সেন্টমার্টিনে আটকা ১২শ পর্যটক

ঢাকা অফিস ॥ কক্সবাজারের টেকনাফ জাহাজঘাট থেকে গতকাল শুক্রবার সকালে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। ফলে প্রবাল দ্বীপে আটকে থাকা পর্যটকরা ফিরতে পারেননি। দ্বীপের আবাসিক হোটেলগুলোতে তাঁরা নিরাপদে অবস্থান করছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে গন্তব্যে ফিরবেন আটকে পড়া পর্যটকরা। সেন্টমার্টিন ইউপি সদস্য হাবিব খান মুঠোফোনে জানান, গত বৃহস্পতিবার বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকে টেকনাফ ফেরেননি। হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁরা আটকে গেছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সেন্টমার্টিন থেকে না ফেরা পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ১২শ হবে বলে জানান হাবিব খান। সমুদ্রে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় সেন্টমার্টিনগামী কোনো জাহাজ গতকাল শুক্রবার না ছাড়তে নির্দেশ জারি করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জারি করা এই নোটিশ যথারীতি সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তমতে গতকাল শুক্রবার সকালে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে কোনো জাহাজ ছাড়েনি। গত বৃহস্পতিবার অনেক পর্যটকের টিকেটের টাকা ফেরত দেয় জাহাজ কর্তৃপক্ষ। এতে করে মৌসুমের শুরুতেই একটি ধাক্কা খেলেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ মোবাইল ফোনে বলেন, গত বৃহস্পতিবার এক হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণে এসে টেকনাফ ফেরেননি। জরিপ চালিয়ে নীল দিগন্ত কটেজে ১২০ জন, বাগানবাড়ীতে ৬৪ জন, সমুদ্র কুটিরে ৩০ জন পর্যটকসহ বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে আরো আট শতাধিক পর্যটক দ্বীপে অবস্থান করছেন। তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সতর্ক সংকেতের কারণে দ্বীপে পর্যটক বেশিদিন অবস্থান করতে হলে থাকার হোটেল ও খাবার রেস্তোরাঁগুলোকে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গন্তব্যে ফিরতে পারবেন। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলকারী কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন টেকনাফ অফিসের ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, সমুদ্রে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় গতকাল শুক্রবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলবে না। এ-সংক্রান্ত গত বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পুনরায় জাহাজ চলাচল করবে, যোগ করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আটকেপড়া পর্যটকরা দ্বীপের বিভিন্ন হোটেল-মোটেল ও কটেজে অবস্থান করবেন। তাঁদের প্রশাসনিকভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়ে দ্বীপে কতজন পর্যটক আছে, সে জরিপ চালানো হচ্ছে। সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশেষ ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে বর্তমানে কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, দি আটলান্টিক ক্রুজ, এমভি ফারহান ও এমভি বে-ক্রুজার চলাচল করছে।

 

শিবির নেতার বাড়ি থেকে পাকিস্তানি পতাকা উদ্ধার!

ঢাকা অফিস ॥ রাজশাহীর বাঘায় শিবির নেতা আইয়ুব আলীর বাড়ি থেকে পাকিস্তানি পতাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার আমোদপুর গ্রামে তার বাড়ি থেকে এ পতাকা উদ্ধার করা হয়। এসময় এক বস্তা বিভিন্ন ইসলামি বই ও দলীয় কুপন উদ্ধার করা হয়। যদিও পুলিশ এসব বইকে জিহাদি বই বলে দাবি করছে। পুলিশ জানায়, আইয়ুব আলী উপজেলার আমোদপুর গ্রামের আজগর আলীর ছেলে ও রাজশাহী জেলা ছাত্রশিবিরের আরডি এবং বাঘা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আইয়ুব আলী আমোদপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে ১৫-২০ জনের একটি শিবির নেতার দল নিয়ে গোপন  বৈঠক করছিলেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে তারা পালিয়ে যান। পরে তার বাড়ি তল্লাশি করে বিভিন্ন প্রকার দুই শতাধিক ইসলামি বই, পাকিস্থানি পতাকা ও দলীয় কুপন জব্দ করা হয়। বাঘা থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুর রহমান সরকার যুগান্তরকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবির নেতা আইয়ুব আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক বস্তা জিহাদি বই, অর্থ আদায়ের রশিদ, দলে যোগদানের কুপন ও পাকিস্তানি পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।

সোহাগ সভাপতি ॥ তপু সম্পাদক

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন

কুষ্টিয়া জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির আওতাধীন পলিটেকনিক মাদক প্রতিরোধ কমিটির অনুমোদন হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজু ও সাধারণ সম্পাদক এম সোহাগ হাসান স্বাক্ষরিত ২৫ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। ২ বছর মেয়াদী এই কমিটির সভাপতি নাজমুস সাকিব সোহাগ. সাব্বির হোসেন সিজান ও সাগর হোসাইন সহ-সভাপতি, সাদমান হাফিজ তপু সাধারণ সম্পাদক, গোলাম রাব্বি ও আশরাফুল ইসলাম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মাহাফুজুর রহমান, আসাদুজ্জামান নুর সাব্বির ও রবিউল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক, শাহেদ বিন ওয়ালীদ দপ্তর সম্পাদক, তামিম হোসেন অর্থ সম্পাদক, সকিব হাসান সাংস্কৃতিক সম্পাদক, সালেহীন ফেরদৌস শোভন যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক, জুবায়ের ফেরদৌস নূর প্রচার সম্পাদক, আরাফাত রহমান শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, বৈশাখী খাতুন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, মাহাফুজ রহমান আইন বিষয়ক সম্পাদক, আনিচুর রহমানকে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক করা হয়। এছাড়া সদস্য যারা এই কমিটিতে রয়েছেন, সোহেল রানা নিপু, কামরুল হাসান, আক্তারুজ্জামান, রাসেল উদ্দিন ও নিপা খাতুন।

 

