ঝিনাইদহে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ‘সত্য মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকালে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শিশু একাডেমীতে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিশু একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা তথ্য অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হান, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল লতিফ শেখ, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আয়ুব হোসেন, ঝিনাইদহ টিটিসির অধ্যক্ষ রুস্তম আলী। এসময় বক্তারা, তৃণমুল পর্যায়ের জনগণের নিকট সরকারের ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে সকল দপ্তরে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পোড়াদহে ‘সবার সাথে শিখবো’ প্রতিবন্ধী সংস্থার মতবিনিময় সভা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ রেলওয়ে ষ্টেশনের সেবার মনোন্নয়নের লক্ষ্যে সেবা গ্রহিতা ও কর্তৃপক্ষের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার সময় পোড়াদহ ক্রীড়া সংস্থার ওস্তাদ শুকুর আলী স্মৃতি মুক্তমঞ্চে এ সভার আয়োজন করে প্রতিবন্ধীদের সংগঠন মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের হাজরাহাটি গ্রামের ‘সবার সাথে শিখবো’ প্রতিবন্ধী সংস্থা । সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন আলহাজ ওমর ফারুক। প্রকল্প পরিচিতি করেন ব্রিটিশ কাউসিলের ডিএফ মাহমুদ আলী । সংস্থার সভাপতি সোহেল রানার সভাপতিত্বে এবং হাসিবুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পোড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পোড়াদহ রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার শরীফুল ইসলাম, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিম হাসান মেম্বর, পোড়াদহ রেলওয়ে ষ্টেশনের টিকিট কাউন্টার মাষ্টার আলিম হোসেন, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বর রাবেয়া খাতুন ভানু, পল্লী চিকিৎসক আজম আলী প্রমুখ। সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় পোড়াদহ রেলওয়ে ষ্টেশনের নানাবিধ সমস্যা, টিকিট কালো বাজারি, ট্রেনে প্রতিবন্ধীদের সিট বরাদ্দসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নাগরিকত্ব বিল

আসামে কারফিউ ভেঙে রাজপথে হাজারো জনতা

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া নাগরিকত্ব বিলের (সিএবি) প্রতিবাদে আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে কারফিউ অমান্য করে রাস্তায় নেমেছে হাজারো জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গুয়াহাটিতে লোকজন কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে আসে। আসামের ছাত্র সংগঠন এএএসইউ ও কেএমএসএস লোকজনকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানায়। গুয়াহাটির শহরতলীর কোনো কোনো এলাকায় পুলিশ গুলিবর্ষণ করেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় সিএবি পাস হওয়ার পরপরই আসামের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পুরো রাজ্যকে অস্থির করে তোলে। প্রতিবাদ চলতে থাকায় আসাম ও প্রতিবেশী ত্রিপুরায় সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গুয়াহাটি ও ডিব্র“গড়গামী বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়। হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে অংশ নিতে থাকায় এক পর্যায়ে আসামের চারটি এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। গুয়াহাটিতে প্রতিটিতে ৭০ জন করে সেনাবাহিনীর দুটি দল মোতায়েন করা হয়। এর পাশাপাশি  তিনসুকিয়া, ডিব্র“গড় এবং জোরহাট জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) । বিক্ষোভের মুখে আসামের বৃহত্তম শহর গুয়াহাটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। ডিব্র“গড়ে প্রতিবাদকারীরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলির বাড়িতে চড়াও হওয়ার পর সেখানেও কারফিউ জারি হয়। প্রতিবাদকারীরা সানোয়ালের লক্ষীনগরের বাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করে। তারা আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দুলিয়াজানের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। আসামজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে বৃহস্পতিবার সকালে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আসামের জনগণকে আশ্বস্ত করে টুইট করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। “আপনাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না,” টুইটে বলেন তিনি। বুধবার রাতে ডিব্র“গড়ের চাবুয়ায় প্রতিবাদকারীরা একটি রেলস্টেশনে আগুল লাগিয়ে দেয়। তিনসুকিয়া জেলার পানিতোলা রেলস্টেশনও প্রতিবাদকারীরা পুড়িয়ে দিয়েছে বলে নর্থইস্টান ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন। ইন্ডিগো বৃহস্পতিবার তাদের ডিব্র“গড়গামী ও সেখান থেকে ছেড়ে আসার কথা থাকা সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। স্পাইসজেটও গুয়াহাটি ও ডিব্র“গড়গামী ও সেখানে থেকে ছেড়ে আসার কথা থাকা তাদের সব ফ্লাইট শুক্রবার পর্যন্ত বাতিল করেছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলো একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার জন্য পুরো আসামজুড়ে ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী ত্রিপুরায় বন্ধের ডাক দিয়েছে বিরোধীদল কংগ্রেস। ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে এই রাজ্যটিতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে আসাম রাইফেলের ২১০ জন আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে রাজ্যটিতে সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্যকে মোতায়েন করা হয় বলে ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।   প্রতিবেশী আসামের ছাত্র সংগঠন এএএসইউ ও কেএমএসএস লোকজনকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানানোর পর কারফিউ অমান্য করে হাজারো জনতা রাস্তায় নামে।

 

ইবিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত

‘সত্য-মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল ১২ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবন চত্বর হতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট এবং ৩য় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ২০১৯ আয়োজন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ আশেক রায়হান মাহমুদ এবং আইসিটি সেলের ডাটাবেজ প্রোগ্রামার মোঃ হাফিজুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার মোঃ সাহেদ হাসান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী – প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু। তিনি বলেন, ‘এদেশে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের লোকজন নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছে। বর্তমান সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।’ বৃহস্পতিবার বিকালে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারার একাডেমির অডিটোরিয়ামে গারো সম্প্রদায়ের ২ দিনব্যাপী ওয়ানগালা উৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি ওয়ানগালা উৎসবের মাধ্যমে তারা তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ধরে রাখবেন। বাংলাদেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এ দেশে বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি অসংখ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।’ এ দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার সকল সম্প্রদায়ের নিজস্ব আচার অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার।’ নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সুলচনা সাংমার সঞ্চালনায় ওয়ানগালা উৎসবে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস ঝুমা তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা খানম, জেলা প্রেসক্লাব সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, জেলা পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম (শফিক), দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান, নির্বাহী পরিষদের সদস্য জেমস জর্নেশ চিরান, বিশিষ্ট লেখক মনিন্দ্র রেমা, ক্ষদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক শরদিন্দু সরকার (স্বপন হাজং)। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক দল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রয়োজন বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের সকল দেশের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতা ইতোমধ্যে এক ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। বর্তমান হারে কার্বন নির্গমন হতে থাকলে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। অথচ এক ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির ভয়ানক পরিণতি এখন পৃথিবী দেখছে। এই তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে পৃথিবীর অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। এই অবস্থায় পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে সব দেশের সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাই আমরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের সকল দেশের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ চাই।’ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের নিষ্পাপ শিকার এ কথা উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে বাংলাদেশের মাথাপিছু কার্বন নি:সরণের হার মাত্র দশমিক ৫ টন। আর উন্নত দেশগুলোর মাথাপিছু গড় কার্বন নিৎসরণ ৬ টন। তথ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, দায়ী না হয়েও বাংলাদেশ সীমিত সম্পদ নিয়ে নিজ উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সারাদেশে ৫০ লাখেরও বেশি সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। ড. হাছান বুধবার রাতে স্পেনের মাদ্রিদে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ‘কনফারেন্স অব পার্টিস’র (কপ) ২৫তম সম্মেলনে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক পার্শ্ব সম্মেলনে সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ, কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে এ পার্শ্ব সম্মেলনের আয়োজন করে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, ওই সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন দৃশ্যমান। তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবনাক্ততা বেড়ে চলেছে। দেশের কোন কোন অঞ্চলে মরুকরণ দেখা দিয়েছে। সম্ভাবনার চেয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কম হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পানির প্রধান উৎস হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক হুমকির মুখে। পরিবেশবিদ ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ক্ষুদ্রদ্বীপ দেশগুলোও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে। এসব দেশে মরুকরণেরও সুযোগ নেই। তাছাড়া এসব দেশের জনসংখ্যা কম। কিন্তু বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলেই ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস এ কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন,এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাবে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য জাফর আলম ও রেজাউল করিম, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস ও পরিবেশ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী । অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূরুল কাদের। বাংলাদেশে অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তাকারি দেশগুলোর মধ্যে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা তাদের কার্যক্রম এ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদ সত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রপথিক। তিনি বলেন, ‘আমরা সবার আগে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘এ্যাকশন প্ল্যান’  তৈরি করেছি’। নিজস্ব বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থে ৭২০টি অভিযোজন প্রকল্প গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্রদেশ। কিন্তু জনসংখ্যা বেশি। তিনি বলেন,‘আমাদের অগ্রাধিকার খাত হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে আমরা অগ্রাধিকার খাতের দিকে নজর দিতে পারছি না। অথচ উন্নত দেশের ভোগ-বিলাসের কারণে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম বিপদাপন্ন দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর অনেক প্রাণিই হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন,‘ডাইনোসারের মতো প্রাণীও বিলীন হয়ে গেছে পৃথিবী থেকে। কিন্তু আমরা টিকে থাকতে চাই। আমাদের টিকে থাকার জন্য অনেক দেশই তাদের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ি কাজ করছে না। আবার কোন কোন দেশ পৃথিবীর রক্ষাকবচ হিসাবে পরিচিত ‘প্যারিস-চুক্তি’ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এটা আমাদের জন্য হতাশাজনক।’

নির্বাচন কমিশন গোটা জাতির মাথা হেঁট করে দিচ্ছে – টিআইবি

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনে একের পর এক কেলেঙ্কারির খবর বেরিয়ে আসার প্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) প্রতিষ্ঠানটির সব কমিশনারদের দ্রুত অপসারণ করে নির্বাচন কমিশনকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার, কমিশন সচিবালয় এবং অন্যান্য কমিশনারদের ন্যক্কারজনক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির যে খবর দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা অভূতপূর্ব ও গোটা জাতির জন্য বিব্রতকর। অন্তত একজন কমিশনার একজন নিরাপত্তারক্ষীর নিয়োগের জন্য কমিশন সচিবালয়কে সুপারিশ করেছিলেন বলে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়। সেই সুপারিশ রক্ষা করা হয়নি বলে কমিশনাররা তোলপাড় করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক পদে থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ যে সরাসরি নৈতিক স্খলন সেটা অনুধাবন করার মতো অবস্থাতেও নির্বাচন কমিশনাররা নেই। অন্যদিকে কমিশন সচিবালয়ের সঙ্গে কমিশনারদের অনাকাঙ্খিত দ্বন্দ্বের সংবাদ এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে পদদলিত করেছে। সাংবিধানিক পদাধিকারীরা যখন নিজেদের সচিবালয়ের বিরুদ্ধেই অনিয়মের অভিযোগ করেন, তখন সেটার গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। দেশের সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেছি।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও এর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় পচন ধরেছে। আর এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের মতো সুবিবেচনা ও সক্ষমতা আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার বা কমিশন সচিবালয়ের কাছে আশা করার মতো সাহস পাচ্ছি না। কারণ একের পর এক কেলেঙ্কারির পর তারা যেভাবে স্বপদ আঁকড়ে ধরে আছেন, তাতে এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে সংশ্লিষ্ট সবাই নিজেদের জবাবদিহিতা ও ন্যূনতম আত্মসমালোচনার ঊর্ধ্বে বলে ধরে নিয়েছেন।’ নির্বাচন কমিশনের এই নির্বিকার আচরণ থেকে আমরা কী ধরে নেব? – এমন প্রশ্ন তুলে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন দেশকে এক অভূতপূর্ব নির্বাচনের দায় চাপিয়ে দিয়েছেন, যার পরতে পরতে অনিয়মের অভিযোগ সত্ত্বেও কোনো তদন্ত হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনাররা এবং সচিবালয়ের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণের নামে জনগণের করের টাকা হরিলুট করেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তারপরও ছিল অস্বস্তিকর নিরবতা। এরপর ধরা পড়ল বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গারা জাতীয় পরিচয়পত্র নিচ্ছেন অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে, যাতে জড়িত কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এভাবে দেশবাসীর সঙ্গে এমন ভয়াবহ প্রতারণা ও দেশের নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি সৃষ্টি করা হল। এখন সবাই মিলে লড়াই করছেন নিম্নপদস্থ কর্মচারী নিয়োগের তদবির আর অনিয়ম নিয়ে।’ এই নির্বাচন কমিশন গোটা জাতির মাথা হেঁট করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সেই সত্যটাও কমিশন সংশ্লিষ্টরা সম্ভবত ভুলে গেছেন। তাদের অধীনে ভবিষ্যৎ যে কোনো কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। গণতন্ত্রের স্বার্থেই এহেন অবমাননাকর অধ্যায়ের শেষ হওয়া দরকার। ব্যর্থতা এবং নৈতিক স্খলনের দায় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা অন্যান্য কমিশনাররা যে সরে যাবেন না সেটা এতদিনে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারা তাদের শপথের অবমাননা করছেন, সংবিধান অবমাননা করছেন এবং নিয়োগকর্তা হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অসম্মানের ঝুঁকি সৃষ্টি করছেন।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি সশ্রদ্ধ আবেদন করছি, এই বিতর্কিত ব্যক্তিদের দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য। পাশাপাশি এ পর্যন্ত যত অনিয়ম হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

