শিক্ষকদের ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেবে ব্রিটিশ কাউন্সিল

ঢাকা  অফিস ॥ দেশে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুইজন করে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি শিক্ষার প্রশিক্ষণ দিতে ৪৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার সচিবালয়ে ক্রয় কমিটির সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে ‘সিস্টেমেটিক ইংলিশ টিচিং ফর প্রাইমারি টিচার’ প্রকল্পের আওতায় ব্রিটিশ কাউন্সিল এই প্রশিক্ষণ দেবে। এর আনুষ্ঠানিক নাম হবে ‘ট্রেইনিং ফর দা মাস্টার ট্রেইনার ইন ইংলিশ (টিএমটিই)’। বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে অঞ্চল ভিত্তিক দেশের ১৫টি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) এক হাজার ৯৮০ জন মাস্টার ট্রেইনারকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুল গঠন করা হবে। মাস্টার ট্রেইনাররা পরে বাকি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ দেবেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শিক্ষায় অগ্রগতি হবে আশা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ইংরেজি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এ কাজ করা হচ্ছে। এরপর গণিতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।” ২০২৩ সালের জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

বিএনপি ছাড়লেন মোরশেদ খান

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রোববার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মোরশেদ খান বলেন, “ব্যক্তিগত কারণে আমি পদত্যাগ করেছি। অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে করে আমার উপলব্ধি হয়েছে- এই দলে আমার আর কনট্রিবিউশন করার কিছু নেই। সেজন্য পদত্যাগ করেছি।” তিনি বলেন, গত রাতে তার একান্ত সহকারী নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেন। বিষয়টি রিজভী স্বীকার না করলেও বিএনপির দপ্তরের এক কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও এলাকা ও পাশের বোয়ালখালী উপজেলা) আসন থেকে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের (২০০১-০৬) পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন মোরশেদ খান। সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পলাতক থাকা অবস্থায় অবৈধ সম্পত্তি অর্জন ও সম্পত্তির তথ্য গোপনের মামলায় তার ১৩ বছরের কারাদন্ড হলেও পরে অন্য অনেক রাজনীতিবিদের মতোই উচ্চ আদালতে তার সাজা বাতিল হয়ে যায়। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের জোট শরিক জাসদ নেতা মইন উদ্দিন খান বাদলের কাছে পরাজিত হন মোরশেদ খান। এরপর অসুস্থ থাকায় দলীয় কর্মসূচিতে তাকে তেমন একটা দেখা যায়নি। দীর্ঘ ১০ বছর পর গতবছর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলেও বিএনপি তাকে বাদ দিয়ে আবু সুফিয়ানকে মনোনয়ন দেন। মনোনয়ন ও দল পুনর্গঠন নিয়ে ক্ষুব্ধ মোরশেদ খান তখন থেকে একরকম দলবিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন। তার পদত্যাগের ফলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের সংখ্যা এখন ৩১। এর আগে মোসাদ্দেক হোসেন ফালু ও ইনাম আহমেদ চৌধুরী পদত্যাগ করেন। সম্প্রতি ইনাম আহমেদ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। সিটিসেলের নামে এবি ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় চলতি বছর ১০ জুন মোরশেদ খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিএনপি নেতা মোরশেদ খান একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের অন্যতম মালিক ও এবি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকদের মধ্যে একজন ছিলেন। দেনার দায়ে ২০১৬ সালে সিটিসেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরের বছর মোরশেদ খান, তার স্ত্রী নাছরিন খান ও সিটিসেলের এমডি মেহবুব চৌধুরীসহ ১৬ জনকে আসামি করে দুদক ওই মামলা করে।

আইলচারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে জাতীয় সংগীত বাঁজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডঃ আ.স.ম আক্তারুজ্জামান মাসুম ৷

আইলচারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক  চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেনের সভাপতিত্বে দীর্ঘ ৭ বছর পর গতকাল বুধবার বিকেলে আইলচারা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী ৷

তিনি বলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের কুষ্টিয়া উন্নয়নের রুপকার জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ ভাইয়ের হাতকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের সকল দ্বন্দ্ব-ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ রেখে মিলেমিশে উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে ৷

তিনি আরও বলেন সন্ত্রাস, লুটপাটকারী, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী টেন্ডারবাজ, দখলদার, অনুপ্রবেশকারী ও রাজাকার বংশধরদের আওয়ামী লীগে কোন স্থান হবেনা ৷

আইলচারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক খাকছার হোসেন জোয়ার্দ্দার এর পরিচালনায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও জাকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা ৷

তিনি বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল  দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সারাদেশে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান কঠোরভাবে মোকাবেলা করছেন । তিনি পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন এই দেশ হবে ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত৷ তিনি আরও বলেন আপনারা কমিটিতে পদ-পদবী পেয়ে তৃণমুলের নেতাদের সাথে ও ইউনিয়নের নিরীহ গ্রামবাসীর মাঝে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোন অপশক্তি প্রয়োগ করে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবেন না ৷

আইলচারা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমানের সঞ্চালনে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বিশ্বাস, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মানিক, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাযহারুল আলম সুমন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. জিহাদুল ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডাঃ গোলাম মওলা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেবুন নেছা সবুজ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ শামস তানিম মুক্তি, জেলা  স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ ৷

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক সভাপতি সাইফুদ্দৌলা তরুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক জাকির হোসেন, উপজেলা আ’লীগের সদস্য ও  গোস্বামী দূর্গাপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা জাফর উল্লাহ, পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি  চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন, ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ঠান্টু, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মজিদ মেম্বর, আইলচারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহিনুল ইসলাম ধনী, সাধারণ সম্পাদক আল কামাল জোয়ার্দ্দারসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ,  স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ৷

প্রথম অধিবেশন শেষে আইলচারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং ১৩টি প্রার্থী লিষ্ট জমা হওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমিটি ঘোষণা ছাড়াই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ করা হয়৷ এ সময় উপস্থিত নেতারা বলেন, এই কমিটির বিষয়টি উপর মহলের নেতাদের সাথে কথা বলে খুব শিঘ্রই কমিটি ঘোষণা করা হবে ৷

হযরত বাবা নফর শাহ্ বুগদাদী (রঃ) মাজার শরীফে

কৃষকলীগের সভাপতি সমীর চন্দ ও সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি

ঢাকা অফিস ॥ সমীর চন্দকে সভাপতি এবং উম্মে কুলসুম স্মৃতিকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩ বছরের জন্য কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, মক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষক লীগের দশম জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সর্ব ভারতীয় কৃষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক অতুল কুমার বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন এডভোকেট শামসুল হক রেজা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ। সম্মেলনের শুরুতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির কার্যক্রমে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন ১৫ আগস্টে শহীদ কৃষক নেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত। কৃষক লীগের নবম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই।

পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন

নিজ সংবাদ ॥ পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে, ১০ নভেম্বর রবিবার বাদ এশা কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়াস্থ হযরত বাবা নফর শাহ্ বুগদাদী (রঃ) মাজার শরীফে মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও হযরত বাবা নফর শাহ (রঃ) মাজার এর ভক্তবৃন্দ ও আসেকানগণকে শরীক হয়ে অশেস নেকী হাসিল করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, হযরত বাবা নফর শাহ (রঃ) মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক।

কর্তৃপক্ষের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ইবিতে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন 

অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও  উৎসবমুখর পরিবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান/ইঞ্জিনিয়ারিং/ফার্ম) শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল ৬ নভেম্বর শেষ দিনে ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ‘ডি’ ইউনিটভুক্ত বিজ্ঞান অনুষদ, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ ও জীব বিজ্ঞান অনুষদে মোট ৫৫০ আসনের বিপরীতে ২৩ হাজার ১৫২টি আবেদন জমা পড়ে। প্রতি আসনের জন্য প্রায় ৪২ জন ভর্তিচ্ছু আজ অনুষ্ঠিত ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। কর্তৃপক্ষের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ ও কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের কারণে এবারের ভর্তি পরীক্ষা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্রটিমুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডির সার্বক্ষণিক তৎপরতা, ভ্রাম্যমান আদালত, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটস-এর সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারির কারণে এবারের ভর্তি পরীক্ষা নির্বিঘেœ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশ্নফাঁস, প্রক্সি ও জালিয়াতির মতো কোন ঘটনা ঘটেনি।  মোট ২ হাজার ৩০৫ আসনের জন্য এবার আবেদন করে ৬১ হাজার ৯৪২ শিক্ষার্থী। প্রায় শতভাগ আবেদনকারী পরীক্ষায় অংশ নেয়। দেশের দূর-দূরান্তের জেলাগুলো থেকে ব্যাপক সংখ্যক পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি এবারও ছিল লক্ষ্যণীয়। পরীক্ষা-ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার জন্য ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী আজও বিভিন্ন পরীক্ষা হল পরিদর্শন করেন। এসময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আ. ফ. ম. আকবর হোসাইন, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সরওয়ার মুর্শেদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাসিম বানু, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. রেবা মন্ডল, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এস. এম. মোস্তফা কামাল, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মমতাজুল ইসলাম, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মহাঃ আনোয়ারুল হক, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ নওয়াব আলী খান প্রমুখ তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত হবে। নতুন ভর্তিকৃতদের ক্লাস শুরু হবে আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় মুক্তিপণ দাবিতে শিশু অপহরণ দায়ে তিনজনের এবং পৃথক প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষন মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় সদর থানার শিশু অপহরণ মামলায় তিনজনের এবং খোকসা থানার পৃথক ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার  বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সী মো: মশিয়ার রহমান জনাকীর্ণ আদালতে ধর্ষন মামলার আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন। এসময় শিশু অপহরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামী পলাতক ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন। শিশু অপহরণ মামলায় যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামীরা হলেন- দৌলতপুর উপজেলার বাহিরমাদী চর এলাকার মৃত সাদেক আলী শেখের দুই ছেলে আজাদ শেখ ও সিরাজুল ইসলাম এবং বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার কামলা গ্রামের মৃত আশরাফ আলী শিকদারের ছেলে রুবেল শিকদার। এদের প্রত্যেকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ এক লক্ষ টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পৃথক খোকসা থানার প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষন মামলায় যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত হলেন-উপজেলার রাজিনাথপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩০) কে যাবজ্জীবনসহ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা আদেশ আদালতের। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল বিকাল ৪টায় আজাদ শেখ, সিরাজুল ইসলাম ও সাইফুল সদর উপজেলার খাজানগরে কুরবান আলীর বাড়িতে বেড়াতে এসে তার মেয়ে ৩ বছরের কন্যাশিশু সুমাইয়াকে অপহরণ পূর্বক ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে ওই শিশুকন্যার পরিবারের কাছে। এ ঘটনায় সুমাইয়ার পিতা কুরবান আলী বাদি হয়ে আজাদ শেখ ও সিরাজুল ইসলাম এবং সাইফুলের নামে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দ:বি: ৭ ধারায় আজাদ শেখ, সিরাজুল ইসলাম এবং রুবেল শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন পুলিশ। এছাড়া ২০১৭ সালের ০১ আগষ্ট বিকাল সাড়ে ৪টায় আসামী আরিফুল প্রতিবেশী ১৬ বছরের এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ঘরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধীর চাচা মো: আবুল কালাম বাদি হয়ে আরিফুল ইসলামের নামে খোকসা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন পুলিশ। আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) সরকারী কৌশুলী এ্যাড. সাইফুল ইসলাম বাপ্পী জানান, কুষ্টিয়া মডেল থানার অপহরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামী পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন। বিজ্ঞ আদালতের রায়ের অপহরণ মামলার ১, ২ ও ৩ নং আসামী যাবজ্জীবনের সাথে একলক্ষ অনাদায়ে আরও ১বছর সাজা। পৃথক খোকসা থানার ধর্ষণ মামলায় আসামী আরিফুল ইসলামের যাবজ্জীবনসহ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা আদেশ আদালতের।

 

কৃষকলীগের কাউন্সিল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ কৃষকলীগের ১০ম জাতীয় কাউন্সিল উদ্বোধন করেছেন। সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কাউন্সিল উদ্বোধন করেন। পরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইবি) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে কৃষকলীগ নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল “কৃষক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও” এই শ্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ কৃষকলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাদ ছিলেন কৃষকলীগের প্রথম সভাপতি। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের অন্যতম শহীদ। কৃষকলীগের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। কাউন্সিলের মাধ্যমে মোতাহার হোসেন মোল্লাকে সভাপতি এবং সামসুল হক রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১১ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে।

 

একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশন শুরু আজ

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশন আজ ৭ নভেম্বর বৃস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টায় শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৬ অক্টোবর এ অধিবেশন আহ্বান করেন। সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয় এটি হবে সংক্ষিপ্ত অধিবেশন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে এ অধিবেশন আহবান করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ি জাতীয় সংসদের এক অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হবে। ফলে এ অধিবেশন ৫ থেকে ৭ কার্যদিবস পর্যন্ত চলতে পারে। তবে আজ বিকেল সোয়া ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ অধিবেশনের কার্যকাল এবং কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে । এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। এটি ছিল সংসদের সবচেয়ে স্বল্পকালীন ৪ কার্যদিবসের অধিবেশন। এর আগে সবচেয়ে স্বল্পকালীন অধিবেশন ছিল ৫ কার্যদিবসের। স্বল্পকালীন ওই অধিবেশনে মোট ৫টি বিল উত্থাপন করা হয়। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা হয়।

 

কৃষকলীগের ১০ জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নে যাব, কিন্তু কৃষিকে বাদ দিয়ে নয়

