বেড়েছে সাপের উপদ্রব

দৌলতপুরে কোমর পানিতে বসবাস বানভাসীদের দুর্ভোগ দূর্দশা চরমে

শরীফুল ইসলাম ॥ টানা ১৫দিন অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধির পর অবশেষে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে তা বাড়ার গতি থেকে অনেকাংশে কম। গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৫ সেন্টিমিটার পানি কমেছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। এখনও পদ্মার পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর অর্থাৎ ১৪.২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মা নদীর পানি কমার সাথে সাথে কমতে শুরু করেছে পদ্মার অন্যতম শাখা মাথাভাঙ্গা নদীর পানিও। এদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোমর পানিতে বসবাসরত বন্যাকবলিত বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ দূর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগসহ নানা রোগ বালাই। এলাকায় ব্যাপকভাবে সাপের উপদ্রবসহ কীট-পতঙ্গের উপদ্রব বেড়েছে। প্রতিদিনই পানিতে ভেসে আসছে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। বন্যার পানির সাথে এসব সাপ ভেসে আসছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বন্যায় দুর্ভোগের সাথে সাথে নতুন করে সাপসহ বিভিন্ন ধরনের আতংক বিরাজ করছে পানিবন্দি অসহায় এসব মানুষের মাঝে। বন্যাকবলিত মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৭ গ্রামের ১৫ হাজার পরিবারের প্রায় অর্ধলক্ষ সববয়সী মানুষ গত ১৫দিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৫ হাজার পরিবারের বাড়িঘরে পানি উঠে কোমর ও হাটু পানির মধ্যে বসবাস করছে। যার কারণে মানুষের মধ্যে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় সবচেয়ে ঝুঁকি ও বেশী কষ্টের মধ্যে পড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। অনেকের বাড়িঘরে কোমর পর্যন্ত পানি হয়ে পড়ায় শিশুদের পানিতে ডুবে যাওয়ার আশংক রয়েছে। গত এক সপ্তাহে বন্যার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরার নেতৃত্বে মেডিকেল টিম বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গতদের খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে ওষুধ বা চিকিৎসা সেবা  থেকে এখনও বঞ্চিত রয়েছে বানভাসীরা। এদিকে বন্যার্তদের মাঝে প্রতিদিনই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকারীভাবে ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন বন্যার্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত এর নেতৃত্বে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে এক হাজার প্যাকেট ত্রান বিতরন করা হয়েছে। এছাড়ও দৌলতপুরের সাবেক এমপি আলহাজ¦ রেজাউল হক চৌধুরী গতকাল চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে ত্রানসামগ্রী বিতরণ করেছেন। শুক্রবার কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর সাংসদ সদস্য আ, কা, ম সারওয়ার জাহান বাদশা দৌলতপুরের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ত্রান ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এনামের সাথে সাক্ষাত করলে প্রতিমন্ত্রী দৌলতপুরের বর্ন্যাতদের জন্য তাৎক্ষণিক ১০০ টন চাল ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, বন্যা দুর্গত এলাকায় প্রতিদিন ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্গতদের ইতিমধ্যে চিড়া, বিস্কুট, তেল, নুডুল্স সম্বলিত ৬ হাজার প্যাকেট ত্রান ও ২২ মেট্রিকটন চাল বিতরন করা হয়েছে। আরও ২০ মেট্রিকটন চাল ও এক হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা আজ রবিবার বিতরন করা হবে। দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ, কা, ম সারওয়ার জাহান বাদশা বলেন, আমি চরাঞ্চলের মানুষ। তাদের দু:খ-দূর্দশা আমি ভাল করে বুঝি। তাই ২৪ ঘন্টা বন্যার্তদের তদারকি করা হচ্ছে। প্রতিদিনই বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ত্রান ও দুযোগ প্রতিমন্ত্রীকে  অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক ১’শ টন চাল ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা বিশেষ বরাদ্দ করেছেন। দু’এক দিনের মধ্যেই এগুলো বিতরন করা হবে। সর্বপরি বানভাষী মানুষের পাশে প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন, স্থানীয় সাংসদ ও বিভিন্ন সংগঠন দাঁড়ালেও বানভাসী মানুষের দু:খ দূদর্শা কমছেনা বলে বন্যাদূর্গতরা জানিয়েছে।

৩ প্রকল্প উদ্বোধন

শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত ৭ চুক্তি সই

ঢাকা অফিস ॥ শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদীর শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে; উদ্বোধন হয়েছে তিনটি যৌথ প্রকল্প। গতকাল শনিবার দুপুর নয়া দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে বৈঠকে বসেন দুই দেশের সরকার প্রধান। এরপর তাদের উপস্থিতিতেই চুক্তি সই ও চুক্তিপত্র বিনিময় হয়। শেখ হাসিনা হায়দ্রাবাদ হাউজে পৌঁছালে প্রধান ফটকে গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী। এরপর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তারা। স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ফেনী নদীর ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করতে পারবে ভারত; ওই পানি তারা ত্রিপুরা সাবরুম শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ব্যবহার করবে। উপকূলে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থার (কোয়েস্টাল সারভাইল্যান্স সিস্টেম-সিএসএস) বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে দুই দেশ। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের বিষয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সই হয়েছে। চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের ঋণের প্রকল্প বাস্তবায়নে। সহযোগিতা বিনিময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব হায়দরাবাদের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ছাড়া সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিনিময় নবায়ন এবং যুব উন্নয়নে সহযোগিতা নিয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ুক্তি ও সমঝোতাপত্র বিনিময়ের পর শেখ হাসিনা ও মোদী যৌথভাবে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। গুলো হল খুলনায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বাংলাদেশ-ভারত প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে বিবেকানন্দ ভবন এবং বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি আমদানি প্রকল্প। প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করে শেখ হাসিনা বলেন, “বিগত এক দশকে আমাদের উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রথাগত সহযোগিতা প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন ও অপ্রচলিত খাত যেমন  ইকোনমি ও মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি ও সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে। “এসব বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সামনে সু-প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।” এলপিজির প্রকল্প নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এটা আমাদের উভয় দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে আমি মনে করি। এর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যসমূহের জ্বালানি চাহিদা পূরণ অনেকাংশে সহজ হবে বলে আশা করছি।” খুলনার বিআইপিএসডিআই বাংলাদেশের ওই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বিভিন্ন রকম উন্নত মানের যন্ত্রপাতি দিয়ে অবদান রাখবে বলে আশা করেন শেখ হাসিনা। তিনি আশা করেন, ভারত সরকারের আর্থিক অনুদানে স্থাপিত রামকৃষ্ণ মিশনের বিবেকানন্দ ভবন শিক্ষা বিস্তারে সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে ভূমিকা রাখবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “গত এক বছরে আমি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি। আজকে তিনটি প্রকল্প যোগ হয়ে এক ডজন যৌথ প্রকল্পের উদ্বোধন করলাম। এই প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য আমাদের নাগরিক জীবনমানকে উন্নত করা। এটা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল মন্ত্র।” শীর্ষ বৈঠকের পর হায়দ্রাবাদ হাউজে শেখ হাসিনা তার সম্মানে দেওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন।