 

 

কুড়িগ্রাম জেলা আ’লীগের সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বিচার বিভাগ পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকারের কিছু করার নেই। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বিচার বিভাগ পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। খালেদা জিয়ার মামলা দুর্নীতির মামলা। জামিন হবে কিনা এটা আদালতের এখতিয়ার। এখানে সরকারের করার কিছু নেই।’ ওবায়দুল কাদের গতকাল বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি আইন মানেনা, আদালতে মানেনা। বিচারের রায় মানেনা। আদালতের উপর চাপ দিতে কোর্ট প্রাঙ্গণকে হাঙ্গামা করে রনাঙ্গণে পরিণত করে। এই বিএনপির হাতে দেশ কী নিরাপদ থাকবে?’ তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি ভুলের চোরাবালিতে আটকে গেছে। বিএনপি এখন পথ হারিয়ে দিশেহারা পথিকের মতোন। বিএনপি দুর্বার আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চায়। বিএনপির আন্দোলনের হুমকিতে সরকার ভয় পায়না। এগারো বছর ধরে আন্দোলনের হাকডাক শোনা যাচ্ছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতির অভিযান সারাদেশে শুদ্ধি অভিযান চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই শুদ্ধি অভিযানে কে যে কখন আটকা পড়েন। দেখে শুনে সব দুর্নীতিবাজকে গ্রেপ্তার করা হবে, কেউ বাদ যাবে না। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের স্থান নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ অপরিহার্য নয়। কেউ পদ-পদবীকে ব্যক্তিগত তালুক ভাববেন না। জমিদারী শেখ হাসিনার আমলে চলবেনা। সুবিধাবাদীদের নিয়ে দল ভারি করবেন না। আওয়ামী লীগে অনেক নিবেদিত প্রাণ কর্মী আছে, বাইরের লোক ভাড়া করার দরকার নেই। এর আগে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এমপি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মন্ডলের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজম, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর ও এমএ মতিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য উর্দ্ধগতির প্রতিবাদ ও সু-শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে কুষ্টিয়ায় জাসদের গনবিক্ষোভ সমাবেশ

সুশাসনের জন্য শুদ্ধি ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান জোরদার দাবিসহ চাউল, ডাউল, পিয়াজ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য উর্দ্ধগতির প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় গনমিছিল সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহষ্পতিবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা জাসদের আয়োজনে পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বরে সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে থানা মোড়স্থ স্বাধীনতা চত্বরে জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, জেলা জাসদের সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী অসিত কুমার সিংহ রায়, এ্যাড. জয়দেব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কারশেদ আলম, জাসদ নেতা এসএম আনছার আলী, বশির উদ্দিন বাচ্চু, যুবনেতা মাহবুব হাসান প্রমুখ। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মদান ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির মধ্যদিয়ে অর্জিত স্বাধীনতাত্তোর কালে অদ্যবধি দেশবাসীর আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কাছে গোটা জাতি জিম্মি হয়ে চরম অসহায় জীবন যাপন করছে। লাফিয়ে লাফিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে জনজীবন আজ নাভিশ^াস। অন্যায়ভাবে অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক বলয়ের প্রচ্ছন্ন মদদে জনজীবন বিপর্যস্ত করেছে। এক্ষে ত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ফলপ্রসু উদ্যোগের ঘাটতি থাকায় এই লুটপাটকারীরা চরম বে-পরোয়া হয়ে উঠেছে যা টেকসই ও সুষম উন্নয়নের অন্তরায়। তাই সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতিকে অব্যহত রাখতে হলে আইনের শাসন নিশ্চিতকরনসহ সু-শাসন প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মেহেরপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আনারুল ইসলাম (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। সে মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুব ইউনিয়নের রাধিকানগর গ্রামের বাসিন্দা। এদিকে নিহতের ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক হৃদয় হোসেন (১৩) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। হৃদয় মেহেরপুর সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের  ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান বৃদ্ধ আনারুল মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের নিকট রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগামি একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয় জনতা মোটরসাইকেল চালক হৃদয়কে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন সর্বোচ্চ আদালতেও নাকচ