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের উন্নয়ন এখনও অনেকাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবাদী জমির ক্ষতিসাধন করে যত্রতত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে না তোলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নে যাব। কিন্তু কৃষিকে বাদ দিয়ে নয়। কেননা, আমাদের দেশের উন্নয়ন এখনও অনেকাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।’ তিনি বলেন, ‘তিন ফসলী জমিতেতো ইন্ডাস্ট্রি করতেই পারবে না। আর যদি এক ফসলী জমি, যেখানে চাষ হয় না সেখানে হবে। তবে, যত্রতত্র করতে পারবে না।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ কৃষকলীগের ১০ জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তাঁর সরকারের একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটার অর্থ হলো আমাদের কোন কৃষি জমি যাতে নষ্ট না হয়। যেখানে সেখানে যত্রতত্র এটা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে, এটা কেউ করতে পারবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা শিল্প প্রতিষ্ঠান করতে চায় তাঁদেরকে ঐ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং সব ধরনের সার্ভিস সেখানে দেওয়া হবে। কাজেই তাঁরা সেখানে শিল্প গড়ে তুলবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃষি জমি বাঁচাতে হবে। কারণ, ১৬ কোটির ওপর মানুষকে আমাদের খাবার দিতে হবে। অবশ্য আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করায় এখন পুষ্টির দিকে নজর দিয়েছি। ডিম, মাংস, মিঠা পানির মাছ, তরিতরকারি এবং ধান উৎপাদনে তাঁর সরকারের সাফল্যও এ সময় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সরকারের ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ কর্মসূচির উল্লেখ করে যার যার বাড়িকে তার তার খামারে পরিণত করার আহবান জানান শেখ হাসিনা । তিনি বলেন, ‘কেউ বসে থাকবে কেন, সবাই কাজ করবে। যে যেভাবে উৎপাদন করতে চায়, যা উৎপাদন করতে চায়। আমরা সেই সুযোগটা দেব এক টুকরো জমিও অনাবাদী থাকবে না।’ ‘অনাচে, কানাচে, ঘরের পাশে, জলা, ডোবা যাই থাকুক এমনকি ছাদের ওপরে পর্যন্ত যেন চাষ হয় এবং ফসল উৎপাদন হয় এবং কৃষকরা ভিটেবাড়িতেও যেন ফসল উৎপাদন করতে পারে সেজন্য আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পটি আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি’, যোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁর সরকারের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক করে দেওয়ায় তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী উৎপাদিত পণ্য সমবায়ের মাধ্যমে বাজারজাতকরণের উদ্যোগর উল্লেখ করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। অন্যান্যের মধ্যে-বাংলাদেশ কৃষক লীগ সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল হক রেজা এবং সহ-সভাপতি শরিফ আশরাফ হোসেন বক্তৃতা করেন। কৃষকলীগের যুগ্ম সম্পাদক সমির চন্দ্রের সঞ্চালনায় সর্ব ভারতীয় কিষাণ সভা’র সাধারণ সম্পাদক অতুল কুমার অঞ্জন ও বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। আলোচনা পর্বের আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, চার জাতীয় নেতা, স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল গণআন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাঁর সরকার গবেষণার জন্য বাজেট বরাদ্দসহ গবেষণায় অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ফসল বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে ১০৮ ধরনের উচ্চফলনশীল ধানের জাত আবিষ্কার করেছি। লবণাক্ততা সহিষ্ণু, ক্ষরা সহিষ্ণু এবং বন্যার পানি সহিষ্ণু ধান এবং কৃষিকে যান্ত্রিকিকরণের অংশ হিসেবে ৪৪২ ধরনের কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছি।’ তিনি আক্ষেপ করেন, একটু সমস্যা রয়েছে, আমাদের যারা লেখাপড়া শেখে তাদের মধ্যে অনেকেই কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও লেখাপড়া শিখে আর মাঠে যেতে চায় না।

তিনি বলেন, যে বাবা কৃষি কাজ করে তাঁকে লেখাপড়া শিখিয়েছে তখন সেই বাবারই ছেলেকে নিয়ে মাঠে যাওয়া উচিত। অথচ দুই পাতা লেখাপড়া শিখেই তারা মনে করে আমি কেন মাঠে যাব। আমার মনে হয়, ঐ ছেলেটা থেকে আমাদের দূরে থাকার দরকার।

প্রধানমন্ত্রী এবার ধানকাটার মওসুমে ছাত্রলীগকে মাঠে গিয়ে ধান কাটার কাজে কৃষকদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে বলেন, ‘এতে লজ্জার কিছু নেই। নিজের কাজ নিজে করায় লজ্জার কিছু থাকে না।’ ‘নিজের ফসল নিজে উৎপাদন করবো। নিজের খাবার নিজে খাব। এতে লজ্জার কি আছে,’ বলেন তিনি।  শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমিও আমার (গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার) কৃষকদের বলে দিয়েছি তোমরা যখন বীজ রোপণ করবা আমাকে খবর দিও প্রয়োজনে আমিও যাব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই জায়গাটায় আমাদের কৃষকলীগের একটা ভূমিকা থাকা দরকার এবং আমি মনে করি, আমাদের স্কুল জীবন থেকেই এটা অভ্যাস থাকা দরকার। কেননা, জমি চাষ করা, নিজের ফসল নিজে ঘরে তোলাটা একটা গর্বের বিষয়। এটাকে সেভাবেই দেখতে হবে এবং মর্যাদা দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কৃষি কাজকে মর্যাদা না দিলে পেটের ভাত বা খাবার আসবে কোথা থেকে। সেকথাটাও ভাবতে হবে।’ সরকারের উদ্যোগে মৎস, চিংড়ি, ভুট্টা এবং বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এজন্য এখন বারো মাসই সকল প্রকার সবজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। যা অতীতে কেবল শীতকালেই পাওয়া যেত। দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার এবং ইন্টারনেট সেবাকে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর সরকার ডিজিটাল কৃষির প্রবর্তণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাড়ে ৩ হাজার ইউনিয়নে আমরা পৌঁছে গেছি এবং ইনশাল্লাহ অচিরেই আমাদের সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়নেও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে যাবে।’ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাই-১ উৎক্ষেপণ, ই-কৃষি চালু, কৃষকদের জন্য কল সেন্টার চালু, ৪৯৯টি কৃষি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং সারাদেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর সরকারের মোবাইল ফোনকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক স্বল্পমূল্যে কৃষকরা মোবাইল ফোন ক্রয় করে সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা নিতে পারছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। বিএনপি সরকারের সময়ে ন্যায্যমূল্যের সারের দাবিতে আন্দোলররত ১৮ জন কৃষককে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি’র আমলে ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হলো। তাঁদের অপরাধ তাঁরা চাষ করতে পারছে না, তাই, সার চাইছে। আর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই তাঁর প্রথম মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সারের দাম কমালো। মোট চার দফা দাম কমিয়েছিল আওয়ামী লীগ।’ ‘কেননা আমরা সারে ভতুর্কি দিচ্ছি। উচ্চমূল্যে সার কিনে নি¤œমূল্যে তা কৃষকের কাছে সরবরাহ করছি, ’যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ’৭৫ এর জাতির পিতাকে হত্যার পর শুধু দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারই হরণ করা হয় নাই বেঁচে থাকার সব অধিকার একে একে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’ কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বীজ সরবরাহের জন্য বঙ্গবন্ধুর চালু করে যাওয়া ‘বিএডিসি’কে অলাভজনক দেখিয়ে বিএনপি সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপি’র কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সব সময় লাভ- লোকসান দেখলে চলে না, কোনটা আমার দেশের মানুষের জন্য প্রযোজ্য। কোনটাতে দেশের মানুষ বেশি উপকার পাবে সেটাই আমাদের দেখতে হবে। যে কারণে ’২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ কৃষিকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করেছিল।’ সরকার প্রধান বলেন, বর্গাচাষিদের জন্য কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বিনা জামানতে, স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ প্রদান চালু করে তাঁর সরকার এবং যার ফল স্বরূপ কৃষির সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তাঁর দল ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আবার ২০০১ সালে যখন ক্ষমতা ছেড়ে যায় তখন ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা আসলে একটা নীতির বিষয়। বিএনপি কখনও চাইতো না বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক। কারণ, তাহলে নাকি বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ দেশকে পরনির্ভরশীল করে রাখাই ছিল বিএনপি’র নীতি। ’৯৬ পরবর্তী সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত বক্তব্য- ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভাল নয়, তাহলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে না’র উদ্ধৃতি উদাহারণ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যে কারণে ২০০৫ সালে বিএনপি সরকার পূণরায় ক্ষমতা ছাড়ার সময় দেশকে আবারো খাদ্য ঘাটতির দেশ বানিয়ে দিয়ে যায়। কিন্তু আমরা তখন বললাম জাতির পিতা বলেছিলেন, ভিক্ষুক জাতির কোন ইজ্জত থাকে না। কাজেই আমরা ভিক্ষুক জাতি হতে চাই না। আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হব এবং নিজের পায়ে দাঁড়াবো।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতার বিখ্যাত উক্তি ‘আমার মাটি আছে, মানুষ আছে, সুতরাং এই মাটি ও মানুষ দিয়েই এদেশকে গড়ে তুলবো’ উল্লেখ করে বলেন, যে কারণে বাংলাদেশ আজ কেবল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, উদ্বৃত্ত খাদ্যেরও দেশ।’ তাঁর সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৫ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রেসক্রিপশন অগ্রাহ্য করেও কৃষি ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। অথচ যে প্রেসক্রিপশন মেনে নিয়েছিল বিএনপি। তিনি বলেন, তাঁর সরকার ২০১৯-২০ সালের বাজেটে কৃষি খাতের জন্য ১৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, কৃষি প্রণোদনা এবং পুণর্বাসন চালুর অংশ হিসেবে এক হাজার ২৭ কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। যার মাধ্যমে ৭৯ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৬ জন কৃষক উপকৃত হচ্ছে। তাছাড়া, ২ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের ১০ টাকা মূল্যে ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছে তাঁর সরকার, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকির টাকা কৃষকদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রায় এক কোটির ওপর কৃষকদের এই ব্যাংক একাউন্ট খোলারও তথ্য দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। আমাদের প্রবৃদ্ধি আজ ৮ দশমিক ১৩। এর পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান কৃষকের। তিনি বলেন, হাওর এলাকার কৃষকরা অকাল বন্যায় প্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার কৃষকরাও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। তাদের জন্য কোনো বীমা ব্যবস্থা চালু করা যায় কি-না সেটাও আমাদের সরকার ভাবছে। বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে। এ অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। দেশে কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষকলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই।

