কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসের নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন শেষে হানিফ

 ‘রাজনৈতিকভাবে জনগণের সামনে বিএনপির কিছু বলার নেই

নিজ সংবাদ ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘আদালতের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ দল হিসেবে বিএনপি এখন প্রতিষ্ঠিত। তাই সেই দলের নেতা-কর্মীদের জনগণের কাছে তাদের পক্ষে ভালো কথা বলার কিছু নেই।’ তিনি বলেন,যখন কোন ব্যক্তি বা দল ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন তাদের মুখের আস্ফালনই শান্তনা খোঁজার মাধ্যম হয়ে দাড়ায়। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসের নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন শেষে ‘কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটানো হবে’ বিএনপি নেতা ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হানিফ এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে জনগণের সামনে বিএনপির কিছু বলার নেই। ক্ষমতায় থেকে নানা অপকর্মের কারণে এ দলের শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে আদালতের রায়ে দন্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন।’ তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়া কতবার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে দেশবাসী তা দেখেছে। দেখতে দেখতে সাত বছর পার হলেও বিএনপির আন্দোলন মাঠে গড়ায়নি। সুতরাং বিএনপির নেতাদের কথা জনগণ এখন আর আমলেও নেয় না। কারণ জনগণ জানে বিএনপির কথা ছাড়া কিছু করার নেই। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুক উজ জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়

ভেড়ামারার কৃষক হানিফ খামারু হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যুদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় কৃষক হানিফ আলী খামারুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২য় স্ত্রীসহ চার আসামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ  আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী এক জনাকীর্ন আদালতে আসামীদের উপস্থিতিতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ভেড়ামারা উপজেলার আড়কান্দি গ্রামের লরু প্রমানিকের ছেলে শ্যামল প্রামানিক (২৭),একই গ্রামের মৃত বাদশা আলী মন্ডলের ছেলে আসমত আলী মন্ডল (৪৭), মৃত মিরাজ উদ্দিনের ছেলে ভাইপো মুকুল  হোসেন (২৬) ও মৃত হানিফ আলীর ২য় স্ত্রী দোলেনা বেগম (৪২)। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারী আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আড়কান্দি মন্ডলপাড়া গ্রামে মারামারির ঘটনা ঘটে। মারামারির ঘটনায় প্রতিপক্ষ ইয়াসিন আলী প্রামানিক ও তার পুত্র ময়নুল প্রামানিক গুরুতর আহত হয়। ঘটনার সাতদিন পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াসিন আলীর মৃত্যু হয়। এতে আসামী মুকুলের ভাইসহ প্রায় ১৫ জনের নামে ভেড়ামারা থানায় মামলা হয়। আসামী মুকুল তার ভাইকে হত্যা মামলা থেকে বাঁচাতে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হানিফ আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাছাড়া সম্পর্কে চাচা হওয়ায় হানিফ আলীর সাথে আসামী মুকুলের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এদিকে অপর আসামী আসমতের সাথে হানিফ আলীর ২য় স্ত্রী দোলেনার অনৈতিক সম্পর্ক থাকায় সেই সুযোগে তাদেরকেও হাত করে মুকুল। সেই সাথে ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে আরেক আসামী শ্যামলকে সাথে নেয়। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল রাতে শ্যামলকে দিয়ে হানিফ আলী বাড়ি থেকে বাইরে বের নেয় তারা। পূর্বপরিকল্পনানুযায়ী আসামী মুকুল, শ্যামল, আসমত ও স্ত্রী দোলেনা তাকে পাশ্ববর্তী মাঠে গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনার পরের দিন নিহতের ১ম পক্ষের ছেলে আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং-১৬,তারিখ-১২-০৪-২০১৭ইং। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি ও কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, মামলাটি তদন্ত শেষে রহস্য উদ্ঘাটন করে ৪ আসামীর বিরুদ্ধে  ভেড়ামারা থানা পুলিশ ২০১৭ সালের ১৫ জুন আদালতে চার্জশীট প্রদান করলে সেশন ৬৮৪ নং মামলায় নথিভূক্ত হয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ স্বাক্ষ্য ও শুনানি শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় প্রদান করেন। মামলাটি পর্যবেক্ষন মন্তব্যে বিজ্ঞ আদালত বলেন, সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব কলহের জের ধরেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. আবু জাফর সিদ্দিকী ও এ্যাড.আয়েশা সিদ্দিকী।

উপজেলা আ’লীগ সভাপতির নাম উল্লেখ করে মামলায় ৫ জন আটক

সংসদ সদস্য ও জেলা নেতাদের মঞ্চে হামলার ঘটনায় মামলা

খোকসা থানার ওসির বিরুদ্ধে একপক্ষের মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

খোকসা প্রতিনিধি ॥ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার সম্মেলন কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার খোকসায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মারমুখি হয়ে উঠেছে। ভাইয়ের বিরুদ্ধে আর এক ভাইয়ের মামলা। সংসদ সদস্য ও জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে মঞ্চে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে সব ইউনিয়নের সম্মেলন। পুলিশ আতঙ্কে নেতা-কর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছে। অফিসগুলো কর্মী শুন্য হয়ে পরেছে। এক মামলায় আটক ৫ জন। ওসির বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ করলেন আওয়ামী লীগের সভাপতির।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর দলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের সাথে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের  দূরত্বের সূত্রপাত হয়। শুরু হয় পক্ষ বিপক্ষের হিসাব। সম্প্রতি উপজেলার নয় ইউনিয়ন ও পৌরসভার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের তারিখ ঘোষনার পর সংসদ সদস্য সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতারের সাথে জেলা সভাপতি ও তার অনুসারীদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়। চরম উত্তেজনাকর পরিবেশে ইতোমধ্যে দুই পক্ষ পৃথক পৃথক ওয়ার্ড সম্মেলন করে।

গত সপ্তাহে উপজেলা সদরের খোকসা ইউনিয়নের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচটি কমিটি জমা পরায় কমিটি ঘোষনা ছাড়াই সম্মেলনী সভা শেষ করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাধারন কর্মীরা কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে। একইভাবে ওসমানপুর, বেতবাড়িয়া, একতারপুর ইউনিয়নের কমিটি ঘোষনা ছাড়াই সম্মেলন শেষ করা হয়। বিপত্তির সৃষ্টি হয় গত সোমবার সকালে উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন সম্মেলনী সভা শুরুর পর। মঞ্চে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা থেকে বাদ পরেনি কেউ। এ হামলার ঘটনার রেস ছড়িয়ে পরে ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর, হিজলাবট, বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের চাঁদট, মুকশিদপুর, আমবাড়িয়া, জয়ন্তী হাজরা, গোপগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় ১৫টিও বেশী গ্রামে। পরিস্থিতি শিথিল করতে ইতোমধ্যে উপজেলা সব ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার সম্মেলন স্থগিত ঘোষনা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিলজানি বাজারের সভামঞ্চে হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতারসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৭০-৮০ জনের নামে দায়ের করা মামলার বাদি হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির অনুগত ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে শুটকা। (মামলা নম্বর ০৪)। এই পক্ষ থেকে একাধিক মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক আহবায়ক নবাব আলী জানান। অন্যদিকে সংসদ সদস্যের অংশের পক্ষ থেকেও থানায় দুটি মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি । তবে তাদের মামলাগুলো রেকর্ড করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এমপি অংশের নেতা শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ তার ভাই রফিকুল ইসলাম শুটকার বিরুদ্ধে একটি এজাহার দাখিল করেছেন।