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন সর্বোচ্চ আদালতেও নাকচ হয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ বিচারকের আপিল বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত দেয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে বলেছে আপিল বিভাগ। জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাত বছরের সাজার রায়ের পর হাই কোর্টে আপিল করে জামিন চেয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদাসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত- এ তিন বিবেচনায় হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ জুলাই আবেদনটি খারিজ করে দিলে খালেদার আইনজীবীরা আপিল বিভাগে আসেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন জয়নুল আবেদীন ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরও কয়েকজন। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে অংশ নেন। আদেশের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “জামিন চেয়ে আমরা আইনি লড়াই চালিয়েছি। সাত বছরের সাজায় জামিন না দেওয়া নজিরবিহীন। এটি সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি কলঙ্কজনক ঘটনা হয়ে থাকবে।” দুর্নীতির দুই মামলায় মোট ১৭ বছরের দন্ড মাথায় নিয়ে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে বিভিন্ন মামলায় জামিন হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকিয়ে ছিলেন জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার জামিন শুনানির দিকে। এ মামলায় জামিন হলেই তার মুক্তির পথ খুলবে বলে তারা আশা করছিলেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতেও জামিন না মেলায় আপাতত তার মুক্তি মিলছে না।  হাই কোর্ট এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিলে গত ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ নভেম্বর আপিল বিভাগ জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন চায়। গত ৫ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা প্রতিবেদন দিতে না পারায় এজলাসে তুমুল হট্টগোলের মধ্যে তাদের আরও ছয় দিন সময় দিয়ে ১২ ডিসেম্বর আদেশের দিন ঠিক করে আদালত। সেদিনের হট্টগোলের পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদালত কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নেয় হয় কড়া নিরাপত্তা। আপিল বিভাগের তালিকাভুক্ত না হলে আইনজীবীদের আদালত কক্ষে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় সকালে আদালত বসার পর প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেনে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সবাই ভেতরে ঢুকতে পারলেও বিএনপিপন্থিদের তালিকাভুক্তি আছে কি না তা দেখা হচ্ছে। এমনকি তার জুনিয়রকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের মতামতের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি দুই পক্ষের ৩০ জন করে আইনজীবী থাকার অনুমতি দেন। ঠিক হয়, খালেদা জিয়ার মামলার শুনানি শুরুর আগে ৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে। তখন সবাই বেরিয়ে গিয়ে আবার ঢুকবে। উভয় পক্ষের ৩০ জন করে আদালতকক্ষে থাকতে পারবে। কিন্তু সকাল ১০টার কিছু সময় পর আপিল বিভাগে খালেদার মামলার শুনানি শুরু হলে দেখা যায় কোনো পক্ষই বেঁধে দেওয়া সংখ্যা মানেনি। এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি দুই পক্ষের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কেউ কথা শোনেননি।” পরে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আগের ও বর্তমান দুটি মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সেই প্রতিবেদনের সারমর্ম উপস্থাপন করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, “আপিল বিভাগ ১০ বছর সাজার আসামিকেও জামিন দিয়েছে। পাকিস্তানের মত বর্বর দেশেও নওয়াজ শরীফকে মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়েছে, লন্ডনে পঠিয়েছে। মানবিক বিবেচনায় আমরা তার (খালেদা জিয়া) জামিন চাইছি।” বেলা ১১টার দিকে আদালত বিরতিতে যায়। সাড়ে ১১টায় আবার শুনানি শুরু হলে জয়নুল আবেদীন বক্তব্য উপস্থাপন করেন। জয়নুলের পর বক্তব্য উপস্থাপন করেন খালেদার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “দুই মামলায় তিনি (খালেদা জিয়া) ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এটাকে শর্ট সেনটেন্স বলা যায় না। তাছাড়া দুই মামলাতেই আপিল শুনানির জন্য রেডি। এই অবস্থায় জামিন হওয়া উচিৎ নয়।” দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃত করে শুনানিতে বলেন, “চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসকরা তার যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারছেন না। আমরা তার জামিন আবেদন নাকচ করার আর্জি জানাচ্ছি।” বেলা ১টায় শুনানি শেষে মিনিট দশেক বিরতি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানায় আপিল বিভাগ।  হাই কোর্টের জামিন খারিজের আদেশই তাতে বহাল থাকে।

 

যন্ত্রপাতি কেনায় অনিয়ম

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার সরকারের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুফের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ তাপস কুমার সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি ফান্ডের ১৪ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় তদন্ত কমিটি অর্থ তছরুপের বিষয়টি প্রমানও পেয়েছেন। এ বিষয়ে সরকারি চাকুরি বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দেয়া হয়েছে। তবে কোন অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান ডাঃ তাপস কুমার সরকার।

জানাগেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে হাসপাতাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট (এইচএসএম) অপারেশন প্লানের আরপিও (জিওবি) খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অনুকুলে ১ম ও ২য় কিস্তিতে ছাড়কৃত ১৪ কোটি টাকার বেশি ছাড় করা হয়।

ছাড়কৃত ১৪ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা দিয়ে নিম্নমানের ও বেশি দামে যন্ত্রপাতি কেনা হয়।  এসব ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ডাঃ তাপস কুমার সরকার অনিয়ম করেন। যন্ত্রপাতি কেনার নামে ছাড়কৃত অর্থের বেশির ভাগ নয়ছয় হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত টিম গঠন করা হয়। একাধিক টিম কুষ্টিয়ায় এসে তদন্ত করে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে আরএমও’র অনিয়মের বিষয়টি প্রমান পান। তদন্ত টিম বিস্তারিত তুলে ধরে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সর্বশেষ স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের সচিব আসাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে তাপস কুমার সরকারের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে গত ৩০ অক্টোবর চিঠি দেন। সেই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে হাসপাতাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট (এইচএসএম) অপারেশন প্লানের আরপিও (জিওবি) খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অনুকুলে ১ম ও ২য় কিস্তিতে ছাড়কৃত ১৪ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা দ্বারা ক্রয়কৃত এমএসআর সামগ্রী ও ভারী যন্ত্রপাতিসমূহের অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন ও তদন্তে প্রমানিত হয়েছে। এ ধরনের কাজকর্ম সরকারি কর্মচারি আচরন বিধিমালা অনুযায়ী ‘ অসদাচরণ ও দুর্নীতি’ হিসেবে গন্য হয়।

তাই ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারি (শৃংখলা ও আপিল)  বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচারন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হলো। একই সাথে কেন উক্ত বিধিমালার অধিনে তার বিরুদ্ধে দন্ড প্রদান করা হবে না তা নোটিশ প্রাপ্তির ১০দিনের মধ্যে জানাতে বলা হলো ও একই সাথে ব্যক্তি শুনানি চাইলেও বিষয়টি জানানোর নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। এ চিঠি পেয়ে আরএমও ডাঃ তাপস কুমার সরকার জবাব দিয়েছেন। ডাঃ তাপস কুমার সরকার বলেন, চিঠি পাওয়ার পর আমি জবাব দিয়েছি। সেখানে আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি। বাকিটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখবেন আসলে দুর্নীতি হয়েছে কি-না।’ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোছাঃ নুরুন নাহার বেগম বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে শুধু আবাসিক মেডিকেল অফিসার নয়, ক্রয় কমিটির সাথে জড়িত ঠিকাদারসহ ৪ জনকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৫ সদস্যের টিম বিষয়টি তদন্ত করেছে। আশা করি এ বিষয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বিস্তারিত বিষয় আমাদের তরফ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।’  ডাঃ তাপস কুমার সরকার ৪ বছরের বেশি সময় ধরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চাকুরি করছেন। তিনি পরিশ্রমী চিকিৎসক বলে সবার মাঝে পরিচিত। আরএমও হলেও প্রতিদিন তিনি নিজেই শতাধিক রোগী দেখেন হাসপাতালের চেম্বারে। এর মাঝে তার প্রমোশন হলেও তিনি কর্মস্থল ছাড়েননি বলে জানা গেছে। একই সাথে তিনি জেলা কারাগারের দায়িত্বে আছেন।

 

