আবরার ফাহাদের মা, বাবা ও ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া

দ্রুত অভিযোগপত্র দেয়ায় খুশি, এখন খুনিদের ফাঁসি দেখতে চাই

নিজ সংবাদ ॥ বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বি হত্যাকান্ডের ১ মাস ৭দিনের মাথায় আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দেয়ায় আপাতত খুশি পরিবারের সদস্যরা। তবে দ্রুত সময়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কাজ শেষে খুনিদের ফাঁসি দেখতে চাই আববারের মা, বাবা ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। একই সাথে অবহেলার বিষয়ে বুয়েট কর্তৃপক্ষের নাম আসায় এখন থেকে তাদের সব শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়ার আহবান তাদের। যাতে আর কোন আবরারকে কখনো এই রকম পরিণতি ভোগ করতে না হয়।

গতকাল বুধবার আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ। এরপর কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কে আবরার ফাহাদের বাসায় গিয়ে চার্জশীট দাখিলের বিষয়ে কথা হলে তার মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘পুলিশ কথা রেখেছে। তারা বলেছিল নিরপেক্ষভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশীট দাখিল করবে। তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে আবরার ফাহাদের বিচারের দায়িত্ব নেন। সেই দায়িত্ববোধ থেকে তিনি নিজে বিষয়টি মনিটরিং করছেন। তাই তাকেও ধন্যবাদ। সব মিলিয়ে ২৫জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে শুনেছি। চার্জশীটের কপিতে কি আছে আমরা জানি না। তবে চার্জশীট যেমন দ্রুত হলো এখন দ্রুততম সময়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করতে হবে অপরাধীদের। অপরাধের ধরন অনুযায়ী সবাইকে কঠোর ও সর্বোচ্চ সাজা দিতে হবে। পাশাপাশি আবারের মা বলেন, বুয়েট কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টি আমরা বলে আসছিলাম। পুলিশও তদন্তে সেটা প্রমান পেয়েছে। তাই এখন থেকে তাদেরও প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যাপারে যতœবান হতে হবে। যাতে আর কোন আবরারকে আমাদের হারাতে না হয়।

আবরারের মা সকল মিডিয়া, বুয়েটের আন্দোলনকারী থেকে শুরু করে দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ সাব্বির বলেন,‘ পুলিশ তাদের কথা অনুযাযী দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগপত্র আদালতে দিয়েছে। ১৯জন থেকে এখন সব মিলিয়ে আসামী ২৫জন। তাই দ্রুত বিচার কাজ শুরু করতে হবে। যাতে সাজাও দ্রুত কার্যকর হয়। এ জন্য স্বরাষ্টমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি ভাইয়ার মামলাটি যেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে করা হয়। তিনি বলেন,‘ বুয়েট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারনেই আমার ভাইয়া অকালে মারা গেছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিলে হয়তো ভাইয়া বেঁচে থাকতো। তাই তারাও দায় এড়াতে পারে না। তাদেরকেও সাবধান করতে হবে।

আবরার ফায়াদের বাবা বরকতুল্লাহ এ সময় বাড়িতে ছিলেন না। তিনি তার কর্মস্থল আলাউদ্দিননগরে ছিলেন। ফোনে কথা হলে বলেন,‘ আমার ছেলে মারা যাবার পর সবাই দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার ও অভিযোগপত্র দেয়ার দাবিতে মাঠে ছিল। প্রাথমিক ভাবে আমরা পুলিশের কাজে খুশি। তারা তদন্ত করে ১৯জনের পরিবর্তে ২৫জনের সম্পৃক্ততা পেয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এখন দ্রুত শুনানি শেষে বিচার কাজ শুরু করতে হবে। আর চার্জশীটের কপি হাতে পেলে বিস্তারিত জানতে পারব।

