনও শুনেন নাই তাই গুরুত্ব দেন নাই। পরে নিজ ভুল বুঝতে পেরে এর এক মাস পর বইটি বহুদিন খুঁজেন। কিন্তু পান নাই। মুর্শিদ কে বলেন ও ক্ষমা চান।

মদীনা হতে আসার মাত্র ৩ দিন পর উনি দুপুর ১২.৫০ মিনিট এর দিকে ইসলামিয়া কলেজের রাস্তা দিয়ে চিন্তিত মনে আসতে রাসূল (সাঃ) বলেন কি এত চিন্তা করছ? তখন রাসূল (সাঃ) কে বিষয়টা বলেন এবং ক্ষমা চান। রাসূল (সাঃ) হেসে বলেন যাও খুঁজো। ২৭টা আলমারীর মধ্যে উনাকে চালিকা শক্তির মত নিয়ে গেলেন একটা আলমারির সামনে। যেয়ে এক হতে দুই মিনিট খুঁজেই একটা বইয়ে হাত দিয়ে উনার মন বললো এটাই থাকতে পারে। দুই এক পৃষ্ঠা খুলতেই পেয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে চোখ বন্ধ করে  সালাম জানালেন। রাসূল (সাঃ) হাসলেন। বাড়ীতে এসে গোসল করে দুই রেকাত নফল নামায ও দরদে সালাম পড়ে আল্লাহর কাছে হাত তুললেন। এটা আমাদের মহান নেতা ও দলপতির কোন ধরণের Ñ“এল্মে গায়েব” বলবেন কি ঐ সব আলেম সমাজ? রাসূল বলেছেন ঃ “আমার জ্ঞান আমার ওফাতের পর সেরূপ (সক্রিয়) থাকবে, যেমন জ্ঞান আমার জীবদ্দশায়  রয়েছে।” (ওয়াফাহল্Ñওয়াফাÑ২ খন্ডÑপৃÑ১৩৫২)

আমরা যেন ঐ সব ওয়াহাবী মত অনুসারী আলেম ও পীরদের কথায় ভুল না করি। বারো শরীফের মহান ইমাম (রাঃ) কে ভালবেসে বারো শরীফের ইমাম এর চিন্তাধারা ও মতাদর্শে থেকে বারো শরীফ তথা মোহাম্মদী তরীকায় থাকি ও তা মানুষের মাঝে প্রচার করি। আল্লাহ আমাদের দয়া করুন। আমীনÑসুম্মাÑআমীন।

দৌলতপুরে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামাল হোসেন দবির স্মরণে শোকসভা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামাল হোসেন দবির স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দৌলতপুর থানা বাজারে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আয়োজনে সদ্য প্রয়াত সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামাল হোসেন দবিরের স্মরণে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল আযম বিকোর সভাপতিত্বে শোকসভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, ফিলিপনগর ইউপি মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আলহাজ হায়দার আলী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, জাসদ নেতা অধ্যক্ষ রেজাউল হক, জেলা ওয়ার্কাস পাটির নেতা ফজলুল হক বুলবুল, সাবেক কমান্ডার আনোয়ারুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নান্নু মাষ্টার, মজিবর রহমান মাষ্টার, রকিবুল ইসলাম মাষ্টার, হাফিজুর রহমান মাষ্টার, সাংবাদিক সাইদুর রহমান ও প্রয়াত কমান্ডারের বড় ছেলে নাজমুল হাসান। শোকসভা পরিচালনা করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. নাসির উদ্দিন।

