ঝিনাইদহে আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ “মানবাধিকার সুরক্ষায় তারুন্যের অভিযাত্রা” এই শ্লোগানে ঝিনাইদহে আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার সকালে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে শহরের পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মানবাধিকার কর্মীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ঘন্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম, জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা শুভ, জেলা তথ্য অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি আমিনুর রহমান টুকু, ওয়েলফেয়ার ইফোর্টস (উই) এর পরিচালক শরিফা খাতুন, পদ্মা সমাজ কল্যাণ সংস্থার হাবিবুর রহমান, এইড’র সঞ্জয়ন কুন্ডুসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা, মানবাধিকার সুরক্ষায় সকলকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার আহবান জানান।

দৌলতপুরে ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ফেনসিডিলসহ দয়াল আলী মন্ডল (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার দৌলতখালী পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে আটক করা হয়। দৌলতপুর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসার গোপন সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানের নির্দেশে দৌলতপুর থানা পুলিশ দৌলতখালী পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী দয়াল আলী মন্ডলকে আটক করে। সে একই এলাকার ছানোয়ার মন্ডলের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার আটক মাদক ব্যবসায়ীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

‘খালেদা জিয়ার মুক্তির নামে নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা হচ্ছে’

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির নামে দেশে নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে নতুন করে জ্বালাও-পোড়াওয়ের গন্ধ পাচ্ছি। আবদুর রহমান বলেন, আমি এই পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি-জামায়াতকে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের একটা নেতাকর্মী বেঁচে থাকতেও আর কোনো অশুভ শক্তিকে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। রাজপথে আর কোনো দিনই তাদের জায়গা হবে না। মঙ্গলবার খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। সম্মেলনের প্রধান বক্তা আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি একমাত্র আদালতেই হবে, এর বাইরে আর কোনো নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। যদি বিএনপি এর বাইরে বা রাজপথে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায় তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কঠিন হাতে সেই আন্দোলন প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, আপনারা সেই নেতাকর্মী, যারা একাত্তরে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করে এ দেশকে শক্রমুক্ত করেছেন। আপনারা সেই নেতাকর্মী যারা জিয়াউর রহমান ও এরশাদের স্বৈরশাসন মোকাবেলা করে গণতন্ত্রের মুক্তি এনেছেন। আপনারাই আগামী দিনে এ দেশের জন্য শেখ হাসিনাকে একমাত্র অপরিহার্য করে তুলতে কাজ করেছেন। আবদুর রহমান বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর নেত্রী যখন কারাগারে ছিলেন আপনারা সেদিন গর্জে উঠেছেন। নেত্রীর মুক্তির ডাক দিয়ে আপনারা সেদিন কাঁপানো রাজপথকে জনতার মিছিলে পরিপূর্ণ করে সেই স্বৈরশাসককে বাধ্য করেছিলেন শেখ হাসিনাকে মুক্তি দেয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, যে নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে মানব ঢাল রচনা করে রক্ষা করে সেই নেতাকর্মী বেঁচে থাকতে আমাদের প্রিয় নেত্রীকে কেউ কোনো দিনই স্পর্শ করতে পারবে না। যত ষড়যন্ত্রই হোক আমরা সেই সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছি এবং আগামী দিনেও করবে। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ২০০১ সালের পর খুলনার রাজনীতির আকাশে নির্যাতনের এমন কালো মেঘ নেমে এসেছিল। সেদিন বিএনপি-জামায়াতের নির্যাতনের হাত থেকে আওয়ামী লীগের কোনো লোক রেহাই পায়নি। সেদিন এক কর্মীর একটি চোখ উপড়ে ফেলেছিল আর তাকে বলা হয়েছিল- আর কোনোদিন জয়বাংলা স্লোগান দিবি না। যদি দেস তাহলে তোর অপর চোখটিও তুলে নেব। কিন্তু সেদিন সেই কর্মী বলেছিল, তোমরা এক চোখ তুলে নিয়েছ প্রয়োজনে অপর চোখও তুলে নিতে পার, তারপরও আমার হৃদয়ে যে জয়বাংলার সুর তুলেছি সেই জয়বাংলা কোনো দিনই মুখ থেকে ভূলে যাব না।