হিয়ুং-মিনের লাল কার্ড বাতিল করল এফএ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আন্দ্রে গোমেসকে ফাউল করে সন হিয়ুং-মিনের পাওয়া লাল কার্ড বাতিল করেছে ফুটবল এসোসিয়েশন (এফএ)। এর ফলে টটেনহ্যাম ফরোয়ার্ডের তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও বাতিল হয়েছে। টটেনহ্যামের আপিলের ভিত্তিতে সংস্থাটির স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত রোববার গুডিসন পার্কে ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে হিয়ুং-মিনের ফাউলের পর বেকায়দায় পড়ে গিয়ে ডান পায়ে গুরুতর আঘাত পান গোমেস। অস্ত্রোপচারের পর মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এভারটনের এই মিডফিল্ডার। বল দখলে নিতে গিয়ে ফাউলটি করেছিলেন হিয়ুং-মিন। গোমেসের চোটের ভয়াবহতা অনুধাবন করে এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার এই ফরোয়ার্ডকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি মার্টিন অ্যাটকিনসন, পরে দেখান লাল কার্ড। গোমেসের চোটে হিয়ুং-মিনের ফাউলের ভূমিকা নেই দাবি করে এরপর রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে টটেনহ্যাম। ম্যাচের ভিডিও পর্যালোচনা করার পর এই আপিলের পক্ষেই রায় দিল ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। “ভুল সিদ্ধান্তে নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার দাবি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশন সমর্থন করায় টটেনহ্যামের পরবর্তী তিন ম্যাচে সন হিয়ুং-মিন খেলতে পারবে।” প্রিমিয়ার লিগে টটেনহামের পরবর্তী তিন ম্যাচের প্রতিপক্ষ শেফিল্ড ইউনাইটেড, ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড ও বোর্নমাউথ।

অস্ত্রোপচার প্রয়োজন লেভানদোভস্কির

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কুঁচকির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার রবের্ত লেভানদোভস্কির। তবে তা কবে করানো হবে, সে ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি এই পোলিশ তারকা। জার্মান স্পোর্টস ম্যাগাজিন কিকার জানিয়েছে, আগামী আন্তর্জাতিক বিরতির সময়ই অস্ত্রোপচার করাতে পারেন লেভানদোভস্কি। দলের গুরুত্বপূর্ণ এই ফুটবলারের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন বায়ার্নের অর্ন্তবতীকালীন কোচ হানসি ফ্লিক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে অলিম্পিয়াকোসের মুখোমুখি হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। এর আগে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই খবরটা সংবাদমাধ্যমে পড়ে আমরা কিছুটা অবাক হয়েছি, তবে এটা সত্যি। তার একটু সমস্যা আছে, তবে ব্যথা নেই।” “কোনো না কোনো সময়ে তাকে অস্ত্রোপচার করাতেই হবে। তবে সে আমাদের মেডিকেল স্টাফদের সঙ্গে কথা বলবে এটা তার সিদ্ধান্ত এবং আমরা সেটাকে সম্মান জানাব। কারণ সে আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একজন ফুটবলার।” কিকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার সফল হলে লেভানদোভস্কির সেরে উঠতে ১০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী শনিবার বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে লিগ ম্যাচ খেলার পরই অস্ত্রোপচার করানো হতে পারে এই স্ট্রাইকারের। ইউরো বাছাইয়ের ম্যাচে আগামী ১৭ নভেম্বর ইসরায়েলের মুখোমুখি হবে পোল্যান্ড। তবে দল ইতিমধ্যেই ইউরোর টিকেট নিশ্চিত করে ফেলায় সেই ম্যাচে লেভানদোভস্কির না খেলার সম্ভাবনাই বেশি। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে বুন্ডেসলিগায় বায়ার্নের পরবর্তী ম্যাচ ২৩ নভেম্বর, ফরচুনার বিপক্ষে। সেই ম্যাচের আগেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন ৩১ বছর বয়সী ফুটবলার।

চলতি মৌসুমে দারুণ ফর্মে আছেন লেভানদোভস্কি। এখন পর্যন্ত এবারের বুন্ডেসলিগায় ১০ ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ ১৪ গোল করেছেন তিনি। আর বায়ার্নের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলে করেছেন ১৬ ম্যাচে ২০ গোল।

সমর্থকদের ধৈর্য্য ধরতে বললেন পিকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কাম্প নউয়ে স্লাভিয়া প্রাহার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর নিজেদের দর্শকদের ক্ষোভের মুখে পড়েছে বার্সেলোনা দল। মাঠ ছাড়ার সময় শুনতে হয়েছে দুয়োধ্বনি। এমন অবস্থায় দলের তারকা ডিফেন্ডার জেরার্দ পিকে সমর্থকদের ধৈর্য্য ধরতে আহবান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে বার্সেলোনা। স্লাভিয়া প্রাহার মাঠ থেকে কোনোমতে জিতে এসে ঘরের মাঠে হারায় পয়েন্ট। এর ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলে টানা দুই ম্যাচ জয়শূন্য রইলো এরনেস্তো ভালভেরদের দল। গত শনিবার লা লিগায় লেভান্তের মাঠে তারা হেরেছিল ৩-১ ব্যবধানে। দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে দর্শক-সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক বলেই মানছেন পিকে। তবে একইসাথে তাদেরকে ধৈর্য্যশীল হবার অনুরোধ করেছেন তিনি। “আমি (তাদেরকে) কিছুটা ধৈর্য্য ধরতে বলবো। আমি জানি, তাদের প্রত্যাশা অনেক। এটা আমরা বুঝি। তবে আমরাও একটা সমাধান বের করার জন্য কাজ করছি।” “সবারই নিজস্ব মতামত আছে। আমি এখানে অনেকটা সময় কাটিয়েছি এবং সমর্থকরা যখন ভালো কিছু আশা করে সেটা না পায়, তখন কিছুটা সমালোচনা হবেই।” রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে লা লিগা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। চার ম্যাচে দুটি করে জয় ও ড্রয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের গ্র“পেও শীর্ষে তারা। তবে পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান ভালো থাকলেও নিজেদের পারফরম্যান্সে উন্নতির আরও অনেক জায়গা আছে বলে মনে করেন ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। “আমার মনে হয় আমরা ভালো অবস্থানে আছি। লা লিগায় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্র“পে আমরা শীর্ষে। তবে আমরা আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো খেলতে পারছি না। ফলাফলগুলো খারাপ নয়, তবে আরও ভালো হতে পারতো। আমাদেরকে আরও উন্নতি করতে হবে।”