মঞ্চে হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থানা ও ডিবি পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশী চালায়। অভিযান শুরু দিকে এমপি অংশের নেতা বাপ্পি বিশ্বাস রাজু, সান্টু মেম্বর, মঞ্জুয়ার রহমান মেম্বর, বাদশা ও সুজন আটক হয়েছে। পুলিশী অভিযানের পর মুহুর্তের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত নেতাদের অফিসগুলো কর্মী শুন্য হয়ে পরেছে। অনেকে পুলিশী হরানির ভয়ে গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপন করেছে। পুলিশ অভিযানে আটক বাপ্পি বিশ্বাস রাজু ও সান্টু মেম্বরকে বুধবার সকালে আদালতে প্রেরন করা হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম তসর জানান, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলার সমস্ত সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করা হবে। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ অন্যনেতাদের নামে মামলার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র বলেন- জেলার নেতারা নতুন সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সম্মেলন বন্ধ থাকবে। তবে দুই একদিনের মধ্যে জেলা থেকে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও তিনি জানান।

কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতার বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলাটি পুলিশ খুব দ্রুত রেকর্ড করে তার লোকদের হয়রানি করছে। অথচ তিনি নিজে বাদি হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দিয়েছেন। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় অপর একটি মামলা  দেওয়া হয়েছে। কোন মামলা ওসি রেকর্ড করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির উষ্কানীতে রফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে মাইকে কুৎসা রটনা করে। বিষয়টি নিয়ে তিনি মঞ্চে উপস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের জানানোর পরে তারা নিশ্চুপ ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বুধবার সন্ধ্যায় এ রির্পোট লেখা সময় খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম মেহেদী মাসুদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন- মঞ্চে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। কয়েকজন আসামী আটক করা হয়েছে। বাকীদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষের মামলা রেকর্ড না করার বিষয়ে প্রশ্ন করার সাথে সাথে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন সাংবাদিকের কাছে। জানতে চান তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা কেনো হয়। এ ছাড়া চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদের মামলা সম্পর্কে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বিবাদমান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতির সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হয় তারা ফোন রিসিভ করেনি।

সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ ডেকেছে ঐক্যফ্রন্ট

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী ২২ অক্টোবর জনসমাবেশের ডাক দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল বুধবার বিকালে ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির জরুরি বৈঠক থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, দেশের সবশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বৈঠকে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আগামী ১৮ অক্টোবর রাজধানীতে নাগরিক সমাবেশ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ঐক্যফ্রন্টের নাগরিক শোকসমাবেশ থেকে ১৮ অক্টোবর নাগরিক শোকসভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ছেউড়িয়ায় সাধুসঙ্গ…

রনজক রিজভী

বাউল সম্রাট লালন ফকিরের প্রথম তিরোধান দিবস নিয়ে নিশ্চয় অনেকেরই কৌতুহল আছে। জানার আগ্রহও আছে উৎসুকদের। তবে এটুকু নিশ্চিতভাবেই বলা যায়- কুমারখালীর ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে সাধুসঙ্গ নিশ্চয় এখনকার মতো ছিল না। তখন রীতি মেনেই সাধুসঙ্গ হয়েছে। লালনের ঘরের বাউলরা, অর্থাৎ তাঁর অনুসারীরা সব অনুসঙ্গ পালন করতেন। এখন বাউলমতের অন্যঘরের বাউলদেরও আখড়াবাড়ির দু’টি উৎসবেই দেখা মেলে। তারাও আস্তানা নিয়ে বসেন। তাদের ভক্তরাও এসে বিনিময় করেন গুরুর ভক্তিভাব। আখড়াবাড়ির মূল আঙিনা এবং উন্মুক্ত চত্ত্বরের ভিন্ন ভিন্ন আস্তানায় নানা যজ্ঞ পালনের এসব রীতি দেখা মেলে। অন্যদিকে, লালনমঞ্চে এখন যে রীতি চলছে, তা যেন একেবারেই উল্টো। যা উদ্বোধনী আয়োজন বলা হয়ে থাকে। অবশ্য, এই রীতি একদিনে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে যেন প্রথায় পরিণত হয়েছে। প্রবীণ বাউলরা দৈন্য গেয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন। আর আলোচক থাকেন বাউল গবেষকসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। দেশ-বিদেশের অনেক মানুষের সমাগম হয় এখানকার দুটি উৎসবে। তারা লালনের দর্শনকে ধারণ বা উপলব্ধি করতে আসেন। কিন্তু তা কতোটা সম্ভব হয়, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিষয়টি এমন হতে পারে- রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনের কর্তারা সেখানে থাকবেন। তবে আলোচনা করবেন শুধু প্রবীণ বাউল এবং গবেষকরা। এতে উৎসবের প্রাণ সঞ্চার হবে। সেইসঙ্গে দূর হবে- বাউল সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত ধারণাও। এ বিষয়ে কারো আহত হওয়ার কিছু নেই। কেননা, সবারই বলার অনেক জায়গা আছে। বাউলদের জায়গা অতোটা নেই। এই সাধনা গাছতলা আর আস্তানা কেন্দ্রীক। তাই, তাদের অর্জন, জ্ঞান এবং সহজ মানুষ ভজনা আর ভাব-ভাবনার রীতি তুলে ধরার সুযোগ দেয়া যেতেই পারে। উৎসবের তিনদিন প্রবীণ বাউল এবং গবেষকরা প্রাণখুলে বলার সুযোগ পেলে এই মত ও পথের বিশ্বাসীরা ভিন্ন একটি জায়গা পাবে। উৎসুকরাও জানবে বছরের নির্দিষ্ট দুটি উৎসবে বাউলমতের তত্ত্বকথা জানার সুযোগ মেলে। এক্ষেত্রে অবশ্য একটি কথা বলে রাখা ভালো, সব প্রবীণ সাধুগুরু উন্মুক্ত আয়োজনে কথা বলবেন তাও নয়। কেউ কেউ যদি আগ্রহ দেখান, সেটি অনেক বড় পাওয়া বলতেই হবে। মোট কথা, উৎসবটি যেহেতু বাউলদের, তাদেরই কথা বলতে হবে। তাদের অনুসঙ্গ এবং ভাব-আচার যতোটা বলা যায়, বাউলরা ততটাই বলবেন।  কেননা, গুরু নিশ্চয় সব কথা শিষ্য ছাড়া বলবেন না। কাদের সঙ্গে তিনি বিনিময় করছেন, তা নির্ণয় করেই কথা বলবেন প্রাজ্ঞ সাধুগুরু। এরপরও বাউল দর্শন এবং লালনের ঘরের ভাব-আচার উৎসুকরা সহজেই জানার সুযোগ পাবেন। যা জানা বোঝার জন্যই দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুকরা ছুটে আসেন  ছেউড়িয়ায়। যা উন্মুক্ত করে দেয়ার সুযোগ রয়েছে, এখন প্রয়োজন সদিচ্ছা।

প্রশ্ন জাগতে পারে- সাধুসঙ্গ কী বলে গেছে। এক কথায় এর উত্তর, সাধুসঙ্গ বদলায়নি। আখড়াবাড়িতে কিছু রীতি জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। উদ্বোধনী আয়োজনে নাগরিক সমাজের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এটি দোষের নয়। তবে সেখানে যদি শুধু বাউলরাই কথা বলেন, তাহলে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। যখন অন্যরা তাদের মতো করে একটি মতবাদের ব্যাখ্যা বা অন্য আলোচনা যুক্ত করবেন, তা নিশ্চয়  কোনোভাবেই মেনে নেয়ার নয়। ব্যাপারটি এমনই ঘটছে। বাউলরা যেভাবে চান, সেভাবেই লালনের আখড়াবাড়ির আয়োজন হওয়া দরকার। তারা যেভাবে লালনের বাণী বা জ্ঞান উচ্চারণ করবেন, তা অন্যদের পক্ষে সম্ভব নয়। আর গবেষকরা যদি তাদের তত্ত্বকথা সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন,  সেই উপলব্ধি হবে বাস্তবসম্মত।

 