 

বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে কুষ্টিয়া মানবাধিকার সমিতির মানববন্ধন

গতকাল মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর)  সকালে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস-২০১৯ উপলক্ষে মানববন্ধন করে। মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ এ বছর সমতা, ন্যায় ও মানব মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে। বক্তারা বলেন, বিশ্বে প্রতিনিয়ত নানাভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। নির্বাচনের পরপর সংখ্যালঘু ও বিরোধী দলের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের মতো খারাপ ঘটনার নজির আমরা দেখতে চাই না। মানবাধিকারের পক্ষে আমরা দাঁড়াই, ব্যক্তিগতভাবে অন্যের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হোক আমাদের লক্ষ। বক্তারা আরো বলেন, এমন পরিস্থিতির মধ্যে আমরা এবার বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন করছি। দিবসটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের ঘোষণার কথা। এসব বিষয় যদি সব রাষ্ট্র আমলে নিয়ে তার নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হতো, তাতে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটত। আমাদের দেশেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সত্বেও নানা ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।  বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, দপ্তর সম্পাদক জুলিয়া পারভীন, সদস্য কনক, সজল প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

৩৮ আরোহী নিয়ে চিলির সামরিক বিমান ‘নিখোঁজ’

ঢাকা অফিস ॥ অ্যান্টার্কটিকার পথে থাকা চিলির একটি সামরিক উড়োজাহাজের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