দৌলতপুরে বন্যার্তদের মাঝে সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর ত্রাণ বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যাকবলিত রামকৃষ্ণপুরের বন্যার্তদের সাবেক এমপি আলহাজ¦ রেজাউল হক চৌধুরী ত্রান বিতরণ করেছেন। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সোনাতলা, চরপাড়া, রামকৃষ্ণপুরসহ বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলকার বন্যার্তদের মাঝে এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি ও ১ কেজি চিড়ার প্যাকেট করে ২৫০ জনের মাঝে  এ ত্রানসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় জেলা পেিরষদের সদস্য নাসির উদ্দিন মাষ্টার, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইকফাত আরা জলি কবিরাজসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গাংনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় হপার চালক নিহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাওট নামক স্থানে  পিছন দিক থেকে আসা ট্রাকের ধাক্কায়  হপার চালক আক্তারুজ্জামান (৪৫) নিহত হয়েছেন। নিহত আক্তারুজ্জামান উপজেলার হিজলবাড়ীয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বাওট আব্দুল গনি কলেজের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হিজলবাড়ীয়া গ্রামের লোকজনের মারফত জানা গেছে, ৩ সন্তানের জনক আক্তারুজ্জামান চলতি মৌসুমে ধান গম মাড়াই করার জন্য কুষ্টিয়া থেকে হপার ক্রয় করে বাড়ী ফিরছিলেন। এসময় কুষ্টিয়ার দিক থেকে আসা দ্রুতগামী মালবাহী ট্রাক পিছন দিক থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে হপার চালক আক্তারুজ্জামান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে যান। ট্রাকের পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে আক্তারুজ্জামানের মাথা থেতলিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা  যায়। সাথে থাকা হিজলবাড়ীয়া গ্রামের আশরাফুলের ছেলে কামাল ও মদনাডাঙ্গা গ্রামের বাসারুল প্রানে বেঁচে যায়। তবে ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান সড়ক দূর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী ২ জন কামাল ও বাসারুলকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুুতি চলছে ।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ইউপি আ’লীগের কাউন্সিলে সম্পাদক পদ নিয়ে হট্টগোল, ককটেল হামলা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক পদ নিয়ে হট্টগোল ও ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টায় বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়া মফের আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সম্মেলন শুরু হয়। সন্ধ্যায় সম্মেলনের বক্তৃতা পর্ব শেষে পদ ঘোষনার সময় এ হামলা চালানো হয়। এতে উপস্থিত নেতা-কর্মিদের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তেই ফাঁকা হয়ে যায় সম্মেলনস্থল।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকেলে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আক্তারুজ্জামান মিঠু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম চন্নু, ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, পৌর মেয়র শামীমূল ইসলাম ছানা। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ নেতৃবৃন্দসহ স্থাণীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে দুইটি প্যানেল জমা হয়। এদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সাধারন সম্পাদক শামীম আহমেদ সভাপতি হিসেবে ঘোষনা করা হয়। সাধারন সম্পাদক হিসেবে উজ্জল হোসেনের নাম ঘোষনা করা হয়। উজ্জলের কোন সমর্থক ও প্রস্তাবক না থাকলেও তার নাম ঘোষনা করায় ক্ষুব্ধ হন সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী রুবেল মাহমুদ রতনের কর্মিরা ক্ষুব্ধ হয়ে উত্তেজিত হয়ে হৈ চৈ শুরু করেন।

এ সময় পরপর ৩ থেকে ৪টি ককেটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় রুবেলের সমর্থকরা। ককটেল হামলার পর নেতা-কর্মিরা এদিক সেদিক ছোটাছুটি শুরু করে। অতিথিরাও দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

রুবেল অভিযোগ করে বলেন, উজ্জলকে এলাকার কেউ চেনে না। তার কোন কর্মি সমর্থক নেই। তারপরও তাকে সাধারন সম্পাদক করা হয়েছে। ককটেল হামলার সাথে তার লোকজন জড়িত নয় বলে জানান।’

ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আক্তারুজ্জামান মিঠু বলেন, কাউন্সিল শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হয়েছে। সম্মেলন করতে গেলে ছোটখাট সমস্যা হয়। সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের পদ ঘোষনা করা হয়েছে। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুল¬াহ বলেন, ‘ ইউনিয়ন কাউন্সিল ঘিরে কিছু উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত।’

বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করতে জানে – শেখ হাসিনা

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চ্যালেঞ্জকে কীভাবে সুযোগে পরিণত করতে হয়, তা বাংলাদেশ জানে। ‘ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিট’ উপলক্ষে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ওয়েবসাইটে শুক্রবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য দেন। ‘বাংলাদেশ ইজ বুমিং- অ্যান্ড হেয়ার ইজ হোয়াই’ শিরোনামে ওই নিবন্ধের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, অনেকেই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের ও সচ্ছল তিন কোটি মানুষের ‘বাজার’ ও ‘উন্নয়নের বিস্ময়’ হিসেবে দেখলেও তার বিচারে এ দেশের মানুষের মূল শক্তির জায়গাটি হল সামাজিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশের চেতনায় তাদের আস্থা। “সেইসঙ্গে সমৃদ্ধির জন্য মানুষের আকাক্সক্ষা, তাদের সহনশীলতা এবং নেতৃত্বের প্রতি তাদের অবিচল আস্থাও আমাদের শক্তি।” তিনি লিখেছেন, “আমার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সোনার বাংলা, একটি শোষণমুক্ত ও ন্যায়পরায়ণ সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার সেই স্বপ্ন আমাদের ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলার আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে।” নিবন্ধে বলা হয়, পোশাক উৎপাদনের গন্ডি থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ হয়ে ওঠার পথে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশ গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশে নির্মিত চারটি জাহাজ এসেছে ভারতে। ভারতীয় কোম্পানি রিলায়েন্স সম্প্রতি বাংলাদেশে তৈরি বিপুল পরিমাণ রেফ্রিজারেটর কিনেছে। বাংলাদেশের আছে ছয় লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার, এটাই এখন সবচেয়ে বড় ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটি। “এই সব কিছু এক নীরব বিপ্লবের কথা বলে, যেখানে মানুষ উদ্ভাবনী চেতনা আর প্রযুক্তিকে সঙ্গী করে ঝুঁকি নিচ্ছে, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। আর বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের, বিশেষ করে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের প্রথাগত খাতগুলোর বাইরে এসে বাংলাদেশের শিক্ষা, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোটিভ শিল্প ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মত খাতে বিনিয়োগ করার এটাই সময়।” বাংলাদেশে নগরায়ণের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা লিখেছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ এ দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৮ শতাংশ বসবাস করবে শহর অঞ্চলে। আর এই জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ হবে বয়সে তরুণ, কর্মোদ্যমে ভরপুর, ডিজিটাল যোগাযোগে দক্ষ। “তারা হবে চটপটে, নতুন ধারণা গ্রহণ করতে সক্ষম, সম্পদ অর্জনের নতুন পথ তারা খুঁজে বের করবে। আসলে ১১ কোটির বেশি সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর বাংলাদেশে এরইমধ্যে এটা ঘটতে শুরু করেছে।” তিনি লিখেছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা হবে মোট জনসংখ্যার ৪১ শতাংশ। বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ার ফলে দ্রুত নগরায়ন এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির তিন কোটি নাগরিক বাস্তবিক অর্থেই একটি বিশাল বাজার। “কেউ কেউ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ঝুঁকির কথা ভাবেন। হ্যাঁ, অন্য অনেক দেশের মত আমাদেরও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। কিন্তু আমরা জানি, চ্যালেঞ্জকে কীভাবে সুযোগে পরিণত করতে হয়।” বাংলাদেশ যে এ বছর রেকর্ড ৮ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, সে কথা উল্লেখ করে নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, “আমরা দুই অংকের প্রবৃদ্ধির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বেড়েছে ১৮৮ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।” শেখ হাসিনা লিখেছেন, কৃষিতে বাংলাদেশ এখন আর কেবল নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য উৎপাদন করছে না। স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম চাল উৎপাদক, দ্বিতীয় বৃহত্তম পাট উৎপাদক, আম উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ, সবজি উৎপাদনে পঞ্চম এবং মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধান শস্য ও ফলের জিন বিন্যাসও বাংলাদেশ উন্মোচন করে চলেছে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ রূপান্তরের কাজ শুরু করার পর সরকার ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যন্ত শতভাগ মানুষের তথ্যপ্রযুক্তি সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে জানিয়ে নিবন্ধে বলা হয়েছে, “সাধারণ মানুষের উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা কাজ করছি। আর সে কারণেই বাংলাদেশ এখন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পঞ্চম বৃহত্তম ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীর দেশ। কাগুজে মুদ্রাবিহীন একটি দেশ হওয়ার জন্য দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। গত বছর আমাদের ই-কমার্স লেনদেনের পরিমাণ ২৬ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, বিদেশি বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা, অর্থনৈতিক প্রণোদনার সুবিধা, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড়, লভ্যাংশ ও পুঁজি সহজে স্থানান্তরের সুযোগ বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশই এখন ‘সবচেয়ে উদার’। বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশে যে ওয়ান স্টপ সার্ভিসসহ ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, এর মধ্যে ১২টি অঞ্চলে ইতোমধ্য কাজ শুরু হয়েছে, দুটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেবল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি হাই টেক পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে- সেসব তথ্যও প্রধানমন্ত্রী তার নিবন্ধে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝামাঝি এলাকায় ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে। “আমরা এ অঞ্চলে একটি অর্থনৈতিক হাব হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারি। নিজেদের ১৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের বাইরেও এ অঞ্চলের প্রায় তিনশো কোটি মানুষের বাণিজ্য যোগাযোগের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ।” গত বছর এইচএসবিসির এক পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে। সে বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “এখানে দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর একটি- আমাদের মুক্ত সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রীতি, উদার মূল্যবোধ এবং ধর্ম নিরপেক্ষ সাংস্কৃতি। আর অন্যটি হল- আমাদের মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশই তরুণ। তাদের অধিকাংশের বয়স ২৫ বছরের কম। তাদের দ্রুত দক্ষ করে তোলা, প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত করা এবং প্রতিযোগিতামূলক শ্রমমূল্যে কাজে লাগানো সম্ভব।”  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আত্মবিশ্বাসী জনগোষ্ঠী এবং সক্ষম নেতৃত্ব ও শাসনযন্ত্র’ সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের পথে এই অভিযাত্রায় বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত শিখছে। “আমরা আপনাদের সামনে একটি স্থিতিশীল ও মানবিক রাষ্ট্র উপস্থাপন করছি, যার নেতৃত্ব দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল, সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত, মুক্ত ও বাস্তবভিত্তিক বাজার বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম এবং যে রাষ্ট্র একটি শান্তিকামী ও প্রগতিশীল দেশের উদাহরণ।