আবরার হত্যার অভিযোগপত্রে ২৫ জন আসামি

ঢাকা অফিস ॥ বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, এই ২৫ জনের মধ্যে ১১ জন আবরারকে হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়। আর সেখানে উপস্থিতি এবং অন্যভাবে সম্পৃক্ততার কারণে বাকি ১৪ জনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিবির হিসেবে সন্দেহের বিষয়টি ছিল আবরারের ওপর নির্যাতনের ‘একটি কারণ’। আসলে বুয়েট ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ‘উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত’ হয়ে গিয়েছিল। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার জসিম উদ্দীন জানান, অভিযোগপত্রে মোট ২১টি আলামত, ৮টি জব্দ তালিকা যুক্ত করা হয়েছে। বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন আবরারের বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়ার আগে মিন্টো রোডে পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল। তিনি বলেন, অভিযোগপত্রের আসামিদের মধ্যে ১৯ জনের নাম এজাহারেই ছিল। পুলিশ তদন্তে নেমে আরও ৬ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। অভিযোগপত্রের ২৫ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক। তাদের মধ্যে -জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোর্শেদ এজাহারভুক্ত আসামি। আর মুজতবা রাফির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তদন্তে। মনিরুল জানান, অভিযোগপত্রে মোট ৩১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাদীপক্ষের ৬ জন ছাড়াও বুয়েটের সাতজন শিক্ষক, ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। আবরার হত্যার আসামি যারা ঃ- এজাহারের ১৯ আসামি: বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) । এজাহারের বাইরের ৬ আসামি: বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)। পলাতক ৪ জন: এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) এবং মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)। ’স্বীকারোক্তি’ দিয়েছেন ৮ জন: মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, এ এস এম নাজমুস সাদাত এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর। মারপিটে সরাসরি জড়িত ১১ জন: মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর। ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ১১ জন: মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মনিরুজ্জামান মনির, ইফতি মোশাররফ সকাল, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ এবং মুজতবা রাফিদ। এ মামলায় গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে আটজন ইতোমধ্যে আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন; তাদের সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। আবরারকে কীভাবে ক্রিকেট স্টাম্প আর স্কিপিং রোপ দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে বেধড়ক পেটানো হয়েছিল, সেই ভয়ঙ্কর বিবরণ উঠে এসেছে তাদের জবানবন্দিতে। আবরারকে সেদিন সন্ধ্যার পর ওই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের পর দোতলা ও নিচতলার সিঁড়ির মাঝামাঝি জায়গায় তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে যায় কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। ভোরে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেদিন ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে জাজ মাল্টিমিয়ার তৈরি করা একটি ভিডিও দেখানো হয় পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে। মনিরুল বলেন, “তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, রাত ১০টার পরে আবরারকে নির্যাতন করা শুরু হয় এবং রাত ২টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর আগে যদি তাকে হাসপাতালে নেওয়া হত তাহলে হয়তো এমন পরিণতি হত না।” আবরারকে নির্যাতনে ব্যবহৃত পাঁচটা ক্রিকেট স্ট্যাম্প, একটি স্কিপিং রোপ, দুটি সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিডি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ এ মামলার আলামত হিসাবে রাখা হয়েছে। আবরার নিহত হওয়ার আগে ফেইসবুকে তার শেষ পোস্টে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করা কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন। বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই যে ফেইসবুকে মন্তব্যের সূত্র ধরে শিবির সন্দেহে আবরারকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তা সংগঠনটির তদন্তে উঠে এলে ১২ জনকে বহিষ্কার করা হয়। আবরারকে কেবল শিবির সন্দেহে ডেকে নেওয়া হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল- সেই প্রশ্ন পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে করেছিলেন একজন সাংবাদিক। উত্তরে মনিরুল ইসলাম বলেন, “একক কোনো কারণে নয়, শিবির করে এটি একটি মাত্র কারণ। ওরা এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। “ছোটখাটে বিষয়ে কেউ একটু দ্বিমত পোষণ করলে, কিংবা কেউ এদের বিরুদ্ধে কথা বললে, কিংবা সালাম না দেওয়ার কারণেও এই র‌্যাগিংয়ের নামে, মানে অন্যদেরকে, নতুন যারা আসবে, তাদের আতঙ্কিত করে রাখার জন্যই তারা এই কাজগুলো করে অভ্যস্ত।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয় হল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেখার কথা। কিন্তু তদন্তে পুলিশ হল কর্তৃপক্ষের ‘এক ধরনের ব্যর্থতা’ দেখতে পেয়েছে। “যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা রাজনৈতিক পরিচয়কে শেল্টার হিসাবে ব্যবহার করেছে। তারা অছাত্রসুলভ আচরণ করেছে।” ওই ছাত্রলীগকর্মীদের হাতে অনেকেই নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, “কেউ মামলা করতে চাইলে করতে পারে। তা তদন্ত করে দেখা হবে।” শেরেবাংলা হলের যে ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে নির্যাতন করা হয়, সেই কক্ষের আবাসিক ছাত্র বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহাকেও অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে, যদিও এজাহারে তার নাম ছিল না। এ বিষয়ে এক প্রশ্নে মনিরুল বলেন, “অমিত সাহা এর আগেও একজনকে পিটিয়েছে। আবরারকে মারপিটের সময় সে উপস্থিত না থাকলেও তাকে ডেকে আনাসহ তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এ কারণে তাকে আসামির তালিকায় প্রথম দিকে রাখা হয়েছে।” আসামিদের অনেকে আদালতে জবানবন্দি না দিলেও পুলিশের কাছে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছে বলে জানান মনিরুল। গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেনসহ ঊর্ধবতন কর্মকর্তারাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