চিলির বিমানবাহিনীর বিবৃতির বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই পরিবহন বিমানে ৩৮ জন আরোহী ছিলেন। রয়টার্স জানিয়েছে, চিলির দক্ষিণের শহর পুনটা অ্যারেনাস থেকে স্থানীয় সময় সোমবার বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে অ্যান্টার্কটিকার পথে রওনা হয় সি-১৩০ হারকিউলিস উড়োজাহাজটি। সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ পর উড়োজাহাজটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উড়োজাহাজের আরোহীদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন যাত্রী, বাকি ১৭ জন ক্রু। আরোহীদের মধ্যে তিনজন বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন। ওই বিমানে করে অ্যান্টার্কটিকার কিং জর্জ দ্বীপে চিলির ঘাঁটিতে রসদ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। চিলির বিমানবাহিনীর জেনারেল এদুয়ার্দো মোকেইরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আগে উড়োজাহাজের পাইলট কোনো ধরনের বিপদ সংকেত দেননি। উড়োজাহাজ ও এর নিখোঁজ আরোহীদের খোঁজে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চিলির বিমানবাহিনী। অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলের ১২ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা চিলির নিয়ন্ত্রণে আছে। সেখানে দেশটির নয়টি ঘাঁটি আছে, যা বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়েই বেশি।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে বিএনপির আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে বলে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগ আমলে এখানে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়েছে। বিএনপি সরকারে থাকাকালে সংখ্যালঘুদের ‘স্বার্থরক্ষা’ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব বিল পাস হয়, যাতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে শরণার্থী হিসেবে যাওয়া অমুসলিমদের ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পার্লামেন্টে মুসলিম সদস্যরা এই বিলের বিরোধিতা করলে যুক্তি খন্ডন করে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। সেখানে তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের জন্য বিএনপির প্রতি অভিযোগ তুলেছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আপনারা শুনেছেন, গতকাল পার্লামেন্টে অমিত শাহ যে বক্তৃতা করেছেন সেখানে বিএনপির নাম করে কথা বলেছেন কিছু, যে বিএনপি সরকারের আমলে এখানে সংখ্যালঘুদের উপরে নির্যাতন হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। “আমরা খুব জোর গলায় বলতে পারি, বিএনপি সরকারের আমলে এখানে সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষা করা হয়েছে। তাদের ওপর নির্যাতন আওয়ামী সরকারের আমলে যতটা হয়েছে, আর কখনও সেটা হয়নি।” ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আপনারা জানেন যে, ভারতে নতুন যে নাগরিকত্ব আইন করা হয়েছে সেই আইনে খুব পরিষ্কার করে তারা বলছে, পার্লামেন্টে (লোকসভা) পর্যন্ত বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে একদম এভাবে বলা হচ্ছে যে, মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা যাচ্ছে ভারতবর্ষে এবং তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। “পার্লামেন্টে (লোকসভা) যে আইন পাস করা হয়েছে সেই আইনের মধ্যে অমুসলিম যারা তাদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে ৫ বছর না কত বছর গ্যাপ দিয়ে। কিন্তু মুসলিম যারা আছেন তাদেরকে দেওয়া হবে না।” সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার সমালোচনাও করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “মিয়ানমার যারা এখানে রোহিঙ্গাদেরকে ঠেলে পাঠিয়ে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে মানবাধিকার লংঘনের কথা বলা হচ্ছে। মিয়ানমারে মানবাধিকার লংঘন, গণহত্যার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সোচ্চার হয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ব সংস্থায় অথবা আন্তর্জাতিক আদালতে কোনো কথা বলছেন না। আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া মামলা করেছে, সেখানে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।” নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভেড়ামারায় বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ভেড়ামারা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জাতীয় মহিলা সংস্থা’র উদ্যোগে উপ মহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ১৩৯তম জন্ম এবং ৮৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর  জেলার মিঠাপুকুর থানার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩২ সালে একই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রোকেয়ার প্রকৃত নাম ছিল রোকেয়া খাতুন। বৈবাহিকসূত্রে তার নাম হয় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল সকাল ১০টায় জাতীয় মহিলা সংস্থা’র ভেড়ামারা শাখার চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক বলাকা পারভীন স্বপ্না প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বেগম রোকেয়ার জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন। সংস্থার নির্বাহী সদস্য নিলুফা ইয়াসমীন ঝর্ণার সভাপতিত্বে এবং জাতীয় মহিলা সংস্থা’র সমন্বয়কারী মোহাঃ আসমান আলীর উপস্থাপনায় আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন হাসিনা বেগম, মহুয়া জামান, তানজিলা ইসলাম, রোকসানা বেগম, রুনা লাইলা প্রমূখ। এর আগে একটি র‌্যালি ভেড়ামারা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষে বাঙ্গালী নারী আন্দোলনের অগ্রদূত ও সমাজ সংস্কারক এই নারীর জন্মদিন ও মুত্যু বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ রোল মডেল। জঙ্গি দমনে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ বিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছিলেন, জঙ্গিবাদ দমনের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই কাজটি আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দক্ষতার সাথে করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কুড়িল বসুন্ধরায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী উগ্রবাদ বিরোধী জাতীয় সম্মেলন ২০১৯-এর সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন। এতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ মনিরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসিইউ), ইউএসএইড ও জাতিসংঘের (ইউএন) যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নিজের সন্তানদের দিকে সর্বদা খেয়াল রাখার আহবান জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সন্তানদের সবসময় ভালো কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে, যাতে তারা উগ্রবাদে জড়িয়ে না পড়ে। তিনি বলেন, অতীতে টার্গেট করে দেশের নানা প্রান্তে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে বাছাই করে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ হত্যা করা হয়। ইসলামে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। এদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়, তারা কখনো জঙ্গিবাদ পছন্দ করেনা। শান্তি প্রিয় এই দেশে জঙ্গি, সন্ত্রাস আসবে এটা কোনো ভাবেই বিশ্বাস করা যায়না। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ হয়েছে, কিন্তু জঙ্গি-সন্ত্রাসের কাহিনী ছিলনা। এ দেশের জনগণ জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়নি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করেই টার্গেট কিলিং শুরু হলো। প্রথমে ইতালির নাগরিক, তারপর জাপানি নাগরিককে টার্গেট করা হলো। কোনো মাদরাসা জঙ্গি তৈরি করে না উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কেননা ইসলামে এটার কোনো স্থান নেই। তাছাড়া বিশ্বের কোনো ধর্মেই মানুষ হত্যাকে বিশ্বাস করে না। সমাজকে বুঝতে হবে কেন তাদের সন্তান জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার কারন খুঁজে বের করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আমাদের ছেলে মেয়ে যেন নিঃসঙ্গতা, বিষন্নতা ও একাকীত্বে না ভোগে। তাদের বিভিন্নভাবে কাজে যুক্ত করতে হবে। তাহলে তাদেরকে আমরা জঙ্গিবাদের মতো মতবাদ বা চিন্তা-ভাবনা থেকে দূরে রাখতে পারবো। তিনি বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করবো ইন্টারনেটে কোনো কিছু দেখে সহজে বিশ্বাস না করতে। শুধুমাত্র নিশ্চিত হলেই সেটা বিশ্বাস করা উচিত। নিজেদের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তির অবাধ ও সহজলভ্য ব্যবহারের ফলে পথভ্রষ্ট, নীতিভ্রষ্ট ও বিকৃতমনা আদর্শ তথা ভয়ঙ্কর বিপদজনক উগ্রবাদ ও দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করেছে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। সেজন্য আজ উগ্রবাদ পরিবার সমাজ রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক গন্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক রূপ লাভ করেছে। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আর যদি একটি হলি আর্টিজান হতো, আমাদের সকল উন্নয়ন কাজ থমকে যেত। কেননা যারা জঙ্গিবাদ চায়। তারা দেশের উন্নয়ন চায় না। তিনি আরো বলেন, জঙ্গিবাদ একটা বৈশ্বিক সমস্যা। এটাকে বৈশ্বিকভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। সভাপতির বক্তৃতায় মাঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গি দমনে বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করে এখন থেকে একযোগে কাজ করলে অধিকতর ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করেন। সোমবার দুই দিন ব্যাপী জাতীয় সম্মেলন ২০১৯ এর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। সম্মেলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ,ধর্মীয় প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিদেশী কূটনৈতিকরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