পেঁয়াজের দাম বেঁধে দিয়েছেন শ্যামবাজারের পাইকাররা

ঢাকা অফিস ॥ মাসখানেকের বেশি অস্বাভাবিক দাম চলার পর এতে লাগাম টানতে পেঁয়াজের দাম বেঁধে দিয়েছেন ঢাকার প্রধান পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা। এই পদক্ষেপের ফলে নতুন পেঁয়াজ ওঠার আগে অস্থিরতার এই শেষ পর্যায়ে এসে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন তারা। বৃহস্পতিবার রাতে পেঁয়াজের দাম নির্ধারণের জন্য জরুরি বৈঠকে বসে আড়ৎদার সমিতি। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, শুক্রবার থেকে আপাতত মিশর, চীন ও তুরস্কের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি করবেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা।

সমিতির সহ-সভাপতি হাজী আব্দুল মাজেদ বলেন, “সরবরাহ সঙ্কটের কারণে বাজার অস্থিতিশীল হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এর জন্য আড়ৎদারদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। প্রচুর বদনাম রটানো হচ্ছে। “তাই আমরা বাধ্য হয়ে আলোচনা করে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছি। এই কাজটি আরও এক মাস আগে করতে পারলে আরও ভালো হত।” শ্যামবাজারের মতো ঢাকার অন্যান্য পাইকারি বাজার এবং চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য বাজারেও একই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ব্যবসায়ীদের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা দেখতে শুক্রবার শ্যামবাজারে ভ্রম্যমাণ আদালত নিয়ে অভিযানে যায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এদিন মাত্র চারটি আড়ৎ ছাড়া অধিকাংশ আড়তেই বেঁধে দেওয়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানান অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল। তিনি বলেন, “অধিকাংশ দোকানেই সঠিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করছিল। কেবল চারটা দোকানের মধ্যে ঝামেলা পেয়েছি। এদেরকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। “এক দোকানে দেশি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য লেখা ছিল প্রতি কেজি ৯০ টাকা। কিন্তু তারা বিক্রি করছিল ১০৬ টাকায়। অন্য তিনটি দোকানে মিশর, তুরস্ক ও চীনের পেঁয়াজ বিক্রি করেছে ৮০ টাকায়। যদিও তারা নিজেরা সর্বোচ্চ মূল্য ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছিল।” তবে প্রধান পাইকারি বাজার উদ্যোগ নিলেও কারওয়ান বাজারসহ অন্যান্য বাজারগুলোতে দেখা যায়নি এ ধরনের পদক্ষেপ। তাৎক্ষণিকভাবে খুচরাতেও এর প্রভাব পড়েনি। কারওয়ান বাজারে এদিন পাবনা অঞ্চলের ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১২৪ টাকা। এছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজ ১০৯ টাকা, মিশরের পেঁয়াজ ৮০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মিরপুর-১ নম্বর বাজারের পাইকারি বিক্রেতা পলাশ সাহা জানান, এই বাজারে গত দুই সপ্তাহ ধরেই পাইকারিতে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে পেঁয়াজের বিক্রি ব্যাপক হারে কমেছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বিক্রেতা। বড়বাগের মুদি দোকানি হেলাল মাহমুদ বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন এক বস্তা বা ৪০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হত, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ কেজি। “ক্রেতারা পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন।” একই কথা বলেন কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আব্দুল আওয়াল: এখন  দৈনিক চার-পাঁচ বস্তা (প্রতি বস্তায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে না। অথচ আগে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ বস্তা বিক্রি হত।

যথাযথ নিময় না মেনেই বিক্রি হচ্ছে বিস্ফোরক জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা তা ব্যবহার করছে নাশকতায়