হাজারো বাউল সাধু আর ফকিরের পদচারনায় মুখর আঁখড়াবাড়ি

নিজ সংবাদ ॥ ‘ এবার আইনা চলে, ঘুমটা ফেলে, নয়ন ভরে দেখ, ও তুই নয়ন ভরে দেখ, ও তুই সরল হয়েই থাক’। লালনের গানের এ মর্মবানী বলেই দেয় যে বাউলরা, সাধু সহজ ও সরল পথের সন্ধান করেন। আর সরল জীবন-যাপন করেন। আর তাই লালন অনুসারীদের মতে সহজ ও সরল পথের তালাশ করলেই সহজ মানুষ হওয়া যায়। তাইতো এ পথের সন্ধানে অনেকেই সংসারত্যাগী হন। হাজারো বাউল, সাধু, ফকির আর দর্শার্থীরা পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার মরা কালিনদীর পাড়ে লালন আঁখড়া বাড়ি। বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১২৯তম তিরোধনা দিবসকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে তিনদিনের উৎসব। জেলা প্রশাসন, লালন একাডেমী  ও সাং®কৃতিক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী চলবে উৎসব ও গ্রামীণ মেলা।

অনুষ্ঠান শুরুর দিন থেকেই ছেঁউড়িয়া গ্রামে মরাকালি নদীর পাড়ে বিশাল মাঠে পা ফেলার মত জায়গা নেই। হাজারো বাউল, সাধু আর ফকিরের পদচারনায় মুখর লালন আঁখড়াবাড়ি। লালনের মাজার প্রাঙ্গণ ছাড়াও সামনের বিশাল প্রান্তরে আসন গেড়েছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা লালন ভক্তরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পুরো লালন বাড়ি বাউল, সাধু আর ফকিরদের দখলে। পাশাপাশি অসংখ্য দর্শনার্থী মিলেছেন তাদের সাথে। লালন মাজার সংলগ্ন একাডমেীর নিচেই প্রবীণ বাউলের জমজমাট আড্ডা। এছাড়া মাজারের সাথে মাঠেও জড়ো হয়েছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা বাউল সাধুরা। প্রবীণ থেকে শুরু করে নানা বয়সী বাউলের দেখা মেলে মাজারে।

ফরিদপুর থেকে আসা নিজাম উদ্দিন জানান, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি। তাইতো মানুষের মাঝে লালন ফকির কোন ভেদাভেদ দেখেননি, তিনি সকলকে ভাল বাসতেন। মহান সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টিকুলতে ভালবাসতে বলেছেন, সবার পাশে তিনি দাঁড়াতে বলেছেন। তাই মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই যদি এ মনোভাব নিয়ে চলতো তাহলে সব হানাহানি, মারামারি ও হিংসা বন্ধ হয়ে যেত।’

লালনের এ উৎসব ঘিরে নানা কিসিমের লোকজনের আগাগোনা বাড়ে মাজার আঙ্গিনায়। অনেকে এক সপ্তাহ আগে চলে আসে। কোন দাওয়াত দেয়া লাগে না।

দৌলতপুর থেকে আসা বাউল মতিয়ার হোসেন বলেন, কিসের দাওয়াত, আমাদের কোন দাওয়াত লাগে না। দাওয়াত তো মনের ভিতর গেঁথে আছে। ৩৩ বছর ধরে আসছি। তাইতো মনের টানেই চলে আসি।এখানে আসলে ভাল লাগে বলে জানান তিনি।’

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, একাডেমীর নিচে গোল হয়ে খন্ড খন্ড বসে গানের মজমা বসিয়েছেন বাউলরা। সুর তুলেছে বাদ্যযন্ত্রে। একজন বাউল গান ধরে। দু’একটি গান শেষ করার পর পাশে বসা অন্য বাউলরা গান ধরেন। এভাবেই চলে রাতদিন। দর্শনার্থীরাও পাশে বসে গোল গানে মজে থাকেন। সবার কন্ঠেই লালনের গান। শব্দে স্পষ্ট বোঝা যায় না। মাথা দুলিয়ে নেচে গেয়ে নানা অঙ্গভঙ্গিতে আনন্দ প্রকাশ করে একাকার সাধুরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শনে অনার্স মাষ্টার্স করা বাউল হৃদয় শাহ এ বছরও আসন পেতেছেন একাডেমীর নিচে। সঙ্গে তার সঙ্গীনিও আছেন।  কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি লালনের একজন ভক্ত। তিনি বলেন, হাওয়ার সন্ধান করতে হবে। দম ছাড়া কোন কিছু সাধন হবে না। মানব ধর্মে একটি মর্ম বানী আমি  শিখেছি, আর তা হলো সময় সত্য কথা বল এবং সত্যকে অনুসন্ধান কর।’

ঢাকা থেকে আরেক বাউল আজিম উদ্দিন বলেন, আমি লালনের একজন ক্ষুদ্র অনুসারী। তবে এতদিনে যা বূঝতে পেরেছি তাহলো মনকে সফেদ করতে হবে। মন ভাল হলে তার সব ভাল। তাই ভালকে পেতে হলে আলোর সন্ধান করতে হবে। তাহলেই মানুষ জগত সংসারে সব পেয়ে যাবে।’

লালন একাডেমীর পক্ষ থেকে আয়োজনের কমতি নেই। বাউল থাকা ও খাওয়ার জন্য সব ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। পর্যাপ্ত টয়লেট ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমীর সভাপতি মো. আসলাম হোসেন জানান, লালন সব সময় সত্য অনুসন্ধান করেছে। তিনি মানুষের সেবা করে গেছেন। তার গানেও এসব বিষয় প্রকাশ পাই। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানকে বর্নিল করে তুলতে কোন কিছুর ঘাটতি হবে না বলে জানান তিনি।’

বাউলরা জানান, বাল্য সেবা ও পূর্ণ সেবা মাঠে বসেই সারেন তারা। একাডেমীর পক্ষ থেকে তাদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এক সাথে কয়েক হাজার বাউল খাবার গ্রহণ করেন।

শিল্পীরা জানান, একের পর বাউল দল গাইতে থাকে গান। রাত গভীর হয়। কিন্তু মানুষের আগ্রহে মোটেও ভাটা পড়ে না। সারাদেশ থেকে এত বাউলদল আসে যে ভোররাতে কোনমতে তাদের গান বন্ধ করা যায়। সাধুদের খানা পিনাতেও আছে বৈচিত্র। প্রথম দিনের মধ্যরাতে দেয়া হয় খেঁচুরির সাথে সবজি। পরদিন সকালে পায়েস ক্ষীর। দুুপুরে বেলাতে দেয়া হয় পূর্ণসেবা-ভাত, মাছভাজা সবজি, ডাল আর দই।

ফকির লালন শাহ ১৮৯০ সালে কুমারখালীর ছেঁউড়িয়া আঁখড়া বাড়িতে দেহত্যাগ করে। তারপর থেকে তার শিষ্য ও ভক্তরা দিবসটি উৎযাপন করে আসছে।’

