ইমরানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে মুখোমুখি হচ্ছে সৌদি-ইরান!

ঢাকা অফিস ॥ সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনতে দেশ দুটিকে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সৌদি আরব এবং ইরানকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকে বসার ব্যবস্থা করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। রোববার তেহরান সফরে ইমরান খান ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সময় সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেন বলে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে। সৌদি-ইরান শান্তি আলোচনা ইস্যুতে সম্পৃক্ত পাকিস্তানের এমন দুইজন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, সৌদি আরব এবং ইরান দুই মুসলিম দেশের মধ্যে কোনো রকমের সংঘাত থাকুক পাকিস্তান তা চায় না । তেহরান এবং রিয়াদের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নিরসনে শুধুমাত্র সংলাপে মধ্যস্থতা নয় বরং সৌদি আরব এবং ইরানকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকে বসার ব্যবস্থা করতেও প্রস্তুত রয়েছে। গত রোববার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি, বিশেষ উপদেষ্টা জুলফিকার বোখারি এবং আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইয়াজ হামিদও ইরান সফর করেন। ইমরান খানের সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাবের পর কিছু শর্তসাপেক্ষে ইরান এ ধরনের বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহ পক্রাশ করেছে বলেও জানান ওই দুই কর্মকর্তা। বৈঠক শেষে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও ইমরান খান যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে হাসান রুহানি বলেন, যেকোনো সদিচ্ছাকে ইরান স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকে আমরা একমত হয়েছি যে, আঞ্চলিক ইস্যুগুলো কূটনীতি এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। একই প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও রিয়াদে বৈঠক করবেন ইমরান খান। সেখানে তিনি একই প্রস্তাব দেবেন বলে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে হামলা চালালে তেহরান ও রিয়াদের উত্তেজনা শুরু হয়। সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রে হামলার পর দুই দেশের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। ওই মাসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের পার্শ্ববৈঠকে ইরান-সৌদি বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

মিরপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক কাঞ্চন কুমারের জন্মদিন পালন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমারের ৪৪তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। মিরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জন্মদিনের কেক কাটা হয়। এ সময়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, সাবেক সভাপতি আছাদুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির হিমু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মারফত আফ্রিদী, দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আহাম্মেদ, সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম, আমলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মাসুম, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম হীরা, সাংবাদিক জাহিদ হাসান, মোস্তফা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

আলমডাঙ্গায় বিশ্বডিম দিবসের কর্মসূচীতে ডিম খাওয়ানো হল শিক্ষার্থীদের

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রানী সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে বিশ্বডিম দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশ্বডিম দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন সরকার প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বীতিয় শুক্রবার বাংলাদেশে বিশ্বডিম দিবস পালন করে থাকে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের ডিমশিল্পের উন্নয়নে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দিবসটির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন ও এফএওর তত্ত্বাবধানে এবং সহযোগিতায় সরকারের প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান এবং পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যেমন বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প কেন্দ্রীয় কমিটি (পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল-বিপিআইসিসি), বাংলাদেশ অ্যানিমেল অ্যাগ্রিকালচার সোসাইটি সহ অনেক সংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে উৎসাহের সঙ্গে দিবসটি নিয়মিত পালন করে আসছে। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সীমা শারমিন, প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহিল কাফি, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামসুজ্জোহা, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মাসুদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক খন্দকার রাকিবুস সালেহীন, প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল আলম,  প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু প্রমুখ।

আবরার হত্যাকান্ডে কূটনীতিকদের বিবৃতি শিষ্টাচারের লঙ্ঘন – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় কূটনীতিকদের দেয়া বিবৃতিকে ‘অহেতুক’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এ ঘটনায় তাদের পদক্ষেপ বন্ধ করা উচিত জানিয়ে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বিবৃতি দিয়ে কূটনীতিকরা শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন। অহেতুক এটা করেছেন তারা। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। ড. মোমেন বলেন, এ ধরনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই ঘটে। গতকালও (১৪ অক্টোবর) নিউইয়র্কে একটি রেস্টুরেন্টে হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন, আটজন আহতও হন। কয়েকদিন আগে টেক্সাসে অনেকেই নিহত হয়েছেন। নিউইয়র্কে তো পলাতক ওই ব্যক্তিকে ধরতেই পারল না। কাউকেই ধরতে পারেনি। জাতিসংঘ এটা নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয় না। স্কুলের বাচ্চাদের মেরে ফেলল। তাও কেউ বিবৃতি দেয় না। বাংলাদেশে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, সরকার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। স্বীকার করতেই হবে। প্রথম দিনই সরকার বলেছে, এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। তারপরও এ সব কীসের জন্য? পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিউজিল্যান্ডেও ৫১ জনকে হত্যা করা হল। এর মানে এই নয় যে, দেশটির সরকারের ঘাটতি ছিল; নিউজিল্যান্ডে সুশাসন ছিল না বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ছিল না। ওই ঘটনায় আমরা (বাংলাদেশ) দুঃখ প্রকাশ করেছি। অথচ এখানে (বাংলাদেশে) একটু কিছু হলেই বিবৃতি দেয়া হয়। এখানে আমাদের দায়ী করার প্রবণতা আছে। আমি মনে করি এটা বন্ধ হওয়া উচিত।

চলতি অর্থবছরে সকল প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনা হবে – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে সকল প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, ‘প্রতিবন্ধীদের জীবনমানোন্নয়নে বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের প্রকৃত সংখ্যা নিরুপনে দেশব্যাপী প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ জরিপ চলমান রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে এ পর্যন্ত সনাক্তকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ১৭ লাখ ২৪২ জন,যার মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ২ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ জন ।’ মন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন চত্বরে বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা মিন আরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মিজ্ জুয়েনা আজিজ। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের অবহেলিত পশ্চাদপদ, উপেক্ষিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে এবং তাদের অধিকার সংরক্ষিত করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছেন। তিনি একজন প্রতিবন্ধী বান্ধব নেত্রী, তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য তার নিরলস প্রচেষ্টা দিয়ে একের পর এক কর্মসূচী বাস্তবায়িত করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর সামজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন যা পূর্বে কেউ করেনি। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য চাকুরী নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, প্রতিবন্ধীদের অবহেলা না করে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জনসম্পদে পরিণত করলে তারা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। পরে মন্ত্রী ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত মোট ৫০ জন মেধাবী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝে সম্মাননা সনদসহ চেক বিতরণ করেন এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের হাতে স্মার্ট সাদা ছড়ি তুলে দেন। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন চত্বরে এক বর্ণ্যাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলমানরা কারও দয়ায় ভারতে বসবাস করেন না

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে মুসলমানরা কংগ্রেস কিংবা কারও দয়ায় বসবাস করেন না। তারা তাদের সাংবিধানিক অধিকার বলে এখানে বসবাস করছেন। মহারাষ্ট্র রাজ্যের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে অল ইন্ডিয়া মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলেমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এসব কথা বলেন। খবর এনডিটিভির। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও এক হাত নেন এ মুসলিম দলের নেতা। তিনি বলেন, জাহাজের একজন ক্যাপ্টেন সবসময় ডুবন্ত জাহাজ থেকে সবাইকে নিরাপদে নামিয়ে দেয়ার পর নিজের চিন্তা করেন। কিন্তু রাহুল এমন এক ক্যাপ্টেন, যিনি ডুবন্ত জাহাজ থেকে সবার আগে লাফ দিয়ে নেমে গেছেন। বিশাল এক জনসভায় দেয়া বক্তব্যে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেন, বিজেপি সরকার এখন মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়েও খবরদারি করছে। তিন তালাকের মতো ইসলামী বিধানকে নিয়ে রীতিমতো নিজেদের মনগড়া আইন চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। ৭০ বছর ধরে আমরা ভারতে কারও দয়ায় বসবাস করছি না। সাংবিধানিক অধিকারের বলেই আছি।

 

যুবলীগ নেতা সম্রাট ১০, আরমান ৫ দিনের রিমান্ডে

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। আর সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে মাদক আইনের মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন এই আদেশ দেন। আট দিন আগে গ্রেপ্তার সম্রাট ও আরমানকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে রমনা থানায় মাদক আইনের মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। এছাড়া একই থানায় অস্ত্র আইনের আরেক মামলায় সম্রাটকে আরও ১০ দিনের রিমান্ডে চাওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে। রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড শুনানি করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি আব্দুল্লাহ আবু, একই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাজ্জাদুল হক শিহাব, তাপস পাল ও এপিপি আজাদ রহমান। অন্যদিকে আসামির পক্ষে শুনানি করতে গাজী জিল্লুর রহমান, আব্দুল কাদেরসহ প্রায় ২৫ জনের মত আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সম্রাটকে আদালতে আনার খবরে যুবলীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী সকাল থেকেই পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় ভিড় করে। আদালতের ফটকের বাইরে ও জনসন রোডে জটলা করে তারা স্লোগান তোলেন- ‘সম্রাট ভাইয়ের মুক্তি চাই’, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’। বেলা ১২টার আগে আগে সম্রাটকে প্রিজন ভ্যানে করে কেরানীগঞ্জ থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। সে সময় আদালতের বাইরে তার কর্মী-সমর্থকদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পরে সম্রাট ও আরমানকে আদালত কক্ষে নেওয়া হলে আইনজীবী ও অন্যদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায় এজলাস। ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট। ৭ অগাস্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে।

ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিনই তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কেরানীগঞ্জের কারাগারে। আর কুমিল্লায় অভিযানের সময় যুবলীগ নেতা আরমানকে মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠায়। তার কাছে ১৪০টি ইয়াবা পাওয়ায় চৌদ্দগ্রাম থানায় মাদক আইনে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে র‌্যাব। আর ঢাকার রমনা থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে মাদক আইনের মামলায় সম্রাট ও আরমান দুজনকে এবং অস্ত্র মামলায় শুধু সম্রাটকে আসামি করা হয়। রমনা থানার মামলা দুটির তদন্তভার গত রোববার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে রমনা বিভাগের উপ কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন জানান। এদিকে কারাগারে নেওয়ার দুদিন পর বুকে ব্যথা অনুভব করলে সম্রাটকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসা দিয়ে গত ১২ অক্টোবর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয় সম্রাটকে। পরদিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে সম্রাটের মা সায়েরা খাতুন দাবি করেন, তার ছেলের অফিস থেকে মদ আর ক্যাঙ্গারুর চামড়া উদ্ধারের ঘটনা ‘নাটক’। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তার ছেলেকে ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ এর মধ্যে জড়ানো হয়েছে।

দেশে এখন ‘সম্রাটের’ আর অভাব নাই – আউয়াল মিন্টু

ঢাকা অফিস ॥ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দেশের সব ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ করে বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এক একজন ‘সম্রাট’ জন্ম দিয়েছেন তারা। বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদের স্মরণে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক স্মরণসভায় বক্তব্যে একথা বলেন ব্যবসায়ী মিন্টু, গোপনে ‘অফশোর’ কোম্পানির মাধ্যমে ‘করস্বর্গ’ হিসেবে পরিচিত দেশ ও অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য যার নাম এসেছিল প্যারাডাইস পেপারসে।  ঢাকায় ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ যুবলীগ নেতাদের নাম আসার দিকে ইঙ্গিত করে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “ভোটারবিহীন এই সরকার দেশের প্রতিটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের করায়ত্ত্ব করে প্রত্যেক সেক্টরে নতুন নতুন সম্রাট জন্ম দিয়েছে। যেমন ক্যাসিনো সম্রাট, বিদ্যুৎ সম্রাট, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্রাট, সম্রাটের ভাই বাংলাদেশে এখন আর অভাব নাই। ঢাকায় ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে মঙ্গলবার ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। ঢাকায় ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে মঙ্গলবার ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।“একটা ভোটারবিহীন বড় সম্রাট, তার অধীনে এই ছোট ছোট রাজ্য গড়ে উঠায় অনেক সম্রাটের জন্ম দিয়েছে। এই সম্রাটদের অন্যায়, অবিচার, নির্যাতন, মনুষ্যত্ববিহীন চিন্তা-ধারা ছাড়া আর কিছুই নাই।” সরকারের বিরুদ্ধে সব ধরনের অধিকার হরণের অভিযোগ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মিন্টু বলেন, “আমরা এখন ভোটারবিহীন সরকারের অধীনে একটা দাসত্বমূলক সমাজে বাস করছি, এই দাসত্বমূলক সমাজে আমাদের দেশবাসীর কোনো রকমের অধিকার ও স্বাধীনতা সংরক্ষিত নাই। সেটা মৌলিক অধিকার বলেন, সাংবিধানিক অধিকার বলেন কোনো ধরনের আমাদের স্বাধীনতা বা অধিকার এখন আর নাই।” সরকারের সঙ্গে আপসরক্ষার মাধ্যমে খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিপক্ষে আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, “কিছু কিছু লোক আছে বলেন, আরে ভাই সমঝোতা করেন, দরকার হলে বাইর করেন নেত্রীকে। এই সমঝোতাপন্থিরা কিন্তু বড় শক্র সমাজের। একটা ডাকাত, চোর- ওদের সাথে কি সমঝোতা করবেন? তাহলে ডাকাতকে আরও ডাকাতি করতে সহায়তা করা। “আমি বলতে চাই, কোনো সমঝোতার দরকার নাই। আমাদের নিজস্ব একটি আদর্শ আছে, যে আদর্শ দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা, যে আদর্শ দেশের স্বার্থ রক্ষা করা, সেই আদর্শ দেশকে রক্ষা করা, দেশের উন্নয়ন সাধন করা। শুধু চোরদের উন্নয়ন না, জনগণের কল্যাণ সাধন করা। অর্থাৎ আমরা কি সমঝোতা করব ভাই? আমার মনে হয়, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভবিষ্যতে আমাদের ফাইট করতে হবে।” এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য  ‘রাস্তায় আন্দোলন’ ছাড়া কোনো বিকল্প নাই বলেও মন্তব্য করেন মিন্টু।

কুষ্টিয়া স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়

সভাপতির অনৈতিক আবদার না রাখায় প্রধান শিক্ষকের বেতন কর্তন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠেছে। তার আবদার না রাখা ও কথামত কাজ না করায় প্রধান শিক্ষকের বেতন কেটে নিয়েছেন। শিক্ষকদের অভিযোগ খোরশেদ আলম স্বস্তিপুর স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হয়ে তিনি যা ইচ্ছা তাই করছেন। ইচ্ছামত স্কুল পরিচালনা করেন। স্কুলের  লেখাপড়ার মান তলানিতে চলে গেছে তার সময়। তিনি উচ্চ আদালতের আইনও মানেন না। আইন না মেনে প্রধান শিক্ষকের বেতন কেটে অর্ধেক করেছেন। আর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০দিনের মধ্যে সব অভিযোগ নিস্পত্তি করতে হবে না হলে প্রধান শিক্ষকের পুরো বেতন দিতে হবে। তবে এই বিধান মানছেন সভাপতি। তিনি শিক্ষক ও কর্মচারির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংকে  জমা দিয়েছেন। এতে শিক্ষদের মধ্যে দুটি গ্র“প তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, সভাপতির সাথে নানা কারনে দ্বন্দ্বের জেরে বেশ কয়েক মাস আগে প্রধান শিক্ষক রহুল আমিনকে বরখাস্ত করে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর তার বেতন অর্ধেক কেটে নেয়া হয়। তাও আবার জাল স্বাক্ষর ব্যাংকে জমা দিয়ে ধরা পড়েছেন সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শামসুল হক (মিন্টু) ১৪ জন শিক্ষক কর্মচারীর স্বাক্ষর জাল করে গত সেপ্টেম্বর মাসের প্রধান শিক্ষকের বেতন ভাতার সরকারী অংশের অর্ধেক রূপালী ব্যাংক শাখায় জমা দেয়। বিষয়টি পরে জানাজানি হয়। যে স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দেয়া হয়েছে, তা কোন শিক্ষকের নয় বলে তারা দাবি করেছে।

ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর নিকট জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন-বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীন প্রধান শিক্ষকের সরকারী বেতন-ভাতা বে-আইনীভাবে অর্ধেক করা হয়েছে। আমাদের কাছে পূর্ণ বেতন ভাতাদির শীট দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেখানেই স্বাক্ষর করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে দেখি ভূয়া শীটে জাল স্বাক্ষরসহ ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। ওই স্বাক্ষরের সাথে আমাদের স্বাক্ষরের কোন মিল নেই।

এ ব্যাপারে সহকারী প্রধান শিক্ষক শামসুল হক মিন্টুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন-জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান স্যারের কাছ থেকে শুনেছি “ কোর্টের আইন মানা, না মানা সভাপতির ব্যাপার”। তাই সভাপতির নির্দেশে আমি এ কাজ করেছি। স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

জানা গেছে,  হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-৩৬৫৭/২০১৫ এ বলা আছে ৬০ দিনের বেশি কোন শিক্ষক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা যাবে না এবং উক্ত ৬০ দিনে যদি কোন আইনি ফায়সালা দিতে না পারে তাহলে তাকে পূর্ণ বেতন ভাতাদি প্রদান করতে হবে। ৬০দিন পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে প্রধান শিক্ষককে নানাভাবে হয়রানী করছেন সভাপতি খোরশেদ আলম।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- সভাপতি খোরশেদ আলম ব্যক্তি আক্রোশের  বশীভূত হয়ে তার অনুসারি কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের উস্কানীতে এমনটি করেছেন। তারা নাকি বলে বেড়াচ্ছেন, জেলা শিক্ষা অফিসার তাদের পক্ষে, তিনি এও নাকি বলেছেন, কোর্টের আইন কিছু না, সভাপতি যেটা করবেন সেটাই আইন।” তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় ডিইও’র এমন বলার রাইট আছে কিনা? তিনি বলেন-ডিইও’র সাথে কথা বলেছিলাম, উনি বলেছেন, উনি তাদের এমনটা পরামর্শ দেননি।

জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত চলছে। প্রধান শিক্ষক সময় চেয়েছেন। আর আগে উপজেলা থেকে তদন্ত হয়েছে, সেটি প্রধান শিক্ষকের পক্ষে গেছে। ‘৬০দিন পেরিয়ে গেলে আইন অনুযায়ী ফয়সালা না হলে প্রধান শিক্ষক পূর্ণ বেতন পাবেন এমনটা বলা আছে।’

খোরশেদ আলম বলেন, নিয়মনীতি অনুযায়ী সব করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তারা আমাকে হেয় করতে মিথ্যা প্রচারনা চালাচ্ছে।’

কারাগারে অনিক সরকারকে কেউ মারেনি – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ঢাকা অফিস ॥ বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের আসামি তার সহপাঠি অনিক সরকার কারাগারে অন্য বন্দিদের মারের শিকার হয়েছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা নাকচ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পঞ্চদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী অনিক সরকার গত ৬ অক্টোবর হত্যাকান্ডের পরপরই গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ১২ অক্টোবর অনিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে পাঠানো হয় কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। অনিকের আগে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন আরেক আসামি ইফতি মোশাররফ সকাল। অনিকই সেদিন আবরারকে বেশি পিটিয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন বলে সংবাদপত্রে খবর আসে। অনিককে কারাগারে নেওয়ার পর কয়েকটি সংবাদপত্রে খবর আসে, সেখানে কারারক্ষী ও অন্য বন্দিদের হাতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন তিনি। তার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও কারা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। “এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যথযথ কর্তৃপক্ষ ও কারা অধিদপ্তরের কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশার বক্তব্য হল- অনিক সরকার গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছলে তাকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারা সেলে রাখা হয়। কারা অভ্যন্তরে প্রবেশের পর অনিক সরকার কারারক্ষী বা কারাবন্দি কারও দ্বারাই আঘাতপ্রাপ্ত বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হননি।” বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন অনিক সরকার। আবরারের বাবার করা মামলায় আসামি হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। আবরার হত্যা মামলার এজহারের অনিক সরকার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি।

আলমডাঙ্গায় স্মার্ট স্কুলের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্ট স্কুলের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলীর সভাপতিত্বে ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্ট স্কুল উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন- বর্তমান সরকার দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। বিশ্বের কাছে আমরা মাথা উঁচু করে বলতে পারি বিশ্বের যে কোন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন উন্নত হয়। সে কারনে আমরা স্মার্ট স্কুল করছি। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সীমা শারমিন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সামসুজ্জোহা, প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল¬াহিল কাফি, স্কুল কমিটির সভাপতির সভাপতি রানা উদ্দিন মন্ডল, প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, প্রধান শিক্ষক হাজী রাকিবুস সালেহীন, শিক্ষক মোস্তফা শফিউদ্দিন, শামিমা নাছরিন, জহুরুল ইসলাম, নাজমুল হুদা, শারমিন সুলতানা প্রমুখ।

মিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে ইউএনও’র মতবিনিময়

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসান, প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, সাবেক সভাপতি আছাদুর রহমান বাবু, সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মারফত আফ্রিদী, দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আহাম্মেদ, সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম, আমলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মাসুম, সাংবাদিক জাহিদ হাসান, মোস্তফা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস মিরপুরে উন্নয়নে সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

দৌলতপুরে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক – পাইপগান উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গাঁজাসহ লাল চাঁদ বিশ^াস (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মাঠপাড়া বায়তুল আমান মসজিদের সামনে থেকে তাকে ৪কেজি গাঁজাসহ আটক করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। আটক মাদক ব্যবসায়ী সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর গ্রামের ফরাজাত বিশ^াসের ছেলে। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানের নির্দেশে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ ওই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। অপরদিকে গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার মজিবর রহমানের বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। তবে কেউ আটক হয়নি।

কুষ্টিয়া পৌরসভায় পুনঃকর নির্ধারণ, অন্তবর্তীকালীন কর নির্ধারণ ও কর আদায় সংক্রান্ত ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষন শুরু

গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার ম.আ.রহিম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকার, এডিবি এবং ওএফআইডি এর সহায়তায় পৌরসভার বাস্তবায়নাধীন তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (সেক্টর) প্রকল্পের আয়োজনে পুনঃকর নির্ধারণ, অন্তবর্তীকালীন কর নির্ধারণ ও কর আদায় সংক্রান্ত প্রশিক্ষন শুরু হয়েছে। ২ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষনের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। উদ্বোধনকালে মেয়র বলেন, কর নিরুপন ও আদায় পৌরপরিষদের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ। এই কাজ করতে গিয়ে আমাদেরকে পৌরবাসীর বিরাগভাজন হতে হয়। কিন্তু আসল বিষয় হলো পৌরসভা পরিচালিত হয় পৌরবাসীর করের টাকায়। তিনি আরো বলেন, সঠিকভাবে কর নিরুপন ও আদায় ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা না গেলে পৌরসভাগুলো ভেঙ্গে পড়বে। ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দুইদিন প্রশিক্ষন গ্রহন করে প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের পৌরসভার কর নিরুপন ও আদায় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করবে।  এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরপরিষদের প্যানেল অব মেয়র-১ মতিয়ার রহমান মজনুসহ রপৗর পরিষদের সদস্যবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিন এবং পৌরসভার ও এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। ট্রেনিং পরিচালনা করেন মিউনিস্যিপাল ট্রাকস্যেশন এন্ড ফাইনান্স এস্পেশাল্ইাষ্ট গভারমেন্ট ইমপ্র“ভমেন্ট এন্ড ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট জিআইসিডি নজরুল ইসলাম ও রিজিওনাল কো-অডিনেটর মিউনিসিপ্যাল ফিনান্স, ফরিদপুর রিজিয়ন জিআইসিডি , ইউজিআইআইপি-থ্রি আলফাজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবীদ রানভির আহমেদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধ ক্লিনিকে নারী মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চেয়ারম্যানদের ক্ষোভ

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চোরাচালান নিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী, দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আরিফুর রহমান, প্রাগপুর বিজিবি কোম্পনী কমান্ডার সুবেদার সুবোদ কুমার, আদাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন, প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার, পিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালু, মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর ও প্রভাষক শরীফুল ইসলাম। সভায় উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত সুধীজন। সভায় অধিকাংশ বক্তা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল হলেও বাল্য বিবাহ ও বিভিন্ন কৌশলে মাদক চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা অবৈধ বা বৈধ ক্লিনিকে ডাক্তারকে না দিয়ে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকে দিয়ে অপারেশন করানোর অভিযোগ উঠে। প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার তার ইউনিয়ন পরিষদের সামনের একটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন দৌলতপুর হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকে দিয়ে ওই ক্লিনিকে অপারেশন করানো হলে এক প্রসুতির মুত্যু হয়। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি। শেষে সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার দৌলতপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। এরপর আরও একটি সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সমসাময়িক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

বিএনপি আবরার হত্যাকান্ডকে আন্দোলনের ইস্যু করতে চায়

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডকে আন্দোলনের ইস্যু করতে চায়। তারা আসলে এ হত্যাকান্ডের বিচার চায় না। ওবায়দুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ অফিসে সমসাময়িক বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বুয়েট ছাত্রদের আন্দোলন ছেড়ে লেখা-পড়ায় মনোযোগ দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, “ বিএনপি আবরার হত্যাকান্ডকে আন্দোলনের ইস্যু করতে চায়” সরকার তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। আবরার হত্যাকান্ডের সাথে সাথে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবরারের বাবা-মাকে এ ঘটনার বিচার দ্রুত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।” বিএনপি তাদের দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার কথা যতটা ভাবছে তার চেয়ে বেশি দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির কথা ভাবছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে সহিংসতা করলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। তবে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে সে ব্যাপারে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। কারণ এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিষয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা দেশে অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠবে তারা আগামীতে মনোনয়ন পাবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গুটি কয়েক লোকের কারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্জন ¤¬ান হতে দেওয়া যায় না। অপরাধীদের মাথায় যারা ছাতা ধরবে তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না এবং যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি । আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কমিটিতে বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘এটি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ। এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।

৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার আরও দু’টি মেট্রোরেল প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীতে যানজট নিরসনসহ গতিশীলতা বাড়াতে ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও দু’টি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন করছে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একনেকের এক সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মোট ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে আনুমানিক মোট আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১লাখ ২৫.২৩ কোটি টাকা। তিনি জানান, ‘মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৩০ হাজার ৪৬৬.০২ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে, ৫১৫.৮৪ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ৬৯ হাজার ৪৩.৩ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসনে আনুমানিক ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাস্ র‌্যাপিড ট্রান্সপোর্ট (এমআরটি) লাইন ১ ও ৫ বাস্তবায়ন করা হবে। দু’টি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ২৫ হাজার ২৩২.৬০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আসবে এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-র কাছ থেকে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৬৮ হাজার ৫৬৭.৩২ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। ঢাকা মাস্ ট্রানজিট সংস্থা লিমিটেড দু’টি প্রকল্পই বাস্তবায়ন করবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেক বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, দুটি মেট্রো লাইন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সীমা ও আনুমানিক ব্যয়ের মধ্যে শেষ করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৫৬১.৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৩ হাজার ১১১.১১ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের অংশ থেকে আসবে এবং বাকি ৩৯ হাজার ৪৫০.৩২ কোটি টাকা জাইকার কাছ থেকে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে আসবে। ‘এমআরটি লাইন-১’ হবে ৩১.২৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬.২১ কিলোমিটার হবে আন্ডারগাউন্ড। আর কুড়িল থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত প্রায় ১১.৩৬ কিলোমিটার হবে এলিভেটেট। এছাড়াও নতুন বাজার থেকে কুড়িল পর্যন্ত ৩.৬৫ কিলোমিটার আন্ডারগাউন্ড ট্রানজিশন লাইন থাকবে। অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫ উত্তর ও দক্ষিণ দু’টি রুটে বিভক্ত। এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮.৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২ হাজার ১২১.৪৯ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও অনুদান থেকে এবং জাইকার কাছ থেকে প্রকল্পের সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। উত্তরের রুটের দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার যার মধ্যে ৬.৫০ কিলোমিটার হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত হবে। এবং আমিনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত ১৩.৫০ কিলোমিটার আন্ডারগাউন্ড হবে। এই প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমআরটি লাইন-৫ হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে আমিনবাজার, গাবতলী, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-১ এবং নতুনবাজার হয়ে ভাটারা গিয়ে শেষ হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্প রাজধানীর যানজটকে অনেকাংশে সহজ করবে। এতে পরিবেশ-বান্ধব, আধুনিক ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে। সরকার বর্তমানে দিয়াবাড়ি, উত্তরা-মতিঝিল এমআরটি লাইন ৬ নির্মাণ করছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (ত্রৈমাসিক) পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সার্বিক অবস্থা প্রকাশকালে মান্নান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো এডিপি বরাদ্দের ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ ব্যয় করতে পারে, যার পরিমান ১৭ হাজার ৩ শ’ ৪৪ কোটি টাকা। একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হার ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, এতে ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৯ শ’ ২৭ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যতে এমআরটি পদ্ধতিতে সড়ক ও রেলের ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি এমআরটি লাইন ১ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় হাতিরঝিলের সৌন্দর্যে ক্ষতিগ্রস্থ না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেছেন। শেখ হাসিনা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ঘণবসতিপূর্ণ এলাকায় শৃঙ্খলা ব্যাহত না করার জন্য পরামর্শ দেন এবং ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত করা যেতে পারে বলেও মত দেন। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবাসিক ভবনগুলোর দরজা-জানালায় মশা-মাছি রোধক নেট লাগাতে এবং বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা, আগুন নির্বাপণ ব্যবস্থা, গাড়ি চালকদের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেন। এর পাশাপাশি সিলিন্ডার গ্যাস বা এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্যও পরামর্শ দেন, কেননা এখন থেকে আর কোন গৃহ সংযোগ দেয়া হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উপকরণের দাম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণে আইএমইডিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সভার শুরুতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফরে তিনটি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো, ১৪ শ’ ৮৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা প্রথম সংশোধিত ব্যয়ে ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের বেগমগঞ্জ থেকে সোনাপুর পর্যন্ত ৪ লেনে উন্নিতকরণ, ৪ শ’ ২১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ডোমার-চিলাহাটি-ডাউলাগঞ্জ এবং ডোমার-জলঢাকা এবং জলঢাকা-ভাদুরদরগাহ-ডিমলা জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্থকরণ, কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট জেলা যথাযথমানে উন্নিতকরণ এবং ৭ শ’ ৩১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে চেনা-জাশোদল-চৌদ্দাশত বাজার সড়ক নির্মাণ। এছাড়া একনেকে আরো কিছু উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়, প্রকল্পগুলো হলো-১৭ শ’ ১৯ কোটি ৪৫ রাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশোধিত বাজেট, ১ হাজার ৮৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ, ১ শ’ ২৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা প্রথম সংশোধিত জজদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ, ৫ শ’ ৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত ইরিগেশন ম্যানেজমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (আইএমআইপি) প্রকল্প এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সিলেটে বন বিভাগের ৭০ কোটি ৪ রাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃঅরণ্যায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন।

বাংলাদেশের প্রথম হিজড়া ভাইস চেয়ারম্যান পিংকী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) একজন নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নাম সাদিয়া আখতার পিংকী। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম হিজড়া ভাইস চেয়ারম্যান। পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শরিফুন্নেছা মিকি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজ হোসেন। জানা গেছে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পিংকী খাতুন তৃতীয় লিঙ্গের। তিনি এবার কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের ভাইস চেয়ারম্যান। এ ছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাসিমা ইসলাম ও মোছা. রুবিনা খাতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান জানান, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শরিফুননেছা মিকি ২৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৫২ ভোট।

তিনি বলেন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ফারুক হোসেন রিয়াজ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তৃতীয় লিঙ্গের সাদিয়া আখতার পিংকী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

দৌলতপুরে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক-১

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ জয়েন উদ্দিন (২৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় দৌলতপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি এলজি ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ ওই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। সে একই এলাকার ফরিদ উদ্দিনের ছেলে। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানের নির্দেশে দৌলতপুর থানা পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে জয়েন উদ্দিনের ঘরের খাটের নীচ থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। তবে জয়েন উদ্দিনের পিতা ফরিদ উদ্দিন তার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য এটা পরিকল্পিত ও সাজানো বলে অভিযোগ করেছেন।

ভর্তি হবেন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে

পরিবারের ইচ্ছাতেই ঢাকা কলেজ থেকে বিদায় নিল আবরার ফাহাদের ছোট ভাই ফায়াজ

নিজ সংবাদ ॥ বড় ছেলে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে হারিয়ে ব্যাথিত বাবা রহমতুল্লাহ ও মা রোকেয়া খাতুন। তাই ছোট ছেলে আবরার ফায়াজকে আর ঢাকায় থেকে পড়তে দিতে চান না তারা। নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক বার শঙ্কা প্রকাশ করার পর অবশেষে ঢাকা কলেজ আর পড়তে দিচ্ছেন না মা-বাবা। ইতিমধ্যে ঢাকা কলেজ থেকে মঙ্গলবার ছাড়পত্র নিয়েছেন ফায়াজ। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে তার ভর্তি হওয়ার কথা রয়েছে। যশোর বোর্ড থেকে সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষকে তাকে ভর্তি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঢাকায় প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ফায়াজ আগামী দুই থেকে তিন দিন পর ফিরে নতুন কলেজে ভর্তি হবেন বলে জানা গেছে।

পরিবার সুত্র জানিয়েছে, ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের একমাত্র ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকায় পড়তে চায় না। মঙ্গলবার দুপুরে ফায়াজ তার বাবা বরকতুল্লাহকে সাথে নিয়ে ঢাকা কলেজ থেকে ছাড়পত্র নেন। ফায়াজ ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে ফায়াজ ঢাকা কলেজ ছেড়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে পড়াশুনা করবে।

জানা যায়, দুইদিন আগে রোববার কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হতে আবেদন করে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ। মঙ্গলবার সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকা কলেজ থেকে ছাড়পত্র নিতে আবেদন করলে তার ছাড়পত্র মঞ্জুর করা হয়।

ঢাকায় অবস্থান করা আবরার ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ বলেন, দুইদিন আগে ফায়াজকে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছি। আজ (গতকাল) ঢাকা কলেজে লিখিত আবেদন করে ছাড়পত্র নিয়েছি। কুষ্টিয়া যেয়ে সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ছোট ছেলে ফায়াজকে ভর্তি করা হবে।

তিনি বলেন, এক ছেলে হারিয়েছি। তাই নানা ভয় থেকে ছোট ছেলেকে আপাতত কাছে রাখতে চাই। ও আর ঢাকায় পড়তে চাচ্ছে না। সব মিলিয়ে তাই নিজেদের কাছে রাখতে চাই।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির বলেন, ‘কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে আসন শুন্য। এটা নিয়ে যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আসা মাত্রই তাকে ভর্তি করানো হবে।

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ সাব্বির বলেন, ঢাকাতে নিয়ে বড় ভাই (ফাহাদ) আমাকে ঢাকা কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন। সব ছিল ভাইয়ের ইচ্ছায়। ঢাকায় ও আমার অভিভাবক ছিল। বাবা-মা ওর হাতেই আমাকে তুলে দিয়েছিল। ভাই আমাকে সেভাবে যতœ ও দেখভাল করতেন।  মেসে পানি নেই, ভাইকে বলতাম, তিনি ব্যবস্থা করে দিতেন। সেই ভাই এখন নেই। কার জন্য ঢাকায় পড়ে থাকব। তাই কুষ্টিয়ায় ফিরে সেখানেই বাবা-মায়ের কাছে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাব আপাতত।

গত ৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। ভাইয়ের এ ঘটনার পর আবরার ফায়াজ ঢাকায় পড়তে অনীহা প্রকাশ করেন।

কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়

মাদক মামলায় এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় নিজ দায়িত্বে মাদকদ্রব্য  হেরোইন রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শামিরুল ইসলাম ওরফে ব্যাঙ সামিরুল নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডসহ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরুপ কুমার গোস্বামী আসামীর অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী শামিরুল ইসলাম ওরফে ব্যাঙ সামিরুল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গরুড়া নাপিতপাড়া গ্রামের সিরাজ সরদারের ছেলে। আদালত সূত্রে জানায়, ২০১৭ সালের ৪ জুন দৌলতপুর থানার এস.আই শরিফুল ইসলাম সংগীয় ফোর্সসহ থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানে  দৌলতপুর থানাধীন তারাগুনিয়া থানা মোড় এলাকায় ডিউটি করাকালীন সময়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, তারাগুনিয়া বাজারে দুইজন ব্যক্তি অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করছে। উক্ত সংবাদ মোবাইল ফোনে অফিসার ইনজার্চকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে সংবাদের সত্যতা যাচাই পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে সংগীয় ফোর্স এবং অফিসারসহ সকাল ১০টায় তারাগুনিয়া বাজারে জনৈক সুমন এর চায়ের দোকানের পাশে মথুরাপুর টু আল্লারদর্গাগামী পাকা রাস্তার উপর পৌঁছানোমাত্র পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন লোক  দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে সংগীয় অফিসার ফোর্সদের সহায়তায় একজন লোককে আটক করেন এবং অপরজন সুকৌশলে দৌড়ে পালিয়ে। জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত আসামী তার নাম মোঃ শামিরুল ইসলাম এবং পলাতক আসামীর নাম মোঃ মোজাম বলে জানায়। এরপর আসামীর দেহ তল্লাশী করে ৫৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে আসামী শামিরুল ইসলাম ওরফে ব্যাঙ সামিরুলের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১) ধারার টেবিলের ১ (খ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং-০৬, তারিখ-০৪-০৬-২০১৭ইং। কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পিপি এ্যাড.অনুপ কুমার নন্দী জানান, পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর শামিরুল ইসলাম ওরফে ব্যাঙ সামিরুলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট জমা দিলে মামলাটি সেশন-১১৭৯/২০১৮ নং মামলায় নথিভূক্ত হয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ স্বাক্ষ্য শুনানি  শেষে আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযাগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় বিচারক ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১) ধারার টেবিলের ১ (খ) এবং ১৯ (৪) ধারা অনুসারে দোষী সাব্যস্ত করে আসামী শামিরুল ইসলাম ওরফে ব্যাঙ সামিরুলকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. মোহাম্মদ আলী।