ঢাকা অফিস ॥ যথাযথ নিয়ম অমান্য করে দেশে অবাধে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে। আর জাঙ্গি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠন ওসব রাসায়নিক পদার্থ সংগ্রহ করে বিস্ফোরক তৈরি করছে। লাইসেন্সধারী অসাধু ব্যবসায়ীরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থ বেআইনিভাবে বিক্রি করে দিচ্ছে। আবার অনেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আদর্শগত কারণেও জঙ্গিদের কাছে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি ও সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ম্যাচ ফ্যাক্টরি ও অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও নাশকতায় ব্যবহৃত বিস্ফোরকের জোগান আসছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্ফোরক ভুয়া ভাউচারে সরিয়ে ফেলে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিস্ফোরক পরিদফতর ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের বিস্ফোরক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাসায়নিক পদার্থ ও কেমিক্যাল (তরল) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়মিত মনিটরিং নেই। বর্তমানে দেশে ৫৯ জন তালিকাভুক্ত বিস্ফোরক ব্যবসায়ী রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই বেআইনিভাবে বিস্ফোরুক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। আর ওসব প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী হাতবোমা, ককটেল ও হ্যান্ডগ্রেনেড। তাছাড়া পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারতীয় জঙ্গিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দিয়ে তৈরি হচ্ছে মারাত্মক সব বিস্ফোরক।  সূত্র জানায়, পুলিশের পরিসংখ্যান মতে ২০০১ থেকে হালনাগাদ প্রায় ২৫ হাজার অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় প্রায় ১০ হাজার মামলা হয়েছে। তাতে গ্রেফতার হয়েছে অন্তত ৮ হাজার সন্ত্রাসী ও জঙ্গি। উদ্ধারকৃত অস্ত্র গোলাবারুদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার কেজি বিভিন্ন প্রকারের বিস্ফোরক ও ৩৩৪টি ট্যাঙ্কবিধ্বংসী উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক রয়েছে। এর বাইরে বিজিবির অভিযানেও বহু অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও বিগত ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর মিরপুর থেকে বিপুল বোমা তৈরির সরঞ্জাম, গানপাউডার, শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থসহ জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক এমপি ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতাসহ বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চীফ কন্ট্রোলারসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাছাড়া বিগত ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর খিলগাঁও থেকে সোয়া ৫ কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকসহ পুলিশের হাতে একটি এডুকেয়ার কোচিং সেন্টারের মালিকসহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই দু’জনই ছিল বোমা ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। উদ্ধারক বিস্ফোরকগুলো পরীক্ষায় উচ্চমাত্রার বলে ধরা পড়ে। আর তা দিয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা ও গ্রেনেড তৈরি সম্ভব ছিল বলেও গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করে। সূত্র জানায়, বিগত ২০১৫ সালে ঢাকার বনানী ছাত্রশিবিরের বোমা তৈরির কারখানা থেকে ১৩০টি শক্তিশালী তাজা বোমা, পেট্রোলবোমা, গান পাউডার, জিহাদী বই ও চাঁদা প্রদানকারী জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের তালিকা উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার হয়। ওই বছরের জুন মাসে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের হাতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হুজি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ৯ জঙ্গি গ্রেফতার হয়। উদ্ধার হয় উচ্চমাত্রার প্রায় ৬ কেজি বিস্ফোরক, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম, গ্রেফতারকৃতদের তৈরি ৮টি শক্তিশালী হ্যান্ড গ্রেনেড ও ৬টি চকোলেট বোমা, চাপাতি, উগ্র মতবাদ প্রচারের বইপত্র ও সংগঠনের প্রস্তাবিত পতাকা। গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিস্ফোরক তৈরির উপাদান পাচ্ছিল। ওই ঘটনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগার ও বিস্ফোরক বা রাসায়নিক পদার্থ বিক্রির প্রতিষ্ঠানের ওপর কড়া মনিটরিং করার নির্দেশনা জারি করা হয়। তাছাড়া ২০১৫ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ১২শ’ কেজি বিস্ফোরকসহ ৩ জন গ্রেফতার ও ঢাকার শাহ আলীর উত্তর বিশিলের একটি বাড়ি থেকে ৪০ কেজি খুবই উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক, অত্যাধুনিক ম্যাগজিনসহ ১টি এসএমজি (স্মল মেশিন গান), ১টি বিদেশী অটোমেটিক পিস্তল, ১টি তাজা গ্রেনেড, বোমায় ব্যবহৃত ২৫টি টাইমার, তিন ব্যাগ বোমার স্পিøন্টার ও নাইন এমএম পিস্তলের ১৮ রাউন্ড তাজা বুলেট, ৩৬টি গ্রেনেডের খোলস, টাইম বোমায় ব্যবহৃত শতাধিক ঘড়ি, বোমা তৈরির ফর্মুলা, গ্রেনেড তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও প্রচুর জিহাদী বই উদ্ধারের বিষয়টি আলোচিত ঘটনা ছিল। সূত্র আরো জানায়, বিভিন্ন সময় উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলো সাধারণত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যবহার করতে দেখা যায়। ওসব বিস্ফোরক দিয়ে আর্জেস গ্রেনেডের সমশক্তি সম্পন্ন একহাজার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী টাইমার গ্রেনেড তৈরি সম্ভব। উদ্ধারকৃত তিন ধরনের বিস্ফোরকের তৈরি গ্রেনেড সাধারণত পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কান জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া এমন শক্তিশালী বিস্ফোরক সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও আল কায়েদার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন ব্যবহার করে। স্বল্প সময়ে একসঙ্গে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে, গাড়িসহ মানুষজন উড়িয়ে দিতে, বড় ধরনের ভবন গুঁড়িয়ে দিতে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলো এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করে। বিশেষ কাউকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করতে সুইসাইডাল স্কোয়াডের সদস্যদেরও এ জাতীয় বিস্ফোরক দিয়ে তৈরি বোমা ব্যবহার করার নজির রয়েছে। এদিকে বিস্ফোরক পরিদফতরের তথ্য মতে, ঢাকায় আতশবাজি বা এ জাতীয় বিস্ফোরক বিক্রির দোকানের সংখ্যা ৫৯টি। দোকানগুলো কী পরিমাণ স্বল্প ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক আমদানি করে এবং বিক্রি করে তা মনিটরিং করার কথা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী তারা কতো বিস্ফোরক এনেছে এবং বিক্রি করেছে তার ফিরিস্তি দেয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। অন্যদিকে গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, রাসায়নিক পদার্থের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কেমিক্যাল বিক্রির দোকান ছাড়াও ঢাকার কয়েকটি ম্যাচ ফ্যাক্টরি থেকেও নাশকতায় ব্যবহৃত বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থের জোগান আসছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্তের অস্ত্র গোলাবারুদ চোরাকারবারিদের কাছ থেকেও জঙ্গিরা বিস্ফোরক সংগ্রহ করে। ঢাকা থেকে সংগৃহীত বিস্ফোরক দিয়ে তৈরি হচ্ছে হাতবোমা, ককটেল আর হ্যান্ড গ্রেনেড। আর পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারতীয় জঙ্গিদের মাধ্যমে স্থল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসা উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক দিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক তৈরি হয়। বিস্ফোরক তৈরির উপাদান বিক্রি প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম জানান, স্কুল-কলেজ বা কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য রাসায়নিক দ্রব্য কিনতে হলে ওই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত প্যাডে বা ওই প্রতিষ্ঠান প্রধানের সইসহ কাগজ জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। আর জমা দেয়া কাগজপত্র যাচাই বাছাই শেষে রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি বা সরবরাহের নিয়ম। কিন্তু দোকান মালিকরা ওসব যাচাই বাছাই না করেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি করে দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ল্যাব সহকারী নিজেকে প্রাক্তন ছাত্র পরিচয় দিয়ে দোকান থেকে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থ সংগ্রহ করতো। আর গ্রেফতারকৃতরা সবাই আইএসের অনুসারী।