লালন সাঁইয়ের ১২৯তম তিরোধান দিবসের উদ্বোধনীতে এমপি হানিফ

লালনের আদর্শে আধুনিক দেশ ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, সবকিছুর উর্দ্ধে মানুষ ও মানবতা। জাত-পাতের কোন মূল্য নেই, মূল্য শুধু মানবতার। তাই সবার আগে নিজেদের মধ্যে হানাহানী বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার উর্ধে থেকে মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হতে হবে। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের কোন ধর্ম ও জাত ছিলনা। লালনের একটি মাত্র পরিচয় ছিল সেটি হচ্ছে মানবতার সেবক। তিনিই একমাত্র বাউল সাধক যিনি সকল ধর্মের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে সদা সত্য পথে চলতে মানুষকে মানবতাবাদীর পথে ডাক দিয়ে ছিলেন। তাই একজন প্রকৃত মানুষ হতে হলে লালন সাঁইয়ের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে নিজেতে সোনার মানুষ হতে হবে। আমাদের লালন সাঁইয়ের আদর্শের প্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক  দেশ ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে। গতকাল বুধবার রাতে বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়ীতে লালন একাডেমির আয়োজনে বাউল সম্রাটের ১২৯তম তিরোধান দিবসের ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, তিনি অহিংস মানবতার ব্রত নিয়ে মানুষের কল্যাণে অসংখ্য গান সৃষ্টি করে গেছেন লালন সাঁই । তাঁর এই অমর সৃষ্টি সঙ্গীত কোন ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সকল ধর্মের উর্ধে থেকে সম্প্রীতির বাধনে আবদ্ধ করতে মরমী এই সাধক মানব মুক্তির জন্য সৃষ্টি করেছিলেন ফকিরী মতবাদ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু লালনের আর্দশে অনুপ্রাণীত হয়ে সেদিন সম্প্রীতির বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে তুলতে বলেছিলেন ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আজকের যুগে তাঁর এই আহবান একেবারেই বাঙালী জাতির জন্য সমকালিন। তাই আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লালনের আর্দশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

তিনি বলেন, অতি সম্প্রীতি বুয়েটে কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান আবরার ফাহাদকে তার সহপাঠিরা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এখনো আবরারের মায়ের কান্না আমার হৃদয়কে ব্যথিত করেছে। আমাদের ছাত্র রাজনীতি কোথায় যেয়ে দাড়াচ্ছে। একশ্রেণীর শিক্ষকরা তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব মেধাবী ছাত্রদের ব্যবহার করছে। আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনা সারা দেশকে নাড়িয়ে তুলেছে এবং শিঙ্গাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবী সোচ্চার হয়। আমি মনে করি ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, সবার আগে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে এবং এটি বড় জরুরী। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা কোন শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছি। কর্মজীবনে প্রবেশ করেই নিজের আদর্শ ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হচ্ছি। আমরা সেই মানুষ চাই যে লালন সাঁইয়ের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হবে। তিনি বলেন, ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক নোংরা রাজনৈতিক খেলার চেষ্টা করেছেন রাজনীতিবিদরা। মানুষের দূর্বলতা নিয়ে পরিবেশ ঘোলা করবেন না। মানুষ আর তাদের ধোকায় পা দিবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং সোনার বাংলা গড়তে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাশে থাকতে হবে। তিনি সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়ার মানুষের দাবীর মুখে বলেন বাউল সম্রাট মরমী সাধক লালন সাঁইয়ের নামে কুষ্টিয়াতে লালন বিশ^বিদ্যালয় গড়ে তোলার সকল আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আগত অতিথিদের কুষ্টিয়া লালন একাডেমীর পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া, ক্রেষ্ট ও আত্মসুদ্ধির প্রতীক একতারা উপহার দিয়ে বরণ করে নেন। আলোচনা শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ “আপন ঘরের খবর” নামে একটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করেন।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক  আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি আঃ কাঃ মঃ সরওয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালি) আসনের এমপি ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, কুষ্টিয়ার পুলিশ এস এম তানভির আরাফাত, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারন সম্পাদক আজগর আলী, পিপি এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী প্রমুখ। মুখ্য আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, আলোচক লালন মাজারের প্রধান খাদেম মহম্মদ আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন লালন একাডেমির এডহক কমিটির সদস্য সচিব এনডিসি এম এ মোহাইমিনুল জিলান।

আলোচনা শেষে দ্বিতীয় পর্বে লালন মঞ্চে বিভিন্ন শিল্পি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয় লালন সংগীতি। এতে উদ্বোধনী প্রার্থনা সংগীত পরিবেশন করেন পরম শ্রদ্ধেয় গুরু নহির শাহ ও তার ভেগধারী বাউল ফকিরগণ। এরপর পরই স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ লালন সঙ্গীত পরিবেশন করেন। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই সংগীত পরিবেশন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা  করেন কনক চৌধুরী।

দুই থেকে তিন মাসের জন্য ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় সানচেস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ গোড়ালির গাঁটে চোট পাওয়া আলেক্সিস সানচেসের পুরোপুরি সেরে উঠতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টার মিলান। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিলির এই ফরোয়ার্ডের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে এক বিবৃতিতে জানায় ইতালির ক্লাবটি। গত শনিবার কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র হওয়া আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের শেষদিকে বাঁ পায়ের গোড়ালির গাঁটে চোট পান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে এক মৌসুমের জন্য ধারে ইন্টারে মিলানে যোগ দেওয়া সানচেস। চোটের কারণে মঙ্গলবার গিনির বিপক্ষে আরেক প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে পারেননি ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। অস্ত্রোপচার হলে সানচেস দুই থেকে তিন মাসের জন্য ছিটকে যেতে পারেন বলে কলম্বিয়া ম্যাচের পর শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন চিলির কোচ।

অভিনয়ে তিন দশক সাচ্চুর

বিনোদন বাজার ॥ শহীদুল আলম সাচ্চু, দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা। নব্বই দশকের শুরু থেকে পেশাদার একজন অভিনেতা হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। মূলত নব্বই দশকে দারাশিকোর পরিচালনায় ‘অঞ্জলি’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু। এরপর তিনি একে একে চাষী নজরুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম খোকন, মতিন রহমান, কোহিনূর আক্তার সুচন্দা, মৌসুমীসহ আরো অনেকের নির্দেশনায় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘলা আকাশ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা হিসেবে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। এরপর তিনি গোলাম রব্বানী বিপ্লবের ‘বৃত্তের বাইরে’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্রাভিনেতা হিসেবে একই পুরস্কারে ভূষিত হন।

সাচ্চু বলেন, দেশের যে প্রান্তেই শুটিং করতে যাই না কেন সাধারণ মানুষ আমার প্রতি যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন তাতে মুগ্ধ আমি। আবার দেশের বাইরে বিশেষত যেখানে বাংলাদেশিরা থাকেন সেখানে গেলেও ভক্তদের ভালোবাসায় মুগ্ধ হই। অভিনয় না করলে সবার এত ভালোবাসা পাওয়া হতো না। পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই, মানুষকে মানবিক হতে হবে, তাহলেই দেশ তথা পৃথিবী সুন্দর হবে। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা হচ্ছে ‘বেপরোয়া’ ও ‘নোলক’।

ইনস্টাগ্রামে মেসির চেয়ে দ্বিগুণ আয় রোনালদোর

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মাঠের লড়াইয়ে দুই জনের অবস্থান খুব কাছাকাছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পার্থক্যটা বিশাল। সময়ের আরেক সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি আয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। গত বারো মাসে ইনস্টাগ্রামে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড আয় করেছেন ইউভেন্তুস ফরোয়ার্ড রোনালদো। এই সময়ে বার্সেলোনা অধিনায়ক মেসির আয় ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড। বাজ বিঙ্গো এক গবেষণায় ইনস্টাগ্রামে প্রতিটি পোস্টে তারকারা কত উপার্জন করেন তা তুলে ধরেছে। গত বারো মাসে প্রতিটি পোস্টের জন্য পর্তুগাল অধিনায়ক রোনালদোর আয় ৭ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড। মেসি প্রতিটির জন্য পেয়েছেন ৫ লাখ ১৮ হাজার পাউন্ড। তাদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে আছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। গত বছর ইনস্টাগ্রাম থেকে তিনি আয় করেছেন ৫৮ লাখ পাউন্ড। প্রতিটি পোস্টে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারের প্রাপ্তি ৫ লাখ ৭৮ হাজার পাউন্ড।

দুই রণবীরকে নিয়ে দিপীকার  খোলামেলা উত্তর

বিনোদন বাজার ॥ এক রণবীরকে ভালোবেসে আরেক রণবীরকে বিয়ে করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। সে নিয়ে অনেক কথাও হয় চারদিকে। বিষয়টা এড়াতেও পারেন না নায়িকা। কারণ রণবীর সিংকে বিয়ে করলেও রণবীর কাপুরের সঙ্গে তার দারুণ জমজমাট সম্পর্ক। এবার এক অনুষ্ঠানে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে দুই রণবীরকে নিয়ে খোলামেলা উত্তর দিলেন দীপিকা। ফিল্ম সমালোচক রাজীব মাসান্দ এবং মানির ফেস্টিভাল ডিরেক্টর অনুপমা চোপড়ার সঙ্গে খোলামেলা আড্ডায় মেতেছিলেন মানির নতুন চেয়ারপারসন দীপিকা পাড়ুকোন। এই আড্ডার প্রাথমিক ফোকাস দীপিকার সেরা পাঁচটি চরিত্র নিয়ে আলোচনা হলেও কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে রণবীর কাপুর এবং রণবীর সিংয়ের প্রসঙ্গ। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় দুই রণবীরের মধ্যে অভিনয় ক্ষেত্রে কী ফারাক আছে বলে তার মনে হয়। অকপটে দীপিকা জানান, আমি কখনো রণবীর কাপুরকে ওর চরিত্রের জন্য তৈরি হতে দেখিনি। এক্ষেত্রে ও খানিকটা আমারই মতো। আমরা একটা দৃশ্যের জন্য ৫০ শতাংশ রিহার্স করি, বাকি ৫০ শতাংশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসে। অন্যদিকে রণবীর সিং নিজের চরিত্র নিয়ে ভীষণই সিরিয়াস। ও যে কোনো চরিত্রের জন্য নিজেকে আমূল বদলে ফেলে। সে হাঁটা চলা, কথা বলা, গাড়ি ড্রাইভ করা- সবই বদলে যায়। এমনকি পোশাক ও পারফিউমের পছন্দও বদলে যায়।

সিপিএল মাতিয়ে উইন্ডিজ দলে ওয়ালশ-কিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সিপিএলে নজর কাড়া পারফরম্যান্সের পুরস্কার দ্রুতই পেলেন হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়র ও ব্র্যান্ডন কিং। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ডাক পেয়েছেন এই দুই ক্রিকেটার। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন অ্যাইল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া ওয়ালশ জন্মভূমির হয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন গত মার্চে। ২৭ বছর বয়সী লেগ স্পিনার খেলেছেন একটি ওয়ানডে ও আটটি টি-টোয়েন্টি। সদ্য সমাপ্ত সিপিএলে বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসের শিরোপা জয়ে বড় অবদান ছিল তার। ৯ ম্যাচে নেন ২২ উইকেট। অ্যান্টিগান মা-বাবার সন্তান ওয়ালশের আছে দ্বৈত পাসপোর্ট। বরাবরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরোয়া ক্রিকেটের অংশ ছিলেন তিনি। গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে সিপিএল দারুণ কেটেছে তরুণ ওপেনার কিংয়ের। ১২ ইনিংসে দেড়শর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেটে করেন ৪৯৬ রান। ২০১৬ সালে সবশেষ ওয়ানডে খেলা কাইরন পোলার্ড সীমিত ওভারের দুই সংস্করণে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। টেস্ট দলের নেতৃত্ব আছেন জেসন হোল্ডার। সিপিএলে চোট পাওয়ায় কোনো দলেই নেই অফ স্পিনার সুনিল নারাইন। কোনো দলেই নেই ক্রিস গেইলও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞ এই ওপেনারের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে। ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন এখনও কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা পেসার রোমারিও শেফার্ড। ভারতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট এবং তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সব ম্যাচই হবে দেরাদুনের রাজিব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ৫, ৭ ও ৯ নভেম্বর হবে তিনটি টি-টোয়েন্টি। ওয়ানডে তিনটি হবে ১৩, ১৬ ও ১৮ নভেম্বর। ২৭ নভেম্বর শুরু হবে একমাত্র টেস্ট। টেস্টের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট, জন ক্যাম্পবেল, শেই হোপ, শিমরন হেটমায়ার, রোস্টন চেইস, শেন ডাওরিচ, জোমেল ওয়ারিক্যান, রাকিম কর্নওয়াল, কেমার রোচ, শামার ব্র“কস, সুনিল আমব্রিস, আলজারি জোসেফ, কিমো পল।  ওয়ানডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: কাইরন পোলার্ড (অধিনায়ক), শেই হোপ, এভিন লুইস, শিমরন হেটমায়ার, সুনিল আমব্রিস, নিকোলাস পুরান, ব্র্যান্ডন কিং, রোস্টন চেইস, জেসন হোল্ডার, হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়র, ক্যারি পিয়ের, শেলডন কটরেল, কিমো পল, রোমারিও শেফার্ড, আলজারি জোসেফ। টি-টোয়েন্টির ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: কাইরন পোলার্ড (অধিনায়ক), নিকোলাস পুরান, এভিন লুইস, শিমরন হেটমায়ার, শেরফান রাদারফোর্ড, ব্রেন্ডন কিং, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, জেসন হোল্ডার, হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়র, লেন্ডল সিমন্স, ক্যারি পিয়ের, শেলডন কটরেল, দিনেশ রামদিন, কেসরিক উইলিয়ামস, আলজারি জোসেফ।

৭০ দেশের সিনেমার সঙ্গে লড়বে মেড ইন বাংলাদেশ

বিনোদন বাজার ॥ অষ্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডের (আপসা) ১৩তম আসরে ইউনেস্কোর কালচারাল ডাইভার্সিটি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। ৭০ দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসরে কোন ছবিগুলো সেরা হবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

নির্মাতা জানান, বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে পোশাকশিল্পের যে ভূমিকা আছে তার আলোকে দৃঢ়চেতা নারী পোশাকশ্রমিকদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প বলা হয়েছে মেড ইন বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে।

সিনেমাটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু, নভেরা হোসেন, দীপান্বিতা মার্টিন, পারভীন পারু, মায়াবি মায়া, মোস্তফা মনোয়ার, শতাব্দী ওয়াদুদ, জয়রাজ, মোমেনা চৌধুরী, ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও সামিনা লুৎফা প্রমুখ। দুটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিতা চৌধুরী ও ভারতের শাহানা গোস্বামী।

সম্প্রতি টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের পর ছবিটি প্রদর্শিত হয় ৬৩তম বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে। আর ফ্রান্সের সেইন্ট জঁ দ্য-লুজ চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন রিকিতা নন্দিনী শিমু।

প্রথম ছবি মেহেরজান এবং দ্বিতীয় ছবি আন্ডার কনস্ট্রাকশন-এর পর এটি রুবাইয়াত হোসেনের তৃতীয় ছবি। ফ্রান্স, ডেনমার্ক, পর্তুগাল ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। এর আগে লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ওপেন ডোরস’-এ অংশ নিয়ে রুবাইয়াত হোসেন চিত্রনাট্যের জন্য জিতে নেন আর্টে ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার।

বাংলাদেশের খনা টকিজ ও ফ্রান্সের লা ফিল্মস দ্য এপ্রেস-মিডির ব্যানারে নির্মিত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ এর পরিবেশনা ও আন্তর্জাতিক বিক্রয় প্রতিনিধি ফ্রান্সের পিরামিড ফিল্মস।

এবার অভিনয়ে ইরফান পাঠান!