গাংনীতে অনুদানের চেক বিতরণ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত চেকের মাধ্যমে অনুদানের চেক  বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান। এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক। অনুষ্ঠানে ১০জনের মধ্যে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।

ইবি কর্মকর্তা সমিতির শোক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাঃ মওদুদ আহমেদ পরাগ এর  মাতা ওয়াহেদা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির পক্ষ থেকে শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামছুল ইসলাম (জোহা) এবং সাধারণ সম্পাদক মীর মোর্শেদুর রহমান। শোকবার্তায় তারা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা

লালন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক হিরুর স্বপরিবারের হজ্বযাত্রা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার লালন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের পরিচালক হারুনুর রশীদ হিরু স্বপরিবারের ওমরা হজ্বে যাচ্ছেন। আজ বুধবার পরিবারসহ তিনি      সৌদীর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। ১৫ দিন সেখানে অবস্থান শেষে ২৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। হজ্ব যাত্রার প্রাক্কালে হারুনুর রশীদ হিরু সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় অধিকার’র মানববন্ধন সমাবেশ

কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস-২০১৯ পালনে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া থানামোড়স্থ স্বাধীনতা চত্বরে মানবাধিকার কর্মী হাসান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রাক্কালে কুষ্টিয়ায় প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনকারী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. আব্দুল জলিল, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও  জেলা জাসদের নেতা কারশেদ আলম, ওয়ার্কার্স পার্টি কুষ্টিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক কমরেড হাফিজ সরকার, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী, মানবাধিকার কর্মী এ্যাড. সোহেলী পারভিন ঝুমুর, মানবাধিকার নাট্যপরিষদ কুষ্টিয়ার সভাপতি এমএ কাইয়ুম, জ্যোতি ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দা হাবিবা প্রবীন হিতৈষী সংঘের কুষ্টিয়া জেলার সাধারন সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছাত্রনেতা রাশিব রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য সীমা খাতুন প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, একটি সুখি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুষম টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পূর্ব শর্ত ন্যায় বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যেও ছিলো স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারম মাধ্যমে দেশবাসী দু:শাসনমুক্ত মর্যাদাশীল নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শোষন ও বৈষম্যহীণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতাত্তোর কালে অদ্যবধি যারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তারা কেউই নাগরিক জীবনের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতে আন্তরিক হননি যা মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে। একইভাবে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে উল্লেখিত অঙ্গীকার পত্রে অনু:স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সার্বজনীন এই মানবাধিকার সনদের অঙ্গীকার প্রতি পালনে আন্তরিক হবেন এবং জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশ, রাজনৈতিক কর্মকান্ড, ও ন্যায় বিচার বঞ্চনার বিদ্যমান পরিস্থিতির অবসান,  দেশব্যাপী উদ্বেগজনকহারে ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশু ধর্ষন, নির্যাতন বন্ধসহ সীমান্ত হত্যার অবসান ঘটাবেন বলে আহবান করেন নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবিক বিপর্যয়ে জড়িত সেই দেশের সামরিক জান্তার নৃশংস হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতসহ দেশ থেকে বিতারিত লক্ষ লক্ষ মিয়ানমার নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে পূনর্বাসনে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দাবি করেন।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহে হাতবোমা, দেশীয় অস্ত্র ও ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী হাতকাটা তরুন আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়া থেকে হাতবোমা, দেশীয় অস্ত্র ও ফেন্সিডিলসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হাতকাটা তরুন (৩০) কে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের ব্যাপারীপাড়ার নিজ বাড়ী থেকে তরুনকে আটক করা হয়। তরুন ব্যাপারীপাড়ার রমজান আলীর ছেলে। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে মাদক ব্যবসায়ী তরুন ওরফে হাতকাটা তরুন তার সঙ্গীদের নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে তরুকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ৬টি হাত বোমা, ৭ টি দেশীয় অস্ত্র ও ১৯ বোতল ফেন্সিডিল। তরুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায়  চাঁদাবাজী, মাদক ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঋণ জালিয়াতি