আর প্রেসক্লাবে নয়, যা হবে রাস্তায় – গয়েশ্বর

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, প্রেসক্লাবে বসে বসে আর আলোচনা নয়, এবার যা হবে রাস্তায়। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল রুমে তারেক পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আর প্রেসক্লাবে আলোচনা করার সুযোগ নেই। আমাদের এখন সময় হয়েছে রাজপথে নামার। আদালতের মাধ্যমে নেত্রীর মুক্তি হবে না। এটা বুঝে গেছি। সুতরাং আপনাদের প্রাণের দাবি ও আকাঙক্ষাবোধ যদি তীব্র হয়, যদি খালেদা জিয়ার মুক্তি চান তাহলে আপনারা প্রস্তুত হন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শিগগিরই রাজপথে নামা হবে জানিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা নয়, এখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়। দল ভুল করবে বলে আমি মনে করি না। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের নেতৃবৃন্দ কিংবা দল নিশ্চয়ই বিষয়টা বিবেচনায় রাখবেন। আপনারা প্রস্তুত থাকেন। নেতাদের নির্দেশের অপেক্ষায় না থাকতে কর্মীদের আহ্বান জানিযে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘নেতারা অনেক সময় নির্দেশ দিতে পারেন না। তাই বলে কর্মীদের বসে থাকলে চলবে না। ৭১ সালেও নেতারা নির্দেশ দিতে পারেননি। তখন অখ্যাত একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কেউ প্রশ্ন করেনি তুমি কে এ ঘোষণা দেয়ার। তখন সবাই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছিল। সুতরাং আর প্রেসক্লাবে নয়, যা হবে রাস্তায় হবে।’ তারেক পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সাহেদুল ইসলাম লরেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

জাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চলের পদত্যাগ

ঢাকা অফিস ॥ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আবু সুফিয়ান চঞ্চল পদত্যাগ করেছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক দিন ধরে উত্তপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সেখানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এরই মধ্যে মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। ওই দিনই আবু সুফিয়ান চঞ্চল পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে খবরটি সাংবাদিকরা জানতে পারেন গত বৃহস্পতিবার। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবিব বলেন, মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে চঞ্চল অব্যাহতিপত্র জমা দিয়েছেন। তবে কী কারণ দেখিয়ে তিনি অব্যাহতি চেয়েছেন সে বিষয়ে আমি পুরোপুরি বলতে পারব না। সম্ভবত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ছাত্রলীগকে ঈদ সেলামির নামে অর্থ দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদচ্যুত সাবেক সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে উপাচার্যের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠলে অগাস্টের শেষ দিকে চঞ্চল ক্যাম্পাস ছাড়েন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, চঞ্চল কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে অব্যাহতিপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু তা এখনও গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে চঞ্চলের অব্যাহতি চাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা আগে কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আগে কিছু জানতাম না। সাংবাদিকদের মাধ্যমেই আমি বিষয়টা জানতে পারি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যে নির্দেশনা দেবে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর জুয়েল রানাকে সভাপতি ও সুফিয়ান চঞ্চলকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সে অনুযায়ী প্রায় দুই বছর আগে এই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আবু সুফিয়ান চঞ্চলের যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কুষ্টিয়া শহর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভা

সুজন কর্মকার ॥ আগামী ১২ নভেম্বর কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সম্মেলন। এ উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়া শহর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের করনীয় বিষয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ নভেম্বর শুক্রবার রাত পোনে ৮টায় কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়াস্থ ৪নং প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শহর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া শহর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম বাদল। সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় ছিলেন কুষ্টিয়া শহর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মতিউর রহমান মতি। সভা পরিচালনা করেন ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী মশিউর রহমান সোহেল। এ সময় কমিটির অন্যান্য সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঝিনাইদহে এক প্রতারক আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের স্বাক্ষর জাল করে নাগরিক ও জন্ম সনদ দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যাক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বাসুদেবপুর বাজার থেকে জাহিদুল ইসলাম নামের এক প্রতারককে আটক করা হয়। সে সদর উপজেলার মুরারীদহ গ্রামের মৃত আমির আলী মন্ডলের ছেলে। ঝিনাইদ সদর থানার ওসি মঈন উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে পোড়াহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম হিরনের স্বাক্ষর ও সীল নকল করে মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে জাহিদুল ইসলাম। সে বাসুদেবপুর বাজারের ইলেকট্রিকের দোকানে বসে টাকার বিনিময়ে এই ইউনিয়নের মানুষের ভুয়া নাগরিক ও জন্ম সনদ দিয়ে থাকে। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী প্রতারককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ব্যাপারে প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।

দৌলতপুরে থানার ওসি’র সড়ক আইন বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান সড়ক আইন-২০১৮ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ প্রচার অভিযান চালান তিনি। এসময় মোটরসাইকেল চালক, মাইক্রোবাস চালকসহ বিভিন্ন যানবহনের চালকদের সড়ক আইন মেনে চলার পরামর্শ প্রদানসহ তাদের মাঝে সড়ক আইন-২০১৮ এর লিফলেট বিতরণ করা হয়। প্রচার অভিযান চলাকালে ওসি এস এম আরিফুর রহমানের সাথে উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর থানার অন্যান্য অফিসারবৃন্দ।

বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির কারণে নেতারা দল ছাড়ছেন – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নেতিবাচক রাজনীতির কারণে বিএনপি নেতারা দল ছাড়ছেন। তিনি বলেন, বিএনপির জ্বালাও পোড়াও রাজনীতির কারণে ইতিপূর্বে বিএনপি নেতা এম মোরশেদ খান ও লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান দল ছেড়েছেন। আরও অনেকে দল থেকে পদত্যাগ করবেন বলে নাম শোনা যাচ্ছে। মন্ত্রী গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠানটির ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গণপ্রকৌশল দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, দূর থেকে স্কাইপির মাধ্যমে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করার ফল হচ্ছে গণহারে দল ত্যাগ। বিএনপি নেতা মোর্শেদ খান নিজেই বলেছেন বিএনপি এখন জাতীয়তাবাদী স্কাইপি দলে রূপান্তরিত হয়েছে। এটা আমার বক্তব্য নয়। তাদের নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই তাদের নেতারা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাই, বিরোধী রাজনৈতিক দল আমাদের সমালোচনা করুক। বিএনপি একটি শক্তিশালী বিরোধীদল হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে থাকুক। কিন্তু নেতিবাচক রাজনীতির কারণে তাদের শক্তি ক্রমেই ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। আমরা চাইলেও তারা শক্তি ধরে রাখতে পারছেন না।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশের সরকার অতীতেও শতভাগ নির্ভুল কাজ করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। তাই ভুল হলে অবশ্যই সমালোচনা হবে। কিন্তু যেসব ভালো কাজ হচ্ছে সেগুলোরও প্রশংসা হওয়া প্রয়োজন। সেটি না হলে দেশ এগিয়ে যাবে না। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষা তথা কারিগরি শক্তি বৃদ্ধি হওয়া প্রয়োজন। দক্ষ কারিগরি শক্তি না থাকায় আমাদের দেশে বিদেশীরা কাজ করে মোটা অংকের  বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে যাচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার অভাবে মাস্টার্স পাস ছেলে-মেয়েরা কেরানির চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছে। সে কারণে বেশি করে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সেটি এগিয়ে নিতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সহায়তা করতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে মোবাইল ব্যাংকিং অর্থনীতির বিষয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা প্রশংসা করছেন। পাকিস্তান সরকার আমাদের উন্নয়ন দেখে আক্ষেপ করছে। ভারত সরকার এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেদেশে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করছেন। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আইডিইবির সভাপতি একেএমএ হামিদ এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, এছাড়াও আইডিইবির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমানসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

পঞ্চগড়ে মিনিবাস-অটো সংঘর্ষে ৭ জনের প্রাণহানি

ঢাকা অফিস ॥ পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলায় একটি মিনিবাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এক অটোরিকশার চালকসহ সাতজনের প্রাণ গেছে। জেলার পুলিশ সুপার মো. ইউসুফ আলী জানান, উপজেলার পঞ্চগড়-তেতুলিয়া মহাসড়কের মাগুরমাড়ি চৌরাস্তায় গতকাল শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনায় নিহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। পুলিশ সুপার বলেন, “তেতুলিয়ার ভজনপুর থেকে সদরের জগদলমুখী একটি অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। “এতে আটোরিকশার পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকিদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারাও মারা যান।” নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী চারজন পুরুষ রয়েছে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান। নিহতরা হলেন, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান মাঝিপাড়া এলাকার নবদম্পতি লাবু ইসলাম (২৯) ও মুক্তি বেগম (১৯), সদর উপজেলার সুরিভিটা এলাকার আকবর আলী (৭০) ও তার স্ত্রী নুরিমা বেগম (৫৫), একই উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের চেকরমারি এলাকার ইজিবাইক চালক রফিক (২৮), সাতমেরা ইউনিয়নের রায়পাড়া এলাকার ফরহাদ হোসেন মাকুদ (৪৫) এবং সাহেবজোত এলাকার আকবর আলীর স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৪২)। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলা শহর থেকে কাজী ব্রাদাসের যাত্রীবাহী বাসটি তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। মাগুরমারি এলাকায় একটি ছাগলকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা ইজিবাইকটিকে ধাক্কা দিলে ইজিবাইকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এক পর্যায়ে ইজিবাইকটি বাসের চাকায় পিস্ট হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের মধ্যে থাকা দুই দম্পতিসহ চালক মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য দুইজনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তারাও মারা যান। মহাসড়কে ইজিবাইকের সাত যাত্রীর সকলেই নিহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয় লোকজন। তারা দুই ঘণ্টার বেশি সময় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন এবং বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও যেতে দেয়া হয়নি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপরও চড়াও হন স্থানীয়রা। এ দুর্ঘটনার জন্য হাইওয়ে পুলিশের অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। এ সময় পুলিশের উপর ইটপাটকেল ছুড়েন স্থানীয়রা। তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিক্ষুব্ধদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াও হয়। এদিকে ঘটনার পরপর পুলিশ সুপার ইউসুফ আলী ও জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক।

ভিসিকে রক্ষা করতে দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজদের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গতকাল শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, আপনারা শুনেছেন, মিডনাইট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনবে, তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে, প্রমাণ করতে না পারলে মিথ্যা অভিযোগকারীদেরকে শাস্তি পেতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটা স্পষ্টত যে, প্রধানমন্ত্রীর এই হুমকির কণ্ঠ আইয়ুব-ইয়াহিয়া-হিটলার-মুসোলিনির কণ্ঠের প্রতিধ্বনি। ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছে স্বয়ং ছাত্রলীগ। ভিসি কীভাবে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করেছিলেন তা গণমাধ্যমে বিশদভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ছাত্রলীগের পদচ্যুত সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতারা ভিসি এবং ভিসির পরিবারের বিরুদ্ধে টাকা লেনদেনের যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন সেটিও গণমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রীতিধন্য জাবির ভিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) প্রধানমন্ত্রী ভিসিকে রক্ষা করতে বক্তব্য দিয়ে দুর্নীতির পক্ষে সুষ্পষ্ট সাফাই গাইলেন। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মিডনাইট সরকার দুর্নীতির বহু দৈত্যাকার কেলেঙ্কারিতে নিমজ্জিত। এখন কেউ যাতে তার সরকার ও প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে না পারে সেজন্য তার এই হুমকি ধামকি। যিনি বা যারা অভিযোগ উত্থাপন করবেন, তাদেরকেই যদি দুর্নীতির প্রমাণ হাতে নিয়ে আন্দোলন করতে হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাজ কী, প্রশ্ন রাখেন বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের কাজ কি শুধু বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখা? তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে মৃত্যু জীবনের ছায়াসঙ্গী হয়ে আছে। সদ্যপ্রয়াত বিএনপির নেতা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ না দেয়ায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসায় এই দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। তবে বিশ্ববাসী বেদনার্ত যে, এদেশের বীর সন্তান সাদেক হোসেন খোকা জীবন বাজি রেখে যে দেশটা স্বাধীন করতে বীরোচিত ভূমিকা রেখেছিলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিদেশে মারা যাওয়ার পর তিনি নিজ দেশে ফিরলেন রিফিউজি কিংবা রাষ্ট্রহীন নাগরিকের মতো ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে যারা এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে আছেন তারা সাদেক হোসেন খোকাকে পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ দিতে অস্বীকার করেছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ বিশ্বাস করে এই দেশে এখন শেখ হাসিনার কথা ছাড়া কিছু হয় না। তাই শেখ হাসিনা চাননি বলেই ২০১৭ সালের থেকে চেষ্টা করেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাদেক হোসেন খোকা তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ নবায়নের সুযোগ পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। রিজভী আহমেদ বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবলভাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। আর এবার তার অন্তিম যাত্রায় অসংখ্য মানুষের শোকাহত উপস্থিতি প্রমাণ করে শেখ হাসিনা তার কাছে আরও একবার পরাজিত হয়েছেন। এই সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে স্বাধীনতার স্পিরিটকে ক্রমশ ফিকে করেছে। কিন্তু দেশের মৃত্তিকার সন্তান মরহুম সাদেক হোসেন খোকার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ হয়েছে সরকার চক্রান্ত করলেও জনগণের হৃদয়স্পর্শী আবেগকে স্তব্ধ করে রাখা যায় না। দেশের চলমান শুদ্ধি অভিযানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুদ্ধি অভিযানে উল্লেখ করার মতো গডফাদাররা কেউ গ্রেফতার হয়নি। জনগণের দৃষ্টি আড়াল করতে লোকদেখানো অভিযান চালানো হয়। দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন আজ