আদালতের সিদ্ধান্ত মানতে হবে – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারপতি যথেষ্ট বিবেচনা করেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ করেছেন বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে খালেদার জামিন আবেদন নাকচ করার পর প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। এদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর শুনানি নিয়ে খালেদার জামিন আবেদন নাকচ করে বেঞ্চ। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “আদালতের কাছে উনারা জামিন চেয়েছিলেন। আমি যতটুকু দেখেছি, জামিনের দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ তারিখে (আদালত) বলেছিলেন একটি মেডিকেল রিপোর্ট তাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য। সেই মেডিকেল রিপোর্ট উপস্থাপনের পর বিবেচনা করবেন, প্রথম শুনানির দিন বলেছিলেন। “আজকে আমি যতটুকু জেনেছি বিজ্ঞ আপিল বিভাগ এই রিপোর্ট পেয়েছেন এবং তারা তাদের বিবেচনায় দেখেছেন যে এইখানেই (বিএসএমএমইউ) তার (খালেদা) চিকিৎসা করা যায়, সেটা অবর্জারভেশনে আছে আমি শুনেছি। জামিনের আদেশ তারা নাকচ করে দিয়েছেন।” আইনমন্ত্রী বলেন, “আপিল বিভাগের সম্মানিত ছয়জন বিচারপতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা নিশ্চয়ই যথেষ্ট বিবেচনা করেছেন। বিবেচনায় তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমরা যেহেতু আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, আমাদের সেটা মানতেই হবে। আমি মনে করি অবর্জারভেশন যেটা দিয়েছেন, তার আলোকে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু করণীয় থাকে তারা নিশ্চয়ই করবে।” জামিন নাকচের পর বিএনপি আইনজীবীরা বলেছেন, যে মেডিকেল রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়েছে সেটা সঠিক নয়। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “শুনানির প্রথম তারিখে আপনারা দেখেছেন আদালত কক্ষে তারা কী তান্ডব সৃষ্টি করেছে। আমি তখনই বলেছিলাম- যখনই এমন কিছু হয়, যেটা তাদের পক্ষে যায় না, যত যুক্তিই থাকুক রায়ের বা প্রতিবেদনের, ওনারা অভ্যাসগতভাবে বলেন এটা ঠিক না। “ছয়জন ডাক্তার পরীক্ষা করে তাদের মতামত দিয়েছেন বলে শুনেছি। উনারা তো কেউ ডাক্তার নন। আসল ডাক্তার যখন প্রতিবেদন সর্বোচ্চ আদালতে দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে সেটা সম্পর্কে সন্দেহ উনারা করতে পারেন, আমি করি না।” সঠিক চিকিৎসা মানে কী প্যারোলে মুক্তি দিয়ে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করা- এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, “উনারা জামিন চেয়েছিলেন মেডিকেল গ্রাউন্ডে। সেটা আদালত বিবেচনা করেছেন। সর্বোচ্চ আদালত তার মেডিকেল রিপোর্ট দেখে, বিবেচনা শেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তার যে অবস্থা জামিন দিয়ে তাকে অন্য কোথাও চিকিৎসা দেয়ার প্রয়োজন নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যে চিকিৎসা হচ্ছে সেটাই যথেষ্ট।” পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দেখেন উনাদের তো যথেষ্ট আইনজীবী আছেন। আমি রিপোর্টে শুনেছিলাম ৪৩ জনের প্যানেল আছে। আমার মনে হয় ওই ৪৩ জনের প্যানেলই উনাকে বুদ্ধি দেয়ার জন্য যথেষ্ট, আমার বুদ্ধি উনার প্রয়োজন নেই।” রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দ্য হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের (আইসিজে) আদেশ বা রায়ের পর পরবর্তী কর্মপন্থায় যাওয়া হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ কোর্টে বাংলাদেশ কেন মামলা করল না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের এখতিয়ার যেটা, মিয়ানমারে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা বিচারকরা দেখবেন এবং দুই পক্ষের কথা শুনবেন। “বাংলাদেশ (মামলা) করতে পারত নাকি পারত না, এ মুহূর্তে এটি অ্যাকাডেমিক ডিসকাশন, এই মুহুর্তে এ আলোচনায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয় রাখাইন স্টেটে যে নৃশংসতা হয়েছে সারা বিশ্বে তা গভীরভাবে অনুধাবন করার জন্য, প্রচার করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।“ রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরাতে এ কোর্টের রায়ে কোনো লাভ হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস যে রায় দেবে তার ওপর নির্ভর করবে যে আমরা কি ফল পাব। আজ এ ফল সম্পর্কে বলা হবে প্রিমেচিউর।” রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সহজ হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী এক্ষেত্রে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন।

খুলনা রেঞ্জ পুলিশের মাসিক সভা

সেরা পুলিশ সুপার কুষ্টিয়ার এসএম তানভীর আরাফাত, ওসি দৌলতপুর থানার আরিফ

নিজ সংবাদ ॥ মাদক, সন্ত্রাস, মামলার দ্রুত চার্জশীট দাখিল, আদালতে স্বাক্ষী হাজিরায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় রেঞ্জ সেরা হয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। আর সেরা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হয়েছেন জেলার দৌলতপুর থানার কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম আরিফ। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনায় মাসিক সভায় খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার ড. মুহিদ উদ্দিন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত ও ওসি আরিফুল ইসলাম আরিফের হাতে ক্রেষ্ট ও সনদ তুলে দেন। গত এক বছর আগে কুষ্টিয়ায় এসপি হিসেবে যোগ দেন এসএম তানভীর আরাফাত। এ সময়ের মধ্যে মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন মামলার দ্রুত চার্জশীট প্রদান ও স্বাক্ষী হাজিরা ও ওয়ারেন্ট তামিলে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। এছাড়া থাকাগুলোতে ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেন। এছাড়া সীমান্ত ঘেঁষা দৌলতপুর থানাকে মাদকমুক্ত ও অপরাধ দমনে  ভূমিকা রাখায়  ওসি আরিফ রেঞ্জ সেরা হয়েছেন।

উন্মুক্ত স্থানে নয় থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকাসহ সারাদেশের কোথাও উন্মুক্ত স্থানে ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম প্রহর (থার্টি ফার্স্ট নাইট) উদযাপন করা যাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আসন্ন বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২৫ ডিসেম্বর বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট খুব কাছাকাছি। খ্রিস্টান ভাইয়েরা যাতে সুন্দরভাবে বড়দিন উদযাপন করতে পারেন এবং থার্টি ফার্স্ট নাইটে যাতে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা না হয় সেজন্য এই সভা করেছি।’ ঢাকাসহ সারাদেশে প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি চার্চের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি খ্রিস্টানদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কাকরাইল, মিরপুর, বনানীসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ চার্চে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। সিসি ক্যামেরাসহ বিশেষ প্রয়োজনে প্রবেশ মুখে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্য ব্যবস্থা থাকবে।’ ‘বড়দিন উপলক্ষে পুলিশের কন্ট্রোল রুম থাকবে। চার্চের একজন করে ফোকাল পয়েন্টে যেকোনো পরিস্থিতিতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে।’ আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে সব চার্চগুলোতে। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।’ থার্টি ফার্স্ট নাইটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘খ্রিস্টীয় নববর্ষ কেন্দ্র করে রাস্তায়, ফ্লাইওভারে কনসার্ট, নাচ-গানের আয়োজন করা যাবে না। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের গান-বাজনার আয়োজন করা যাবে না। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে সব বার বন্ধ থাকবে। এরই মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলবে।’ তিনি বলেন, ‘বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে ভুভুজেলা বাজানো, পটকা ফোটানো এবং আতশবাজি ফোটানো যাবে না। থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা থেকে ১ জানুয়ারি সকাল ১০টা পর্যন্ত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা যাবে না।’ ‘৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার থাকা গাড়িগুলো ভেতরে ঢুকতে পারবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট সুন্দরভাবে হবে। সুশৃঙ্খল অবস্থায় থাকবে এটাই আমরা আশা করি।’ বড়দিন ও থার্টি ফার্স্টনাইট নিয়ে কোনো ধরনের আশঙ্কা আছে কি না- জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘কোনো আশঙ্কা নেই, আমি আগেই বলেছি আমরা প্রতিটি বিশেষ দিনে কিংবা জাতীয় দিবসে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আগে সভা করে থাকি। যাতে সবাই নিরাপদে ও নির্বিঘেœ অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন। সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

রূপপুরের বালিশকান্ড

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ১৩ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা অফিস ॥ পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘বালিশ কেলেঙ্কারির’ ঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুল আলমসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চারটি মামলায় রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন। মাসুদুল ছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা গণপূর্ত উপ-বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল কবির ও মোস্তফা কামাল, পাবনা গণপূর্ত উপ-বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, আহমেদ সাজ্জাদ খান, সুমন কুমার নন্দী, আবু সাঈদ, রওশন আলী ও তাহাজ্জুদ হোসেন, সহকারি প্রকৌশলী তারেক, আমিনুল ইসলাম, মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের স্বত্ত্বাধিকারী আসিফ হোসেন ও সাজিদ কন্সট্রাকশন লিমিটেডের স্বত্ত্বাধিকারী শাহাদত হোসেন। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পের আসবাবপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয়ের অভিযোগ ওঠার পর প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। ওই ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটিও কাজ করছে। সেখানে একটি বালিশের পেছনে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা ব্যয় দেখানোর খবর গণমাধ্যমে আসায় এটা ‘বালিশ দুর্নীতি’ হিসেবে পরিচয় পেয়েছে।

রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রমাণ সম্ভব কি না

ঢাকা অফিস ॥ দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি চলছে। গণহত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়ে মিয়ানমারের পক্ষে সাফাই গেয়ে দেশটির নেত্রী অং সান সু চি রাখাইনে সহিংসতার কথা স্বীকার করলেও একে কোনোভাবেই ‘গণহত্যা’ বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, গণহত্যা কী এবং রোহিঙ্গা গণহত্যা আসলে প্রমাণ সম্ভব কি না। বিশ্লেষকরা বলছেন, গণহত্যার ঘটনা প্রমাণ করা কঠিন; কিন্তু অসম্ভব নয়। লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সেসিলি রোস বলেন, গণহত্যা একটি উচ্চ স্তরের আন্তর্জাতিক অপরাধ, যেটা সচরাচর ঘটে না। তিনি বলেন, গণহত্যা প্রমাণের সবচেয়ে কঠিন দিক হচ্ছে, অপরাধের মনস্তাত্ত্বিক উপাদান বা উদ্দেশ্য প্রমাণ করা অর্থাৎ গণহত্যা সংঘটনে কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের অভিপ্রায় প্রমাণ করা। তার মতে, ‘গণহত্যার মাপকাঠি খুবই উঁচু।’ ১৯৪৪ সালে প্রথম ‘জেনোসাইড’ শব্দটি ব্যবহার করেন পোল্যান্ডের ইহুদি আইনজীবী রাফায়েল লেমকিন। জার্মানি ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, যদি ইচ্ছে করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা করা হয়, তাহলে সেটি ‘জেনোসাইড’ বলে বিবেচিত হতে পারে। কী ধরনের ঘটনাকে জেনোসাইড বলা যায়- যখন জাতিগত ও ধর্মের কারণে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়, একটি দেশ যখন ঘোষণা দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়, তখন সেটি জেনোসাইড বলে বিবেচিত হতে পারে। রোহিঙ্গা গণহত্যার ব্যাপারে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্টে ইতিমধ্যে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের গণহত্যার মাধ্যমে তারা ধ্বংস করতে চেয়েছিল এবং তাদের পালাতে বাধ্য করেছে।’ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, রোহিঙ্গা শিশু ও নারীরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর লক্ষ্য ছিল। এ কারণে দেশটির সেনাবাহিনীকে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। দলের অন্য এক সদস্য এন্ড্র লয়েনস্টেইন বলেন, মিয়ানমার বর্ণবৈষম্যে বিশ্বাস করে এবং তাদের এ ধরনের কাজের হাজার হাজার প্রমাণ আছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ৩৯২টি গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পুড়িয়ে দিয়েছে। এখনও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকারের হাত থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষা করা সম্ভব। ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক মাইক বেকার বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার দাবি এই মামলার প্রথম ধাপ।’

গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি ॥ একজন আটক 

বন্ধুর জন্মদিনে অ্যালকোহল পান

কুষ্টিয়ায় বিকেএসপির ছাত্রসহ তিন তরুণের মৃত্যু

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বন্ধুর জন্মদিনে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানে বিকেএসপি’র এক ছাত্রসহ তিন তরুণ মারা গেছেন। এরা হলেন জাহিদুর রহমান সাজিদ (১৭), ফাত্তাউল ফাহিম (১৮) ও পাভেল ইসলাম (১৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া  জেনারেল হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার। তিনি জানান বিকেল ৩টার দিকে একে একে ৬ তরুনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে তাদের স্বজনরা। তারা অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করেছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজিদ মারা যান এবং ৬টার দিকে ফাহিম ও সাড়ে ৭ টার দিকে পাভেল মারা যান। এরা একে অপরের পরিচিত ও বন্ধু। বন্ধুর জন্মদিনে শহরের কোর্ট ষ্টেশনের সামনের একটি হোমিও প্যাথী দোকান থেকে স্পিরিট ক্রয় করে তারা। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম নামের এক হোমিও চিকিৎসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তার দোকান সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন।

নিহত ফাহিম শহরের থানাপাড়া এলাকার সাগর হোসেনের ছেলে এবং আমলা সরকারী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সাজিদ একই এলাকার এনএস রোডের মফিজুর রহমানের ছেলে এবং বিকেএসপির বাস্কেটবল টিমের সদস্য। পাভেল থানাপাড়া পরাণ বক্স লেনের শেখ আরমানের ছেলে এবং শহরের একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেএসপির বাস্কেট বল টিমের খেলোয়াড় জাহিদুর রহমান সাজিদের জন্ম ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষে দুপুরে কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজ মাঠে জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করে বন্ধু ও পরিচিতরা। জন্মদিনের পার্টি উপলক্ষে আগে থেকেই শহরের কোর্ট ষ্টেশনের সামনে অবস্থিত রাফি হোমিও হল থেকে স্পিরিট কেনা হয়। পার্টি চলাকালে বন্ধুরা মিলে সেই স্পিরিট পান করে। এর কিছুক্ষণ পর সাজিদসহ অন্তত ৬জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখানে উপস্থিতরা তাদেরকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে । হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে মারা যান সাজিদ। সন্ধ্যায় মারা যান ফাহিম এবং রাত সাড়ে ৭টায় দিকে পাভেল নামে আরো একজন মারা যান। আর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে আতিকুল (২০), সরুজ (১৮) ও শান্ত (২০) নামের তিন বন্ধু।

শান্তর বাবা রাজু আহম্মেদ বলেন, এক বন্ধুর জন্মদিনে ছয় বন্ধু  বেলা আড়াইটার দিকে কলেজ মাঠে গিয়ে ইডা-উডা খায়। পরে সবাই বাড়ি চলে যায়। এরপর শান্তকে হাসপাতালে আনার পর শুনি যে আরও পাঁচজনেরও এই অবস্থা। তবে কার জন্মদিনে তারা ঠিক কী খেয়েছিলেন সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ছয় বন্ধু একসাথে হাসপাতালে এসে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানাই যে ডিম খাওয়ার পর থেকে তাদের মাথা ঘুরছে, শরীরের ভেতর অস্থির লাগছে। ব্যাপারটি সন্দেহ মনে হলে তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা চিকিৎসককে স্পিড ক্যানের সাথে স্পিরিট মিশিয়ে সেবনের বিষয়টি জানায়।

কুষ্টিয়ার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, বিষাক্ত স্পিরিট পান করে ৬জনের মধ্যে ৩জন মারা গেছে। বাকি ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তিরা হলেন- শান্ত ও আতিক। এছাড়া সুরুজ নামে এক যুবককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতদের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বন্ধু ফাহিমের জন্মদিন উপলক্ষে সাজিদ, পাভেল, সুরুজ, শান্ত ও আতিকুল বিকেলে শহরের পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে একসাথে মিলিত হয়। এ সময় তারা স্পিড এনার্জি ড্রিংক এর সাথে স্পিরিট মিশিয়ে সেবন করে। সেবনের কিছুক্ষন পরে তাদের শরীরের ভেতর অস্থির লাগলে সবাই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজিদ, ফাহিম, পাভেলের মৃত্যু হয়।

নিহত সাজিদের মামা পিয়াস জানান, গত মাসে ভাগ্নে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিল। সে বিকেএসপির বাস্কেট বল খেলোয়াড় ও নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। তিনি আরো জানান, শুনেছি শহরের কোর্ট ষ্টেশনের পেছনে অবস্থিত রাফি হোমিও হল থেকে ১০০টাকায় তারা কাচের বোতলে পধপড়হরঃব হধঢ় নামে স্পিরিট জাতীয় কিছু কিনে খেয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বলেন, রাফি হোমিও হল থেকে বন্ধুরা মিলে এলকোহল কিনেছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দোকানের মালিক রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠান রাফি হোমিও হল সিলগালা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

বিসিএস প্রশাসন ও আইন কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জনগণের ট্যাক্স এবং কৃষক-শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের কল্যাণে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে এবং দেশের উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাসহ সকল সরকারি চাকরিজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঘুষ ও দুর্নীতির ব্যাপারে আপনাদের সবাইকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। এই সব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি অনেক সময় আমাদের সমাজকে ধ্বংস ও উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়। তাই আপনাদের এ ব্যাপারে গণ সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিসিএস অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন অ্যাকাডেমিতে ১১৩, ১১৪ ও ১১৫তম বিসিএস প্রশাসন ও আইন কোর্স এর সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাদের বলবো জনগণের ট্যাক্স এবং কৃষক-শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের কল্যাণে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘তাই তাদের এই পরিশ্রমলব্ধ অর্থের যেন যথাযথ ব্যবহার হয় এবং সুপরিকল্পিত ও সাশ্রয়ীভাবে যেন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো সম্পন্ন হয় সেদিকে আপনাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।’ শেখ হাসিনা দেশের আরো উন্নয়নের জন্য দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতার সাথে কাজ করার জন্য নতুন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনাদের একথা মনে রাখতে হবে যে এ দেশে আমাদের এবং আপনাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এখানেই বাস করবে। তাই আপনাদের এ কথাও মাথায় রাখতে হবে যে আপনারা আপনাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাচ্ছেন। আপনারা যদি এই চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ লালন করে কাজ করেন, তবে আমাদের দেশ আরো এগিয়ে যাবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির মূল উৎপাটনের জন্য অভিযান শুরু করেছে এবং এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি তাদেরকে আরো বেশি উদ্ভাবনীর পরিকল্পনার সাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, তারা তাদের এলাকার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন এবং তাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে পারেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি আপনারা প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এলাকাগুলোর উন্নয়ন আপনাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে। তাই দেশের জন্য ভালবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার সাথে এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের স্মরন করিয়ে দেন যে, জনগণই দেশের মালিক। তিনি বলেন, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, এই জনগণের জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এবং তাদের জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমরা যেমন আমাদের পরিবারের জন্য দায়িত্বশীল, এই চিন্তা চেতনা নিয়ে তেমনি দেশের জনগণের জন্যও আমাদেরকে কাজ করতে হবে। শেখ হাসিনা নবীন কর্মকর্তাদের শপথকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেন এবং নিয়মিতভাবে এই শপথ অনুসরন করতে তাদের প্রতি পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, শপথের প্রতিটি বাক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটি শুধু পাঠ করলেই চলবে না, এটি চর্চাও করতে হবে। আমরা চাই আপনারা তা করবেন। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যখন মাঠ পর্যায়ে বড় দায়িত্ব পালন করবেন, তখন আপনাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে যাবে। শেখ হাসিনা দেশের আরো উন্নয়নের জন্য তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতির উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার ২০১০-২০২০ সাল পযর্ন্ত মেয়াদে ১০ বছরের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা এখন দেশের আরো উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০ বছর মেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বা কৌশলপত্র (২০২১-২০৪১) প্রণয়ন করেছি। আজকের তরুন অফিসাররা একদিন সিনিয়র অফিসার হবেন। সে সময়ে তাদেরকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেই সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে তাদেরকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সততার শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবেলা এবং চ্যালেঞ্জে বিজয় লাভ করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা সৎ পথে ছিলাম বলে এই অভিযোগ আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। অবশেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে যে, এই অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। আমরা সততার সঙ্গে অগ্রসর না হলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতে পারতাম না। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের কিছু লোকের উস্কানির কারণে বিশ্ব ব্যাংক এসব অভিযোগ এনেছিল। তিনি আরো বলেন, যারা বিশ্ব ব্যাংককে দিয়ে এসব অভিযোগ করিয়েছিল, তারা আমার হাত থেকে লাভবান হয়েছিল। আমি তাদেরকে গ্রামীন ফোনের ব্যবসা দিয়েছিলাম। আমি ১৯৮৫-৮৬ সালে গ্রামীন ব্যাংকের পক্ষে প্রচারনা চালিয়েছিলাম এবং আমার সরকার জাতিসংঘে গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের ধারনার ওপর প্রস্তাব পেশ করেছিল এবং ১৯৯৬ সালে এটি পাস করতে সাহায্য করেছিল। সেই লোকই গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদের জন্য পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন তহবিল বন্ধ করতে গিয়েছিল। তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন একজন নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এমডি পদের জন্য এতোটা লোভী হয়ে উঠেছিলেন কেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ি একজন এমডি কেবল ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তার পদে থাকতে পারেন। অথচ সে সময়ে এই ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন অবৈধভাবে পদ আকড়ে থাকায় বাধা সৃষ্টি করলো, তখনি পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল কারণ তিনি ছিলেন হিলারির বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দু’জন খ্যাতিমান সম্পাদকও সে সময়ে পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থসহায়তা বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তখন এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিলাম। আমি তখন বললাম কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার লক্ষ্যে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের ধারনা বদলে গেছে। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তারা ধারণা করতে পেরেছে যে, বাংলাদেশ যদি ইচ্ছা করে তাহলে পারে এবং আমরা তাই করেছি।

শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারিদের কল্যাণে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে এবং বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাদেরকে সুবিধা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যারা ভাল কাজ করবে তাদেরকে পুরস্কৃত করতে আমরা জনপ্রশাসন পদক চালু করেছি। এর উদ্ধেশ্য হচ্ছে, আমরা চাই তারা দেশ ও দেশের জনগণের জন্য বেশি করে কাজ করুক, আমার জন্য নয়।’ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হাসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচএন আশিকুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর কাজী রওশন আখতার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। রেক্টর অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী তিন কোর্সের তিন তরুন কর্মকর্তা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন।

 

বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের হতাশা

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো গান না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। চার দিনের বিজয় উৎসবের কর্মসূচি জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সপ্তম আসর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’। “কিন্তু এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের একটি গান হল না, বাংলাদেশে কি এমন কোনো শিল্পী ছিলেন না যিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান করতে পারেন? এটি আমাদের জন্য বড় লজ্জার। এ লজ্জা রাখার জায়গা আমাদের নেই।” গত ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে বিপিএলের এবারের আসরের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর সরকারি আয়োজনেরও শুরু হয় এর মধ্যদিয়ে। বাংলাদেশের সংগীত শিল্পী শুভ, রেশমি মির্জা ও ব্যান্ড তারকা জেমসের পর ভারতের শিল্পী সনু নিগাম, কৈলাস খের গান শোনান উপস্থিত দর্শকদের। বলিউড তারকা ক্যাটরিনা কাইফ ও সালমান খানও পারফর্ম করেন। অনুষ্ঠানের সূচিতে সংগীত শিল্পী ও সাংসদ মমতাজের নাম থাকার পরও তার অংশ না নেওয়াকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। তিনি বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাস, যে মানসিকতা থেকে ওই আয়োজন হয়েছে, সেখানে আমাদের গায়ক মমতাজকে সঠিকভাবে চেয়েছে কিনা সেই সন্দেহ থেকে যায়।’’ অন্যদের মধ্যে জোটের সহ সভাপতি ফকির আলমগীর, উৎসব উদযাপন পরিষদের যুগ্ন-আহ্বায়ক ঝুনা চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ফয়জুর আলম পাপপু সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মা-যমুনায় আর সেতু নয়, টানেল হবে – পরিকল্পনামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পরিবেশ রক্ষায় বড় নদীতে সেতুর বদলে মাটির তল দিয়ে টানেল বানানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদরের এফআইভিডিবি মিলানায়তনে এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পদ্মা-যমুনায় বা বড় নদীতে আমরা আর সেতু নির্মাণ করতে চাই না। “সেতু নির্মাণ হলে পলি পড়বে, নদী ভরাট হবে পরিবেশের ক্ষতি করবে।” প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ফেব্র“য়ারিতে চার লেইনের তিন দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ এ ট্যানেলের খনন কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই কর্ণফুলির নদীর তল দিয়ে সাত কিলোমিটার টানেল নির্মাণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের চিন্তা ভাবনায় রয়েছে যমুনার উত্তর মাথায় আরেকটি টানেল নির্মাণ করার- যা কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের মধ্য দিয়ে যাবে। বিশ্বের উন্নত দেশে অনেক দীর্ঘ টানেল থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই টানেলের নিচ দিয়ে পরিবহন চলে, উপর দিয়ে নদী বহমান রয়েছে। এতে পরিবেশের ‘সব কিছুই ঠিক থাকে‘ বলেন তিনি। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে সবার জন্য পুষ্টি বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। এর আগেও পরিকল্পনা মন্ত্রী যমুনা নদীর উত্তরের টানেল বাস্তবায়নে দ্রুত কাজ হচ্ছে বললেও এরজন্য ব্যয় নির্ধারণ না হওয়ায় বিস্তারিত কিছু বলেননি।