ঝিনাইদহে রাবেয়া হাসপাতালের উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদরে হরিশংকরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজনে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ঝিনাইদহ রাবেয়া হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার এর উদ্যোগে, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদের তত্বাবধানে রবিবার সারাদিন ব্যাপি মেডিকেল ক্যাম্পে দুইজন ডাক্তার চিকিৎসা ও ঔষধ বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাবেয়া হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানা , ডাঃ ফয়জন নেসা , ডাঃ মন্জুরুল হক , হাসপাতালের নজরুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলামসহ। ডাক্তারদ্বয় প্রায় ৪০০ জনকে  ইসিজি করা সহ চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করে। হাসপাতালের পরিচালক সোহেল রানা জানান প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে এই সেবা প্রদান করা হবে। তিনি আরও জানান প্রতিমাসে এই হাসপাতাল থেকে সমাজে অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। এলাকাবাসী ও রুগীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে গাংনীর আল মদিনা দাখিল মাদ্রাসা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ একটি আধুনিক মডেল প্রাইভেট ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেহেরপুর জেলার গাংনীর আল মদিনা দাখিল মাদ্রাসা। এতদাঞ্চলের ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিগণের ইসলামী জীবন ব্যবস্থা, নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চিন্তা চেতনার জায়গা থেকে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার করার লক্ষে এবং আর্থিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। গাংনী-মেহেরপুর মহাসড়কের পার্শ্বে গাংনী উপজেলা শহরের পশ্চিম উপকন্ঠে বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের পূর্ব পার্শ্বে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে কুরআন, হাদিস, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিশ্বপরিচয়, তথ্য প্রযুক্তি ও নূরানী কায়দায় কুরআন শিক্ষা সহ আধুনিক শিক্ষা দেয়া হয়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসাবে সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ ৯ জন  শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠদান করানো হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। মাদরাসায় শিশু শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়। বর্তমানে উক্ত মাদরাসায় ৬৫-৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছ্।ে আরও জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে ৫ম শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল ও ৮ম শ্রেণীর পরীক্ষার ফলাফল শতভাগ পাস। এছাড়াও ৫ম শ্রেণি (পিএসসি) পরীক্ষায় প্রতিবছরই ৩ থেকে ৮ জন পর্যন্ত বৃত্তি লাভ করেছে। পাশাপাশি ৮ম শ্রেণি ( জেএসসি) পরীক্ষায় ২/৩ জন বৃত্তিলাভ করেছে। বিগত ২০১৬ সালে আল মদিনা দাখিল মাদ্রাসা ফলাফলে জেলা পর্যায়ে ২য় স্থান অধিকার করে। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা কুতুবউদ্দীন জানান, মাদ্রাসার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে, মেধা যাচাইয়ের জন্য টিউটোরিয়াল পরীক্ষা গ্রহন এবং পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক ক্লাস ও খেলার ব্যবস্থা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, সকল জাতীয় দিবস পালন,  গাংনী উপজেলা তথা মেহেরপুর জেলা পর্যায়ে আল মদিনা দাখিল মাদ্রাসা শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় বিদ্যাপিঠ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছ্।ে এখানে পরিচালনা পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ফকির  মোহাম্মদ জানান, আমরা ইসলামী শিক্ষা তথা ইহকালের শান্তি ও পরকালীন মুক্তির লক্ষে গড়ে তুলেছি আল মদিনা দাখিল মাদ্রাসা। এখানে অধ্যয়ন করে অনেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছে।  আমরা এতদাঞ্চলের ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিগণের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। আমরা স্থানীয় সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সন্তানদের ভর্তি করে সার্বিক সহযোগিতা করতে আহব্ান জানাচ্ছি। ইতোমধ্যেই সরকারী বিধিনুযায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদন ও রেজিষ্ট্রেশন লাভের  জন্য আবেদন করেছি। আল মদিনা  দাখিল মাদ্রাসা  শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে  উপজেলা  মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর হাবিবুল বাসার জানান, গাংনী উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত সকল মাদরাসার মধ্যে আল মদিনার সাফল্য অনস্বীকার্য। আমি উক্ত মাদরাসার সাফল্য কামনা করি।

পেঁয়াজ অস্থিরতায় ‘ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কাল’ দেখছেন রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব কথা-বার্তা বলা হচ্ছে, তাকে ফরাসি বিপ্লবের সূচনালগ্নে রাজ পরিবারের বক্তব্যের সাথে তুলনা করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। গতকাল রোববার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, “আমরা মনে করি, পেঁয়াজ সংকট সৃষ্টির জন্য এই সরকারের অদক্ষতা, অযোগ্যতা, অর্বাচীন, অবহেলা যা অষ্টাদেশ শতাব্দীতে ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সের রানীর মতোই কান্ডজ্ঞানহীন কথা-বার্তার মতোই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা বলছেন।” বিদ্যমান সংকট সমাধানে বিমানে করে পেঁয়াজ আনার যে ঘোষণা সরকার দিয়েছে, তার কার্যকারিতা কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিমানে উঠে গেছে পেঁয়াজ। আর কোনো চিন্তা নেই। অথচ আজকের পত্রিকায় রিপোর্ট বেরিয়েছে, গত দেড় মাসে বিমানে করে পেঁয়াজ এসেছে মাত্র ১৬০০ কেজি অর্থাৎ দেড় টনের মতো। “আর তিনি কী ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘটা করে বলেছেন যে, প্লেনে উঠে গেছে পেঁয়াজ। মনে হচ্ছে যে, একটা বিশাল ঘটনা। অথচ দেড় মাসে এসেছে মাত্র দেড় টন পেঁয়াজ।” রিজভী বলেন, “জনগণ জানতে চায়, মাসের পর মাস সময় পেয়েও কেন পেঁয়াজ সংকটের সমাধান করা হল না? মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত এমন একটি উপাদান নিয়ে দিনের পর দিন শেখ হাসিনা কেন জনগণের সঙ্গে এমন নির্মম রসিকতা করে চলছেন-এটা আজ সকলের প্রশ্ন।” পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে বিএনপি। ঢাকায় হবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১০টায়। রিজভী অভিযোগ করেন, কারসাজি করে পেঁয়াজের সঙ্গে চালের দামও  পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “সরকারের প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেটের নজর এখন চালের বাজারেও। পেঁয়াজের মতোই চালও জনগণকে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। যে যেভাবে পারছে সাধারণ মানুষের টাকা লুটে নিচ্ছে। “গত কয়েক দিনে চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো সংস্থার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। বাজারে সরকারের কোনো নজরদারি নেই।”