ঢাকা অফিস ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন আজ শনিবার। সকাল ১১ টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক লীগের এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বিকেল ৩ টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করা হবে। ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক লীগ’ গঠন করেন। আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম এই সংগঠনের সম্মেলনের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি ও ৯টি উপ-কমিটির নেতারা তাদের কাজ গুছিয়ে এনেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সম্মেলনমঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ ছাড়াও সম্মেলনস্থল ও আশপাশের সড়কগুলোকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সারাদেশে সংগঠনের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা থেকে ৮ হাজার কাউন্সিলর ও সমসংখ্যক ডেলিগেটস সম্মেলনে যোগ দেবেন। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারাসহ কয়েকজন বিদেশি অতিথি এতে উপস্থিত থাকবেন। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই শ্রমিক লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহমুদ সভাপতি এবং জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সরকার দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে – ভিপি নুর

ঢাকা অফিস ॥ সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য পাগল হয়ে গেছে। তাই দেশের মানুষ ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর ক্ষমতা হারানোর ভয়ে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। দেশকে একটি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নোয়াখালী জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল পূর্বে সমাবেশে তিনি একথা বলেন। ডাকসুর ভিপি বলেন, আজকে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাই নয় বরং প্রত্যেকটি ভিন্নমতের মানুষ যারা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে, সরকারের অন্যায়, অনিয়ম, লুটপাট দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে সবাই আজকে নির্যাতনের শিকার, হামলার শিকার, মামলার শিকার। সরকারকে হুঁশিয়ার করে নুর বলেন, এভাবে মানুষকে আর দমন করতে পারবেন না। মানুষ কিন্তু নিজ হাতে অস্ত্র তুলে নেবে। প্রয়োজনে আপনাদের দেশছাড়া করবে। সেজন্য কিন্তু ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ শহীদ রক্তের বিনিময়ে ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করেছিল। সেই দেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্য, গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সুশাসন নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনে আবার নিজ হাতে অস্ত্র তুলে নেবে। তখন কিন্তু দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যাবে। কারণ আপনারা ইতোমধ্যে দেশের প্রত্যেকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছেন। তিনি আরও বলেন, নিজেদের নগ্ন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আজকে কোন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কাজ করতেছে না। বিচার বিভাগ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশে মৃত্যুবরণ করার আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ভিন্নমতের রাজনীতির কারণে তাকে পাসপোর্ট দেয়া হয়নি। নুর বলেন, আজকে মানুষের মনে ক্ষোভ, সেই ক্ষোভ আপনারা বুঝতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন। আপনারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ প্রত্যেকটি আন্দোলনে দেখেছেন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। সেই প্রতিবাদগুলো শুধুমাত্র ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয় আপনাদের যে ব্যর্থতা, আপনাদের যে দুঃশাসন, আপনাদের যে নির্যাতন, নিপীড়ন সে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছিল। আপনারা আজকে যদি সময় থাকতে সংশোধন হোন, না হলে জনগণ কিন্তু আপনাদের বিতাড়িত করতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসবে। আমরা বলে দিতে চাই জনগণ, সাধারণ ছাত্র, শিক্ষক, যেকোনো মানুষের আন্দোলনে ষড়যন্ত্র না খুঁজে যুক্তিকতা দিয়ে বিবেচনা করে আন্দোলনের সমাধানের চেষ্টা করুন। বিক্ষোভ মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, তারেক রহমান, সোহরাপ হোসেন, মোল্লা বিন ইয়ামিন, মো. আতাউল্লাহ প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী কথা রাখেননি- দুদু