এস কে সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ঢাকা অফিস ॥ জালিয়াতি করে ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাতের মামলায় বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সাবেক প্রধান বিচারপতিসহ মোট ১১ জনকে আসামি করে এই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছেন দুদক কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ। সোমবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে তা জমা দেওয়া হয় বলে ওই আদালতে দুদকের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. জুলফিকার জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করে অবৈধভাবে ভুয়া ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে তা স্থানান্তর করে নগদে উত্তোলন ও বিভিন্ন পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর এবং গোপনে পাচার করেছেন। বিচারপতি সিনহা বাদে অন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়। দুদকের করা এই মামলায় ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. জিয়া উদ্দিন আহমেদও আসামি ছিলেন। তবে অভিযোগপত্রে মামলার দায় থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে মামলায় বাবুল চিশতীর নাম না থাকলেও অভিযোগপত্রে তাকে নতুন করে আসামি করা হয়েছে। এর আগে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবের চার কোটি টাকা জব্দ করা হয়। বিচারপতি সিনহা নানা নাটকীয় ঘটনার মধ্যে দুই বছর আগে বিদেশে পাড়ি জমানোর পর দুদক অভিযোগ পায়, তিনি ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ব্যবসায়ী পরিচয়ে দুই ব্যক্তির নেওয়া ঋণের চার কোটি টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়েছিলেন।

অভিযোগ পেয়ে ওই বছরই তদন্তে নামে দুদক। দীর্ঘ তদন্তে পর চলতি বছরের ১০ জুলাই সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আসামি শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় আলাদা দুইটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। ব্যবসা বাড়ানোর জন্য পরদিন তারা ওই ব্যাংক থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেন। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ঋণের আবেদনে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়, যার মালিক ছিলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। ঋণের জামানত হিসেবে আসামি রনজিৎ চন্দ্রের স্ত্রী সান্ত্রী রায়ের নামে সাভারের ৩২ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয় ঋণের আবেদনে। ওই দম্পতি এস কে সিনহার পূর্ব পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার এজাহারে। দুদক বলছে, ব্যাংকটির তৎকালীন এমডি এ কে এম শামীম কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই, ব্যাংকের নিয়ম-নীতি না মেনে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ দুটি অনুমোদন করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ৭ নভেম্বর ঋণের আবেদন হওয়ার পর ‘অস্বাভাবিক দ্রুততার’ সঙ্গে তা অনুমোদন করা হয়। পরদিন মোট চার কোটি টাকার দুটি পে-অর্ডার ইস্যু করা হয় এস কে সিনহার নামে। ৯ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে জমা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ক্যাশ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে এস কে সিনহার ভাইয়ের নামে শাহজালাল ব্যাংকের উত্তরা শাখার অ্যাকাউন্টে দুটি চেকে দুই কোটি ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় ওই বছরের ২৮ নভেম্বর। এজাহারে বলা হয়, “আসামি রনজিৎ চন্দ্র ঋণ দ্রুত অনুমোদনের জন্য প্রধান বিচারপতির প্রভাব ব্যবহার করেন। রনজিৎ চন্দ্রের ভাতিজা হলেন ঋণ গ্রহীতা নিরঞ্জন এবং অপর ঋণ গ্রহীতা শাহজাহান ও রনজিৎ ছোটবেলার বন্ধু। ঋণ গ্রহীতা দুইজনই অত্যন্ত গরিব ও দুস্থ। তারা কখনও ব্যবসা-বাণিজ্য করেননি।” সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। পরে বিদেশ থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন; তিনি এখন আছেন যুক্তরাষ্ট্র হয়ে কানাডায়। তবে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসা বিচারপতি সিনহা গতবছর যুক্তরাষ্ট্রে বসেই একটি বই প্রকাশ করেন। তাতে তিনি দাবি করেন, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

