গাংনীতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে ভ্যান চালকের মৃত্যু

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের হিন্দা গ্রামে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে আহার আলী ওরফে আহাদ (৩৫) নামের অটোভ্যান চালকের মৃত্যু হয়েছে। আহার আলী হিন্দা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার আনিসুর রহমানের ছেলে। গতকাল শনিবার বিকেলে অটোভানে বিদ্যুত সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে আহার আলী মারা যান। আহার আলীর ভাতিজা সাগর আহমেদ জানান, বিকেলে নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় আমার চাচা আহার আলী গ্রামের মাঠে ক্ষেত দেখে বাড়ি আসেন। বাড়ি এসে তার একটি অটোভ্যানে বিদ্যুত লাইন দিয়ে চার্জ দিতে যান। এ সময় সে বিদ্যুত স্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান। সে স্ট্রোক করেছেন ভেবে পরিবারের লোকজন মাথায় পানি দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে নড়াচড়া বন্ধ করে দেয়। এ সময় তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এমকে রেজা জানান আহার আলীর বিদ্যুত স্পৃষ্টে মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ও মাথায় পানি দেয়ার কারণে দ্রুত মৃত্যু হয়েছে।

শৈলকুপায় নারী সাংবাদিকের শ্লীলতাহানি

মামলা তুলে নিতে বাদীকে অব্যাহত হুমকি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ নারী সাংবাদিকের শ্লীলতাহানি ও মারপিটের অভিযোগে ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রহমান মিল্টনের বিরুদ্ধে দৈনিক শ্যামবাজার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার তানিয়া আফরোজ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন। শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুল রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলা নং-৪, তাং-০৫-১১-১৯ইং। মামলার বাদী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই ডিবিসি’র সাংবাদিক আব্দুর রহমান মিল্টন তাকে হয়রানি করে আসছিল। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত ২৭ অক্টোবর ব্যক্তিগত কাজে কবিরপুর তিন রাস্তা মোড়ে শামীম (প্রাঃ) হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্ট্রিক সেন্টারের মালিকের সাথে দেখা করতে যায়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শাহিন আক্তার পলাশ সে সময় ক্লিনিকের অফিসের বাইরে থাকায় বাদীকে তার অফিসে অপেক্ষা করতে বলে। অন্যদিকে ক্লিনিকের অফিস কক্ষেই বিতর্কিত অস্থায়ী প্রেসক্লাব কার্যালয়ে কতিপয় সাংবাদিকদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। সে সময় আসামী আব্দুর রহমান মিল্টন ও তার সহযোগি আসামী রামিম হাসান উক্ত কক্ষে এসে উপস্থিত হয়ে বাদী তানিয়াকে কু-প্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে ১নং আসামী আব্দুর রহমান মিল্টন সাংবাদিক তানিয়া আফরোজকে ঝাপটে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে পরে উত্তেজিত অবস্থায় আসামী রামিমের সহযোগিতায় বাদীকে মারধর করে। বাদী আরো জানায়, আসামী আব্দুর রহমান মিল্টন ও তার সহযোগি বেপরোয়া মাদকাশক্ত। ইতিপূর্বে যাত্রার নর্তকীদের গ্রীণরুমে অশালীন কার্যকলাপ ও বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ছবি তোলায় তাকে চ্যানেল ২৪  থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মাদকাসক্ত ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রামের কাগজ পত্রিকা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আব্দুর রহমান মিল্টন তৎকালীন স্বাধীনতা বিরোধী  পিচ কমিটির নেতা মিঞা আব্দুর রশীদের ভাতিজা ও তার ছোট ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিবির সংগঠক হিসেবে এলাকায় জনশ্র“তি রয়েছে। বাদী আরো জানান, গত ২৭ অক্টোবর এজাহার দাখিল করলেও অজ্ঞাত কারনে ৯ দিন অপেক্ষার পর ৫ নভেম্বর মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আসামীদ্বয় নানা মাধ্যমে বাদীকে ভয়ভীতি ও মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এব্যাপারে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ বজলুর রহমান জানান, একজন নারী সংবাদকর্মী থানায় আব্দুর রহমান মিল্টনসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নারী সাংবাদিকের শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ১০ ধারা তৎসহ ধারা ৩২৩ ও ৫০৬ পেনালকোডে মামলা দায়ের হয়েছে। ওসি আরো বলেন, তানিয়া আফরোজ লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, তা মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে (মামলা নং-০৪)। আসামীরা পলাতক রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

করিমগঞ্জের নাম পাল্টে ‘শ্রীভূমি রাখতে চায় বিজেপি

ঢাকা অফিস ॥ আসামের বরাক উপত্যকার অন্তর্গত করিমগঞ্জের নাম বদল করে শ্রীভূমি রাখার দাবি নিয়ে সেখানে দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক। ১০০ বছর আগে সিলেট সফরে এসে আসামের করিমগঞ্জে গিয়েছিলেন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই ঘটনার শতবার্ষিকী উৎযাপন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত সরকার। আর সেই অনুষ্ঠানের আগেই করিমগঞ্জের নাম বদলে শ্রীভূমি রাখার দাবি তুলেছেন বিজেপির এক স্থানীয় নেতা। গত মঙ্গলবার এক সভায় জোরালোভাবে এমন দাবি তুললেন আসামের হোজাইয়ের বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব। এই দাবি নিয়ে শিগগিরই ভারত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে যাবেন বলেও জানিয়েছেন শিলাদিত্য দেব। এ সময় তার দাবির সঙ্গে জোর সমর্থন জানান আরেক বিজেপি নেতা মিশনরঞ্জন দাস। করিমগঞ্জ নাম পাল্টে কেন শ্রীভূমি রাখতে হবে এমন দাবির ক্ষেত্রে শিলাদিত্য দেবের যুক্তি, করিমগঞ্জের বেশিরভাগ মানুষই সিলেটের। দেশ ভাগের কারণে করিমগঞ্জ এখন ভারতে। কিন্তু সিলেটের সঙ্গে তাদের একটা আবেগ জড়িয়ে আছে এখনো। রবীন্দ্রনাথ যেহেতু সিলেটকে ‘শ্রীভূমি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন, তাই শ্রীভূমিই হবে করিমগঞ্জের উপযুক্ত নাম। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের করিমগঞ্জ পদার্পনের শতবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধা জানানোর সব থেকে ভাল উপায় এটাই যে, তার বর্ণনা অনুযায়ী করিমগঞ্জের নাম যদি শ্রীভূমি রাখা হয়। তবে বিশ্লেষকসহ করিমগঞ্জের মুসলমান অধিবাসীরা বিজেপি বিধায়কের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বলে মনে করছেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের বিভিন্ন স্থানের মুসলিম নাম বদলে হিন্দু নাম রাখা শুরু করেছে বিজেপি। সেই ধারাবাহিকতায় করিমগঞ্জের নাম বদলে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন করিমগঞ্জের মুসলিম বাসিন্দারা। এর আগেও বিজেপি যেভাবে কয়েকটি এলাকার ইসলামিক নাম বদল করেছে, এটাও সেরকমই একটা প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষক ও দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকার সম্পাদক অরিজিৎ আদিত্য। তিনি বলেন, করিমগঞ্জের নাম বদলের প্রস্তাব কি স্থানীয়দের থেকে এসেছে? না আসেনি। তবে বিজেপি বিধায়কের এ নিয়ে মাথা ব্যথা কেন? এসব বিষয়ে স্থানীয়দের মতামতই অগ্রগন্য বলে মনে করেন তিনি। এদিকে করিমগঞ্জের নাম শ্রীভূমি রাখার দাবি এ মুহূর্তে ওঠা বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক গৌতম দত্ত। বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যখন এনআরসির মাধ্যমে আসামের ১৯ লাখ মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তখন একটা প্রান্তিক শহরের নাম বদলের প্রস্তাব অপ্রাসঙ্গিক তো বটেই, বিপজ্জনকও। আমরা সংগঠনগতভাবে এর বিরোধিতা করছি।’ কোনো এলাকার নাম পাল্টানোর দিকে মনযোগ না দিয়ে ডিটেনশান ক্যাম্পগুলোতে বন্দি কয়েকশত হিন্দু বাঙালিকে বাঁচাতে শিলাদিত্য দেবদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন গৌতম দত্ত। বিজেপি নেতা শিলাদিত্য দেবের এমন দাবির বিপক্ষে শুধু বিশ্লেষকসহ স্থানীয়রিই নয়, ইতিমধ্যে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস থেকেও করিমগঞ্জের নাম বদলের দাবির সমালোচনা করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