সহায়তা পেল ১১৫০ টি পরিবার

দৌলতপুরে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ও পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির ত্রাণ বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) ও পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)-এর সভানেত্রী মিসেস শারমীন আক্তার ত্রান বিতরণ করেছেন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যাদূর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত ও পুনাক সভানেত্রী শারমীন আক্তার।

এ সময় পুলিশ সুপার ও পুনাক সভানেত্রী বন্যা দুর্গত ১১৫০ টি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলু, বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট ও বস্ত্র সামগ্রী বিতরণ করেন এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামুলক বক্তব্য রাখেন।

ত্রাণ বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আল বেরুনী, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আরিফুর রহমান, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩০০ জন বন্যার্তদের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল, ১ কেজি করে ডালসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী এবং ১৫০ জনের মাঝে ৭ কেজি করে চাল, ২ কেজি করে ডালসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। অপরদিকে চিলমারী ইউনিয়নে একইভাবে প্রায় ৪০০ জনকে চাল, ডাল, আলু, বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেন। পুনাক এর সৌজন্যে এ ত্রানসামগ্রী বিতরণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

পারিশ্রমিক নিয়ে বলিউডে এখনো  অনেক বৈষম্য : শ্রুতি হাসান

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডের অনেক তারকাই সামাজিক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। যাদের কাজ প্রায়ই গণমাধ্যমে উঠে আসে। সম্প্রতি ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান এমনই এক কাজের মধ্য দিয়ে খবরের শিরোনামে এসেছেন। তিনি নারীদের নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বছরজুড়ে সেগুলোর কাজেও ব্যস্ত থাকেন তিনি।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি সংগঠন আরপিজে। তিনি সেখানে বর্তমানে নারীদের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সারাবিশ্বে নারীদের যে সফলতার কথা শোনা যায় তা সবার সচেতনতার জন্য। নারীরা যদি নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন না হন তাহলে বৈষম্য কখনো সরবে না।’

বলিউডের সিনেমায় নারীদের সফলতা তুলে আনা প্রসঙ্গে শ্রুতি আরো বলেন, ‘এখন অনেক সফল নারীর জীবন নিয়ে বলিউডে সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। সেগুলো বেশ সফলও হচ্ছে। আমি মনে করি সিনেমায় সফল নারীদের গল্প উঠে আসা সবার জন্য আরো অনুপ্রেরণার।’

তবে বলিউডে পারিশ্রমিক নিয়ে এখনো যে বৈষম্য চলছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটি দুঃখের বিষয় যে, পারিশ্রমিক নিয়ে বলিউডে এখনো অনেক বৈষম্য রয়েছে। এর পরিবর্তন হওয়া জরুরি।’

 

সালমানের এক দিনের খাবারের টাকায় এক মাস চলবে একটা পরিবার

বিনোদন বাজার ॥ বয়স এখন ৫৩ চলছে তবু তারুণ্যে টইটুম্বুর বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। কারণ নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন এই নায়ক। হাজারো ব্যস্ততার শরীরচর্চা বন্ধ রাখেন না, খাবার গ্রহণ করেন নিয়মের মধ্যে।

সালমানের প্রতিদিনের খাবারের নির্দিষ্ট তালিকা আছে। সেই অনুযায়ি খাবার খান তিনি? সারাদিন কী কী খান সালমান? একদিনে খাবারের জন্য কতটাকা খরচ করেন এই অভিনেতা ? তার এক দিনের খাবারের খরচে নাকি একটা ছোট পরিবার চলতে পারে!

জানা গেছে, তেল-ঝাল-মশলাদার খাবার, জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলেন সালমান খান। সাল্লু ভাই রোজ ব্রেকফাস্টে খান মধু মিশিয়ে এক গ¬াস লেবু মেশানো পানি। সঙ্গে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ কোনও স্ন্যাক, চারটে ডিমের ওমলেট।

দুপুরে সপ্তাহে চারদিন শুধু ফল খেয়ে থাকেন সালমান খান। বাকি তিনদিন দুপরে দক্ষিণ ভারতীয় খাবার যেমন ধোসা, ইডলি খান তিনি। মাঝে মধ্যে দুপুরে শুধু সালাদ ও গ্রিলড ফিস খান।

আর রাতের বেলা সালমান চিকেন ও সালাদ খেয়ে থাকেন। তার এই খাবারের দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে। ভারতীয় এক গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে দাবাং খানের প্রতিদিন খাবারের পেছনে প্রায় ৮০০০ টাকা ব্যয় হয়। একটা ছোট পরিবার একমাস চলতে পারে এই টাকায়।

কথা বলতে না দেয়ায় রেগে সভা  ত্যাগ করলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ

বিনোদন বাজার ॥ কথা বলতে না দেয়ায় রেগে গিয়ে সভা থেকে বেরিয়ে গেলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় এ ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিবছর একবার বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হওয়ার কথা থাকলেও গত বছর- তা না হওয়ায় দুই বছরের সভা এক সঙ্গে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গত দুই বছরের আয়-ব্যয়সহ সমিতির নানা কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

একপর্যায়ে সভায় কথা বলার সুযোগ চান সমিতির বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি চিত্রনায়ক রিয়াজ। কিন্তু প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পরও তাকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। পরে এনিয়ে সভায় হট্টগোল শুরু হয়।

এ সময় সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, এটি সাধারণ শিল্পীদের সভা। এখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বর্তমান কমিটির আর কেউ কথা বলতে পারবেন না।

সভাপতি মিশার এমন বক্তব্যের পরই রিয়াজ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে সভা থেকে বেরিয়ে যান।

এ বিষয়ে নায়ক রিয়াজ সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ ঝাড়েন। সমিতির বর্তমান কমিটির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের তীব্র সমালোচনা করে রিয়াজ বলেন, তাদের কীসের ভয়? আমি তাদের কান্ডকীর্তি ফাঁস করে দিতাম?