‘সিন্ডিকেটের’ কারণে বাজারে মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, “সরকার বলছে, সারা দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। চালের আমদানিও গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বেশি। পাইকারি ও খুচরা বাজারেও সরবরাহ স্বাভাবিক। কোথাও চালের কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই। তারপরও চালের দাম বাড়ছে। “কারণ পেঁয়াজ কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চালের মজুতদাররা সরকারের কতিপয় এমপি-মন্ত্রী-ব্যবসায়ীর মদদে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্র্রীয় নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, আবদুস সালাম আজাদ, কাজী আবুল বাশার, রফিক হাওলাদার, আহসান উদ্দিন শিপন, শেখ আবদুল হালিম খোকন, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালুখালীতে শান্তিপূর্ণভাবে পিএসসি ও এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা শুরু

ফজলুল হক ॥ গতকাল রবিবার রাজবাড়ীর কালুখালীতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রাথমিক ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৯ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে ইংরেজী বিষয়ে এ বছরে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ২৯১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮৫৯জন ও এবতেদায়ীতে ১৯২ জনের মধ্যে ১৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত  ৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্র সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ নুরুল আলম, সদস্য সচিব হিসেবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুর রশিদ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী শিক্ষা অফিসার সেলিনা খাতুন, ইন্সট্রাক্টর মাইনুল ইসলাম হাওলাদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল বাসার চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুজিত কুমার নন্দি এছাড়াও ৯টি কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিব হিসেবে প্রধান শিক্ষক মোঃ জয়নুল ইসলাম, নাছিমা পারভীন, আব্দুল খালেক, মোঃ আমজাদ হোসেন, মোঃ কামাল হোসেন, দিপ্তি রাণী, মোঃ ইসতিয়াক আহম্মেদ, রুমানা সুলতানা, আক্তার জাহান আরজু ও হল সুপার হিসেবে মোঃ আব্দুল লতিফ, পরিমল কুমার সাহা ও আব্দুস সালাম সহ অন্যান্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

ভেড়ামারায় বিষ দিয়ে পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট করলো দূর্বৃত্তরা

মিরপুর অফিস ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সেলিম হোসেন নামের এক বর্গা চার্ষীর বর্গা নেওয়া ১৫ কাঁঠা জমিতে রোপনকৃত পেঁয়াজে বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করেছে দূর্বৃত্তরা এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার বিকেলে ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের রণপিয়া মাঠে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে ভুক্তভূগি ঐ কৃষক ভেড়ামারা মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। বর্গাচাষী সেলিম রণপিয়া এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বিকেলে অনান্য কৃষকরা মাঠে গিয়ে দেখে সেলিমের পেঁয়াজ গাছগুলো নেতিয়ে পড়ে মৃতপ্রায়। দূর্বৃত্তরা তার ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করেছে পেঁয়াজ গাছ নষ্ট করে দিয়েছে। ভুক্তভুগি ঐ কৃষক সেলিম জানান, কেউ শক্রতা করে আমার পেঁয়াজ ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করেছে। ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার সাইখুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত মাত্রায় আগাছা নাশক দেওয়ার কারনে পেঁয়াজ গাছ নেতিয়ে পড়ে। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সুব্রত প্রকাশ জানান, শক্রতা করে পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট করেছে এমন অভিযোগ নিয়ে এক কৃষক এসেছিলেন। তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রফেসর আমান উল্লাহ বিশ্বাস’র ১০ম মৃত্যু বার্ষিকী

কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের সাবেক অধ্যাপক আমান উল্লাহ বিশ^াসের ১০ম মৃত্যু বার্ষিকী (১৯৫১-২০০৯) পালিত হচ্ছে। আজ ১৮ নভেম্বর সোমবার, মরহুম প্রফেসর আমান উল্লাহ বিশ্বাসের দশম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে তার নিজ এলাকা তালবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিতার কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের আত্মার মাগফেরাতে দোয়া মাহফিলে অংশ গ্রহনে তাঁর পরিবারের পক্ষ বিনীত অনুরোধ করা হয়েছে।  ২০০৯ সালের এই দিনে মাত্র ৫৭ বছর বয়সে তিনি সবাইকে  ছেড়ে অনন্তের পথে পাড়ি দেন। আজন্ম নিরহংকারী এই মানুষটি তাঁর বর্ণাঢ্য ও কর্মময় জীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব-কর্মে নিজেকে নিয়োজিত  রেখেছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় শুরু করে শিক্ষকতা দিয়েই শেষ করেছেন তাঁর কর্মময় জীবন। সর্বশেষ তিনি কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর মাঝে তিনি তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষানুরাগী এই মানুষটি দীর্ঘ দিন ধরে সততার সাথে তালবাড়ীয়া হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন বেসরকারী সেচ্ছাসেবী সংস্থার সাথেও নিজেকে যুক্ত রেখে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত  থেকে জনকল্যাণে কাজ করে গেছেন আজীবন। জীবদ্দশায় তিনি জটিল কিডনী রোগে আক্রান্ত হলে ১৯৯৮ সালে ভারতের কোলকাতা থেকে তাঁর কিডনী ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভেড়ামারায় কলাইয়ের রুটি বিক্রি’র ধুম