একজন ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক সাদ আহমেদ

নিজ সংবাদ ॥  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন আদর্শবান মহান নেতা।  ছাত্রলীগ রাজপথের আদর্শ লড়াকু সৈনিক। “শিক্ষা, শান্তি ছাত্রলীগের মূলনীতি” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে রাজপথে এগিয়ে চলে। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের কৃতিসন্তান সাদ আহমেদ ছাত্রলীগ রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। সাদ আহমেদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রমান করেছেন সে একজন ত্যাগী ও পরিশ্রমী সাহসী নেতা। পরিশ্রমের ফল হিসাবে তিনি ২০১২ সালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এদিকে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালনের পরপরই ২০১৬ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পান। সংবাদ সূত্রে জানা যায়, সাদ আহমেদ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছিলো, তার সম্পর্কে  খোজ খবর নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাদের হাতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। এ বিষয়ে সাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির সুদৃষ্টি থাকায় তার এই অবদান। সাদ আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে ও হানিফ এমপির দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করি।  সাদের রাজনীতি সম্পর্কে খোজ নিয়ে জানা যায়, দিন  কে রাত আর রাত কে দিন করে ছাত্রলীগ রাজনীতিকে আরো  বেগবান ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ছুটে চলছে বিরামহীনভাবে,  কোন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং এর নিয়ন্ত্রক বা কোন মাদক ব্যাবসায়ীকে সে তার রাজনীতির সাথে কোনভাবেই সম্পর্কযুক্ত করেন নাই আজ অবধি, নেই কোন অনুপ্রবেশকারী। তিনি এক একজন পরিষ্কার ইমেজের ছাত্রনেতা বলে ছাত্রলীগ কর্মীরা মনে করেন। তিনি নিজে অন্যায়ের সাথে আপসহীন, আজ অবধি তার দ্বারা তৈরিকৃত  যেকোনো ইউনিটের নেতা বির্তকিত কোন কার্যক্রমের সাথে জড়িত নাই বলে দাবী কর্মীদের। সাংবাদিকদের অনেকে বলেন, সাদ হলেন জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির আশির্বাদপুষ্ট ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা এর অতি স্নেহধন্য ছাত্রনেতা। সাদের বলিষ্ঠ কন্ঠে কম্পিত হয় রাজপথ, যিনি বিএনপি-জামায়াত এর বিরুদ্ধে মূর্তিমান আতঙ্ক বলে দাবী কর্মীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্রলীগ নেতা বলেন, সাদকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা সাধু সাবধান, ষড়যন্ত্রকারীরা  ভেবেছিল ষড়যন্ত্র করে হারাবে আমাদের, কিন্ত সেদিন ও হারিনি আজও হারবো না রাজপথে থেকেছি, থাকবো। পরিশেষে সাদ বলেন, যতদিন দেহে প্রাণ থাকবে ততদিন আওয়ামী সংগঠনের সাথে সততার সাথে কাজ করে যাবো।

কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের উদ্যোগ

নতুন আইন বিষয়ক সচেতনতা মুলক আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের উদ্যোগে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সম্পর্কে বিভিন্ন মটর গাড়ীর হেলপার ও ড্রাইভারের সাথে সচেতনমুলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল দুপুর ১২টার সময় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ভাদালিয়ায় চৌড়হাস ফাঁড়ির আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হাইওয়ে থানা যশোর ফরহাদ হোসাইন। কুষ্টিয়া হাইওয়ে ফাঁড়ির ইন্চার্জ  রেজাউল করিমের আয়োজনে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এস আই কামরুজ্জামান, এএসআই জিন্নাহ সহ আরো অনেকেই। আলোচনা শেষে বিভিন্ন্ গাড়ীর ড্রাইভার ও হেলপারদের মাঝে লিফলেট বিতরন করা হয়। এছাড়াও বিগত দিনের বিভিন্ন মামলা প্রায় ১০০টি জট নিষ্পত্তি করা হয়। এ ব্যাপারে কয়েকজন ড্রাইভারের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, উক্ত আইনকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমাদের মতো সমস্ত গাড়ীর ড্রাইভার ও  হেলপারদেরকে উক্ত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে রাস্তায় গাড়ী  চালানো উচিত।

ভারতের সব ইচ্ছাই মেনে নিচ্ছে বাংলাদেশ – আনু মুহাম্মদ

ঢাকা অফিস ॥ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিকভাবে ভারতীয় কর্তৃত্বের নানা দিক তুলে ধরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে হওয়া চুক্তি-সমঝোতার কঠোর সমালোচনা করেছেন অর্থনীতির অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। শনিবার পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে বামজোটের এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, “অভিযোগ করলে প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন তথ্যপ্রমাণ ছাড়া অভিযোগ না করতে। সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেন জাতীয় স্বার্থবিরোধী, তথ্য-প্রমাণসহ বহুদিন ধরে সেকথা আমরা বলে আসছি। তিনি কর্ণপাত করেননি।

“বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ভারত যা ইচ্ছা প্রকাশ করছে, বাংলাদেশ তাই মেনে নিচ্ছে। সর্বোপরি বাংলাদেশ একটি বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে।” গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়া দিল্লি সফরের সময় ভারতের সঙ্গে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা সই এবং তিনটি যৌথ প্রকল্প উদ্বোধন হয়। স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহার এবং এলপিজি রপ্তানির সুযোগ দেওয়া নিয়ে দেশে সমালোচনা হয়। দুই দেশের মধ্যে সেসব চুক্তির বিষয়ে বামজোট ‘শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদীর মধ্যকার চুক্তি ও সমঝোতা: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বামজোটের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন। দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাডার স্থাপনে সমঝোতা স্বাক্ষরের সমালোচনা তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদু্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, “এতদিন তিনদিকে ছিল কাঁটাতার। এখন সমুদ্র উপকূল নিয়ন্ত্রিত হবে ভারতের রাডার দিয়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। “মার্কিন ‘ওয়ার অন টেরর’ বুলিকে অবলম্বন করে ভারত সারা দক্ষিণ এশিয়ায় যে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে, তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একের পর এক সামরিক চুক্তি করে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, “পেশাদারিত্ব, কূটনৈতিক দক্ষতা-অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা যায়। কিন্তু সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই যদি হয় ভারতের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকা, তাহলে রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিবর্তন ছাড়া জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সম্ভব না।” দেশের বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে ভারত সহযোগিতা করেছে তার জন্য আমরা ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ। তার মানে এই না ভারত যা চায় যুক্তি-চিন্তাহীনভাবে সব দিয়ে দিতে হবে। “সব সময়ই বুদ্ধিবৃত্তিকরা সমাজে-রাষ্ট্রে চিন্তা, রাজনীতির গতিমুখ তৈরি করে। সেই বুদ্ধিবৃত্তিকরাই এখন সরকারের তাবেদার হয়ে উঠেছে। এর ফলেই সমাজে প্রতিক্রিয়াশীলতা বেড়ে চলেছে।” ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নামে রিলায়েন্স, আদানী, বেক্সিমকো-বসুন্ধরার মত কর্পোরেটদের স্বার্থে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চুক্তি-সমঝোতার সমালোচনা করে অর্থনীতির আরেক শিক্ষক এম এম আকাশ বলেন, “বাংলাদেশ যদি ভারতীয় পুঁজির হোমল্যান্ডে পরিণত হয় তবে তার সাথে আমাদের জাতীয় পুঁজি কখনই পেরে উঠবে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ক্রমাগত সেদিকেই হাঁটছি।” তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা পানি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বিঘিœত করা যায় না। কিন্তু ভারত তাই করে আসছে। এই বিষয়টির সুরাহা করে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফোরামে যেতে হবে। “অথচ বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ কনভেনশন-১৯৯৭-এ অনুস্বাক্ষর করেনি। ভারত করেনি তার স্বার্থে, বাংলাদেশ কেন করেনি? বাংলাদেশ ভারতের আজ্ঞাবহ থাকায় এমনটা হয়েছে। নিজ স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছে।” উপকূলীয় রাডার পর্যবেক্ষণ সমঝোতার নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, “ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে কঠোর দর কষাকষির। এজন্য জাতিগত স্বার্থে জাতীয় ও আঞ্চলিক ঐক্য অপরিহার্য। ভারতের বামপন্থিদের সাথে পারষ্পরিক ঐক্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, “আধুনিক পুঁজিবাদ আর মধ্যযুগীয় মতবাদের মিশেলে চলছে বর্তমান ভারত। এর থেকে আমরাও মুক্ত না। “শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গিগত দিক থেকে বিবেচনা করলে ভারতের জনগণও এই পুঁজিবাদ ও মতবাদ দ্বারা লাঞ্ছিত-বঞ্চিত। তাই পুঁজি ও চিন্তার এ আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেতে হলে ভারতের বামপন্থিদের সাথে আমাদের যোগাযোগ ও ঐক্য বাড়াতে হবে।” বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান সরকার ও কূটনীতিকদের সমালোচনা করে বলেন, “বাংলাদেশের পক্ষে যে ধরনের পেশাদারী প্রস্তুতি, কূটনৈতিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা দরকার তার বিরাট ঘাটতি রয়েছে। ফলে ভারতের পক্ষে চুক্তি-সমঝোতা স্বাক্ষর করা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে বিশেষ কোনো তৎপরতা দেখা যায় না।” তিনি বলেন, “জনসম্মতি সরকারের টিকে থাকার ভিত্তি না হলে জনস্বার্থের পরোয়া সরকার করে না। দমন-পীড়ন-নির্যাতনই  সরকারের টিকে থাকার ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।” গোলটেবিল আলোচনায় আরও আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শ্রভ্রাংশু চক্রবর্তী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, গণসংতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভুঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম প্রমুখ।

আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে মরহুম আব্দুল খালেক মন্ডল স্মৃতি আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা টুর্ণামেন্ট’র উদ্বোধন

নিজ সংবাদ ॥ আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে মরহুম আব্দুল খালেক মন্ডল স্মৃতি আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় উক্ত ক্লাব প্রাঙ্গনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে  দাবা টুর্ণামেন্টটির উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। দাবা টুর্ণামেন্টটি পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করছেন খালেক ব্রিকস্, কুষ্টিয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক (পি.পি) এ্যডঃ অনুপ কুমার নন্দী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মরহুম আব্দুল খালেক মন্ডল’র পুত্র খালেক ব্রিকস্, কুষ্টিয়া’র স্বত্তাধিকার আব্দুল কাদের জুয়েল, জেলা ক্রীড়া সংস্থা দাবা উপপর্ষদের সভাপতি লিয়াকত আলী খাঁন, সাধারন সম্পাদক ডাঃ রতন কুমার পাল প্রমুখ। এ সময় কুষ্টিয়া শহর ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম বাদল সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম।