কুষ্টিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিকেষাভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। কেন্দ্র ষোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। সভাপতির বক্তব্যে মেহেদী রুমী বলেন, এখন আর ঘরে বসে থাকলে চলবে না। গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে সব বাধা উপেক্ষা করে এখন রাস্তায় নামতে হবে। তিনি বলেন, এখন দেশ চলছে এক ব্যক্তির ভয়ঙ্কর কর্তৃত্ববাদী শাসন। যেখানে দেশের জনগণ এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিরোধী পক্ষকে বন্দি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর সেই কারণেই বিরোধী দল ও মতের ওপর চলছে অবর্ণনীয় নানামুখী নির্যাতন। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে তাকে কারাগারে আটক করে রেখেছে। এর কারণ হচ্ছে তিনি এতোটাই জনপ্রিয় তিনি যদি কারাগার  থেকে বের হয়ে আসেন তাহলে এই সরকার টিকে থাকতে পারবে না। সোহরাব উদ্দিন বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয়  নেত্রীকে মুক্ত করবো। আমাদের নেতা তারেক জিয়া শিগগিরই আন্দোলনের ডাক দেবেন। আমরা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করব। রক্ত ও ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ তৈরি করব। তিনি আরো বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে সাজা দিয়েছে। তাকে এখন জোর করে আটকে রেখেছে। দেশবাসী এটি কিছুতেই মেনে নেবে না। খালেদা জিয়ার জামিন না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলন তৈরি করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিউল-উল হাসান অপুর পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাদ, মহাসিন রেজা, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, একে বিশ^াস বাবু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হক, জেলা বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড.শাতিল মাহমুদ, খোকসা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজা, মিরপুর উপজেলা বিএনপির প্রশিক্ষন সম্পাদক আছের আলী, ভেড়ামারা বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম, খোকসা গোপগ্রাম ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম শফি, পোড়াদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া শহর ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলী আসকার পিন্টু, ১৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার দুলাল, ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামান, শহর বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম মিরাজুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ, জেলা কৃষকদলের সভাপতি এস এম গোলাম কবির, সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন মোকা, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম ছোটন, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ জাকারিয়া উৎপল, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, জেলা মৎসজীবিদলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম রেজা, জেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব মীর আয়ুব, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান রাসেল, খোকসা উপজেলা যুবদলের সভাপতি এসএম শরীফ, সাধারণ সম্পাদক শমীম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম  প্রমুখ।

 

যারা মৌলিক অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করছে, তারা ‘ডাকাত’ – কামাল

