গরীব মেধাবী সুবর্ণা’র পাশে দাঁড়ালেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন

নিজ সংবাদ ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও অর্থাভাবে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান মেধাবী সুবর্ণা খাতুন। তবে সেই শঙ্কা আপাতত কেটে গেছে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন সুবর্ণার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে সুবর্ণা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দেখা করতে আসলে তাকে নগদ ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। পাশাপাশি আগামীতেও অর্থ সহায়তার বিষয়টি জানান তাকে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান ও তার সুবর্ণার মা।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন- সুবর্ণা মেধাবী শিক্ষার্থী। অর্থের অভাবে তার লেখাপড়া বন্ধ হতে পারে না। তাই তাকে ডেকে সহযোগিতা করেছি। আমি যতদিন থাকবো তার যে কোন প্রয়োজনে সহযোগিতা করার কথা বলেছি। পাশাপাশি বিত্তবানদেরও তার পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে আমি করি।

সুবর্ণা জানান, ডিসি স্যার আমাকে সহযোগিতা দিয়েছেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানায়। আগামীতেও স্যার সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন। ঢাকায় ভর্তি নিয়ে শঙ্কা ছিল তা অনেকটা কেটে গেছে। আশা করছি ভালোভাবে লেখাপড়া শুরু করতে পারব ইনশাআল্লাহ ।’

ফাহাদের মৃত্যুতে আতাউর রহমান আতার শোক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও কুষ্টিয়ার ছেলে আরবার ফাহাদের মৃত্যুতে কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা এক শোক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী করেছেন। শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মহান আল্লাহ পাকের দরবারে বিশেষ দোয়া কামনা করেছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদের মৃত্যুতে মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির শোক

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)’র মেধাবী শিক্ষার্থী ও কুষ্টিয়ার ছেলে আবরার ফাহাদ’র নিহত হওয়ায় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি শোকবার্তায় শোক সন্তপ্ত ফাহাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক বার্তায় তিনি উল্লেখ্য বলেছেন, যারাই এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি পেতে হবে। তিনি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন। শোকবার্তায় মাহবুবউল আলম হানিফ মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মহান আল্লাহ পাকের দরবারে বিশেষ দোয়া কামনা করেছেন।

আবরার হত্যার প্রতিবাদে ঢাবি-বুয়েটে বিক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ (২১) হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বুয়েট ক্যাম্পাস বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বিক্ষোভে কয়েকজন শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। এসময় আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারের দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা বলছেন, ‘আবরার হত্যা পেছনে ছাত্রলীগের অতিমাত্রায় ভারতপ্রেম প্রেরণা জুগিয়েছে। দেশপ্রেমিক আবরারের ভারতবিদ্বেষী স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে তাকে খুন করা হয়েছে।’

আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে – চিকিৎসক

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোহেল মাহমুদ ময়নাতদন্তের পর আজ সোমবার বেলা ২ টার দিকে এ কথা জানান। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ বলেন, ময়নাতদন্তে আবরারের দেহে জখমের অনেক চিহ্ন পাওয়া গেছে। রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হল থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুয়েটের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চকবাজার থানায় নেওয়া হয়েছে। আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। রবিবার দিবাগত রাতে তাকে হলের ভেতর পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারি একদল নেতাকর্মী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

দেশবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করায় আবরার হত্যা – মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আওয়ামী সরকারের দেশবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করায় আবরারকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।’সোমবার বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হত্যাকারীদের হাতে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠকে নির্মূল করে নিজেদের হিটলারি শাসন বজায় রাখতে চায়। তবে, জনগণ তাদের এই মনোবাঞ্ছা কোনোদিনই পূরণ হতে দেবে না। মত-প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে অতীতের সংগ্রামী ঐতিহ্যের ধারায় বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতেও দ্বিধা করবে না।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের ‘মধ্যরাতের মহাভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের মাত্রা যেন লাগামহীন হয়ে গেছে। স্বৈরাচার সরকার দেশের প্রতিবাদী মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত করে দেশকে ভীতির কালো মেঘে ঢেকে দিয়েছে। যেন সরকারের অপকর্ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ লিখতে, বলতে কিংবা টুঁ শব্দ উচ্চারণ করতেও সাহস না পায়।’ মির্জা ফখরুল বলেন, বিশ্বের গণধিকৃত সব স্বৈরাচারকে টেক্কা দিয়ে ‘জনসমর্থনহীন’ আওয়ামী সরকার এখন মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে এখন জঙ্গলের শাসন চলছে বলেই একজন মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদে ঘরে ফেরার নিরাপত্তাটুকুও হারিয়ে ফেলেছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা এক মৃত্যু উপত্যকায় বসবাস করছি।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের আশকারায় অপরাধীরা দেশব্যাপী লাগামহীন খুন-জখমের খেলায় আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনের হিংগ্র রূপ দেশের মানুষকে বোবা করে ফেলেছে। অজানা আশঙ্কা, আতঙ্ক আর ভয়ের এক বিষাদময় পরিবেশ মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।’ আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অধিকার ছাত্রলীগকে কে দিল? প্রধানমন্ত্রীকে নুরের প্রশ্ন