মুজিব বর্ষে ঘরে ঘরে জ্বলবে বিদ্যুতের আলো – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, তাঁর সরকার ২০২১ সাল নাগাদ সকল উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে সারাদেশের ঘরে ঘরে আলো জ্বালতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। ইনশাল্লাহ, মুজিব বর্ষ উদযাপনের মধ্যে আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ অন্ধকারে থাকবে না, সব ঘরেই আলো জ্বলবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং’র মাধ্যমে ৭টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে একথা বলেন। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য মতে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উদ্বোধন এবং উপজেলাগুলোতে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন হয়েছে ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট। পাশাপাশি দেশের ৪৬১টি উপজেলার মধ্যে ২৩৪টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হলো। আরো ১২৭টি উপজেলায় শিগগিরই শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবে, যেগুলো এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া, বাকি একশ’ উপজেলায় আগামী ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপনকালে বিদ্যুতায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি লক্ষ্য স্থির করেছি- ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। জাতির পিতার জন্মদিন ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি পালন শুরু করে পরবর্তী ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত এক বছর এই কর্মসূচি চলবে। তখন আর একটি ঘরেও অন্ধকার থাকবে না। তিনি বলেন,‘আলোকিত করাই আমাদের কাজ এবং সেটাই আমরা করে যাচ্ছি।’ যেখানে বিদ্যুতের গ্রীড লাইন পৌঁছেনি সেসব প্রত্যন্ত পাহাড়ি, হাওড় এবং চরাঞ্চলে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরকরাহ করে সারাদেশে এই বিদ্যুতায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, বলেন তিনি। তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার তাঁর পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের যে খরচ হয় এর চাইতে অনেক কম অর্থে আমরা তা সরবরাহ করে যাচ্ছি।’ তিনি এ সময় বিএনপি আমলে দেশে বিদ্যমান ভয়াবহ লোড শেডিংয়ের কথা স্মরণ করিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সকলকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর সরকার গঠন করে ১৯৯৬ সালে তাঁর সরকার দেশে বিদ্যুৎ পেয়েছিল মাত্র ১৬শ’ মেগাওয়াট। পরবর্তী ৫ বছরে তা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াট করে রেখে গেলেও ২০০১ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরবর্তী ৫বছরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এক মেগাওয়াটও বাড়াতে পারেনি। উপরন্তু, তা কমিয়ে ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াটে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের সরকার গঠনের পর থেকে বিদ্যুৎকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়াসহ একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে তাঁর সরকার বিদ্যুৎকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করবো এই বিদ্যুৎ ব্যবহারে আপনারা সাশ্রয়ী হবেন। বিদ্যুৎ অপচায় যেন না হয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হলে আপনাদের বিদ্যুতের বিলটাও কম আসবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই দেশ আমাদের এবং এই দেশের প্রতিটি সম্পদ জনগণের। কাজেই এই সম্পদকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আসুন সকলে মিলে দেশকে গড়ে তুলি। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’ ডেপুটি স্পিকার ফজলে বাব্বি মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানী এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. শহীদুজ্জামান সরকার গণভবনের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে দেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। এখন খাদ্য পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তা নিশ্চিত করারও পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। অর্থাৎ একটা মানুষের জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ যে মৌলিক বিষয়গুলো প্রয়োজন হয় সে চাহিদাগুলো সম্পূর্ণভাবে পূরণের কর্মসূচিই আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি, যার সুফলটা পাচ্ছে দেশের জনগণ। তিনি দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এই কারণে যে, তারা আমাদের বার বার ভোট দিয়েছেন এবং সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আর সে কারণেই আজকে দেশের উন্নয়নটা আমরা করতে পারছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, একশ’ শিল্পাঞ্চল (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) আমরা গড়ে তুলছি। যেখানে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান হবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, দেশের চাহিদাও মিটবে এবং বিদেশেও আমরা রপ্তানি করতে পারবো। ফলে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার জন্য চাষের জমি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘চাষের জমি আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে কারণ আমাদের যে জনসংখ্যা তাদেরকে আমরা প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করতে চাই। ভিক্ষা চেয়ে, হাত পেতে চলতে চাই না, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করে আমরা সরবরাহ করতে চাই।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্ব সভায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। যেটা আমাদের জাতির পিতা শিখিয়ে গেছেন।’

আবরার হত্যার বিচার হবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আলোচিত এই মামলায় পুলিশ অভিযোগপত্র দেওয়ার পর বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি। আবরার হত্যাকান্ডের পর বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে দ্রুত বিচারের দাবি উঠেছিল। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যে কোনো মামলা ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৪৫ দিন সময় নিতে পারে আদালত। আবরার হত্যাকান্ডের ৫ সপ্তাহের মধ্যে বুয়েটেরই ২৫ ছাত্রকে আসামি করে বুধবার আদালতে অভিযোগপত্র দেয় মামলাটির তদন্ত সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ। এখন বিচার শুরুর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আবেদন আসতে হবে। দ্রুত এই বিচার শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও। আইনমন্ত্রী বলেন, “এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আবেদন আসতে হয়, আবেদন আসলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলা (নিষ্পত্তি) করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং দ্রুততার সাথে করার জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ বিচারকার্য করব।” বিচার শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হলে এ বিচার প্রথম সময় হচ্ছে ৯০ দিন, এর পরে হচ্ছে ৩০ দিন, সর্বমোট ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন না করতে  না পারলে পরে আরও ১৫ দিনের সময় আছে অর্থাৎ ১৩৫ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে।” ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়টি দেখিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “জনগণ চেয়েছে নুসরাত হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত করার জন্য, সেটাও সম্পন্ন করা হয়েছে, এরকম অনেক বলা যাবে। এখন দায়িত্ব বর্তেছে আবরার হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে।” মামলাটি পরিচালনায় আগামী সোমবার থেকে ‘প্রসিকিউশন টিম’কাজ শুরু করছে বলেও জানান অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। অভিযোগপত্র হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, “এই মর্মান্তিক হত্যাকা-ের পরপরই বলেছিলাম, তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র পাওয়ার পরে এবং সেটা যখন বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হবে, তারপর থেকে দায়িত্ব হবে প্রসিকিউশন টিমের। “আমি বলেছিলাম, একটা প্রসিকিউশন টিম রেডি রাখব, মামলা বিচারিক আদালতে পৌছালে কার্যক্রম শুরু করতে পারে, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে।” হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর পলাতক আসামিদের হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর জন্য গেজেট নোটিফিকেশনসহ কিছু প্রক্রিয়ার কথা বলেন আনিসুল হক। “ফর্মালিটিজগুলো যথাশিগগিরই শেষ করব। আইনে কিন্তু বলা আছে, একটা সময় দিতে হবে। সেই সময়ের উপর দিয়ে যেতে পারব না, আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই যত দ্রুত করা যায়, তা হবে।”

এ্যাড. মাসুম সভাপতি ॥ রেজাউল  সম্পাদক

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে মাহবুবউল আলম হানিফ

আওয়ামীলীগ সরকার এদেশের মানুষের আশা-ভরসার একমাত্র স্থান

 

