বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকারীদের বিচার দাবীতে কুষ্টিয়া  প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের দাফন গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তার নিজ বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় সম্পন্ন হয়েছে। দাফন শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় আবরার ফাহাদ হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার মমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি জান্নাতুল  ফেরদৌস জিনিয়া, সহ-সভাপতি অর্পণ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাব্বি আলামিন, সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন কৃষ্ণ শীল, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, দপ্তর সম্পাদক জুলিয়া পারভীন প্রমুখ। বক্তরা বলেন, যারা মানুষের কথা বলে,  দেশের কথা বলে তাদের মৃত্যু নেই, তারা সব সময় রয়ে যায় মানুষের হৃদয়ে। আর যারা ওই দেশ প্রেমিকদের হত্যা করে তাদেরকে ঘৃনার পাত্র হয়ে অমানুষের খেতাব নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। মানববন্ধনে আবরার ফাহাদকে হত্যাকারীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানানো হয়।

আবরারকে নির্যাতনকারীরা ছিলেন ‘মদ্যপ’, তদন্তে পেল ছাত্রলীগ

ঢাকা অফিস ॥ বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উঠেছে, ছাত্রলীগের সেই নেতাকর্মীরা তখন ‘মাতাল’ ছিলেন বলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে। বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারের উপর নির্যাতন কয়েক ঘণ্টা ধরে চললেও তখন হল প্রশাসন ‘নির্লিপ্ত’ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনটি। হলের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্য স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ চুক্তির সমালোচনা করে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর গত রোববার রাত ৮টার দিকে হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নেওয়া হয় তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (সপ্তদশ ব্যাচ) শিক্ষার্থী আবরারকে। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে হলে ফিরেছিলেন। এরপর রাত ২টার দিকে হলের সিঁড়িতে আবরারের লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে সোমবারই বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ সংগঠনটির ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণমাধ্যমে আসা একটি ফুটেজে দেখা যায়, মধ্যরাতে একটি ছেলেকে হাতের উপর করে বারান্দা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন, তাদের পেছনে পেছনে এগিয়ে আসেন আরও বেশ কয়েকজন। ছাত্রলীগের তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ বলছেন, দোষীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তারাও ওই ভিডিও ফুটেজ বিবেচনায় নিয়েছেন। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই সোমবার এ ঘটনায় বুয়েটের ১১ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে  ছাত্রলীগ। ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, “সেদিন রাতে (রোববার) যারা এই কা-টি ঘটিয়েছে তারা পুজায় গিয়েছিলেন। সেখানে তারা মদ পান করেছিলেন। তারা সবাই মারাত্মক রকমের ড্রাঙ্ক ছিলেন। তাদের মধ্যে মানবিকতা বলে কিছুই ছিল না। “সেখান থেকে এসে তারা একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আবরারকে তার ১০১১ নম্বর রুম থেকে ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। যার প্রেক্ষিতে আবরারের মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটে।” তার ভাষ্যমতে, আবরারকে নির্যাতনের ওই কক্ষে তিন থেকে চারজন শিক্ষার্থী থাকেন। “অন্যান্য রুমের কিছু লোক এই নির্যাতনে অংশ নিয়েছিলেন।” নির্যাতনের সময় বাইরে থেকে কেউ চিৎকার-আর্তনাদ শোনার খবর জানা গেছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যখন কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে, তখন এগুলো বাইরে যায় না। তখন দরজা-জানালা বন্ধ থাকে বলে আমরা জানতে পেরেছি।” নির্যাতনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে আবরার মোবাইলে তার বন্ধু ও সহপাঠীদের সাহায্য চেয়ে সাড়া পাননি বলে এই ছাত্রলীগ নেতার দাবি। তিনি বলেন, “তদন্তে আরও পেয়েছি, ওই রাতে বার্সালোনার খেলা ছিল। পূজা থেকে এসে আবরারকে শারীরিক নির্যাতনের পর তারা বার্সেলোনার খেলা দেখতে চলে গিয়েছিলেন। আবরার এই ফাঁকে তার এক বন্ধুকে ফোন করে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তার বন্ধু তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেননি। সে আসলে এমন একটি অপমৃত্যুর মতো ঘটনা নাও ঘটতে পারত।”  সোমবার আবরার হত্যাকান্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী প্রতিবাদ-সমালোচনার মখে ইয়াজ আল রিয়াদের সঙ্গে  সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারকে দিয়ে এই তদন্ত কমিটি করে ছাত্রলীগ। রিয়াদ বলেন, “কমিটি করার পর আমরা তৎক্ষণাৎ সেখানে যাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বে যারা আছেন সবার সাথে কথা বলার চেষ্টা করি।” ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তার আগেই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। হলের মধ্যে অন্য ছাত্রদের হাতে নির্যাতিত হয়ে আবরারের মৃত্যুর জন্য প্রশাসনের ‘দায়িত্বহীনতা ও নির্লিপ্ততাকেও’ দায়ী করেছেন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ। তিনি বলেন, “হলের মধ্যে রাতভর কয়েক ঘণ্টা ধরে একটা ছাত্রকে নির্যাতন করা হলেও প্রশাসন কেন বিষয়টি জানতে পারল না? হলের প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষকরা তাহলে কী দায়িত্ব পালন করলেন? “এই ঘটনায় প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা কোনোভাবেই এর দায়ভার এড়াতে পারে না।” তাছাড়া ফেইসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারও মত প্রকাশে ছাত্রলীগ বাধা হতে পারে না বলেও মত দেন তিনি। রিয়াদ বলেন, “ছাত্রলীগ কখনও কারও ব্যক্তিগত মত প্রকাশে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে না। এমনটি করার অধিকারও নেই। যার যার মত তিনি প্রকাশ করবেন। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের কেউ যদি কারও মত প্রকাশের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। “রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রয়েছে নিজের মতামত প্রকাশ করার। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেউ যদি কারও মত প্রকাশের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অপকর্ম করে তাহলে ছাত্রলীগ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।”

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি থাকার দরকার নেই – শিক্ষক সমিতি

ঢাকা  অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি থাকার দরকার নেই বলে মনে করছেন বুয়েট শিক্ষক সমিতি। মঙ্গলবার বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম মাকসুদ এ মন্তব্য করেন। আবরার হত্যার ঘটনায় এক লিখিত বক্তব্য শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনস্থলে গিয়ে তিনি একথা বলেন। অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে আমার মনে হয় না যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি থাকার দরকার আছে। বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।’ তবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা না বলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি উপাচার্যকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা বলতে পারি। এখানে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।’ লিখিত বক্তব্যে বুয়েট প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে বুয়েট শিক্ষক সমিতির অভিযোগ করেছে। গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা আবাসিক হলের ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হবে এবং মৃত্যুবরণ করবে তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষকেরা বলেন, একাডেমিক ভবন, আবাসিক হলসহ সমগ্র ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। আবরারকে হত্যা প্রমাণ করেছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

তারা বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন ও র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় দোষীতদের শাস্তি প্রদানে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। যার ফলশ্র“তিতে আবরার হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, এর দায় কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। আবরারকে হত্যায় জড়িত শিক্ষার্থীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান শিক্ষকেরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান তারা। পরে বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন। আবরার হত্যায় জড়িতদের শাস্তির জোরালো দাবি জানান তিনি। উল্লেখ্য, রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রায়ডাঙ্গা গোরস্থানে চিরশায়িত

খুনিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

সবার ভালবাসায় সিক্ত হয়ে শেষ বিদায় নিলেন আবরার ফাহাদ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আবরার ফাহাদ রাব্বির বাবা-মা দু’জনেই শহরে থাকেন। আর আবরার ফাহাদ ও আবরার ফায়াজ দুই ভাই লেখাপড়ার সুবাদে থাকতেন ঢাকায়। প্রতি শুক্রবার গ্রামের বাড়িতে আবরারের দাদা-দাদিকে দেখতে আসতেন তার বাবা-মা। অন্য চাচারাও আসতেন। আর ছুটি পেলে কুষ্টিয়া আসলেই দাদা-দাদিকে দেখতে গ্রামের বাড়ি রায়ডাঙ্গায় আসতেন দুই ভাই। গ্রামের সবাই আবরারদের দুই ভাইকে চিনতেন ও ভালবাসতেন। তবে আর কখেনো রায়ডাঙ্গায় আসবেন না আবরার ফাহাদ। স্থানীয়রা তাদের প্রিয় আবরারকে ভালবাসা, অশ্র“ বেদনা ভরা হৃদয় নিয়ে শেষ বিদায় জানিয়েছে। আর হত্যাকারিদের প্রতি ছিল তাদের ঘৃণাভরা ক্ষোভ।

তাই জানাযা শেষে এলাকার মানুষ রাস্তায় নেমে তাদের প্রিয় সন্তান আবরার ফাহাদের হত্যাকারিদের ফাঁসি দাবি করেন। তারা মানববন্ধন ও সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানান।

এর আগে ভোর সাড়ে ৫টায় শহরের পিটিআই রোডের বাসায় প্রিয় ছেলের মরদেহ নিয়ে ফেরেন বাবা বরকতুল্লাহ। এ সময় লাশবাহি গাড়ির কাছে এসে ছেলের মুখ দেখে আর্তনাতে ভেঙ্গে পড়েন রোকেয়া খাতুন। ছেলের ক্ষত-বিক্ষত শরীর দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছিলেনা। প্রিয় ছেলেকে শেষবার দেখে বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মা রোকেয়া। ছেলেকে নির্দয়ভাবে হত্যার বিচার চান মা রোকেয়া। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ছেলেকে এভাবে পিটিয়ে মারলো পাষন্ডরা। তাদেরওতো ভাই আছে, স্বজন আছে। একবারও কি তাদের বুক কাঁপলো না।’ আমার সোনাকে যারা মারলো তাদের ফাঁসি চাই।

ফজরের নামাজ শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বাসার সামনের সড়কে দ্বিতীয় জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতাসহ স্থানীয় রাজনীতিবিদ, এলাকাবাসী ও মুসল্লীরা অংশ নেন।

জানাযার নামাজের আগে আবরার ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ বলেন,‘ সিসি ফুটেজে দেখা গেছে কারা হত্যার সাথে জড়িত। হত্যার পর আমার ছেলের মরদেহ ফেলার আগে তারা দুই থেকে তিন বার বাইরে আনে, আবার ভিতরে নিয়ে যায়। মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে খুনিরা। এখন দ্রুত সাজা কার্যকর চাই।  সাংবাদিক ও ছাত্ররা অনেক ভূমিকা রেখেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তার সারা দেহের সেই চিহৃ বলে দেয় কি নির্মমভাবে তাকে পেটানো হয়েছে। আমার ছেলে বাঁচার আকুতি জানিয়েও রক্ষা পাইনি। ছেলেরা কষ্ট পাবে বলে জীবনে তাদের গায়ে হাত দেয়নি, আর সেই ছেলেকে মরতে হলো এমনভাবে।, এ কষ্ট সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।’

সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আবরারের মরদেহ বহনকারি অ্যাম্বুলেন্স আসে তার গ্রামের বাড়িতে।

মরদেহ আবরারের গ্রামের বাড়ি রায়ডাঙ্গা বিশ্বাস বাড়িতে পৌছলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। বৃদ্ধ দাদা এবং দাদী তার বড় নাতী আবরারের লাশ দেখে মুর্ছা যান। তারা চিৎকার দিয়ে বিলাপ বকতে থাকেন। সত্তরউর্ধো দাদা আবুল কাশেম বিশ্বাসকে মঙ্গলবার সকালেই নাতীর মৃত্যুর খবর জানানো হয় আর দাদী মৃত্যুর খবর পেয়ে সোমবারই কুষ্টিয়া শহরের বাসায় গিয়েছিল। মঙ্গলবার ভোর থেকেই রায়ডাঙ্গা গ্রামের এই বিশ্বাস বাড়িতে ফাহাদের লাশ দেখার জন্য হাজার হাজার নারী ও পুরষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ফাহাদের লাশ পৌছানোর খবরে মহিলা পুরুষসহ সব বয়সের মানুষেরা সেখানে ভিড় জমায়। সোয়া ১ঘন্টা ফাহাদদের বাগান বাড়িতে লাশবাহি গাড়ি থাকে। সেখানে ফাহাদের লাশ জনগন শেষবারের মত দেখেন। আত্মীয় স্বজনের পাশাপাশি সাধারন মানুষকে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে। বিশেষ করে মহিলাদের বিলাপ করতে দেখা গেছে।

আবরারের লাশের কফিন খুলতেই দাদা আব্দুল গফুর কফিনের ওপরের ডালা মাথায় নিয়ে ঘোরা শুরু করেন। কফিনের এই ডালা তিনি যতœ করে নিজের কাছে রেখে দিবেন বলে জানান। এ সময় এক অন্য রকম পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আবরারের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার দাদা-দাদি। প্রতিবেশিরাও অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা প্রিয় আবরারের এ মৃত্যুতে ব্যাথিত।

ফাহাদের গ্রামের বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ  মোতায়েন ছিল। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার দিশা, কুষ্টিয়া ও কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সাড়ে ৯টার দিকে আবরারের মরদেহবাহি অ্যাম্বুলেন্স বাড়ি থেকে রওনা দেয় গোরস্থানের দিকে। বিদায় বেলায় পুরো বাড়ি ও আশেপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বনজরা। ১০টায় রায়ডাঙ্গায় গোরস্থানে দাফনের জন্য আবরারের মরদেহ রাখা হয়। সেখানে কথা বলেন আবরারের ফুফা ও তার বাবা।  এ সময় সবার কাছে আবরারের জন্য দুআ চাওয়া হয়। পুরো ঈদগাহ ময়দান লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। অনেকে সড়কে দাঁড়িয়ে জানাযার নামাজ আদায় করেন। পরে আবরারকে শায়িত করা হয় গোরস্থানে। দাফন শেষে আবরারের আত্মার শান্তি কামনা করে দুআ করেন সবাই।

জানাযার নামাজ শেষ হলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েন। তাদের হাতে ছিল ব্যানার, ফেষ্টুন ও প্ল্যাকার্ড। ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় খুনিদের ঠাঁই নাই, শেখ হাসিনার বাংলায় খুনিদের ঠাঁই নাই, ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই, আবরার হত্যার ফাঁসি চাই’ এমন আওয়াজে পুরো এলাকা কম্পিত হয়ে উঠে।

দাফনের কিছু সময় পরই আকাশ জুড়ে মেঘ করে। নেমে আসে বৃষ্টি। সবার সাথে আকাশো কাঁদলো মেধাবী আবরারের জন্য।

জানাযা ও মরদেহ এলাকায় আসাকে ঘিরে আগে থেকে জেলা পুলিশ প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তাই বিপুল সংখ্যাক ফোর্স মোতায়েন করা হয় এলাকায়।

এলাকার মেম্বার রিপন উদ্দিন বলেন, আবরার আমাদের গ্রামের, জেলার এমনকি দেশের সম্পদ ছিল। তাকে কেন কি কারনে হত্যা করা হলো। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তারা হত্যাকান্ডেকে ধামাচাপা দিতে চাইছিল তারা। সারা দেশের মানুষ দেখেছে কিভাবে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর আর কোন আবরার যে এমন হত্যা শিকার না হয়।

প্রতিবেশি নজরুল ইসলাম বলেন,‘ খুনিরা কোনদিন ছাত্র হতে পারে না। আববার ছিল মেধাবী ছাত্র। খুনিরা তাকে নিমর্মভাবে হত্যা করেছে। আমরা একজন মেধাবী ছেলে ও স্বজনকে হারালাম। এ হত্যার কঠোর সাজা চাই।

দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাস বলেন, আমার নাতি কি অপরাধ করেছিল, যে তাকে হত্যা করা হলো। আমি এ হত্যার কঠিন বিচার চাই। এমন মৃত্যু কারো কাম্য নয়। তিনি বলেন, আমার নাতিকে যারা শিবির বানাতে চাই তাদের উদ্দেশ্য বলব, ৭০ সাল থেকে আওয়ামী লীগে করে আসছি। আমরা কোন হাইব্রিড আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি, তার পরিবারকে ভালবাসি। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর এ আসনের সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়ার সাথে রাজনীতি করেছি। তাই কোন অপবাদ দিবেন না। খুনিদের শাস্তির ব্যবস্থা করুণ।’

আবরার হত্যা মামলা ডিবির হাতে

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। “মঙ্গলবার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়েছে,” বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার বিকালে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে সকালে জানিয়েছিলেন চকবাজার থানার ওসি সোহরাব হোসেন। আবরার হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকতুল্লাহ সোমবার চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এর মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতয়ি বর্ষ), সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতয়ি বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ), মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না। মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে পাঠিয়ে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। রোববার রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সহপাঠীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

আবরার হত্যাকান্ডে আরও ৩ বুয়েট ছাত্র গ্রেপ্তার

ঢাকা অফিস ॥ আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে বুয়েটের আরও তিন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলেন- মনিরুজ্জামান মনির (২১), মো. আকাশ হোসেন (২১) ও শামসুল আরেফিন রাফাত (২১)। এই তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, এই তিনজন আবরারের বাবার করা মামলার এজাহার নামীয় আসামি। গ্রেপ্তার অভিযানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বলেন, “আজ (মঙ্গলবার) বিকালে ডেমরা থেকে মনিরকে এবং জিগাতলা থেকে রাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয় সন্ধ্যায় গাজীপুর বাইপাস সড়ক থেকে।” মনির বুয়েটের ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ষোড়শ ব্যাচের তৃতীয় বর্ষে, আকাশ একই ব্যাচের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে এবং রাফাত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সপ্তদশ ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এনিয়ে এজাহারভুক্ত ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ; এর মধ্যে ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আরাফাত লেলিন বলেন, “বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে আমাদের অভিযান চলছে।”

আবরার হত্যার দুদিন পর শিক্ষার্থীদের সামনে তোপের মুখে বুয়েট ভিসি

ঢাকা অফিস ॥ আবরার ফাহাদ হত্যার দুদিন পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে এসে তোপের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে তিনি ‘নীতিগতভাবে’ একমত। কিন্তু সাত দফা দাবি সুনির্দিষ্টভাবে মেনে নেওয়ার কথা তিনি না বলায় উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ করা না হলে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়াও ঘোষণা রয়েছে তাদের। রোববার গভীর রাতে শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধারের পর সোমবার সারাদিন সিসিটিভি ফুটেজের দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। সেই ফুটেজের ভিত্তিতে মামলা করেন আবরারের বাবা, পুলিশ বুয়েট ছাত্রলীগের দশ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বুয়েট শহীদ মিনার এলাকায় সমবেত হন। সেখানে সাত দফা দাবিনামা তুলে ধরেন তারা। তার মধ্যে উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি, তা তাকে ক্যাম্পাসে এসে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ব্যাখ্যা করতে হবে। উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বিকাল সোয়া ৪টার পর ক্যাম্পাসে এলেও শহীদ মিনারে বিক্ষোভস্থলে না গিয়ে নিজের কার্যালয়ে চলে যান। দিনভর শহীদ মিনার চত্বরে বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীরা বিকাল ৫টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে ভিসির অফিসের নিচে অবস্থান নেন। শ তিনেক শিক্ষার্থীর ওই অবস্থান থেকে শ্লোগান ওঠে- ‘ভিসি স্যর নীরব কেন, জবাব চাই দিতে হবে’, ‘আমার ভাই কবরে, ভিসি কেন ভেতরে’, ‘প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই দিতে হবে’। সেই সঙ্গে চলতে তাদের মূল শ্লোগান-  ‘আবরারের খুনিদের, ফাঁসি চাই দিতে হবে’। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার পর উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম দোতলা থেকে নেমে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সামনে এলে শুরু হয় হট্টগোল। উপাচার্য দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করার কথা জানালেও শিক্ষার্থী সুনির্দিষ্ট ঘোষণার দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকেন। ঘটনাস্থলে ভিসির অনুপস্থিতি নিয়েও একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন তারা। প্রায় আধা ঘণ্টা এ অবস্থা চলার পর আলোচনা অমীমাংসিত রেখেই উপাচার্য আবার উপরে তার কার্যালয়ে চলে যান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিচে হাতে তালি আর শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের ৭ দফা ঃ  খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে তাদের আজীবন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বল্পতম সময়ে আবরার হত্যা মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি, তা তাকে ক্যাম্পাসে এসে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ব্যাখ্যা করতে হবে। ছাত্রকল্যাণ শিক্ষককেও (ডিএসডবি¬উ) বিকাল ৫ টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে। আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। আহসানউল্লা হল ও সোহরাওয়ার্দী হলে ঘটা আগের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে বাতিল করতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। মামলার খরচ এবং আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। বুয়েট শিক্ষার্থীরা সকালে শহীদ মিনার এলাকায় বিক্ষোভ শুরুর পর একদল সাবেক শিক্ষার্থীও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল মিছিল করে এসে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বুয়েট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে বুয়েট শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিরা সমাবেশস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। আবরার ফাহাদের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম মাসুদ।

তিনি বলেন, “আমরা অভিভাবক হিসেবে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা- শিক্ষকরা বলি, প্রশাসন বলি, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি।” বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বুয়েট শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার থেকে পলাশী হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যায়। সেখান থেকে বুয়েটের পূর্ব প্রান্তে খেলার মাঠ হয়ে তারা আবার বুয়েট শহীদ মিনারে ফিরে আসে। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবরারের জন্য গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল হয়। গায়েবানা জানাজার পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, “ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তির বিরোধিতা করায় আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। আবরারের রক্তস্নাত দেশবিরোধী চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।” ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক কয়েকটি চুক্তি নিয়ে ফেইসবুকে মন্তব্যের সূত্র ধরে শিবির সন্দেহে আবরারকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। ওই ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ গ্রেপ্তার দশজনকে মঙ্গলবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। আর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাংগঠনিক তদন্তের ভিত্তিতে আগের রাতেই বুয়েট ছাত্রলীগের ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে।

হকিতে ওমানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ হকি দল ওমানকে প্রথম ম্যাচে উড়িয়ে দিয়েছে। আগামী বছরের জুনিয়র এশিয়া কাপ ও জুনিয়র বিশ্বকাপ বাছাই সামনে রেখে ওমান অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫-১ গোলে জিতেছে মামুনুর রশীদের দল। তৃতীয় মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দলকে এগিয়ে নেন আশরাফুল ইসলাম। চার মিনিট পর আরশাদ হোসেনের ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এরপর সোহানুর রহমান সুবজ পেনাল্টি কর্নার থেকে ও ৩৩তম মিনিটে নাইমুদ্দিনের ফিল্ড গোলে ম্যাচে চালকের আসনে বসে বাংলাদেশ। ৩৫তম মিনিটে রাশেদ আল ফাজারির গোলে ব্যবধান কমায় ওমান। ৪২তম মিনিটে মাহাবুব হোসেনের ফিল্ড গোলে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে শিষ্যদের পারফরম্যান্সে জড়তা থাকলেও ম্যাচের ফল নিয়ে খুশি মামুনুর। “ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম। সেটা হয়নি; কারণ প্রথম ম্যাচ ছিল বলে ওদের মধ্যে একটু জড়তা ছিল। আশা করি, পরের ম্যাচগুলোতে সবকিছু ঠিকঠাক হবে।” আগামী বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ‘প্রথম’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ভানুকা রাজাপাকসে খুনে ব্যাটিংয়ে এনে দিলেন লড়াইয়ের পুঁজি। এক ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিলেন ভানিদু হাসারাঙ্গা। ম্যাচ জুড়ে দারুণ বোলিং করে গেলেন নুয়ান প্রদিপ। তাদের মিলিত অবদানে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩৫ রানে জিতেছে সফরকারীরা। ১৮২ রান তাড়ায় ১ ওভার বাকি থাকতে ১৪৭ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। তাদের সামনে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার হাতছানি। বুধবারের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে সেই অভিযানে নামবে তারা। সবশেষ চার টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের তেতো অভিজ্ঞতা নিয়ে পাকিস্তান সফর গেছে শ্রীলঙ্কা। নিরাপত্তা শঙ্কায় নেই নিয়মিত অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। প্রায় দ্বিতীয় সারির একটি দল নিয়ে টি- টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলকে তাদেরই মাঠে সিরিজে হারিয়ে চমকে দিয়েছে তারা। লাহোর গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সোমবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি লঙ্কানদের। আগের ম্যাচের নায়ক দানুশকা গুনাথিলাকাকে শুরুতেই ফিরিয়ে দেন ইমাদ ওয়াসিম। রান আউট হয়ে ফিরেন আরেক ওপেনার আভিশকা ফার্নান্দো। শেহান জয়াসুরিয়াকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন আগের ম্যাচে ঝড় তোলা রাজাপাকসে। বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ২৮ বলে ৩৪ রান করে জয়াসুরিয়ার বিদায়ে ভাঙে ৯৪ রানের জুটি। শাদাব খান থামান রাজাপাকসের তান্ডব। লঙ্কান টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ছয় ছক্কা ও চার চারে করেন ৭৭ রান। শেষের দিকে ১৫ বলে অপরাজিত ২৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় পাকিস্তান। স্কুপ করতে গিয়ে অফ স্টাম্পের বাইরের সাদামাটা ডেলিভারি স্টাম্পে টেনে আনেন দলে ফেরা ফখর জামান। দারুণ এক ডেলিভারিতে পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যান বাবর আজমকে বোল্ড করে দেন প্রদিপ। অষ্টম ওভারে চার বলের মধ্যে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ শ্রীলঙ্কার মুঠোয় নিয়ে আসেন লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গা। গুগলিতে আহমেদ শেহজাদকে বোল্ড করে শুরু করেন শিকার। পরের বলে এলবিডবি¬উ করেন উমর আকমলকে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ পেলেন পাকিস্তানের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। এক বল পর মেলে বড় শিকার। হাসারাঙ্গা এবার গুগলিতে বোল্ড করে দেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে। পাল্টা আক্রমণে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন ইমাদ ওয়াসিম। ২৯ বলে ৪৭ রান করা এই অলরাউন্ডারকে থামান ইসুরু উদানা। শেষের দিকে আসিফ আলি ও মোহাম্মদ হাসনাইনকে ফিরিয়ে দলকে দারুণ এক জয় এনে দেন পেসার প্রদিপ। ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই দলের সেরা বোলার। হাসারাঙ্গা ৩ উইকেট নেন ৩৮ রানে। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে পার্থক্য গড়ে দেওয়া রাজাপাকসে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (গুনাথিলাকা ১৫, ফার্নান্দো ৮, রাজাপাকাসে ৭৭, জয়াসুরিয়া ৩৪, শানাকা ২৭*, ভানুকা ০, উদানা ৮, হাসারাঙ্গা ২*; ইমাদ ৪-০-২৭-১, আমির ৪-০-৪০-০, ওয়াহাব ৪-০-৩১-১, শাদাব ৪-০-৩৮-১, হাসনাইন ৪-০-৩৯-০)। পাকিস্তান: ১৯ ওভারে ১৪৭ (বাবর ৩, ফখর ৬, শেহজাদ ১৩, সরফরাজ ২৬, আকমল ০, আসিফ ২৯, ইমাদ ৪৭, ওয়াহাব ৭, শাদাব ০, আমির ৫*, হাসনাইন ১; রাজিথা ১/১১, প্রদিপ ৪/২৫, উদানা ২/৩৮, হাসারাঙ্গা ৩/৩৮, সান্দাক্যান ০/৩৩)। ফল: শ্রীলঙ্কা ৩৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: ভানুকা রাজাপাকসে।

অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন স্মিথ-ওয়ার্নার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। বাদ পড়েছেন অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস। অস্ট্রেলিয়া টি- টোয়েন্টি দল ঃ-অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), অ্যাস্টন অ্যাগার, অ্যালেক্স কেয়ারি, প্যাট কামিন্স, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, বেন ম্যাকডারমট, কেন রিচার্ডসন, স্টিভ স্মিথ, বিলি স্ট্যানলেক, মিচেল স্টার্ক, অ্যাস্টন টার্নার, অ্যান্ড্রু টাই, ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যাডাম জ্যাম্পা। আসছে দুই সিরিজের জন্য ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আগামী বছর ঘরের মাঠে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিকল্পনা মাথায় রেখে দল নির্বাচন করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। গত ফেব্র“য়ারিতে ভারত সফরে খেলা সবশেষ টি-টোয়েন্টি দলের সাতজন আছেন এই স্কোয়াডে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বল টেম্পারিংয়ের দায়ে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওয়ানডে ও টেস্ট দলে ফিরেছিলেন আগেই। এবার ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট সংস্করণের দলে ফিরলেন স্মিথ ও ওয়ার্নার। স্মিথ সবশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন ২০১৬ বিশ্বকাপের গ্র“প পর্বে, মোহালিতে ভারতের বিপক্ষে। ৩০ বছর বয়সী এই টপ অর্ডার ইংল্যান্ডের মাটিতে সদ্য শেষ হওয়া অ্যাশেজ সিরিজে করেন ৭৭৪ রান। ওয়ার্নার দেশের হয়ে সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেন গত বছরের ফেব্র“য়ারিতে, অকল্যান্ডে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। গত আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ৬৯২ রান করা এই মারকুটে ওপেনার জুন-জুলাইয়ে হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে করেন ৬৪৭ রান। দলে আরও ফিরেছেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান বেন ম্যাকডারমট ও পেসার বিলি স্ট্যানলেক। গত নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন তারা। আগামী ২৭ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ শুরু হবে ৩ নভেম্বর।

আলুর কাঙ্খিত ফলন পাওয়ার উপায়

কৃষি প্রতিবেদক ॥ আলু বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় সবজি। সেই সাথে অর্থকরী ফসলও। প্রতি বছর এ দেশে আলুর উৎপাদন যে পরিমাণে হিমাগারে রাখা যায় তার চেয়েও বেশি। তারপরও খাদ্য হিসেবে আলুর ব্যবহার দিন দিন এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, বাজারে আলুর দাম কখনোই আর কম থাকছে না। সে জন্য প্রতি বছরই আলুর মৌসুম শুরুর আগে শুধু কৃষকরাই নয়, যারা কৃষি কাজের সাথে জড়িত নন এমন অনেকেই আলু চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কারণ আলু চাষে স্বল্প সময়ে লাভ বেশি। কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ না রাখায় আলু চাষে অনেকেই কাংক্ষিত ফল বা ফলন পান না। তখন বিভিন্ন জনকে বিভিন্নভাবে দোষারোপ করেন। তাই আলু চাষে নামার আগে থেকেই যদি কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় তাহলে আলুর কাংক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
প্রথমেই জমি নির্বাচন। বেলে বা বেলে দো-আঁশ মাটিতে আলু ভালো হয়। সূর্যের আলো প্রচুর পড়ে এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি আলু চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত। জমিতে পানি সেচ দেয়া ও পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্খা থাকাও প্রয়োজন। এ জন্য জমি সমতল করতে হয়। যেহেতু আলু মাটির নিচের ফসল, তাই জমি গভীর চাষ দিতে হয়। জমি চাষ দেয়ার পর ৭ থেকে ১৫ দিন রোদে ফেলে শুকিয়ে নিতে হয়। এতে মাটির নিচে থাকা বিভিন্ন পোকা, পোকার কিড়া ও পুত্তলী এবং রোগজীবাণু রোদের আলো ও তাপের সংস্পর্শে এসে নষ্ট হয়। আড়াআড়ি চাষ দিয়ে মাটি এমনভাবে চিকন ও ঝুরঝুরে করতে হয় যেন মাটির মধ্যে বাতাস চলাচল ভালোভাবে করতে পারে, যাতে আলুর টিউবার গঠন কাজটি সহজ হয়। চাষের শেষে জমির সব আগাছা ও আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে দূরে কোথাও পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হয়। তবে জমি তৈরির আগে মাটি শোধন করে নিতে পারলে ভালো হয়। এতে আলুর ঢলে পড়া রোগ প্রতিরোধ করা যায়। আগের বছর ঢলে পড়া রোগ হয়নি বা রোগ হয়েছে এমন যেকোনো জমিতেই মাটি শোধন করে নিতে হয়। শেষ চাষের আগে বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ কেজি ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে চাষ দিয়ে সেচ দিতে হয়। ব্লিচিং পাউডার জমির মাটির সাথে মেশানোর পর জমিতে অবশ্যই জো অবস্থা থাকতে হয়। এভাবে ২৮ থেকে ৩০ দিন জমি ফেলে রাখতে হয়। এতে জমির মাটি শোধন হয় অর্থাৎ মাটির বিশেষ বিশেষ রোগ জীবাণু ধ্বংস হয় বা তাদের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। জানা উৎস বা বিশ্বস্ত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আলুবীজ সংগ্রহ করতে হয়। বীজ আলু যদি খারাপ হয় তাহলে আলু চাষের সব আয়োজনই বিফলে যেতে বাধ্য। তাই যেনতেন জায়গা বা যে কারো কাছ থেকে বীজআলু সংগ্রহ না করে এমন উৎস থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হয় যেন আলুর বীজ খারাপ হলে তার জন্য জবাবদিহিতা থাকে। বীজ সংগ্রহের পর বীজ শোধন করতে হয়। এ জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা না করলেও চলে। যেমন কেউ কেউ কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক ব্যবহার করে থাকেন। এ জাতীয় ছত্রাকনাশক বীজ আলু শোধনে ব্যবহার করলে ১ গ্রাম ছত্রাকনাশক ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১ কেজি কাটা বীজ আলু ৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখলে বীজবাহিত ছত্রাকঘটিত রোগজীবাণু ধ্বংস হয়। আলুর ঢলে পড়া ও গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধে প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে স্ট্রেপটোমাইসিন মিশ্রিত করতে হয়। বীজ আলু সংগ্রহের পর কাটার আগে আলো-বাতাস চলাচল করে এমন পরিষ্কার সমতল জায়গায় বস্তা খুলে আলু বের করে এক থেকে দেড় ফুট উঁচু স্তূপ বা হিপ করে ছড়িয়ে রাখতে হয়। মাঝে মধ্যে ওলটপালট করতে হয়। বীজআলু শুধু লম্বালম্বি এমনভাবে দু’ভাগ করে সমভাবে কাটতে হয়, যাতে কর্তিত দু’অংশে কমপক্ষে দুটি করে চোখ থাকে। এই অংশের ওজন ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম এবং ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট হতে হয়। অনেকেই চোখের সাথে আলুর অংশ কম রেখে বাকিটুকু খাবার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন, এটা ঠিক নয়। কর্তিত অংশের সাথে যতটুকুই থাকুক সবটুকুই রাখতে হয়। বীজ কাটার সময় চাকু বা বঁটির দুই পাশ জীবাণুনাশকে ভেজানো কাপড়ের টুকরো দিয়ে মাঝে মধ্যে মুছে নিতে হয় যেন রোগজীবাণু এক আলু থেকে অন্য আলুতে ছড়াতে না পারে। আলুর কাটা অংশ উপরের দিকে করে মাটিতে ছড়িয়ে বিছিয়ে রাখতে হয়। কখনোই গাদাগাদি করে রাখা উচিত নয়। রাখার স্থানে আলো এবং বাতাস চলাচল ব্যবস্থা থাকতে হয়। এভাবে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা রেখে দিলে কাটা অংশের ওপরে একটি শক্ত কালচে ধরনের স্তর পড়ে, যাকে সোবারাইজেশন বলে। এই অংশ ভেদ করে কোনো রোগজীবাণু ঢুকতে পারে না। কাটা অংশে ছাই ব্যবহার করা যেতে পারে, তাতে অতিরিক্ত হিসেবে পটাশিয়াম সরবরাহ করা হয়। আবার পোকার বিকর্ষক হিসেবেও এটি কাজ করে। আলু রোপণের উপযুক্ত সময় হলো নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শেষ পর্যন্ত। দিন পেছালে শীতে গাছের বৃদ্ধি কমে, গাছ খুব বেশি বড় হওয়ার আগেই টিউবার গঠন কাজ শুরু হয়ে যায়। এতে টিউবার সংখ্যা কমে যায়। শীতে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের টিউবার গঠন ভালো হয়। ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আলুবীজ রোপণ করা যায়, তবে ফলনও আনুপাতিক হারে কমে যায়। আলু চাষে কম্পোস্ট সার ব্যবহার না করা ভালো। কারণ যেসব কম্পোস্টের উপাদান হিসেবে শাকসবজির উচ্ছিষ্টাংশ বা গাছ-গাছড়ার বা যেকোনো জৈব জিনিসের পচনশীল অংশ ব্যবহার করা হয় সেসবের সাথে ঢলে পড়া রোগের রোগজীবাণু থাকতে পারে, যা এই রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এ জন্য কম্পোস্টের পরিবর্তে ভালোভাবে পচানো শুকনো গোবর সারই জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা ভালো। সবচেয়ে ভালো হয় বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে সংগ্রহ করা শুকনো সার। আলু চাষে একর প্রতি ইউরিয়া ১১২ কেজি, টিএসপি ৭৫ কেজি, এমওপি ১১২ কেজি, জিপসাম ৪০ কেজি, জিংক সালফেট ৫ কেজি এবং বোরণ সার ৪ কেজি ব্যবহার করতে হয়। অর্ধেক ইউরিয়া, অর্ধেক এমওপি ও সম্পূর্ণ টিএসপি এক সাথে মিশিয়ে বীজ আলু বপনের পাশে সারের নালায় দিতে হয়। বাকি সার রোপণের ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। আর জিপসাম, জিংক সালফেট এবং বোরণ সার শেষ চাষের সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। যেসব অঞ্চলের মাটিতে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি আছে সেসব অঞ্চলে ম্যাগনেশিয়াম সার শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হয়। উপরি সার প্রয়োগের পর আলুর সারিতে বা গাছের গোড়ায় উঁচু করে (প্রায় ২০ সেন্টিমিটার) মাটি তুলে দিতে হয়। ভেলির গোড়া চওড়া রাখার জন্য ১৫ সেন্টিমিটার প্রস্থের ছোট কোদাল ব্যবহার করতে হয়। মাটি তোলার সময় লক্ষ্য রাখতে হয় যেন কোদালের সাথে প্রয়োগকৃত সার উঠে না আসে। আলু চাষে সেচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোপণের সময় জমির জো অবস্থা থাকতে হয় এবং রোপণের পর ১ থেকে ২টি গাছ যখন মাটির ওপরে উঠে আসে তখন প্রথমবার সার উপরি প্রয়োগের পর একটি হালকা সেচ দিতে হয়। এটি সাধারণত রোপণের ৭ দিনের মধ্যে দিতে হয়। এবপর মাটির প্রকার ও প্রয়োজন অনুযায়ী ৩ থেকে ৫ বার সেচ দিতে হয়। তবে টিউবার গঠনের শুরুর সময় অর্থাৎ ৪০ থেকে ৪৫ দিনের সময় মাটিতে রস না থাকলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বা ফলন কমে যেতে পারে। সুষম সেচের জন্য তাই নিয়মিত জমি পরিদর্শন করতে হয়। খাবার আলু ৯৮ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা যায়। আর বীজ আলু ৭২ থেকে ৭৫ দিন পর গাছ তুলে রেখে ৮০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে তুলতে হয়। জাত ভেদে বাংলাদেশে আলুর ফলন একর প্রতি ৭ থেকে ১০ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ঐশ্বরিয়ার খোলামেলা ভিডিও নিয়ে বচ্চন পরিবারে অশান্তি

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডে বচ্চন পরিবারকে সবাই সম্মান করে। শাহেনশাহ অমিতাভ, তার সহধর্মিনী জয়া বচ্চন, ছেলে অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন সবাই বলিউডের জনপ্রিয় মুখ। এই তারকা পরিবারেরর উপর সবার নজর থাকে।

 

হঠাৎ সেই পরিবারের কোনো অশান্তি ঘটলেও কারো কাছে সেটা অজানা থাকে না। একবার এই পরিবারে ভীষণ অশান্তি হয়েছিলো। যার মূলেই ছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই। বিয়ের পরে একটি সিনেমায় বেশ কিছু খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী।

 

বচ্চন পরিবারের বউ হয়ে আসার পর সংসারে মন দিয়ে অভিনয় করা কমিয়ে দিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই। তবে বিয়ের পর রণবীর কাপুরের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন ঐশ্বরিয়া।

 

করণ জোহর পরিচালিত এই সিনেমায় রণবীর কাপুরের সঙ্গে ঐশ্বরিয়া কয়েকটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন। ছবির ট্রেলার প্রকাশ হওয়ার পরই বচ্চন পরিবারে অশান্তি শুরু হয়।

 

এখনো সেই ট্রেলার সামনে আসলে বিরক্ত হন বচ্চন পরিবারের সবাই। এই দৃশ্য দেখার পর পরিচালকের উপর ভীষণ রকম চটেছিলেন অমিতাভ বচ্চন।

 

পরবর্তীতে অমিতাভ বচ্চনের নির্দেশেই সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন ওই ছবি থেকে ঐশ্বরিয়া আর রণবীরের তিনটি আপত্তিকর দৃশ্য বাদ দেয়।

 

পরে অবশ্য সাবধান হয়ে গেছেন ঐশ্বরিয়া। গত বছর ‘ফন্নে খান’ সিনেমার গানের শুটিং করতে গিয়ে গানের কথা অশ্লীল হওয়ায় শুটিং সেট থেকেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। পরে গানের গীতিকারকে ডেকে নতুনভাবে গানের কথা লেখা হয়।

পূজায় অংশ নেওয়ায় মুসলিম নায়িকা নুসরাতকে হত্যার হুমকি

বিনোদন বাজার ॥ কলকাতার সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা নুসরাত জাহান গত ১৯ জুন বিয়ে করেন। তুরস্কের বোদরুম শহরে ব্যবসায়ী নিখিল জৈনর সঙ্গে জাকজঁমক আয়োজনে বিয়ে হয় তার। এবার স্বামীর সঙ্গে বেশ জমিয়ে পূজা উৎসব কাটিয়েছেন তিনি। দুর্গাপূজায় মহাঅষ্টমীতে স্বামীর সঙ্গে পূজামন্ডপে গিয়ে অঞ্জলি দিয়েছেন নুসরাত জাহান।

 

মহাঅষ্টমীতে শাড়ি ও সিঁদুর পরে নুসরাত তার স্বামীর সঙ্গে কলকাতার সুরুচি সংঘের পূজা মন্ডপে গিয়ে পূজা দিয়েছেন। চোখ বন্ধ করে অঞ্জলির মন্ত্রপাঠ ও প্রার্থনা করতেও দেখা গেছে তাকে। এরপর তিনি স্বামীর সঙ্গে ঢাক বাজান ও নাচেন।

 

নুসরাতের পূজা মন্ডপের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরই তাকে নিয়ে নানা ধরণের সমালোচনা শুরু হয়। মুসলিম হয়ে পূজায় অংশ নেওয়ায় তাকে ঘিরে চলছে তর্ক-বিতর্ক। এমনকি হত্যার হুমকিও পেয়েছেন নুসরাত। ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেসের আসাম রাজ্যের আইটি সেলের এক কর্মী নুসরাতকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন।

 

অন্যদিকে তাকে মুসলিম ধর্ম ত্যাগ করারও পরামর্শ দিয়েছেন কেউ কেউ। ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের একজন পন্ডিত মুফতি আসাদ কাশমী বলেন, তিনি হিন্দু দেবতাকে পূজা দিচ্ছেন, যদিও ইসলামের অনুসারীদের আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা করা নিষেধ। তিনি যা করেছেন তা হারাম। নুসরাত তার ধর্মের বাইরে বিয়ে করেছেন। তার নাম ও ধর্ম পরিবর্তন করা উচিত।’ তবে এসব নিয়ে নুসরাত জানালেন, জন্মসূত্রে তিনি মুসলমান এবং তার স্বামী হিন্দু হওয়ায় উভয় ধর্মের প্রতিই তিনি শ্রদ্ধাশীল তিনি। তিনি মনে করেন ধর্মবিশ্বাস নিতান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

রাষ্ট্রপতির অসাধারণ সাক্ষাৎকার ও টনক নাড়ানো ‘ইত্যাদি’

বিনোদন বাজার ॥ ইত্যাদির শুরুটা যথারীতি ছিল দুর্দান্ত মুন্সিয়ানায় ভরা। হাওড়ের নানান মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের ছোঁয়া দিয়েই কোটি কোটি হৃদয় কেড়ে নিলেন সবার প্রিয় বরেণ্য উপস্থাপক হানিফ সংকেত। একটি অনুষ্ঠান কিভাবে উৎসব হয়ে উঠতে পারে তার প্রমাণ পাওয়া যায় ইত্যাদির প্রতিটি পর্বে হাজার হাজার দর্শকের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি, অংশগ্রহণ আর স্থানীয় প্রশাসনের আগ্রহ, সহযোগিতা ও আন্তরিকরা দেখে। যার প্রমাণ আবারও মিলল গত পর্বে। যেখানে সর্বসাধারণের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় হাওরের মাঝখানে জনবিচ্ছিন্ন একটি অসমতল ছনের বন মুহূর্তেই হয়ে উঠল ইত্যাদির সুবিশাল মঞ্চ। তাইতো স্থানীয় সংসদ সদস্য অনেকটা আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘আজ হাওরে উৎসবের রব পড়েছে, এখানে ইত্যাদি হবে’।

 

হানিফ সংকেত তার মোহনীয় উপস্থাপনার শুরুটাই করলেন কাব্যময়তা দিয়ে ‘চির অপরূপ বাংলার রূপ দেখে যাও এসে বিশ্ব, জলে-সমতলে সাজানো অরূপ বিধাতার আঁকা দৃশ্য।’ কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ধারণকৃত এ ইত্যাদি যেমন তুলে ধরেছে কিশোরগঞ্জের নানান কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি তেমনি বাদ যায়নি এ জেলার জীবন্ত ইতিহাস রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাদাসিধে জীবনযাপন ও মহানুভব জীবনভাবনা। এসবের পাশাপাশি সামপ্রতিক বিভিন্ন অসংগতিও উঠে এসেছে ইত্যাদির চিরাচরিত সুনিপুণ ভঙ্গিমায়।

 

জেলার পরিচিতি হিসাবে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল সংশ্লিষ্ট জেলার একটি বিশেষ প্রতিবেদন। তবে এবারের প্রতিবেদনটি উপস্থাপনার নৈপূণ্যে হয়ে ওঠে অনন্য। কারণ, এই প্রতিবেদনেই উঠে আসে নিখাঁদ মাটি থেকেই উঠে আসা এক মাটির মানুষের কথা, যাঁর মননে ও চেতনায় সবসময় জাগ্রত থাকে মানুষের সমস্যা ও দুর্দশার কথা, থাকে তাদের জন্য ভালো কিছু করার নিরন্তর বাসনা। তিনি রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। বাংলাদেশের কোনো টিভি অনুষ্ঠানে এখনো পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে দেখা যায়নি। তাঁর যেমন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তেমনি ইত্যাদিরও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সবার কাছে। তাই বলা যায়, যথার্থ জায়গাতেই তিনি এসেছেন। তার সাক্ষাৎকারটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, অনুকরণীয় ও শিক্ষামূলক। তার সাথে যে জনগণের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে, সেটি ফুটে ওঠার পাশাপাশি দেশের মানুষ তাদের রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে জেনেছে অজানা নানা তথ্য। তিনি সহজ-সরল একজন মানুষ, সাদা মনের মানুষ, প্রবল শিক্ষানুরাগী মানুষ। শুধু মিঠামইন উপজেলাতেই রয়েছে তার প্রতিষ্ঠিত শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হাইস্কুল বিহীন মিঠামইনে ছাত্রাবস্থাতেই হাইস্কুল নির্মাণ, বিদ্যুিবহীন হাওড়ের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎসংযোগ প্রদান, সাইকেল চালানোর মতো রাস্তা না থাকা হাওড়ে সাবমারসিবল রোড তৈরি, সুযোগ পেলেই হাওড় এলাকার মানুষের উন্নয়নে প্রচেষ্টা-এমনই অনন্য কিছু মানবিক নিদর্শন তাকে সাতবারই মহান সংসদে যাবার পথ সুগম করে দেয়। সংসদ সদস্য থেকে সাফল্যের সর্বোচ্চ অবস্থানে গেলেও ব্যক্তিত্বে ও জনগণের সাথে সম্পর্কে পরিবর্তন ঘটেনি একটুও। বলা যায়, তিনি শুধু একজন সফল রাজনীতিবিদ, সাংসদ, স্পিকার ও সফল রাষ্ট্রপতিই নন, মানুষ হিসেবেও তিনি শতভাগ সফল। তিনি মনে করেন, সততাই হবে রাজনীতিবিদদের মূল চালিকাশক্তি। তারা কখনোই মিথ্যা আশা দেবে না, মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করবে না। তাহলেই পলিটিকস শব্দটিকে কেউ আর নেতিবাচক রূপে ব্যবহার করবে না বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎকারটি দেশের ভবিষ্যৎ জনপ্রতিনিধিদের বিবেকের দরজায় কিছুটা হলেও আঘাত হানলে দেশের জন্য মঙ্গল। তবে বিবেকের দরজা যে সবার সবসময় খোলা থাকে না, অর্থাৎ আমাদের চৈতন্য বা হুঁশ যে সবসময় থাকে না, সে-কারণেই নতুন জনসেবার এক তীর্যক চিত্র দেখানো হলো ‘টনক নড়ানোর টনিক’। সমপ্রতি রাজধানীতে বিশেষ অভিযানের পর সবার টনক নড়ার দিকেই সম্ভবত ইঙ্গিত করলো এ খন্ড নাটিকাটি। ‘মানুষ আছে, টনক নাই’, ‘ঘটনা ঘটিবার পূর্বেই টনক নড়ুক’-এমন বার্তার পাশাপাশি গণমাধ্যমেরও টনক নড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করলো এবারের ইত্যাদি।

 

এবারের ইত্যাদিতে শোলাকিয়া মাঠ, দিল্লির আখড়া, এগারসিন্দুর দুর্গ ও ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ির দুর্গের পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী, সত্যজিৎ রায়, জয়নুল আবেদিনসহ জেলার অন্যান্য কীর্তিমান ব্যক্তিত্বের পরিচিতি। মানুষের স্মৃতি ও শ্রুতিতে যাদের কীর্তি এখনও অম্লান। আসলে এটাই সত্য যে, কীর্তিই মানুষ মনে রাখে যুগ যুগ ধরে। আমরা বিশ্বাস করি, জননন্দিত হানিফ সংকেতের ইত্যাদিও যুগ যুগ ধরে মনে রাখবে মানুষ। শুধু তাই নয়, জেনে ভালো লাগলো ইত্যাদির তিনি নিয়মিত দর্শক। কখনও কর্মব্যস্ততার কারণে দেখতে না পারলে পুনঃপ্রচার দেখেন বলেও জানালেন। আর, এমন একটি অনুষ্ঠানকে দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে হাওরের মাছধরা জেলেদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয় করে তোলার অসামান্য কারিগর বরেণ্য হানিফ সংকেত যিনি বিগত চার দশকে ব্যক্তিসত্তাকে ছাড়িয়ে জনমানুষের মনিকোঠায় এক মূর্তিমান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। তার অনন্য কীর্তি ইত্যাদি, যা সমপ্রতি দীর্ঘ ৩০ বছর পেরিয়ে চার দশকে প্রবেশ করেছে। শুভ কামনা, ইত্যাদি। শুভ কামনা, হানিফ সংকেত।

৪০ বছর পূর্তিতে কানাডায় মাইলসের সিরিজ কনসার্ট

বিনোদন বাজার ॥ কানাডায় মাইলসের প্রথম কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয় পহেলা সেপ্টেম্বর ভ্যানকুভারে। ঢাকা ক্লাব ভ্যানকুভারের আমন্ত্রণে কানাডার কনসার্টে অংশ নেয় ব্যান্ডটি। দ্বিতীয় শোটি অনুষ্ঠিত হয় ৭ সেপ্টেম্বর ক্যালগেরিতে।

 

কৃষ এন্টারটেইনমেন্টের আয়োজনে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী ১৫ তারিখ উইনিপেগে শো করে মাইলস। এর পরে ২০ সেপ্টেম্বর এডমন্টনের জমজমাট কনসার্টটি আয়োজন করে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ এডমন্টন।

 

এডমন্টনে কনসার্ট শেষ করেই সরাসরি এয়ারপোর্ট চলে যায় মাইলস এবং অটোয়ার প্লেন ধরে। চমৎকারভাবে আয়োজিত ২১ সেপ্টেম্বর অটোয়ার কনসার্টের আয়োজন করে সিন্ডিকেট ৭১।

 

এর ঠিক পরের দিনেই মাইলসের পঞ্চম কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয় ২২ সেপ্টেম্বর কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মন্ট্রিয়েলে। যার আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মন্ট্রিয়েল।

 

কানাডায় সর্বশেষ কনসার্টটির হয় ২৭ সেপ্টেম্বর অন্টারিও প্রদেশের রাজধানী শহর টরন্টোতে। এটি ছিল রাতে অনুষ্ঠিত ওপেন এয়ার কনসার্ট।

 

টরেন্টোতে মাইলসের এই সর্ব বৃহৎ কনসার্টটি দর্শক উপভোগে করে। ৪০ বছর পূর্তির কানাডার এই সিরিজ কনসার্ট সম্পর্কে মাইলসের শাফিন আহমেদ বলেন, কানাডার সবগুলো কনসার্ট অত্যন্ত চমৎকারভাবে আয়োজিত হয়েছে যা ছিল দর্শকদের জন্য অনেক উপভোগ্য।

 

তবে এর মধ্যে উনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ক্যালগেরি এবং টরোন্টোর কনসার্ট দুটির কথা। কানাডার এই সফরটি বাংলাদেশ ব্যান্ড সংগীতের জন্য একটি মাইল ফলক। কারণ এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে কোন ব্যান্ড একটানা সাতটি শো করলো। যা এর আগে কখনও হয়নি।

ক্যাসিনো আরমানকে নিয়ে যা বললেন চিত্রনায়িকা শিলা

বিনোদন বাজার ॥ চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা বলেছেন, যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব আমার ওপর নজরদারি রাখতো উল্লেখ করে অনেক গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

 

শিলার প্রশ্ন, যদি তাই হয় তবে র‌্যাব কেন আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করল না?

 

তিনি বলেন, আমাকে নজরে রেখে কীভাবে আরেকজনকে গ্রেফতার করবে?

 

সোমবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে এসব কথা বলেন শিলা।

 

গত রোববার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আটক করা হয় ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকে। আটকের পর দুজনকেই বহিষ্কার করেছে যুবলীগ।

 

নায়িকা শিলার ওপর নজরদারির মাধ্যমে আরমানের খোঁজ পেয়েছে র‌্যাব এমন বিষয় উল্লেখ করে ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। এভাবে খবর প্রকাশ করায় তীব্র সমালোচনা করেছেন শিলা।

 

শিলা বলেন, র‍্যাব যদি আমার মাধ্যমে আরমান সাহেবের খোঁজ পান তবে কেন আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো না। দুদিন আগে দুবাই থেকে একটি অনুষ্ঠান করে দেশে ফিরেছি। এসব কথা বানোয়াট।

 

ব্যক্তি জেলাসি থেকে বা চলচ্চিত্রে খাটো করা জন্য চিত্রনায়িকাদের নিয়ে এসব নিউজ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এই নায়িকা। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে আরমানের কোনো সম্পর্ক নেই। দীর্ঘদিন ধরেই সুনামের সঙ্গে কাজ করছি। যে কারণে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়।

 

বাংলা চলচ্চিত্রের এক সম্ভাবনাময়ী নায়িকা শিলা। ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত ‘হিটম্যান’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন।

তারকাদের জীবনের গল্পই ‘মেকআপ’

বিনোদন বাজার ॥ সিনেমার সত্তর শতাংশ কাজ শেষ, ঠিক তখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো অনন্য মামুনের নতুন চলচ্চিত্র ‘মেকআপ’-এর নায়ক ও নায়িকাদের নাম।

 

নির্মাতা মামুন দাবি করেন, আমার এই সিনেমায় কোনও নায়ক-নায়িকা নেই। গল্পই হচ্ছে নায়ক। আর এর মূল কথা হলো- মেকআপ দিয়ে সব কিছু ঢাকা যায় না। ক্যামেরার সামনের জীবন ও বাস্তব জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। তারকাদের জীবনের গল্পই আমার সিনেমায় উঠে আসবে।

 

তিনি আরো জানান, এটা তাদের বড় বাজেটের ছবি। যার একটি গানের জন্য খরচ হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। ছবির শুটিং হয়েছে সুনামগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার বেশ কিছু স্থানে।

 

রোববার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর পান্থপথের রেস্তোরাঁ ‘কফিবাজ’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন মামুন। এতে আছেন রোশান, নবাগতা নিপা আহমেদ, কলকাতার অভিনয়শিল্পী পায়েল মুখার্জি ও বিশ্বজিৎ মুখার্জি। ছবিতে সুপারস্টারের ভূমিকায় থাকবেন দেশের খ্যাতিমান অভিনেতা তারিক আনাম খান।

 

আগামী নভেম্বরে ‘মেকআপ’ সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হবে। প্রযোজনা করেছে সেলেব্রিটি প্রোডাকশন।

গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু শুক্রবার

বিনোদন বাজার ॥ আগামি শুক্রবার ঢাকায় অষ্টমবারের মতো বসতে যাচ্ছে গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব-২০১৯। ১১ অক্টোবর শুরু হচ্ছে উৎসবটি, চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। যে উৎসবে ১০ দিনে ৪০টি নাটক নিয়ে বাংলাদেশের ৩৬টি দলের সঙ্গে এ উৎসবে নাটক নিয়ে আসছে ভারতের ৪টি দল। এছাড়া ১৫টি আবৃত্তি সংগঠন, ১৫টি সংগীত সংগঠন, ৭টি নৃত্য সংগঠন, ৩টি মূকাভিনয় সংগঠন, ১০টি শিশুদল এবং একক আবৃত্তি ও একক সংগীত পরিবেশনাও এ উৎসবে রয়েছে। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৩০০০ শিল্পীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এবারের উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

 

গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসব পর্ষদ জানিয়েছে, এদিন সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট নাট্যজন, সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ও শ্রী মেঘনাদ ভট্টাচার্য। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে. এম. খালিদ এম.পি।

 

এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, ইন্দিরা গান্ধি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক ড. নিপা চৌধুরী, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজীদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন উৎসব পর্ষদের সদস্য সচিব আকতারুজ্জামান। এতে সভাপতিত্ব করবেন উৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন আহকাম উল্লাহ।

 

গঙ্গাযমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব পর্ষদের আয়োজনে এ উৎসবে সহযোগিতা করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির প্রধান মিলনায়তন, পরীক্ষণ থিয়েটার ও স্টুডিও থিয়েটারের পাশাপাশি মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে থাকবে উৎসবের নাটকগুলো।

 

গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব পর্ষদ গত ৭ বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশের নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়ে গঙ্গা-যমুনা উৎসবের আয়োজন করে আসছে। দুই দেশের অভিন্ন সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনগণের মৈত্রীর বন্ধন দৃঢ়তার লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়ে থাকে।