তিনি আরও বলেন, সাধারণ সভায় তারা (মিশা-জায়েদ) এমনভাবে কথা বলছিলেন যে বর্তমান কমিটির সব অর্জন শুধু তাদের দুজনেরই। বাকিদের কোনো ভূমিকা নেই। এসব নোংরামি।

বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন মিঠুন?

বিনোদন বাজার ॥ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর ভারতীয় সেলিব্রেটিরা ভিড় জমিয়েছেন বিজেপির গেরুয়া শিবিরে।

ক্রিকেটার থেকে শুরু করে গায়ক, টিভি ও চলচ্চিত্রের নামিদামি তারকাদের নরেন্দ্র মোদির দলে ভিড়তে দেখা গেছে।

গুঞ্জন চলছে, এবার সানি দেওল, গৌতম গাম্ভীরদের দলে যোগ দিতে যাচ্ছেন ভারতের বিখ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।

চলচ্চিত্রে ও রাজনীতিতে বেশ কিছুদিন ধরেই তাকে দেখা যাচ্ছিল না কলকাতার ফাটাকেষ্টকে। অনেকদিন ধরেই সবকিছু থেকে দূরে ছিলেন।

তবে বৃহস্পতিবার তাকে দেখা গেল মহারাষ্ট্রের নাগপুরে আরএসএস দফতরে।

সাংবাদিকদের ক্যামেরাকে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি। আরএসএস দফতরে মিঠুনের অবস্থান নিয়ে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই।

ছবিতে দেখা গেছে, সংঘের প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ারের মূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপণ করছেন মিঠুন। তাকে উপহারও দেয়া হয়েছে সংঘের পক্ষ থেকে।

এএনআই জানায়, বৃহস্পতিবার আরএসএস দফতরে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেছেন মিঠুন। সেখানে আরএসএস-এর নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে ফিরে আসেন। তাকে সম্মানিত করে আরএসএস কৃর্তপক্ষ।

এসব ছবি ও খবর প্রচারের পর থেকেই ভারতে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাবেক সংসদ সদস্য মিঠুন চক্রবর্তী?

তা না হলে আরএসএস দফতরে কী করছিলেন তিনি?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আরএসএস দফতরে হঠাৎ মিঠুনকে দেখে অবাক হয়েছেন রাজনীতিবিদরা। এক সময় সিপিএম এবং পরে তৃণমূলের রাজনীতি করেছেন মিঠুন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ বাম শাসনের পর তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে বেশ ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল মিঠুনের। সে সময় তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্যও হয়েছিলেন তিনি।

এরপর সারদা কেলেঙ্কারি মামলায় জড়িয়ে পড়েন মিঠুন। সারদার টাকাও ফেরত দিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই ২০১৬ সালে রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। বেশ কয়েকদিন আগে অসুস্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মিঠুন। সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেও প্রকাশ্যে আসেননি তিনি।

কিন্তু এবার যখন আরএসএসের দফতরে প্রকাশ্য হলেন মিঠুন, তাতে তার বিজেপিতে যোগ দেয়ার জোর গুঞ্জন চলছে।

 

বিন্দিয়ার গানে মাতলো জাদুঘরের সন্ধ্যা

বিনোদন বাজার ॥ দেশ প্রেমের অনুভূতি ছড়িয়ে প্রথমেই ‘একবার যেতে দেনা’ গান দিয়ে জাতীয় জাদুঘরে শুরু হয় শিল্পী বিন্দিয়া খানের একক সঙ্গীত সন্ধ্যাটি। এরপর একে একে তার কণ্ঠে বেজে ওঠে সোনালি দিনের অমর সুরের গানগুলো। জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে তখন উপচে পড়া দর্শক শ্রোতা। আলোর ঝর্ণাধারা যেন বইছিল গানের সুরের তালে তালে।

ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতসাধক ওস্তাদ গুল মোহাম্মদ খানের নাতনী ও ওস্তাদ মোহাম্মদ ইয়াসিন খানের সুযোগ্য কন্যা বিন্দিয়া খানের গান যেন দর্শক হৃদয় দিয়ে অনুভব করছিলেন। সঙ্গীত পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা তরুণ শিল্পী বিন্দিয়ার কণ্ঠের চিরচেনা গান সবাইকে অন্যরকম স্পর্শ দিয়ে যাচ্ছিল।

বিন্দিয়ার গাওয়া ‘একি সোনার আলোয়’, ‘মন বলে’, ‘কি যে করি’, ‘মায়াবন বিহারিণী’, ‘কেন জানি না’, ‘দু’কথা কহিতে’, ‘খুঁজবে আমায়’, ‘বিমূর্ত এই রাত্রি’, ‘দিল কিয়া চিজ’, ‘দিন চলে যায়’, ‘তুমি বিনা এ ফাগুন’, ‘এই দুনিয়া এখন তো আর’, ‘মেরা ঢোলন’, ‘অনেক বৃষ্টি ঝড়ে’, ‘তু যাহা যাহা’, ঠুমরী, ‘দামা দাম মাস্ত’ গান মুগ্ধ হয়ে শুনেছে গোটা মিলনায়তন ভরা মানুষ।

শুক্রবারের (৪ অক্টোবর) জাদুঘরের সন্ধ্যা এভাবেই সুরে সুরে ভরে উঠেছিল। জাতীয় জাদুঘর ও সুরাঙ্গনা সাংস্কৃতিক সংঘ যৌথভাবে আয়োজন করে এ মনোজ্ঞ সঙ্গীত সন্ধ্যার। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান, মিসেস সেলিমা আজাদ এবং সারগম পত্রিকার সম্পাদক কাজী রওনক হোসেন।

শুরুতেই আলোচনা অনুষ্ঠানে রিয়াজ আহম্মদ ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত সঙ্গীত পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা তরুণ শিল্পী বিন্দিয়া খানের সাফল্য কামনা করেন। স্বাগত বক্তব্যে জাতীয় জাদুঘরের সচিব আবদুল মজিদ বলেন, জাতীয় জাদুঘর সর্বদাই দেশের গুণী শিল্পীদের নিয়ে, স্মরণীয় বরণীয় ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে। আমরা শিল্পী বিন্দিয়া খানের শুভকামনা করছি। বিন্দিয়া খান যেন আর বড়মাপের সঙ্গীতশিল্পী হতে পারেন এবং তাঁর সঙ্গীত চর্চা যেন সার্থক হয়।

মোশাররফ করিমের নতুন ধারাবাহিক ‘হোসেন ভাইয়ের দোকানে আসা মানুষজন’