ছাড়া পেলেন লুলা

ঢাকা অফিস ॥ দেড় বছরেরও বেশি জেল খাটার পর ব্রাজিলের কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। শুক্রবার কুরিতিবার কারাগার থেকে তার বেরিয়ে আসার সময় হাজারো সমর্থক করতালি ও চিৎকার করে লুলাকে স্বাগত জানায় বলে জানিয়েছে বিবিসি। দুর্নীতির দায়ে নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত ব্রাজিলের এ সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে ছাড়বেন। গত সপ্তাহে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সব ধরনের আপিল শেষ হওয়ার আগে কাউকে কারাগারে পাঠানোর বিপক্ষে অবস্থান নিলে লুলা ও হাজারো কারাবন্দির মুক্তির পথ সুগম হয়। দুর্নীতির যেসব অভিযোগে লুলা কারাভোগ করছিলেন, বাকি আপিলে সেগুলো থেকে নিজের নাম কাটাতে না পারলে তাকে ফের জেলে যেতে হবে। ৭৪ বছর বয়সী এ বামপন্থি নেতা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন; দেশটিতে এখনও তার অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা। সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনেও তারই জয়ের পাল্লা ভারি ছিল বলে জনমত জরিপগুলোতে ইঙ্গিত মিলেছিল। আদালত দুর্নীতির অভিযোগে কারারুদ্ধ এ বামপন্থি নেতার নির্বাচনে দাঁড়ানোর অনুমতি না দিলে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কট্টর ডানপন্থি জাইর বোলসোনেরো ক্ষমতাসীন হন। শুক্রবার জেল থেকে বেরিয়ে আসার সময় লুলাকে  সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনার প্রতিক্রিয়ায় মুষ্টিবদ্ধ হাত উপরে তুলে ধরতে দেখা গেছে। জেল থেকে বেরিয়েই বোলসোনেরোর অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন এ সাবেক প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, দরিদ্র ব্রাজিলিয়ানদের জন্য তার লড়াই অব্যাহত থাকবে। “জনগণ ক্ষুধার্ত, তাদের চাকরি নেই, তারা কাজ করছে উবারের হয়ে, সাইকেলে পিজা সরবরাহ করছে,” বোলসোনেরোর কয়েক মাসের শাসনামলের পরিণতি তুলে ধরে বলেন লুলা। অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বামপন্থি এ নেতার ভবিষ্যতে নির্বাচনে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি। লুলা অবশ্য শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অ্যাখ্যা দিয়ে কোনো ধরনের অন্যায়ে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘুর্ণিঝড় বুলবুল এর আঘাত থেকে রক্ষা পেতে প্রস্তুতিমুলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মেদ ডন। তিনি বলেন ঘুর্ণিঝড় বুলবুল রাতে যে কোন সময় আঘাত হানতে পারে, আমাদের উপজেলায় যেহেতু কোন স্থায়ি আশ্রয় কেন্দ্র নেই তাই আমাদের প্রত্যেক ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্কুল খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, সাথে শুকনা খাবারের ব্যবস্থা রাখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন আমরা ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান দের মাধ্যমে তাদের দফাদার দিয়ে গ্রামে ঢোল সহরতের মধ্যমে মানুষকে সচেতনের ব্যবস্থা করা এবং প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখতে উপজেলা স্বাস্থ্র ও প,প,কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি। তারা এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি আছে বলে জানিয়েছেন, এবং প্রত্যেক মসজিদে ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে সামাজিক সচেতন করতে অনুরোধ জানান। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, উপজেলা স্থাস্থ ও প,প,কর্মকর্তা ডাঃ হাদী জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ, থানা অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আশিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা জেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা এনামুল হকের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম মন্টু, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মন্ডল, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন, প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহিল কাফি, সিভিল ডিফেন্স অফিসের স্টেশন অফিসার মখলেছুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম আজম প্রমুখ।

 

ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টে ইলেকট্রিশিয়ানের ১ম ব্যাচের সমাপনী ও সনদ বিতরণ

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টে রেগুলার ইলেকট্রিশিয়ানের প্রথম ব্যাচের সমাপনী ও সমাপ্তির সনদ বিতরণ সভা গতকাল সকাল ১০টার সময় পাওয়ার প্লান্টে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপত্বিত করেন ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মোশাররফ  হোসেন। এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহেল মারুফ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পাওয়ার প্লান্টের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আসাদ হালিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রবিউল আওয়াল, মেকানিক্যাল বিভাগের ব্রজেন্দ্র কুমার সরকার, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিস কুমার বিশ্বাস, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাইমিনুল হক, প্রশিক্ষণার্থী ফুয়াদ হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন ব্যবস্থাপক প্রশাসন বিমল চন্দ্র রায়। শেষে ৩০ জন প্রশিক্ষকদের হাতে সনদ তুলে দেন ভেড়ামারার ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের প্রধান প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন ও  ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে

ঢাকা অফিস ॥ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর মোকাবেলায় দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সব উপকূলীয় জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।’ শনিবার বিকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে কাজ করতে শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সেবা দেবেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করব।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকদের নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবেলায় মনিটরিং টিম খোলা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও দুর্যোগ উপকমিটির নেতারা সারা দেশের তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

প্রিয় নবী (সাঃ) এর স্মৃতি বিজরিত হেরা গুহায় আমার স্পর্শ

॥ আলহাজ্ব আব্দুম মুনিব ॥ আরবী হিজরী সালের রবিউল আওয়াল মাসের আজ ১২ তারিখ। আমাদের জন্য যেমন আনন্দের দিন তেমন দুঃখের দিন। এই দিনে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দুনিয়াতে আগমন এবং বিদায়। আজকের দিনটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এ দিনে আল্লাহ্ তায়ালার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, যাকে সৃষ্টি না করলে একটি ধুলিকনাও সৃষ্টি করতেন না, শ্রেষ্ঠ মানুষ, নবীদের সর্দার, মানবতার মুক্তির দিশারী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মদিবস।

ইসলামের ইতিহাসে একটি আলোচিত স্থানের নাম হেরা গুহা বা গারে  হেরা। ইসলামের ঐতিহাসিক নিদর্শনাবলীর অন্যতম এই গুহাটি। মানব জাতির মুক্তির দিক নির্দেশনা সম্বলিত গ্রন্থ এবং প্রিয় নবী (সাঃ) শ্রেষ্ট মুজেজা সর্বশেষ ও সেরা আসমানী কিতাব আল কোরআন দুনিয়ার বুকে সর্ব প্রথম এখানে নাযিল হয় যে কারণে এই গুহার মূল্যায়ন এত বেশি। আর যে পাহাড়ে এই গুহার অবস্থান তার নাম জাবালে নুর। জাবাল অর্থ পাহাড় এবং নুর অর্থ আলো অর্থ্যাত আলোকিত পাহাড়। রাসুল (সাঃ) এর স্বৃতি বিজরিত হেরা গুহা ও জাবালুন নূর দুটোই মুসলমানদের কাছে খুব প্রিয়।