আল-মাহাদী ॥ শীত মৌসুমে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মিরপুর ও  দৌলতপুর উপজেলায় হাটবাজারগুলোতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কলাইয়ের রুটি বিক্রি’র ধুম পড়েছে। খেতে খুবই সুস্বাদু, তাই কুষ্টিয়া অঞ্চলে এ রুটি খুবই জনপ্রিয়। সুস্বাদুকর কলাই রুটি মূল ভোক্তা শ্রমজীবী মানুষ, রিক্সাওয়ালা, মুঠে মজুর, ক্ষুদে ব্যবসায়ী এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী এমন কি ভদ্রলোকদেরকেও সখের বসে খেতে দেখা যায়। কুষ্টিয়া অঞ্চলের জনপ্রিয় কলাইয়ের রুটি বিক্রি করে অনেক মহিলার জীবন জীবিকার জন্য নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রতিদিন সন্ধ্যা রাত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রুটি বিক্রি করে। রুটি বিক্রেতা আমেনা খাতুন জানান, কলাইয়ের রুটি খেতে সবজি লাগে না, চিনি, গুড় কিংবা মিষ্টি লাগে না, প্রয়োজন হয় না গোশতেরও। স্রেফ তেল, লবণ, মরিচ আর পিয়াজ দিয়ে তৈরী ঝাল দিয়ে খেতে হয় এই রুটি। রুটি ব্যবসায়ীর থালা বাসনেরও প্রয়োজন হয় না।  ক্রেতারা রুটি হাতের উপর নিয়ে খেতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। প্রতিদিন রাতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বিক্রি হয়। লাভ ও হয় ছয় সাতশ’ টাকা। রাস্তার ধারে ফুটপাতে সামান্য চাটাইয়ের ছাউনির নীচে তৈরী পর্দার আড়ালে ইটের উপর কিংবা কাঠের পিড়ির উপর বসে খাওয়ার ব্যবস্থা। কেউ কেউ খোলা আকাশের নীচে বসে রুটি বিক্রি করে চলেছে। ভদ্রলোকদেরও কম পছন্দ নয় কলাইয়ের রুটি। তবে তারা  তো ফুটপাতে এসে বসতে পারে না। পিয়ন বা গার্ডদের মাধ্যমে কিনে নিয়ে গিয়ে তারা চেয়ার টেবিলে বসে আসর মাতিয়ে খান। কালাইয়ের রুটি বানানোর কৌশল সম্পর্কে হাসিনা বানু ও রোকশানা বেগমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা হাঁসতে হাঁসতে  জানান, শুধু কলাইয়ের রুটি খেতে ভাল লাগে না। তিতকুটে ও কষ্টে লাগে। সে জন্য চাল ও গমের আটা মিশাতে হয়। পরিমাণ মত লবণ ও পানি দিয়ে আটা মাখিয়ে তৈরী করা হচ্ছে আসল কাজ। মাখানো কাজটি যত ভালো হবে রুটি হবে তত ভাল ও সুস্বাদু হবে। কলাইয়ের রুটি হয় আয়তনে বড় এবং মোটা। সে কারণে রুটি সেকার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রুটি জমজমাট ভাবে বিক্রি হয়। প্রতি রুটি ২০ টাকা। অর্ডার দিলে ২৫ টাকা পিচ বিক্রি করা হয়। এতে প্রতিদিন আয়ও ভাল হয়। যা দিয়ে দুঃস্থ মহিলাদের স্বাচ্ছন্দে সংসার চলে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে আগে আগাছা হাইব্রিড নেতা ছিল না। বর্তমানে এই আগাছা ও হাইব্রিড আওয়ামী লীগে ভরে গেছে। অবশ্যই আগাছা ও হাইব্রিডমুক্ত আওয়ামী লীগ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আছি, আমাদের সবার তেল বেড়ে গেছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের নেত্রীকে তুলে নিলে, আমাদের খুব খারাপ অবস্থা হবে। আমাদের সবার উচিৎ শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করা। তিনি বলেন, ফজরের নামাজ পড়ে কোরআন তেলোওয়াত করে দিনের কাজ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মুহম্মদ (স.) এর আদর্শ উম্মত। তিনি নিজ ঘর থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। তিনি আগে নিজের ঘরকে শুদ্ধ করতে চান। এর আগে সকাল ১১ টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করা হয়। শুরু হয় প্রথম পর্বের আলোচনা সভা। কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু, সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান, মকবুল হোসেন প্রমুখ। এরপর আলোচনা সভা শেষে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এমপি। ঝিনাইদহ-৪ আসনের ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার সভাপতি ও সম্পাদকদের মতামতের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের ২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানকে সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে ঘোষণা প্রদান করা হয়।

সাউথ এশিয়ান গেমস-এ ইবি থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিযোগী

নেপালের কাঠমান্ডু ও পোখারাতে অনুষ্ঠিতব্য সাউথ এশিয়ান গেমস-২০১৯-এ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। দেশের ৪৫টি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রতিযোগী এ গেমস-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলো থেকে মোট ৭ শিক্ষার্থী গেমসটিতে অংশ নিবেন।  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তোমরা পদক জয় করে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের মান উজ্জ্বল করবে, এই প্রত্যাশা রাখছি। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় সবসময় তোমাদের পাশে আছে এবং থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্র সাকিব বাস্কেটবল, লোক প্রশাসন বিভাগের তামিম রোল বল এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ইমন হ্যান্ডবল ইভেন্টে প্রতিযোগিতা করবেন। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্রী প্লাবনী হক হাইজাম্প, তামান্না আকতার ১০০ মিটার হার্ডেলস, ৪ ী ১০০ মিটার ও ৪ ী ৪০০ মিটার রীলে রেস  এবং রিংকী খাতুন লংজাম্প ও ৪ ী ১০০ মিটার রীলে রেস ইভেন্টে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন । আগামী ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর সাউথ এশিয়ান গেমস-২০১৯ অনুষ্ঠিত হবে। গেমস-এ অংশ নিতে দলটি আগামী ২৯ নভেম্বর নেপালের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে এবং ১২ ডিসেম্বর ঢাকা প্রত্যাবর্তন করবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মিরপুর  আ’লীগের সম্মেলনে সফল করতে আমবাড়ীয়া আ’লীগের ব্যাপক প্রস্তুতি

মিলন আলি ॥ আজ সোমবার কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এই সম্মেলনকে সফল ও স্বার্থক করার জন্য আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি  সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান  আব্দুল বারী টুটুলের সভাপতিত্বে এক প্রস্তুতি সভা গতকাল  হালসা আদর্শ ডিগ্রী কলেজ হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুদ্দিন মুকুল সাইফুলের পরিচালনায় পরিচিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আমবাড়ীয়া  ইউনিয়ন আ’লীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কাছ আলী ও সাবান আলী, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক  ঝন্টু মালিথা ও মনিরুজ্জামান বাবু, সহ-সভাপতি ছানা উল্লাহ, সংগঠনিক সম্পাদক দাউদ মেম্বর, আ’লীগ নেতা মোমিন, রাশেদ    মেম্বর, ২নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি বিজয় কুমার, সাধারন সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি হবিবার রহমান, সাধারন সম্পাদক তনছের আলী, ৮ নং সভাপতি ওয়াহেদ আলী, সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, আলী, জসিম উদ্দীন বাদশা। সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে সফল ও স্বার্থক করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যাপক শোডাইন ও পথসভা করেন আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ’লীগ ও সহযোগি অঙ্গ সংগঠনের  নেতা কর্মী-সমর্থকরা। সভাপতি আব্দুল বারী টুটুল বলেন মিরপুরের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন থেকে সব  চেয়ে বেশি সংখ্যক নেতা-কর্মী সমর্থক ও সাধারন মানুষের উপস্থিত হবে ইনশাল্লাহ।

পিঁয়াজের কেজি ২২০ টাকা

দৌলতপুর থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমানের পিঁয়াজের বাজার মনিটরিং 

দৌলতপুর প্রতনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি টিম পিঁয়াজের বাজার মনিটিরিং করেছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে দৌলতপুর থানা বাজার ও উপজেলার বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে পিঁয়াজের বাজার মটিনটরিং করেন। মনিটরিংকালে অতিরিক্ত পিঁয়াজের দাম নেওয়া হচ্ছে কি না তা যাচাই করা হয় এবং এ বিষয়ে পিঁয়াজ বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলেন, দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান। তবে গতকালও উপজেলা বাজারে পিঁয়াজের কেজি ২২০টাকা করে বিক্রয় করেছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। পিঁয়াজের মূল্য বেশী হওয়ায় ক্রেতা সাধারণকে প্রয়োজনের তুলনায় কম পিঁয়াজ ক্রয় করতে দেখা গেছে।

খাদিমপুরের রাসেলের সুদের জালে আটকা দশের অধিক পরিবার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার  বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদা খাদিমপুর গ্রামের মৃত লিয়াকতের ছেলে রাসেল দশ বছর আগেও ছিলেন নিম্নবিত্ত পরিবারে মানুষ। সম্পদ, টাকা পয়সা কিছুই ছিল না। কিন্তু এখন সে কোটি কোটি টাকার মালিক। নয় মাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি আলিশান বাড়ী হাকিয়েছেন রাসেল। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে । মাত্র ১০বছরের ব্যবধানে এত টাকার মালিক কিভাবে হল প্রশ্ন সবার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাসেলের চোখে পড়ার মত কোন ব্যবসা নেই, কোন চাকরিও করেন না। তাহলে এত টাকার মালিক হলেন কিভাবে ? জানাগেল একটিই ব্যবসা সুদের, রাসেল চড়া সুদে মানুষের কাছে টাকা খাটিয়ে যখন সুদের টাকা দিতে না পারে তখন টাকা গ্রহীতাকে আটকে রাখে, জোর করে জমি-জায়গা লিখে নেই। এমন ঘটনার শিকার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের মৃত ইসরাইরের ছেলে  মেহেদী হাসান। তিনি জানান, বছরখানেক আগে ব্যবসার জন্য রাসেলের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা সুদের ঋণ নেয়, বিনিময়ে রাসেল মেহেদীর কাছ থেকে ব্লাইংক চেক নেয়। এরপর থেকে মেহেদী নিয়মিত মাসিক হারে সুদের টাকা পরিশোধ করে আসছে। এক পর্যায় মেহেদী রাসেলের সব টাকা পরিশোধ করতে চাইলে রাসেল ২৮ লাখ টাকা দাবি করে। এত টাকা কিভাবে হলো রাসেলের কাছে মেহেদী চানতে চাইলে রাসেল বলেন সুদে আসলে এত হয়েছে। তখন মেহেদী রাসেলকে বলেন আমি যে এতদিন মাসিক হারে সুদ দিলাম সে টাকা কি হলো, রাসেল অস্বীকার করেন আমাকে কোন টাকা দেননি। এক পর্যায় মেহেদী নগদ ৬ লক্ষ টাকা পরিশোধ করলেও বাঁকি টাকার জন্য রাসেল চাপ দেয়। মেহেদী তারপর ২বিঘা জমি লিখে দেয় রাসেলের নামে। এরপরেও আরো টাকা দিতে হবে বলে মেহেদীকে  হুমকি ধামকি দিচ্ছে। না হলে চেকের মামলার হুমকি দিচ্ছেন রাসেল। মেহেদী বলেন আমার মত অনেককেই ঠকিয়ে জায়গা-জমি হাতিয়ে নিয়েছেন রাসেল। আসলের থেকে অনেকগুন টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করেছেন রাসেল। রাসেল খুব প্রভাবশালী হওয়ায় ওর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলেন না। কিছু বললে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয় রাসেল। বহলবাড়ীয়া গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে রাসেলের সুদের জালে সহায় সম্বল হারিয়েছেন আরো কিছু মানুষের নাম পাওয়া যায়। বহলবাড়ীয়াবাসি আয়ুব আলীর ছেলে হাকিম শেখ, নুরউদ্দিন’র ছেলে টিপু সুলতান, রানাখড়িয়ার মৃত মতিয়ার মন্ডলের ছেলে মাহাবুল আলম। এসব বিষয়ে জানার জন্য রাসেলের ফোনে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সুদের কারবারি রাসেলের কাছে সব হারাতে না হয় সাধারন মানুষের এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ইউনিয়নের সচেতন মহল।

কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসকের সাথে চালকল মালিকদের বৈঠক

নতুন করে চালের দাম না বাড়ানোর আশ্বাস

নিজ সংবাদ ॥ গত দু’সপ্তাহ জুড়ে সব রকম চালের বাজার উর্ধ্বমুখী। কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৪-৭টাকা। কিন্তু হঠাৎ করেই চালের বাজার উর্ধ্বমুখী হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়ে সরকার। কেন চালের বাজার বাড়লো? কারণ খুঁজতে মাঠে নামে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। বর্তমান পরিস্থিতিতে চালের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কোন কারণও দেখছেনা সরকারসহ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এনিয়ে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তাহলে কী মিলারদের কারসাজিতে চালের দাম বাড়ছে? গত দু’দিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমনই বিষয় ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইঙ্গিত নয়, সরাসরি মিলারদেরকেই দায়ি করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম নওগা ও কুষ্টিয়ার মোকামে এমন সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সিন্ডিকেট হোক আর যাই হোক। চালের বাজার অস্থির করা যাবেনা। যারা বাজার অস্থির করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন নির্দেশনা পেয়ে এবার বেশ নড়ে চড়ে বসেছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে গতকাল রোববার বিকেলে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে জেলার চালকল মালিকদের জরুরী বৈঠক হয়। জেলা প্রশাসক  মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামও। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন গত দু’সপ্তাহ ধরে চালের বাজার চড়া। চালের বাজার নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে। এজন্য কারা দায়ি তা দেখা হবে। তবে চালের বাজারের লাগাম ধরতে হবে। কোন অবস্থাতেই চালের বাজার অস্থির দেখা যাবেনা। এবিষয়ে জেলা চালকল মালিকদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চালের দাম কমাতে হবে। খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীদেরও একই কথা জানান। লাভ কম করে চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে হবে।

জেলা প্রশাসকের এমন নির্দেশনায় প্রাথমিক পর্যায়ে সন্তুষ্ট হতে না পারলেও পরবর্তিতে ঠিকই সম্মত হন চালকল মালিকরা। আগামী ১৫দিনে চালের দাম বাড়ানো হবেনা মর্মে আশ্বাস দেন তারা।

এবিষয়ে চালকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাস্কিং মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান চালের বাজার অস্থিরতায় চালকল মালিকদের কোন হাত নেই। ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বেড়েছে। জেলা প্রশাসকের বেঁধে দেয়া দরে চাল বিক্রির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও আপাতত আগামী ১৫দিনে চালের দাম বাড়বেনা মর্মে আশ্বাস দেন তিনি। নতুন ধান উঠলেই বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে চালের দাম বৃদ্ধির দায় চালকল মালিকরা নিতে চাননা বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি দেশ এগ্রো’র স্বত্বাধিকারী এমএ খালেক জানান চালের বাজার অস্থিরতার পেছনে চালকল মালিকদের হাত নেই। চালকল মালিকরা বরাবরই সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে। আগামীতেও করবে। তবে চাল সিন্ডিকেট বিষয়ে চালকল মালিকদের ঢালাও দোষারোপ তিনিও মানতে নারাজ। চালের দাম যে পরিমান বেড়েছে তার ওপরে আর উঠবেনা বলেও তিনি মনে করেন।

কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম জানান চালের বাজার অস্থির করে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবেনা। যারা চালের বাজার বৃদ্ধির সাথে যুক্ত থাকবেন তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। এবিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবেনা বলেও জানান তিনি।

এদিকে চালসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে আজ থেকে জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম মাঠে থাকবে বলে জানান।

ভেড়ামারা উপজেলা নেতৃবৃন্দর সাথে জেলা বিএনপির মতবিনিময়

দলকে সুসংগঠিত আন্দোলন সংগ্রামের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ সাথে মতবিনিময় হয়েছে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। সভাপতির বক্ত্যবে মেহেদী রুমী বলেন, দেশে কোনো আইনের শাসন নেই।  নেই কোনো জবাবদিহিতা। দেশের জনগনের প্রতি সরকারের  কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। দ্রব্যমূল্য লাগামহীন, সড়কে দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, খুন, গুম, ধর্ষণ বেড়েই চলেছে।  আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাব। যতদিন বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে না আসবে, যতদিন গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্ত না হবেন, ততদিন জাতীয়তাবাদী দল মানুষের সঙ্গে থাকবে এবং আন্দোলন করবে।

অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। মানুষের মতপ্রকাশ করার অধিকার নেই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ও একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দাবিতে বিএনপির চলমান আন্দোলন চলবে। তিরি আরো বলেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাব। যতদিন বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে না আসবে, যতদিন গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্ত না হবেন, ততদিন জাতীয়তাবাদী দল মানুষের সঙ্গে থাকবে এবং আন্দোলন করবে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার শামসুজ্জাহিদ, ভেড়ামারা  পৌর বিএনপির বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান.  ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মনিরুল ইসলাম খান, ভিপি আবু মোহাম্মাদ নুর উদ্দিন, আব্দুল মান্নান, আলী হোসেন. ধরমপুর ইউপি সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন আলী, জুনিয়াদহ ইউপি বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান, আহসান হাবিব, ভেড়ামারা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম, মাহাবুব আলম, আরিফুল ইসলাম মন্টু, আসাদুজ্জামান সোহাগ, শহীদুল ইসলাম কালু, তৌহিদুল ইসলাম, মোমিন শেখ, ইসমাইল হোসেন, বিল্লাল হোসেন, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক বকুল আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

কুষ্টিয়ায় মহান বিজয় দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভায় আসলাম হোসেন

বাঙালি জাতির গৌরবের এদিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌত্ব রক্ষায় শুধুই সভা সেমিনার নয়। নিজেদের আত্মোপলব্ধি থেকে বাঙালি চেতনাবোধকে জাগ্রত করে তুলতে হবে। হঠাৎ করেই এদেশ স্বাধীন হয়নি। দেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মা মাটি মানুষের মুক্তি ও আমাদের মহান স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। অসীম সাহসিকতা নিয়ে পাকহানাদারদের সাথে ৯ মাস সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে দেশের সূর্য্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা। এই মহান আত্মত্যাগের কথা হৃদয়ে ধারন করেই বাঙালি জাতির গৌরবের মহান বিজয় বিদস দিনটি বিনম্র শ্রদ্ধায় যথাযোগ্য মর্যাদা পালন করতে হবে। গতকাল রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে মহান বিজয় বিদস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এদেশ থেকে চিরশক্র পাকিস্তানী হানাদারদের উৎখাত করে প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করেছিল তারা আজ অবহেলিত। বিগত দিনগুলোতে মুক্তিযোদ্ধারা না শ্রদ্ধায়, না কর্মে, না সঠিক মূল্যায়নে কোনভাবেই সম্মানিত হয়নি। কোন সরকারই মূল্যায়ন করেনি কিংবা রাষ্ট্রকর্তৃক মূল্যায়িত হয়নি। এটি হতে পারেনা। যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজকে আমরা বিভিন্নভাবে সম্মানিত হচ্ছি, অথচ তাদের বেলায় অবজ্ঞা আর অবহেলা মেনে নেয়া যায় না। এই সূয্যসৈনিকদের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আজকের প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলকে আন্তরিক হতে হবে। জাতির গৌরবের এই ইতিহাস তুলে না ধরার কারনে সেদিন তারা যে আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে বাঙালি জাতি এদেশ স্বাধীন করেছিল তা পুরণ হয়নি আজো। দেশের সূর্যসৈনিক মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে আগামী মহান বিজয় দিবসে যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদা দেয়া হবে। যতই অসম্মানিত কিংবা অবহেলা করা হোক না কেন ইতিহাস সব সময় সত্যের দিকে ধাবিত হয় এবং হচ্ছে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার সূর্যসৈনিক মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদার সাথে মূল্যায়ন করে চলেছেন এবং আগামীতে তাদের উত্তরসূরী পরিবারকে মূল্যায়নের ঘোষনা দিয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পরিবারের সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদের আত্মার প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করেই আলোচনা শুরু করা হয়।  বিগত বছরের বিস্তারিত তুলে ধরে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ¦ রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ রওশানারা বেগম, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবাইদুর রহমান, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুষ্টিয়া জজকোর্টের জিপি এ্যাড. আ.স.ম. আখতারুজ্জামান মাসুম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন চৌধুরী, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নুরুন নাহার বেগম, জেলা জাসদের সভাপতি হাজী গোলাম মহসীন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার হাজী রফিকুল আলম টুকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন, সানোয়ার উদ্দিন রিন্টু, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোমিন, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, জেল সুপার জাকের হোসেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম মারুফ আল ফারুকী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেলা শিল্পীকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, লালন একাডেমির আহবায়ক কমিটির সদস্য সেলিম হক, রাইফেলস ক্লাবের মনছুর চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলম আরা জুঁই, জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমান, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক, বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, বিসিকের মহাব্যবস্থাপক শফিউল আলম, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এটিএম জালাল উদ্দিন, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসানা পারভীন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসিনা বেগম, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান, নিলুফা নাসরিনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, স্কুল-কলেজ ক্লাব, সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের ও সংগঠনের প্রতিনিধিগণ। যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী মহান বিজয় দিবস সফল সুন্দর ও স্বার্থকভাবে উদযাপনের লক্ষে সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের নিয়ে একটি মূল কমিটি ও বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়। এবারের বিজয় দিবসেও প্রতিবারের ন্যায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর গ্রান্ড দুবাই এয়ারশো ২০১৯-এ যোগদান