পাওনা টাকা চাওয়ায় বাবা-ছেলেকে মারপিট

কুষ্টিয়ার মিরপুরের এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের মানিক সর্দ্দার (৫৫) নামের এক বিছালী ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঐ ব্যবসায়ীর ছেলেকেও পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে প্রভাবশালীরা। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে আহত মানিক সর্দ্দার মারা যায়।  বেলা সাড়ে  ১১ টার দিকে মিরপুর থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য নিহত মানিক সর্দ্দারের মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। মানিক সর্দ্দার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাদিমপুর এলাকার মৃত আফসার সর্দ্দারের ছেলে। পিতাকে মারধরের সময় আহত হন মানিক সর্দ্দারের ছেলে মাসুম সর্দ্দার (২৩)। আহত মাসুম সর্দ্দার জানান- আমি এবং আমার বাবা মানিক সর্দ্দার বিছালীর ব্যবসা করি। আমাদের স্যালোইঞ্জিন চালিত আলমসাধু গাড়ীতে করে বিছালী নিয়ে গিয়ে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করি। মাসখানেক আগে ভেড়ামারা উপজেলার ফারাকপুর এলাকার রিজেক মৃধা নামের এক  দোকানীর কাছে বিছালী বিক্রি করি। এসময় তিনি বিছালীর দাম ৩৬৫ টাকা বাকী রাখেন। বলেন পরে এসে নিয়ে যেতে। আমি এবং আমার বাবা গত ২৯ নভেম্বর ঐ এলাকায় আবার বিছালী বিক্রি করতে যায়। এসময় আমি পাওনা টাকা চাইতে গেলে আমাকে গালিগালাজ করে। আমার বাবা তখন বলেন, “ভাই টাকা দেওয়া কথা ছিলো টাকাটা দেন। আমরা গরিব মানুষ।” এ কথা শুনে রিজেক মৃধা ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, কোন টাকা তোরা পাবি না। তাই বলে হাড়–ড়ি দিয়ে আমার বাবাকে বেধড়ক মারপিট করে। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও মারধর করে। পরে তার কয়েকজন লোক এসে আমাকে এবং আমার বাবাকে মারধর করে। এরপরে স্থানীয়রা আমাদের দুজনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। দুদিন পরে হাসপাতাল থেকে বাড়ীতে এসে চিকিৎসা গ্রহণ করি। এ ঘটনায় আমরা ভেড়ামারায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাসুমের বড় ভাই সুজন জানান, আমরা ভেড়ামারা থানায় অভিযোগ দেয়। কিন্তু ভেড়ামারা থানায় খোঁজ নিতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ন আহম্মেদ বলেন, “তোরা নিজেরায় তো মেরেছিস। আর অভিযোগ পত্র হারিয়ে গেছে।” মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ্র প্রধান জানান, নিহত মানিক সর্দ্দার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে থানা থেকে সেটা তো হারানোর কথা না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে আসলে মামলা নেওয়া হবে।

 

সব্যসাচী লেখক মোহাম্মদ তাজউদ্দীন এর ৫০তম গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

নিজ সংবাদ ॥ সব্যসাচী লেখক মোহাম্মদ তাজউদ্দীন এর ৫০তম গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া  জেলা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে মুক্তচেতন সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ কুষ্টিয়া এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মুক্তচেতন সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ তাজউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা’র সম্পাদক ও নজরুল একাডেমি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি আবদুর রশীদ চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুর রশীদ চৌধুরী বলেন, এই দুর্মূল্যের বাজারে গ্রন্থ প্রকাশ করা অত্যন্ত দুরুহ কাজ, এ কাজটি সব্যসাচী লেখক মোহাম্মদ তাজউদ্দীন অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করে সাহিত্য ভান্ডারকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি গ্রন্থটি পাঠক প্রিয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব আমিরুল ইসলাম, নজরুল একাডেমি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট শিশু সংগঠক আশরাফ উদ্দিন নজু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও কন্ঠশিল্পী সুজন রহমান, এ্যাড. সিরাজ প্রামানিক, শিশু সাহিত্যিক সোহেল আমিন বাবু, কবি ও শিক্ষাবিদ নজরুল ইসলাম মুকুল। অনুষ্ঠানে প্রকাশিত গ্রন্থ‘রবীন্দ্রনাথ : ছুটি গল্পের অনন্য কথক ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও শিক্ষাবিদ জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, কবি মোল্লাহ শাহিদুল করিম, কুষ্টিয়া লেখক ফোরামের সভাপতি মুন্সী আবু সাঈদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহীন সরকার, শিল্পী ও কবি এ্যাড. সুব্রত চক্রবর্তী, সম্মিলিত লেখক ফোরামের সভাপতি ছড়াকার আব্দুল্লাহ সাঈদ, কবি মান্নান মনি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কারশেদ আলম, অধ্যাপক জামিরুল ইসলাম, কবি এস এম রুশদী, কবি নিন্দুক বিশ্বাস, কবি পিন্টু আশফাক ও কবি এমডি আসাদ। আলোচনা শেষে কবিতা আবৃত্তি করেন, মহাদেব দাস, আব্দুর রাজ্জাক, শাহীন সরকার, আব্দুল মালেক, জসিম উল্লাহ আল হামিদ, কাজী সোহান, ডা. মীর জহুরুল কবির (টিপু), কাজী মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, এমএ হান্নান, মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, মেঘলা আহামেদ তন্বী, সাঈদুর রহমান মন্টু, হাসান মালেক,  গোধুলী সেলিম, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ রাসেল ইসলাম, মেহেদী ফয়সাল অনিক, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন. আছিফ হাসান, শেখ প্রান্ত আলী, মীর আসিফ চৌধুরী, আবু হানিফ দেব দা প্রমুখ। পরে সংগীত পরিবেশন করেন, সুজন রহমান, মোহাম্মদ আয়েত আলী, শাহীন আলম, আহাম্মেদ শরীফ, তমাল শেখ, মোহাম্মদ তাজউদ্দীন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুক্তচেতন সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আজিজুর রহমান।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নারী সদস্যের রেকর্ড

ঢাকা অফিস ॥ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এবার সর্বাধিক সংখ্যক নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্রিটিশ সাধারণ নির্বাচনে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২০৮ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে দেখা যায়। আর এবার সেই সংখ্যা দিয়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ জনে। শুক্রবার দেশটির প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সংস্থা এই তথ্য জানায়। এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ১২৪ জন নারী প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। কনজারভেটিভ পার্টি থেকে এবার মোট ৮৬টি আসনে নারী প্রার্থী জয়ী হন, যেখানে ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৭ জন। পাশাপাশি সর্বাধিক সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণও ছিল এই নির্বাচনে। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীর প্রায় ৪৭ শতাংশই নারী।

এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা ফলাফল অনুযায়ী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছে বরিস জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি। ৬৪৯টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩৬৪টি আসন। অন্যদিকে লেবার পার্টি পেয়েছে ২০৩টি আসন, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং লিবারেল ডেমোক্রেটরা পেয়েছে ১১টি আসন। এই নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার নারী। তারা হলেন, লন্ডনের হ্যামপস্টেড ও কিলবার্ন আসন থেকে বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ও লিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রূপা হক, বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড হে আসন থেকে রুশনারা আলী ও পপলার অ্যান্ড লাইস হাউস আসন থেকে আফসানা বেগম।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে গণস্বাক্ষর

ঢাকা অফিস ॥ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিল করে বিদ্যুৎখাতে দুর্নীতি, অপচয় এবং অব্যবস্থাপনা দূর করার দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে এ গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়। সপ্তাহব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচির শেষ দিনে শত শত মানুষ গণস্বাক্ষর করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান। গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচিতে স্বাক্ষরকারী নাম প্রকাশ না শর্তে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন অতিষ্ঠ। এরপর যদি বিদ্যুতের দাম বাড়ে সবকিছুর দাম আবার বাড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য বলেন, আমার বাড়িতে একটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ ও একটি লাইট জ¦ালিয়ে আগে বিল দিতাম ৩০০/৪০০ টাকা, এখন বিল দিতে হয় ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। এটা দুর্নীতি ছাড়া আর কিছু না। সাধারণ নাগরিকরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিল করে বিদ্যুৎখাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান পরিচালনার দাবি জানান সরকারের কাছে। গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজকদের পক্ষ থেকে সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের সরকারিখাতকে পঙ্গু করে বেসরকারিখাতে উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে সঙ্কটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ না করে কতিপয় গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জ¦ালানিখাতের দুর্নীতিবাজদের ও ভুলনীতি প্রণেতাদের বিচার দাবি করেন। এছাড়াও তিনি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ না করে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানান। সপ্তাহব্যাপী সংগৃহীত গণস্বাক্ষর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা দেওয়া হবে বলে আয়োজকরা জানান।