বিনোদন বাজার ॥ ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের নতুন ধারাবাহিক ‘হোসেন ভাইয়ের দোকানে আসা মানুষজন’। আশরাফুল চঞ্চলের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন শামস্ করিম। জানা গেছে, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিতে সপ্তাহের প্রতি শনি, রবি ও সোমবার রাত ১০ টায় প্রচারিত হবে নাটকটি। নাটকটির প্রধান একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম। জনপ্রিয় এই অভিনেতার নিজের প্রোডাকশন হাউস ‘এম প্রোডাকশন’ থেকে নাটকটি প্রযোজনা করা হয়েছে। এরইমধ্যে নাটকের ত্রিশ পর্বের শুটিং শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। বাকি পর্বগুলো সামনের মাস থেকে শুটিং শুরু হবে। নাটকটি প্রসঙ্গে পরিচালক শামস্ করিম বলেন, ‘এই ধারাবাহিকের কাহিনীটি গড়ে উঠেছে একটি মফস্বল শহরের পাড়ার মোড়ে গড়ে ওঠা একটি লন্ড্রির দোকানকে কেন্দ্র করে। দোকানের মালিক, হোসেন ভাই মুক্ত মনের এবং আড্ডাপ্রিয় হওয়ার কারণে তার দোকান হয়ে উঠেছে এলাকার কিছু অন্যরকম মানুষের আড্ডাস্থল। সেই সব দোকানে আড্ডা দিতে আসা অন্যরকম মানুষগুলোর জীবনাচরন ও অভিজ্ঞতাকে নিয়েই এই ধারাবাহিক ‘হোসেন ভাইয়ের দোকানে আসা মানুষজন’। আর আড্ডা দিতে আসা মানুষগুলোর মধ্যে মোশাররফ করিমও একজন।’ নতুন এই ধারাবাহিকের গল্প নিয়ে দারুণ উচ্ছসিত অভিনেতা মোশাররফ করিম। তিনি বলেন,‘কিছু সাধারণ মানুষের অসাধারণ টুকরো টুকরো গল্প নিয়েই এই নাটকটি এগিয়ে যাবে। নাটকের চিত্রনাট্য আর গল্পের গভীরতা দেখেই এই নাটকটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও করছি। আশা করছি দর্শকরা একদম হৃদয় থেকে নাটকটি গ্রহণ করবেন।’ মোশাররফ করিম ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন নাদিয়া আহমেদ, আ খ ম হাসান, গোলাম ফরিদা ছন্দা, ফারুক আহমেদ, হোসনে আরা পুতুলসহ আরও অনেকে।

বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গর্বের স্বাক্ষর হয়ে আছে ইলিশ মাছ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। আবহমানকাল থেকে ইলিশ আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রাণিজ আমিষের জোগান এবং দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গর্বের স্বাক্ষর হয়ে আছে ইলিশ মাছ। আশার খবরটি হচ্ছে, দেশে ইলিশের উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ইলিশ মাছ আহরণে বিশ্বে প্রথম। রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ সালে দুই লাখ ৯৯ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হলেও ২০১৮-১৯ সালে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী বিশ্বে আহরিত ইলিশের প্রায় ৭৫ ভাগ আহরণ করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিয়ানমার এবং ৩য় অবস্থানে ভারত। ইলিশের অভ্যন্তরীণ বাজারমূল্য ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ইলিশ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার মা ইলিশ ও জাটকা ধরা নিষিদ্ধকালীন জেলেদের খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করায় ইলিশ উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মৎস্য অধিদপ্তর, প্রশাসন ও বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক ইলিশ ব্যবস্থাপনা কৌশল মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করায় দেশব্যাপী ইলিশের বিস্তৃতি ও উৎপাদন বেড়েছে। জানা গেছে, দেশে মোট মৎস্য উৎপাদনের ১২ শতাংশই ইলিশ। জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১ শতাংশ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, গত ১০ বছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ বা ৭৬ শতাংশ। বাংলাদেশে ইলিশের গড় উৎপাদন কমবেশি সাড়ে তিন লাখ টন। এ হিসাবে প্রচলিত বাজারমূল্যে ইলিশের সার্বিক বাজারমূল্য দাঁড়ায় ২২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকারও বেশি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, ২০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। বর্তমানে ১২৫টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদিত ইলিশের যেটুকু রপ্তানি হয় তাতে ১৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনের ৭৫ শতাংশই বাংলাদেশে হচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞানী এবং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে হারে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে তাতে আগামী কয়েক বছরে উৎপাদন আরো বাড়বে। বিশ্বের প্রা ৮০-৯০ শতাংশ ইলিশ উৎপাদন দেশ হবে বাংলাদেশ। ২০২২ সালে বাংলাদেশ হবে শীর্ষ মাছ উৎপাদনকারী দেশ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইলিশ আহরণে রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ২১ হাজার টন বেশি। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা তথ্যের ভিত্তিতে ইলিশ ব্যবস্থাপনা কৌশল মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ফলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে ইলিশ উৎপাদন ছিল ৩ লাখ ১৩ হাজার টন। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা তথ্যের ভিত্তিতে তা ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ করার পদ্ধতিই ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালে ২২ দিন মা ইলিশ সুরক্ষিত হওয়ায় ডিম দেয়া ইলিশের হার ছিল ৪৬.৪৭ ভাগ, যা ২০১৭-১৮ সালে হয়েছে ৪৭.৭৪ ভাগ। ফলে ২০১৭-১৮ সালে ৩৬ হাজার কোটি জাটকা ইলিশ পরিবারে নতুন করে যুক্ত হয়। ইলিশের জীবনচক্র বেশ বৈচিত্র্যময়। ইলিশ মাছ সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে বাস করে। যখন ডিম ছাড়ার সময় হয় তখন তারা সমুদ্রের লোনাপানি ত্যাগ করে নদনদীর মিঠা পানিতে চলে আসে। তার কারণ সমুদ্রের পানিতে প্রচুর লবণ থাকায় এ পানিতে ডিম ছাড়লে লবণের কারণে ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং কোনো ইলিশের পোনা জন্ম হয় না। তাই ডিমওয়ালা ইলিশগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসায় প্রজনন ঋতুতে নদীতে প্রচুর ডিমওয়ালা মাছ ধরা পড়ে। একারণেই সরকার ইলিশের প্রজনন ঋতুতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ইলিশ সারা বছরই ডিম দেয়। তবে বছরের মার্চ-এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ সময় ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে আশ্বিন মাসের বড় পূর্ণিমার আগের ৪ দিন এবং পরের ১৭ দিন ইলিশ আহরণ, বিতরণ, বিপণন, পরিবহন, মজুদ ও বিনিময় কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ১ অক্টোবর হতে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পালিত হয়। এ ধারাবাহিকতায় আগামী ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষেধ (৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত) বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মাছবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। খুশির খবরটি হলো ইলিশ পাওয়া যায় বিশ্বের এমন ১১টি দেশের মধ্যে ১০টিতেই যেখানে ইলিশের উৎপাদন কমছে, সেখানে একমাত্র বাংলাদেশেরই ইলিশের উৎপাদন প্রতিবছর ৮-১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। এমতাবস্থায় বিশ্বের প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের ইলিশ রক্ষার এই কৌশল খুবই কার্যকর হয়েছে চিহ্নিত করেছে। ফলে বিশ্বে দেশের ইলিশের নতুন বাজার তৈরির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। ইলিশ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতিতেও অনুসরণকারী অন্যতম দেশ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার কৌশল অনুসরণ করছে ভারত ও মিয়ানমার। বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল বুঝতে সুদূর কুয়েত ও বাহরাইনের মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বাংলাদেশের মতোই ওই দেশগুলো ইলিশের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র চিহ্নিত করে ডিম পাড়া ও বাচ্চা বড় হওয়ার সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করে ভাগীরথী (গঙ্গা) নদীর ফারাক্কা থেকে মোহনা পর্যন্ত অংশের তিনটি এলাকাকে ইলিশের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। এসব এলাকায় ১৫ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে পশ্চিমবঙ্গ।
লেখক ঃ এস এম মুকুল।

বরদেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় নাট্যোৎসব

বিনোদন বাজার ॥ দুর্গাপূজাকে ঘিরে শারদীয় নাট্যোৎসব আয়োজন করেছে বরদেশ^রী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান পরিচালনা কমিটি। ‘মঞ্চ মায়ায় মানবতার জয়’ স্লোগান নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ নাট্যোৎসব শুক্রবার (৪ অক্টোবর) শুরু হয়েছে। উৎসবের উদ্বোধনী দিনে মঞ্চায়িত হয় থিয়েটার নাট্যদলের ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ এবং মণিপুরি থিয়েটারের ‘কহে বীরাঙ্গনা’ নাটক। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ অবলম্বনে ‘কহে বীরাঙ্গনা’ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিস সিনহা। একক অভিনয় করেন জ্যোতি সিনহা। অন্যদিকে সৈয়দ শামসুল হকের লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নির্দেশনা দিয়েছেন আবদুল্লাহ আল-মামুন। পরবর্তীতে নবনির্মাণ করেছেন সুদীপ চক্রবর্তী। এ নাটকটিতে অভিনয় করেন ফেরদৌসী মজুমদার, কেরামত মওলা, তোফা হোসেন, ত্রপা মজুমদার, মারুফ কবির, পরেশ আচার্য, সমর দেব প্রমুখ।

বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাস বলেন, ‘এ উৎসব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয় ঘোষণা করে। শুভশক্তি কখনো পরাভূত হয় না। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির তীর্থভূমি। দুর্গাপূজা, ঈদ, বড়দিন, বৌদ্ধ পূর্ণিমার মতো উৎসবগুলো বাঙালি ঐকবদ্ধভাবে উদযাপন করে। এ ঐতিহ্য আমাদের অহংকার এবং ইতিহাসের অলংকার। বাঙালি কৃষ্টির আদি রস, উদার ধর্মমনস্ক মন ও শুদ্ধ চিন্তা এবং মানবতাই শুভশক্তিকে গতিশীল করে।’ শারদীয় উৎসবে শনিবার বিকেল ৪টা থেকে ভজন ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন পন্ডিত রাম প্রসাদ সূত্রধর (শিষ্যপতি) ও উস্তাদ মানিক সিংহ রায়। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় দেশ নাটক মঞ্চস্থ করে মাসুম রেজা রচিত ও নির্দেশিত নাটক ‘নিত্যপুরাণ’। রাত ৯টায় থিয়েটার ৫২ মঞ্চস্থ করে নতুন নাটক ‘কালিদাস’। অপূর্ব কুমার কুন্ডর লেখা নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন জয়িতা মহলানবিশ।

রোববার বিকাল ৪টায় পদাবলি কীর্তন পরিবেশন করবেন জয়পুরহাটের কুমারী লক্ষ্মী দেবী। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় আরণ্যক নাট্যদল মঞ্চস্থ করবে ‘ভঙ্গবঙ্গ’ নাটকটি। মামুনুর রশীদের লেখা এই নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন ফয়েজ জহির। অভিনয় করবেন মামুনুর রশীদ, তমালিকা কর্মকার, আরিফ হুসাইন, আমানুল হক, রুবলী চৌধুরী, সাজ্জাদ সাজু, ফিরোজ মামুন প্রমুখ। রাত ৯টায় স্বপ্নদল মঞ্চস্থ করবে ‘জাদুর প্রদীপ’। এটি নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। অভিনয় করবেন সামাদ, জুয়েনা শবনম, সোনলীসহ অনেক।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় নাগরিক নাট্যাঙ্গন মঞ্চস্থ করবে ‘বাংলা আমার বাংলা ও সেই সব দিনগুলো’। এটি নির্দেশনা দিয়েছেন হৃদি হক। রাত ৯টায় চন্দ্রকলা থিয়েটার মঞ্চস্থ করবে ‘তন্ত্রমন্ত্র’। মঙ্গলবার শারদীয় নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় বহুবচন নাট্যদল মঞ্চস্থ করবে ‘অনিকেত সন্ধ্যা’। নির্দেশনা দিয়েছেন আরহাম আলো। এদিন রাত ৯টায় নাট্যফৌজ মঞ্চস্থ করবে ‘একজন মুন্সির পোস্টার’। নির্দেশনা দিয়েছেন লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাস। এর মধ্য দিয়েই পর্দা নামবে এ নাট্যোৎসবের।

‘শেষ দিন’ পর্যন্ত লড়বেন জিদান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রথম মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে অন্যতম সফল কোচের তকমা পাওয়া জিনেদিন জিদান দেখতে শুরু করেছেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। তার দ্বিতীয় মেয়াদের কোচিংয়ে ধুকছে স্পেনের সফলতম ক্লাবটি। তবে ঘুরে দাঁড়াতে শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানালেন এই ফরাসি। লা লিগায় শনিবার নিজেদের মাঠে গ্রানাদার বিপক্ষে খেলবে মাদ্রিদের দলটি। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সাবেক তারকা এই ফুটবলার আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে শোনালেন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। “আমি জানি, আমি কোথায় আছি এবং এখানে সবসময় এমনটাই হয়।” সাত ম্যাচ শেষে রিয়াল লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকলেও ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় বাজে শুরুর কারণে সমালোচনার শিকার হচ্ছেন জিদান। পিএসজির কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরুর পর প্রতিযোগিতাটির দ্বিতীয় ম্যাচে ক্লাব ব্র“জের বিপক্ষে ঘরের মাঠে কোনো মতে হার এড়ায় তার দল। এরপর সমালোচনা আরও তীব্র হয়। “একজন কোচের ভূমিকা এমনই, আমাদের সবার জন্যই তাই। আমি আমার শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব কারণ আমি যা করি সেটা উপভোগ করি এবং মনে করি যেন আমার কাজই এটা।” অবশ্য যতটা সমালোচনা করা হচ্ছে, তার দল ততটা খারাপ খেলছে না বলে মনে করেন জিদান। “এটা রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমরা মাঠে যা করতে পারি সেদিকে নজর দিচ্ছি। আমাদের সামনে একটা ম্যাচ রয়েছে যেখানে আমরা দেখাতে পারি কেন আমরা শীর্ষ দল।” দুই মৌসুম পর স্পেনের শীর্ষ লিগে ফেরা গ্রানাদা জিদানের দলের চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে। কদিন আগে তারা চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। ম্যাচটাকে তাই বিষেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন এই ফরাসি কোচ। চলতি মৌসুমে লিগে এখন পর্যন্ত অপরাজিত রিয়াল চারটিতে জিতেছে ও তিনটি ড্র করেছে।

বাংলাদেশের স্মৃতি দোলা দেয় হামজাকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জন্ম, বেড়ে ওঠা, ফুটবলে হাতেখড়ি থেকে শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা-সবই ইংল্যান্ডের মাটিতে। তবে বাংলাদেশের মাটির ছোঁয়ার শিহরণও ভুলতে পারেন না হামজা চৌধুরী। তার মনের কোণে আজও দোলা দেয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে কাটানো কিছু সুখস্মৃতি। ছোট্টবেলায় ছুটি কাটাতে আসতেন তিনি লাল-সবুজের দেশে। বাঁধনহারা সেই দিনগুলির রোমাঞ্চকর অনুভূতি এখনও নাড়া দেয় লেস্টার সিটির প্রতিশ্র“তিশীল এই ফুটবলারকে। বিবিসিকে দেওয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই ছেলেবেলা, ফুটবলের পথে চলা শুরু থেকে লেস্টার সিটিকে ভালোবেসে ফেলা, সবই তুলে ধরলেন বাংলাদেশ-গ্রেনাডিয়ান বংশোদ্ভূত হামজা দেওয়ান চৌধুরী। ফুটবলে হামজার সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরে এবং তা বাস্তবে মেলে ধরতে পাঁচ বছর বয়সে তাকে ফুটবলে কোচিং শুরু করান তার মা রাফিয়া। মায়ের দেখানো পথে হেঁটে হামজা আজ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ চারের জন্য লড়াই করা লেস্টার সিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার। হামজার ছোট্টবেলার দুটি বিষয় আজও উজ্জ্বলভাবে প্রতীয়মান: এক, ফুটবল মেধা, লেস্টারের মাঝমাঠের ফুটবলে বল পায়ে তার কারিকুরি ও আক্রমণভাগে সতীর্থদের বুদ্ধিদীপ্ত পাস দেওয়ার মাঝে যা ফুটে ওঠে। দুই, চুল কাটানো আজও যে তার বড্ড অপছন্দ, মাথার ঝাঁকড়া চুল দেখলেই বোঝা যায়। লেস্টার সিটির অনুশীলন মাঠে বসে পেছনে ফিরে তাকালেন হামজা। স্মৃতি হাতড়ে তুলে আনলেন ফেলে আসা সেই দিনগুলিকে। “আমি চুল কাটাতে অপছন্দ করি। যখন ছোট ছিলাম মা আমাকে চুল কাটাতে জোর করতো। আমি এটিকে বাড়তে দিয়েছি।” “লাফবরো ইউনিভার্সিটিতে ফুটবল ওপেন ডেতে তিনিই আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। মা হয়তো চেয়েছিলেন, আমার কিছু শক্তি ক্ষয় হোক। কারণ আমি অনেক ছুটোছুটি করতাম। নতুন ও ভিন্ন কিছু করতে কখনোই তার আপত্তি নেই। সেবারই আমি প্রথম ফুটবল খেলতে পেরেছিলাম। সেই শুরু।” দুই বছর পর আঙ্কেল ফারুকের সঙ্গে প্রথমবারের মতো লেস্টার সিটির ঘরের মাঠে ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন হামজা। সেদিনের সাত বছর বয়সী হামজা কী কল্পনা করেছিলেন, এক দিন তিনি লেস্টারের জার্সি পরে মাঠ মাতাবেন! আজকের ২২ বছর বয়সী হামজার কাছে, ‘এটা একটা স্বপ্ন!’ স্মৃতির মেলায় পেছন ফিরে তাকিয়ে হামজা চলে গেলেন ছেলেবেলায়। সেই সময়টা কেটেছে হৈ-হুল্লোড়ে। তার কাজিনরা পার্কে খেলতে আসতো, ভিডিও গেমসে আঙুল চলত সমানে। খেতেও ভালোবাসতেন হামজা এবং সবসময় তার পছন্দের কিছু খাবার থাকতো। পরিষ্কার বাংলায় কথা বলতে পারেন হামজা। স্কুল ছুটির সময় পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে নানির বাড়ি বেড়াতে আসতেন হামজা। ছুটি শেষেও সেই দিনগুলোর স্মৃতি তার মনে গেঁথে থাকতো অনেক দিন। “আমার ছেলেবেলার কিছু স্মৃতি আছে বাংলাদেশে। ওখানে যা ইচ্ছা তাই করতে পারতাম। রাত ১০টায়ও বাচ্চারা এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেন গোটা পৃথিবীকে পাত্তা দেওয়ার কিছু নেইÑ একদম মুক্ত ও পুরোপুরি নিরাপদ।” “আমাকে বাংলায় কথা বলতে দেখে লোকে নিশ্চয়ই অবাক হতো…আমরা দুই বছর পর পর সেখানে যেতাম দুই তিন সপ্তাহের জন্য-দারুণ সময় ছিল। খুব বিশেষ কিছু।” “এটা আমার উত্তরাধিকার, এটিই আমার সংস্কৃতি। ফিরে যাওয়াটা দারুণ কিছু। এসব একটি শিশুকে আরও বিনয়ী করে তোলে এবং দুনিয়ার নানা প্রান্ত দেখার সুযোগ করে দেয়, কারণ ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা মানে অনেক কিছু নিয়েই ধন্দে থাকতে হতে পারে।” স্কুলজীবনে ইতিহাস ও অংক বেশ উপভোগ করতেন হামজা। স্কুলের পড়ালেখা অবশ্য তার ফুটবল চর্চায় কিছু ব্যাঘাত ঘটাতো। তবে সেটুকুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি।  ফুটবলের প্রতি হামজার আবেগ দেখে উৎসাহ দিতেন শিক্ষকদের কয়েকজন। কেউ কেউ আবার বলতেন, বিকল্প একটি পরিকল্পনাও করে রাখা প্রয়োজন। ‘তারা ঠিক কথাই বলতেন’, আজ ফুটবলার হয়ে উঠলেও শিক্ষকদের সেই ভাবনার সঙ্গে একমত হামজা। হামজার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা জুড়ে আছে ইসলাম ধর্ম। তবে ফুটবল কখনও খুব একটা পেছনে ছিল না। “আমি ও আমার ছোট বোন মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার স্কুলের পর কুরআন পড়া শিখতে যেতাম।” বাবা-মা যে তাদেরকে ধর্মশিক্ষা দিয়েছিলেন, তাতে এখন দারুণ খুশি হামজা। “ছেলেবেলায় মনে হতো, এসব পড়ে সময় নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এখন আমি খুশি যে আমার বাবা-মা আমাকে এসব করিয়েছেন, নাহলে জরুরি অনেক কিছুর শিক্ষা পাওয়া হতো না। কিন্তু সেই সময় মাথায় থাকত, সব বাদ দিয়ে শুধু খেলতে যেতে হবে।” “আমি আয়াত আল-কুরসি পড়তে পারি। ড্রেসিং রুম থেকে বের হওয়ার আগে ছোট কিছু দোয়া পড়ি, যা আমার মা আমাকে পড়তে বলতেন।” লেস্টারের বহু সংস্কৃতির শহরে বেড়ে উঠে তার ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসার পথটা বেশ মসৃণ ছিল বলে নিজেই জানিয়েছেন হামজা। তেমন কোনো কিছুই তাকে সমস্যায় ফেলেনি। বেশ আগের একটা তিক্ত ঘটনার কথা অবশ্য তার মনে পড়ল; শহরের বাইরে একটা ম্যাচে তিনি বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। তবে নিজ দলের কোচের হস্তক্ষেপে দ্রুত সে সমস্যা মিটে গিয়েছিল বলেও জানান হামজা। “আমরা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে এটা রিপোর্ট করেছিলাম। আমার মা খুব শক্ত মানসিকতার একজন।  তিনি আমাকে শিখিয়েছেন কিভাবে সব পরিস্থিতি সামলাতে হয়।” প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে দুজন দক্ষিণ এশিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলার খেলছেন। হামজা ছাড়া আরেকজন অ্যাস্টন ভিলার নিল টেইলর। ব্রিটিশ-এশিয়ান সমাজে হামজার উঠে আসার গল্প এখন দারুণ সমাদৃত। বিশেষ করে ফুটবল সমর্থকদের কাছে। তাদের সমর্থন পেয়ে খুশি এই মিডফিল্ডার এবং আশা করেন উঠতি ফুটবলাররা তার দেখানো পথ অনুসরণ করবে। অবশ্য তিনি জানেন যে ইংলিশ লিগগুলোয় খুব বেশি এশিয়ার খেলোয়াড় নেই। তারপরও তিনি ভবিষ্যতের জন্য ভালো সম্ভাবনা দেখছেন। দীর্ঘ দিন ধরে তার মা, সৎ-বাবা মুর্শিদ ও আঙ্কেল ফারুক যে ত্যাগ স্বীকার করে আসছিলেন, তার ফল মেলে ২০১৭ সালে। লেস্টারের ওই সময়ের কোচ ক্রেইগ শেকসপিয়ার লিগ কাপের ম্যাচে তাকে বদলি হিসেবে নামান। ফুটবলে শীর্ষ পর্যায়ে শুরু হয় হামজার পথচলা। গত মৌসুমে তার পারফরম্যান্স ছিল নজর কাড়া। বিশেষ করে লেস্টারের ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ১-১ ড্র ও আর্সেনালের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেন হামজা। এই মৌসুমে খেলেছেন দলের প্রতিটি ম্যাচেই। এভাবে যদি এগিয়ে যেতে থাকেন, তাহলে হয়তো দ্রুতই ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের দলে জায়গা করে নিবেন হামজা চৌধুরী। আর সেটা হলে ইংল্যান্ড জাতীয় দলে ডাক পাওয়া প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলার হবেন হামজা। “ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, চাই মূল দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে। এটি আমার ভাবনায় আছে। তার মানে অবশ্য এই নয় যে এখনই জায়গা আমার প্রাপ্য।  ইংল্যান্ডের হয়ে আমি খেলতে পারি, এটি প্রমাণ করার জন্য আমাকে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, অনেক ম্যাচ খেলতে হবে। খেলতে পারলে, সেটি হবে দারুণ সম্মানের।”

ছক্কার রেকর্ডে ওয়াসিমকে ছাড়িয়ে রোহিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ড্যান পিটের করা ওভারের চতুর্থ বল লং অন দিয়ে পাঠালেন মাঠের বাইরে। পরের বল মিড উইকেট দিয়ে সীমানাছাড়া করে স্পর্শ করলেন ২৩ বছর আগের এক রেকর্ড। ওভারের শেষ বলে রেকর্ডটা লিখলেন নতুন করে। লং অফ দিয়ে উড়িয়ে মেরে টেস্টে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছক্কার কীর্তি নিজের করে নিলেন রোহিত শর্মা। বিশাখাপতœম টেস্টে ১৩টি ছক্কা মেরেছেন ভারতীয় এই ব্যাটসম্যান। পেছনে ফেলেছেন ওয়াসিম আকরামের ১২ ছক্কার রেকর্ডকে। ১৯৯৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেখুপুরা টেস্টে রেকর্ডটি গড়েছিলেন সাবেক পাকিস্তানী অলরাউন্ডার। দলের প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের ইনিংস খেলার পথে ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন রোহিত। ওয়ানডে মেজাজে খেলা দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় মেরেছেন সাতটি। পঞ্চাশ ছোঁয়ার আগেই এদিন তিনটি ছক্কা মারেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ইনিংসে নিজের তৃতীয় ছক্কায় গড়েন ভারতের হয়ে এক টেস্টে সবচেয়ে বেশি ছয়ের নতুন রেকর্ড। এতদিন রেকর্ডটির মালিক ছিলেন সাবেক ওপেনার নভজোৎ সিং সিধু। ১৯৯৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লক্ষেèৗ টেস্টে তিনি হাঁকিয়েছিলেন ৮ ছক্কা। সেঞ্চুরি করার পর দ্রুত রান তোলার আশায় পিটের উপর চড়াও হন রোহিত। একে একে মারেন তিন ছক্কা। তাতেই হয়ে যায় সবচেয়ে বেশি ছক্কার নতুন রেকর্ড। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও ভারতের হয়ে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড তার। টেস্টে গত ২৩ বছরে আকরামের ছক্কার রেকর্ডের কাছাকাছি গিয়েছিলেন আরও চারজন ব্যাটসম্যান। ন্যাথান অ্যাস্টল, ম্যাথু হেইডেন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও বেন স্টোকস – সবারই টেস্টে ১১টি করে ছক্কা আছে। এর মধ্যে ম্যাককালাম এক টেস্টে ১১টি ছক্কা মেরেছেন দুইবার। দুই ইনিংস মিলিয়ে রেকর্ডটি রোহিত নিজের করে নিলেও টেস্টের এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডটি থাকছে ওয়াসিমেরই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই টেস্টে ওয়াসিম ১২ ছক্কা মেরেছিলেন এক ইনিংসেই! অ্যাস্টল, হেইডেন, ম্যাককালাম ও স্টোকসের ১১ ছক্কাও এসেছে এক ইনিংস থেকে।

মিরাজের ৭ উইকেটের পর মুমিনুলের সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগের দিন শেষ বেলায় ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশ ‘এ’ দল দ্বিতীয় দিন গুঁড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে। ৭ উইকেট নিয়ে এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিংয়ে সফরকারীদের টেনেছেন মুমিনুল হক। দারুণ সেঞ্চুরিতে দলকে এনে দিয়েছেন লিড। দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৮৩ রান। নুরুল হাসান সোহান ৩৫ ও মিরাজ ৬ রানে ব্যাট করছেন। শ্রীলঙ্কাকে ২৬৮ রানে গুটিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১৫ রানে। ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ১ রান করে মোহাম্মদ সিরাজের বলে বোল্ড হয়ে যান জহুরুল ইসলাম। ৯ রান করে কট বিহাইন্ড হন নাজমুল হোসেন শান্ত। সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। ৮ চার ও এক ছক্কায় ১০৪ বলে ৭৭ রান করা সাদমানকে ফিরিয়ে ১৫৪ রানের জুটি ভাঙেন প্রবাথ জয়াসুরিয়া। থিতু হয়ে ফিরেন মোহাম্মদ মিঠুন। ছয় নম্বরে নেমে ব্যর্থ এনামুল হক। সোহানের সঙ্গে ৪০ রানের জুটিতে দলকে লিড এনে দেন মুমিনুল। সকালে নতুন বলে বাংলাদেশকে ভোগানো সিরাজ বিদায় করেন অধিনায়ক মুমিনুলকে। ১৯০ বলে ১৫ চার ও ১ ছক্কায় ১১৭ রান করে ফিরেন বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। দিনের বাকি সময়টা নিরাপদে কাটিয়ে দেন সোহান ও মিরাজ। এর আগে হাম্বানটোটার মাহিন্দা রাজাপাকসে ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শনিবার ৫ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা শ্রীলঙ্কা যোগ করতে পারে কেবল ৪৫ রান। দিনের শুরুটা ভালোই করেছিল স্বাগতিকরা। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান চারিথ আসালঙ্কা ও লাহিরু উদারা দলকে নিয়ে যান আড়াইশ রানে। কিপার-ব্যাটসম্যান উদারাকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট নেন মিরাজ। অফ স্পিনারের দারুণ বোলিংয়ে ৪ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা। শেষ চার ব্যাটস্যানের কেউ রানের খাতা খুলতে পারেননি। তিন জনকে ফেরান আগের ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া মিরাজ। ৮ চারে ৪৪ রান করা আসালঙ্কাকে ফিরিয়ে লঙ্কানদের ইনিংস গুটিয়ে দেন সালাউদ্দিন শাকিল। মিরাজ ৮৪ রানে ৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার। সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল ১ম ইনিংস: (আগের দিন ২২৩/৫) ৯০.২ ওভারে ২৬৮ (আসালঙ্কা ৪৪, উদারা ২০, নিশান ০, জয়াসুরিয়া ০, সিরাজ ০, ফার্নান্দো ০*; ইবাদত ২৩-৭-৬২-২, শাকিল ১৭.২-২-৬০-১, মিরাজ ৩৭-১৪-৮৪-৭, রিশাদ ১৩-০-৫৬-০)। বাংলাদেশ ‘এ’ দল ১ম ইনিংস: ৬৭ ওভারে ২৮৩/৬ (জহুরুল ১, সাদমান ৭৭, শান্ত ৯, মুমিনুল ১১৭, মিঠুন ২১, এনামুল ৮, সোহান ৩৫*, মিরাজ ৬*; ফার্নান্দো ১১-৩-৩৭-১, সিরাজ ১৮-৬-৫৬-৩, নিশান ৭-০-৪১-০, প্রিয়াঞ্জন ৪-০-২২-০, জয়াসুরিয়া ২৩-১-৮৭-২, আসালঙ্কা ৩-০-১৯-০, মেন্ডিস ১-০-১৫-০)।