 

 

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। আওয়ামীলীগ সরকার এদেশের মানুষের আশা-ভরসার একমাত্র স্থান। আওয়ামীলীগ এমন একটি দল, যে দল মানুষের বিশ্বাস তৈরী করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশে স্বাধীনতা সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বালিয়াপাড়া কলেজিয়েট স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি আরো বলেন,  আওয়ামীলীগ সরকারের অধিনে দেশ উন্নত সমৃদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছে। কর্মীদের জন্য আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেছে, এই সরকার গনমানুষের সরকার। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সদস্য এস. এম কামাল হোসেন ও গোলাম রব্বানী চিনু। উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খাঁন।

সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ আ. স. ম. আখতারুজ্জামান মাসুম’র সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বিশ্বাসের সঞ্চালনায়  বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুক-উজ-জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আমিনুল হক রতন, এ্যাডঃ শেখ হাসান মেহেদী, রুহুল আজম, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেন রাজু, জেলা আওয়ামীলীগ কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাজহারুল আলম সুমন প্রমুখ।

প্রথম অধিবেশন শেষে ২য় অধিবেশনে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে পুনরায় সভাপতি হিসেবে এ্যাডঃ আ. স. ম. আখতারুজ্জামান মাসুম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস ও সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হককে সাধারন সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। শুরুতে জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে জাতীয় পতাকা সহ দলীয় পতাকা উত্তলন করা হয়।

কুষ্টিয়ায় সৌর পাম্প থেকে উতপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুত সংযোজন হচ্ছে জাতীয় গ্রীডে

নিয়ামুল হক ॥ বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিনাথপুর গ্রামে অবস্থিত সৌর সেচ পাম্পটি এখন একটি ছোটখাটো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। যার উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ কিলোওয়াট। এতদিন সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শুধুমাত্র সেচের কাজে ব্যবহৃত হতো। এখন সেচ  বন্ধ থাকলেই উৎপাদিত সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সংযুক্ত হচ্ছে। এতে করে সৌর  সেচ পাম্পগুলির অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্যে সেচ খরচে যোগ হওয়ায় কৃষির উৎপাদন ব্যয় কমছে, ফলে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। কুষ্টিয়ার ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিনাথপুর গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে গত শনিবার বেলা ১২টায় সৌর পাম্প থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সংযোজন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত সচিব টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এর চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন। এ সময় প্রতিষ্ঠাতা ব্রাইট গ্রীণ এনার্জি ফাউন্ডেশন (বিজিইএফ) প্রেসিডেন্ট, বিএসআরইএ’র দিপাল বড়–য়া, সমন্বয়কারী সোলার-ই- টেকনোলজি বাংলাদেশ আহমেদুল কবির উপল মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাশেম যোয়ার্দারসহ স্থানীয় দুই শতাধিক কৃষক কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের টেকসই ও নবায়যোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এর তত্ত্বাবধানে এবং ইউএনডিপির অর্থায়নে ও সোলার ই টেকনোলজি এর কারিগরি সহায়তায় শুরু  হলো এই যাত্রা। বর্তমানে ইডকল এর মাধ্যমে স্থাপিত প্রায় দুই হাজার একশত সৌর পাম্প সারাদেশে সেচের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রয়োজন না থাকায় এই পাম্পগুলি অব্যবহৃত থাকলেও সৌরশক্তির উৎপাদন অব্যাহত থাকে। সৌর শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে স্রেডা এর নির্দেশনায় এই পাইলট প্রকল্পটি হাতে  নেয় সরকার। যাতে করে সৌর বিদ্যুতের পরিপূর্ণ ব্যবহার করা যায়। সমন্বয়কারি সোলার-ই- টেকনোলজি বাংলাদেশ এর আহমেদুল কবির উপল বলেন- দূরবর্তী স্থান  থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য এই প্রকল্পে স্থাপন করা হয়েছে। ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সংযুক্ত ডাটা লগার যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্য সংরক্ষণ এবং সংগ্রহ করা সম্ভব। স্থানীয় কৃষক জানান, তেলে ইঞ্জিন চালিত পাম্পে বিঘা প্রতি সেচে খরচ হতো ২ হাজার টাকা কিন্তু সোলার পাম্পের সেচ বাবদ খরচ হচ্ছে ১২শত টাকা। এতে করে উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে গেছে। এখন যদি সোলারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে যোগ হয় বিনিময়ে সেখানকার অর্থটা এই প্রকল্পে যোগ হলে কৃষকের পানির খরচ কমে আসবে। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের বেশী লাভ করতে পারবে। অতিরিক্ত সচিব টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কতৃপক্ষ (স্রেডা) এর চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন বলেন- পাইলট প্রকল্পটি ১৯লক্ষ টাকা ব্যয়ে বর্তমানে সৌর সেচ প্রকল্পগুলি সর্বাধিক তিনটি ফসলের চাষ করতে পারছে। ৫০% এর বেশি সৌর শক্তি অব্যবহৃত থেকে যায়। কৃষকের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে অব্যবহৃত সৌর শক্তির বিকল্প ব্যবহার খুঁজে বের করার একটি দুর্দান্ত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই পদ্ধতির ফলে  কেবল সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারকেই বাড়ানো হচ্ছে না এটি কৃষক এবং জামানতকারী উভয়ের উপর আর্থিক চাপ হ্রাস করবে, কারণ এটি অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন করতে পারবে।