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা রাখেননি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বলেছিলেন, উন্নত গণতন্ত্র দেবেন, দশ টাকা সের চাল খাওয়াবেন, ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন, কৃষকদের ফ্রি সার দেবেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা আছে না- কেউ কথা রাখেনি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কথা রাখেননি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং গণতন্ত্রের মুক্তি কোন পথে?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে তারেক পরিষদ। দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুদু বলেন, আন্দোলনের কৌশল ঠিক করতে হবে। রাস্তার আন্দোলন হবে কৌশলগত কারণে। আমরা কীভাবে রাস্তায় নামবো এবং কীভাবে আন্দোলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো এই পথটি আমরা বের করতে পারলেই সরকারের পতন হবে। আজকে বের করতে পারলে কালকেই সরকারের পতন হবে। কালকে বের করতে পারলে পরশুদিন তাদের পতন হবে। তিনি বলেন, আপনি বলবেন একটা সরকার বানাবে আরেকটা। বাক স্বাধীনতা না থাকলে যা হয়। আপনি বলবেন একটা আপনাকে কারাগারে ঢোকানোর জন্য সরকার বানাবে অন্যটা। আমার পাশেই বসে আছেন আমার সহকর্মী তিনি এখন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন। তিনি বললেন, আইন-আদালতের এখন স্বাধীনতা নেই। এটা উনি বলছেন তা নয়, এটা এখন দেশব্যাপী নয় বিশ্বব্যাপী সবাই জানে। সদ্য প্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে যথাযথ সম্মান দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানিয়েছি। বিএনপির নাকি কোনো জনপ্রিয়তা নাই। গতকাল (গত বৃহস্পতিবার) ঢাকা শহর ছিল বিএনপির ঢাকা শহর ছিল বেগম জিয়ার, ঢাকা শহর ছিল সাদেক হোসেন খোকার। সরকার তাকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী এখন জেলখানায়। বাস্তবতা হলো আমাদের নেত্রীকে চিকিৎসার জন্য কোর্টের অর্ডার নিতে হয়। কোর্ট অর্ডার দিলেও সরকার তার চিকিৎসা করছে না। এমন একটি সভ্য জাঁতি আমরা। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য কোর্টের আশ্রয় নিতে হয়। দেশের সকল মানুষ জানে তিনি খারাপ অবস্থায় আছেন। কিন্তু সরকার এবং পিজি হাসপাতালে ডাইরেক্টর বলেন তিনি (খালেদা জিয়া) সুস্থ আছেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাহিদুল ইসলাম লরেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মো. হানিফ, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এ সরকারের পতনের আগে যেন আমার মৃত্যু না হয় – রব

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করি- এ সরকারের পতন হওয়ার আগে যেন আমার মৃত্যু না হয়। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে অবিভক্ত ঢাকার নির্বাচিত মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুতে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। রব বলেন, মানুষের কণ্ঠরোধ করে স্বাধীনতা হরণ করে, বেশিদিন যদি ক্ষমতায় থাকেন আমি কিন্তু বলতেছি না কি হবে। তবে মানুষ যদি রাস্তায় নেমে যায় আপনাদের কিন্তু খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ছাত্রের গুন্ডামির প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে পানিতে ডুবানো হয়েছে, এটা কি? চার মাস থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকা অবস্থায় থেকেই তারা আন্দোলন করছে। একটা ভাইস-চ্যান্সেলর একটা মহিলার যদি লজ্জা না থাকে, যদি আপনি ভুলও না করেন তারপরেও দায়িত্বে থাকেন কিভাবে? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যদি দুর্নীতি খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেবেন। আপনি ব্যবস্থা নিয়েন তার আগে ভিসিকে সরান একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, তারপরে ব্যবস্থা নেন। আসামিকে ক্ষমতায় রেখে কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয় না। কি আশ্চর্য ব্যাপার দেশের প্রধানমন্ত্রী কথা বলছেন উল্টাপাল্টা। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষ যখন রাস্তায় নামবে। কখন যে কি হবে তা বলা যায় না। কখন সে পায়ের তলার মাটি সরে যাবে, বসার চেয়ার সরে যাবে-তা বলা যায় না। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন তা না হলে কি যে হবে চিন্তাও করতে পারবেন না। এ সময় সবাইকে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পতন একমাত্র ওষুধ হলো ঐক্য। মাঠের আন্দোলন ঘরে বসে স্মরণ সভা করে স্বৈরাচারের পতন হয় না। আপনারা যুবসমাজ ছাত্রসমাজ শ্রমিক-কৃষক সবাই মাঠে নামেন আমি এই বয়সেও আপনাদের সঙ্গে মাঠে নামব। আমাদের এই লড়াই চলবে, এই লড়াই বাঁচার লড়াই। রক্ত কত চায়? রক্ত ততই দিব তারপরেও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, কৃষক দলের সদস্য এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি – মালয়েশিয়া

