মিরপুরে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে এ উপলক্ষে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যলি বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। “আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ, পুষ্টিকর খাদ্যই হবে অকাঙ্খিত ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী” এই শ্লোগানে এ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর পৌরসভার মেয়র হাজ্বী এনামূল হক, মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, খাদ্য কর্মকর্তা ইসরাত জাহান, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস মজনু, মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

আ’লীগ নেতা বিটু’র বাসভবনে ভেড়ামারা প্রেসক্লাব’র নেতৃবৃন্দ

আল-মাহাদী ॥ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মাহবুবউল আলম হানিফ’র ভাগ্নে ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আতিকুজ্জামান বিটু’কে দেখতে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নওদাপাড়াস্থ তার বাসভবনে যান ভেড়ামারা প্রেসক্লাবে’র নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের যুগ্ন আহবায়ক ও সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সাম্পাদক ডাঃ আমিরুল ইসলাম মান্নান, দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন বাবু, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সাংবাদিক ও কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহ্ জামাল, দৈনিক খোলা কাগজ এবং আন্দোলনের বাজার পত্রিকার ভেড়ামারা প্রতিনিধি এস.এম আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক ফিরোজ মাহমুদ।  প্রেসক্লাবের সদস্য, দৈনিক সরেজমিন পত্রিকার সাংবাদিক মিলন আলী,  দৈনিক দেশের বানী পত্রিকার সাংবাদিক জাহিদ হাসান, কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকার সাংবাদিক সাগর হোসেন পবন প্রমুখ। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ সময় তার শারিরিক খোঁজ-খবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

ঝিনাইদহে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ, পুষ্টিকর খাদ্যই হবে আকাঙ্খিত ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও খাদ্য অধিদপ্তরের আয়োজনে বুধবার সকালে কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জি এম আব্দুর রউফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আরিফ-উজ-জামান, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: হাফিজুর রহমান, জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসান আলী, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কালাম, হাটগোপালপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর রহমানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান। এসময় বক্তারা, নিরাপদ, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সকলকে এক সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। সেই সাথে উৎপাদন বাড়াতে কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

মিরপুরে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান-২০১৯ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। এসময় তিনি বলেন, ইঁদুর মানুষের একটি অনিষ্টকারী প্রাণী। আমাদের কৃষকভাইদের কষ্টের ফসল এই ইঁদুর খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। বর্তমানে কৃষির অগ্রগতি হয়েছে। কৃষকরা ফসলের ফলন পাচ্ছে। সরকার কৃষকদের জন্য নানা প্রনোদনা দিচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত এসব ফসলের প্রধান শক্র হলো ইঁদুর। কৃষক গুদামে ফসল রাখছে আর ইঁদুর সেটা নষ্ট করে দিচ্ছে। ইঁদুর সবদিক থেকেই মানুষের কষতি করে। মাঠে গম ক্ষেতে ইঁদুর ক্ষতি করে, ধান ক্ষেতে ক্ষতি করে। তাই ফসলের ক্ষতি কমাতে ইঁদুর দমন করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর পৌরসভার মেয়র হাজ্বী এনামূল হক, মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস মজনু, মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসের এসএপিপিও আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান আলোচক হিসেবে ইঁদুর নিধন এবং ইঁদুরের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন- ইদুুর একটি চতুর ও নীরব ধ্বংসকারী স্তন্যপায়ী প্রাণী। ইঁদুর প্রাণীটি  ছোট  হলেও  ক্ষতির  ব্যাপকতা  অনেক। এরা  যে  কোনো  খাদ্য  খেয়ে  বাঁচতে  পারে।  যে  কোনো  পরিবেশে  মানিয়ে  নিতে  পারে। অল্প  বয়সে  বাচ্চা  দিতে  পারে। প্রতিনিয়ত  ইঁদুর  আমাদের  উৎপাদিত  ফসলকে  নষ্ট  করছে। ক্রমবর্ধমান হারে  খাদ্যের  প্রয়োজনে দেশে বর্তমানে  এক  ফসলের  পরিবর্তে  বহুবিধ  ফসলের  চাষাবাদ  হচ্ছে।  এর  ফলে  ইঁদুর  মাঠেই  খাদ্য  পাচ্ছে। বাংলাদেশে ইঁদুরের আক্রমণে বছরে আমন ধানের শতকরা ৫-৭ ভাগ, গম ৪-১২ ভাগ, আলু ৫-৭ ভাগ, আনারস ৬-৯ ভাগ নষ্ট করে। গড়ে মাঠ ফসলের ৫-৭ শতাংশ এবং গুদামজাত শস্য ৩-৫ শতাংশ ক্ষতি করে।  ইঁদুর শতকরা ৭ থেকে ১০ ভাগ সেচ নালাও নষ্ট করে থাকে। সেটা ফসলের উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলে। ইরির ২০১৩ সালের এক গবেষণা  মতে, এশিয়ায় ইঁদুর বছরে যা ধান-চাল  খেয়ে নষ্ট করে তা ১৮ কোটি মানুষের এক বছরের খাবারের সমান। আর শুধু বাংলাদেশে ইঁদুর ৫০-৫৪ লাখ লোকের এক বছরের খাবার নষ্ট করে। ইঁদুর  শুধু  আমাদের  খাদ্যশস্য  খেয়ে  নষ্ট  করে  না  বরং  তা   কেটে কুটে  অনেক ধ্বংস  করে।  এদের  মলমূত্র,  লোম  খাদ্য দ্রব্যের  সাথে  মিশে  টাইফয়েড,  জন্ডিস,  চর্মরোগ ও  ক্রিমিরোগসহ  ৬০  ধরনের  রোগ  ছড়ায়।  প্লেগ  নামক  মারাত্মক  রোগের  বাহক  হচ্ছে  ইঁদুর।  ইঁদুর  মাঠের  ও  ঘরের  শস্য  নষ্ট  ছাড়াও  বৈদ্যুতিক  তার,  টেলিফোন  তার  ও  কম্পিউটার  যন্ত্র  কেটে  নষ্ট  করে। এছাড়া  বড় সড়ক  বাঁধ,  রেললাইনে  গর্ত  করে  তা  ক্ষতিগ্রস্থকরে।  বন্যার  পানি  ঢুকে  তা  নষ্ট  হয়।  এ জন্য এর ক্ষতির পরিমাণ পরিসংখ্যানগতভাবে নির্ণয় করা কঠিন। কাজেই ফসল ও সম্পদের ক্ষতিরোধ, জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও দূষণমুক্ত পরিবেশের স্বার্থে ইঁদুর সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে ক্ষেত-খামার, বসতবাড়িসহ সর্বত্র ইঁদুরমুক্ত করার লক্ষ্যে ইঁদুর নিধনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিতে হবে। পরে অতিথিবৃন্দরা উপজেলা পর্যায়ে সেরা তিনজন ইঁদুর নিধনকারীকে পুরষ্কার প্রদান করেন।

গাংনীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের লুৎফুন্নেছা (গোপালনগর) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্য ছিল র‌্যালি,আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী। গতকাল বুধবার সকালে লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে রাইপুর ইউনিয়নের এসএআরবি (শালদহ) মাধ্যমিক বিদ্যালয়,হাড়িয়াদহ-মহিষাখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় দিবস পালনের আয়োজন করে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম স্যার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, এসএআরবি (শালদহ) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলাম, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর এলাকা সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দীন, লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন। বক্তব্য রাখেন লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খেদের আলী দিপু, শিক্ষার্থী শামীমা নাসরিন রুহী, রোরহান উদ্দীন, শালদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিনারা খাতুন, হাদিয়াদহ-মহিষাখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তমালিকা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর রাইপুর ইউনিয়ন সমন্বয়কারী (ইউসি) সাহাজুল সাজুসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আয়োজনের শুরুতে একটি র‌্যালি বের করা হয়। পরে বিদ্যালয় চত্বরে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন  লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবিনা খাতুন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর এলাকা সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দীন। সবশেষে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়।

জানবার হোসেনের পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার

ভেড়ামারা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা বি.এন.পি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জানবার হোসেন বি.এন.পি থেকে ব্যক্তিগত অসুবিধার কারনে কিছু দিনের জন্য দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু গতকাল বুধবার তিনি সেই পদত্যাগ পত্রটি প্রত্যাহার করে নেন। পদত্যাগ পত্রটি প্রত্যাহারের ব্যাপারে জানবার হোসেন বলেন, অদ্যবধি পদত্যাগ পত্রটি বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা-কর্মী ও দলের সভাপতি/সেক্রেটারী গ্রহনযোগ্য মনে করেন নাই তাই আমি বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বি.এন.পি’র সমস্ত সাংগঠনিক কর্মকান্ড মন প্রাণ দিয়ে কাজ করবো। তাই আমার পদত্যাগ পত্রটি গতকাল প্রত্যাহার করার জন্য বিএনপি ভেড়ামারা উপজেলা শাখার সভাপতি/সেক্রেটারী বরাবর যথাবিহীত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন ও অনুরোধ জানিয়েছি।

আলমডাঙ্গায় জাতীয় ইদুর নিধন অভিযান ও বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে জাতীয় ইদুর নিধন অভিযান উপলক্ষ্যে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‌্যালী প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা  চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। তিনি বলেন ইদুর এমন একটি প্রাণী তাদের এককভাবে নিধন করা সম্ভব নয়, ইদুর আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে, বাড়ীতে বাড়ীতে জামাকাপড় কেটে নষ্ট করে, প্রতিবছর এক জোড়া ইদুর ৩ হাজার ইদুর জন্ম দিতে পারে, এরা প্রতিছর ৫শত মেঃটন খাদ্যশস্য ধ্বংস করে, তাই আমরা সম্মিলিত ভাবে ইদুর নিধন অভিযানে অংশ নিতে হবে। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সোহেল রানার উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন সর্বোচ্চ ইদুর নিধনকারি কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোফাক খাইরুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, উপজেলা খাদ্য গুদাম রক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিন রেজা, উপজেলা কৃষি অফিসের এসএপিপিও স্বপন কুমার সিংহ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, নজরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, শর্ষিতা তাবাচ্ছুম, রূপা আক্তার, তহমিনা পারভিন, আমিরুল ইসলাম, রহিমা খাতুন, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ্ আলম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হামিদুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আবরার হত্যা

ভারতে পালানোর সময় গ্রেফতার সেই সাদাত রিমান্ডে

ঢাকা অফিস ॥ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার এজাহারভুক্ত আসামি এএসএম নাজমুস সাদাতকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোরশেদ আল মামুন ভুঁইয়া এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে আসামি সাদাতকে আদালতে হাজির করে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান। শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানার কাটলা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সাদাত বুয়েটের যন্ত্র কৌশল বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার কালাই উত্তর পারার হাফিজুর রহমানের ছেলে। ডিবি সূত্র জানায়, আববার হত্যাকা-ের পর থেকে পলাতক ছিলেন সাদাত। গ্রেফতার এড়ানোর জন্য তিনি দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ৫ অক্টোবর দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এসব চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ। পর দিন রাতে বুয়েট শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। হত্যার ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন।

ভুল স্বীকার করলে পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করা হবে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ভুল স্বীকার করে সরকারের কাছে আবেদন করলে পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনে সবকিছু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, পাহাড়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছে সরকার। সরকারের সঙ্গে সঙ্গে এ দেশের জনগণও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। পাহাড়ের আইন-শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ ও বিজিবির সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ির রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রামগড় থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনকালে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ সব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে যারা সন্ত্রাসী কর্মকা- করছেন তারা যদি ভুল স্বীকার করে সরকারের কাছে আবেদন করেন তাহলে সরকার তাদের পুনর্বাসনে সবকিছু করবে। সরকার ইতিমধ্যে ৬৩০ জন চরমপন্থী সন্ত্রাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের পুনর্বাসন করেছে। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামানের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজাতীয় শরণার্থী ট্রাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব ত্রিপুরা, পৌর মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নুরুল আলম, রামগড় পুলিশিং কমিটির সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী। এ সময় পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে মন্ত্রী গণপূর্ত বিভাগের বাস্তবায়নে ৭ কোটি ৩৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত রামগড় থানা-কাম-ব্যারাক ভবন উদ্বোধন করেন। তিনি নতুন ভবনের কয়েকটি কক্ষও ঘুরে দেখেন।এ সময় খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

আব্দুল হান্নান সভাপতি ॥ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের

কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ জাকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে আব্দুল হান্নানকে সভাপতি এবং আব্দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত করে নাম ঘোষণা করা হয়েছে৷

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. আব্দুল হালিম ৷ কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে বুধবার বিকেলে মাজিহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আমিনুল হক রতন ৷

কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রশিদ আহমেদ এর পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন ৷

প্রথম অধিবেশন শেষে কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং দলীয় সিদ্ধাš মোতাবেক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দ্বিতীয় অধিবেশনে পূর্বের কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নানকে পুনরায় সভাপতি ও নতুন মুখ আব্দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ৩ বছর মেয়াদী কমিটি ঘোষণা করা হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন ৷

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মানিক কুমার ঘোষ, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দঃ ইকবাল মাহমুদ, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুল লতিফ দিঘা, জেলা সদস্য ও পোড়াদহ ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস,  জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জিএম জুবায়ের রিগান ৷

এনএসবিপি কর্তৃক “বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস” উদ্যাপিত

মঙ্গলবার ছিল ৫১তম “বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস”। দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল “সাদাছড়ি ব্যবহার করি, নিশ্চিন্তে পথ চলি”। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসের সাথে নির্বিঘেœ চলাচলের জন্য সাদাছড়ি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এই দিবসের লক্ষ্য। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিরাপদে চলাফেরা নিশ্চিত করতে ১৯৬১ সাল থেকে প্রতিবছর ১৫ই অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ৫১তম “বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস” উপলক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল সোসাইটি অব দি ব¬াইন্ড এন্ড পারশ্যালী সাইটেড (এনএসবিপি), বাংলাদেশ’ কর্তৃক গতকাল বিকাল ৪টার সময় সংস্থাটির ফুলবাড়ীগেটস্থ ফাউন্ডেশন অফিস প্রাঙ্গনে ৫০০ জন দৃষ্টিহীন ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও দৃষ্টিহীনদের নেতৃত্বদান প্রশিক্ষণ, আলোচনা সভা ও সাদাছড়ি, ব্রেইল শিক্ষা উপকরণ, মেমোরিকার্ডসহ এমপিথ্রি ইত্যাদি বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন লায়ন এটিএম নজরুল ইসলাম এমজেএফ, ২য় ভাইস ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি২, বাংলাদেশ। নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তৃতায় বলেন “অন্ধত্ব নিবারণ করায় আমাদের লক্ষ্য, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় বরং তাদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিভাবে স্বনির্ভর করে তোলা যায় সেই কাজই এনএসবিপি এবং আমরা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আমরা বিশ্বাস করি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা প্রশিক্ষণ পেলে জীবনে অনেক বড় কিছু করতে পারবে”। এসময় প্রধান অতিথি নিজ হাতে দৃষ্টিহীনদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেন। উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন লায়ন এস.এম হাফিজ আল আসাদ, পিএমজেএফ, ১ম ভাইস ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর, ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি২, বাংলাদেশ ও লায়ন এস.এম ওয়াহিদুজ্জামান বাবর, এমজেএফ (পি.ডি.জি), সাবেক ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর, ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি২, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লায়ন মাইন উদ্দিন চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট, এনএসবিপি, বাংলাদেশ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আইনের কারণে মানুষ আরও দরিদ্র হচ্ছে – পরিকল্পনামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিভিন্ন আইনের কারণেও দেশের মানুষ দরিদ্র হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।বুধবার ‘টেকসই উন্নয়ন অর্জনে আন্তর্জাতিক সূচক’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ এবং ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি।অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “প্রচুর অন্যায় এদেশে গেড়ে বসে আছে। দারিদ্র্যের অন্যায়গুলো পরিষ্কার, হঠাৎ করে এরা দরিদ্র হয়নি। আইনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আমরা তাদের দরিদ্র করছি আরও। সেগুলো আমাদের কাছে পরিষ্কার। কিন্তু আমরা কিছু করতে পারছি না।”আইনের মাধ্যমে কিভাবে মানুষ আরও দরিদ্র হচ্ছে তার ব্যাখ্যায় এম এ মান্নান বলেন, “দেশে যেসব সরকারি খাল-বিল আছে সেখানে কই, পুঁটি মাছ থাকে। সেগুলো গরীব মানুষরা জাল, পোলো দিয়ে ধরে খায়।“কিন্তু সেসব খাল-বিলগুলো এখন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বানিয়ে ইজারা দেওয়া হয়। ইজারা দেয় প্রতিবছর সামান্য কিছু টাকায়। অথচ এখন গরীব মানুষগুলো পোলো বা জাল নিয়ে বের হয়ে কিছু মাছ ধরতে পারছে না। বাড়ীর ধারে বন আছে, সেখান থেকে কিছু কাঠ এনে রান্না করত। এখন সেটাও পারে না। সেখানেও এখন বন্দুকধারী পাহারাদার বসিয়ে দিয়েছে।”প্রায় ৩৫ বছর আগে নিজে ডিসি থাকার সময়ের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি ডিসি থাকা অবস্থায় একবার কিছু গরীব মানুষের হাতে খাস জমির দলিল তুলে দিয়েছিলাম।তবে দুই মাস পরে শুনি ওগুলো তাদের নেই। প্রভাবশালীরা তাদের মেরে বের করে দিয়েছে অথবা বখশিস দিয়ে বিদায় করে দিয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “দেশে এখন উন্নয়নের ফুরফুরে হাওয়া বইছে। সার্বিকভাবে একটি ভাল পর্যায়ে আছি বলে আমি মনে করি।তবে আমাদের সাবধানে থাকতে হবে। কারণ এখন উন্নয়নের বাস্তবতার চাইতে তথ্য কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।”এজজন্য তিনি উন্নয়নের চিত্র যাতে বিশ্বের উন্নয়ন প্রতিদেবনগুলোকে সঠিকভাবে সন্নিবেশিত হয়, সেজন্য দক্ষতার সাথে তথ্য ব্যবস্থানার ওপর গুরত্বারোপ করেন।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, “আমরা উন্নয়নে বাস্তবে ভালো করছি। কিন্তু তথ্যে ভাল করতে পারছি না। অথচ উন্নত বিশ্বের কাছে বাস্তবের চাইতে তথ্যের উন্নয়নের গুরুত্ব বেশি।”তাই এসডিজিসহ উন্নয়নের সকল তথ্য সর্বাধুনিকভাবে উপস্থাপন ও এবিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন তিনি।আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এসডিজি, ব্যবসা সহজীকরণ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনগুলোতে তথ্যের সঠিক বিন্যাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পারফরম্যান্স ভালো হলেও রিপোর্টিং ভাল না হওয়ার কারণেও অনেক সময় সঠিক উন্নয়নচিত্র দেখানো সম্ভব হচ্ছে না।”তিনিও উন্নয়নের তথ্য ব্যবহারের জন্য দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন।

পবিত্র কোরআন সাত ভাষায় অবতীর্ণ হয়

॥ নাজির আহমদ জীবন ॥

হযরত আব্দুল্লাহ ইব্নে মাস্উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলেপাক (সাঃ) এরশাদ  করেন, কোরআন সাতটি ভাষায় অবতীর্ণ হয়। প্রত্যেক আয়াতের দু’টি দিক রয়েছে, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য (রহস্যাবৃত) (মিশকাতুল মাসাবীহ-১৯২ পৃষ্ঠা)

রাসূল (সাঃ) সাত প্রণালীতে কোরআন পাঠের অনুমোদন করেছেন। সাত এখানে নির্দিষ্ট সাত সংখ্যা নয়, একাধিক সংখ্যা জ্ঞাপক, অর্থাৎ  রাসূল (সাঃ) একাধিক প্রণালীতে কোরআন পাঠ সমর্থন করেছেন। সমগ্র আরবে একই আরবী ভাষা প্রচলিত। কিন্তু আরবে বহু সম্প্রদায়ের বাস।  এই সম্প্রদায়গুলির মধ্যে কোন কোন শব্দর উচ্চারণে কিছুটা পার্থক্য  আছে। মাঝে মাঝে  ইডিয়ম বিশেষেত বিভিন্নতা দেখা যায়। যেমন; বাংলাদেশে স্থান ভেদে ‘করিব এই শব্দ-করিব, করব, করমু;করবাম এই চার বিভিন্ন প্রণালীতে  উচ্চারিত হয়। সেইরূপ কোরায়েশ  সম্প্রদায় উচ্চারণ করিত ‘হাত্তা’ (যে পর্যন্ত না)। হুজাইন সম্প্রদায় উচ্চারণ করিত ‘আত্তা’ (যে পর্য্যন্ত না)। কোরায়েশরা উচ্চারণ করিত তো’লামুন, আছাদ সম্প্রদায় উচ্চারণ করিত ‘তিলামুল’-ইত্যাদি।

মুছলিম বর্ণনা করেন, সাহাবী উবাই বিন কা’ব নিজে যেরুপে কোরআন  পাঠ শিখেছেন, দুইজন লোককে তা হতে ভিন্নরূপে কোরআন পাঠ করতে শুনলেন। তিনি রাসূল (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে, রাসূল (সাঃ) তাদের পাঠ সমর্থন করলেন্ এতে উবাই বিষ্মিত হলেন, তখন রাসূল (সাঃ) তাকে বুঝিয়ে বললেন, “হে উবাই, কোরআন এক ভাষায় (কোরায়েশী ভাষায়) পাঠের জন্যই আমার নিকট অবতীর্ণ হয়। ইহা অন্যান্য সাম্প্রদায়িক ভাষাতেও পাঠের জন্য আমি অনুমতি প্রার্থনা করি, যাতে দেশের লোকেরা উহা সহজে আবৃত্তি করতে পারে। তখন উহা দুই সাম্প্রদায়িক ভাষায় (কোরায়েশদের পাশ্ববর্তী বিশুদ্ধ ভাষায়) পাঠের অনুমতি পাই; এবং তৎপর আমি অধিকতর সংখ্যক পাঠের অনুমতি প্রার্থনা করি, যাতে ইহা আমাদের দেশের লোকদের পক্ষে সহজ হয়, এবং উহা সাতটি সাম্প্রদায়িক ভাষায় পাঠের জন্য আমি অনুমতি পাই।

বোখারী, ইবনে মাস্উদ  হতে বর্ণনা করেন, আমি একজনকে কোরআন আবৃত্তি করতে শুনি এবং আমি রাসূলে পাক (সাঃ) কে অন্যরুপ পড়তে শুনে ছিলাম। আমি তখন রাসূল (সাঃ) কে বিষয়টি বলি; শুনে তাঁর পবিত্র মুখ অসন্তোষের ভাব লক্ষিত হল, তিনি বললেন; “তোমাদের  উভয়ের আবৃত্তিই বিশুদ্ধ, সুতরাং ভেদ সৃষ্টি করিও না, কারণ পূর্বের এমন জাতি সমূহ ছিল যারা ভেদ বুদ্ধির জন্য ধ্বংস হয়েছে।”

একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশন শুরু ৭ নভেম্বর

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশন আগামী ৭ নভেম্বর বৃস্পতিবার বিকাল সোয়া ৪টায় শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন বলে গতকাল বুধবার সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয় এটি হবে সংক্ষিপ্ত অধিবেশন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে এ অধিবেশন আহবান করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ি জাতীয় সংসদের এক অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হবে। ফলে এ অধিবেশন ৫ থেকে ৭ কার্যদিবস পর্যন্ত চলতে পারে। তবে আগামী ৭ নভেম্বর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ অধিবেশনের কার্যকাল এবং কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে । এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। এটি ছিল সংসদের সবচেয়ে স্বল্পকালীন ৪ কার্যদিবসের অধিবেশন। এর আগে সবচেয়ে স্বল্পকালীন অধিবেশন ছিল ৫ কার্যদিবসের । স্বল্পকালীন ওই অধিবেশনে মোট ৫টি বিল উত্থাপন করা হয়। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা হয়। এছাড়া ওই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দানের জন্য ৭০টি প্রশ্নের মধ্যে ১৮টির তিনি উত্তর দেন। আর মন্ত্রীদের জন্য ১ হাজার ৫৫৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৪৫২টির উত্তর দেয়া হয়। এছাড়া ৭১ বিধিতে ১৫৮টির নোটিশের মধ্যে গৃহীত ৩ টি নোটিশ আলোচিত হয়। আর ৭১ক বিধিতে ৩০টি নোটিশ আলোচিত হয়।

ক্ষুধার সূচকে বাংলাদেশ ১১৭  দেশের তালিকায় ৮৮তম

ঢাকা অফিস ॥ ক্ষুধার রাজ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে বাংলাদেশ; তবে নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে আছে।ক্ষুধা ও অপুষ্টির হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নতি অব্যাহত থাকলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান গত কয়েক বছর ধরে আটকে আছে একই বৃত্তে।ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট মঙ্গলবার চলতি বছরের ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচক’ প্রকাশ করেছে, তাতে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম।২০১৮, ২০১৭ ও ২০১৬ সালে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ৮৬, ৮৮ ও ৯০ নম্বরেগ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) তৈরি হয়েছে চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি বিচার করে।অপুষ্টির হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম ওজনের শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার- এই চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের স্কোর হিসাব করা হয়েছে ১০০ পয়েন্টের ভিত্তিতে।  এই সূচকে সবচেয়ে ভালো স্কোর হল শূন্য। স্কোর বাড়লে বুঝতে হবে, ক্ষুধার রাজ্যে সেই দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আর স্কোর কমা মানে, সেই দেশের খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।     ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। মোট স্কোর গতবারের ২৬.১ থেকে কমে হয়েছে ২৫.৮। তারপরও বাংলাদেশ বৈশ্বিক অবস্থানে দুই ধাপ পিছিয়েছে কারণ অন্যদের উন্নতি ঘটছে আরও দ্রুত গতিতে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি শিশুর প্রতিদিনের গ্রহণ করা খাদ্যের পুষ্টিমান গড়ে ১৮০০ কিলোক্যালরির কম হলে বিষয়টিকে ক্ষুধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।ক্ষুধা সূচক বলছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ অপুষ্টির শিকার; পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৪ দশমিক ৪ শতাংশের উচ্চতার তুলনায় ওজন কম; ওই বয়সী শিশুদের ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ শিশুর ওজন বয়সের অনুপাতে কম এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ।দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। ১৭.১ স্কোর নিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থান সূচকের ৬৬ নম্বরে। আর সাত দেশের মধ্যে ৩৩.৮ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা আফগানিস্তানের অবস্থান সূচকের ১০৮ নম্বরে।দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে এগিয়ে থাকা অর্থনীতি ভারতের এই সূচকে পিছিয়ে থাকার মূল কারণ বিপুল জনসংখ্যা। খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক উন্নতি অব্যাহত রাখলেও জনসংখ্যার বিপুল বিস্তারের তুলনায় তার গতি ধীর। ভারতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২০ দশমিক ৮ শতাংশের উচ্চতার তুলনায় ওজন কম, যা প্রতিবেদনের ১১৭টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

বুয়েটে সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেওয়ার শপথ

ঢাকা অফিস ॥ আবরার ফাহাদ হত্যার প্রেক্ষাপটে সব ধরনের সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দেওয়ার শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বুধবার শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষকও অংশ নেন। তবে দর্শকসারিতে থাকা অন্য শিক্ষকরা শপথ নেননি।বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে গণশপথ গ্রহণ করার কথা থাকলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে স্থান পরিবর্তন করে অনুষ্ঠান হয় বুয়েট অডিটোরিয়ামে।শপথবাক্যে তারা বলেন, ”এ বিশ্বববিদ্যালয় সকল প্রকার সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে আমরা সম্মিলিতভাবে রুখে দেব।”একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনায় সব ধরনের অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকারও শপথ নেন বুয়েট পরিবারের সদস্যরা।শপথে তারা বলেন, “এই আঙ্গিনায় যেন আর কোনো নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে না যায়, আর কোনো নিরপরাধ কেউ অত্যাচারের শিকার না হয়, তা আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করব। নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার আমরা সমূলে উৎপাটিত করব।”অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।শপথ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে মাঠের আন্দোলনে ‘আপাতত’ ইতি টানার কথা মঙ্গলবারই জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে তারা ক্লাসে ফিরবে না, তাও জানিয়েছিলেন।বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মীর নির্যাতনে গত ৬ আগস্ট রাতে তড়িৎ কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ নিহত হওয়ার পর আন্দোলনে নেমে ১০ দফা দাবি তোলেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।দেশে প্রকৌশল শিক্ষার বনেদী এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বুয়েট শিক্ষক সমিতি ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও সমর্থন প্রকাশ করেন। তাদের দাবির মুখে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ, আবরার হত্যার আসামিদের সাময়িক বহিষ্কার, হলগুলোতে নির্যাতন বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।অধিকাংশ দাবি পূরণের আশ্বাসের পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের পাঁচটি দাবি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নের বিজ্ঞপ্তি দিলে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আন্দোলন শিথিল করা হয়। আবরার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের ইতোমধ্যে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। নোটিস এসেছে জড়িতদের তদন্তের ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তের ভিত্তিতে নতুন করে কারও নাম এলে তাদেরকেও আজীবন বহিষ্কার করা হবে।শপথ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আবরার হত্যায় জড়িতদের বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।“সবাইকে বহিষ্কার করা হবে। একক সিদ্ধান্তে কোনো কিছু হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন লাগবে, ডিন লাগবে, সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিব। আপনারা অধৈর্য্য হবেন না, কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।”

 

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিএনপি সরকারের রেল বন্ধের সিদ্ধান্ত  ছিল দেশের জন্য আত্মঘাতী ঃ প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রেসক্রিপশনের প্রেক্ষিতে তৎকালিন বিএনপি সরকারের জনবান্ধব রেলকে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল দেশের জন্য আত্মঘাতী। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, রেল বন্ধ করে দেওয়া, আমাদের দেশের জন্য একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল। একটা দেশের যোগোযোগের জন্য রেলপথ, সড়ক পথ এবং নৌপথ এবং সেই সাথে বিমান- সবগুলো পথই চালু থাকা দরকার।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোন এক আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনা ছিল যে, যেটা লাভজনক নয় তা বন্ধ করে দেয়ার। সেই নির্দেশনায় বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে রেল যোগাযোগটাকেই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার জন্য অনেকগুলো রেললাইন এবং রেল স্টেশন বন্ধ করে দেয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন। তিনি একই সঙ্গে রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাকে নতুন কোচ প্রতিস্থাপনেরও উদ্বোধন করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ হলো এদেশের সাধারণ এবং মধ্যবিত্তের অন্যতম একটি চলাচলের মাধ্যম। যারা ক্ষমতায় ছিল (বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার) তারা রেলকে ধ্বংসের এবং একে বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল।শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই সিলেট এবং চট্টগ্রামে দু’টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুসহ রেলকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা প্রহণ করে।তিনি বলেন, ‘রেল যোগাযোগটা যাতে আরো উন্নত হয় তার ব্যবস্থা হিসেবে আমরা উত্তরবঙ্গসহ সমগ্র বাংলাদেশেরই রেল যোগাযোগ স্থাপনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করি।’এ সময় বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণের সময় সেটাতে রেল লাইন স্থাপনসহ সেতুটিতে বহুমুখীকরণে তাঁর সরকার উদ্যোগে গ্রহণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যমুনা সেতুর মূল নকশা প্রণয়ন হয়ে যাওয়ার পর সরকারে আসলেও আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এই সেতুর সাথে আমাদের রেলের লাইন, গ্যাস এবং বিদ্যুতের লাইন থাকতে হবে। এটি মাল্টিপারপাস হবে এবং সেই মোতাবেকই আমরা এর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্পৃক্ত করি।’তিনি বলেন, ‘এই রেল লাইন স্থাপনের ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আমাদের রাজধানী ঢাকার ভাল যোগাযোগের সুব্যবস্থা হয়ে যায়।’তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর যেসব রেলপথ বা লিংক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেসবও তাঁর সরকার নতুনভাবে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি, যেসব স্থানে রেল যোগাযোগ ছিল না সেখানেও রেল যোগাযোগ চালু করা হচ্ছে। ফলে, সাধারণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বল্প খরচে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।তিনি বলেন, উৎপাদিত পণ্য পরিবহন এবং বাজারজাত সহজ করে দিলে আমাদের দেশের কৃষকরাই সব থেকে লাভবান হবে।তিনি এ সময় চিলমারী বন্দর পুনরায় চালুকরণসহ উত্তরাঞ্চলের ভাওয়াইয়া গানের প্রচার প্রসার এবং সংরক্ষণেও তাঁর সরকার এগিয়ে আসবে বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এবং লালমনিরহাটে একটি অ্যারোস্পেস এন্ড এরোনটিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে তাঁর সরকার সেখানে প্লেন তৈরি করার স্বপ্ন দেখছে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতিটাও প্রয়োজন। আর যেন উত্তরবঙ্গবাসীকে মঙ্গা শব্দটা শুনতে না হয় সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।’অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং রেল বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন এবং ভিডিও চিত্র পরিবেশন করেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মো. নুরুজ্জামান আহমেদ গণভবন প্রান্তের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং রংপুর রেলস্টেশন প্রান্তের সংযুক্ত জনগণের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পরে মতবিনিময় করেন।বক্তব্য শেষ করে বাঁশি ফুঁকে ও সবুজ পতাকা উড়িয়ে নতুন ট্রেনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রংপুর ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাকে নতুন কোচ প্রতিস্থাপন করেন শেখ হাসিনা।রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ বুধবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছবে। ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৬টা ২০ মিনিটে কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছবে।ট্রেনটি ১৪টি বগি নিয়ে যাতায়াতে রংপুর-বদরগঞ্জ-পার্বতীপুর-জয়পুরহাট-সান্তাহার-নাটোর-মাধনগর-টাঙ্গাইল-মৌচাক-বিমানবন্দরসহ মোট ১০টি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা করাবে। আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ট্রেনটির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হবে। আন্তঃনগর ট্রেনটি প্রতিদিন ঢাকা-কুড়িগ্রামের ২৮৬ দশমিক ৮ মাইল বা ৪৬১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা যাত্রায় মোট ৬৫৭টি আসন সুবিধা এবং ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যাত্রায় ৬৩৮টি আসন সুবিধা থাকবে। শোভন চেয়ার ৫১০ টাকা, এসি চেয়ার ৯৭২ টাকা, এসি সিট ১১৬৮ টাকা এবং এসি বাথ ১৮০৪ টাকা আসন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাবির কার্জন হলে ঝুলন্ত লাশ

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকা থেকে একব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী মৃত ব্যক্তির পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত করতে না পারলেও কর্তৃপক্ষ বলছে, সেলিম হাওলাদার নামে ওই ব্যক্তি পটুয়াখালীর বাসিন্দা। তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।বুধবার সকালে রসায়ন অনুষদ ভবনের নিচ তলার একটি কক্ষের বাইরে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন।তিনি বলেন, গলায় সাদা ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ছিল মরদেহটি। মৃত সেলিম হাওলাদার (৪৫) ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের কেউ নন।“তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। প্রাথমিকভাবে ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকানে সহযোগী হিসেবে তিনি কাজ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”এবিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “সকালে আমরা ঢাবির কার্জন হল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করি। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’’

র‌্যাগিংয়ের শিকার হলে নালিশ করুন, বিচার হবে – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন শিকার হয়ে কেউ নালিশ জানালে প্রচলিত আইনেই তার বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংযুক্ত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা বলেন তিনি।হলের ভেতরে বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মীর নির্যাতনে আবরার নিহত হওয়ার পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে। বুয়েটেও দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন চলত বলে প্রকাশ পেয়েছে।র‌্যাগিং বন্ধে কোন আইন করা হবে কি না- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, “র‌্যাগিং কথাটার জন্য হয়ত আইন নাই, র‌্যাগিংয়ের মাধ্যমে যদি কোনো অপরাধ করা হয়, যদি থাপ্পড় দেওয়া হয়, সেটাও কিন্তু পেনাল কোডে অপরাধ হিসাবে ৩২৩ এ শাস্তিযোগ্য।“সম্প্রতি র‌্যাগিং এর কথাগুলো  উঠে এসেছে। যারা র‌্যাগিংয়ের ভিকটিম তাদের উৎসাহ করবেন, তারা যেন নালিশ করে। নালিশ করলে আমাদের যথেষ্ট আইন আছে ,যেগুলোর আওতায় র‌্যাগিংয়ের মাধ্যমে যে অপরাধ করা হয়, সেগুলোর বিচার আমরা করবো।”“প্রচলিত আইনেই এ বিচার করা হবে,” বলেন আনিসুল হক।তবে র‌্যাগিং বন্ধের জন্য আদালতে বিচারই একমাত্র পথ বলে মনে করেন না তিনি।আইনমন্ত্রী বলেন, “আইন আদালতে আসলেই সমাধান হবে, তা নয়। ইন হাউজ সিস্টেম বিল্ড করতে হবে। সেখানে নালিশ করলে প্রতিকার হবে এবং নালিশ করলে আর র‌্যাগিং হবে না। এরকম কমপ্লেইন সিস্টেম গঠন করতে হবে।”

সোহাগের স্বপ্ন ভাল ডাক্তার হবে

আমলা প্রতিনিধি ॥ হোমিও ডাক্তার মোঃ শহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ নাজিফুল ইসলাম সোহাগ এ বছর মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছেলের সাফল্যে মা-বাবা অত্যন্ত খুশি। শহিদুল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা কলেজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। শহিদুলের দুই ছেলের মধ্যে সোহাগ বড়। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সোহাগ উত্তীর্ণ হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। সোহাগ ৫ম, অষ্টম ও এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে ও এসএসসিতে সাধারন গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছেন। মেধাবী ছাত্র সোহাগ এইচএসসিতেও তার সাফল্য ধরে রাখে। নটরডেম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।

সোহাগ তার এই সাফল্যের জন্য সর্বপ্রথম মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আজ আমি উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেয়েছি। সোহাগ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন- সুচিকিৎসক হয়ে চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যেতে চাই। তিনি সকলের কাছে তার উচ্চ শিক্ষায় সফলতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

দালাল ছাড়া ফাইল নড়েনা ঝিনাইদহ বিআরটিএ’র অফিসে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ বিআরটিএ’র অফিসে দালাল আর ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়েনা। সাবেক সহকারি পরিচালক বিলাস সরকারের মৃত্যুর পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর নতুন যোগদান করেন এস এম মাহফুজুর রহমান। তিনি যোগদানের পর থেকেই ঘুষ দূর্নীতি ও দালালের দৌরাত্ব বেড়ে গেছে দ্বিগুন পরিমানে। অফিস পরিচালিত হয় দালাল দিয়ে। অফিস সূত্রে জানা যায় মোট সাতজন ষ্টাফ এখানে নিয়মিত কাজ করেন তারা হলেন ফরহাদ উদ্দীন, মাইদুল হাসান, সাহাবুদ্দীন, রবিউল ইসলাম, জাহিদুল হাসান, মফিজ, শহিদুল ইসলাম, বাবুল আক্তার। সরজমিনে বিআরটিএ’র অফিসে গিয়ে জানা যায়, জন, মুক্তার, আনোয়ার, সামিউল, মুন্নু, ফারুকসহ নাম না জানা আরও কয়েকজন দালাল এখানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে, যারা কেউ অফিসের স্টাফ নয়। রেকর্ড রুমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুমে কাজ করতে দেখা যায় এদের। তারা কে কোন পোষ্টে আছে প্রশ্ন করলে বলে আমরা সবাই স্যারের লোক। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই অফিস স্টাফ ও দালালদের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গ্রাহক বলেন গাড়ির রুটপার্মিট নেওয়ার জন্য গেলে ফিল্ড ম্যাকানিক্সস বাবুল আক্তার ও উমেদার আনোয়ার মিলে তার নিকট থেকে ঘুষ দাবি করেন। এছাড়া অফিসে সেবা নিতে আসা অনেকের কাছ থেকেই জানা যায় ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয়না এই অফিসে। ঘুষ নাদিলে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হয়। এবিষয়ে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এস এম মাহফুজুর রহমান জানান, আমি এখানে যোগদানের আগে থেকে এরা এই অফিসে কাজ করে আসছে। আমি  এদের অনেককে ভাল করে চিনিওনা, রেকর্ডরুমে আবর্জনার মধ্যে এরা কাজ করে অভ্যস্ত। আমার অফিসের নিয়মিত কর্মচারীরা রেকর্ড রুমে কোথায় কোন ফাইল আছে তা জানেনা তাই এসব বহিরাগত কর্মীদিয়েই কাজটি করতে হয়। তিনি আরও বলেন কেউ আমার লোক নাই সবাই আপনাদের ঝিনাইদহের লোক। ঝিনাইদহবাসী বিআরটিএ’র এসকল ঘুষ দূর্নীতি ও দালালদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।