 

জয়ের চাপ না থাকাটাই বাংলাদেশ দলের বড় প্রেরণা : মোমিনুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশ অধিনায়ক মোমিনুল হক বলেছেন ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে চাপ মুক্ত মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে টাইগাররা। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে কেউ বাংলাদেশের জয় প্রত্যাশা করছে না। তাই দলের উপর বাড়তি কোন চাপও থাকছে না বলে মন্তব্য করেছেন মোমিনুল। বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান নিষিদ্ধ হওয়ায় এই সিরিজের নেতৃত্ব পাওয়া মোমিনুলের মতে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে পারাটাই বাংলাদেশের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। একই সঙ্গে ম্যাচ জয়ের কোন বাড়তি চাপও থাকছে না টাইগারদের উপর। ফলে ক্রিকেটাররা ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবে দারুণভাবে। মোমিনুল বলেন, ‘যখন ম্যাচ জয়ের প্রত্যাশা থাকে তখন দলের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। আমি মনে করি এই ম্যাচটি আমরা উপভোগ করব। কারণ কেউ আশা করছে না ভারতের বিপক্ষে আমরা জয়ী হবো। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা জয় পাবার চেষ্টা করব না।’ বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে আমরা জয় পাবার জন্য কঠোর পরিশ্রম করব না। আমার বক্তব্য হচ্ছে এখানে আমরা চাপ মুক্ত হয়ে খেলতে পারব। ফলে আমরা আমাদের খেলাটিকে উপভোগ করতে পারব। তবে এটি নিশ্চিত যে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নামব।’ সম্প্রতি তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হোয়াইট ওয়াশ করেছে ভারত। তন্মধ্যে শেষ দু’টিতে প্রোটিয়াদের হারিয়েছে ইনিংস ব্যবধানে। প্রথম টেস্টটিও ছিল একপেশে। ওই ম্যাচেও ইচ্ছে করলে সফরকারীদের ফলো অনে ফেলতে পারতো স্বাগতিকরা। সিরিজে বোলাররা ছিলেন অত্যন্ত আগ্রাসী। সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা স্বাগতিক দলের ২৫ উইকেট শিকার করতে সক্ষম হয়েছে পক্ষান্তরে ভারত তুলে নিয়েছে প্রেটিয়াদের ৬০ উইকেটের সবক’টি। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরাও ছিল দারুন ফর্মে। ধারাবাহিক ব্যাটিং দিয়ে প্রতি ম্যাচেই তারা সংগ্রহ করেছে পাঁচ শতাধিক রান। এসব তথ্য সম্পর্কে বেশ ভালভাবেই অবগত আছেন মোমিনুল। তবে এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা না করে মোমিনুল বলেন, তারা সবাই এখানে ক্রিকেট উপভোগ করতে এসেছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘ভারতে খেলাটা আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ। খেলোয়াড়রা এখানে খেলার ব্যাপারে অনেক আগে থেকেই রোমঞ্চিত হয়ে আছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে। আমি জানি তারা কতটা শক্তিশালী। ব্যাটিং লাইন যেমন শক্তিশালী তেমনি বোলিং বিভাগও। আমরা চাই নিজেদের দায়িত্বটাই সঠিকভাবে পালন করতে। আমরা এমন ক্রিকেট খেলতে চাই যাতে ভারতকে কঠিন অবস্থায় পড়তে হয়।’ কোন অনুশীলন ছাড়াই প্রথম টেস্টে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় টেস্টে তাদের খেলতে হবে ফ্লাড লাইটের আলোতে গোলপী বলে। যেটি এখনো তাদের কাছে অস্পস্ট। বাংলাদেশ কখনো গোলাপী বলে খেলেনি। তবে অনুশীলনের ঘাটতি নিয়েও খুব একটা চিন্তিত নন মোমিনুল। বলেন, সবাই কম-বেশি ক্রিকেটের মধ্যেই ছিলেন। টাইগার নেতা বলেন, ‘টেস্ট দলে সদ্য যোগ দেয়া আট ক্রিকেটারের সবাই জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল) খেলে এসেছেন। সর্বশেষ ৫ মাসে আমি অন্তত ১০টি প্রথম শ্রেনীর মাচে অংশ নিয়েছি। ভারত আসার আগে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও এনসিএলে খেলেছেন। সুতরাং আমার মনে হয় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।’

এবারের ‘গোল্ডেন ফুট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন মদ্রিচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চলতি বছরের ‘গোল্ডেন ফুট অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছেন রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ। মঙ্গলবার মোনাকোতে এক জমকালো অনুষ্ঠানে মদ্রিচের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়। ২৯ বছরের বেশি বয়সী এবং বর্তমানে খেলছেন, এমন সফল ফুটবলারদের এই পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়। ১৭তম খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার পেলেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক। ২০০৩ সালে চালু হওয়া পুরস্কারটি প্রথম পেয়েছিলেন সাবেক ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড রবের্তো বাজিও। পুরস্কারটি পেয়ে গর্বিত বোধ করছেন মদ্রিচ। মাঝের ছন্দহীনতা কাটিয়ে আবারও সেরা রূপে ফিরছেন বলেও জানান তিনি। “আমি নিজের সেরা রূপে ফিরছি, এইবারের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে যেমনটা খেললাম।” “বছর শেষ হওয়ার আগে খুব গুরুত্বপূর্ণ সাতটা ম্যাচ আছে। আর আমরা ভালো খেলাটা ধরে রাখার চেষ্টা করব।” এর আগে গোল্ডেন ফুট অ্যাওয়ার্ড পাওয়া ফুটবলারদের মধ্যে আছেন রোনালদিনিয়ো, ইকের কাসিয়াস, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, জানলুইজি বুফ্ফন, সামুয়েল এতো, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, দিদিয়ের দ্রগবা, রায়ান গিগস, এদিনসন কাভানি ও ফ্রান্সেসকো তত্তি।