ভারতের মাটিতে ইতিহাস গড়ার হাতছানি টাইগারদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোটে এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এখানেই আজ বৃহস্পতিবার টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবেন টাইগাররা। তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে তারা। ভারত এখন পর্যন্ত নিজেদের মাঠে মাত্র চারটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে। ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলগুলো তাদের মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়েছে। বাংলাদেশ পারলে সেটি হবে পঞ্চম ঘটনা। ভারতের মাটিতে তাদের হারানো বাংলাদেশের জন্য একসময় ছিল অসাধ্য সাধনের মতো ব্যাপার। কিন্তু প্রথম ম্যাচে জয়ের পর লাল-সবুজ জার্সিধারীদের জন্য কাজটা এখন আর অতটা কঠিন বলে মনে হচ্ছে না। আর মাত্র একটি ম্যাচ জিততে পারলেই এ সিরিজে জয় পাবেন সফরকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে ও মাঠের বাইরে নানা ঘটনায় কোণঠাসা বাংলাদেশ। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি জিতে বেশ নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। নবীন খেলোয়াড়রা এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন। নাইম শেখ, আফিফ হোসেন ধ্র“ব ও আমিনুল বিপ্লব- এ তিনজন ক্রিকেটার নিজেদের দক্ষতা ও শারীরিক ভাষা দিয়ে দলের চিত্র অনেকটা বদলে দিয়েছেন। নাইম প্রথমবার বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নেমে  ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে শুরু থেকে ব্যাট হাতে ভারতীয় বোলারদের সহজে উইকেট পেতে দেননি তিনি। আফিফ ৩ ওভার বল করে ১১ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন। টি- টোয়েন্টির বিচারে বেশ কিপটে বোলিং করেছেন তিনি। দিল্লিতে নামার আগে সাকিব ও তামিমের অনুপস্থিতি নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর তারুণ্য ও মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর অভিজ্ঞতার মিশেলে বেশ নির্ভার একটা দল লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বহু দিন যাবত একজন লেগস্পিনারের খোঁজে ছিল। সেটার অভাব মিটছে বিপ্লবের হাত ধরে। বাংলাদেশ মূলত সিনিয়র নির্ভর ক্রিকেট থেকে খানিকটা হলেও সরে আসছে। দলের যে পাঁচ ক্রিকেটারকে ‘পঞ্চপান্ডব’ বলে বর্ণনা করা হয়, তাদের মধ্যে তিনজনই এখন দৃশ্যপটে নেই। তাই এ একটি জয় সেই নির্ভরতা থেকেও বের করে আনছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। তবে লিটন দাসের ব্যাটে রান না আসা দুঃশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির জন্য এটা চ্যালেঞ্জ। অবশ্য ভারত ছাড় দেয়ার পাত্র নয়। সিরিজে সমতা আনতে ঝাঁপিয়ে পড়বে তারা। নিশ্চিতভাবেই আরো বেশি প্রত্যয় ও আগ্রাসী হয়ে মাঠে নামবে। তবে ভয়টা তাদেরই বেশি। স্বভাবতই সিরিজে চোখ বাংলাদেশের। আত্মবিশ্বাস ও প্রথম ম্যাচের ছন্দটা ধরে রাখতে পারলে ইতিহাস গড়া সম্ভব।