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে পাঁচ দিনব্যাপী ষোড়শ দ্বিবার্ষিক এয়ার শো ইভেন্ট ‘দুবাই এয়ার শো-২০১৯’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। দুবাইয়ের ভবিষ্যত বিমানবন্দরের (দুবাই আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবেও পরিচিত) দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে এই এয়ারশোটি শুরু হয়েছে। ১৭ থেকে ২১ নভেম্বর প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুবাইয়ের আকাশে দ্বিবার্ষিক এই এয়ার শোটি অনুষ্ঠিত হবে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সফল এয়ার শো এবং মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকা বৃহত্তম এরোস্পেস ইভেন্ট। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে এই এয়ারশো-তে অংশ নেন। পরে তিনি দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফ্লাইং ডিসপ্লে উপভোগ করেন। এ বছর সারা বিশ্বের ৮৭ হাজারের বেশি ট্রেড ভিজিটর ও ১ হাজার ৩শ’র বেশি এক্সিবিটর দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ বিমান বন্দর দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্টারে এ উপলক্ষে সমবেত হয়েছেন। এছাড়াও এতে ১৬০টি দেশ থেকে ১৬৫টি বিমান অংশ নিচ্ছে। এটি ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত এয়ার শো সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের এই শোতে ১১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যে অর্ডার পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল এয়ারবাসের কাছে ৪৩০টি বিমানের জন্য ৪৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইন্ডিগো পার্টনার্স অর্ডার এবং ফ্লাইদুবাইয়ের সাথে বোয়িংয়ের ২৭ বিলিয়ান মার্কিন ডলার চুক্তি। ১৯৮৯ সালে দুবাই এয়ার শোটি প্রথম প্রদর্শিত হয়। এটি এখন বেসামরিক বিমান শিল্পের জন্য একটি বৈশ্বিক প্লাটফরমে পরিণত হয়েছে। এখানে বিশ্বের বিমান প্রস্তুতকারক এখানে তাদের প্রস্তুতকৃত নতুন মডেলের বিমান প্রদর্শন ও বিক্রয় করেন। পাশাপাশি, এখানে প্রাইভেট ও পাবলিক সেক্টরের কোম্পানিগুলো নতুন নতুন প্রযুক্তি, সুযোগ এবং এই শিল্পের প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। ইউএই’র বিমান কোম্পানিগুলো বেশ কিছু নতুন অর্ডার ঘোষণা করে ও তাদের আগের চুক্তিগুলো নিশ্চিতের মাধ্যমে একে এই অঞ্চলের সবচেয়ে সফল ও বৃহত্তম প্রদর্শনিতে পরিণত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আবু ধাবির শাংরিল-লা হোটেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ ইমরান আয়োজিত এক নৈশভোজে তিনি যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন সময়ে এই হোটেলেই অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রী দুবাই এয়ার শো-২০১৯ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চার দিনের সরকারি সফরে শনিবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত পৌঁছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী ১৮ নভেম্বর আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশীদের ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরু এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণে নির্বাচন কমিশনের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন। শেখ হাসিনা সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাঁর চার দিনের সফর শেষে ১৯ নভেম্বর দেশে ফিরবেন।

কুষ্টিয়া মহাশশ্মান মন্দিরে কার্ত্তিক পূজা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া মহাশশ্মান মন্দিরে শ্রীশ্রী কার্ত্তিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার রাতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় ছিলেন শ্রীশ্রী কার্ত্তিক পূজা উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক ও সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার। পূজা চলাকালিন সময় রাতে মহাশশ্মান মন্দিরে উপস্থিত হন, শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা তাইজাল আলী খান, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক, সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন পাল, কাউন্সিলর আনিস কোরাইশী, ১১ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক খান মোঃ ওয়াহেদ রনি সহ আ’লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মন্দির কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খোকসায় পল্লী বিদ্যুত সমিতির সাব জোনাল অফিসের উদ্বোধন

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় পল্লী বিদ্যুত সমিতির সাব জোনাল অফিসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে মাঠপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে খোকসা সাব জোনাল অফিসের আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করেন কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুত সমিতির জোনাল ম্যানেজার মোঃ হারুন অর রশিদ, ডেপুটি জোনাল ম্যানেজার প্রকৌশলী কামাল জিয়াউল ইসলাম প্রমুখ। উপজেলার ৩৬ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুত সেবা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষনিক একজন ডিজিএম পদ মর্যাদার কর্মকর্তাসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকছেন এই অফিসে। এই সাব জোনাল অফিস থেকে নতুন সংযোগ, বিল বিড়ম্বনাসহ গ্রাহকদের বিদ্যুত সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন। সাব জোনাল অফিসের কার্যক্রম শুরুর পর অফিসের দ্বিতীয় তলায় আলাপকালে জেনারেল ম্যানেজার মোঃ হারুন অব রশিদ বলেন- গ্রাহকদের বিদ্যুত পরিসেবা নিশ্চিত করতে এই অফিসের প্রয়োজনীয়তা অনেক আগেই কর্মকর্তারা অনুধাবন করেছিলেন। কিন্তু নানা জটিলতায় একটু বিলম্ব হয়েছে।

 

দেড়যুগ পর দৌলতপুর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন কাল

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাদের ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন না সভাপতি-সম্পাদক

শরীফুল ইসলাম ॥ দেড়যুগ পর অবশেষে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। তবে দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগর নেতাদের অন্ধকারে রেখেই দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নির্বাচিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কে হচ্ছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সে বিষয়ে জোর প্রচার প্রচারনা না থাকলেও মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অভিমত দেড়যুগ আগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই এবারও বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সভাপতির পদের জন্য তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এ্যাড. হাসানুল আসকার হাসু এবং দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাদিকুজ্জামান খান সুমন-এর নাম সাধারণ নেতা-কর্মীদের মুখে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরিফ উদ্দিন রিমন সাধারণ সম্পাদকের পদে বহাল থাকছেন এবং এ পদের জন্য সে যোগ্য এমনও মন্তব্য করেছেন মাঠ পর্যায়ের তৃনমুলের নেতা-কর্মীরা।

দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইয়াছিন আলী শফি বলেন, দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. ছাদিকুজ্জামান খান সুমন এবারের সম্মেলনে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য যোগ্য মনে করছি। কারন তাকে আমাদের পাশে সুখে দুখে সবসময় পাওয়া যায়।

দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে দৌলতপুরের ১৪ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সম্মেলন থেকে কোন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির নাম ঘোষনা করা হয়নি। প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী ও প্যানেল হওয়ায় দলীয় কোন্দল ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের মঙ্গলবারের সম্মেলন সম্পন্ন হওয়ার পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির নাম ঘোষনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভোটে বা সমর্থনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ অন্যান্য পদ নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও এর কোনটায় মানা হচ্ছে না।

তবে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের সম্মেলনের দিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষনা করা হবে। সে লক্ষে জোর প্রস্তুতি চলছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি এবারও প্রার্থী কি না জানতে চাইলে এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন বলেন, দিন রাত পরিশ্রম করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করেছি। দলের সুসময়ে-দু:সময়ে আছি, দলে জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতেও দলের জন্য কাজ করবো। কাজের মূল্যায়ন হলে সাধারণ সম্পাদক পদের বিষয়ে তিনি শতভাগ আশাবাদী। ২০০২ সালে দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া ডাকবাংলো চত্বরে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সম্মেলনের ঘোষিত দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির অনেক সদস্য প্রয়াত হয়েছেন, অনেকে বয়সের ভারে ভারসাম্য হারিয়েছেন। তাই দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ পর আগামীকাল ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতপুর কলেজ মাঠে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষে প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। এ সম্মেলন থেকে বিএনটি-জামায়াত-জঙ্গী, বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী ও মাদকাশক্ত মুক্ত নবীন প্রবীনদের সমন্বয়ে একটি যোগ্য সুসংগঠিত কমিটি উপহার দেওয়া হোক এমন প্রত্যাশা তৃনমুল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের।

কুষ্টিয়ায় বি আর বি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ পরিদর্শন করলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি

নিজ সংবাদ ॥ শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব সরকার, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের শিল্প-কলকারখানা গুলিকে আরও আধুনিকয়ান করে গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বেকাররত্ব দুরিকরনের লক্ষ্যে বৃত্তবানদের প্রতি নিজ জেলায় শিল্প-কলকারখানা বৃদ্ধির আহবান জানান। গতকাল রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া বিসিক শিল্প নগরীতে বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের কার্যালয় এক মতবিনিময় সভায় একথা বলেন। এর আগে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি শহরের কাস্টমস মোড়স্থ নির্মানাধীন বিআরবি’র আধুনিক হসপিটাল এবং বিসিক শিল্প নগরীতে বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় বাংলাদেশ স্টিল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও যুগ্ম-সচিব মিজানুর রহমান, উপ-সচিব আব্দুল ওয়াহেদ, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক  মোঃ আসলাম হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, বিআরবি গ্র“পের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজিবুর রহমান, এমডি সামসুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিআরবি’র কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

গুলশান হামলার মামলার রায় ২৭ নভেম্বর

ঢাকা অফিস ॥ তিন বছর আগে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার আলোচিত মামলার রায় হবে আগামী ২৭ নভেম্বর। গতকাল রোববার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গোলাম সারওয়ার খান জাকি বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের চার দিনব্যাপী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে বিচারক আজ  (রোববার) মামলার রায়ের জন্য ২৭ নভেম্বর তারিখ ধার্য করে দেন।” সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এই মামলায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন বলে দাবি করে আসছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। ২০০৯ সালের এই আইনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ৩ ডিসেম্বর মামলার বাদী এসআই রিপন কুমার দাসের জবানবন্দি নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। তার আগে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ওই বছরের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের মধ্যে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজেন বেকারিতে হয়েছিল ভয়াবহ ওই হামলা; হামলাকারীরা ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে গলাকেটে হত্যা করে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

পরে কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত পাঁচ তরুণের সবাই মারা পড়েন। তারা হলেন-রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। নব্য জেএমবি ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় হামলা চালিয়ে নিজেদের সামর্থ্যরে জানান দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে এই হামলার ছক কষেছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। নজিরবিহীন ওই হামলা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিপজ্জনক বিস্তারের মাত্রা স্পষ্ট করে তোলে। হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে দলটির শীর্ষনেতাদের বেশ কয়েকজন মারা পড়েন। এই হামলায় জড়িত হিসেবে যে আটজনকে জীবিত গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হয় হামলার পর এসআই রিপন কুমার দাসের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটিতে। আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। রোববার রায়ের তারিখ ঘোষণার সময় এই আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা সবাই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এই মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির। মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে যে ১১৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়, তার মধ্যে সর্বশেষ জন ছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। সাক্ষ্যে হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, “হলি আর্টিজানে হামলার আগে জঙ্গিরা বাংলাদেশে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করে। এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের ফেব্র“য়ারির শেষ দিকে গাইবান্ধার বোনারপাড়া বাজার এলাকার কলেজ মোড়ে একটি বাসায় মিটিং করে প্রথমে তারা হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা করে। “হলি আর্টিজান বেকারি কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত থাকায় সেখানে হামলা করার পেছনে কারণ ছিল জঙ্গিদের নিজেদের সামর্থ্যরে জানান দেওয়া। এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করে নৃশংসতার প্রকাশ ঘটনানোর পাশাপাশি তারা এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রচার করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে চেয়েছিল।” তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “এই হামলার সাথে জড়িত ২১ জনকে আমি শনাক্ত করি। এর মধ্যে ১৩ জন জঙ্গি পুলিশের বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়। বাকি আটজনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।” মামলার অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, নব্য জেএমবির জঙ্গিরা ছয় মাস ধরে পরিকল্পনা করে ওই হামলা চালিয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, দেশকে ‘অস্থিতিশীল করা’ এবং বাংলাদেশকে একটি ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ বানানো।