কুকুর দত্তক দিতে চান শ্রীলেখা মিত্র

বিনোদন বাজার ॥ সম্প্রতি একটি নতুন বাড়ি কিনেছেন কলকাতার জনপ্রিয় নায়িকা শ্রীলেখা। সৌরভ গাঙ্গুলির এলাকা বেহালাতে কেনা এই বাড়ি সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেও শুরু করেছেন। আর বাড়িতে উঠতে না উঠতেই জুটেছে নতুন অতিথি। আর সেই অতিথিদের দত্তক দিতে চাচ্ছেন নায়িকা।

শ্রীলেখার পশুপ্রেমের কথা সবার জানা। এই অভিনেত্রী জানান, তার পাড়ার রাস্তাতেই ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে থাকছিলো এক মা কুকুর। এরই মধ্যে মা কুকুরটি একটি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। এরপর কষ্ট শুরু হয় কুকুরছানাগুলোর। নায়িকা ওই বাচ্চাগুলোর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তাদের বাসায় তুলেছেন।

কুকুরছানাগুলির খাওয়া দাওয়ার ভার নিয়েছেন শ্রীলেখা। আর এতে চটেছেন শ্রীলেখার বাড়ির পাশের লোকজন। তিনি রাস্তার কুকুরদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন কেন? এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে।

শ্রীলেখা বলেন, ‘মানুষ তো তাকে বলে, যারা অন্যের প্রয়োজনে পাশে থাকে। আমার শিক্ষা এটাই। ছানাগুলো মারা যাচ্ছিল। তাই বাড়িতে এনেছি। ওরা কারো তো কোনও ক্ষতি করছে না। মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ কী একটুও বেঁচে নেই?’

শ্রীলেখা ফেসবুক লাইভে জানিয়েছেন, তিনি একটি ছানাকে দত্তক নিচ্ছেন। আরও কেউ যদি এই কুকুর ছানাগুলিকে দত্তক নিতে চান, তবে তারা যেন তাকে ইনবক্সে মেসেজ পাঠান।

গায়িকাকে সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানি অভিনেত্রীর নগ্ন ছবি প্রকাশ

বিনোদন বাজার ॥ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অপমান করে সমালোচনার শিকার হন পাকিস্তানি গায়িকা রবি পিরজাদা। এবার তাকে সমর্থন করে আলোচনায় আসলেন পাক অভিনেত্রী মালিশা হিনা খান।

তিনি গায়িকার সমর্থনে নিজের নগ্ন ছবি শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পাকিস্তানি-আফগানি অভিনেত্রী মালিশা নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে ওই ছবি শেয়ার করেন। যে ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

সম্প্রতি পাকিস্তানি গায়িকা রবি পিরজাদার বেশ কয়েকটি নগ্ন ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ওই ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তা হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। যা নিয়ে গোটা পাকিস্তান জুড়ে জোর জল্পনা শুরু হয়ে যায়।

এদিকে মোদিকে হুমকি দিয়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বিনোদন জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রবি পিরজাদা। তিনি ক্ষমা চেয়ে বিনোদন জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেন।

তবে ওই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে পাকিস্তানের সাইবার ক্রাইম বিভাগের দ্বারস্থ হন রবি পিরজাদা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হুমকি দেন রবি পিরজাদা। গলায় সাপ জড়িয়ে মোদীকে হুমকি দেন তিনি। এরপরই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসতে শুরু করেন রবি পিরজাদা।

প্রসঙ্গত, নিজের ক্যারিয়ার তৈরির জন্য মাঝে মধ্যে মুম্বাইতেও থাকেন মালিশা হিনা খান।

ফুটবল ছাড়ছেন স্পেনের শীর্ষ গোলদাতা ভিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দীর্ঘ ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে ইতি টানতে যাচ্ছেন দাভিদ ভিয়া। আগামী মাসে জাপানের জে-লিগ মৌসুম শেষে ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের শীর্ষ গোলদাতা ও বিশ্বকাপজয়ী তারকা। ক্যারিয়ারে দেশের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ ও ২০০৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন ভিয়া। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ড ২০১৪ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তিন বছর পর অবসর ভেঙে ২০১৭ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুটি ম্যাচের জন্য দলে ফিরেছিলেন সাবেক এই বার্সেলোনা স্ট্রাইকার। বার্সেলোনার হয়ে দুটি লা লিগা ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতা ৩৭ বছর বয়সী দীর্ঘ দিন ধরে অবসরে যাওয়া নিয়ে ভাবছিলেন বলে জানিয়েছেন। “আমি নিজেই ফুটবল থেকে অবসর নিতে চেয়েছিলাম, আমাকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়নি।” যুক্তরাষ্টের দল নিউ ইয়র্ক সিটিতে চার বছর খেলার পর চলতি বছর জাপানের ভিসেল কোবেতে যোগ দেন ভিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সারির দল কুইন্সবোরো এফসি-তে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন তিনি। “যদিও আমি আর মাঠে থাকব না। তবে অন্যভাবে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকব আমি।” ২০০৫ সালে স্পেনের হয়ে অভিষেকের পর ৯৮ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৫৯টি গোল করেছেন ভিয়া। ২০১০-১১ মৌসুমে ওয়েম্বলিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে বার্সেলোনার ৩-১ ব্যবধানের জয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেছিলেন তিনি।