আর এমন একটি ঐতিহাসিক স্থানে যেতে কার ইচ্ছে না করে। আমার  বেলায় ও এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি। মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ২০১৫ সালে হজ্ব করার উদ্যেশে সৌদিআরব যাত্রা। অনেক দর্শনীয় স্থানের মধ্যে পবিত্র কোরআন নাযিল হওয়ার স্থান তথা হেরা গুহা দেখার জন্য মনটা পাগল ছিল। তবে মুরব্বিদের নিষেধ ছিলো মুল হজ্ব সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোন পাহাড়ে উঠা যাবে না। কারণ কোন দূর্ঘটনা ঘটলে মূল হজ্বের সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। যা হোক হজ্বের পর ২৮ সেপ্টম্বর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের ৪৫ জনের হজ্ব কাফেলার মধ্যে, হজ্বের প্রায় ৫০ দিনের সফরের আমার একসাথে থাকা কাছের যেই মানুষ, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা শাহেদ ভাইসহ মাত্র ৭ জনের একটি ছোট্ট কাফেলা ফজরের নামাজের পূর্বে হারামাইন শরীফের কাছে অবস্থিত আমাদের হোটেল থেকে একটি পিকআপ ভাড়া করে জাবালে নুর এ পৌছালাম। সেখানে ১০ মিনিট হেটে পাহাড়ে অবস্থিত একটি মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে আমাদের পায়ে হেটে আমাদের প্রায় ২২শ ফিট উঁচু পাহাড়ে উঠার মিশন শুরু করলাম। এর আগে আমার মেজো দুলাভাই আবু তুরাব মুসতাক আহমেদ আমাকে বলেছিলেন হজ্বের সফরে এসে এই পাহারে উঠলে সফরের পরিপূর্ণতা পাবে। আসলেই তাই আমাদের মত অসংখ্য আবেগী নবী প্রেমী মানুষ ফজরেরর নামাজের পূর্বেয় সেখানে উপস্থিত হয়েছে। মুসতাক ভাইও সেনাবাহিনির একটি দলের সাথে ২য় বার হজ্ব করতে এসেছেন। উঠতে যেয়ে অনুভব করছিলাম সপ্তাহ পূর্বে মূল হজ্বের সময় যে ধকল গেছে সেই বিষয়টি। যেন শেষই হচ্ছে না পথ। তবে যতবার মনে করেছি এই পাহাড়েরর সাথেই আখেরী নবী (সাঃ) অসংখ্য স্বৃতি জড়িয়ে আছে ততই উপরে উঠতে স্পৃহা বাড়িয়েছে আমাকে। পাথরের পাহাড়, নেই কোন রাস্তা পাথর কেটে কেটে সিড়ির মত বানানো হয়েছে সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। উপরের দিকে তাকালে মনে হয় আর একটু বাকি আছে গুহায়  পৌঁছতে, ঐ তো গুহা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যতই উপরে উঠি ঐটুকু রাস্তা  যেন আর ফুরোয় না। বসে পড়লাম আর পারছি না। বসা থেকে উঠে আবার হাটা শুরু করলাম। খানিক যেয়ে আবার বসে পড়লাম।

যখন দেখি বিভিন্ন দেশের আমার চেয়ে অনেক বয়স্ক নারী ও পুরুষ হাজী সাহেবরা পাহারে উঠছে নামছে তখন মনের মাঝে সাহস সঞ্চয় করি ওনারা পারলে আমি পারব না কেন? আবার চলতে থাকি। মনে হয় এইতো গুহা দেখা যাচ্ছে কিন্তু এই তো আর শেষ হয়না। উপর থেকে যারা নিচে নামছে তাদের কাছে জানতে চাই ভাই আর কত দূর? তারা ও বলে আর অল্প একটু, কিন্তু আমার আর বসা থেকে উঠতে ইচ্ছে করে না। তারপর ও ধীরে ধীরে সামনে যাই এক পর্যায় প্রায় ২ ঘন্টা পায়ে হাটার পর পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়ার পর স্বাভাবিক হয়েছি। হেরা গুহায় যেতে পাহাড়ী নকশায় আমাদের সামনে আর একটু নামতে হবে। তাই আমরা সামনে এগুতে থাকলাম। পাথরের ভিতর দিয়ে একটি সুরঙ্গ পথ অতিক্রম করলে সে ঐতিহাসিক  হেরা গুহা আমাদের দৃষ্টি গোচর হল। মনটা আনন্দে ভরে গেল। ভুলে  গেলাম এতক্ষনের সকল কষ্ট। অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় জমিয়ে আছে এক নজর দেখার জন্য অনেক কষ্ট করে এক নজরে দেখলাম গুহাটি। এখানে বসে বিশ্বনবী (সা:) আল্লাহর ধ্যান করতেন। কেউ কেউ এখানে নফল নামাজ পড়ছে। গুহাটি এতটুকু পরিমান যে একজন মানুষের বেশি সেখানে অবস্থান করা যায় না। তাই গুহার সম্মুক্ষে প্রচন্ড ভীর। সেই লাইনের সিরিয়ালে আমিও পরলাম। অবশেষে সেই মহেন্দ্রক্ষণ আমিও ঢুকলাম। একটা কেমন যানি মনে হচ্ছিল সেই সময়। আমার নবী এখানেই বসে থেকেছেন ইবাদত করেছেন দিনের পর দিন। হয়তোবা গুহার এই এই স্থানে রাসুলের হাতের স্পর্শ আছে। আমিও স্পর্শ করলাম গুহার ভিতরে পাহারের গায়ে। দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করলাম। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষ এখানে ভিড় জমাচ্ছে  কোরআন নাযিলে স্থানটি একটি বার দেখার জন্য।  অতপর আবার পাহাড়ের উপরে উঠে আসলাম এখন নামার পালা। পাহাড় থেকে পুরো মক্কা নগরী একবার ভাল করে দেখে নিলাম। বিশাল বিশাল টাওয়ার গুলো ছোট ছোট ঘরের মত মনে হয়। এছাড়া এত উঁচু থেকে আর কিছু বুঝা যায় না। সেখানে আমরা মোবাইল এর সাহায্যে বেশ কিছু ছবি তুললাম। অতপর ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলাম।

নামতে নামতে ভাবতে লাগলাম আল্লাহর প্রিয় হাবিব কত বার এখানে উঠেছে আর তখন এরকম সিড়ি ও ছিলো না। ভাবলে যে কোন নবী  প্রেমিক মন ব্যথায় ব্যাথিত হবে।

লেখক ঃ কামিল (আল হাদিস) মাস্টার্স (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী

হযরত বাবা নফর শাহ্ বুগদাদী (রঃ) মাজার শরীফে মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন

নিজ সংবাদ ॥ পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে, আজ ১০ নভেম্বর রবিবার বাদ এশা কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়াস্থ হযরত বাবা নফর শাহ্ বুগদাদী (রঃ) মাজার শরীফে মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও হযরত বাবা নফর শাহ (রঃ) মাজার এর ভক্তবৃন্দ ও আসেকানগণকে শরীক হয়ে অশেস নেকী হাসিল করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, হযরত বাবা নফর শাহ (রঃ) মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে দৌলতপুরে দিনভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি : জনজীবনে বিরুপ প্রভাব

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও দিনভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়েছে। এরফলে জনজীবনে বিরুপ প্রভাব ফেলেছে। কর্মজীবি সাধারণ মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে ঘরে বসে দিন কাটিয়েছে। খুব প্রয়োজন না হলে কেউ ঘরের বাইরে বের হয়নি। জেএসসি ও জেডিসি এবং জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের গতকালের পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ভিজে কষ্ট করে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা গেলেও শিক্ষকদের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। বৃষ্টির কারনে সড়কে যানবহন চলাচলও ছিল কম। তাই প্রয়োজনে বাইরে বের হয়ে বৃষ্টির মধ্যে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে যাবহনের জন্য। অসময়ে বৃষ্টির কারনে চলতি মৌসুমে আমন ধান কেটে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষরা। কাটা ধান মাঠে পড়ে নষ্ট হওয়ার শংকায় সময় কাটছে তাদের। এছাড়াও ক্ষতির মুখে পড়েছে উপজেলার অনাচে কানাচে গড়ে ওঠা সব অবৈধ ইটভাটা মালিকরা। কাঁচা ইট পাকানোর আগেই দুইবার বৃষ্টির প্রভাবে নষ্ট হওয়ায় তারা ক্ষতির সন্মুখীন হলেন। তবে সময়মত ইটের দাম বাড়িয়ে গ্রাহকদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে ক্ষতি পুষিয়ে নিবে বলে সে আশায় দিন গুনছে ইট ভাটা মালিকরা। আবার বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান, বৌ-ভাত এমনকি সুন্নতে খৎনা অনুষ্ঠান বৃষ্টির কারনে চরম বিঘিœত হয়েছে।

 

১২ নভেম্বর সম্মেলন

কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগে বিকল্প নেই আতাউর রহমান আতার

নিজ সংবাদ ॥ আসন্ন কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুরো শহর জুড়ে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। একে একে ২১টি ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। আগামী ১২ নভেম্বর কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ মাঠে সম্মেলন উপলক্ষ্যে চলছে মঞ্চ নির্মাণসহ সকল প্রস্তুতি। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ নেতা কর্মিদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন পিটিআই রোডস্থ মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির বাসভবনে দলে দলে নেতা কর্মিরা জননেতা আতাউর রহমান আতার সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাত করছেন। কে কত লোক, কি ভাবে সাজ-সজ্জা করে সম্মেলন কেন্দ্রে আসবেন তার বিস্তর খবরাদি উপস্থাপন করছেন। দলীয় নেতা কর্মি আর সাধারণ মানুষের এমন আগ্রহ-উদ্দীপনা দেখে মনে হচ্ছে আগামী ১২ নভেম্বর কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে শহর আওয়ামীলীগের সুসংগঠিত করতে আতাউর রহমান আতার বিকল্প নেই, তিনি যেন তাদের এক মাত্র ভরসা।

১৯৯০ সালে ভেড়ামারা উপজেলা বাহিরচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে আতাউর রহমান আতার রাজনীতিতে প্রবেশ। এর আগে তিনি স্কুল জীবনে শেখ রাসেল শিশু-কিশোর সংসদ এবং পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর সংসদের সক্রিয় কর্মি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালে তিনি ভেড়ামারা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ১৯৯৯ সালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি এবং ২০০৪ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন। ২০০১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে তিনি বিএনপি-জামায়াতের রোষানলের শিকার হয়ে প্রায় মৃত্ব্যর মুখ থেকে বেঁচে আসেন। ১৯৭৭ সালে ২৫ এপ্রিল ভেড়ামারা উপজেলায় বাহিরচর ইউনিয়নে জন্মগ্রহন করেন আতাউর রহমান আতা। পিতা আব্দুস ছাত্তার ও মাতা আমেনা খাতুনের ¯েœহে বেড়ে উঠা আতাউর রহমান আতার শিক্ষাজীবন ভেড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভেড়ামারা কলেজে কেটেছে। আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়ার উন্নয়নের রুপকার মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির সাহচার্যে থেকে তাঁর রাজনৈতিক জীবন পরিচালিত করছেন। তাঁর সংস্পর্শে থেকেই আতাউর রহমান আতা রাজনৈতিক জীবনে এই দীর্ঘ চড়াই- উতরাই অতিক্রম করতে পেরেছেন। স্ত্রী, এক পুত্র ও কন্যা সন্তানের জনক আতাউর রহমান আতা ভেড়ামারার রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি মুল জেলার রাজনীতির সাথে সংযোগ স্থাপন শুরু করেন। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কুষ্টিয়া সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাংসদ খন্দকার রশিদুজ্জামান দুদু নির্বাচিত হন। খন্দকার রশিদ্জ্জুামান দুদু নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় তিনি অসুস্থ্য হন। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি দায়িত্বপ্রাপ্ত হন একই সময়ে তিনি প্রধামন্ত্রীর বিশেষ সহকারীরও দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি এক সাথে দুই দায়িত্ব পাওয়ার পর কুষ্টিয়া সদরসহ পুরো জেলার রাজনীতিতে তার দায়িত্বভারও অনেক বেড়ে যায়। জেলা আওয়ামী লীগের পাশাপাশি মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি কুষ্টিয়া তথা এ অঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতিকে নতুন ভাবে তৃণমুল নেতা কর্মিদের উদ্যমী ও দলের সাথে নিবীঢ় সম্পর্ক স্থাপনে আতাউর রহমান আতা একটি যোগসুত্র স্থাপন করেন। এর পর মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছরের মাথায় কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের পদটি শুন্য হলে দলের নিবেদিত কর্মি হিসেবে আতাউর রহমান আতাকে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাকে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার অর্পণ করেন। পরবর্তিতে সেটি কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদিত হয়ে আসে।  এ কারণে তার চলার পথের গতি আরও বৃদ্ধি পায়। সেই ফজরের আযান থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন, পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডের অলিতে-গলিতে নিভৃত পথচারী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আতাউর রহমান আতা। উপজেলার যে কোন প্রান্ত থেকে কেউ মারা গেলে, কেউ অসুস্থ্য হলে তাৎক্ষণিক ভাবে আতাউর রহমান আতা সেখানে হাজির হয়ে যান এবং তার খোঁজ খবর নেন। অসুস্থ্য ব্যক্তির পাশে দাঁড়ান। মৃত ব্যক্তির জানাযায় অংশ নেন। প্রচন্ড শীতে যখন মানুষ থর থর করে কাঁপে সদর এমপির শীত বস্ত্র, নিজের ক্রয় করা বস্ত্র নিয়ে হাজির হন তিনি। প্রতি বছর পবিত্র রমজানে প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি অংশগ্রহন করেন, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ভবন নির্মাণে এমপির বরাদ্ধের জন্য সরজমিনে উপস্থিত হয়ে সে সকল খোঁজ খবর নিয়ে তার সঠিক বন্টনের দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে, গত সাড়ে ৫ বছরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় অন্তত ৪ শতাধিক মসজিদ, ৩শ স্কুল, মাদ্রাসা, মন্দিরের নতুন ভবন নির্মাণ, প্রায় ৩ হাজার কিঃ মিঃ রাস্তা, অন্তত ১শ টি ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণে আতাউর রহমান আতার রয়েছে বিশেষ অবদান। সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির নির্দেশে প্রতিটি জায়গায় নিজে সরজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে প্রকল্প উপস্থাপনের দায়িত্বপালন করেছেন তিনি। এতে এমপি হানিফ’র বরাদ্দের সঠিক বিতরণ হয়েছে। সেই সাথে জেলার রাজনীতির সাথে তৃণমুল আওয়ামী লীগের কর্মিদের একটি যোগসুত্র স্থাপন হয়েছে খুব দ্রুত। এসব কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, পৌর নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে এবং সবশেষ উপজেলা নির্বাচননেও জেলার ৬টি উপজেলায় আওয়ামীলীগের বিজয়ও নিশ্চিত হয়েছে । এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের ১৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা রইচ উদ্দিন জানান, শহর আওয়ামী লীগে আতার ভাইয়ের বিকল্প নেই। যখন যেখানে যা প্রয়োজন আতা ভাই সব সমাধান দেন। তাই আমি মনে করি কুষ্টিয়া শহর একটি ঐতিহ্যবাহী শহর। আগামী সম্মেলনে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তার কোন বিকল্প নেই। সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুর রহিম পল্লব জানান, বিগত সময়ে কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কারা দিয়েছেন কে দিয়েছেন তা মানুষ জানতো না বুঝতোও না। আমি এক বাক্যে বলতে পারি এই শহরের এবং সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের যে কোন মানুষকে জিজ্ঞাসা করলেই জানা যাবে শহর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কে দিচ্ছেন এক বাক্যে বলে দেবে আতা, ভাই;র কথা। আমি মনে করি শহরের রাজনীতি জেলার রাজনীতিকে সু-সংঠিগত করে। তাই শহর আওয়ামীলীগকে সু-সংঠিত করতে হলে আতা ভাই’র কোন বিকল্প নেই।