আধুনিক পদ্ধতিতে আলু চাষ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ আলু বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। সাধারণত ধান ও গমের পরই আলুর স্থান। বর্তমান চাষের জমির পরিমাণ ও ফলনের হিসেবে ধানের পরই আলুর স্থান। একেক সময়ে একেক জমিতে সর্বাধিক উৎপাদনের কারণে দিন দিন আলু চাষে জমির পরিমাণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম স্থানে। তবে এখনও আলুকে আমাদের দেশে সবজি হিসেবে চিন্তা করা হয়। যদিও আলুর বহুবিধ ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। চিপস্, ক্রিপস, ফ্লেক্স, ফেন্সফ্রাই, স্টার্চ তৈরিতে আলু ব্যবহার হচ্ছে এবং দিন দিন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। রপ্তানির মাধ্যমে আলুর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। আলুর গুরুত্ব অনেক গুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আলু উৎপাদনের আধুনিক দিকগুলো আলোচনা করা হলো।
মাটি নির্বাচন: যে কোনো মাটিতে আলু চাষ করা যায়। তবে বেলে দোআঁশ থেকে দোআঁশ মাটি আলু চাষের জন্য উত্তম। উঁচু থেকে মাঝারি উচুঁ জমি যেখানে সেচ ও নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা আছে সে সকল জমি নির্বাচন করতে হবে। জমিটি অবশ্যই রৌদ্র উজ্জ্বল হতে হবে। মাটিতে জো আসার পর আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে প্রস্তুত করতে হবে। আড়াআড়িভাবে কমপক্ষে ৪টি চাষ দিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন জমিতে বড় মাটির ঢেলা না থাকে এবং মাটি ঝুরঝুরে অবস্থায় আসে। কারণ বড় মাটির ঢেলা আলুর সঠিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে এবং অনেক সময় অসম ও বিকৃত আকার তৈরি করে। জমি তৈরির সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে জমিতে সুষম সেচ প্রয়োগ করা যায়। সে জন্য জমির উপরিভাগ সমতল করতে হবে।
জাত পরিচিতি: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত আলুর মোট ৮৩টি জাত অবমুক্ত করেছে যার মধ্যে খাবার আলু, প্রক্রিয়াজাতকরণের উপযোগী আলু, রপ্তানিযোগ্য আলু, আগাম আলু ও সাধারণ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায় এমন আলুর জাত আছে। খাবার আলুর জন্য ডায়মন্ট, কার্ডিনাল (ফলন: ২৫-৩৫টন/হেক্টর); আগাম জাত হিসেবে গ্রানোলা, বারি আলু-৭৪, ৭৫ (ফলন: ২০-৪০টন/হেক্টর); রপ্তানি উপযোগী গ্রানোলা, বারি আলু-৪৬ (ফলন: ২০-৩৫ টন/হেক্টর); প্রক্রিয়াজাতকরণ উপযোগী এসটেরিক্স, লেডি রোসেটা, কারেজ, মেরিডিয়ান (ফলন: ২০-৩৫ টন/হেক্টর); মড়ক রোগ প্রতিরোধী বারি আলু-৪৬, ৫৩, ৭৭, এ্যালোটি, ক্যারোলাস (ফলন: ৩০-৪০ টন/হেক্টর); দীর্ঘ সময় দেশীয় পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায় আইলসা, প্রোভেন্টো, বারি আলু-৬২, ৭৬ (ফলন: ৩০-৪০টন/হেক্টর); তাপ সহিষ্ণু বা দেরিতে রোপণ উপযোগী বারি আলু-৭২ বা ৭৩ (ফলন: ২০-২৪টন/হেক্টর)।
বীজআলু শোধন: কোল্ড স্টোরেজ থেকে বীজআলু বের করার পর ৪৮ ঘণ্টা প্রি হিটিং কক্ষে রাখতে হবে। বীজআলু বাড়িতে আনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বস্তা খুলে ছড়িয়ে আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য স্বাভাবিকভাবে বাতাস চলাচল করে এমন ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। কারণ বীজ কোল্ড স্টোরেজ থেকে বের করে বস্তা বন্ধ অবস্থায় রাখলে ঘেমে পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোল্ড স্টোরেজে রাখার আগে বীজ শোধন না হয়ে থাকলে অঙ্কুর গজানোর আগে বীজআলু দাদ বা স্ক্যাব এবং ব্ল্যাক স্কার্ফ রোগ প্রতিরোধের জন্য ৩% বরিক এসিড দিয়ে শোধন করে নিতে হয়। এ জন্য ১ লিটার পানিতে ৩০ গ্রাম হারে বরিক এসিড মিশিয়ে বীজআলু ১০-১৫ মিনিট চুবিয়ে পরে ছায়ায় শুকাতে হবে। পলিথিন সিটের উপর আলু ছড়িয়ে ¯েপ্র করেও কাজটি করা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন আলুর সব অংশ ভিজে যায়। সাধারণত বিঘা প্রতি অর্থাৎ ৩৩ শতকে ২শ থেকে ২শ ১০ কেজি বীজআলু প্রয়োজন হয়।
রোপণ পদ্ধতি: অঙ্কুর গজানোর পর ১ম কুঁড়িটি ভেঙে দিতে হবে। কারণ ১ম কুঁড়ি ভেঙে দেয়ার পর অন্যান্য কুঁড়ি সমানভাবে বৃদ্ধির সুযোগ পায়। ৩০-৪০ গ্রাম ওজনের আস্ত আলু বীজ হিসেবে ব্যবহার করা উত্তম। কেটেও বীজ লাগানো যেতে পারে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন প্রতিটি কাটা অংশে কমপক্ষে ২টি চোখ বা কুঁড়ি থাকে। বীজ লাগানোর ২-৩ দিন আগে আলু কেটে ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে দিলে কাটা অংশের ওপর একটা প্রলেপ পড়ে। ফলে মাটি বাহিত রোগ জীবাণু সহজে বীজে প্রবেশ করতে পারে না। অন্যভাবে ছাই মেখেও কাজটি করা যেতে পারে। এতে আলুর পচন অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। প্রতিটি আলু কাটার পর সাবান পানি দ্বারা ছুরি বা বটি পরিষ্কার করা উচিত যাতে রোগ জীবাণু এক বীজ থেকে অন্য বীজে না ছড়ায়। বীজআলু আড়াআড়িভাবে না কেটে লম্বালম্বিভাবে কাটতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ কার্তিক থেকে ১৫ অগ্রহায়ণ অর্থাৎ নভেম্বর মাস আলু রোপণের উপযুক্ত সময়।
সার ব্যবস্থাপনা: দেশের বিভিন্ন স্থানে মাটির উর্বরতা বিভিন্ন রকমের, এ জন্য সারের চাহিদা সকল জমির জন্য সমান নয়। স্থান ভেদে বিঘা (৩৩ শতক) প্রতি ইউরিয়া ৪৪-৪৮ কেজি, টিএসপি ২৭-৩০ কেজি, এমওপি ৩৩-৪০ কেজি, জিপসাম ১৩-১৬ কেজি, জিংক সালফেট ১ কেজি-১ কেজি ৩শ গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (যে মাটিতে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি আছে) ১৮-২০ কেজি, বোরন ৮শ গ্রাম-১ কেজি, গোবর ১২শ-১৩শ কেজি দিতে হবে। গোবর ও জিংক সালফেট শেষ চাষের সময় জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে। অর্ধেক ইউরিয়া, সম্পূর্ণ টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ও বোরন সার রোপণের সময় সারির দুই পার্শ্বে বা জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি ইউরিয়া রোপণের ৩০-৩৫ দিন পর অর্থাৎ দ্বিতীয়বার মাটি তোলার সময় উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পর সঙ্গে সঙ্গে সার ও বীজ মাটি দিয়ে ভেলি তুলে ঢেকে দিতে হবে।
আন্তঃপরিচর্যা : বীজ রোপণের পর জমিতে ভালো রস না থাকলে সেচ দেয়া উত্তম, তবে খেয়াল রাখতে হবে ক্ষেতে কোনোভাবেই পানি না দাঁড়ায়। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন পানিতে ভেলির ২/৩ অংশ পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। ২-৩টি সেচ প্রয়োগ করা প্রয়োজন হতে পারে (২০-২৫ দিনের মধ্যে স্টোলন বের হওয়ার সময়, ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে গুটি বের হওয়া পর্যন্ত এবং পরে আলু বৃদ্ধির সময়)। জমি থেকে আলু উঠানোর ৭-১০ দিন আগে মাটি ভেদে সেচ প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে। উল্লেখ্য যে, দাদ রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আলু রোপণের পর ৩০-৫০ দিনের সময়ে জমিতে কোনো অবস্থায় রসের ঘাটতি এবং ৬০-৬৫ দিনের পর রসের আধিক্য হতে দেয়া যাবে না। আলুর জমি সর্বদা আগাছা মুক্ত রাখা উচিত। আলু লাগানোর ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে আগাছা পরিষ্কার করে দুই সারির মধ্যবর্তী স্থান কুপিয়ে উপরি সার প্রয়োগ করতে হবে। সার মিশ্রিত মাটি গাছের গোড়ায় তুলে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কোপানোর সময় যাতে আলুর শিকড় বা স্টোলন না কাটে এবং মাটি দেয়ার সময় গাছের পাতা মাটি চাপা না পড়ে। ৫৫-৬০ দিন পর প্রয়োজন হলে পুনরায় আগাছা পরিষ্কার করে মাটি তুলে দিতে হবে।
বীজআলুর জমিতে বিজাত বাছাই: মানসম্পন্ন বীজআলু উৎপাদনে রগিং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিকভাবে রগিং করা না হলে বীজআলুর গুণাগুণ কমে যায়। এ জন্য গাছের বয়স ৩০-৩৫ দিন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত নিয়মিত আলুর জমিতে বিভিন্ন জাতের মিশ্রিত গাছ, অস্বাভাবিক এবং রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে। ভাইরাস রোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আলু গাছ আলুসহ তুলে অন্যত্র মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। সকাল এবং বিকাল রগিংয়ের জন্য উপযুক্ত সময়। সূর্যের বিপরীত দিকে মুখ করে রগিং করতে হবে যেন পাতায় সব লক্ষণ স্পষ্ট বুঝা যায়। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন রোগাক্রান্ত গাছ কোনোক্রমেই কোনো সুস্থ গাছের সঙ্গে না লাগে এবং শ্রমিকের হাতের স্পর্শ দ্বারাও যেন সুস্থ গাছে রোগ সংক্রমণ না হয়।
সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা: শুষ্ক, উজ্জ্বল ও ভালো আবহাওয়াতে আলু উত্তোলন করতে হবে। এক সারির পর এক সারি কোদাল বা লাঙ্গল দিয়ে আলু উঠাতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আলু আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। আলু উঠানোর পর প্রখর রৌদ্রে রাখা যাবে না। মাঠে প্রাথমিক বাছাইয়ের মাধ্যমে কাটা, ফাটা, ক্ষতিগ্রস্ত, আংশিক পঁচা আলু বাতিল হিসেবে পৃথক করতে হবে- যেন ভালো আলুর গাদার সঙ্গে মিশ্রিত হতে না পারে। বস্তায় অথবা চট দ্বারা আবৃত ঝুড়িতে করে সতর্কতার সঙ্গে আলু অস্থায়ী শেডে আনতে হবে। আলুর বস্তা বা ঝুড়ি আছড়িয়ে ফেলা যাবে না, কারণ তাতে আলুর চামড়া উঠে যেতে পারে বা থেতলে যেতে পারে। আলু উৎপাদন মাঠ বা ব্লকের কাছাকাছি ছায়াযুক্ত ঠান্ডা ও সহজে বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে অস্থায়ী শেড তৈরি করতে হবে। মাঠ থেকে কেবল মাত্র প্রাথমিক বাছাইকৃত আলু শেডের মেঝেতে বিছিয়ে রাখতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আলুর স্তূপ ৪৫ সেন্টিমিটারের বেশি উঁচু না হয়। এ অবস্থায় কমপক্ষে ৩-৫ দিন কিউরিং করতে হবে।
সংরক্ষণ করার জন্য আলু অবশ্যই ভালোভাবে বাছাই করা দরকার। বাছাই ভালো হলে সংরক্ষণ/রপ্তানিযোগ্য আলুর মান ভালো হবে। রোগাক্রান্ত, আঘাতপ্রাপ্ত, আংশিক কাটা, ফাটা, অসম আকৃতির ও অতীব সবুজায়নকৃত আলু সঠিকভাবে বাছাই করে পৃথক করতে হবে।
লেখক ঃ কৃষিবিদ মো. আবু সায়েম, পিএইচডি স্কলার, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেলুদাকে নিয়ে সৃজিতের ওয়েব সিরিজ