যেখানেই থাকেন, যেন ভালো থাকেন : শাওন

বিনোদন বাজার ॥ বাঙালির হৃদয়নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন গতকাল। নুহাশপল্লীর সেই প্রিয় লিচুতলায় শায়িত আছেন তিনি। প্রতি বছরের মতো এবারও নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি। বিশেষ দিনটি উপলক্ষে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

হুমায়ূনের জন্মদিন নিয়ে স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ছেলেদের নিয়ে জন্মদিনের কেক কেটেছেন ও ফুল দিয়েছেন হুমায়ূনের কবরে। জন্মদিন উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোকসজ্জা, সকালে কেক কাটা ও দুপুরে মিলাদ পড়ানো হয়েছে।

শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ কখনো জাঁকজমকভাবে জন্মদিন পালন করতেন না। তাই আমরা উনার জন্মদিনে বাড়তি কোনো আয়োজন করি না। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। উনি যেখানেই থাকেন, যেন ভালো থাকেন।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার পিতার নাম ফয়জুর রহমান। মা আয়েশা ফয়েজ।

বাবা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন।

হুমায়ূন আহমেদের অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বিজ্ঞান-শিক্ষক এবং কথাসাহিত্যিক; সর্বকনিষ্ঠ ভ্রাতা আহসান হাবীব রম্য সাহিত্যিক ও কার্টুনিস্ট।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার অন্ত্রে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কোটি বাঙালিকে কাঁদিয়ে চলে যান হুমায়ূন আহমেদ।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে যা বললেন অপু বিশ্বাস

বিনোদন বাজার ॥ ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা অপু বিশ্বাস। নিজের ব্যক্তিগত জীবনসহ বিভিন্ন কারণে খবরের শিরোনাম হয়ে থাকেন তিনি। এবার অপু বিশ্বাস কথা বলেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রসঙ্গে।

কয়েক দিন আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

অপু বিশ্বাস জানিয়েছেন, কৌতুক অভিনেতা হিসেবে এবার শ্রেষ্ঠ চরিত্রে পুরস্কার পেয়েছেন মোশাররফ করিম ও ফজলুর রহমান ভাই।

কিন্তু তারা কেউ কৌতুক অভিনেতা নন। এই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়ায় অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। আর মোশাররফ করিম ভাই এ পুরস্কার গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার কথা তুলে অপু বলেন, ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রে আমি ‘পার্বতী’ চরিত্রে অভিনয় করেছি। ‘পার্বতী’ ছিল প্রধান চরিত্র। তিনি বলেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিল চন্দ্রমুখী। তাকে প্রধান অভিনেত্রীর পুরস্কার দেয়া হয়। তখনই মনটা ভেঙে যায়। আমার বিশ্বাস ছিল, সেদিন চাষী আংকেল বেঁচে থাকলে এর প্রতিবাদ করতেন। এই অভিনেত্রী আরও বলেন, অভিনয় করছি দর্শকদের জন্য। আমার পুরস্কার হলো দর্শক।

হাসিমুখে কেটে গেল রণবীর-দীপিকার এক বছর

বিনোদন বাজার ॥ বিয়ের এক বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। গত বছর ১৪ নভেম্বরে শুভ পরিণয়ে আবব্ধ হয়েছিলেন এই দম্পতি।

ভালো কেটেছে তাদের সংসার। তাই জীবনের এই বিশেষ দিনটিকে বিশেষভাবেই পালন করতে চান এই সুখী দম্পতি।

বুধবারই মুম্বাইয়ে প্রথমে তারা যাবেন তিরুপতি দর্শন করতে। সেখান থেকে তারা যাবেন অন্ধ্রপ্রদেশের পদ্মাবতী মন্দিরে। দক্ষিণ ভারত থেকে পাড়ি দেবেন উত্তর ভারতের পথে। অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরেও যাবেন দম্পতি।

১৫ নভেম্বর স্বর্ণমন্দির দশর্নের সময় তাদের সঙ্গে পরিবারের লোকেরাও থাকবেন। আশা করা যাচ্ছে, ১৫ তারিখেই রণবীর ও দীপিকা ফিরে যাবেন মুম্বাইতে।

গত বছর ১৪ নভেম্বর দক্ষিণ ভারতীয় রীতি মেনেই, ঐতিহ্য মাফিক বিবাহবন্ধনে আবব্ধ হয়েছিলেন বলিজগতের অন্যতম তারকা দীপিকা ও রণবীর। ১৫ নভেম্বর তারা উত্তর ভারতীয় রীতি মেনেও বিবাহ করেন। সূত্র: এনডিটিভি

দাম্পত্য সুখ নিয়ে যা বললেন তাহসান

বিনোদন বাজার ॥ সত্যিকারের মানবিক সম্পর্কের মাঝেই সব সুখ বলে জানিয়েছেন জনপ্রিয় তারকা তাহসান।

তিনি বলেন, অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে। এর মধ্যে অনেক সম্পর্কই মেকি। আর সত্যিকারের সম্পর্ক যখন কারও সঙ্গে থাকবে, সেই ব্যক্তির অর্থবিত্ত থাকুক বা না থাকুক, আমরা সুখী হই তার সঙ্গে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনি তথ্য জানিয়েছেন তাহসান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি পুরনো সাক্ষাৎকারের ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। সেখানে তাকে একটি রেডিও চ্যানেলের মুখোমুখি হতে দেখা যায়।