মিরপুরে সাতটি স্বর্ণের বারসহ আটক-১

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৪৭বর্ডারগার্ড (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অভিযানে ৫শ গ্রাম স্বর্ণ (৭টি বার) সহ তাওয়াবুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। গতকাল শনিবার ভোর ৫ টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মেহেরপুরগামী যাত্রীবাহি এসবি পরিবহনে তল্লাসী চালিয়ে এই স্বর্ণ উদ্ধারকালে তাওয়াবুর (৪২)নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করে বিজিবির টহল দল। ৪৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেঃ কর্ণেল রফিকুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন মেহেরপুরগামী ওই বাসে একব্যক্তি ভারতে স্বর্ণ পাচার করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর ৫টার সময় কুষ্টিয়া- মেহেরপুর সড়কের বিজিবি সেক্টর’র ২নং গেটের সামনে মেহেরপুরগামী এসবি পরিবহনে অভিযান চালিয়ে তাওয়াবুরকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাসী করে বিশেষভাবে রাখা অবস্থায় ৭টি স্বর্ণের বার যার ওজন ৫শ গ্রাম উদ্ধার করা হয়। আটক তাওয়াবুর মেহেরপুর জেলার শুভরাজপুর গ্রামের তরিকুল ইসলামের পুত্র। আটক স্বর্নসহ তাওয়াবুরকে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” মোকাবেলায় কুষ্টিয়া জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা

নিজ সংবাদ ॥ ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” এর মোকাবেলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন সকলকে সাথে নিয়ে ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” মোকাবেলায় তৎপর রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” এ যাতে কোন ক্ষয় ক্ষতি না হয় সেদিকে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) আজাদ জাহান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম সহ সকল সরকারি দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ঘূর্ণিঝড় “বুলবুল” মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা শেষে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ২৪ ঘন্টা সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা, প্রত্যেক ইউনিয়নে জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে ব্যপক মাইকিং, সিভিল সার্জনের নেতৃত্ব ৯৯ টি মেডিকেল টিম গঠন, ফায়ার সার্ভিসকে সদা প্রস্তুত রাখা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সকল মসজিদের ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে মসজিদের মাইক হতে জনগণকে নিরাপদে যেতে আহ্বান করবেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সার্বক্ষণিক মোবাইল টিম রেডি রাখা ইত্যাদি পদক্ষেপগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