বিনোদন বাজার ॥ কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার, লেখক সত্যজিৎ রায়ের গোয়েন্দা কাহিনি ফেলুদা সিরিজ নিয়ে প্রথমবার কোনো ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করছেন কলকাতার এই সময়ের জনপ্রিয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি।

কলকাতার আড্ডা টাইমস ও ঢাকার আলফা আইয়ের যৌথ প্রযোজনায় ওয়েব সিরিজটি নির্মিত হচ্ছে।

ফেলুদা সিরিজের ‘ছিন্নমস্তার অভিশাপ’ ও ‘যত কা- কাঠমান্ডুতে’ গল্প অবলম্বনে ওয়েব সিরিজটির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘ফেলুদা ফেরত’। সিরিজটির একটি পোস্টারও টুইটারে প্রকাশ করেছেন নির্মাতা।

আলফা আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল বলেন, “চিত্রনাট্যের কাজ চলছে; নির্মাণের পাশাপাশি চিত্রনাট্যও লিখছেন সৃজিত। প্রি প্রোডাকশনের কাজ গুছিয়ে মাস দুয়েকের মধ্যেই শুটিং শুরু হবে।”

ফেলুদা, তোপসের চরিত্রে কে থাকবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান শাকিল; শিল্পী চূড়ান্ত করে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।

সিরিজের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র জটায়ুর ভূমিকায় কলকাতার অভিনেতা অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় থাকবেন বলে আড্ডা টাইমের প্রযোজক রাজিব মেহরার বরাতে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা।

তাদের দায়িত্বহীনতা আমাকে অবাক করেছে : সোনাক্ষী

বিনোদন বাজার ॥ কাজের কারণে বা ছুটি কাটাতে দেশের বাইরে তারকাদের প্রায় যান তারকারা। আর এই যাত্রার সময় বিভিন্ন সময় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। কখনো ভক্তদের কারণে আবার কখনো এয়ারপোর্টের সংশ্লিষ্টদের কারণে।

সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার মুখোমুখি হলেন বলিউড তারকা সোনাক্ষী সিনহা। কিছুদিন আগে ভারতে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করেন তিনি। সেখানে বিমান কর্মীদের অবহেলার কারণে ভেঙে গেছে তার শখের লাগেজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ভিডিও শেয়ার করেছেন ৩২ বছর বয়সী এই বলিউড তারকা। লাগেজের দুটি হাতল এবং একটি চাকা ভেঙে গিয়েছে তার ‘আনব্রেকেবল’ লাগেজের। হায়দ্রাবাদ থেকে মুম্বাই ফেরার পথে এই অবস্থার শিকার হোন তিনি।

সোনাক্ষী বলেন, ‘আমার ব্যবহারের জিনিসের প্রতি সবসময় অন্যরকম এক মায়া কাজ করে। এটি এমন নয় যে অনেক দামি কিছু। সেটি হলেও সমস্যা না। কিন্তু জিনিসটি আমার ব্যবহারের। তাদের দায়িত্বহীনতা আমাকে অবাক করেছে।’

উল্লেখ্য, সোনাক্ষীকে শেষবার ‘লাল কাপ্তান’ সিনেমায় দেখা যায়। তার ভক্তরা এখন অপেক্ষায় আছে। সালমান খানের বিপরীতে তাকে ‘দাবাং থ্রি’ সিনেমায় দেখতে।

আমি এখনো হারিয়ে যাইনি: সেলেনা

বিনোদন বাজার ॥ সেলেনা গোমেজ মানেই তার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খবরের শিরোনাম। সারাবছর নিজের কাজের বাইরে ব্যক্তিগত কারণেই আলোচনায় থাকেন বেশি। আর এই ফাঁকে জনপ্রিয় এই পপ তারকার নতুন গান না পাওয়া নিয়ে হতাশ তার ভক্তরা। তবে ভক্তদের সেই হাতাশা এক নিমিষেই দূর করে দিলেন তিনি।২৩ অক্টোবর মুক্তি পায় তার নতুন একক গান ‘লস ইউ টু লাভ মি’। অনেকদিন পর নতুন গান দিয়ে এখন সুপারহিট তিনি। ‘বিলবোর্ড দ্য হট ১০০’ তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে এখন সেলেনার নতুন গানটি। আর এ কারণে বেশ খুশি সেলেনা। তার ইনস্টাগ্রামে সেই ছবি পোস্ট করে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন ভক্তদের সঙ্গে। এ প্রসঙ্গে সেলেনা বলেন, ‘এটি আমার জন্য স্মরণীয় ঘটনা। প্রথমবারের মতো এই তালিকার শীর্ষে আমার গান জায়গা পেয়েছে। এটি অবশ্যই অনেক বড় আনন্দের বিষয়। ভক্তদের অনেক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। তাদের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।’

গান থেকে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এই মার্কিন সংগীতশিল্পী আরো বলেন, ‘আমি এখনো হারিয়ে যাইনি। এই সত্য আমার ব্যক্তিগত জীবনের অনেক বিষয় নিয়ে আমি যেমন বিরক্ত ছিলাম তেমনি হতাশও ছিলাম। এগুলো জীবনের অংশ। আমি বিশ্বাস করি এই বিষয়গুলোকে পার করে এখন থেকে আমি বেশ ভালোভাবে কাজ করতে পারবো।’

উল্লেখ্য, গানের পাশাপাশি জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবেও পরিচিত সেলেনা। এ বছর মুক্তি পায় তার ‘দ্য ডেড ডোন্ট ডাই’ সিনেমাটি। এই সময়ে অপেক্ষায় রয়েছে তার ‘ডুলিটেল’ সিনেমাটি। এটি আগামীবছর মুক্তি পাবে।

ভারতের মন্ত্রীর সিনেমায় মোশাররফ করিম

বিনোদন বাজার ॥ জনপ্রিয় টিভি নাটকের অভিনেতা মোশাররফ করিম। ইউটিউবের কল্যাণে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও তুমুল জনপ্রিয় তিনি। এবার তাকে নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকমন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়ার এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের এই মন্ত্রী জানান, নতুন এই সিনেমার নাম ‘ব্যবধান’। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন মোশাররফ করিম ও আবির চ্যাটার্জি। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এর দৃশ্যধারণ শুরু হবে। বাকি শিল্পীদের নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

প্রায় এক দশক পর আমি আবারও পরিচালনায় ফিরছি। ২০১০ সালে আমি ‘তারা’ নামে সর্বশেষ একটি ছবি তৈরি করেছিলাম। নতুন ছবিটি বুদ্ধদেব গুহর দুটি ছোট গল্প থেকে নির্মাণ করতে যাচ্ছি।

জানা গেছে, বুদ্ধদেব গুহর ‘বাবা হওয়া’ ও ‘স্বামী হওয়া’ অবলম্বনে এটি নির্মাণ করা হবে। এর চিত্রনাট্য তৈরি করছেন উজ্জ্বল চ্যাটার্জি। টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও সবার নজর কাড়েন এ অভিনেতা। তার অভিনীত ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘প্রজাপতি’, ‘টেলিভিশন’, ‘জালালের গল্প’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘হালদা’ ছবিগুলো দর্শকমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়।