বিনোদন বাজার ॥ একেবারে নতুন ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকা ইরফান পাঠান। এবার মাঠে নয় বরং বাঁ হাতি এই বোলারকে দেখা যাবে শুটিং ফ্লোরে। বলিউডের কোনো ছবিতে নয়, দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতেই ইরফানের অভিনয় জীবনের শিকে ছিঁড়তে চলেছে। ছবির নাম ‘বিক্রম ৫৮’।

ছবিটি পরিচালনা করবেন দক্ষিণের জনপ্রিয় পরিচালক অজয় জ্ঞানামুথু। যিনি এর আগে ডেমন্ত কলোনি, ইমাইকা নদিগালের মতো একাধিক সিনেমা পরিচালনা করেছেন। তবে রুপোলী পর্দায় অবতরণ করার সিদ্ধান্ত নিলেও কীরকম চরিত্রে ঠিক দেখা যাবে ইরফানকে তা কিন্তু খোলসা করেননি তিনি।

সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে ইরফান লিখেছেন, ‘নতুন উদ্যোগ, নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

ইরফান অভিনীত দক্ষিণী এই ছবির সংগীত পরিচালনা করবেন এআর রহমান। প্রযোজনায় সেভেন স্করিন স্টুডিও। শোনা গিয়েছে, ছবিতে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেই থাকছেন তিনি। জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেতা বিক্রমও রয়েছেন। তবে আর কে বা কারা অভিনয় করছেন এই ছবিতে তা জানা যায়নি। খুব শিগগিরিই শুরু হবে ছবির শুটিং।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে শেষবার দেশের জার্সি গায়ে খেলেছিলেন ইরফান পাঠান। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচেই তাকে দেখা গিয়েছিল মাঠে। ক্রিকেট জীবনে ২৪টি আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ম্যাচও খেলেন ইরফান।

সিনেমা জগতের ক্ষমতাবানরাই কুপ্রস্তাব দিতেন : রিচা চাড্ডা

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিং কাউচের অভিজ্ঞতা এর আগে প্রথম সারির অনেক অভিনেত্রীর কাছ থেকেই শোনা গিয়েছে। এবার এ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। মুম্বাইতে প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী হয়েও একাধিকবার কাস্টিং কাউচের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

রিচা চাড্ডা জানান, প্রথমদিকে তিনি এই ধরণের প্রস্তাব বুঝতে পারতেন না। কিন্তু পরে যখন অভিনেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও সিনেমা জগতের ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের থেকে এই ধরণের প্রস্তাব আসতো তখন বেশ অবাকই হয়ে যেতেন তিনি। তবে একটা দীর্ঘ সময় ধরে এই সব ঘটনায় চুপ করেও থাকতে হয়েছে।

কাস্টিং কাউচ প্রসঙ্গে রিচা বলেছেন, ‘এই ধরণের প্রস্তাব ফেরানোর ফল কী হতে পারে তা জেনেও অনেক সময় না বোঝার ভান করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম আমি। কিন্তু তাতে করে লাভ কিছুই হয়নি। ফলস্বরূপ, কাজ করার পরও আমার পারিশ্রমিকের চেক বাউন্স করেছে। আমাকে হৃত্বিক রোশনের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করতে বলা হয়েছে। এমনকি, কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষ মুহূর্তে দেখেছি অন্য কেউ সেই কাজ পেয়ে গিয়েছে।’

রিচা আরও জানান, মিটু আন্দোলন নিয়ে যখন মুম্বাইয়ের সিনেজগৎ তোলপাড়, সেই সময়েও ইন্ডাস্ট্রির বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বহাল তবিয়তে সুবিধা নিয়ে গিয়েছেন। আর স্পষ্টবাদী আর দুর্মুখ হওয়ার কারণে তিনি একের পর এক কাজ হারিয়েছেন। ‘মাসান’ এর জন্য তিনি কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছেন। তারপরও কাজ পাওয়ার জন্য যদি তাকে এই সব প্রস্তাবে রাজি হতে হয় তবে সেসব কাজ না করাই শ্রেয়!

চলে এসো সংসারটা বাঁচাও: সিদ্দিক

বিনোদন বাজার ॥ তিন মাস ধরে আলাদা থাকছেন অভিনেতা সিদ্দিক ও মারিয়া মিম। তাদের সংসারে শোনা যাচ্ছে ভাঙনের সুর। তবে পরিবারের সম্মতি নিয়ে ভালোবেসেই ঘর বেঁধেছিলেন দুজন। আট বছরের সংসারে তাদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে।

সম্প্রতি মডেলিং করতে না দেয়ার অভিযোগে সিদ্দিককে ডিভোর্স দেবেন বলে জানান মারিয়া মিম। তবে সিদ্দিকও চান না সংসার ছেড়ে মডেলিং করুক স্ত্রী। এ বিষয়ে সিদ্দিক বলেন, আকস্মিকভাবে মিম বলছে মডেলিং করবে। কিন্তু আমার ছেলেটাকে দেখার কেউ নেই। দুজনে যদি কাজে ব্যস্ত থাকি, তবে ছেলেটাকে দেখবে কে? এ ছাড়া

সংসার শুরুর সময়েও বলেনি যে সে মডেলিং করবে। এখন হুট করে কার বুদ্ধিতে সে এসব বলছে বুঝতে পারছি না।

স্ত্রী মিম আলাদা থাকছে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিক বলেন, গত রোজার ঈদে ওর বাবার বাড়ি মাদারীপুর গেছে। এর পর থেকে আমার কাছে ফেরেনি। আকস্মিকভাবে জানাচ্ছে মডেল হতে না দেয়ায় সে আমাকে ডিভোর্স দেবে। তবে আমি ভাবছি আমার ছেলেটার কি হবে?

স্ত্রীকে সংসারে ফিরে আসার আকুতি জানিয়ে সিদ্দিক বলেন, মিম তুমি ফিরে এসো। আমাদের একটা সন্তান রয়েছে। দুজন দুদিকে চলে গেলে ছেলেটা মানুষ হতে পারবে না। ফিরে এসে সংসারটা বাঁচাও, আমাদের শিশুটাকে দেখ।

‘প্রেমিকার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় আত্মহত্যা করেন কণ্ঠশিল্পী পংকজ’

বিনোদন বাজার ॥ ‘দীর্ঘদিন ধরে মারমা সম্প্রদায়ের এক মেয়ের সঙ্গে কণ্ঠশিল্পী পংকজ দেবনাথের (২৯) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমিকার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় আত্মহত্যা করেছেন তিনি।’

বুধবার সকালে বান্দরবান শহরে বালাঘাটার নিজ ঘরের সিলিংফ্যান থেকে পংকজ দেবনাথের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পর তার বন্ধু সাইফুল ইসলাম বাবলু এ কথাগুলো বলেন।

তিনি বলেন, তিন মাস আগে পংকজ একই কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তখন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি সুস্থ হন।

নিহত পংকজ একই এলাকার হরিপদ দেবনাথের ছেলে। তার বাবা বনবিভাগের কর্মচারী।

স্থানীয়রা জানান, বান্দরবান জেলা শহরের বালাঘাটার নিজ বাসায় ঘরের সিলিংফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় সংগীত তারকা পংকজ দেবনাথের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, হতাশাগ্রস্ত হয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে আত্মহত্যা করে পৃথিবী ছেড়েছেন সংগীত প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ আইডলের এ তারকা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