ঢাকা অফিস ॥ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ বিষয়ে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান তিনি। এর আগে গত বুধবার রাজধানী কুয়ালালামপুরের পার্লামেন্ট ভবনে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের এ বৈঠকে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে আলোচনার বিষয়ে বলতে গিয়ে মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনএসটিকে এম কুলাসেগারন জানান, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, তবে শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্বান্ত হয়নি। জানা গেছে, নূন্যতম অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী প্রেরণ, উভয় দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সম্পৃক্ততার পরিধি, মেডিকেল পরীক্ষা এবং সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা ডাটা শেয়ারিং বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় উভয় মন্ত্রী বন্ধ শ্রমবাজার দ্রুততম সময়ে চালুর বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। বিশেষ করে নূন্যতম অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী প্রেরণ এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বিড়ম্বনা নিরসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে বহির্গমনের আগে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এদিকে মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে একমত প্রকাশ করে ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ঢাকায় আসছে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল। রাজধানীতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং সভায় মিলিত হবেন তাঁরা। এদিকে মন্ত্রী ইমরান আহমদের মালয়েশিয়ায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে দালালরা তৎপর হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অনেকে বন্ধ শ্রমবাজার চালু হওয়ার ব্যাপারে গুজব ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নিজেদের দুর্নীতিই সরকারের পতন ডেকে আনবে – মওদুদ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই সরকার তাদের নিজেদের দুর্নীতির কারণেই পতন ডেকে আনবে। তাদের নিজস্ব দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণেই পতন হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার স্মরণে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা ফোরাম এই সভার আয়োজন করে। মওদুদ আহমদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী জাসদ নেতা মঈন উদ্দীন খান বাদল মারা যাওয়ায় তার জন্য জাতীয় সংসদে শোক প্রকাশ করেছেন। ক্ষণিকের জন্যও তিনি সাদেক হোসেন খোকার নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু কেন? এর কারণ কি এটা যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সাদেক হোসেন খোকা আজকের প্রধানমন্ত্রীকে তখন হারিয়ে দিয়েছিলেন? তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একজন সৎ সাহসী নাগরিক ছিলেন। তার কথা কি তার (প্রধানমন্ত্রী) মনে আসে নাই? আমরা তো মনে করি, প্রধানমন্ত্রী একজন বিরাট মনের মানুষ। তার উচিত ছিল সর্বপ্রথম খোকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখা। মওদুদ বলেন, সাদেক হোসেন খোকা একজন সাহসী, সৎ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাংলাদেশকে ভালোবাসতেন, দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন। তার অবদান এ দেশের মানুষ কখনও ভুলবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তাকে যে সম্মান দেখানো উচিত ছিল, সে সম্মান আমরা দেখাতে পারিনি। মওদুদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের অনেকের মধ্যে একটা শঙ্কা ও ভয়ভীতি আছে। আমরা রাস্তায় নামছি না বা নামতে পারছি না। আর সে কারণে হয়তো এই সরকারের পতন হবে না। কিন্তু আমি হতাশ নই। আমাদের অতীত বলছে, যেভাবে আন্দোলন করে একটা সরকারকে পতন ঘটাতে হয়, সেই ধরনের আন্দোলন সব সময় হয় না। আমি মনে করি, বর্তমান সরকার নিজেদের দুর্নীতির কারণেই তাদের পতন ডেকে আনবে। দুর্নীতির যে শেকড় সেগুলো তারা তৈরি করেছে। এই খালেদ মাহমুদ ও জি কে শামীমের বিচার করে দুর্নীতি দমন হবে না। শোভন-রাব্বানীর তো বিচারই হচ্ছে না। আপনারা মনে করছেন, হাতেগোনা কয়েকজনের বিচার করে আপনারা পার পেয়ে যাবেন। এটা কিন্তু যথেষ্ট নয়। দেশের মানুষ জানে দেশে কোনও প্রকার বিচার নেই। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দলীয় শাসন চালাচ্ছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২১ মাস ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি চিরদিন বন্দি থাকবেন না। আমরা খালেদা জিয়াকে যে কোনও সময় মুক্ত করে আনবো। যে কোনও সময় ছোট্টো একটি ঘটনায় সরকারের পতন ডেকে আনতে পারে। এরআগে বেশ কয়েকটি উদাহরণ আমরা দেখেছি। মওদুদ বলেন, আজ সরকার বলছে, খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন। কিন্তু আমরা বলছি, তিনি অসুস্থ। আমরা খালেদা জিয়াকে দেখতে যেতে চাই, আসলে তিনি কি অসুস্থ না সুস্থ। আমরা সরকারের কথায় আস্থা রাখতে পারছি না। আয়োজক সংঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

চুনোপুঁটি ধরে সরকার তাদের দুর্নীতি আড়াল করতে চায় – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ ‘সরকারে যারা আছেন তারা ৭ নভেম্বরকে স্বীকার করেন না’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তারা স্বীকার করবে কেন? তারা তো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করেন না।’ ‘যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বোভৌমত্বে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেখতে চায়, তারা অবশ্যই ৭ নভেম্বর-কে বিশ্বাস করে এবং মনে ধারণ করে।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে মহানগর নাট্যমঞ্চে ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘চুনোপুঁটি ধরে আর ক্যাসিনো গল্প সাজিয়ে সরকার তাদের দুর্নীতি আড়াল করতে চায়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘সরকার নিজেদের দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে নিয়ে গেছে ফলে তাদের চুনোপুঁটিগুলোকে ধরতে হচ্ছে। একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ চুনোপুঁটি ধরে আর ক্যাসিনো গল্প সাজিয়ে মূল দুর্নীতি থেকে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) জনগণের দৃষ্টি আড়াল করতে পারবেন না।’ ‘ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছেন, এর হিসাব কোথায়? শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়েছেন, তার হিসাব কোথায়? তার হিসাব থাকবে না এ কারণেই যে, তার কেউ আপনাদের মন্ত্রী, কেউ আপনাদের উপদেষ্টা, আবার কেউ আপনাদের আপনজন।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতকাল সারাদিন সাদেক হোসেন খোকার বিভিন্ন জানাজা ছাড়া আর কোনো খবর ছিল না। আজ আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোকে লক্ষ্য করবেন, এটাকে বেশির ভাগ পত্রিকা ভেতরের ও পেছনের পেজে দিয়েছে। আমি জানি মিডিয়াগুলোকে প্রশ্ন করলে তারা বলবে, আমাদের করার কিছু নেই। আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ নির্দেশে করছে আবার কেউ স্বপ্রণোদিতভাবে করেছে, কারণ এটা ছাপলে হয়তো বা তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যারা কথা বলেন তাদের টেলিভিশনে ডাকা হয়না, যারা লেখেন তারা ঘর থেকে বের হতে পারেন না। ‘এ সরকার একটি একনায়তান্ত্রিক সরকার, এ সরকার একটি ফ্যাসিস্ট সরকার’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এর থেকে মুক্তি পেতে হবেই। মুক্তির কোনো বিকল্প নেই।’ ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে হলে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে, আমার অধিকারগুলোকে ছিনিয়ে আনতে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, রাস্তায় নামতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই বন্ধুগণ।’ ফখরুল বলেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে এককভাবে পরাজিত করা যায় না। সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হয় এবং আমরা সেই পথেই যাচ্ছি। আমরা মনে করি, সমস্ত দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে এ একনায়তান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হব। প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

 

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

মোংলা-পায়রায় ৭, চট্টগ্রামে ৬, নম্বর বিপদ সংকেত

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বাংলাদেশ উপকূলের ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যাওয়ায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। তবে কক্সবাজারে ৪ নম্বর সংকেত অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ২২টি মন্ত্রলণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে যে কোনো সময়ে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ সময় সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা পাঁচ থেকে সাত ফুট পর্যন্ত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আপাতত এর গতিমুখ সুন্দরবনের দিকে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে সাতটি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ভোলা। আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় এ ঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।