আবরার হত্যাকারীদের কঠিনতম শাস্তি হবে – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যারা ‘পিটিয়ে পিটিয়ে অমানবিকভাবে’ হত্যা করেছে, তাদের কঠিনতম শাস্তি হবে। গতকাল বুধবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল, কী করে না করে, আমি কিন্তু সেটা দেখি না। আমার কাছে অপরাধী অপরাধীই। আমরা অপরাধী হিসেবেই দেখি।” রোববার সন্ধ্যায় বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ডেকে নিয়ে যায় হলের কিছু ছাত্রলীগ নেতা। শিবির সন্দেহে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের এক পর্যায়ে গভীর রাতে হলেই তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সাড়ে ছয় ঘণ্টা আবরারের ওপর কীভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে, ছাত্রলীগ কর্মীরা মাতাল অবস্থায় কীভাবে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পিটিয়েছে, সেই বিবরণ ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ নৃসংসতা কেন? এই জঘন্য কাজ কেন? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যতরকমের উচ্চ শাস্তি আছে সেটা দেওয়া হবে। কোন সন্দেহ নেই। দল-টল বুঝি না। অপরাধের বিচার হবেই।” আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে, তা কখনোই মেনে নেবেন না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনা জানার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকে বলেছেন, জড়িতদের যেন বহিষ্কার করা হয়। “…এখানে আমি বিবেচনা করব না কিসের ছাত্রলীগ। অপরাধী অপরাধীই। অন্যায় করেছে, সে অন্যায়কারী। তার বিচার হবে। কারও দাবি-টাবির অপেক্ষায় থাকি না। আগেই আমি নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। গ্রেপ্তার হয়েছে।” ওই ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই ১৩ জনসহ মোট ১৯ জনের নামে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন আবরারের বাবা। ঘটনার পর থেকেই  খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ দশ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের মুখে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জাফর ইকবাল খান ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা খুব সকাল বেলা জানার সঙ্গে সঙ্গে  পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামত সংগ্রহ করার জন্য। সাথে সাথে এটাও বলেছিলাম যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। তারা সেখানে পৌঁছে যায়। আলামত সংগ্রহ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজগুলো দীর্ঘসময় ধরে সংগ্রহ করে। “যখন পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে তখন তাদেরকে ঘেরাও করা হল। তাদেরকে ফুটেজ নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। আইজিপি যোগাযোগ করল, বলল, ‘আমাদের লোকদের আটকে রেখে দিয়েছে। আলামত নিয়ে আসতে দিচ্ছে না’।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফুটেজগুলো আনতে দেবে না কেন? তারা বলছে, ফুটেজগুলো পুলিশ নষ্ট করবে। পুলিশ গেছে আলামত সংগ্রহ করতে। ডেডবডির যাতে পোস্টমর্টেম  হয়, সে ব্যবস্থা করা হল। ছাত্ররা নামার আগেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়াÑ কোন রুম, কোথায়, কারা ছিলো যেটাকে পারো সবকটাকে ধরে অ্যারেস্ট করো। যে কটাকে হাতে পেয়েছি সবগুলোকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে।“ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখানে প্রশ্নটা আমার। পুলিশকে আসতে দেবে না, আলামত নিতে দেবে না। আমি আইজিকে বললাম, বলা যায় না এর মধ্যে কী যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আছে? ফুটেজ পেলে পরে তারা ধরা পড়ে যাবে এজন্য তারা… পরবর্তীতে এই ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে এবং একটা কপি কর্তৃপক্ষকে দিয়ে আসে। সেগুলো দেখে আইডেন্টিফাই করা দরকার ছিল, যেটা করা হচ্ছে এখন।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল কে, কী করে আমি সেটা বিবেচনা করিনি। আমি বিবেচনা করেছিÑ অন্যায়ভাবে একটা বাচ্চা ছেলে ২১ বছরের ছেলে পিটিয়ে পিটিয়ে… কি অমানবিক!“পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখেছেন। বাইরে অত ইনজুরি নেই, সমস্ত ইনজুরি ভিতরে। যে জিনিসটা আমার মনে পড়লৃ ২০০১ সালে বহু নেতা-কর্মীকে এমনভাবে পিটানো হত, বাইরে থেকে ইনজুরি নেই, তারা মারা যেত।”শেখ হাসিনা বলেন, “স্বাভাবিকভাবে এটা সন্দেহের বিষয়। এরা কারা? হ্যাঁ, ক্ষমতায় থাকলে অনেকে দল করতে আসে। কিছু লোকতো আছে পার্মানেন্ট গভর্মেন্ট পার্টি।ৃ এরকম কিছু থাকে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা আমার পার্টির এটাতো আমি কখনোই মেনে নেব না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি। সবগুলোকে বহিষ্কার করতে বলেছি। পুলিশকে বলেছি অ্যারেস্ট করতে। ” কারা পুলিশকে ফুটেজ নিতে বাধা দিয়েছে, তা খুঁজে দেখতে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফুটেজ হাতে পাওয়ার পর বেছে বেছে বের করতে পুলিশের জন্য সুবিধা হয়েছে। এটা একটু খোঁজ করেন, কেন বাধা দেওয়া হল। তিনটে ঘণ্টা সময় কেন নষ্ট করল? আমি জানি না এর উত্তর আছে কিনা। আন্দোলনই বা কিসের জন্য? বিচার হবেই।”

কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে ফাহাদ স্মরণে দোয়া মাহফিলে তাঁর বাবা বরকতল্লহ

প্রধানমন্ত্রী জানেন স্বজন হারানোর ব্যাথা, তিনি সিসি ফুটেজ দেখলে আমার বিশ্বাস ফাহাদ হত্যাকান্ডে জড়িতরা দ্রুত সময়ে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে

নিজ সংবাদ ॥ নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা বকতুল্ল¬াহ বুয়েট কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-সিসি ফুটেজে যাদের দেখা গেছে মামলায় তাদের অনেকেই বাদ দেয়া হয়েছে। যার নেতৃত্বে টর্চার করা হয়েছে তাকেই মামলায় আসামী করা হয়নি। তিনি বাদ পড়াদের মামলায় অন্তর্ভূক্ত করার জোর দাবী জানান। এছাড়াও তিনি সরকারের এখন পর্যন্ত পদক্ষেপে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন প্রধানমন্ত্রী জানেন স্বজন হারানোর ব্যাথা। তিনি যদি সিসি ফুটেজ দেখেন তাহলে আমার বিশ্বাস আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে জড়িতরা দ্রুত সময়ে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে। নিহত বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ছাত্র আবরার ফাহাদ স্মরণে দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জিলা স্কুল ক্যাম্পাসস্থ মসজিদে আবরার ফাহাদের সহপাঠি ও জিলা স্কুল কর্তৃপক্ষ  এক  দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান

আতা তার বক্তব্যে বলেন- সন্তান হারানোর বেদনা ভুলিয়ে দেওয়া যায় না। তবে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন তা করা হবে। কোনো অন্যায়কারী ও দু®কৃতকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। এসময় অন্যান্যের মধ্যে জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এফতেখাইরুল ইসলামসহ আবরারের সহপাঠি, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সকল শিক্ষার্থী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

ভারতে এলপিজি যাবে, প্রাকৃতিক গ্যাস নয় – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ এলপিজি রপ্তানি করবে, প্রাকৃতিক গ্যাস নয়; এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিরও কোনো অবকাশ নেই। গতকাল বুধবার বিকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।  শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা বিদেশ থেকে এলপিজি এনে প্রক্রিয়াজাত করে ভারতে রপ্তানি করব। এতে করে আমাদের ভ্যালু এড হবে। সেই গ্যাস আমরা রপ্তানি করব। এটা প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। বরং আমাদের রপ্তানির তালিকায় নতুন একটি পণ্য যুক্ত হবে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলপিজি প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, এটা বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না। বিদেশ থেকে কিনে আনা অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম শোধন করার সময় বাই প্রডাক্ট হিসেবে কিছুটা এলপিজি পাওয়া যায়। আবার গ্যাস উত্তোলনের সময় কিছুটা তেল পাওয়া যায়, যা থেকে অকটেন ও পেট্রোলের পাশাপাশি সামান্য এলপিজি পাওয়া যায়। আমাদের দেশে আগে খুব অল্প পরিমাণ এলজিপি তৈরি হত। এখন সরকার এলপিজি আমদানি করে দেশে বোতলজাত করতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ২৬টি প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে আমদানি করা এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছে। ১৮টি কোম্পানি নিজস্ব প্ল্যান্ট থেকে এলপিজি প্রক্রিয়াজাত করার সঙ্গে যুক্ত আছে। এসব তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা ত্রিপুরায় যে গ্যাসটা দিচ্ছি এটা কিন্তু সেই এলপিজি, বটল গ্যাস। আমরা আমদানি করছি বাল্কে, আমরা বোতলজাত করে নিজেদের দেশে যেমন সরবরাহ করছি, সেই গ্যাসই আমরা কিছু ত্রিপুরায় দিচ্ছি। এটা হচ্ছে বাস্তবতা “ সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ভারত সফরের সময় গত ৫ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার একটিতে ভারতের ত্রিপুরায় এলপিজি রপ্তানির কথা বলা হয়েছে। নয়া দিল্লিতে ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর জল্পনা শুরু হয় যে, বাংলাদেশের গ্যাস সঙ্কটের মধ্যে ভারতে কেন রপ্তানি করা হবে। ওই চুক্তিকে ‘দেশবিরোধী চুক্তি’ আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি জানায় বিএনপি। এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু মঙ্গলবার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশের কোনও গ্যাস ভারতে রপ্তানি হবে না। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে এলপিজি আমদানি করে তা ভারতে রপ্তানি করবে।”

আর বুধবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করে দেবে এটা কখনও হতে পারে না। বরং যে যে সমস্যাগুলো ছিল সেগুলো একে একে সমাধান করেছি।” তিনি বলেন, “যারা এর বিরোধিতায় সোচ্চার মানে, বিএনপি, ২০০১ সালের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। আমেরিকা গ্যাস বিক্রির জন্য বলেছিল, আমি বলেছিলাম দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা তারপর বিক্রি করব। যে কারণে ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। আর যারা গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছে বলছে, তারাই গ্যাস দেবে বলে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, সেটা বিএনপি-জামায়াত জোট।” দেশের এলপিজি খাত সংশি¬ষ্টরা জানিয়েছেন, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বার্ষিক এলপিজির বার্ষিক চাহিদা অন্তত ১২ মিলিয়ন টন। সেখানে বর্তমানে যে অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে তাতে বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে অন্তত ২০ হাজার টন এলপিজি রপ্তানি সম্ভব।ইতোমধ্যেই গত আগস্টে বেক্সিমকো এলপিজিসহ আরও একটি প্রতিষ্ঠান ত্রিপুরায় পরীক্ষামূলকভাবে এলপিজি রপ্তানি করেছে।মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিপুরার ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরা যদি কিছু চায় তাদেরকে আমাদের দিতে হবে। ১৯৭১ সালের কথা যারা মনে রাখবেন, আমাদের দেশের মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়ে ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিল। “তারা আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল, খাদ্য দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিপুরায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটা ঘাঁটি ছিল। ওখান থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করা হত। ত্রিপুরা আমাদের জন্য বিরাট একটা শক্তি ছিল।”

নিহত বুয়েট ছাত্র ফাহাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তোপের মুখে বুয়েট উপাচার্য

এসপির নির্দেশনায় ধৈর্য্যরে পরিচয় দেয় পুলিশ

ফাহাদের মায়ের সাথে দেখা না করেই পুলিশ প্রহরায় দ্রুত সটকে পড়লেন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নির্যাতনে নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে ঢোকার সময় এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থল  থেকে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যের পাহারায় দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তিনি। এ সময় স্থাণীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠলে পুলিশ, র‌্যাব সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতারা সবাইকে শান্ত থাকার আহবান জানান। আবরার ফাহাদের ছোট ভাই ও তার পরিবারের লোকজনের অভিযোগ পুলিশের কয়েকজন সদস্যের হামলায় আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ও তার ফুফাতো ভাবী তমা আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী পরিবার সূত্র জানায়, আবরার হত্যার দুইদিন পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। গতকাল বুধবার বিকাল চারটায় কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে আবরারের কবর জিয়ারত করতে যান তিনি। তার আগে বিকেল ৪টায় সড়ক পথে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে পৌঁছান। সেখান থেকে জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারন সম্পাদক আজগর আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতাসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বুয়েটের ভিসি আবরার ফাহাদের বাড়ির সামনে আসার আগেই কয়েক’শ নারী সেখানে অবস্থান নেয়। তারা আবরার হত্যাকারীদের ফাঁসি চেয়ে মিছিল করেন। ভিসি গাড়ি নিয়ে বাড়ি প্রবেশ করার সময় নারীদের বাঁধার মুখে পড়েন। এ সময় আবরার হত্যার প্রতিবাদ করেন তারা। নারীরা ভিসির কাছে জানতে চান, ৩৬ ঘন্টা পর কেন আপনি আবরারের বাড়িতে আসলেন, কেন জানাযায় গেলেন না’ এমন প্রশ্ন করে ভিসির গাড়ী ঘিরে ধরেন। এ সময় বিক্ষোভ প্রদর্শন ও জনগন উত্তেজিত হয়ে মারমুখী হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে শঙ্কায় পুলিশ ও র‌্যাবের পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তিনি চলে যাওয়ার সময় ভূয়া ভুয়া বলে মিছিল করে এলাকার লোকজন। কিছু সময় মিছিল করার পর এলাকার লোকজন শান্ত হয়ে যান। বিক্ষোভকারীরাও চলে যান। পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা চলে যায় এলাকা থেকে।

এসময় আবরারের বাবা তার সঙ্গে ছিলেন। এর আগে থেকেই পুলিশ ও র‌্যাব যৌথভাবে নিরাপত্তা বলায় তৈরী করেন বুয়েট উপাচার্যের আগমন উপলক্ষে। পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাঁদরে ঘিরে ফেলে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মিও উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারত করে উপাচার্য কুষ্টিয়ার এসপি এস এম তানভীর আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে আবরার ফাহাদের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। এসময় ফাহাদের ফুফাতো ভাবী তমা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিসিকে বহনকারী গাড়ী ভেবে পুলিশ সুপারের গাড়ির  গতিরোধ করে। পরে তিনি রাস্তার ওপর শুয়ে পরে বিক্ষোভ জানান। মহিলা পুলিশ সদস্যরা তাকে রাস্তার ওপর থেকে তুলে পার্শ্ববর্তী স্থানে রেখে আসেন। এরপর উপাচার্যকে প্রতিরোধ করতে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেন হাজারো নারী-পুরুষ। একপর্যায়ে উপাচার্যকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন নিহত আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ। এসময় উৎসুক জনতার ভীড় সামাল দিতে কুষ্টিয়া জেলা ডিবি পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তির মধ্যে পুলিশের এক কর্মকর্তার হাতের কনুইতে আঘাতপ্রাপ্ত হয় আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ। এতে এলাকাবাসি ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এসময় এলাকাবাসীর হাতে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন দেখা যায়। বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করায় এলাকার লোকজন মারমুখী হয়ে উঠলে পুলিশ বাঁশি মেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। এ সময় লোকজন আতঙ্কে দৌঁড় দেয়। পরে এলাকাবাসীর ক্ষিপ্ততায় পুলিশ ও র‌্যাবের সহযোগীতায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন বুয়েট উপাচার্য।

ভিসি কবর জেয়ারতের আগে ঈদগাহে অবস্থান করা আবরার ফাহাদের দাদা ও বাবার সাথে কথা বলেন। এ সময় তার দাদা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ভিসির কাছে জানতে চান, আমার নাতিকে কারা মারলো, আমার নাতি খুব ভালো ছেলে, কেন তাকে মারা হলো। ভিসি এ সময় দাদাকে শান্তনা জানান। এ সময় এলাকার উত্তেজিত লোকজন ভিসিকে নানা প্রশ্ন করেন। ভিসি এ সময় এড়িয়ে যান এসব প্রশ্ন।

সাংবাদিকরা ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামকে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করেন। তিনি পদত্যাগ করবেন কি-না এ প্রশ্নের জবাবে বুয়েট ভিসি বলেন, এখন পদত্যাগের বিষয়ে কথা বলতে চাই না। আমি বুয়েট শিক্ষার্থীদের সবগুলো দাবির সঙ্গে একমত। এগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমি না আসলেও কাজ করেছি। আমি শিক্ষকদের সাথে সভা করেছি। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই মোতাবেক কাজ করছি। ছাত্রদের সব দাবির সাথে আমি একমত। সব দাবি মেনে নেয়া হবে। কোন খুনি ছাড় পাবে না। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়ই এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করেন। তবে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুনের সাথে দেখা না করেই চলে যান তিনি।

ফাহাদের ছোট ভাই ফায়াজ অভিযোগ করেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করেছেন। তার হাতের গুতোই আমার বুকে আঘাত লেগেছে। আমি এর প্রতিবাদ জানায়। আমার ভাই মারা গেছে, আমরা ব্যাথিত। এ ধরনের আচরন কাম্য নয়।’

আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, আমার ছেলে মারা গেছে। সে আর ফিরে আসবে না। ভিসির ভূমিকা আরো শক্ত হওয়ার দরকার ছিল। দেরিতে হলে তিনি এসেছেন এ জন্য তাকে ধন্যবাদ। তিনি আমাদের অতিথি। তবে সবার মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এ থেকে কেউ কেউ নিজের ক্ষোভের কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে দায়িত্ব নিয়ে সব কিছু দেখছেন। তার ওপর আস্থা রয়েছে। আশা করছি আবরার ফাহাদের হত্যার কঠোর বিচার হবে।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ ভিসি আমাদের অতিথি। তাকে সম্মান জানানো উচিত ছিল। আবরার ফাহাদের মৃত্যুতে আমরা সবাই ব্যাথিত। এলাকার একটি মহল বুয়েটের ভিসি আসাকে ঘিরে পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। তবে আইন-শৃংখলা বাহিনী ধর্য্যরে সাথে সব কিছু মোকাবেলা করেছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। আর পুলিশ কারো উপরই হামলা বা লাঠিচার্জ করেনি। এমন ঘটনা ঘটেনি। হুড়োহুড়িতে কেউ আহত হয়ে থাকতে পারেন।’

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, ভিসি আবরার ফাহাদের এলাকা থেকে ফিরেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। তিনি শহরে এসে আর কোথাও অবস্থান না করে ঢাকায় চলে যান।

যৌন জীবন নিয়ে মুখ খুললেন সালমান খান

বিনোদন বাজার ॥ সালমান খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই তার ভক্তদের। বলিউডের এলিজেবল ব্যাচেলর বলা হয় তাকে। একাধিক নারীর সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন অনেক।

সংগীতা বিজলানি, সোমি আলী, ঐশ্বরিয়া রাই, স্নেহা উলাল, ক্যাটরিনা কাইফ, জেরিন খান, লুলিয়া এমনই দীর্ঘ সালমান খানের প্রেমিকার তালিকা। না, এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি সাল্লু ভাই।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে এখনো বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাকে। মজার ছলেই উত্তর দেন সালমান খান। কিন্তু এবার আর বিয়ে নিয়ে নয়, তার কাছে জানতে চাওয়া হয় তার যৌন জীবন সম্পর্কে।

বলিউড সুপারস্টার সালমান খান বলেন, ‘যৌনতা আর বিয়ে এর কোনটাই এখনও আমার জীবনে ঘটেনি। এখনো সিঙ্গেল লাইফ পার করছি। বেশ আছি একা।’

সম্প্রতি ‘ফ্রেকি আলি’-র ট্রেলর লঞ্চ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ছিলেন সালমান খান। সেখানে তাকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখের পড়েন তিনি। আর তার জবাবে সালমান বললেন, ‘সেক্স আর বিয়ে কোনটাই আমার জীবনে এখনও ঘটেনি। আর বিয়ে করলে সেটা সকলকে জানিয়েই করবো।’

প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সালমান ভারতের মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলার। তাই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেই বিয়ের প্রশ্নটা তার জন্য কমন। তিনিও বরাবরই মজা করেই এই প্রশ্নের উত্তর দেন।

অভিশাপে যেন ধ্বংস হয়ে যায় এই অসুস্থ সমাজ: অভিনেত্রী শাওন

বিনোদন বাজার ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন দেশ-বিদেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

কেউ রাজপথে নেমে, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লোমহর্ষক এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করছেন।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার। এর জের ধরে রোববার রাতে আবরারকে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

আবরারের ক্ষত-বিক্ষত পিঠের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ছবি দেখে চোখের পানি ফেলছেন দল-মত নির্বিশেষে সবাই। অনেকেই ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাসের পাশাপাশি জানাচ্ছেন তীব্র প্রতিবাদ।

এবার সেই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। আবরার হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন মেহের আফরোজ শাওন।

তিনি লিখেছেন, বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ‘৬৯ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আমার বাবা। সারা জীবন তার মুখে গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন ছিল আমারও। ভর্তি পরীক্ষার ফরম তোলার সময় ঢাকার বাইরে থাকায় পরীক্ষাই দিতে পারিনি আমি! সেই দুঃখ ভোলার জন্য প্রায়ই ভেবেছি পুত্রদ্বয়ের যে কোনো একজন যেন এই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার হতে পারে।

এ প্রতিষ্ঠানের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেরই ছাত্র ছিল আবরার। আবরারের কথা ভাবি আর আমার পুত্রদ্বয়ের মুখের দিকে তাকাই। আমার বুক কাঁপে। বাচ্চা দুটোর পিঠ হাত-পা’র ওপর হাত বুলিয়ে দেই। ছোটবেলায় এরকম ছোট ছোট হাত পা-ই তো ছিল আবরারের! তার মা কত রাত পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে তাকে!

একেকটা আঘাতে ছেলেটা কি ‘মা গো’ বলে চিৎকার দিয়েছিল? ‘মা গো’ ডাক শুনে খুনি ছেলেগুলোর কি একটুও নিজের মার কথা মনে পড়েনি। ঠিক কতবার। কতক্ষণ ধরে, কতটুকু আঘাত করলে ২০-২১ বছরের একটা তরুণ ছেলে মরেই যায়। আমি আর ভাবতে পারি না।

ফেসবুকে আবরারের পিঠটার ছবি দেখলাম। কি ভয়ংকর। কি নৃশংস। কি কষ্ট। এ ছবিটা যেন তার বাবা-মা’র চোখে না পড়ে। ভুল বলেছি। আবরারের বাবা, আবরারের মা তাদের বাবুটার ক্ষতবিক্ষত পিঠে হাত বুলিয়ে যেন অভিশাপ দেন মানুষের মতো দেখতে খুনি অমানুষগুলোকে। তাদের অভিশাপে যেন ধ্বংস হয়ে যায় এই অসুস্থ সমাজ।

নুসরাতকে ভুলে গিয়েছি। আবরারকেও ভুলে যাব বিচার চাই বলে লাভ আছে কিনা জানি না- তবুও বিচার চাই।

হত্যার হুমকিতে যা বললেন নুসরাত

বিনোদন বাজার ॥ টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য নুসরাত জাহান এবার দুর্গাপূজায় মহাঅষ্টমীতে স্বামীর সঙ্গে পূজামন্ডপে গিয়ে অঞ্জলি দেন। একজন মুসলিম হয়ে পূজায় অংশ নেয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

হত্যার হুমকির নিয়ে নুসরাত বলেন, বিষয়টি নিয়ে একদম ভাবছি না। কারণ যারা এই ধরনের কথা বলেন তারা এই কথা পর্যন্ত থাকেন। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তাছাড়া ধর্ম নিয়ে কারও বাড়াবাড়ি করা একদম উচিৎ নয়। আমি মুসলিম না হিন্দু তা মানুষের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করবে। তাই ধর্মের বিষয়টি নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি আমিও করতে চাই না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার মহাঅষ্টমীতে শাড়ি ও সিঁদুর পরে তিনি স্বামীর সঙ্গে পূজা মন্ডপে গিয়ে পূজা দেন। চোখ বন্ধ রেখে হাতজোড় করে অঞ্জলির মন্ত্রপাঠ ও প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি স্বামীর সঙ্গে ঢাক বাজান এবং নাচেনও। সামাজিক ও গণমাধ্যমগুলোতে তার এই ভিডিও ও ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেসের আসাম রাজ্যের আইটি সেলের এক কর্মী নুসরাতকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করছেন নুসরাতের পক্ষে, তারা দাবি করেন সালমান, শাহরুখ, আমির খানরা পূজায় অংশ নিলে কেনো কথা হয় না।

ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের একজন পন্ডিত মুফতি আসাদ কাশমী বলেন, ‘এটা নতুন কিছু নয়। তিনি হিন্দু দেবতাকে পূজা দিচ্ছেন, যদিও ইসলামের অনুসারীদের প্রতি নির্দেশ রয়েছে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো উপাসনা না করার। তিনি যা করেছেন তা হারাম। নুসরাত তার ধর্মের বাইরে বিয়ে করেছেন।’

আবারও শুভেচ্ছাদূত হলেন মৌসুমী

বিনোদন বাজার ॥ শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটছে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরই মধ্যে নতুন একটি কাজের খবর দিলেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি সেবামূলক কাজেও অংশ নেন মৌসুমী। তার অনেকটা অর্থের বিনিময়ে, আবার কিছুকিছু কাজ থাকে বিনা পারিশ্রমিকে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও কাজ করছেন এ নায়িকা।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল সংস্থা ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন। হয়েছেন বিভিন্ন কোম্পানির বিশেষ পণ্যের শুভেচ্ছাদূত। এবার একটি চারতারকা হোটেলের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। পর্যটন শহর কক্সবাজার হিমছড়ি মেরিন ড্রাইভের পাশেই এ হোটেলের অবস্থান। নাম ‘বে-হিলস হোটেল’। সম্প্রতি হোটেলটির সঙ্গে মৌসুমীর আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনসহ প্রচারণার কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন, ‘শুধু বিজ্ঞাপনই নয়, প্রতিষ্ঠানটির কিছু সেবামূলক কাজেও অংশ নেব।’ এদিকে নির্বাচনের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। যা কিছু ঘটছে সেটা সবাই দেখছেন, শুনছেন। ভোটাররা আমার সঙ্গে আছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আমি জয়ী হব- এটাই আশা করছি।’

পরিবেশবাদী অগ্নিকন্যা থানবার্গে মুগ্ধ কিম কারদাশিয়ান

বিনোদন বাজার ॥ ১৬ বছর বয়সী সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থানবার্গ। কিন্তু তার কাহিনী কিছুটা আলাদা।

তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন কিশোরীসুলভ কোনো কাজের মাধ্যমে নয়, বরং বিশ্বনেতাদের মুখে ঝামা ঘষে দেয়ার মতো এক বক্তৃতার মাধ্যমে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভার সময় জলবায়ু নিয়ে বিশ্বনেতাদের ব্যর্থতায় তার জ্বালাময়ী ভাষণ বিশ্বজুড়ে তোলপাড় হয়।

গ্রেটা বলেছিলেন, বিশ্বনেতারা আমাদের শৈশব চুরি করেছে। যে সময় আমাদের সাগরের ওই পাড়ে ছোট স্কুলটিতে থাকার কথা, সেই সময় আমাদের পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করতে হচ্ছে।

তাকে ভূষিত করা হয় অগ্নিকন্যা উপাধিতে। এবার এই পরিবেশবাদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মার্কিন মডেল ও অভিনেত্রী কিম কারদাশিয়ান (৩৮)।

তাকে বিস্ময় কন্যা ও প্রতিভাবান উল্লেখ করে কিম কারদাশিয়ান বলেন, গ্রেটা থানবার্গের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।

আর্মেনিয়া ভ্রমণকালে এ মার্কিন তারকা সেখানকার এক টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, তার মতো সৎ সাহসী হতে হবে আমাদের।

আর্মেনিয়ার রাজধানী এরেভানে ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন ইনফরমেশন টেকনোলজির সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন কিম কারদাশিয়ান।

‘সাপলুডু’ যাচ্ছে বিদেশে

বিনোদন বাজার ॥ গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘সাপলুডু’ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সিনেমাটি এবার ৭টি দেশে চলবে।

পরিচালক দোদুল জানান, ১২ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনির দুই শহরে সাপলুডু দেখানো হবে। ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ইতালির রোমে প্রদর্শিত হবে। নিউইয়র্ক, ডালাস ও ক্যালিফোর্নিয়াতে প্রদর্শিত হবে আগামী ২৫ অক্টোবর। একই দিনে কানাডার টরন্টো ও মন্ট্রিয়েলেও দেখানো হবে ছবিটি। তারপর ২৬ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসি, ১ ও ২ নভেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ৩ নভেম্বর সান ফ্রান্সিসকোতে চলবে ‘সাপলুডু’।

তিনি আরো জানান, দুবাই, কাতার, কুয়েতসহ আরও কয়েকটি দেশে ছবিটির প্রদর্শন হবে। আরবি ভাষায় ছবিটির সাবটাইটেলও করা হয়েছে।

প্রদর্শনীগুলোতে অংশ নিতে আগামী ১৬ অক্টোবর ইতালি যাচ্ছেন ‘সাপলুডু’র নায়ক আরিফিন শুভ। ‘সাপলুডু’তে আরো অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মীম, তারিক আনাম খান, জাহিদ হাসান, সালাহউদ্দিন লাভলু, ইন্তেখাব দিনার, শতাব্দী ওয়াদুদ, মৌসুমি হামিদ প্রমুখ।

বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত সিনেমাটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ৪২টি সিনেমা হলে মুক্তি পায় ‘সাপলুডু’। বর্তমানে ৩০টি হলে চলছে।

চার কোটি বাজেটের ‘মেকআপ’

বিনোদন বাজার ॥ বাংলা সিনেমার বর্তমানে দুর্দিন চলছে। এ মুহূর্তে কেউ যখন এখানে বিনিয়োগের সাহস পাচ্ছে না, সেখানে ‘মেকআপ’ নির্মিত হয়েছে চার কোটি টাকা ব্যয়ে। এমনটাই জানালেন সিনেমাটির পরিচালক অনন্য মামুন। তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি দর্শকদের একটি ভালো ছবি উপহার দিতে। তাই এর বাজেটে কোনো ছাড় দিইনি। এক গানেই আমরা খরচ করেছি ৭০ লাখ টাকা। গ¬্যামার দুনিয়ার বাহারি উজ্জ্বল রং, চাকচিক্য দেখে মুগ্ধ সবাই। কিন্তু তার উল্টো পিঠে কী থাকে? বর্ণহীন, ধূসর, মলিন জীবন। এসব ঘটনা নিয়েই সিনেমা ‘মেকআপ’।

অনন্য মামুন বলেন, চলচ্চিত্রের অনেক শিল্পীই শুধুমাত্র ক্যারিয়ারের কথা ভেবে গোপন করে তাদের সংসারসহ জীবনের অনেক সত্য। কিন্তু দিন শেষে সবাইকে ফিরে যেতে হয় তার আপন ঠিকানায়, সেখানে মেকআপের কোনো আবরণ থাকে না, থাকে শুধু সত্য। মেকআপ দিয়ে সব লুকানো গেলেও কষ্ট আর আবেগ লুকানো যায় না। ‘মেকআপ’-এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, রোশান, নবাগত নিপা আহমেদ রিয়েলি, সাইফ চন্দন, শিশুশিল্পী নমনী, কাজী উজ্জ্বল ও কলকাতার পায়েল মুখার্জী ও বিশ্বজিৎ মুখার্জী।

বর্তমানে এর সত্তর শতাংশ শুটিং শেষ হয়েছে। শুটিং হয়েছে ভারতের রামুজি ফিল্ম সিটি, বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ ও ঢাকায়। বাকি শুটিং খুব শিগগিরই শেষ হবে। প্রাথমিকভাবে পরিচালকের ইচ্ছে ‘মেকআপ’ ১৫ নভেম্বর মুক্তি দেয়া। প্রথম অবস্থায় বাংলাদেশ ও ভারতে একযোগে মুক্তি দেয়া হবে। এরপর বিশ্বব্যাপী মুক্তি দেয়া হবে। এ ছাড়া ভারতীয় একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হবে। নতুন প্রযোজনা সংস্থা সেলিব্রেটি প্রোডাকশন ‘মেকআপ’ প্রযোজনা করছে। তারা বছরে তিনটি করে সিনেমা প্রযোজনা করবে।

যেভাবে চাষ করবেন পানি কচু

কৃষি প্রতিবেদক ॥ যে সব কচু দাঁড়ানো বা স্থির পানিতে চাষ করা যায় তাকে পানি কচু বলে। পানি কচুর বিভিন্ন নাম রয়েছে। কচুতে ভিটামিন এ এবং প্রচুর পরিমাণে লৌহ রয়েছে। তাই সুস্বাদু সবজি হিসেবে চাষ করতে পারেন পানি কচু। মাটি ঃ পলি দো-আঁশ ও এটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উপযুক্ত। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই এর চাষাবাদ করা যায়। বৈশিষ্ট্য ঃ কচুর লতি লম্বায় ৯০-১০০ সেন্টিমিটার। এটি সামান্য চেপ্টা ও সবুজ হয়। বোঁটা এবং পাতার সংযোগস্থলের উপরিভাগের রং বেগুনি। জীবনকাল ১৮০-২১০ দিন। চারা ঃ আগাম ফসলের জন্য কার্তিক (মধ্য-অক্টোবর থেকে মধ্য-নভেস্বর), নাবী ফসলের জন্য মধ্য-ফাল্গুন থেকে মধ্য-বৈশাখ (মার্চ-এপ্রিল) মাসে লাগানো যায়। দক্ষিণাঞ্চলে বছরের যে কোনো সময় লাগানো যায়। প্রতি শতকে প্রায় ১৫০টি লতা রোপণ করা যায়। জমি ভালোভাবে তৈরি করে লাইন থেকে লাইন ২ ফুট এবং গাছ থেকে গাছ ১.৫ ফুট দূরত্ব রাখতে হবে। সার ঃ প্রতি শতকে ইউরিয়া ৬০০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ৭৫০ গ্রাম এবং গোবর ৫০ কেজি দিতে হবে। গোবর, টিএসপি এবং এমওপি সার জমি তৈরির শেষ সময়ে দিতে হবে। ইউরিয়া ২-৩ কিস্তিতে দিতে হয়, তবে প্রথম কিস্তি রোপণের ২০-২৫ দিনের মধ্যে দেওয়া দরকার। সেচ ঃ পানি কচুর গোড়ায় দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে এবং দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিতে হবে। লতিরাজ জাতের জন্য দাঁড়ানো পানির গভীরতা ৮-১০ সেন্টিমিটার হওয়া দরকার। রোগ ঃ পাতার উপর বেগুনি থেকে বাদামি রঙের গোলাকার দাগ পড়ে। পরবর্তীতে এ দাগ আকারে বেড়ে একত্রিত হয়ে যায় এবং পাতা ঝলসে যায়। পরে তা কচু ও কন্দে ছড়িয়ে যায়। উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্র আবহাওয়া ও পরপর ৩-৪ দিন বৃষ্টি হলে এ রোগের মাত্রা খুব বেড়ে যায়। তাই রোগ দেখার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রিডোমিল এমজেড-৭২ ডব্লিউ অথবা ডাইথেন এম ৪৫ মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ৩-৪ বার দিতে হবে। দেওয়ার আগে ট্রিকস মিশিয়ে নিতে হয়। সংগ্রহ ঃ চারা রোপণের ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে।

সৌদি ফুটবলে নজিরবিহীন কান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এক আশ্চর্যজনক ঘটনার সাক্ষী হলো ফুটবলবিশ্ব। অতীতে এমন নজির আর নেই। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) প্লাগ খুলে মোবাইল ফোন চার্জে দিয়েছেন মাঠের কর্মী। এ জেরে খেলাও সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার আল হাসার প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন জালাউই স্টেডিয়ামে এ নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। সৌদি আরব প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে ওই রাতে মুখোমুখি হয় আল ফাতে ও আল-নাসার। ম্যাচের একপর্যায়ে ভিএআরের প্লাগ খুলে মোবাইল ফোন চার্জে দেন ভিডিও রেফারি। ফলে এটি কার্যকারিতা হারায়। এ জন্য বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। পরে অবশ্য খেলা মাঠে গড়ায়। ম্যাচে শেষ হাসি হাসে আল নাসার। ১-০ গোলে আল ফাতেকে হারায় তারা। জয়সূচক গোলটি করেন ফিরাস আল-বুরাইকান। এ ঘটনার পর ভিএআরর খুঁত ধরেছেন সৌদি আরবিট্রেশন কমিটির চেয়ারম্যান ফার্নান্দো ত্রিসাকো। তিনি বলেন, সফটওয়্যার হিসাবে ভিএআরের এখনও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। অভিনব এ কান্ড প্রকাশ্যে আসার পর হতবাক হয়েছেন সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টরা। অবশ্য বিষয়টি নিছক মজার ছলে নিয়েছেন তারা।

ফ্রান্স দল থেকে ছিটকে গেলেন এমবাপে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ২০২০ ইউরো বাছাইয়ে আইসল্যান্ড ও তুরস্ক ম্যাচের আগে আবারও ধাক্কা খেল ফ্রান্স। চোটের কারণে অধিনায়ক ও গোলরক্ষক উগো লরিসকে হারানোর পর তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপেকেও পাচ্ছে না দলটি। পিএসজির এই তারকা খেলোয়াড়ের পরিবর্তে বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ ফরোয়ার্ড আলাসান প্লেয়ার দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি মঙ্গলবার নিশ্চিত করে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন। বাড়তি সতর্কতার জন্য সদ্য উরুর চোট কাটিয়ে ওঠা ২০ বছর বয়সী তারকাকে ইউরো বাছাইয়ে না খেলানোর জন্য পিএসজির পক্ষ থেকে ফ্রান্স কোচ দেশমকে অনুরোধ জানানো হয়। একই কারণে গত শনিবার লিগ ওয়ানে অঁজির বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে এমবাপেকে খেলাননি পিএসজি কোচ টমাস টুখেল। পুনর্বাসন চালিয়ে যেতে ক্লাবে ফিরবেন এমবাপে। ১৮ অক্টোবর লিগে নিসের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি ফিরতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরো বাছাইয়ে আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে একটায় আইসল্যান্ডের মাঠে খেলবে ফ্রান্স। তিন দিন পর ঘরের মাঠে গ্র“পের শীর্ষে থাকা তুরস্কের মুখোমুখি হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

 

মার্তিনেস ও দিবালাকে নিয়ে আশাবাদী আর্জেন্টিনা কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আর্জেন্টিনা দলে দুই ফরোয়ার্ড পাওলো দিবালা ও লাউতারো মার্তিনেসের উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখছেন দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে একটায় ডর্টমুন্ডের সিগনাল ইদুনা পার্কে জার্মানির মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ইউভেন্তুস তারকা দিবালা ও ইন্টার মিলানে খেলা মার্তিনেসের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন কোচ। “আমি মনে করি, পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাঝে তারা অনেক বছর আর্জেন্টিনা দলে খেলবেতারা ভালো বন্ধু এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা এই জার্সির ভবিষ্যত। গত রোববারের ম্যাচটি ছিল (সেরি আয় ইন্টার মিলান বনাম ইউভেন্তুস) দারুণ এবং আমরা আশা করি তারা একসঙ্গে (বুধবার) ভালো খেলবে।” ইতালিয়ান শীর্ষ লিগের ম্যাচটিতে ইউভেন্তুসের ২-১ ব্যবধানের জয়ে গোল করেছিলেন দুজনেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় থাকায় দলে নেই অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গত কোপা আমেরিকার পর থেকে দুই তারকা আনহেল দি মারিয়া ও সের্হিও আগুয়েরোও নেই দলে। আর কোপা লিবের্তাদোরেস ম্যাচের জন্য স্কালোনির দলে রাখা হয়নি বোকা জুনিয়র্স ও রিভার প্লেটের কোনো খেলোয়াড়কে। আসন্ন কোপা আমেরিকা ও আগামী বছর শুরু হতে যাওয়া ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইকে সামনে রেখে চূড়ান্ত দল গঠনের এটাই শেষ ধাপ বলে মনে করছেন স্কালোনি। জার্মানি ম্যাচের পর আগামী রোববার আরেক প্রীতি ম্যাচে একুয়েডরের মুখোমুখি হবে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে মেয়েদের ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অ্যালিসা হিলির দাপুটে সেঞ্চুরিতে সিরিজের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জিতেছে টানা ১৮ ম্যাচে, গড়েছে মেয়েদের ওয়ানডে ক্রিকেটে টানা জয়ের রেকর্ড। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেলিন্দা ক্লার্কের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরাই গড়েছিল টানা ১৭ ম্যাচ জয়ের আগের রেকর্ডটি। ব্রিজবেনে বুধবার ৯ উইকেটের জয়ে সেই রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছে মেগ ল্যানিংয়ের দল। গত বছরের মার্চে ভারতের বরোদায় স্বাগতিকদের হারিয়ে শুরু হয়েছিল এবারের জয় যাত্রা। পরের ১৮ মাসে প্রতিপক্ষের মাঠে ১২টি ম্যাচ জেতার পাশাপাশি ঘরের মাঠে ৬ ম্যাচ জেতে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। তৃতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে চামারি আতাপাত্তুর দারুণ সেঞ্চুরির পরও ৫০ ওভারে ১৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১০৩ রান করেন সফরে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করা আতাপাত্তু। রান তাড়ায় দারুণ ছন্দে থাকা হিলির বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে পাত্তা পায়নি লঙ্কানরা। ৭১ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার এই কিপার-ব্যাটার অপরাজিত থাকেন ১১২ রানে। আরেক ওপেনার র‌্যাচেল হেইন্স করেন ৬৩ রান। ছেলেদের ও মেয়েদের মিলে ওয়ানডেতে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটাও অস্ট্রেলিয়ার। ২০০৩ সালে টানা ২১ ম্যাচ জিতে সে রেকর্ড গড়ে রিকি পন্টিংয়ের দল। সে বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় হওয়া বিশ্বকাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ম্যাচগুলোও আছে এই রেকর্ডের ভেতরে।