অযোধ্যা মামলার রায়

বিতর্কিত ভূমিতে মন্দির হবে, মুসলমানদের বিকল্প জমি

ঢাকা অফিস ॥ কয়েক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি নিয়ে করা ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শনিবার দেওয়া এই রায়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আর্জি এবং নির্মোহী আখড়ার বিতর্কিত জমির উপর দাবি দুটোই খারিজ করে দেন। আদালত এই জটিলতার সমাধান করেছে এভাবে, পৌনে ৩ একরের ওই স্থানে মন্দির হবে, তবে তা হবে একটি ট্রাস্টের অধীনে। আর মসজিদের জন্য কাছাকাছি অন্য স্থানে ৫ একর জমি দিতে হবে সরকারকে। এই রায়ে বিতর্কিত জমির উপর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্তৃত্বও খর্ব হল, যারা মন্দির নির্মাণের জন্য মসজিদ ভেঙেছিল। কারণ, জমিটি এখন ট্রাস্টের অধীনে চলে যাবে এবং ট্রাস্টি বোর্ড মন্দির নির্মাণসহ সেটির দেখভালের দায়িত্বে থাকবে। কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, রায়ের শুরুতেই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ওয়াকফ বোর্ডের আর্জি এবং নির্মোহী আখড়ার বিতর্কিত জমির উপর দাবি খারিজ করে দেন। তারপর তিনি বলেন, “আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) তথ্যনুযায়ী ফাঁকা জায়গায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ হয়নি। তবে মাটির নিচে থাকা স্থাপনাটি ঠিক কী ছিল, তা এএসআই সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি। “যেহেতু বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে জমির মালিকানা ঠিক করা সম্ভব নয়, তাই আইনের ভিত্তিতেই জমির মালিকানা ঠিক করা উচিৎ। আপাতত কেন্দ্রীয় সরকার ওই জমির মালিকানা পাবে। কেন্দ্রকে তিন মাসের মধ্যে বোর্ড অব ট্রাস্ট গঠন করে তাদের হাতে বিতর্কিত জমি তুলে দিতে হবে। ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানেই বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে মন্দির নির্মাণ হবে। “সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ওই জমিতে অধিকার দাবি করতে পারবে না। তবে তারা মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জমি পাবে। অযোধ্যার কেন্দ্রের কোথাও তাদের পাঁচ একর জমি দেওয়া হবে এবং সেখানে তারা মসজিদ নির্মাণ করতে পারবে।” অযোধ্য মামলার রায় ঘিরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে শনিবার সকাল থেকেই গোটা উত্তরপ্রদেশে জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এছাড়া আগামী সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবেশী কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশে রাজ্যেও একই নির্দেশ জারি হয়েছে বলে জানায় আনন্দবাজার। অযোধ্যার রায়ের পর আবারও ১৯৯২ সালের দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া আটকাতে সব রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের নেতারা নিজ নিজ দলের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ষোড়শ শতকে নির্মিত বাবরি মসজিদটি ১৯৯২ সালে গুঁড়িয়ে দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। রামচন্দ্রের জন্মভূমিতে এই মসজিদ তৈরি করা হয়েছে বলেই তাদের বিশ্বাস। মসজিদটি ভাঙা নিয়ে ওই বছর হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গায় ভারতজুড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। অর্ধ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে বাবরি মসজিদ ও রাম জন্মভূমি নিয়ে বিরোধ মামলা চলছে। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে বিতর্কিত জমিতে রামের মূর্তি স্থাপনের পরে  ফৈজাবাদ আদালতে বাবরি মসজিদের পক্ষে যিনি প্রথম মামলা দায়ের করেছিলেন তার নাম হাসিম আনসারি। ২০১৬ সালে তিনি মারা গেলে তার ছেলে ইকবাল আনসারি মামলার বাদী হন। এই রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদের বিষয়টি ১৯৮০’র দশকে ভারতে অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল। স্পর্শকাতর এ মামলাটি নিয়ে নানা টানা পড়েনের পর চলতি বছরের শুরুতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি কমিটি গঠন করে দেয়। ওই কমিটি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নানাভাবে সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে গত ৬ আগস্ট থেকে কোনও বিরতি ছাড়া মামলার টানা শুনানি হয়। গত ১৬ অক্টোবর চূড়ান্ত শুনানি হলেও রায় প্রদান অপেক্ষমান রেখেছিলেন শীর্ষ আদালত। অবশেষে শুক্রবার আচমকাই সুপ্রিম কোর্ট শনিবার রায় প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা দেয়। রায়ের তারিখ ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতি গগৈ নিজের চেম্বারে ডেকে নিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং ডিজির সঙ্গে কথা বলেন বলে জানায় আনন্দবাজার। আগামী ১৭ নভেম্বর দেশের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন রঞ্জন গগৈ। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, অবসর নেওয়ার আগেই তিনি অযোধ্যার বিতর্কিত জমি মামলার রায় দিয়ে যেতে চান। সেই অনুযায়ী তাঁর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করা হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি ঘোলাটে কিভাবে, তথ্য আছে – নওফেল

ঢাকা অফিস ॥ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অস্থিতিশীল করার পেছনে ইন্ধন রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুর নওফেল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ শুক্রবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের কাছে জমা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপমন্ত্রী বলেন, “তদন্তের আবেদনের আগে ঢোল বাজিয়ে, কাসা পিটিয়ে যে আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার অরাজকতা হয়েছে সেটার জবাবদিহিতা আগে আমরা চাই। তদন্ত তো হবেই। অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা পরলেই তদন্ত হবে। তবে তদন্ত তাদের বিরুদ্ধেও হওয়া উচিত যারা তদন্তের আবেদনের আগেই পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে।” নওফেল বলেন, “আমাদের কাছে অনেক তথ্য আছে। রাষ্ট্র প্রশাসন এখন অনেক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তদন্ত শুরু হওয়ার আগেও অনেক কিছু আমাদের কাছে থাকে, অনেক কিছু আমরা জানতে পারি। সবার সম্মানের কথা বিবেচনা করে অনেক সময় অনেক সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র, প্রশাসন নেয় না এবং সকলের আথিক অবস্থান, কোথা থেকে কি হচ্ছে, কারা ইন্ধন দিচ্ছে… কোন সংঘবদ্ধ শক্তি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোথা থেকে আথিক অনুদান এনে আর আর্থিক সংস্থানের মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে আমরা সেটা কিন্তু জানি।” অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়লে গত সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। বন্ধের পরও কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। জাহাঙ্গীরনগরে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কনসার্ট আয়োজনের অর্থ কোথায় পেল তা নিয়েও প্রশ্ন রাখেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। “জাহাঙ্গীরনগরের ঘটনা তদন্ত করবার জন্য অভিযোগ জমা দেওয়ার আগেই কনসার্ট আয়োজনের অর্থ কোথা থেকে আসলো সেটা আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই “ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেরিতে অভিযোগ জমা দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। নওফেল বলেন, “তদন্ত করবার জন্য আমরা বারংবার অভিযোগ আহ্বান করেছি। কিন্তু অভিযোগ না এনে ঘণ্টাখানেকের দূরত্বের ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা আসতে যদি চারদিন সময় লাগে তাহলে দূরভিসন্ধির সন্দেহ তো আসতেই পারে। কি তাদের অভিযোগের ভিত্তি যে চারদিন লাগল অভিযোগ নিয়ে আসতে?”

 

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

জেএসসি-জেডিসির সোমবারের পরীক্ষাও পেছাল

ঢাকা অফিস ॥ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ১১ নভেম্বর সোমবারের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল খায়ের এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিনের পরীক্ষা করে নেওয়া হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সে সময়সূচি পরে জানানো হবে।” পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সোমবারের জেএসসি পরীক্ষা বুধবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

১১ নভেম্বরের জেডিসি পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে ১৬ নভেম্বর সকাল ১০টায়। সোমবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট- জেএসসির বিজ্ঞান এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট- জেডিসির ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয় শনিবারের জেএসসি ও জেডিসির গণিত পরীক্ষা। ৯ নভেম্বরের জেএসসির স্থগিত পরীক্ষা ১২ নভেম্বর এবং জেডিসির স্থগিত পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর হবে। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ সুন্দরবন হয়ে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে। সেজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে উপকূলজুড়ে।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে পারে

ঢাকা অফিস ॥ ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আজ মধ্যরাত নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে ঘণ্টায় প্রায় ১২ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (২১.৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের নিকট দিয়ে) অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মদ আয়েশা খাতুন আজ বিকেল সোয়া চারটার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোয় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।