আদালত খালেদা জিয়ার জামিনের প্রয়োজন মনে করেননি – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে ও ডাক্তারী রিপোর্ট দেখে আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। তিনি বলেন, ‘আদালত দেখেছে যে, বেগম খালেদা জিয়া তেমন কোন গুরুতর অসুস্থ্য নন। এই কারণে তাকে জামিন দেয়নি। এটা আদালতের এখতিয়ার।’ মন্ত্রী গতকাল শুক্রবার আখাউড়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। আনিসুল হক বলেন, বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির দোসররা এই দেশকে ব্যর্থ ও ভিক্ষুকের রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর গতিশীল ও দুরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করেছেন। জামায়াতের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বলেছেন বাংলাদেশে ভয়ংকর পরিস্থিতির আশংকা করছেন, এ সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনি চাচ্ছেন বাংলাদেশে একটি ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। কিন্ত ওই পরিস্থিতি বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশের জনগণের বিএনপি ও জামায়াতের দুঃশাসনের কথা মনে আছে। জনগণ ওই জায়গায় ফিরে যেতে চান না। আইন সচিব গোলাম সারওয়ার, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদীন, পৌর মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল, কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূইয়া, যুগ্ম আহবায়ক মো. সেলিম ভূইয়া, আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন বেগ শাপলু, সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়া হোসেন নয়ন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী আখাউড়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ও সলুই খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

 

মন্ত্রীদের ভারত সফর বাতিল ‘রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততায়’- কাদের

ঢাকা অফিস ॥ দুই মন্ত্রীর ভারত সফর বাতিলের পেছনে ‘বয়কটের’ কোনো বিষয় নেই জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার’ কারণে তারা আপাতত এই সফর স্থগিত করেছেন, পরে আবার যাবেন। ভারতে নাগরিকত্ব বিল নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যে বৃহস্পতিবার দেশটি সফর বাতিল করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। দিল্লি ডায়ালগ ও ইন্ডিয়ান ওশান ডায়ালগ উপলক্ষে তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয়দের সহযোগিতা নিয়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শুক্রবার সকালে মেঘালয় যাওয়ার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই মন্ত্রীর সফর বাতিলের ঘোষণা আসে। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রশ্নের মুখে পড়েন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। জবাবে তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর বাতিল বয়কটের কোনো বিষয় নয়। এটা আমি যতটুকু জানি, বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস একদম আমাদের দুয়ারে সমাগত। রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে তারা ভারত সফরে নাও যেতে পারে। তবে পরবর্তীতে যাবেন।” ভারতের সাথে সম্পর্কে টানাপড়েন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “সফর চিরতরে বাতিল হয়নি। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে, গঠনমূলক বন্ধুত্ব রয়েছে। “এটা যাতে ক্ষুণœ না হয় সে ব্যাপারে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমাদের কোনো বিষয়ে সমস্যা হলে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।”

ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব বিল প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ভারত একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেশ। তাদের পার্লামেন্টে যদি কোনো আইন পাস হয় সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। “আমাদের সেখানে মন্তব্য করা সমীচিন নয়। তবে যে বিষয়গুলো আমাদের অ্যাফেক্ট করে বা প্রতিক্রিয়াটা আমাদের কাছে আসে বা আমরা অ্যাফেক্টেড হই, অবশ্যই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আছে, সেখান থেকে অলরেডি বক্তব্য রাখা হয়েছে।” তিনি বলেন, “পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে বক্তব্য রাখা হয়েছে এর বাইরে আমার কোনো ভিন্ন বক্তব্য নাই।” বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা শুধু বিএনপি সরকারের আমলেই হয়েছে বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “শুধু এটুকু বলতে চাই, শেখ হাসিনার সরকারই হচ্ছে পঁচাত্তর পরবর্তী একমাত্র সংখ্যালঘুবান্ধব সরকার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মাঝে মাঝে হয়ত একটা-দুটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। “এত মানুষ, এখানে দুর্বৃত্ত আছে। দুর্বৃত্তায়নের চক্র আমরা ভেঙে দিতে চাই। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা আসলে কোনো দলীয় পরিচয়ে হয় না। দুর্বৃত্তদের কোনো দল নেই।“ ওবায়দুল কাদের বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বলতে যেটা বোঝায় সেটির দগদগে চিত্র দেখা যাবে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে তার সঙ্গে। সেটি কেবল একাত্তরের বর্বতার সঙ্গে তুলনা করা চলে।” সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য বিএনপি দ্রব্যমূল্যের ওপর ‘ভর’ করেছে অভিযোগ করে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, “দেশে আজ আমাদের বিরোধীরা চুপচাপ বসে নাই। তারা সরকারকে হটানোর জন্য নানামুখী তৎপরতা করছে। চক্রান্তের পথ বেছে নিয়েছে। “নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের যাতে কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয় সেদিকে তাদের একটা যোগসাজশ আছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। কিছু কিছু বিষয় আমরা জেনেছি বিরোধী দল থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।” সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত মোকাবেলায় নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাখারও আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। সভায় যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্রী শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক তৃতীয় দফায় বিজয় অর্জন করায় শুভেচ্ছা জানান ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে বাঙালি কন্যা রুশনারা আলী, রুপা হক ও আফসানা বেগমও ব্রিটিশ এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তাদেরও অভিনন্দন জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

“রাজনীতি মানে বেচা- কেনা নয়”

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, রাজনীতি মানে বেচা-কেনা নয়। রাজনীতিতে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, নিজের পকেট ভারি করার জন্য রাজনীতি নয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করতে হবে। শততার সাথে রাজনীতি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সারাবিশ্বে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন। ত্যাগী, সৎ এবং যোগ্য নেতাদের নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিনের নেতাদের কমিটি করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিহিংশার বসবতি হয়ে দু:সময়ের নেতাদের কমিটিতে না আনলে দলের ক্ষতি হবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে কমিটি করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, কর্মীরাই আওয়ামী লীগের শক্তি । কারো আচরনে কর্মীরা যেন মনে কষ্ট না পায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে এখন থেকে বিভিন্ন থানা এবং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন এবং সাফল্য তুলে ধরতে হবে। কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে বিএনপি নেতারা সরকারকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা আদালত অবমাননার শামিল। খালেদা জিয়ার জামিন সরকার নয়, আদালত দেবে। বিএনপি দেশের আইন-আদালত মানে না। তিনি বলেন, আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে পুলিশ মামলা করবে এটি স্বাভাবিক। বিএনপি আন্দোলনের নামে নাশকতা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেবে।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

দৌলতপুরে ঘরের ওপর ট্রাক উল্টে চাপা পড়ে নিহত-২

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥  কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বালি ভর্তি ড্রাম ট্রাক উল্টে ঘরের ওপর পড়ে তার তলে চাপা পড়ে ২জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের আমদহ গ্রামে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আমদহ গ্রামের মৃত ইদরাদ সর্দারে ছেলে মানিক ফকির (৬৫) ও একই এলাকার মরিয়ম পারটেক্স কারখানার কর্মচারী আব্দুর রহিম (৪৫)। আব্দুর রহিমের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে বালি ভর্তি একটি ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে উল্টে আমদহ গ্রামের রাস্তা সংলগ্ন মানিক ফকিরে টিনের ছাপরা ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা মানিক ফকির ও আব্দুর রহিম ট্রাকের তলে চাপা পড়ে ঘনাস্থলেই নিহত হ’ন। পরে গতকাল শুক্রবার ভোররাতে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে খুড়াখড়ি করে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ নিহতদের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে। দূর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ড্রাম ট্রাক উল্টে ঘরের ওপর পড়ে দু’জন নিহত হলে তাদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ড্রাম ট্রাকটি আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন

ঢাকা অফিস ॥ ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে সমাবেশ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেছে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে এ প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি রোকেয়া প্রাচী, সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, অভিনেত্রী শাহনুজ, তারিন জাহান, নূতন, অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার প্রমুখ। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৯ মাসের মাথায় যখন বাঙালি জাঁতি বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন পাকস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশকে মেধাশূন্য করতে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের বেঁচে বেঁচে হত্যা করে। এ নির্মম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে তারা আমাদের পঙ্গু করে দিতে চেয়েছিল, বিজয়কে ধুলিসাৎ করতে চেয়েছিল, তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বিজয় লাভ করেছি। আজ এ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করছি, তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। এসময় বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় ২৯তম স্থানে শেখ হাসিনা

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ-বাণিজ্য বিষয়ক সাময়িকী ফোর্বস ২০১৯ সালের বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের যে তালিকা করেছে, তাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২৯তম স্থানে রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। তার পরের অবস্থানে আছেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লগার্ড। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, যিনি গত সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিসংশন প্রস্তাব আনার ঘোষণা দিয়েছেন। তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন, যিনি গত জুলাইয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। পঞ্চম স্থানে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মটরসের চেয়ারপারসন ও সিইও মেরি বারা, ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন মেলিন্ডা গেটস। সপ্তম স্থানে আছেন ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টসের সিইও আবিগেইল জনসন। ক্ষমতাধর নারীদের এই তালিকায় উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে আর স্থান হয়েছে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের, তিনি আছেন ৩৪তম স্থানে। গত মার্চে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর মুসলমানদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসা নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ’ডুর্ন আছেন ৩৮তম স্থানে। ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ আছেন ৪০তম স্থানে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প আছেন ৪২তম স্থানে।

ক্ষমতাধরদের এই তালিকায় বার্বাডোজের পপতারকা রিহানা আছেন ৬১তম স্থানে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গীত শিল্পী টেইলর সুইফট রয়েছেন ৭১তম স্থানে। খেলোয়াড়দের মধ্যে টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়াম রয়েছেন ৮১তম স্থানে। একশ জনের এই তালিকায় সবশেষ নামটি গ্রেটা থানবার্গ, ধরিত্রীকে রক্ষায় স্কুল বাদ দিয়ে জলবায়ু আন্দোলনে শামিল হওয়া এই সুইডিশ কিশোরী এবার টাইম ম্যাগাজিনের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন। ফোর্বস’র গত বছরের তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল ২৬তম স্থানে; তার আগের বছর তিনি ছিলেন ৩০ নম্বরে, তার আগের বছর ছিলেন ৩৬ নম্বরে, ২০১৫ সালের তালিকায় তার অবস্থান ছিল ৫৯তম। এবার রাজনীতিতে সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় একধাপ উন্নতি ঘটেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ষষ্ঠ অবস্থানে আছেন তিনি, তার পরের স্থানগুলোতে আছেন নির্মলা সীতারামন, জেসিন্ডা অ’ডুর্ন ও রানী এলিজাবেথ। শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফোর্বস লিখেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা এখন চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনগণের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। “বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তি দিতে শেখ হাসিনা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন,” লিখেছে ফোর্বস। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ফরচুনের করা বিশ্বের প্রভাবশালী শীর্ষনেতাদের তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। প্রভাবশালীদের তালিকায় তাকে রেখেছিল টাইম ম্যাগাজিনও।