আলাপচারিতার একপর্যায়ে সম্পর্কের ব্যাপারে নিজের অভিমত জানান তাহসান।

জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৫ বছর ধরে একটি গবেষণা চলেছে। ওই জরিপে ৭০ থেকে ৭৫ বছর বয়স্ক ব্যক্তিদের কাছে সম্পর্কের সংজ্ঞা জানতে চাওয়া হয়।

গবেষণা শেষে নানা তথ্য-উপাত্তের বরাত দিয়ে গবেষকরা জানান, সত্যিকারের মানবিক সম্পর্কের মাঝেই সুখ পাওয়া যায়।

তাহসান আরও জানান, অনেক দম্পতিকে বাইরে থেকে খুব সুখী মনে হয়, কিন্তু সত্যিকারের সুখ সেখানে থাকে না। অনেক সম্পর্ক আছে যেটিকে বাইরে থেকে খুব সাধারণ মনে হলেও তারা সত্যিকার অর্থে সুখী।

ছোট পর্দার ব্যাপক জনপ্রিয় অভিনেতা তাহসান সম্প্রতি শততম নাটকে অভিনয়ের মাইলফলক পূর্ণ করেছেন।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রসূন রহমানের প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘নিগ্রহকাল’

বিনোদন বাজার ॥ বর্তমান বিশ্বমানচিত্রের আলোচিত ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রোহিঙ্গা। মিয়ানমারে গণহত্যা আর ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের অভ্যন্তরীণ জীবন-সংগ্রাম ও তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার আকুতিকে ধারণ করে পরিচালক প্রসূন রহমান নির্মাণ করেছিলেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘জন্মভূমি’।

এবার একই ইস্যু নিয়ে নির্মাণ করেছেন একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। ৮৪ মিনিট ব্যাপ্তির এই চলচ্চিত্রটির নাম ‘নিগ্রহকাল’ বা দখড়হম ঢ়বৎরড়ফ ড়ভ চবৎংবপঁঃরড়হ. আইসিএলডিএস’র নিবেদনে এবং ইমাশন ক্রিয়েটরের প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায়, মহাখালি এসকেএস টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে।

উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মেজর তারিক আহমেদ সিদ্দিকী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এছাড়াও থাকবেন বাংলাদেশের সাংবাদিক, কূটনীতিবিদ, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে উদ্বোধনী প্রদর্শনী শো সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পরিচালক প্রসূন রহমান। এই সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আইসিএলডিএস’র নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদ, আইসিএলডিএস’র পরিচালক ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত এবং একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু।

চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গে পরিচালক প্রসূন রহমান বলেন, ‘জীবন ঘনিষ্ঠ বা বাস্তবধর্মী চলচ্চিত্র তো এই দেশে এমনিতেই বেশী সিনেমা হলে জায়গা পায়না। তাই মাল্টিপ্লেক্স বা সিনেপ্লেক্সগুলোতেই মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করছি আমরা। এরপর হয়তো শহরের বাইরে এবং দেশের বাইরে মুক্তি দেয়ার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি বেশ কিছু আর্ন্তজাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও অংশগ্রহণ করবে প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি।

‘নিগ্রহকাল’ সম্পর্কে প্রসূন বলেন, মিয়ানমার সরকার ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক হত্যাকান্ড চালালে জীবন বাঁচানোর জন্য প্রায় ১১ লাখ শরণার্থী নিজেদের জন্মভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আশ্রয় দেয়। কিন্তু তারাই এদেশের জন্য একটি বড় সংকট তৈরি করেছে।

এই বৃহৎ জনগোষ্ঠিকে আশ্রয় দিতে দিয়ে বাংলাদেশ যে বিপুল ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে-মূলত এই বিষয়গুলোই আমি বিস্তাতির তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এই ডকুফিল্মটিতে। এই ইস্যুতে এদেশে অনেক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে কিন্তু সবগুলোই খ- খ-। আইসিএলডিএস’র সহযোগিতায় আমি চেষ্টা করেছি সম্পন্ন একটি চিত্র তুলে ধরতে। আমরা সাতটি খ-ে এটি নির্মাণ করেছি। সেখান থেকেই ৮৪ মিনিটে উদ্বোধনী প্রদর্শনী করছি।

দেশের হয়ে খেলতে পারছেন না সালাহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ গোড়ালির গাঁটে চোট পাওয়ায় মিশরের হয়ে আফ্রিকান নেশন্স কাপ বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচে খেলতে পারছেন না লিভারপুল ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ। ‘জি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বৃহস্পতিবার নিজেদের মাঠে কেনিয়ার বিপক্ষে খেলবে মিশর। সোমবার তারা খেলবে পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপদেশ কমোরোসের মাঠে। এই দুই ম্যাচে দলের তারকা ফরোয়ার্ডের না খেলার বিষয়টি বুধবার এক বিবৃতিতে জানায় দেশটির ফুটবল সংস্থা। চলতি মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে এ পর্যন্ত ছয় গোল করেছেন সালাহ। গত রোববার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে করেছিলেন দলের দ্বিতীয় গোল। অক্টোবরের শুরুতে লেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচে গোড়ালিতে চোট পেয়েছিলেন সালাহ। এরপর থেকে ওই চোট বেশ ভোগাচ্ছে তাকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে দলের বাইরে ছিলেন তিনি। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে কেবল ওই একটি ম্যাচেই জয় পায়নি লিভারপুল। চোট পাওয়ার পর থেকে লিগে কোনো ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারেননি সালাহ।