বান্দরবান সদর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ফাঁস লাগানো অবস্থায় পরিবারের লোকজন পংকজকে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এদিকে বাংলাদেশ আইডলের সেরা ৮-এর তারকা কণ্ঠশিল্পীর মৃত্যুর খবরে পাহাড়ে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিকল্প জ্বালানি বায়োডিজেল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ আমাদের দেশে এখন আমদানি করা জ্বালানি বাবদ প্রতিদিন প্রায় ২৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সাদা মান্দার গাছ চাষ করে উৎপাদিত বায়োডিজেল যদি দেশের চাহিদার ২৫ ভাগও মেটাতে সক্ষম হয় তবে বছরে ২৫ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে।
পৃথিবীর সঞ্চিত জ্বালানি একসময় অবশ্যই শেষ হয়ে যাবে। যানবাহনের ওপর এ যুগের মানুষ অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। ‘জ্বালানি ফুরিয়ে যাবে’-ভাবতেও ভয় লাগে। তাহলে কি পৃথিবী আর ঘুরবে না, থেমে থাকবে। তাহলে উপায় কী? উপায় বাতলে দিচ্ছে বরাবরের মতো প্রযুক্তিই। আমাদের চারপাশের প্রাকৃতিক উপাদানগুলোই হয়ে উঠতে যাচ্ছে আগামী দিনের জ্বালানির অফুরন্ত উৎস। সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া অনেক আগেই আমরা জেনেছি। এর সম্ভাবনা ও উন্নতির কাজের মধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববাসী পরিচিত হচ্ছে বায়োডিজেলের সঙ্গে। এই বায়োডিজেলটি সংগ্রহ করা হয় গাছ থেকে এবং এজন্য সবচেয়ে উপযুক্ত গাছ হচ্ছে যাত্রোপা, গম, ভুট্টা, পাম, সাদা মান্দার। এগুলোর ফল ও ফুল থেকে সংগৃহীত তেলকেই বলা হচ্ছে বায়োডিজেল।
বাংলাদেশের জন্য বায়োডিজেল উৎপাদন একটি সম্ভাবনার খাত হিসেব আত্মপ্রকাশ করতে পারে। সাদা মান্দার এ ক্ষেত্রে আলোর পথ দেখাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, সাদা মান্দার গাছ থেকেই ডিজেল পাওয়া যাবে। একসময় সাদা মান্দারের তেল দিয়ে কুপি বাতি জ্বালাতো আদিবাসীরা। পরে বিদ্যুতের আগমনে এর ব্যবহার আর তেমন চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রফেসর এবং প্রধান গবেষক ড. মো. দৌলত হোসেন ও সহযোগী গবেষক প্রভাষক পারভেজ ইসলাম দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে গবেষণার পর এ তথ্য জানিয়েছেন। জার্মানির বায়োডিজেল বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. কে বেকার এসেছিলেন বাংলাদেশে। তিনিই বায়োডিজেল তৈরির জন্য সম্ভাব্য সাদা মান্দারের সঠিক জাত শনাক্তকরণে সহায়তা করেন। তিন থেকে পাঁচ ফুট উঁচু সাদা মান্দার গাছ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফুল ও ফল দেয়। গবেষকরা জানার, প্রতি হেক্টর জমি থেকে ১০-১২ টন সাদা মান্দার বীজ পাওয়া সম্ভব। এ থেকে ২৩-২৭ শতাংশ তেল পাওয়া যেতে পারে। প্রতি হেক্টর জমি থেকে প্রতি বছরে দুই-আড়াই হাজার লিটার বায়োডিজেল পাওয়া সম্ভব। বর্তমান সময়ে ডিজেলের দাম বাড়ায় এবং প্রাপ্তির উৎস ধীরে ধীরে কমতে থাকায় সাদা মান্দার তেলের ব্যবহার ইন্ডিয়া, মাদাগাস্কার, থাইল্যান্ড, ব্রাজিলে বাড়ছে। জার্মানির হোহেনা হাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা মান্দার তেলের (বায়োডিজেল) গুণাগুণ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বায়োডিজেলের মান ফসিল ডিজেলের চেয়ে উন্নত। এর ব্যবহারে ইঞ্জিনের ধোঁয়া কম হয় ও ইঞ্জিনের লাইফ বেড়ে যায়। একটি সাদা মান্দার গাছ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত বায়োডিজেল পাওয়া যেতে পারে। প্রফেসর দৌলত জানান, শুধু এক বিঘা জমিতে সাদা মান্দার চাষ করে এক বছরের কুপি বাতি বা হারিকেন জ্বালানোর তেলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
সাদা মান্দার থেকে বায়োডিজেল ঃ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। ফলে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। এর বিকল্প কি নেই? এ দেশেই বহু বছর আগে একটি অতি পরিচিত গাছের বীজ থেকে জ্বালানি তেল তৈরি হতো গাছটির নাম সাদা মান্দার। বৈজ্ঞানিক নাম যাত্রোপা কারকাস। এ দেশের আদিবাসী ও গ্রামের মানুষ সাদা মান্দারের বীজ থেকে তেল সংগ্রহ করে কুপি বাতি জ্বালাতো। কেরোসিন আর বিদ্যুতের আগমন সে বৃক্ষ-জ্বালানির কবর রচনা করেছে। এখন ২০০ কোটি ডলারের আমদানিকৃত জ্বালানির ব্যয় মেটাতে হিমশিম অবস্থায় আবারও বৃক্ষ-জ্বালানির খোঁজ পড়েছে। সাদা মান্দার বা যাত্রোকা গাছের পরিকল্পিত আবাদ ও এর বীজ থেকে বায়োডিজেল উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাদা মান্দার গাছের ফলের বীজ থেকে বায়োডিজেল পাওয়া যায়। সাধারণত এ গাছ আট ফুটের মতো লম্বা হয়। এতে প্রচুর ফল হয়। গাছ লাগানোর নয় মাস পর থেকে ফুল ধরে। একটি গাছে বছরে প্রায় ২৫ কেজি ফল ধরে। এ গাছ ৩০-৪০ বছর বাঁচে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে সাদা মান্দার ফুল ও ফল দেয়। ফলের প্রতিটি বীজের ওজন ০.৮ থেকে এক গ্রাম হয়ে থাকে। এক হেক্টর জমিতে প্রায় আড়াই হাজার গাছ লাগানো যায় যা থেকে ১০-১২ টন পর্যন্ত বীজ পাওয়া সম্ভব। এক টন বীজ থেকে ২৪৫ কেজি পর্যন্ত তেল পাওয়া যায়। এ তেল সংগ্রহ করাও তেমন কঠিন কিছু নয়। সরিষা ঘানি বা ধান ভাঙার কলে সামান্য রদবদল করে সাদা মান্দার বীজ থেকে তেল সংগ্রহ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শুধু এক বিঘা জমিতে সাদা মান্দার চাষ করে এক বছরের কুপিবাতি বা হ্যারিকেন জ্বালানোর তেলের চাহিদা পূরণ সম্ভব। মান্দার বীজে তেলের পরিমাণ ২৩-৩৭ শতাংশ। সে হিসেবে এক হেক্টর জমি থেকে পাওয়া ১০-১২ টন বীজ থেকে প্রতি বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার লিটার বায়োডিজেল পাওয়া যেতে পারে। জার্মানির হোহেনা হাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে সাদা মান্দার তেলের গুণাগুণ পরীক্ষা করে দেখা গেছে এই বায়োডিজেলের গুণাগুণ ফসিল ডিজেল (আমদানিকৃত জ্বালানি) থেকে উন্নতমানের এবং এর ব্যবহারে ইঞ্জিনের ধোঁয়া কম হয়, ইঞ্জিনের আয়ু বাড়ে। ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন শে এ গাছের ফল থেকে বায়োডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে। ভারতের ঝাড়খন্ডসহ বিভিন্ন রাজ্যের আবাদ অযোগ্য জমিতে বিদেশি কোম্পানিরা এ গাছ চাষ করছে। সেখানে এ গাছের ফল থেকে এক লিটার ডিজেল উৎপাদনের খরচ পড়ছে মাত্র ২১ রুপি।
সাদা মান্দার বা যাত্রোপা গাছ সর্বত্রই জন্মে। দেশের পাহাড়ি এলাকা, চরাঞ্চল, রাস্তা ও রেললাইনের দুই পাশ, বরেন্দ্র অঞ্চল ও অন্যান্য এলাকার অনাবাদী পতিত জমিতে এ গাছ ব্যাপকভাবে লাগানো যেতে পারে। প্রথম দিকে উৎপাদন কম হলেও পঞ্চম বছর থেকে উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমাদের দেশে এখন আমদানি করা জ্বালানি বাবদ প্রতিদিন প্রায় ২৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সাদা মান্দার গাছ চাষ করে উৎপাদিত বায়োডিজেল যদি দেশের চাহিদার ২৫ ভাগও মেটাতে সক্ষম হয় তবে বছরে ২৫ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে। অতএব জ্বালানি বহুমুখীকরণে অবহেলিত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে পরিকল্পিত পদক্ষেপের বিকল্প নেই।
সম্প্রতি বিশ্বের কয়েকটি দেশ ব্যাপকভাবে বায়োডিজেলের উৎপাদন শুরু করেছে। এর উৎপাদনের প্রায় পুরোটাই নেতৃত্ব দিচ্ছে ইউরোপিয়ান দেশগুলো। বিশেষভাবে জার্মানির নাম বলা যেতে পারে। ২০০৩ সালের মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব ফসিল ডিজেল চালিত যানগুলোয় বায়োডিজেল ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। তারা বছরে তিন মিলিয়ন টন বায়োডিজেল উৎপাদন করছে। তাদের ধারাবাহিকতায় এখন অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ইন্ডিয়া, মালয়েশিয়া এবং আমেরিকা এই খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে ব্যাপক পরিমাণে বায়োডিজেল উৎপাদন করতে সক্ষম শুধু যাত্রোপা গাছের ওপর ভিত্তি করে। এই সম্ভাবনা নিরূপণ করে দশটি উন্নয়নশীল দেশে যাত্রোপা উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে বারকিনা ফাসো, চায়না, ঘানা, ইন্ডিয়া, লেসোথো, মাদাগাস্কার, মালাবি, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড ও জাম্বিয়া।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বায়োডিজেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্রমেই এটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে। দিন দিন বেড়ে চলেছে বায়োডিজেলের গুরুত্ব। বায়োডিজেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন। পৃথিবীতে উৎপাদিত মোট বায়োডিজেলের ৮৫ ভাগ ব্যবহৃত হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন অধিভুক্ত দেশগুলোয়। সেখানে বায়োডিজেলের সহজপ্রাপ্যতা, ট্যাক্স কম, দাম কম হওয়ার কারণে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সাধারণ পেট্রোলিয়াম ডিজেলের চেয়ে বায়োডিজেলের দাম কম এবং এটি পরিবেশবান্ধব। তাই ইউরোপিয়নরা বায়োডিজেল ব্যবহারে অতিমাত্রায় আগ্রহী।
ইউরোপের ভেজিটেবল ফেডারেশন ফিডিয়লের ভাষ্য মতে, ইইউর ধারণা অনুযায়ী এশিয়ার পাম অয়েল ২০ ভাগ বায়োডিজেল জোগান দিতে সক্ষম। মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড ঘোষণা দিয়েছে যে, যৌথ মালিকানার ভিত্তিতে তারা তিনটি বায়োডিজেল প্ল্যান্ট তৈরি করবে এবং এর প্রতিটি থেকে পাওয়া যাবে বছরে ৬০ হাজার টন যার পুরোটাই বিক্রি হবে ইউরোপে।
বায়োডিজেল হিসেবে করচের তেল ব্যবহার ঃ দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে রয়েছে অসংখ্য করচগাছ। দেশের জ্বালানি তেলের এ চরম সংকটকালে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে করচগাছ। করচের তেল বায়োডিজেল হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানা গেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ তেল কেরোসিনের পরিবর্তে কুপি জ্বালানো, রান্না-বান্না, পাম্প মেশিন চালানো, পাওয়ার ট্রিলার ও ট্রাক্টর চালানো; বাস, ট্রাক ও জেনারেটর চালানো ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। করচ ঘন ডাল-পালা সমৃদ্ধ একটি বৃক্ষ। দেখতে অনেকটা বটগাছের মতোই ঝোপালো। হাওর পারের মানুষ না জেনে অনেকে এটাকে বটগাছ বলেও মনে করে থাকেন। এর বৈজ্ঞানিক নাম পনগামিয়া পিন্নাটা, ইংরেজি নাম পনগাম। নানা দিক দিয়ে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও মূলত অজ্ঞতাবশত আমাদের দেশে এ উদ্ভিদটির তেমন কদর নেই। উদ্ভিদের সাধারণ গুরুত্ব ছাড়াও এটির রয়েছে কিছু বিশেষ গুরুত্ব। করচ হাকালুকি হাওরের একটি ঐতিহ্যবাহী উদ্ভিদ। শুধু হাকালুকি হাওর নয় দেশের উত্তর-পূর্বাংশের সমগ্র হাওর অঞ্চলে এ প্রজাতিটির আধিক্য রয়েছে। জানা যায় হাওর এলাকার প্লাবনভূমি, খাল-বিল-নদীর পাশে এবং বসতবাড়ির আশপাশে প্রচুর পরিমাণে করচের গাছ ছিল। করচের তেল বায়োডিজেল হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। ভারতে এ তেল কেরোসিনের পরিবর্তে কুপি জ্বালানো, রান্না-বান্না, পাম্প মেশিন চালানো, পাওয়ার ট্রিলার ও ট্রাক্টর চালানো, বাস, ট্রাক ও জেনারেটর চালানো ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। হিন্দু সনাতন ধর্মে পূজা-পার্বণে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালাতে করচের তেল ব্যবহৃত হয়। করচের তেল থেকে বায়োডিজেল উৎপাদন হতে পারে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। করচের তেল জৈব জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অনেক গবেষণা হয়েছে। তারা স্থানীয় কৃষকদের সংগঠিত করে লাল করচগাছ রোপণ করেছে। আমাদের দেশেও এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন বিশেষজ্ঞদের শুভ উদ্যোগ আর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা। এ উদ্যোগ সফল হলে দেশের জ্বালানি সংকট দূর হবে, অবহেলিত সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত হবে, জ্বালানি খাতে জাতীয় অর্থ সাশ্রয় হবে, হাওর জনপদের মানুষের অর্থ উপার্জনের পথ প্রসারিত হবে এবং সর্বোপরি পরিবেশ তথা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশাল অবদান রাখবে।
লেখক ঃ এস এম মুকুল, কৃষি বিশ্লেষক ও উন্নয়ন গবেষক

পাকিস্তানে কোনো কাপুরুষ দেখতে চাই না ঃ শোয়েব আখতার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কিংবদন্তি ক্রিকেটার শোয়েব আখতার বলেছেন, পাকিস্তান দলে আমরা কোনো কাপুরুষ দেখতে চাই না। আমরা সাহসী ক্রিকেটারদের দেখতে চাই। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন বিরাট কোহলি। তার নেতৃত্বে পুনেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দাপুটে জয় পায় ভারত। ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত গতির পেসার শোয়েব আখতার বলেন, বিরাট কোহলি ক্রিকেট মাঠে যে মনোভাব নিয়ে খেলছে, একটা সময়ে এই মনোভাব নিয়েই খেলত পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেই মনোভাব চুরি করেছেন কোহলি। ৯০ এর দশকে আমরা ভারতে জিতে যেভাবে মজা করতাম এখন কোহিল তাই করছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে ৪৪ বছর বয়সী সাবেক তারকা ক্রিকেটার শোয়েব আখতার আরও বলেন, কোহলির নেতৃত্বে ভারত যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, ৯০ এর দশকে পাকিস্তানকে এভাবেই এগিয়ে নিয়েছিলাম আমরা। তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সাহসী বেশকিছু ক্রিকেটার লাগবে। যারা নিশ্চিত পরাজয় জেনেও প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারবে। ক্রিকেট থেকে অবসরে ধারাভাষ্য পেশায় জড়িয়ে যাওয়া শোয়েব আখতার আরও বলেন, আমি আমার কথা বলছি না। ইউনিস খান, রশিদ লতিফ, মঈন খান, মোহাম্মদ ওয়াসিমের মতো তারকারা যদি সময় দেন তাহলে পাকিস্তানের ক্রিকেট আরও একধাপ এগিয়ে।