ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সম্মাননা প্রদান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ জেলা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ কমিউনিটি হেলথ কেয়ার  প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) জেলা শাখা। সংগঠনটির সভাপতি রাশেদ হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা: রাশেদা সুলতানা। সংবর্ধিত অতিথি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস ছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের সচিব রেজাই রাফিন সরকার, জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা: রাশেদ আল মামুন, সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সাজ্জাদ হাসান, হরিণাকুন্ডুর ডা: জামিনুর রশীদ, কোটচাঁদপুরের ডা: আব্দুর রশীদ, কালীগঞ্জের ডা: হুসাইন সাফায়াত, মহেশপুরের নাছির উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিএইচসিপি জেলা শাখর সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা শেষে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসকে সম্মাননা প্রদাণ করা হয়। এসময় বক্তারা, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সকলকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

দৌলতপুরে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দেড় কেজি গাঁজাসহ আহাদ আলী ওরফে সাগর (১৯) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল পৌন ১০টার দিকে  দৌলতপুর থেকে গাঁজাসহ তাকে আটক করে পুলিশ। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানের নির্দেশে দৌলতপুর থানা পুলিশ তুফানের বাড়ির সামনে থেকে দেড় কেজি গাঁজার প্যাকেটসহ মাদক ব্যবসায়ী সাগরকে আটক করে। সে উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন পাকুড়িয়া গ্রামের রবকুল শাহ্র ছেলে।

এক আবরারের বিনিময়ে শত আবরার জন্ম নেবে – মওদুদ

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, আবরার হত্যাকান্ড জাতিকে মর্মাহত করেছে। এক আবরারের বিনিময়ে শত আবরার জন্ম নেবে।শনিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির প্রতিবাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মওদুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং সরকার দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। তারা দুর্নীতির ফাঁদে পড়ে গেছে। সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। কারণ এ ধরনের সরকার টিকতে পারে না।’ আবরার হত্যাকান্ড জাতিকে মর্মাহত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক আবরারের বিনিময়ে শত আবরার জন্ম নেবে।’ সদ্য সম্পন্ন সকল চুক্তি সব ভারতের পক্ষে মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, ‘ফেনী নদীর পানি, বন্দর, রাডার- এসব চুক্তি সব ভারতের পক্ষে। দেশের মানুষ জানে প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে এসেছেন। আনতে পারেননি কিছুই।’ তিনি বলেন, ‘দুই কোটি টাকার মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। জি কে শামীমের থেকে ২০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। সম্রাটকে আটক করেছেন, তাকে মেডিকেলে রেখেছেন। সমগ্র সরকার তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। আর খালেদা জিয়া, তাকে পিজি হাসপাতালে আনতেই এক বছরের বেশি সময় লেগে গেল।’দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মওদুদ বলেন, ‘আজ আন্দোলনের সময়। প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। এ অবৈধ সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেয়া যায় না। এজন্য দরকার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এসহসানুল হুদা, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

 

গাংনীতে প্রতিবন্ধী ছাব্বির হোসেনকে হুইল চেয়ার প্রদান

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী  উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমানের উদ্যোগে গতকাল শনিবার সকালে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছাব্বির হোসেনকে (১০ম শ্রেণির ছাত্র) ১টি হুইল চেয়ার প্রদান করা হয়েছে। চেয়ার প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর হাবিবুল বাসার, উপজেলা সমবায় অফিসার মিলন কুমার দাশ প্রমুখ। এসময় প্রতিবন্ধীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ছাব্বির হোসেন বাওট সোলায়মানি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র।  সে তার জীবন সংগ্রামে একজন বড় মাওলানা হতে চাই। হুইল চেয়ার প্রদান করায় ছাব্বিরের পরিবার ইউএনও দিলারা রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কালুখালীর রতনদিয়া ইউপিতে সদস্য পদে উপ-নির্বাচনে রিয়াজুল ইসলামের ব্যাপক জোয়ার

কালুখালী অফিস ॥ আসন্ন ১৪ অক্টোবর রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউপির ১নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে উপ-নির্বাচনে মোঃ রিয়াজুল ইসলামের ব্যাপক জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ওয়ার্ডের পশ্চিম রতনদিয়া, পূর্ব রতনদিয়া ও রতনদিয়া বাজারের ২২৮৩ জন সাধারণ ভোটারদের পাশে গিয়ে নিজের মোরগ মার্কা প্রতিকে ভোট প্রার্থনা করছেন। গতকাল তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে জনবহুল রতনদিয়া অরুণগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে গণসংযোগ করেন  এবং তার নিজের প্রতিক মোরগ মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য মত বিনিময় করেন। রিয়াজুল ইসলাম অরুণগঞ্জ বাজারের সাবেক সভাপতি এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনক হিসেবে প্রগতি থিয়েটারের দীর্ঘদিন সভাপতিত্ব পালন করেন। সামাজিক সাংস্কৃতিক মানুষ হিসেবে রিয়াজুল সাধারণ মানুষের মাঝে অতি পরিচিত লাভ করায় এ উপ-নির্বাচনে ভোটারেরা তার দিকে মনোনিবেশ করছে। গতকাল প্রচারণা শেষে নির্বাচনের ব্যাপারে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন বিজয় অর্জন করতে পারলে ওয়ার্ডের গরিব-দুখি অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে তাদের খেদমত সহ ন্যায্য অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সব সময় বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য গত ১৮ জুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত ইউপি সদস্য তনয় চক্রবর্তী শম্ভু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় তার এ পদটি শূণ্য হয়।

কুষ্টিয়ায় ইসলামী ছাত্র মজলিসের বার্ষিক সহযোগী সদস্য সমাবেশ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস কুষ্টিয়া জেলা, শহর ও ইবি শাখার বার্ষিক সহযোগী সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকালে জেলা কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও ইবি শাখা সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশ হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শাখা পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করেন সংগঠনের নব মনোনীত  সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ মনির হোসাইন। ২০১৯-২০  সেশনের জন্য কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মনোনীত হন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ রায়হান আলী, সেক্রেটারি মনোনীত হন মনিরুল ইসলাম। কুষ্টিয়া শহর শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, সেক্রেটারি মনোনীত হন আনোয়ারুল কবির। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি নির্বাচিত হন মুহাম্মদ মশিউর রহমান, সেক্রেটারি মনোনীত হন মুহাম্মদ হাসান মাহমুদ। সমাপনী অধিবেশন জেলা সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ মনির হোসাইন। কুষ্টিয়া শহর সভাপতি মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আজিরুল ইসলাম, ছাত্র মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, কুষ্টিয়া জোনের সদ্য বিদায়ী সহ-পরিচালক মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, শহর  সেক্রেটারি আনোয়ারুল কবির, হাসিবুল ইসলাম, নাজমুস সাকিব,  দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

উইপোকা যেন সরকারের উন্নয়ন খেয়ে না ফেলে – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, ‘উইপোকা যেন সরকারের উন্নয়ন খেয়ে না ফেলে। জনগণের সামনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে। শনিবার ১২ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। ‘পরপর তিন বার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে আমাদের দলে অনেক অনুপ্রবেশ ঘটেছে, এখন সবাই আওয়ামী লীগ হতে চায়, সবাই আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠতে চায়’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে আওয়ামী লীগের নৌকায় তোলার প্রয়োজন নেই। যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী ইতোমধ্যেই ঢুকেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা এক সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধাচরণ করতো, তারাও এখন আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠতে চায়।’ তিনি বলেন, একসময় যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধাচরণ করতো, তারা নানাভাবে পদ পদবি পেয়েছে। এ আবর্জনা সম্মেলনের আগেই পরিষ্কার করতে হবে। পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাই পদ-পদবির দাবিদার। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ড. হাছান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। তাই মাদক নির্মূলে দলের সবাইকে কাজ করতে হবে। দলের কারণে আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায়। দল আমাদেরকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে গেছে। কিছু মানুষের কারণে আমাদের দলের দুর্নাম হতে পারে না। তাই এ ব্যাপারে দলের সকল নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী।জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, নারী সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা আহমেদ, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমদ সিআইপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক মুকুল, সাবেক এমপি এথিন রাখাইন প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।জেলা আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা শেষে ড. হাছান মাহমুদ রামু আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভা ও সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত বঙ্গবন্ধু স্মরণে দোয়া ও মেজবানে যোগদান করেন।

 

মিরপুরে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি উদ্যোগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নজরুল করিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন খাঁন, মিরপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক ও পাবলিক প্রসিকিউটর (দুদক) আল মুজাহিদ হোসেন মিঠু, নির্বাহী সদস্য আব্দুল মজিদ, নারগিস আক্তার, জয়শ্রী পাল প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে মিরপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জয়শ্রী পালকে সরকারী প্রশিক্ষণে নিউজিল্যান্ডে যেয়ে সেখান থেকে সঠিকভাবে প্রশিক্ষন সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়া হয়।

 

আবরার হত্যা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত মাঠে নামার চেষ্টা করছে – মেনন

ঢাকা অফিস ॥ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, আবরার হত্যা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত তাদের ভারত বিরোধিতা এবং ধর্মবাদী রাজনীতি নিয়ে নতুনভাবে মাঠে নামার চেষ্টা করছে। জামায়াতের প্রচার মাধ্যমসহ ইতিমধ্যে আবরারকে আগ্রাসন বিরোধী প্রথম শহীদ হিসেবে বর্ণনা করেছে। শনিবার বিকেলে ঢাকা ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মতিঝিল থানা সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর সদস্য মুর্শিদা আখতার নাহারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর সভাপতি আবুল হোসাইন, কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল খালেক, জাকির হোসেন রাজু প্রমুখ। রাশেদ থান মেনন বলেন, আমাদের এই মুহূতের কাজ হচ্ছে উন্নয়নের পক্ষে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা। সেই ইস্যুকে বাদ দিয়ে যারা সমস্ত জনগণের ইস্যুকে ঘুরিয়ে আজকে অন্যদিকে নিয়ে যেতে চায়, তারা আসলে জনগণের বন্ধু হতে পারে না। বাসস

চার রাত হাসপাতালে থেকে আবার কারাগারে সম্রাট

ঢাকা অফিস ॥ হৃদরোগে আক্রান্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহসিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সম্রাটের জন্য গঠিত ৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সবাই শনিবার সকালে তাকে দেখেছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বোর্ডের সদস্যরা মনে করেন, তার হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই। তাই সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. জাহিদ জানান, চিকিৎসকের ছাড়পত্র অনুযায়ী তাকে কারাগারে নেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করায় সম্রাটকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে প্রথমে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তার সহযোগী আরমানকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাদের যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ঢাকার জুয়াড়িদের কাছে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। জুয়া খেলাই তার পেশা ও নেশা। প্রতি মাসে ঢাকার বাইরেও যেতেন জুয়া খেলতে। সম্প্রতি রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এর পর ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এ দুজনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। প্রকাশ্যে চলে আসে সুন্দর অবয়বের আড়ালে সম্রাটের কুৎসিত জগৎ। এতে করে বেকায়দায় পড়েন সম্রাট।

 

আন্দোলন কিভাবে প্রতিহত করতে হয় আ.লীগ জানে – হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে সেনাবাহিনীর ১২০০ কর্মকর্তাকে বিনা বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের ৩৬ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছেন মেজর জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া ও তাদের সন্তান তারেক জিয়া। তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চোখে পানি আসেনি। মা-পুত্র মিলে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন, জঙ্গিবাদের জন্ম দিয়েছেন।শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নত দেশের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যুৎ, কৃষি, আমদানি-রফতানি, তথ্য প্রযুক্তিসহ সর্বক্ষেত্রে যে উন্নয়ন হচ্ছে এসব মির্জা ফখরুল সাহেবের চোখে পড়ে না। তার চোখে ছানি পড়েছে নতুবা হিংসাপরায়ণ। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বহু স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের দরবারে দেশের ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলেছেন শেখ হাসিনা। তারই দলের কর্মী আমরা। দু’একজন ব্যক্তির জন্য দলে কলঙ্ক লাগতে দেব না। তিনি আরও বলেন, ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে দলে কলঙ্ক লাগানো হচ্ছে। অথচ জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে মদ-জুয়ার লাইসেন্স দিয়ে ক্যাসিনো শুরু করেছিলেন। লোকমান ও শামীম বিএনপি থেকে আসা। খালেদার কাছের লোক। শামীম কাদের মাসোহারা দিতেন তার ডায়েরিতে লেখা আছে। সেখানে বিএনপির তিন শীর্ষ নেতার সঙ্গে মির্জা ফখরুলের নামও আছে। হানিফ বলেন, অপরাধীর কোনো দল নেই। আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে। কোনো অপকর্মের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধীর ছাড় নেই। আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লাভ নেই উরেুখ করে হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী সংগঠন। আন্দোলন কিভাবে করতে হয় এবং আন্দোলন কিভাবে প্রতিহত করতে হয় তা আওয়ামী লীগ জানে। আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। হুমকি দিয়ে লাভ নেই। জুড়ী শিশুপার্কে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি নেছার আহমদ। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

দৌলতপুরে বিজিবি’র অভিযানে ১৮৯ বোতল ফেনসিডিল ও চাইনিজ কুড়ালসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিজিবি’র অভিযানে ১৮৯ বোতল ফেনসিডিল ও একটি চাইনিজ কুড়ালসহ সবিতা খাতুন (২৮) নামে এক নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফেনসিডিলসহ ওই নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটক নারী মাদক ব্যবসায়ী একই এলাকার সাজেদুর মন্ডলের মেয়ে এবং সে স্বামী পরিত্যক্তা। বিজিবি সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসা ও মাদক মজুদের গোপন সংবাদ পেয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ মহিষকুন্ডি কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে বিজিবি’র টহল দল মহিষকুন্ডি কলেজপাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সবিতা খাতুনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তার ঘর থেকে বস্তাভর্তি ১৮৯ বোতল ফেনসিডিল ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে। বিজিবি’র অভিযানের খবর পেয়ে একই এলাকার অপর মাদক ব্যবসায়ী সাজেদুর মন্ডল (৪৮) ও তার ছেলে সাগর হোসেন (২৪) এবং জাহাঙ্গীর হোসেন (২৭) পালিয়ে যায়। আটক নারী মাদক ব্যবসায়ী সবিতা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ অসামাজিক কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্র জানিয়েছে। এছাড়াও গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিলগাথুয়া বিওপি’র টহল দল পূর্ব বিলগাথুয়া মাঠে অভিযান চালিয়ে ৩৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।

সভাপতি নবাব ॥ সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু

কালুখালীর কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে উপজেলার  কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার রায়নগর ফাজিল মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী-২ আসনের বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আপনারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করে যাবেন। অনুষ্ঠানে প্রথম অধিবেশনে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আতিউর রহমান নবাব এর সভাপতিত্বে ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন বাচ্চুর সঞ্চালণায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, কালুখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান চৌধুরী (টিটো), পাংশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ হাসান ওদুদ, কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আঃ খালেক মাস্টার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম খায়ের, রায়নগর ফাজিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা মীর মোঃ আব্দুল বাতেন, সরোয়ার হোসে ঠান্ডু, ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন, মনোয়ার হোসেন, আব্দুল জব্বার জুলু,  আরশেদ আলী মধু খান, যুবলীগ সভাপতি গোলাম মোস্তফা এছাড়াও ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম ও নাজির হোসেন  প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় অধিবেশনে উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আঃ খালেক মাষ্টারের সভাপতিত্বে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতিতে প্রস্তাব সমর্থনের মাধ্যমে ব্যাপক সমর্থনে ইউপি চেয়ারম্যান আতিউর রহমান নবাবকে সভাপতি ও আকমল হোসেন বাচ্চু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।

দৌলতপুরে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্যাক মেথড বা বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কুলসুম আরা নামে এক কৃষাণী। এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করে মাত্র ৭ থেকে ৮ মাসে বস্তা প্রতি ৫ থেকে ৬ কেজি আদা সংগ্রহ করা সম্ভব। আর এ পদ্ধতিতে আদা চাষ করতে আলাদা কোন জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা বা বাড়ি ভেতর উঠোনের চারপাশ দিয়ে এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করা সম্ভব। যেমনটি করেছেন দৌলতপুরের পিয়ারপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের কৃষাণী কুলসুম আরা। তিনি বাড়ির ভেতর উঠানের চারপাশ দিয়ে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ করে সাফল্য পেয়ে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম কামাংজ্জামান জানান, কুষ্টিয়া তথা দৌলতপুরের মাটি আদা চাষের উপযোগী না হওয়ায় বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ করে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। আর এরজন্য প্রয়োজন একটি বস্তার অর্ধেক অংশ যার মধ্যে বেলে দোয়াঁস মাটি ৫কেজি, এটেল মাটি ৫কেজি, ধানের তুষ ৫কেজি, ভার্মি কম্পোষ্ট ৫কেজি এবং জীবানু নাশক মেহগনি ফলের গুড়ো ৫০গ্রাম। এগুলো একত্রে মিশিয়ে তার ভেতর ২০০ গ্রাম আদার বীজ বপন করতে হবে। এর থেকেই ২৪০ দিনে প্রতি বস্তায় ৫ থেকে ৬ কেজি আদা উৎপাদন সম্ভব। যার বাজার মূল্য সর্বনিম্ন ৫’শ থেকে ৬’শ টাকা। নিজ বাড়ির আঙিনা বা বাড়ির উঠোনেই এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করে নিজ পরিবারের আদার চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাতকরণ করে আর্থিক চাহিদাও মেটানো সম্ভব। যা করে দেখিয়েছে কুলসুম আরা। দৌলতপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই পদ্ধতিতে আদা চাষ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন।

কুষ্টিয়ায় জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

দুনিয়ার মজদুর এক হও-বাংলার মেহনতি মানুষ এক হও এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ১৯৬৯ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হাতে গড়া সংগঠন  জাতীয় শ্রমিক লীগ, কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে গতকাল শনিবার সকাল ১০ঘটিকার সময়  জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা ও  কেক কাটার মধ্যদিয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়। জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আহবায়ক তাযেম হোসেন ইউসুফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও কেক কাটায় প্রধান অতিথি ছিলেন  জেলা জাতীয়  শ্রমিক লীগের  সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আমজাদ আলী খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন  জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রশীদ, ইয়াকুব আলী, জিল্লুর রহমান, কারিবুল ইসলাম উজির, আব্দুল হামিদ শিরিন,  ইনজান্ড উদ্দিন মিন্টু, হাফিজুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মতিউর রহমান, হামিদুল ইসলাম,  মোহাম্মদ পলাশ মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ  আলমগীর, শাহিনুর ইসলাম, আনোয়ার হোসেন,   লেবু, আফজাল হোসেন, জেলা শ্রমিক লীগের  সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন,  ইলিয়াস খান,  জাহাঙ্গীর আলম, তরিকুল ইসলাম মিন্টু, রাহাত আলী, প্রচার সম্পাদক শংকর বিশ্বাস, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রশিদ, শ্রমিক কল্যান সম্পাদক মাহাবুব হোসেন,  বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদর জামান, জনতা ব্যাংক সিবিএ জহির রায়হান, কৃষি ব্যাংক সিবিএ সাধারণ সম্পাদক এলাহী বক্স,  রেণউইক সিবিএ সভাপতি সেলিম রেজা রিপন, শহর শ্রমিক লীগের সভাপতি দেওয়ান মাহমুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আলতাব হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ প্রচার সম্পাদক আব্দুর রশিদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক খোমনী আহমেদ, কুষ্টিয়া চিনিকলের সিবিএ সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান সাগর, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মাহাবুব আলম, সহ দপ্তর সম্পাদক কাবুল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ইজিবাইক সভাপতি রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সজল আলি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হেলাল আহমেদ, নির্মাণ শ্রমিক লীগ কামরুল ইসলাম নির্বাহী সদস্য মোতালেব  হোসেন, লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, মিরপুর সভাপতি হামিদুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংক সিবিএ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ৬নং ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমির খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী খান বলেন-  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমাদের নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ  দলের ভিতর ও বাহিরে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা করলে হবে না। বাংলাদেশের সমস্ত জেলা শহর উপজেলায় অভিযান চালানোর জন্য দাবি জানান। দুর্নীতিবাজ, জঙ্গি, সন্ত্রাস দমনের জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। চাঁদাবাজ- টেন্ডার ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। দলের আগামী সম্মেলনে বিএনপি-জামাত প্রবেশ করতে না পারে তার দাবী জানিয়ে বলেন অনুপ্রবেশকারীদের বিদায় দিতে হবে। তিনি বলেন জেলা শ্রমিক লীগের কতিপয় নেতা বিদ্যুৎ অফিসে দুর্নীতি করেছে, ওই দুজন কর্মচারীর জন্য যাতে অন্য কর্মচারীরা হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে আহবান জানান। আলোচনা সভা  শেষে কেক কাটার সময়  নেতা কর্মীদের মাঝে এক আনন্দ ঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এরপরে আমজাদ আলী খানের  নেতৃত্বে শহর শ্রমিক লীগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, ডাক ও পোস্টম্যান শ্রমিক লীগ, সদর উপজেলা শ্রমিক লীগ, মাছুদ বিড়ি শ্রমিক লীগ, হরিপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগ, মিরপুর উপজেলা শ্রমিক লীগ, সোনালী ব্যাংক শ্রমিক, পূবালী ব্যাংক শ্রমিক লীগ, সহ শ্রমিক লীগের বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ব্যানারে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে এন.এস রোড, মজমপুর রেলগেট, সার্কিট হাউস, জেলা স্কুল  হয়ে ডিসি কোর্ট চত্বরে গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রায় ৫০০ আম,  মেহেগনি, বকুল ফুলসহ পেয়ারা গাছ উপস্থিত কর্মীদের মাঝে বিতরন করা হয় এবং সমবেত শ্রমিক নেতা-কর্মীদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়। পরিশেষে জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কুষ্টিয়া বিদ্যুৎ অফিসের কিছু গাছ চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার কারনে শ্রমিক লীগের  নেতা কর্মীরা আমজাদ আলী খানের নেতৃত্বে  বিদ্যুৎ অফিসের ভিতরে ১০০টি বিভিন্ন জাতের গাছের চারারোপন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

“খেলাপি ঋণ নিয়ে ‘পাতানো খেলা’ চলছে”

ঢাকা অফিস ॥ খেলাপি ঋণ নিয়ে ‘পাতানো খেলা’ চলছে দাবি করে তা বন্ধ করে সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাংকিং সংস্কার কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছেন অর্থনীতিবিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা বললেও সেটি তিন লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। গতকাল শনিবার জতীয় প্রেস ক্লাবে সুজন আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে উল্টোপাল্টা পদক্ষেপ বন্ধ করুন: ব্যাংকিং সংস্কার কমিশন গঠন করুন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সরকারের প্রতি এই সুপারিশ রাখেন অধ্যাপক মইনুল ইসলাম।সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে আলোচনার সঞ্চালক ছিলেন সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি আবু নাসের বখতিয়ার ও কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মাকসুদ।মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক মইনুল বলেন, সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণ আছে এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে ইনজাংশনের কারণে ঝুলে থাকা ৭৯ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টে আছে ২৭ হাজার ১৯২ কোটি টাকা এবং নিয়মবহির্ভুতভাবে রিশিডিউলিং করা আরও ২১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা।“এই অংকের সাথে অবলোপন করা মন্দ ঋণ যোগ করলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।”তিনি বলেন, “আসলে দেশে ব্যাংক ঋণ নিয়ে একটি পাতানো খেলা চলছে।সমস্যার প্রকৃত রূপটি সরকার, ব্যাংকার এবং ঋণখেলাপি সবারই জানা আছে। সমস্যার সমাধানের উপায় সম্পর্কেও এই তিন পক্ষের সবার স্পষ্ট ধারণা আছে। কিন্তু জেনেশুনেই সরকার সমাধানের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে না। ফলে এখনও দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা রয়ে গেছে রাঘববোয়াল ঋণ খেলাপিদের কাছে আটকে থাকা বিপুল খেলাপি ঋণ।“এই ঋণখেলাপিদের প্রায় সবাই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, মানে তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে, ঋণ ফেরত দেবেন না। কারণ তাদের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি এবং আর্থিক প্রতাপ দিয়ে তারা শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, দেশের সংসদকেও দখল করে ফেলেছেন। এখনতো দেশের শীর্ষ ঋণ খেলাপি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, এটা আমার কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের জোরালো উদ্যোগ না থাকারও সমালোচনা করেন তিনি।“অবলোপন করা মন্দঋণ বাড়া মানেই হল এর ফলে শ্রেণিকৃত ঋণ ওই পরিমাণ কম দেখানো যাবে। মন্দঋণ আদায়ের জন্যে খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে দুই শতাংশ ঋণ প্রাথমিক কিস্তিতে পরিশোধ করে যে দশ বছরের সময় দেওয়ার ব্যবস্থা হল, সে সুবিধা নিয়মনিষ্ঠ ঋণ ফেরতদাতারা পান না।“কিন্তু এধরনের পরিবর্তন খেলাপি ঋণ সমস্যাটিকে আড়াল করার পন্থা হলেও মন্দঋণ আদায় করতে কোনো নিষ্ঠাবান প্রয়াস জোরদার করার লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো একজন ‘ব্যবসায়ী অর্থমন্ত্রী’ তার ঋণ খেলাপি ব্যবসায়ী বন্ধুদের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত দরদ দেখিয়ে উল্টোপাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন।”মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৪-১৯ মেয়াদের সরকারের সময়েও খেলাপি ঋণের অবস্থা সংকটজনক থাকা সত্ত্বেও কোনো ‘রহস্যজনক’ কারণে প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকিং সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টিকে বারবার এড়িয়ে গেছেন।বর্তমান সংসদ সদস্যদের ৬১.৭ শতাংশই ব্যবসায়ী আর তাদের সিংহভাগই ব্যাংকের মালিক বা পরিচালক বলে জানান অধ্যাপক মইনুল।এই অর্থনীতিবিদ খেলাপি ঋণ কমাতে কয়কটি পরামর্শ দিয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- খেলাপি ঋণ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রত্যেক ব্যাংকের শীর্ষ ১০ জন খেলাপিকে দ্রুত শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা। ব্যাংকিং খাতের জন্য আলাদা ন্যায়পাল নিয়োগ, মন্দ ঋণ আদায়ের জন্য ‘ডেট রিকভারি বা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠন, অর্থঋণ আদালতে কোনো ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় হলে জামানত বা বন্ধকী সম্পত্তি নিলাম করার জন্য মামলা করার যে নিয়ম রয়েছে, তা বাতিল করা, প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ দশ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম এক বছরের বেশি তালিকাভুক্ত হলে ওই প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি তার পাসপোর্ট জব্দ করা ইত্যাদি।আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ বলেন, “বঙ্গবন্ধু কখনও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দিয়ে দেশের উন্নয়ন মাপেননি। ১৯৭৪ সালে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধির কথা বঙ্গবন্ধু কোনো দিন কোথাও বলেননি। আর বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে উন্নয়নের পারিমাপক হিসেবে ধরা হচ্ছে।“বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, মানুষের মধ্যে যে সম্পদের পার্থক্য এটিকে কমিয়ে আনতে হবে। অর্থাৎ তিনি বৈষম্য কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে উন্নয়নের কথা বলেছিলেন। অথচ বর্তমানে দেশ চরম বৈষম্যের দেশে পরিণত হয়েছে। ৯৫ জনকে শোষণ করে পাঁচজনের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।” তিনি ‘সমাজ পরিবর্তনের ডাক’ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

দৌলতপুরে মুন্সি ও প্রামানিক পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত-১৫

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে মুন্সি ও প্রামানিক দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কান্দিরপাড়া গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, এলাকার অধিপত্য বিস্তার ও বিয়ে সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রশিদ মুন্সির লোকজন প্রতিপক্ষ মিরাজ প্রমানিককে মারপিট করে। এরই জের ধরে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মিরাজ প্রমানিকের নেতৃত্বে ১৫-১৬জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রশিদ মুন্সির বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে রশিদ মুন্সি, পচাই মুন্সি, মিরাজ প্রামানিক ও লেবু প্রামানিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত: ১৫জন আহত হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। আহতদের মধ্যে রশিদ মুন্সি ও পচাই মুন্সি’র অবস্থা আশংকজনক বলে জানাগেছে। মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে মুন্সি গ্র“প ও প্রমানিব গ্রপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে মুন্সি গ্র“পের রশিদ মুন্সি ও পচাই মুন্সির অবস্থা আশংকাজনক বলে জানাগেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, বর্তমানে আমি ঘটনাস্থলে আছি। দুইপক্ষেরই আহত হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে।

২৭টি প্যানেল তালিকা জমা হওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমিটি ঘোষণা

ক্লিন ইমেজের নেতা-কর্মীদের কমিটিতে স্থান দেয়ার আহবান

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কমিটি ঘোষণা ছাড়াই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায়  রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও জাকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৮নং পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷

পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বিশ্বাসের সভাপতিত্বে গতকাল শনিবার বিকেলে  খেজুরতলা-পাটিকাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী৷ পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও জনপ্রিয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সফর উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা ৷

জাতীয় সংগীত বাঁজিয়ে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডঃ আ.স.ম আক্তারুজ্জামান মাসুম ৷

প্রথম অধিবেশন শেষে পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং ২৭টি প্যানেল তালিকা জমা হওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমিটি ঘোষণা ছাড়াই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ করা হয়৷ এ সময় উপস্থিত নেতারা বলেন, এই কমিটির বিষয়টি উপর মহলের নেতাদের সাথে কথা বলে কমিটি ঘোষণা করা হবে ৷

প্রধান বক্তা আতাউর রহমান আতা বলেছেন, যাদের ভিতরে ক্লিন আমেজ আছে, যারা টেন্ডারবাজি-চাঁদা বাজি ও ক্যাসিনোর সাথে জড়িত না, তাদেরকে কমিটিতে আনতে হবে। আতাউর রহমান আতা বলেন, আমরা দল করি উন্নয়নের জন্য, আমরা দল করি শান্তির জন্য। আওয়ামীলীগ সরকার স্বাধীনতার পর থেকে যত উন্নয়ন করেছে, তার ১ ভাগ উন্নয়নও অন্য কোন দল করেনি। তাই উন্নয়নের স্বার্থেই আওয়ামীলীগ সরকারকে জনগণ আবারো ক্ষমতায় আনবে। তিনি আরো বলেন- বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফ ভাই কুষ্টিয়ার যে উন্নয়ন করেছে, তার ৭০% উন্নয়নমূলক কাজ এখনও বাকি রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে সেই উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন দলের ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে৷ বিতর্কিত, যোগদানকৃত, অনুপ্রবেশকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আওয়ামীলীগে ঠাঁই হবেনা ৷ সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কুষ্টিয়া উন্নয়নের রুপকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির পতাকাতলে মিলিত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। কমিটির নেতৃত্বে যেই আসুক তাকে মেনে নিয়ে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলীয় কাজ করতে হবে। কমিটিতে যেই আসুক তাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মেনে নিয়ে সকল কোন্দল, মনোমালিন্য ভুলে একে অপরের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে হবে ৷

সম্মেলন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বিশ্বাস, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মানিক, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মতিয়ার রহমান, মাযহারুল আলম সুমন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. জিহাদুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডাঃ গোলাম মওলা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেবুন নেছা সবুজ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ শামস তানিম মুক্তি, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক সভাপতি সাইফুদ্দৌলা তরুন, জেলা  স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব বাদশা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লাল্টু রহমান, আফজাল হোসেন শিশির, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহবায়ক ইলিয়াস খান, জহুরুল ইসলাম।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ, গোস্বামী দূর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান দবির উদ্দিন বিশ্বাস, সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা জাফর উল্লাহ, আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারী টুটুল, সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম মিলন চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, মিরপুর উপজেলা কৃষকলীগ নেতা মোশারফ হোসেন মুসা, পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, ইউনিয়ন  স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি লিটন খান এবং পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নে প্রতিটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয় নেতারা তাদের বক্তব্যে বর্তমান সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক সফর উদ্দিনকে পুনরায় সভাপতি ও সাধারন হিসেবে নির্বাচিত করার আহবান জানান। বক্তারা বলেন-বিভিন্ন ইউনিয়নে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের মধ্যে ন্দ্বন্দ্ব বিরাজমান। একমাত্র পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগই দৃষ্টান্ত। সাইদুর রহমান ও সফর আলী তাদের যোগ্য নেতৃত্বে সংগঠনকে দৃঢ় শক্তিশালী করেছে। আওয়ামী বিরোধী এই ইউনিয়ন এখন আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান উজ্জল ৷

নিশ্চয়তা ছাড়া সৌদিতে কাজে না যাবার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ কাজের নিশ্চয়তা না পেলে শ্রমিকদের সৌদি আরবে না যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। শনিবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ আহবান জানান।সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নাই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,“গত কয়েক বছরে সৌদি আরবে অনেকগুলো কর্মক্ষেত্র বন্ধ হয়ে গেছে। “যেসব শ্রমিকের আকামা নেই, তাদেরকেই ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি আরব সরকার।’’ সৌদি আরবে শ্রমিকদের কাজের বৈধ অনুমোদনপত্রকে ‘আকামা’ বা ‘ইকামা’ বলে। অর্থনৈতিক নাজুক পরিস্থিতিতে সৌদি সরকার অবৈধ অভিবাসীদের সেদেশ ত্যাগে বাধ্য করছে।

অনেক ট্রাভেল এজেন্সি অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাচার করছে অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, “অনেক এজেন্সি মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে আদম পাচার করছে। আর এসব এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে কাজ না পেয়ে বিপাকে পড়েন শ্রমিকরা।” বাংলাদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরব অন্যতম শ্রমবাজার। পুরুষ শ্রমিকের পাশপাশি ২০১৫ সালের এক চুক্তির ভিত্তিতে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীও পাঠানো শুরু হয়। গত পাঁচ বছরে প্রায় দুই লাখ নারী গৃহকর্মী পাঠানো হয় মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল মুসলিম দেশটিতে। তবে সেদেশের নিয়োগকর্তাদের যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতনের অভিযোগ তুলে অনেক নারী শ্রমিক দেশে ফিরেও আসে। এছাড়া বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসার জন্য সৌদি সরকারের আগে দুই হাজার রিয়াল ফি নেওয়ার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় এখন থেকে ৩০০ রিয়াল করে ফি নিবে সৌদি সরকার।” এ সময় সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন,সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ,সিলেট মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার উপস্থিত ছিলেন।

অনিক সরকারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ঢাকা অফিস ॥ আবরার ফাহাদ হত্যামামলায় রিমান্ডে থাকা বুয়েটছাত্র অনিক সরকার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।এদিকে গ্রেপ্তার আরেক আসামি মাজেদুর রহমান নওরোজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।হত্যামামলার আরেক আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; এ নিয়ে ছয় দিনে মোট ১৯ জন গ্রেপ্তার হলেন।গত ৬ জুন আবরার খুন হওয়ার পরপরই যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের একজন অনিক। গ্রেপ্তারের পর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ।শনিবার অনিককে ঢাকার আদালতে নিয়ে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন জানায় মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিবি।বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পঞ্চদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী। আবরারের বাবার করা মামলায় আসামি হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, অনিক সরকার ১৬৪ ধারায় জবাববন্দি দিয়েছেন। মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম তার খাস কামরায় আসামির জবানবন্দি নেন।এই হত্যামামলায় এর আগে বুয়েটছাত্র মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও ইফতি মোশাররফ সকাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।গণমাধ্যমে খবর এসেছে, আবরারকে পেটাতে পেটাতে অনিক একটি ক্রিকেট স্ট্যাম্প ভেঙে ফেলেছিলেন বলে ইফতি তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।অনিক জবানবন্দিতে কী বলেছেন- জানতে চাইলে উপ-কমিশনার ফজলুর বলেন, “১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। কী বলেছে, সেটা জানি না।”জবানবন্দি নেওয়ার পর অনিককে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।আবরার হত্যাকান্ডের পর আসামির তালিকায় থাকা মাজেদুল ইসলামকে শুক্রবার সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি জানান, তার নামটি ভুল বলেছে পুলিশ। এই বুয়েটছাত্র সাংবাদিকদের বলেন, “আমার নাম মাজেদুর রহমান নওরোজ। পুলিশ ভুল করে মাজেদুল ইসলাম লিখেছে।” আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় যে মামলাটি করেন, সেখানে আসামির তালিকায় ৮ নম্বরে মাজেদুল ইসলামের নাম রয়েছে। বুয়েটের শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগের কর্মী ও ম্যাটারিয়াল অ্যান্ড ম্যাটার্লজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাজেদকে শনিবার গ্রেপ্তারের সময়ও পুলিশ নাম ‘মাজেদুল’ই বলেছিল। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এই বুয়েটছাত্র বলেন, “সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আমাকে দেখা গেছে কি না, জানি না। আহত অবস্থায় আবরারকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার দলে আমিও ছিলাম। “ ওই সময় বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ সম্পাদক অমিত সাহা হলে ছিলেন না বলে দাবি করেন মাজেদ। মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও অমিত ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। মাজেদকেও ১০ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়েছিল ডিবি। তাদের আবেদনের শুনানি করে পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসী। আদালতে মাজেদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আবরার ফাহাদ হত্যামামলার এজাহারভুক্ত আসামি বুয়েটছাত্র মোয়াজ আবু হুরাইরাকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে ঢাকার উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, এনিয়ে এই হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১৫ জনসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হল। অমিত সাহাসহ চারজনের নাম আবরারের বাবার করা মামলায় না থাকলেও হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মাসুদুর।মোয়াজ বুয়েটের সিএসই বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র।আবরার ছিলেন তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা হলের একটি কক্ষে আবরারকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডে জড়িত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তারা সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগ ইতোমধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কার করেছে।

আবরার হত্যাকান্ডের আরেক আসামি মোয়াজ গ্রেপ্তার

ঢাকা অফিস ॥ আবরার ফাহাদ হত্যামামলার আরেক আসামি বুয়েটছাত্র মোয়াজ আবু হুরাইরা গ্রেপ্তার হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, এনিয়ে এই হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১৫ জনসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হল। গ্রেপ্তার অমিত সাহাসহ চারজনের নাম আবরারের বাবার করা মামলায় না থাকলেও হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মাসুদুর।মোয়াজ বুয়েটের সিএসই বিভাগের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র।আবরার ছিলেন তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা হলের একটি কক্ষে আবরারকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।হত্যাকা-ে জড়িত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তারা সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগ ইতোমধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কার করেছে। আবরার হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিভিন্ন দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ছাড়ছেন না শিক্ষার্থীরা।