জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী

জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন কুষ্টিয়া পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়াধীন কুষ্টিয়া পৌরসভায় চলমান আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার ও সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্পের আওতায় ৭ হতে ১০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত জাপানের কোবে শহরে অনুষ্ঠিতব্য নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক চারদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহনের উদ্দেশ্যে ৬ অক্টোবর রবিবার  রাত ২টার সময় থাই এয়ারওয়েজ বিমান যোগে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। তিনি যেন সুস্থ শরীরে সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে এসে সফরের অভিজ্ঞতা কুষ্টিয়া পৌরবাসীর উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারেন এজন্য সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের নিকট দোয়া কামনা করেছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মৃত্যুর মিছিলে কলেজ ছাত্রসহ ডেঙ্গুতে-৫ :  জ¦রে-২ শিশু

দৌলতপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও এক যুবকের মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কলেজ ছাত্র ইমরাম হোসেনের মৃত্যুর দু’দিন যেতে না যেতেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে শামীম বিশ^াস (৩০) নামে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার সময় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অস্থায়ী ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমের মৃত্যু হয়। শামীম দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের কাগহাটি গ্রামের রফিকুল ইসলাম বিশ^াসের ছেলে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. নুরুন্নাহার জানান, শামীম ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে ভর্তি হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সকালে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে সে মারা যায়। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা শামীম বিশ^াসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাতে সে মারা যায়। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ কুমার পাল জানান, শামীম ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ইমরাম হোসেন (২৫) নামে দৌলতপুর কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের হৃদয়পুর গ্রামের মো. নাসির উদ্দিনের ছেলে। এছাড়াও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে তারেক (২২) নামে অপর এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সে দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে এবং খলিশাকুন্ডি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে জোসনা খাতুন (৫৫) নামে এক নারী মারা যান। সে দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের আসাদুজ্জামান মঙ্গলের স্ত্রী। গত ১৯আগষ্ট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দৌলতপুরের সীমান্ত সংলগ্ন বিলগাথুয়া গ্রামের চালন বেগম (৩৫) নামে এক এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দৌলতপুরে ডেঙ্গুতে ২জন কলেজ ছাত্রসহ ৫জন মৃত্যুর মিছিলে শামিল হয়েছে।

অপরদিকে ডেঙ্গু পরীক্ষা ছাড়া ডেঙ্গু রোগের লক্ষন নিয়ে দু’শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে ৬ বছরের শিশু অনু রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার সকালে জ¦র গায়ে কুষ্টিয়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে মিরপুর এলাকায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শিশু উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের নাটনাপাড়া গ্রামের শাহীন আলীর মেয়ে। ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে সিহাব (১৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জ¦র গায়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত শিশু সিহাব দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ওপার দূর্গম চিলমারী ইউনিয়নের চরবাহিরমাদী গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।

সম্রাট ও আরমানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাস করে সাজা

ঢাকা অফিস ॥ কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে ছয় মাস করে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে সম্রাটের সাজা হয়েছে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে, তার কাকরাইলের অফিসে দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে। আর কুমিল্লায় গ্রেপ্তারের সময় আরমান ‘মদ্যপ’ থাকায় তাকে সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম জানিয়েছেন।

সম্রাটের অফিসে অস্ত্র, ইয়াবা, ক্যাঙ্গারুর চামড়া

ঢাকা অফিস ॥ ক্যাসিনোকান্ডে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা, একটি পিস্তল ও দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। সম্রাটকে সঙ্গে নিয়েই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গতকাল রোববার দুপুর থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা র‌্যাবের এই অভিযান চলে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শনিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি সম্রাট ও সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন তারা। গ্রেপ্তারের পর তাদের ঢাকায় র‌্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বেলা দেড়টার দিকে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তার অফিসে ঢোকেন র‌্যাব সদস্যরা। একই সময়ে শান্তিনগরে শেলটেক টাওয়ারের পঞ্চম তলায় এবং মহখালী ডিওএইচএসের ২৯ নম্বর সড়কে স¤্রাটের দুটি বাসায় এবং মিরপুর দুই নম্বর সেকশনে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। কাকরাইলের অফিসে অভিযান শেষে ক্যাঙ্গারুর চামড়া, এক হাজারের বেশি ইয়াবা, বেশ কিছু মদের বোতল এবং একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সেখানে কিছু  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়া গেছে জানিয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, সেগুলো নির্যাতন করার কাজে ব্যবহার করা হত বলে তাদের ধারণা। মহাখালীতে অভিযান শেষে র‌্যাব-২ অধিনায়ক আশিক বিল্লাহ বলেন, সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছাড়াও শারমিনের ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ওই বাসায় থাকেন। তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ কিছু সেখানে পাওয়া যায়নি। “শারমিন বলেছেন, সম্রাট গত কয়েক বছর ধরে এই বাসায় যান না। তবে প্রতিমাসে দেড় লাখ টাকা করে খরচ দিয়ে আসছিলেন।” বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শন্তিনগরের অভিযান শেষ করে সেখানে ‘কিছু টাকা আর ক্রেডিট কার্ড’ পাওয়ার কথা জানিয়ে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, “এর বাইরে সিগনিফিকেন্ট কিছু আমরা পাইনি।” মিরপুরে আরমানের বাসায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল বলে র‌্যাব-৪ অধিনায়ক মো. মোজাম্মেল হক জানান।

যুবলীগের সম্রাট ও আরমান গ্রেফতার

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গতকাল রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে ওই এলাকায় একটি বাড়ি র‌্যাব ঘিরে রাখে। পরে স¤্রাটকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় তারা। কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন সম্রাট। যে বাড়ি থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয় সেই বাড়িটি ফেনী পৌরসভার মেয়র আলাউদ্দিনের ভগ্নীপতি মনির চৌধুরীর। তিনি পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মনির চৌধুরী সম্রাটের আত্মীয়। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলাল জানান, রাতে সম্রাটকে এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার-বিন-কাশেম জানান, চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা এখন র‌্যাবের হেফাজতে রয়েছে।

কুষ্টিয়া টিটিসিতে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে হানিফ

দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে কারিগরী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন গতানুগতিক শিক্ষা নয় কারিগরি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা সরকার দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বিদেশে ভালো চাকরী পেতে হলে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি গতকাল রোববার  দুপুরে কুষ্টিয়া টিটিসিতে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে টিটিসি’র ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা ও বিদেশগামী কর্মীদের সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এসব কথা বলেন। টিটিসি’র অধ্যক্ষ আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাহবুবউল আলম হানিফ আরো বলেন কুষ্টিয়া টিটিসি একেকটি শিক্ষার্থীকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা। কেননা একজন শিক্ষার্থী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে সক্ষম হলে কাঙ্খিত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এতে করে একদিকে যেমন বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাবে তেমনি পরিবারকে স্বচ্ছলতা এনে দিবে ওই শিক্ষার্থী। আমি আশা করব কুষ্টিয়া টিটিসি দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। এসময় টিটিসি’র নতুন কিছু বিষয় খোলার বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-১(দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী। অনুষ্ঠান শেষে বিদেশগামী কর্মীদের সনদপত্র প্রদান করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।

নতুন দায়িত্ব পালন করতে চলেছেন জয়া

বিনোদন বাজার ॥ দুই বাংলার জনপ্রিয় মুখ তিনি। নানামাত্রিক চরিত্রে বাজিমাত করতে তার জুড়ি মেলা ভার। দর্শক-ভক্ত আশায় থাকেন কখন নতুন ছবি নিয়ে হাজির হবেন জয়া। বর্তমানে তিনি প্রসেনজিৎসহ আরও বেশ ক’জন অভিনেতার বিপরীতে কিছু চলচ্চিত্রে কাজ করলেন। তারই ফাঁকে দিলেন নতুন খবর। নতুন এক দায়িত্ব পালন করতে চলেছেন তিনি। ডিবিএল সিরামিকস লিমিটেডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

 

গত ৩ অক্টোবর রাজধানীর গুলশানের একটি স্বনামধন্য হোটেলে জাঁকজমক এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জয়া আহসানের নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে জয়া আহসানসহ ডিবিএল সিরামিকস থেকে এম এ কাদের, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর; বায়েজিদ বাশার, ডিজিএম, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট; এম আবু হাসিব রন, হেড অব সেলস এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে জয়া আহসান বলেন, ‘সিরামিক টাইলস ব্র্যান্ড ডিবিএল সিরামিকসের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হতে পেরে আমার খুবই ভালো লাগছে। এই কোলাবোরেশনের মাধ্যমে দেশের মানুষকে খুব ভালো কিছু উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

নির্দিষ্ট নিয়মে খেলে যাওয়াই আমার কাজ ঃ রোহিত শর্মা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ রোহিত শর্মার দুই ইনিংসে সেঞ্চুরিতে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে জয়লাভ করেছে ভারত। এই জয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় ওপেনার শর্মা বলেন, তার চেষ্টা থাকে শুধু খেলে যাওয়া, ‘দলের চাহিদা মোতাবেক নির্দিষ্ট নিয়মে খেলে যাওয়া।’ প্রোটিয়াদের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ৩২ বছর বয়সি শর্মা প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরিসহ ১৭৬ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত ব্যাট চালিয়ে সংগ্রহ করেন ১২৭ রান। ম্যাচে ২০৩ রানে জয়লাভ করে ভারত। ম্যাচ সেরার পুরস্কার গ্রহণের পর মুম্বাইয়ের এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান বলেন, ‘এখানে আমার কাজ হচ্ছে নির্দ্দিষ্ট নিয়মে খেলে যাওয়া। এটিই হচ্ছে আমার কাছে দলীয় প্রত্যাশা। আর আমিও চেষ্টা করি সেটি পূরণের।’ সীমিত ওভারে ভারতীয় দলের এই সহ-অধিনায়ক বলেন, দীর্ঘ ভার্সনের ক্রিকেটে ওপেনিংয়ে ব্যাট করা তার জন্য আকস্মিক কিছু নয়, কারণ কয়েক বছর আগেই জানতেন তার যাত্রা পথে এমন একটি সুযোগ আসবে। রোহিত শর্মা বলেন, ‘কয়েক বছর আগেই আমি বলেছিলাম যে কোন এক সময় আমি ওপেনিং করতে নামব। দল আমার কাছ থেকে তেমনটাই প্রত্যাশা করেছিল। এমনকি নেটের অনুশীলনেও আমি নতুন বল ব্যবহার করতাম। তাই আমি এটিকে বিস্ময়কর বলব না। ওপেনিংয়ে ব্যাট করা আমার জন্য দারুণ একটি সুযোগ। এই সুযোগ দেয়ার জন্য এবং আগে যেটি করিনি সেটির জন্য আমাকে বিবেচনা করার জন্যও আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ সতর্কতার সঙ্গে আগ্রাসী ব্যাটিং করাটা নিজের সফলতার মূল মন্ত্র বলে মনে করেন শর্মা। এই ম্যাচে ১৩টি ছক্কা হাঁকিয়ে বিশ্ব রেকর্ডও গড়ে নিয়েছেন রোহিত শর্মা। ম্যাচের জন্য সচেতনতাও জরুরি উলে¬খ করে তিনি বলেন, ‘লাল, নাকি সাদা, আপনি কোন বলে খেলছেন সেটি সেটি বিষয় নয়। শুরুতে আপনাকে সাবধান থাকতে হবে। মূল খেলার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। বাইরের বল ছেড়ে দিতে হবে, মূল কাছের বলগুলোকে খেলতে হবে। মূলত পরিস্থিতি বিবেচনা করে খেলতে হবে। সতর্কতার সাথে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ই আমার মুলমন্ত্র।’ শর্মার দ্বিতীয় ইনিংসের সেঞ্চুরিটি এসেছে ১৪৯ বলের বিপরীতে। যেখানে ১০টি বাউন্ডারী ও সাতটি ছয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। রোহিত শর্মা বলেন, ‘দ্বিতীয় ইনিংসে আমি চেষ্টা করেছি কিছু শট খেলতে। কিছু কিছু ব্যাটে এসেছে আবার কিছু বল ব্যাটে আসেনি। এ সময় বোলাররাও কিছুটা বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বল করেছে। তবে আমি নিজেকে বুঝিয়েছি। মনে হয় ভাগ্য আমাকে সাহসী করেছে।’ ওই ইনিংসে তিনি গড়েছেন নতুন একটি রেকর্ড। প্রথমবারের মত টেস্টের ওপেনার হিসেবে তিনি দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। সেই সঙ্গে হাঁকিয়েছেন ১৩টি ছক্কা। এই রেকর্ড প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রোহিত বলেন, ‘মজা করা এবং দলকে ভাল একটি অবস্থানে পৌঁছে দেয়ার দিকে মনোযোগী ছিলাম। আমার চেষ্টা ছিল সেরাটা খেলার প্রতি। আমার মনোযোগ ছিল এই টেস্টে দলকে জয়ী করা। আজ সবকিছুই যেন সঠিকভাবেই হয়েছে।’ এই ম্যাচ জয়ের আরেক কারিগর মোহাম্মদ সামি, যিনি প্রত্যাবর্তন করেই দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ করেছেন ৫ উইকেট। তিনি বলেন, ‘উইকেট ¯ে¬া ও নীচু হওয়ায় এখানে ব্যাট করাটা কঠিন ছিল। আমাদের পরিকল্পনা ছিল দুই ফাস্ট বোলার যেন শুধু স্টাম্পকেই লক্ষ্যবস্তু বানায়। বিগত চার পাঁচ বছর ধরেই আমরা একে অপরকে এভাবেই সহযোগিতা করে আসছি। দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা বৈচিত্রময় বাউন্স ও রিভারর্স সুইপ থেকে সুবিধা পেয়েছি। আমরা অস্বস্তিতে থাকা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল করেছি স্টাম্প লক্ষ্য করে। এর ফলও আমরা পেয়েছি।’ যত দ্রুত সম্ভব প্রতিপক্ষের চার পাঁচটি উইকেট সংগ্রহ করাটাও এই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। প্রথম ইনিংসে অশ্বিন অবশ্যই আমাদের জন্য দারুণ কাজ করেছেন। আমরা যত বেশি স্টাম্পে বল করবো তত বেশি ব্যাটসম্যানকে শিকারে পরিণত করতে পারব।’

‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ মুক্তির অপেক্ষার অবসান

বিনোদন বাজার ॥ দেশের প্রথম অমনিবাস চলচ্চিত্র ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’। বহু প্রতীক্ষার পর নভেম্বরে ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সম্প্রতি ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র অর্জন করেছে। ছবিটি গতবছর থেকেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনে দৌড়ে রয়েছে। গতবছরের অক্টোবরে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ও সম্মানজনক চলচ্চিত্র উৎসব ‘বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এর ২৩তম আসরে ছবিটি ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের পর এ পর্যন্ত অর্জন করেছে কাজান আন্তর্জাতিক মুসলিম চলচ্চিত্র উৎসবের ১৫তম আসরে ‘রাশিয়ান গিল্ড অব ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড’ এবং জয়পুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে প্রদর্শিত হয়ে ‘শ্রেষ্ঠ মৌলিক চিত্রনাট্য’র পুরস্কার।

 

এ পর্যন্ত ছবিটি সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইংল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, ভারতের মুম্বাই থার্ড আই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, আওরঙ্গবাদ চলচ্চিত্র উত্সব, ১১তম বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব, কোলহাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, পুনে, চেন্নাইসহ প্রায় ২০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে।

 

ছবিটির গল্পে দেখা যাবে, ঢাকার নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাপন, তাদের সংগ্রাম ও বেঁচে থাকার নিরন্তন যুদ্ধই ছবির পটভূমি। সঙ্গে উঠে এসেছে ঢাকার নিজস্ব সংস্কৃতিও। এর সবকিছুই নিপূণ দক্ষতায় তুলে ধরেছেন ১১ জন তরুণ নির্মাতা। তারা হলেন গোলাম কিবরিয়া ফারুকী, মাহমুদুল ইসলাম, মীর মোকাররম হোসেন, রাহাত রহমান জয়, রবিউল আলম রবি, সৈয়দ সালেহ আহমেদ সোবহান, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আবদুল্লাহ আল নূর, তানভীর আহসান, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় ও নুহাশ হুমায়ূন।

 

ছবিটিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, ইন্তেখাব দিনার, শতাব্দী ওয়াদুদ, ইরেশ যাকের, লুৎফর রহমান জর্জ, ত্রপা মজুমদার, ফজলুর রহমান বাবু, ফারহানা হামিদ, শাহতাজ মনিরা হাশিম, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান প্রমুখ।

মাহমুদুলের সেঞ্চুরিতে সিরিজ বাংলাদেশের যুবদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগের ম্যাচে মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে ফেরা মাহমুদুল হাসান এবার পেলেন তিন অঙ্কের দেখা। দারুণ ছন্দে থাকা এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তায় দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই নিউ জিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে সিরিজে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তৃতীয় যুব ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। ফার্গুস লেম্যানের সেঞ্চুরির উপর ভর করে ৮ উইকেটে ২২৩ রান করে নিউ জিল্যান্ড। সবশেষ ছয় যুব ওয়ানডেতে মাহমুদুলের তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ৭৯ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৫ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সফরকারীরা। লিঙ্কনের বার্ট সাটক্লিফে রোববার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নিউ জিল্যান্ডের। তৃতীয় ওভারে ওলি হোয়াইটকে কট বিহাইন্ড করেন তানজিম হাসান। এরপর থেকে নিয়মিত উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে টেনেছেন লেম্যান। অন্য প্রান্তে কেউ দিতে পারেননি খুব একটা সঙ্গ। প্রথম নয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে বিশ পর্যন্ত যেতে পারেন কেবল জেস টাসকফ। নবম উইকেটে কিছুটা সঙ্গ দেন হেইডেন ডিকসন। ১ ছক্কায় ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। লেম্যান ৫ ছক্কা ও ৭ চারে ১৩৩ বলে করেন অপরাজিত ১১৬ রান।  বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক দাস, তানজিম ও হাসান মুরাদ নেন দুটি করে উইকেট। রান তাড়ায় টানা তৃতীয়বারের মতো ব্যর্থ বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। পারভেজ হোসেনের ব্যর্থতায় সুযোগ পাওয়া অনিক সরকার শুরুতেই ফিরেন বাজে শটে কট বিহাইন্ড হয়ে। তানজিদ হাসান ও মাহমুদুলের ব্যাটে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শুরু থেকে বোলারদের ওপর চড়াও হন তানজিদ। শট খেলতে শুরু করেন মাহমুদুলও। আদিত্য অশোক ভাঙেন বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি। ৬৪ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৬৫ রান করে ফিরেন তানজিদ। আগের ম্যাচেও এই ওপেনার করেছিলেন ৬৫। তৃতীয় উইকেট অবিচ্ছিন্ন শতরানের জুটিতে দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যান মাহমুদুল ও তৌহিদ হৃদয়। ৯৫ বলে ১৬ চার ও এক ছক্কায় ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদুল। ১২৮ রানের জুটিতে হৃদয়ের অবদান ৮ চারে ৫১। একই ভেন্যুতে আগামী বুধবার হবে চতুর্থ ওয়ানডে। সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউ জিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৫০ ওভারে ২৪২/৬ (হোয়াইট ৭, ভিশভাকা ১০,, লেম্যান ১১৬*, ক্লার্ক ৬, টাসকফ ২০, ম্যাকেঞ্জি ১০, সানডে ০, অশোক ১৪, ফিল্ড ৫, ডিকসন ২৩*; তানজিম ১০-১-৪৬-২, অভিষেক ১০-২-২৮-২, শরিফুল ১০-০-৪৪-১, শামিম ১০-০-৪৭-০, মুরাদ ১০-১-৫৬-২)। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৪৬.৩ ওভারে ২৪৩/৪ (তানজিদ ৬৫, পারভেজ ১, মাহমুদুল ১০৩*, হৃদয় ৬১*; ক্লার্ক ৭-০-৪৬-১, অশোক ৭-০-৪০-১)। ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৮ উইকেটে জয়ী।

শান্তনু বিশ্বাসের ‘স্মৃতির শহরে’

বিনোদন বাজার ॥ বহুরৈখিক নিভৃতচারী শিল্পী ছিলেন শান্তনু বিশ্বাস। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তিনি ছিলেন কনিষ্ঠতম শিল্পী। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাটক লেখা, অভিনয় ও নির্দেশনা শুরু করেন। ১৯৭৬ সালের দিকে চট্টগ্রামে শান্তনু বিশ্বাস আরো কয়েকজন নাট্যকর্মীসহ অঙ্গন থিয়েটার গড়ে তোলেন। ‘কালো গোলাপের দেশ’ তাঁর লেখা প্রথম নাটক। মঞ্চেও দেখা গেছে শুরু থেকে। ‘অঙ্গন’ এবং ‘গণায়ন’-এ অভিনয় করে তিনি ওই সময়ে সাড়া ফেলেছিলেন। তিনি নাটকের নির্দেশনা আবহও  তৈরি করেন তৃতীয় নাটক ‘নবজন্ম’-তে।

 

মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিন্ন আঙ্গিকে লেখা তাঁর নাটক ‘ইনফরমার’ ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। মৌলিক নাটকের পাশাপাশি অনুবাদ বা রূপান্তরেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। লিখতেন গানও। যে গান যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতাকে কথা-সুরে সাজিয়ে গান বানাতেন শান্তনু বিশ্বাস। তার গানে উঠে আসতো মানুষ, মানবতা, চলমান জীবনের আনন্দ-বিষাদের নানা দিক। যার ফলে অন্য অনেকের গানের ভীড়ে শান্তনুর গান চিহ্নিত করা যায় আলাদাভাবে।

 

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয় শান্তনু বিশ্বাসের গানের বই ‘গানের কবিতা- খোলাপিঠ’। ২০০৭ সালে শান্তনু বিশ্বাসের কথা ও সুরে এটিএন মিউজিক থেকে একটি সংকলন বের হয় যেটিতে কণ্ঠ দেন শিল্পী সুবীর নন্দী ও কলকাতার ইন্দ্রাণী সেন। ২০০৮ সালে ইমপ্রেস অডিও ভিশন থেকে শান্তনুর লেখা সুরে শিল্পী অরুনিমা ইসলাম ও নিজের গাওয়া যৌথ সংকলন বের হয়। ২০০৯ সালে জি সিরিজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অগ্নিবীণা বের করে শান্তনু ও শিল্পী বাপ্পা মজুমদারের যৌথ অ্যালবাম। ২০১২ সালে বের হয় একক সংকলন ‘পোস্টম্যান’ ও ২০১৪ তে ‘খড়কুটো’।

 

গুণী এই শিল্পী প্রয়াত হয়েছেন গেল জুলাইতে। তবে তার অসামান্য সৃষ্টিকর্ম রেখে গেছেন সবার জন্য। তার সৃষ্টি করা ৮টি গান নিয়ে সাজানো হয়েছে একটি সংকলন। সেই অ্যালবামের নাম দেয়া হয়েছে ‘স্মৃতির শহরে’।

 

শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকালে জি সিরিজের অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করা হলো। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীত তারকা বাপ্পা মজুমদার, অ্যাক্টিভিস্ট সাগর লোহানী, জি-সিরিজ কর্ণধার নাজমুল হক ভুইয়া প্রমুখ।

 

‘স্মৃতির শহরে’ সংকলনের সঙ্গীত আয়োজন করেছেন সুদীপ্ত সাহা। এর প্রতিটি গানই শান্তনু বিশ্বাসের লেখা ও সুর করা। আর গেয়েছেনও তিনি নিজেই।

 

এই সংকলন মূলত ভালোবাসার গানেই তৈরি করা হয়েছে। ভালোবাসা নিয়ে শান্তনু বিশ্বাসের মন্তব্য ছিল এরকম- ‘ভালোবাসা, এই বোধ ও অনুভবের একটা অবাধ উন্মোচন হয়তো থাকে। যৌথজীবনের শুরুটা একটা অন্তঃশায়ী টান থেকে জন্ম নেয় যেখানে আগুনে বা অসুখে দু’জনকে পুড়তে হয় পোড়ার সমুজ্জ্বল আনন্দে।’

 

‘স্মৃতির শহরে’ সংকলনে রয়েছে- ‘স্মৃতির শহরে’, ‘সময়ের চাকাটা’, ‘আমার সকাল বেলার পাখি’, ‘কৃষ্ণকলি’, ‘এমন দিনে তারে’, ‘ঢেউ তোলো’, ‘দেখছি আর ভাবছি’ ও ‘বললে আমি যাই’ গানগুলো।

 

শান্তনু বিশ্বাসের জন্ম ১৯৫৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে। পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রামে সেন্ট প্লাসিড স্কুলে। সেখানকার শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কনিষ্ঠ শিল্পী হিসেবে তিনি গান গেয়েছেন।

 

সঙ্গীত ও নাটকের প্রতি শান্তনুর আগ্রহ স্কুল জীবন থেকেই। নিভৃতে কাজ করে যাওয়া শান্তনু বিশ্বাস নাটকের সাথে গানেও জড়িয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। এক এক করে গানের মোট সাতটি অ্যালবামে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন। গান রচনা, সুরারোপ করা এবং সেই গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে এবং দেশে-বিদেশে বহুবার তিনি মঞ্চে উঠেছেন নিজের গানকে সঙ্গে করে।

 

চলতি বছরের ১২ জুলাই শান্তনু বিশ্বাস প্রয়াত হন এবং তার ইচ্ছে অনুযায়ী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে তার মরণোত্তর দেহদানের প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিল ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা। বাকিটা সারলেন বোলাররা। রবীন্দ্র জাদেজা ও মোহাম্মদ শামির দারুণ বোলিংয়ে প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে ভারত। বিশাখাপতœম টেস্টে ২০৩ রানে জিতেছে বিরাট কোহলির দল। ৩৯৫ রান তাড়ায় শেষ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ১৯১ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পাঁচ প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান বোল্ড হয়ে ফেরেন, চার জনই পেসার শামির শিকার। পঞ্চম দিনে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলা শামি নেন পাঁচ উইকেট। এক ওভারে তিনটিসহ মোট চার উইকেট নেন জাদেজা। জিততে শেষ দিনে ৩৮৫ রান করতে হতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে অথবা ম্যাচ বাঁচাতে কাটিয়ে দিতে হতো পুরোটা দিন। টপ ও মিডল অর্ডার পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায়  ন্যুনতম লড়াইও করতে পারেনি দলটি। প্রথম আঘাত হানেন প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়া রবিচন্দ্রন অশ্বিন। দ্বিতীয় ওভারে ডি ব্র“ইনকে বোল্ড করে ৬৬ ম্যাচে ৩৫০ উইকেটের রেকর্ড স্পর্শ করেন এই অফ স্পিনার। বসেন কিংবদন্তি স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের পাশে। পরের ওভারে শামির নিচু হয়ে আসা বল ভেঙে দেয় টেম্বা বাভুমার স্টাম্পস। ব্যাটিং ধসের মাঝে দায়িত্ব নিতে পারেননি প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান কুইন্টন ডি ককও। ৭০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে প্রথম সেশনেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে দলটি। ম্যাচের ফলে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে না পারলেও ভারতের প্রতীক্ষা বাড়ান ড্যান পিট ও সেনুরান মুথুসামি। নবম উইকেটে পিটের সঙ্গে ৯১ ও শেষ উইকেটে কাগিসো রাবাদার সঙ্গে ৩০ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কমিয়েছেন মুথুসামি। পিট করেন ৫৬ রান। টেস্টে এটাই তার সর্বোচ্চ। ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন মুথুসামি। রাবাদাকে কট বিহাইন্ড করে জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মত ইনিংসে ৫ উইকেট নেন শামি।

জোড়া সেঞ্চুরিতে ৩০৩ রান করা রোহিত শর্মা হয়েছেন ম্যাচ সেরা। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ১ম ইনিং: ৫০২/৭ (ইনিংস ঘোষণা)। দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিং: ৪৩১। ভারত ২য় ইনিং: ৩২৩/৪ (ইনিংস ঘোষণা)। দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিং: (লক্ষ্য ৩৯৫) (আগের দিন ৯ ওভারে ১১/১) ৬৩.৫ ওভারে ১৯১ (মারক্রাম ৩৯, এলগার ২, ডি ব্র“ইন ১০, বাভুমা ০, দু পে¬সি ১৩, ডি কক ০, মুথুসামি ৪৯*, ফিল্যান্ডার ০, মহারাজ ০, পিট ৫৬, রাবাদা ১৮; অশ্বিন ২০-৫-৪৪-১, জাদেজা ২৫-৬-৮৭-৪, শামি ১০.৫-২-৩৫-৫, ইশান্ত ৭-২-১৮-০, রোহিত ১-০-৩-০)। ফল: ভারত ২০৩ রানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: রোহিত শর্মা। সিরিজ: ২ ম্যাচ সিরিজে ভারত ১-০তে এগিয়ে।

 

মুরালিধরনের রেকর্ড ছুঁলেন অশ্বিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশাখাপতœম টেস্টে প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট নিয়ে মুত্তিয়া মুরালিধরনের পাশে বসার আশা জাগান রবিচন্দ্রন অশ্বিন। দ্বিতীয় ইনিংসে এক উইকেট নিয়ে সম্ভাবনাকে দিলেন পূর্ণতা। সবচেয়ে কম টেস্টে ৩৫০ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার বোলিং কিংবদন্তির রেকর্ড স্পর্শ করলেন ভারতীয় অফ স্পিনার। প্রথম টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে রোববার দারুণ এক ডেলিভারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার টিউনিস ডি ব্র“ইনকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন অশ্বিন। বসেন মুরালিধরনের পাশে।

৬৬ টেস্টে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন অশ্বিন। ম্যাচের হিসাবে যা যৌথ দ্রুততম। সমান সংখ্যক ম্যাচে ৩৫০ উইকেট নিয়ে এতো দিন রেকর্ডটির একা মালিক ছিলেন মুরালিধরন। ২০০১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে রেকর্ডটি গড়েছিলেন এই অফ স্পিনার।

ইতিহাসে পাশ করলেই মিলবে বাইক ও বউ

বিনোদন বাজার ॥ আব্দুল মতিনের বাবা কালা মুন্সি ঘোষণা দেয় এস এস সি পাশ করতে পারলে মতিন পাবে সি ডি আই বাইক এবং সুন্দরী বউ। মিয়া বাড়ির মেয়ে জলিকে বউ করে আনা হবে মতিনের জন্য।

 

আর যদি এস এস সি ফেল করে তবে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হবে। উপহারের লোভে মতিন সিদ্ধান্ত নেয় ৪র্থ এবং শেষবারের মতো সে পরীক্ষা দেবে। তবে মাত্র একটা সাব্জেক্টে। সেটা ইতিহাস।

 

জলি নায়িকা শাবানার চেয়েও সুন্দর। মতিন ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে জলি তাকে ইতিহাস পড়াচ্ছে। বাসর ঘরে বসে। পাশ তাকে করতেই হবে। বাইক আর জলি কাউকেই হারাতে চায় না মতিন।

 

শুরু হয় পরীক্ষা পাশের সব আয়োজন। ইতালি ফেরত টমবয় বাদল পরীক্ষার রুটিন নিয়ে আসে। ইতিহাসের স্যার তবারক আলি রোজ দুই বেলা মতিনকে পড়াতে আসেন। বন্ধু হারুন জীবন বাজি রেখে হলেও পরীক্ষার হলে নকল সাপ্লাই দেবার দায়িত্ব নেয়।

 

আরেক বন্ধু হাবিব রামপুরের বড় হুজুরের কাছ থেকে কলম পড়া নিয়ে আসে। হুজুরের কলম পড়ায় অনেক ফজিলত। পাশ না করে উপায় নাই! মামু সেকান্দর পরীক্ষা কেন্দ্রের দফতরিকে টাকা খাইয়ে সবকিছু ঠিক করে রাখে।

 

তারপর সবার কাছ থেকে দোয়া নিয়ে ইতিহাস পরীক্ষা দিতে যায় আব্দুল মতিন। কিন্তু সেখানেও ঘটে ঐতিহাসিক ঘটনা। এমনই এক গল্পের টেলিছবিতে মতিন চরিত্রে হাজির হবেন আ খ ম হাসান। ‘আব্দুল মতিনের বিরাট ইতিহাস’ নামের টেলিছবিটিতে তার সঙ্গে জুটি বাঁধতে দেখা যাবে লাক্স তারকা ঊর্মিলা শ্রাবন্তী করকে।

 

হিমু আকরামের রচনা ও পরিচালনায় টেলিছবিটি চ্যানেল আইয়ের জন্য নির্মিত হয়েছে। গল্প প্রসঙ্গে হিমু আকরাম বলেন, ‘গ্রামের জীবন, এস এস সি পরীক্ষার প্রস্তুতি, নকলের চিন্তা, হুজুরের কলম পড়া, প্রায় ২০-২৫ বছর আগের সময়ে ফিরে গেছি আমি। সেই মানুষদেরর জীবন চরিত্র নিয়েই নাটকের গল্পটি লেখা।

 

যেখানে প্রেম, সম্পর্কের জটিলতা, হাসি, ঝগড়া, খুনসুটি সবই রাখার চেষ্টা করছি। দর্শকরা দেখে মজা পাবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

 

নাটকের অন্যান্য চরিত্রে আছেন রিফাত চৌধুরী, ছবি আপা, মিলন ভট্ট, সঞ্জীব আহমেদ, রাজু আহসান, বাদল আফতাব প্রমুখ।

দুর্গাপূজার গল্পে সাজ্জাদ-তিশা

বিনোদন বাজার ॥ সময়ের জনপ্রিয় দুই তারকা ইরফান সাজ্জাদ ও তানজিন তিশা। বেশ কিছু নাটক-টেলিছবিতে তাদের জুটি হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে। তাদের জুটির রয়েছে দর্শকপ্রিয়তাও।

 

সেই ধারাবাহিকতায় এবার তারা দুর্গাপূজার একটি গল্পের নাটকে জুটি বাঁধলেন। নাটকের নাম ‘দুর্গা ও দুর্গা ও বনজ্যোৎস্নার গল্প’। অনুরূপ আইচের লেখা নাটকটি পরিচালনা করেছেন সীমান্ত সজল।

 

এ নাটকের গল্পে দেখা যাবে, লেখক স্বাগতম নতুন লেখার খোঁজে শহর থেকে খানিক দূরে নির্জন বনাঞ্চল সুন্দরপুর ডাক বাংলোয় এসে উঠে। বৃদ্ধ কেয়ার টেকার হরিপদ লেখকের দেখাশোনা ও যতœআত্তির জন্য তার মেয়ে দুর্গাকে দায়িত্ব দেন। দুর্গা নিয়ম করে স্বাগতম বাবুর রান্নাবান্না করে দেয়, মাঝে মধ্যে চা করে দেয়।

 

স্বাগতম লিখতে বসে মনের ভেতর নতুন লেখা হাতড়ে বেড়ায়। কিন্তু ভাবতে গিয়ে ভালো কোনো কিছু খুঁজে পায় না। কাগজ ছিড়ে ঘরের মেঝে জড়ো করে তবুও লেখার কূল কিনারা পায় না।

 

বিরক্তি নিয়ে লেখায় বিরতি দেয় সে। দুর্গাকে স্বাগতম জিজ্ঞেস করে, এ বনে কি কি পাওয়া যায়? দুর্গা জানায়, সবুজের গন্ধ পাওয়া যায়, অদৃশ্য আনন্দ পাওয়া যায়, পাওয়া যায় জীবনের ছন্দ। দুর্গা আরো বলে, ‘বাবু তোমাকে পদ্ম পুকুরে বনজ্যোৎস্না দেখাতে নিয়ে যাবো’।

 

হঠাৎ একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে লেখক। দুর্গা শহরের অচেনা বাবুর জন্য বনে স্থাপিত পূঁজা মন্ডপে মা দুর্গার চরণতলে মিনতি করে মুক্তি প্রার্থনা করে। তখন লেখক স্বাগতম অবাক হয়। সে উপলব্দি করে জ্যোৎস্না আসলে বনে নয় জ্যোৎস্না থাকে মানুষের মনে। মনের সেই জ্যোৎস্নাকে জাগিয়ে তুলে মানবের তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। তবেই স্বার্থক হবে এ মানব জনম। সে পেয়ে যায় গল্পের বিষয়।

 

সাজ্জাদ-তিশা ছাড়াও এ নাটকে অভিনয় করেছেন শর্মিলী আহম্মেদ ও জিয়াউল হাসান কিসলু।

 

নাটকটি পূজা উপলক্ষে দশমীর দিন ৮ অক্টোবর রাত ৯টায় এনটিভিতে প্রচারিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পরিচালক।

ধানের শততম জাত উদ্ভাবনের মাইলফলক অর্জন

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ধানের উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাত উদ্ভাবনে অনন্য রেকর্ড স্থাপন করল বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) বিজ্ঞানীরা। জাতীয় বীজ বোর্ডের সর্বশেষ সভায় নতুন অনুমোদিত তিনটি ধানের জাতসহ বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত ধানের উফশী জাতের সংখ্যা সর্বমোট একশটি। আগে উদ্ভাবিত ৯১টি ইনব্রিড ও ৬টি হাইব্রিড জাতের সঙ্গে ব্রির সাফল্যের পালকে যুক্ত হলো আরো নতুন তিনটি জাত।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে জাতীয় বীজ বোর্ডের শততম সভায় অনুমোদিত নতুন তিনটি জাত ব্রি ধান৯৩, ব্রি ধান৯৪ ও এবং ব্রি ধান৯৫ সহজাত উদ্ভাবনে সেঞ্চুরি পূর্ণ করল ব্রি। ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অতন্দ্রপ্রহরী এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। ধান বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও গত এক দশকে উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে ব্রি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে গত তিন মেয়াদে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ব্রি চারটি হাইব্রিডসহ আউশ, আমন ও বোরো ধানের সর্বমোট ৫০টি জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। যার প্রতিটিই কোনো না কোনো বিশেষ গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। যেমন- খরা, বন্যা, লবণ সহিঞ্চু, জিংকসমৃদ্ধ, প্রিমিয়াম কোয়ালিটি, ডায়াবেটিক রাইসসহ অধিক উচ্চ ফলনশীল। ব্রি উদ্ভাবিত নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণের ফলে বর্তমানে চালের উৎপাদন প্রতি বছর গড়ে ৪.৮৮ লাখ টন হারে বাড়েছে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত আছে। বিশ্বে ধানের গড় ফলনের দিক থেকে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে শীর্ষ স্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সত্তরের দশকে এ দেশে ধানের ফলন ছিল হেক্টর প্রতি ২ টনেরও নিচে; বর্তমানে ধানের গড় ফলন প্রায় ৫ টন/হে.। এই ফলন বাৎসরিক উৎপাদনশীলতার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে এবং বিশ্বমানের কাছাকাছি।
নতুন অনুমোদিত ব্রি ধান৯৩ স্বর্ণা-৫ এর বিশুদ্ধ সারি। এটি রোপা আমন মৌসুমের জাত। এর গাছের উচ্চতা ১২৭ সে.মি. এবং জীবনকাল ১৩৭ দিন। ব্রি ধান৯৩ এর ফলন ৫.৫-৬.৫ টন/হেক্টর। এর ১০০০টি দানার ওজন ১৯.০ গ্রাম। ধানের দানার রং লালচে ও চাল মাঝারি মোটা ও সাদা। নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান৯৪ রনজিত স্বর্ণা-র বিশুদ্ধ সারি। এটিও রোপা আমন মৌসুমের জাত। এর গাছের উচ্চতা ১১৭ সে.মি.। জীবনকাল ১৩৮ দিন। ফলন ৫.৫-৬.৫ টন/হেক্টর। ১০০০ দানার ওজন ১৮.৬ গ্রাম। ধানের দানার রং লালচে। চাল মাঝারি মোটা ও সাদা। ব্রি ধান৯৫ স্বর্ণা-র সঙ্গে সংকরায়ন করে উদ্ভাবিত বাছাইকৃত সারি। এটিও রোপা আমন মৌসুমের জাত। এর গাছের উচ্চতা ১২০ সে.মি.। জীবনকাল ১২৫ দিন। ফলন ৫.৫-৬.০ টন/হেক্টর। ১০০০ দানার ওজন ২১.৫ গ্রাম। ধানের দানার রং গাঢ় লাল। চাল মাঝারি মোটা ও সাদা। দেশের উত্তরাঞ্চলের স্বর্ণা অধ্যুষিত এলাকায় এই জাতগুলো জনপ্রিয়তা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করে পুরাতন জাতগুলোকে প্রতিস্থাপন করার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা গেলে বাড়তি জনসংখ্যার বিপরীতে বর্ধিত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব বলে অভিমত বিজ্ঞানীদের।
লেখক ঃ কৃষিবিদ এম আব্দুল মোমিন

নারীর হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার খবরে অভিনেতা স্বাধীন খসরুর প্রতিবাদ

বিনোদন বাজার ॥ নিউইয়র্কে মদ খেয়ে আফিয়া চৌধুরী নামের এক তরুণীর সঙ্গে ইভটিজিং করে লাঞ্ছিত হয়েছেন অভিনেতা স্বাধীন খসরু। জ্যাকসন হাইটসের পাশে রুজভেল্ট এভিনিউ ও ৭৯ স্ট্রিটের উপরে অবস্থিত রুমান্টিকা নামের একটি স্পেনিস বারের সামনে এ ঘটনা ঘটে ৩ অক্টেবর রাত ১০টা ১৫ মিনিটে।

 

এমনটা দাবি করে বাংলাদেশের বেশকিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সেই সব সংবাদকে মিথ্যা দাবি করে নিন্দা জানিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের নাটক-সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়া অভিনেতা স্বাধীন খসরু।

 

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘আমাকে নিয়ে কয়েকটা অনলাইন পত্রিকায় মিথ্যা, বানোয়াট খবর প্রকাশিত হয়েছে! সময় উল্লেখ করা হয়েছে সকাল সাড়ে ১০টা, ৩ অক্টোবর। ওই সময় আমি ‘নিউইয়র্ক প্রথম আলো আড্ডা’ শেষে যাই বাংলা চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে।

 

ওই অনুষ্ঠানে আমার সঙ্গে ছিলেন গায়ক সেলিম চৌধুরী, ইশতিয়াক রুপু আহমেদ। উপস্থাপক ছিলেন শামীম আল আমিন।

 

এমনকি ওইসব নিউজে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার সাথে কথা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ আমার সাথে কথা বলেনি। আমি এর তীব্র নিন্দা আর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

 

স্বাধীন খসরুর এমন স্ট্যাটাসে তার সহকর্মী ও প্রিয়জনরা তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

 

স্বাধীন খসরু অনেক দিন ধরেই অভিনয়ে অনিয়মিত। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তিনি নিজেকে আরও গুটিয়ে নেন। অনেক দিন হয় তার নতুন কোনো কাজ নেই। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বাস করছেন।

শরীরে ৫৪টি অস্ত্রোপচারের ভয়ঙ্কর গল্প শোনালেন কঙ্গনার বোন রঙ্গোলি

বিনোদন বাজার ॥ কঙ্গনা রানাওয়াতের ম্যানেজার হিসাবে কাজ করার দৌলতে তার বোন রঙ্গোলি চান্দেলকে প্রায় কমবেশি অনেকেই চেনেন। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না কঙ্গনার বোন রঙ্গোলিই প্রথম হিমাচল প্রদেশের প্রথম অ্যাসিড হামলার শিকার নারী। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এ বিষয়েই মুখ খুলেছেন কঙ্গনা।

 

কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বোন কঙ্গনা ও মা-বাবার সঙ্গে ছেলেবেলার একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন রঙ্গোলি। সেটা দেখেন রঙ্গোলিকে অনেকেই অনুরোধ করেন তার কলেজ জীবনের একটি ছবি পোস্ট করার জন্য। সেই মতই কলেজে পড়াকালীন নিজের একটি ছবি পোস্ট করেছেন রঙ্গোলি।

 

আর কলেজ জীবনের এই ছবি পোস্ট করার পরই নিজের অ্যাসিড আক্রান্ত হওয়ার পরবর্তীকালের একটি ছবি পোস্ট করেন রঙ্গোলি। যেখানে রঙ্গোলি লিখেছেন, ‘অ্যাসিড হামলার পর তিনি তার সৌন্দর্য হারিয়েছিলেন। তার গোটা শরীরে ৫৪টি অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তবে ৫ জন চিকিৎসক মিলেও তার কান প্রতিস্থাপন করতে পারেননি। আমি আমার একটা চোখ হারিয়েছিলাম, রেটিনা ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হয়েছিল। আমার শরীরের চামরা বিভিন্ন জায়গায় কুঁচকে গিয়েছিলো। যেগুলো চিকিৎসকরা ঠিক করেছেন। আমার একটা স্তনও প্রতিস্থাপন করতে হয়েছিল। এখানো আমি আমার ছেলে পৃথ্বীকে স্তনপান করানোর সময় অনেক সমস্যায় পড়ি।’

 

রঙ্গোলি আরো লিখেছেন, ‘আমি এখনো ঠিক করে ঘাড় ঘোরাতে পাড়ি না। আমাদের দেশে এখনো এ ধরনের বহু অ্যাসিড হামলার মত নৃশংস ঘটনা ঘটে। আর কালপ্রিটরা দিব্যি জামিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়।’

 

২০০৬ সালে দেরাদুনে এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সময় রঙ্গোলির উপর অ্যাসিড হামলা হয়। চন্ডীগড়ের দুই যুবক কঙ্গনার বোন রঙ্গোলির উপর অ্যাসিড হামলা চালান বলে জানা যায়।