ফাহমির সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস, যা বললেন মিথিলা

বিনোদন বাজার ॥ পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার ব্যক্তিগত একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে ফেসবুকে। অনেকে তীর্যক মন্তব্যে আঘাত করছেন মিথিলাকে।

এ বিষয়ে প্রথমে মিথিলা ও ফাহমি কেউ-ই কোনো কথা বলতে রাজি হননি। পরে মঙ্গলবার রাত ১০টায় নিজের অবস্থান পরিস্কার করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন মিথিলা। ইংরেজিতে লেখা সেই স্ট্যাটাসে মিথিলা ফাহমির সঙ্গে তার সম্পর্ক, ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস হওয়া এবং এর বিরুদ্ধে তার পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারায় দায় এড়ানোর চেষ্টা করেননি তিনি।

ফেসবুকে পোস্টে মিথিলা লিখেছেন, ‘কী ঘটেছে তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে আসিনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার কিছু ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে যা হয়েছে, সেই সম্পর্কে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই। এসব ছবির কিছু বাস্তব, কিছু মনগড়া। আমার সুনাম ক্ষুণœ করতে কিছু অপরাধী প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এগুলো অনলাইনে ছেড়ে দিয়েছে।’

২০১৭-১৮ সালে ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে মিথিলার সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যকার সম্পর্ক থাকাকালের কিছু ছবি ফাঁস হয়েছে। সম্পর্কের কথা স্বীকার করে মিথিলা লেখেন- ‘ফাহমির ফেসবুক প্রোফাইল হ্যাক হয়েছিল। তখনই অপরাধীরা খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য এগুলো খুঁজে নিয়েছে। এখানে ডেটিং শব্দটির ওপর জোর দিতে চাই, যার অর্থ আমরা একটি সম্পর্কে ছিলাম। সহজভাবে বললে- দুটি মানুষ একে অপরের সঙ্গে জড়ালে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটায়, ছবি তোলে। প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা এগুলো ভাগ করে নেয়। তবে নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারার দায় আমারই।’

তবে এসব ছবি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মোটেও বিব্রত নন মিথিলা। পোস্টে তা সাফ জানিয়ে দিয়ে লিখেছেন- ‘আমার লজ্জা লাগছে এই ভেবে, দেশের কিছু কুৎসিত লোক আমার ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইচ্ছেমতো পোস্ট, শেয়ার ও ব্যবহারের সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে। আমার খ্যাতি ও ভাবমূর্তিকে অসম্মান করে তারা সাবস্ক্রিপশন বাড়াচ্ছে ও নানান খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে।’

মিডিয়াকে দোষারোপ করে এই অভিনেত্রী লেখেন- ‘আমাকে কার্যত ধর্ষণ করা হচ্ছে। আমার লজ্জা হয় সেসব মিডিয়ার জন্য, বিশেষ করে কয়েকটি নিউজ পোর্টাল আমার অনুমতি ছাড়াই আমাকে উদ্ধৃত করে এই খবর প্রকাশ করেছে। অথচ আমি এ নিয়ে কখনই কথা বলিনি বা কোনো বক্তব্য দিইনি। ঘরে-বাইরে, ভার্চুয়াল জগতসহ সর্বত্র যেকোনো জায়গায় নারীদের যৌন হেনস্তা করা হলে একইভাবে লজ্জিত ও ক্ষিপ্ত হই।’

নিজের অর্জনগুলো সামনে এনে মিথিলা লেখেন- ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার সম্মান ও মর্যাদা শুধু আমার আকার আর পোশাকের কিংবা ব্যক্তিগত ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনে কঠোর পরিশ্রম, সৃজনশীলতা ও শিক্ষার মাধ্যমে সব অর্জন করেছি। আমার অতীতের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো চুরি করে কিছু অপরাধীর কুকর্মের কারণে এসব ভেঙে যাওয়ার মতো ঠুনকো নয়।’

নিজেকে শান্ত রাখতে ও ইতিবাচক মনোভাবের ওপর জোর দিতেই গত ২৪ ঘণ্টা ফাঁস হওয়া ছবি নিয়ে মুখ খোলেননি বলে জানান মিথিলা। তার আশা ছিল, এর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারবেন। তবে যেসব ফেসবুক গ্রুপ, পেজ ও অনলাইন পোর্টাল অনুমতি ছাড়া ফাঁস হওয়া ছবিসহ খবর প্রকাশ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সাইবার অপরাধ বিভাগে অভিযোগ জানানোর তথ্য দিয়ে মিথিলা হুশিয়ার করেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় যারা আমার মান-সম্মান নিয়ে খেলেছে, সেই দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে ছাড়ব। শপথ করছি, নিজের জন্য এবং হ্যাকার ও সাইবার অপরাধীদের শিকার হওয়া সবার জন্য লড়ব।’

সবশেষে দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিথিলা। যদিও মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত সোমবার রাতে ফেসবুকের একটি গ্রুপ থেকে নির্মাতা ও পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে মিথিলার অন্তরঙ্গ একটি ছবি পোস্ট করা হয়। এর পর রাতেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকালে এ দুই শোবিজ তারকার একাধিক অন্তরঙ্গ ছবি বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট হতে থাকে। ছবিগুলো নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে বিনোদন অঙ্গনকে নাড়া দেয়। এ নিয়ে শোবিজের অনেক তারকাই তাদের মত ব্যক্ত করেছেন। অনেকে মিথিলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকে প্রতিবাদ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট ভালোবেসে সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসানকে বিয়ে করেন মিথিলা। তাদের সংসারে আইরা তেহরীম খান নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে দুজনের বনিবনা না হওয়ায় ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিচ্ছেদে যান তারা।

পরে কলকাতার পরিচালক সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে একাধিকবার মিথিলাকে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। তবে বিষয়টি নিছক গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মিথিলা।

স্টেজ শো’তে ব্যস্ত কুমার বিশ্বজিত

বিনোদন বাজার ॥ শীত মৌসুম শুরু হয়ে গেলেই স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারকারা। সঙ্গীতশিল্পী কুমার বিশ^জিৎ এখনো স্টেজ শো’তে নিয়মিত গান করছেন। আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্টেজে শো নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন তিনি। জানুয়ারি পর্যন্ত কুমার বিশ^জিৎ বরিশাল ক্যাডেট কলেজ, রাজধানীর উত্তরা ক্লাব, ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ, যশোহর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, কর্পোরেট শো বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কন্দ্রে, নরসিংদীর আবুল ফয়েজ মোল্লা হাইস্কুলসহ আরো বেশ ক’টি স্থানে স্টেজ শো’তে অংশ নেবেন। পাশাপাশি আরো কিছু স্টেজ শো’র কথা চলছে যা কিছুদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে।গত মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যার ফ্লাইটে ছেলে নিবিড়কে নিয়ে আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিনি। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবকাশ যাপন শেষে আগামী ২০ নভেম্বর দেশে ফিরবেন এই তারকা। স্টেজ শো প্রসঙ্গে কুমার বিশ^জিৎ বলেন, এটা ঈশ্বরের অকৃত্রিম দয়া, আমার সর্বাত্মক চেষ্টা, আমার বাবা-মায়ের আশীর্বাদ, সর্বোপরি আমার শ্রোতাভক্তদের আশীর্বাদ যে আমি এখনো সুস্থাবস্থায় গানের সঙ্গেই আছি এবং নিয়মিত স্টেজ শো করছি। আমি আমার স্ত্রী, সন্তান, মাকে নিয়ে বেশ ভালো আছি। এটা সত্যি স্টেজ শো’তে যাওয়ার আগে আমার নিজের কিছু প্রস্তুতি থাকে। স্থান বুঝে গান নির্বাচন করি এবং সর্বোপরি দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করি গান গাওয়ার মধ্য দিয়েই। যাতে তারা গানকে হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করতে পারেন।