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিত করে গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা কামাল হোসেন বলেছেন, যারা মৌলিক অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করছে, তারা ‘ডাকাত’। ‘ডাকাত’ বলার কারণে রোষের মুখে পড়ার জন্য প্রস্তুত আছেন জানিয়ে ক্ষমতাসীনদের হুঁশিয়ারও করে দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার মানবাধিকার দিবসের এক আলোচনায় কামাল বলেন, “আইনের শাসন থেকে যদি আমাকে বঞ্চিত করা হয়, সংবিধান যে আশ্রয় দিয়েছে, সেটা থেকে যদি বঞ্চিত করা হয়, মৌলিক অধিকার থেকে যদি বঞ্চিত করা হয়, এরা অপরাধী, মানে ডাকাত। “ভোট ডাকাতের চেয়ে বড় ডাকাত হতে পারে না। মৌলিক অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করে, এর চাইতে বড় ডাকাত হতে পারে না। এদেরকে ডাকাত হিসেবে চিহ্নিত করেন।” সরকারবিরোধী এই নেতা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “হ্যাঁ, আমি ডাকাত বলেছি। কী আছে? কেউ যদি মনে করে আমাকে তুলে নিতে পারে, করুক।” ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় বলে আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ার করেন দলটির এক সময়ের এই নেতা। তিনি বলেন, “আমি বলি, জনগণের অধিকারের ব্যাপারে তোমরা পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল হও, সংবিধানকে মেনে চল।” বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি কামাল বলেন, “কেউ আমাদেরকে বঞ্চিত করার অধিকার রাখে না। যদি করে তাহলে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদেরকে শায়েস্তা করব এবং আমাদের অধিকার আমরা অবশ্যই ভোগ করব।” কামাল বলেন, “আপনারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে এই ধরনের মিটিং করেন। ১৯৪৭ থেকে এখন পর্যন্ত  ইতিহাস যদি দেখেন- স্বৈরাচাররা চিরস্থায়ী হতে পারে নাই, তাদের পরাজিত হতে হয়েছে, শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারদের মানুষের কাছে ধিকৃত হয়ে শাস্তি হয়েছে।” জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা মিলু চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী পরিচালক তালুকদার মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মইনুল হোসেন, সাবেক সচিব এএইচএম মোফাজ্জল করিম, সারোয়ার হোসেন, আবুল কাশেম চৌধুরী, ফরিদ আহমেদ, গোলাম মাওলা চৌধুরী বক্তব্য রাথেন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে মতবিনিময় সভা

নিজ সংবাদ ॥ মানব উন্নয়ন কেন্দ্র মউক এর আয়োজনে কুষ্টিয়ায় “যুব সমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে প্রচার অভিযান” এর অংশ হিসেবে সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে প্রচারনা কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা ইউএনও জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজিজুল হক, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান মাসুম, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ পারভিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানব উন্নয়ন কেন্দ্র মউক এর আশাদুজ্জামান সেলিম, সভা পরিচালনা করেন মানব উন্নয়ন কেন্দ্র মউক এর প্রোগ্রাম অফিসার মুরাদ হোসেন। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মানব উন্নয়ন কেন্দ্র মউক এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আলমগীর হোসেন। মতবিনিময় সভায় সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

সেরা করদাতার পুরস্কার অর্জন করলো ‘দিশা’      

নিজ সংবাদ ॥ দেশের অন্যতম বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা “দিশা স্বেচ্ছাসেবী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কল্যাণ সংস্থা” ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য সেবা ক্যাটাগরীতে যশোর ভ্যাট ডিভিশনের মধ্যে  সেরা করদাতার পুরস্কার অর্জন করেছে। গতকাল মঙ্গলবার যশোরের  শেখ হাসিনা সফটওয়ার টেকনোলজি পার্কের এমপি থিয়েটারে জাতীয় ভ্যাট দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে  সেরা করদাতাদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। দিশার পক্ষ হতে সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ রবিউল ইসলাম। কাষ্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, যশোর এর কমিশনার মুহম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় ভ্যাট দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, এমপি। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহম্মেদ (এমপি), যশোর এর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ ও পুলিশ সুপার মঈনুল হক, বিপিএম (বার), পিপিএম। জাতীয় ভ্যাট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগত অতিথিগণ সেবা খাতে এ অঞ্চল তথা যশোর ভ্যাট বিভাগে বেসরকারী সংস্থা দিশার উন্নয়নমুখী নানাবিধ কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। দিশার নির্বাহী পরিচালক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন- সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি দিশা নানাবিধ উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তার ফলশ্র“তিতে দিশার আজকের এই অনন্য অর্জন। সেবা খাতে সেরা করদাতার এই সম্মাননা দিশার কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি শুরু

ঢাকা অফিস ॥ নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তাতে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আইন ও সনদ লঙ্ঘন করেছে কি না, তা বিচার করে দেখবে এই আন্তর্জাতিক আদালত। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দ্য হেগের পিস প্যালেসে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বেলা ৩টায় শুরু হওয়া এ শুনানিতে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির নেত্রী অং সান সুচি, যিনি গণতন্ত্রের দাবিতে অহিংস আন্দোলনের কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। আর আইসিজেতে এই মামলা করা ওআইসিভুক্ত দেশ গাম্বিয়ার পক্ষে এ শুনানিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু।

ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের ১৫ বিচারকের সঙ্গে প্যানেলে আছেন গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের মনোনীত দুই বিচারক।  তিন দিনের শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত দেবেন। রাখাইনের নিপীড়িত রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরাও এ শুনানি উপলক্ষে দ্য হেগের পিস প্যালেসে উপস্থিত হয়েছেন। শুনানি শুরুর আগে তারা ন্যায়বিচারের জন্য প্রার্থনাও করেছেন।

আদালতের কাঠগড়ায় পাথরের মতো বসে ছিলেন সু চি

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর সেনাবাহিনীর গণহত্যা নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলাটির শুনানির সময় অনেকটাই নির্বাক ছিলেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। বিবিসি জানিয়েছে, শুনানির প্রথম দিনে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর সে দেশের সামরিক বাহিনীর একের পর এক নৃশংসতার ঘটনা তুলে ধরা হচ্ছিল তখন সেখানে পাথরের মত মুখ করে বসে ছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এ মামলায় নিজেই লড়ছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার মামলার বিচারের শুনানির শুরুতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমারকে নির্দেশ দিতে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে গাম্বিয়া। রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যার মামলায় দেশের হয়ে লড়তে এদিন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে এসে হাজির হন মিয়ানমারের কার্যত নেতা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচি। তিনি যখন নেদারল্যান্ডের দ্য হেগ শহরে আসেন, তখন দেশে তার পক্ষে হাজার হাজার লোক মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। শুনানির প্রথম দিনে গাম্বিয়ার বিচারবিষয়ক মন্ত্রী আবুবাকর তামবাদু বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারকে এই নির্মম হত্যাকান্ড বন্ধ করতে হবে। তাদেরকে এই বর্বরতা ও হিংস্রতা বন্ধ করতে হবে, যা আমাদের সবার বিবেককে ব্যথিত ও ব্যথাহত করে যাচ্ছে। দেশটিকে নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে সু চি যুক্তি দেখাবেন যে এই বিষয়ে বিচার করার অধিকার আইসিজের নেই। এদিকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে করা অপরাধের ব্যাপারে প্রকাশ্যে স্বীকার করার জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের ৭ নোবেলজয়ী। একইসঙ্গে এই গণহত্যার জন্য সু চি ও মিয়ানমারের সেনা কমান্ডারদের জবাবদিহিতার আহ্বানও জানান তারা। মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী ইরানের শিরিন ইবাদি, লাইবেরিয়ার লেমাহ গবোই, ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কার্মান, উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইরেড মাগুয়ের, গুয়েতেমালার রিগোবার্টা মেনচ তুম, যুক্তরাষ্ট্রের জোডি উইলিয়ামস ও ভারতের কৈলাশ সত্যার্থী। বিবৃতিতে নোবেল বিজয়ীরা বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হওয়া গণহত্যাসহ অপরাধগুলো প্রকাশ্যে স্বীকার করার জন্য শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে আমরা অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানাই। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, এই নৃশসংসতায় নিন্দা জানানোর পরিবর্তে সেটা অস্বীকার করেছেন সুচি।

কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় পার্টির শোক

এ্যাড. লোকমান হোসেন বেগ’র সহধর্মিনীর ইন্তেকাল

কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আইনজীবি ফেডারেশনের আহবায়ক সিনিয়র এ্যাডঃ মির্জা লোকমান হোসেন বেগ’র সহধর্মিনী সৈয়দা শাহিনা আফরোজ (৫৫) গতকাল ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৫টার সময় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না………রাজেউন)। শাহিনা আফরোজের অকাল মৃত্যুতে কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় পার্টির  সভাপতি নাফিজ আহমেদ খান টিটু সহ জেলা, উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এছাড়াও শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর রিনা নাসরিন। তিনি মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি