এ্যাড. অপু জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় সদস্য মনোনীত

কুষ্টিয়া জজকোর্ট ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবি এ্যাড. শামিম উল হাসান অপু, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়েছেন। গত ৩ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদিত হয়। এ্যাড. শামিম উল হাসান অপু ২০০২ সালের জানুয়ারী মাসের ১ তারিখে বার কাউন্সিল থেকে সনদ লাভ করে কুষ্টিয়া জজকোর্টে আইনপেশা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ১৯৮৯ সালে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে তার পদার্পন। ঐ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। এরপর ১৯৯৫ সালে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক, ২০০০ সালে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ এবং ২০১১ সালে গঠিত কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত করার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এ্যাড. শামিম উল হাসান অপু। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

‘দেশবিরোধী’ চুক্তি করে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের সঙ্গে ‘দেশবিরোধী’ চুক্তি করে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহারসহ সকল দেশবিরোধী চুক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ওইসব চুক্তি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।” শনিবার দিল্লীতে হায়দ্রারাবাদ হাউজে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার একটি শহরে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে ভারতকে। রিজভী বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার, ফেনীর নদীর পানি ত্রিপুরায় সরিয়ে নেওয়া এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে গ্যাস পাঠানোর যে চুক্তি করা হল তা স্পষ্টভাবে সংবিধান পরিপন্থি। এসব চুক্তি সংবিধানের ১৪৫ ক অনুচ্ছেদের গুরুতর লঙ্ঘন। যা সংবিধানের ৭ ক অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের শামিল।” এসব চুক্তি করায় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে রিজভী বলেন, “রাষ্ট্রবিরোধী ও জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থি এসব চুক্তি করে প্রধানমন্ত্রী তার সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন। তিনি তার স্বার্থরক্ষায় তার কৃত শপথ ভঙ্গের প্রমাণ দিয়েছেন। “নিজ দেশের স্বার্থের চাইতে বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার সাংবিধানিক সকল অধিকার হারিয়েছেন। তাই এ মুহূর্তে শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করছি এবং তার সরকারেরও পদত্যাগ দাবি করছি।” বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকান্ড ‘হতে দেবে না’ বলে এক প্রশ্নের চবাবে মন্তব্য করেন রিজভী। ভারতের সঙ্গে চুক্তির সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এসব চুক্তির খবর জেনে দেশের মানুষের মধ্যে ‘তীব্র ক্ষোভ’ ছড়িয়ে পড়েছে। “মনে হয়েছে যে, এগুলো চুক্তি নয়, শেখ হাসিনা আরেকটি দাসখত দিলেন। এর মাধ্যমে মূলত স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সমুদ্র বন্দর, ফেনী নদীর পানি ও জ্বালানি সংকটময় বাংলাদেশের গ্যাস অন্যের কাছে হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে উপকুলীয় নজরদারি জন্য বাংলাদেশের রাডার স্থাপনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। “তার বদলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন ক্ষমতার মসনদে থাকার গ্যারান্টি আর ঠাকুর শান্তি পুরস্কারের একটি পদক। বাংলাদেশের মানুষের বদনসিব, বিনিময়ে বাংলাদেশ কিছুই পায়নি।” রিজভী বলেন, তার দল বিএনপি কোনো দেশের সঙ্গে শক্রতা চায় না। “সকলের সঙ্গে সমমর্যাদায় ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে মিতালীই আমাদের আরাধ্য। এর ভিত্তিতেই আমাদের স্বার্থ বজায় রেখে ন্যায্য প্রাপ্যটুকু শুধু বুঝে নিতে চাই।” এই বিএনপি নেতা বলেন, “বুন্ধত্ব হয় সমতার ভিত্তিতে লেনদেনের ওপর। কিছুই না পেয়ে শুধু একতরফা দিয়ে যাওয়াকে কি বন্ধুত্ব বলে? এটাতো একতরফা প্রেম। নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে চুক্তি করার চেয়ে কোনো চুক্তি না থাকাও যে ভালো, সেটাও আমরা পুরোপুরি ভুলে বসে আছি।” ক্যাসিনোকান্ডে নাম আসার তিন সপ্তাহ পর যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাটকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে নাটক বলছেন বিএনপি নেতা রিজভী। তিনি বলেন, “ওই যে ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন না, একটা চমক দেখানো হবেৃ আসলে এগুলো (খালেদ, শামীম, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট গ্রেপ্তার)হচ্ছে প্রত্যেকটি নানা ধরনের নাটক, প্রহসন। প্রতিনিয়ত এগুলো চলছে।” ভারতের সঙ্গে করা চুক্তির দিক থেকে জনগণের ‘নজর সরাতে’ এখন সম্রাটকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এটার (গ্রেপ্তারের ঘোষণা) মানে হল, মানুষ যেন এই চুক্তির বিষয়ে কথা না বলে, অথবা এটা থেকে দৃষ্টি যেন অন্যদিকে চলে যায়। এই কারণে আজকে তাকে গ্রেপ্তারের কথা ঘোষণা করা হল।” রিজভীর ভাষায়, “বাংলাদেশের মানুষকে আওয়ামী লীগ বরাবরই বোকা মনে করে, বেকুব মনে করে। কিন্তু জনগণ তাদেরকে কী মনে করে এটা বোঝার বোধশক্তি তাদের নেই। আর নেই বলেই এ ধরনের নাটকগুলো করে। জনগণ নাটককে নাটকই মনে করে। এসব করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না।” এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনে যে উপনির্বাচন হয়েছে, সেখানেও ‘প্রহসন’ দেখতে পাচ্ছেন বিএনপি নেতা রিজভী। শনিবার ওই উপ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এরশাদের ছেলে রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ। রিজভী বলেন, “রংপুরে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে এটা প্রমাণিত হল- সেখানেও ইভিএম ব্যর্থ। নির্বাচনের দিন ৩ থেকে ৪ শতাংশ লোকও উপস্থিত ছিল না, অথচ দেখানো হয়েছে ২১%।” বিএনপি এ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘গতকাল একদিকে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে, অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাছ ধরছেন, বারবিকিউ করছেন। মানে নির্বাচন কোনো সিরিয়াস বিষয় নয়। উনারা তো মধ্যরাতের নির্বাচন আগেই করেছেন। সুতরাং এটাকে(রংপুর উপনির্বাচন) এতো গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। বিএনপি গতকালের নির্বাচনকে প্রত্যাখান করছে।” নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, কাজী রফিক ও আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

 

কুষ্টিয়ায় মন্দির পরিদর্শনে জাতীয় হিন্দু ফোরাম নেতৃবৃন্দ

নিজ সংবাদ ॥ শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে গতকাল রবিবার বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজয় কুমার বিশ্বাস এবং উপদেষ্টা স্বাক্ষর কুন্ডু কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করেছেন। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক সুনীল কুমার চক্রবর্তী, সদস্য সচিব কৃষ্ণ কোমল বিশ্বাস, যুগ্ম-আহবায়ক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, সদস্য অসিম কুমার বিশ্বাস, সুপ্লব কুমার ঘোষ, নিমাই অধিকারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা সাংগঠনিক কমান্ডের পক্ষ থেকে রশিদুল আলমকে শুভেচ্ছা

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংসদীয় কমিটির সদস্য, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি, জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের খুলনা বিভাগীয় প্রধান ও সাবেক সচিব যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: রশিদুল আলমকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা জেলা সাংগঠনিক কমান্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত যুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি সার্কিট হাউজে আসলে জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষের নেতৃত্বে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের জয়েন্ট সেক্রেটারী মোঃ ইউসুফ আলীকেও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মকবুল হোসেন, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল মাসুদ, সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লিয়াকত আলী নীলা, সাবেক সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, শেখ আবু হানিফ, সার্জেন্ট সোলাইমান, আবু সাইদ, মিজানুর রহমান ও যাচাই-বাছাইয়ে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় দেড়শ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

চুয়াডাঙ্গায় ম্যাগাজিন আইনাঙ্গনের মোড়ক উম্মোচনে জেলা ও দায়রা জজ রবিউল ইসলাম 

আইনজীবীদের সাহিত্য সাংস্কৃতিক চর্চ্চার প্রয়োজন আছে

চুয়াডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গায় আইনজীবীদের লেখা সমৃদ্ধ ম্যাগাজিন আইনাঙ্গন এর মোড়ক উম্মোচন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১০টায় জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত মিলনায়তনে এ মোড়ক উম্মোচন করেন প্রধান অতিথি জেলা ও দায়রা জজ মোহা: রবিউল ইসলাম।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোল্লা আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও আইনাঙ্গনের সম্পাদক খন্দকার অহিদুল আলম মানি। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মনিরা পারভীন প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান, মানবতা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন খান,  জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মহ: শামসুজ্জোহা বক্তব্য রাখেন। মানবতা ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক শাখা বনের পাখি আইনাঙ্গন প্রকাশনা করে। এসময় জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী মনসুর উদ্দীন মোল্লা, এসএম রফিউর রহমান, বজলুর রহমান, নুরুল ইসলাম, ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, সৈয়দ হেদায়েত হোসেন আসলাম, সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম ও তসলিম উদ্দিন ফিরোজ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্টানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দকে শুভেচ্ছা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে জেলা ও দায়রা জজ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকবৃন্দ ও আইনজীবী সমিতির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা ও দায়রা জজ মোহা: রবিউল ইসলাম বলেন ‘ যে উদ্যোগটি মানবতা ফাউন্ডেশন গ্রহন করেছে সেটি অনন্য সাধারণ । আইনজীবীদের সাহিত্য সাংস্কৃতিক চর্চ্চার প্রয়োজন আছে। মেধা ও মননশীলতা প্রকাশ ঘটে। এর ফলে সমাজ উপকৃত হয়। এধরণের কাজে অঅইনজীবী এগিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধান বক্তা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন বলেন, সরকার তার উন্নয়নের পাশাপাশি বর্তমানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। ঠিক সে সময়ে আইনজীবীদের লেখনী নিয়ে এ ধরণের ম্যাগাজিন প্রকাশ সামাজিক সচেতনা পৌঁছে দেবে।

ধর্মের নামে মানুষে মানুষে হানাহানি কোন ধর্মই সমর্থন করে না – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন ধর্মের নামে মানুষে মানুষে হানাহানি কোন ধর্মই সমর্থন করে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনকে দৃঢ় বৃত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে আমরা রাষ্ট্রকে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে চাই। এটাই হোক আজকের মহা সপ্তমীর আলোচনার মূল শপথ। শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর জেএমসেন হলে শারদীয় দূর্গোৎসবের মহাসপ্তমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি এডভোকেট চন্দন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সহকারী ভারতীয় হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সুকান্ত ভট্ট্যাচার্য, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাখাল দাশ গুপ্ত, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আইয়ুব খাঁন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি লায়ন দিলীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দাশ অসিত, এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ প্রমূখ। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র রচনা করার জন্যেই জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবার সম্মিলিত রক্তস্নাতের বিনিময়ে আমাদের লাল সবুজ পতাকার জন্ম। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, আমরা মনে করি, আমাদের প্রথম পরিচয় হচ্ছে বাঙালি। আমাদের দ্বিতীয় পরিচয় হচ্ছে কে কোন ধর্মাবলম্বী। আমাদের দেশে একটি পক্ষ আছে তাদের প্রথম পরিচয় হচ্ছে ধর্ম ভিত্তিক আর দ্বিতীয় পরিচয় হচ্ছে তারা বাঙালি নাকি বাংলাদেশি সেটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে থাকে। তাদের সাথে আমাদের পার্থক্য সেখানেই। তিনি বলেন, মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান হিন্দুদের জন্য হিন্দুস্থান এভাবেই দেশ বিভাগ হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। আমরা বাঙালিরা সেই সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি পোষণ করিনা। আমরা যখন দেখতে পেলাম সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে আমাদের মূল পরিচয়ের উপর আঘাত এসেছে। আমাদের ভাষার উপর আঘাত এসেছে। আমাদের সংস্কৃতির উপর আঘাত এসেছে। বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথের গান গাইতে দেয়া হচ্ছে না। আমাদের বর্ণমালা পরিবর্তনের অপচেষ্টা হচ্ছে। ভাষাকে ইসলামীকরণের অপচেষ্টা হচ্ছে তখন আমরা অনুধাবন করেছি এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে থাকা সম্ভবপর নয়। তখন ভাষার আন্দোলন ও স্বাধীকারের আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের পথ বেয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই বাংলাদেশের অভ্যুদয়। এই বাঙালি পরিচয়েই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। চার থেকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে বাঙালি জাতি সত্ত্বার উম্মেষ ঘটেছিল। তারপর বাঙালিদের জন্য এই জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের রাষ্ট্রের মূল স্তম্ভগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। অনেকে অপব্যাখ্যা দেয়। যারা অপব্যাখ্যা দেন তারা হয়তো জানেনা প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের যে সংবিধান সেখানেও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা আছে। ইরাকের সংবিধানের মধ্যেও অতীতে ধর্ম নিরপেক্ষতা ছিল। সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতা মানে প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। সেজন্যই আমাদের স্লোগান দিই ধর্ম যার যার রাষ্ট্র কিন্তু সবার। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান মিলে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি, পৃথিবীর অনেক দেশে সেটা করা সম্ভবপর হয় না। একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সমস্ত সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্ম এবং বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির মেলবন্ধন থাকতে হয়। সেখানে প্রত্যেকটি সম্প্রদায়কে মনে করতে হয়, এই মাটি ও দেশ আমার। সেটি যদি প্রত্যেকটি মানুষ মনে না করে তাহলে সে রাষ্ট্রের জন্য কাজ করবে না। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। অনেক সূচকে আমরা ভারতকে পেছনে ফেলে বহুদূর এগিয়ে গেছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পাকিস্তানিরা বিশ্বসভায় অনেক সময় টিপ্পনি কাটতো। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আদৌ টিকে থাকতে পারবে কিনা, তাদের মনে সন্দেহ ছিল। আজকে উপমহাদেশের মধ্যে প্রশ্ন হচ্ছে, পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে আসলে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে? এপ্রশ্ন পাকিস্তানিদের মধ্যেও।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার দৌলতপুরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন। গতকাল রবিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার আল্লারদর্গা, তারাগুনিয়া, কৈপাল, ফিলিপনগরসহ বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান। পূজা মন্ডপ পরিদর্শনকালে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার পূজা আয়োজকদের সাথে কথা বলেন এবং পূজার বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেন। এবছর দৌলতপুরে ১৩টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গোৎসব বা দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি পূজা মন্ডপে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ন ও নির্বিঘেœ পূজা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ডপে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

বুধবার থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ

ঢাকা অফিস ॥ ডিম পাড়ার মৌসুম হওয়ায় ‘মা’ মাছ সংরক্ষণে বুধবার থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকছে। রোববার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে ‘মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০১৯’  উপলক্ষে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দ-নীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করে গত মাসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেছিলেন, প্রধানত আশ্বিনের পূর্ণিমার চার দিন আগে এবং পূর্ণিমার পর ১৮ দিন পর্যন্ত সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। “সারা বছর ডিম ছাড়লেও ৮০ শতাংশ ডিম এ সময় ছাড়ে।” এ সময় ইলিশ ধরার উপর নির্ভরশীল জেলেদের খাদ্য সহযোগিতা দেওয়া হবে জানিয়ে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাছ ধরায় বিধিনিষেধের ফলে ইলিশ মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। “মৎস্য খাতের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ইলিশ মাছের যে আকাল ছিল, এখন আর তা নেই।” প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষার পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে গত ১০ বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে এখন দেশের শতাধিক উপজেলার নদীতে তা পাওয়া যাচ্ছে বলে এ বছর জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে এক কর্মশালায় জানায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে গত ১০ বছরে ইলিশের উৎপাদন ৭৮ শতাংশ বেড়েছে বলে জানানো হয় ওই কর্মশালায়।

কুষ্টিয়া প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধনীতে কারা ডিআইজি ছগির মিয়া

সুস্থ্য থাকতে প্রতিদিন ক্রীড়া চর্চা করতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ খুলনা বিভাগ সদর দপ্তর যশোরের কারা উপ মহাপরিদর্শক (কারা ডিআইজি) ছগির মিয়া বলেছেন, বাংলা ঐতিহ্যবাহী ফুটবল খেলা সহ প্রত্যেকটি খেলাই আমাদের শরীর মন দুটোই ভাল রাখে। আমাদের সুস্থ্য থাকতে হলে প্রতিদিন নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা করতে হবে। আমাদের কর্মব্যস্ততা ও দায়িত্ব পালন যেন ভুলিয়ে ফেলছে একদিন নিজেরা পুরোদস্ত একজন খেলোয়াড় ছিলাম। বাংলার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল খেলা সহ কাবাডির মত অনেক খেলার স্মৃতি আমরা ভুলতে বসেছি। ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ম্যাচ আর আগের মত অনুষ্ঠিত হয়না। মনে রাখবেন নিজেকে সুস্থ্য সবল রাখতে হলে প্রতিদিন ক্রীড়া চর্চা করতে হবে। গতকাল রবিবার বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের আয়োজনে জেলা কারাগার প্যারেড মাঠে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কুষ্টিয়া জেলা কারাগার ছোট্ট পরিসরে হলেও প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছে এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানায়। কারারক্ষীরা যে নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন শেষে সামান্য সময় পেলেই খেলাধুলার প্রতি মনোযোগি হয়ে প্রতিদিন অনুশীলন করে জেনে সুখি হলাম। আগামীতে আরো বেশি বেশি করে ক্রীড়া চর্চা করতে হবে। প্রীতি ফুটবল ম্যাচে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের হলুদ দল বনাম লাল দলের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ দুটির দলের খেলা উপভোগ করেন। দুর্দান্ত দাপটের সাথে দুই দলের খেলোয়াড়রা তাদের খেলায় নৈপুন্য দেখান। কে কাকে আগে গোল দিয়ে হারিয়ে দিবেন সেই প্রতিযোগিতা চলে প্রচন্ডভাবে। দর্শক তাদের এই মুখোমুখি লড়াই মন প্রাণ দিয়ে উপভোগ করনে এবং করতালি দিয়ে তাদেও উৎসাহ যোগান। প্রায় ৯০ মিনিটের শ^াসরুদ্ধকর খেলার শেষ ভাগে জমে উঠে খেলা লালদল পর পর ২টি গোল দেন হলুদকে। জবাবে হলুদ বসে থাকেনি। তারাও লাল দলকে ১ গোল দেন। শেষ পর্যন্ত লাল দলই ২-১ গোলে বিজয় ছিনিয়ে নেন। কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার জাকের হোসেনের সভাপতিত্বে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের জেল সুপার গোলাম হোসেন, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু তালেব। প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে বিজয়ী লাল দলের দলনেতার হাতে এবং পরাজিত হলুদ দলের দলনেতার হাতে ট্রফি তুলে দেন। দুই দলের খেলোয়াড়কে উৎসাহ ও বিনোদন দেয়ার জন্য সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার আমিরুল ইসলাম।

দৌলতপুর সীমান্তে মাদকসহ আটক-১

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে মাদকসহ মনির হোসেন (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল ৩টার দিকে আশ্রয়ন বিওপি’র টহল দল মুন্সিগঞ্জ ভাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ বোতল ফেনসিডিলসহ মনির হোসেনকে আটক করে। সে ভেড়ামারা উপজেলার গোডাউনমোড় মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।

কুষ্টিয়ায় লেখিকা বেগম নূরজাহান র গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এমপি হানিফ

ধর্ম নিরপেক্ষতার মাধ্যমে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে

সুজন কর্মকার ॥ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি বিশিষ্ট লেখিকা বেগম নূরজাহান এর “রাসূললুল্লাহ্ (সা:) এর অনুকরণে নামায” শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটস্থ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ধর্মকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবেনা। ধর্ম নিরপেক্ষতার মাধ্যমে এদেশে যার যার ধর্ম সেই সেই স্বাধীনভাবে পালন করবে। যে কোন অন্যায় ও খারাপ কাজ করলে তার শাস্তি পেতেই হবে। তাই সব সময় ভালো কাজ করতে হবে। এতে সভাপতিত্ব করেন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও “রাসূললুল্লাহ্ (সা:) এর অনুকরণে নামায” শীর্ষক গ্রন্থের লেখিকা বেগম নূরজাহান। তিনি বলেন, লেখালেখির অভ্যাস শৈশব থেকেই। আওয়ামীলীগকে ভালোবেসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে কাজ করে চলেছি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ.কা.ম সরোয়ার জাহান বাদশা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, উপ-সচিব মালেকা পারভীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির আয়োজনে ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাজী সেলিনুর রহমান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আফসার উদ্দিন মহিলা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. হাফেজ মোহাঃ আব্দুল করিম। বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক সামসুল হক, মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মমতাজ আরা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক নুরুন্নাহার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির পরিচালনা করেন ভেড়ামারা কলেজের প্রভাষক কামরুন্নাহার শিরিন। এ সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ আ.স.ম আখতারুজ্জামান মাসুম, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মজনু, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ রায়হান, যুগ্ম-সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ সেন, শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, “রাসূললুল্লাহ্ (সা:) এর অনুকরণে নামায” শীর্ষক গ্রন্থের লেখিকা বেগম নূরজাহান’র পুত্র পৌর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেবউন নিসা সবুজ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ শামস তানিম মুক্তি, নারী নেত্রী ডাঃ আসমা জাহান লিজা, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস, হিন্দু- বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী, আওয়ামীলীগ নেতা শাহাজ্জুল সাজু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু, পৌর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম বাদল সহ আওয়ামীলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ  এর অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালুখালীতে বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

ফজলুল হক ॥ শারদীয় দূর্গোৎসব অষ্টমীতে গতকাল রবিবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন করেছেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম। এবছরে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৫৩ টি পূজা মন্দিরে উৎসবমূখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা অর্চনা পালন করছেন। সন্ধ্যায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মালিয়াট মদন মোহন জিউর মন্দির পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় বলেন, যার যার ধর্ম সে পালন করবে তাতে কোনো বাধা নেই। উল্লেখ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শান্তিশৃঙ্খলার সাথে এ দূর্গোৎসব পালন করার পরামর্শ প্রদান করেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার মুশফিকুর রহমান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান চৌধুরী (টিটো), উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নুরুল আলম, ওসি (তদন্ত) সহিদুল ইসলাম এছাড়াও রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা, কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিউর রহমান নবাব, মন্দিরের সভাপতি বাবু সুজিত সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুবোধ সাহা ও পুরোহিত গোপাল গোস্বামী এবং প্রবোধ গোস্বামীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলমডাঙ্গায় জাতীয় জন্মনিবন্ধন দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও  আলোচনা সভা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় জাতীয় জন্মনিবন্ধন দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০ টারদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা চত্তর থেকে র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ খন্দকার সালমুন আহম্মেদ ডন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল বারি, বিআরডিবি কর্মকর্তা সায়লা সারমিন, প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সহকারি শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ। উপস্থিত ছিলেন উদ্যোক্তা কামরিল হাসান, অনিতা আক্তার রুমা, জান্নাতুল নাইম মুক্তা, খেদ আলী, আলমগীর হোসেন, মহসীন আলী, আব্দুস সামাদ, মারুফ হোসেন,  হোসেন আলী, মাহফুজুর রহমান, দাহিরুল ইসলাম দিপু, মুনজুর এলাহী, সাহিন হোসেন, জাহীদ হাসান, ইমদাদুল হক প্রমুখ। সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জন্মনিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সকল উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা ইউনিয়নে কারো প্ররোচনায় অল্পবয়সি মেয়েকে জন্মনিবন্ধন জাল করে বেশি বয়স করে দেবেন না, যদি ধরা পড়েন আপনাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শারদীয় দুর্গোৎসবে ব্যতিক্রম আয়োজন

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’র উদ্যোগে মশারী বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ’র উদ্যোগে, শারদীয় দুর্গোৎসবে ব্যতিক্রমধর্মী সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিনে কুষ্টিয়া শহরস্থ বাবর আলী গেটে ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ডেঙ্গু সচেতনতার সৃষ্টির লক্ষ্যে মশারী বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী। এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক পরিতোষ দাস। পরিচালনা করেন ছাত্রঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব মানব চাকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডঃ সুধীর শর্মা, উপদেষ্টা বিশ্বনাথ সাহা বিশু, ডাঃ বিশ্বনাথ পাল, গৌতম কান্তি চাকী, অজয় সুরেকা, উত্তম সাহা। এছাড়াও চৌড়হাস সার্বজনীন পূজা মন্দিরে অসহায়দের মাঝে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। সভা পরিচালনা করেন উক্ত মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ আশুতোষ কুমার পাল দেবাশীষ। অপরদিকে দেশওয়ালী পাড়া এবং দত্তপাড়া শিবশক্তি মন্দিরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে মশারী বিতরণ করা হয়। সভা পরিচালনা করেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার ঘোষ জগত। প্রতিটি অনুষ্ঠানে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মন্ডলী তুহিন চাকী, সুজন কর্মকার, যুব ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার আহবায়ক মিহির চক্রবর্তী সহ কমিটির অন্যান্য সকল নেতৃবৃন্দ এবং যুব ও ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুরে প্রাগপুরে অবৈধ আল্লারদান ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুরে আল্লারদান নামে অবৈধ ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে কোহিনুর খাতুন (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল ৩টার দিকে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়। সে পাশর্^বর্তী গাংনী উপজেলার করমদি গ্রামের রতন আলীর স্ত্রী। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রসব ব্যাথা নিয়ে গতকাল সকালে প্রাগপুর বাজারে অবস্থিত অবৈধ আল্লারদান ক্লিনিকে ভর্তি হলে কোহিনুরের সিজার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রক্ত শুন্যতা দেখা দিলে ২ব্যাগ রক্তও দেওয়া হয় প্রসূতিকে। অবস্থার অবনতি হতে থাকলে দুপুরে কোহিনুরকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে কুষ্টিয়া হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যায়। কোহিনুরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিক মালিক পাপিয়া খাতুন ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দেয়। তবে অবৈধ ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যুর খবর শুনে সামাজিক যোগাযোগ নির্ভর কথিত গনমাধ্যম কর্মীরা ওই ক্লিনিকের সামনে মৌমাছির মত ভিড় করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করে।

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন করলেন সদর সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ 

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ। গতকাল রবিবার তিনি নিজ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী, মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক প্রকৌশলী ফারুকুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক অজয় সুরেকা, বিশ্বসনাথ সাহা, উত্তম সাহা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী, সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার ঘোষ জগত সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শীর্ষক কর্মশালায় ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে চুক্তি করেন না

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতা দেখে বিএনপির গাত্রদাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিএনপি যে সমালোচনা করছে এটি তাদের অপরাজনীতির বহি:প্রকাশ। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় তারা অসংলগ্ন বক্তব্য দিচ্ছে। ছিটমহল চুক্তি হয়েছে, তিস্তা নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সফল হবেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে চুক্তি করবেন না। গতকাল রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভারত সফর শেষে বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন তিনি গঙ্গা চুক্তির কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক নন। তিনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে। তিনি দেশ ও মানুষের জন্য রাজনীতি করেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে কোন চুক্তি সংবিধান বিরোধী এবং দেশ বিরোধী হয়েছে তার সঠিক প্রমাণ দেবেন কী। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল অন্ধকারে ঢিল ছুড়বেন না। বিএনপির জনপ্রিয়তা নেই তা রংপুরের নির্বাচনে ফের প্রমাণ হয়েছে। ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে কেউ কোনো নেতার সামনে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করবেন না। প্রধানমন্ত্রী তাঁর কর্মীদের ভাষা বুঝতে পারেন। আওয়ামী লীগে অনেক যোগ্য নেতা রয়েছে, কাকে দলের কোন দায়িত্ব দিতে হয় তা তিনি জানেন। তিনি দলের আগামী সম্মেলনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। আওয়ামী লীগ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।  সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি নিজেও ফেসবুকে বিশ্বের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলি। এতে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। কিন্তু মাঝে-মাঝে এতে কুরুচি কথাবার্তা দেখা যায়। এটি আমাদের পরিহার করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নেতৃত্বে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সফটঅয়ারে ব্যাপক সাফল্য বয়ে আনবে। তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে এতে উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ড্রেণ নির্মাণে অনিয়ম ও ধীরগতি

কুষ্টিয়া পৌরসভায় দুদুকের হঠাৎ অভিযান

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভায় আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রোববার এ অভিযান পরিচালিত হয়। দুদকের কুষ্টিয়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া হোসেন ছয় সদস্যের একটি দলের এঅভিযানের নেতৃত্ব দেন। দুদক জানিয়েছে, কুষ্টিয়া পৌরসভা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। তারমধ্যে অন্যতম হল- শহরের প্রধান সড়ক এনএস রোডের উভয় পাশে ড্রেণ নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সড়কসহ আরও কয়েকটি সড়ক সংষ্কার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজ হচ্ছে। সঠিক সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় জনগণের ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে।

নালা ও সড়ক নির্মাণে বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে সংবাদ ও জনগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভোগান্তির বিষয় বিবেচনায় এ অভিযান চালানো হয়। নকশা ও কাজের মান দেখতে পৌরসভায় যাওয়া হয়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে দুর্নীতি দমন কমিশন কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক মো: জাকারিয়ার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের দল পৌরসভায় প্রবেশ করেন। তারা গাড়ি থেকে নেমেই সরাসরি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের কক্ষে যান। তার কাছে চলমান নালা ও সড়ক নির্মাণের যাবতীয় তথ্য চান। কাজের নকশার ফটোকপি নেন। প্রায় ২০ মিনিট তারা প্রকৌশলীর সাথে নালা ও সড়ক নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেন।

দুদকের কর্মকর্তারা প্রকৌশলীকে জানায়, নালা ও সড়ক নির্মাণ দীর্ঘদিন হচ্ছে। এতে কুষ্টিয়াবাসী অতিষ্ঠ। এটা মেনে নেওয়া যায় না। ঠিকাদার কাজ করতে না পারলে করবে না। যাদের সক্ষমতা আছে তারা করবে। এক পর্যায়ে প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম দুদক কর্মকর্তাদের জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দক্ষ জনবল না থাকায় এবং জনবল কম থাকায় সঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এ ব্যাপারে তাকে একাধিকবার চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

এরপর দুদকের দলটি শহরে এনএসরোডে যান। সেখানে শাপলা চত্বর এলাকায় নির্মাণাধীন নালা নির্মাণের চলমান কাজ ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজন ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের সাথে সেখানেও কথা বলেন। কাজে ত্র“টি আছে এবং মান নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করেন। এরপর তারা এনএসরোডে মৌবনের সামনের সড়কের ইট বালু ঠিকমত আছে কিনা সেটা দেখেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অভিযান শেষ হয়। অভিযান প্রসঙ্গে দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘নালা ও সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছেÑএমন অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। সেটা সরেজমিন দেখা হয়েছে। কিছু সমস্যা আছে। কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। নালা ও সড়ক নির্মাণের কিছু অনিয়ম আছে।’

কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কাজের মান নিয়ে তাদের কোন অভিযোগ নেই জানালেও, সরেজমিন পরিদর্শন আর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যে প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। ৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যায়ে শহরের এনএস  রোডের রাস্তা প্রশস্তকরন, ড্রেন নির্মাণ, আরসিসি রোড নির্মান, এনএস রোড সড়কের মাঝে ডিভাইডার নির্মান, ইলেক্ট্রিক পোল স্থানান্তর, কালভার্ট নির্মান ও ফুটপাতে টাইলস বসানোর কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নেশন টেক। ২০১৮ সালের প্রথমদিকে কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী যা শেষ হওয়ার কথা ছিলো চলতি বছরের মে মাসে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান  নেশন টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখারুল ইসলাম জানান, কাজ শুরুর পর থেকে আমরা নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত কাজ বুঝিয়ে দেয়ার  চেষ্টা করে আসছি। কাজ শুরুর পর বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।  পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে ধীরগতির কারনে আমাদের পূরো কাজের উপর প্রভাব পড়েছে। নিজেদের যথেষ্ট সক্ষমতা আছে দাবি করে, এই ঠিকাদার জানান, আমরা সারাদেশে অনেক বড় বড় কাজ করেছি অনেক সুনামের সাথে। কোথাও  কোন কাজে কোন ধরনের অভিযোগ নেই। কিন্তু কুষ্টিয়া পৌরসভার কাজ করতে গিয়ে আমরা বেশকিছু সমস্যার মধ্যে পড়ি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো, ড্রেন নির্মান ও রাস্তাপ্রশস্তকরন। বড় এই দুটি কাজে অনেক বাধার সৃষ্টি হয়। সেসব বাধা দেখার বিষয়টি পৌরসভার। আমরা যখন যেখানে বাধার সম্মুখীন হয়েছি পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা সেটা সমাধান করেছে সময় নিয়েছে যার প্রভাব পুরো কাজের উপর পড়েছে। তিনি বলেন, রাস্তাপ্রশস্তকরন কাজটি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বিদ্যুতের খুটি অপসারন না করায়। এখন পর্যন্ত এনএস রোডের একটি বিদ্যুতের খুটিও অপসারন করা হয়নি, যার কারনে আমরাও প্রশস্তকরন কাজটি সম্পন্ন করতে পারছি না। এই দায়িত্বটি ছিলো পৌরসভা কর্তৃপক্ষের, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমন্বয় না করায় আমাদের কাজে সময় বেশি লাগছে। ড্রেন নির্মান করতে গিয়ে অনেকবার বাধার মুখে পড়ে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এই বাঁধাগুলো সাথে সাথে সমাধান করতে পারলে আমরা আরো দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করতে পারতাম। নির্মান কাজ ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী হচ্ছে দাবি করে এই ঠিকাদার জানান, সময় বাড়ানো হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আমরা একমাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো কিন্তু আমাদের কাজের পরিবেশটি করে দিতে হবে। আমাদের কোনকিছুর ঘাটতি নেই। সারাদেশে নেশনটেক বড় বড় কাজ কাজ করছে, আমাদের সেই সক্ষমতাও আছে। কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই। কাজের মান সঠিক আছে দাবি করে তিনি বলেন, এরপরও যদি কোন অভিযোগ থাকে সেটা পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যাপার। দুদকের প্রতিনিধি দলকেও আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে বলেছি কাজের মান ঠিক আছে। দুদক আজ যে অভিযান চালিয়েছে সেটি মূলতঃ কাজের ধীরগতি নিয়ে। তাছাড়া সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছিল না। কাজের ধীরগতির জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দায়ী কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কিছু দায় হয়তো আছে। কারণ এতোবড় কাজ শেষ করতে সময় লাগবে এটাই স্বাভাবিক। এন এস রোডের বিদ্যুতের খুটি না সরানোর ফলে কাজের ধীরগতির দায় কুষ্টিয়া পৌরসভার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এমন অভিযোগের বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বিদ্যুতের খুটি সরানো নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমন্বয় হতে একটু সময় লেগেছে। গতমাসের ১৬ তারিখ বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন ও টাকা পয়সা পরিশোধ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই বিদ্যুতের খুটিগুলো স্থানান্তর করলে কাজ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারিত তারিখের মধ্যে শেষ হবে।

কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকদের হানিফ

ক্যাসিনো জুয়ার সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আসতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন ক্যাসিনো নামে জুয়ার সাথে যারাই জড়িত থাকনা কেন তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকেই ছাড়া দেয়া হবেনা। তিনি রোববার কুষ্টিয়ায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। হানিফ বলেন ক্যাসিনো নামে জুয়া কোন রাজনৈতিক দলের অফিসে নয়, ক্লাবকেন্দ্রিক আসর বসত। আর এসব আসরে যারা নাম লেখিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই বিএনপি রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ^াসী। সুযোগ বুঝে অনেকেই আমাদের সহযোগী সংগঠনের সাথে ঘেষ দিয়ে চলছে। কেউ কেউ নামও লেখিয়েছেন। তবে এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে যারাই জড়িত থাকনা কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন। হানিফ বলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক। এই সম্পর্ক আরো গভীর থেকে গভীর হবে। ছোট খাটো সেসব সমস্যা রয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে বলেও আশা করেন তিনি। এসময় কুষ্টিয়া-১(দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশাসহ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সোনিয়া গান্ধীর সাথে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সাথে কুশল বিনিময় করেছেন। গতকাল রোববার সোনিয়া গান্ধী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হোটেল তাজে সৌজন্য সাক্ষাত করতে এলে তাদের মধ্যে এ কুশল বিনিময় হয়। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, এ সময় দুই নেত্রী তাদের পুরনো দিনের কথা স্মরণ করেন। বৈঠককালে শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করেন। সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াংকা গান্ধী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। রাজনীতিতে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রিয়াংকাকে অভিনন্দন জানান। এ সময় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের জন্য সোনিয়া গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, শেক হেলাল উদ্দিন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডবি¬উইএফ) ইন্ডিয়ান ইকোনোমিক সামিটে যোগ দিতে ৩ অক্টোবর ভারতে আসেন। এ সময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। আজ শেখ হাসিনা ঢাকার উদ্দেশ্যে নয়াদিল্লী ত্যাগ করবেন।

সম্রাট ও আরমানকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার

ঢাকা অফিস ॥ ক্যাসিনোকান্ডে গ্রেপ্তার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু রোববার দুপুরে এ তথ্য জানান। বাবলু বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যানের ঘোষণা অনুযায়ী এই অভিযানে যারাই আটক হবে, তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে। সে হিসেবে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।” শনিবার গভীর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন তারা। সেদিন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর সদলবলে কাকরাইলে নিজের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে রাতভর সেখানে ছিলেন সম্রাট। কিন্তু এরপর তিনি নিরুদ্দেশ হন। র‌্যাবরে অভিযানের সময় মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের ভেতরে সম্রাটের বিশাল ছবি দেখা যায়। ওই ক্লাবের ক্যাসিনো তিনিই চালাতেন এবং মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় অন্য ক্যাসিনোগুলো থেকেও প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে চাঁদা তার কাছে যেত বলে গণমাধ্যমে খবর আসে। সম্রাটের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা আরমানও দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনোর কারবারে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ঢাকাই সিনেমাতেও টাকা খাটাচ্ছিলেন। আরমানের প্রোডাকশন হাউস ‘দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়া’র ব্যানারে প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পায় গত কোরবানির ঈদে। ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ নামের ওই সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও বুবলী।