ঢাকা অফিস ॥ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অধিকার ছাত্রলীগকে কে দিয়েছে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। গতকাল সোমবার বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সমাবেশে কোটা আন্দোলের নেতা নুর বলেন, ‘কোনো ছাত্র যদি অন্যায় অপরাধ করে থাকে, তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রয়েছে। তাদের হাতে তুলে দেন। তারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ছাত্রলীগকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার অধিকারটা কে দিল? প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নুর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রশ্ন রাখতে চাই। যিনি এক সময় ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। যিনি ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু এই ছাত্রলীগ যখন বিভিন্ন ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন জায়গায় বেপরোয়া কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে তখন তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। ‘কিন্তু আমরা বলতে চাই-আজকে ছাত্রলীগ কারা চালাচ্ছে। যেই ছাত্রলীগ ছাত্রদের প্রতিনিধি হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে জোর করে মিছিল-মিটিং করাচ্ছে। তাদের কথা না শুনলে শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মাথা ফাটিয়ে দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠান বুয়েটের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করে সিঁড়িতে তার লাশ ফেলে রাখা হয়েছে।’ ভিপি নুর বলেন, আজকের ছাত্ররা দৃর্বৃত্তায়নের রাজনীতির হাতে জিম্মি। ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান জানান তিনি। ‘আপনারা দেখেছেন, যখন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন হয়েছিল তখন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার চিপসের বক্স রাখার দায়ে তখনকার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ওই ছেলেকে বেদম প্রহার করে পুলিশের তুলে দিয়েছিলেন।’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের হত্যাকা-ের কথা উল্লেখ করে নুর বলেন, ঢাবির স্যার এএফ রহমানের হলে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের সংঘর্ষে আবু বকর নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিলেন। এসএম হলের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দলদাস প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ‘আপনারা দেখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র জোবায়ের হোসেন হত্যাকা-। জগন্নাথ হলের সামনে কীভাবে পথচারী বিশ্বজিৎকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, আজকে ছাত্রলীগকে ছাত্র সংগঠন বলতে লজ্জা হয়। আপনারা দেখেছেন তাদের সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চাঁদাবাজি ও অর্থ কেলেঙ্কারির কারণে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে ডাকসু ভিপি বলেন, ছাত্রলীগের মধ্যে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ক্ষেপে গেলে পালানোর রাস্তা পাবেন না। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে যদি কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়, সে ছাত্রদল করতে পারে, শিবির করতে পারে বা সে যদি বাম সংগঠন বা অন্য কোনো সংগঠন করতে পারে। তাই বলে তাকে নির্মমভাবে প্রহার করা হবে! কিন্তু আমরা পুরোপুরি সুস্থ মস্তিষ্কের ছাত্র হয়ে সেই অন্যায় মেনে নিতে পারি না। ‘প্রশাসন একটা অন্যায়কে প্রশয় দিয়ে হাজারটা অন্যায় করার জন্য উসকে দেয়। এটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।’ ভিপি নুর বলেন, ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাদের কুকুরের মতো মারা হয়েছিল। এই ছাত্রলীগের কুলাঙ্গাররা কোটা আন্দোলনের সময় সেন্টার লাইব্রেরির সমানে আমাকে নির্মমভাবে মেরেছিল। সেদিন যদি সাধারণ ছাত্ররা বের হয়ে আসত তাহলে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস ছাড়া হয়ে যেত। ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়া করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, কিন্তু ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাস ছাড়া করতে হবে। তিনি বলেন, ডাকসুর ভিপি হয়েও আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সেখানে সাধারণ ছাত্ররা ও জনগণ কীভাবে ছাত্রলীগের হাতে নিরাপদ হবে। নুর বলেন, আজ পুরো বাংলাদেশের মানুষ নির্যাতিত। সবার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আজ যদি আপনারা ঐক্যবদ্ধ হতে না পারেন তাহলে এই স্বৈরশাসন ও স্বৈরশাসকদের জাতাকলে পিষ্ট হতে হবে।

আবরার হত্যার ঘটনা ‘তদন্ত’ করবে ছাত্রলীগ

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আল নাহিয়ান খান জয় সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে এই কমিটি করার কথা জানান। তিনি বলেন, “কোনো অপকর্মকারীর স্থান ছাত্রলীগে নেই। বুয়েটের ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।” রোববার রাত ২টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, আবরারের হাতে, পায়ে ও পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ভোঁতা কিছু দিয়ে পেটানোর ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। আবরারকে শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে সহপাঠীদের বরাতে খবর প্রকাশ করেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। পুলিশ ইতোমধ্যে বুয়েট ছাত্রলীগের চার নেতাকে আটক করেছে এবং ওই হলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে বলে ঢাকা মহানগরের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানিয়েছেন।

ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয় বলেন, “ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক বুয়েটের সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই। ছাত্রলীগ কখনও এরূপ ঘটনা বা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি গঠন করা হল।”

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা – রাজশাহীতে মহাসড়ক অবরোধ

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। রোববার গভীর রাতে বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফাহাদ থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলে। ওই হলের সিঁড়িতে তার লাশ পড়ে ছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সোমবার বেলা দুইটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন। এর আগে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বেলা ২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. লুৎফর রহমান শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক ছেড়ে দিতে বললেও তারা আধা ঘণ্টা অবস্থান করেন। মতিহার থানার ওসি হাফিজুর রহমানও তাদের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিলা খাতুন অবরোধকারীদের উদ্দেশে বলেন, “এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, প্রশাসন তাদের চিকিৎসার দায় নেয়নি। “সব বিশ্ববিদ্যালয়েই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে মুখ বন্ধ করে দেওয়ার একটা বিষয় তৈরি হয়েছে। আর এখন খুনও করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন এমন একটি ফ্যাসিবাদী পর্যায়ে চলে গেছে। সকল দুর্নীতিবাজকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হোক।” এ সময় রাস্তায় আটকা পড়া যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকে বিরক্ত হন। অনেককে হেঁটে শহরের দিকে যেতে দেখা গেছে। তাদের উদ্দেশে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রঞ্জু হাসান বলেন, “আমরা এখানে কেন দাঁড়িয়েছি তা আপনারা অনেকে হয়ত জানেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিন দিন অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।” বাসচালক আব্দুস সালাম বলেন, “আমরা জানতাম না এখানে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। আগে জানলে বাইপাস দিয়ে চলে যেতাম।” জান্নাতুল নামে একজন বাসযাত্রী বলেন, “তারা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছে, কিন্তু তা আমাদের ভোগন্তিতে ফেলে।” বুয়েট ছাত্র ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভোঁতা কিছু দিয়ে মারা হয়েছে। ফরেনসিকের ভাষায় বলে- ব্লান্ট ফোর্সেস ইনজুরি। বাংলা কথায়, ওকে পিটিয়ে মারা হয়েছে।” তার হাতে, পায়ে ও পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ইন্টার্নাল রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।” পুলিশ বলছে, আবরারকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ডেকে নিয়ে যায় কয়েকজন। পরে শিক্ষার্থীরা রাত ২টার দিকে হলের দ্বিতীয়তলার সিঁড়িতে তার লাশ পায়।

ভিন্ন মতের বলে মেরে ফেলার অধিকার তো নেই – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে কারা কোন ‘আবেগ ও হুজুগে’ হত্যা করেছে, তাদের ‘অবশ্যই’ খুঁজে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, “আমি যতটুকু বুঝি এখানে ভিন্ন মতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার নেই। এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। তদন্ত চলছে, তদন্তে যারা দোষী সাবস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারসোনালি আমার কোনো ভিন্নমত নেই।” গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন সরকারের সেতুমন্ত্রী কাদের।রোববার রাত ২টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আবরারকে শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে সহপাঠীদের বরাতে খবর প্রকাশ করেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। পুলিশ ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের চার নেতাকে আটক করেছে।  কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা নটরডেম কলেজে থেকে এইচএসসি পাস করা আবরার ফাহাদের ডাক নাম মুজাহিদ। গত ৫ অক্টোবর ফেইসবুকে দেওয়া সর্বশেষ পোস্টে তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি চুক্তির সমলোচনা করেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ভিন্নমত পোষণ করে বলে বিএনপি বলছে, ভারত সফরে দেশ বিক্রি করে দিয়েছি। তাই বলে কি বিএনপিকে মেরে ফেলব? যে নেতারা বলছে তাদের কি মেরে ফেলব?” তিনি বলেন, “একটু আগেও পুলিশের আইজির সাথে কথা হয়েছে। আমি বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিষয়টা আলোচনা করতে পারেন।” পুলিশ ইতোমধ্যে ফাহাদ হত্যার তদন্ত শুরু করেছে জানিয়ে কাদের বলেন, “এখানে কোন আবেগ ও হুজুগে কারা এটা করেছে, তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে।”

আজ গ্রামের বাড়ী কয়ায় দাফন

বাকরুদ্ধ পরিবার ॥ হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবী

তরী তীরে ভেড়ানোর আগেই ফাহাদ চলে গেল না ফেরার দেশে

নিজ সংবাদ ॥  সপ্তাহখানেক আগে ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে আসেন আবরার ফাহাদ রাব্বি। তবে বাড়িতে এসে পড়ালেখা ঠিক মত না হওয়ায় আগেভাগেই ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। রবিবার সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ফাহাদ। সকালে তার মা ঘুম থেকে ডেকে তুলে দেয়। এরপর ঢাকায় পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত ফোনে ৪ বার কথা হয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে পৌঁছে বিকেলের দিকে মাকে ফোন দিয়ে জানায় পৌঁছানোর বিষয়টি। মোবাইলে এটিই তার মায়ের সাথে ফাহাদের শেষ কথা হয়। আর সারারাত ফোন দিয়েও ছেলের খবর না পেয়ে বিচলিত হয়ে উঠেন মা রোকেয়া।  সোমবার সকালে উঠে খবর পান ছেলে আর বেঁচে নেই।

প্রিয় ছেলেকে হারিয়ে এখন ফাহাদের বাড়ি শোকের মাতম চলছে। কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বাড়ির পাশেই ফাহাদের বাসা। বাড়ি জুড়ে ফাহাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের ভীড়। ছেলের শোকে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন মা রোকেয়া খাতুন।

জানা গেছে, আবরার ফাহাদ রাব্বির গ্রামের বাড়ি কুমারখালী ইউনিয়নের কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়। ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বাবা বরকতুল্লাহ বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের অডিট কর্মকর্তা ছিলেন। মা স্থানীয় সোনামনি কিন্ডারগার্ডেনে পড়ান।

পরিবার সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বি ছোট বেলা থেকে মেধাবী ছিল। লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতো সারাদিন। আর বাড়ি থেকে ফেরার দিনই তাকে এভাবে কারা হত্যা করতে পারে তা ভেবে পাচ্ছে না পরিবারের লোকজন।

আবরার ফাহাদ রাব্বির স্বজনরা জানান, ছোট বেলা থেকেই মেধাবী ছিল। ক্লাসে ১ম ছাড়া দ্বিতীয় হয়নি সে। কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঢাকায় নটরডেম কলেজে এইচএসসি ভর্তি হয় ফাহাদ। এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। অষ্টম শ্রেণী ও ১০ম শ্রেণীতেও বিশেষ বৃত্তি পেয়েছিল সে।

এরপর ইলেকট্রিক্যাল প্রকৌশল হওয়ার স্বপ্নে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। ইতিমধ্যে অনেকটা পথ পাড়িও দিয়েছেন। তবে তরী তীরে ভেড়ানোর আগেই ফাহাদ চলে গেল না ফেরার দেশে।

ফাহাদের পিতারা ৫ ভাই। ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই সরকারি চাকুরি করেন। আর ফাহাদের পিতা বরকতুল্লাহ ব্র্যাকের অডিটর ছিলেন। চাকুরি থেকে অবসরে গেছেন। মা রোকেয়া খাতুন সোনামনি নামে কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষক। সীমিত আয় দিয়ে দুই ছেলেকে উচ্চ শিক্ষিত করার প্রাণপণ চেষ্টা ছিল তাদের। ছেলেকে নিয়ে গর্ব করতে মা-বাবা। আত্মীয়-স্বজনরাও ফাহাদকে ভালবাসতো।

চাচা মিজানুর রহমানের দাবি, ফাহাদ শিবিরের কর্মী, এমন কথা রটাচ্ছে সবাই। এটা বানোয়াট, আমরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। হানিফ সাহেবের বিভিন্ন মিটিংয়েও আমরা যাই। ফাহাদ এমনিতে তাবলিগে যেত। বুয়েটে ভর্তির পর দুই-তিনবার সে তাবলিগে গিয়েছিল।’

বরকতুল্লাহর গ্রামের প্রতিবেশি ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন,‘ বরকত চাচা আর আমার গ্রামের বাড়ি পাশাপাশি। বরকতুল্লাহরা ৫ ভাইয়ের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিল। আর বরকতুল্লার আওয়ামী লীগের একজন পাকা সমর্থক। অনেক মিছিল মিটিং সে আমাদের সাথে করেছে। দলের দুঃসময়ে সে আওয়ামী লীগের ভোট করেছে। তবে ফাহাদের ছোট চাচা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির করতো বলে শুনেছি।’

ফাহাদের মা রোকেয়া জানান, ছেলে আমার খুবই শান্তশিষ্ট ছিল। সবার সাথে ভাল ব্যবহার করতো। কারা আমার নিরীহ ছেলেকে মারলো তা খুঁজে বের করতে হবে। তাদের শাস্তি দিবে হবে।’

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের নিচতলা থেকে ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ছোট আবরার ফায়াজ বলেন,  ‘বিকেলের পর ফোন না ধরায় আমি ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভাইয়াকে নক করি। ভাইয়া ফেসবুকে অ্যাকটিভ ছিল, তবে সাড়া দেয়নি।’

পিটিআই এলাকার বাসিন্দারা জানান, ফাহাদের পরিবারের সবাই খুবই ভাল ছিল। কুষ্টিয়াতে আসলে স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতো ফাহাদ।’

পারিবারিক সুত্র জানিয়েছে, ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ ছেলের মরদেহ আনার জন্য ঢাকার পৌছেছে।  সোমবার মধ্যরাতে লাশ কুষ্টিয়া এসে পৌছবে। আজ (মঙ্গলবার) সকালে গ্রামের বাড়ি কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় ফাহাদের দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

মাথা, পায়ে ও হাতে আঘাতের চিহ্ন

ছাত্রলীগের ৯ নেতাকর্মী আটক

বুয়েট ছাত্র কুষ্টিয়ার সন্তান ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে শেরেবাংলা হল থেকে উদ্ধার করা হয় ফাহাদের লাশ। আবরার ফাহাদ ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলেই থাকতেন। আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ মোট নয় জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, আটকদের সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন দফায় তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ছয়জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার ও ছাত্রলীগকর্মী বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র তানভীরুল আবেদীন ইথান ও জিসান। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদ হত্যার ঘটনায় মোট ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে সন্ধ্যায় বুয়েট ক্যাম্পাসে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদ হত্যার ঘটনায় মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সিসিটিভির ফুটেজ দেখে জড়িত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় ফাহাদের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করবেন বলেও জানান তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছি। আমরা যতগুলো সিসিটিভির ফুটেজ আছে, সব সংগ্রহ করেছি। ফুটেজগুলো অত্যন্ত স্বচ্ছ। কৃষ্ণপদ রায় আরো বলেন, এ হত্যায় যারা জড়িত, তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কে কোন দলের, এসব বিবেচনায় আসবে না। এদিকে, আবরার ফাহাদকে হলের কক্ষে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ছাত্রলীগ। হত্যার ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। গতকাল সোমবার দুপুরে এ কথা বলেন নাহিয়ান। পরে ছাত্রলীগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে বুয়েটের ঘটনা তদন্তে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার। তদন্ত কমিটির সদস্যদের আগামি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ছাত্রলীগ কখনো কোনো হত্যাকা-ের রাজনীতিতে বিশ্বাস ও সমর্থন করে না। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের অবশ্যই বহিষ্কার করা হবে। এবং প্রশাসন যাতে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করতে পারে সে সহযোগিতা করা হবে। নাহিয়ান নিহত আবরার ফাহাদের পরিবার ও সহপাঠীদের প্রতি সমবেদনা জানান। এদিকে, তদন্ত কমিটির সদস্য আসিফ তালুকদার বলেন, আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। ছাত্রলীগের অনেকের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে পেরেছি। যথা সময়ের মধ্যেই আমরা আমাদের প্রতিবেদন জমা দেব। এদিকে শক্ত লাঠি দিয়ে আঘাতের ফলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিন মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। গতকাল সোমবার বিকেলে ৪টার দিকে এ কথা জানান তিনি। ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি আবরারের মাথা, পায়ে ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শক্ত লাঠি দ্বারা আঘাতের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। এক কথায় তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, গত রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরার ফাহাদকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে এনে জেরা করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। তাঁরা শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদকে বেধড়ক পেটান। ওই সময় বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতবা রাফিদ, সমাজসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে ওই কক্ষে দ্বিতীয় দফা আবরারকে পেটানো হয়। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। রাত ৩টার দিকে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন বুয়েটের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. মাশুক এলাহী। মারধরের সময় ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আবরারকে শিবির সন্দেহে রাত ৮টার দিকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনা হয়। সেখানে আমরা তাঁর মোবাইল ফোনে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চেক করি। ফেসবুকে বিতর্কিত কিছু পেজে তাঁর লাইক দেওয়ার প্রমাণ পাই। সে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাই। আবরারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বুয়েট ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল ও উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা। প্রমাণ পাওয়ার পর চতুর্থ বর্ষের ভাইদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার সেখানে আসেন। একপর্যায়ে আমি রুম থেকে বের হয়ে আসি। এরপর হয়তো ওরা মারধর করে থাকতে পারে। পরে রাত ৩টার দিকে শুনি আবরার মারা গেছে। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বলেন, আমরা সিসিটিভির ফুটেজ দেখছি। ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করা হচ্ছে। হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ ব্যাচের হাসিবুর রহমান বলেন, সে খুবই ভদ্র ছেলে। পড়ালেখা ছাড়া কিছুই বুঝত না। আবরার ফাহাদের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায়। তবে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে তাঁর বাবা-মা ও ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ থাকেন। আবরারের বাবার নাম বরকত উল্লাহ। আবরার ফাহাদের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে স্বজনরা। মা ছালেহা খাতুন মানতেই পারছেন না তাঁর ছেলে আর নেই। ছেলের কথা মনে করে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ শোকে পাথর হয়েছিলেন। বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তাঁর ভাই আর নেই। গত রোববার রাতে ছেলে আবরার ফাহাদকে ফোন দিয়েছিলেন তাঁর মা ছালেহা। আবরার ধরেননি। এর কিছুক্ষণ পরই শোনেন ছেলে অসুস্থ, তাঁর কিছুক্ষণ পরে শোনেন ছেলে আর নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, স্কুলজীবন থেকেই আবরার মেধাবী। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, কাল রাতে ভাইয়ার মোবাইল ফোনে কয়েক বার ফোন দেওয়া হয়। ফোন না ধরায় টেনশন হচ্ছিল। সকালে ভাইয়ার রুমমেট হয়তো ফোন করে বলে যে ফাহাদ অসুস্থ, ঢাকায় কেউ থাকলে আসতে বলেন। একটু পরে ফোন করে বলে যে ফাহাদ আর নেই। তারপর ঢাকায় আমার আত্মীয়রা গিয়ে ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছে। ভাইয়া সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। সেভাবে কারো সঙ্গেই মিশতেন না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। রাজনৈতিক কোনো কিছুর মধ্যে ছিলেন না। জামায়াত বা শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ইসলামি উগ্রবাদী কারো সঙ্গেও তিনি ছিলেন না। অনেক ছেলেই তো ছিল, তাঁকে রুম থেকে নিয়ে গেল, পেটানো হলো সেটা কেউ দেখতে পেল না? বলছিলেন আবরার ফাইয়াজ। এদিকে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রথমে মানববন্ধন করা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী। মিছিলটি বুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল থেকে আবরার ফাহাদ হত্যায় কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। হত্যার জন্য বুয়েট ছাত্রলীগকে দায়ী করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ভিন্নমত পোষণ করায় কাউকে হত্যা করা কোনোভাবে মানা যায় না। আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ-মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশ করেন তারা। এতে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান, বুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি শাফিউল মুসাব্বির শাফি প্রমুখ। বক্তরা বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করতে হবে। এসময় সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পুরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা। এদিকে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দেখা যায় আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় শেরে বাংলা হলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইন-শৃঙ্খলার রক্ষকারী বাহিনীর পাশপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও (ডিবি, সিআইডি, পিবিআই) আলামত সংগ্রহ করছিলেন। এছাড়া হলের অভ্যন্তরে হত্যাকা- সংঘটিত হলেও ক্যাম্পাসে আসেননি উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক জাফর ইকবাল খানকে এ নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। সিসিটিভির ফুটেজ না দেখা পর্যন্ত তারা অবস্থান করার ঘোষণা দেন।

ঢাকায় আর্জেন্টিনা-প্যারাগুয়ে ম্যাচ?

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগামী মাসে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনার মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হবে বলে প্যারাগুয়ে ফুটবলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্যারাগুয়ে ফুটবলের টুইটারে সোমবার জানানো হয়, আগামী ১৫ নভেম্বর তারা প্রীতি ম্যাচে ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হবে। এর তিন দিন পর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা খেলবে। দুটি ম্যাচই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ওই টুইটে জানানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলা ফুটবল সংস্থার টুইটারেও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তাদের প্রীতি ম্যাচটি ঢাকায় হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে এখনও কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। ঢাকায় ম্যাচগুলো আয়োজনের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। “বিষয়গুলো নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। এখনও কোনো কিছু খুব পরিষ্কার নয়। এখানে দলগুলোর চাহিদার বিষয় আছে, আর্থিক দিকও আছে। অনান্য আরও অনেক বিষয় আছে এবং সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে।” “যদি তাদের চাহিদার সঙ্গে আমাদের ভাবনা মিলে যায়, তাহলে আশা করি আগামী সপ্তাহে আমরা এ ব্যাপারে পরিষ্কার বলতে পারব। এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।” ২০১১ সালে আর্জেন্টিনা সবশেষ বাংলাদেশ সফরে এসেছিল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হওয়া সেই প্রীতি ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ফারুকীর সিনেমায় অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী

বিনোদন বাজার ॥ মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন সিনেমা ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এ যুক্ত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী মেগান মিচেল। এছাড়া সিনেমাটির নতুন প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন শ্রীহারি শাথে। হলিউডভিত্তিক সিনেমা বিষয়ক পত্রিকা স্ক্রিন ডেইলিতে এ সম্পর্কিত একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে।

‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ প্রযোজনা করছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’, অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাজিক ইফ ফিল্মস’ এবং সর্বশেষ যুক্ত হওয়া প্রযোজক শ্রীহারি শাথে। বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। ২০২০ সালের প্রথম ধাপে শুরু হবে ছবির শুটিং। ছবির চিত্রনাট্যে ফারুকীর সঙ্গে আরও আছেন ডেভিড বারকার।

সিনেমাটি হবে ইংরেজি ভাষায়। এতে একজন দক্ষিণ ভারতীয় মানুষের পরিচয় সঙ্কটের সঙ্গে ঘটনাবহুল, অদ্ভুত এবং কিছুটা কৌতুকময় জীবন যাত্রার গল্প উঠে আসবে। তবে সেই মানুষটির অন্যরকম কিছু ঘটনা দেখা যাবে যখন অস্ট্রেলিয়ান এক নারীর সঙ্গে তার দেখা হবে আমেরিকায়।

মেগান মিচেল মূলত মেলবোর্নভিত্তিক থিয়েটার শিল্পী। ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’র মাধ্যমে তার সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রীহারি শেঠ ভারতীয় হলেও কাজ করেন নিউইয়র্কে। সম্প্রতি তিনি জিতেছেন ইনডিপেনডেন্ট স্পিরিট অ্যাওয়ার্ড। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে তিনি পেয়েছেন ৩৫টির বেশি সম্মান।

কীভাবে ৫০ কেজি ওজন কমিয়েছেন সারা আলী?

বিনোদন বাজার ॥ কয়েক বছর আগেই বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা সারা আলী খানের ওজন ছিলো ৯৬ কেজি। ৫০ কেজি ওজন কমিয়ে এখন তিনি মাত্র ৪৬ কেজি। দুটি সিনেমাতে অভিনয় করেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন এই নায়িকা। কোটি কোটি ভক্ত তার রূপে মুগ্ধ।

জানা গেছে, সেই সময়ে পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম) রোগে ভুগছিলেন সারা আলী খান। নিজের ওজন কমাতে অনেক পরিশ্রম করেছেন তিনি। কীভাবে নিজের রূপ ফিরিয়ে এনেছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমে সারা আলী খান বলেন, ‘পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম একটা হরমোনজনিত রোগ। এই রোগে মাত্রাতিরিক্ত ওজন বেড়ে যায় আমার। ওজন কমাতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।’

সারাও ওয়ার্কআউটের পাশাপাশি ডায়েটও করতেন। এখনও সেই ডায়েট মেনে চলেন। ভারী ব্রেকফাস্ট করার পরিবর্তে সারা ইডলি বা পাউরুটি খান। সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ থাকে। ওজন কমাতে লাঞ্চেও ফ্যাটহীন খাবার খেয়েছেন সারা। রুটির সঙ্গে ডাল, তরকারি ও সালাদ খান। লাঞ্চের পরে কিছু ফল খান তিনি।

লাঞ্চ ও ডিনারের মাঝেও কিছু স্ন্যাক্স খাওয়া উচিত। সারা এখনও সন্ধের স্ন্যাকস হিসেবে সুজির উপমা খান। ডিনারে সবচেয়ে হালকা খাবার খাওয়া উচিত। ডিনারে সারা রুটির সঙ্গে সবুজ তরকারি খান।

ট্যাটু এঁকে সবাইকে পেট দেখাচ্ছেন জ্যাকলিন!

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডের গ্ল্যামার গার্ল হিসেবে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। ক্যারিয়ারে ইমরান হাশমির সাথে ‘মার্ডার টু’ ও সুপারস্টার সালমান খানের সাথে ‘কিক’ ছবিতে অভিনয় করে বেশ সাড়া ফেলেছিলেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভুত লংকান সুন্দরী।

শুধু অভিনয় দিয়ে নয়, বিভিন্ন বিতর্কিত কাজ দিয়ে সবসময় আলোচনায় থাকেন এই অভিনেত্রী। এবার এমনই এক ভিডিও দিয়ে আলোচনায় এই নায়িকা। যেখানে নিজেই খোলা পেট দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন সবাইকে।

কিন্তু কেন? রহস্য কিছুই নয়। জীবনের প্রথম শরীরে ট্যাটু এঁকেছেন জ্যাকলিন। আর এই ট্যাটু এঁকেছেন নিজের পেটে। সেই ট্যাটু সবাইকে দেখাচ্ছেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ।

একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে নায়িকা লিখেছেন, ‘প্রথমবার ট্যাটু’ ৷ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পেটে আঁকা ট্যাটু দেখাচ্ছিলেন তিনি ৷

‘আলাদীন’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডে যাত্রা শুরু করেছিলেন জ্যাকলিন ৷ পরে সালমান খানের সঙ্গে ‘কিক’ সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান। সামনে সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে ‘ড্রাইভ’ ছবিতে দেখা যাবে তাকে।

আরমান গ্রেফতার হলেও শাকিবের আগুন ছবির শুটিং চলবে

বিনোদন বাজার ॥ জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খানের আগুন ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দেশ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার যুবলীগ দক্ষিণের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এমন পরিস্থিতিতেও আরমানের প্রযোজিত ‘আগুন’ শুটিং চলছে বলে জানা গেছে। এই ছবির শুটিং করছেন শাকিব খান।

৬ অক্টোবর ভোরে দেশের চলমান ক্যাসিনো ইস্যুতে গ্রেফতার হয়েছেন আরমান। এ ছাড়া অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকা এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কারও করেছে সংগঠনটি।

সিনেমাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কক্সবাজারে ৬ অক্টোবর সকাল থেকে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়েছে। শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন শাকিব খান।

দেশে চলমান ক্যাসিনো ইস্যুর শুরু থেকে দেশ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার এনামুল হক আরমান আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর গুঞ্জন ছিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শাকিব খানের ‘আগুন’ সিনেমার শুটিং।

সেই সময় পরিচালক বদিউল আলম খোকন বলেন,ছবি নির্মাণের সকল খরচ প্রযোজক আগেই দিয়ে রেখেছেন। তাই সিনেমাটি বন্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

২৯ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘আগুন’ সিনেমার মহরত অনুষ্ঠিত হয়। ‘আগুন’ সিনেমার গল্প লিখেছেন কমল সরকার। প্রযোজনা করেছে দেশ মাল্টিমিডিয়া।

এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে রুপালি পর্দায় পা রাখছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’র প্রথম আসরের রানারআপ জাহারা মিতু।

ব্যাংককে আলাউদ্দীন আলীর চিকিৎসা শুরু

বিনোদন বাজার ॥ ব্যাংককে ক্যানসারে আক্রান্ত সুরকার, সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলীর চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

রোববার ব্যাংককের স্যামিটিভেজ সুকুমভিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এ বরেণ্য সুরকারকে। সেখানে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ফারজানা আলী মিমি ও মেয়ে আদৃতা আলাউদ্দিন রাজকন্যা।

আলাউদ্দীন আলী’র মেয়ে আলিফ আলাউদ্দীন জানান, ব্যাংকক হাসপাতালে আলাউদ্দীন আলীর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এখন নানা পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তার চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসকরা। আলাউদ্দীন আলীর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন তার মেয়ে আলিফ ।

২০১৫ সালে ক্যানসার ধরা পড়ে এই সুরকারের। সে সময়ে ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছিল। সেই ক্যানসার আবারও ফিরেছে তার শরীরে।

গত ২২ জানুয়ারি রাতে বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আলাউদ্দীন আলী। হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় ৬৭ বছর বয়সী এ সুরকারকে।

নতুন বিজ্ঞাপনে তারিন

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেত্রী তারিন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৈত্রী শিল্পের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করবেন। বুধবার (৯ অক্টোবর) থেকে কক্সবাজারে বিজ্ঞাপনটির শুটিং শুরু হবে। এটি নির্মাণ করবেন আফতাব বিন তমিজ।

বিজ্ঞাপনটিতে কাজ করা প্রসঙ্গে তারিন জাহান বলেন, মৈত্রী শিল্পের নানান পণ্য বিক্রির পর যা আয় হয় তা এই শিল্পের পণ্য উৎপাদনে সম্পৃক্ত স্পেশাল চাইল্ডদের জন্য ব্যয় করা হয়। এই শিল্প থেকে উৎপাদিত মুক্তা পানি খুব ভালো পানি। এই শিল্পেরই পণ্যের বিজ্ঞাপনে আমি মডেল হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছি। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ দিতে চাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এমন একটি কাজের সঙ্গে আমাকে সম্পৃক্ত রাখার জন্য।

তারিন গেল ঈদে হাসান রেজাউলের নির্দেশনায় আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে ‘জলছবি’ টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়াও তিনি তুহিন হোসেনের ‘ভালোটুকু থাক’, অরণ্য আনোয়ারের ‘মেড ইন রয়েল ডিস্ট্রিক’, হিমু আকরামের ‘ফয়জু মুন্সীর নারিকেল গাছ’ নাটকে অভিনয় করেছেন। এদিকে তারিন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে জাতিসংঘের ৭৪তম সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন।